All books

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব (০ টি হাদীস)

ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

পরিচ্ছেদঃ

বিদ্যা, উহা অনুসন্ধান, শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ। ওলামা এবং ছাত্রদের ধবীলতের ব্যাপারে যা এসেছে তার বর্ণনা।

৬৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৬৭


(صحيح) عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ". رواه البخاري ومسلم وابن ماجه

মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেনঃ “আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” [১]
(বুখারী, মুসলিম ও ইবনু মাজাহ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)
(হাসান লি গাইরিহী) হাদীছটি ত্বাবারানীও [কাবীর গ্রন্থে] বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনার বাক্য এরকমঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একথা বলতে শুনেছিঃ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَالْفِقْهُ بِالتَّفَقُّهِ، وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ"
“হে লোক সকল! শিক্ষার্জনের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা যায়, গবেষণার মাধ্যমেই ফিক্বাহ অর্জন করা যায়। আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের ফিক্বহ (গভীর জ্ঞান) দান করেন। إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ {আল্লাহকে তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই ভয় করে চলে।}(সূরা ফাতেরঃ ২৮)

[১] ফিকাহ শব্দের আসল অর্থ হচ্ছে বুঝা। বলা হয় (আরবি) লোকটি বুঝেছে ও জেনেছে। আর ক্বাফ অক্ষরে পেশ দিয়ে অর্থ হবে ফিকাহাবিদ ও আলেম। পরিভাষায় শরীয়তের বিদ্যাকেই ফিকাহ বলা হয়। বিশেষ করে শরীয়তের শাখা-প্ৰশাখাগত জ্ঞানকে ফিকহ বলা হয়। আবুস সা’আদাত একথাটি বলেছেন।
শায়খ আলবানী বলেন, কিন্তু তাঁর এই কথার পক্ষে কোন দলীল নেই। কেননা দারেমী বর্ণনা করেন ইমরান মিনকারী থেকে। তিনি বলেন, আমি কোন একটি বিষয়ে হাসান বাসরীকে বললাম ফিকাহবিদগণ তো এরূপ বলেননি। তিনি বললেন, তোমার ধ্বংস হোক! তুমি প্রকৃত ফিকাহবিদ দেখেছো? প্রকৃত ফিকাহবিদ হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি দুনিয়া বিমুখ, আখেরাত মুখী, ধর্মের যাবতীয় বিষয়ে পণ্ডিত এবং সর্বদা পালনকর্তার ইবাদতে লিপ্ত।

৬৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৬৮


(صحيح لغيره) (68) وَعَنْ حذيفَةَ بْنَ الْيَمَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : فَضْلُ الْعِلْمِ خَيْرٌمِنْ فَضْلِ الْعِبَادَةِ، وخَيْرُ دِينِكُمُ الْوَرَعُ . رواه الطبراني في الأوسط والبزار بإسناد حسن

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “ইবাদতের মর্যাদার চেয়ে বিদ্যার মর্যাদা অনেক বেশী। তোমাদের দ্বীনের মাঝে সর্বোত্তম বিষয় হল পরহেযগারিতা।”
(ত্বাবরানী আওসাত গ্রন্থে ও উত্তম সনদে বাযযার হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

৬৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৬৯


(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ، وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمْ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمْ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمْ الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمْ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ، وَمَنْ بَطَّأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ
رواه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح على شرطهما

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দুনিয়ার বিপদ সমূহ [১] থেকে একটি বিপদ দূরভীত করবে [২], আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত দিবসের বিপদ সমূহ থেকে তার একটি বিপদ দূরভীত করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন [৩] রাখবে। আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্থ বা অভাবী ব্যক্তিকে [৪] সহযোগিতা করবে, আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে সহযোগিতা দান করবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করবে, আল্লাহ ততক্ষণ তাকে সাহায্য করবেন।
যে ব্যক্তি বিদ্যার্জনের জন্য রাস্তা চলবে, বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি পথ সহজ করে দেবেন। যখনই কিছু সংখ্যক মানুষ আল্লাহর কোন ঘরে [৫] একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, তার পঠন-পাঠন ও গবেষণায় [৬] লিপ্ত হয় তখনই ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে নেন। নাযিল হয় তাদের প্রতি প্রশান্তি ও দৃঢ়তা, তাদেরকে আচ্ছাদিত করে (আল্লাহর) রহমত এবং আল্লাহ তাঁর নিকটের ফেরেশতাদের মাঝে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন। যার (মন্দ) কর্ম তাকে পিছে ফেলেছে [৭l, তার বংশ মর্যাদা তাকে (জান্নাতের পথে) অগ্রবর্তী করতে পারবে না।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী হাদীছটি সহীহ) [৮]

[১] অর্থাৎ দুনিয়ার কোন বিপদ বা দুশ্চিন্তা ছোট-বড় যাই হোক না কেন। চাই তা ইজ্জত সংক্রান্ত হোক বা ধন-সম্পদের বিষয়ে হোক শরীয়ত সম্মত হলে তা দূর করে দিবে। কিন্তু শরীয়ত বহির্ভূত হারাম বা মাকরূহ হলে উক্ত বিপদ দূর করা জায়েয নয়।
[২] অর্থাৎ তার সম্পদ বা সম্মান বা ইঙ্গিত বা মুখের কথা বা মধ্যস্থতা বা দু’আ বা সুপারিশ ইত্যাদি দ্বারা মুমিনের বিপদ দূর করবে।
[৩] গোপন করার অর্থ হল, বস্ত্ৰ দ্বারা শারীরিক ক্ৰটি ঢেকে দিবে অথবা চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি গোপন করবে। কিন্তু লোকটি যদি দুশ্চরিত্র হিসেবে পরিচিত থাকে, তবে তার অন্যায় গোপন করা জায়েয নয়। আর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও উত্তম চরিত্রের লোক হলে তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবে। নবী (সাঃ) বলেন, “ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন উত্তম চরিত্রের লোকদের দন্ডবিধি সংক্রান্ত অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য ত্রুটি মার্জনা করে দিও।” (আবু দাউদ)। অর্থাৎ আল্লাহর অধিকার সম্পর্কিত অপরাধ যেমন ব্যভিচার, মদ্যপান ইত্যাদি গোপন করবে। কিন্তু মানুষের অধিকার সম্পর্কিত হলে যেমন খুন, চুরি ইত্যাদি। তবে তা গোপন করা হারাম; বরং এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো ওয়াজিব।
[৪] অর্থাৎ ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি। তাকে সহযোগিতা করার অর্থ হচ্ছে ঋণ মওকুফ করে দেয়া বা পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করে দেয়া। অথবা উদ্দেশ্য হচ্ছে যে কোন অভাবী মানুষকে উপহার দিয়ে বা সাদকা প্ৰদান করে বা কর্য দিয়ে তাকে সহযোগিতা করা।
[৫] এখানে ঘর বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, মসজিদ বা মাদ্রাসা বা মক্তব ইত্যাদি যা দ্বীনী কাজের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
[৬] অর্থাৎ কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া, একজন অপরজনকে পড়ানো, তাফসীর করা, তার শাব্দিক অর্থ ও ব্যাখ্যা করা, গবেষণা করে মাসআলা-মাসায়েল বের করা ইত্যাদি।
['৭'] অর্থাৎ অসৎ কর্মের কারণে এবং নেক কর্মে উদাসীনতার কারণে যে লোক পিছনে পড়ে যাবে তার বংশ মর্যাদা ও বাপ-দাদার দোহাই কোন উপকারে আসবে না, তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে না। বান্দা যদি হাবশী গোলামও হয় তবু তার আনুগত্যশীল কর্ম তাকে অগ্রগামী করবে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের উদাসীন লোকের উপর। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট অতি সম্মানিত সেই লোক যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে।”
[৮] শায়খ আলবানী বলেন, হাদীছটির উল্লেখিত বাক্যগুলা ইবনে মাজাহ থেকে নেয়া। হুবহু এই বাক্যগুলো অন্যান্য গ্রন্থগুলোতে নেই।

৭০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭০


(حسن لغيره) وَعَنْ أبِيْ الدَّرْداَءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًا بِمَا يَصْنَعُ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي الْمَاءِ وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ
رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه وابن حبان في صحيحه والبيهقي

আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে রাস্তা চলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দিবেন। আর নিঃসন্দেহে তালেবে ইলমের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতাগণ ডানাগুলো তাদের জন্যে বিছিয়ে দেন। আসমান সমূহ ও যমীনের মধ্যে যা কিছু আছে সবই আলেম ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, এমনকি পানির মাছও তার জন্য ইস্তেগফার করে। সাধারণ আবেদ (ইবাদত গুজর) ব্যক্তির উপর একজন আলেম (জ্ঞানী) ব্যক্তির মর্যাদা ঠিক সেরূপ, যেরূপ সমস্ত নক্ষত্ররাজীর উপর চন্দ্রের মর্যাদা। নিঃসন্দেহে ওলামাগণ নবীদের উত্তরসূরী। নিশ্চয় নবীগণ কোন দীনার বা দিরহামের মীরাছ ছেড়ে যান না, বরং তারা ইলম বা জ্ঞানের উত্তরাধিকার ছেড়ে যান। সুতরাং যে ব্যক্তি উহা গ্রহণ করল সে পরিপূর্ণ অংশ গ্রহণ করল।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, বায়হাকী)

৭১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭১


(حسن) وَعَنْ صَفْوَانُ بن عَسَّالٍ الْمُرَادِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ مُتَّكِئٌ عَلَى بُرْدٍ لَهُ أحْمَرَ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي جِئْتُ أَطْلُبُ الْعِلْمَ، فَقَالَ:"مَرْحَبًا بطالبِ الْعِلْمِ، إنَّ طَالِبَ الْعِلْمِ تَحُفُّهُ الْمَلائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا، ثُمَّ يَرْكَبُ بَعْضُهُم بَعْضًا حَتَّى يَبْلُغُوا السَّمَاءَ الدُّنْيَا مِنْ مُحَبَّتِهِمْ لِمَا يَطْلُبُ.
رواه أحمد والطبراني بإسناد جيد واللفظ له وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح الإسناد وروى ابن ماجه نحوه باختصار

