৫/১৫২. অধ্যায়ঃ
সলাতুল কুসূফ (সূর্যগ্রহণের সালাত)
সূর্যগ্রহণে আল্লাহভীতি: ভুল ধারণা থেকে সঠিক আমল
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৬২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১২৬২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ، وَجَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَرَجَ فَزِعًا يَجُرُّ ثَوْبَهُ حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ فَلَمْ يَزَلْ يُصَلِّي حَتَّى انْجَلَتْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ أُنَاسًا يَزْعُمُونَ أَنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ إِلاَّ لِمَوْتِ عَظِيمٍ مِنَ الْعُظَمَاءِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا تَجَلَّى اللَّهُ لِشَىْءٍ مِنْ خَلْقِهِ خَشَعَ لَهُ " .
নু’মান বিন বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ হয়। তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর পরিধেয় বস্ত্র হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মসজিদে এসে পৌঁছান। গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সালাতে রত থাকেন। অতঃপর তিনি বলেন, এক দল লোক ধারণা করে যে, কোনো মহান নেতার মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয়ে থাকে। আসলে তা নয়। কারো মৃত্যু অথবা জীবিত থাকার কারণে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। আল্লাহ যখন তাঁর কোনো সৃষ্টির উপর তাজাল্লী বিস্তার করেন তখন তা তাঁর ভয়ে ভীত হয়।
[১২৬২] নাসায়ী ১৪৮৫, ১৪৮৮-৯০; আবূ দাঊদ ১১৯৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১৪৯৩, ইরওয়াহ ১৩১, তালীক সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১৪০২। উক্ত হাদিসের রাবী জামিল ইবনুল হাসান বিন জামিল আল আতাকী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অপরিচিত। ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তিনি ভাল। ২. আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সময় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর অবস্থার কথা এসেছে। তিনি ভীত অবস্থায় দ্রুত মসজিদে যান এবং গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সালাতে থাকেন। পরে তিনি মানুষের একটি ধারণা সংশোধন করেন। কেউ কেউ ভাবত, কোনো বড় নেতার মৃত্যু হলে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে বলেন, তা নয়; কারো মৃত্যু বা জীবিত থাকার কারণে গ্রহণ হয় না। এই বর্ণনায় কুসংস্কার ভাঙার পাশাপাশি আল্লাহর সামনে বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা আছে। গ্রহণকে শুধু দেখার বিষয় বানানো হয়নি; বরং তা মানুষকে সালাত, ভয় ও স্মরণের দিকে ডাকে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহ যখন তাঁর কোনো সৃষ্টির উপর তাজাল্লী করেন, তখন তা তাঁর ভয়ে ভীত হয়। তাই গ্রহণের সময় মুমিনের আচরণ হওয়া উচিত শান্ত, বিনয়ী এবং ইবাদতমুখী।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণকে বড় মানুষের মৃত্যু বা জীবনের সাথে যুক্ত করা ভুল ধারণা।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) গ্রহণের সময় সালাতে ব্যস্ত থেকেছেন।
- আল্লাহর নিদর্শন দেখলে অন্তরে বিনয় ও ভয় থাকা উচিত।
