All books

মিশকাতুল মাসাবিহ (০ টি হাদীস)

পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা ২১০৯-২২২২

পরিচ্ছদঃ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২১৩৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৩৩


عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَوْفٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: «ثَلَاثَةٌ تَحْتَ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْقُرْاٰنُ يُحَاجُّ الْعِبَادَ لَه ظَهْرٌ وَبَطْنٌ وَالْأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ تُنَادِىْ: أَلَا مَنْ وَصَلَنِىْ وَصَلَهُ اللّٰهُ وَمَنْ قَطَعَنِىْ قَطَعَهُ اللّٰهُ». رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ

আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেনঃ তিনটি জিনিস কিয়ামাতের দিন আল্লাহর ‘আরশের নীচে থাকবে। (১) কুরআন, এ কুরআন বান্দাদের (পক্ষে বিপক্ষে) আর্জি পেশ করবে। এর যাহের ও বাতেন দু’দিক রয়েছে। (২) আমানাত ও (৩) আত্মীয়তার বন্ধন। (এ তিনটি জিনিসের প্রত্যেকে ফরিয়াদ করবে, হে আল্লাহ! যে আমাকে রক্ষা করেছে তুমি [আল্লাহ] তাকে রক্ষা করো। যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আল্লাহ তাকে ছিন্ন করো।) (ইমাম বাগাবী: শারহুস্ সুন্নাহ)[১]

1] য‘ঈফ : য‘ঈফাহ্ ১৩৩৭, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৫৭৭, শারহুস্ সুন্নাহ ৩৪৩৩। কারণ এর সানাদে হাসান ইবনু ‘আবদুর রহমান একজন মাকহূল রাবী, আর কাসীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল ইয়াশকুরী দুর্বল রাবী ।

২১৩৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৩৪


وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْاٰنِ: اِقْرَأْ وَارَتْقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِى الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ اٰخِرِ اٰيَةٍ تَقْرَؤُهَا». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ أَبُوْ دَاوُدَ وَالنَّسَائِىُّ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠকারীকে কিয়ামাতের দিন বলা হবে, পাঠ করতে থাকো আর উপরে উঠতে থাকো। (অক্ষরে অক্ষরে ও শব্দে শব্দে) সুস্পষ্টভাবে পাঠ করতে থাকো, যেভাবে দুনিয়াতে স্পষ্টভাবে পাঠ করতে। কারণ তোমার স্থান (মর্যাদা) হবে যা তুমি পাঠ করবে শেষ আয়াত পর্যন্ত (আয়াত পাঠের তুলনাগত দিক থেকে)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[১]

[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৬৪, তিরমিযী ২৯১৪, সহীহাহ্ ২২৪০, সহীহ ইবনু হিববান ১৭৯০, সহীহ আত্ তারগীব ১৪২৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২৪২৫।

২১৩৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৩৫


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ الَّذِىْ لَيْسَ فِىْ جَوْفِه شَىْءٌ مِنَ الْقُرْاٰنِ كَالْبَيْتِ الْخَرِبِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ. وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পেটে কুরআনের কিছু নেই তা শূন্য (ধ্বংসপ্রাপ্ত) ঘরের মতো। (তিরমিযী ও দারিমী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৯১৩, আহমাদ ১৯৪৭, দারিমী ৩৩৪৯, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৩৭, রিয়াযুস্ সলিহীন ১০০৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৭১, য‘ঈফ আল জামি‘ ১৫২৪। কারণ এর সানাদে ত্ববুস ইবনু আবী যব্ইয়ান একজন দুর্বল রাবী।

২১৩৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৩৬


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يَقُولُ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالٰى: مَنْ شَغَلَهُ الْقُرْاٰنُ عَنْ ذِكْرِىْ وَمَسْأَلَتِىْ أَعْطَيْتُه أَفْضَلَ مَا أُعْطِى السَّائِلِينَ. وَفَضْلُ كَلَامِ اللّٰهِ عَلٰى سَائِرِ الْكَلَامِ كَفَضْلِ اللّٰهِ عَلٰى خَلْقِه». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَالْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যাকে আমার জিকির ও আমার কাছে কিছু চাওয়া হতে কুরআন বিরত রেখেছে, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়ে বেশি দান করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কেননা আল্লাহর কালামের শ্রেষ্ঠত্ব অন্য সব কালামের উপর; যেমন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর সৃষ্টির উপর। (তিরমিযী, দারিমী ও বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমানে। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান ও গরীব।)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৯২৬, য‘ঈফাহ্ ১৩৩৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৬০, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬৪৩৫, দারিমী ৩৩৯৯, শু‘আবূল ঈমান ১৮৬০। কারণ এর সানাদে ‘আত্বিয়্যাহ্ আল আওফী একজন দুর্বল রাবী এবং মুহাম্মাদ ইবনু হাসান ইবনু আবী ইয়াযীদ মিথ্যার অপবাদপ্রাপ্ত রাবী। ইবনু মা‘ঈন (রহঃ) তাকে অবিশ্বস্ত বলে অবহিত করেছেন।

