All books

রিয়াদুস সলেহিন (০ টি হাদীস)

সালামের আদব ৮৪৯ - ৮৯৮

পরিচ্ছেদ - ১৩১

সালাম দেওয়ার গুরুত্ব ও তা ব্যাপকভাবে প্রচার করার নির্দেশ


আল্লাহ বলেছেন,
(আরবী)
অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে ও তাদেরকে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।” (সূরা নূর ২৭ আয়াত)
তিনি অন্যত্র বলেন,
(আরবী)
অর্থাৎ “যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এ হবে আল্লাহর নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন।” (সূরা নূর ৬১ আয়াত)
তিনি অন্য জায়গায় বলেন,
(আরবী)
অর্থাৎ “যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন কর অথবা ওরই অনুরূপ কর।” (সূরা নিসা ৮৬ আয়াত)
তিনি আরো বলেছেন,
(আরবী)
অর্থাৎ “তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি? যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘সালাম।’ উত্তরে সে বলল, ‘সালাম।’” (সূরা যারিয়াত ২৪-২৫ আয়াত)

৮৪৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৪৯


وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، أنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الإِسْلاَمِ خَيْرٌ ؟ قَالَ: « تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ ». متفقٌ عَلَيْهِ

আব্দুল্লাহ ইবনে আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, ‘সর্বোত্তম ইসলামী কাজ কী?’ তিনি বললেন, “(ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে (ব্যাপকভাবে) সালাম পেশ করবে।’’

(সহীহুল বুখারী ১২, ২৮, ৬২৩৬, মুসলিম ৩৯, তিরমিযী ১৮৫৫, নাসায়ী ৫০০০, আবূ দাউদ ৫১৯৪, ইবনু মাজাহ ৩২৫৩, ৩৬৯৪, আহমাদ ৬৫৪৫, ৬৮০৯, দারেমী ২০৮১)

৮৫০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫০


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: لَمَّا خَلَقَ اللهُ آدَمَ عليه السلام، قَالَ: اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولئِكَ ـ نَفَرٍ مِنَ المَلاَئِكَةِ جُلُوسٌ ـ فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ ؛ فَإنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيتِكَ . فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا: السَّلاَمُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَزَادُوهُ: وَرَحْمَةُ اللهِ . متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ যখন আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘তুমি যাও এবং ঐ যে ফিরিশ্‌তামন্ডলীর একটি দল বসে আছে, তাদের উপর সালাম পেশ কর। আর ওরা তোমার সালামের কী জবাব দিচ্ছে তা মন দিয়ে শুনো। কেননা, ওটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তান-সন্ততির সালাম বিনিময়ের রীতি।’ সুতরাং তিনি (তাঁদের কাছে গিয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাকুম’। তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকা অরাহমাতুল্লাহ’। অতএব তাঁরা ‘অরাহমাতুল্লাহ’ শব্দটা বেশী বললেন।’’

৮৫১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫১


وَعَنْ أَبي عُمَارَةَ البَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِسَبْعٍ: بِعِيَادَةِ المَرِيضِ، وَاتِّبَاعِ الجَنَائِزِ، وَتَشْمِيتِ العَاطِسِ، وَنَصْرِ الضَّعِيفِ، وَعَوْنِ المَظْلُومِ، وَإفْشَاءِ السَّلاَمِ، وَإبْرَارِ المُقسِمِ . متفقٌ عَلَيْهِ، هَذَا لفظ إحدى روايات البخاري

আবূ উমারা বারা ইবনে আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি (কর্ম করতে) আদেশ করেছেনঃ (১) রোগী দেখতে যাওয়া, (২) জানাযার অনুসরণ করা, (৩) হাঁচির (ছিঁকের) জবাব দেওয়া, (৪) দুর্বলকে সাহায্য করা, (৫) নির্যাতিত ব্যক্তির সাহায্য করা, (৬) সালাম প্রচার করা, এবং (৭) শপথকারীর শপথ পুরা করা।’

(সহীহুল বুখারী ১২৩৯, ২৪৪৫, ৫১৭৫, ৫৬৩৫, ৫৬৬০, ৫৮৩৮, ৫৮৪৯, ৫৮৬৩, ৬২২২, ৬২৩৫, ৬৬৫৪, মুসলিম ২০৬৬, তিরমিযী ১৭৬০, ২৮০৯, নাসায়ী ১৯৩৯, ৩৭৭৮, ৫৩০৯, ইবনু মাজাহ ২১১৫ আহমাদ ১৮০৩৪, ১৮০৬১, ১৮১৭০)

৮৫২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫২


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « لاَ تَدْخُلُوا الجَنَّةَ حَتَّى تُؤمِنُوا، وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أوَلاَ أدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ ؟ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ ». رواه مسلم

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ না তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে লাগবে? (তা হচ্ছে) তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’’

(মুসলিম ৫৪, তিরমিযী ২৬৮৮, আবূ দাউদ ৫১৯৩, ইবনু মাজাহ ৬৮, ৩৬৯২, আহমাদ ৮৮৪১, ৯৪১৬, ৯৮২১, ১০২৭২, ২৭৩১৪)

৮৫৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫৩


وَعَنْ أَبي يُوسُفَ عَبدِ اللهِ بنِ سَلاَمٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « يَا أيُّهَا النَّاسُ، أَفْشُوا السَّلاَمَ، وَأطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصِلُوا الأرْحَامَ، وَصَلُّوا والنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلاَم ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح »

আবূ ইউসুফ আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান কর, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’

(তিরমিযী হাসান সহীহ) (তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, দারেমী ১৪৬০)

৮৫৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫৪


وَعَنْ الطُّفَيْلِ بنِ أُبَيِّ بنِ كَعبٍ: أنَّه كَانَ يَأتِي عَبدَ اللهِ بنَ عُمَرَ، فَيَغدُو مَعَهُ إِلَى السُّوقِ، قَالَ: فَإِذَا غَدَوْنَا إِلَى السُّوقِ، لَمْ يَمُرَّ عَبدُ الله عَلَى سَقَّاطٍ وَلاَ صَاحِبِ بَيْعَةٍ، وَلاَ مِسْكِينٍ، وَلاَ أحَدٍ إِلاَّ سَلَّمَ عَلَيْهِ، قَالَ الطُّفَيْلُ: فَجِئْتُ عَبدَ اللهِ بنَ عُمَرَ يَوْماً، فَاسْتَتْبَعَنِي إِلَى السُّوقِ، فَقُلْتُ لَهُ: مَا تَصْنَعُ بِالسُّوقِ، وَأنْتَ لا تَقِفُ عَلَى البَيْعِ، وَلاَ تَسْأَلُ عَنِ السِّلَعِ، وَلاَ تَسُومُ بِهَا، وَلاَ تَجْلِسُ في مَجَالِسِ السُّوقِ ؟ وَأقُولُ: اجْلِسْ بِنَا هاهُنَا نَتَحَدَّث، فَقَالَ: يَا أَبَا بَطْنٍ ـ وَكَانَ الطفَيْلُ ذَا بَطْنٍ ـ إنَّمَا نَغْدُو مِنْ أجْلِ السَّلاَمِ، فنُسَلِّمُ عَلَى مَنْ لَقِيْنَاهُ . رواه مالك في المُوطَّأ بإسنادٍ صحيح

