All books

রিয়াদুস সলেহিন (০ টি হাদীস)

বিবিধ ১ - ৬৮৫

পরিচ্ছদঃ ৫

মুরাক্বাবাহ্ (আল্লাহর ধ্যান)


আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ ٱلَّذِي يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ ٢١٨ وَتَقَلُّبَكَ فِي ٱلسَّٰجِدِينَ ٢١٩ ﴾ [الشعراء: ٢١٨، ٢١٩]

অর্থাৎ “যিনি তোমাকে দেখেন; যখন তুমি দন্ডায়মান হও (নামাযে) এবং তোমাকে দেখেন সিজদাকারীদের সাথে উঠতে-বসতে।” (সূরা শু‘আরা ২১৮-২১৯ আয়াত)
তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿ وَهُوَ مَعَكُمۡ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡۚ ﴾ [الحديد: ٤]

অর্থাৎ “তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা হাদীদ ৪ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,

﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَخۡفَىٰ عَلَيۡهِ شَيۡءٞ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِي ٱلسَّمَآءِ ٥ ﴾ [ال عمران: ٥]

অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে যমীন ও আকাশের কোনো কিছুই গোপন নেই।” (সূরা আলে ইমরান ৫ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,

﴿ إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلۡمِرۡصَادِ ١٤ ﴾ [الفجر: ١٤]

অর্থাৎ “নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা ফজর ১৪ আয়াত)
তাঁর অমোঘ বাণী,

﴿ يَعۡلَمُ خَآئِنَةَ ٱلۡأَعۡيُنِ وَمَا تُخۡفِي ٱلصُّدُورُ ١٩ ﴾ [غافر: ١٩]

অর্থাৎ “চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।”

(সূরা মুমিন ১৯ আয়াত)

৬১

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬১


وأما الأحاديث ؛ فالأول‏:‏ عن عمر بن الخطاب، رضي الله عنه ، قال ‏ "‏ بينما نحن جلوس عند رسول الله، صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع عينا رجل شديد بياض الثياب ، شديد سواد الشعر، لا يرى عليه أثر السفر، ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي ،صلى الله عليه وسلم ، فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه وقال‏:‏ يا محمد أخبرني عن الإسلام، فقال‏:‏ رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله ، وأن محمداً رسول الله وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة ، وتصوم رمضان ، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلاً‏.‏ قال صدقت‏.‏ فعجبنا له يسأله ويصدقه‏!‏ قال ‏:‏ فأخبرني عن الإيمان‏.‏ قال أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه ورسله، واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره‏.‏ قال صدقت‏.‏ قال فأخبرني عن الإحسان ‏.‏ قال أن تعبد الله كأنك تراه؛ فإن لم تكن تراه فإنه يراك‏.‏ قال‏:‏ فأخبرني عن الساعة‏.‏ قال‏:‏ ما المسؤول عنها بأعلم من السائل‏.‏ قال ‏:‏ فأخبرني عن أماراتها قال‏:‏ أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطالون في البنيان‏.‏ ثم انطلق، فلبثت ملياً، ثم قال‏:‏ يا عمر أتدري من السائل‏؟‏ قلت‏:‏ الله ورسوله أعلم‏.‏ قال‏:‏ فإنه جبريل أتاكم يعلمكم أمر دينكم‏"‏ ‏(‏‏‏رواه مسلم‏‏‏)‏ ‏.‏

উমার ইবনু খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে বসে ছিলাম। হঠাৎ একটি লোক আমাদের কাছে এল। তার পরনে ধবধবে সাদা কাপড় এবং তার চুল কুচকুচে কাল ছিল। (বাহ্যতঃ) সফরের কোন চিহ্ন তার উপর দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনছিল না। শেষ পর্যন্ত সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসল; তার দুই হাঁটু তাঁর (নবীর) হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে দিল এবং তার হাতের দুই করতলকে নিজ জানুর উপরে রেখে বলল, ‘হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।’

সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘ইসলাম হল এই যে, তুমি সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের রোযা রাখবে এবং কা‘বা ঘরের হজ্জ্ব করবে; যদি সেখানে যাবার সঙ্গতি রাখ।’’ সে বলল, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন।’ আমরা তার কথায় আশ্চর্য হলাম যে, সে জিজ্ঞাসাও করছে এবং ঠিক বলে সমর্থনও করছে! সে (আবার) বলল, ‘আপনি আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলসমূহ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস রাখবে।’’ সে বলল, ‘আপনি যথার্থ বলেছেন।’

সে (তৃতীয়) প্রশ্ন করল যে, ‘আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন! তিনি বললেন, ‘‘ইহসান হল এই যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে; যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ। যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তাহলে তিনি কিন্তু তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’’ সে (পুনরায়) বলল, ‘আপনি আমাকে কিয়ামতের দিন সম্পর্কে বলুন (সেদিন কবে সংঘটিত হবে?)’ তিনি বললেন, ‘‘এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত (ব্যক্তি) জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশী অবহিত নয়। (অর্থাৎ কিয়ামতের নির্দিষ্ট দিন আমাদের দু’জনেরই অজানা)।’’ সে বলল, ‘(তাহলে) আপনি ওর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে আমাকে বলে দিন।’

তিনি বললেন, ‘‘(ওর কিছু নিদর্শন হল এই যে,) কৃতদাসী তার মনিবকে প্রসব করবে (অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী এত বেশী হবে যে, যুদ্ধ বন্দিনী ক্রীতদাসী তার মনিবের কন্যা প্রসব করবে)। আর তুমি নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও দরিদ্র ছাগলের রাখালদেরকে অট্টালিকা নির্মাণের কাজে পরস্পর গর্ব করতে দেখবে।’’ অতঃপর সে (আগন্তুক প্রশ্নকারী) চলে গেল।

(উমার (রাঃ) বলেন,) ‘আমি অনেকক্ষণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে থাকলাম।’ পুনরায় তিনি বললেন ‘‘হে উমার! তুমি, কি জান যে, প্রশ্নকারী কে ছিল?’’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বেশী জানেন।’ তিনি বললেন, ‘‘ইনি জিব্রাঈল ছিলেন, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিখানোর জন্য এসেছিলেন।’’[১]

[১] মুসলিম ৮, তিরমিযী ২৬১০, নাসায়ী ৪৯৯০, আবূ দাউদ ৪৬৯৫, ইবনু মাজাহ ৬৩, আহমাদ ১৮৫, ১৯২, ৩৬৯, ৩৭৬, ৫৮২২

৬২

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬২


الثانى‏:‏ عن أبي ذر جندب بن جنادة، وأبي عبد الرحمن معاذ بن جبل، رضي الله عنهما، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏ "‏ اتق الله حيثما كنت واتبع السيئة الحسنة تمحها، وخالق الناس بخلق حسن‏"‏ ‏(‏‏‏رواه الترمذي وقال حديث حسن ‏‏‏)‏‏.‏

আবূ যার্র জুন্দুব ইবনু জুনাদাহ (রাঃ) ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তুমি যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং পাপের পরে পুণ্য কর, যা পাপকে মুছে ফেলবে। আর মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর।’’[১]

[১] তিরমিযী ১৯৮৭, আহমাদ ২০৮৪৭, ২০৮৯৪, ২১০২৬, দারেমী ২৭৯১

৬৩

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬৩


الثالث‏:‏ عن ابن عباس، رضي الله عنهما، قال‏:‏ ‏"‏ كنت خلف النبي، صلى الله عليه وسلم، يوماً فقال‏:‏ ‏"‏ يا غلام إني أعلمك كلمات‏:‏ ‏"‏احفظ الله يحفظك، احفظ الله تجده تجاهك، إذا سألت فاسأل الله ، وإذا استعنت فاستعن بالله، واعلم‏:‏ أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء، لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك، وإن اجتمعوا على أن يضروك بشيء، لم يضروك بشيء إلا بشيء قد كتبه الله عليك؛ رفعت الأقلام، وجفت الصحف‏"‏ ‏(‏‏‏رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح‏‏‏)‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি একদা (সওয়ারীর উপর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে (বসে) ছিলাম। তিনি বললেন, ‘‘ওহে কিশোর! আমি তোমাকে কয়েকটি (গুরুত্বপূর্ণ কথা শিক্ষা দেব (তুমি সেগুলো স্মরণ রেখো)। তুমি আল্লাহর (বিধানসমূহের) রক্ষণাবেক্ষণ কর (তাহলে) আল্লাহও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর (অধিকারসমূহ) স্মরণ রাখো, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। আর এ কথা জেনে রাখ যে, যদি সমগ্র উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ (তাকদীরের লিপি) শুকিয়ে গেছে।’’[১]