ছাফওয়ান বিন আসসাল আল মুরাদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর নিকট এলাম। তখন তিনি একটি লাল চাদরে হেলান দেয়া অবস্থায় মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট এসেছি, উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন করব। তিনি বললেনঃ “তালেবে ইলম স্বাগতম। নিশ্চয় ফেরেশতাগণ জ্ঞানাম্বেষণকারীকে ঘিরে রাখেন এবং ডানাগুলো দ্বারা তাকে ছায়া দান করেন। অতঃপর সে যা অম্বেষণ করে তার ভালবাসায় তারা একে অপরের উপর সওয়ার হয়ে দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌছে যায়।”
(আহমাদ, ত্বাবরানী উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের উপরোক্ত বাক্যগুলো তুবরানী থেকে গৃহিত। হাদীছটি আরো বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, তার সনদ সহীহ। হাদীছটি অনুরূপভাবে ইবনে মাজাহ সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছন।)

৭২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭২


(صحيح) وروي عَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ. رواه ابن ماجه وغيره

আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর ফরয।”
(ইবনু মাজাহ প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

৭৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭৩


(حسن لغيره) وَعَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " سَبْعٌ يَجْرِي لِلْعَبْدِ أَجْرُهُنَّ وَهُوَ فِي قَبْرِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ: مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا، أَوْ كَرَى نَهَرًا، أَوْ حَفَرَ بِئْرًا، أَوْ غَرَسَ نَخْلًا، أَوْ بَنَى مَسْجِدًا، أَوْ وَرَّثَ مُصْحَفًا، أَوْ تَرَكَ وَلَدًا يَسْتَغْفِرُ لَهُ بَعْدَ مَوْتِهِ ". رواه البزار وأبو نعيم في الحلية والبيهقي

আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “সাতটি আমলের ছোয়াব বান্দার মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় তার জন্য জারি থাকে। যে ব্যক্তি কাউকে বিদ্যা শিক্ষা দিবে, অথবা নদী খনন করবে, অথবা কুপ খনন করবে, অথবা খেজুর গাছ লাগিয়ে যাবে, অথবা মসজিদ তৈরী করবে, অথবা পবিত্র কুরআনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে অথবা এমন সন্তান রেখে যাবে যে মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।” (এসকল নেক কাজের ছোয়াব মৃত্যুর পরও লাভ করতে থাকবে।)
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বাযযার ও আবু নাঈম [হিলইয়া গ্রন্থে], আরো বর্ণনা করেছেন বায়হাকী]

৭৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭৪


(حسن ) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَلَا إِنَّ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلَّا ذِكْرُ اللَّهِ وَمَا وَالَاهُ وَعَالِمًا وَمُتَعَلِّمًا. رواه الترمذي وابن ماجه والبيهقي وقال الترمذي حديث حسن

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “দুনিয়াটা অভিশপ্ত এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছুই অভিশপ্ত। তবে আল্লাহর যিকির, যিকিরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, আলেম (জ্ঞানী) ও জ্ঞানার্জনকারী (অভিশপ্ত নয়)। [১]”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিয়ী, ইবনু মাজহ ও বায়হাকী। তিরমিয়ী বলেনঃ হাদীছটি হাসান)

[১] এখানে দুনিয়া বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তা’আলা থেকে যা দূরে রাখে তা সবই। অভিশপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর রহমতের নযর থেকে বঞ্চিত হওয়া। আল্লাহর যিকিরের সাথে সংশ্লিষ্ট দুনিয়াবী বস্তু আল্লাহ যা পছন্দ করেন। অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সাথে সামঞ্জস্যশীল বিষয়।

৭৫

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭৫


(صحيح) وَعَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا. رواه البخاري ومسلم

ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “দুটি কাজ ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে হিংসা[[১] করা বৈধ নয়। (১) এক ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে শক্তি দিয়েছেন সৎপথে উহা ব্যয় করতে। (২) আর এক ব্যক্তি আল্লাহ তাকে হিকমত তথা প্রজ্ঞা দিয়েছেন, সে তা দ্বারা বিচার ফায়সালা করে বা সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্যকে উহা শিক্ষা দান করে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম)

[১] আরবীতে الحسد শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ঃ (১) হিংসা- অর্থাৎ কারো ভাল দেখে তার ধ্বংস কামনা করা। এটা হারাম। (২) হিংসা অর্থ গিবতা অর্থাৎ অন্যের ভাল দেখে তা নিজের জন্য আকাংখা করা, এটা বৈধ। উল্লেখিত হাদীছে দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

৭৬

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭৬


(صحيح) وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مَثَلَ مَا بَعَثَنِيَ اللَّهُ بِهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ الْهُدَى وَالْعِلْمِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَصَابَ أَرْضًا فَكَانَتْ مِنْهَا طَائِفَةٌ طَيِّبَةٌ قَبِلَتْ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتْ الْكَلَأَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ فَكَانَ مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتْ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاسَ فَشَرِبُوا مِنْهَا وَسَقَوْا وَزَرَعَوْا وَأَصَابَ طَائِفَةً أُخْرَى إِنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُنْبِتُ كَلَأً فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقُهَ فِي دِينِ اللَّهِ وَنَفَعَهُ بِمَا بَعَثَنِيَ اللَّهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ. رواه البخاري ومسلم

আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ইলম ও হেদায়াত দিয়ে আল্লাহ তা’আলা আমাকে প্রেরণ করেছে তার উদাহরণ হল যমীনে বৃষ্টিপাতের মত। কোন কোন জায়গার মাটি ভাল, পানি ধারণ করে এবং তাতে প্রচুর উদ্ভিদ ও ঘাষ-পাতা উৎপন্ন হয়। আবার কোন জায়গার মাটি শক্ত, সেখানে উদ্ভিদ হয় না। তবে সে পানি ধরে রাখে। অতঃপর আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করেন। তারা সে পানি পান করে, সেচের কাজে ব্যবহার করে ও চাষাবাদ করে। আর এক ধরণের মাটি রয়েছে যা শক্ত ও খারাপ, পানিও ধরে রাখে না। উদ্ভিদও উৎপন্ন করে না।
প্রথম দুপ্রকার মাটির উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে যে আল্লাহ তা’আলার দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে, আর আল্লাহ যা দিয়ে আমাকে প্রেরণ করেছেন তা দ্বারা তাকে উপকৃত করেছেন। অতঃপর সে নিজে উহা শিখেছে ও অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে।
আর তৃতীয় প্রকার মাটির উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে, যে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মাথা উঠায়নি এবং আল্লাহর হেদায়াত কবুল করেনি, যা দিয়ে আমি প্রেরীত হয়েছি।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম)

৭৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭৭


(حسن) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ أوْمُصْحَفًا وَرَّثَهُ أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ تَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ. رواه ابن ماجه بإسناد حسن والبيهقي ورواه ابن خزيمة

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আমল ও নেকীর কাজ থেকে যা তার নিকট পৌঁছবে, তা হল ইলম যা সে শিক্ষা দান করেছে ও প্রচার করেছে। রেখে যাওয়া সৎ সন্তান (তার দু’আ)। অথবা একটি কুরআন যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গিয়েছে। অথবা একটি মসজিদ তৈরী করেছে বা মুসাফিরদের জন্য একটি ঘর তৈরী করে গিয়েছে। অথবা একটি নদী প্রবাহিত করেছে বা তার জীবদ্দশায় সুস্থ থাকাকালে নিজ সম্পদ থেকে কিছু সাদকা বের করেছে। এগুলোর ছোয়াব মৃত্যুর পর তার কাছে পৌঁছতে থাকবে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ হাসান সনদে, বায়হাকী ও ইবনু খুযায়মা অনুরূপ ভাবে।) তবে তার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ অথবা একটি নদী খনন করে, তিনি কুরআনের কথা উল্লেখ করেন নি।

৭৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭৮


(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ.
رواه مسلم وغيره

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “আদম সন্তান যখন মৃত্যু বরণ করে, তখন তিনটি আমল ব্যতীত সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। (১) সাদকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান সাদকা (২) উপকারী বিদ্যা (৩) সৎ সন্তান, যে তার জন্য দু’আ করে।
(মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

৭৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৭৯


(صحيح) وَعَنْ أبي قتادة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ مَا يُخَلِّفُ الرَّجُلُ مِنْ بَعْدِهِ ثَلَاثٌ وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ وَصَدَقَةٌ تَجْرِي يَبْلُغُهُ أَجْرُهَا وَعِلْمٌ يُعْمَلُ بِهِ مِنْ بَعْدِهِ. رواه ابن ماجه بإسناد صحيح

আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছেনঃ “কোন ব্যক্তি তার (মৃত্যুর) পর যা ছেড়ে যায় তন্মধ্যে সর্বোত্তম হল তিনটি বিষয়ঃ (১) নেক সন্তান যে তার জন্য দু’আ করবে। (২) সাদকা, মানুষ যা দ্বারা উপকৃত হতে থাকে, এর প্রতিদান তার নিকট পৌঁছতে থাকবে। (৩) ইলম, তার মৃত্যুর পর সে অনুযায়ী আমল করা হবে।”
(ইবনু মাজাহ সহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

৮০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮০


(حسن لغيره) وَعَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا فَلَهُ أَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهِ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الْعَامِلِ شيء. رواه ابن ماجه

সাহল বিন মুআয বিন আনাস স্বীয় পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি ইসলামের জ্ঞান শিক্ষা দিবে, সে তদানুযায়ী আমলকারীর অনুরূপ প্রতিদান লাভ করবে। এতে আমলকারীর প্রতিদান কোন অংশে কম হবে না।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ)

৮১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮১


(حسن لغيره) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ عليه أفضل الصلاة والسلام فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرَضِينَ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ. رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح

আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট দু’ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হল, একজন আবেদ (সাধারণ ইবাদত গুজর) অন্যজন আলেম (ইসলামী জ্ঞানে পারদর্শী) তিনি বললেনঃ (তাঁর উপর সর্বোত্তম রহমত ও সালাম নাযিল হোক) “আবেদের উপর আলেমের মর্যাদা ঠিক তেমন, যেমন তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার মর্যাদা।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ[১], ফেরেশতাকুল, আসমান সমূহ ও যমীনের অধিবাসীগণ এমনকি পিপিলিকা তার গর্ত থেকে- এমনকি পানির মাছও মানুষকে কল্যাণের শিক্ষাদানকারীর জন্য দু’আ করতে থাকে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, তিনি বলেন, হাদীছটি হাসান সহীহ)

(১) আল্লাহ দুআ করেন অর্থ রহমত নাযিল করেন। ফেরেশতাদের দুআর অর্থ হল ইক্তেগফার বা ক্ষমা প্ৰাথনা করা।

৮২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮২


(صحيح لغيره) ورواه البزار من حديث عائشة مختصرا قال: مُعَلِّمُ الْخَيْرِ يَسْتَغْفِرُ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ حَتَّى الْحِيْتاَنُ فِيْ الْبَحْرِ.