তুফাইল ইবনে উবাই ইবনে কা‘ব থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর কাছে আসতেন এবং সকালে তাঁর সঙ্গে বাজার যেতেন। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সকালে বাজারে যেতাম, তখন তিনি প্রত্যেক খুচরা বিক্রেতা, স্থায়ী ব্যবসায়ী, মিসকীন, তথা অন্য কোন ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে সালাম দিতেন।’ তুফাইল বলেন, সুতরাং আমি একদিন (অভ্যাসমত) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি আমাকে তাঁর সঙ্গে বাজারে যেতে বললেন। আমি বললাম, ‘আপনি বাজার গিয়ে কী করবেন? আপনি তো বেচা-কেনার জন্য কোথাও থামেন না, কোন পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন না, তার দর-দাম জানতে চান না এবং বাজারের কোন মজলিসে বসেনও না। আমি বলছি, এখানে আমাদের সাথে বসে যান, এখানেই কথাবার্তা বলি।’ (তুফাইলের ভুঁড়ি মোটা ছিল, সেই জন্য) তিনি বললেন, ‘ওহে ভুঁড়িমোটা! আমরা সকাল বেলায় বাজারে একমাত্র সালাম পেশ করার উদ্দেশ্যে যাই; যার সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়, আমরা তাকে সালাম দিই।’

(মুঅত্ত্বা মালেক, বিশুদ্ধ সূত্রে)(মুওয়াত্তা মালিক ১৭৯৩)

পরিচ্ছেদ - ১৩২

সালাম দেওয়ার পদ্ধতি

৮৫৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫৫


عَن عِمْرَانَ بنِ الحُصَينِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَرَدَّ عَلَيْهِ ثُمَّ جَلَسَ، فَقَالَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم: عَشْرٌ ثُمَّ جَاءَ آخَرُ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ: عِشْرُونَ ثُمَّ جَاءَ آخَرُ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ الله وَبَركَاتُهُ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ: ثَلاثُونَ رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن

ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একটি লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে এভাবে সালাম করল ‘আসসালামু আলাইকুম’ আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জবাব দিলেন। অতঃপর লোকটি বসে গেলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য দশটি নেকী।’’ তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম পেশ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দিলেন এবং লোকটি বসলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য বিশটি নেকী।’’ তারপর আর একজন এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরাহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ’ বলে সালাম দিল। তিনি তার জবাব দিলেন। অতঃপর সে বসলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য ত্রিশটি নেকী।’’

(আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সূত্রে)(তিরমিযী ২৬৮৯, আবূ দাউদ ৫১৯৫, আহমাদ ১৯৪৪৬, দারেমী ২৬৪০)

৮৫৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫৬


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « هَذَا جِبريلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ» قَالَتْ: قُلْتُ: وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ . متفقٌ عَلَيْهِ

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘এই জিব্রীল আলাইহিস সালাম তোমাকে সালাম পেশ করছেন।’’ তিনি বলেন, আমিও উত্তরে বললাম, ‘অআলাইহিস সালামু অরাহ্‌মাতুল্লাহি অবারাকাতুহ।

(সহীহুল বুখারী ৩১১৭, ৩৭৬৮,৬২০১, ৬২৪৯, ৬২৫৩, মুসলিম ২৪৪৭, তিরমিযী ২৬৯৩, ৩৮৮১, ৩৮৮২, নাসায়ী ৩৯৫২, ৩৯৫৩, ৩৯৫৪, আবূ দাউদ ৫২৩২, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৬, আহমাদ ৩২৭৬০, ২৩৯৪১, ২৪০৫৩, ২৫৩৫২)

৮৫৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫৭


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أعَادَهَا ثَلاثَاً حَتَّى تُفهَمَ عَنْهُ، وَإِذَا أتَى عَلَى قَوْمٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثَلاَثاً . رواه البخاري . وهذا مَحْمُولٌ عَلَى مَا إِذَا كَانَ الجَمْعُ كَثِيراً.

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কথা বলতেন, তখন তা তিনবার বলতেন; যাতে তাঁর কথা বুঝতে পারা যায়। আর যখন কোন গোষ্ঠীর কাছে আসতেন তখনও তিনি তিনবার করে সালাম পেশ করতেন।

(সহীহুল বুখারী ৯৪, ৯৫, তিরমিযী ২৭২৩, ৩৬৪০, আহমাদ ১২৮০৯, ১২৮৯৫)

৮৫৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫৮


وَعَنْ المِقْدَادِ رضي الله عنه في حَدِيثهِ الطَّوِيلِ، قَالَ: كُنَّا نَرْفَعُ للنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم نَصِيبَهُ مِنَ اللَّبَنِ، فَيَجِيءُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيُسَلِّمُ تَسْلِيماً لاَ يُوقِظُ نَائِماً، وَيُسْمِعُ اليَقْظَانَ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ كَمَا كَانَ يُسَلِّمُ . رواه مسلم

মিক্বদাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি স্বীয় দীর্ঘ হাদীসে বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তাঁর অংশের দুধ রেখে দিতাম। তিনি রাতের বেলায় আসতেন এবং এমনভাবে সালাম দিতেন যে, তাতে কোন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দিতেন না এবং জাগ্রত ব্যক্তিদেরকে শুনাতেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর অভ্যাসমত) এসে সালাম দিলেন, যেমন তিনি সালাম দিতেন।

(মুসলিম ২০৫৫, তিরমিযী ২৭১৯, আহমাদ ২৩৩০০, ২৩৩১০।)

৮৫৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৫৯


وَعَن أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: مَرَّ عَلَيْنَا النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم فِى نِسْوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا. رواه أبوداود

