All books

মিশকাতুল মাসাবিহ (০ টি হাদীস)

পর্ব-৫ঃ জানাযা ১৫২৩-১৭৭১

পরিচ্ছদঃ ১.

প্রথম অনুচ্ছেদ


অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সলাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য ক্ববরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সলাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সলাত ও অন্যান্য বিষয়।

কারো মতে, জানাযার সলাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মাক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সলাত আদায় হয়নি।

১৫২৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫২৩


عَنْ أَبِىْ مُوسى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَطْعِمُوا الْجَائِعَ وَعُودُوا الْمَرِيْضَ وَفُكُّوْا الْعَانِىْ» . رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্ষুধাতুরকে খাবার দিও, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেও, বন্দী ব্যক্তিকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করো। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৩৭৩, ৫৬৪৯, আবূ দাঊদ ৩১০৫, আহমাদ ১৯৫১, সুনানুল কুবরা লিল নাসায়ী ৮৬১৮, ইবনু হিব্বান ৩৩২৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৭৫।

১৫২৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫২৪


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ: رَدُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيْضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدَعْوَةِ وَتَشْمِيْتُ الْعَاطِسِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক মুসলিমের ওপর আর এক মুসলিমের পাঁচটি হাক্ব বর্তায়। (১) সালামের জবাব দেয়া, (২) রোগ হলে দেখতে যাওয়া, (৩) জানাযায় শামিল হওয়া, (৪) দা’ওয়াত গ্রহণ করা ও (৫) হাঁচির জবাব দেয়া। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১২৪০, মুসরিম ২১৬২, আহমাদ ১০৯৬৬, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৯৯৭৮, আমালুল ইওয়ামে ওয়াল লায়লাহ্ ২২১, ইবনু হিব্বান ২৪১, সহীহ আত্ তারগীব ২১৫৬, সহীহ আল জামি‘ ৩১৫০।

১৫২৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫২৫


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ» . قِيلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللّهِ؟ قَالَ: «إِذَا لَقِيتَه فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَه وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللّهَ فَشَمِّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুসলিমের ওপর মুসলিমের ছয়টি হাক্ব (অধিকার) আছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! এ অধিকারগুলো কি কি? জবাবে তিনি বলেন, (১) কোন মুসলিমের সাথে দেখা হলে, সালাম দেবে, (২) তোমাকে কেউ দা’ওয়াত দিলে, তা কবূল করবে, (৩) তোমার কাছে কেউ কল্যাণ কামনা করলে তাকে কল্যাণের পরামর্শ দেবে, (৪) হাঁচি দিলে তার জবাব ইয়ারহামুকাল্ল-হ বলবে, (৫) কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাবে, (৬) কারো মৃত্যু ঘটলে তার জানাযায় শারীক হবে। [১]

[১] সহীহ : মুলিম ২১৬২, আহমাদ ৮৮৪৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০৯০৯, শু‘আবুল ঈমান ৮৭৩৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪০৫, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৯৯১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৯৪, সহীহ আল জামি‘ ৩১৫১।

১৫২৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫২৬


وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: أَمَرَنَا النَّبِيُّ ﷺ بِسَبْعٍ وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ أَمَرَنَا: بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَرَدِّ السَّلَامِ وَإِجَابَةِ الدَّاعِىْ وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ وَنَهَانَا عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ وَعَنِ الْحَرِيرِ والْإِسْتَبْرَقِ وَالدِّيبَاجِ وَالْمِيْثَرَةِ الْحَمْرَاءِ وَالْقَسِّيِّ وَانِيَةِ الْفِضَّةِ وَفِىْ رِوَايَةٍ وَعَنِ الشُّرْبِ فِي الْفِضَّةِ فَإِنَّه مَنْ شَرِبَ فِيهَا فِي الدُّنْيَا لَمْ يَشْرَبْ فِيْهَا فِي الْاخِرَةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সাতটি আদেশ ও সাতটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন- (১) রোগীর খোঁজ-খবর নিতে, (২) জানাযায় শারীক হতে, (৩) হাঁচির আলহামদুলিল্লা-হ’র জবাবে ইয়ারহামুকাল্ল-হ বলতে, (৪) সালামের জবাব দিতে, (৫) দা’ওয়াত দিলে তা কবূল করতে, (৬) কসম করলে তা পূর্ণ করতে, (৭) মাযলূমের সাহায্য করতে। এভাবে তিনি আমাদেরকে (১) সোনার আংটি পরতে, (২) রেশমের পোশাক, (৩) ইস্তিবরাক [মোটা রেশম], (৪) দীবাজ [পাতলা রেশম] পরতে, (৫) লাল নরম গদীতে বসতে, (৬) ক্বাস্সী ও (৭) রূপার পাত্র ব্যবহার করতে। কোন কোন বর্ণনায়, রূপার পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রূপার পাত্রে পান করবে আখিরাতে সে তাতে পান করতে পারবে না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১২৩৯, ২৪৪৫, ৫১৭৫, ৫৬৩৫, ৫৬৫০, ৫৮৪৯, ৬২২২, মুসলিম ২০৬৬, আত্ তিরযিমী ২৮০৯, নাসায়ী ১৯৩৯, ৫৩০৯, আহমাদ ১৮৫০৪, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৯২৪, সুনানুল কুবরা লিল নাসায়ী ২০৭৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৮৪৬।

১৫২৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫২৭


وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ لَمْ يَزَلْ فِىْ خُرْفَةِ الْجَنَّةِ حَتّى يَرْجِعَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিম তার অসুস্থ কোন মুসলিম ভাইকে দেখার জন্য চলতে থাকে, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে ৷ [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫৬৮, আত্ তিরমিযী ৯৬৭, আহমাদ ২২৪৪৪, ইবনু হিব্বান ২৯৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৭৫, সহীহ আল জামি‘ ১৯৪৮।

১৫২৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫২৮


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُوْلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: يَا ابْنَ ادَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِىْ قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُوْدُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: أَمَّا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِىْ فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ؟ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَه لَوَجَدْتَنِىْ عِنْدَه؟ يَا ابْنَ ادَمَ اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِىْ قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أُطْعِمُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُ اسْتَطْعَمَكَ عَبْدِىْ فُلَانٌ فَلَمْ تُطْعِمْهُ؟ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَ ذلِكَ عِنْدِىْ؟ يَا ابْنَ ادَمَ اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِىْ قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: اسْتَسْقَاكَ عَبْدِىْ فُلَانٌ فَلَمْ تَسْقِه أَمَا إِنَّك لَوْ سَقَيْتَه لَوَجَدْتَ ذلِكَ عِنْدِىْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, হে বনী আদাম! আমি অসুস্থ ছিলাম। তুমি আমাকে দেখতে আসোনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমাকে কিভাবে দেখতে যাব? তুমি তো বিশ্বজাহানের রব! আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, আমাকে অবশ্যই তার কাছে পেতে। হে আদাম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম। তুমি আমাকে খাবার দাওনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমাকে কিভাবে খাবার দিতাম? তুমি তো বিশ্বজাহানের রব। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানো না, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল? তুমি তাকে খাবার দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, সে সময় যদি তুমি তাকে খাবার দিতে তাহলে তা এখন আমার কাছে পেতে? হে বনী আদাম! আমি তোমার কাছে পিপাসা নিবারণের জন্য পানি চেয়েছিলাম। তুমি পানি দিয়ে তখন আমার পিপাসা নিবারণ করোনি। সে বলবে, হে আমার রব! আমি কিভাবে তোমার পিপাসা নিবারণ করতাম? তুমি তো বিশ্বজাহানের রব। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি তখন তাকে পানি দাওনি। যদি তুমি সে সময় তাকে পানি দিতে, তাহলে তা এখন আমার কাছে পেতে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫৬৯, ইবনু হিব্বান ৯৪৪, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৫১৭, সহীহ আত্ তারগীব ৯৫২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ১৯১৬।

১৫২৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫২৯


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ عَلَى اعْرَابِيٍّ يَعُودُه وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلى مَرِيضٍ يَعُودُه قَالَ: «لَا بَأْسَ طَهُوْرٌ إِنْ شَآءَ اللّهُ» فَقَالَ لَه: «لَا بَأْسَ طَهُوْرٌ إِنْ شَآءَ اللّهُ» . قَالَ: كَلَّا بَلْ حُمّى تَفُوْرُ عَلى شَيْخٍ كَبِيْرٍ تَزِيْرُهُ الْقُبُوْرُ. فَقَالَ: «فَنَعَمْ إِذَنْ» . رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার একজন অসুস্থ বেদুইনকে দেখতে গেলেন। আর কোনো রোগীকে দেখতে গেলে তিনি বলতেন, ‘ভয় নেই, আল্লাহ চান তো তুমি খুব শীঘ্রই ভালো হয়ে যাবে। এ রোগ তোমার পবিত্র হবার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ এ নিয়ম অনুযায়ী তিনি বেদুঈনকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘ভয় নেই, তুমি ভালো হয়ে যাবে। আল্লাহর ইচ্ছায় এটা তোমার পবিত্র হবার কারণ হয়ে যাবে।’ তাঁর কথা শুনে বেদুঈন বলল, কক্ষনো নয়। বরং এটা এমন এক জ্বর, যা একজন বৃদ্ধ লোকের শরীরে ফুঁটছে। এটা তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। তার কথা শুনে এবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আচ্ছা, তুমি যদি তাই বুঝে থাক তবে তোমার জন্য তা-ই হবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৬১৬, ৫৬৫৬, ৫৬৬২, ইবনু হিব্বান ২৯৫৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৭১৮।

১৫৩০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩০


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ إِذَا اشْتَكى مِنَّا إِنْسَانٌ مَسَحَه بِيَمِينِه ثُمَّ قَالَ: «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِىْ لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمًا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের কারো অসুখ হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাত রুগীর গায়ে বুলিয়ে দিয়ে বলতেন, হে মানুষের রব! এ ব্যক্তির রোগ দূর করে দিন৷ তাকে নিরাময় করে দিন৷ নিরাময় করার মালিক আপনিই৷ আপনার নিরাময় ছাড়া আর কোনো নিরাময় নেই৷ এমন নিরাময় যা কোন রোগকে বাকী রাখে না৷ [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৫০, মুসলিম ২১৯১, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৪৯০, আহমাদ ২৪৭৭৬, সুনানুল কুবরা লিল নাসায়ী ৭৪৬৬, ইবনু হিব্বান ২৯৭১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৯০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৩, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৪৮, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ১৩০৩।

১৫৩১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩১


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ إِذَا اشْتَكَى الْإِنْسَانُ الشَّيْءَ مِنْهُ أَوْ كَانَتْ بِه قَرْحَةٌ أَوْ جُرْحٌ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ بِأُصْبُعِه: «بِسْمِ اللّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفى سَقِيْمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন মানুষ তার দেহের কোন অংশে ব্যথা পেলে অথবা কোথাও ফোড়া কিংবা বাঘী উঠলে বা আহত হলে আল্লাহর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ স্থানে তাঁর আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন, “বিসমিল্লা-হি তুরবাতু আরযিনা- বিরীক্বাতি বা’যিনা- লিইউশ্ফা- সাক্বীমুনা- বিইযনি রব্বিনা-” (অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি আমাদের কারো মুখের থুথুর সাথে মিশে আমাদের রোগীকে ভালো করবে, আমাদের মহান রবের নির্দেশে) ৷ [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৪৫, মুসলিম ২১৯৪, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৩৫৬৯, আবূ দাঊদ ৩৮৯৫, ইবনু হিব্বান ২৯৭৩, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৮২৬৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৪, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব।

১৫৩২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩২


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اشْتَكى نَفَثَ عَلى نَفْسِه بِالْمُعَوِّذَاتِ وَمَسَحَ عَنْهُ بِيَدِه فَلَمَّا اشْتَكى وَجَعَهُ الَّذِىْ تُوُفِّيَ فِيهِ كُنْتُ أَنْفِثُ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ الَّتِىْ كَانَ يَنْفِثُ وَأَمْسَحُ بِيَدِ النَّبِيِّ ﷺ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَفِىْ رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَتْ: كَانَ إِذَا مَرِضَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِه نَفَثَ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে (مُعَوِّذَاتِ) ‘‘মু‘আবিবযা-ত’’ অর্থাৎ সূরাহ্ আন্ নাস ও সূরাহ্ আল ফালাক্ব পড়ে নিজের শরীরের উপর ফুঁ দিতেন এবং নিজের হাত দিয়ে শরীর মুছে ফেলতেন। তিনি মৃত্যুজনিত রোগে আক্রান্ত হলে আমি মু‘আবিবযাত পড়ে তাঁর শরীরে ফুঁ দিতাম, যেসব মু‘আবিবযাত পড়ে তিনি নিজে ফুঁ দিতেন। তবে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত দিয়েই তাঁর শরীর মুছে দিতাম। (বুখারী, মুসলিম)[১]

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, তাঁর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তিনি ‘‘মু‘আবিবযাত’’ পড়ে তার গায়ে ফুঁ দিতেন।

[১] সহীহ : বুখারী ৪৪৩৯, মুসলিম ২১৯২, ইবনু হিব্বান ৬৫৯০, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৬৭৩।

১৫৩৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩৩


وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ أَنَّه شَكَا إِلى رَسُولِ اللّهِ ﷺ وَجَعًا يَجِدُه فِي جَسَدِه فَقَالَ لَه رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِىْ يَأْلَمُ مِنْ جَسَدِكَ وَقُلْ: بِسْمِ اللّهِ ثَلَاثًا وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ: أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللّهِ وَقُدْرَتِه مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ». قَالَ: فَفَعَلْتُ فَأَذْهَبَ اللّهُ مَا كَانَ بِىْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

‘উসমান ইবনু আবুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর শরীরে অনুভূত একটি ব্যথার কথা জানালেন। এ কথা শুনে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, যে জায়গায় তুমি ব্যথা অনুভব করো সেখানে তোমার হাত রাখো। তারপর তিনবার ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ আল্লাহর নামে) আর সাতবার বলো, ‘‘আ‘ঊযু বি‘ইযযাতিল্ল-হি ওয়া কুদ্‌রাতিহী মিন্ শার্‌রি মা- আজিদু ওয়াউহা-যির’’ (অর্থাৎ আমি আল্লাহর সম্মান ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমি অনুভব করছি ও আশংকা করছি তাঁর ক্ষতি হতে)।

‘উসমান ইবনু আবুল ‘আস বলেন, আমি তা করলাম। ফলে আমার শরীরে যে ব্যথা-বেদনা ছিল তা আল্লাহ দূর করে দিলেন। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২২০২, আবূ দাঊদ ৩৮৯১, আত্ তিরমিযী ২০৮০, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২২, মুয়াত্ত্বা মালিক ৭৪২, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৩৫৮৩, আহমাদ ১৬২৬৮, ইবনু হিব্বান ২৯৬৫, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১২৭১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৭, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৪৯, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১২৫৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৫৩, সহীহ আল জামি‘ ৩৪৬।

১৫৩৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩৪


وَعَنْ أبىْ سَعِيْدِ الْخُدْرِيّ أَن جِبْرِيْلَ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَشْتَكَيْتَ؟ فَقَالَ: «نَعَمْ» . قَالَ: بِسْمِ اللّهِ أَرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ مِنْ شَرِ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللهِ أَرْقِيْكَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একবার জিবরীল (আঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ! জিবরীল (আঃ) বললেন, আপনাকে কষ্ট দেয় এমন সব বিষয়ে আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ফুঁক দিচ্ছি প্রত্যেক ব্যক্তির অকল্যাণ হতে। অথবা তিনি বলেছেন, প্রত্যেক বিদ্বেষী চোখের অকল্যাণ হতে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ছি। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২১৮৬, আত্ তিরমিযী ৯৭২, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২৩, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১০৭৭৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭০।

১৫৩৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩৫


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ: «أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» وَيَقُولُ: «إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهِمَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي أَكْثَرِ نُسَخِ الْمَصَابِيْحِ: «بِهِمَا» عَلى لَفْظِ التَّثْنِيَةِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে এ ভাষায় দু‘আ করে আল্লাহর হাতে সোপর্দ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে প্রত্যেক শায়ত্বনের (শয়তানের) অনিষ্ট হতে, প্রত্যেক ধ্বংসকারী হিংস্র জন্তু জানোয়ারের ধ্বংস হতে, প্রত্যেক কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ হতে তোমাদেরকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করছি। তিনি আরো বলতেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আঃ) এ কালিমার দ্বারা তাঁর সন্তান ইসমা‘ঈল ও ইসহককে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতেন। বুখারী; মাসাবীহ সংস্করণের অধিকাংশ স্থানে ‘বিহা’ শব্দের জায়গায় بهما (বিহিমা-) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিবচন শব্দে।[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৩৭১, আবূ দাঊদ ৪৭৩৭, আত্ তিরমিযী ২০৬০, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৩৫৭৭, আহমাদ ২১১২, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১০৭৭৮, ইবনু হিব্বান ১০১৩, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪৭৮১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৭, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৪৬।

১৫৩৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩৬


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ يُرِدِ اللّهُ بِه خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ» . رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদগ্রস্ত করেন। (বুখারী)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪৫, মুয়াত্ত্বা মালিক ৭৪০, আহমাদ ৭২৩৫, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৭৪৩৬, ইবনু হিব্বান ২৯০৭, শু‘আবুল ঈমান ৯৩২৩, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪০৫, সহীহ আলুজামি‘ আস্ সগীর ৬৬১০।

১৫৩৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩৭


وَعَن أبىْ هُرَيْرَة وَأبي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «مَا يُصِيْبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللّهُ بهَا مِنْ خَطَايَاهُ». (مُتَّفق عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ও আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুসলিমের ওপর এমন কোন বিপদ আসে না, কোন রোগ, কোন ভাবনা, কোন চিন্তা, কোন দুঃখ-কষ্ট হয় না, এমনকি তার গায়ে একটি কাঁটাও ফুটে না, যার দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহগুলো মাফ না করেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪১, মুসলিম ২৫৭২, আহমাদ ৮০২৭, ইবনু হিব্বান ২৯০৫, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪২১, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৪৯২, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪১৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৮১৮।

১৫৩৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩৮


وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يُوعَكُ فَمَسِسْتُه بِيَدِىْ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «أَجَلْ إِنِّىْ أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ» . قَالَ: فَقُلْتُ: ذلِكَ لِأَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ؟ فَقَالَ: «أَجَلْ» . ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُه أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللّهُ تَعَالى بِه سَيِّئَاتِه كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গেলাম। তিনি সে সময় জ্বরে ভুগছিলেন। আমি আমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার তো বেশ জ্বর। জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তোমাদের দু’জনে যা ভোগ করে আমি তা ভুগছি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, এর কারণ, আপনার জন্য দু’গুণ পুরস্কার রয়েছে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কোন মুসলিমের প্রতি যে কোন কষ্ট পৌঁছে থাক না কেন চাই তা রোগ হোক বা অপর কিছু হোক আল্লাহ তা’আলা তা দ্বারা তার গুনাহসমূহ ঝেড়ে দেন যেভাবে গাছ তার পাতা ঝাড়ে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪৮, ৫৬৬০, ৫৬৬৭, মুসলিম ২৫৭১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮০০, আহমাদ ৩৬১৮, দারিমী ২৮১৩, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৭৪৬১, ইবনু হিব্বান ২৯৩৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৪১৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৩১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৩২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৭০৩।

১৫৩৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৩৯


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا الْوَجَعُ عَلَيْهِ أَشَدُّ مِنْ رَسُولِ اللّهِ ﷺ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বেশী রোগ যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে হয়েছে এমন কাউকে দেখিনি। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪৬, মুসলিম ২৫৭০, ইবনু মাজাহ্ ১৬২২।

১৫৪০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪০


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَاتَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ حَاقِنَتِىْ وَذَاقِنَتِىْ فَلَا أَكْرَه شِدَّةَ الْمَوْتِ لِأَحَدٍ أَبَدًا بَعْدَ النَّبِيَّ ﷺ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বুক ও চিবুকের মাঝে মাথা রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর পর আর কারো মৃত্যু যন্ত্রণাকে আমি খারাপ মনে করি না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৪৪৬, নাসায়ী ১৮৩০, আহমাদ ২৪৩৫৫৪, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১৯৬৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩৮২৭।

১৫৪১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪১


وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ الْخَامَةِ مِنَ الزَّرْعِ تُفَيِّئُهَا الرِّيَاحُ تَصْرَعُهَا مَرَّةً وَتَعْدِلُهَا أُخْرى حَتّى يَأْتِيهِ أَجَلُه وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ الْأَرْزَةِ الْمُجْذِيَةِ الَّتِي لَا يُصِيْبُهَا شَيْءٌ حَتّى يَكُوْنَ انْجِعَافُهَا مَرَّةً وَاحِدَةً». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিনের দৃষ্টান্ত হলো, ক্ষেতের তরতাজা ও কোমল শস্য শাখার মতো, যাকে বাতাস এদিক-ওদিক ঝুঁকিয়ে ফেলে। একবার এদিকে কাত করে। আবার সোজা করে দেয়। এভাবে তার আয়ু শেষ হয়ে যায়। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হলো শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পিপুল গাছের মতো। একেবারে ভূমিতে উপড়ে পড়ার আগে এ গাছে ঝটকা লাগে না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪৪, ৫৬৪৩, মুসলিম ২৮১০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৪৪১২, আহমাদ ১৫৭৬৯, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২২৮৩, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৯৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৮৪১।

১৫৪২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪২


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ الزَّرْعِ لَا تَزَالُ الرِّيْحُ تُمِيْلُه وَلَا يَزَالُ الْمُؤْمِنُ يُصِبْيُهُ الْبَلَاءُ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ شَجَرَةِ الْأَرْزَةِ لَا تَهْتَزُّ حَتّى تَسْتَحْصِدَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিনের দৃষ্টান্ত হলো এক শস্য ক্ষেতের মতো। শস্য ক্ষেতকে যেভাবে বাতাস সবসময় ঝুঁকিয়ে রাখে, ঠিক এভাবে মু’মিনকে বিপদাপদ দোলায়। বালা-মুসীবত ঘিরে থাকে। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হলো, পিপুল গাছের মতো। পিপুল গাছ বাতাসের দোলায় ঝুঁকে না পড়লেও পরিশেষে শিকড়সহ উপড়ে যায় । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪৪, মুসলিম ২৮০৯, আহমাদ ৭১৯২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক্ব ২০৩০৭, আত্ তিরমিযী ২৮৬৬, শু‘আবুল ঈমান ৯৩২১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৩৭, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪০০, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৮৪২।

১৫৪৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪৩


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: دَخَلَ رَسُوْلِ اللّهِ ﷺ عَلَى اُمِّ السَّائِبِ فَقَالَ: «مَالَكِ تُزَفْزِفِينَ؟» . قَالَتِ: الْحُمّى لَا بَارَكَ اللّهُ فِيهَا فَقَالَ: «لَا تَسُبِّي الْحُمّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِىْ ادَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيْدِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু সায়িব (রাঃ) -এর কাছে গেলেন। তাঁকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন? উম্মু সায়িব (রাঃ) বলল, আমার জ্বর বেড়েছে। আল্লাহ এর ভাল না করুন। তার কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, জ্বরকে গালি দিও না। কারণ জ্বর বানী আদামের গুনাহগুলো এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচ দূর করে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬১, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৭১৫, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৩৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৩২১।