২১৩৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৩৭


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللّٰهِ فَلَه بِه حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ: اَلٓمٓ حَرْفٌ. أَلْفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيْبٌ إِسْنَادًا

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের কোন একটি অক্ষরও পাঠ করবে, সে নেকী পাবে। আর নেকী হচ্ছে ‘আমালের দশ গুণ। আমি বলছি না যে, الٓمٓ)) ‘আলিফ লাম মীম’ একটি অক্ষর। বরং ‘আলিফ’ একটি অক্ষর, ‘লাম’ একটি অক্ষর ও ‘মীম’ একটি অক্ষর। (তাই আলিফ, লাম ও মীম বললেই ত্রিশটি নেকী পাবে)। (তিরমিযী, দারিমী। আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। কিন্তু সানাদের দিক দিয়ে গরীব।)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ২৯১০, সহীহাহ্ ৩৩২৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৪১৬, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৬৯, দারিমী ৩৩১১।

২১৩৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৩৮


وَعَنِ الْحَارِثِ الْأَعْوَرِ قَالَ: مَرَرْتُ فِى الْمَسْجِدِ فَإِذَا النَّاسُ يَخُوضُونَ فِى الْأَحَادِيثِ فَدَخَلْتُ عَلٰى عَلِىِّ فَأَخْبَرْتُه قَالَ: أَوَقَدْ فَعَلُوهَا؟ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ: أما إِنِّىْ قَدْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُول: «أَلا إِنَّهَا سَتَكُوْنُ فِتْنَةٌ». قُلتُ : مَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ قَالَ: «كِتَابُ اللهِ فِيْهِ نَبَأُ مَا كَانَ قَبْلَكُمْ وَخَبْرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنكُمْ وَهُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ مَنْ تَرَكَه مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللّٰهُ وَمَنِ ابْتَغَى الْهُدٰى فِىْ غَيْرِه أَضَلَّهُ اللّٰهُ وَهُوَ حَبْلُ اللّٰهِ الْمَتِينُ وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ الَّذِىْ لَا تَزِيغُ بِهِ الْأَهْوَاءُ وَلَا تَلْتَبِسُ بِهِ الْأَلْسِنَةُ وَلَا يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلَا يَخْلِقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلَا يَنْقَضِىْ عَجَائِبُه هُوَ الَّذِىْ لَمْ تَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ حَتّٰى قَالُوا (إِنَّا سَمِعْنَا قُرْاٰنًا عَجَبًا يَهْدِىْ إِلَى الرُّشْدِ فَاٰمَنا بِه). مَنْ قَالَ بِه صَدَقَ وَمَنْ عَمِلَ بِه أُجِرَ وَمَنْ حَكَمَ بِه عَدَلَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِىَ إِلٰى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُه مَجْهُولٌ وَفِى الْحَارِثِ مَقَالٌ

হারিস আ‘ওয়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বলেন, আমি (একদিন কূফার) মাসজিদে বসা লোকজনের কাছে গেলাম। দেখলাম, লোকেরা আজে-বাজে কথায় ব্যস্ত। এরপর আমি ‘আলী (রাঃ) এর কাছে গিয়ে এ খবর বললাম। তিনি বললেন, তারা এমন করছে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, (তবে) শুনো, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সাবধান! শীঘ্রই পৃথিবীতে কলহ-ফাসাদ আরম্ভ হবে। আমি [‘আলী] বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ থেকে বাঁচার উপায় কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কিতাব, এতে তোমাদের আগের ও পরের খবর রয়েছে। তোমাদের ভিতরে বিতর্কের মীমাংসার পদ্ধতিও রয়েছে। সত্য মিথ্যার পার্থক্যও আছে। এটা কোন অর্থহীন কিতাব নয়। যে অহংকারী ব্যক্তি এ কুরআন ত্যাগ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি এর বাইরে হিদায়াত সন্ধান করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এ কুরআন হলো আল্লাহর মজবুত রশি। জিকির ও সত্য সরল পথ।