উল্লেখিত হাদীছটি বাযযার আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ “কল্যাণের শিক্ষাদানকারীর জন্য প্রত্যেক বস্তু ক্ষমা প্রার্থনা করে এমনকি সমুদ্রের মৎস্যকুলও।”

৮৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮৩


(حسن موقوف) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ مَرَّ بِسُوقِ الْمَدِينَةِ، فَوَقَفَ عَلَيْهَا، فَقَالَ:"يَا أَهْلَ السُّوقِ، مَا أَعْجَزَكُمْ !"قَالُوا: وَمَا ذَاكَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ:"ذَاكَ مِيرَاثُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْسَمُ، وَأَنْتُمْ هَاهُنَا ألاَ تَذْهَبُونَ فَتَأَخُذُونَ نَصِيبَكُمْ مِنْهُ !"قَالُوا: وَأَيْنَ هُوَ؟ قَالَ:"فِي الْمَسْجِدِ" فَخَرَجُوا سِرَاعًا إِلَى الْمَسْجِدِ، وَوَقَفَ أَبُوهُرَيْرَةَ لَهُمْ حَتَّى رَجَعُوا، فَقَالَ لَهُمْ:"مَا لَكُمْ؟"قَالُوا: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَدْ أَتَيْنَا الْمَسْجِدَ، فَدَخَلْنَا، فَلَمْ نَرَ فِيهِ شَيْئًا يُقْسَمُ، فَقَالَ لَهُمْ أَبُو هُرَيْرَةَ:"أَمَا رَأَيْتُمْ فِي الْمَسْجِدِ أَحَدًا؟"قَالُوا: بَلَى، رَأَيْنَا قَوْمًا يُصَلُّونَ، وَقَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ، وَقَوْمًا يَتَذَاكَرُونَ الْحَلالَ وَالْحَرَامَ، فَقَالَ لَهُمْ أَبُو هُرَيْرَةَ:"وَيْحَكُمْ، فَذَاكَ مِيرَاثُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ". رواه الطبراني في الأوسط بإسناد حسن

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একদা মদীনার বাজার অতিক্রম করছিলেন। তখন বাজারে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে বাজারের লোক সকল! কিসে তোমাদেরকে অপারগ করল? তারা বলল, উহা কি হে আবু হুরায়রা? তিনি বললেনঃ ওখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মীরাছ বন্টন হচ্ছে আর তোমরা এখানে? তোমরা সেখানে গিয়ে কিছু অংশ নাও না কেন? তারা বললঃ উহা কোথায়? তিনি বললেনঃ মসজিদে। একথা শুনে তারা সেখানে ছুটে গেল। আর আবু হুরায়রা দাঁড়িয়ে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে এল। তারপর তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা কি করলে? তারা বললঃ হে আবু হুরায়রা! আমরা গিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলাম। কিন্তু কোন কিছু বন্টন হচ্ছে তা তো দেখলাম না? আবু হুরায়রা তাদেরকে বললেনঃ তোমরা মসজিদে কাউকে দেখতে পাওনি? তারা বললঃ হ্যাঁ, আমরা দেখেছি কিছু লোক নামায আদায় করছে, কিছু লোক কুরআন পাঠ করছে, কিছু লোক হালাল-হারামের বিষয়ে পরস্পরে আলোচনা করছে। তখন আবু হুরায়রা তাদেরকে বললেনঃ আফসোস তোমাদের জন্যে ওটাই তো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মীরাছ (উত্তরাধিকার)।
(ত্বাবরানী উত্তম সনদে [আওসাত্ব গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)

পরিচ্ছেদঃ

জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ভ্ৰমণ করার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণঃ

৮৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮৪


(صحيح) عن أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ. رواه مسلم

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি বিদ্যান্বেষণের জন্য রাস্তা চলবে, বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দিবেন।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম প্রমূখ)

৮৫

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮৫


(صحيح) وَعَنْ زر بن حبيش قاَلَ أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ مَا جَاءَ بِكَ قُلْتُ أُنْبِطُ الْعِلْمَ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ خَارِجٍ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ إِلَّا وَضَعَتْ لَهُ الْمَلَائِكَةُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا بِمَا يَصْنَعُ.

যুরর বিন হুবায়শ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ছাফওয়ান বিন আসসাল আল মুরাদী (রাঃ)এর নিকট আগমণ করলাম। তিনি বললেনঃ কেন এসেছ? আমি বললামঃ জ্ঞানার্জন করব এই উদ্দেশ্যে। তিনি বললেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ
“যে কেউ ইলম তলব করার উদ্দেশ্যে গৃহ থেকে বের হবে, তার কৃতকর্মের প্রতি (জ্ঞানার্জনের কাজে) সম্ভষ্ট
হয়ে ফেরেশতাকুল তার জন্য তাদের ডানাগুলো বিছিয়ে দিবেন।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, হাদীছটির সনদ সহীহ হাদীছের বাক্য ইবনে মাজাহর)

৮৬

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮৬


(حسن صحيح) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:"مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لا يُرِيدُ إِلا أَنْ يَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ يَعْلَمَهُ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ تَامًّا حِجَّتُهُ".رواه الطبراني في الكبير

আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি শুধুমাত্র কল্যাণ শিক্ষা লাভ বা শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে সমজিদে গমণ করবে, তাকে পরিপূর্ণরূপে হজ্জ পালনকারীর ন্যায় প্রতিদান দেয়া হবে।”
(ত্বাবরানী কাবীর গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

৮৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮৭


(صحيح) وروي عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ جَاءَ مَسْجِدِي هَذَا لَمْ يَأْتِهِ إِلَّا لِخَيْرٍ يَتَعَلَّمُهُ أَوْ يُعَلِّمُهُ فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْمُجَاهِدِيْنَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنْ جَاءَ لِغَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ يَنْظُرُ إِلَى مَتَاعِ غَيْرِهِ. رواه ابن ماجه والبيهقي

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি আমার এই মসজিদে আসবে শুধুমাত্র কল্যাণ শিক্ষা করা বা শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের মর্যাদার অধিকারী হবে। আর যে ব্যক্তি অন্য কোন উদ্দেশ্যে আগমণ করবে, সে এমন ব্যক্তির ন্যায়, যে অন্যের সম্পদের দিকে চেয়ে থাকে।
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মাজাহ, বায়হাকী ও হাকেম)

৮৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮৮


(حسن لغيره) وَعَنْ أنَسِ بْنِ ماَلِكٍقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ كَانَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ. رواه الترمذي وقال حديث حسن

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করার জন্যে (ঘর থেকে) বের হল, সে ফেরত আসার পর্যন্ত আল্লাহর পথেই থাকল।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, তিনি বলেনঃ হাদীছটি হাসান)

পরিচ্ছেদঃ

হাদীছ শোনা, পৌঁছিয়ে দেয়া ও তা লিখার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি মিথ্যারোপ করার ব্যাপারে ভীতি প্ৰদৰ্শনঃ

৮৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৮৯


(حسن صحيح) عنْ ابنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَ فَرُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ.
رواه أبو داود والترمذي وابن حبان

ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একথা বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তা’আলা মুখমন্ডল উজ্জল করুন সেই ব্যক্তির, যে আমাদের থেকে কিছু শুনবে, অতঃপর যেভাবে শুনেছে সেভাবেই অপরের কাছে পৌঁছে দিবে। কেননা যার কাছে পৌছান হয় সে অনেক সময় শ্রোতার চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়।”
(আবু দাউদ, তিরমিয়ী ও ইবনু হিব্বান হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) [১] তবে ইবনু হিব্বানের বর্ণনায় বলা হয়ঃ আল্লাহ রহম করুন সেই ব্যক্তির উপর......। (তিরমিযী বলেন, হাদীছটি হাসান সহীহ)

[১] শায়খ আলবানী বলেন, এ হাদীছটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন একথা ভুল। কেননা তিনি ইবনে মাসউদ থেকে এ হাদীছ বর্ণনা করেননি। তিনি যায়েদ বিন ছাবেত বর্ণিত পরের হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।

৯০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯০


(صحيح) وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ غَيْرَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ.
ثَلاثٌ لاَ يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إِخْلاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَمُنَاصَحَةُ وُلاةِ الأَمْرِ وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ.
وَمَنْ كَانَتْ الدُّنْيَا نِيَّتُهُ فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ نِيَّتُهُ كَانَتْ الآخِرَةَ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا رَاغِمَةً. رواه ابن حبان في صحيحه والبيهقي بتقديم وتأخير وروى صدره إلى قوله ليس بفقيه أبو داود والترمذي وحسنه والنسائي وابن ماجه بزيادة عليهما

যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “আল্লাহ তা’আলা উজ্জলতা দান করুন সেই ব্যক্তিকে যে আমাদের একটি হাদীছ শ্রবণ করে অতঃপর তা অপরের কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা জ্ঞান বহনকারী কতক ব্যক্তি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানীর কাছে পৌছে দেয়। আর জ্ঞান বহনকারী কতক ব্যক্তি, নিজেই জ্ঞানী নয়।
তিনটি বিষয়ে কোন মুসলিমের অন্তর হিংসা করে নাঃ (১) কর্মকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা (২) নেতৃবৃন্দকে নসীহত করা এবং (৩) (মুসলমানদের) জামাআতকে আকড়ে থাকা। কেননা এদের দু’আ অন্যান্যদেরকেও পরিবেষ্টিত করে।
যে ব্যক্তির দুনিয়াটাই হল একক উদ্দেশ্য, আল্লাহ তার প্রতিটি বিষয়কে বিশৃংখল করে দেন। দুচোখের সামনে শুধু অভাব-অনটন লাগিয়ে রাখেন। আর নির্ধারিত বস্তু ছাড়া দুনিয়ার কোন কিছুই তার কাছে আসে না। যে ব্যক্তির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আখেরাত, আল্লাহ তার প্রতিটি বিষয় সুশৃংখল করে দেন। তার অন্তরকে পরিতৃপ্ত করে দেন। আর দুনিয়ার সম্পদ তার সামনে লাঞ্ছিত অবস্থায় হাজির হয়।”
(হাদীছটি ইবনু হিব্বান (সহীহ) গ্রন্থে এবং বায়হাকী বাক্যগুলো কিছু আগে পিছে করে বর্ণনা করেন।)
(আর আবু দাউদ, তিরমিয়ী, নাসাঈ ও ইবনু মাজাহ হাদীছটির শুরু থেকে নিজেই জ্ঞানী নয়..। পর্যন্ত বর্ণনা করেন।)