[১] তিরমিযী ২৫১৬ (তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ), আহমাদ ২৬৬৪, ২৭৫৮, ২৮০০

৬৪

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬৪


الرابع‏:‏ عن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ ‏"‏إنكم لتعملون أعمالاً هي أدق في أعينكم من الشعر، كنا نعدها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم من الموبقات‏"‏ ‏(‏‏‏رواه البخاري ‏‏‏)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বলেছেন যে, ‘তোমরা বহু এমন (পাপ) কাজ করছ, সেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও সূক্ষ্ম (নগণ্য)। কিন্তু আমরা সেগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বিনাশকারী মহাপাপ বলে গণ্য করতাম।’[১]

[১] সহীহুল বুখারী ৬৪৯২, আহমাদ ১২১৯৩, ১৩৬২৫

৬৫

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬৫


الخامس ‏:‏ عن أبي هريرة، رضي الله عنه ، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏ "‏ إن الله تعالى يغار، وغيرة الله ، تعالى، أن يأتي المراء ما حرم الله عليه‏"‏ ‏(‏‏‏متفق عليه‏‏‏)‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আত্ম মর্যাদাবোধ করেন। আর আল্লাহর আত্ম মর্যাদা জেগে ওঠে তখন যখন কোনো মানুষ এমন কাজ করে ফেলে, যা তিনি তার উপর হারাম করেছেন।’’[১]