কুরআন অবলম্বন করে কোন প্রবৃত্তি বিপথগামী হয় না। এর দ্বারা যবানের কষ্ট হয় না। এর দ্বারা প্রজ্ঞাবানগণ বিতৃষ্ণ হয় না। এ কুরআন বার বার পাঠ করায় পুরাতন হয় না। এ কুরআনের বিস্ময়কর তথ্য অশেষ। কুরআন শুনে স্থির থাকতে পারেনি জিনেরা। এমনকি তারা এ কুরআন শুনে বলে উঠেছিল, ‘‘শুনেছি আমরা এমন এক বিস্ময়কর কুরআন। যা সন্ধান দেয় সত্য পথের। অতএব ঈমান এনেছি আমরা এর উপর।’’ যে ব্যক্তি কুরআনের কথা সত্য বলে, যে এর উপর ‘আমাল করে, সে পুরস্কার পাবে। যে এর দ্বারা বিচার-ফায়সালা করে, ন্যায়বিচার করে, যে (মানুষকে) এর দিকে ডাকে, সে সত্য সরল পথের দিকেই ডাকে। (তাই এরূপ কুরআন ছেড়ে তারা কেন অন্য আলোচনায় বিভোর হচ্ছে?)। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসের সানাদ মাজহূল [অপরিচিত]। আর হারিস আল আ‘ওয়ার-এর ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে।)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৯০৬, য‘ঈফাহ্ ৬৩৯৩। কারণ এর সানাদে হারিস আল আ‘ওয়ার একজন মাজহূল রাবী।

২১৩৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৩৯


وَعَن معَاذ الْجُهَنِىِّ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: «مَنْ قَرَأَ الْقُرْاٰنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ أُلْبِسَ وَالِدَاهُ تَاجًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْءُه أَحْسَنُ مِنْ ضَوْءِ الشَّمْسِ فِىْ بُيُوتِ الدُّنْيَا لَوْ كَانَتْ فِيكُمْ فَمَا ظَنُّكُمْ بِالَّذِىْ عَمِلَ بِهٰذَا؟». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوُدَ

মু‘আয আল জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং এর মধ্যে তাঁর হুকুম-আহকামের উপর ‘আমাল করে, তার মাতাপিতাকে কিয়ামাতের দিন একটি মুকুট পরানো হবে। এ মুকুটের কিরণ দুনিয়ার সূর্যের কিরণ হতেও উজ্জ্বল হবে, যদি এ সূর্য তোমাদের মধ্যে থাকত (তবে উপলব্ধি করতে পারতে)। যে ব্যক্তি এ কুরআনের উপর ‘আমাল করে তার ব্যাপারে এখন তোমাদের কী ধারণা? (আহমদ, আবূ দাঊদ)[১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৪৫৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৬১, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৮৫, শু‘আবূল ঈমান ১৭৯৭, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৬২। কারণ এর সানাদে যব্বান ইবনু ফায়িদ একজন দুর্বল রাবী।

২১৪০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪০


وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: «لَوْ جُعِلَ الْقُرْاٰنُ فِى اهَابٍ ثُمَّ أُلْقِىَ فِى النَّار مَا احْتَرَقَ». رَوَاهُ الدَّارِمِىُّ

উকবাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরআন কারীমকে যদি চামড়ায় মুড়িয়ে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তাহলে তা পুড়বে না। (দারিমী)[১]

[১] সহীহ : দারিমী ৩৩১০, সহীহাহ্ ৩৫৬২, আহমাদ ১৭৪০৯।

২১৪১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪১


وَعَنْ عَلِىَّ بْنَ أَبِىْ طَالِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: مَنْ قَرَأَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَظْهَرَه فَأَحَلَّ حَلَالَه وَحَرَّمَ حَرَامَه أَدْخَلَهُ اللّٰهُ بِهِ الْجَنَّةَ وَشَفَّعَه فِىْ عَشَرَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِه كُلِّهِمْ قَدْ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيْبٌ وَحَفْصُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّاوِىْ لَيْسَ هُوَ بِالْقَوِىِّ يَضْعُفُ فِى الْحَدِيثِ

আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে ও একে মুখস্থ করে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনে চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তার পরিবারের এমন দশ ব্যক্তির জন্য তার সুপারিশ কবূল করবেন, যাদের প্রত্যেকেরই নিশ্চিত ছিল জাহান্নাম। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর একজন বর্ণনাকারী হাফস ইবনু সুলায়মান হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।)[১]

[১] খুবই দুর্বল : তিরমিযী ২৯০৫, ইবনু মাজাহ ২১৬, আহমাদ ১২৬৮, শু‘আবূল ঈমান ১৭৯৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৬৮, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৬১। কারণ এর সানাদে হাফস্ ইবনু সুলায়মান একজন দুর্বল রাবী এবং কাসীর ইবনু যাযান একজন মাজহূল রাবী।

