All books

মিশকাতুল মাসাবিহ (০ টি হাদীস)

পর্ব-৪ঃ সলাত ৫৬৪-১৫২২

পরিচ্ছদঃ

প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৬৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৬৪


عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتُنِبَتِ الْكَبَائِرُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমু’আহ হতে অপর জুমু’আহ পর্যন্ত এবং এক রমযান হতে আরেক রমযান পর্যন্ত সব গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্‌ হয়, যদি কাবীরাহ গুনাহ সমূহ বেঁচে থাকা হয়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৩৩, আহমাদ ৯১৯৭, সহীহাহ্ ৩৩২২, সহীহ আল জামি‘ ৩৮৭৫, সহীহ আত তারগীব ৬৮৪।

৫৬৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৬৫


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا هل يُبْقى مِنْ دَرَنِه شَىْءٌ قَالُوا لَا يُبْقى مِنْ دَرَنِه شَيْئٌ قَالَ فَذلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সাহাবীগণের উদ্দেশ্যে ) বললেন, আচ্ছা বল তো, তোমাদের কারো বাড়ীর দরজার কাছে যদি একটি নদী থাকে, যাতে সে নদীতে পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে? সাহাবীগ্ণ উত্তরে বললেন, না কোন ময়লা থাকতে পারে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এ দৃষ্টান্ত হল পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের। এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়কারীর গুনাসমূহ আল্লাহ্‌ ক্ষমা করে দেন । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫২৮, মুসলিম ৬৬৭, নাসায়ী ৪৬২, তিরমিযী ২৮৬৮, আহমাদ ৮৯২৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭২৬, ইরওয়া ১৫, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫২।

৫৬৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৬৬


وَعَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ إِنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنْ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَأَخْبَرَه فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالى أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللهِ أَلِي هَذَا قَالَ لِجَمِيعِ أُمَّتِي كُلِّهِمْ وَفِىْ رَوَايَةٍ لِّمَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ اُمَّتِىْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

‘আবদুল্লাহ (বিন মাস’উদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিয়েছিল । তারপর সে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বিষয়টি বলল। এ সময়ে আল্লাহ্‌ ওয়াহী নাযিল করেনঃ “সালাত ক্বায়িম কর দিনের দু’ অংশে, রাতের কিছু অংশে । নিশ্চয় নেক কাজ পাপ কাজকে দূর করে দেয়” (সুরাহ হূদ ১১:১১৪) । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫২৬, মুসলিম ২৭৬৩, তিরমিযী ৩১১৪, ইবনু মাজাহ্ ৪২৫৪, আহমাদ ৩৬৫৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭২৯।

৫৬৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৬৭


وَعَنْ أَنَسِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَيَّ قَالَ وَلَمْ يَسْأَلْهُ عَنْهُ قَالَ وَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَصَلّى مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ ﷺ الصَّلَاةَ قَامَ الرَّجُلُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْ فِيَّ كِتَابَ اللهِ قَالَ أَلَيْسَ قَدْ صَلَّيْتَ مَعَنَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ اللهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ ذَنْبَكَ أَوْ قَالَ حَدَّكَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল ! আমি ‘হাদ্দ’ যোগ্য-এর কাজ (অপরাধ) করে ফেলেছি। আমার উপর তা প্রয়োগ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞেস করলেন না। বরং সলাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করলেন। লোকটিও রসূলের সাথে সলাত আদায় করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শেষ করলে লোকটি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি হাদ্দ-এর কাজ করেছি। আমার উপর আল্লাহর কিতাবের নির্দিষ্ট হাদ্দ জারী করুন। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি আমাদের সাথে সলাত আদায় করনি। লোকটি বলল, হ্যাঁ, করেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (এ সলাতের মাধ্যমে) আল্লাহ তোমার গুনাহ বা হাদ্দ মাফ করে দিয়েছেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৮২৩, মুসলিম ২৭৬৪।

৫৬৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৬৮


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ ﷺ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ الصَّلَاةِ لَوَقْتِهَا قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِىْ بِهِنَّ وَلَوِ اسْتَزَدْتُه لَزَادَنِي. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

[‘আবদুল্লাহ (রাঃ)] ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ কাজ (‘আমাল) আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয়? তিনি( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সঠিক সময়ে সলাত আদায় করা। আমি বললাম, এরপর কোন্ কাজ? তিনি বললেন, মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করা। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন্ কাজ? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। রাবী [ইবনু মাস’উদ(রহঃ)] বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এসব উত্তর দিলেন। আমি যদি আরও জিজ্ঞেস করতাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আরও কথা বলতেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫২৭, মুসলিম ৮৫, নাসায়ী ৬১০, আহমাদ ৩৮৯০, ইরওয়া ১১৯৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩৯৭।

৫৬৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৬৯


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (মু’মিন) বান্দা ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হল সলাত পরিত্যাগ করা। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৮২, আবূ দাঊদ ৪৬৭৮, নাসায়ী ৪৬৪, তিরমিযী ২৬২০, ইবনু মাজাহ্ ১০৭৮।

পরিচ্ছদঃ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৭০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭০


عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللّهُ تَعَالى مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلَّاهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَه عَلَى اللهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَه وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ لَه عَلَى اللهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَه وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَه. رَوَاهُ أَحْمَد وأَبُوْ دَاوٗدَ وروى مالك وَالنَّسَائِـيُِّ نحوه

‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সলাত, যা আল্লাহ তা’আলা (বান্দার জন্য) ফারয্ করেছেন। যে ব্যক্তি এ সলাতের জন্য ভালভাবে উযূ করবে, সঠিক সময়ে আদায় করবে এবং এর রুকূ’ ও খুশুকে পরিপূর্ণরূপে করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়া’দা রয়েছে যে, তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে তা না করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়া’দা নেই। ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন আর ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন। [৫৮৩] মালিক এবং নাসায়ী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ২২৭০৪, আবূ দাঊদ ৪২৫, মালিক ১৪, নাসায়ী ৪৬১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৭০।

৫৭১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭১


وَعَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَلُّوا خَمْسَكُمْ وَصُومُوا شَهْرَكُمْ وَأَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ وَأَطِيعُوا ذَا أَمْرِكُمْ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ. رَوَاهُ أَحْمَد وَالتِّرْمِذِيُّ

আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের উপর ফারয্ করা পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় কর, তোমাদের জন্য নির্দিষ্ট করা মাসটির সিয়াম (রোযা) পালন কর, আদায় কর তোমাদের ধন- সম্পদের যাকাত এবং তোমাদের নেতৃবৃন্দের অনুগত্য কর। তাহলে তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ২১৬৫৭, তিরমিযী ৬১৬, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৮৬৭।

৫৭২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭২


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَكَذَا رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ عَنْهُ

আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমার সন্তানদের বয়স সাত বছরে পৌছবে তখন তাদেরকে সলাত আদায়ের জন্য নির্দেশ দিবে। আর (সলাত আদায় করার জন্য) তাদের শাস্তি দিবে যখন তারা দশ বছরে পৌছবে এবং তাদের ঘুমানোর স্থান পৃথক করে দিবে। [১] শারহে সুন্নাহ- তে এভাবে রয়েছে।

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৪৯৫, সহীহুল জামি‘ ৫৮৬৮, আহমাদ ২/১৮০ ও ১৮৭।

৫৭৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭৩


وَفِىْ الْمَصَابِيْحِ عَنْ سَبْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ

সাবরাহ্ ইবনু মা‘বাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কিন্তু মাসাবীহ-তে সাবরাহ্ বিন মা’বাদ হতে বর্ণিত হয়েছে।

৫৭৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭৪


وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلَاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ وابن مَاجَةَ

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের ও তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা হল সলাত। অতএব যে সলাত পরিত্যাগ করবে, সে (প্রকাশ্যে) কুফরী করল (অর্থাৎ কাফির হয়ে যাবে)। [১]

পরিচ্ছদঃ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫৭৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭৫


عَنْ عَبْدِ الله بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي عَالَجْتُ امْرَأَةً فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَإِنِّي أَصَبْتُ مِنْهَا مَا دُونَ أَنْ أَمَسَّهَا فَأَنَا هذَا فَاقْضِ فِيَّ مَا شِئْتَ فَقَالَ لَه عُمَرُ لَقَدْ سَتَرَكَ اللّهُ لَوْ سَتَرْتَ نَفْسَكَ قَالَ وَلَمْ يَرُدَّ النَّبِيُّ ﷺ شَيْئًا فَقَامَ الرَّجُلُ فَانْطَلَقَ فَأَتْبَعَهُ النَّبِيُّ ﷺ رَجُلًا فَدَعَاهُ وَتَلَا عَلَيْهِ هذِهِ الْآيَةَ أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذلِكَ ذِكْرَاى لِلذَّاكِرِينَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ يَا نَبِيَّ اللهِ هذَا لَه خَاصَّةً قَالَ بَلْ لِلنَّاسِ كَافَّةً. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবদুল্লাহ (রাঃ) বিন মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি মাদীনার উপকন্ঠে এক মহিলার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া ছাড়া আর সব রসাস্বাদন করেছি। আমি আপনার দরবারে উপস্থিত, তাই আমার প্রতি এ অপরাধের কারণে যা শাস্তি বিধান করার তা আপনি করুন। ‘উমার (রহঃ) বললেন, আল্লাহ তোমার অপরাধ ঢেকে রেখেছিলেন। তুমি নিজেও তা ঢেকে রাখতে (আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে, তবে তা উত্তম হত)। বর্ণনাকারী (‘আবদুল্লাহ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথার কোন উত্তর দিলেন না। তাই লোকটি উঠে চলে যেতে লাগল। অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পিছনে লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন এবং তার সামনে এ আয়াত পাঠ করলেন- (অর্থ) “সলাত কায়িম কর দিনের দু’অংশে, রাতের কিছু অংশে। নিশ্চয়ই নেক কাজ বদ কাজকে দূর করে দেয়, উপদেশ গ্রহণকারী জন্য এটা একটা উপদেশ”- (সূরাহ্ হূদঃ ১১:১১৪) । এ সময়ে উপস্থিত এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর নাবী ! এ হুকুম কি বিশেষভাবে তার জন্য। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, না, বরং সকল মানুষের জন্যই। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৬৩, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৬৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭০৮৫, তিরমিযী ৩১১২।

৫৭৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭৬


وَعَنْ أَبِيْ ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَرَجَ زَمَنَ الشِّتَاءِ وَالْوَرَقُ يَتَهَافَتُ فَأَخَذَ بِغُصْنَيْنِ مِنْ شَجَرَةٍ قَالَ فَجَعَلَ ذلِكَ الْوَرَقُ يَتَهَافَتُ قَالَ فَقَالَ يَا أَبَا ذَرٍّ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ لَيُصَلِّ الصَّلَاةَ يُرِيدُ بِهَا وَجْهَ اللهِ فَتَهَافَتُ عَنْهُ ذُنُوبُه كَمَا تَهَافَتُ هذَا الْوَرَقُ عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ. رَوَاهُ أَحْمَد

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক শীতের সময়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন, আর তখন গাছের পাতা ঝরে পড়ছিল । তিনি একটি গাছের দু’টি ডাল ধরে নাড়া দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাতে গাছের পাতা ঝরতে লাগল। আবূ যার (রহঃ) বলেন, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন, হে আবূ যার! উত্তরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল ! আমি উপস্থিত। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কোন মুসলিম বান্দা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির বিধানের জন্য খালিস মনে সলাতে আদায় করে, আর জ়ীবন থেকে তার গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে পড়তে থাকে যেভাবে গাছের পাতা ঝরে পড়ে। [১]

[১] হাসান : আহমাদ ২১০৪৬, সহীহ আত্ তারগীব ৩৮৪। যদিও তার সানাদে মুযাহিম ইবনু মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ)আয্ যববী নামে একজন অপরিচিত রাবী রয়েছে, এরপরও মুনযিরী এর সানাদকে হাসান বলেছেন।

৫৭৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭৭


وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدِ الْجُهَنِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلّى سَجْدَتَيْنِ لَا يَسْهُوْ فِيْهِمَا غَفَرَ الله ُلَه مَا تَقدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. رَوَاهُ أَحْمَد والْبَيْهَقِىُّ وَالْبَيْهَقِىُّ

যায়দ বিন খালিদ আল জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি দু’ রাক্‌‘আত সলাত আদায় করেছে, আর এতে ভুল করেনি, আল্লাহ তার অতীত জীবনের সব গুনাহ (সগীরাহ্‌) ক্ষমা করে দিবেন। [১]

[১] হাসান সহীহ : আহমাদ ২১১৮৩, আবূ দাঊদ ৯০৫, সহীহ আত্ তারগীব ২২৮।

৫৭৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭৮


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّه ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَقَالَ «مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَه نُورًا وَبُرْهَانًا وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَه نُورٌ وَلَا بُرْهَانٌ وَلَا نَجَاةٌ وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأُبَيِّ بْنِ خَلَفٍ». رَوَاهُ أَحْمَد وَالدَّارِمِيُّ والْبَيْهَقِىُّ في شُعَبِ الْإِيْمَانِ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন সলাত সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন: যে ব্যক্তি সলাতের হিফাযাত করবে, তা ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য জ্যোতি, দলীল ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে ব্যক্তি সলাতের হিফাযাত করবে না, তার জন্য এটা জ্যোতি, দলীল ও মুক্তির কারণ হবে না। ক্বিয়ামাতের দিন সে কারূন, ফির‘আওন, হামান ও উবাই বিন খালাফ-এর সাথে থাকবে। [১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ৬৫৪০, দারিমী ২৭২১, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩১২, বায়হাক্বী- শু‘আবুল ঈমান ২৫৬৫।

৫৭৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৭৯


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ رَسُوْل اللهِﷺ لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُه كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

আবদুল্লাহ বিন শাক্বীক্ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণ সলাত ছাড়া অন্য কোন ‘আমাল পরিত্যাগ করাকে কুফ্‌রী বলে মনে করতেন না। [১]

1] সহীহ : তিরমিযী ২৬২২, সহীহ আত্ তারগীব ৫৬৫।

৫৮০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮০


وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي أَنْ لَا تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطِّعْتَ وَحُرِّقْتَ وَلَا تَتْرُكْ صَلَاةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلَا تَشْرَبِ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ. رَوَاهُ ابن مَاجَةَ

আবুদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) আমাকে উপদেশ দিয়েছেন : (১) তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করবে না, যদিও তোমাকে খন্ড-বিখন্ড করা হয় বা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়, (২) ইচ্ছা করে কোন ফার্‌য সলাত ত্যাগ করবে না’। যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে ফার্‌য সলাত ত্যাগ করবে তার উপর থেকে ইসলাম প্রদত্ত নিরাপত্তা উঠে যাবে, (৩) মদ পান করবে না। কারণ মদ হচ্ছে সকল মন্দের চাবিকাঠি। [১]

[১] হাসান লিগয়রিহী : ইবনু মাজাহ্ ৪০৩৪, সহীহ আত্ তারগীব ৫৬৭। যদিও এর সানাদে শাহ্র ইবনু হাওশাব দুর্বল রাবী রয়েছে কিন্তু তার শাহিদ বর্ণনা থাকায় তা হাসানের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

পরিচ্ছদঃ ১.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৮১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮১


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ الرَّجُلُ كَطُولِه مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأَمْسِكْ عَنِ الصَّلَاةِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবদুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সূর্য ঢলে পড়ার সাথে যুহরের সলাতের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং মানুষের ছায়া যখন তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়, তখন ‘আস্‌রের সলাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়। ‘আস্‌রের সলাতের ওয়াক্ত যুহরের সলাতের পর থেকে যে পর্যন্ত সূর্য হলদে রং ধারণ না করে এবং সূর্যাস্তের পর থেকে পশ্চিমাকাশের লালিমা মিশে যাবার আগ পর্যন্ত মাগরিবের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। আর ‘ইশার সলাতের ওয়াক্ত মাগরিবের সলাতের পর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত। ফাজরের সলাতের ওয়াক্ত ফা্‌জর অর্থাৎ সুবহে সাদিকের উদিত হবার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতঃপর সূর্যোদয় হতে শুরু করলে সলাত হতে বিরত থাকবে। কেননা সূর্যোদয় হয় শায়ত্বনের দু’শিং-এর মধ্য দিয়ে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬১২, আহমাদ ৬৯৬৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭১২, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৪৭৩।

৫৮২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮২


وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ اِنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ لَه صَلِّ مَعَنَا هَذَيْنِ يَعْنِي الْيَوْمَيْنِ فَلَمَّا زَالَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الظُّهْرَ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ فَلَمَّا أَنْ كَانَ الْيَوْمُ الثَّانِي أَمَرَه فَأَبْرِدْ بِالظُّهْرِ فَأَبْرَدَ بِهَا فَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَ بِهَا وَصَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ أَخَّرَهَا فَوْقَ الَّذِي كَانَ وَصَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ وَصَلَّى الْعِشَاءَ بَعْدَمَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ وَصَلَّى الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ بِهَا ثُمَّ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ وَقْتُ صَلَاتِكُمْ بَيْنَ مَا رَأَيْتُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সলাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, আমাদের সাথে এ দু’ দিন সলাত আদায় কর। প্রথমদিন সূর্য ঢলে পড়লে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে হুকুম দিলেন আযান দিতে। বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলে বিলাল (রাঃ) যুহরের সলাতের ইক্বামাত দিলেন। অতঃপর (‘আস্‌রের সময়) তিনি বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি ‘আস্‌রের সলাতের ইক্বামাত দিলেন। তখনও সূর্য বেশ উঁচুতে ও পরিষ্কার সাদা। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি মাগরিবের ইক্বামাত দিলেন। তখন সূর্য দেখা যাচ্ছে না। এরপর বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি ‘ইশার সলাতের ইক্বামাত দিলেন, যখন মাত্র লালিমা অদৃশ্য হল। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি ফাজরের সলাতের ইক্বামাত দিলেন। তখন ঊষা (সুবহে সাদিক) দেখা দিয়েছে। যখন দ্বিতীয় দিন এলো তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, যুহরের সলাত ঠান্ডা পড়া পর্যন্ত দেরী করতে। বিলাল দেরী করলেন। রোদের তাপ ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত দেরী করলেন। তারপর ‘আস্‌রের সলাত আদায় করলেন। সূর্য তখন উঁচুতে অবস্থিত, কিন্তু সলাতে পূর্বের দিনের চেয়ে বেশী দেরী করলেন। মাগরিবের সলাত আদায় করলেন লালিমা অদৃশ্য হবার কিছুক্ষণ আগে। আর এ দিন ‘ইশার সলাত আদায় করলেন রাতের এক তৃতীয়াংশ শেষ হবার পর। অতঃপর ফাজরের সলাত আদায় করলেন বেশ পরিষ্কার হওয়ার পর। সবশেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি কোথায়? সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এই যে আমি। তিনি বললেন, তোমাদের জন্য সলাত আদায় করার ওয়াক্ত হল, তোমরা যা (দু’ সীমা) দেখলে তার মধ্যস্থলে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬১৩, ইবনু মাজাহ্ ৬৬৭, তিরমিযী ১৫২, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ৩২৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৪৯২, আহমাদ ২২৯৫৫।

পরিচ্ছদঃ ১.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৮৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮৩


عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَمَّنِي جِبْرِيلُ عِنْدَ الْبَيْتِ مَرَّتَيْنِ فَصَلّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَتْ قَدْرَ الشِّرَاكِ وَصَلّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ صَارَ ظِلُّ كُلِّ شَىْءٍ مِثْلَه وَصَلّى بِيَ الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلّى بِيَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ وَصَلّى بِيَ الْفَجْرَ حِينَ حَرُمَ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ عَلَى الصَّائِمِ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ صَلّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّه مِثْلَه وَصَلّى بِي الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّه مِثْلَيْهِ وَصَلّى بِيَ الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلّى بِيَ الْعِشَاءَ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَصَلّى بِيَ الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ وَالْوَقْتُ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: জিবরীল আমীন খানায়ে ক্বা‘বার কাছে দু’বার আমার সলাতে ইমামাত করেছেন। (প্রথমবার) তিনি আমাকে যুহরের সলাত আদায় করালেন, সূর্য তখন ঢলে পড়েছিল। আর ছায়া ছিল জুতার দোয়ালির (প্রস্থের) পরিমাণ। ‘আস্‌রের সলাত আদায় করালেন যখন প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার এক গুণ হল। মাগরিবের সলাত আদায় করালেন যখন সিয়াম পালনকারী (রোযাদার) ইফত্বার করে। ‘ইশার সলাত আদায় করালেন যখন ‘শাফাক্ব অস্ত হল। ফাজরের সলাত আদায় করালেন যখন সিয়াম পালনকারীর জন্য পানাহার হারাম হয়। দ্বিতীয় দিন যখন এলো তিনি আমাকে যুহরের সলাত আদায় করালেন, যখন কোন জিনিসের ছায়া তার এক গুণ। ‘আস্‌রের সলাত আদায় করালেন, যখন কোন জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ। মাগরিবের সলাত আদায় করালেন, সায়িমগণ (রোযাদাররা) যখন ইফত্বার করে। ‘ইশার সলাত আদায় করালেন, তখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি ফাজর আদায় করালেন তখন বেশ ফর্সা। এরপর আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, হে মুহাম্মাদ! এটাই আপনার পূর্বেকার নাবীগণের সলাতের ওয়াক্ত। এ দুই সময়ের মধ্যে সলাতের ওয়াক্ত। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৯৩, তিরমিযী ১৪৯, সহীহুল জামি‘ ১৪০২।

পরিচ্ছদঃ ১.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫৮৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮৪


وَعَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَه عُرْوَةُ أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ قَدْ نَزَلَ فَصَلّى أَمَامَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ لَه عُمَرُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ يَا عُرْوَةُ قَالَ سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ نَزَلَ جِبْرِيلُ فَأَمَّنِي فَصَلَّيْتُ مَعَه ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَه ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَه ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَه ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَه يَحْسِبُ بِأَصَابِعِه خَمْسَ صَلَوَاتٍ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, খলীফা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) একদিন ‘আস্‌রের সলাত দেরীতে পড়ালেন। ‘উরওয়াহ্‌ (ইবনু যুবায়র) (রহঃ) খলীফাকে বললেন, সাবধান! জিবরীল নাযিল হয়েছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাত আদায় করিয়েছিলেন (ইমামাত করেছিলেন)। ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয বললেন, দেখ ‘উরওয়াহ্‌! তুমি কি বলছ? উত্তরে ‘উরওয়াহ্‌ বললেন, আমি বাশীর ইবনু আবী মাস‘ঊদ হতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। জিবরীল (আঃ) অবতীর্ণ হলেন। আমার ইমামাত করলেন। আমি তাঁর সাথে সলাত (যুহর) আদায় করলাম। তারপর তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম (‘আস্‌র) । আবার তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম (মাগরিব)। এরপর তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম (‘ইশা)। অতঃপর তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম (ফাজর)। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের আঙ্গুল দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত হিসাব করছিলেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩২২, মুসলিম ৬১০, নাসায়ী ৪৯৪, ইবনু মাজাহ্ ৬৬৮।

৫৮৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮৫


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ اَنَّه كَتَبَ إِلى عُمَّالِه إِنَّ أَهَمَّ أَمْرِكُمْ عِنْدِي الصَّلَاةُ مَنْ حَفِظَهَا وَحَافَظَ عَلَيْهَا حَفِظَ دِينَه وَمَنْ ضَيَّعَهَا فَهُوَ لِمَا سِوَاهَا أَضْيَعُ ثُمَّ كَتَبَ أَنْ صَلُّوا الظُّهْرَ اَنْ كَانَ الْفَيْءُ ذِرَاعًا إِلى أَنْ يَكُونَ ظِلُّ أَحَدِكُمْ مِثْلَه وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ قَدْرَ مَا يَسِيرُ الرَّاكِبُ فَرْسَخَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً قَبْلَ مَغِيْبِ الشَّمْسِ وَالْمَغْرِبَ إِذَا غاب الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا غَابَ الشَّفَقُ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُه فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُه فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُه وَالصُّبْحَ وَالنُّجُومُ بَادِيَةٌ مُشْتَبِكَةٌ. رَوَاهُ مَالك

খলীফাহ্ ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তার শাসনকর্তাদের কাছে লিখলেন, আমার কাছে আপনাদের সকল কাজের মধ্যে সলাতই হল সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ। যে এর যথাযথ হিফাযাত করেছে ও তা রক্ষা করেছে, সে তার দীনকে রক্ষা করেছে। আর যে তা বিনষ্ট করেছে সে তা ছাড়া অপরগুলোর পক্ষে আরো বেশী বিনষ্টকারী প্রমাণিত হবে। অতঃপর তিনি লিখলেন, যুহরের সলাত আদায় করবে ছায়া এক বাহু ঢলে পড়ার পর থেকে শুরু করে ছায়া এক মিসাল হওয়া পর্যন্ত (ছায়া আসলী বাদ দিয়ে)। সূর্য উপরে পরিষ্কার সাদা থাকা অবস্থায় ‘আসরের সলাত আদায় করবে, যাতে একজন আরোহী সূর্য অদৃশ্য হবার পূর্বেই দু’ বা তিন ফারসাখ পথ অতিক্রম করে যেতে পারে। মাগরিবের সলাত আদায় করবে সূর্য অস্ত যাবার পরপর। ‘ইশার সলাত আদায় করবে ‘শাফাক্ব’ দূর হয়ে যাবার পর থেকে শুরু করে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। তার চোখ না ঘুমাক যে এর আগে ঘুমাবে (তিনবার বললেন)। অতঃপর ফাজরের সলাত আদায় করবে যখন তারাসমূহ পরিষ্কার হয় ও চকমক করে। [১]

[১] য‘ঈফ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৬। কারণ রাবী নাফি‘ ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে পাননি। তাই এর সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে যা হাদীস দুর্বল হওয়ার একটি অন্যতম কারণ।

৫৮৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮৬


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كَانَ قَدْرُ صَلَاةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ الظُّهْرَ فِي الصَّيْفِ ثَلَاثَةَ أَقْدَامٍ إِلى خَمْسَةِ أَقْدَامٍ وَفِي الشِّتَاءِ خَمْسَةَ أَقْدَامٍ إِلى سَبْعَةِ أَقْدَامٍ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاؤُدَ وَالنَّسَائِـيُِّ

ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, গরমকালে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুহরের সলাতের (ছায়ার পরিমাণ) ছিল তিন হতে পাঁচ ক্বদম, আর শীতকালে পাঁচ হতে সাত ক্বদম। [১]

পরিচ্ছদঃ ২.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৮৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮৭


عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلَامَةَ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبِي عَلى أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ فَقَالَ لَه أَبِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْأُولى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلى رَحْلِه فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْعَتَمَةَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِ يثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَه وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ-. وَفِىْ رِوَايَةٍ وَلَا يُبَالِي بِتَأْخِيرِ الْعِشَاءِ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَلَا يُحِبُّ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيْثَ بَعْدَهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ও আমার আব্বা আবূ বারযাহ্ আল আসলামী (রাঃ)- এর নিকট গেলাম। আমার আব্বা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয সলাত কিভাবে আদায় করতেন? তিনি উত্তরে বললেন, যুহরের সলাত- যে সলাতকে তোমরা প্রথম সলাত বল, সূর্য ঢলে পড়লেই পড়তেন। ‘আসরের সলাত আদায় করতেন এমন সময়, যার পর আমাদের কেউ মাদীনার শেষ প্রান্তে তার বাড়ীতে ফিরতে পারতেন, অথচ সূর্য তখনও পরিষ্কার থাকত। বর্ণনাকারী বলেন, মাগরিবের সলাত সম্পর্কে কী বলেছেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর ‘ইশার সলাত, যাকে তোমরা ‘আতামাহ্’ বল, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেরী করে পড়তেই ভালবাসেন এবং ‘ইশার সলাতের আগে ঘুম যাওয়া বা সলাতের পরে কথা বলাকে পছন্দ করতেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাত শেষ করতেন, যখন কেউ নিজের সঙ্গে বসা ব্যক্তিকে চিনতে পারত এবং এ সময় ষাট হতে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। [৫৯৯] অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইশার সলাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতেও দ্বিধা করতেন না এবং ‘ইশার সলাতের আগে ঘুম যাওয়া ও পরে কথা বলাকে আপছন্দ করতেন। [2]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৪৭, মুসলিম ৬৪৭।

[2] সহীহ : বুখারী ৫৪১, নাসায়ী ৫৩০, আবূ দাঊদ ৩৯৮, আহমাদ ১৯৭৬৭, দারেমী ১৩৩৮।

৫৮৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮৮


وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِىٍّ قَالَ سَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ عَنْ صَلَوةِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ إِذَا وَجَبَتْ وَالْعِشَاءَ إِذَا كَثُرَ النَّاسُ عَجَّلَ وَإِذَا قَلُّوا أَخَّرَ وَالصُّبْحَ بِغَلَسٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনুল হাসান ইবনু ‘আলী থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আম্র জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুপুর ঢলে গেলে যুহরের সলাত আদায় করতেন। ‘আসরের সলাত আদায় করতেন, তখনও সূর্যের দীপ্তি থাকত। মাগরিবের সলাত আদায় করতেন সূর্য অস্ত যেতেই। আর ‘ইশার সলাত, যখন লোক অনেক হত এবং তাড়াতাড়ি পড়তেন। আর লোকজন কম হলে দেরী করতেন এবং অন্ধকার থাকতে ফাজরের সলাত আদায় করতেন। [১]

৫৮৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৮৯


وَعَنْ أَنَسِ قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ النَّبِيّ ﷺ بِالظَّهَائِرِ فَسَجَدْنَا عَلى ثِيَابِنَا اتِّقَاءَ الْحَرِّ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَلَفْظُه لِلْبُخَارِىِّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে যুহরের সলাত আদায় করতাম, তখন গরম থেকে বাঁচার জন্য আমাদের কাপড়ের উপর সাজদাহ্ করতাম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৪২, মুসলিম ৬২০, নাসায়ী ১১১৬, তিরমিযী ৫৮৪, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ৬৭৫; শব্দসমূহ বুখারীর।

৫৯০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯০


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন গরমের প্রকোপ বেড়ে যাবে, ঠান্ডা সময়ে সলাত (যুহর) আদায় করবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৩৬, ৫৩৭, মুসলিম ৬১৫, আবূ দাঊদ ৪০২, নাসায়ী ৫০০, তিরমিযী ১৫৭, ইবনু মাজাহ্ ৬৭৮, আহমাদ ৭৬১৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫০৭, সহীহ আল জামি‘ ৩৩৯।

৫৯১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯১


وَفِي رَوَايَةٍ لِلْبُخَارِىِّ عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ بِالظُّهْرِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ وَاشْتَكَتْ النَّارُ إِلى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ - وَفِىْ رَوَايَةٍ لِّلْبُخَارِىِّ فَاَشَدَّ مَا تَجِدُوْنَ مِنَ الْحَرِّ فَمِنْ سَمُوْمِهَا وَاَشَدُّ مَا تَجِدُوْنَ مِنَ الْبَرْدِ فَمِنْ زَمْهَرِيْرِهَا

আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যুহরের সলাত ঠান্ডা সময়ে আদায় করবে। (অর্থাৎ আবূ হুরায়রাহর বর্ণনায় (আরবী) শব্দ ব্যবহার হয়েছে আর আবূ সা‘ঈদের বর্ণনায় (আরবী) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে) কারন গরমের প্রকোপ জাহান্নামের ভাপ। জাহান্নাম আপন প্রতিপালকের নিকট অভিযোগ করে বলেছিল, হে আমার আল্লাহ! (গরমের তীব্রতায়) আমার একাংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে। তখন আল্লাহ তাকে অনুমতি দিলেন দু’টি নিঃশ্বাস ফেলার। এক নিঃশ্বাস শীতকালে, আর এক নিঃশ্বাস গরমকালে। এজন্যই তোমরা গরমকালে তাপের তীব্রতা বেশী পাও। আর শীতকালে শীতের প্রচন্ডতা বেশী। [১]
বুখারীর আর এক বর্ণনায় আছে, তোমরা গরমের যে প্রচন্ডতা অনুভব কর তা জাহান্নামের গরম নিঃশ্বাাসের কারনেই। আর শীতের তীব্রতা যা পাও তা জাহান্নামের ঠান্ডা নিঃশ্বাসের কারনেই।

[১] সহীহ : বুখারী ৫৩৭-৫৩৮, মুসলিম ৬১৫, তিরমিযী ২৫৯২, ইবনু মাজাহ্ ৪৩১৯, আহমাদ ৭২৪৭, দারেমী ২৮৮৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৪৬৬।

৫৯২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯২


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ وَبَعْضُ الْعَوَالِي مِنَ الْمَدِينَةِ عَلى أَرْبَعَةِ أَمْيَالٍ أَوْ نَحْوِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আসরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যখন সূর্য উপরের আকাশে ও উজ্জ্বল অবস্থায় থাকত। আর কেউ আওয়ালীর দিকে (মাদীনার উপকন্ঠে) গিয়ে পুনরায় আসার পরেও সূর্য উপরেই থাকত। এসব আওয়ালীর কোন কোনটি মাদীনাহ্ হতে চার মাইল বা এর কাছাকাছি দূরত্বের ছিল। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৫০, মুসলিম ৬২১, নাসায়ী ৫০৭, ইবনু মাজাহ্ ৬৮২, আহমাদ ১৩৩৩১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫১৯।

৫৯৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯৩


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تلك صَلَاةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتّى إِذَا اَصْفَرَتْ وَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيْ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللّهَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: এটা (আসরের সলাত দেরী করে আদায়) মুনাফিক্বের সলাত। তারা বসে বসে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। সূর্যের হলদে রং এবং শায়ত্বনের দু’ শিং- এর মধ্যস্থলে গেলে (সূর্যাস্থের সময়ে) তারা তাড়াতাড়ি উঠে চার ঠোকর মারে। এতে তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬২২, নাসায়ী ৫১১, তিরমিযী ১৬০, আহমাদ ১১৯৯৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৮৮।

৫৯৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯৪


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الَّذِي تَفُوتُه صَلَاةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَه وَمَالَه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তির ‘আসরের সলাত ছুটে গেল তার গোটা পরিবার ও ধন সম্পদ যেন উজার হয়ে গেল। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৫২, মুসলিম ৬২৬, আবূ দাঊদ ৪১৪, নাসায়ী ৫১২, তিরমিযী ১৭৫, আহমাদ ৫৩১৩, সহীহ আল জামি‘ ৫৪৯১, সহীহ আত্ তারগীব ৪৮০।

৫৯৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯৫


وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُه. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি ‘আসরের সলাত ছেড়ে দিল সে তার ‘আমল বিনষ্ট করল। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৫৩, নাসায়ী ৪৭৪, আহমাদ ২২৯৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ৪৭৮।

৫৯৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯৬


وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّه لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

রাফি‘ ইবনু খদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাগরিবের সলাত আদায় করতাম। সলাত শেষ করে আমাদের কেউ তার তীর পড়ার স্থান (পর্যন্ত) দেখতে পেত। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৫৯, মুসলিম ৬৩৭, ইবনু মাজাহ্ ৬৮৭, আহমাদ ১৭২৭৬, ইরওয়া ২৫৬।

৫৯৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯৭


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانُوْا يُصَلُّوْنَ الْعَتَمَةَ فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ الْأَوَّلِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সহাবীগণ ‘ইশার’ সলাত আদায় করতেন ‘শাফাক্ব’ অদৃশ্য হবার পর হতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৯, মুসলিম ৬৩৮, নাসায়৫৫৩৫, আহমাদ ২৪০৫৯।

৫৯৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯৮


وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাত আদায় করতেন। যে সব স্ত্রীলোক চাদর গায়ে মুড়িয়ে সলাত আদায় করতে আসতেন, অন্ধকারের দরুন তাদের চেনা যেত না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৮৬৭, মুসলিম ৬৪৫, আবূ দাঊদ ৪২৩, নাসায়ী ৫৪৫, তিরমিযী ১৫৩, মালিক ৪/৭, আহমাদ ২৫৪৫৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৪৯৮। لِفَاعٌ (লিফা‘) বলা সে কাপড়কে যা শরীরের সমস্ত অংশকে আবৃত বা ঢেকে রাখে। আর এ শব্দ হতেই مُتَلَفِّعَاتُ শব্দটি এসেছে।

৫৯৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৫৯৯


وَعَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ أَنَّ النَبِيَّ ﷺ وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ تَسَحَّرَا فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ سَحُوْرِهِمَا قَامَ نَبِيُّ اللهِ ﷺ إِلَى الصَّلَاةِ فَصَلّى قُلْنَا لِأَنَسٍ كَمْ كَانَ بَيْنَ فَرَاغِهِمَا مِنْ سَحُورِهِمَا وَدُخُولِهِمَا فِي الصَّلَاةِ قَالَ قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) (সিয়াম পালনের জন্য) সাহ্‌রী খেলেন। সাহ্‌রী শেষ করে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ফাজরের) সলাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সলাত আদায় করলেন। আমরা ‘আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম, এ দু’জনের খাবার পর সলাত শুরু করার আগে কী পরিমাণ সময়ের বিরতি ছিল? তিনি উত্তরে বলেন, এ পরিমাণ বিরতির সময় ছিল যাতে একজন পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৬, নাসায়ী ২১৫৫, আহমাদ ১৩৪৬০।

৬০০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০০


وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كَانَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلَاةَ اَوْ يُؤَخِّرُوْنَهَا عَنْ وَقْتِهَا قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَهَا مَعَهُمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ نَافِلَةٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, সে সময় তুমি কী করবে যখন তোমাদের উপর শাসকবৃন্দ এমন হবে, যারা সলাতের প্রতি অমনোযোগী হবে অথবা তা সঠিক সময় হতে পিছিয়ে দিবে? আমি বললাম, আপনি কী আমাকে নির্দেশ দেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ সময়ে তুমি তোমার সলাতকে সঠিক সময়ে আদায় করে নিবে। অতঃপর তাদের সাথে পাও, আবার আদায় করবে। আর এ সলাত তোমার জন্য নাফ্‌ল হিসেবে গন্য হবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৪৮, আবূ দাঊদ ৪৩১, ইবনু মাজাহ্ ১২৫৬, তিরমিযী ১৭৬, দারেমী ১২৬৪, আহমাদ ২১৩২৪, সহীহ আল জামি‘ ৪৫৮৮; তবে হাদীসের এ শব্দগুলো আবূ দাঊদের।

