All books

রিয়াদুস সলেহিন (০ টি হাদীস)

সফরের আদব-কায়দা ৯৬৩ - ৯৯৭

পরিচ্ছেদ - ১৬৬

বৃহস্পতিবার সকালে সফরে বের হওয়া উত্তম

৯৬৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৬৩


عَنْ كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ يَوْمَ الخَمِيسِ، وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يَخْرُجَ يَوْمَ الْخَميسِ . متفقٌ عَلَيْهِ.
وفي رواية في الصحيحين: لَقَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ إِلاَّ فِي يَوْمِ الخَمِيسِ.

কা‘ব ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক অভিযানে বৃহস্পতিবার বের হলেন। আর তিনি বৃহস্পতিবার (সফরে) বের হওয়া পছন্দ করতেন।

সহীহুল বুখারী ২৯৪৯, ২৭৫৮, ২৯৪৭, ২৯৪৮, ২৯৫০, ৩০৮৮, ৩৫৫৬, ৩৮৮৯, ৩৯৫১, ৪৪১৮, ৪৬৭৩, ৪৬৭৬, ৪৬৭৭, ৪৬৭৮, ৬২৫৫, ৬৬৯০, ৭২২৫, মুসলিম ২৭৬৯, তিরমিযী ৩১০২, নাসায়ী ৩৮২৪, ৩৮২৬, আবূ দাউদ ২২০২, ৩৩১৭, ৩৩১৯, ৩৩২১, ৪৬০০, আহমাদ ১৫৩৪৩, ১৫৩৪৫, ১৫৩৫৪

৯৬৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৬৪


وَعَنْ صَخرِ بنِ وَدَاعَةَ الغَامِدِيِّ الصَّحَابِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: اَللهم بَارِكْ ِلأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا. وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشَاً بَعَثَهُمْ مِنْ أوَّلِ النَّهَارِ . وَكَانَ صَخْرٌ تَاجِراً، وَكَانَ يَبْعَثُ تِجَارَتَهُ أوَّلَ النَّهَار، فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ. رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ:حديث حسن

খর ইবনে অদা‘আহ গামেদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালে বরকত দাও।’’ আর তিনি যখন সেনার ছোট বাহিনী অথবা বড় বাহিনী পাঠাতেন, তখন তাদেরকে সকালে রওয়ানা করতেন। স্বাখর ব্যবসায়ী ছিলেন। সুতরাং তিনি তাঁর ব্যবসার পণ্য সকালেই প্রেরণ করতেন। ফলে তিনি (এর বরকতে) ধনী হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর মাল প্রচুর হয়েছিল। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান)

[১] ইবনু মাজাহ ২২৩৬, আবূ দাউদ ২৬০৬, আহমাদ ১৫০১২, ১৫০১৭, ১৫১২৯, ১৫১৩০, দারেমী ২৪৩৫

পরিচ্ছেদ - ১৬৭

সফরের জন্য সাথী খোঁজ করা এবং কোন একজনকে আমীর (দলপতি) নিযুক্ত করে তার আনুগত্য করা শ্রেয়

৯৬৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৬৫


عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: لَوْ أَنَّ النَّاسَ يَعْلَمُونَ مِنَ الوحدَةِ مَا أعْلَمُ، مَا سَارَ رَاكبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ ! . رواه البخاري

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যদি লোকেরা জানত যে, একাকী সফরে কী ক্ষতি রয়েছে ; যা আমি জানি, তাহলে কোন সওয়ার একাকী সফর করত না ।’’(বুখারী)

(সহীহুল বুখারী ২৯৯৮, তিরমিযী ১৬৭৩, ইবনু মাজাহ ৩৭৬৮, আহমাদ ৪৭৩৭, ৫২৩০, ৫৫৫৬, ৫৬১৮, দারেমী ২৬৭৯)

৯৬৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৬৬


وَعَنْ عَمرِو بنِ شُعَيْبٍ، عَن أَبِيهِ، عَن جَدِّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ، وَالثَّلاَثَةُ رَكْبٌ ». رواه أَبُو داود والترمذي والنسائي بأسانيد صحيحةٍ، وَقَالَ الترمذي: «حديث حسن »

আম্র ইবনে শুআইব তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘একজন (সফরকারী) আরোহী একটি শয়তান এবং দু’জন আরোহী দু’টি শয়তান । আর তিনজন আরোহী একটি কাফেলা ।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ বিশুদ্ধসূত্রে)

(আবূ দাঊদ ২৬০৭, তিরমিযী ১৬৭৪, আহমাদ ৬৭০৯, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৩১)

৯৬৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৬৭


وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ وأَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنهُمَا، قَالاَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا خَرَجَ ثَلاَثَةٌ في سَفَرٍ فَليُؤَمِّرُوا أحَدَهُمْ . حديث حسن، رواه أَبُو داود بإسنادٍ حسن

আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন তিন ব্যক্তি সফরে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।’’

আবূ দাঊদ ২৬০৮

৯৬৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৬৮


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: خَيْرُ الصَّحَابَةِ أرْبَعَةٌ، وَخَيْرُ السَّرَايَا أرْبَعُمِئَةٍ، وَخَيْرُ الجُيُوشِ أرْبَعَةُ آلاَفٍ، وَلَنْ يُغْلَبَ اثْنَا عَشَرَ ألْفاً مِنْ قِلةٍ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘সর্বোত্তম সঙ্গী হল চারজন, সর্বোত্তম ছোট সেনাবাহিনী হল চারশ’ জন, সর্বোত্তম বড় সেনাবাহিনী হল চার হাজার জন । আর বারো হাজার সৈন্য স্বল্পতার কারণে কখনো পরাজিত হবে না ।’’

(আবূ দাঊদ ২৬১১, তিরমিযী ১৫৫৫, দারেমী ২৪৩৮)