১৫৪৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪৪


وَعَنْ أَبِىْ مُوسى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ كُتِبَ لَه بِمِثْلِ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيْمًا صَحِيْحًا» رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষ রোগে অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে তার ‘আমলনামায় তাই লেখা হয়, যা সে সুস্থ অবস্থায় বা বাড়ীতে থাকলে লেখা হত। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৯৯৬, আহমাদ ১৯৬৭৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৪৭, ইরওয়া ৫৬০, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪২০।

১৫৪৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪৫


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الطَّاعُونُ شَهَادَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ত্বা’উন (মহামারী)’র কারণে মৃত্যু মুসলিমদের জন্য শাহাদাতের মর্যাদা। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৮৩০, ৫৭৩২, মুসলিম ১৯১৬, আহমাদ ১৩৩৩৫, সহীহ আত্ তারগীব ১৩৯৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৯৪৭।

১৫৪৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪৬


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ الْمَطْعُونُ وَالْمَبْطُونُ وَالْغَرِيْقُ وَصَاحِبُ الْهَدَمِ وَالشَّهِيْدُ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শাহীদরা পাঁচ প্রকার-(১) মহামারীতে মৃত ব্যক্তি, (২) পেটের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি, (৩) পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, (৪) দেয়াল চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং (৫) আল্লাহর পথে জিহাদ করে মৃত ব্যক্তি। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৮২৯, মুসলিম ১৯১৪, মুয়াত্ত্বা মালিক ১৩৩, আহমাদ ৮৩০৫, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৭৪৮৬, শু‘আবুল ঈমান ৯৪১২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৭৪১।

১৫৪৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪৭


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللّهِ ﷺ عَنِ الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَنِي: «أَنَّه عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللّهُ عَلى مَنْ يَشَاءُ وَأَنَّ اللّهَ جَعَلَه رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِيْنَ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِه صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّه لَا يُصِيْبُه إِلَّا مَا كَتَبَ اللّهُ لَه إِلَّا كَانَ لَه مِثْلُ أَجْرِ شَهِيْدٍ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মহামারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি আমাকে বললেন, এটা এক রকম ‘আযাব। আল্লাহ যার উপর চান এ ‘আযাব পাঠান। কিন্তু মু’মিনদের জন্য তা তিনি রহমাত গণ্য করেছেন। তোমাদের যে কোন লোক মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায় সবরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে, তাছাড়া আর কিছু হবে না, তার জন্য রয়েছে শাহীদের সাওয়াব। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৪৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৪২।

১৫৪৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪৮


وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الطَّاعُوْنُ رِجْزٌ أُرْسِلَ عَلى طَائِفَةٍ مِنْ بَنِىْ إِسْرَائِيْلَ أَوْ عَلى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِه بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدَمُوْا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوْا فِرَارًا مِنْهُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ত্বা’ঊন বা মহামারী হলো এক রকমের ‘আযাব। এ ত্বা’ঊন বানী ইসরাঈলের একটি দলের ওপর নিপতিত হয়েছিল। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের আগে যারা ছিল তাদের ওপর নিপতিত হয়েছিল। তাই তোমরা কোন জায়গায় ত্বা’ঊন-এর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে শুনলে সেখানে যাবে না। আবার তোমরা যেখানে থাকো, মহামারী শুরু হয়ে গেলে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে যেও না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৪৭৩, মুসলিম ২২১৮, ২২১৯, আবূ দাঊদ ৩১০৩, আত্ তিরমিযী ১০৬৫, আহমাদ ২১৭৬৩, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৭৪৮৩, ইবনু হিব্বান ২৯৫২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৫৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৪৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২২৪৮।

১৫৪৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৪৯


وَعَن أَنَسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «قَالَ اللّهُ سُبْحَانَه وَتَعَالى: إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدِىْ بِحَبِيْبَتَيْهِ ثُمَّ صَبَرَ عَوَّضْتُه مِنْهُمَا الْجنَّةَ» يُرِيْدُ عَيْنَيْهِ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ আমি যখন আমার কোন বান্দাকে তার প্রিয় দু’টি জিনিস দিয়ে বিপদ্গ্রস্ত করি, আর সে এর উপর ধৈর্যধারণ করে, আমি তাকে এ দু’টি প্রিয় জিনিসের বিনিময়ে জান্নাত দান করব। প্রিয় দু’টো জিনিস বলতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টো চোখ বুঝিয়েছেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৫৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৫২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪২৬, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৪৮।

পরিচ্ছদঃ ১.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৫৫০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫০


عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا غُدْوَةً إِلَّا صَلّى عَلَيْهِ سَبْعُوْنَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتّى يُصْبِحَ وَكَانَ لَه خَرِيْفٌ فِي الْجَنَّةِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম সকাল বেলায় কোন অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে যায়, তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) দু’আ করতে থাকে। যদি সে তাকে সন্ধ্যায় দেখতে যায়, তার জন্য সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) সকাল পর্যন্ত দু’আ করতে থাকে এবং তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরি হয়। [১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৯৬৯, আবূ দাঊদ ৩০৯৮, ইবনু মাজাহ্ ১৪৪২, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৭৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৭৬৭।

১৫৫১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫১


وَعَنْ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ قَالَ: عَادَنِي النَّبِيُّ ﷺ مِنْ وَجَعٍ كَانَ يُصِيْبُنِىْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ

যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার আমার চোখের অসুখ হলে আমাকে দেখতে আসলেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১০২, আহমাদ ১৭৭৬১।

১৫৫২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫২


وَعَنْ أَنَسٍ: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ وَعَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ مُحْتَسِبًا بُوعِدَ مِنْ جَهَنَّمَ مَسِيْرَةَ سِتِّينَ خَرِيْفًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সাওয়াবের নিয়্যাতে ভাল করে উযূ করার পর তার কোন অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, তাকে জাহান্নাম থেকে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩০৯৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২০২৫, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৫৩৯। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে ফাযল বিন দালহাম আল ওয়াসিত্বী রয়েছে যিনি স্মৃতিশক্তিগত ত্রুটির কারণে একজন দুর্বল রাবী।

১৫৫৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫৩


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا فَيَقُولُ سَبْعَ مَرَّاتٍ: أَسْأَلُ اللّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ إِلَّا شُفِيَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ قَدْ حَضَرَ أَجَلُه». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক মুসলিম তার এক অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে গিয়ে যদি সাতবার বলে, “আস্আলুল্ল-হাল ‘আযীমা রব্বাল ‘আরশিল ‘আযীমি আই ইয়াশ্ফিয়াকা” (অর্থাৎ আমি মহান আল্লাহর দরবারে দু’আ করছি তিনি যেন আপনাকে আরোগ্য দান করেন, যিনি মহান ‘আরশের রব।)। তাহলে তাকে অবশ্যই আরোগ্য দান করা হয় যদি না তার জীবনের শেষ সময় উপস্থিত হয়। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১০৬, আত্ তিরমিযী ২০৮৩, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৯, আহমাদ ২১৩৭, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১০৮২০, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৪৮৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৮০

১৫৫৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫৪


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ: كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْحُمّى وَمِن الْأَوْجَاعِ كُلِّهَا أَنْ يَقُوْلُوْا: «بِسْمِ اللهِ الْكَبِيْرِ أَعُوذُ بِاللّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا يُعْرَفُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَهُوَ يُضَعَّفُ فِي الحَدِيْثِ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে জ্বরসহ অসুখ-বিসুখ হতে পরিত্রাণ পাবার জন্য এভাবে দু’আ করতে শিখিয়েছেন, “মহান আল্লাহর নামে, মহান আল্লাহর কাছে সব রক্তপূর্ণ শিরার অপকার হতে ও জাহান্নামের গরমের ক্ষতি হতে।” [১]

[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ২০৭৫, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২৬, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৫০১, আহমাদ ২৭২৯, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৬০৩, য‘ঈফ আল জামি‘ ৪৫৮৭। এর সানাদে ইব্রাহীম বিন ইসমা‘ঈল একজন দুর্বল রাবী। যদিও ইমাম আহমাদ (রহঃ) তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। কিন্তু জমহূর মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন।

১৫৫৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫৫


وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «مَنِ اشْتَكى مِنْكُمْ شَيْئًا أَوِ اشْتَكَاهُ أَخٌ لَه فَلْيَقُلْ: رَبُّنَا اللّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ كَمَا أَنَّ رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ اغْفِرْ لَنَا حُوْبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِبِيْنَ أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلى هذَا الْوَجَعِ. فَيَبْرَأُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

আবুদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ ব্যথা-বেদনা অনুভব করলে অথবা তার কোন মুসলিম ভাই তার নিকট ব্যথা-বেদনার কথা বললে, সে যেন দু’আ করে, “আমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানে আছেন। হে রব! তোমার নাম পূতঃ-পবিত্র। তোমার নির্দেশ আকাশ ও পৃথিবী উভয় স্থানেই প্রযোজ্য। আকাশে যেভাবে তোমার অগণিত রহমাত আছে, ঠিক সেভাবে তুমি পৃথিবীতেও তোমার অগণিত রহমাত ছাড়িয়ে দাও। তুমি আমাদের ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত অপরাধগুলো ক্ষমা করে দাও। তুমি পূতঃ-পবিত্র লোকদের রব। তুমি তোমার রহমাতগুলো হতে বিশেষ রহমাত ও তোমার শেফাসমূহ হতে বিশেষ শেফা এ ব্যথা-বেদনার নিরাময় পাঠিয়ে দাও।” এ দু’আ তার সকল ব্যথা-বেদনা দূর করে দেবে। [১]

[১] খুবই দুর্বল : আবূ দাঊদ ৩৮৯২, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২০১০, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৪২২। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর সানাদে যিয়াদ বিন মুহাম্মাদ রয়েছে যাকে ইমাম বুখারী (রহঃ) মুনকারুল হাদীস বলেছেন।

১৫৫৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫৬


وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا جَاءَ الرَّجُلُ يَعُوْدُ مَرِيْضًا فَلْيَقُلْ اللّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ يَنْكَأُ لَكَ عَدُوًّا أَوْ يَمْشِىْ لَكَ إِلى جَنَازَةٍ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় তখন সে যেন বলে, “আল্ল-হুম্মাশফি ‘আবদাকা ইয়ান্কাউ লাকা ‘আদ্যুওয়ান আও ইয়াম্শী লাকা ইলা-জানা-যাহ্” (অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার বান্দাকে সুস্থ করে দাও। সে যাতে তোমার জন্য শত্রুকে আঘাত করতে পারে। অথবা তোমার সন্তষ্টির জন্য জানাযায় অংশ নিতে পারে।) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১০৭, আহমাদ ৬৬০০, ইবনু হিব্বান ২৯৭৪, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১২৭৩, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১৩০৪, সহীহ আল জামি‘ ৪৬৬। তবে আহমাদের সানাদটি দুর্বল কারণ তাতে ইবনুল লাহ্ইয়া রয়েছে।

১৫৫৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫৭


عَن عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أُمَيَّةَ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَة عَن قَوْلِ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالى: ﴿إِن تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ الله﴾ [البقرة 2 : 284].وَعَنْ قَوْلِه: ﴿مَنْ يَّعْمَلْ سُوْءًا يُجْزَ بِه﴾ [النساء 4 : 123]، فَقَالَتْ: مَا سَأَلَنِىْ عَنْهَا أَحَدٌ مُنْذُ سَأَلَتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ فَقَالَ: «هذِه مُعَاتَبَةُ اللهِ الْعَبْدَ فِيْمَا يُصِيْبُه مِنَ الْحُمّى وَالنَّكْبَةِ حَتَّى الْبِضَاعَةِ يَضَعُهَا فِي يَدِ قَمِيْصِه فَيَفْقِدُهَا فَيَفْزَعُ لَهَا حَتّى إِنَّ الْعَبْدَ لَيَخْرُجُ مِنْ ذُنُوْبِه كَمَا يَخْرُجُ التِبْرُ الْأَحْمَرُ مِنَ الْكِيْرِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

‘উমাইয়্যাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (‘উমাইয়্যাহ) একদিন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে “তোমাদের অন্তরে যা আছে তোমরা যদি তা প্রকাশ করো অথবা গোপন করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে তোমারদের হিসাব নিবেন”-(সূরাহ আল বাকারাহ ২:২৮৪) এবং “যে অন্যায় কাজ করবে সে তার শাস্তি ভোগ করবে”-(সূরাহ আন নিসা ৪:১২৩)- এ দু’টি আয়াতের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন।
উত্তরে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করে জেনে নেবার পর এ পর্যন্ত কেউ আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এ দু’টি আয়াতে যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে, তা হল দুনিয়ায় বান্দার যে জ্বর ও দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদি হয়, তা দিয়ে আল্লাহ যে শাস্তি দেন তাই, এমনকি বান্দা জামার পকেটে কে সম্পদ রাখে, তারপর হারিয়ে ফেলে তার জন্য অস্থির হয়ে যায়-এটাও এ শাস্তির মধ্যে গণ্য। অবশেষে বান্দা তার গুনাহগুলো হতে পবিত্র হয়ে বের হয়। যেভাবে সোনাকে হাপরের আগুনে পরিস্কার করে বের করা হয়।
[১]

[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ২৯৯১, আহমাদ ২৫৮৩৫, শু‘আবুল ঈমান ৯৩৫২, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬০৮৬। কারণ এর সানাদে ‘আলী বিন যায়দ বিন যায়দান রয়েছে যিনি একজন দুর্বল রাবী এবং ‘উমাইয়্যাহ্ যে তার পিতার স্ত্রী একজন মাজহূল রাবী।

১৫৫৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫৮


وَعَنْ أَبِي مُوسى أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «لَا يُصِيْبُ عَبْدًا نَكْبَةٌ فَمَا فَوْقَهَا أَوْ دُونَهَا إِلَّا بِذَنَبٍ وَمَا يَعْفُو اللّهُ عَنْهُ أَكْثَرُ وَقَرَأَ: ﴿وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُّصِيْبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيْكُمْ وَيَعْفُوْ عَنْ كَثِيْر﴾ [الشورى 42 : 30]. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বড় হোক কিংবা ছোট হোক, বান্দা যেসব দুঃখ-কষ্ট পায়, নিশ্চয়ই তা তার অপরাধের কারণে। তবে আল্লাহ্‌ যা ক্ষমা করে দেন তা এর চেয়েও অনেক বেশী। এ কথার সমর্থনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন-অর্থাৎ “তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ নিপতিত হয়, তা তোমাদের কর্মফলের কারণে। আর আল্লাহ্‌ ক্ষমা করে দেন অনেক অনেক বেশি”-(সূরাহ আশ শূরা ৪২:৩০)। [১]

[১] য‘ঈফুল ইসনাদ : আত্ তিরমিযী ৩২৫২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৭৩২। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে ‘উবায়দুল্লাহ্ বিন আল ওয়াযি‘ এবং তার উস্তায শায়খ দু’জনই মাজহূল রাবী। তবে আল জামি‘তে তিনি হাদীসটিকে সম্ভবতঃ শাহিদ এর কারণে হাসান বলেছেন।

১৫৫৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৫৯


وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِن الْعَبْدَ إِذَا كَانَ عَلى طَرِيْقَةٍ حَسَنَةٍ مِنَ الْعِبَادَةِ ثُمَّ مَرِضَ قِيلَ لِلْمَلَكِ الْمُوَكَّلِ بِه: اكْتُبْ لَه مِثْلَ عَمَلِه إِذَا كَانَ طَلِيْقًا حَتّى أطْلِقَه أَوْ أَكْفِتَه إِلَيَّ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দা যখন ‘ইবাদতের কোন সুন্দর নিয়ম-পদ্ধতি পালন করে চলতে শুরু করে এবং তারপর যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে (‘ইবাদতের ধারা বন্ধ হয়ে যায়), তখন তার ‘আমালনামা লিখার জন্য নিযুক্ত মালাককে (ফেরেশতাকে) বলা হয়, এ বান্দা সুস্থ অবস্থায় যে ‘আমাল করত (অসুস্থ অবস্থাও) তার ‘আমালনামায় তা লিখতে থাকো। যে পর্যন্ত না তাকে মুক্ত করে দিই অথবা তাকে আমার কাছে ডেকে আনি। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ৬৮৯৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৪৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪২৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪২১।

১৫৬০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬০


وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: إِذَا ابْتُلِيَ الْمُسْلِمُ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِه قِيلَ لِلْمَلَكِ: اكْتُبْ لَه صَالِحَ عَمَلِهِ الَّذِىْ كَانَ يَعْمَلُ فَإِنْ شَفَاهُ غَسَّلَه وَطَهَّرَه وَإِنْ قَبَضَه غَفَرَ لَه وَرَحِمَه. رَوَاهُمَا فِي شَرَح ِالسُّنَّةِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিমকে শারীরিক বিপদে ফেলা হলে মালায়িকাহ-কে (ফেরেশতাদেরকে) বলা হয়, এ বান্দা নিয়মিত যে নেক কাজ করত, তা-ই তার ‘আমালনামায় লিখতে থাকো। এরপর তাকে আল্লাহ্‌ আরোগ্য দান করলে গুনাহখাতা হতে ধুয়ে পাকসাফ করে নেন। আর যদি তাকে উঠিয়ে নেন, তাকে মাফ করে দেন এবং তার প্রতি রহমাত দান করেন। [১]

[১] হাসান সহীহ : আহমাদ ১২৫০৪, ইবনু আবী শায়বাহ্ ০৮৩১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৩০, ইরওয়া ২, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪২২।

১৫৬১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬১


وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَتِيْكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللّهِ: الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيْدٌ وَالْمَبْطُوْنُ شَهِيْدٌ وَصَاحِبُ الْحَرِيْقِ شَهِيْدٌ وَالَّذِىْ يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيْدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيْدٌ». رَوَاهُ مَالِك وَأَبُوْ دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

জাবির ইবনু ‘আতীক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে নিহত শাহীদ ছাড়াও সাত ধরনের শাহীদ রয়েছে। এরা হচ্ছে (১) মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি, (২) পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৩) ‘যা-তুল জানব’ রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৪) পেটের রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৫) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি, (৬) কোন প্রাচীর চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং (৭) প্রসবকালে মৃত্যুবরণকারী মহিলা। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১১১, নাসায়ী ১৮৪৬, আহমাদ ২৩৭৫৩, ইবনু হিব্বান ৩১৮৯, সহীহ আত্ তারগীব ১৩৯৮, সহীহ আর-জামি‘ আস্ সগীর ৩৭৩৯।

১৫৬২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬২


وَعَنْ سَعْدٍ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ: أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً؟ قَالَ: «الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ يُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلى حَسَبِ دِينِه فَإِنْ كَانَ صَلْبًا فِىْ دِيْنِهِ اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ وَإِنْ كَانَ فِي دِينِه رِقَّةٌ هُوِّنَ عَلَيْهِ فَمَا زَالَ كَذلِكَ حَتّى يَمْشِيَ على الأَرْض مَالَه ذَنْبٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ

সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর নাবী! কোন সব লোককে বিপদাপদ দিয়ে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, নাবীদেরকে। তারপর তাদের পরে যারা উত্তম তাদেরকে। মানুষকে আপন আপন দ্বীনদারীর অনুপাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। দ্বীনদারীতে যে যত বেশি মজবুত হয় তার বিপদ-মুসীবাত তত বেশি কঠিন হয়। দ্বীনের ব্যাপারে যদি মানুষের দুর্বলতা থাকে, তার বিপদও ছোট ও সহজ হয়। এভাবে তার বিপদ হতে থাকে। এ নিয়েই সে মাটিতে চলাফেরা করতে থাকে। তার কোন গুনাহখাতা থাকে না। [১]

[১] হাসান সহীহ : আত্ তিরমিযী ২৩৯৮, ইবনু মাজাহ্ ৪০২৩, আহমাদ ১৬০৭, দারিমী ২৮২৫, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৭৪৩৯, ইবনু হিব্বান ২৯০১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪০২।

১৫৬৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬৩


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا أَغْبِطُ أَحَدًا بِهَوْنِ مَوْتٍ بَعْدَ الَّذِىْ رَأَيْتُ مِنْ شِدَّةِ مَوْتِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মৃত্যু কষ্ট দেখেছি। তাই এরপর আর সহজভাবে মৃত্যু হতে দেখলে ঈর্ষা করি না। [১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৯৭৯, শামায়িল ৩২৫, নাসায়ী ১৮৩০।

১৫৬৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬৪


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ بِالْمَوْتِ وَعِنْدَه قَدَحٌ فِيهِ مَاءٌ وَهُوَ يُدْخِلُ يَدَه فِي الْقَدَحِ ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَه ثُمَّ يَقُولُ: «اللّهُمَّ أَعِنِّىْ عَلى مُنْكَرَاتِ الْمَوْتِ أَوْ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আমি তাঁর মৃত্যুবরণ করার সময় দেখেছি। তাঁর কাছে একটি পানিভরা বাটি ছিল। এ বাটিতে তিনি বারবার হাত ডুবাতেন। তারপর হাত দিয়ে নিজের চেহারা মুছতেন ও বলতেন, হে আল্লাহ্‌! তুমি আমাকে মৃত্যু যন্ত্রণায় সাহায্য করো। [১]

[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ৯৭৮, মুখতাসার আশ্ শামায়িল ৩২৪, ইবনু মাজাহ্ ১৬২৩। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে মূসা বিন সারজিস রয়েছে যাকে কেউই বিশ্বস্ত হিসেবে উল্লেখ করেননি এবং তার থেকে মাত্র দু’জন ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছে। অতএব, তিনি একজন মাজহূল রাবী।

১৫৬৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬৫


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا أَرَادَ اللّهُ تَعَالى بِعَبْدِهِ الْخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا وَإِذَا أَرَادَ اللّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِه حَتّى يُوَافِيَه بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁর কোন বান্দার কল্যাণ চাইলে আগে-ভাগে দুনিয়াতেই তাকে তার গুনাহখাতার জন্য কিছু শাস্তি দিয়ে দেন। আর কোন বান্দার অকল্যাণ চাইলে দুনিয়ায় তার পাপের শাস্তিদান হতে বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে তার পূর্ণ শাস্তি দিবেন। [১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ২৩৯৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৩৫, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১২২০, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩০৮।

১৫৬৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬৬


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ وَإِنَّ اللّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-বলেছেনঃ বড় বড় বিপদ-মুসীবাতের পরিণাম বড় পুরস্কার। আল্লাহ তা’আলা কোন জাতিকে ভালবাসেন তাদেরকে বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। যারা এতে সন্তুষ্ট ও তৃপ্ত থাকে তাদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে। আর যে জাতি এতে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। [১]

[১] হাসান : আত্ তিরমিযী ২৩৯৬, ইবনু মাজাহ্ ৪০৩১, শু‘আবুল ঈমান ৯৩২৫, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৩৫, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১৪৬, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪০৭।