২১৪২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪২


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ لِأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ: «كَيْفَ تَقْرَأُ فِى الصَّلَاةِ؟» فَقَرَأَ أُمَّ الْقُرْاٰنِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «وَالَّذِىْ نَفْسِىْ بِيَدِه مَا أُنْزِلَتْ فِى التَّوْرَاةِ وَلَا فِى الْإِنْجِيْلِ وَلَا فِى الزَّبُوْرِ وَلَا فِى الْفرْقَانِ مِثْلُهَا وَإِنَّهَا سَبْعٌ مِنَ الْمَثَانِىْ وَالْقُرْاٰنُ الْعَظِيمُ الَّذِىْ أُعْطِيتُه». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَرَوَى الدَّارِمِىُّ مِنْ قَوْلِه: «مَا أُنْزِلَتْ» وَلَمْ يَذْكُرْ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ. وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উবাই ইবনু কা‘বকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি সলাতে কিভাবে কুরআন পড়ো? উত্তরে উবাই ইবনু কা‘ব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা আল ফাতিহাহ্ পড়ে শুনালেন। (তাঁর পড়া শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! এর মতো কোন সূরা তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবূর বা ফুরকান-এ (কুরআনের অন্য কোন সূরাতেও) নাযিল হয়নি। এ সূরা হলো সাব্‘উল মাসানী (পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত) ও মহান কুরআন। এটি আমাকেই দেয়া হয়েছে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ। দারিমী বর্ণনা করেছেন, এর মতো কোন সূরা নাযিল করা হয়নি। তাঁর বর্ণনায় হাদীসের শেষের দিক ও উপরের বর্ণিত উবাই-এর ঘটনা বর্ণিত হয়নি।)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ২৮৭৫, দারিমী ৩৪১৬।

২১৪৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪৩


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «تَعَلَّمُوا الْقُرْاٰنَ فَاقْرَءُوهُ فَإِنَّ مَثَلَ الْقُرْاٰنِ لِمَنْ تَعَلَّمَ وَقَامَ بِه كَمَثَلِ جِرَابٍ مَحْشُوِّ مِسْكًا. تَفُوْحُ رِيحُه كُلَّ مَكَانٍ وَمَثَلُ مَنْ تَعَلَّمَه فَرَقَدَ وَهُوَ فِىْ جَوْفِه كَمَثَلِ جِرَابٍ أُوكِئَ عَلٰى مِسْكٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالنَّسَائِىِّ وَابْنُ مَاجَهْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন শিক্ষা করো ও পড়তে থাকো। যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং কুরআন নিয়ে রাতে সলাতে দাঁড়ায় তার দৃষ্টান্ত মিশক ভর্তি থলির মতো যা চারদিকে সুগন্ধি ছড়ায়। যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে তা পেটে নিয়ে রাতে ঘুমায়, তার দৃষ্টান্ত ওই মিশকপূর্ণ থলির মতো যার মুখ ঢাকনি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৮৭৬, ইবনু মাজাহ ২১৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৬৮, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৪৫২। কারণ এর সানাদে ‘আত্বা একজন মাজহূল রাবী।

২১৪৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪৪


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: مَنْ قَرَأَ ﴿حٰمٓ﴾ الْمُؤْمِنَ إِلٰى (إِلَيْهِ الْمَصِيرُ). وَاٰيَةَ الْكُرْسِىِّ حِينَ يُصْبِحُ حُفِظَ بِهِمَا حَتّٰى يُمْسِىَ. وَمَنْ قَرَأَ بِهِمَا حِينَ يُمْسِىْ حُفِظَ بِهِمَا حَتّٰى يَصْبَحَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّرِامِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে সূরা হা-মীম ‘‘আল মু’মিন..... ইলায়হিল মাসীর’’ পর্যন্ত ও আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাকে এর বারাকাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিফাযাতে রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি তা সন্ধ্যায় পড়বে তাকে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ রাখা হবে- (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৮৭৯, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৬৯, শু‘আবূল ঈমান ২২৪৫। কারণ এর সানাদে ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর আল মুলায়কী স্মৃতিশক্তিগত ত্রুটির কারণে একজন দুর্বল রাবী।

২১৪৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪৫


وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفَىْ عَامٍ أَنْزَلَ مِنْهُ اٰيَتَيْنِ خَتَمَ بِهِمَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَلَا تُقْرَاٰنِ فِىْ دَارٍ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَيَقْرَبَهَا الشَّيْطَانُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيْبٌ

নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার দু’ হাজার বছর আগে আল্লাহ তা‘আলা একটি কিতাব লিখেছেন। এ কিতাব হতে পরবর্তীতে দু’টি আয়াত নাযিল করেছেন যা দ্বারা সূরা আল বাকারাহ্ শেষ করেছেন। কোন ঘরে তা তিন রাত পড়া হবে, অথচ এরপরও এ ঘরের কাছে শয়তান যাবে, এমনটা হতে পারে না। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব।)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ২৮৮২, আহমাদ ১৮৪১৪, দারিমী ৩৪৩০, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৩০৩১, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৬৭।

২১৪৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪৬


وَعَن أبِى الدَّرْدَاء قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَرَأَ ثَلَاثَ اٰيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দিকের তিনটি আয়াত পড়বে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে নিরাপদ রাখা হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।)[১]