পরিচ্ছেদ - ১৬৮

সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো এবং সফরে ঘুমানোর আদব-কায়দা । রাতে পথচলা মুস্তাহাব, সওয়ারী পশুদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা এবং তাদের বিশ্রামের খেয়াল রাখা । যে তাদের অধিকারের ব্যাপারে ত্রুটি করে তাকে তাদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেওয়া । সওয়ারী সমর্থ হলে আরোহীর নিজের পিছনে অন্য কাউকে বসানো বৈধ ।

৯৬৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৬৯


عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا سَافَرْتُمْ فِي الخِصْبِ، فَأَعْطُوا الإبلَ حَظَّهَا مِنَ الأَرْضِ، وَإِذَا سَافَرْتُمْ فِي الجَدْبِ، فَأَسْرِعُوا عَلَيْهَا السَّيْرَ، وَبَادِرُوا بِهَا نِقْيَهَا، وَإِذَا عَرَّسْتُمْ، فَاجْتَنِبُوا الطَّرِيقَ ؛ فَإنَّهَا طُرُقُ الدَّوَابِّ، وَمَأوَى الهَوَامِّ بِاللَّيْلِ . رواه مسلم

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন তোমরা সবুজ-শ্যামল ঘাসে ভরা যমীনে সফর করবে, তখন উটকে তার যমীনের অংশ দাও (অর্থাৎ কিছুক্ষণ চরতে দাও) । আর যখন তোমরা ঘাস-পানিবিহীন যমীনে সফর করবে, তখন তার উপর চড়ে দ্রুত চলো এবং তার শক্তি শেষ হওয়ার পূর্বেই গন্তব্যস্থানে পৌঁছে যাও । আর যখন তোমরা রাতে বিশ্রামের জন্য কোন স্থানে অবতরণ করবে, তখন আম রাস্তা থেকে দূরে থাকো । কারণ, তা রাতে (হিংস্র) জন্তুদের রাস্তা এবং (বিষাক্ত) পোকামাকড়ের আশ্রয় স্থল ।’’

(মুসলিম) (মুসলিম ১৯২৬, তিরমিযী ২৮৫৮, আবূ দাঊদ ২৫৬৯, আহমাদ ৮২৩৭, ৮৭০০)

৯৭০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭০


وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ، فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينهِ، وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ، وَوَضَعَ رَأسَهُ عَلَى كَفِّهِ . رواه مسلم

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করতেন । আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের চেটোর উপর মাথা রেখে আরাম করতেন ।’

(মুসলিম) (মুসলিম ৬৮৩, আহমাদ ২২০৪০, ২২১২৫)
উলামাগণ বলেন, ‘তিনি হাত খাড়া রেখে আরাম করতেন, যাতে গভীর নিদ্রা এসে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত অথবা প্রথম ওয়াক্ত ছুটে না যায় ।’

৯৭১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭১


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: عَلَيْكُمْ بِالدُّلْجَةِ، فَإنَّ الأرْضَ تُطْوَى بِاللَّيْلِ . رواه أَبُو داود بإسناد حسن

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা রাতে সফর কর । কেননা, রাতে যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয় ।’’

(আবূ দাঊদ, হাসান সূত্রে) (আবূ দাঊদ ২৫৭১) (অর্থাৎ রাস্তা কম মনে হয়।)

৯৭২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭২


وَعَنْ أَبي ثَعْلَبَةَ الخُشَنِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ النَّاسُ إِذَا نَزَلُوا مَنْزِلاً تَفَرَّقُوا فِي الشِّعَابِ وَالأوْدِيَةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشِّعَابِ وَالأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ! فَلَمْ يَنْزِلُوا بَعْدَ ذَلِكَ مَنْزِلاً إِلاَّ انْضَمَّ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ. رواه أَبُو داود بإسناد حسن

আবূ সা‘লাবা খুশানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

লোকেরা যখন কোন স্থানে অবতরণ করতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন । রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া শয়তানের কাজ ।’’ এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন ।

(আবূ দাঊদ ২৬২৮, আহমাদ ২৭২৮২)

৯৭৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭৩


وَعَنْ سَهلِ بنِ عَمرٍو وَقِيلَ: سَهلِ بنِ الرَّبِيعِ بنِ عَمرٍو الأَنصَارِي المَعرُوفِ بِابنِ الحَنظَلِيَّةِ، وَهُوَ مِن أَهلِ بَيعَةِ الرِّضْوَانِ رضي الله عنه، قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِبَعِيرٍ قَدْ لَحِقَ ظَهْرُهُ بِبَطْنِهِ، فَقَالَ: «اِتَّقُوا اللهَ فِي هَذِهِ البَهَائِمِ المُعجَمَةِ، فَارْكَبُوهَا صَالِحَةً، وَكُلُوهَا صَالِحَةً». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

সাহ্ল ইবনে আম্র (রাঃ) মতান্তরে সাহ্ল ইবনে রাবী ইবনে আম্র (রাঃ) আনসারী --যিনি ইবনুল হানযালিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধ এবং ইনি বায়আতে রিযওয়ানে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটা উটের পাশ দিয়ে গেলেন, যার পিঠটা (দুর্বলতার কারণে) পেটের সাথে লেগে গিয়েছিল । (তা দেখে) তিনি বললেন, ‘‘তোমরা এ সব অবলা জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর । সুতরাং তোমরা তাদের সুস্থ থাকা অবস্থায় আরোহণ কর এবং তাদের সুস্থ থাকা অবস্থায় মাংস খাও ।’’ (আবু দাঊদ, বিশুদ্ধ সূত্রে)

(আবূ দাঊদ ২৫৮৩, ২৫৮৪, তিরমিযী ১৬৯১, নাসায়ী ৫৩৭৪, দারেমী ২৪৫৭)