আসমা বিনতে য়্যাযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একদল মহিলার নিকট দিয়ে পার হওয়ার সময় আমাদেরকে সালাম দিলেন।

(তিরমিযী ২৬৯৭, আবূ দাউদ ৫২০৪, ইবনু মাজাহ ৩৭০১, আহমাদ ২৭০১৪, দারেমী ২৬৩৭।)

৮৬০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬০


وَعَنْ أَبي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِنَّ أوْلَى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأَهُمْ بالسَّلاَمِ رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ، ورواه الترمذي بنحوه وقال: حديثٌ حسن . وَقَدْ ذُكر بعده

আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম করে।’’

(আবূ দাউদ ৫১৯৭, তিরমিযী ২৬৯৪, আহমাদ ২১৬৮৮, ২১৭৭৬, ২১৮১৪)

৮৬১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬১


وَعَنْ أَبي جُرَيٍّ الهُجَيْمِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: أتيتُ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلتُ: عَلَيْكَ السَّلامُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم! قَالَ: لاَ تَقُلْ عَلَيْكَ السَّلامُ ؛ فَإِنَّ عَلَيْكَ السَّلاَمُ تَحِيَّةُ المَوتَى . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح ، وَقَدْ سَبَقَ بِطُولِهِ.

আবূ জুরাই হুজাইমী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে বললাম, ‘আলাইকাস সালাম’ ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন, ‘‘আলাইকাস সালাম’ বলো না। কেননা, ‘আলাইকাস সালাম’ হচ্ছে মৃত ব্যক্তিদেরকে জানানো অভিবাদন বাক্য।’’ (আবু দাঊদ,তিরমিযী হাসান সহীহ, ইতোপূর্বে সম্পূর্ণ হাদীসটি ৮০০ নম্বরে গত হয়েছে।)

(তিরমিযী ২৭২১, ২৭২২, আবূ দাউদ ৫০২৯)

পরিচ্ছেদ - ১৩৩

সালামের বিভিন্ন আদব-কায়দা

৮৬২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬২


عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى المَاشِي، وَالمَاشِي عَلَى القَاعِدِ، وَالقَليلُ عَلَى الكَثِيرِ . متفقٌ عَلَيْهِ، وَفِي رِوَايَةٍ لِلبُخَارِي: وَالصَّغِيرُ عَلَى الكَبِيرِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দেবে।’’

(সহীহুল বুখারী ৬২৩১, ৬২৩২, ৬২৩৪, ৩১, ৩২, ৩৪, মুসলিম ২১৬০, তিরমিযী ২৭০৩, আবূ দাউদ ৫১৯৮, আহমাদ ২৭৩৭৯, ৮১১৩, ১০২৪৬)

৮৬৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬৩


وَعَنْ أَبي أُمَامَةَ صُدَيِّ بنِ عَجلاَنَ البَاهِلِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إنَّ أَوْلى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأهُمْ بِالسَّلامِ ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ .
ورواه الترمذي عَن أَبي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، الرَّجُلاَنِ يَلْتَقِيَانِ أَيُّهُمَا يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ ؟ قَالَ: « أَوْلاَهُمَا بِاللهِ تَعَالَى . قَالَ الترمذي: «هَذَا حديث حسن

আবূ উমামাহ সুদাই ইবনে আজলান বাহেলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহর নিকটবর্তী সেই, যে লোকদেরকে প্রথমে সালাম করে।’’ (আবূ দাঊদ উত্তম সূত্রে)

(তিরমিযী ২৬৯৪, আবূ দাউদ ৫১৯৭, আহমাদ ২১৬৮৮, ২১৭৪৯, ২১৭৭৬, ২১৮১৪)

পরিচ্ছেদ - ১৩৪

দ্বিতীয়বার সত্বর সাক্ষাৎ হলেও পুনরায় সালাম দেওয়া মুস্তাহাব, যেমন কোথাও প্রবেশ করার পর বের হয়ে গিয়ে পুনরায় তৎক্ষণাৎ সেখানে প্রবেশ করলে কিংবা দু’জনের মাঝে কোন গাছ তথা অনুরূপ কোন জিনিসের আড়াল হলে, তারপর আবার দেখা হলে পুনরায় সালাম দেওয়া মুস্তাহাব

৮৬৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬৪


عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه فِي حَدِيثِ المُسِيءِ صَلاَتَهُ: أَنَّهُ جَاءَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ، فَقَالَ: « ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ » فَرَجَعَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ . متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নামায ভুলকারীর হাদীসে এসেছে যে, সে ব্যক্তি এসে নামায পড়ল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে সালাম দিল। তিনি তার সালামের জবাব দিয়ে বললেন, ‘‘ফিরে যাও, এবং নামায পড়। কেননা, তোমার নামায পড়া হয়নি।’’ কাজেই সে ফিরে গিয়ে আবার নামায পড়ল। তারপর পুনরায় এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল। এভাবে সে তিনবার করল।

(সহীহুল বুখারী ৭৫৭, ৭৯৩, ৬২৫১, ৬৬৬৭, মুসলিম ৩৯৭, তিরমিযী ৩০৩, নাসায়ী ৮৮৪, আবূ দাউদ ৮৫৬, ইবনু মাজাহ ১০৬০, ৩৬৯৫, আহমাদ ৯৩৫২)

৮৬৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬৫


وعنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏ "‏إذا لقي أحدكم أخاه، فليسلم عليه، فإن حالت بينهما شجرة، أو جدار، أو حجر، ثم لقيه، فليسلم عليه‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏)‏‏)‏‏.‏

উক্ত রাবী থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা করবে, তখন সে যেন তাকে সালাম দেয়। অতঃপর যদি তাদের দু’জনের মাঝে গাছ বা দেওয়াল অথবা পাথর আড়াল হয়, তারপর আবার সাক্ষাৎ হয়, তাহলে সে যেন আবার সালাম দেয়।’’

(আবূ দাঊদ ৫২০০)

পরিচ্ছেদ - ১৩৫

নিজ গৃহে প্রবেশ করার সময় সালাম দেওয়া উত্তম

৮৬৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬৬


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: يَا بُنَيَّ، إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أهْلِكَ، فَسَلِّمْ، يَكُنْ بَرَكَةً عَلَيْكَ، وَعَلَى أهْلِ بَيْتِكَ . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে বৎস! তোমার বাড়িতে যখন তুমি প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও, তাহলে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য তা বরকতময় হবে।’’

(তিরমিযী ২৬৯৮)