৬০১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০১


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের আগে ফাজরের সলাতের এক রাক্‌’আত পেল, সে ফাজরের সলাত পেয়ে গেল। এভাবে যে সূর্যাস্তের পূর্বে ‘আস্‌র সলাতের এক রাক্‌’আত পেল, সে ‘আস্‌রের সলাত পেলো। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৯, মুসলিম ৬০৮, নাসায়ী ৫১৭, তিরমিযী ১৮৬, মালিক ৫/৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫৮৩, ইরওয়া ২৫৩, সহীহ আল জামি‘ ৫৯৯২।

৬০২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০২


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلَاتَه وَإِذَا أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلَاتَه. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সূর্যাস্তের আগে ‘আসরের সলাতের এক সাজদাহ্‌ (রাক্‌’আত) পেলে সে যেন তার সলাত পূর্ণ করে। এমনিভাবে ফাজরের সলাত সূর্যোদয়ের আগে এক সাজদাহ্‌ (রাক্‌’আত) পেলে সেও যেন তার সলাত পূর্ণ করে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৫৬, নাসায়ী ৫১৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭৭৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫৮৬, সহীহাহ্ ৬৬।

৬০৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০৩


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا. وَفِىْ رِوَايَةٍ لَّا كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذلِكَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, তার কাফ্‌ফারাহ্‌ হলো যখনই তা স্মরণ হবে সলাত আদায় করে নিবে। [১] অন্য বর্ণনায় আছে, ঐ সলাত আদায় করে নেয়া ছাড়া তার কোন প্রতিকারই নেই। [2]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৮৪।

[2] সহীহ : বুখারী ৫৯৭, মুসলিম ৬৮৪, আবূ দাঊদ ৪৪২, নাসায়ী ৬১৩, তিরমিযী ১৭৮, ইবনু মাজাহ্ ৬৯৬, আহমাদ ১৩৫৫০, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫৫৬, ইরওয়া ২৬৩।

৬০৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০৪


وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْسَ فِي النَّوْمِ التَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ فاذا نَسِيَ أَحَدُكُمْ صَلَاةً اَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللّهَ تَعَالى قَالَ أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঘুমিয়ে থাকার কারণে সলাত আদায় করতে না পারলে তা দোষ নেই। দোষ হল জেগে থেকেও সলাত আদায় না করা। সুতরাং তোমাদের কেউ সলাত আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা সলাতের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যে সময়েই তার কথা স্মরণ হবে, আদায় করে নিবে। কারণ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “আমার স্মরণে সলাত আদায় কর” – (সূরাহ্‌ ত্ব-হা – ২০:১৪)। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৮১, ৬৮৪, আবূ দাঊদ ৪৪১, নাসায়ী ৬১৫, তিরমিযী ১৭৭, ইবনু মাজাহ্ ৬৯৮। তবে তাতে (তিরমিযীতে) আয়াতটি নেই।

পরিচ্ছদঃ ২.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৬০৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০৫


عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ يَا عَلِيُّ ثَلَاثٌ لَا تُؤَخِّرْهَا الصَّلَاةُ إِذَا آنَتْ وَالْجَنَازَةُ إِذَا حَضَرَتْ وَالْأَيِّمُ إِذَا وَجَدْتَ لَهَا كُفْوا. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে ‘আলী! তিনটি বিষয়ে দেরী করবে নাঃ (১) সলাতের সময় হয়ে গেলে আদায় করতে দেরী করবে না। (২) জানাযাহ্‌ উপস্থিত হয়ে গেলে তাতেও দেরী করবে না। (৩) স্বামীবিহীন নারীর উপযুক্ত বর পাওয়া গেলে তাকে বিয়ে দিতেও দেরী করবে না। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১০৭৫। কারণ এর সানাদে সা‘ঈদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল জুহানী রয়েছে যাকে ইবনু হিব্বান, ‘আজালী বিশ্বস্ত বললেও ইমাম আবূ হাতিম ও ইমাম যাহাবী অপরিচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু হাজার তাকে মুতাবা‘আহ্-এর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। কিন্তু এখানে তার কোন মুতাবা‘আহ্ নেই। তবে হাদীসের অর্থ সহীহ।

৬০৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০৬


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْوَقْتُ الْأَوَّلُ مِنْ الصَّلَاةِ رِضْوَانُ اللهِ وَالْوَقْتُ الْآخِرُ عَفْوُ اللهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাত প্রথম সময়ে আদায় করা আল্লাহকে খুশি করা এবং শেষ সময়ে আদায় করা আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার শামিল। (অর্থাৎ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা) [১]

[১] মাওযূ‘ : তিরমিযী ১৭২, আবূ দাঊদ ৪২৬, ইরওয়া ২৫৯। কারণ এর সানাদে ইয়াকূব ইবনু আল্ ওয়ালীদ আল্ মাদানী রয়েছে যাকে ইমাম আহমাদ মিথ্যুক হিসেবে অবহিত করেছেন।

৬০৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০৭


وَعَنْ اُمِّ فَرْوَةَ قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الصَّلَاةُ لِأَوَّلِ وَقْتِهَا. رَوَاهُ أَحْمَد وَالتِّرْمِذِىُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ لَا يُرْوَى الْحَدِيْثُ اِلَّا مِنْ حَدِيْثِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ الْعُمَرِىِّ وَهُوَ لَيْسَ بِالْقَوِىِّ عِنْدَ اَهْلِ الْحَدِيْثِ

উম্মু ফারওয়াহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন কাজ (‘আমাল) বেশী উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতকে তার প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা। [১]
ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার আল ‘উমারী ছাড়া আর কারো নিকট হতে বর্ণিত হয়নি। তিনিও মুহাদ্দিসগণের নিকট সবল নন।

[১] সহীহ লিগয়রিহী : আবূ দাঊদ ৪২৬, তিরমিযী ১৭০, সহীহ আত্ তারগীব ৩৯৯, আহমাদ ২৭১০৩। হাদীসটির সানাদে ত্রুটি থাকলেও তার শাহিদমূলক বর্ণনা থাকায় তা সহীহের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৬০৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০৮


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا صَلّى رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلَاةً لِوَقْتِهَا الْآخِرِ مَرَّتَيْنِ حَتّى قَبَضَهُ اللّهُ تَعَالى. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ তা‘আলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দুনিয়া হতে উঠিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কোন সলাতকে এর শেষ ওয়াক্তে দু’বারও আদায় করেননি। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১৭৪, হাকিম ১/১৯০। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি মুনক্বাতি‘ বলেছেন কিন্তু ইমাম হাকিম হাদীসটি মুত্তাসিল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৬০৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬০৯


وَعَنْ اَيُّوْبَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ أَوْ قَالَ عَلَى الْفِطْرَةِ مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا الْمَغْرِبَ إِلى أَنْ تَشْتَبِكَ النُّجُومُ

আবূ আইয়ূব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাত সর্বদাই কল্যাণ লাভ করবে, অথবা তিনি বলেছেন, ফিতরাত-এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যদি তারা তারকারাজি উজ্জ্বল হয়ে উঠা পর্যন্ত মাগরিবের সলাতকে বিলম্বিত না করে। [১]

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৪১৮, আস্ সামরুল মুস্তাত্বব ১/৬১।

৬১০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১০


رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ ورَوَاهُ الدَّارِمِيُّ عَنِ الْعَبَّاسِ

আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

দারিমী এ হাদীস ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

[১] য‘ঈফ : দারিমী ১/২৭৫। কারণ এর সানাদে ‘উমার ইবনু ইব্রাহীম আল্ ‘আব্দী রয়েছে যার সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার বলেন : সে সত্যবাদী। তবে ক্বাতাদাহ্ থেকে তার বর্ণনাগুলো দুর্বল। আর তার এ বর্ণনাটি ক্বাতাদাহ্ থেকে।

৬১১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১১


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلى أُمَّتِي لَامَرْتُهُمْ أَنْ يُؤَخِّرُوا الْعِشَاءَ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفِه. رَوَاهُ أَحْمَد والتِّرْمِذِىُّ وابن مَاجَةَ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে মনে না করলে তাদেরকে ‘ইশার সলাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধরাত পর্যন্ত দেরী করে আদায়ের নির্দেশ দিতাম। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ৭৪১২, তিরমিযী ১৬৭, ইবনু মাজাহ্ ৬৯১, সহীহুল জামি‘ ৫৩১৩।

৬১২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১২


وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَعْتِمُوا بِهذِهِ الصَّلَاةِ فَإِنَّكُمْ قَدْ فُضِّلْتُمْ بِهَا عَلَى الْأُمَمِ وَلَمْ تُصَلِّهَا أُمَّةٌ قَبْلَكُمْ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা এ সলাত (অর্থাৎ ‘ইশার সলাত) দেরী করে আদায় করবে। কারণ এ সলাতের মাধ্যমে অন্যসব উম্মাতের উপর তোমাদের বেশী মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তোমাদের আগের কোন উম্মাত এ সলাত আদায় করেনি। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪২১, সহীহুল জামি‘ ১০৪৩।

৬১৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১৩


وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَنَا أَعْلَمُ بِوَقْتِ هَذِهِ الصَّلَاةِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ الْاخِرَةِ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّيهَا لِسُقُوطِ الْقَمَرِ لِثَالِثَةٍ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالدَّارِمِيُّ

নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি খুব ভালভাবে জানি তোমাদের এ সলাতের, অর্থাৎ শেষ সলাত ‘ইশার ওয়াক্ত সম্পর্কে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৃতীয়বার (তৃতীয় রাতের) চাঁদ অস্ত যাবার পর এ সলাত আদায় করতেন। [১]

৬১৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১৪


وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَسْفِرُوا بِالْفَجْرِ فَإِنَّه أَعْظَمُ لِلْأَجْرِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالدَّارِمِيُّ

রাফি‘ ইবনু খদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা ফাজরের সলাত ফর্সা আলোতে আদায় কর। কারণ ফর্সা আলোতে সলাত আদায় করলে অনেক বেশী সাওয়াব পাওয়া যায়। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪২৪, তিরমিযী ১৫৪, দারিমী ১২১৭, ইরওয়া ২৫৮।

পরিচ্ছদঃ ২.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৬১৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১৫


رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثُمَّ تُنْحَرُ الْجَزُورُ فَتُقْسَمُ عَشَرَ قِسَمٍ ثُمَّ تُطْبَخُ فَنَأْكُلُ لَحْمًا نَضِيجًا قَبْلَ مَغِيبِ الشَّمْسِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

রাফি‘ ইবনু খদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ‘আসরের সলাত আদায় করার পর উট যাবাহ করতাম। এ উট ছাড়িয়ে দশ ভাগ করা হত, তারপর রান্না করা হত। আর আমরা রান্না করা এ গোশত সূর্যাস্তের আগে খেতাম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৪৮৫, মুসলিম ৬২৫, আহমাদ ১৭২৭৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫১৫।

৬১৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১৬


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ مَكَثْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللهِ ﷺ صَلَاةَ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ فَخَرَجَ إِلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ بَعْدَه فَلَا نَدْرِي أَشَيْءٌ شَغَلَه فِي أَهْلِه أَوْ غَيْرُ ذلِكَ فَقَالَ حِينَ خَرَجَ إِنَّكُمْ لَتَنْتَظِرُونَ صَلَاةً مَا يَنْتَظِرُهَا أَهْلُ دِينٍ غَيْرُكُمْ وَلَوْلَا أَنْ يَثْقُلَ عَلى أُمَّتِي لَصَلَّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السَّاعَةَ ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَصَلّى. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা এক রাতে শেষ ‘ইশার সলাতের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপেক্ষা করছিলাম। তিনি এমন সময় বের হলেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত অথবা এরও কিছু পর। আমরা জানি না, পরিবারের কোন কাজে তিনি ব্যতিব্যস্ত ছিলেন, নাকি অন্য কিছু। তিনি বের হয়ে বললেন, তোমরা এমন একটি সলাতের অপেক্ষা করছ, যার জন্য অন্য ধর্মের লোকেরা অপেক্ষা করে না। আমরা উম্মাতের জন্য কঠিন হবে মনে না করলে তাদের নিয়ে এ সলাত আমি এ সময়েই আদায় করতাম। এরপর তিনি মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিলে সে ইক্বামাত দিল। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করালেন। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৩৯, নাসায়ী ৫৩৭, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ৩৪৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫৩৬, সহীহ আল জামি‘ ২৩০৩।

৬১৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১৭


وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ نَحْوًا مِنْ صَلَاتِكُمْ وَكَانَ يُؤَخِّرُ الْعَتَمَةَ بَعْدَ صَلَاتِكُمْ شَيْئًا وَكَانَ يُخِفُّ الصَّلَاةَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের সলাতের মতই সলাত আদায় করতেন। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'ইশার সলাত তোমাদের চাইতে কিছু দেরীতে আদায় করতেন এবং সংক্ষেপ করতেন। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৪৩, আহমাদ ২১০০২।

৬১৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১৮


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ صَلَّيِنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ صَلَاةَ الْعَتَمَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ حَتّى مَضى نَحْوٌ مِّنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَقَالَ خُذُوْا مَقَاعِدَكُمْ فَاَخَذْنَا مَقَاعِدَنَا فَقَالَ اِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَاَخَذُوْا مَضَاجِعَهُمْ وَاِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوا فِي صَلَاةٍ مَا انْتَظَرْتُمِ الصَّلَاةَ وَلَوْلَا ضَعْفُ الضَّعِيفِ وَسَقَمُ السَّقِيمِ لَامَرْتُ بِهذِهِ الصَّلَاةِ إِلى شَطْرِ اللَّيْلِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَآئِىُّ

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা একরাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সলাত আদায় করলাম। (সেদিন) তিনি অর্ধেক রাত পর্যন্ত মাসজিদে এলেন না। [তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে] আমাদের বললেন, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ জায়গায় বসে থাক। তাই আমরা বসে রইলাম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, অন্যান্য লোক সলাত আদায় করেছে। বিছানায় চলে গেছে। আর জেনে রেখো, তোমরা যতক্ষণ সলাতের অপেক্ষা করবে, সময় সলাত(রত থাকা) গণ্য হবে। আমি যদি বুড়ো, দুর্বল ও অসুস্থদের দিকে লক্ষ্য না রাখতাম তাহলে সর্বদা এ সলাত অর্ধেক রাত পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতাম। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪২২, নাসায়ী ৫৩৮।

৬১৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬১৯


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَشَدَّ تَعْجِيْلًا لِلظُّهْرِ مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ أَشَدُّ تَعْجِيْلًا لِلْعَصْرِ مِنْهُ. رَوَاهُ أَحْمَد وَالتِّرْمِذِىُّ

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাতকে তোমাদের চেয়ে বেশী আগে ভাগে আদায় করতেন। আর তোমারা 'আসরের সলাত তাঁর চেয়ে বেশী আগে আদায় কর। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ২৫৯৩৯, তিরমিযী ১৬১।

৬২০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২০


وَعَنْ اَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اِذَ كَانَ الْحَرُّ اَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ وَاِذَ كَانَ الْبَرْدُ عَجَّلَ. رَوَاهُ النِّسَآئِىُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (যুহরের সলাত) গরমকালে ঠান্ডা করে (গরম কমলে) আদায় করতেন আর শীতকালে আগে আগে আদায় করতেন। [১]

[১] সহীহ : নাসায়ী ৪৯৯।

৬২১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২১


وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي أُمَرَاءُ يَشْغَلُهُمْ أَشْيَاءُ عَنْ الصَّلَاةِ لِوَقْتِهَا حَتّى يَذْهَبَ وَقْتُهَا فَصَلُّوا الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ نَعَمْ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: আমার পর শীঘ্রই তোমাদের উপর এমন সব প্রশাসক নিযুক্ত হবে যাদেরকে নানা কাজ ওয়াক্তমত সলাত আদায়ে বিরত রাখবে, এমনকি তার ওয়াক্ত চলে যাবে। অতএব (সে সময়) তোমরা তোমাদের সলাত ওয়াক্তমত আদায় করতে থাকবে। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রসূল! তারপর আমি কি তাদের সাথে এ সলাত আবার আদায় করব? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৩৩, সহীহুল জামি‘ ২৪২৯।

৬২২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২২


وَعَنْ قَبِيصَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ مِنْ بَعْدِي يُؤَخِّرُوْنَ الصَّلَاةَ فَهِيَ لَكُمْ وَهِيَ عَلَيْهِمْ فَصَلُّوا مَعَهُمْ مَا صَلَّوْا الْقِبْلَةَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

ক্ববীসাহ্ ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার পর তোমাদের উপর এমন সব শাসক নিযুক্ত হবে, যারা সলাতকে পিছিয়ে ফেলবে। যা তোমাদের জন্য কল্যাণ হলেও তাদের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনবে। তাই যতদিন তারা ক্বিবলাহ্ হিসাবে (ক্বা'বা-কে)মেনে নিবে ততদিন তাদের পিছনে তোমরা সলাত আদায় করতে থাকবে। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৩৪, ইরওয়া ৫২৯। যদিও এর সানাদে দুর্বলতা রয়েছে কিন্তু পূর্ববর্তী হাদীসটি এর শাহিদ। তাই তা সহীহের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৬২৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২৩


وَعُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارٍ أَنَّه دَخَلَ عَلى عُثْمَانَ وَهُوَ مَحْصُورٌ فَقَالَ إِنَّكَ إمَامُ عَامَّةٍ وَنَزَلَ بِكَ مَا تَرى وَيُصَلِّي لَنَا إِمَامُ فِتْنَةٍ وَنَتَحَرَّجُ فَقَالَ الصَّلَاةُ أَحْسَنُ مَا يَعْمَلُ النَّاسُ فَإِذَا أَحْسَنَ النَّاسُ فَأَحْسِنْ مَعَهُمْ وَإِذَا أَسَاءُوا فَاجْتَنِبْ إِسَاءَتَهُمْ. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

(তাবি'ঈ) 'উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আদী ইবনু খিয়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি খলীফা 'উসমান (রাঃ) -এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি নিজ ঘরে অবরুদ্ধ ছিলেন। তাকে তিনি বললেন, আপনিই জনগনের ইমাম। কিন্তু আপনার উপর এ বিপদ আপতিত যা আপনি দেখছেন। এ সময় বিদ্রোহী নেতা (ইবনু বিশর) আমাদের সলাতে ইমামাত করছে। এতে আমরা গুনাহ মনে করছি। তখন তিনি ['উসমান (রাঃ)] বললেন, মানুষ যেসব কাজ করে, এসবের মধ্যে সলাত হচ্ছে সর্বোত্তম। অতএব মানুষ যখন ভাল কাজ করবে, তাদের সাথে শারীক হবে। যখন মন্দ কাজ করবে, তাদের এ মন্দ কাজ হতে দূরে সরে থাকবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৯৫।

পরিচ্ছদঃ ৩.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৬২৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২৪


عَنْ عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا يَعْنِي الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উমারাহ্ ইবনু রুআয়বাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি: এমন ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্য উঠার ও ডোবার আগে সলাত আদায় করেছে, অর্থাৎ ফাজর ও 'আসরের সলাত। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৩৪, সহীহ আল জামি‘ ৫২২৮, আবূ দাঊদ ৪২৭, নাসায়ী ৪৭১, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭৩৮।