৯৭৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭৪


وَعَنْ أَبي جَعفَرٍ عَبدِ اللهِ بنِ جَعفَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: أَردَفَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ، وَأسَرَّ إليَّ حَدِيثاً لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أحَداً مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أحَبَّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِحاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ . يَعنِي: حَائِطَ نَخْلٍ . رواه مسلم هكَذَا مُختصراً .
وزادَ فِيهِ البَرْقَانِي بِإِسنَادِ مُسلِمٍ - بَعدَ قَوْلِهِ: حَائِشُ نَخْلٍ - فَدَخَلَ حَائِطاً لِرَجُلٍ مِنَ الأنْصَارِ، فَإِذَا فِيهِ جَمَلٌ، فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم جَرْجَرَ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَسَحَ سَرَاتَهُ - أيْ: سِنَامَهُ - وَذِفْرَاهُ فَسَكَنَ، فَقَالَ: مَنْ رَبُّ هَذَا الجَمَلِ ؟ لِمَنْ هَذَا الجَمَلُ ؟ فَجَاءَ فَتَىً مِنَ الأنْصَارِ، فَقَالَ: هَذَا لِي يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ: أَفَلاَ تَتَّقِي اللهَ فِي هَذِهِ البَهِيمَةِ الَّتِي مَلَّكَكَ اللهُ إيَّاهَا ؟ فَإنَّهُ يَشْكُو إلَيَّ أنَّكَ تُجِيعُهُ وتُدْئِبُهُ رواه أَبُو داود كرواية البرقاني

আবূ জা‘ফর আব্দুল্লাহ ইবনে জা‘ফর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে সওয়ারীর উপর তাঁর পিছনে বসালেন এবং আমাকে তিনি একটি গোপন কথা বললেন, যা আমি কাউকে বলব না । আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঁচু জায়গা (দেওয়াল, ঢিবি ইত্যাদি) অথবা খেজুরের বাগানের আড়ালে মল-মূত্র ত্যাগ করা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন ।’ (ইমাম মুসলিম এটিকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন)
বারক্বানী এতে মুসলিমের সূত্রে বর্ধিত আকারে ‘খেজুরের বাগান’ শব্দের পর বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক আনসারীর বাগানে প্রবেশ ক’রে সেখানে একটা উট দেখতে পেলেন । উটটা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে দেখে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল এবং তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে এসে তার কুঁজে এবং কানের পিছনের অংশে হাত ফিরালেন, ফলে সে শান্ত হল । তারপর তিনি বললেন, ‘‘এই উটের মালিক কে ? এই উটটা কার ?’’ অতঃপর আনসারদের এক যুবক এসে বলল, ‘এটা আমার হে আল্লাহর রসূল !’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি এই পশুটার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না, আল্লাহ তোমাকে যার মালিক বানিয়েছেন ? কারণ, সে আমার নিকট অভিযোগ করছে যে, তুমি তাকে ক্ষুধায় রাখ এবং (বেশি কাজ নিয়ে) ক্লান্ত করে ফেলো !’’

(মুসলিম ৩৪২, ২৪২৯, আবূ দাঊদ ২৫৪৯, ইবনু মাজাহ ২৪০, আহমাদ ১৭৪৭, দারেমী ৬৬৩, ৭৫৫)

৯৭৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭৫


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا إِذَا نَزَلْنَا مَنْزِلاً، لاَ نُسَبِّحُ حَتَّى نَحُلَّ الرِّحَالَ . رواه أَبُو داود بإسناد عَلَى شرط مسلم

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘আমরা যখন (সফরে) কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতাম, তখন সওয়ারীর পালান নামাবার পূর্বে নফল নামায পড়তাম না ।’

(আবূ দাঊদ, মুসলিমের শর্তে) (আবূ দাঊদ ২৫৫১)
অর্থাৎ আমরা নামাযের প্রতি আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও সওয়ারীর পিঠ থেকে পালান নামিয়ে তাকে আরাম না দেওয়ার আগে নামায পড়তে শুরু করতাম না।

পরিচ্ছেদ - ১৬৯

সফরের সঙ্গীকে সাহায্য করা প্রসঙ্গে

৯৭৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭৬


وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ فِي سَفَرٍ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى رَاحِلَةٍ لَهُ، فَجَعَلَ يَصْرِفُ بَصَرَهُ يَمِيناً وَشِمَالاً، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ زَادٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ زَادَ لَهُ »، فَذَكَرَ مِنْ أصْنَافِ المَالِ مَا ذَكَرَهُ، حَتَّى رَأيْنَا، أنَّهُ لاَ حَقَّ لأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ . رواه مسلم

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমরা সফরে ছিলাম । ইত্যবসরে এক ব্যক্তি তার সওয়ারীর উপর চড়ে এল । অতঃপর তার দৃষ্টি ডানে ও বামে ফেরাতে লাগল । রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘যার বাড়তি সওয়ারী আছে, সে যেন তা তাকে দেয় যার সওয়ারী নেই এবং যার অতিরিক্ত সফরের সম্বল রয়েছে, সে যেন সম্বলহীন ব্যক্তিকে দেয় ।’’ অতঃপর তিনি আরো কয়েক প্রকার মালের কথা বললেন । এমনকি শেষ পর্যন্ত আমরা ধারণা করলাম যে, বাড়তি মালে আমাদের কারোর কোন অধিকারই নেই । (মুসলিম)

(আবূ দাঊদ ১৬৬৩, আহমাদ ১০৯০০)