পরিচ্ছেদ - ১৩৬

শিশুদেরকে সালাম করা প্রসঙ্গে

৮৬৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬৭


عَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ. متفقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি কতিপয় শিশুর নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।’

(সহীহুল বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম ২১৬৮, তিরমিযী ২৬৯৬, আবূ দাউদ ৫২০২, ইবনু মাজাহ ৩৭০০, আহমাদ ১১৯২৮, ১২৩১৩, ১২৪৮৫, ১২৬১০, দারেমী ২৬৩৬)

পরিচ্ছেদ - ১৩৭

নারী-পুরুষের পারস্পরিক সালাম

৮৬৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬৮


عَن سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَتْ فِينَا امْرَأةٌ ـ وفي رواية: كَانَتْ لَنَا عَجُوزٌ ـ تَأخُذُ مِنْ أصُولِ السِّلْقِ فَتَطْرَحُهُ فِي القِدْرِ، وَتُكَرْكِرُ حَبَّاتٍ مِنْ شَعِيرٍ، فَإذَا صَلَّيْنَا الْجُمُعَةَ، وَانْصَرَفْنَا، نُسَلِّمُ عَلَيْهَا، فَتُقَدِّمُهُ إلَيْنَا . رواه البخاري

সাহল ইবনে সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এক মহিলা ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে আমাদের একটি বুড়ি ছিল। সে বীট (কেটে) হাঁড়িতে রেখে তাতে কিছু যব দানা পিষে মিশ্রণ করত। অতঃপর আমরা যখন জুমআর নামায পড়ে ফিরে আসতাম, তখন তাকে সালাম দিতাম। আর সে আমাদের জন্য তা পেশ করত।’

(সহীহুল বুখারী ৯৩৮, ৯৩৯, ৯৪১, ৫৪০৩, ২৩৪৯, ৬২৪৮, ৬২৭৯, মুসলিম ৮৫৯, তিরমিযী ৫২৫, ইবনু মাজাহ ১০৯৯)

৮৬৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৬৯


وَعَنْ أُمِّ هَانِىءٍ فَاخِتَةَ بِنتِ أَبي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: أَتَيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الفَتْحِ وَهُوَ يَغْتَسِلُ، وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ، فَسَلَّمْتُ ... وَذَكَرَتِ الحديث . رواه مسلم

উম্মে হানী ফাখেতাহ বিনতে আবী ত্বালেব রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজির হলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন। ফাতেমা তাঁকে একটি কাপড় দিয়ে আড়াল করছিলেন। আমি (তাঁকে) সালাম দিলাম।...’ অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজির হলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন। ফাতেমা তাঁকে একটি কাপড় দিয়ে আড়াল করছিলেন। আমি (তাঁকে) সালাম দিলাম।...’ অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৮৭০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭০


وَعَنْ أسماءَ بِنتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: مَرّ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي نِسوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن ، وهذا لفظ أَبي داود .
ولفظ الترمذي: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَرَّ في المَسْجِدِ يَوْماً، وَعُصْبَةٌ مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ، فَأَلْوَى بِيَدِهِ بالتَّسْلِيمِ .

আসমা বিনতে য়্যাযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদের) একদল মহিলার নিকট অতিক্রম করার সময় আমাদেরকে সালাম দিলেন।

(আবূ দাউদ ৫২০৪, দারেমী ২৬৩৭, তিরমিযী ২৬৯৭, ইবনু মাজাহ ৩৭০১, আহমাদ ২৭০১৪)

পরিচ্ছেদ - ১৩৮

অমুসলিমকে আগে সালাম দেওয়া হারাম এবং তাদের সালামের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি। কোন সভায় যদি মুসলিম-অমুসলিম সমবেত থাকে, তাহলে তাদের (মুসলিমদের)কে সালাম দেওয়া মুস্তাহাব

৮৭১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭১


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « لاَ تَبْدَأُوا اليَهُودَ وَلاَ النَّصَارَى بالسَّلامِ، فَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ في طَرِيقٍ فَاضطَرُّوهُ إِلَى أَضْيَقِهِ». رواه مسلم

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদেরকে প্রথমে সালাম দিয়ো না। যখন পথিমধ্যে তাদের কারো সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে পথের এক প্রান্ত দিয়ে যেতে বাধ্য করো।’’

(মুসলিম ২১৬৭, তিরমিযী ২৭০০, আবূ দাউদ ১৪৯, আহমাদ ৭৫১৩,৭৫৬২,৮৩৫৬,৯৪৩৩,৯৬০৩,১০৪৪১৮)

৮৭২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭২


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أهْلُ الكِتَابِ فَقُولُوا: وَعَلَيْكُمْ» متفقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিতাবধারীরা (ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানরা) যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমরা জবাবে বল, ‘ওয়া আলাইকুম।’’

(সহীহুল বুখারী ৬২৫৮, ৬৯২৬, মুসলিম ২১৬৩, তিরমিযী ৩৩০১, আবূ দাউদ ৫২০৭, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৭, আহমাদ ১১৫৩৭,১১৭০৫,১১৭৩১,১২০১৯, ১২৫৮, ১২৫৮৩, ১২৬৭৪, ১৩৩৪৫)

৮৭৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭৩


وَعَنْ أُسَامَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى مَجْلِسٍ فِيهِ أخْلاَطٌ مِنَ المُسْلِمِينَ وَالمُشْرِكينَ ـ عَبَدَة الأَوْثَانِ ـ واليَهُودِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِم النبيُّصلى الله عليه وسلم . متفقٌ عَلَيْهِ

উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সভা অতিক্রম করেন, যার মধ্যে মুসলিম, মুশরিক (মূর্তিপূজক) ও ইয়াহুদীর সমাগম ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সালাম করলেন।

(সহীহুল বুখারী ৫৬৬৩, ৪৫৬৬, ৬২০৭, ৬২৫৪, মুসলিম ১৭৯৮, তিরমিযী ২৭০২, আহমাদ ২১২৬০)

পরিচ্ছেদ - ১৩৯

সভা থেকে উঠে যাবার সময়ও সাথীদেরকে ত্যাগ করে যাবার পূর্বে সালাম দেওয়া উত্তম

৮৭৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭৪


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا انْتَهى أَحَدُكُمْ إِلَى المَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ، فَإذَا أرَادَ أنْ يَقُومَ فَلْيُسَلِّمْ، فَلَيْسَتِ الأُولَى بِأحَقّ مِنَ الآخِرَةِ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ সভায় পৌঁছবে তখন সালাম দেবে। আর যখন সভা ছেড়ে চলে যাবে, তখনও সালাম দেবে। কেননা, প্রথম সালাম শেষ সালাম অপেক্ষা বেশী উত্তম নয়।’’

(আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাসান হাদীস)(আবূ দাউদ ৫২০৮, তিরমিযী ২৭০৬, আহমাদ ৭৭৯৩, ৭১০২, ৯৩৭২)

পরিচ্ছেদ - ১৪০

বাড়িতে প্রবেশ করার অনুমতি গ্রহণ ও তার আদব-কায়দা


মহান আল্লাহ বলেন,
(আরবী)
অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে ও তাদেরকে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।” (সূরা নূর ২৭ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
(আরবী)
অর্থাৎ “তোমাদের শিশুরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মত (সর্বদা) অনুমতি প্রার্থনা করে।” (সূরা নূর ৫৯ আয়াত)

৮৭৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭৫


عَن أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ، فَإنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلاَّ فَارْجِعْ ». متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ মূসা আশ্আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘অনুমতি তিনবার নেওয়া চায়। যদি তোমাকে অনুমতি দেয় (তাহলে ভিতরে প্রবেশ করবে) নচেৎ ফিরে যাবে।’’

(সহীহুল বুখারী ৬২৪৫, ২০৬২, ৭৩৫৩, মুসলিম ২১৫৪, আবূ দাউদ ৫১৮১, আহমাদ ১৯০১৬, ১৯০৬২, ১৯০৮৪, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৯৮)

৮৭৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭৬


وَعَنْ سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إنَّمَا جُعِلَ الاِسْتِئذَانُ مِنْ أجْلِ البَصَرِ». متفقٌ عَلَيْهِ

সাহ্‌ল ইবনে সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দৃষ্টির কারণেই তো (প্রবেশ) অনুমতির বিধান করা হয়েছে।’’ (অর্থাৎ দৃষ্টি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে ঐ নির্দেশ।) (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ৬২৪২, ৬৮৮৯, ৬৯০০, মুসলিম ২১৫৭, তি২৭০৮, নাসায়ী ৪৮‘‘৫৮, আবূ দাউদ ৫১৭১ আহমাদ ১১৮৪৮, ১১৬৪৪, ১২০১৭, ১২৪১৮, ১৩১৩১)

৮৭৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭৭


وَعَنْ رِبْعِيِّ بنِ حِرَاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرٍ أنَّهُ اسْتَأذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيتٍ، فَقَالَ: أَأَلِجُ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِخَادِمِهِ: « أُخْرُجْ إِلَى هَذَا فَعَلِّمْهُ الاِسْتِئذَانَ، فَقُلْ لَهُ: قُلِ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ ؟ » فَسَمِعَهُ الرَّجُلُ، فَقَالَ: السَّلامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ ؟ فَأذِنَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

রিব্‌য়ী ইবনে হিরাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন বনু ‘আমেরের একটা লোক আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, সে একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (প্রবেশ) অনুমতি চাইল। তখন তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং সে নিবেদন করল, ‘আমি কি প্রবেশ করব?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় খাদেমকে বললেন, ‘বাইরে গিয়ে এই লোকটিকে অনুমতি গ্রহণের পদ্ধতি শিখিয়ে দাও এবং তাকে বল, তুমি বল ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব?’ সুতরাং লোকটা ঐ কথা শুনতে পেয়ে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব?’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন এবং সে প্রবেশ করল। (আবু দাঊদ, বিশুদ্ধ সূত্রে)

(আবূ দাউদ ৫১৭৭, আহমাদ ২২৬১৭)

৮৭৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭৮


عَن كِلْدَةَ بنِ الحَنْبَلِ رضي الله عنه، قَالَ: أتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ وَلَمْ أُسَلِّمْ، فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «ارْجِعْ فَقُلْ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُل ؟ رواه أَبُو داود والترمذي، وقال:«حديث حسن

কিল্‌দাহ ইবনে হাম্বাল রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁর কাছে বিনা সালামে প্রবেশ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘ফিরে যাও এবং বল, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি ভিতরে আসব কি?’’

(আবূ দাউদ ৫১৭৬, তিরমিযী ২৭১০, আহমাদ ১৪৯৯৯)

পরিচ্ছেদ - ১৪১

অনুমতি প্রার্থীর জন্য এটা সুন্নত যে, যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কে? তখন সে নিজের পরিচিত নাম বা উপনাম ব্যক্ত করবে। আর উত্তরে ‘আমি’ বা অনুরূপ শব্দ বলা অপছন্দনীয়

৮৭৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৭৯


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه فِي حَدِيثِهِ الْمَشْهُورِ فيِ الإسرَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: ثُمَّ صَعَدَ بِي جِبْرِيلُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَاسْتَفْتَحَ، فَقِيلَ: مَنْ هَذَا ؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ، ثُمَّ صَعَدَ إِلَى السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ فَاسْتَفْتَحَ، قِيلَ: مَنْ هَذَا ؟ قَالَ: جِبْرِيل، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ وَالثَّالِثَةِ وَالرَّابِعَةِ وَسَائِرِهنَّ وَيُقَالُ فِي بَابِ كُلِّ سَمَاءٍ: مَنْ هَذَا ؟ فَيَقُولُ: جِبْريلُ . متفقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘.... অতঃপর জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে সঙ্গে নিয়ে নিকটবর্তী (প্রথম) আসমানে চড়লেন এবং তার (দরজা) খোলার আবেদন করলেন। তখন জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনি কে?’ জিবরীল বললেন, ‘জিবরীল।’ জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনার সাথে কে?’ তিনি বললেন, ‘মুহাম্মাদ।’ (এভাবে) তৃতীয়, চতুর্থ তথা বাকি সব আসমানে প্রত্যেক প্রবেশ-দ্বারে জিজ্ঞাসা করা হল ‘আপনি কে?’ আর জিবরীল উত্তর দিলেন, ‘জিবরীল।’

(সহীহুল বুখারী ৩২০৭, ৩৩৯৩, ৩৪৩০, ৩৮৮৭, মুসলিম ১৬২, ১৬৪, তিরমিযী ৩৩৪৬, নাসায়ী ৪৪৮, আহমাদ ১৭৩৭৮, ১৭৩৮০)