১৫৬৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬৭


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ أَوِ الْمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِه وَمَالِه وَوَلَدِه حَتّى يَلْقَى اللّهَ تَعَالى وَمَا عَلَيْهِ مِنْ خَطِيْئَةٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَرَوى مَالِكٌ نَحْوَه وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মু’মিন নারী-পুরুষের বিপদ মুসীবাত লেগেই থাকে, এই বিপদ মুসীবাত তার শারীরিক, তার ধন-সম্পদের, তার সন্তান- সন্তুতির ব্যপারে হতে পারে। আল্লাহর সাথে মিলিত হবার আগ পর্যন্তই তা চলতে থাকে। আর আল্লাহর সাথে তার মিলিত হবার পর তার উপর গুনাহের কোন বোঝাই থাকেনা। (তিরমিযী; মালিক (রহঃ) এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।)

১৫৬৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬৮


وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا سَبَقَتْ لَه مِنَ اللّهِ مَنْزِلَةٌ لَمْ يَبْلُغْهَا بِعَمَلِهِ ابْتَلَاهُ اللهُ فِىْ جَسَدِه أَوْفِي مَالِه أَوْ فِي وَلَدِه ثُمَّ صَبَّرَه عَلى ذلِكَ يُبَلِّغُهُ الْمَنْزِلَةَ الَّتِي سَبَقَتْ لَه مِنَ اللهِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوُدَ

মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ আস্ সুলামী থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর দাদা বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর তরফ হতে কোন মানুষের জন্য যখন কোন মর্যাদা নির্ধারিত হয়, যা সে ‘আমাল দিয়ে লাভ করতে পারে না, তখন আল্লাহ তাকে তার শরীরে অথবা তার সন্তান-সন্ততির উপর বিপদ ঘটিয়ে পরীক্ষা করেন। এতে তাকে ধৈর্যধারণ করারও শক্তি দান করেন। যাতে সেরূপ মর্যাদা লাভ করতে পারে, যা আল্লাহর তরফ হতে তার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। [১]

[১] সহীহ লিগায়রিহী : আবূ দাঊদ ৩০৯০, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪০৯।

১৫৬৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৬৯


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شِخِّيْرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مُثِّلَ ابْنُ ادَمَ وَإِلى جَنْبِه تِسْعٌ وَتِسْعُونَ مَنِيَّةً إِنْ أَخْطَأَتْهُ الْمَنَايَا وَقَعَ فِي الْهَرَمِ حَتّى يَمُوتَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আদম সন্তানকে তার চারদিকে নিরানব্বইটি বিপদ পরিবেষ্টিত অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে। যদি এ বিপদগুলোর সবগুলোই তার ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে অন্তত বার্ধক্যজনিত বিপদে পতিত হয়। পরিশেষে মৃত্যুবরণ করে। [১]

[১] হাসান : আত্ তিরমিযী ২৪৫৬, শু‘আবুল ঈমান ১০০৯১, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৮২৫।

১৫৭০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭০


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «يَوَدُّ أَهْلُ الْعَافِيَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِيْنَ يُعْطى أَهْلُ الْبَلَاءِ الثَّوَابَ لَوْ أَنَّ جُلُودَهُمْ كَانَتْ قُرِضَتْ فِي الدُّنْيَا بِالْمَقَارِيْضِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন ভোগ-বিলাসে জীবন-যাপনকারীরা যখন দেখবে বিপদ-মুসীবাতগ্রস্ত লোকদেরকে সওয়াব দেয়া হচ্ছে, তখন তারা আক্ষেপ করবে। বলবে, আহা! তাদের চামড়া যদি দুনিয়াতেই কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা হত! [১]

[১] হাসান : আত্ তিরমিযী ২৪০২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৮১৭৭।

১৫৭১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭১


وَعَن عَامِرِ الرَّامِ قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ الْأَسْقَامَ فَقَالَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَصَابَهُ السَّقَمُ ثُمَّ أَعْفَاهُ الله مِنْهُ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا مَضى مِنْ ذُنُوبِه وَمَوْعِظَةً لَه فِيمَا يَسْتَقْبِلُ. وَإِنَّ الْمُنَافِقَ إِذَا مَرِضَ ثُمَّ أُعْفِيَ كَانَ كَالْبَعِيْرِ عَقَلَه أَهْلُه ثُمَّ أَرْسَلُوهُ فَلَمْ يَدْرِ لِمَ عَقَلُوْهُ وَلَمْ يَدْرِ لِمَ أَرْسَلُوهُ» . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللّهِ وَمَا الْأَسْقَامُ؟ وَاللّهِ مَا مَرِضْتُ قَطُّ فَقَالَ: «قُمْ عَنَّا فَلَسْتَ مِنَّا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

‘আমির আর্ র-ম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন অসুখ-বিসুখ প্রসঙ্গে বললেন, মু’মিনের অসুখ হলে পরিশেষে আল্লাহ তাকে আরোগ্য করেন। এ অসুখ তার জীবনের অতীত গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্। আর ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা। কিন্তু মুনাফিকের অসুখ-বিসুখ হলে তাকেও আরোগ্য দান করা হয়, সেই উটের মতো যাতে মালিক বেঁধে রেখেছিলো তারপর ছেড়ে দিলো। সে বুঝলো না কেন তাকে বেঁধে রেখেছিল। আর কেনইবা ছেড়ে দিলো। এ সময় এক ব্যাক্তি বলে উঠলো, হে আল্লাহর রসূল! অসুখ-বিসুখ আবার কি? আল্লাহর শপথ আমার কোন সময় অসুখ হয়নি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাদের কাছ থেকে সরে যাও। তুমি আমাদের মধ্যে গণ্য নও। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩০৮৯, শু‘আবুল ঈমান ৬৭২৮, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৯৯৯, সহীহ আল জামি‘ ১৭৬৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৪০। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে শামের (সিরিয়ার) অধিবাসী আবুল মানযূর রয়েছে যিনি একজন দুর্বল রাবী।

১৫৭২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭২


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا دَخَلْتُمْ عَلَى الْمَرِيضِ فَنَفِّسُوا لَه فِي أَجَلِه فَإِنَّ ذلِكَ لَا يَرُدُّ شَيْئًا وَيُطَيِّبُ بِنَفْسِه». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কোন রোগীকে দেখতে গেলে, তার জীবনের ব্যাপারে তাকে সান্ত্বনা যোগাবে, এ সান্ত্বনা যদিও তার তাক্বদীর পরিবর্তন করতে পারবে না। কিন্তু তার মন প্রশান্তি লাভ করবে। [১]

[১] খুবই দুর্বল : আত্ তিরমিযী ২০৮৭, ইবনু মাজাহ্ ১৪৩৮, শু‘আবুল ঈমান ৮৭৭৮, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ১৮৪। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে মূসা বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম আত্ তায়মী রয়েছে যিনি মুনকারুল হাদীস হিসেবে আখ্যায়িত।

১৫৭৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭৩


وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صَرَدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ قَتَلَه بَطْنُه لَمْ يُعَذَّبْ فِي قَبْرِه» رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

সুলায়মান ইবনু সুরাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাকে তার ‘পেটের অসুখ’ হত্যা করেছে, তাকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হবে না। [১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ১০৬৪, নাসায়ী ২০৫২, আহমাদ ১৮৩১১, সহীহ আত্ তারগীব ১৪১০, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬৪৬১।

পরিচ্ছদঃ ১.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৫৭৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭৪


عَنْ أنَسٍ قَالَ: كَانَ غُلَامٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبِيَّ ﷺ فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُه فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِه فَقَالَ لَه: «أَسْلِمْ» . فَنَظَرَ إِلى أَبِيْهِ وَهُوَ عِنْدَه فَقَالَ: أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ. فَأَسْلَمَ. فَخَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ يَقُولُ: «الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِىْ أَنْقَذَه مِنَ النَّارِ» . رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী যুবক নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খিদমাত করতেন। তাঁর মৃত্যুশয্যায় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার মাথার পাশে বসে বললেন, হে অমুক! তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। যুবকটি তার পাশে থাকা পিতার দিকে তাকাল। পিতা তাকে বলল, আবুল ক্বাসিমের কথা মেনে নাও। যুবকটি ইসলাম গ্রহণ করলো। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছ থেকে বের হয়ে এসে বললেন, আল্লাহর শুকরিয়া। তিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারীর ১৩৫৬, নাসায়ী ৩০৯৫, আহমাদ ১৩৯৭৭, ইবনু হিব্বান ৪৮৮৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১২১৫৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ৫৭, ইরওয়া ১২৭২।

১৫৭৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭৫


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ عَادَ مَرِيضًا نَادى مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ: طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وَتَبَوَّأْتَ مِنَ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোগীকে দেখার জন্য যায়, আসমান থেকে একজন মালাক (ফেরেশতা) তাকে লক্ষ্য করে বলেন, ধন্য হও তুমি, ধন্য হোক তোমার পথ চলা। জান্নাতে তুমি একটি মনযিল তৈরি করে নিলে। [১]

[১] হাসান : আত্ তিরমিযী ৮৬১১, ইবনু মাজাহ্ ১৪৪৩, আহমাদ ৮৫৩৬, সহীহ আত্ তারগীব ২৫৭৮, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬৩৮৭।

১৫৭৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭৬


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ عَلِيًّا خَرَجَ مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ ﷺ فِي وَجَعِهِ الَّذِىْ تُوُفِّيَ فِيهِ فَقَالَ النَّاسُ: يَا أَبَا الْحَسَنِ كَيْفَ أَصْبَحَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ؟ قَالَ: أَصْبَحَ بِحَمْدِ الله بَارِئًا. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন, সে অসুখের সময় একদিন ‘আলী (রাঃ) তাঁর কাছ থেকে বের হয়ে এলেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আবু হাসান! আজ সকালে আল্লাহর রসূলের অবস্থা কেমন রয়েছে? ‘আলী (রাঃ) বললেন, আলহামদুলিল্লাহ সকাল ভালই যাচ্ছে। [১]

[১] সহীহ : বুখারীর ৪৪৪৭, আহমাদ ২৩৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৬৫৭৪, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ১১৩০।

১৫৭৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭৭


وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِىْ رَبَاحٍ قَالَ: قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِي الله عَنهُ: أَلَا أُرِيْكَ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجنَّةِ؟ فَقُلْتُ: بَلى. قَالَ: هذِهِ الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ أَتَتِ النَّبِيَِّ ﷺ فَقَالَتْ: إِنِّىْ أُصْرِعُ وَإِنِّىْ أَتَكَشَفُ فَادْعُ اللهَ تَعَالى ليْ. قَالَ: «إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللهَ تَعَالَى أَنْ يُعَافِيَكِ» فَقَالَتْ: أَصْبِرُ فَقَالَتْ: إِنِّىْ أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللّهَ أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

‘আত্বা ইবনু আবূ রবাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে একবার বললেন, হে ‘আত্বা! আমি কি তোমাকে একটি জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললাম, জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে এ কালো মহিলাটিকে দেখো। এ মহিলাটি একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত। রোগের ভয়াবহতার ফলে আমি উলঙ্গ হয়ে যাই। আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তার কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি তুমি চাও, সবর করতে পার। তাহলে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। আর তুমি চাইলে, আমি তোমার আরোগ্যের জন্য দু’আ করব। আল্লাহ যেন তোমাকে ভাল করে দেন। জবাবে মহিলাটি বলল, আমি সবর করব। পুনরায় মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উলঙ্গ হয়ে যাই। দু’আ করুন আমি যেন উলঙ্গ হয়ে না পড়ি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জন্য দু’আ করলেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৫২, মুসলিমর ২৫৭৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৪৪৮, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪২৩, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৫০৫, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪১৮।

১৫৭৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭৮


وَعَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا جَاءَهُ الْمَوْتُ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَقَالَ رَجُلٌ: هَنِنْئًا لَه مَاتَ وَلَمْ يُبْتَلَ بِمَرَضٍ فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «وَيْحَكَ وَمَا يُدْرِيكَ لَوْ أَنَّ اللّهَ ابْتَلَاهُ بِمَرَضٍ فَكَفَّرَ عَنهُ مِنْ سَيِّئَاتِه» . رَوَاهُ مَالِكٌ مُرْسَلًا

ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কালে এক ব্যক্তির মৃত্যু হলো। এ সময় আর এক ব্যক্তি মন্তব্য করল, লোকটির ভাগ্য ভাল। মারা গেল কিন্তু কোন রোগে ভুগতে হল না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আহ্! তোমাকে কে বলল, লোকটির ভাগ্য ভাল? যদি আল্লাহ তা’আলা লোকটিকে কোন রোগে ফেলতেন, আর তার গুনাহ মাফ করে দিতেন তাহলেই না সবচেয়ে ভাল হতো! [১]

[১] মুরসাল য‘ঈফ : মুয়াত্ত্বা মালিক ১৭৫৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২০০৫। কারণ হাদীসটি মুরসাল।

১৫৭৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৭৯


وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ وَالصَّنَابِحِيِّ أَنَّهُمَا دَخَلَا عَلى رَجُلٍ مَرِيضٍ يَعُودَانِه فَقَالَا لَه: كَيفَ أَصْبَحْتَ قَالَ أَصْبَحْتُ بِنِعْمَةٍ. فَقَالَ لَه شَدَّادٌ: أَبْشِرْ بِكَفَّارَاتِ السَّيِّئَاتِ وَحَطِّ الْخَطَايَا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «إِنَّ اللّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ إِذَا أَنَا ابْتَلَيْتُ عَبْدًا مِنْ عِبَادِىْ مُؤْمِنًا فَحَمِدَنِىْ عَلى مَا ابْتَلَيْتُه فَإِنَّه يَقُومُ مِنْ مَضْجَعِه ذلِكَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّه مِنَ الْخَطَايَا. وَيَقُولُ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالى: أَنَا قَيَّدْتُ عَبْدِىْ وَابْتَلَيْتُه فَأَجْرُوا لَه مَا كُنْتُمْ تُجْرُونَ لَه وَهُوَ صَحِيْحٌ». رَوَاهُ اَحْمَدُ

শাদ্দাদ ইবন আওস ও সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একবার তাঁরা দু’জন এক রোগীকে দেখতে গেলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ সকালটা তোমার কেমন যাচ্ছে? রোগীটি বলল, আল্লাহর রহ্‌মতে ভালই। তার কথা শুনে শাদ্দাদ বললেন, তোমার গুনাহ ও অপরাধ মাফ হবার শুভ সংবাদ! কারণ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের মধ্যে কোন মু’মিন বান্দাকে রোগাক্রান্ত করি। রোগগ্রস্ত করা সত্ত্বেও যে আমার শুকরিয়া আদায় করবে, সে রোগশয্যা হতে সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো সব গুনাহ হতে পবিত্র হয়ে উঠবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা মালাকগণকে (ফেরেশতাদেরকে) বলেন, আমি আমার বান্দাকে রোগ দিয়ে বন্দী করে রেখেছি। তাই তোমরা তার সুস্থ অবস্থায় তার জন্য যা লিখতে তা-ই লিখো। [১]

[১] হাসান : আহমাদ ১৭১১৮, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২০০৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪২৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৩০০।

১৫৮০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮০


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا كَثُرَتْ ذُنُوبُ الْعَبْدِ وَلَمْ يَكُنْ لَه مَا يُكَفِّرُهَا مِنَ الْعَمَلِ ابْتَلَاهُ اللّهُ بِالْحَزَنِ لِيُكَفِّرَهَا عَنهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দার গুনাহ যখন বেশী হয়ে যায় এবং এসব গুনাহের কাফ্‌ফারার মতো যথেষ্ট নেক ‘আমাল তার না থাকে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে বিপদে ফেলে চিন্তাগ্রস্ত করেন। যাতে এ চিন্তাগ্রস্ততা তার গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্ হয়ে যায়। [১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২৫২৩৬, শু‘আবুল ঈমান ৯৪৫৭, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ২৬৯৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৯৯৪, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬৭৮। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন। এর সানাদে লায়স বিন সুলায়ম রয়েছে যিনি একজন দুর্বল এবং মুখতালাত্ব রাবী।

১৫৮১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮১


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ عَادَ مَرِيْضًا لَمْ يَزَلْ يَخُوضُ الرَّحْمَةَ حَتّى يَجْلِسَ فَإِذَا جَلَسَ اغْتَمَسَ فِيْهَا» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأحْمَدُ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যখন কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখার জন্য রওয়ানা হয় তখন সে আল্লাহর রহ্‌মাতের সাগরে সাঁতার কাটতে থাকে। যে পর্যন্ত রোগীর বাড়ী গিয়ে না পৌঁছে। আর বাড়ী পৌঁছার পর রহ্‌মাতের সাগরে ডুব দেয়। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ১৪২৬০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮৩৪, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২৫০৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৭৭, ইবনু হিব্বান ২৯৫৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৮৩।

১৫৮২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮২


وَعَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «إِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمُ الْحُمّى فَإِنَّ الْحُمّى قِطْعَةٌ مِنَ النَّارِ فَلْيُطْفِئْهَا عَنْهُ بِالْمَاءِ فَلْيَسْتَنْقِعْ فِي نَهْرٍ جَارٍ وَلْيَسْتَقْبِلْ جِرْيَتَه فَيَقُولُ: بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ وَصَدَقَ رَسُوْلُكَ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَقَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلْيَنْغَمِسْ فِيهِ ثَلَاثَ غَمْسَاتٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي ثَلَاثٍ فَخَمْسٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي خَمْسٍ فَسَبْعٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي سَبْعٍ فَتِسْعٍ فَإِنَّهَا لَا تَكَادَ تُجَاوِزُ تِسْعًا بِإِذْنِ اللّهِ عَزَّ وَجَلَّ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কারো জ্বর হলে জ্বর আগুনের অংশ, আগুনকে পানি দিয়ে নিভানো হয়। সে যেন ফাজ্‌রের সলাতের পর সূর্য উঠার আগে প্রবাহিত নদীতে ঝাঁপ দেয় আর ভাটার দিকে এগুতে থাকে। এরপর বলে, হে আল্লাহ! শেফা দান করো তোমার বান্দাকে। সত্যবাদী প্রমাণ করো তোমার রসূলকে। ওই ব্যক্তি যেন নদীতে তিনদিন তিনটি করে ডুব দেয়। এতে যদি তার জ্বর না সারে তবে পাঁচদিন। তাতেও না সারলে, সাতদিন। সাতদিনেও যদি আরোগ্য না হয় তাহলে নয়দিন। আল্লাহর রহমাতে জ্বর-এর অধিক আগে বাড়বে না। [১]

[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ২০৮৪, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ২৩৩৯, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৭৫। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে رَجُلٌ হলো সা‘ঈদ বিন যুর‘আহ্ আল হিমসী। ইমাম আবূ হাতিম এবং যাহাবী (রহঃ) তাকে ‘‘মাজহূল’’ আর হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) ‘‘মাসতুর’’ বলে অবহিত করেছেন।

১৫৮৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮৩


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: ذُكِرَتِ الْحُمّى عِنْدَ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَسَبَّهَا رَجُلٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «لَا تَسُبَّهَا فَإِنَّهَا تَنْفِي الذُّنُوبَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْحَدِيدِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একবার জ্বর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এ সময় এক লোক জ্বরকে গালি দিলো। এ কথা শুনে আল্লাহর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, জ্বরকে গালি দিও না। কারণ জ্বর গুনাহ দূর করে যেভাবে (কামারের) হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়। [১]

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৩৪৬৯, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮১০।

১৫৮৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮৪


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ عَادَ مَرِيْضًا فَقَالَ:«أَبْشِرْ فَإِنَّ اللّهَ تَعَالى يَقُولُ: هِيَ نَارِي أُسَلِّطُهَا عَلى عَبْدِي الْمُؤْمِنِ فِي الدُّنْيَا لِتَكَوُنَ حَظَّه مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ والْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيْمَانِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার এক অসু্স্থ লোককে দেখতে গিয়ে বললেন, সুসংবাদ! আল্লাহ তা’আলা বলেন, তা আমার আগুন। আমি দুনিয়াতে এ আগুনকে আমার মু’মিন বান্দার কাছে পাঠাই। তা’ এজন্যই যাতে এ আগুন ক্বিয়ামাতে তার জাহান্নামের আগুনের পরিপূরক হয়ে যায়। [১]

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৩৪৭০, আত্ তিরমিযী ২০৮৮, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮০২, আহমাদ ৯৬৭৬, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৫৫৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩২।

১৫৮৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮৫


وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «إِنَّ الرَّبَّ سُبْحَانَه وَتَعَالى يَقُولُ: وَعِزَّتِىْ وَجَلَالِىْ لَا أُخْرِجُ أَحَدًا مِنَ الدُّنْيَا أُرِيْدُ أَغْفِرَ لَه حَتّى أَسْتَوْفِيَ كُلَّ خَطِيئَةٍ فِي عُنُقِه بِسَقَمٍ فِي بَدَنِه وَإِقْتَارٍ فِي رِزْقِه». رَوَاهُ رَزِيْنٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার মহান রব বলেন, আমার ইয্য্ত ও প্রতাপের শপথ, আমি ততক্ষণ কাউকে দুনিয়া হতে বের করে আনি না যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেবার ইচ্ছা করি। যতক্ষণ না তার ঘাড়ে থাকা প্রত্যেকটি গুনাহকে তার দেহের কোন রোগ অথবা রিয্‌ক্বের সংকীর্ণতা দিয়ে বিনিময় করে দিই। [১]

[১] য‘ঈফ : আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২০০৪।

১৫৮৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮৬


وَعَنْ شَقِيْقٍ قَالَ: مَرِضَ عَبْدُ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ فَعُدْنَاهُ فَجَعَلَ يَبْكِىْ فَعُوتِبَ فَقَالَ: إِنِّي لَا أَبْكِىْ لِأَجْلِ الْمَرَضِ لِأَنِّىْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «الْمَرَضُ كَفَّارَةٌ» وَإِنَّمَا أَبْكِىْ أَنَّه أَصَابَنِىْ عَلى حَالِ فَتْرَةٍ وَلَمْ يُصِبْنِىْ فِىْ حَالِ اجْتِهَادٍ لِأَنَّه يُكْتَبُ لِلْعَبْدِ مِنَ الْأَجْرِ إِذَا مَرِضَ مَا كَانَ يُكْتَبُ لَه قَبْلَ أَنْ يَمْرَضَ فَمَنَعَه مِنْهُ الْمَرَضُ. رَوَاهُ رَزِيْنٌ

শাক্বীক্ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) অসুস্থ হলে আমরা দেখতে গেলাম। আমাদেরকে দেখে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তা দেখে তাঁকে কেউ কেউ খারাপ বলতে লাগলেন। সে সময় ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) বললেন, আমি অসুখের জন্য কাঁদছি না। আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অসুখ হচ্ছে গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্। আমি বরং কাঁদছি এজন্য যে, এ অসুখ হল আমার বৃদ্ধ বয়সে। আমার শক্তি-সামর্থ্য থাকার সময়ে হল না। কারণ মানুষ যখন অসুস্থ হয় তার জন্য সে সাওয়াব লেখা হয়, যা অসুস্থ হবার আগে তার জন্য লেখা হত। এজন্যই যে অসুস্থতা তাকে ওই ‘ইবাদাত করতে বাধা দেয়। [১]