৯৭৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭৭


وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، عَن رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أنَّهُ أَرَادَ أَنْ يَغْزُوَ، فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ المُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ، إِنَّ مِنْ إخْوَانِكُمْ قَوْماً لَيْسَ لَهُمْ مَالٌ، وَلاَ عَشِيرةٌ، فَلْيَضُمَّ أحَدُكُمْ إِلَيْهِ الرَّجُلَيْنِ أَو الثَّلاَثَةَ، فَمَا لأَحَدِنَا مِنْ ظَهْرٍ يَحْمِلُهُ إِلاَّ عُقْبةٌ كَعُقْبَةِ » يَعْني أحَدهِمْ، قَالَ: فَضَمَمْتُ إلَيَّ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً مَا لِي إِلاَّ عُقْبَةٌ كَعُقبَةِ أحَدِهِمْ مِنْ جَمَلِي . رواه أَبُو داود

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন । অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘হে মুহাজির ও আনসারের দল ! তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যাদের কোন মাল নেই, স্বগোত্রীয় লোকও নেই । সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে যেন দুই অথবা তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নেয় । কারণ, আমাদের কারো এমন কোন সওয়ারী নেই, যা তাদের সাথে পালাক্রমে ছাড়া তাকে বহন করতে পারে ।’’ জাবের (রাঃ) বলেন, সুতরাং আমি দু’জন অথবা তিনজনকে সাথে নিলাম । অন্যান্যদের মত আমার উটেও তাদের সাথে পালাক্রমে চড়তাম ।

(আহমাদ ১৪৪৪৯, আবূ দাঊদ ২৫৩৪)

৯৭৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭৮


وَعَنْه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَتَخَلَّفُ فِي المَسِيرِ، فَيُزْجِي الضَّعِيفَ، وَيُرْدِفُ وَيَدْعُو لَهُ . رواه أَبُو داود بإسناد حسن

৯৭৮। উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরে (সকলের) পিছনে চলতেন । তিনি দুর্বলকে চলতে সাহায্য করতেন এবং তাকে পিছনে বসিয়ে নিতেন ও তার জন্য দুআ করতেন ।

(আবূ দাঊদ হাসান সূত্রে) (আবূ দাঊদ ২৬৩৯)

পরিচ্ছেদ - ১৭০

কোন সওয়ারী বা যানবাহনে চড়ার সময় দুআ

৯৭৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৭৯


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجاً إِلَى سَفَرٍ، كَبَّرَ ثَلاثاً، ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلبُونَ . اَللّهُمَّ إِنَّا نَسأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا البِرَّ وَالتَّقوَى، وَمِنَ العَمَلِ مَا تَرضَى، اَللهم هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ . اَللهم أنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ . اَللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ المَنْظَرِ، وَسُوءِ المُنْقَلَبِ فِي الماَلِ وَالأَهْلِ وَالوَلَدِ وَإِذَا رَجَعَ قَالَهُنَّ وَزَادَ فِيهِنَّ: آيِبُونَ، تَائِبُونَ، عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ رواه مسلم

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সফরে বেরিয়ে উটের পিঠে স্থির হয়ে বসতেন, তখন তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ে এই দুআ পড়তেন,
‘সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা অমা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন । অইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবূন । আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বির্রা অত্তাক্বওয়া, অমিনাল আমালি মা তারদ্বা । আল্লাহুম্মা হাওবিন আলাইনা সাফারানা হা-যা অত্ববি আন্না বু‘দাহ । আল্লাহুম্মা আন্তাস সা-হিবু ফিস সাফারি অলখালীফাতু ফিল আহল । আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন অ‘সাইস সাফার অকাআবাতিল মানযার, অসূইল মুনক্কালাবি ফিল মা-লি অল আহ্লি অল অলাদ।’
অর্থাৎ পবিত্র ও মহান যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না । অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী । ওগো আল্লাহ ! নিশ্চয় আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আমাদের এই যাত্রায় পুণ্যকর্ম, সংযমশীলতা এবং তোমার সন্তোষজনক কার্যকলাপ । হে আল্লাহ ! আমাদের এ যাত্রাকে আমাদের জন্য সহজ ক’রে দাও । আমাদের থেকে ওর দূরত্ব গুটিয়ে নাও । হে আল্লাহ ! তুমিই সফরের সঙ্গী । আর পরিবার পরিজনের জন্য (আমাদের) প্রতিনিধি । হে আল্লাহ ! সফরের কষ্ট ও ক্লান্তি থেকে, ভয়ংকর দৃশ্য থেকে এবং বাড়ি ফিরে ধন-সম্পদ, পরিবার ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে কোন অপ্রীতিকর দৃশ্য থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি ।
আর বাড়ি ফিরার সময় উক্ত দুআর সাথে এগুলিও পড়তেন, ‘আ-ইবূনা, তা-ইবূনা ‘আ-বিদূনা, লিরাব্বিনা হা-মিদূন।’ (মুসলিম)

(মুসলিম ১৩৪২, তিরমিযী ৩৪৪৭, আবূ দাঊদ ২৫৯৯, আহমাদ ৬৩৩৮, দারেমী ২৬৭৩)

৯৮০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮০


وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ سَرجِسَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا سَافَرَ يَتَعَوَّذُ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ المُنْقَلَبِ، وَالْحَوْرِ بَعْدَ الكَوْنِ، وَدَعْوَةِ المَظْلُومِ، وَسُوءِ المَنْظَرِ في الأَهْلِ وَالمَالِ . رواه مسلم

هكذا هو في صحيح مسلم‏:‏ الحور بعد الكون، بالنون، وكذا رواه الترمذي والنسائي‏.‏ قال الترمذي‏:‏ يروي ‏:‏الكور‏ ‏ بالراء، وكلاهما له وجه‏.‏ قال العلماء‏:‏ ومعناه بالنون والراء جميعاً‏:‏ الرجوع من الاستقامة أو الزيادة إلي النقص‏.‏ قالوا‏:‏ ورواية الراء مأخوذة من تكوير العمامة، وهو لفها وجمعها، ورواية النون، من الكون، مصدراً ‏ ‏كان يكون كوناً‏ ‏ إذا وجد واستقر‏.‏