৮৮০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮০


وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجْتُ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي، فَإذَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَحْدَهُ، فَجَعَلْتُ أمْشِي فِي ظلِّ القَمَرِ، فَالْتَفَتَ فَرَآنِي، فَقَالَ: « مَنْ هَذَا ؟ » فَقُلْتُ: أَبُو ذَرٍّ . متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি বের হলাম। হঠাৎ (দেখলাম,) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাই পায়ে হেঁটে চলেছেন। আমি চাঁদের ছায়াতে চলতে লাগলাম। তিনি (পিছনে) ফিরে তাকালে আমাকে দেখে ফেললেন এবং বললেন, ‘‘কে তুমি?’’ আমি বললাম, ‘আবূ যার্র।’

(সহীহুল বুখারী ১২৩৭, ২৩৮৮, ৩২২২, ৫৮২৭, ৬২৬৮, ৬৪৪৩, ৬৪৪৪, ৬৪৮৭, মুসলিম ৯৪, তিরমিযী ২৬৪৪, আহমাদ ২০৮৪০, ২০৯০৫, ২০৯১৫, ২০৯৫৩)

৮৮১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮১


وَعَنْ أُمِّ هَانِئٍٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: أَتَيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ، فَقَالَ: «مَنْ هذِهِ ؟» فَقُلتُ: أَنَا أُمُّ هَانِئٍٍ . متفقٌ عَلَيْهِ

উম্মে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হলাম, তখন তিনি গোসল করছিলেন। আর (তাঁর মেয়ে) ফাতেমা তাঁকে কাপড় দিয়ে আড়াল করছিলেন। সুতরাং তিনি বললেন, ‘‘কে তুমি?’’ আমি বললাম, ‘আমি উম্মে হানী।’

(সহীহুল বুখারী ৩৫৭, ২৮০, মুসলিম ৩৩৬, তিরমিযী ৪৭৪, ২৭৩৪, নাসায়ী ২২৫ আবূ দাউদ ১১০৪, ১১৭৬, ৩১৭১, ৪২৯২, ৬১৫৮, ইবনু মাজাহ ৪৬৫, ৬১৪, ১৩২৩, ১৩৭৯, আহমাদ ২৬৩৪৭, ২৬৩৫৬, ২৬৮৩৩,মুওয়াত্তা মালিক ৩৫৯, দারেমী ১৪৫২, ১৪৫৩)

৮৮২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮২


وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: أتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَدَقَقْتُ البَابَ، فَقَالَ: « مَنْ هَذَا ؟ » فَقُلتُ: أَنَا، فَقَالَ: « أنَا، أنَا ! » كَأنَّهُ كَرِهَهَا» . متفقٌ عَلَيْهِ

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি বললেন, ‘‘কে?’’ আমি বললাম, ‘আমি।’ তিনি বললেন, ‘‘আমি, আমি।’’ যেন তিনি কথাটিকে অপছন্দ করলেন।

(সহীহুল বুখারী ৬২৫০, মুসলিম ২১৫৫, তিরমিযী ২৭১১, আবূ দাউদ ৫১৮৭, ইবনু মাজাহ ৩৭০৯, আহমাদ ১৩৭৭৩, ১৪০৩০, ১৪৪৯৩, দারেমী ২৬৩০)

পরিচ্ছেদ - ১৪২

যে হাঁচি দিবে সে আলহামদু লিল্লাহ বললে তার উত্তর দেওয়া মুস্তাহাব। নচেৎ তা অপছন্দনীয়। হাঁচির উত্তর দেওয়া, হাঁচি ও হাই তোলা সম্পর্কিত আদব-কায়দা

৮৮৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮৩


عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إنَّ الله يُحِبُّ العُطَاسَ، وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ، فَإذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ وَحَمِدَ الله تَعَالَى كَانَ حَقّاً عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أنْ يَقُولَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ، وَأَمَّا التَّثَاؤُبُ فَإنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإذَا تَثَاءَبَ أحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإنَّ أحَدَكُمْ إِذَا تَثَاءَبَ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ ». رواه البخاري

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা হাঁচি ভালবাসেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। অতএব তোমাদের কেউ যখন হাঁচবে এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়বে তখন প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতার উচিত হবে যে, সে তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে। আর হাই তোলার ব্যাপারটা এই যে, তা হচ্ছে শয়তানের পক্ষ থেকে (আলস্য ও ক্লান্তির লক্ষণ)। অতএব কেউ যখন হাই তুলবে তখন সে যেন যথাসাধ্য তা রোধ করে। কেননা, যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন শয়তান তা দেখে হাসে।’’

(সহীহুল বুখারী ৬২২৩, ৩২৮৯, ৬২২৬, মুসলিম ২৯৯৪, তিরমিযী ৩৭০, ২৭৪৬, ২৭৪৭, আবূ দাউদ ৫০২৮, আহমাদ ৭৫৪৫, ৯২৪৬, ১০৩১৭, ১০৩২৯, ২৭৫০৪)

৮৮৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮৪


وَعَنْه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إِذَا عَطَسَ أحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: اَلحَمْدُ للهِ، وَلْيَقُلْ لَهُ أخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ: يَرْحَمُكَ الله. فَإِذَا قَالَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ، فَليَقُلْ: يَهْدِيكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ». رواه البخاري

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ হাঁচবে, তখন সে যেন বলে, ‘আলহামদু লিল্লাহ।’ (তা শুনে) তার ভাই বা সাথীর বলা উচিত, ‘য়্যারহামুকাল্লাহ।’ সুতরাং যখন জবাবে ‘য়্যারহামুকাল্লাহ’ বলবে, তখন যে (হাঁচি দিয়েছে) সে বলবে, ‘য়্যাহদীকুমুকাল্লাহু অ য়্যুস্‌লিহু বালাকুম।’ (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে সুপথ দেখান ও তোমাদের অন্তর সংশোধন করে দেন।)’’

(সহীহুল বুখারী ৬২২৪, আবূ দাউদ ৫০৩৩, আহমাদ ৮৪১৭)

৮৮৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮৫


وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « إِذَا عَطَسَ أحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللهَ فَشَمِّتُوهُ، فَإنْ لَمْ يَحْمَدِ الله فَلاَ تُشَمِّتُوهُ ». رواه مسلم

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘‘যখন তোমাদের কেউ হাঁচবে এবং ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলবে, তখন তার উত্তর দাও। যদি সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ না বলে, তাহলে তার উত্তর দিয়ো না।’’

(মুসলিম ২৯৯২, আহমাদ ১৯১৯৭)

৮৮৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮৬


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: عَطَسَ رَجُلانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ، فَقَالَ الَّذِي لَمْ يُشَمِّتْهُ: عَطَسَ فُلانٌ فَشَمَّتَّهُ، وَعَطَسْتُ فَلَمْ تُشَمِّتْنِي ؟ فَقَالَ: « هَذَا حَمِدَ الله، وَإنَّكَ لَمْ تَحْمَدِ الله ». متفقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