৬২৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২৫


وَعَنْ أَبِي مُوسى قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা সময়ের সলাত (অর্থাৎ ফাজর ও 'আসর) আদায় করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৪, মুসলিম ৬৩৫, আহমাদ ১৬৭৩০, দারেমী ১৪৬৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১৮৫, সহীহ আল জামি‘ ৬৩৩৭।

৬২৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২৬


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ رَبَّهُمُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কাছে রাতে একদল ও দিনে একদল মালায়িকাহ্ আসতে থাকেন। তারা ফাজর ও 'আসরের ওয়াক্তে মিলিত হন। যারা তোমাদের কাছে থাকেন তারা আকাশে উঠে গেলে আল্লাহ তা'আলা তাদের কাছে (বান্দার) অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে অধিক অবগত। বলেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছো? উত্তরে মালায়িকাহ্ বলেন, হে আল্লাহ! আমরা আপনার বান্দাদেরকে সলাত আদায়ে রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। আর যে সময় আমরা তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছেছি তখনও তারা সলাত আদায় করছিল। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৫৫, মুসলিম ৬৩২, নাসায়ী ৪৮৫, মালিক ১৮০/৫৯০, আহমাদ ১০৩০৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭৩৭, সহীহ আল জামি‘ ৮০১৯।

৬২৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২৭


وَعَنْ جُنْدُبٍ الْقَسْرِيَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلّى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللهِ فَلَا يَطْلُبَنَّكُمُ اللّهُ مِنْ ذِمَّتِه بِشَيْءٍ فَإِنَّه مَنْ يَطْلُبْهُ مِنْ ذِمَّتِه بِشَيْءٍ يُدْرِكْهُ ثُمَّ يَكُبَّه عَلى وَجْهِه فِي نَارِ جَهَنَّمَ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِىْ بَعْضِ نُسَخِ الْمَصَابِيْح ِالْقُشَيْرِىِّ بَدَلَ الْقَسْرِىِّ

জুনদুব আল ক্বসরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাজরের সলাত আদায় করল সে আল্লাহর যিম্মাদারিতে থাকল। অতএব আল্লাহ যেন আপন যিম্মাদারীর কোন বিষয় সম্পর্কে তোমাদের বিপক্ষে বাদী না হন। কারণ তিনি যার বিপক্ষে আপন দায়িত্বের কোন ব্যাপারে বাদী হবেন, তাকে (নিশ্চিত) ধরতে পারবেনই। অতঃপর তিনি তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে ফেলবেন। [১]
আর মাসাবীহের কোন কোন নুসখায় (আরবি) পরিবর্তে (আরবি) রয়েছে।

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৫৭, আহমাদ ১৮৮১৪, সহীহাহ্ ২৮৯০।

৬২৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২৮


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّاأَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَاسْتَهَمُوا وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لَاسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ يَعْلَمُوْنَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لَاتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষ যদি জানত আযান দেয়া ও সলাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কী সাওয়াব রয়েছে এবং লটারী করা ছাড়া এ সুযোগ না পেত, তাহলে লটারী করত। আর যদি জানত সলাত আদায় করার জন্য আগে আগে আসার সাওয়াব, তাহলে তারা এ (যুহরের) সলাতে অন্যের আগে পৌঁছার চেষ্টা করত। যদি জানত ‘ইশা ও ফাজরের সলাতের মধ্যে আছে, তাহলে (শক্তি না থাকলে) হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সলাতে হাযির হবার চেষ্টা করত। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬১৫, মুসলিম ৪৩৭, নাসায়ী ৫৪০, মালিক ৩, তিরমিযী ২২৫, আহমাদ ৭২২৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৫৯

৬২৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬২৯


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيْسَ صَلَاةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنَ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَاتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুনাফিক্বদের জন্য ‘ইশা ও ফাজরের সলাতের চেয়ে ভারী আর কোন সলাত নেই। যদি এ দুই সলাতের মধ্যে কি রয়েছে, তারা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সলাতে আসত। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৫৭, মুসলিম ৬৫১, ইবনু মাজাহ্ ৭৯৭, আহমাদ ৯৪৮৬, দারেমী ১৩০৯।

৬৩০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩০


وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘ইশার সলাত জামা‘আতে সাথে আদায় করেছে, সে যেন অর্ধেক রাত সলাতরত থেকেছে। আর যে ব্যক্তি ফাজরের সলাত জামা‘আতে আদায় করেছে, সে যেন পুরো রাত সলাত আদায় করেছে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৫৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ২০৬০, সহীহ আল জামি‘ ৬৩৪১, তিরমিযী ২২১, আহমাদ ৪০৮, দারেমী ১২৬০।

৬৩১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩১


عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يَغْلِبَنَّكُمُ الْأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلَاتِكُمُ الْمَغْرِبَ قَالَ وَتَقُوْلُ الْاَعْرَابُ هِىَ الْعِشَاءِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বেদুইনরা যেন তোমাদের মাগরিবের সলাতের নামকরণে তোমাদের উপর বিজয়ী হতে না পারে। বর্ণনাকারী বলেন, বেদুইনরা এ সলাতকে ‘ইশা বলত। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৩, আহমাদ ৫/৫৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭৩৬।

৬৩২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩২


وَقَالَ لَا يَغْلِبَنَّكُمْ الْأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلَاتِكُمُ الْعِشَاءِ فَإِنَّهَا فِي كِتَابِ اللهِ الْعِشَاءُ فَإِنَّهَا تُعْتِمُ بِحِلَابِ الْإِبِلِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বেদুইনরা যেন তোমাদের ‘ইশার সলাতের নামকরণেরও তোমাদের উপর জয়ী হতে না পারে। এটা আল্লাহর কিতাবে ‘ইশা। তা পড়া হয় তাদের উষ্ট্রী দুধ দোহনের সময়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৪৪, আবূ দাঊদ ৪৯৮৪, নাসায়ী ১/৯৩, ইবনু মাজাহ্ ৭০৪, আহমাদ ২/১০, ১৮, ৪৯, ১৪৪।

এ সংকলনে দু’ দিক থেকে সমস্যা রয়েছে। প্রথমত এটি এ ধারণা দিচ্ছে যে উভয়টি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি হাদীস। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা দু’টি হাদীস একটি মাগরিব সলাতের বিষয়ে আর অপরটি ‘ইশা সলাতের বিষয়ে। দ্বিতীয়ত এ ধারণাও দিচ্ছে যে, ইমাম মুসলিম (রহঃ) এভাবেই পরিপূর্ণ আকারে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি ইবনু ‘উমার হতে দ্বিতীয় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর প্রথম হাদীসটি (অর্থাৎ- মাগরিব সলাতের ক্ষেত্রে) ইমাম বুখারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

৬৩৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩৩


عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ حَبَسُونَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطى صَلَاةِ الْعَصْرِ مَلَا اللّهُ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খন্দাক্বের যুদ্ধের দিন বলেছিলেন, কাফিররা আমাদেরকে ‘মধ্যবর্তী সলাত’ অর্থাৎ ‘আস্‌রের সলাত আদায় করা থেকে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তা’আলা তাদের ঘর আর ক্ববরগুলো আগুন দিয়ে ভরে দিন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৫৩৩, মুসলিম ৬২৭, আবূ দাউদ ৪০৯, দারেমী ১২৬৮।

পরিচ্ছদঃ ৩.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৬৩৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩৪


وَعَنِ بْنِ مَسْعُودٍ وَّسَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلَاةُ الْوُسْطى صَلَاةُ الْعَصْرِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

ইবনু মাস্‘ঊদ ও সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : (উস্‌ত্বা- সলাত) মধ্যবর্তী সলাত হচ্ছ ‘আস্‌রের সলাত। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১৮১-১৮২, মুসলিম ২/১১২, সহীহুল জামি‘ ৩৮৩৫। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ যদি লেখক رَوَاهُ -এর স্থলে رَوَاهُمَا বলতো তাহলে ভালো হতো। কারণ এ দু’টি ভিন্ন সানাদে বর্ণিত দু’টি হাদীস। প্রথমটি মুররাহ্ আল্ হামদানীর সূত্রে ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিরমিযী যেটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আর দ্বিতীয়টি হাসান বসরীর সূত্রে সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত যেটি তিরমিযীতে রয়েছে।

৬৩৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩৫


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ فِي قَوْلِه تَعَالى : إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا قَالَ تَشْهَدُه مَلَائِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلَائِكَةُ النَّهَارِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আল্লাহর বাণী (আরবী) “ফাজ্‌রের ক্বিরাআতে (সলাতে) উপস্থিত হয়”- (সূরাহ্‌ ইসরা ১৭ : ৭৮) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এতে উপস্থিত হয় রাতের ও দিনের মালায়িকাহ্। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ৩১৩৫।

পরিচ্ছদঃ ৩.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৬৩৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩৬


عَنْ زَيْدِ بْنَ ثَابِتٍ وَعَائِشَة قَالَا الصَّلَاةُ الْوُسْطى صَلَاةُ الظُّهْرِ. رَوَاهُ مَالِكٌ عَن زيد وَالتِّرْمِذِىُّ عَنْهُمَا تَعْلِيْقَا

যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উভয়ে বলেন, ‘উস্‌ত্বা সলাত’ (মধ্যবর্তী সলাত) যুহরের সলাত। ইমাম মালিক (রহঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে এবং ইমাম তিরমিযী উভয় হতে মু’আল্লাক্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। [১]

[১] হাসান : মালিক ৪৬০, তিরমিযী ১৮২। যদিও এর সানাদে ইবনু ইয়ারবূ‘ আল্ মাখযূমী নামে একজন অপরিচিত রাবী রয়েছে কিন্তু যায়দ ইবনু সাবিত-এর সূত্রে ত্বহাবীতে বর্ণিত এর একটি শাহিদমূলক বর্ণনা থাকায় তা হাসানের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৬৩৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩৭


وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَلَمْ يَكُنْ يُصَلِّي صَلَاةً أَشَدَّ عَلى أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ ﷺ مِنْهَا نَزَلَتْ ﴿حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوتِ وَالصَّلوةِ الْوُسْطى﴾ وَقَالَ إِنَّ قَبْلَهَا صَلَاتَيْنِ وَبَعْدَهَا صَلَاتَيْنِ. رَوَاهُ أَحْمَد وأَبُوْ دَاودَ

যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত আগে আগে আদায় করতেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন কোন সলাত আদায় করতেন না যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণের জন্য যুহরের চেয়ে কষ্টসাধ্য ছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হল : [আরবী] “তোমরা সব সলাতের, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সলাতের হিফাযাত করবে”- (সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌ ২: ২৩৮)। তিনি [যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)] বলেন,যুহরের সলাতের আগেও দু’টি সলাত (‘ইশা ও ফাজ্‌র) আছে। আর পরেও দু’টি সলাত (‘আস্‌র ও মাগরিব) আছে। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ২১০৮০, আবূ দাঊদ ৬৩৭।

৬৩৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩৮


وَعَنْ مَالِك بَلَغَه أَنَّ عَلِيَّ ابْنَ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ كَانَا يَقُولَانِ الصَّلَاةُ الْوُسْطى صَلَاةُ الصُّبْحِ. رَوَاهُ المُوَطَّأً

আলী ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইমাম মালিক-এর নিকট বিশ্বস্ত সূত্রে পৌছেছে যে, ‘আলী ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতেন : ‘সলাতুল উস্‌ত্বা’ দ্বারা উদ্দেশ্য ফাজ্‌রের সলাত। [১]

[১] য‘ঈফ : মালিক ৩১৬।

৬৩৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৩৯


وَرَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَّابْنِ عُمَرَ تَعْلِيْقًا

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিরমিযী ইবনু ‘আব্বাস ও ইবনু ‘উমার হতে মু’আল্লাক্ব হিসবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৬৪০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪০


وَعَنْ سَلْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ غَدَا إِلى صَلَاةِ الصُّبْحِ غَدَا بِرَايَةِ الْإِيمَانِ وَمَنْ غَدَا إِلَى السُّوقِ غَدَا بِرَايَةِ إِبْلِيسَ. رَوَاهُ ابن مَاجَةَ

সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : যে লোক ভোরে ফাজ্‌রের সলাত আদায়ের জন্য গেল সে লোক ঈমানের পতাকা উড়িয়ে গেল। আর যে লোক ভোরে বাজারের দিকে গেল সে লোক ইবলীসের (শায়ত্বনের) পতাকা উড়িয়ে গেল। [১]

[১] খুবই দুর্বল : ইবনু মাজাহ্ ২২৩৪। কারণ এর সানাদে ‘আবীস ইবনু মায়মূন রয়েছে যাকে ইমাম বুখারীসহ আরো অনেকে ‘‘মুনকিরুল হাদীস’’ হিসেবে অবহিত করেছেন। আর ইবনু হিব্বান বলেছেন যে, সে বিশ্বস্ত রাবী থেকে ধারণার ভিত্তিতে বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করে।

পরিচ্ছদঃ ৪.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৬৪১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪১


عَنْ أَنَسٍ قَالَ ذَكَرُوا النَّارَ وَالنَّاقُوسَ فَذَكَرُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارى فَأُمِرَ بِلَالٌ أَنْ يَشْفَعَ الْأَذَانَ وَأَنْ يُوتِرَ الْإِقَامَةَ قَالَ اِسْمَاعِيْلُ فَذَكَرْتُه لَايُّوْبَ فَقَالَ اِلَّا الْاِقَامَةَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (সলাতে শারীক হবার জন্য ঘোষণা প্রসঙ্গে) আগুন জ্বালানো ও শিঙ্গায় ফুঁক দেবার প্রস্তাব হল। এটাকে কেউ কেউ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের প্রথা বলে উল্লেখ করেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে নির্দেশ দিলেন আযান জোড়া শব্দে ও ইক্বামাত বেজোড় শব্দে দেয়ার জন্য। হাদীস বর্ণনাকারী ইসমা’ঈল বলেন, আমি আবূ আইয়ূব আনসারীকে (ইক্বামাত বেজোড় দেয়া সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তবে “ক্বদ ক্বা-মাতিস সলা-হ্‌ ছাড়া” (অর্থাৎ- ক্বদ ক্বা-মাতিস সলা-হ্‌’ জোড় বলতে হবে।) [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬০৩-৬০৫, মুসলিম ৩৭৮, নাসায়ী ৬২৭, ইবনু মাজাহ্ ৭২৯, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ৩৬৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৭৮।

৬৪২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪২


وَعَنْ أَبِيْ مَحْذُوْرَةَ قَالَ اَلْقى عَلَىَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ التَّاْذِيْنَ هُوَ بِنَفْسِه فَقَالَ قُلْ اَللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللهِ ثُمَّ تَعُودُ فَتَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ لَا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ মাহযূরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং আমাকে আযান শিখিয়েছেন। তিনি আযানে বললেন, বল : (১) আল্ল-হু আকবার, (২) আল্ল-হু আকবার, (৩) আল্ল-হু আকবার, (৪) আল্ল-হু আকবার; (১) আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, (২) আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, (১)আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, (২) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ। তারপর (তিনি) বললেন, তুমি আবার বল, (১) আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, (২) আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, (১) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, (২) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, (১) হাইয়্যা ‘আলাস সলা-হ, (২) হাইয়্যা ‘আলাস সলা-হ, (১) হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ, (২) হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ। (১) আল্ল-হু আকবার, (২) আল্ল-হু আকবার। লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৭৯, আবূ দাঊদ ৫০৩, নাসায়ী ৬৩২, ইবনু মাজাহ্ ৭০৮।

পরিচ্ছদঃ ৪.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৬৪৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪৩


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ الْأَذَانُ عَلى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَالْإِقَامَةُ مَرَّةً مَرَّةً أَنَّه يَقُولُ قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَآئِىُّ وَالدَّارِمِيُّ

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় আযানের বাক্য দু’ দু’বার ও ইক্বামাতের বাক্য এক একবার ছিল। কিন্ত ‘‘ক্বদ ক্ব-মাতিস্‌ সলা-হ্‌” কে মুয়ায্‌যিন দু’বার করে বলতেন। [১]

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৫১০, নাসায়ী ৬২৮, দারিমী ১১৯৩।

৬৪৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪৪


عَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ عَلَّمَهُ الْأَذَانَ تِسْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً وَالْإِقَامَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَآئِىُّ وَالدَّارِمِيُّ وَابْنُ مَاجَةَ

আবূ মাহযূরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে উনিশ বাক্যে আযান আর সতের বাক্যে ইক্বামাত শিক্ষা দিয়েছেন। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ২৬৭০৮, আবূ দাঊদ ৫০২, তিরমিযী ১৯২, নাসায়ী ৬৩০, ইবনু মাজাহ্ ৭০৯, দারিমী ১১৯৭, সহীহুল জামি‘ ২৭৬৪।

৬৪৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪৫


وَعَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ عَلِّمْنِىْ سُنَّةَ الأَذَانِ قَالَ فَمَسَحَ مُقَدَّمَ رَأْسِه قَالَ تَقُولُ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ تَرْفَعُ بِهَا صَوْتَكَ ثُمَّ تَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللهِ تَخْفِضُ بِهَا صَوْتَكَ ثُمَّ تَرْفَعُ صَوْتَكَ بِالشَّهَادَةِ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللهِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ فَإِنْ كَانَ صَلَاةَ الصُّبْحِ قُلْتَ الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِنْ النَّوْمِ الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِّنْ النَّوْمِ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আবূ মাহযূরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আযানের নিয়ম শিখিয়ে দিন। তিনি [আবূ মাহযূরাহ্‌ রাঃ] বলেন, (আমার কথা শুনে) তিনি আমার অথবা এবং বললেন, বল : আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার,আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার। এ বাক্যগুলো তুমি খুব উচ্চৈঃস্বরে বলবে। এরপর তুমি নিম্নস্বরে বলবে,আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এবং আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ। তুমি পুনরায় উচ্চৈঃস্বরে শাহাদাত বাক্য বলবে : আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ, হাইয়্যা ‘আলাস্‌ সলা-হ্‌, হাইয়্যা ‘আলাস্‌ সলা-হ্‌; হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ। এ আযান ফাজ্‌রের সলাতের জন্য হলে বলবে,আস্‌সলা-তু খয়রুম মিনান্‌ নাওম, আস্‌সলা-তু খয়রুম মিনান্‌ নাওম। আল্ল-হু আকবর, আল্ল-হু আকবার। লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫০০। যদিও হাদীসের এ সানাদটি দুর্বল কিন্তু তার অনেকগুলো শাহিদ বর্ণনা থাকায় তা সহীহের স্তরে উন্নিত হয়েছে।

৬৪৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪৬


وَعَنْ بِلَالٍ قَالَ قَالَ لِيْ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُثَوِّبَنَّ فِي شَيْءٍ مِّنَ الصَّلَوَاتِ إِلَّافِي صَلَاةِ الْفَجْرِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَاِبْنُ مَاجَةَ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ أَبُوْ إِسْرَائِيلَ الرَّاوِىْ لَيْسَ بِذَاكَ الْقَوِيِّ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ

বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন : ফাজ্‌রের সলাত ব্যতীত কোন সলাতেই তাসবীব করবে না। [১]
কিন্ত তিরমিযী এ হাদীসের সমালোচনা করে বলেন, এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী আবূ ইসরাঈল মুহাদ্দিসদের মতে নির্ভরযোগ্য নন।