[১] রযীন : এর তাখরিজটি সম্পূর্ণ পাওয়া হয়নি।

১৫৮৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮৭


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يَعُوْدُ مَرِيْضًا إِلَّا بَعْدَ ثَلَاثٍ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন রোগীকে (রোগগ্রস্ত হবার পর) তিনদিন না হওয়া পর্যন্ত দেখতে যেতেন না। [১]

[১] মাওযূ‘ : ইবনু মাজাহ্ ১৪৩৭, শু‘আবুল ঈমান ৮৭৮১, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ১৪৫, য‘ঈফ আল জামি‘ ৪৪৯৯। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে ইবনু জুরায়জ একজন মুদ্দালিস রাবী এবং মাসলামাহ্ বিন ‘আলী মিথ্যার অপবাদপ্রাপ্ত।

১৫৮৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮৮


وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: إِذَا دَخَلْتَ عَلى مَرِيْضٍ فَمُرْهُ يَدْعُو لَكَ فَإِنَّ دُعَاءَه كَدُعَاءِ الْمَلَائِكَةِ . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তুমি কোন অসুস্থ লোককে দেখতে গেলে, তাকে তোমার জন্য দু’আ করতে বলবে। কারণ রুগ্ন লোকের দু’আ মালায়িকার (ফেরেশ্‌তাদের) দু’আর মতো। [১]

[১] খুবই দুর্বল : ইবনু মাজাহ্ ১৪৪১, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ১০০৪, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২০২৯, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৮৭। আলবানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি দু’টি কারণে দুর্বল। প্রথমতঃ মায়মূন বিন মিহরান এবং ‘উমার (রা)-এর মাঝে বিচ্ছিন্নতা। আর দ্বিতীয়তঃ জা‘ফার বিন বুরক্বর হতে কাসীর বিন হিশাম সরাসরি হাদীস বর্ণনা করেননি। বরং উভয়ের মাঝে হাসান বিন আরফায রয়েছে যিনি মূলত একজন মিথ্যার অপবাদপ্রাপ্ত রাবী।

১৫৮৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৮৯


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مِنَ السُّنَّةِ تَخْفِيفُ الْجُلُوسِ وَقِلَّةُ الصَّخَبِ فِي الْعِيَادَةِ عِنْدَ الْمَرِيضِ قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ لَمَّا كَثُرَ لَغَطُهُمْ وَاخْتِلَافُهُمْ: «قُومُوا عَنِّىْ» رَوَاهُ رَزِيْنٌ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রোগীকে দেখতে যাবার পর নিয়ম হলো, রোগীর কাছে বসা। তার কাছে উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলা। ইবনু ‘আব্বাস তাঁর এ কথার সমর্থনে বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুশয্যায় তাঁর পাশে লোকেরা বেশি কথাবার্তা ও মতভেদ শুরু করলে তিনি বলেন, তোমরা আমার কাছ থেকে সরে যাও। [১]

[১] রযীন : এর তাখরিজ সম্পূর্ণ হয়নি। তবে হাদীসটি মারফূ‘ সূত্রে বুখারীতে রয়েছে।

১৫৯০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯০


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «اَلْعِيَادَةُ فَوَاقُ نَاقَةٍ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোগী দেখতে অল্প সময় নেবে। [১]

[১] য‘ঈফ : শু‘আবুল ঈমান ৮৭৮৬, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৩৯৫৪, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৮৯৯। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে ইসমা‘ঈল বিন আল ক্বাসিম একজন দুর্বল রাবী এবং আবূ ‘আলী আল আনাযীও একজন দুর্বল রাবী যেমনটি হাফিয হাজার ‘‘তাকরীবে’’ বলেছেন।

১৫৯১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯১


وَفِي رِوَايَةِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ مُرْسَلًا: «أَفْضَلُ الْعِيَادَةِ سُرْعَةُ الْقِيَامِ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ

সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব- থেকে বর্ণিতঃ

রোগীকে দেখার উত্তম নিয়ম হলো তাড়াতাড়ি উঠে যাওয়া। [১]

[১] য‘ঈফ : শু‘আবুল ঈমান ৮৭৮৫, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ২৫১৭। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি মুরসাল হওয়ার সাথে আরো দু’টি কারণে য‘ঈফ। প্রথমতঃ বাসারী শায়খ একজন মাজহূল রাবী এবং দ্বিতীয়তঃ আবূ মুহাম্মাদ আল ‘আতাকী আমার নিকট একজন অপরিচিত রাবী।

১৫৯২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯২


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ عَادَ رَجُلًا فَقَالَ لَه: «مَا تَسْتَهِيْ؟» قَالَ: أَشْتَهِيْ خُبْزَ بُرٍّ. قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «مَنْ كَانَ عِنْدَه خُبْزُ بُرٍّ فَلْيَبْعَثْ إِلى أَخِيهِ» . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «إِذَا اشْتَهى مَرِيْضُ أَحَدِكُمْ شَيْئًا فَلْيُطْعِمْهُ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার একজন রোগীকে দেখতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি খেতে তোমার মন চায়? জবাবে সে বলল, গমের রূটি। এ কথা শুনে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের কাছে গমের রুটি আছে সে যেন তা তার ভাইয়ের জন্য পাঠায়। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের কোন রোগী কিছু খেতে চাইলে, তাকে তা খাওয়াবে। [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ১৪৩৯, ৩৪৪০। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে সফ্ওয়ান বিন হুরায়রাহ্ সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেছেন, সে লীনুল হাদীস (হাদীস বর্ণনায় শিথিল)।

১৫৯৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯৩


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ تُوُفِّيَ رَجُلٌ بِالْمَدِينَةِ مِمَّنْ وُلِدَ بِهَا فَصَلّى عَلَيْهِ النَّبِيُِّ ﷺ فَقَالَ: «يَا لَيْتَه مَاتَ بِغَيْرِ مَوْلِدِه» . قَالُوا وَلِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللّهِ؟ قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَاتَ بِغَيْرِ مَوْلِدِه قِيسَ لَه مِنْ مَوْلِدِه إِلَى مُنْقَطَعِ أَثَرِه فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মাদীনায় মারা গেলেন, মাদীনায়ই তার জন্ম হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযায় সলাত আদায় করালেন। তারপর তিনি বললেন, হায়! এ ব্যক্তি যদি তার জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোন জায়গায় মৃত্যুবরণ করত। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, কেন? হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি বললেন, কোন লোক জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করলে তার মৃত্যুস্থান ও জন্মস্থানের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের জায়গা হিসেবে গণ্য করা হয়। [১]

[১] হাসান : নাসায়ী ১৮৩২, ইবনু মাজাহ্ ১৬১৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৩৪।

১৫৯৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯৪


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَوْتُ غُرْبَةٍ شَهَادَةٌ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফররত অবস্থায় মারা যায় সে শাহীদ। [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ১৬১৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৮২৫। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর সানাদে আবুল মুনযির আল হুযায়ল বিন আল হাকাম রয়েছে যাকে ইমাম বুখারী এবং ইমাম যাহাবী (রহঃ) মুনকারুল হাদীস বলেছেন।

১৫৯৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯৫


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ مَاتَ مَرِيْضًا مَاتَ شَهِيدًا أَوْ وُقِيَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَغُدِيَ وَرِيحَ عَلَيْهِ بِرِزْقِه مِنَ الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রোগে ভুগে মারা যায়, সে শাহীদ হয়ে মারা গেল; তাকে ক্ববরের ফিতনাহ্ হতে রক্ষা করা হবে। এছাড়াও সকাল-সন্ধ্যায় তাকে জান্নাত থেকে রিয্‌ক্ব দেয়া হবে। [১]

[১] মাওযূ‘ : আত্ তিরমিযী ১৬১৫, শু‘আবুল ঈমান ৯৪২৫, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৪৬৬১, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৮৫০। কারণ এর সানাদে ইব্রাহীম বিন মুহাম্মাদ রয়েছে যাকে ইয়াহ্ইয়া বিন সা‘ঈদ এবং ইবনু মা‘ঈন মিথ্যুক বলেছেন আর দারাকুত্বনী মাতরূক বলেছেন।

১৫৯৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯৬


عَن الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «يَخْتَصِمُ الشُّهَدَاءُ وَالْمُتَوَفَّوْنَ عَلى فُرُشِهِمْ إِلى رَبِّنَا فِي الَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنَ الطَّاعُونِ فَيَقُولُ الشُّهَدَاءُ: إِخْوَانُنَا قُتِلُوْا كَمَا قُتِلْنَا وَيَقُوْلُ: الْمُتَوَفُّوْنَ عَلى فُرُشِهِمْ إِخْوَانُنَا مَاتُوا عَلى فُرُشِهِمْ كَمَا مِتْنَا فَيَقُولُ رَبُّنَا: انْظُرُوا إِلى جِرَاحِهِمْ فَإِنْ أَشْبَهَتْ جِرَاحُهُمْ جِرَاحَ الْمَقْتُولِيْنَ فَإِنَّهُمْ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ فَإِذَا جِرَاحُهُمْ قَدْ أَشْبَهَتْ جِرَاحَهُمْ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ

‘ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শাহীদগণ এবং যারা বিছানায় মৃত্যুবরণ করেছে তারা আল্লাহ তা’আলার নিকট প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণকারীদের ব্যাপারে ঝগড়া করবে। শাহীদগণ বলবে, “এরা আমাদের ভাই। কেননা আমাদেরকে যেভাবে নিহত করা হয়েছে, এভাবে এদেরকেও নিহত করা হয়েছে।” আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীগণ বলবে, “এরা আমাদের ভাই। এ লোকেরা এভাবে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, যেভাবে আমরা মরেছি।” তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, এদের জখমগুলোকে দেখা হোক। এদের জখম যদি শাহীদদের জখমের মতো হয়ে থাকে, তাহলে এরাও শাহীদদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের সাথে থাকবে। বস্তুত যখন জখম দেখা হবে, তখন তা’ শাহীদদের জখমের মতো হবে। [১]

[১] সহীহ : নাসায়ী ৩১৬৪, আহমাদ ১৭১৫৯, শু‘আবুল ঈমান ৯৪১৬, সহীহ আত্ তারগীব ১৪০৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৮০৪৬।

১৫৯৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯৭


وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «الْفَارُّ مِنَ الطَّاعُونِ كَالْفَارِّ مِنَ الزَّحْفِ وَالصَّابِرُ فِيهِ لَه أَجْرُ شَهِيدٍ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্লেগ রোগ চড়িয়ে পড়লে ওখান থেকে ভেগে যাওয়া যুদ্ধের ময়দান থেকে ভেগে যাবার মতো। প্লেগ ছড়িয়ে পড়লে সেখানেই ধৈর্য ধরে অবস্থানকারী শাহীদের সাওয়াব পাবে। [১]

[১] হাসান লিগায়রিহী : আহমাদ ১৪৮৭৫, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১২৯৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪২৭৭।

পরিচ্ছদঃ ২.

প্রথম অনুচ্ছেদ

১৫৯৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯৮


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا يَتَمَنّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّه أَنْ يَزْدَادَ خَيْرًا وَإِمَّا مُسِيْئًا فَلَعَلَّه أَنْ يَّسْتَعْتِبَ» . رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারন সে নেক্কার হলে আরো বেশী নেক কাজ করার সুযোগ পাবে। আর বদকার হলে, (সে তাওবাহ করে) আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও রেযামন্দি হাসিল করার সুযোগ পাবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৭২৩৩, দারিমী ২৮০০, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১৯৫৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৬৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৬১০।

১৫৯৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৫৯৯


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا يَتَمَنّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ وَلَا يَدْعُ بِه مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَه إِنَّه إِذَا مَاتَ انْقَطَعَ أَمَلُه وَإِنَّه لَا يَزِيْدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُه إِلَّا خَيْرًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে আর তা আসার পূর্বে তাকে যেন আহ্বান না জানায়, কারন সে যখন মৃত্যুবরণ করবে তার ‘আমাল বন্ধ হয়ে যাবে। আর মু’মিনের হায়াত বাড়লে তার ভাল কাজই বৃদ্ধি পায়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৮২, আহমাদ ৮১৮৯, ইবনু হিব্বান ৩০১৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৬৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৬১২।

১৬০০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০০


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَه فَإِنْ كَانَ لَابُدَّ فَاعِلًا فَلْيَقُلِ: اللّهُمَّ أَحْيِنِىْ مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِّيْ وَتَوَفَّنِىْ إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِّىْ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কোন দুঃখ-কষ্টের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। যদি এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা করতেই হয় তাহলে যেন সে বলে, “আল্ল-হুম্মা আহয়িনী মা-কা-নাতিল হায়া-তু খায়রাল লী ওয়াতা ওয়াফফানী ইযা-কা-নাতিল ওয়াফা-তু খায়রাল লী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার জীবনে আমার জন্য যতক্ষণ কল্যাণকর হয়, আমাকে বাঁচিয়ে রেখ। আর আমাকে মৃত্যুদান করো যদি মৃত্যুই আমার জন্য কল্যাণকর হয়।) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৭১, মুসলিম ২৬৮০, আবূ দাঊদ ৩১০৮, আত্ তিরমিযী ৯৭০, নাসায়ী ১৮২০, ইবনু মাজাহ্ ৪২৬৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৩৪৭, আহমাদ ১১৯৭৯, ১৩০২০, ইবনু হিব্বান ৯৬৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬৫, শু‘আবুল ঈমান ৯৬৭৩, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৭০, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৬১১।

১৬০১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০১


وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللّهِ أَحَبَّ اللّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللّهِ كَرِهَ اللّهُ لِقَاءَه» فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِه: إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ: «لَيْسَ ذلِكَ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللّهِ وَكَرَامَتِه فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَه فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللّهِ وَأَحَبَّ اللّهُ لِقَاءَه وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حَضَرَ بُشِرَ بِعَذَابِ اللهِ وَعُقُوْبَتِه فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكَرَه إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَه فَكَرِهَ لِقَاءَ اللّهِ وَكَرِهَ اللهُ لِقَاءَه». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য পছন্দ করে, আল্লাহও তার সান্নিধ্য পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সান্নিধ্য অপছন্দ করেন। (এ কথা শুনে) ‘আয়িশাহ অথবা তাঁর স্ত্রীদের কেউ জিজ্ঞেস করলেন, আমরাতো মৃত্যুকে অপছন্দ করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ব্যাপারটি তা নয়। বরং এর অর্থ হল। যখন মু’মিনের মৃত্যু আসে তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সুসংবাদ দেয়া হয়। তখন সামনে তার এসব মর্যাদা হতে বেশী পছন্দনীয় জিনিস আর কিছু থাকে না। তাই সে আল্লাহর সান্নিধ্য পছন্দ করে। আল্লাহও তার সান্নিধ্য পছন্দ করেন। আর কাফির ব্যক্তির মৃত্যু হাযির হলে, তাকে আল্লাহর ‘আযাব ও তার পরিণতির ‘খোশ খবর’ দেয়া হয়। তখন এ কাফির ব্যক্তির সামনে এসব খোশ খবরের চেয়ে বেশী অপছন্দনীয় জিনিস আর কিছু থাকে না। তাই সে যেমন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। [১]

1] সহীহ : বুখারী ৬৫০৭, মুসলিম ২৬৪৩, আত্ তিরমিযী ২৩০৯, নাসায়ী ১৮৩৬, ১৮৩৭, আহমাদ ২২৭৪৪, দারিমী ২৭৯৮, ইবনু হিব্বান ৩০০৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৪৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৮৪, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৯৬৪।

১৬০২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০২


وَفِىْ رِوَايَةِ عَائِشَةَ: وَالْمَوْتَ قَبْلَ لِقَاءِ اللهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

“মৃত্যু হলো আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাতের অগ্রবর্তী”। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৮৪, আহমাদ ২৪১৭২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫০।

১৬০৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০৩


وَعَنْ أَبِىْ قَتَادَةَ أَنَّه كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَقَالَ: «مُسْتَرِيْحٌ أَوْ مُسْتَرَاحٌ مِنْهُ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللّهِ مَا الْمُسْتَرِيْحُ وَالْمُسْتَرَاحُ مِنْهُ؟ فَقَالَ: «الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا إِلى رَحْمَةِ اللّهِ وَالْعَبْدُ الْفَاجِرُ يَسْتَرِيْحُ مِنْهُ الْعِبَادُ وْالْبَلَادُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক দিন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সামনে দিয়ে একটি জানাযাহ্‌ বহন করা হচ্ছিল তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (জানাযাহ্‌ দেখে) বললেন, এ ব্যক্তি শান্তি পাবে, অথবা এর থেকে অন্যরা শান্তি পাবে। সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসুল! শান্তি পাবে কে, অথবা ওই ব্যক্তি কে যার থেকে অন্যরা শান্তি পাবে? তিনি(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর মু’মিন বান্দা মৃত্যুর দারা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট হতে আল্লাহর রহমাতের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে সে শান্তি পায়। আর গুনাহগার বান্দা মারা গেলে তার অনিষ্ট ও ফাসাদ হতে মানুষ, শহর-বন্দর গাছ-পালা ও জন্তু – জানোয়ার সবকিছুই শান্তি লাভ করে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৫১২, মুসলিম ৯৫০, নাসায়ী ১৯৩০, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৮০, আহমাদ ২২৫৭৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩০১২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৭৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৮৭২।

১৬০৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০৪


وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ بِمَنْكِبِىْ فَقَالَ: «كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ» . وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ: إِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الصَّبَاحَ وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الْمَسَاءَ وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ وَمِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা হাত দিয়ে আমার দু’কাঁধ ধরলেন। তারপর বললেন, দুনিয়ায় তুমি এমনভাবে থাকো, যেমন-তুমি একজন গরীব অথবা পথের পথিক। (এরপর থেকে) ইবনু ‘উমার (মানুষদেরকে) বলতেন, “সন্ধ্যা হলে আর সকালের অপেক্ষা করবে না। আর যখন সকাল হবে, সন্ধার অপেক্ষা করবে না। নিজের সুস্থতার সুযোগ গ্রহন করবে অসুস্থতার আগে ও জীবনের সুযোগ গ্রহন করবে মৃত্যুর আগে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৪১৬, আত্ তিরমিযী ২৩৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫১২, শু‘আবুল ঈমান ৯৭৬৪, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১১৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৪১, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৫৭৯।

১৬০৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০৫


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَبْلَ مَوْتِه بِثَلَاثَةِ أَيَّامٍ يَقُولُ: «لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللّه» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মৃত্যুর তিনদিন আগে এ কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর ভাল ধারণা পোষণ করা ছাড়া তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুবরণ না করে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৮৭৭, আবূ দাঊদ ৩১১৩, ইবনু মাজাহ্ ৪১৬৭, ইবনু হিব্বান ৬৩৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৮৫, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৭৯২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫৫।

পরিচ্ছদঃ ২.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৬০৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০৬


عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِن شِئْتُم أَنْبَأْتُكُمْ مَا أَوَّلُ مَا يَقُولُ اللّهُ لِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ وَمَا أَوَّلُ مَا يَقُولُونَ لَه؟» قُلْنَا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللّهِ قَالَ: «إِنَّ اللّهَ يَقُوْلُ لِلْمُؤْمِنِيْنَ هَلْ أَحْبَبْتُمْ لِقَائِيْ؟ فَيَقُولُونَ نَعَمْ يَا رَبَّنَا فَيَقُولُ: لِمَ؟ فَيَقُولُونَ: رَجَوْنَا عَفْوَكَ وَمَغْفِرَتَكَ. فَيَقُولُ: قَدْ وَجَبَتْ لَكُمْ مَغْفِرَتِىْ». رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমাদেরকে উদ্দেশ করে) বললেন, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামাতের দিন মু’মিনদেরকে সর্বপ্রথম যে কথাটি বলবেন, তোমরা চাইলে আমি তা’ তোমাদের বলে দিতে পারি। আমরা বললাম, অবশ্যই বলবেন, হে আল্লাহর রসুল! তিনি বললেন, আল্লাহ মু’মিনদেরকে বলবেন, তোমরা কি আমার সাক্ষাৎকে ভালবাসতে? মু’মিনগণ আরয করবেন, হে আমাদের রব অবশ্যই (আমরা আপনার সাক্ষাতকে ভালবাসতাম)! আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমরা কেন আমার সাক্ষাতকে ভালবাসতে? মু’মিনরা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করেছি, তাই। এ কথা শুনে আল্লাহ বলবেন, তোমাদের জন্য মাগফিরাত মঞ্জুর করা আমার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। [১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২২০৭২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫২, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৬১২৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৯৭৩, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ১২৯৪। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে ‘উবায়দুল্লাহ বিন যাহার রয়েছে যাকে ইমাম আহমাদ, ইবনু হিব্বান (রহঃ)-সহ আরো অনেকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন।

১৬০৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০৭


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ الْمَوْتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ বলেছেনঃ তোমরা দুনিয়ার ভোগবিলাস বিনষ্টকারী জিনিস, মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করো। [১]

[১] হাসান সহীহ : আত্ তিরমিযী ২৩০৭, নাসায়ী ১৮২৪, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৪৩২৭, আহমাদ ৭৯২৫, ইবনু হিব্বান ২৯১২, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৯০৯, আত্ তিরমিযী ৩৩৩৩, সহীহু আল জামি‘ আস্ সগীর ১২১০।

১৬০৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০৮


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ نَبِيَّ اللّهِ ﷺ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ لِأَصْحَابِه: «اسْتَحْيُوا مِنَ اللّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ» قَالُوا: إِنَّا نَسْتَحْيِىْ مِنَ اللّهِ يَا نَبِيَّ اللّهِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ قَالَ: «لَيْسَ ذلِكَ وَلَكِنَّ مَنِ اسْتَحْيى مِنَ اللّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ فَلْيَحْفَظِ الرَّأْسَ وَمَا وَعى وَلْيَحْفَظِ الْبَطْنَ وَمَا حَوى وَلْيَذْكُرِ الْمَوْتُ وَالْبِلى وَمَنْ أَرَادَ الْاخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ الدُّنْيَا فَمَنْ فَعَلَ ذلِكَ فَقَدِ اسْتَحْيى مِنَ اللّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন, আল্লাহর সাথে লজ্জা করার মত লজ্জা করো। সহাবীগণ বললেন, আমরা আল্লাহর সাথে লজ্জা করছি, হে আল্লাহর রসূল! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, লজ্জার মতো লজ্জা এটা নয় যা তোমরা বলছ। বরং প্রকৃত লজ্জা এমন যে, যখন ব্যক্তি লজ্জার হাক্ব আদায় করে সে যেন মাথা ও মাথার সাথে যা কিছু আছে তার হিফাযত করে। পেট ও পেটের সাথে যা কিছু আছে তারও হিফাযত করে। তার উচিৎ মৃত্যু ও তার হাড়গুলো পঁচে গলে যাবার কথা স্মরন করে। যে ব্যক্তি পরকালের কল্যান চায়, সে যেন দুনিয়ার চাকচিক্য ও জৌলুশ ছেড়ে দেয়। অতএব, যে ব্যক্তি এসব কাজ করল, সে ব্যক্তিই আল্লাহ সাথে লজ্জার হাক্ব আদায় করল। [১]

[১] হাসান লিগায়রিহী : আত্ তিরমিযী ২৪৫৮, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৪৩২০, আহমাদ ৩৬৭১, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৯১৫, সহীহ আত্ তারগীব ১৭২৪, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৯৩৫।