৯১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯১


(صحيح) وروي عن أنَسِ بْنِ ماَلِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: خَطَبَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَسْجِدِ الْخَيْفِ مِنْ مِنىً فَقاَلَ: نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَها وَوَعَاهَا وَبَلَّغَهَا مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا ثم ذهب بها إِلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لا فِقْهَ لَهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ، إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ. رواه الطبراني في الأوسط

আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিনার মসজিদে খায়ফে আমাদের সামনে বক্তব্য রাখলেন। তিনি বললেনঃ
“আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জলতা দান করুন, যে আমার কথা শুনেছে- মুখস্ত করেছে ও ধারণ করে রেখেছে। অতঃপর যারা তা শুনেনি তাদের কাছে পৌঁছিয়েছে। কেননা কতক জ্ঞান বহনকারী নিজে জ্ঞানী নয়। আর কতক জ্ঞান বহনকারী ব্যক্তি তার চেয়ে বড় জ্ঞানীর নিকট তা পৌঁছিয়ে থাকে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [আওসাত] গ্রন্থে)

৯২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯২


(صحيح لغيره) وَعَنْ جبير بن مطعم قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ بِالْخَيْفِ خَيْفِ مِنًى : نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَها وَوَعَاهَا وَبَلَّغَهَا مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لا فِقْهَ لَهُ وَرُبُّ حَامِلِ فِقْهٍ ، إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ ، ثَلاثٌ لا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُؤْمِنٍ: إِخْلاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَالنَّصِيحَةُ لأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ ، وَلُزُومُ جَمَاعَتِهِمْ ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ ، تُحِيطُ مَنْ وَرَاءَهُمْ. رواه أحمد وابن ماجه والطبراني في الكبير مختصرا ومطولا

জুবাইর বিন মুতএম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “আল্লাহ তা’আলা সেই বান্দাকে সৌন্দর্যতা ও উজ্জলতা দান করুন, যে আমার বক্তব্য শুনেছে, উহা মুখস্ত করেছে ও ভালভাবে সংরক্ষণ করেছে এবং যে শুনেনি তার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা কতক জ্ঞান বহনকারী ব্যক্তি কোন জ্ঞান রাখে না। আর জ্ঞান বহনকারী কতক ব্যক্তি তার চাইতে বেশী জ্ঞানীর নিকট তা পৌঁছিয়ে দেয়। তিনটি ক্ষেত্রে মুমিন ব্যক্তির দিলে কোন হিংসা-দ্বেষ থাকে না। (১) আমলকে এখলাসের সাথে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা। (২) মুসলমানদের নেতৃবৃন্দকে নসীহত করা এবং (৩) তাদের জামাআতকে আঁকড়ে থাকা। কেননা তাদের দু’আ পরবর্তদেরকেও শামিল করে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ইবনু মাজহ ও ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘকারে)

৯৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯৩


(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
رواه مسلم وغيره

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেনঃ “আদম সন্তান যখন মৃত্যু বরণ করে, তখন তিনটি আমল ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়ঃ (১)
সাদকায়ে জারিয়া (২) উপকারী বিদ্যা (৩) সৎ সন্তানের দু’আ৷”
(মুসলিম প্রমুখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
{ নোটঃ হাফেয ইবনু হাজার বলেনঃ উল্লেখিত হাদীছ ও তদনুরূপ হাদীছ সমূহ দ্বারা বুঝা যায়, উপকারী বিদ্যার নকল কপিকারীও তার ছোয়াব পাবে। এমনি ভাবে যে উহা পাঠ করবে বা নকল কপি করবে বা তদানুযায়ী আমল করবে তার প্রতিদানও লাভ করবে। আর অপকারী বিদ্যা, যাতে পাপ রয়েছে- তার নকলকারী পাপের ভাগী হবে। এমনিভাবে যে উহা পাঠ করবে বা নকল কপি করবে বা সে অনুযায়ী আমল করবে তার পাপও তাকে বহন করতে হবে যতদিন তার সেই লিখা অবশিষ্ট থাকবে। যেমনটি পূর্বোল্লিখিত হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ইসলামে উত্তম রীতি চালু করবে...... যে ব্যক্তি ইসলামে খারাপ কাজ চালু করবে….. }

৯৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯৪


(صحيح) وَعَنْه قال قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ. رواه البخاري ومسلم وغيرهما

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে, সে তার স্থায়ী ঠিকানা জাহান্নামে করে নিবে।“
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম প্রমূখ। এ হাদীছটি একাধিক সাহাবী থেকে মুতাওয়াতের পর্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। যা সহীহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান রয়েছে)

৯৫

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯৫


(صحيح) وَعَنْ سَمُرَةَ بنِ جُنْدَبٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قاَلَ: مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيثٍ يُرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ. رواه مسلم وغيره

সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি আমার নামে কোন হাদীছ বর্ণনা করে মনে করে যে হাদীছটি মিথ্যা, তবে (বর্ণনা করার কারণে) সে দু'জন মিথ্যাবাদীর একজন।“
(মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

৯৬

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯৬


(صحيح) وَعَنْ المغيرة قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ. رواه مسلم وغيره

মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “নিঃসন্দেহে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে, সে তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নিবে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম প্রমূখ)

পরিচ্ছেদঃ

ওলামাগণকে সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ ও তাদেরকে অসম্মান করা ও তাদেরকে পরওয়া না করার প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শনঃ

৯৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯৭


(صحيح) عن جابر رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ يعني فِيْ القَبْرِ ثُمَّ يَقُولُ أَيُّهُماَ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ. رواه البخاري

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধে শহীদদেরকে কবর দেয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’ব্যক্তিকে একসাথে রাখছিলেন এবং বলছিলেনঃ “দু’জনের মধ্যে কে বেশী কুরআন জানত? যখন কোন এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করা হত, তখন তাকে প্রথমে কবরে রাখতেন।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বুখারী)

৯৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯৮


(حسن ) و عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ وَالْجَافِي عَنْهُ وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ. رواه أبو داود

আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহকে মর্যাদা দেয়ার অন্তর্ভুক্ত হল এই ব্যক্তিবর্গকে সম্মান করাঃ (১) বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তি (২) কুরআন ধারণকারী [১] যিনি সে ব্যাপারে অতিরঞ্জনকারী নয় এবং তার সাথে রুঢ় আচরণকারীও নয়। এবং (৩) ন্যায় পরায়ন শাসককে সম্মান করা।
(আবু দাউদ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

[১] অর্থাৎ কুরআন পাঠ্যকারী, মুখস্তকারী ও তাফসীরকারী। অতিরঞ্জনের অর্থ হচ্ছে, উচ্চারণ ও তাজবীদ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা বা কুরআনকে এত তাড়াহুড়া করে পাঠ করা যাতে তার অর্থ অনুধাবন করা অসম্ভব হয়, অথবা কুরআনের গোপন অর্থ অনুসন্ধান করা বা অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়া। আর রূঢ়তা হচ্ছে, কুরআন পাঠ করার পর তা থেকে দূরে থাকা, অর্থ অনুধাবন না করা, আমল না করা, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি। দ্রঃ আউনুল মা’বূদ হা/৪২০৩)

৯৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ৯৯


(صحيح) وَعَنْ ابن عباس أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: البَرَكَةُ مَعَ أكاَبِرِكُمْ
رواه الطبراني في الأوسط والحاكم وقال صحيح على شرط مسلم

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের বয়স্ক ব্যক্তির সাথে রয়েছে বরকত।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] এবং হাকেম, তিনি বলেন, মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ)

১০০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০০


(صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عمرو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يبلغ به النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَلَمْ يَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا. رواه الحاكم وقال صحيح على شرط مسلم

আবদুল্লাহ ইবনু ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বর্ণনাটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি স্নেহশীল নয় এবং বড়দের হক বুঝে না (তাদের শ্রদ্ধা করে না) সে আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন হাকেম, তিনি বলেন, মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ)

১০১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০১


(حسن ) وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا، وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا. رواه أحمد بإسناد حسن والطبراني والحاكم

উবাদাহ বিন ছামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের বড়দেরকে শ্রদ্ধা করে না, ছোটদের প্রতি রহম করে না এবং আলেমদের মর্যাদা বুঝে না সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ, ত্বাবরানী ও হাকেম)

১০২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০২


(صحيح لغيره) وَعَنْ واثلة بن الأسقع قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيُجِلُّ كَبِيرِنَا. رواه الطبراني

ওয়াছেলা বিন আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
(ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১০৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০৩


(حسن صحيح) وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ شَرَفَ كَبِيرِنَا. رواه الترمذي وأبو داود

আমার বিন শুআয়ব থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর পিতা থেকে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের মর্যাদা বুঝে না সে আমাদের (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী ও আবু দাউদ) তবে আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, (আরবি) এবং আমাদের বড়দের হক (শ্রদ্ধা) জানে না…।

১০৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০৪


(حسن ) وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ:"لَقَدْ سَمِعْتُ حَدِيثًا مُنْذُ زَمَانٍ: إِذَا كُنْتَ فِي قَوْمٍ عِشْرِينَ رَجُلًا، أَوْ أَقَلَّ، أَوْ أَكْثَرَ، فَتَصَفَّحْتَ فِي وُجُوهِهِمْ، فَلَمْ تَرَ فِيهِمْ رَجُلًا يُهَابُ فِي اللهِ، فَاعْلَمْ أَنَّ الْأَمْرَ قَدْ رَقَّ ". رواه أحمد والطبراني في الكبير

আবদুল্লাহ বিন বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বহুদিন পূর্বে একটি হাদীছ শুনেছিলামঃ “তুমি যদি কোন লোকদের মাঝে থাক যেখানে বিশজন বা তার চাইতে কম বা বেশী লোক থাকে। অতঃপর তাদের চেহারা দেখে যদি এমন কোন ব্যক্তি না পাও যাকে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর ব্যাপারে ভয় করা হয়। [১] তবে মনে করবে দ্বীন ক্ষীণ হয়ে গেছে।”
(আহমাদ ও ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাসান সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

[১] অর্থাৎ- তাদের মধ্যে এমন আল্লাহ ভীরু পরেহজগার নেক লোক নেই। যার চেহারার দিকে তাকালে সততা ও নিষ্ঠার ছাপ লক্ষ্য করা যায়; ফলে তার প্রতি অন্তরে ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধা সৃষ্টি হয়, তাহলে মনে করবে ইসলাম ধর্ম তাদের মধ্যে ক্ষীণ ও দুর্বল হয়ে গেছে। (আল্লাহই অধিক জানেন)

পরিচ্ছেদঃ

আল্লাহ তা’আলার সম্ভষ্টি ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জনের প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শনঃ

১০৫

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০৫


(صحيح لغيره) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنْ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِي رِيحَهَا. رواه أبو داود وابن ماجه وابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح على شرط البخاري ومسلم