[১] সহীহুল বুখারী ৫২২২, ৫২২৩, তিরমিযী ১১৬৮, আহমাদ ২৬৪০৩, ২৬৪২৯, ২৬৪৩১

৬৬

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬৬


السادس ‏:‏ عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ "‏ إن ثلاثة من بنى إسرائيل ‏:‏ أبرص ، وأقرع، وأعمى، أراد الله أن يبتليهم فبعث إليهم ملكاً، فأتى الأبرص فقال‏:‏ أي شيء أحب إليك‏؟‏ قال ‏:‏ لون حسن، وجلد حسن ، ويذهب عني الذى قد قذرني الناس؛ فمسحه فذهب عنه قذره وأعطي لونا حسناً‏.‏ قال‏:‏ فأي المال أحب إليك‏؟‏ قال‏:‏ الإبل-أو قال البقر-شك الرواي- فأعطي ناقة عشراء، فقال‏:‏ بارك الله لك فيها‏.‏
فأتى الأقرع فقال‏:‏ أي شيء أحب إليك‏؟‏ قال‏:‏ شعر حسن، ويذهب عني هذا الذى قذرني الناس ، فمسحه فذهب عنه وأعطي شعراً حسناً‏.‏ قال‏:‏ فأي المال أحب إليك‏؟‏ قال‏:‏ البقر، فأعطي بقرة حاملاً،وقال بارك الله لك فيها‏.‏
فأتي الأعمى فقال‏:‏ أي شيء أحب إليك‏؟‏ قال‏:‏ أن يرد الله إلي بصري فأبصر الناس، فمسحه فرد الله إليه بصره‏.‏ قال‏:‏ فأي المال أحب إليك‏؟‏ قال‏:‏ الغنم، فأعطي شاة والداً‏.‏ فأنتج هذان وولد هذا، فكان لهذا واد من الإبل، ولهذا واد من البقر، ولهذا واد من الغنم‏.‏
ثم إنه أتى الأبرص في صورته وهيئته، فقال له‏:‏ رجل مسكين وابن سبيل قد انقطعت بي الحبال في سفري، فلا بلاغ لي اليوم إلا بالله ثم بك، أسألك بالذي أعطاك اللون الحسن، والجلد الحسن، والمال، بعيراً أتبلغ به في سفري، فقال‏:‏ الحقوق كثيرة‏.‏ فقال ‏:‏ كأني أعرفك، ألم تكن أبرص يقذرك الناس فقيراً، فأعطاك الله ‏؟‏‏!‏ فقال ‏:‏ إنما ورثت هذا المال كابراً عن كابر، فقال‏:‏ إن كنت كاذباً فصيرك الله إلى ما كنت‏.‏
وأتى الأقرع، فقال له مثل ما قال لهذا، ورد عليه مثل ما ردّ هذا، فقال إن كنت كاذبا فصيرك الله إلى ما كنت ‏.‏
وأتى الأعمى في صورته وهيئته، فقال‏:‏ رجل مسكين وابن سبيل انقطعت بي الحبال في سفري، فلا بلاغ لي اليوم إلا بالله ثم بك، أسألك بالذي رد عليك بصرك شاة أتبلغ بها في سفري‏؟‏ فقال‏:‏ قد كنت أعمى فرد الله بصري، فخذ ما شئت ودع ما شئت، فوالله ما أجهدك اليوم بشيء أخذته لله عز وجل فقال‏:‏ أمسك عليك مالك فإنما ابتليتم، فقد رضي الله عنك، وسخط على صاحبيك‏"‏ ‏(‏‏‏متفق عليه‏‏‏)‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘বানী ইস্রাঈলের মধ্যে তিন ব্যক্তি ছিল। একজন ধবল-কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত, দ্বিতীয়জন টেকো এবং তৃতীয়জন অন্ধ ছিল। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। ফলে তিনি তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফিরিশতা (প্রথমে) ধবল-কুষ্ঠ রোগীর কাছে এসে বললেন, ‘তোমার নিকট প্রিয়মত বস্তু কি?’ সে বলল, ‘সুন্দর রং ও সুন্দর ত্বক। আর আমার নিকট থেকে এই রোগ দূরীভূত হোক---যার জন্য মানুষ আমাকে ঘৃণা করছে।’ অতঃপর তিনি তার দেহে হাত ফিরালেন, যার ফলে (আল্লাহর আদেশে) তার ঘৃণিত রোগ দূর হয়ে গেল এবং তাকে সুন্দর রং দেওয়া হল। অতঃপর তিনি বললেন, ‘তোমার নিকট প্রিয়তম ধন কী?’ সে বলল, ‘উট অথবা গাভী।’ (এটি বর্ণনাকারীর সন্দেহ।) সুতরাং তাকে দশ মাসের গাভিন একটি উটনী দেওয়া হল। তারপর তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তোমাকে এতে বরকত (প্রাচুর্য) দান করুন।’

অতঃপর তিনি টেকোর কাছে এসে বললেন, ‘তোমার নিকট প্রিয়তম জিনিস কী?’ সে বলল, ‘সুন্দর কেশ এবং এই রোগ দূরীভূত হওয়া---যার জন্য মানুষ আমাকে ঘৃণা করছে।’ অতঃপর তিনি তার মাথায় হাত ফিরালেন, যার ফলে তার (সেই রোগ) দূর হয়ে গেল এবং তাকে সুন্দর কেশ দান করা হল। (অতঃপর) তিনি বললেন, ‘তোমার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় ধন কোনটা?’ সে বলল, ‘গাভী।’ সুতরাং তাকে একটি গাভিন গাই দেওয়া হল এবং তিনি বললেন, ‘আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দান করুন।’

অতঃপর তিনি অন্ধের কাছে এলেন এবং বললেন, ‘তোমার নিকটে প্রিয়তম বস্তু কী?’ সে বলল, ‘এই যে, আল্লাহ তা‘আলা যেন আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন যার দ্বারা আমি লোকেদেরকে দেখতে পাই।’ সুতরাং তিনি তার চোখে হাত ফিরালেন। ফলে আল্লাহ তাকে তার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিলেন। ফেরেশতা বললেন, ‘তুমি কোন্ ধন সবচেয়ে পছন্দ কর?’ সে বলল, ‘ছাগল।’ সুতরাং তাকে একটি গাভিন ছাগল দেওয়া হল।