১৬০৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬০৯


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَال قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «تُحْفَةُ الْمُؤْمِنِ الْمَوْتُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত্যু হল মু’মিনের উপহার। [১]

[১] য‘ঈফ : মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৯০০, শু‘আবুল ঈমান ৯৭৩০, ৯৪১৮, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫৪, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৬৮৯০, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২০৪৪, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৪০৪। কারণ এর সানাদে ‘আবদুর রহমান বিন যিয়াদ আল ইফরিক্বী রয়েছে যিনি একজন দুর্বল রাবী।

১৬১০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১০


وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الْمُؤْمِنُ يَمُوتُ بِعَرَقِ الْجَبِيْنِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মু’মিন কপালের ঘামের সাথে মৃত্যুবরণ করে।[১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৯৪২, নাসায়ী ১৮২৯, ইবনু মাজাহ্ ১৪৫২, আহমাদ ২২৯২৪, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬৬৬৫।

১৬১১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১১


وَعَنْ عُبَيْدِ اللّهِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَوْتُ الْفُجَاءَةِ أَخْذَةُ الْأَسَفِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ الْبَيْهَقِيُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيمَانِ وَرَزِيْنٌ فِي كِتَابِه: «أَخْذَةُ الأَسَفِ للْكَافِرِ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤمنِ

উবায়দুল্লাহ ইবনু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আকস্মিক মৃত্যু (আল্লাহর গযবের) পাকড়াও। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১১০, আহমাদ ১৭৯২৪, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬৬৩১। তবে রযীনের অংশটুকু য‘ঈফ। আহমাদ ২৪৬২১, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৮৯৬।

১৬১২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১২


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: دَخَلَ النَّبِيُ عَلى شَابٍّ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَقَالَ: «كَيْفَ تَجِدُكَ؟» قَالَ: أرْجُواللهَ يَا رَسُولَ اللّهِ وَإِنِّىْ أَخَافُ ذُنُوْبِىْ فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا يَجْتَمِعَانِ فِىْ قَلْبِ عَبْدٍ فِىْ مِثْلِ هذَا الْمَوْطِنِ إِلَّا أَعْطَاهُ اللّهُ مَا يَرْجُو وَامَنَه مِمَّا يَخَافُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন এক যুবকের কাছে গেলেন। যুবকটি সে সময়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, এখন তোমার মনের অবস্থা কী? যুবকটি উত্তর দিলো, আমি আল্লাহর রহমাতের প্রত্যাশী হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু এরপরও আমি আমার গুনাহখাতার জন্য ভয় পাচ্ছি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এ সময়ে এ যুবকের মতো যে আল্লাহর বান্দার মনে ভয় ও আশার সঞ্চার হয় আল্লাহ তা’আলা তাকে তাই দান করেন, সে গুনাহকে ভয় করে এবং আশা পোষন করে। [১]

[১] হাসান : আত্ তিরমিযী ৯৮৩, ইবনু মাজাহ্ ৪২৬১, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১০৮৩৪।

পরিচ্ছদঃ ২.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৬১৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১৩


عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا تَمَنَّوُا الْمَوْتَ فَإِنَّ هَوْلَ الْمُطَّلَعِ شَدِيدٌ وَإِنَّ مِنَ السَّعَادَةِ أَنْ يَطُولَ عُمْرُ الْعَبْدِ وَيَرْزُقَهُ اللّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْإِنَابَةَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা মৃত্যু কামনা করো না। কেননা মৃত্যু যন্ত্রনা খুবই কঠিন জিনিস। মানুষের জীবন দীর্ঘ হওয়া নিশ্চয় সৌভাগ্যেরই ব্যাপার। আল্লাহ তা’আলা তাকে তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে নেন। [১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ১৪৫৬৪, শু‘আবুল ঈমান ১০১০৫, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৪৯৭৯, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৯৬৩। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সানাদে ‘‘কাসীর বিন যায়দ’’ স্মৃতিশক্তি ত্রুটিজনিত কারণে একজন দুর্বল রাবী।

১৬১৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১৪


وَعَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ قَالَ: جَلَسْنَا إِلى رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَذَكَّرَنَا وَرَقَّقَنَا فَبَكى سَعْدُ بْنُ أَبِىْ وَقَّاصٍ فَأَكْثَرَ الْبُكَاءَ فَقَالَ: يَا لَيْتَنِىْ مِتُّ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «يَا سَعْدُ أَعِنْدِىْ تَتَمَنَّى الْمَوْتَ؟» فَرَدَّدَ ذلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ: «يَا سَعْدُ إِنْ كُنْتَ خُلِقْتَ لِلْجَنَّةِ فَمَا طَالَ عُمْرُكَ وَحَسُنَ مِنْ عَمَلِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ

আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলাম। তিনি আমাদের অনেক নসীহাত করলেন। আখিরাতের ভয় দেখিয়ে আমাদের মনকে বিগলিত করে ফেললেন। এ অবস্থায় সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস কাঁদতে লাগলেন এবং বেশ কতক্ষন কাঁদলেন। তারপর বললেন, হায়! আমি যদি (শিশুকালেই) মারা যেতাম (তাহলে তো গুনাহ করতাম না আখিরাতের ‘আযাব হতেও মুক্ত থাকতাম)। এ কথা শুনে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে সা’দ! তুমি আমার সামনে মৃত্যু কামনা করলে? এ বাক্যটি তিনি তিনবার বললেন। তারপর তিনি বললেন, সা’দ! তোমাকে যদি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তাহলে তোমার বয়স যত দীর্ঘ হবে এবং যত ভাল ‘আমাল তুমি করবে ততই তোমার জন্য উত্তম হবে। [১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২২২৯৩, ত্ববারানী ৭৮৭০। কারণ এর সানাদে ‘আলী বিন ইয়াযীদ একজন দুর্বল রাবী।

১৬১৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১৫


عَن حَارِثَةَ بْنِ مُضَرَّبٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلى خَبَّابٍ وَقَدِ اكْتَوى سَبْعًا فَقَالَ: لَوْلَا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُول: «لَا يَتَمَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ» لَتَمَنَّيْتُه. وَلَقَدْ رَأَيْتُنِىْ مَعَ رَسُولِ اللّهِ ﷺ مَا أَمْلِكُ دِرْهَمًا وَإِنَّ فِي جَانِبِ بَيْتِيَ الْانَ لَأَرْبَعِينَ أَلْفَ دِرْهَمٍ قَالَ ثُمَّ أُتِيَ بِكَفَنِه فَلَمَّا رَاهُ بَكى وَقَالَ لَكِنَّ حَمْزَةَ لَمْ يُوجَدْ لَه كَفَنٌ إِلَّا بُرْدَةٌ مَلْحَاءُ إِذَا جُعِلَتْ عَلى رَأْسِه قَلَصَتْ عَنْ قَدَمَيْهِ وَإِذَا جُعِلَتْ عَلى قَدَمَيْهِ قَلَصَتْ عَنْ رَأْسِه حَتّى مُدَّتْ عَلى رَأْسِه وَجُعِلَ عَلى قَدَمَيْهِ الْإِذْخِرُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ إِلَّا أَنَّه لَمْ يَذْكُرْ: ثُمَّ أُتِي بِكَفْنِه إِلى اخِرِه

হারিসাহ্ ইবনু মুযাররাব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার খাব্বাব (রাঃ)-এর নিকট গেলাম (সে সময়ে তিনি অসুস্থ ছিলেন)। তিনি তার শরীরের সাত জায়গায় দাগ লাগিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, আমি যদি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ‘তোমরা মৃত্যু কামনা করো না’ কথাটি না শুনতাম, তাহলে অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমার নিজেকে এরুপ পেয়েছি যে, আমি একটি দিরহামেরও মালিক ছিলাম না। আর এখন আমার ঘরের কোণেই চল্লিশ হাজার দিরহাম পড়ে আছে। হারিসাহ বলেন, তারপর খাবাব্বের কাছে তার কাফনের কাপড় আনা হলো (যা খুবই উত্তম দামী কাপড় ছিল) তিনি তা দেখে কাঁদতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, যদিও এ কাপড় জায়িয কিন্তু হামযাহ (রাঃ)-এর জন্য পুরো কাফনের কাপড় পাওয়া যায়নি। শুধু একটি কালো ও সাদা পুরাতন চাদর ছিল। তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা খালি হয়ে যেত। আবার পা ঢাকলে মাথা খালি হয়ে যেত। অবশেষে এ চাদর দিয়েই মাথা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। আর পা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল ইযখার ঘাস দিয়ে। [১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৯৭০, আহমাদ ২১০৭২।

পরিচ্ছদঃ ৩.

প্রথম অনুচ্ছেদ

১৬১৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১৬


عَنْ أَبِىْ سَعِيْدٍ وَأَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাকে কালিমায়ে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) তালকীন দিও। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯১৬, ৯১৭, আত্ তিরমিযী ৯৭৬, নাসায়ী ১৮২৬, ইবনু মাজাহ্ ১৪৪৪, ১৪৪৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮৬৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৯৮, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৬৫, ইরওয়া ৬৮৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫১৪৮।

১৬১৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১৭


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا حَضَرْتُمُ الْمَرِيْضَ أَو الْمَيِّت فَقُوْلُوْا خَيْرًا فَإِن الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُوْنَ عَلى مَا تَقُوْلُوْنَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কোন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে কিংবা কোন মৃত্যু পথযাত্রীর কাছে ভাল ভাল কথা বলবে। কারণ তোমরা তখন যা বলো, (তা’ শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলেন। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯১৯, আত্ তিরমিযী ৯৭৭, আবূ দাঊদ ৩১১৫, নাসায়ী ১৮২৫, ইবনু মাজাহ্ ১৪৪৭, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৬০৬৬, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮৪৭, আহমাদ ২৬৪৯৭, ইবনু হিব্বান ৩০০৫, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৬৭৫৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১২৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৬১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৮৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৯১।

১৬১৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১৮


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصِيْبُه مُصِيْبَةٌ فَيَقُولُ مَا أَمَرَهُ اللّهُ بِه: ﴿إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ﴾ [البقرة 2 : 156]. اللّهُمَّ أَجِرْنِىْ فِىْ مُصِيْبَتِىْ وَاخْلُفْ لِىْ خَيْرًا مِّنْهَا إِلَّا أَخْلَفَ اللّهُ لَه خَيْرًا مِنْهَا». فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ قَالَتْ: أَيُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ مِنْ أَبِىْ سَلَمَةَ؟ أَوَّلُ بَيْتِ هَاجَرَ إِلى رَسُولِ اللّهِ ﷺ ثُمَّ إِنِّي قُلْتُهَا فَأَخْلَفَ اللّهُ لِىْ رَسُوْلَ اللّهِ ﷺ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উম্মুল মু’মিনীন সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম (কোন ছোট-বড়) বিপদে পতিত হয় এবং আল্লাহ তা’আয়ালার ইচ্ছা হলে এ কথাগুলো বলে, “ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না-ইলায়হি র-জি’ঊন [অর্থাৎ “আমরা আল্লাহ্‌রই জন্য এবং তাঁরই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন”-(সূরাহ্ আল বাক্বারাহ ২ : ১৫৬)]।“ আল্ল-হুম্মা আজির্‌নী ফী মুসীবাতি ওয়া ওয়াখলিফলী খয়রাম মিন্হা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার বিপদের জন্য আমাকে সওয়াব দাও। আর [এ বিপদে] যা আমি হারিয়েছি তার জন্য উত্তম বিনিময় আমাকে দান করো) আল্লাহ তা’আলা তাকে এ জিনিসের উত্তম বিনিময় দান করেন। উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, যখন আবূ সালামাহ্ (অর্থাৎ তাঁর স্বামী) মারা গেলেন, আমি বললাম, “আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে উত্তম কোন মুসলিম হতে পারে? এ আবূ সালামাহ্, যিনি সকলের আগে সপরিবারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে হিজরত করেছেন। তারপর আমি উপরোক্ত বাক্যগুলো পড়েছিলাম। বস্তুত আল্লাহ তা’আলা আমাকে আবূ সালামার স্থলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দান করেছেন (অর্থাৎ তাঁর সাথে উম্মু সালামার বিয়ে হয়েছে)। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯১৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১২৫, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৬৩, ইরওয়া ১৮১৯, সহীহ আল জামি‘আস্ সগীর ৫৭৬৪।

১৬১৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬১৯


وَعَن أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ عَلى أَبِىْ سَلَمَةَ قَدْ شَقَّ بَصَرَه فَأَغْمَضَه ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الرُّوْحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ» فَضَجَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِه فَقَالَ: «لَا تَدْعُوْا عَلَى انْفُسِكُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُوْنَ عَلى مَاتَقُوْلُوْنَ» ثُمَّ قَالَ: «اللّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِىْ سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَه فِي الْمَهْدِيِّيْنَ وَاخْلُفْهُ فِىْ عَقِبِه فِي الْغَابِرِيْنَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَه يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ وَأَفْسِحْ لَه فِي قَبْرِه وَنَوِّرْ لَه فِيْهِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামার কাছে আসলেন যখন তাঁর চোখ স্থির হয়ে গিয়েছিল। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখগুলো বন্ধ করে দিলেন। তারপর বললেন, যখন রুহ কবয করা হয় তখন তার দৃষ্টিশক্তিও চলে যায়। আবূ সালামার পরিবার (এ কথা শুনে বুঝল, আবূ সালামাহ ইন্তিকাল করেছেন) কাঁদতে ও চিল্লাতে লাগল। তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা মাইয়্যিতের জন্য কল্যাণের দু’আ করো। কারণ তোমরা ভাল মন্দ যে দু’আই করো (তা ’শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ‘আমীন’ বলে। তারপর তিনি এ দু’আ পাঠ করলেন, “ আল্ল-হুম্মাগফির লিয়াবী সালামাহ, ওয়ারফা’ দারাজতাহূ ফিল মাহ্দীয়্যিন, ওয়াখ্লুফ্হু ফী ‘আক্বিবিহী ফিল গ-বিরীন, ওয়াগ্ফির লানা-ওয়ালাহূ ইয়া-রব্বাল আ’-লামীন, ওয়া আফসিহ লাহূ ফী ক্বব্‌রিহী, ওয়ানাওয়ির লাহূ ফিহী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবূ সালামাকে মাফ করে দাও। হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। তার ছেড়ে যাওয়া লোকদের জন্য তুমি সহায় হয়ে যাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ও তাকে মাফ করে দাও। তার ক্ববরকে প্রশস্ত করে দাও। তার জন্য ক্ববরকে নূরের আলোতে আলোকিত করে দাও।)। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯২০, ইবনু মাজাহ্ ১৪৫৪, আহমাদ ২৬৫৪৩, ইবনু হিব্বান ৭০৪১, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৪৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ১৬৩৪।

১৬২০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২০


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ حِينَ تُوُفِّيَ سُجِّيَ بِبُرْدٍ حِبْرَةٍ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকালের পর তাঁর পবিত্র শরীরের উপর ইয়ামিনী চাদর দিয়ে তাঁকে ঢেকে রাখা হয়েছিল।” (বুখারী,মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৮১৪, মুসলিম ৯৪২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬১২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৬৯।

পরিচ্ছদঃ ৩.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৬২১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২১


عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ كَانَ اخِرُ كَلَامِه لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির শেষ কথা, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবূ দাঊদ) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১১৬, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১২৯৯, ইরওয়া ৬৮৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬৪৮০।

১৬২২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২২


وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «اِقْرَؤُوْا سُوْرَةَ (يس) عَلى مَوْتَاكُمْ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

মা‘ক্বিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা মৃত ব্যক্তির সামনে সূরাহ্ ইয়াসীন পড়ো। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩১২১, ইবনু মাজাহ্ ১৪৪৮, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১০৮৪৬, ইবনু হিব্বান ৩০০২, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৬২০, ইরওয়া ৬৮৮, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৫৮৬১, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ১০৭২।

১৬২৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২৩


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَبَّلَ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيِّتٌ وَهُوَ يَبْكِىْ حَتّى سَالَ دُمُوعُ النَّبِيِّ ﷺ عَلى وَجْهِ عُثْمَانَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ’উসমান ইবনু মায’উন-এর মৃত্যুর পর তাঁকে চুমু দিয়েছেন। এরপর অঝোরে কেঁদেছেন, এমনকি তাঁর চোখের পানি ‘উসমানের চেহারায় টপকে টপকে পড়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১৬৩, আত্ তিরমিযী ৯৮৯, ইবনু মাজাহ্ ১৪৫৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭০, আহমাদ ২৩৬৪৫।

১৬২৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২৪


وَعَن عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَبَّلَ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ مَيِّتٌ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবূ বাক্‌র সিদ্দীক্ব রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর তাঁকে (চেহারা মুবারাকে) চুমু খেয়েছিলেন। (তিরমিযী,ইবনু মাজাহ্)
[১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৯৮৯, নাসায়ী ১৮৪০, ইবনু মাজাহ্ ১৪৫৭, বুখারী, ৪৪৫৫, ৫৭০৯, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১২০৬৬, আহমাদ ২০২৬, ইবনু হিব্বান ৩০২৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭১, শামায়েল ৩২৭, ইরওয়া ৬৯২।

১৬২৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২৫


وَعَنْ حُصَيْنِ بْنِ وَحْوَحٍ أَنَّ طَلْحَةَ بْنَ الْبَرَاءِ مَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُه فَقَالَ: «إِنِّي لَا أَرى طَلْحَةَ إِلَّا قَدْ حَدَثَ بِهِ الْمَوْتُ فَآذِنُونِي بِه وَعَجِّلُوا فَإِنَّه لَا يَنْبَغِىْ لِجِيفَةِ مُسْلِمٍ أَنْ تُحْبَسَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ أَهْلِه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

হুসায়ন ইবনু ওয়াহ্ওয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ত্বলহাহ্ ইবনু বারা অসুস্থ হলে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখোতে গেলেন। তিনি তাঁর পরিবারের লোকজনকে বললেন, আমার মনে হচ্ছে ত্বলহার মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। অতএব তার মৃত্যুর সাথে সাথেই আমাকে খবর দিবে (যাতে আমি জানাযাহ্ আদায়ের জন্য আসতে পারি) আর তোমরা তার দাফন-কাফনের কাজ তাড়াতাড়ি করবে। কারণ মুসলিমের লাশ তার পরিবারের মধ্যে বেশীক্ষণ ফেলে রাখা ঠিক নয়। (আবূ দাঊদ) [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩১৫৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬২০, রিয়াযুস সালিহীন ৯৫১, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ২০৯৯। কারণ এর সানাদে সা‘ঈদ আল আনসারী এবং তার ছেলে আযরা বা আরওয়াহ দু’জন মাজহূল রাবী। আর সা‘ঈদ বিন ‘উসমান (রাঃ) আল বালবী ও মাজহূল রাবী।

পরিচ্ছদঃ ৩.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৬২৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২৬


وَعَن عَبْدِ اللّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيْمُ سُبْحَانَ اللّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ الْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللّهِ كَيْفَ لِلْأَحْيَاءِ؟ قَالَ: «أَجْوَدُ وْأَجْوَدُ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা মৃত্যুপথযাত্রীকে এ কালিমার তালকীন দেবে, “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হুল হালীমুল কারীম, সবুহা-নাল্ল-হি রব্বিল ‘আরশিল ‘আযীম, আলহামদুলিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন”। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রসুল! সুস্থ জীবিত ব্যক্তিদেরকে এ কালিমা শিখানো কেমন? তিনি বললেন, খুব উত্তম। খুব উত্তম।(ইবনু মাজাহ্) [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ১৪৪৬, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৪৩১৭, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৭০৭। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, ইসহকব বিন ‘আবদুল্লাহ মাজহূল রাবী যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেছেন। আর কাসীর বিন যায়দ সদুক কিন্তু ভুল করেন।

১৬২৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২৭


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الْمَيِّتُ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ صَالِحًا قَالُوا: اخْرُجِىْ أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ اخْرُجِىْ حَمِيدَةً وَأَبْشِرِىْ بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذلِكَ حَتّى تَخْرُجَ ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُفْتَحَ لَهَا فَيُقَالُ: مَنْ هذَا؟ فَيَقُولُونَ: فُلَانٌ فَيُقَالُ: مَرْحَبًا بِالنَّفسِ الطَّيِّبَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ ادْخُلِىْ حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذلِكَ حَتّى تَنْتَهِيَ إِلَى السَّمَاءِ الَّتِىْ فِيْهَا اللّهُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالَ: اخْرُجِىْ أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيْثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ اخْرُجِىْ ذَمِيمَةً وَأَبْشِرِىْ بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ وَاخَرَ مِنْ شَكْلِه أَزْوَاجٌ فَمَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذلِكَ حَتّى تَخْرُجَ ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُفْتَحُ لَهَا فَيُقَالُ: مَنْ هذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ فَيُقَالُ: لَا مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ارْجِعِىْ ذَمِيمَةً فَإِنَّهَا لَا تُفْتَحُ لَه أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَتُرْسَلُ مِنَ السَّمَاءِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْر». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট (ফেরেশতাগণ) আগমন করেন। যদি সে ব্যক্তি নেক ও সালিহ হয় মালাকগণ বলেন, পবিত্র দেহে অবস্থানকারী হে পবিত্র নাফ্স! বের হয়ে আসো। আল্লাহ ও মাখলূক্বের নিকট তুমি প্রশংসিত হয়েছ। তোমার জন্য আনন্দ ও প্রশান্তির, জান্নাতের পবিত্র রিয্ক্বের, আর আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের শুভ সংবাদ, আল্লাহ তোমার ওপরে রাগান্বিত নন। তার নিকট মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) অনবরত এ কথা বলতে থাকবেন যে পর্যন্ত রূহ বের হয়ে না আসবে। তারপর মালায়িকাহ্ তা নিয়ে আকাশের দিকে চলে যাবেন। আকাশের দরজা তার জন্য খুলে দেয়া হয়, যেখানে আল্লাহ আছেন। আর যদি লোকটা খারাপ হয় (অর্থাৎ কাফির হয়) তখন রূহ কবয করার মালাক (ফেরেশতা) বলেন, হে খবীস আত্মা যা খবীস শরীরে ছিলে, এ অবস্থায়ই শরীর হতে বের হয়ে এসো। তোমার জন্য গরম পানি, পুঁজ ও অন্যান্য নিকৃষ্ট আহারের সুসংবাদ। এই মৃত্যুপথযাত্রীর কাছে বার বার মালায়িকাহ্ এ কথা বলতে থাকবে, যে পর্যন্ত তার রূহ বের হয়ে না আসবে। তারপর তারা তার রূহকে আসমানের দিকে নিয়ে যাবে। তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করা হবে, এ ব্যক্তি কে? জবাব দেয়া হবে , ‘অমুক ব্যক্তি’। এবার বলা হবে, এ খবীস জীবনের জন্য কোন স্বাগতম নেই,যা অপবিত্র দেহে ছিল। তুমি ফিরে চলে যাও, তোমার বদনাম করা হয়েছে। তোমার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হবে না। বস্তুত তাকে আসমান থেকে ছুঁড়ে ফেলা হবে এবং সে ক্ববরের মধ্যে এসে পড়বে। (ইবনে মাজাহ্) [১]