[১] শায : আর মাহফূয হলো من حفظ عشر أيات এ শব্দে। তিরমিযী ২৮৮৬, য‘ঈফাহ্ ১৩৩৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৮৩, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৬৫।

২১৪৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪৭


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ لِكُلِّ شَىْءٍ قَلْبًا وَقَلْبُ الْقُرْاٰنِ ﴿يٰسٓ﴾ وَمَنْ قَرَأَ ﴿يٰسٓ﴾ كَتَبَ اللّٰهُ لَه بِقِرَاءَتِهَا قِرَاءَةَ الْقُرْاٰنِ عَشْرَ مَرَّاتٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيْبٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক জিনিসের ‘কলব’ (হৃদয়) আছে। কুরআনের ‘কলব’ হলো, ‘সূরা ইয়াসীন’। যে ব্যক্তি এ সূরা একবার পড়বে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একবার পড়ার কারণে দশবার কুরআন পড়ার সাওয়াব লিখবেন। (তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।)[১]

[১] মাওযূ‘ (জাল) : তিরমিযী ২৮৮৭, দারিমী ৩৪৫৯, য‘ঈফাহ্ ১৬৯, য‘ঈফ আল জামি‘ ১৯৩৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৮৫। কারণ এর সানাদে মুহাম্মাদণ্ডএর পিতা হারূন একজন মিথ্যার অপবাদপ্রাপ্ত রাবী।

২১৪৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪৮


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ تَبَارَكَ وَتَعَالٰى قَرَأَ ﴿طٰهٰ﴾ و ﴿يٰسٓ﴾ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفِ عَامٍ فَلَمَّا سَمِعَتِ الْمَلَائِكَةُ الْقُرْاٰنَ قَالَتْ طُوبٰى لِأُمَّةٍ يَنْزَلُ هٰذَا عَلَيْهَا وَطُوبٰى لِأَجْوَافٍ تَحْمِلُ هٰذَا وَطُوبٰى لِأَلْسِنَةٍ تَتَكَلَّمُ بِهٰذَا». رَوَاهُ الدَّارِمِىُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির এক হাজার বছর পূর্বে সূরা ত্ব-হা- ও সূরা ইয়াসীন পাঠ করলেন। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তা শুনে বললেন, ধন্য সে জাতি যাদের ওপর এ সূরা নাযিল হবে। ধন্য সে পেট যে এ সূরা ধারণ করবে। ধন্য সে মুখ (জিহবা), যে তা উচ্চারণ করবে। (দারিমী)[১]

[১] মুনকার : দারিমী ৩৪৫৭, শু‘আবূল ঈমান ২২২৫, য‘ঈফাহ্ ১২৪৮। কারণ এর সানাদে ইব্রাহীম সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, মুনকারুল হাদীস। আর ইমাম নাসায়ী (রহঃ) বলেছেন, দুর্বল।

২১৪৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৪৯


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَرَأَ ﴿حٰمٓ﴾ الدُّخَانِ فِىْ لَيْلَةٍ أَصْبَحَ يَسْتَغْفِرُ لَه سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ وَعَمْرُ بْنُ أبِىْ خَثْعَمٍ الرَّاوِي يُضَعَّفُ وَقَالَ مُحَمَّدٌ يَعْنِى الْبُخَارِىَّ هُوَ مُنْكَرُ الحَدِيْثِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা ‘হা-মীম’ আদ্ দুখা-ন পড়ে। তার সকাল এভাবে হয় যে সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) আল্লাহর নিকট তার জন্য মাগফিরাত চাইতে থাকেন। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি গরীব। একজন বর্ণনাকারী ‘আমর ইবনু আবূ খাস্‘আম য‘ঈফ। ইমাম বুখারী বলেছেন, ‘আমর একজন মুনকার রাবী।)[১]

[১] মাওযূ‘ (জাল) : তিরমিযী ২৮৮৮, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৭৮, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৬৬। কারণ এর সানাদে ‘উমার ইবনু আবূ খাস্‘আম সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন সে মুনকারুল হাদীস।

২১৫০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫০


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَرَأَ ﴿حٰمٓ﴾ الدُّخَانِ فِىْ لَيْلَةِ الْجُمْعَةِ غُفِرَ لَه». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَهِشَام أَبُو الْمِقْدَام الرَّاوِىْ يُضَعَّفُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা ‘হা-মীম আদ্ দুখা-ন’ পড়বে তাকে মাফ করে দেয়া হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর রাবী আবূল মিকদাম হিশাম কে দুর্বল বলা হয়েছে।)[১]

[১] খুবই দুর্বল : তিরমিযী ২৮৮৯, য‘ঈফাহ্ ৪৬৩২, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৬৭। কারণ এর সানাদে হিশাম আবিল মিকদাম একজন মাতরূক রাবী এবং হাসান আল বাসরী (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে শ্রবণ করেননি। ফলে সানাদে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। যেমনটি ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীস বর্ণনা শেষে বলেছেন।