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১৯৮, ইবনু মাজাহ্ ৭১৫, য‘ঈফুল জামি‘ ৬১৯১। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আবূ ইসরাঈল এ হাদীসটি হাকাম ইবনু ‘উয়ায়নাহ্ থেকে শ্রবণ করেননি। বরং তিনি এটি হাসান থেকে ‘উমারাহ্ তারপর হাকাম এ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর এ ‘উমারাহ্ খুবই দুর্বল রাবী। তবে হাদীসটি অর্থগতভাবে সহীহ, কারণ اَلصَّلَاةُ خَيْرُ مِّنَ النَّوْم ফজরের (ফজরের) সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছাড়া অন্য কোন সলাতে বলা হয় না।

৬৪৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪৭


وَ عَنْ جَابِرِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لِبِلَالٍ إِذَا أَذَّنْتَ فَتَرَسَّلْ وَإِذَا أَقَمْتَ فَاحْدُرْ وَاجْعَلْ بَيْنَ أَذَانِكَ وَإِقَامَتِكَ قَدْرَ مَا يَفْرُغُ الْآكِلُ مِنْ أَكْلِه وَالشَّارِبُ مِنْ شُرْبِه وَالْمُعْتَصِرُ إِذَا دَخَلَ الِقَضَاءِ حَاجَتِه وَلَا تَقُومُوا حَتّى تَرَوْنِي. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ لَا نَعْرِفُه اَلَّا مِنْ حَدِيْثِ عَبْدِ الْمُنْعِمِ وَهُوَ اِسْنَاد مَّجْهُوْلٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে বললেন, যখন আযান দিবে ধীর গতিতে (উচ্চকণ্ঠে) দিবে এবং যখন ইক্বামাত দিবে দ্রুতগতিতে (নিচু স্বরে) দিবে। তোমরা আযান ও ইক্বামাতের মধ্যে এ পরিমাণ বিরতি রাখবে যাতে খাদ্য গ্রহণকারী খাওয়া, পানরত লোক পান করা, পায়খানা প্রস্রাবে রত লোক হাজাত পূর্ণ করতে পারে। আর আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা সলাতে কাতারবদ্ধ হবে না। [১]
তিরমিযী বলেন, এ হাদীসকে আমরা ‘আবদুল মুন্‌’ইম ছাড়া আর কারও থেকে শুনিনি আর এর সানাদ মাজহূল-অজানা।

[১] খুবই য‘ঈফ বা দুর্বল : তিরমিযী ১৯৫। এর সানাদে আবদুল মুন্‘ইম নামে একজন মাজহুল বা অপরিচিত রাবী রয়েছে। আর ‘আমর ইবনু যায়দ আল আসওয়ারী তার মুতাবায়াত করেছে যিনি ইমাম যাহাবীর ভাষ্য মতে একজন মাতরুক রাবী। আর তাদের উভয়ের উসতাদ ইহ্ইয়া ইবনু মুসলিম আল বাক্কা একজন দুর্বল রাবী। তবে হাদীসের وَلَا تَقُوْمُوْا حَتّى تَرَوْنِيْ অংশটুকু সহীহ হাদীসে প্রমাণিত।

৬৪৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪৮


وَعَنْ زِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ الصُّدَائِىـىِّ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ أُؤَذِّنَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ فَأَذَّنْتُ فَأَرَادَ بِلَالٌ أَنْ يُقِيمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَخَا صُدَاءٍ قَدْ أَذَّنَ وَمَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ أَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ

যিয়াদ ইবনু হারিস আস্ সুদায়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে নির্দেশ দিলেন ফাজ্‌রের সলাতের আযান দিতে। আমি আযান দিলাম। তারপর (সলাতের সময়) বিলাল ইক্বামাত দিতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথন বললেন, সুদায়ীর ভাই আযান দিয়েছে। আর যে আযান দিবে সে ইক্বামাতও দিবে। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৫১৪, তিরমিযী ১৯৯, ইবনু মাজাহ্ ৭১৭, ইরওয়া ৫৩৭, সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ৩৫। কারণ এর সানাদে ‘আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ আল-আফরিকী রয়েছে যিনি একজন দুর্বল রাবী।

পরিচ্ছদঃ ৪.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৬৪৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৪৯


عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ الْمُسْلِمُونَ حِيْنَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ يَجْتَمِعُونَ فَيَتَحَيَّنُوْنَ لِلصَّلَاةَ لَيْسَ يُنَادِىْ بِهَا اَحَدٌ فَتَكَلَّمُوا يَوْمًا فِي ذلِكَ فَقَالَ بَعْضُهُمُ اتَّخِذُوا مِثْلَ نَاقُوسِ النَّصَارى وَقَالَ بَعْضُهُمْ قَرْنًامِثْلَ قَرْنِ الْيَهُودِ فَقَالَ عُمَرُ أَوَلَا تَبْعَثُونَ رَجُلًا يُنَادِيْ بِالصَّلَاةِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا بِلَالُ قُمْ فَنَادِ بِالصَّلَاةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুসলিমরা মাদীনায় হিজরত করে আসার পর সলাতের জন্য অনুমান করে একটা সময় ঠিক করে নিতেন। সে সময় সকলে একত্রিত হতেন। কারণ তখনও সলাতের জন্য কেউ আহ্বান করত না। একদিন এ বিষয় নিয়ে তারা আলোচনায় বসতেন। কেউ বললেন, নাসারাদের মতো ঘণ্টা বাজানো হোক। আবার কেউ বললেন, ‘ইয়াহূদীদের মতো শিঙ্গার ব্যাবস্থ করা হোক। তখন ‘উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা কি একজন লোক পাঠিয়ে দিয়ে মানুষকে সলাতের জন্য আহ্বান করতে পারবে? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বিলাল! উঠ, সলাতের জন্য আহ্বান কর (আযান দাও)। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬০৪, মুসলিম ৩৭৭, নাসায়ী ৬২৬, তিরমিযী ১৯০, আহমাদ ৬৩৫৭।

৬৫০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫০


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّه قَالَ لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِالنَّاقُوسِ يُعْمَلُ لِيُضْرَبَ بِه لِلنَّاسِ لِجَمْعِ الصَّلَاةِ طَافَ بِي وَأَنَا نَائِمٌ رَجُلٌ يَحْمِلُ نَاقُوسًا فِي يَدِه فَقُلْتُ يَا عَبْدَ اللهِ أَتَبِيعُ النَّاقُوسَ قَالَ وَمَا تَصْنَعُ بِه فَقُلْتُ نَدْعُو بِه إِلَى الصَّلَاةِ فَقَالَ أَفَلَا أَدُلُّكَ عَلى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذلِكَ فَقُلْتُ لَه بَلى قَالَ فَقَالَ تَقُولُ اللّهُ أَكْبَرُ إِلى آخِرِه وَكَذَا الإِقَامَةُ فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَتَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُه بِمَا رَأَيْتُ فَقَالَ إِنَّهَا لَرُؤْيََا حَقٌّ إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالى فَقُمْ مَعَ بِلَالٍ فَأَلْقِ عَلَيْهِ مَا رَأَيْتَ فَلْيُؤَذِّنَ بِه فَإِنَّه أَنْدى صَوْتًا مِنْكَ فَقُمْتُ مَعَ بِلَالٍ فَجَعَلْتُ أُلْقِيْهِ عَلَيْهِ وَيُؤَذِّنُ بِه قَالَ فَسَمِعَ بِذلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ فِىْ بَيْتِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ رِدَاءَه يَقًُوْلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَالَّذِىْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ مَا أُوْرِيَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَلِلّهِ الْحَمْدُ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالدَّارِمِيُّ وَابْنِ مَاجَةَ اِلَّا أَنَّه لَمْ يَذْكُرِ الإِقَامَةَ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هذَا حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ لَكِنَّه لَمْ يُصَرِّحْ قِصَّةَ النَّاقُوْسِ

আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আবদ রব্বিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের জন্য একত্রিত হওয়ার জন্য ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দিলেন। (সেদিন) আমি স্বপ্নে দেখলাম : এক লোক একটি ঘণ্টা নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি এ ঘণ্টাটা বিক্রি করবে? সে বলল, তুমি এ ঘণ্টা দিয়ে কী করবে? আমি বললাম, আমরা এ ঘণ্টা বাজিয়ে মানুষকে সলাতের জামা’আতে ডাকব। সে ব্যক্তি বলল, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম পন্থা বলে দিব না? আমি বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই। সে বলল, তুমি বল, ‘আল্ল-হু আকবার’ আযানের শেষ বাক্য পর্যন্ত আমাকে বলে শুনাল। এভাবে ইক্বামাতও বলে দিল। ভোরে উঠে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট স্বপ্নে যা দেখলাম সব তাঁকে তা বললাম। তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ এ স্বপ্ন সত্য। এখন তুমি স্বপ্নে যা দেখেছে বিলালের সাথে দাঁড়িয়ে তাকে বলতে থাক। আর সে আযান দিতে থাকুক। কারণ তার কণ্ঠস্বর তোমার চেয়ে জোরালো। অতএব আমি বিলালের সাথে দাঁড়িয়ে গিয়ে তাকে বলতে লাগলাম। আর তিনি আযান দিতে থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমার (রাঃ) নিজ বাড়ী থেকে আযানের শব্দ শুনে তাড়াতাড়ি নিজ চাদর টানতে টানতে বেরিয়ে এসে (নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে) বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রসূল! সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমিও একই স্বপ্ন দেখেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আলহাম্‌দু লিল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা। [১]
কিন্তু ইবনু মাজাহ ইক্বামাতের কথা উল্লেখ করেননি। ইমাম তিরমিযী বলেছেন- হাদীস সহীহ। তবে তিনি ঘণ্টার কথা উল্লেখ করেননি।

[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৯৯, দারিমী ১১৮৭, তিরমিযী ১৮৯, ইবনু মাজাহ্ ৭০৬, ইরওয়া ২৪৬।

৬৫১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫১


وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَكَانَ لَا يَمُرُّ بِرَجُلٍ اِلَّا نَادَاهُ بِالصَّلَاةِ أَوْ حَرَّكَه بِرِجْلِه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ফাজ্‌রের সলাতের জন্য বের হলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যার নিকট দিয়েই যেতেন, তাকে সলাতের জন্য আহ্বান করতেন অথবা নিজের পা দিয়ে তাকে নেড়ে দিয়ে যেতেন। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১২৬৪। কারণ এর সানাদে আবুল ফাযল আল্ আনসারী নামে একজন মাজহূল বা অপরিচিত রাবী রয়েছে।

৬৫২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫২


وَعَنْ مَالِك بَلَغَه أَنَّ الْمُؤَذِّنَ جَاءَ عُمَرَ يُؤْذِنُه لِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَوَجَدَه نَائِمًا فَقَالَ الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِّنَ النَّوْمِ فَأَمَرَه عُمَرُ أَنْ يَجْعَلَهَا فِي نِدَاءِ الصُّبْحِ. رَوَاهُ فِى المُؤَطَّا

ইমাম মালিক থেকে বর্ণিতঃ

একজন মুয়ায্‌যিন ‘উমারকে ফাজ্‌রের সলাতের জন্য জাগাতে এলে তাকে নিদ্রিত পেলেন। তখন মুয়ায্‌যিন বললেন, “আস্‌সলা-তু খয়রুম মিনান্‌ নাওম” (সলাত ঘুম থেকে উত্তম)। ‘উমার (রাঃ) তাকে এ বাক্যটি ফাজ্‌রের সলাতের আযানে যোগ করার নির্দেশ দিলেন। [১]

[১] য‘ঈফ : মুয়াত্ত্বা মালিক ১৫৪। কারণ এর সানাদটি মুরসাল বা মু‘যাল।

৬৫৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫৩


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ مُؤَذِّنِ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ حَدَّثَنِىْ أَبِىْ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَمَرَ بِلَالًا أَنْ يَجْعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ وَقَالَ إِنَّه أَرْفَعُ لِصَوْتِكَ. رَوَاهُ اِبْنُ مَاجَةَ

আবদুর রহমান ইবনু সা‘দ ইবনু ‘আম্মার ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (দাদা) ছিলেন মাসজিদে কুবায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুয়ায্‌যিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে (আযানের সময়) তার দুই আঙ্গুল দুই কানের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখার হুকুম দিলেন এবং বললেন, এভাবে (আঙ্গুল) রাখলে তোমার কণ্ঠষ্বর উঁচু হবে। [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ৭১০, ইরওয়া ২৩১। কারণ এর সানাদে ‘আম্মার, সা‘দ, ‘আবদুর রহমান- তিনজন দুর্বল রাবী রয়েছে। এ বিষয় সুনান আত্ তিরমিযীতে সহীহ হাদীস রয়েছে তা হলোঃ অর্থাৎ-عَنْ عَوْن بْن أَبِيْ جُحَيْفَةَ عَن أَبِيْه قَالَ : رَأَيْتُ بِلَالً يُؤَذِّنُ وَيَدُوْرُ وَيَتْبَعُ فَاهُ هَاهُنَا وَهَاهُنَا وَإِصْبَعَاهُ فِى أُذُنَيْهِ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِىْ قُبَّةٍ لَهٗ حَمْرَاءَ আবূ জুহায়ফাহ্ বলেন, আমি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দেয়ার সময় তার মুখমণ্ডলটি এদিক-ওদিক ফিরাতে দেখেছি। এমতাবস্থায় তার আঙ্গুল তার কর্ণে ছিল এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার লাল তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন।

পরিচ্ছদঃ ৫.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৬৫৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫৪


عَنْ مُّعَاوِيَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ الْمُوَذِّنُوْنَ اَطْوَلُ النَّاسِ اَعْنَاقًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : ক্বিয়ামাতের দিন মুয়ায্‌যিনগণ সবচেয়ে উঁচু ঘাড় সম্পন্ন লোক হবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৮৭, ইবনু মাজাহ্ ৭২৫, আহমাদ ১৬৮৬১, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৬৯, সহীহ আল জামি‘ ১০৩১।

৬৫৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫৫


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَه ضُرَاطٌ حَتّى لَا يَسْمَعَ التَّأْذِينَ فَإِذَا قُضِىَ النِّدَاءُ أَقْبَلَ حَتّى إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ حَتّى إِذَا قُضِىَ التَّثْوِيْبُ أَقْبَلَ حَتّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهيَقُولُ اذْكُرْ كَذَا اُذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتّى يَظِلَّ الرَّجُلُ لَا يَدْرِي كَمْ صَلّى. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সলাতের জন্য আযান দিতে থাকলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় ও বায়ু ছাড়তে থাকে, যাতে আযানের শব্দ তার কানে না পৌঁছে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে ফিরে আসে। আবার যখন ইক্বামাত শুরু হয় পিঠ ফিরিয়ে পালাতে থাকে। ইক্বামাত শেষ হলে আবার ফিরে আসে। সলাতে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করতে তাকে। সে বলে, অমুক বিষয় স্মরণ কর। অমুক বিষয় স্মরণ কর। যেসব বিষয় তার মনে ছিল না সব তখন তার মনে পড়ে যায়। পরিশেষে মানুষ অবচেতন হয় আর বলতে পারে না কত রাক্‌’আত সলাত আদায় করা হয়েছে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬০৮, মুসলিম ৩৮৯, আবূ দাঊদ ৫১৬, নাসায়ী ৫৭০, আহমাদ ৯৯৩১, সহীহ আল জামি‘ ৮১৭। اَلتَّثْوِيْبُ (আত্ তাসবীব) হলো ২য় বার ঘোষণা করা। এখানে ইক্বামাহ্ উদ্দেশ্য।

৬৫৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫৬


وَعَنْ أَبِيْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ُ لَا يَسْمَعُ مَدى صَوْتِ الْمُؤَذِّنِ جِنٌّ وَلَا إِنْسٌ وَلَا شَيْءٌ اِلَّا شَهِدَ لَه يَوْمَ الْقِيَامَةِ. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বরেছেন : যতদূর পর্যন্ত মানুষ, জিন্‌ বা অন্য কিছু মুয়ায্‌যিনের আযানের ধ্বনি শুনবে তারা সকলেই ক্বিয়ামাতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৭৫৪৮, নাসায়ী ৬৪৪, আহমাদ ১১৩০৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৬১, সহীহ আল জামি‘ ২৪৫০।

৬৫৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫৭


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّه سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ إِذَا سَمِعْتُمِ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّه مَنْ صَلّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللّهَ لِي الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِي اِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমরা মুয়ায্‌যিনের আযান শুনলে উত্তরে সে শব্দগুলোরই পুনরাবৃত্তি করবে। আযান শেষে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কারণ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে (এর পরিবর্তে) আল্লাহ তার উপর দশবার রাহমাত বর্ষণ করবেন। এরপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ‘ওয়াসীলা’ প্রার্থনা করবে। ‘ওয়াসীলা’ হল জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু একজন পাবেন। আর আমার আশা এ বান্দা আমিই হব। তাই যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘ওয়াসীলা’র দু’আ করবে, ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য সুপারিশ করা আমার জন ওয়াজিব হয়ে পড়বে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৮৪, আবূ দাঊদ ৫২৩, নাসায়ী ৬৭৮, তিরমিযী ৩৬১৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৯০, ইরওয়া ২৪২, সহীহ আল জামি‘ ৬১৩।

৬৫৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫৮


وَعَنْ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ فَقَالَ أَحَدُكُمْ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللّهُ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللّهُ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ ثُمَّ قَالَ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ ثُمَّ قَالَ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ قَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ ثُمَّ قَالَ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ قَالَ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ قَالَ لَا إِلهَ اِلَّا اللّهُ قَالَ لَا إِلهَ اِلَّا اللّهُ مِنْ قَلْبِه دَخَلَ الْجَنَّةَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মুয়ায্‌যিন যখন “আল্লা-হু আকবার” বলে তখন তোমাদের কেউ যদি (উত্তরে) অন্তর থেকে বলে, “আল্লা-হু আকবার” “আল্লা-হু আকবার” এরপর মুয়ায্‌যিন যখন বলেন, “আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ,” সেও বলে, “আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ,”। অতঃপর মুয়ায্‌যিন যখন বলে, “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লা-হ”, সেও বলে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লা-হ”, তারপর মুয়ায্‌যিন যখন বলে, “হাইয়্যা ‘আলাস সলা-হ”, সে তখন বলে, “লা-হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা-বিল্লা-হ”; পরে মুয়ায্‌যিন যখন বলে, “আল্লা-হু আকবার ‘আল্লা-হু আকবার”, সেও বলে, “আল্লা-হু আকবার ‘আল্লা-হু আকবার”, এরপর মুয়ায্‌যিন যখন বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ”, সেও বলে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ”, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৮৫, আবূ দাঊদ ৫২৭, সহীহ আল জামি‘ ৭১৪।