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৪২৬২, আহমাদ ৮৭৭০, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ১৯৬৮।

১৬২৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২৮


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «إِذَا خَرَجَتْ رُوْحُ الْمُؤْمِنِ تَلَقَّاهَا مَلَكَانِ يُصْعِدَانِهَا» . قَالَ حَمَّادٌ: فَذَكَرَ مِنْ طِيْبِ رِيْحِهَا وَذَكَرَ الْمِسْكَ قَالَ: «وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ صَلَّى اللّهُ عَلَيْكِ وَعَلى جَسَدٍ كُنْتِ تُعَمِّرِينَه فَيُنْطَلَقُ بِه إِلى رَبِّه ثُمَّ يَقُولُ: انْطَلِقُوا بِه إِلى اخِرِ الْأَجَلِ». قَالَ: «وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا خَرَجَتْ رُوحُه» قَالَ حَمَّادٌ: وَذَكَرَ مِنْ نَتَنِهَا وَذَكَرَ لَعْنَهَا. «وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ خَبِيثَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ فَيُقَالُ: انْطَلِقُوا بِه إِلى اخِرِ الْأَجَلِ» قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَرَدَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ رَيْطَةً كَانَت عَلَيْهِ عَلى أَنْفِه هَكَذَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন মুমিনদের রূহ (তার শরীর থেকে) বের হয়, তখন দু’জন মালাক (ফেরেশতা) তার কাছে আসেন, তাকে নিয়ে আকাশের দিকে রওনা হন। পরবর্তী রাবী হাম্মাদ বলেন, এরপর তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অথবা আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) ঐ ব্যক্তির রূহের খুশবু ও মিস্‌কের কথা উল্লেখ করলেন। তারপর তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তখন আকাশবাসীরা বলবে, পাক-পবিত্র রূহ জমিন হতে এসেছে। তারপর তার রূহকে উদ্দেশ করে বলবে, তোমার ওপর আল্লাহ রহ্‌মাত করুন এবং শরীরের প্রতি, কারণ তুমি একে সঠিকভাবে ব্যবহার করেছ। এরপর এরা একে আল্লাহর কাছে আর্‌শে আযীমে নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ হুকুম দেবেন, তাকে নিয়ে যাও, ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কাফির ব্যক্তির রূহ তার শরীর থেকে বের করে আনা হয়, অতঃপর তিনি তার দুর্গন্ধের কথা উল্লেখ করলেন। তার প্রতি লা'নাতের উল্লেখ করলেন। তারপর বললেন, যখন তাদের রূহ আকাশ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে তখন আকাশবাসী বলেন, একটি নাপাক রূহ জমিন হতে এসেছে, তাকে নিয়ে যাও এবং কিয়ামাত পর্যন্ত তাকে রেখে দাও। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাদরের কোণা তার নাকের উপর টেনে দিলেন (যেন দুর্গন্ধ হতে বাঁচতে চাইলেন)। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৮৭২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫০৪।

১৬২৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬২৯


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا حُضِرَ الْمُؤْمِنُ أَتَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ فَيَقُولُونَ: اخْرُجِىْ رَاضِيَةً مَرْضِيًّا عَنْكِ إِلى رَوْحِ اللّهِ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحِ الْمِسْكِ حَتّى إِنَّه لَيُنَاوِلُه بَعْضُهُمْ بَعْضًا حَتّى يَأْتُوا بِه أَبْوَابَ السَّمَاءِ فَيَقُولُونَ: مَا أَطْيَبَ هذِهِ الرِّيحَ الَّتِىْ جَاءَتْكُمْ مِنَ الْأَرْضِ فَيَأْتُونَ بِه أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِيْنَ فَلَهُمْ أَشَدُّ فَرَحًا بِه مِنْ أَحَدِكُمْ بِغَائِبِهِ يَقْدُمُ عَلَيْهِ فَيَسْأَلُونَه: مَاذَا فَعَلَ فُلَانٌ مَاذَا فَعَلَ فُلَانٌ؟ فَيَقُولُونَ: دَعُوهُ فَإِنَّه كَانَ فِىْ غَمِّ الدُّنْيَا. فَيَقُولُ: قَدْ مَاتَ أَمَا أَتَاكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: قَدْ ذُهِبَ بِه إِلى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ. وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا احْتُضِرَ أَتَتْهُ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ بِمِسْحٍ فَيَقُو لُونَ: أَخْرِجِىْ سَاخِطَةً مَسْخُوْطًا عَلَيْكِ إِلى عَذَابِ اللّهِ عَزَّ وَجَلَّ. فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيْحٍ جِيْفَةٍ حَتّى يَأْتُوْنَ بِه بَابَ الْأَرْضِ فَيَقُولُونَ: مَا أَنْتَنَ هذِهِ الرِّيحَ حَتّى يَأْتُوْنَ بِه أَرْوَاحَ الْكُفَّارِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন মুমিনের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) সাদা রেশমী কাপড় নিয়ে আসেন এবং রূহকে বলেন, তুমি আল্লাহ তা'আলার ওপর সন্তুষ্ট, আল্লাহও তোমার ওপর সন্তুষ্ট এ অবস্থায় দেহ হতে বেরিয়ে এসো এবং আল্লাহ তা'আলার করুণা, উত্তম রিয্‌ক্ব ও পরওয়ারদিগারের দিকে চলো। তিনি তোমার ওপর রাগাম্বিত নন। বস্তুতঃ মিস্কের খুশবুর মতো রূহ দেহ হতে বেরিয়ে আসে। মালাকগণ সম্মানের সাথে তাকে হাতে হাতে নিয়ে চলে। এমনকি আসমানের দরজা পর্যন্ত নিয়ে আসে। ওখানে মালাকগণ পরস্পর বলাবলি করেন, কি পবিত্র খুশবু জমিনের দিক হতে আসছে। তারপর তাকে মুমিনদের রূহের কাছে (ইল্লয়্যিনে) আনা হয়। ওই রূহগুলো এ রূহটিকে দেখে এভাবে খুশী হয়ে যায়, যেভাবে তোমাদের কেউ (সফর হতে ফিরে এলে তোমরা) এ সময় খুশী হও। তারপর সব রূহ এ রূহটিকে জিজ্ঞেস করে অমুক কি করে? অমুক কি করে তারা নিজেরা আবার বলাবলি করে, এখন এ রূহকে ছেড়ে দাও (অর্থাৎ কিছু জিজ্ঞেস করো না)। এখন যে দুনিয়ার শোকতাপে আছে। তারপর একটু স্বস্তির পরে (সে নিজেই বলে) অমুক ব্যক্তি যার সম্বন্ধে তোমরা জিজ্ঞেস করেছিলে, সে মরে গেছে। সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? রূহগুলো বলে, তাকে তো তার (উপযুক্ত স্থান) হাবিয়্যাহ্ জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। (ঠিক এভাবে কোন কফিরের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে তার কাছে আযাবের মালাক (ফেরেশতা) শক্ত চটের বিছানা নিয়ে আসেন। আর তার রূহকে বলেন, হে রূহ। আল্লাহর আযাবের দিকে বেরিয়ে এসো। এ অবস্থায় যে, তুমি আল্লাহর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলে, তিনিও তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট। তারপর রূহ তার (কাফির ব্যক্তির) দেহ থেকে পচা লাশের দুর্গন্ধ নিয়ে বেরিয়ে আসবে। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) একে জমিনের দরজার দিকে নিয়ে যাবে। সেখানে মালায়িকাহ্ বলবে, কত খারাপ এ দুর্গন্ধ। তারপর এ রূহটিকে কাফিরদের রূহের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। (আহমাদ, নাসায়ী) [১]

1] সহীহ : নাসায়ী ১৮৩৩, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১৩০৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৯০, ইবনু হিব্বান ৩০১৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫৫৯।

১৬৩০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩০


وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِىْ جَنَازَة رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ وَجَلَسْنَا حَوْلَه كَأَنَّ عَلى رُؤُوْسِنَا الطَّيْرَ وَفِي يَدِه عُودٌ يَنْكُتُ بِه فِي الْأَرْضِ فَرَفَعَ رَأْسَه فَقَالَ: اسْتَعِيذُوا بِاللّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ» مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْاخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاء مَلَائِكَة بِيضُ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ مَعَهُمْ كَفَنٌ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ حَتّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ حَتّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِه فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ اخْرُجِىْ إِلى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللهِ وَرِضْوَانٍ» قَالَ: «فَتَخْرُجُ تَسِيْلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنْ فِي السِّقَاءِ فَيَأْخُذُهَا فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِىْ يَدِه طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتّى يَأْخُذُوهَا فَيَجْعَلُوهَا فِىْ ذلِكَ الْكَفَنِ وَفِىْ ذلِكَ الْحَنُوطِ وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَطْيَبِ نَفْحَةِ مِسْكٍ وُجِدَتْ عَلى وَجْهِ الْأَرْضِ» قَالَ: «فَيَصْعَدُوْنَ بِهَا فَلَا يَمُرُّونَ - يَعْنِىْ بِهَا - عَلى مَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: مَا هذِهِ الرُّوْحُ الطَّيِّبُ فَيَقُولُوْنَ: فُلَانُ بْنِ فُلَانٍ بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِىْ كَانُوا يُسَمُّونَه بِهَا فِي الدُّنْيَا حَتّى يَنْتَهَوْا بهَا إِلى سَمَاء الدُّنْيَا فَيَسْتَفْتِحُوْنَ لَه فَيُفْتَحَ لَه فَيُشَيِّعُه مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِىْ تَلِيهَا حَتّى يَنْتَهِىَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ - فَيَقُولُ اللّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِىْ فِىْ عِلِّيِّينَ وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا أُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا أَخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرى قَالَ: «فَتُعَادُ رُوْحُه فَيَأْتِيْهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِه فَيَقُولُونَ لَه: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللهُ فَيَقُولُونَ لَه: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: دِينِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ لَه: مَا هذَا الرَّجُلُ الَّذِىْ بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُول: هُوَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَيَقُولَانِ لَه: وَمَا عِلْمُكَ؟ فَيَقُولُ: قَرَأْتُ كِتَابَ اللّهِ فَامَنْتُ بِه وَصَدَّقْتُ فَيُنَادِىْ مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ قَدْ صَدَقَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَه بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ» قَالَ: «فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَه فِي قَبْرِه مَدَّ بَصَرِه» قَالَ: «وَيَأْتِيْهِ رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ حَسَنُ الثِّيَابِ طَيِّبُ الرِّيْحِ فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِالَّذِىْ يَسُرُّكَ هذَا يَوْمُكَ الَّذِىْ كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ لَه: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيء بِالْخَيْرِ فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ فَيَقُولُ: رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ حَتّى أَرْجِعَ إِلى أَهْلِىْ وَمَالِىْ». قَالَ: «وَإِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْاخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوُجُوهِ مَعَهُمُ الْمُسُوحُ فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ حَتّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِه فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ اخْرُجِىْ إِلى سَخَطٍ مِنَ اللّهِ» قَالَ: «فَتُفَرَّقُ فِىْ جَسَدِه فَيَنْتَزِعُهَا كَمَا يُنْتَزَعُ السَّفُوْدُ مِنَ الصُّوْفِ الْمَبْلُوْلِ فَيَأْخُذُهَا فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِه طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتّى يَجْعَلُوهَا فِي تِلْكَ الْمُسُوحِ وَيخرج مِنْهَا كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ وُجِدَتْ عَلى وَجْهِ الْأَرْضِ فَيَصْعَدُونَ بِهَا فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلى مَلَأٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا: مَا هذَا الرُّوْحُ الْخَبِيْثُ؟ فَيَقُولُونَ: فلَانُ بْنِ فُلَانٍ - بِأَقْبَحِ أَسْمَائِهِ الَّتِىْ كَانَ يُسَمّى بِهَا فِي الدُّنْيَا - حَتَّى يَنْتَهِي بهَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيُسْتَفْتَحُ لَه فَلَا يُفْتَحُ لَه» ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ ﴿لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَآءِ وَلَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِيْ سَمِّ الْخِيَاطِ﴾ [الأعراف 7 : 40] «فَيَقُولُ اللّهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَه فِىْ سِجِّين فِي الأَرْض السُّفْلى فَتُطْرَحُ رُوْحُه طَرْحًا» ثُمَّ قَرَأَ: ﴿وَمَنْ يُّشْرِكْ بِاللّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَآءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيْحُ فِيْ مَكَانٍ سَحِيْقٍ﴾ [الحج 22 : 31] «فَتُعَادُ رُوحُه فِي جَسَدِه وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِه فَيَقُولَانِ لَه: مَنْ رَبُّكَ: فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِيىْ فَيَقُولَانِ لَه: مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَه: مَا هذَا الرَّجُلُ الَّذِىْ بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ: هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِىْ فَيُنَادِىْ مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ عَبْدِىْ فَأَفْرِشُوْا لَه مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَه بَابًا إِلَى النَّارِ فَيَأْتِيهِ حَرُّهَا وَسَمُومُهَا وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُه حَتّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُه وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ قَبِيحُ الثِّيَابِ مُنْتِنُ الرِّيْحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِىْ يَسُوْؤُكَ هذَا يَوْمُكَ الَّذِىْ كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالشَّرِّ فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ فَيَقُولُ: رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ». وَفِي رِوَايَة نَحْوُه وَزَاد فِيهِ: «إِذَا خَرَجَ رُوحُه صَلّى عَلَيْهِ كُلُّ مَلَكٍ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَكُلُّ مَلَكٍ فِي السَّمَاءِ وَفُتِحَتْ لَه أَبْوَابُ السَّمَاءِ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَابٍ إِلَّا وَهُمْ يَدْعُونَ اللّهَ أَنْ يُعْرَجَ بِرُوحِه مِنْ قِبَلِهِمْ. وَتُنْزَعُ نَفْسُه يَعْنِي الْكَافِرَ مَعَ الْعُرُوقِ فَيَلْعَنُه كُلُّ مَلَكٍ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَكُلُّ مَلَكٍ فِي السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَابٍ إِلَّا وَهُمْ يَدْعُونَ اللّهَ أَنْ لَا يُعْرِجَ رُوحَه مِنْ قَبْلِهِمْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক আনসারীর জানাযায় ক্ববরের কাছে গেলাম। (তখনো ক্ববর তৈরি করা শেষ হয়নি বলে) লাশ ক্ববরস্থ করা হয়নি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক জায়গায় বসে থাকলেন। আমরাও তাঁর আশেপাশে (চুপচাপ) বসে আছি এমনভাবে যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসে আছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ছিল একটি কাঠ। তা দিয়ে তিনি (নিবিষ্টভাবে) মাটি নাড়াচাড়া করছিলেন। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, ক্ববরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করো। এ কথা তিনি দু’বার কি তিনবার বললেন। তারপর বললেন, মুমিন বান্দা দুনিয়ার জীবন শেষ করে পরকালের দিকে যখন ফিরে চলে (মৃত্যুর কাছাকাছি হয়) তখন আসমান থেকে খুবই আলোকোজ্জ্বল চেহারার কিছু মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার কাছে যান। তাঁদের চেহারা যেন দীপ্ত সূর্য। তাদের সাথে (জান্নাতের রেশমী কাপড়ের) কাফন ও জান্নাতের সুগন্ধি থাকে। তারা তার দৃষ্টির দূর সীমায় বসবে। তারপর মালাকুল মাওত আসবেন, তার মাথার কাছে বসবেন ও বলবেন, হে পবিত্র আত্ম। আল্লাহর মাগফিরাত ও তার সস্তুষ্টির কাছে পৌঁছবার জন্য দেহ থেকে বেরিয়ে আসো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এ কথা শুনে মুমিন বান্দার রূহ তার দেহ হতে এভাবে বেরিয়ে আসে যেমন মশক হতে পানির ফোটা বেয়ে পড়ে। তখন মালাকুল মাওত এ রূহকে নিয়ে নেন। তাকে নেবার পর অন্যান্য মালাকগণ এ রূহকে তার হাতে এক পলকের জন্যও থাকতে দেন না। তারা তাকে তাদের হাতে নিয়ে নেন ও তাদের হাতে থাকা কাফন ও খুশবুর মধ্যে রেখে দেন। তখন এ রূহ হতে উত্তম সুগন্ধি ছড়াতে থাকে যা তার পৃথিবীতে পাওয়া সর্বোত্তম সুগন্ধির চেয়েও উত্তম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর ওই মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) এ রূহকে নিয়ে আকাশের দিকে রওয়ানা হন (যাবার পথে) সাক্ষাত হওয়া মালায়িকার কোন একটি দলও এ 'পবিত্র রূহ কার' জিজ্ঞেস করতে ছাড়েন না। তারা বলে অমুকের পুত্র অমুক। তাকে তার উত্তম নাম ও যেসব নামে তাকে দুনিয়ায় ডাকা হত, সে পরিচয় দিয়ে চলতে থাকেন। এভাবে তারা এ রূহকে নিয়ে প্রথম আসমানে পৌছেন ও আসমানের দরজা খুলতে বলেন, দরজা খুলে দেয়া হয়। প্রত্যেক আসমানের নিকটবর্তী মালাকগণ এদের সাথে দ্বিতীয় আসমান পর্যন্ত যায়। এভাবে সাত আসমান পর্যন্ত , পৌঁছিয়ে দেয়া হয়। (এ সময়) আল্লাহ তা'আলা মালাকগণকে বলেন, এ বান্দার আমলনামা ইল্লীয়্যিনে' লিখে রাখো আর রূহকে জমিনে (ক্ববরে) পাঠিয়ে দাও (যাতে ক্ববরের) সওয়াল জবাবের জন্য তৈরি থাকে। কারণ আমি তাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছি। আর মাটিতেই তাদেরকে ফেরত পাঠাব। আর এ মাটি হতেই আমি তাদেরকে আবার উঠাব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এরপর আবার এ রূহকে নিজের দেহের মধ্যে পৌঁছিয়ে দেয়া হয়। তারপর তার কাছে দু'জন মালাক (ফেরেশতা) (মুনকির নাকীর) এসে তাকে বসিয়ে নেন। তারপর তাকে প্রশ্ন করেন, তোমার রব কে? সে উত্তর দেয়, আমার রব 'আল্লাহ। আবার তারা দু'জন জিজ্ঞেস করেন, তোমার দ্বীন কি? তখন সে উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ইসলাম। আবার তারা দু মালাক প্রশ্ন করেন, এ ব্যক্তি কে? যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সে ব্যক্তি উত্তর দিবে, ইনি হলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তারপর তারা দু’জন বলবেন, তুমি কিভাবে জানলে? ওই ব্যক্তি বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব' পড়েছি, তাই আমি তাঁর ওপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী (আল্লাহ) আহ্বান করে বলবেন, আমার বান্দা সত্যবাদী। অতএব তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছাও, তাকে পরিধান করাও জান্নাতের পোশাক-পরিচ্ছদ, তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দাও। (তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সে দরজা দিয়ে তার জন্য জান্নাতের হাওয়া ও খুশবু আসতে থাকবে। তারপর তার ক্ববরকে দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর একজন সুন্দর চেহারার লোক ভাল কাপড়-চোপড় পরে সুগন্ধি লাগিয়ে তার কাছে আসবে। তাকে বলবে, তোমার জন্য শুভ সংবাদ, যা তোমাকে খুশী করবে। এটা সেদিন, যেদিনের ওয়া'দা তোমাকে দেয়া হয়েছিল। সে ব্যক্তি বলবে, তুমি কে? তোমার চেহারার মতো লোক কল্যাণ নিয়েই আসে। তখন সে ব্যক্তি বলবে, আমি তোমার নেক আমাল। মুমিন ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ! তুমি ক্বিয়ামাত কায়িম করে ফেলো। হে আল্লাহ। তুমি ক্বিয়ামাত কায়িম করে ফেলো। আমি যেন আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের কাছে যেতে পারি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কাফির ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন শেষ করে যখন আখিরাতে পদার্পণ করবে, আসমান থেকে আযাবের মালায়িকা নাযিল হবেন। তাদের চেহারা নিকষ কালো। তাদের সাথে কাঁটাযুক্ত কাফনের কাপড় থাকবে। তারা দৃষ্টির শেষ সীমায় এসে বসেন। তারপর মালাকুল মাওত আসবেন ও তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন, হে নিকৃষ্ট আত্মা আল্লাহর আযাবে লিপ্ত হবার জন্য তাড়াতাড়ি দেহ হতে বের হও। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কফিরের রূহ এ কথা শুনে তার গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তখন মালাকুল মাওত তার রূহকে শক্তি প্রয়োগ করে টেনে হেঁচড়ে বের করে নিয়ে আসেন, যেভাবে লোহার গরম শলাকা ভিজা পশম হতে টেনে বের করা হয় (আর এতে পশম আটকে থাকে)। মালাকুল মাওত রূহ বের করে আনার পর অন্যান্য মালায়িকাহ্ এ রূহকে মালাকুল মাওতের হাতে এক পলকের জন্য থাকতে দেন না বরং তারা নিয়ে (কাফনের কাপড়ে) মিশিয়ে দেন। এ রূহ হতে মরা লাশের দুৰ্গন্ধ বের হয় যা দুনিয়ায় পাওয়া যেত। মালায়িকাহ্ এ রূহকে নিয়ে আসমানের দিকে চলে যান। যখন মালায়িকার কোন দলের কাছে পৌঁছেন, তারা জিজ্ঞেস করেন, এ নাপাক রূহ কার? মালায়িকাহ্ জবাব দেন, এটা হলো অমুক ব্যক্তির সস্তান অমুক। তাকে খারাপ নাম ও খারাপ বিশেষণে ভূষিত করেন, যেসব নামে তাকে দুনিয়ায় ডাকা হত। এভাবে যখন আসমান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়া হয়, তার জন্য আসমানের দরজা খুলতে বলা হয়। কিন্তু আসমানের দরজা তার জন্য খোলা হয় না। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (দলীল হিসেবে) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, (অনুবাদ) "ওই কাফিরদের জন্য আসমানের দরজা খোলা হবে না, আর না তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, যে পর্যন্ত উট সুইয়ের ছিদ্র পথে প্রবেশ করবে।" এবার আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তার ‘আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও যা জমিনের নীচতলায়। বস্তুত কাফিরদের রূহ (নিচে) নিক্ষেপ করে ফেলে দেয়া হয়। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দলীল হিসেবে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, "(অনুবাদ) যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক করেছে, সে যেন আকাশ হতে নিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। তাকে পশু পাখী ঠুকরিয়ে নেয় (অর্থাৎ ধ্বংস হয়ে যায়)। অথবা ঝড়ো বাতাস তাকে (উড়িয়ে নিয়ে) দূরে নিক্ষেপ করে ফেলে দেয়। (অর্থাৎ আল্লাহর রহ্মাত থেকে দূরে সরে যায়)।" রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর তার রূহকে তার দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়। (এ সময়) দু'জন মালাক তার কাছে আসেন। বসিয়ে দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন, "তোমার রব কে? (সে কাফির ব্যক্তি কোন সদুত্তর দিতে না পেরে) বলবে, “হায়! হায়! আমি কিছু জানি না।" তারপর তারা দুজন জিজ্ঞেস করবেন, “তোমার দ্বীন কি?" সে (কাফির ব্যক্তি) বলবে, "হায়! হায়! আমি কিছু জানি না।" তারপর তারা দু'জন জিজ্ঞেস করেন, “এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?" সে বলে, “হায়! হায়! আমি কিছু জানি না।" তখন আসমান থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলেন, এ ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে, অতএব তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও, তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। (তখন সে দরজা দিয়ে তার কাছে) জাহান্নামের গরম বাতাস আসতে থাকবে। তার ক্ববরকে এত সংকীর্ণ করা হবে যে, (দু’পাশ মিলে যাবার পর) তার পাঁজরের এদিকের (হাড়গুলো) ওদিকে, ওদিকেরগুলো এদিকে বের হয়ে আসবে। তারপর তার কাছে একটি কুৎসিত চেহারার লোক আসবে, তার পরনে থাকবে ময়লা, নোংরা কাপড়। তার থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকবে। এ কুৎসিত লোকটি (ক্ববরে শায়িত লোকটিকে) বলতে থাকবে, তুমি একটি খারাপ খবরের সংবাদ শুনো যা তোমাকে চিন্তায় ও শোকে-দুঃখে কাতর করবে। আজ ওইদিন, যেদিনের ওয়াদা (দুনিয়ায়) তোমাকে করা হয়েছিল। সে জিজ্ঞেস করে, তুমি কে? তোমার চেহারা এত কুৎসিত যে, খারাপ ছাড়া কোন (ভাল) খবর নিয়ে আসতে পারে না। সে লোকটি বলবে, “আমি তোমার বদ আমাল"৷ এ কথা শুনে ওই মুর্দা ব্যক্তি বলবে, হে আমার পরোয়ারদিগার। "তুমি ক্বিয়ামাত ক্বায়িম করো না।" আর একটি বর্ণনায় এতটুকু বেশী বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তার (মুমিনের) রূহ বের হয়ে যায়, জমিনের ও আকাশের সব মালায়িকাহ্ তার ওপর রহ্‌মাত পাঠাতে থাকেন। তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। প্রত্যেক আসমানের দরজার মালাক আল্লাহ তা'আলার কাছে এ মুমিনের রূহ তার কাছ দিয়ে আসমানের দিকে নিয়ে যাবার আবেদন জানায় (যাতে এ মালাক মুমিনের রূহের সাথে চলার মর্যাদা লাভ করতে পারে।) আর কাফিরের রূহ তার রগের সাথে সাথে টেনে বের করা হয়। এ সময় আসমান ও জমিনের সকল মালাক তার ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করতে থাকেন। আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। সমস্ত দরজার মালাকগণ (আল্লাহর নিকট) আবেদন জানায়, তার দরজার কাছ দিয়ে যেন তার রূহকে আকাশে উঠানো না হয়। (আহ্‌মাদ)" [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ১৮৫৩৪, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১২০৫৯, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১০৭, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫৫৮, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ১৬৭৬।

