All books

রিয়াদুস সলেহিন (০ টি হাদীস)

১১ (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন ১২৭৯ - ১২৯২

পরিচ্ছেদ - ২৩৩

হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত

১২৭৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৭৯


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ البَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ». متفقٌ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “ইসলামের ভিত পাঁচটি জিনিসের উপর স্থাপিত আছে। (১) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বূদ (উপাস্য) নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) বায়তুল্লাহর হজ্জ করা এবং (৫) মাহে রমযানের সিয়াম (রোযা) পালন করা।”

(সহীহুল বুখারী ৮, মুসলিম ১৬, তিরমিযী ২৬০৯, ইবনু মাজাহ ৫০০১, আহমাদ ৪৭৮৩, ৫৬৩৯, ৫৬৫৯, ৫৬৭৯, ৬২৬৫)

১২৮০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮০


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُم الحَجَّ فَحُجُّوا». فَقَالَ رَجُلٌ: أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ فَسَكَتَ، حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثاً . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ» ثُمَّ قَالَ: «ذَرُوْنِي مَا تَرَكْتُكُمْ ؛ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ، وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيءٍ فَأتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَن شَيْءٍ فَدَعُوهُ». رواه مسلم

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে ভাষণ দানকালে বললেন, “হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের উপর (বায়তুল্লাহর) হজ্জ ফরয করেছেন, অতএব তোমরা হজ্জ পালন কর।” একটি লোক বলে উঠল, ‘হে আল্লাহর রসূল! প্রতি বছর তা করতে হবে কি?’ তিনি নিরুত্তর থাকলেন এবং লোকটি শেষ পর্যন্ত তিনবার জিজ্ঞাসা করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “যদি আমি বলতাম, হ্যাঁ। তাহলে (প্রতি বছরে) হজ্জ ফরয হয়ে যেত। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হতে।” অতঃপর তিনি বললেন, “তোমরা আমাকে (আমার অবস্থায়) ছেড়ে দাও, যতক্ষণ আমি তোমাদেরকে (তোমাদের স্ব স্ব অবস্থায়) ছেড়ে রাখব। কেননা, তোমাদের পূর্বেকার জাতিরা অতি মাত্রায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের পয়গম্বরদের বিরোধিতা করার দরুন ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোন কিছু করার আদেশ দেব, তখন তোমরা তা সাধ্যমত পালন করবে। আর যা করতে নিষেধ করব, তা থেকে বিরত থাকবে।”

(সহীহুল বুখারী ৭২৮৮, মুসলিম ১৩৩৭, তিরমিযী ২৬৭৯, নাসায়ী ২৬১৯, ইবনু মাজাহ ১, ২, আহমাদ ৭৩২০, ৭৪৪৯, ৮৪৫০, ৯২৩৯, ৯৪৮৮, ৯৫৫৭৭, ৯৮৯০, ১০২২৯, ১০৩২৭)

১২৮১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮১


وَعَنْهُ، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ العَمَلِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللهِ وَرسولِهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ: «حَجٌّ مَبرُورٌ». متفقٌ عَلَيْهِ

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘সর্বোত্তম কাজ কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান রাখা।” পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘অতঃপর কি?’ তিনি বললেন, “মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।”

(সহীহুল বুখারী ২৬, ১৫১৯, মুসলিম ৮৩, তিরমিযী ১৬৫৮, নাসায়ী ২৬২৫, ৩১৩০, আহমাদ ৭৪৫৯, ৭৫৩৬, ৭৫৮৫, ৭৮০৩, ৮০১৪, ৮৩৭৪, ৯৪০৭, দারেমী ২৩৯৩)
‘মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ সেই হজ্জকে বলা হয়, যাতে হাজী কোনো প্রকার আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপাচারে লিপ্ত হয়নি।

১২৮২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮২


وَعَنْه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنْ حَجَّ، فَلَمْ يَرْفُثْ، وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ». متفقٌ عَلَيْهِ

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি হজ্জ পালন করল এবং (তাতে) কোন অশ্লীল কাজ করল না ও পাপাচার করল না, সে ব্যক্তি ঠিক ঐ দিনকার মত (নিষ্পাপ হয়ে) বাড়ি ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।”