৬৫৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৫৯


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللّهُمَّ رَبَّ هذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ اۤتِ مُحَمَّدَانِ الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودَانِ الَّذِي وَعَدْتَه حَلَّتْ لَه شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি আযান শুনে ( ও এর উত্তর দেয়ার ও দরূদ পড়ার পর) এ দু’আ পড়ে, তার জন্য সুপারিশ করা আমার অবশ্য করণীয় হয়ে পড়ে। দু’আ হল : “আল্ল-হুম্মা রব্বা হা-যিহিদ দা’ওয়াতিত্‌ তা-ম্মাতি ওয়াস্‌ সলা-তিল ক্ব-য়িমাতি আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযী-লাহ, ওয়াব’আস্‌হু মাক্বা-মাম মাহমূদা-নিল্লাযী ওয়া’আদ্‌তাহ্‌” [অর্থাৎ-হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সলাতের প্রভূ! তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দান করো ওয়াসীলা; সুমহান মর্যাদা ও প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও তাঁকে (মাক্বামে মাহমূদে), যার ওয়া’দা তুমি তাঁকে দিয়েছ।] ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য আমার শাফা’আত আবশ্যকীয়ভাবে হবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬১৪, নাসায়ী ৬৮০, আবূ দাঊদ ৫২৯, ইরওয়া ২৪৩, সহীহ আল জামি‘ ৬৪২৩, তিরমিযী ২১১, ইবনু মাজাহ্ ৭২২, আহমাদ ১৪৮১৭।

৬৬০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬০


وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُغِيرُ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ وَكَانَ يَسْتَمِعُ الْأَذَانَ فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا أَمْسَكَ وَاِلَّا أَغَارَ فَسَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ اللّهُ أَكْبَرُ اللّهُ أَكْبَرُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى الْفِطْرَةِ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللّهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَرَجْتَ مِنَ النَّارِ فَنَظَرُوا فَإِذَا هُوَ رَاعِي مِعْزًى. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সেনাবাহিনী নিয়ে কোথাও যখন যেতেন ভোরে শত্রুদের উপর) আক্রমণ চালাতেন। ভোরে তিনি কান পেতে আযান শোনার অপেক্ষায় থাকতেন। (যে স্থানে আক্রমণ করার পরিকল্পনা হত) ওখান থেকে আযানের ধ্বনি কানে ভেসে এলে আক্রমণ করতেন না। আর আযানের ধ্বনি কানে ভেসে না এলে আক্রমণ করতেন। একবার তিনি শত্রুর উপর আক্রমণ করার জন্য রওনা হতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় তিনি এক ব্যক্তিকে ‘আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার’ বলতে শনলেন। তখন তিনি বললেন, ইসলামের উপর আছে (কারণ আযান মুসলিমরাই দেয়)। এরপর ওই ব্যক্তি বলল, “আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই), রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি (শির্‌ক থেকে বিরত থাকার কারণে) জাহান্নাম থেকে বেঁচে গেলে। সহাবীগণ চারদিকে তাকিয়ে দেখলেন, আযান দান তা বকরীর পালের রাখাল। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৮২, তিরমিযী ১৬১৮, আহমাদ ১২৩৫১, দারেমী ২৪৮৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৭৫৩।

৬৬১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬১


وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُولُه رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا غُفِرَ لَه ذَنْبُه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি মুয়ায্‌যিনের আযান শুনে এই দু’আ পড়বে, “আশ্‌হাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রসূলুহূ, রাযিতু বিল্লা-হি রব্বাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলান ওয়াবিল ইসলা-মি দীনা” (অর্থাৎ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শারীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রসূল, আমি আল্লাহকে রব, দ্বীন হিসেবে ইসলাম, রসূল হিসেবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানি ও মানি) এর উপর আমি সন্তুষ্ট, তাহলে তার সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৮৬, আবূ দাঊদ ৫২৫, নাসায়ী ৬৭৯, তিরমিযী ২১০, ইবনু মাজাহ্ ৭২১, আহমাদ ১৫৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৯৩, সহীহ আল জামি‘ ৬৪২২।

৬৬২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬২


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ ثَلَاثًا لِمَنْ شَاءَ لِمَنْ شَاءَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যখানে সলাত আছে। প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যখানে সলাত আছে। অতঃপর তৃতীয়বার বললেন: এই সলাত ওই ব্যক্তির জন্য যে পড়তে চায়, ঐ ব্যক্তির জন্য যে পড়তে চায়। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬২৪, মুসলিম ৮৩৮, আবূ দাঊদ ১২৮৩, নাসায়ী ৬৮১, তিরমিযী ১৮৫, ইবনু মাজাহ্ ১১৬২, আহমাদ ১৬৭৯০, দারেমী ১৪৮০, সহীহ আল জামি‘ ২৮৫০।

এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, মাগরিবের আযান ও ইক্বামাতের মাঝে সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা মুসতাহাব। আর বুরায়দাহ্ হতে মাগরিব ব্যতীত অন্য সকল সলাতের আযান ও ইক্বমাতের মাঝে দু’ রাক্‘আত সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) রয়েছে মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে তা দুর্বল। অপরপক্ষে বুখারীতে বুরায়দাহ্ হতে হাদীস রয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ صَلُّوْ قَبْلَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ لِمَنْ شَاءَ خَشْىيَة أَنْ يَتَّخِذَهَا النَّاسُ

পরিচ্ছদঃ ৫.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৬৬৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬৩


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اَللّهُمَّ أَرْشِدْ الْأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِىُّ وَالشَّافِعِيُّ وِفِي اُخْرى لَه بِلَفْظِ الْمَصَابِيْح

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : ইমাম যিম্মাদার আর মুয়ায্‌যিন আমানতদার। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দু’আ করলেন, “হে আল্লাহ! তুমি ইমামদেরকে হিদায়াত দান কর। আর মুয়ায্‌যিনদেরকে মাফ করে দাও”। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ৯৬২৬, আবূ দাঊদ ৫১৭, তিরমিযী ২০৭, মুসনাদে শাফি‘ঈ ১৭৪।

আহমাদ ২/৪১৯। ইমাম শাফি‘ঈর শব্দ হলো اَلْاَئِمَّةُ ضُمَنَاءُ وَالْمُؤَذِّنُوْنَ أُمَنَاءُ فَارْشُدْ اَللّهُمَّ...। তবে ইমাম শাফি‘ঈর সানাদটি দুর্বল। কারণ তাতে ইব্রাহীম ইবনু মুহাম্মাদ আল আসলামী রয়েছে যিনি একজন মাতরূক (পরিত্যক্ত) রাবী।

৬৬৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬৪


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَذَّنَ سَبْعَ سِنِينَ مُحْتَسِبًا كُتِبَتْ لَه بَرَاءَةٌ مِنْ النَّارِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وأبو دَاؤُدَ وَاِبْنُ مَاجَةَ

(‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি (পারিশ্রমিক ও বিনিময়ের লোভ বাদ দিয়ে) শুধু সাওয়াব লাভের আশায় সাত বছর পর্যন্ত আযান দেয় তার জন্য জাহান্নামের মুক্তি লিখে দেয়া হয়। [১]

[১] খুবই দুর্বল : তিরমিযী ২০৬, ইবনু মাজাহ্ ৭২৭, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৮৫০। তবে আবূ দাঊদে হাদীসটি নেই। কারণ এর সানাদে জাবির বিন ইয়াযীদ আল্ জুযফী একজন দুর্বল রাবী, বরং কিছু ইমাম তাকে মিথ্যুক বলেছেন। সে রাফিযী ছিল।

৬৬৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬৫


وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةِ الْجَبَلِ يُؤَذِّنُ بِالصَّلَاةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوْا إِلى عَبْدِي هذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ يَخَافُ مِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَآئِىُّ

‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমার রব সেই মেষপালক রাখালের উপর খুশী হন, যে একা পর্বত চূড়ায় দাঁড়িয়ে সলাতের জন্য আযান দেয় ও সলাত আদায় করে। আল্লাহ তা’আলা সে সময় তার মালাকগণকে বলেন, তোমরা আমার এই বান্দার দিকে তাকাও। সে আমাকে ভয় করে (এই পর্বত চূড়ায়) আযান দেয় ও সলাত আদায় করে। তোমরা সাক্ষী থাক আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিলাম। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১২০৩, নাসায়ী ৬৬৬, ‘ইরওয়া ২১৪।

৬৬৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬৬


وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَةٌ عَلى كُثْبَانِ الْمِسْكِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَبْدٌ أَدَّى حَقَّ اللهِ وَحَقَّ مَوْالْاَهُ وَرَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ بِه رَاضُونَ وَرَجُلٌ يُنَادِي بِالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ كُلَّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وقال هذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : ক্বিয়ামাতের দিন তিন ধরনের ব্যক্তি ‘মিস্‌কের’ টিলায় থাকবে। প্রথম সেই গোলাম যে আল্লাহর হাক্ব আদায় করে নিজ মুনীবের হাক্বও আদায় করেছে। দ্বিতীয় সেই ব্যক্তি যে মানুষের সলাত আদায় করায়, আর মানুষরা তার উপর খুশী। আর তৃতীয় হল সেই ব্যক্তি যে দিনরাত সব সময় পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের জন্য আযান দিয়েছে। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১৯৮৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৬১। তিরমিযী এ হাদীসকে গরীব বলেছেন। কারণ-এর সানাদে আবুল ইয়াক্বযান ‘উসমান ইবনু ক্বায়স নামে একজন রাবী রয়েছে যিনি ‘‘ইবনু ‘উমায়র’’ নামে প্রসিদ্ধ। হাফিয ইবনু হাজার তাক্বরীবে তাকে য‘ঈফ (দুর্বল), মুখতালাত্ব (স্মৃতিবিভ্রাট বিশিষ্ট) ও মুদাল্লিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি সে (আবুল ইয়াক্বযান) যাযান থেকে তাদলীস করেছে। হাদীসটি ত্ববারানী তাঁর ‘আওসাত্ব’-এ একই সানাদে বর্ণনা করা সত্ত্বেও মুনযিরী সেটিকে সমস্যামুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা তাঁর পক্ষ হতে ভুল ধারণা মাত্র।

৬৬৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬৭


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَه مَدى صَوْتِه وَيَشْهَدُ لَه كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ وَشَاهِدُ الصَّلَاةِ يُكْتَبُ لَه خَمْسٌ وَعِشْرُونَ صَلَاةً وَيُكَفَّرُ عَنْهُ مَا بَيْنَهُمَا. رَوَاهُ أَحْمَد وأَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ وَرَوَى النِّسَائِىُّ اِلى قَوْلِه رَطْبٍ وَّيَابِسٍ وَقالَ وَلَه مِثْلُ اَجْرِ مَنْ صَلّى

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মুয়ায্‌যিন, তাকে মাফ করে দেয়া হবে। তার আযানের আওয়াজের শেষ সীমা পর্যন্ত তার জন্য সাক্ষ্য দেবে প্রতিটা সজীব এ নির্জীব জিনিস। যে সলাতে উপস্থিত হবে, তার জন্য প্রতি সলাতে পঁচিশ সলাতের সাওয়াব লিখা হবে। মাফ করে দেয়া হবে তার দুই সলাতের মধ্যবর্তি সময়ের গুনাহগুলো। [১]
কিন্তু নাসায়ী, প্রত্যেক সজীব নির্জীব পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি আরও বলেছেন, তার জন্য সাওয়াব রয়েছে যারা সলাত আদায় করেছে তাদের সমান। [2]

[১] সহীহ : আহমাদ ৪/২৮৪, আবূ দাঊদ ৫১৫, ইবনু মাজাহ্ ৭২৪, সহীহ আল জামি‘ ৬৬৪৪। তবে ইমাম নাসায়ী হাদীসটি সাহাবী বারা ইবনু ‘আযীব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

[2] সহীহ : নাসায়ী ৬৪৬, সহীহ আল জামি‘ ১৮৪১।

৬৬৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬৮


وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ اجْعَلْنِيْ إِمَامَ قَوْمِي قَالَ أَنْتَ إِمَامُهُمْ وَاقْتَدِ بِأَضْعَفِهِمْ وَاتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لَا يَأْخُذُ عَلى أَذَانِه أَجْرًا. رَوَاهُ أَحْمَد وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَآئِىُّ

উসমান ইবনু আবুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আমার জাতির ইমাম নিযুক্ত করে দিন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি তাদের ইমাম। তবে ইমামতির সময় তাদের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য রেখ। একজন মুয়ায্‌যিন নিযুক্ত করে নিও, যে আযান দেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ১৫৮৩৬, আবূ দাঊদ ৫৩১, নাসায়ী ২৭২, সহীহ আল জামি‘ ১৪৮০।

৬৬৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৬৯


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ أقُوْلَ عِنْدَ أَذَانِ الْمَغْرِبِ : اللّهُمَّ إِنَّ هذَا إِقْبَالُ لَيْلِكَ وَإِدْبَارُ نَهَارِكَ وَأَصْوَاتُ دُعَاتِكَ فَاغْفِرْ لِي. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ والْبَيْهَقِىُّ فِي الدَّعَوَاتِ الْكَبِيْرِ

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মাগরিবের আযানের সময় এ দু’আটি পড়ার জন্য শিখিয়ে দিয়েছেন : “আল্ল-হুম্মা ইন্না হা-যা- ইক্ববা-লু লায়লিকা ওয়া ইদ্‌বা-রু নাহা-রিকা ওয়া আস্‌ওয়া-তু দু’আ-তিকা ফাগফির লী” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! এ আযানের ধ্বনি তোমার দিনের বিদায় ধ্বনি এবং তোমার মুয়ায্‌যিনের আযানের সময়। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।) [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৫৩০, বায়হাক্বী দা‘ওয়াতে কাবীর, আল কালিমুত্ ত্বইয়্যিব ৯৭ পৃঃ। কারণ এর সানাদে ‘‘আবূ কাসীর’’ নামে একজন মাজহূল বা অপরিচিত রাবী রয়েছে।

৬৭০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭০


وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَوْ بَعْضِ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ بِلَالًا أَخَذَ فِي الْإِقَامَةِ فَلَمَّا أَنْ قَالَ قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ قَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ أَقَامَهَا اللّهُ وَأَدَامَهَا وَقَالَ فِي سَائِرِ الْإِقَامَةِ كَنَحْوِ حَدِيثِ عُمَرَ فِي الْأَذَان. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আবূ উমামাহ অথবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোন সহাবী থেকে বর্ণিতঃ

একবার বিলাল ইক্বামাত দিতে শুরু করলেন। তিনি যখন “ক্বদ ক্বা-মাতিস সলা-হ্‌” বললেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আক্বা-মাহাল্ল-হু ওয়া আদা-মাহা-“ (আল্লাহ সলাতকে ক্বায়িম করুন এ একে চিরস্থায়ী করুন)। বাকী সব ইক্বামাতে ‘উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে আযানের উত্তরে যেরূপ উল্লেখ রয়েছে সেরূপই বললেন। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৫২৮, ইরওয়া ২৪১। কারণ এর সানাদে একজন অপরিচিত ও দু’জন দুর্বল রাবী রয়েছে।

বিঃ দ্রঃ যখন হাদীসটির দুর্বলতা প্রমাণিত হয়ে যায় তখন সে হাদীসের প্রতি দু’টি কারণে ‘আমাল করা যাবে না। প্রথমত হাদীসটি ফাযীলাত সংক্রান্ত নয় কারণ قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ -এর সময় أَقَامَهَا اللّهُ وَأَدَامَهَا বলা শারী‘আতসম্মত নয় এবং অন্য কোন হাদীসে এর ফাযীলাত বর্ণিত হয়নি যে, বলা হবে এটি ফাযীলাত সংক্রান্ত ‘আমাল যার প্রতি ‘আমাল করা যাবে। পক্ষান্তরে এটিকে কেবলমাত্র এ ধরনের দুর্বল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত করে শারী‘আত সম্মত করাটা শারী‘আতের নীতির অনেক দূরবর্তী বিষয় যা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত এটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাপক উক্তির পরিপন্থী। যেখানে তিনি বলেছেন যখন তোমরা মুয়াযযিনকে আযান বা ইক্বামাত বলতে শুনবে তখন তোমরা তার মতো বলো.....। তাই হাদীসটি তার ব্যাপকতার উপর রাখাটাই আবশ্যক। অতএব, আমরা ইক্বামাতের সময় قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ বলব।

৬৭১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭১


وَعَنْ أَنَس قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الْاَذَانِ وَالْاِقَامَةِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِىُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ আল্লাহ তা’আলার দরবার হতে ফেরত দেয়া হয় না। [১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : আবূ দাঊদ ৫২১, তিরমিযী ২১২, সহীহ আত্ তারগীব ২৬৫, আহমাদ ৩/১৫৫ ও ২২৫।

৬৭২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭২


وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ «ثِنْتَانِ لَا تُرَدَّانِ أَوْ قَلَّمَا تُرَدَّانِ الدُّعَاءُ عِنْدَ النِّدَاءِ وَعِنْدَ الْبَأْسِ حِينَ يُلْحِمُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا» وَّفِىْ رِوَايَةٍ «وَّتَحْتَ الْمَطَرِ». رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالدَّارِمِيُّ اِلَّا اَنَّه لَمْ يَذْكُرْ «وَتَحْت الْمَطَر

সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : দু’সময়ের দু’আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না অথবা (তিনি বলেছেন) কমই ফিরিয়ে দেয়া হয়। আযানের সময়ের দু’আ ও যুদ্ধের সময়ের দু’আ, যখন পরস্পর কাটাকাটি, মারামারি আরম্ভ হয়ে যায়। আর এক বর্ণনায় আছে বৃষ্টি বর্ষণের সময়ে দু’আ। [১]
তবে দারিমীর বর্ণনায় “বৃষ্টির বর্ষণের” কথাটুকু উল্লেখ হয়নি।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৫৪০, দারিমী ১২৩৬, সহীহ আল জামি‘ ৩০৭৮। তবে تَحْتَ الْمَطَرِ-এর বর্ণনাটি দুর্বল। কারণ তাতে একজন অপরিচিত রাবী রয়েছে। তবে আলবানী (রহঃ) সহীহ আল্ জামি‘-তে এ অংশটিকেও সহীহ বলেছেন।

৬৭৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭৩


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ الْمُؤَذِّنِينَ يَفْضُلُونَنَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قُلْ كَمَا يَقُولُونَ فَإِذَا انْتَهَيْتَ فَسَلْ تُعْطَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবেদন করল, হে আল্লাহর রসূল! আযানদান তা’ তো আমাদের চেয়ে মর্যাদায় বেড়ে যায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারা যেভাবে বলে তোমরাও তোদের সাথে সাথে সেভাবে বলে যাও। আর আযানের উত্তরে শেষে যা খুশী তাই আল্লাহর কাছে চাও, তোমাদেরকে দেয়া হবে। [১]

[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ৫২৪। সহীহ আত্ তারগীব ২৫৬।

পরিচ্ছদঃ ৫.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৬৭৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭৪


عَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ ذَهَبَ حَتّى يَكُونَ مَكَانَ الرَّوْحَاءِ قَالَ الرَّوْحَاءُ مِنْ الْمَدِينَةِ عَلَىسِتَّةٍ وَّثَلَاثِيْنَ مَيْلًا . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, শয়তান যখন সলাতের আযান শুনে তখন সে “রাওহা” না পৌঁছা পর্যন্ত ভাগতে থাকে (অর্থাৎ অনেক দূরে চলে যায়)। বর্ণনাকারী বলেন, “রাওহা” নামক স্থান মাদীনাহ্‌ থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৮৮, সহীহাহ্ ৩৫০৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৬৪।

৬৭৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭৫


وَعَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ إِنِّي لَعِنْدَ مُعَاوِيَةَ إِذْ أَذَّنَ مُؤَذِّنُه فَقَالَ مُعَاوِيَةُ كَمَا قَالَ مُؤَذِّنهُ حَتّى إِذَا قَالَ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ فَلَمَّا قَالَ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ قَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ وَقَالَ بَعْدَ ذلِكَ مَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ ذلِكَ. رَوَاهُ أَحْمَد