আব্দুল্লাহ ইবনে সার্জিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফর করতেন, তখন তিনি সফরের কষ্ট থেকে, দুশ্চিন্তাজনক পরিস্থিতি থেকে বা অপ্রীতিকর প্রত্যাবর্তন, পূর্ণতার পর হ্রাস থেকে, অত্যাচারিতের বদ্দুআ থেকে, মাল-ধন ও পরিবারের ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর দৃশ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন । (মুসলিম)

৯৮১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮১


وَعَنْ عَلِيِّ بنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدتُّ عَلِيَّ بنَ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ، قَالَ: بِسْمِ اللهِ، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا، قَالَ: الحَمْدُ ِللهِ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنينَ، وَإنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ، ثُمَّ قَالَ: اَلحمْدُ للهِ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: اَللهُ أكْبَرُ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَكَ إنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقِيلَ: يَا أَمِيرَ المُؤمِنِينَ، مِنْ أيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ ؟ قَالَ: رَأيتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ ثُمَّ ضَحِكَ، فقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مِنْ أيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ ؟ قَالَ: « إنَّ رَبَّكَ تَعَالَى يَعْجَبُ مِنْ عَبدِهِ إِذَا قَالَ: اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، يَعْلَمُ أنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي ». رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ:«حديث حسن»، وفي بعض النسخ:حسن صحيح. وهذا لفظ أَبي داود

আলী ইবনে রাবীআহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে আবু ত্বালেব (রাঃ)-এর নিকট হাজির ছিলাম । যখন তাঁর নিকট আরোহন করার উদ্দেশ্যে বাহন আনা হল এবং যখন তিনি বাহনের পাদানে স্বীয় পা রাখলেন তখন ‘বিসমিল্লাহ’ বললেন । অতঃপর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন বললেন, ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা অমা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন । অইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবূন ।’ অতঃপর তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন । অতঃপর তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়লেন । অতঃপর পড়লেন, ‘সুবহানাকা ইন্নী যালামতু নাফ্সী ফাগফিরলী, ইন্নাহু লা য়্যাগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আন্ত্।’ অতঃপর তিনি হাসলেন । তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আমীরুল মু’মিনীন ! আপনি হাসলেন কেন ?’ তিনি বললেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম, তিনি তাই করলেন, যা আমি করলাম । অতঃপর তিনি হাসলেন । আমি প্রশ্ন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আপনি হাসলেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার মহান প্রতিপালক তাঁর সেই বান্দার প্রতি আশ্চর্যান্বিত হন, যখন সে বলে, ‘ইগফিরলী যুনূবী’ (অর্থাৎ আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও ।) সে জানে যে, আমি (আল্লাহ) ছাড়া পাপরাশি আর কেউ মাফ করতে পারে না ।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান, কোন কোন কপিতে আছে, ‘হাসান সহীহ’। আর এ শব্দমালা আবূ দাঊদের।)

(আবূ দাঊদ ২৬০২, তিরমিযী ৩৪৪৬)

পরিচ্ছেদ - ১৭১

উঁচু জায়গায় চড়ার সময় মুসাফির ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে এবং নীচু জায়গায় নামবার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। ‘তক্বীর’ ইত্যাদি বলার সময় অত্যন্ত উচ্চঃস্বরে বলা নিষেধ

৯৮২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮২


عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا، وَإِذَا نَزَلْنَا سَبَّحْنَا. رواه البخاري

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা (সফরে) যখন উঁচু জায়গায় চড়তাম তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতাম এবং নীচু জায়গায় নামতাম, তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতাম । (বুখারী)

(সহীহুল বুখারী ২৯৯৩, ২৯৯৪, আহমাদ ১৪১৫৮, দারেমী ২১৬৫, ২১৬৬, ২৬৭৪)

৯৮৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮৩


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَجُيُوشُهُ إِذَا عَلَوا الثَّنَايَا كَبَّرُوا، وَإِذَا هَبَطُوا سَبَّحُوا . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সেনা বাহিনী যখন উঁচু জায়গায় চড়তেন তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন । আর যখন নিচু জায়গায় নামতেন তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলতেন । (আবূ দাঊদ, বিশুদ্ধ সানাদে)

(আবূ দাঊদ ২৫৯৯, মুসলিম ১৩৪২, তিরমিযী ৩৪৪৭, আহমাদ ৬২৭৫, ৬৩৩৮, দারেমী ২৬৭৩)

৯৮৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮৪


وَعَنْه، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَفَلَ مِنَ الحَجِّ أَوِ العُمْرَةِ، كُلَّمَا أَوْفَى عَلَى ثَنِيَّةٍ أَوْ فَدْفَدٍ كَبَّرَ ثَلاثَاً، ثُمَّ قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ . آيِبُونَ، تَائِبُونَ، عَابِدُونَ، سَاجِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ . متفقٌ عَلَيْهِ
وفي رواية لمسلم: إِذَا قَفَلَ مِنَ الجيُوشِ أَوِ السَّرَايَا أَو الحَجِّ أَوِ العُمْرَةِ

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হজ্জ কিংবা উমরাহ সেরে ফিরে আসতেন, যখনই কোন পাহাড়ী উঁচু জায়গায় অথবা ঢিবিতে চড়তেন তখনই তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন । অতঃপর তিনি বলতেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুল্কু অলাহুল হামদু অহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর । আ-ইয়বূনা তা-ইবূনা সা-জিদূনা লিরাব্বিনা হা-মিদূন । সাদাক্বাল্লাহু ওয়া’দাহ, অনাসারা আব্দাহ্, অহাযামাল আহযাবা অহদাহ ।’
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই । তাঁরই সার্বভৌম অধিকার, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান । আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতগুযার, সাজদাহকারী, আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী । আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাহকে মদদ করেছেন এবং একাই শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন ।