(সহীহুল বুখারী ১৫২১, ১৮১৯, ১৮২০, মুসলিম ১৩৫০, তিরমিযী ৮১১, নাসায়ী ২৬২৭, ইবনু মাজাহ ২৮৮৯, আহমাদ ৭০৯৬, ৭৩৩৪, ৯০৫৬, ৯৯০৪, ১০০৩৭, দারেমী ১৭৯৬)

১২৮৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮৩


وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَينَهُمَا، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الجَنَّةَ». متفقٌ عَلَيْهِ

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “একটি উমরাহ পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত ঐ দুয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপরাশির জন্য কাফফারা (মোচনকারী) হয়। আর ‘মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।”

(সহীহুল বুখারী ১৭৭৩, মুসলিম ১৩৪৯, তিরমিযী ৯৩৩, নাসায়ী ২৬২২, ২৬২৩, ২৬২৯, ইবনু মাজাহ ২৮৮৭, ২৮৮৮, আহমাদ ৭৩০৭, ৯৬২৫, ৯৬৩২, মুওয়াত্তা মালিক ৭৭৬, দারেমী ১৭৯৫)

১২৮৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮৪


وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، نَرَى الجِهَادَ أَفْضَلَ العَمَلِ، أَفَلاَ نُجَاهِدُ ؟ فَقَالَ: «لَكُنَّ أَفْضَلُ الجِهَادِ: حَجٌّ مَبْرُورٌ». رواه البخاري

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে সর্বোত্তম কাজ মনে করি, তাহলে কি আমরা জিহাদ করব না?’ তিনি বললেন, “কিন্তু (মহিলাদের জন্য) সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে ‘মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।”

(সহীহুল বুখারী ১৫২০, ১৮৬১, ২৭৮৪, ২৮৭৫, ২৮৭৬, নাসায়ী ২৬২৮)

১২৮৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮৫


وَعَنْها: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَن يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْداً مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ». رواه مسلم

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আরাফার দিন অপেক্ষা এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ সর্বাধিক বেশী সংখ্যায় বান্দাকে দোযখমুক্ত করেন।”

(মুসলিম ১৩৪৮, না৩০০৩, ইবনু মাজাহ ৩০১৫)

১২৮৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮৬


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «عُمْرَةٌ في رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً - أَوْ حَجَّةً مَعِي». متفقٌ عَلَيْهِ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “মাহে রমযানের উমরাহ একটি হজ্জের সমতুল্য অথবা আমার সঙ্গে হজ্জ করার সমতুল্য।”

(সহীহুল বুখারী ১৭৮৬, ১৮৬৩, মুসলিম ১২৫৬, নাসায়ী ২১১০, আবূ দাউদ ১৯৯০, ইবনু মাজাহ ২৯৯৪, আহমাদ ২০২৬, ২৮০৪, দারেমী ১৮৫৯)

১২৮৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮৭


وَعَنْهُ: أَنَّ امرَأَةً قَالَت: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ فَرِيضَةَ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الحَجِّ، أَدْرَكَتْ أَبي شَيْخاً كَبِيراً، لاَ يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَفَأحُجُّ عَنْهُ ؟ قَالَ: «نَعَمْ». متفقٌ عَلَيْهِ

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একজন মহিলা বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর স্বীয় বান্দাদের উপর হজ্জের ফরয আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমতাবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে, তিনি বাহনের উপর চড়ে বসে থাকতে অক্ষম। আমি কি তার পক্ষ হতে হজ্জ পালন করব?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ।”

(বুখারী ও মুসলিম) (সহীহুল বুখারী ১৫১৩, ১৮৫৪, ১৮৫৫, ৫৩৯৯, ৬২২৮, মুসলিম ১৩৩৪, ১৩৩৫, তিরমিযী ৯২৮, নাসায়ী ২৬৩৫, ২৬৪১, ২৬৫৩, ৫৩৮৯, ৫৩৯৫, আহমাদ ১৮১৫, ১৮২৫, ১৮৯৩, ২২৬৩, ৩০৩৩, ৩২২৮, ৩৩৬৫, মুওয়াত্তা মালিক ৮০৬)

১২৮৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮৮


وَعَنْ لَقِيطِ بنِ عَامِرٍ رضي الله عنه: أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ، لاَ يَسْتَطِيعُ الحَجَّ، وَلاَ العُمْرَةَ، وَلاَ الظَّعَنَ ؟ قَالَ: «حُجَّ عَنْ أَبِيكَ وَاعْتَمِرْ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