অতঃপর ঐ দু’জনের (কুষ্ঠরোগী ও টেকোর) পশু (উটনী ও গাভীর) পাল বৃদ্ধি পেতে লাগল এবং এই অন্ধেরও ছাগলটিও বাচ্চা প্রসব করল। ফলে এর এক উপত্যকা ভরতি উট, এর এক উপত্যকা ভরতি গরু এবং এর এক উপত্যকা ভরতি ছাগল হয়ে গেল।

পুনরায় ফেরেশতা (পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তাঁর পূর্বের চেহারা ও আকৃতিতে) কুষ্ঠরোগীর কাছে এলেন এবং বললেন, ‘আমি মিসকীন মানুষ, সফরে আমার সকল পাথেয় শেষ হয়ে গেছে। ফলে সবদেশে পৌঁছনোর জন্য আল্লাহ অতঃপর তোমার সাহায্য ছাড়া আজ আমার কোন উপায় নেই। সেজন্য আমি ঐ সত্তার নামে তোমার কাছে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং ও সুন্দর ত্বক দান করেছেন; যার দ্বারা আমি আমার এই সফরের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাই।’ সে উত্তর দিল যে, ‘(আমার দায়িত্বে আগে থেকেই) বহু অধিকার ও দাবি রয়েছে।’

(এ কথা শুনে) ফেরেশতা বললেন, ‘তোমাকে আমার চেনা মনে হচ্ছে। তুমি কি কুষ্ঠরোগী ছিলে না, লোকেরা তোমাকে ঘৃণা করত? তুমি কি দরিদ্র ছিলে না, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ধন প্রদান করেছেন?’ সে বলল, ‘এ ধন তো আমি পিতা ও পিতামহ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।’ ফেরেশতা বললেন, ‘যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তাহলে আল্লাহ তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিন!’

অতঃপর তিনি তার পূর্বেকার আকার ও আকৃতিতে টেকোর কাছে এলেন এবং তাকেও সে কথা বললেন, যে কথা কুষ্ঠরোগীকে বলেছিলেন। আর টেকোও সেই জবাব দিল, যে জবাব কুষ্ঠরোগী দিয়েছিল। সে জন্য ফেরেশতা তাকেও বললেন যে, ‘যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তাহলে আল্লাহ তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিন!’

পুনরায় তিনি তাঁর পূর্বেকার আকার ও আকৃতিতে অন্ধের নিকট এসে বললেন যে, আমি একজন মিসকীন ও মুসাফির মানুষ, সফরের যাবতীয় পাথেয় শেষ হয়ে গেছে। ফলে সবদেশে পৌঁছার জন্য আল্লাহ অতঃপর তোমার সাহায্য ছাড়া আজ আমার আর কোন উপায় নেই। সুতরাং আমি তোমার নিকট সেই সত্তার নামে একটি ছাগল চাচ্ছি, যিনি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন; যার দ্বারা আমি আমার এই সফরের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাই।’ সে বলল, ‘নিঃসন্দেহে আমি অন্ধ ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিলেন। (আর এই ছাগলও তাঁরই দান।) অতএব তুমি ছাগলের পাল থেকে যা ইচ্ছা নাও ও যা ইচ্ছা ছেড়ে দাও। আল্লাহর কসম! আজ তুমি আল্লাহ আয্যা অজাল্লার জন্য যা নেবে, সে ব্যাপারে আমি তোমাকে কোন কষ্ট বা বাধা দেব না।’

এ কথা শুনে ফেরেশতা বললেন, ‘তুমি তোমার মাল তোমার কাছে রাখ। নিঃসন্দেহে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হল (যাতে তুমি কৃতকার্য হলে)। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তোমার সঙ্গীদ্বয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন।’’[১]