১৬৩১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩১


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: لَمَّا حَضَرَتْ كَعْبًا الْوَفَاةُ أَتَتْهُ أُمُّ بِشْرٍ بِنْتُ الْبَرَاءِ بْنِ مَعْرُورٍ فَقَالَتْ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ إِنْ لَقِيتَ فُلَانًا فَاقْرَأْ عَلَيْهِ مِنِّي السَّلَامَ. فَقَالَ: غَفَرَ اللّهُ لَكِ يَا أُمَّ بِشْرٍ نَحْنُ أَشْغَلُ مِنْ ذلِكَ فَقَالَتْ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ أَمَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُوْلُ: «إِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فِي طَيْرٍ خُضْرٍ تَعْلُقُ بِشَجَرِ الْجَنَّةِ؟» قَالَ: بَلى. قَالَتْ: فَهُوَ ذَاكَ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ

আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, (আমার পিতা) কা’ব-এর মৃত্যু আসন্ন হলে ইবনু মা’রূর-এর কন্যা উম্মু বিশ্র (রাঃ) তার কাছে এলেন এবং বলতে লাগলেন, হে আবূ আবদুর রহমান (কা’ব-এর ডাক নাম) আপনি মৃত্যুবরণ করার পর (আলামে বারযাখে) অমুক ব্যক্তির সাথে দেখা হলে তাকে আমাদের সালাম বলবেন। এ কথা শুনে কা'ব বললেন, হে উম্মু বিশ্র! আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। ওখানে আমার সবচেয়ে বেশী ব্যস্ততা থাকবে। তখন উম্মু বিশ্‌র (রাঃ) বললেন, হে আবূ আবদুর রহ্মান। আপনি কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেননি? আলামে বারযাখে মু’মিনদের রূহ সবুজ পাখির ক্বালবে থেকে জান্নাতের গাছ হতে ফল-ফলাদি খেতে থাকবে। কা'ব বললেন, হ্যাঁ, আমি শুনেছি। উম্মু বিশ্র (রাঃ) বললেন, এটাই হলো (তাই আপনি এ মর্যাদা পাবেন বলে আশা করা যায়)। (ইবনু মাজাহ্, বায়হাক্বী- কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশুর)” [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ১৪৪৯। কারণ এর সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহক একজন মুদাল্লিস রাবী সে عنعن সূত্রে হাদীস বর্ণনা করে।

১৬৩২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩২


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَنَّه كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «إِنَّا نَسْمَةَ الْمُؤْمِنِ طَيْرٌ تَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ حَتّى يُرْجِعَهُ اللّهُ فِي جَسَدِه يَوْمَ يَبْعَثُه» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَالنَّسَائِيّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ

‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, মুমিনের রূহ (আলামে বার্যাখে) পাখীর ক্বালবে থেকে জান্নাতের গাছ থেকে ফল-ফলাদি খেতে থাকবে যে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা (তাকে উঠাবার দিন) এ রূহ তার শরীরে ফিরিয়ে না দেন (অর্থাৎ ক্বিয়ামাতের দিন)।" (মালিক, নাসায়ী, বায়হাক্বী- কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর)" [১]

[১] সহীহ : নাসায়ী ২০৭৩, মালিক ৫৬৬, আহমাদ ১৫৭৯২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৩৭৩।

১৬৩৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩৩


وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللّهِ وَهُوَ يَمُوتُ فَقُلْتُ: اقْرَأْ عَلى رَسُولِ اللّهِ ﷺ السَّلَامً. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ

মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি (একবার) জাবির ইবনু আবদুল্লাহর কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি মৃত্যুশয্যায়। আমি তাঁর কাছে আরয করলাম, (আপনি আলামে বার্যাখে পৌঁছে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার সালাম দেবেন।" (ইবনু মাজাহ্) [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ১৪৫০, আহমাদ ১৯৪৮২। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর সানাদের সকল রাবী বিশ্বস্ত হলেও আহমাদ ইবনু আযহার সম্পর্কে ইমাম হাকিম (রহঃ) বলেছেন, বৃদ্ধ বয়সে তাকে তালকীন দিতে হত। আর ইবনু হিব্বান বলেছেন, সে ভুল করে।

পরিচ্ছদঃ ৪.

প্রথম অনুচ্ছেদ

১৬৩৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩৪


عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ وَنَحْنُ نُغَسِّلُ ابْنَتَه فَقَالَ: اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذلِكِ إِنْ رَأَيْتُنَّ ذلِكَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الْاخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَاذِنَّنِىْ فَلَمَّا فَرَغْنَا اذَنَاهُ فَألْقى إِلَيْنَا حِقْوَه وَقَالَ: «أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ» وَفِىْ رِوَايَةٍ: «اغْسِلْنَهَا وِتْرًا: ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا وَابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهَا». وَقَالَتْ فَضَفَّرْنَا شَعَرَهَا ثَلَاثَةَ قُرُونٍ فَأَلْقَيْنَاهَا خَلْفَهَا. (مُتَّفق عَلَيْهِ)

উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা (যায়নাবকে) গোসল করাচ্ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের কাছে এলেন। তিনি বললেন, তোমরা তিনবার, পাঁচবার, প্রয়োজন বোধ করলে এর চেয়ে বেশী বার; পানি ও বরই পাতা দিয়ে তাকে গোসল দাও। আর শেষ বার দিকে ‘কাফূর’। অথবা বলেছেন, কাফূরের কিছু অংশ পানিতে ঢেলে দিবে, গোসল করাবার পর আমাকে খবর দিবে। তাঁকে গোসল করাবার পর আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খবর দিলাম। তিনি এসে তহবন্দ বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, এ তহবন্দটি তাঁর শরীরের সাথে লাগিয়ে দাও। আর এক বর্ণনার ভাষা হলো, তাকে বেজোড় তিন অথবা পাঁচ অথবা সাতবার (পানি ঢেলে) গোসল দাও। আর গোসল ডানদিক থেকে উযুর জায়গাগুলো দিয়ে শুরু করবে। তিনি (উম্মু আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ) বলেন, আমরা তার চুলকে তিনটি বেনী বানিয়ে পেছনের দিকে ছেড়ে দিলাম। (বুখারী, মুসলিম)" [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১২৫৩, ১২৫৪, ১২৫৮, ১২৬৩, মুসলিম ৯৩৯। আবূ দাঊদ ৩১৪২, আত্ তিরমিযী ৯৯০, নাসায়ী ১৮৮১, ১৮৮৬, ইবনু মাজাহ্ ১৪৫৮, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৫২, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৯০১, আহমাদ ২০৭৯০, ইবনু হিব্বান ৩০৩২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৩৬৩১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭২, ইরওয়া ১২৯।

১৬৩৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩৫


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ كُفِّنَ فِىْ ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ يَمَانِيَّةٍ بِيضٍ سَحُولِيَّةٍ مِنْ كُرْسُفٍ لَيْسَ فِيهَا قَمِيْصٌ وَلَا عِمَامَةٌ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তিন কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। যা সাহুলিয়্যাহ্ সাদা সূতি কাপড় সাদা ইয়ামানী। এতে কোন সেলাই করা কুর্তা ছিল না, পাগড়ীও ছিল না। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১২৬৪, মুসলিম ৯৪১, নাসায়ী ১৮৯৮, ইবনু হিব্বান ১৪৬৯, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৫৩, আহমাদ ২৫৬৮০, ইবনু হিব্বান ৩০৩৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬৭১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭৬।

১৬৩৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩৬


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَه» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন তোমাদের কোন ভাইকে কাফন দিবে তখন উচিত হবে উত্তম কাফন দেয়া। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৪৩, আবূ দাঊদ ৩১৪৮, আত্ তিরমিযী ৯৯৫, নাসায়ী ১৮৯৫, আহমাদ ১৪১৪৫, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৩৬৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬৯৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭৮, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৮৪৪।

১৬৩৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩৭


وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا كَانَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَوَقَصَتْهُ نَاقَتُه وَهُوَ مُحْرِمٌ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ وَلَا تَمَسُّوهُ بِطِيْبٍ وَلَا تُخَمِّرُوْا رَأْسَه فَإِنَّه يُبْعَثُ يَوْم الْقِيَامَة مُلَبِّيًا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ خَبَّابٍ: قَتْلُ مُصْعَبِ بْنِ عُمَيْرٍ فِي بَابِ جَامِعِ الْمَنَاقِبِ إِنْ شَاءَ اللّهُ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি (হাজ্জের সময়) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলেন। তার উটটি (তাকে পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে) তার ঘাড় ভেঙে দিলো। তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। এ অবস্থায়ই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও। আর তাকে তার দু’টি কাপড় দিয়ে কাফন দাও। তার গায়ে কোন সুগন্ধি লাগিও না, তার মাথাও ঢেক না। কারণ তাকে ক্বিয়ামাতের দিন ‘লাব্বায়ক’ বলা অবস্থায় উঠানো হবে। (বুখারী, মুসলিম) [৬৭৭] মুস’আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) এর নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কিত খব্বাব (রাঃ)-এর হাদীসটি আমরা অচিরেই “সাহাবীগণের মর্যাদা” অধ্যায়ে উল্লেখ করব ইন্শা-আল্লা-হ। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৮৫১, মুসলিম ১২০৬, নাসায়ী ২৮৫৩, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৬২৫২, আহমাদ ১৮৫০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৮০, ইরওয়া ৬৯৪, সহীহ আত্ তারগীব ১১১৫।

পরিচ্ছদঃ ৪.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৬৩৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩৮


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مَنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَمِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدُ فَإِنَّه يُنْبِتُ الشِّعْرَ وَيَجْلُوا الْبَصَرَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে, কারণ সাদা কাপড়ই সবচেয়ে ভাল। আর মুর্দাকে সাদা কাপড় দিয়েই কাফন দিবে। তোমাদের জন্য সুরমা হলো ‘ইসমিদ’ কারণ এ সুরমা ব্যবহারে তোমাদের চোখের পাপড়ি নতুন করে গজায় ও চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪০৬১, আত্ তিরমিযী ৯৯৪, নাসায়ী ৫৩২২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক্ব ৬২০০, আহমাদ ৩৪২৬, ইবনু হিব্বান ৫৪২৩, শু‘আবুল ঈমান ৫৯০৫, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৭৭, সহীহ আত্ তারগীব ২০২৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ১২৩৬।

১৬৩৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৩৯


وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا تَغَالَوْا فِي الْكَفَنِ فَإِنَّه يُسْلَبُ سَلْبًا سَرِيعًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কাফনে খুব বেশী মূল্যবান কাপড় ব্যবহার করবে না। কারণ এ কাপড় খুব তাড়াতাড়ি ছিঁড়ে যায়। (আবূ দাঊদ) [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩১৫৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬৯৫, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬২৪৭। কারণ এর সানাদের রাবী আমর ইবনু হাশিম আবূ মালিক আল জানাবী সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেছেন, সে লীনুল হাদীস (হাদীস বর্ণনায় শিথিল)।

১৬৪০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪০


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّه لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ. دَعَا بِثِيَابٍ جُدُدٍ فَلَبِسَهَا ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «الْمَيِّتُ يُبْعَثُ فِي ثِيَابِهِ الَّتِىْ يَمُوتُ فِيهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো তখন তিনি নতুন কাপড় আনালেন এবং তা পরিধান করলেন। তারপর বললেন, আমি রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, মুর্দাকে (হাশরের দিন) সে কাপড়েই উঠানো হবে, যে কাপড়ে সে মৃত্যুবরণ করে। (আবূ দাঊদ) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১১৪, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১২৬০, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬০৩।

১৬৪১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪১


وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ رَسُولِ اللّهِ ﷺ قَالَ: «خَيْرُ الْكَفَنِ الْحُلَّةُ وَخَيْرُ الْأُضْحِيَةِ الْكَبْشُ الْأَقْرَنُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বলেছেনঃ সবচেয়ে উত্তম ‘কাফন’ হলো “হুল্লাহ্”, আর সর্বোত্তম কুরবানীর পশু হলো শিংওয়ালা দুম্বা। (আবূ দাঊদ) [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩১৫৬, য‘ঈফ আল জামি‘ আস্ সগীর ২৮৮১, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৬৭৯। কারণ এর সানাদে হাতিম বিন আবী নাসর একজন মাজহূল রাবী যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেছেন।

১৬৪২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪২


وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ

তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্ আবূ উমামাহ্ (রা.) হতে। [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ৩১৩০, আত্ তিরমিযী ১৫১৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৬৭৯। কারণ আত্ তিরমিযী সানাদে ‘উফায়র ইবনু মা‘দান একজন দুর্বল রাবী। আর ইবনু মাজার সানাদে ‘আলী ইবনু ‘আসিম এবং আ‘ত্ব ইবনু আস্ সায়িব উভয়েই দুর্বল রাবী।

১৬৪৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪৩


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَمَرَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ بِقَتْلى أُحُدٍ أَنْ ينْزع عَنْهُم الْحَدِيدُ وَالْجُلُودُ وَأَنْ يُدْفَنُوا بِدِمَائِهِمْ وَثِيَابِهِمْ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদ যুদ্ধের ‘শহীদদের’ শরীর থেকে লোহা, (হাতিয়ার, শিরস্ত্রাণ) চামড়া ইত্যাদি (যা রক্তমাখা নয়) খুলে ফেলার ও তাদেরকে তাদের রক্ত ও রক্তমাখা কাপড়-চোপড়সহ দাফন করতে নির্দেশ দেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩১৩৪, ইবনু মাজাহ্ ১৫১৫, আহমাদ ২২১৭, ইরওয়া ৭১০। আলবানী (রহঃ) বলেন এর সানাদে আত্ব বিন আস্ সায়িব একজনে ‘‘মুখতালাত্ব ফি’’ রাবী এবং ‘আলী ইবনু ‘আসিম সত্যবাদী কিন্তু ভুল করে যেমনটি ইবনু হাজার (রহঃ) বলেছেন।

পরিচ্ছদঃ ৪.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৬৪৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪৪


عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمنِ بْنَ عَوْفٍ أُتِيَ بِطَعَامٍ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ: قُتِلَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّىْ كُفِّنَ فِىْ بُرْدَةٍ إِنْ غُطِّيَ رَأْسُه بَدَتْ رِجْلَاهُ وَإِنْ غُطِّيَ رِجْلَاهُ بَدَا رَأْسُه وَأْرَاهُ قَالَ: وَقُتِلَ حَمْزَةُ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّىْ ثُمَّ بُسِطَ لَنَا مِنَ الدُّنْيَا مَا بُسِطَ أَوْ قَالَ: أُعْطِينَا مِنَ الدُّنْيَا مَا أُعْطِينَا وَلَقَدْ خَشِينَا أَنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجِّلَتْ لَنَا ثُمَّ جَعَلَ يَبْكِىْ حَتّى تَرَكَ الطَّعَامَ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

সা‘দ ইবনু ইব্রাহীম থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর পিতা ইব্‌রাহীম (রাঃ) হতে বর্ননা করেছেন যে, একবার ‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) সওম রেখেছিলেন। (সন্ধ্যায়) তাঁর খাবার আনানো হলো। তিনি বললেন উহুদ যুদ্ধের শাহীদ মুস্‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। কিন্তু তাঁকে শুধু একটি চাদর দিয়ে দাফন করা হয়েছিল। এটা এমনই খাটো ছিল যে, যদি মাথা ঢাকা হত পা খুলে যেত আর পা ঢাকা হলে মাথা খুলে যেত। (সর্বশেষে [চাদর দিয়ে] তার মাথা ঢেকে পাগুলোর উপর ‘ইযখির’ [ঘাস] দেয়া হয়েছিল)। (হাদীসের রাবী) ইব্‌রাহীম বলেন, আমার মনে হয় ‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু ‘আওফ এ কথাও বলেছেন, (উহুদের) আরেক শাহীদ হামযাহ্ও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। (মুস্‘আব-এর মতো) তাঁরও এক চাদরে দাফন নাসীব হয়েছিল। (এখন মুসলিমদের দরিদ্র আল্লাহর ফযলে দূর হয়েছে) আমাদের জন্য এখন দুনিয়া বেশ প্রশস্ত হয়েছে, যা দৃশ্যমান। অথবা তিনি বলেছেন, “দুনিয়া এখন আমাদেরকে এতই পর্যাপ্ত পরিমাণে দেয়া হয়েছে যে, আমার ভয় হয় আমাদের নেক কাজের বিনিময় ফল আমরা মৃত্যুর আগে দুনিয়াতেই পেয়ে যাই কিনা। অতঃপর ‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু আওফ কাঁদতে লাগলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত সামনের খাবারই ছেড়ে দিলেন। (বুখারী) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১২৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৬৮৩।

১৬৪৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪৫


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: أَتى رَسُولَ اللّهِ ﷺ عَبْدُ اللّهِ بْنَ أُبَيٍّ بَعْدَمَا أُدْخِلَ حُفْرَتَه فَأَمَرَ بِه فَاُخْرِجَ فَوَضَعَه عَلى رُكْبَتَيْهِ فَنَفَثَ فِيهِ مِنْ رِيقِه وَأَلْبَسَه قَمِيصَه قَالَ: وَكَانَ كَسَا عَبَّاسًا قَمِيْصًا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুনাফিক্ব দলপতি ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে ক্ববরে নামাবার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে ক্ববর থেকে উঠাবার নির্দেশ দিলেন। ক্ববর থেকে উঠাবার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে তাঁর দু‘হাঁটুর উপর রাখলেন। নিজের মুখের পবিত্র থুথু তার মুখে দিলেন। নিজের জামা তাকে পরালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই ‘আব্বাস (রাঃ) কে তার নিজের জামা পরিয়েছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারীর ১৩৫০, মুসলিম ২৭৭৩, নাসায়ী ২০১৯, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৯৯৩৮।

পরিচ্ছদঃ ৫.