লাক্বীত ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘আমার পিতা এত বেশী বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি না হজ্জ করতে সক্ষম, না উমরা করতে সক্ষম, আর না সফর করতে পারবেন।’ তিনি বললেন, “তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ ও উমরা সম্পাদন কর।”

(আবূ দাউদ ১৮১০, তিরমিযী ৯৩০, নাসায়ী ২৬৩৭, ইবনু মাজাহ ২৯০৭, আহমাদ ১৮৭৫১, ১৮৭৫৭, ১৫৭৬৬)

১২৮৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৮৯


وَعَنِ السَّائِبِ بنِ يَزِيْدَ رضي الله عنه، قَالَ: حُجَّ بِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ، وَأنَا ابنُ سَبعِ سِنينَ . رواه البخاري

সায়েব ইবনে য়্যাযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘বিদায় হজ্জে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আমাকে নিয়ে হজ্জ করা হয়েছে। আমি তখন সাত বছরের শিশু।’

(সহীহুল বুখারী ১৮৫৮, ১৮৫৯, তিরমিযী ৯২৬, ২১৬১, আহমাদ ১৫২৯১)

১২৯০

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৯০


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَ رَكْباً بِالرَّوْحَاءِ، فَقَالَ: «مَنِ القَوْمُ ؟» قَالُوا: المُسلِمُونَ . قَالُوا: مَنْ أَنْتَ ؟ قَالَ: «رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم» . فَرَفَعَتِ امْرَأةٌ صَبيّاً، فَقَالَتْ: أَلِهَذَا حَجٌّ ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَلَكِ أَجْرٌ». رواه مسلم

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘রাওহা’ নামক স্থানে একটি যাত্রীদলের সাথে সাক্ষাৎকারে বললেন, “তোমরা কোন্‌ জাতি?” তারা বলল, ‘আমরা মুসলমান।’ তারা বলল, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, “আমি আল্লাহর রসূল।” এই সময়ে একজন মহিলা একটি শিশুকে তুলে ধরে বলল, ‘এর কি হজ্জ হবে?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ। আর (ওকে হজ্জ করানো বাবত) তোমারও সওয়াব হবে।”

(মুসলিম ১৩৩৬, নাসায়ী ২৬৪৫-২৬৪৯, আবূ দাউদ ১৭৩৬, আহমাদ ১৯০১, ২১৮৮, ২৬০৫, ৩১৮৫, ৩১৯২, মুওয়াত্তা মালিক ৬৬১)

১২৯১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৯১


عَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم حَجَّ عَلَى رَحْلٍ وَكَانَتْ زَامِلَتَهُ. رواه البخاري

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাহনে চড়ে হজ্জ সমাধা করেন। আর ঐ বাহনটিই ছিল প্রয়োজনীয় যাবতীয় সাজ-সরঞ্জামের বাহক।

(বুখারী) (সহীহুল বুখারী ১৫১৭, ইবনু মাজাহ ২৮৯০)
* (অর্থাৎ, তিনি যে উটের বাহনে চড়ে হজ্জ করেছেন সেই বাহনেই তাঁর খাদ্য-পানীয় তথা অন্যান্য আনুষঙ্গিক আসবাবপত্রও চাপানো ছিল।)

১২৯২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : (কা‘বাগৃহের) হজ্জ পালন

হাদীস নং : ১২৯২


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: كَانَتْ عُكَاظُ، وَمَجِنَّةُ، وَذُو المَجَازِ أَسْوَاقاً فِي الجَاهِلِيَّةِ، فَتَأَثَّمُوا أَنْ يَتَّجِرُوا في المَوَاسِمِ، فَنَزَلَتْ: ﴿ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربكم‏﴾ (البقرة: ١٩٨) في مَوَاسِمِ الحَجِّ . رواه البخاري

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উকায, মাজিন্নাহ ও যুল-মাজায নামক স্থানগুলিতে (ইসলাম আসার পূর্বে) জাহেলী যুগের বাজার ছিল। তাই সাহাবায়ে কেরাম হজ্জের মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যমূলক কাজ-কর্মকে পাপ মনে করলেন। তার জন্য এই আয়াত অবতীর্ণ হল, যার অর্থ, “(হজ্জের সময়) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় (ব্যবসা-বাণিজ্যে) কোন দোষ নেই।”

(সূরা বাক্বারাহ ১৯৮ আয়াত, বুখারী) (সহীহুল বুখারী ১৭৭০, ২০৫০, ৪৫১৯, আবূ দাউদ ১৭৩৪)