(সহীহুল বুখারী ১৭৯৭, ২৯৯৫, ৩০৮৪, ৪১১৬, ৬৩৮৫, মুসলিম ১৩৪৪, তিরমিযী ৯৫০, আবূ দাঊদ ২৭৭০, আহমাদ ৪৪৮২, ৪৫৫৫, ৪৬২২, ৪৭০৩, ৪৯৪০, ৫২৭৩, ৫৭৯৬, ৬২৭৫, ৬৩৩৮, মুওয়াত্তা মালিক ৯৬০, দারেমী ২৬৮২)

৯৮৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮৫


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إنِّي أُرِيدُ أَنْ أُسَافِرَ فَأَوْصِنِي، قَالَ: عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللهِ، وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ . فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ، قَالَ: اَللهم اطْوِ لَهُ البُعْدَ، وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ . رواه الترمذي، وَقَالَ: حديث حسن

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমি ইচ্ছা করেছি, সফরে যাব, আমাকে উপদেশ দিন ।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি আল্লাহ-ভীতি অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে নিয়মিত ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ো ।’’ যখন লোকটা পিছন ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি (তার জন্য দুআ করে) বললেন, ‘‘আল্লাহুম্মাত্ববি লাহুল বু‘দা অহাওবিন আলাইহিস সাফার ।’’ অর্থাৎ হে আল্লাহ ! তুমি ওর পথের দূরত্ব গুটিয়ে দিয়ো এবং ওর জন্য সফর আসান ক’রে দিয়ো । (তিরমিযী হাসান)

(তিরমিযী ৩৪৪৫, ইবনু মাজাহ ২৭৭১)

৯৮৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮৬


وَعَنْ أَبي مُوسَى الأَشعَرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَكُنَّا إِذَا أَشْرَفْنَا عَلَى وَادٍ هَلَّلْنَا وَكَبَّرْنَا وَارتَفَعَتْ أَصْوَاتُنَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: « يَا أيُّهَا النَّاسُ، اِرْبَعُوا عَلَى أنْفُسِكُمْ، فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِباً، إنَّهُ مَعَكُمْ، إنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ ». متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সফরে ছিলাম । আমরা যখন কোন উঁচু উপত্যকায় চড়তাম তখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ বলতাম । (একদা) আমাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন, ‘‘হে লোক সকল ! তোমরা নিজেদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন কর । কেননা, তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না । তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন । তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ২৯৯২, ৬৩৮৪, ৪২০৫, ৬৪০৯, ৬৬১০, ৭৩৮৬, মুসলিম ২৭০৪, তিরমিযী ৩৩৭৪, ৩৪৬১, আবূ দাঊদ ১৫২৬, ইবনু মাজাহ ৩৮২৪, আহমাদ ১৯০২৬, ১৯০৭৮, ১৯০৮২, ১৯১০২, ১৯১০৮, ১৯১৫১, ১৯২৪৬, ১৯২৫৬)

পরিচ্ছেদ - ১৭২

সফরে দুআ করা মুস্তাহাব

৯৮৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮৭


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَات لاَ شَكَّ فِيهِنَّ: دَعْوَةُ المَظْلُومِ، وَدَعْوَةُ المُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ ». رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ:«حديث حسن » . وليس في رواية أَبي داود: عَلَى وَلَدِهِ

আবূ আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তিন জনের দুআ সন্দেহাতীতভাবে গৃহীত হয়ঃ (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দুআ, (২) মুসাফিরের দুআ এবং (৩) ছেলের জন্য মাতা-পিতার বদ্দুয়া।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান)

(আবূ দাঊদ ১৫৩৬, তিরমিযী ১৯০৫, ৩৪৪৮, ইবনু মাজাহ ৩৮৬২, আহমাদ ৭৪৫৮, ৮৩৭৫, ৯৮৪০, ১০৩৩০, ১০৩৯২)
আবূ দাউদের বর্ণনায় ‘‘ছেলের জন্য’’ শব্দগুলি নেই। (অর্থাৎ তাতে আছে, ‘‘পিতা-মাতার দুআ।’’)

পরিচ্ছেদ - ১৭৩

মানুষ বা অন্য কিছু থেকে ভয় পেলে কী দুআ পড়বে?

৯৮৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮৮


عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشعَرِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَافَ قَوْماً، قَالَ: « اَللهم إنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ ». رواه أَبُو داود والنسائي بإسنادٍ صحيحٍ

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোন শত্রুদলকে ভয় করতেন তখন এই দুআ পড়তেন, ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাজ‘আলুকা ফী নুহূরিহিম অনাঊযু বিকা মিন শুরূরিহিম ।’’ অর্থাৎ হে আল্লাহ ! আমরা তোমাকে ওদের মুখোমুখি করছি এবং ওদের অনিষ্টকারিতা থেকে তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি ।

(আবূ দাঊদ ১৫৩৭, আহমাদ ১৯২২০)

পরিচ্ছেদ - ১৭৪

কোন মঞ্জিলে (বিশ্রাম নিতে) অবতরণ করলে সেখানে কী দুআ পড়বে?