[১] সহীহুল বুখারী ৩৪৬৪, মুসলিম ২৯৬৪

৬৭

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬৭


السابع‏:‏ عن أبي يعلى شداد بن أوس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ "‏ الكيس من دان نفسه، وعمل لما بعد الموت ، والعاجز من أتبع نفسه هواها، وتمنى على الله الأماني‏"‏ ‏(‏‏‏رواه الترمذي وقال حديث حسن‏‏‏)‏‏.‏

শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে ব্যক্তি জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন, যে তার নিজের আত্মপর্যালোচনা করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য (নেক) আমল করে। আর ঐ লোক দুর্বল যে স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, আবার আল্লাহর কাছে অবাস্তব আশা পোষণ করে।[১]

[১] হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান। কিন্তু আসলে হাদীসটি দুর্বল। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী ছাড়াও ইমাম আহমাদ, হাকিম ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির কোন সূত্রই দুর্বল বর্ণনাকারী হতে মুক্ত নয়। মুসনাদু আহমাদে বর্ণিত সূত্রে আবূ বাকর ইবনু আবী মারইয়াম নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন : ... তার হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না ...।

ইবনু হাজার বলেন : তিনি দুর্বল। তার বাড়িতে চুরি সংঘটিত হওয়ার পর থেকে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। [‘‘সিলসিলা য‘ঈফা’’ গ্রন্থের (২১১০) নম্বর হাদীসে তার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে]। এছাড়া আরো অনেকেই তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর অন্য সূত্রে ইবরাহীম ইবনু আমর ইবনে বাক্‌র সাকসাকী রয়েছেন যাকে দারাকুতনী মাতরূক আখ্যা দিয়েছেন আর ইবনু হিববান তার সম্পর্কে বলেছেন : তিনি তার পিতার উদ্ধৃতিতে বানোয়াট বহু কিছু বর্ণনা করেছেন। তার পিতাও কিছুই না। [বিস্তারিত দেখুন ‘‘সিলসিলা য‘ঈফা’’ (৫৩১৯)]

৬৮

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬৮


الثامن‏:‏ عن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ "‏ من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه‏"‏ ‏(‏‏‏حديث حسن رواه الترمذي وغيره‏‏‏)‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য (অর্থাৎ তার উত্তম মুসলিম হওয়ার একটি চিহ্ন) হল অনর্থক (কথা ও কাজ) বর্জন করা।’’[১] (হাসান হাদীস, তিরমিযী প্রমুখ)

[১] তিরমিযী ২৩১৭, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৬।

৬৯

রিয়াদুস সলেহিন

অধ্যায় : বিবিধ

হাদীস নং : ৬৯


التاسع‏:‏ عن عمر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ "‏لا يسأل الرجل فيم ضرب امرأته‏"‏ ‏(‏‏‏رواه أبو دواد وغيره‏‏‏)‏ ‏.‏

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: “কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে কি জন্য প্রহার করেছে তা নিয়ে (যথাযথ কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে) প্রশ্ন করা যাবে না।” (কারণ এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রাইভেসী লঙ্ঘন হয়) আবূ দাউদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এটি বর্ণনা করেছেন। (আবূ দাউদ ও ইবনু মাজাহ)।[১]

[১] আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসের সনদ দুর্বল। এ সম্পর্কে আমি ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ গ্রন্থে (২০৩৪) বিস্তারিত আলোচনা করেছি। হাদীসটিকে আবূ দাঊদ (২১৪৭), নাসায়ী ‘‘আলকুবরা’’ গ্রন্থে, ইবনু মাজাহ্ (১৯৮৬), বাইহাক্বী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান মাসলামীর কারণে হাদীসটি দুর্বল। তার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে শুধুমাত্র এ হাদীসেই চেনা যায়। তার থেকে শুধুমাত্র দাঊদ ইবনু আব্দিল্লাহ্ আওদী এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর শাইখ আহমাদ শাকের ‘‘মুসনাদু আহমাদ’’ এর টীকায় দাউদ ইবনু আব্দিল্লাহ্ আওদীকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু তা সঠিক নয়। কারণ দুর্বল হচ্ছেন দাঊদ ইবনু ইয়াযীদ আওদী, যিনি এ সনদে নেই।