৫/৮৫. অধ্যায়ঃ
জুমুআহ্র দিনে খুতবা।
জুমার খুতবায় কুরআন ও জিকির: নাতিদীর্ঘ নববী আমল
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১১০৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১১০৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ آيَاتٍ وَيَذْكُرُ اللَّهَ وَكَانَتْ خُطْبَتُهُ قَصْدًا وَصَلاَتُهُ قَصْدًا .
জাবির বিন সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর (প্রথম খুতবা শেষে) বসতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত পড়তেন এবং আল্লাহর জিকির করতেন। তাঁর খুতবা ও সালাত দুটোই ছিল নাতিদীর্ঘ।
[১১০৬] মুসলিম ৮৬১-২, ৮৬১-২; তিরমিযী ৫৬০, নাসায়ী ১৪১৫, ১৪১৭-১৮, ১৫৮২-৮৪; আবূ দাঊদ ১০৯৪, ১১০১, ১১০৭; আহমাদ ২০২৮৯, ২০৩০৬, ২০৩২২, ২০৩৩৫, ২০৩৬০, ২০৩৮৩, ২০৪১৩, ২০৪২২, ২০৪২৭, ২০৪৩৯, ২০৪৫২, ২০৪৬৫, ২০৫২০, ২০৫২৯, ২০৪৪৬; দারিমী ১৫৫৭, ১৫৫৯; ইবনু মাজাহ ১১০৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১০০৯।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১১০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমুআর খুতবার কয়েকটি সুন্দর দিক একসঙ্গে এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন, তারপর বসতেন, আবার দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত পড়তেন এবং আল্লাহর জিকির করতেন। আরও বলা হয়েছে, তাঁর খুতবা ও সালাত দুটোই ছিল নাতিদীর্ঘ—অর্থাৎ খুব বেশি দীর্ঘও নয়, আবার তাড়াহুড়োও নয়। “জুমার খুতবায় কুরআন”, “খুতবায় জিকির” এবং “নাতিদীর্ঘ খুতবা” এ হাদিসের মূল শব্দ। এখানে বক্তৃতার সৌন্দর্য হলো কুরআন, আল্লাহর স্মরণ এবং ভারসাম্য। হাদিসটি খতিব ও মুসল্লি—দুজনকেই মনে করিয়ে দেয়, খুতবার মূল শক্তি হলো আল্লাহর কথা ও স্মরণ। এ কারণে খুতবায় অর্থপূর্ণ কথা, কুরআন ও আল্লাহর স্মরণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এতে পাঠক হাদিসের মূল কথাটি সহজে ধরে রাখতে পারেন এবং অপ্রমাণিত বাড়তি দাবি থেকে বাঁচতে পারেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুতবায় কুরআনের আয়াত পাঠ করার কথা সরাসরি এসেছে।
- আল্লাহর জিকির খুতবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর খুতবা ও সালাত ছিল নাতিদীর্ঘ।
- ইবাদতে ভারসাম্য রাখা হাদিসের সরল শিক্ষা।