৯৮৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৮৯


عَن خَولَةَ بِنتِ حَكِيمٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً ثُمَّ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ». رواه مسلم

খাওলা বিনতে হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘যে ব্যক্তি (সফরের) কোন মঞ্জিলে নেমে এই দুআ পড়বে, ‘আঊযু বিকালিমাতিল্লা-হিত্ তা-ম্মাতি মিন শার্রি মা খালাক্ব।’ (অর্থাৎ আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের অসীলায় তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাচ্ছি।) তাহলে সে মঞ্জিল থেকে অন্যত্র রওনা হওয়া পর্যন্ত কোন জিনিস তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (মুসলিম)

(মুসলিম ২৭০৮, তিরমিযী ৩৪৩৭, ইবনু মাজাহ ৩৫৩৭, আহমাদ ২৬৫৭৯, ২৬৫৮৪, ২৬৭৬৫, দারেমী ২৬৮০)

৯৯০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯০


وعن ابن عمرو رَضي اللهُ عنهمَا قال: كانَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إذا سَافَرَ فَأَقبَلَ اللَّيْلُ قال: « يَا أَرْضُ ربِّي وَربُّكِ اللهِ، أَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شرِّكِ وشَرِّ ما فِيكِ، وشر ماخُلقَ فيكِ، وشَرِّ ما يدِبُّ عليكِ، وأَعوذ باللهِ مِنْ شَرِّ أَسدٍ وَأَسْودٍ، ومِنَ الحيَّةِ والعقربِ، وَمِنْ سَاكِنِ البلَدِ، ومِنْ والِدٍ وما وَلَد » رواه أبو داود.

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফর করতেন এবং সফরে রাত্রি হয়ে যেতো, তখন তিনি বলতেনঃ ইয়া আরযু রাব্বী ও রাব্বুকিল্লাহ, আ‘উযু বিল্লাহি মিন শাররিকি ওয়া শাররি মা ফীকি ওয়া শাররি মা খুলিক্বা ফীকি ওয়া শাররি মা ইয়াদিববু আলাইকি, আ‘উযু বিল্লাহি মিন শাররি আসাদিন ওয়া আসওয়াদিন ওয়া মিনাল হাইয়্যাতি ওয়াল আক্বরাবি ওয়া মিন সাকিনিল বালাদি ওয়া মিন ওয়ালিদিও ওয়ামা ওয়ালাদ (হে মাটি ! তোমার ও আমার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ তা‘আলা । আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি । তোমার অনিষ্ট থেকে, তোমার ভিতরে যা আছে তার অনিষ্ট থেকে তোমার ভিতরে যা সৃষ্টি করা হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে এবং যা কিছু তোমার উপরে বিচরণ করে তার অনিষ্ট থেকে । আর আমি আল্লাহর নিকট বাঘ ও কাল সাপ হতে এবং সর্ব প্রকারের সাপ, বিচ্ছু হতে আর শহরবাসীদের অনিষ্টকারিতা হতে এবং জম্মদানকারী ও জন্মলাভকারীর অনিষ্টকারিতা হতে আশ্রয় চাই) । (আবূ দাঊদ) (আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির সনদে অজ্ঞতা রয়েছে যদিও হাদীসটিকে হাকিম ও যাহাবী সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন আর আসকালানী হাসান আখ্যা দিয়েছেন ।

দেখুন ‘‘য‘ঈফাহ্’’ (৪৮৩৭) । এর সনদটি দুর্বল হওয়ার কারণ হচ্ছে যুবায়ের ইবনুল ওয়ালীদ । কারণ তিনি মাজহূল (অপরিচিত) । হাফিয যাহাবীও ‘‘আলমীযান’’ গ্রন্থে তার মাজহূল হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন । আবূ দাঊদ ২৬০৩ হাদীসটি এককভাবে শুধু আবূ দাউদে বর্ণিত হয়েছে।)

পরিচ্ছেদ - ১৭৫

প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে সফর থেকে অতি শীঘ্র বাড়ি ফিরা মুস্তাহাব

৯৯১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯১


عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ العَذَابِ، يَمْنَعُ أحَدَكُمْ طَعَامَهُ وَشَرابَهُ وَنَوْمَهُ، فَإذَا قَضَى أحَدُكُمْ نَهْمَتَهُ مِنْ سَفَرِهِ، فَلْيُعَجِّلْ إِلَى أهْلِهِ ». متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘সফর আযাবের অংশ বিশেষ । সফর তোমাদেরকে পানাহার ও নিদ্রা থেকে বিরত রাখে । সুতরাং যখন তোমাদের কারোর সফরের উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে যাবে, তখন সে যেন বাড়ি ফিরার জন্য তাড়াতাড়ি করে ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ১৮০৪, ৩০০১, ৫৪২৯, মুসলিম ১৯২৭, ইবনু মাজাহ ২৮৮২, আহমাদ ৭১৮৪, ৯৪৪৭, ১০০৬৮, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৩৫, দারেমী ২৬৭০)

পরিচ্ছেদ - ১৭৬

সফর শেষে বাড়িতে দিনের বেলায় আসা উত্তম এবং অপ্রয়োজনে রাতের বেলায় ফিরা অনুত্তম

৯৯২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯২


عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إِذَا أَطَالَ أحَدُكُمُ الغَيْبَةَ فَلاَ يَطْرُقَنَّ أهْلَهُ لَيْلاً
وفي روايةٍ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَطْرُقَ الرَّجُلُ أهْلَهُ لَيْلاً . متفقٌ عَلَيْهِ

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যখন তোমাদের কারোর বিদেশের অবস্থান দীর্ঘ হবে, তখন সে যেন অবশ্যই রাত্রিকালে নিজ গৃহে না ফিরে ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ১৮০১, ৪৪৩, ২০৯৭, ২৩০৯, ২৩৮৫, ২৩৯৪, ২৪৭০, ২৬০৩, ২৬০৪, ২৭১৮, ২৮৬১, ২৯৬৭, ৩০৮৭, ৩০৮৯, ৩০৯০, ৪০৫২, ৫০৭৯, ৫০৮০, ৫২৪৩, ৫২৪৪, ৫২৪৫, ৫২৪৬, ৫২৪৭, ৫৩৬৭, ৬৩৮৭, মুসলিম ৭১৫, তিরমিযী ১১০০, নাসায়ী ৪৫৯০, ৪৫৯১, আবূ দাঊদ ৪৩৪৭, ৩৫০৫, ৩৭৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৬০, আহমাদ ১৩৭১০, ১৩৭৬৪, ১৩৮১৪, ১৩৮২২, ১৩৮৯৪, দারেমী ২২১৬)