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেনঃ “আল্লাহর সম্ভষ্টির উদ্দেশ্যে যে ইলম অর্জন করতে হয়, তা যদি কোন মানুষ দুনিয়ার উদ্দেশ্য হাসিলের নিমিত্তে অর্জন করে, তবে সে কিয়ামত দিবসে জান্নাতের সুঘ্ৰাণও পাবে না।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ইবনে হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী সহীহ)
ইতিপূর্বে আবু হুরায়রা (রাঃ)এর হাদীছ রিয়া অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে (হাদীছ নং ২২), তাতে বলা হয়ঃ

رجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن فأتي به فعرفه نعمه فعرفها قال فما عملت فيها قال تعلمت العلم وعلمته وقرأت فيك القرآن، قال كذبت ولكنك تعلمت ليقال عالم وقرأت القرآن ليقال هو قارىء فقد قيل ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار، الحديث رواه مسلم وغيره

“(কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম বিচার করা হবে) সেই ব্যক্তির যে জ্ঞানার্জন করেছিল ও মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছিল এবং কুরআন পাঠ করেছিল। তাকে নিয়ে আসা হবে। অতঃপর (আল্লাহ) তাকে প্রদত্ত নেয়ামত সমূহের পরিচয় করবেন। সে উহা চিনতে পারবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, কি আমল করেছ এই নেয়ামত দ্বারা। সে বলবে, জ্ঞানার্জন করেছি এবং মানুষকে তা শিখিয়েছি। আর আপনার সম্ভাষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। তিনি বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি জ্ঞানার্জন করেছ এই উদ্দেশ্যে যে, (তোমাকে) বলা হবে আলেম বা জ্ঞানী। কুরআন পাঠ করেছ এই উদ্দেশ্যে যে, (তোমাকে) বলা হবে ক্বারী বা পাঠক। আর তা তো বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে, তখন তাকে মুখের ভরে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” (হাদীছটি মুসলিম প্রমূখ বর্ণনা করেছেন)

১০৬

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০৬


(صحيح لغيره) وروي عن كعب بن مالك قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ. رواه الترمذي واللفظ له وابن أبي الدنيا في كتاب الصمت وغيره والحاكم شاهدا والبيهقي، وقال الترمذي حديث غريب

কা’ব বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি বিদ্যান্বেষন করবে এই উদ্দেশ্যে যে, তা দ্বারা ওলামাদের কাতারে শামিল হবে। অথবা দুর্বল বিবেক সম্পন্ন লোকদের সাথে বিতর্ক করবে এবং মানুষের দৃষ্টি তার দিকে ফিরাবে। তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, ইবনু আবী দুনিয়া [কিতাবুছ ছমত গ্রন্থে] ও বায়হাকী। হাকেম অন্য হাদীছের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি গরীব। এ হাদীসের শব্দরূপ তাঁর কিতাব থেকেই গৃহীত হয়েছে)

১০৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০৭


(صحيح لغيره) وَعَنْ جاَبِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ وَلَا لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلَا تَخَيَّرُوا بِهِ الْمَجَالِسَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَالنَّارُ النَّارُ.
رواه ابن ماجه وابن حبان والبيهقي

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “তোমরা এই উদ্দেশ্যে জ্ঞান শিক্ষা করো না যে, তা দ্বারা আলেমদের মাঝে গর্ব করবে, নির্বোধদের সাথে ঝগড়া করবে, মজলিস বা মাহফিলের উত্তম স্থানে বসবে। যে এরূপ করবে তার জন্যে রয়েছে আগুন, আগুন। (ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান ও বায়হাকী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)। [১]

[১] শায়খ আলবানী বলেন, হাদীছটি আরো বর্ণনা করেছেন হাকেম, ইবনে আবদুল বারর। হাদীছটিকে হাকেম ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাতে সম্মতি দিয়েছেন। হাফেয ইরাক্বীও হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।

১০৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০৮


হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হাদীছটি অনুরূভাবে ইবনে মাজাহ হুযায়ফা (রাঃ) এর বরাতে বর্ণনা করেছেন।

১০৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১০৯


(صحيح لغيره) وروي عن ابن عمر عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ لِيَصْرِفَ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ فَهُوَ فِي النَّارِ. رواه ابن ماجه

ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বিদ্যাম্বেষণ করবে এই উদ্দেশ্যে যে, তা দ্বারা আলেমদের মাঝে গর্ব করবে, মূর্খ লোকদের সাথে ঝগড়া করবে অথবা তার দিকে মানুষের দৃষ্টি ফিরাবে, তবে সে জাহান্নামে যাবে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ)

১১০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১০


(صحيح لغيره) وروي عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ وَلِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ وَيَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ جَهَنَّمَ.
رواه ابن ماجه أيضا

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বিদ্যা শিক্ষা করবে এই উদ্দেশ্যে যে, তা দ্বারা আলেম সমাজে গৰ্ব-অহংকার করবে, মূর্খ লোকদের সাথে বিতর্ক করবে অথবা তার দিকে মানুষের দৃষ্টি ফিরাবে, তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন।”
(এ হাদীছটিও বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ)

১১১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১১


(صحيح لغيره موقوف) وَعَنْ ابن مسعود رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: كَيْفَ بِكُمْ إِذَا لَبِسَتْكُمْ فِتْنَةٌ يَرْبُو فِيهَا الصَّغِيرُ وَيَهْرَمُ فِيهَا الْكَبِيرُ، وتُتَّخَذُ سُنَّةُ فَإنْ غَيَّرْتَ يَوْماً قِيْلَ هَذاَ مُنْكَرٌ قِيْلَ: وَمَتَى ذَاكَ؟ قَالَ: إِذَا وَقَلَّتْ أُمَنَاؤُكُمْ وَكَثُرَتْ أُمَرَاؤُكُمْ وَقَلَّتْ فُقَهَاؤُكُمْ وَكَثُرَتْ قُرَّاؤُكُمْ وَتُفُقِّهَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَالْتُمِسَتِ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الآخِرَةِ. رواه عبد الرزاق في كتابه موقوفا

ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ “তখন তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফিতনা তোমাদেরকে ঘিরে ধরবে। ওর মধ্যেই ছোটরা লালিত-পালিত হবে, বড়রা বৃদ্ধ হবে। আর ওটাকেই (ঐ ফিতনাকেই) সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে। কোন দিন যদি তা পরিবর্তন (ঐ ফিতনাকে উৎখাত) করা হয়, তখন বলা হবে এটা গৰ্হিত কাজ।

তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কখন এরূপ হবে?

তিনি বললেনঃ যখন তোমাদের মাঝে বিশ্বস্থ (আমানতদার) লোকের সংখ্যা কম হবে, নেতৃবৃন্দের সংখ্যা বেশী হবে। ফিকাহবীদের সংখ্যা কম হবে এবং ক্বারীদের সংখ্যা বেশী হবে। আর দ্বীনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করা হবে। আখেরাতের আমল দ্বারা দুনিয়ার (সম্পদ) অনুসন্ধান করা হবে।”

(আবদুর রাজ্জাক [মুসান্নাফ গ্রন্থে] মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন) [১]

হাদিসের মানঃ সহিহ লিগাইরিহি মাওকুফ

[১] হাদীছটি আরো বর্ণনা করেছেন দারেমী, হা/১৯২।

পরিচ্ছেদঃ

জ্ঞানের সম্প্রচার এবং কল্যাণের পথ দেখানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করণঃ

১১২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১২


(حسن ) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ يَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ. رواه ابن ماجة بإسناد حسن، والبيهقي، ورواه ابن خزيمة في صحيحه بنحوه

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “মু’মিন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আমল ও নেকীর কাজ থেকে যা (ছোয়াব) তার নিকট পৌঁছবে তা হল, ইলম যা সে শিক্ষা দান করেছে ও প্রচার করেছে। রেখে যাওয়া সৎ সন্তান (অর্থাৎ তার দু’আ)। অথবা একটি কুরআন যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছে। অথবা একটি মসজিদ তৈরী করেছে বা মুসাফিরের জন্য একটি ঘর নিমাণ করেছে। অথবা একটি নদী প্রবাহিত করেছে। অথবা তার জীবদ্দশায় সুস্থ থাকাকালে নিজের সম্পদ থেকে সাদকা করে গেছে। এগুলোর ছোয়াব মৃত্যুর পর তার কাছে পৌঁছতে থাকবে।"
(ইবনে মাজাহ, বায়হাক্বী এবং অনুরূপভাবে ইবনে খুযায়মা হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১১৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১৩


(صحيح) وَعَنْ أبي قتادة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ مَا يُخَلِّفُ الرَّجُلُ مِنْ بَعْدِهِ ثَلَاثٌ وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ وَصَدَقَةٌ تَجْرِي يَبْلُغُهُ أَجْرُهَا وَعِلْمٌ يُعْمَلُ بِهِ مِنْ بَعْدِهِ . رواه ابن ماجه بإسناد صحيح

আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “কোন ব্যক্তি তার (মৃত্যুর) পর যা ছেড়ে যায় তন্মধ্যে সর্বোত্তম হল তিনটি জিনিসঃ (১) নেক সন্তান যে তার জন্যে দুআ করবে। (২) এমন সাদকা যার উপকার জারী থাকে, এর প্রতিদান তার নিকট পৌঁছতে থাকবে। (৩) এমন ইলম (যা সে প্রচার করেছে) তার মৃত্যুর পর সে অনুযায়ী আমল করা হবে।”
(ছহীহ সনদে ইবনে মাজাহ এ হাদীছটিও বর্ণনা করেছেন) ইতোপূর্বে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীছ উল্লেখ করা হয়েছেঃ [১]

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ رواه مسلم

“আদম সন্তান মৃত্যু বরণ করলে তিনটি আমল ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়ঃ (১) সাদকায়ে জারিয়া বা (মানুষ উপকার লাভ করে এমন দান) (২) উপকারী বিদ্যা (৩) সৎ সন্তান যে তার জন্যে দু'আ করে।”
(ইমাম মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

[১] দ্রঃ ৭৮ নং হাদীছ।

১১৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১৪


(صحيح لغيره) وروي عن أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: أَرْبَعَةٌ تَجْرِي عَلَيْهِمْ أُجُورُهُمْ بَعْدَ الْمَوْتِ: رَجُلٌ ماَتَ مُرَابِطاً فِي سَبِيلِ اللهِ، وَ رَجُلٌ عَلَّمَ عِلْماً فأجره يجري عليه ما عمل به ، وَرَجُلٌ أجرى صَدَقَةً فَأَجْرُهَا لَهُ مَا جَرَتْ، وَرَجُلٌ تَرَكَ وَلَدًا صَالِحًا يَدْعُو لَهُ. رواه الإمام أحمد والبزار والطبراني في الكبير والأوسط

আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ “চারটি আমলের ছোয়াব মৃত্যুর পরেও জারি থাকেঃ (১) যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারারত থেকে মৃত্যু বরণ করে। (২) যে ব্যক্তি (মানুষকে) এলেম শিক্ষা দেয়। তদানুযায়ী যা আমল করা হয় তার ছোয়াব তার জন্যে জারি থাকে। (৩) যে ব্যক্তি সাদকায়ে জারিয়া করে। যতদিন ঐ সাদকার উপকার জারি থাকে। ততদিন ছোয়াবও তার জন্যে জারি থাকবে। (৪) যে ব্যক্তি নেক সন্তান রেখে যায়, যে তার জন্যে দু’আ করে।”
(ইমাম আহমাদ, বাযযার, ত্বাবরানী [কাবীর ও আওসাত গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১১৫

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১৫


(صحيح) وَعَنْ أبي مسعود البدري أنَّ رَجُلاً أتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ليَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَدْ أُبْدِعَ بِي فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ائْتِ فُلَانًا فَأَتَاهُ فَحَمَلَهُ فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ أَوْ قَالَ عَامِلِهِ. رواه مسلم وأبو داود والترمذي

আবু মাসউদ বাদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে একটি বাহন চাইল। অতঃপর বললঃ আমার বাহনটি খোঁড়া হয়ে (সফর বন্ধ হয়ে) গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ উমুক লোকের কাছে যাও। সে তার কাছে গেলে লোকটি তাকে একটি বাহন দিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ “যে ব্যক্তি ভাল কাজের সন্ধান দিবে, সে উহার কর্তার অথবা বলেছেন সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ ছোয়াব লাভ করবে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযী) হাদীছের বাক্য তিরমিষীর।

১১৬

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১৬


(صحيح) وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال أَنَّهُ قَالَ أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: "مَا عِنْدِي مَا أُعْطِيكَه، وَلَكِنْ ائْتِ فُلَانًا". فَأَتَى الرَّجُلَ فَأَعْطَاهُ. فَقاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ أوْعاَمِلِهِ. رواه ابن حبان في صحيحه

আবু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে কিছু চাইল। তিনি বললেনঃ “তোমাকে যা দিব তা আমার কাছে নেই। কিন্তু উমুক লোকের কাছে যাও। সে লোকটির কাছে গেলে সে তাকে উহা প্ৰদান করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ “যে ব্যক্তি ভাল কাজের সন্ধান দিবে, সে উহার কর্তার অথবা বলেছেন সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ ছোয়াব লাভ করবে।”
(ইবনে হিব্বান [ছহীহ গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
বাযযার সংক্ষেপে হাদীছটি বর্ণনা করেছেনঃ الدَّالُّ عَلَى الْخَيْرِ كَفَاعِلِهِ “কল্যাণের বিষয়ে পথ প্ৰদৰ্শনকারী উহা সম্পাদনকারীর ন্যায় (ছওয়াবের অধিকারী)।”

১১৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১৭


সাহল বিন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উক্ত হাদীছটি ত্বাবরানী [কাবীর ও আওসাত গ্রন্থে] সাহল বিন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

১১৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১৮


(صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنْ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا. رواه مسلم وغيره

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি হেদায়াতের পথে আহবান করবে, সে তার অনুসরণকারীর সমপরিমাণ ছোয়াব লাভ করবে, অথচ তাদের (অনুসরণ কারীদের) ছোয়াব থেকে কোন কিছু কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্তির দিকে আহ্বান করবে, সে তার অনুসরণ কারীদের সমপরিমাণ পাপের অধিকারী হবে, অথচ তাদের (অনুসরণ কারীদের) পাপের অংশ থেকে কোন কিছু কম করা হবে না।”
(ইমাম মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১১৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১১৯


(صحيح موقوف) وَعَنْ عليٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ في قوله تعالى قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا. قاَلَ عَلِّمُوْا أهْلِيْكُمْ الْخَيْرَ. رواه الحاكم موقوفا وقال صحيح على شرطهما

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আল্লাহর বাণীঃ (আরবি) “তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।” (সূরা তাহরীমঃ ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ “তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দান কর।”
(হাকেম মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন)

পরিচ্ছেদঃ

এলেম গোপন রাখার প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শনঃ

১২০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২০


(صحيح) عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أُلْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ. رواه أبو داود والترمذي وحسنه وابن ماجه وابن حبان في صحيحه والبيهقي ورواه الحاكم

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “কেউ যদি কোন বিষয়ের ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়, আর সে তা গোপন রাখে, তবে ক্বিয়ামত দিবসে তার মুখে আগুনের লাগাম পরানো হবে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, বায়হাক্বী এবং অনুরূপ বাক্যে হাকেম। হাকেম বলেনঃ হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী ছহীহ, কিন্তু তাঁরা তা নিজেদের পুস্তকে উল্লেখ করেন নি।)
ইবনে মাজাহর অপর বর্ণনায়ঃ مَا مِنْ رَجُلٍ يَحْفَظُ عِلْمًا فَيَكْتُمُهُ إِلَّا أَتَي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَلْجُوْمًا بِلِجَامٍ مِنْ النَّارِ

“কোন মানুষ যদি কোন বিষয়ে জ্ঞান রাখে আর সে তা গোপন করে। তবে সে ক্বিয়ামত দিবসে আগুনের লাগাম পরানো অবস্থায় উপস্থিত হবে।"

১২১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২১


(حسن صحيح) وَعَنْ عبد الله بن عَمْروٍ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قاَلَ: مَنْ كَتَمَ عِلْمًا أَلْجَمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ النَّارِ. رواه ابن حبان في صحيحه والحاكم وقال صحيح لا غبار عليه

আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এলেম গোপন করে রাখবে, আল্লাহ ক্বিয়ামত দিবসে তাকে আগুনের লাগাম পরাবেন।” (হাদীছটি ইবনে হিব্বান ও হাকেম বর্ণনা করেছেন) হাকেম বলেনঃ হাদীছটি ছহীহ তাতে কোন ক্ৰটি নেই।

১২২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২২


(حسن صحيح) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال مَثَلُ الَّذِي يَتَعَلَّمُ الْعِلْمَ، ثُمَّ لا يُحَدِّثُ بِهِ، كَمَثَلِ الَّذِي يَكْنِزُ الْكَنْزَ، ثُمَّ لاَ يُنْفِقُ مِنْهُ. رواه الطبراني في الأوسط

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বিদ্যা শিক্ষা লাভ করে তা আলোচনা করে না তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির সাথে যে সম্পদ গচ্ছিত করে রাখে কিন্তু তা থেকে খরচ করে না।”
(ত্বাবরানী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

পরিচ্ছেদঃ

জ্ঞান লাভ করে আমল না করা এবং যা করে না তা বলার প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শনঃ

১২৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২৩


(صحيح) عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا. رواه مسلم والترمذي والنسائي

যায়দ বিন আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দু'আটি পাঠ করতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আশ্রয় চাই এমন বিদ্যা থেকে যা উপকারে আসে না, এমন অন্তর থেকে যা ভীত হয় না, এমন আত্মা থেকে যা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন দু’আ থেকে যা কবুল হয় না।”
(হাদীছটি ইমাম মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ প্রমূখ বৰ্ণনা করেছেন)

১২৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২৪


(صحيح) وَعَنْ أساَمَةَ بنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أنه سَمِعَ رَسُوْلَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ فِي النَّارِ فَيَدُورُ كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ النَّارِ عَلَيْهِ فَيَقُولُونَ أَيْ فُلَانُ مَا شَأْنُكَ أَلَسْتَ كُنْتَ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنْ الْمُنْكَرِ قَالَ كُنْتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ وَأَنْهَاكُمْ عَنْ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ. (رواه البخاري والبيهقي)

উসামা বিন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছেনঃ “ক্বিয়ামত দিবসে জনৈক ব্যক্তিকে (যে জ্ঞান অনুযায়ী আমল করত না তাকে) নিয়ে আসা হবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তাতে তার পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে আসবে, তারপর তা নিয়ে সে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা যাঁতা নিয়ে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামবাসীগণ তার কাছে একত্রিত হয়ে জিজ্ঞেস করবেঃ ওহে উমুক! কি ব্যাপার তোমার? তুমি না সৎকাজের আদেশ করতে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে? সে বলবেঃ হ্যাঁ, আমি সৎকাজের আদেশ করতাম কিন্তু নিজে তা করতাম না। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতাম কিন্তু আমি নিজেই তা করতাম।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ও বাইহাকী)

১২৫

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২৫


(صحيح) قال وإنِّيْ سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ يَعْنِيْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِيَ عَلَى بِأقْوامٍ تُقْرَضُ شِفَاهُهُمْ بِمَقَارِيضَ مِنْ نارٍ قُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ ياَ جِبْرِيْلُ؟ قَالَ: خُطَبَاءُ الَّذِينَ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ. رواه البخاري ومسلم واللفظ له ورواه ابن أبي الدنيا وابن حبان والبيهقي من حديث أنس

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

তিনি [১] আরো বলেনঃ আমি শুনেছি তিনি- অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেনঃ “মে'রাজের রাতে আমি একদল লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। যাদের ঠোঁটগুলো আগুনের কেঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করেছি এরা কারা হে জিবরীল? তিনি বলেছেনঃ এরা আপনার উম্মতের বক্তাশ্রেণী। তারা এমন কথা বলতো যা নিজেরা আমল করতো না।”

(বুখারী ও মুসলিম) হাদীছের বাক্য মুসলিমের। [২]

হাদীছটি [৩] ইবনে আবী দুনিয়া, ইবনে হিব্বান ও বায়হাক্বী আনাস (রাঃ)এর বরাতে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবী দুনিয়া ও বায়হাক্বী তাদের বর্ণনায় নিম্নের কথাটি বৃদ্ধি করেনঃ (আরবি) “তারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করতো কিন্তু তার প্রতি আমল করতো না।”

[১] শায়খ আলবানী বলেনঃ একথায় বুঝা যায় যে, এ হাদীছটিও উসামা বিন যায়দ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আসলে তা নয়; বরং উহা বৰ্ণনা করেছেন আনাস বিন মালেক (রাঃ)।
[২] শায়খ আলবানী বলেনঃ লিখক বুঝাতে চেয়েছেন যে পূর্বের হাদীছটি এবং এটি বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা। একথা সঠিক নয়। পূর্বেরটি বুখারী ও মুসলিমের ঠিকই কিন্তু তার বাক্য বুখারী থেকে চয়ন করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ও ইবনে হিব্বান।
[৩] অর্থাৎ আনাস বিন মালেক (রাঃ) বর্ণিত মেরাজের হাদীছটি।

