All books

মিশকাতুল মাসাবিহ (০ টি হাদীস)

ঈমান (বিশ্বাস) ১-১৯৭

পরিচ্ছদঃ ৪.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৩১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : ঈমান (বিশ্বাস)

হাদীস নং : ১৩১


وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ يَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِه فَيَقُوْلَانِ لَهٗ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللّهُ فَيَقُولَانِ لَهٗ مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ دِيْنِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ مَا هذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُوْلَانِ لَهٗ: وَمَا يُدْرِيْكَ؟ قَالَ فَيَقُولُ هُووَ رَسُوْلُ الله فَيَقُوُلَانِ لَه : وَمَا يُدْرِيْكَ فَيِقُوُلُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللهِ فَاۤمَنْتُ بِه وَصَدَّقْتُ فَذلِكَ قَوْلُهٗ يُثَبِّتُ اللّهُ الَّذِينَ اۤمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ الْاۤيَةُ قَالَ فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَه بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ فَيُفْتَحُ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهٗ فِيهَا مَدَّ بَصَرِه وَأَمَّا الْكَافِرُ فَذَكَرَ مَوْتَهٗ قَالَ وَيُعَادُ رُوحُهٗ فِي جَسَدِه وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِه فَيَقُولَانِ مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ مَا دِيْنُكَ؟ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ مَا هذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنْ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنْ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنْ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهٗ بَابًا إِلَى النَّارِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا قَالَ وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهٗ حَتّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهٗ ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهٗ أَعْمى أَصَمُّ مَعَهٗ مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلٌ لَصَارَ تُرَابًا فَيَضْرِبُهٗ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اِلَّا الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا ثُمَّ يُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্ববরে মৃত ব্যাক্তির (মু’মিনের) নিকট দু‘জন মালাক আসেন। অতঃপর মালায়িকাহ্‌ তাকে বসিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার রব কে?” সে উত্তরে বলে, “আমার রব হলেন আল্লাহ্‌।” তারপর মালায়িকাহ্‌ জিজ্ঞেস করেন, “তোমার দ্বীন কি?” সে ব্যক্তি উত্তর দেয়, “আমার দ্বীন হল ইসলাম।” আবার মালায়িকাহ্‌ জিজ্ঞেস করেন, “তোমাদের নিকট আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে যে ব্যক্তি প্রেরিত হয়েছিল, তিনি কে?” সে বলে, “তিনি হলেন আল্লাহ্‌র রসূল [মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)]।” তারপর মালায়িকাহ্‌ তাকে জিজ্ঞেস করেন, “এ কথা তোমাকে কে বলেছে?” সে বলে, আমি আল্লাহ্‌র কিতাব পড়েছি এবং তাঁর উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন করেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এটাই হল আল্লাহ্‌ তা‘আলার এ বানীর ব্যাখ্যা: “আল্লাহ্‌ তা‘আলা সেসব লোকদেরকে (দ্বীনের উপর) প্রতিষ্ঠিত রাখেন যারা প্রতিষ্ঠিত কথার (কালিমায়ে শাহাদাতের) উপর ঈমান আনে…… আয়াতের শেষ পর্যন্ত- (সূরাহ্‌ ইবরাহীম ১৪: ২৭)। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আকাশমণ্ডলী থেকে একজন আহ্বানকারী ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তাঁর জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাঁকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। অতএব তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেয়া হবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ফলে তাঁর দিকে জান্নাতের বাতাস ও সুগন্ধি দোলা দিতে থাকবে এবং দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তাঁর ক্ববরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের মৃত্যু প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “তারপর তার রূহ্‌কে তার শরীরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দু‘জন মালাক এসে তাকে উঠিয়ে বসান এবং বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার রব কে?। তখন সে উত্তরে বলে, “হায়! হায়!! আমি তো কিছুই জানি না।” তারপর তারা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, “তোমার দ্বীন কি?” সে বলে হায়! হায়!! তাও তো আমার জানা নেই। তারপর তারা জিজ্ঞেস করেন, “এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল?” সে বলে হায়! হায়!! এটাও তো জানি না।” তারপর আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলেন, এ ব্যক্তি মিথ্যা বলছে। সুতরাং তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে আগুনের পোশাক প্রিয়ে দাও। আর জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দাও। সে অনুযায়ী তার জন্য দরজা খুলে দেয়া হয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তার ক্ববরকে তার জন্য সংকুচিত করে দেয়া হয়, যাতে তার একদিকের হাড় অপরদিকের হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করে। এরপর একজন অন্ধ ও বধির মালাক নিযুক্ত করে দেয়া হয়, যার সাথে লোহার এক হাতুড়ি থাকে। সে হাতুড়ি দিয়ে যদি পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয় তাহলে সে পাহাড় গুঁড়া গুঁড়া হয়ে মাটিতে মিশে যাবে। সে অন্ধ মালাক এ হাতুড়ি দিয়ে সজোরে তাকে আঘাত করতে থাকে। (তার বিকট চীৎকারের শব্দ) পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত জিন্‌ ও মানুষ ছাড়া সকল মাখলুকই শুনতে পাবে। এর সাথে সাথে সে মাটিতে মিশে যাবে। অতঃপর পুনরায় তার মধ্যে রূহ্‌ ফেরত দেয়া হবে (এভাবে অনবরত চলতে থাকবে)। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৭৫৩, আহমাদ ১৮০৬৩।