৯৯৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯৩


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لاَ يَطْرُقُ أهْلَهُ لَيْلاً، وَكَانَ يَأتِيهمْ غُدْوَةً أَوْ عَشِيَّةً .متفقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফর শেষে রাত্রিকালে স্বীয় বাড়ি ফিরতেন না । তিনি সকালে কিংবা বিকালে বাড়ি আগমন করতেন ।’

পরিচ্ছেদ - ১৭৭

সফর থেকে বাড়ি ফিরার সময় এবং নিজ গ্রাম বা শহর দেখার সময় দুআ

৯৯৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯৪


وَعَنْ أنس رضي الله عنه، قَالَ: أقْبَلْنَا مَعَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كُنَّا بِظَهْرِ الْمَدِينَةِ، قَالَ: «آيِبُونَ، تَائِبُونَ، عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ ». فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ ذَلِكَ حَتَّى قَدِمْنَا المَدِينَةَ . رواه مسلم

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে সফর থেকে ফিরে এলাম । পরিশেষে যখন মদীনার উপকণ্ঠে এসে উপনীত হলাম, তখন তিনি এই দুআ পড়লেন, ‘আ-ইবূনা, তা-ইবূনা, ‘আ-বিদূনা, লিরাব্বিনা হা-মিদূন । (অর্থাৎ আমরা সফর থেকে প্রত্যাগমনকারী, তওবাকারী, উপাসনাকারী, আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী ।) মদীনায় আগমন না করা পর্যন্ত তিনি এ দুআ অনবরত পড়তে থাকলেন । (মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ৩৭১, ৯৪৭, ১৮৬৭, ১৮৮৫, ২১৩০, ২২২৮, ২২৩৫, ২৮৮৯, ২৮৯৩, ২৮৪৫, ৩০৮৫, ৩০৮৬, ৪১৯৭, ৪১৯৮, ৪২০১, ৫২১১, ৪২১২, ৪২১৩, ৫০৮৫, ৫০৮৬, ৫১৫৯, ৫১৬৯, ৫৩৮৭, ৫৪২৫, ৬৩৬৩, মুসলিম ১৩৪৫, ১৩৬৫, ১৩৬৮, তিরমিযী ১০৯৫, ১১১৫, ১৫৫০, ৩৯২২, নাসায়ী ৫৪৭, ৩৩৪২, ৩৩৪৩, ৩৩৮০, ৩৩৮১, ৩৩৮২, ৪৩৪০, আবূ দাঊদ ২০৫৪, ২৯৯৫, ২৯৯৬, ২৯৯৭, ২৯৯৮, ৩০০৯, ৩৭৪৪, ইবনু মাজাহ ১০৯, ১৯০৯, ১৯১৬, ১৯৫৭, ২২৭২, আহমাদ ১১৫৪১, ১১৫৭৭, ১১৬৫৮, ১১৬৭৬, ১১৮০৭, ১২০১৩, ১২১০১, ১২২০৫, মুওয়াত্তা মালিক ৯০৮, ১০২০, ১১২৪, ১৬৩৬, ১৬৪৫, দারেমী ২২০৯, ২২৪২, ২২৪৩, ২৫৭৫)

পরিচ্ছেদ - ১৭৮

সফর থেকে বাড়ি ফিরে প্রথমে বাড়ির নিকটবর্তী কোন মসজিদে দু’ রাকআত নফল নামায পড়া মুস্তাহাব

৯৯৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯৫


عَن كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ، بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ . متفقٌ عَلَيْهِ

কা‘ব ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফর থেকে বাড়ি ফিরতেন, তখন সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে দু’ রাকআত নামায পড়তেন ।’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ২৭৫৮, ২৯৪৭, ২৯৪৮, ২৯৪৯, ৩০৮৮, ৩৫৫৬, ৩৮৮৯, ৩৮৫১, ৪৪১৮, ৪৬৭৩, ৪৬৭৬, ৪৬৭৭, ৪৬৭৮, ৬২৫৫, ৬৬৯০, ৭২২৫)

পরিচ্ছেদ - ১৭৯

কোনো মহিলার একাকিনী সফর করা হারাম

৯৯৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯৬


عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « لاَ يَحِلُّ ِلامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَومِ الآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ عَلَيْهَا ». متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি যে নারী ঈমান রাখে, তার মাহরামের সঙ্গ ছাড়া একাকিনী এক দিন এক রাতের দূরত্ব সফর করা বৈধ নয় ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ১০৮৮, মুসলিম ১৩৩৯, তিরমিযী ১০৭০, দাঊদ ১৭২৩, ইবনু মাজাহ ২৮৯৯, আহমাদ ৭১৮১, ৭৩৬৬, ৮২৮৪, ৮৩৫৯, ৯১৮৫, ৯৩৭৪, ৯৮৪৮, ১০০২৯, ১০১৯৭, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৩৩)

৯৯৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সফরের আদব-কায়দা

হাদীস নং : ৯৯৭


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أنَّهُ سَمِعَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ، وَلاَ تُسَافِرُ المَرْأةُ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ ». فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ امْرَأتِي خَرَجَتْ حَاجَّةً، وَإنِّي اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا ؟ قَالَ: « انْطَلِقْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ». متفقٌ عَلَيْهِ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে । আর মাহরাম ব্যতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে ।’’
এক ব্যক্তি আবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমার স্ত্রী হজ্জ পালন করতে বের হয়েছে । আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি ।’ তিনি বললেন, ‘‘যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ৩০০৬, ১৮৬২, ৩০৬১, ৫২৩৩, মুসলিম ১৩৪১, ইবনু মাজাহ ২৯০০, আহমাদ ১৯৩৫, ৩২২১)