২১৫১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫১


وَعَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ يَقْرَأُ الْمُسَبِّحَاتِ قَبْلَ أَنْ يَرْقُدَ يَقُولُ: «إِنَّ فِيهِنَّ اٰيَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ اٰيَةٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ

‘ইরবায্ ইবনু সারিয়াহ্ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়নের আগে ‘মুসাব্বিহাত’ পাঠ করতেন। তিনি বলতেন, ঐ আয়াতসমূহের মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা হাজারটি আয়াতের চেয়েও উত্তম। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৫০৫৭, তিরমিযী ২৬২১, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৪৪, আহমাদ ১৭১৬০। কারণ এর সানাদে ইবনু আবী বিলাল একজন মাজহূল রাবী।

২১৫২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫২


وَرَوَاهُ الدَّارِمِىُّ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ مُرْسَلًا وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

দারিমী মুরসাল থেকে বর্ণিতঃ

হাদীস হিসেবে খালিদ ইবনু মা‘দান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[১]

[১] হাসান : দারিমী ৩৪২৪।

২১৫৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫৩


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ سُورَةً فِى الْقُرْاٰنِ ثَلَاثُونَ اٰيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتّٰى غُفِرَ لَه وَهِىَ: ﴿تَبَارَكَ الَّذِىْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ﴾ رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনে ত্রিশ আয়াতের একটি সূরা আছে, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে। ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। সে সূরাটি হচ্ছে, ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক’। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]

[১] হাসান লিগায়রিহী : আবূ দাঊদ ১৪০০, তিরমিযী ২৮৯১, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৬, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৭৫, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৭৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৮৭, শু‘আবূল ঈমান ২৫০৬।

২১৫৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫৪


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: ضَرَبَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِىِّ ﷺ خِبَاءَه عَلٰى قَبْرٍ وَهُوَ لَا يَحْسَبُ أَنَّه قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَان يَقْرَأُ سُوْرَةَ ﴿تَبَارَكَ الَّذِىْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ﴾ حَتّٰى خَتَمَهَا فَأَتَى النَّبِىَّ ﷺ فَأَخْبَرَه فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «هِيَ الْمَانِعَةُ هِيَ الْمُنْجِيَةُ تُنْجِيهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْر». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবী না জেনে কোন একটি কবরের উপর তাঁবু খাটালেন। তিনি হঠাৎ দেখেন, এ কবরে এক ব্যক্তি সূরা ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক’ পড়ছে এমনকি তা শেষ করে ফেলেছে। এরপর ওই সাহাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে এ খবর জানালেন। তিনি বললেন, এটা হচ্ছে (‘আযাব হতে) বাধাদানকারী এবং মুক্তিদানকারী। যা পাঠককে আল্লাহ তা‘আলার ‘আযাব থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৮৯০, মু‘জামুল কারীব লিত্ব ত্ববারানী ১২৮০১, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৮৮৭, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬১০১, শু‘আবূল ঈমান ২২৮০। কারণ এর সানাদে ইয়াহ্ইয়া ইবনু ‘আমর ইবনু মালিক একজন দুর্বল রাবী ।

২১৫৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫৫


وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ لَا يَنَامُ حَتّٰى يَقْرَأَ: ﴿الٓمٓ تَنْزِيْلُ﴾ وَ ﴿تَبَارَكَ الَّذِىْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ﴾ رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ. وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ. وَكَذَا فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ. وَفِى الْمَصَابِيْحِ : غَرِيْبٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোবার পর) যে পর্যন্ত সূরা ‘আলিফ লা-ল মীম্ তানযীল’ ও সূরা ‘তাবা-রকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক’ পড়ে শেষ না করতেন ঘুমাতেন না। (আহমদ, তিরমিযী ও দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। ‘শারহুস্ সুন্নাহ্’য় এরূপ রয়েছে, মাসাবীহ এ হাদীসকে গরীব বলেছেন।)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ২৮৯২, আহমাদ ১৪৬৫৯, দারিমী ৩৪১১, মু‘জামুল আওসাত ১৪৮৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৩৫৪৫, শু‘আবূল ঈমান ২২২৮, সহীহাহ্ ৫৮৫, সহীহ আল জামি‘ ৪৮৭৩। তবে আহমাদণ্ডএর সানাদটি দুর্বল।

২১৫৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫৬


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمْ قَالَا: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: ﴿إِذَا زُلْزِلَتِ﴾ تَعْدِلُ نِصْفَ الْقُرْاٰنِ، وَ ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾. تَعْدِلُ ثُلُثُ الْقُرْاٰنِ، وَ ﴿قُلْ يٰاَ أَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ﴾. تَعْدِلُ رُبْعَ الْقُرْاٰنِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