আলক্বামাহ্ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তাঁর মুয়ায্‌যিন আযান দিচ্ছিলেন। মুয়ায্‌যিন যেভাবে (আযানের বাক্যগুলো) বলছিলেন, মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) ও ঠিক সেভাবে বাক্যগুলো বলতে থাকেন। মুয়ায্‌যিন “হাইয়্যা ‘আলাস্‌সলা-হ্‌” বললে মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বললেন, “লা-হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”। মুয়ায্‌যিন “হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ” বললে মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বললেন, “লা-হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম”। এরপর আর বাকীগুলো তিনি তা-ই বললেন যা মুয়ায্‌যিন বললেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আযানের উত্তরে) এভাবে বলতে শুনেছি। [১]

[১] য‘ঈফুল ইসনাদ : আহমাদ ২৭৫৯৮, নাসায়ী ১/১০৯-১০। কারণ এর সানাদে ‘‘ঈসা (আঃ) ইবনু ‘উমার এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আলক্বামাহ্’’ নামে দু’জন অপরিচিত রাবী রয়েছে যা ইমাম যাহাবী (রহঃ) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ -এর পর الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ অংশটুকু মুসান্নাফে ‘আবদুর রায্যাক্ব ছাড়া অন্য কোন হাদীসের গ্রন্থে নেই। আর মুসান্নাফে ‘আবদুর রায্যাক্ব-এর সানাদটি দুর্বল, কারণ তাতে ‘আসিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আসিম নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। অতএব এ অতিরিক্ত অংশটুকু মুনকার। তবে অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ যা বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে।

৬৭৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭৬


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَامَ بِلَالٌ يُنَادِي فَلَمَّا سَكَتَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ مِثْلَ هذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ. رَوَاهُ النِّسَآئِىُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যাচ্ছিলাম, বিলাল দাঁড়িয়ে আযান দিতে লাগলেন। আযান শেষে বিলাল চুপ করলে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি অন্তরের দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে এর মত বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। [১]

[১] সহীহ : নাসায়ী ৬৭৪, সহীহ আল জামি‘ ২৪৬।

৬৭৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭৭


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيّ ﷺ إِذَا سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ يَتَشَهَّدُ قَالَ وَأَنَا وَأَنَا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়ায্যিনকে, “আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” ও “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লা-হ” বলতে শুনতেন তখন বলতেন, ‘আনা আনা’ (‘আর আমিও’ ‘আর আমিও’) অর্থাৎ আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫২৬, সহীহ আত্ তারগীব ২৫৮।

৬৭৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭৮


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَذَّنَ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَكُتِبَ لَه بِتَأْذِينِه فِي كُلِّ يَوْمٍ سِتُّونَ حَسَنَةً وَلِكُلِّ إِقَامَةٍ ثَلَاثُونَ حَسَنَةً. رَوَاهُ ابن مَاجَةَ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি বার বছর পর্যন্ত আযান দিবে তার আযানের বিনিময়ে প্রতিদিন তার ‘আমালনামায় ষাটটি নেকী ও প্রত্যেক ইক্বামাতের পরিবর্তে ত্রিশ নেকী লেখা হবে। [১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : ইবনু মাজাহ্ ৭২৮, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৮। যদিও এর সানাদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ নামে একজন দুর্বল রাবী থাকায় তা দুর্বল কিন্তু এর শাহিদ রিওয়ায়াত থাকায় তা সহীহ-এর স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৬৭৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৭৯


وَعَنْهُ قَالَ كُنَّا نُؤْمَرُ بِالدُّعَاءِ عِنْدَ اَذَانِ الْمَغْرِبِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىّ فِى الدَّعْوَاتِ الْكَبِيْرِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে মাগরিবের আযানের সময় দু’আ করার জন্য হুকুম দেয়া হয়েছে। [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু আবি শায়বাহ্ ৮৪৬৭, বায়হাক্বীর দা‘ওয়াতুল কাবীর। কারণ এর সানাদে ‘আবদুর রহমান ইবনু ইসহক ইবনু হারিস নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে।

পরিচ্ছদঃ ৬.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৬৮০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮০


عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتّى يُنَادِىَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ ثُمَّ قَالَ وَكَانَ رَجُلًا أَعْمى لَا يُنَادِىْ حَتّى يُقَالَ لَه أَصْبَحْتَ أَصْبَحْتَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা উম্মু মাকতূমের আযান না দেয়া পর্যন্ত খাওয়া-দুওয়া করতে থাকবে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) অন্ধ ছিলেন। ‘ভোর হয়ে গেছে, ভোর হয়ে গেছে’ তাকে না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬১৭, মুসলিম ১০৯২, নাসায়ী ৬৩৮, তিরমিযী ২০৩, আহমাদ ৪৫৫১, দারেমী ১২২৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৪৭০, ইরওয়া ২১৯।

৬৮১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮১


وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يَمْنَعَنَّكُمْ مِنْ سُحُورِكُمْ أَذَانُ بِلَالٍ وَلَا الْفَجْرُ الْمُسْتَطِيلُ وَلَكِنَّ الْفَجْرُ الْمُسْتَطِيرُ فِي الْأُفُقِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَلَفْظُه لِلتِّرْمِذِىُّ

সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : বিলালের আযান ও সুবহে কাযিব তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া হতে যেন বিরত না রাখে। কিন্তু সুবহে সাদিক যখন দিগন্তে প্রসারিত হয়। (তখন খাবার-দাবার ছেড়ে দেবে)। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৭৬, মুসলিম ১০৯৪, তিরমিযী ৭০৬, ইরওয়া ৯১৫।

৬৮২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮২


وَعَنْ مَّالِكِ بْنِ الْحَوَيْرِثِ قَالَ اَتِيْتُ النَّبِيّ ﷺ اَنَا وَابْنُ عَمٍّ لِّىْ فَقَالَ إِذَا سَافَرْتُمَا فَاَذِّنَا وَاَقِيْمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا اَكْبَرُكُمَا. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ

মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ও আমার চাচাতো ভাই, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা সফরে গেলে আযান দিবে ও ইক্বামাত বলবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬২৮, ২৮৪৮, মুসলিম ৬৭৪, নাসায়ী ৬৩৪, তিরমিযী ২০৫, ইবনু মাজাহ্ ৯৭৯, ইরওয়া ২১৫, সহীহ আল জামি‘ ৫৮৮; শব্দবিন্যাস আত্ তিরমিযীর।

৬৮৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮৩


وَعَنْهُ قَالَ قال لنا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِىْ أُصَلِّىْ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বেলন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেন : তোমরা সলাত আদায় করবে যেভাবে আমাকে সলাত আদায় করতে দেখছ। সলাতের সময় হলে তোমাদের মধ্যে একজন আযান দিবে। এরপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে তোমাদের সলাতের ইমামাত করবে। [১]

1] সহীহ : বুখারী ৬৩১, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ৩৯৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৫৮, সহীহ আল জামি‘ ৮৯৩। লেখক যদিও বুখারী মুসলিমের উদ্ধৃতি দিয়েছেন কিন্তু মুসলিমে صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِيْ أُصَلِّيْ অংশটুকু নেই শুধুমাত্র বুখারীতে রয়েছে।

৬৮৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮৪


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ اِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ حِينَ قَفَلَ مِنْ غَزْوَةِ خَيْبَرَ سَارَ لَيْلَهً حَتّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْكَرى عَرَّسَ وَقَالَ لِبِلَالٍ اِكْلأ لَنَا اللَّيْلَ فَصَلّى بِلَالٌ مَا قُدِّرَ لَه وَنَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَأَصْحَابُه فَلَمَّا تَقَارَبَ الْفَجْرُ اسْتَنَدَ بِلَالٌ إِلى رَاحِلَتِه مُوَاجِهَ الْفَجْرِ فَغَلَبَتْ بِلَالًا عَيْنَاهُ وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إِلى رَاحِلَتِه فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَلَا بِلَالٌ وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِه حَتّى ضَرَبَتْهُمْ الشَّمْسُ فَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَوَّلَهُمْ اسْتِيقَاظًا فَفَزِعَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَيْ بِلَالُ فَقَالَ بِلَالٌ أَخَذَ بِنَفْسِي الَّذِي أَخَذَ بِنَفْسِكَ قَالَ اقْتَادُوا فَاقْتَادُوْا رَوَاحِلَهُمْ شَيْئًا ثُمَّ تَوَضَّأَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَأَمَرَ بِلَالًا فَأَقَامَ الصَّلَاةَ فَصَلّى بِهِم الصُّبْحَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ مَنْ نَسِيَ الصَّلَاةَ فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللّهَ قَالَ أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي قَالَ يُونُسُ وَكَانَ ابْنُ شِهَابٍ يَقْرَؤُهَا لِلذِّكْرى. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার যুদ্ধ হতে ফেরার পথে রাতে পথ চলছেন। এক সময়ে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হলে তিনি শেষ রাতে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। বিলালকে বলে রাখলেন, সলাতের জন্য রাতে লক্ষ্য রাখতে। এরপর বিলাল, তার পক্ষে যা সম্ভব হয়েছে সলাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাথীগণ ঘুমিয়ে রইলেন। ফাজ্‌রের সলাতের সময় কাছাকাছি হয়ে আসলে বিলাল সূর্যোদয়ের দিকে মুখ করে নিজের উটের গায়ে হেলান দিলেন। বিলালকে তার চোখ দু’টো পরাজিত করে ফেলল (অর্থাৎ- তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন)। অথচ তখনো বিলাল উটের গায়ে হেলান দিয়েই আছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে জাগলেন না। বিলাল জাগলেন না, না রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথীদের কেউ। যে পর্যন্ত না সূর্যের তাপ তাদের গায়ে লাগল। এরপর তাদের মধ্যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ঘুম থেকে জাগলেন। তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বললেন, হে বিলাল! (কী হল তোমার)। বিলাল উত্তরে বললেন, রসূল! আপনাকে যে পরাজিত করেছে সেই পরাজিত করেছে আমাকে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সওয়ারী আগে নিয়ে চল। উটগুলো নিয়ে কিছু সামনে এগিয়ে গেলেন। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করলেন। বিলালকে তাক্ববীর দিতে বললেন। বিলাল তাকবীর দিলেন। তারপর তিনি তাদের ফাজ্‌রের সলাত আদায় করালেন। সলাত শেষে নাবী বললেন, সলাতের কথা ভুলে গেলে যখনই তা মনে পড়বে তখনই আদায় করে নিবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন, “সলাত কাযিম কর আমার স্মরণে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৮০, আবূ দাঊদ ৪৩৫, ইবনু মাজাহ্ ৬৯৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ২০৬৯।

৬৮৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮৫


وَعَنْ اَبِى قَتَادَة قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتّى تَرَوْنِي قَدْ خَرَجْتُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন সলাতের জন্য ইক্বামাত দেয়া হবে, তোমরা আমাকে বের হয়ে আসতে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৩৭, মুসলিম ৬০৪, আবূ দাঊদ ৫৩৯, নাসায়ী ৬৮৭, তিরমিযী ৫৯২, আহমাদ ২২৫৩৩, দারেমী ১২৯৬, সহীহ আল জামি‘ ৩৭০; শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

৬৮৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮৬


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمْ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوْا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.- وَفِىْ رِوَايَةٍ لِّمُسْلِمٍ فَاِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا كَانَ يَعْمِدُ اِلَى الصَّلَاةِ فَهُوَ فِى الصَّلَاةِ وَهذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلُ الثَّانِيْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সলাতের ইক্বামাত দেয়া শুরু হলে তোমরা দৌড়িয়ে আসবে না, বরং শান্তভাবে হেঁটে আসবে। তারপর যা ইমামের সাথে পাবে তাই পড়বে। আর যা ছুটে যাবে তা পরে পড়ে নিবে। [১]
তবে মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “তোমাদের কেউ সলাতের জন্য বের হলে তখন সে সলাতেই থাকে”।
[2]

[১] সহীহ : বুখারী ৯০৮, মুসলিম ৬০২, বুখারী ৬৩৬, ৯০৮, আবূ দাঊদ ৫৭২, তিরমিযী ৩২৭, ইবনু মাজাহ্ ৭৭৫, দারেমী ১৩১৯।

[2] সহীহ : মুসলিম ৬০২।

পরিচ্ছদঃ ৬.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৬৮৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮৭


عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّه قَالَ عَرَّسَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْلَةً بِطَرِيقِ مَكَّةَ وَوَكَّلَ بِلَالًا أَنْ يُوقِظَهُمْ لِلصَّلَاةِ فَرَقَدَ بِلَالٌ وَرَقَدُوْا حَتَّى اسْتَيْقَظُوا وَقَدْ طَلَعَتْ عَلَيْهِمُ الشَّمْسُ فَاسْتَيْقَظَ الْقَوْمُ وَقَدْ فَزِعُوا فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يَرْكَبُوا حَتّى يَخْرُجُوا مِنْ ذلِكَ الْوَادِي وَقَالَ إِنَّ هذَا وَادٍ بِه شَيْطَانٌ فَرَكِبُوا حَتّى خَرَجُوا مِنْ ذلِكَ الْوَادِي ثُمَّ أَمَرَهُمْ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يَنْزِلُوا وَأَنْ يَتَوَضَّئُوا وَأَمَرَ بِلَالًا أَنْ يُنَادِيَ بِالصَّلَاةِ أَوْ يُقِيمَ فَصَلّى رَسُولُ اللهِ ﷺ بِالنَّاسِ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَيْهِمْ وَقَدْ رَأَى مِنْ فَزَعِهِمْ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللّهَ قَبَضَ أَرْوَاحَنَا وَلَوْ شَاءَ لَرَدَّهَا إِلَيْنَا فِي حِينٍ غَيْرِ هذَا فَإِذَا رَقَدَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلَاةِ أَوْ نَسِيَهَا ثُمَّ فَزِعَ إِلَيْهَا فَلْيُصَلِّهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا ثُمَّ الْتَفَتَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِلى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ إِنَّ الشَّيْطَانَ أَتى بِلَالًا وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّىْ فَأَضْجَعَه فَلَمْ يَزَلْ يُهَدِّئُه كَمَا يُهَدَّأُ الصَّبِيُّ حَتّى نَامَ ثُمَّ دَعَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِلَالًا فَأَخْبَرَ بِلَالٌ رَسُولَ اللهِ ﷺ مِثْلَ الَّذِي أَخْبَرَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَبَا بَكْرٍ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللهِ. رَوَاهُ مالك مُرْسَلًا

যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার মাক্কার পথে এক রাতে শেষের দিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাহন হতে নেমে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। বিলালকে নিযুক্ত করলেন তাদেরকে সলাতের জন্য জাগিয়ে দিতে। বিলালও পরিশেষে ঘুমিয়ে পড়লেন। তারা ঘুমিয়েই রইলেন। অবশেষে তারা যখন জাগলেন; সূর্য উপরে উঠে গেছে। জেগে উঠার পর তারা সকলে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন বাহনে উঠতে ও ময়দান পার হয়ে যাওয়া পর্যন্ত চলতে থাকতে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ ময়দানে শাইত্বন বিদ্যমান। তারা আরোহীতে সওয়ার হয়ে চলতেই থাকলেন। অবশেষে ময়দান পার হয়ে গেলেন। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে অবতরণ করতে ও উযূ করতে নির্দেশ দিলেন। বিলালকে নির্ধেশ দিলের আযান দিতে অথবা ইক্বামাত দিতে। তারপর তিনি লোকজনদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাত হতে অবসর হওয়ার পর তাদের উপর ভীতি বিহবলতা পরিলক্ষিত হল। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে লোকেরা! আল্লাহ আমাদের প্রাণসমূহকে ক্ববয করে নিয়েছিলেন। যদি তিনি ইচ্ছা করতেন এ সময়ের আরো পরেও আমাদের প্রাণসমূহ ফেরত দিতেন। তাই যখনই তোমাদের কেউ সলাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা সলাত ভুলে যায়, জেগে উঠেই সে যেন এ সলাত সেভাবেই আদায় করে যেভাবে সময়মত আদায় করত। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্‌রকে লক্ষ্য করে বলেন, শয়তান বিলালের নিকট আসে। সে তখন দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করছিল। তাকে সে শুইয়ে দিল। (এরপর শয়তান ঘুম পাড়াবার জন্য) চাপড়াতে লাগল শিশুদেরকে চাপড়ানের মতো, যতক্ষণ সে ঘুমিয়ে না পড়ে। তারপর তিনি বিলালকে ডাকলেন। বিলালও ঠিক সে কথাই বললেন, যা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্‌রকে বলছিলেন। তখন আবূ বাক্‌র (রাঃ) ঘোষণা দিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রসূল। [১]

[১] সানাদ সহীহ, তবে মুরসাল : মুয়াত্ত্বা মালিক ২৬।

৬৮৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮৮


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَصْلَتَانِ مُعَلَّقَتَانِ فِي أَعْنَاقِ الْمُؤَذِّنِينَ لَلْمُسْلِمِينَ صِيَامُهُمْ وَصَلَاتُهُمْ. رَوَاهُ اِبْنُ مَاجَةَ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মুসলিমদের দু’টি ব্যাপার মুয়ায্‌যিনদের ঘাড়ে ঝুলে থাকে। সিয়াম (রোযা) ও সলাত। [১]

[১] জাল বা বানোয়াট : ইবনু মাজাহ্ ৭১২, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৯০১। কারণ এর সানাদে ‘‘বাক্বিয়্যাহ্’’ রয়েছে যিনি একজন মুদাল্লিস রাবী। আর তার শিক্ষক মারওয়ান ইবনু সালিম সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ সে মুনকিরুল হাদীস। আর আবূ আরুরাহ্ এর মন্তব্য হলো, সে একজন মিথ্যুক রাবী।

৬৮৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৮৯


عَنِ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا دَخَلَ النَّبِيُّ ﷺ الْبَيْتَ دَعَا فِي نَوَاحِيهِ كُلِّهَا وَلَمْ يُصَلِّ حَتّى خَرَجَ مِنْهُ فَلَمَّا خَرَجَ رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ فِي قُبُلِ الْكَعْبَةِ وَقَالَ هذِهِ الْقِبْلَةُ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ্‌ বিজয়ের দিন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বাহ্‌ ঘরে প্রবেশ করে প্রত্যেক কোণে দু’আ করলেন, কিন্তু সলাত আদায় করলেন না। পরে বের হয়ে এলেন। কা’বার সামনে দুই রাক্‌’আত সলাত আদায় করলেন এবং বললেন, এটিই ক্বিবলাহ্‌। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৯৮, মুসলিম ১৩৩০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩২০৮।

পরিচ্ছদঃ ৭.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৬৯০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯০


وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْهُ وَعَنْ اُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মুসলিম এ হাদীসটিকে উসামাহ্‌ ইবনু যায়দ হতেও বর্ণনা করেছেন। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ১৩৩০।