১২৬

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২৬


(صحيح) وَعَنْ أَبِيْ بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَ فَعَلَ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ. رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح

আবু বরযা আল আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “ক্বিয়ামত দিবসে কোন বান্দার পদদ্বয় টলবে না যতক্ষণ তাকে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো প্রশ্ন না করা হবেঃ তার বয়স সম্পর্কে কিভাবে তা শেষ করেছে। তার জ্ঞান সম্পর্কে তা দ্বারা কি আমল করেছে? তার সম্পদ সম্পর্কে কিভাবে তা উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে? এবং তার শরীর সম্পর্কে কিভাবে তা বিনষ্ট করেছে।"
(ইমাম তিরমিয়ী হাদীছটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ হাদীছটি হাসান ছহীহ)

১২৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২৭


(صحيح) ورواه البيهقي وغيره من حديث معاذ بن جبل عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال ماَ تُزاَلُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَعَنْ عِلْمِهِ ماَذَا عَمِلَ فِيْهِ؟

মুআ’য বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হাদীছটি বায়হাক্বী প্রমূখ মুআ’য বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ “ক্বিয়ামত দিবসে বান্দার পদদ্বয় নড়বে না যে পর্যন্ত তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করা হয়ঃ (১) তার বয়স সম্পর্কে কিভাবে তা লয় করেছে। (২) তার যৌবন সম্পর্কে কিভাবে তাকে পুরাতন করেছে। (৩) তার সম্পদ সম্পর্কে কিভাবে তা উপার্জন করেছে? এবং কোন পথে তা খরচ করেছে। (৪) আর তার বিদ্যা সম্পর্কে তা দ্বারা কি আমল করেছে?”

১২৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২৮


(حسن لغيره) وَعَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَزُولُ قَدَما ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ؟ رواه الترمذي أيضا والبيهقي وقال الترمذي حديث غريب

ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) “পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন না করা পর্যন্ত ক্বিয়ামত দিবসে আদম সন্তানের পদদ্বয় নড়বে নাঃ (১) তার বয়স সম্পর্কে কিভাবে তা ক্ষয় করেছে। (২) তার যৌবন সম্পর্কে কিভাবে তা অতিবাহিত করেছে। (৩) তার সম্পদ সম্পর্কে কিভাবে তা উপার্জন করেছে? এবং (৪) কোন পথে তা খরচ করেছে। (৫) আর যা শিখেছে সে অনুযায়ী কি আমল করেছে?" (এ হাদীছটিও বর্ণনা করেছেন তিরমিযী ও বায়হাকী, তিরমিযী বলেন, হাদীছটি হাসান গরীব)

১২৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১২৯


(صحيح لغيره موقوف) وَعَنْ لُقْماَنَ يَعْنِيْ ابن عاَمِرٍ قاَلَ: كَانَ أَبُوْ الدَّرْدَاءِ يَقُوْلُ:"إِنَّمَا أَخْشَى مِنْ رَبِّي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَدْعُوَنِيْ عَلَى رُؤُوْسِ الْخَلَائِقِ، فَيَقُولُ لِي: يَا عُوَيْمِرُ! فَأَقُولُ: لَبَّيْكَ رَبِّ، فَيَقُولُ: مَا عَمِلْتَ فِيمَا عَلِمْتَ؟" رواه البيهقي

লোক্বমান বিন আমের থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবু দারদা (রাঃ) বলতেনঃ “ক্বিয়ামত দিবসে আমি আমার পালনকর্তকে ভয় করছি যে, তিনি আমাকে সকল সৃষ্টির সম্মুখে ডেকে বলবেনঃ হে উওয়াইমের! আমি বলবঃ লাব্বাইকা হে আমার পালনকর্তা! তখন তিনি বলবেনঃ যা শিক্ষা লাভ করেছে তদানুযায়ী কী আমল করেছিলে?”

(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বায়হাকী)

হাদিসের মানঃ সহিহ লিগাইরিহি মাওকুফ

১৩০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩০


(صحيح لغيره) وروي عن أبي بَرْزَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَثَلُ الَّذيِ يُعَلِّمُ النِّاسَ الخَيْرَ وَيَنْسَى نَفْسَهُ، مَثَلُ الْفَتِيْلَةِ، تُضِيءُ عَلَى النَّاسِ وَتَحْرِقُ نَفْسَهاَ. رواه البزار

আবু বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দান করে অথচ নিজের (আমলের) কথা ভুলে যায়; তার উদাহরণ হচ্ছে চেরাগের মত। চেরাগ মানুষকে আলো প্ৰদান করে ঠিকই কিন্তু নিজেকে জ্বলিয়ে দেয়। (অর্থাৎ মানুষ উপকৃত হয় ঠিকই, কিন্তু আমল না করার কারণে সে নিজের ক্ষতি সাধন করে)”
(এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বাযযার)

১৩১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩১


(حسن )وَعَنْ جُنْدُبِ بن عَبْدِ اللَّهِ الأَزْدِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ صَاحِبِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قاَلَ: مَثَلُ الَّذِي يُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ ويَنْسَى نَفْسَهُ كَمَثَلِ السِّرَاجِ يُضِيءُ لِلنَّاسِ ويُحْرِقُ نَفْسَهُ. الحديث رواه الطبراني في الكبير

জুনদুব বিন আবদুল্লাহ আযদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবী। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ “যে ব্যক্তি মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দান করে অথচ নিজে (আমলের) কথা ভুলে যায়; তার উদাহরণ হচ্ছে বাতির মত। যে বাতি মানুষকে আলো দেয় ঠিকই কিন্তু নিজেকে পুড়িয়ে দেয়।”
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১৩২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩২


(صحيح) و عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : "إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي مُنَافِقٌ عَليِمُ اللِّسَانِ. رواه الطبراني في الكبير والبزار

ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “আমার পরে তোমাদের জন্য আমি সবচেয়ে বেশী ভয় করছি, প্রত্যেক বিজ্ঞ ভাষাবিদ মুনাফেককে।” (ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] এবং বাযযার হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১৩৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩


উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উক্ত হাদীছটি ইমাম আহমাদ উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

পরিচ্ছেদঃ

বিদ্বান হওয়া ও কুরআন সম্পর্কে জ্ঞানী হওয়ার দাবী করার প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শনঃ

১৩৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৪


(صحيح) عن أبي بن كعب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال قَامَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام خَطِيبًا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ فَسُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ فَقَالَ أَنَا أَعْلَمُ قَالَ فَعَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ أَنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ قَالَ يا رَبِّ كَيْفَ بِهِ فَقِيلَ لَهُ احْمِلْ حُوتًا فِي مِكْتَلٍ فإذَا فَقَدْتَهُ فَهُوَ ثَمَّ ... فذكر الحديث في اجتماعه بالخضر إلى أن قال فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ لَيْسَ لَهُمَا سَفِينَةٌ فَمَرَّتْ بِهِمَا سَفِينَةٌ فَكَلَّمُوهُمْ أَنْ يَحْمِلُوهُمَا فَعُرِفَ الْخَضِرُ فَحَمَلُوهُمَا بِغَيْرِ نَوْلٍ فَجَاءَ عُصْفُورٌ فَوَقَعَ عَلَى حَرْفِ السَّفِينَةِ فَنَقَرَ نَقْرَةً أَوْ نَقْرَتَيْنِ فِي الْبَحْرِ فَقَالَ الْخَضِرُ يَا مُوسَى مَا نَقَصَ عِلْمِي وَعِلْمُكَ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ إِلَّا كَنَقْرَةِ هَذَا الْعُصْفُورِ فِي هذا الْبَحْرِ. فذكر الحديث بطوله
وفي رواية: بَيْنَمَا مُوسَى يَمْشِيْ فِي مَلَإٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ هَلْ تَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْكَ قَالَ مُوسَى لَا فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى مُوسَى بَلْ عَبْدُنَا الْخَضِرُ ، فَسَأَلَ مُوسَى السَّبِيلَ إِلَيهِ.
الحديث رواه البخاري ومسلم وغيرهما

উবাই বিন কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “একদা মূসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বানী ইসরাঈলের সামনে বক্তৃতা করছিলেন। এমন সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হলঃ সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ কে? তিনি বললেন, আমি সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী। একথার জন্য আল্লাহ তাঁকে তিরস্কার করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কীত করেন নি। (অর্থাৎ বলেননি যে, আল্লাহই ভাল জানেন কে বেশী জ্ঞানী) আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী করলেনঃ আমার জনৈক বান্দা ‘দু’সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে’ আছে সে তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা! কিভাবে আমি তার নিকট পৌঁছতে পারি? তাঁকে বলা হলঃ থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে বের হয়ে পড়। যে স্থানে পৌঁছার পর মাছটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে সেখানেই তাকে পাওয়া যাবে। (এরপর মূসার সাথে খিযিরের সাক্ষাতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেনঃ) তাঁরা উভয়ে সমুদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন। তাঁরা নৌকা পাচ্ছিলেন না। ইতোমধ্যে একটি নৌকা সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিল। তাঁরা নৌকায় আরোহনের ব্যাপারে কথাবার্তা বললেন। মাঝিরা খিযিরকে চিনে ফেলল। তাই কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁদেরকে নৌকায় তুলে নিল। ইতোমধ্যে একটি চড়ুই পাখী নৌকার একপ্রান্তে এসে বসল এবং সমুদ্র থেকে এক বা দু’চষ্ণু পানি তুলে নিল। খিযির বললেন: হে মূসা (আ:)! আমার জ্ঞান ও আপনার জ্ঞান উভয়ে মিলে আল্লাহর জ্ঞানের মোকাবেলায় এমন তুলনাও হয় না, যেমনটি এ চড়ুইয়ের চঞ্চুর পানির সাথে রয়েছে সমুদ্রের পানির।” এরপর তিনি হাদীছটি পূর্ণরূপে বর্ণনা করেন।
অপর বর্ণনায় আছেঃ একদা মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক জামাত লোকের মাঝ দিয়ে চলছিলেন। এমন সময়
জনৈক লোক এসে তাঁকে বললঃ আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এমন কাউকে কি আপনি জানেন? মূসা বললেনঃ না। তখন আল্লাহ মূসার কাছে ওহী করলেনঃ বরং আমার বান্দা খিযির (তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী)। তখন মূসা (আঃ) তাঁর কাছে যাওয়ার উপায় সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন....।”
(বুখারী ও মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১৩৫