দু’জনেই বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (সাওয়াবের দিক দিয়ে) সূরা ‘ইযা- যুলযিলাত’ কুরআনের অর্ধেকের সমান, ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ (কুরআনের) এক-তৃতীয়াংশের সমান, ‘কুল ইয়া- আইয়ুহাল কা-ফিরূন’ এক-চতুর্থাংশের সমান। (তিরমিযী)[১]

[১] য‘ঈফ : তবে ‘‘সূরা আল ইখলাস ও সূরা আল কাফিরূন’’-এর ফাযীলাত ব্যতীত। তিরমিযী ২৮৯৪, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৭৮, শু‘আবূল ঈমান ২২৮৪, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৩১, য‘ঈফাহ্ ১৩৪২। কারণ এর সানাদে ইয়ামান ইবনু আল মুগীরাহ্ একজন দুর্বল রাবী।

২১৫৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫৭


وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: «مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: أَعُوذُ بِاللّٰهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ فَقَرَأَ ثَلَاثَ اٰيَاتٍ مِنْ اٰخِرِ سُورَةِ ﴿الْحَشْرِ﴾. وَكَّلَ اللّٰهُ بِه سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتّٰى يُمْسِىَ وَإِنْ مَاتَ فِىْ ذٰلِكَ الْيَوْمِ مَاتَ شَهِيْدًا. وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِىْ كَانَ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ. وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে (ঘুম থেকে) উঠে তিনবার বলবে, ‘‘আ‘ঊযু বিল্লা-হিস সামী‘ইল ‘আলীমি মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম’’ এবং এরপর সূরা হাশর-এর শেষের তিন আয়াত পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) নিযুক্ত করবেন। এরা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু‘আ করতে থাকবেন। যদি এ দিন সে মারা যায়, তার হবে শাহীদের মৃত্যু। যে ব্যক্তি এ দু‘আ সন্ধ্যার সময় পড়বে, সেও এ একই মর্যাদা পাবে। (তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব।)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৯২২, আহমাদ ২০৩০৬, দারিমী ৩৪৬৮, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৩৭, শু‘আবূল ঈমান ২২৭২, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৭৯, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৩২। কারণ এর সানাদে খালিদ ইবনু ত্বহমান একজন দুর্বল রাবী।

২১৫৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫৮


وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: «مَنْ قَرَأَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَتَىْ مَرَّةٍ (﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾ مُحِىَ عَنْهُ ذُنُوبُ خَمْسِينَ سَنَةً إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَلَيْهِ دَيْنٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَفِىْ رِوَايَتِه «خَمْسِينَ مَرَّةٍ» وَلَمْ يَذْكُرْ «إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَلَيْهِ دِيْنٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন দু’শ বার সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়বে তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে। যদি তার ওপর কোন ঋণের বোঝা না থাকে। (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু দারিমীর বর্ণনায় [দু’শ বারের জায়গায়] পঞ্চাশ বারের কথা উল্লেখ হয়েছে। তিনি ঋণের কথা উল্লেখ করেননি।)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৮৯৮, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৭৫, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৮৩, য‘ঈফাহ্ ৩০০, দারিমী,৩৪৪১ য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৭৫। কারণ এর সানাদে রাবী হাতিম ইবনু মায়মূন মুনকারুল হাদীস। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, সে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।

২১৫৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৫৯


وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ: «مِنْ أَرَادَ أَنْ يَنَامَ عَلٰى فِرَاشِه فَنَامَ عَلٰى يَمِينِه ثُمَّ قَرَأَ مِائَةَ مَرَّةٍ ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾ إِذا كَانَ يَوْم الْقِيَامَةِ يَقُولُ لَهُ الرَّبُّ: يَا عَبْدِىْ اُدْخُلْ عَلٰى يَمِينِكَ الْجَنَّةَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘুমাবার জন্য বিছানায় যাবে এবং ডান পাশের উপর শোয়ার পর একশ’ বার সূরা ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়বে, কিয়ামাতের দিন প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, হে আমার বান্দা! তুমি তোমার ডান দিকের জান্নাতে প্রবেশ করো। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান তবে গরীব।)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ২৮২৯৮, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৪৮, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৩৮৯। কারণ এর সানাদে রাবী হাতিম ইবনু মায়মূন মুনকারুল হাদীস ।

২১৬০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৬০


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ سَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ ﴿قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ﴾ فَقَالَ: «وَجَبَتْ» قُلْتُ: وَمَا وَجَبَتْ؟ قَالَ: «الْجَنَّةَ». رَوَاهُ مَالِكٌ وَالتِّرْمِذِىُّ وَالنَّسَائِىُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়তে শুনে বললেন, সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। আমি শুনে বললাম, কি সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে (হে আল্লাহর রসূল) উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘জান্নাত’। (মালিক, তিরমিযী ও নাসায়ী)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ২৮৯৭, নাসায়ী ৯৯৪, আহমাদ ১০৯১৯, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৭৯।