দু’জন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে হাঁচল। তিনি তাদের মধ্যে একজনের উত্তর দিলেন। আর দ্বিতীয় জনের উত্তর দিলেন না। যে ব্যক্তির উত্তর দিলেন না সে বলল, ‘অমুক ব্যক্তি হাঁচল তো তার উত্তর দিলেন, আর আমি হাঁচলাম, কিন্তু আপনি আমার উত্তর দিলেন না!?’ তিনি বললেন, ‘‘ঐ ব্যক্তি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ পড়েছে। আর তুমি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ পড়নি তাই।’’

(সহীহুল বুখারী ৬২২৫, মুসলিম ২৯৯১)

৮৮৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮৭


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا عَطَسَ وَضَعَ يَدَهُ أَوْ ثَوْبَهُ عَلَى فِيهِ، وَخَفَضَ - أَوْ غَضَّ - بِهَا صَوْتَهُ. شك الراوي. رواه أَبُو داود والترمذي، وقال:حديث حسن صحيح

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচতেন তখন নিজ হাত অথবা কাপড় মুখে রাখতেন এবং তার মাধ্যমে শব্দ কম করতেন।’ (আবূ দাউদ, তিরমিযী, হাসান সহীহ)

(তিরমিযী ২৭৪৫, আবূ দাউদ ৫০২৯, আহমাদ ৯৩৭০)

৮৮৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮৮


وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ اليَهُودُ يَتَعَاطَسُونَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَرْجُونَ أنْ يَقُولَ لَهُمْ: يَرْحَمُكُم الله، فَيَقُولُ: يَهْدِيكُم اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال:حديث حسن صحيح

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইয়াহুদী সম্প্রদায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে কৃত্রিমভাবে হাঁচতো এই আশায় যে, তিনি তাদের জন্য ‘য়্যারহামুকাল্লাহ’ (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করুন) বলবেন। কিন্তু তিনি (তাদের হাঁচির জবাবে) বলতেন, ‘য়্যাহদীকুমুল্লাহু অয়্যুসলিহু বালাকুম’ (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে সৎপথগামী করুন ও তোমাদের অন্তরসমূহকে সংশোধন করে দেন।) (আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ)

(আবূ দাউদ ৫০৩৮, তিরমিযী ২৭৩৯, আহমাদ ১৯০৮৯, ১৯১৮৫)

৮৮৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৮৯


وَعَنْ أَبي سَعِيدِ الخُدرِي رضي الله عنه، قالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إِذَا تَثَاءَبَ أحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ عَلَى فِيهِ ؛ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ ». رواه مسلم

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ হাই তুলবে, তখন সে যেন আপন হাত দিয়ে নিজ মুখ চেপে ধরে রাখে। কেননা, শয়তান (মুখে) প্রবেশ করে থাকে।’’

(মুসলিম ২৯৯৫, আবূ দাউদ ৫০২৬, আহমাদ ১০৮৬৯, ১০৯৩০, ১১৪৭৯, ১১৫০৬, দারেমী ১৩৮২)

পরিচ্ছেদ - ১৪৩

সাক্ষাৎকালীন আদব

৮৯০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯০


عَن أَبي الخَطَّابِ قَتَادَةَ، قَالَ: قُلْتُ ِلأَنَسٍ: أكَانَتِ المُصَافَحَةُ فِي أصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ قَالَ: نَعَمْ . رواه البخاري

আবূল খাত্ত্বাব ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে কি মুসাফাহা (করমর্দন) করার প্রথা ছিল?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’

(সহীহুল বুখারী ৬২৬৩, তিরমিযী ২৭২৯)

৮৯১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯১


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا جَاءَ أهْلُ اليَمَنِ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « قَدْ جَاءَكُمْ أهْلُ اليَمَنِ ». وَهُمْ أوَّلُ مَنْ جَاءَ بِالمُصَافَحَةِ. رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন ইয়ামানবাসীরা আগমন করল, তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে উঠলেন, ‘‘ইয়ামানবাসীরা তোমাদের নিকট আগমন করেছে।’’ (আনাস বলেন,) এরাই সর্বপ্রথম মুসাফাহা আনয়ন করেছিল।

(আবূ দাউদ-বিশুদ্ধ সূত্রে) (আবূ দাউদ ৫২১৩, আহমাদ ১২৮০০, ১৩২১২)

৮৯২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯২


وَعَنْ البَرَاءِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « مَا مِنْ مُسْلِمَينِ يَلْتَقِيَانِ فَيَتَصَافَحَانِ إِلاَّ غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَفْتَرِقَا ». رواه أَبُو داود

বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দু’জন মুসলিম সাক্ষাৎকালে মুসাফাহা করলেই একে অপর থেকে পৃথক হবার পূর্বেই তাদের (গুনাহ) মাফ করে দেওয়া হয়।’’

(আবূ দাউদ ৫২১২, ৫২১১, তিরমিযী ২৭২৭, ইবনু মাজাহ ৩৭০৩)

৮৯৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯৩


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، الرَّجُلُ مِنَّا يَلْقَى أخَاهُ، أَوْ صَدِيقَهُ، أَيَنحَنِي لَهُ؟ قَالَ: « لاَ » . قَالَ: أفَيَلْتَزِمُهُ وَيُقَبِّلُهُ ؟ قَالَ: « لاَ » قَالَ: فَيَأخُذُ بِيَدِهِ وَيُصَافِحُهُ ؟ قَالَ: « نَعَمْ . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একটা লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্য থেকে কোন লোক তার ভাইয়ের সাথে কিংবা তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করলে তার সামনে কি মাথা নত করবে?’ তিনি বললেন, ‘‘না।’’ সে বলল, ‘তাহলে কি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমা দেবে?’ তিনি বললেন, ‘‘না।’’ সে বলল, ‘তাহলে কি তার হাত ধরে তার সঙ্গে মুসাফাহা করবে?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ।’’

(তিরমিযী-হাসান) (তিরমিযী ২৭২৮, ইবনু মাজাহ ৩৭০২)

৮৯৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯৪


وعن صَفْوان بن عَسَّال رضي الله عنه قال: قال يَهُودي لِصَاحبه اذْهب بنا إلى هذا النبي فأتيا رسول الله صلى الله عليه وسلم فَسَألاه عن تسْع آيات بَينات فَذَكرَ الْحَديث إلى قَوْله: فقَبَّلا يَدَهُ وَرِجْلَهُ وقالا: نَشْهَدُ أنَّكَ نبي . رواه الترمذي وغيره بأسانيد صحيحة.

সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ইয়াহূদী তার সাথীকে বললঃ এসো আমরা এই নাবীর নিকট যাই। ফলে তারা দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এল এবং তাঁকে নয়টি সুস্পষ্ট নিদর্শন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল। হাদীসের বর্ণনাকারী শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন যে, তারপর তারা দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ও পায়ে চুমা দিল এবং বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি নিঃসন্দেহে আপনি নাবী। এ হাদীস ইমাম তিরমিযী প্রমুখ সহীহ সানাদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। (তিরমিযী ও অন্যরা সহীহ সনদে)

(ইমাম নাবাবী বলেনঃ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী প্রমুখ বিভিন্ন সহীহ্ সনদে বর্ণনা করেছেন। আমি (আলবানী) বলছি: ইমাম তিরমিযী এবং অন্য কারো নিকট একটি সনদ ব্যতীত দ্বিতীয় কোন সনদ নেই। তা সত্ত্বেও এ সনদে আব্দুল্লাহ্ ইবনু সালেমাহ্ আলমুরাদী রয়েছেন যার সম্পর্কে মতভেদ করা হয়েছে। তিনিই হচ্ছেন ‘জুনবী ব্যক্তি কর্তৃক কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ’ মর্মে বর্ণিত হাদীস আলী (রাযি) হতে বর্ণনাকারী। তাকে মুহাক্কিক হাফিযগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। যেমনটি লেখক নিজেই বলেছেন। যারা তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন তাদের মধ্যে ইমাম আহমাদ, শাফে‘ঈ, বুখারী প্রমুখ রয়েছেন। যেমনটি ‘‘য‘ঈফু আবী দাঊদ’’ গ্রন্থে (নং ৩০) বিস্তারিত দেখবেন। আল্লামাহ্ যাইলা‘ঈ ‘‘নাসবুর রায়া’’ গ্রন্থে (৪/২৫৮) ইমাম নাসাঈর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইমাম তিরমিযীর হাদীসটি সম্পর্কে বলেনঃ এ হাদীসটি মুনকার। তিনি আরো বলেনঃ মুনযেরী বলেনঃ সম্ভত তার মুনকার সাব্যস্ত করার ব্যাপারে কথা রয়েছে।

তিরমিযী ২৭৩৩, ৩১৪৪, ইবনু মাজাহ ৩৭০৫)

৮৯৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯৫


وعن ابن عمر رضي الله عنهما قصة قال فيها: فَدَنَوْنا من النبي صلى الله عليه وسلم فقَّبلْنا يده . رواه أبو داود.

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাতে বলেছেন, অতঃপর আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম এবং তাঁর হাতে চুম্বন দিলাম। হাদীসটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন। যঈফ। (এ নম্বরের হাদীসটি দুর্বল।)

আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদে ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ হাশেমী রয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ফলে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল এবং তাকে ভুল ধরিয়ে দিতে হতো। এ সমস্যার দ্বারায় মুনযেরী সমস্যা বর্ণনা করেছেন। আর ‘‘আলকাশেফ’’ গ্রন্থে এসেছেঃ তার হেফ্য শক্তি মন্দ ছিল। দেখুন ‘‘য‘ঈফু আবী দাঊদ-আলউম্ম-’’ (নং ১০৬)। আবূ দাউদ ৫২২৩, ইবনু মাজাহ ৩৭০৪, আহমাদ ৫৩৬১।

৮৯৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯৬


وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قَدم: زَيْدُ بُن حَارثة المدينة ورسول الله صلى الله عليه وسلمفي بَيْتي فأتَاهُ فَقَرَعَ الباب. فَقَام إليهْ النبي صلى الله عليه وسلم يَجُرُّ ثوْبَهُ فاعتنقه وقبله » رواه الترمذي وقال: حديث حسن .

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যাইদ ইবনু হারিসা (রাঃ) মদীনায় এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে ছিলেন। যাইদ (দেখা করার জন্য) তাঁর কাছে এলেন এবং দরজায় টোকা মারলেন। নিজের কাপড় টানতে টানতে উঠে গিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে কোলাকুলি করলেন এবং তাকে চুমা দিলেন। (তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন)

(আমি (আলবানী) বলছি : হাদীসটির সনদের মধ্যের বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আন্ আন্ করে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হচ্ছেন প্রসিদ্ধ মুদাল্লিস (দোষ গোপন করে) বর্ণনাকারী। উল্লেখ্য শাইখ আলবানী ‘‘দিফা‘ আনিল হাদীসিন নাবাবী অস সীরাহ্’’ গ্রন্থে (নং ১০) বলেছেনঃ এর সনদে ধারাবাহিকভাবে তিনজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। এ কারণেই হাফিয যাহাবী বলেছেনঃ হাদীসটি মুনকার। তিরমিযী ২৭৩২।)

৮৯৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯৭


وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: « لاَ تَحقِرَنَّ مِنَ الْمَعرُوف شَيْئاً، وَلَوْ أنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهٍ طَلْقٍ». رواه مسلم

আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘কোন পুণ্য কাজকে তুমি অবশ্যই তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে সহাস্য বদনে সাক্ষাৎ করার পুণ্যই হোক না কেন।’’

(মুসলিম ২৬২৬, তিরমিযী ১৮৩৩, ইবনু মাজাহ ৩৩৬২, দারেমী ২০৭৯)

৮৯৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : সালামের আদব

হাদীস নং : ৮৯৮


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَبَّلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الحَسَنَ بنَ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، فَقَالَ الأقْرَعُ بنُ حَابِسٍ: إنَّ لِي عَشْرَةً مِنَ الْوَلَدِ مَا قَبَّلْتُ مِنْهُمْ أَحَدَاً . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « مَنْ لاَ يَرْحَمْ لاَ يُرْحَمْ ! ». متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ইবনে আলী (রাঃ)-কে চুম্বন দিলেন। (তা দেখে) আক্বরা’ ইবনে হাবেস বলে উঠল, ‘আমার তো দশটি সন্তান আছে, তাদের মধ্যে কাউকে আমি চুমা দিইনি।’ (তা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।’’

(সহীহুল বুখারী ৫৯৯৭, মুসলিম ২৩১৮, তিরমিযী ১৯১১, আবূ দাউদ ৫২১৮, ব্‌হ ৮০৮১, ৭২৪৭, ৭৫৯২, ১০২৯৫)