৬৯১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯১


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ دَخَلَ الْكَعْبَةَ هُوَ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ وَبِلَالُ بْنُ ربَاحٍ فَأَغْلَقَهَا عَلَيْهِ وَمَكَثَ فِيهَا فَسَأَلْتُ بِلَالًا حِينَ خَرَجَ مَاذَا صَنَعَ رَسُوْل الله ﷺ فقَالَ جَعَلَ عَمُودًا عَنْ يَسَارِه وَعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِه وَثَلَاثَةَ أَعْمِدَةٍ وَرَاءَهُ وَكَانَ الْبَيْتُ يَوْمَئِذٍ عَلى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ ثُمَّ صَلّى . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ্‌ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে ও উসামাহ্‌ ইবনু যায়দ, ‘উসমান ইবনু ত্বালহাহ্‌ আল হাজাবী ও বিলাল ইবনু রাবাহ্‌ (রাঃ) কা’বায় প্রবেশ করলেন। এরপর বিলাল অথবা ‘উসমান (রাঃ) ভিতর থেকে (ভীড় হবার ভয়ে) দরজা বন্ধ করে দিলেন। তারা কিছুক্ষণ ভিতরে রইলেন। ভিতর থেকে বের হয়ে এলে আমি বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বার ভিতরে কি করলেন? উত্তরে বিলাল বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভিতরে প্রবেশ করে একটি স্তম্ভ বামে, দু’টি ডানে, আর তিনটি পিছনে রেখে সলাত আদায় করেছেন। সে সময় খানায়ে কা’বা ছয়টি স্তম্ভ বা খিলানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল (এখন তিনটি স্তম্ভের উপর। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫০৫, মুসলিম ১৩২৯, আবূ দাঊদ ২০২৩, নাসায়ী ৭৪৯, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ৩২০৪।

৬৯২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯২


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ اِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মাসজিদে হারাম ছাড়া, আমার এই মাসজিদে সলাত আদায় করা অন্য জায়গায় এক হাজার রাক’আত সলাত আদায় করার চেয়ে উত্তম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১১৯০, মুসলিম ১৩৯৪, নাসায়ী ২৮৯৯, তিরমিযী ৩২৫, ইবনু মাজাহ্ ১৪০৪, দারেমী ১৪৫৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬২৫।

৬৯৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯৩


وَعَنْ اَبِىْ سَعِيْدِ الْخُدْرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَلَا تُشَدُّ الرِّحَالُ اِلَّا إِلى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الْأَقْصى وَمَسْجِدِىْ هذَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তিন মাসজিদ ছাড়া অন্য কোন মাসজিদে সফর করা যায় না : (১) মাসজিদে হারাম, (২) মাসজিদে আক্বসা ও (৩) আমার এই মাসজিদ (মাসজিদে নাবাবী)। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১১৯৭, মুসলিম ৮২৭, তিরমিযী ৩২৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬১৭, ইরওয়া ৭৭৩, সহীহ আল জামি‘ ৭৩৩২।

৬৯৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯৪


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ وَمِنْبَرِي عَلى حَوْضِيْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যখানে আছে জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যকার একটি বাগান। আর আমার মিম্বার হচ্ছে আমার হাওজে কাওসারের উপর। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১১৯৬, মুসলিম ১৩৯১, মালিক ২১৪/৬৭১, তিরমিযী ৩৯১৬, আহমাদ ৭২২৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৭৫০, সহীহ আল জামি‘ ৫৫৮৭।

৬৯৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯৫


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَأْتِي مَسْجِدَ قُبَاءٍ كُلَّ سَبْتٍ مَاشِيًا وَرَاكِبًا فَيصَلى فِيْهِ رَكْعَتَيْنِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, প্রতি শনিবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়ে হেঁটে অথবা সওয়ারীতে আরোহণ করে ‘মাসজিদে কুবায়’ গমন করতেন। আর সেখানে দুই রাক্‌’আত সলাত আদায় করতেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১১৯৩, মুসলিম ১১৯৯, আহমাদ ৫৮৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬২৯; শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

৬৯৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯৬


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَحَبُّ الْبِلَادِ إِلَى اللهِ مَسَاجِدُهَا وَأَبْغَضُ الْبِلَادِ إِلَى اللهِ أَسْوَاقُهَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আল্লাহর নিকট সকল জায়গা হতে মাসজিদই হল সবচেয়ে প্রিয়, আর বাজার সবচেয়ে ঘৃণ্য স্থান। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৭১, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬০০, সহীহ আল জামি‘ ১৬৭।

৬৯৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯৭


وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ بَنى لِلّهِ مَسْجِدًا بَنَى اللّهُ لَه بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যাক্তি আল্লাহার উদ্দেশ্য একটি মাসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৫০, মুসলিম ৫৩৩, তিরমিযী ৩১৮, ইবনু মাজাহ্ ৭৩৬, দারেমী ১৪৩২, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ১২৯১।

৬৯৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯৮


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ اوَرَاحَ أَعَدَّ اللّهُ لَه نُزُلَه مِنَ الْجَنَّةِ كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যাক্তি সকাল-বিকাল মাসজিদে যাবে, আল্লাহ তা’আলা তার প্রত্যেক বারে যাতায়াতের জন্য জান্নাতে একটি মেহমানদারীর ব্যবস্হা করে রাখবেন । চাই সে সকালে যাক কী সন্ধ্যায় । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৬২, মুসলিম ৬৬৯, আহমাদ ১০৬০৮, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ২০৩৭, সহীহ আল জামি‘ ৬৩৯৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৯৭০।

৬৯৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৬৯৯


وَعَنْ أَبِيْ مُوْسى اَلأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَعْظَمُ النَّاسِ أَجْرًا فِي الصَّلَاةِ أَبْعَدُهُمْ فَأَبْعَدُهُمْ مَمْشًى وَالَّذِي يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ حَتّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الْإِمَامِ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ الَّذِي يُصَلِّي ثُمَّ يَنَامُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সালাতে সব চেয়ে বেশী সাওয়াব পাবে ঐ ব্যক্তি দূরত্বের দিক দিয়ে যার বাড়ী সব চেয়ে বেশী দূরে । আর যে ব্যক্তি ইমামের সাথে জামা’আতে সালাত আদায় করার জন্য মাসজিদে গিয়ে অপেক্ষা করে, তার সাওয়াবও ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী হবে যে মাদজিদের নিকটে থাকে এবং তাড়াতাড়ি সালায় আদায় করেই ঘুমিয়ে থাকে । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৫১, মুসলিম ৬২২, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ১৫০১।

৭০০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০০


وَعَنْ جَابِرِ قَالَ خَلَتِ الْبِقَاعُ حَوْلَ الْمَسْجِدِ فَأَرَادَ بَنُو سَلِمَةَ أَنْ يَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ فَبَلَغَ ذلِكَ النَّبِىَّ ﷺ فَقَالَ لَهُمْ إِنَّه بَلَغَنِي أَنَّكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ أَرَدْنَا ذلِكَ فَقَالَ يَا بَنِي سَلِمَةَ دِيَارَكُمْ تُكْتَبُ آثَارُكُمْ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ آثَارُكُم. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : মাসজিদে নাবাবীর পাশে কিছু জায়গা খালি হল। এতে বানূ সালিমাহ্ গোত্র মাসজিদের কাছে স্হানান্তরিত হয়ে আসতে চাইল । এ খবর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পোঁছল । তিনি বানূ সালিমাহ্ কে বললেন, খবর পেলাম, তোমরা নাকি জায়গা পরিবর্তন করে মাসজিদের কাছে আসতে চাইছ ? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল! আমরা এ ইচ্ছা করেছি । তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : হে বানূ সালিমাহ্ ! তোমাদের জায়গাতেই তোমরা অবস্হান কর । তোমাদের ‘আমালনামায় তোমাদের পায়ের চিহ্ন গুলো লেখা হয়– এ কথাটি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’বার বললেন । [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৬৫, আহমাদ ১৪৫৬৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ২০৪২, সহীহ আল জামি‘ ৭৮৯৮।

৭০১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০১


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمْ اللّهُ فِي ظِلِّه يَوْمَ لَا ظِلَّ اِلَّا ظِلُّهُ الْإِمَامُ الْعَادِلُ وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّه وَرَجُلٌ قَلْبُه مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتّى يَعُوْدَ إِلَيْهِ وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ اِمْرَاَةٌ ذَاتُ حَسَبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّىْ أَخَافُ اللّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّق بِصَدَقَةٍ فأَخْفى حَتّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُه مَا تُنْفِقُ يَمِينُه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সাত ধরনের মানুষকে আল্লাহ তা’আলা সেই দিন (ক্বিয়ামাতের দিন) তাঁর ছায়ার নীচে আশ্রয় দিবেন যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কারো ছায়া থাকবে না : (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক, (২) সেই যুবক যে যৌবন বয়স আল্লাহর ‘ইবাদাতে কাটিয়েছে, (৩) যে ব্যাক্তি মাসজিদ থেকে বের হয়ে এসে আবার সেখানে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত মাসজিদেই তার মন পড়ে থাকে, (৪) সেই দুই ব্যাক্তি যারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্য ভালবাসে। যদি তারা একত্রিত হয় আল্লাহর জন্য হয়, আর যদি পৃথক হয় তাও আল্লাহর জন্যই হয়, (৫) সে ব্যাক্তি যে একাকী অবস্হায় আল্লাহর স্মরণ করে আর আল্লাহর ভয়ে তার দু’চোখ দিয়ে আশ্রু ঝরে, (৬) যে ব্যাক্তি যাকে কোন ঊচ্চ বংশীয় সুন্দরী যুবতী কু-কাজ করার জন্য আহবান জানায়। এর উত্তরে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, (৭) সেই ব্যাক্তি যে আল্লাহর পথে গোপনে দান করে । যার বাম হাতও বলতে পারে না যে, তার ডান কী খরচ করেছে । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৬০, মুসলিম ১০৩১, নাসায়ী ৫৩৮০, তিরমিযী ২৩৯১, আহমাদ ৯৬৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৪৮৬, ইরওয়া ৮৮৭।

৭০২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০২


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَلَاةُ الرِّجُلِ فِى الْجَمَاعَةِ تَضَعَّفُ عَلى صَلَاتِه فِى بَيْتِه وَفِىْ سُوْقِه خَمْسًا وَّعِشْرِيْنَ ضِعْفًا وَّذلِكَ اَنَّه إِذَا تَوَضَّاَ فَاَحْسَنَ الْوُضُوْءَ ثُمَّ خَرَجَ اِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُخْرِجُه اِلَّا الصَّلَاةُ لَمْ يَخْطُ خُطْوَةً اِلَّا رُفِعَتْ لَه بِهَا دَرَجَةٌ وَّحُطَّ عِنْهُ بِهَا خَطِيْئَةٌ فَاِذَا صَلّى لَمْ تَزَلِ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّىْ عَلَيْهِ مَا دَامَ فِىْ مُصَلَّاهُ اَللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ اَللّهُمَّ ارْحَمْهُ وَلَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِىْ صَلَاةٍ مَّا انْتَظَرَ الصَّلَاةَ وَفِىْ رِوَايَةٍ قَالَ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ كَانَتِ الصَّلَاةُ تَحْبِسُه وَزَادَ فِىْ دُعَاءِ الْمَلَائِكَةِ اَللّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ مَا لَمْ يُؤْذِ فِيْهِ مَا لَمْ يُحْدِثْ فِيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর প্রিয় রসূল বলেছেন : ঘরে অথবা (ব্যস্ততার কারণে) কারো বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে মাসজিদে জামা’আতের সাথে সালাত আদয় করার সওয়াব পঁচিশ গুণ বেশি । কারণ কোন ব্যাক্তি ভাল করে (সকল আদাবের প্রতি লক্ষ্য রেখে) উযূ করে নিঃস্বার্থভাবে সলাত আদায় করার জন্যই মাসজিদে আসে। তার প্রতি ক্বদমের বদলা একটি সাওয়াবে তার মর্যাদা বেড়ে যায়, আর একটি গুনাহ কমে যায়। এভাবে মাসজিদে পোঁছা পর্যন্ত (চলতে থাকে)। সলাত আদায় শেষ করে যখন সে মুসাল্লায় বসে থাকে, মালায়িকাহ অনবরত এই দু’আ করতে থাকে : ‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও । সে আল্লাহ! তুমি তার উপর রহমাত বর্ষন কর।’’ আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ সলাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, সে সময়টা তার সলাতের সময়ের মধ্যেই পরিগণিত হবে । আর এক বর্ণনার শব্দ হল, ‘যখন কেউ মাসজিদে গেল। আর সলাতের জন্য অবস্হান করল সেখানে, তাহলে সে যেন সলাতেই রইল। আর মালায়িকার দু’আর শব্দাবলী আরো বেশী : “হে আল্লাহ! এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও। তার তাওবাহ্ কবুল কর ।” এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্য কোন মুসলিমকে কষ্ট না দেয় বা তার উযূ ছুটে না যায় । [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৪৭।

৭০৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০৩


وَعَنْ أَبِي أُسَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَقُلِ اللّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلْ اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ উসায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মাসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন এই দু’আ পড়েঃ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার উপর তোমার রহমাতের দরজাগুলো খুলে দাও’। যখন মাসজিদ হতে বের হয়ে তখন বলবেঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ফাযল বা অনুগ্রহ কামনা করি”। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৭১৩, আবূ দাঊদ ৪৬৫, নাসায়ী ৭২৯, আহমাদ ১৬০৫৭, দারেমী ২৭৩৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ২০৪৯।

৭০৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০৪


وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মাসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার আগে দু’ রাক্‌’আত সলাত আদায় করে নেয়। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৪৪, মুসলিম ৭১৪, নাসায়ী ৭৩০, তিরমিযী ৩১৬, ইবনু মাজাহ্ ১০১৩, আবূ দাঊদ ৪৬৭, আহমাদ ২২৫২৩, ইরওয়া ৪৬৭।

৭০৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০৫


وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النبي ﷺ لَا يَقْدَمُ مِنْ سَفَرٍ اِلَّا نَهَارًا فِي الضُّحى فَإِذَا قَدِمَ بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَصَلّى فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ فِيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর হতে দিনের সকালের দিক ছাড়া আগমন করতেন না। আগমন করেই তিনি প্রথমে মাসজিদে প্রবেশ করতেন। দু’ রাক’আত সলাত আদায় করতেন, তারপর সেখানে বসতেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩০৮৮, মুসলিম ৭১৬, আবূ দাঊদ ২৭৭৩, আহমাদ ১৫৭৭৫, নাসায়ী ৭৩১।

৭০৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০৬


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ سَمِعَ رَجُلًا يَنْشُدُ ضَالَّةً فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ لَا رَدَّهَا اللّهُ عَلَيْكَ فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ هذَا . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শুনে অথবা দেখে মাসজিদে এসে কেউ তার হারানো জিনিস খুঁজছে, সে যেন তার উত্তরে বলে, ‘আল্লাহ করুন তোমার হারানো জিনিস তুমি না পাও। কারণ হারানো জিনিস খুঁজবার জন্য এ ঘর তৈরি করা হয়নি। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৫৬৮, আবূ দাঊদ ৪৭৩, ইবনু মাজাহ্ ৭৬৭, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ১৬৫১, সহীহ আল জামি‘ ৬৩০২।

৭০৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০৭


وَعَنْ جَابِر قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَكَلَ مِنْ هذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الْإِنْسُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই দুর্গন্ধময় গাছের (পেঁয়াজ বা রসূনের) কিছু খাবে সে যেন আমাদের মাসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কারণ মালায়িকাহ কষ্ট পান যেসব জিনিসে মানুষ কষ্ট পায়।[১] (মুত্তাফাকুন ‘আলায়হি ৫৬৪)

[১] সহীহ : বুখারী ৮৫৪, মুসলিম ৫৬৪, ইবনু মাজাহ্ ৩৩৬৫, ইবনু হিব্বান ২০৮৬, আহমাদ ১৫০১৪, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ১৬৬৮; শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

৭০৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০৮


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাসজিদে থুথু ফেলা গুনাহ। (যদি কেউ ফেলে) তার ক্ষতিপূরণ হল ঐ থুথু মাটিতে পুঁতে ফেলা। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪১৫, মুসলিম ৫৫২, আবূ দাঊদ ৪৭৫, তিরমিযী ৫৭২, আহমাদ ১৩৯০৬, দারেমী ১৪৩৫, সহীহ আল জামি‘ ২৮৮৬।

৭০৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭০৯


وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عُرِضَتْ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنَتُهَا وَسَيِّئُهَا فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الْأَذى يُمَاطُ عَنْ الطَّرِيقِ وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا النُّخَاعَةَ تَكُونُ فِي الْمَسْجِدِ لَا تُدْفَنُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের ভালমন্দ সকল ‘আমাল আমার কাছে উপস্থিত করা হলো। তখন আমি তাদের ভাল কাজগুলোর মধ্যে দেখতে পেলাম-রাস্তা হতে কষ্টদায়ক জিনিস ফেলে দেয়া। আর মন্দ কাজগুলোর মধ্যে দেখতে পেলাম, কফ পুঁতে না ফেলে মাসজিদে ফেলে রাখা। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৫৫৩, আহমাদ ২১৫৪৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৪১।

৭১০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭১০


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَلَا يَبْصُقْ أَمَامَه فَإِنَّمَا يُنَاجِي اللّهَ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ وَلَا عَنْ يَمِينِه فَإِنَّ عَنْ يَمِينِه مَلَكًا وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِه أَوْ تَحْتَ قَدَمِه فَيَدْفِنُهَا

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়ায় তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কারণ যতক্ষণ সে তার জায়নামাযে থাকে ততক্ষণ আল্লাহর সাথে একান্ত আলাপে রত থাকে। সে তার ডান দিকেও ফেলবে না, কারণ সেদিকে মালাক আছে। (নিবারণ করতে না পারলে) সে যেন থুথু ফেলে তার বাম দিকে অথবা তার পায়ের নীচে, তারপর মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪১৬, মুসলিম ৫৪৮, আহমাদ ৮২৩৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭৮৩, সহীহাহ্ ৩৯৭৪।

৭১১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭১১


وَفِىْ رِوَايَةٍ اَبِىْ سَعِيْدٍ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرى. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এর বর্ণনায় আছেঃ তার বাম পায়ের নীচে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪০৯, মুসলিম ৫৪৮।

৭১২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭১২


وَعَنْ عَائِشَةَ اَنَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ لَعَنَ اللّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মৃত্যুশয্যায় বলেছেনঃ আল্লাহর অভিশাপ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের প্রতি। তারা তাদের নবীদের ক্ববরকে মাসজিদে পরিনত করেছে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৯০, মুসলিম ৫২৯, আহমাদ ২৪৫১৩।

৭১৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭১৩


وَعَنْ جُنْدُبٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذلِكَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, সাবধান! তোমাদের আগে যারা ছিল তারা তাদের নবী ও বুজুর্গ লোকদের ক্ববরকে মাসজিদে পরিণত করেছে। সাবধান! তোমরা ক্ববরসমূহকে মাসজিদে পরিণত কর না। আমি তোমাদেরকে একাজ হতে নিশ্চিতভাবে নিষেধ করছি। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৫৩২, ইরওয়া ২৮৬, সহীহ আল জামি‘ ২৪৪৫।

৭১৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৪ঃ সলাত

হাদীস নং : ৭১৪


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اِجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلَاتِكُمْ وَلَا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরেও কিছু কিছু সলাত আদায় করবে এবং ঘরকে ক্ববরে পরিণত করবে না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৩২, মুসলিম ৭৭৭, আবূ দাঊদ ১০৪৩, নাসায়ী ১৫৯৮, তিরমিযী ৪৫১, সহীহ