প্রথম অনুচ্ছেদ

১৬৪৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪৬


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُ سِوى ذلِكَ فَشَرٌّ تَضَعُوْنَه عَنْ رِقَابِكُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জানাযার কার্যক্রম সলাত তাড়াতাড়ি আদায় কর। কারণ মৃত ব্যক্তি যদি নেক মানুষ হয় তাহলে তার জন্য কল্যাণ। কাজেই তাকে কল্যাণের দিকে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেবে। সে এরূপ না হলে খারাপ হবে। তাই তাকে তাড়াতাড়ি নিজেদের ঘাড় থেকে নামিয়ে দাও। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩১৫, মুসলিম ৯৪৪, আবূ দাঊদ ৩১৮১, আত্ তিরমিযী ১০১৫, নাসায়ী ১৯১০, ১৯১১, ইবনু মাজাহ্ ১৪৭৭, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১১২৬৩, আহমাদ ৭২৬৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫০৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৯৬৪।

১৬৪৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪৭


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ فَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلى أَعْنَاقِهِمْ فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ: قَدِّمُونِىْ وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَت لِأَهْلهَا: يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُوْنَ بِهَا؟ يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ وَلَو سَمِعَ الْإِنْسَانُ لَصَعِقَ». رَوَاهُ البُخَارِيّ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জানাযাহ্ খাটিয়ায় রাখার পর লোকেরা যখন তাকে কাঁধে নেয় যে জানাযাহ্ যদি নেক লোকের হয় তাহলে সে বলে আমাকে (আমার মঞ্জীলের দিকে) তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো। আর যদি বদ লোকের হয়, সে (তার নিজ লোকদেরকে) বলে, হায়! হায়! আমাকে কোথায় নিয়ে চলছ। মুর্দারের কথার এ আওয়াজ মানুষ ছাড়া সবাই শুনে। যদি মানুষ এ আওয়াজ শুনত তাহলে বেহুশ হয়ে পড়ে যেত। (বুখারী) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩১৪-১৩১৬, নাসায়ী ১৯০৯, আহমাদ ১১৩৭২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৪৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৮৩১।

১৬৪৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪৮


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الْجَنَازَةَ فَقُوْمُوْا فَمَنْ تَبِعَهَا فَلَا يَقْعُدْ حَتّى تُوضَعَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

রাবী (আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন কোন লাশ দেখবে, দাঁড়িয়ে যাবে। যারা জানাযার সাথে থাকে তারা যেন (জানাযাহ্ লোকদের কাঁধ থেকে মাটিতে অথবা ক্ববরে) রাখার আগে না বসে। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩১০, মুসলিম ৯৫৯, আবূ দাঊদ ৩১৭২, আত্ তিরমিযী ১০৪২, নাসায়ী ১৯১৭, ইবনু মাজাহ্ ১৫৪২, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১১৯০৫, আহমাদ ১১১৯৫, ইবনু হিব্বান ৩০৫১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৭২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৮৫, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৬৫।

১৬৪৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৪৯


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: مَرَّتْ جَنَازَةٌ فَقَامَ لَهَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ وَقُمْنَا مَعَه فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللّهِ إِنَّهَا يَهُودِيَّةٌ فَقَالَ: «إِنَّ الْمَوْتَ فَزَعٌ فَإِذَا رَأَيْتُمْ الْجِنَازَة فَقُوْمُوْا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও তার সাথে দাঁড়ালাম। তারপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো এক ইয়াহুদী মহিলার জানাযাহ্। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন। মৃত্যু একটি ভীতিকর বিষয়। অতএব যখনই তোমরা জানাযাহ্ দেখবে দাঁড়িয়ে যাবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩১১, মুসলিম ৯৬০, আবূ দাঊদ ৩১৭৪, আহমাদ ১৪৪২৭, সুনানুল কুবরা লিল নাসায়ী ২০৬০, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ১৯৬৬।

১৬৫০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫০


وَعَن عَليّ قَالَ: رَأَيْنَا رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَامَ فَقُمْنَا وَقَعَدَ فَقَعَدْنَا يَعْنِىْ فِي الْجَنَازَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةِ مَالِكٍ وَأَبِي دَاوُدَ: قَامَ فِي الْجَنَازَةِ ثُمَّ قَعَدَ بَعْدُ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতে দেখলাম। আমরাও তার সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি বসলে আমরাও বসলাম। (মুসলিম, ইমাম মালিক ও আবূ দাঊদের বর্ণনার ভাষ্য হলো, তিনি জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতেন, তারপর বসতেন।) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৬২, আবূ দাঊদ ৩১৭৫।

১৬৫১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫১


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَكَانَ مَعَه حَتّى يُصَلّى عَلَيْهَا وَيُفْرَغَ مِنْ دَفْنِهَا فَإِنَّه يَرْجِعُ مِنَ الْأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ وَمَنْ صَلّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّه يَرْجِعُ بِقِيْرَاطٍ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের জানাযায় ঈমান ও ইহ্তিসাবের সাথে অংশগ্রহণ করে, এমনকি তার জানাযার সলাত আদায় করে ক্ববরে দাফন করা পর্যন্ত সাথে থাকে। এমন ব্যক্তি দু' ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ঘরে ফেরে। প্রত্যেক ক্বীরাত্ব উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাযার সলাত আদায় করে দাফন করার আগে ফিরে সে এক ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ফিরে এলো। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৭, মুসলিম ৯৪৫, নাসায়ীর ৫০৩২, আহমাদ ৯৫৫১, ইবনু হিব্বান ৩০৮০, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৯৮, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫০১।

১৬৫২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫২


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَعى لِلنَّاسِ النَّجَاشِيَّ الْيَوْمَ الَّذِىْ مَاتَ فِيهِ وَخرج بِهِمْ إِلَى الْمُصَلّى فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাবশার বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ তাঁর মৃত্যুর দিনই মানুষদেরকে জানিয়েছেন (অথচ তিনি মারা গিয়েছিলেন সুদূর হাবশায়)। তিনি সহাবা কিরামকে নিয়ে ঈদগায় গেলেন। সেখানে সকলকে জানাযার সলাতের জন্য কাতারবদ্ধ করলেন এবং চার তাকবীর বললেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৩৩, আবূ দাঊদ ৩২০৪, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৫৭, ইবনু হিব্বান ৩০৬৮, ইরওয়া ৭২৯, মুসলিম ৯৫১, নাসায়ী ১৯৭১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯৩১।

১৬৫৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫৩


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ أَبِىْ لَيْلى قَالَ: كَانَ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ يُكَبِّرُ عَلى جَنَائِزِنَا أَرْبَعًا وَأَنَّه كَبَّرَ عَلى جَنَازَةٍ خَمْسًا فَسَأَلْنَاهُ فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُكَبِّرُهَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) সলাতুল জানাযায় চার তাকবীর বলতেন। এক জানাযায় তিনি পাঁচ তাকবীরও বললেন। আমরা তখন তাঁকে (এর কারণ) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ তাকবীরও দিয়েছেন। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৫৭, আবূ দাঊদ ৩১৯৭, আত্ তিরমিযী ১০২৩, ইবনু মাজাহ্ ১৫০৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১১৪৪৮, আহমাদ ১৯৩২০।

১৬৫৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫৪


وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ فَقَالَ: لِتَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

ত্বলহাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস-এর পেছনে এক জানাযার সলাত আদায় করেছি। তিনি এতে সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পড়েছেন এবং বলেছেন, আমি (স্বরবে) সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ এজন্য পড়েছি, যেন তোমরা জানতে পারো সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পড়া সুন্নাত। (বুখারী) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৩৫, নাসায়ী ১৯৮৭, ইবনু হিব্বান ৩০৭১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯৫৬।

১৬৫৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫৫


وَعَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: صَلّى رَسُولُ اللّهِ ﷺ عَلى جَنَازَةٍ فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِه وَهُوَ يَقُولُ: «اللّهُمَّ اغْفِرْ لَه وَارْحَمْهُ وَعَافِه وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَه وَوَسِّعْ مُدْخَلَه وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّه مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِّنْ دَارِه وَأهْلًا خَيْرًا مِّنْ أَهْلِه وَزَوْجًا خَيْرًا مِّنْ زَوْجِه وَأدْخِلْهُ الْجنَّةَ وَأعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «وَقِه فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ» قَالَ حَتّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ أَنَا ذلِكَ الْمَيِّتُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক জানাযার সলাত আদায় করলেন। জানাযায় যেসব দু'আ তিনি পড়েছেন তা আমি মুখস্থ করে রেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন, “আল্ল-হুম্মাগ্ফির লাহ্ ওয়ার্হাম্হু ওয়া ’আ-ফিহী ওয়া’ফু আন্হু ওয়া আক্রিম নুযুলাহু ওয়া ওয়াস্সি' মু্দ্খলাহু ওয়াগ্সিল্হু বিলমা-য়ি ওয়াস্সালজি ওয়াল বারাদি ওয়ানাক্বিহী মিনাল খত্বা-ইয়া-কামা-নাক্কায়সাস্ সাওবাল আব্ইয়াযা মিনাদ্ দানাসি ওয়া আব্দিলহু দা-রান্ খয়রাম্ মিন দা-রিহী ওয়া আহলান খয়রাম্ মিন আহলিহী ওয়া যাওজান খয়রাম্ মিন যাওজিহী ওয়া আদ্খিলহুল ওয়াআ ’ইযহু মিন ’আযা-বিল ক্বব্রি ওয়ামিন আযা-বান্ না-র" (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তার উপর রহম করো, তাকে নিরাপদে রাখো। তার ভুল-ত্রূটি ক্ষমা করো, তাকে উত্তম মেহমানদারী করো (জান্নাতে), তার ক্ববরকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও ঠাণ্ডা (পানি) দিয়ে গোসল করাও। গুনাহখাতা হতে তাকে পবিত্র করো, যেমন তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করো। তাকে (দুনিয়ার) তার ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর (জান্নাতে) দান করো, তার পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবারও দান করো। (দুনিয়ার) স্ত্রীর চেয়ে উত্তম স্ত্রী (আখিরাতে) তাকে দিও। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও, তাকে ক্ববরের আযাব এবং জাহান্নামের ’আযাব থেকে রক্ষা করো।")। অপর এক বর্ণনার ভাষায়- “ওয়াক্বহী ফিত্নাতাল ক্ববরি ওয়া ’আযা-বান্ না-র" (অর্থাৎ ক্ববরের ফিতনাহ্ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে বাঁচাও)। এ দু'আ শুনার পর আমার বাসনা জাগলো, এ মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৬৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯৬৫।

১৬৫৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫৬


وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمنِ أَنَّ عَائِشَة لَمَّا تُوُفِّي سَعْدُ بْنِ أَبِىْ وَقَّاصٍ قَالَتْ: ادخُلُوا بِهِ الْمَسْجِدَ حَتّى أُصَلِّىْ عَلَيْهِ فَأُنْكِرَ ذلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ: وَاللّهِ لَقَدْ صَلّى رَسُولِ اللّهِ ﷺ عَلَى ابْنَيْ بَيْضَاءَ فِي الْمَسْجِدِ: سُهَيْلٍ وَأَخِيهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে (তাঁর লাশ বাড়ী হতে দাফনের জন্য আনার পর) আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তার জানাযাহ্ মসজিদে আনো, তাহলে আমিও জানাযাহ্ আদায় করতে পারব। লোকেরা (জানাযাহ্ মাসজিদে আনতে) অস্বীকার করলেন (কারণ তারা ভাবলেন, মসজিদে জানাযার সলাত কিভাবে আদায় করা যেতে পারে)। তখন আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘বায়যা' নামী মহিলার দু'ছেলে সুহায়ল ও তার ভাইয়ের জানাযার সলাত মসজিদে আদায় করিয়েছেন। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৭৩, আবূ দাঊদ ৩১৯০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭০৩৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৯২।

১৬৫৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫৭


وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ: صَلَّيْتُ وَرَاءَ رَسُولِ اللّهِ ﷺ عَلَى امْرَأَةٍ مَاتَتْ فِىْ نِفَاسِهَا فَقَامَ وَسَطَهَا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে এক মহিলার জানাযার সলাত আদায় করেছি। মহিলাটি নিফাস অবস্থায় মারা গেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার সলাতে তার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৩১, ১৩৩২, মুসলিম ৯৬৪, আবূ দাঊদ ৩১৯৫, নাসায়ী ৩৯৩, ইবনু মাজাহ্ ১৪৯৩, আহমাদ ২০১৬২, ইবনু হিব্বান ৩০৬৭।

১৬৫৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫৮


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ مَرَّ بِقَبْرٍ دُفِنَ لَيْلًا فَقَالَ: «مَتَى دُفِنَ هذَا؟» قَالُوا: الْبَارِحَةَ. قَالَ: «أَفَلَا اذَنْتُمُونِىْ؟» قَالُوا: دَفَنَّاهُ فِىْ ظُلْمَةِ اللَّيْلِ فَكَرِهْنَا أَنْ نُوقِظَكَ فَقَامَ فَصَفَفْنَا خَلْفَه فَصَلّى عَلَيْهِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক ক্ববরের কাছ দিয়ে গেলেন, যাতে রাতের বেলা কাউকে দাফন করা হয়েছিল। তিনি বললেন, একে কখন দাফন করা হয়েছে? সাহাবীগণ জবাব দিলেন গত রাতে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে খবর দাওনি কেন? সাহাবীগণ বললেন, আমরা তাকে অন্ধকার রাতে দাফন করেছি, তাই আপনাকে ঘুম থেকে জাগানো ভাল মনে করিনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে গেলেন, আর আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জানাযার সলাত আদায় করলেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩২১, মুসলিম ৯৫৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৯৮।

১৬৫৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৫৯


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ أَوْ شَابٌّ فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَسَأَلَ عَنْهَا أَوْ عَنْهُ فَقَالُوا: مَاتَ. قَالَ: «أَفَلَا كُنْتُمْ اذَنْتُمُونِىْ؟» قَالَ: فَكَأَنَّهُمْ صَغَّرُوْا أَمْرَهَا أَوْ أَمْرَه. فَقَالَ: «دَلُّوْنِىْ عَلى قَبْرِه» فَدَلَّوْهُ فَصَلّى عَلَيْهَا. قَالَ: «إِنَّ هذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُوءَةٌ ظُلْمَةً عَلَى اهْلِهَا وَإِنَّ اللّهَ يُنَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِىْ عَلَيْهِمْ» . وَلَفْظُه لمُسْلِمٌ. (مُتَّفق عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একজন কালো মহিলা অথবা একটি যুবক (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মাসজিদে নবাবী ঝাড়ু দিত। একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে পেলেন না। তিনি সে মহিলা অথবা যুবকটির খোঁজ নিলেন। লোকেরা বলল, সে ইন্তিকাল করেছে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে জানালে না কেন? (তাহলে আমিও জানাযায় শরীক থাকতাম)। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ মহিলার বা যুবকের বিষয়টিকে ছোট বা তুচ্ছ ভেবেছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে কোথায় ক্ববর দেয়া হয়েছে আমাকে দেখাও। তারা তাঁকে ক্ববর দেখিয়ে দিল। তখন তিনি তার (কাছে গেলেন ও) ক্ববরে জানাযার সলাত আদায় করালেন, তারপর বললেন, এ ক্ববরগুলো এর অধিবাসীদের জন্য ঘন অন্ধকারে ভরা ছিল। আর আমার সলাত আদায়ের ফলে আল্লাহ তা’আলা এগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম; এ হাদীসের ভাষা মুসলিমের) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৫৮, মুসলিম ৯৫৬, ইরওয়া ৩য় খন্ড হাঃ ২।

১৬৬০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬০


وَعَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّه مَاتَ لَهُ ابْنٌ بِقُدَيْدٍ أَوْ بِعُسْفَانَ فَقَالَ: يَا كُرَيْبُ انْظُرْ مَا اجْتَمَعَ لَه مِنَ النَّاسِ. قَالَ: فَخَرَجْتُ فَإِذَا نَاسٌ قَدِ اجْتَمَعُوا لَه فَأَخْبَرْتُه فَقَالَ: تَقُولُ: هُمْ أَرْبَعُونَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: أَخْرِجُوهُ فَإِنِّىْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلى جَنَازَتِه أَرْبَعُونَ رَجُلًا لَا يُشْرِكُونَ بِاللّهِ شَيْئًا إِلَّا شَفَّعَهُمُ اللّهُ فِيهِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর আযাদ করা গোলাম কুরায়ব আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু আব্বাস-এর এক ছেলে (মাক্কার নিকটবর্তী) ’কুদায়দ’ অথবা ’উসফান’ নামক স্থানে মারা গিয়েছিল। তিনি আমাকে বললেন, হে কুরায়ব! জানাযার জন্য কেমন লোক জমা হয়েছে দেখো। কুরায়ব বলেন, আমি বের হয়ে দেখলাম, জানাযার জন্য কিছু লোক একত্রিত হয়েছে। অতঃপর তাকে আমি এ খবর জানালাম। তিনি বললেন, তোমার হিসেবে তারা কি চল্লিশজন হবে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তখন বললেন, তাহলে সলাতের জন্য তাকে বের করে আনো। কারণ আমি রাসূলুল্লা্হ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কোন মুসলিম মারা গেলে আল্লাহর সাথে শরীক করেনি এমন চল্লিশজন যদি তার জানাযার সলাত আদায় করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা এ মৃত ব্যক্তির জন্য তাদের সুপারিশ কবুল করেন। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৪৮, আবূ দাঊদ ৩১৭০, আহমাদ ২৫০৯, ইবনু হিব্বান ৩০৮২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৬২১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫০৫, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৭০৮।

১৬৬১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬১


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «مَا مِنْ مَيِّتٍ تُصَلِّىْ عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِائَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَه: إِلَّا شُفِّعُوْا فِيهِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির সলাতে জানাযায় একশতজন মুসলিমের দল হাযির থাকবে, তাদের প্রত্যেকেই তার জন্য শাফা’আত (মাগফিরাত) কামনা করবে। তাহলে তার জন্য তাদের এ শাফাআত (কবূল) হয়ে যাবে। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৪৭, নাসায়ী ১৯৯১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১১৬২২, আহমাদ ১৩৮০৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯০৩, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫০৪, আত্ তিরমিযী ১০২৯।

১৬৬২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬২


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَرُّوْا بِجَنَازَةٍ فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «وَجَبَتْ» ثُمَّ مَرُّوا بِأُخْرى فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا. فَقَالَ: «وَجَبَتْ» فَقَالَ عُمَرُ: مَا وَجَبَتْ؟ فَقَالَ: «هذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا فَوَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَهذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ أَنْتُم شُهَدَاءُ اللهِ فِي الْأَرْضِ» مُتَّفق عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ: «الْمُؤْمِنُونَ شُهَدَاءُ اللّهِ فِي الْأَرْضِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম (একবার) এক জানাযায় গেলেন। সেখানে তারা মৃতের প্রশংসা করতে লাগলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। (ঠিক) এভাবে তারা আর এক জানাযায় গেলেন সেখানে তারা তার বদনাম করতে লাগলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এ কথা শুনে ‘‘উমার জানতে চাইলেন। কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? (হে আল্লাহর রাসূল!) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির প্রশংসা করেছ, তার জন্য জান্নাত প্রাপ্তি ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যার বদনাম করেছ, তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী। (বুখারী, মুসলিম; অন্য আর এক বর্ণনার ভাষা হলো তিনি বলেছেন, মু’মিন আল্লহ তা’আলার সাক্ষী)। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৬৭, ২৬৪২, মুসলিম ৯৪৯, আত্ তিরমিযী ১০৫৮, নাসায়ী ১৯৩২, আহমাদ ১২৯৩৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫১৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৯৫০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫০৭।

১৬৬৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬৩


وَعَنْ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَه أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ أَدْخَلَهُ اللّهُ الْجَنَّةَ» قُلْنَا: وَثَلَاثَةٌ؟ قَالَ: «وَثَلَاثَةٌ» . قُلْنَا وَاثْنَانِ؟ قَالَ: «وَاثْنَانِ» ثُمَّ لم نَسْأَله عَن الْوَاحِد. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তির ভাল হবার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা আরয করলাম, যদি তিনজন (সাক্ষ্য দেয়)। তিনি বললেন, তিনজন দিলেও। আমরা (আবার) আরয করলাম, যদি দু’জন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, দু’জন সাক্ষ্য দিলেও। তারপর আমরা আর একজনের (সাক্ষ্যের) ব্যাপারে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। (বুখারী) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৬৮, আহমাদ ১৩৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১৮৬।

১৬৬৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬৪


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلى مَا قَدَّمُوْا» رَوَاهُ البُخَارِيّ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা নিশ্চিতভাবে তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে। (বুখারী) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৯৩, ৬৫১৬, নাসায়ী ১৯৩৬, আহমাদ ২৫৪৭০, দারিমী ২৫৫৩, ইবনু হিব্বান ৩০২১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭১৮৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫০৯, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৩১১।

১৬৬৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬৫


وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ فِي قَتْلى أُحُدٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ يَقُولُ: «أَيُّهُمْ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْانِ؟» فَإِذَا أُشِيرَ لَه إِلَى أَحَدِهِمَا قَدَّمَه فِي اللَّحْدِ وَقَالَ: «أَنَا شَهِيْدٌ عَلى هَؤُلَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِمْ وَلَمْ يُغَسَّلُوْا. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের শহীদদের দু’ দু’জনকে এক কাপড়ে জমা করেন। তারপর বলেন, কুরআন মজীদ এদের কারো বেশী মুখস্থ ছিল? এরপর দু’জনের যার বেশী কুরআন মুখস্থ আছে বলে ইশারা করা হয়েছে, তাকে আগে ক্ববরে রাখেন এবং বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন আমি এদের জন্য সাক্ষ্য দিব। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে দাফন করার নির্দেশ দেন। তাদের জানাযার সলাতও আদায় করেননি গোসলও দেয়া হয়নি। (বুখারী) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৪৩, ইবনু মাজাহ্ ১৫১৪, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৬৭৫৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৯২৫।

১৬৬৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬৬


وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: أُتَى النَّبِيُّ ﷺ بِفَرَسٍ مَعْرُورٍ فَرَكِبَه حِينَ انْصَرَفَ مِنْ جَنَازَةِ ابْنِ الدَّحْدَاحِ وَنَحْنُ نَمْشِىْ حَوْلَه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জীন ছাড়া একটি ঘোড়া আনা হলো। (এ অবস্থায়ই) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়ার উপর আরোহণ করলেন। এরপর ইবনু দাহ্দাহ (রাঃ)-এর জানাযার সলাত সেরে তিনি ফিরে এলেন। আমরা তাঁর চারপাশে পায়ে হেঁটে চলছিলাম। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৯৬৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৫২।

পরিচ্ছদঃ ৫.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৬৬৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬৭


وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «الرَّاكِبُ يَسِيرُ خَلْفَ الْجَنَازَةِ وَالْمَاشِىْ يَمْشِىْ خَلْفَهَا وَأَمَامَهَا وَعَنْ يَمِيْنِهَا وَعَنْ يَسَارِهَا قَرِيْبًا مِنْهَا وَالسَّقْطُ يُصَلّى عَلَيْهِ وَيُدْعى لِوَالِدَيْهِ بِالْمَغْفِرَةِ وَالرَّحْمَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
وَفِي رِوَايَةِ أَحْمَدَ وَالتِّرْمِذِيِّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَهْ قَالَ: «الرَّاكِبُ خَلْفَ الْجَنَازَة وَالْمَاشِىْ حَيْثُ شَاءَ مِنْهَا وَالطِّفْلُ يُصَلّى عَلَيْهِ» وَفِي المَصَابِيْحِ عَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ زِيَادٍ

মুগীরাহ্ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আরোহী চলবে জানাযার পশ্চাতে এবং পায়ে হাঁটা ব্যক্তিরা চলবে জানাযার সামনে পেছনে ডানে-বামে জানাযার কাছ ঘেষে। আর অকালে ভূমিষ্ট বাচ্চার সলাত আদায় করবে, তাদের মাতা-পিতার জন্য মাগফিরাত ও রাহ্মাতের দু’আ করবে। (আবূ দাঊদ) [১]
ইমাম আহ্মাদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্-এর এক বর্ণনায় রাবী বলেছেন, আরোহীরা জানাযার পেছনে থাকবে। আর পায়ে চলা ব্যক্তির আগেপিছে যেভাবে পারে হাঁটবে। মৃত ছোট বাচ্চাদের জন্যও জানাযার সলাত আদায় করতে হবে। মাসাবীহ হতে এ বর্ণনাটি মুগীরাহ্ ইবনু যিয়াদ বর্ণনা করেছেন।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১৮০, আহমাদ ১৮১৮, ১৮১৬২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৮৬৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৫২৫, আত্ তিরমিযী ১০৩১, নাসায়ী ১৯৪২, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১১২৫৩, ইবনু মাজাহ্ ১৪৮১, ইবনু হিব্বান ৩০৪৯, ইরওয়া ৭৪০।

১৬৬৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৫ঃ জানাযা

হাদীস নং : ১৬৬৮


وَعَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجَنَازَةِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ وَأَهْلُ الْحَدِيثِ كَأَنَّهُمْ يَرَوْنَه مُرْسَلًا

যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বর্ণনা করেছেন সালিম (রহঃ) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্র, ‘উমারকে জানাযার আগে আগে হেঁটে চলতে দেখেছি। (আহ্মাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্, ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ আহলুল হাদীসগণ যেন হাদীসটি মুরসাল মনে করেছেন [কিন্তু হাদীসটি সহীহ]) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১৭৯, আত্ তিরমিযী ১০০৭, নাসায়ী ১৯৪৪, ইবনু মাজাহ্ ১৪৮২, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১১২২৪, ইরওয়া ৭৩৯।