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৫


(حسن لغيره) وَعَنْ عمر بن الخطاب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يظهر الإسلام حتى تختلف التجار في البحر وحتى تخوض الْخَيْلُ فِي سَبِيلِ اللهِ ، ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ يَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ ، يَقُولُونَ : مَنْ أَقْرَأُ مِنَّا ؟ مَنْ أَعْلَمُ مِنَّا ؟ من أفقه منا؟ ثُمَّ قال لاصحابه: هَلْ فِي أُولَئِكَ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالُوْا : اللهُ وَرَسُوْلُهُ أعْلَمُ ، قَالَ : أُولَئِكَ منكم مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ ، أُولَئِكَ هم وَقُودُ النَّارِ.. رواه الطبراني في الأوسط والبزار

ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “ইসলাম বিজয় লাভ করবে। অতঃপর এমন একটা পর্যায় আসবে যখন ব্যবসায়িকগণ সমুদ্র পথে সফর করবে, অশ্বারোহী বাহিনী আল্লাহর পথে (লড়াইয়ে) নিমগ্ন হবএ। তারপর একদল লোক বের হবে যারা কুরআন পড়বে এবং বলবেঃ কে আছে আমাদের চেয়ে বেশী কুরআন পড়তে পারে? কে আছে আমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী? কে আমাদের চেয়ে অধিক বুঝে? এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদেরকে বললেনঃ “ওদের মধ্যে কি কোন কল্যাণ আছে?”
তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞান রাখেন। তিনি বললেনঃ “ওরা তোমাদের মধ্যে থেকে এই উম্মতেরই অন্তর্ভুক্ত। ওরা জাহান্নামের ইন্ধন।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবরানী [আওসাত গ্রন্থে] ও বাযযার)

১৩৬

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৬


আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিতঃ

উক্ত হাদীছটি আবু ইয়া'লা, বাযযার ও ত্বাবরানী আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন।

১৩৭

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৭


(حسن لغيره) وَعَنْ أُمِّ الْفَضْلِ أم عَبْدِ اللَّهِ بن عَبَّاسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , أَنَّهُ قَامَ لَيْلَةً بِمَكَّةَ مِنَ اللَّيْلِ , فَقَالَ:اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ؟ ثَلاثَ مَرَات ,
فَقَامَ عُمَرُ بن الْخَطَّابِ وَكَانَ أَوَّاهًا , فَقَالَ: اللَّهُمَّ نَعَمْ , وَحَرَّضْتَ , وَجَهَدْتَ , وَنَصَحْتَ. فَقَالَ:
لَيَظْهَرَنَّ الإِيمَانُ حَتَّى يَرُدَّ الْكُفْرَ إِلَى مَوَاطِنِهِ , وَلَيُخَاضَنَّ الْبِحَارُ بِالإِسْلامِ , وَلَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَتَعَلَّمُونَ فِيهِ الْقُرْآنَ، يَتَعَلَّمُونَهُ وَيْقَرَءُونَهُ , ثُمَّ يَقُولُونَ قَدْ قَرَأْنَا وَعَلِمْنَا , فَمَنَ ذَا الَّذِي هُوَ خَيْرٌ مِنَّا؟ فَهَلْ فِي أُولَئِكَ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ, مَنْ أُولَئِكَ؟ قَالَ:أُولَئِكَ مِنْكُمْ , وَأُولَئِكَ هُمْ وَقُودُ النَّارِ. رواه الطبراني في الكبير

আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের মাতা উম্মে ফাযল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করে বলেনঃ একদা কোন এক রাতে তিনি মক্কায় দন্ডায়মান হয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহ আমি কি পৌঁছিয়েছি?” কথাটি তিনি তিনবার বললেন। তখন ওমার বিন খাত্তাব দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন অধিক বিনয়ী। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! হ্যাঁ, আপনি পৌঁছিয়েছেন, আপনি উদ্বুদ্ধ করেছেন, জিহাদ করেছেন এবং নসীহত করেছেন। তখন তিনি বললেনঃ “অবশ্যই ইসলাম বিজয় লাভ করবে, এমনকি কুফরীকে তার ঠিকানায় ফেরত পাঠানো হবে। নাবিকগণ ইসলামের বাণী নিয়ে সাগর পাড়ি দিবে। এমন এক যুগ আসবে যখন মানুষ কুরআন শিক্ষা করবে। তারা কুরআন শিক্ষা করবে ও পাঠ করবে তারপর বলবেঃ আমরা পড়লাম ও জানলাম। অতএব আমাদের চেয়ে উত্তম আর কে আছে? এসকল লোকের মধ্যে কি কোন কল্যাণ আছে? তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ওরা কারা? তিনি বললেনঃ “ওরা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। ওরা হবে জাহান্নামের ইন্ধন।”
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

পরিচ্ছেদঃ

ঝগড়া-বিবাদ, একে অপরের উপর দলীল পেশ করা, পরাজিত করা, বিজয়ী হওয়া প্রভৃতি কাজ থেকে ভীতি প্ৰদৰ্শন এবং হকদার হওয়া বা না হওয়া উভয় ক্ষেত্রে ঝগড়া পরিত্যাগ করার প্ৰতি উদ্বুদ্ধ করণঃ

১৩৮

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৮


(حسن لغيره) عن أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَهُوَ مُبْطِلٌ بُنِيَ لَهُ بيتٌ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ ومَنْ تَرَكَهُ وَهُوَ مُحِقٌّ بُنِيَ لَهُ فِي وَسَطِهَا وَمَنْ حَسَّنَ خُلُقَهُ بُنِيَ لَهُ فِي أَعْلَاهَا. رواه أبو داود والترمذي واللفظ له وابن ماجه والبيهقي وقال الترمذي حديث حسن

আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি বাতিল বিষয় নিয়ে ঝগড়া পরিত্যাগ করবে, তার জন্যে জান্নাতের আশে-পাশে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। সত্য বিষয় হওয়া সত্বেও যে ব্যক্তি ঝগড়া পরিহার করবে তার জন্যে জান্নাতের মধ্যভাগে ঘর তৈরী করা হবে। আর যে ব্যক্তি নিজের চরিত্রকে সুন্দর করবে তার জন্যে জান্নাতে উচু স্থানে ঘর তৈরী করা হবে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী) তিরমিযী বলেন, হাদীছটি হাসান।

১৩৯

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৯


(حسن لغيره) وَعَنْ مُعَاذِ بن جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :"أَنَا زَعِيمُ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ، وَبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ، وَبَيْتٍ فِي أَعْلَى الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا، وَتَرَكَ الْكَذِبَ وَإِنْ كَانَ مَازِحًا، وَحَسُنَ خُلُقُهُ". رواه البزار والطبراني

মুআ’য বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “আমি ঐ ব্যক্তির জন্যে জান্নাতের আশে-পাশে একটি ঘরের, জান্নাতের মধ্যভাগে একটি ঘরের এবং জান্নাতের উচু স্থানে একটি ঘরের জিম্মাদার হব, যে সত্যবাদী হওয়া সত্ত্বেও অনর্থক ঝগড়া পরিহার করবে, ঠাট্টা করে হলেও যে মিথ্যা পরিত্যাগ করবে এবং যে ব্যক্তি নিজের চরিত্রকে সুন্দর করবে।”
(হাদীছটি বাযযার ও ত্বাবরানী বর্ণনা করেছেন)

১৪০

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৪০


(صحيح لغيره) وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال: كُنَّا جُلُوسًا عَلَى بَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَتَذَاكَرُ ، يَنْزِعُ هَذَا بِآيَةٍ ويَنْزِعُ هَذَا بِآيَةٍ ، فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كََمَا يَفْقَأَ فِيْ وَجْهِهِ حَبُّ الرُّمَّانِ، فَقَالَ: يَا هَؤُلاءِ بِهَذَا بُعِثْتُمْ؟ أَمْ بِهَذَا أُمِرْتُمْ؟ لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ. رواه الطبراني في الكبير

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাড়ীর দরজায় বসে পরস্পর আলোচনা করছিলাম। একজন একটি আয়াত টেনে নিয়ে আসছে আরেকজন আরেকটি আয়াত টানছে। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন। (ক্রোধের কারণে) যেন তাঁর মুখমন্ডলে ডালিমের দানা ফুটে উঠেছিল। তারপর তিনি বললেনঃ “ওহে তোমরা! এই দিয়ে তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে? নাকি এ বিষয়ে তোমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে? আমার পরে তোমরা কাফের হয়ে যেও না। তখন তোমাদের একজন আরেকজনের ঘাড় মটকাবে।”
(ত্বাবরানী [কাবীর গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১৪১

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৪১


(حسن ) وَعَنْ أَبِيْ أُماَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا ضَلَّ قَوْمٌ بَعْدَ هُدًى كَانُوا عَلَيْهِ إِلَّا أُوتُوا الْجَدَلَ ثُمَّ قَرَأَ (مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا) رواه الترمذي وابن ماجه وابن أبي الدنيا في كتاب الصمت وغيره وقال الترمذي حديث حسن صحيح

আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
“হেদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোন জাতি যদি পথভ্রষ্ট হয়, তবে তাদেরকে কুট বিতর্কে জড়িয়ে দেয়া হয়।” তারপর তিনি পাঠ করেনঃ (আরবি) “ওরা আপনার সামনে যে উদাহরণ উপস্থাপন করে তা কেবল বিতর্কের জন্যেই করে।” (সূরা যুখরুফঃ ৫৮)
(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও ইবনে আবী দুনিয়া [কিতাবুস সামত গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন) তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি হাসান ছহীহ।

১৪২

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৪২


(صحيح) وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَبْغَضُ الرِّجَالِ إِلَى اللَّهِ الْأَلَدُّ الْخَصِمُ. رواه البخاري ومسلم والترمذي والنسائي

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ঘূণিত মানুষ হচ্ছে সর্বদা কুটতর্ককারী।”
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

১৪৩

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৪৩


(حسن صحيح ) وَعَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " الْمِرَاءُ فِي الْقُرْآنِ كُفْرٌ. رواه أبو داود وابن حبان

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
“কুরআন নিয়ে কুটতর্কে [১] লিপ্ত হওয়া কুফরী।”
(আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বান হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)

[১] যেমন এরূপ তর্কে লিপ্ত হওয়া যে, কুরআন নতুন না পুরাতন। অথবা কুরআনের সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াত নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা।

১৪৪

সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব

অধ্যায় : ইলম বা বিদ্যা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৪৪


যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ত্বাবরানী প্রমূখ হাদীছটি যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।