২১৬১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৬১


وَعَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ: أَنَّه قَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ عَلِّمْنِىْ شَيْئًا أَقُولُه إِذَا أَوَيْتُ إِلٰى فِرَاشِىْ. فَقَالَ: «اقْرَأْ ﴿قُلْ يٰاَ أَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ﴾ فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنَ الشِّرْكِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِىُّ

ফারওয়াহ্ ইবনু নাওফাল (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তার পিতা নাওফাল হতে বর্ণনা করেছেন, একদিন নাওফাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এমন একটি বিষয় আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি ঘুমাতে গিয়ে পড়তে পারি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা ‘‘কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’’ পড়ো। কেননা এ সূরা শির্ক হতে পবিত্র। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, দারিমী)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫০৫৫, তিরমিযী ৩৪০৩, সহীহ ইবনু হিববান ৫৫২৬, সহীহ আত্ তারগীব ৬০৫, সহীহ আল জামি‘ ১১৬১।

২১৬২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৬২


وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: بَيْنَا أَنَا أَسِيْرُ مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ بَيْنَ الْجُحْفَةِ وَالْأَبْوَاءِ إِذْ غَشِيَتْنَا رِيحٌ وَظُلْمَةٌ شَدِيدَةٌ فَجَعَلَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يُعَوِّذُ ب ﴿أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾ وَ ﴿أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ﴾ وَيَقُولُ: «يَا عُقْبَةُ تَعَوَّذْ بِهِمَا فَمَا تَعَوَّذَ مُتَعَوِّذٌ بِمِثْلِهِمَا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

উকবাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জুহফাহ্ ও আব্ওয়া (নামক স্থানের) মধ্যবর্তী জায়গায় চলছিলাম। এ সময় প্রবল ঝড় ও ঘোর অন্ধকার আমাদেরকে ঘিরে ফেলল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক’’ ও সূরা ‘‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্‌না-স’’ পড়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে ‘উকবাহ্! এ দু’টি সূরা দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় চাও। কারণ এ দু’ সূরার মতো অন্য কোন সূরা দিয়ে কোন প্রার্থনাকারীই আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেনি। (আবূ দাঊদ)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৬৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪০৫০, শু‘আবূল ঈমান ২৩২৮, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৮৫।

২১৬৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৬৩


وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ خُبِيْبٍ قَالَ: خَرَجْنَا فِىْ لَيْلَةِ مَطَرٍ وَظُلْمَةٍ شَدِيدَةٍ نَطْلُبُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ فَأَدْرَكْنَاهُ فَقَالَ: «قُلْ». قُلْتُ مَا أَقُولُ؟ قَالَ: « ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُصْبِحُ وَحِينَ تُمْسِىْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِىُّ

‘আবদুল্লাহ ইবনু খুবায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা একবার ঝড়-বৃষ্টি ও ঘনঘোর অন্ধকারময় রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খোঁজে বের হলাম এবং তাঁকে খুঁজে পেলাম। (তিনি আমাদেরকে দেখে) তখন বললেন, পড়ো! আমি বললাম, কি পড়বো (হে আল্লাহর রসূল!)? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ, ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক ও ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্‌না-স পড়বে। এ সূরাহগুলো সকল বিপদাপদের মুকাবিলায় তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[১]

[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ৫০৮২, তিরমিযী ৩৫৭৫, নাসায়ী ৫৪২৮, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৪৫, সহীহ আত্ তারগীব ৬৪৯, সহীহ আল জামি‘ ৪৪০৬।

২১৬৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা

হাদীস নং : ২১৬৪


وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ أَقْرَأُ سُورَةَ (هُودٍ) أَوْ سُورَةَ (يُوسُفَ)؟ قَالَ: لَنْ تَقْرَأَ شَيْئًا أَبْلَغَ عِنْدَ اللّٰهِ مِنْ ﴿قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾ رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيّ والدَّارِمِىُّ

উকবাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! (বিপদাপদে পড়লে) আমি কি ‘সূরা হূদ’ পড়ব, না ‘সূরা ইউসুফ’? তিনি উত্তরে বললেন, এ ক্ষেত্রে তুমি আল্লাহর কাছে ক্বুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক-এর চেয়ে উত্তম কোন সূরা পড়তে পারবে না। (আহমাদ, নাসায়ী ও দারিমী)[১]

[১] সহীহ : নাসায়ী ৯৫৩, আহমাদ ১৭৪৫৫, ইবনু হিববান ৭৯৫, সহীহ আল জামি‘ ৫২১৭, সহীহাহ্ ৩৪৯৯।