All books

মিশকাতুল মাসাবিহ (০ টি হাদীস)

পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা ২৮১-৫৬৩

পরিচ্ছদঃ

প্রথম অনুচ্ছেদ

২৮১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮১


وَعَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ وَسُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ تَمْلَاۤنِ أَوْ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْاۤنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَه فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ - وَفِيْ رِوَايَةٍ لَا إِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ تَمْلَانِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ لَمْ أَجِدُ هذِهِ الرِّوَايَةَ فِي الصَّحِيْحَيْنِ وَلَا فِي كِتَابِ الْحُمَيْدِيْ وَلَا فِي الْجَامِعِ وَلَكِنَّ ذَكَرَهَا الدَّارِِمِيُّ بَدَلَ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ ِللهِ

আবূ মালিক আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাক-পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক। ‘আলহাম্‌দু লিল্লা-হ’ মানুষের ‘আমালের পাল্লাকে ভরে দেয় এবং ‘সুবহানাল্ল-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হ’ সাওয়াবে পরিপূর্ণ করে দেয় অথবা বলেছেন, আকাশমণ্ডলী ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে তা পরিপূর্ণ করে দেয়। সলাত হল নূর বা আলো। দান-খায়রাত (দানকারীর পক্ষে) দলীল। সব্‌র বা ধৈর্য হল জ্যোতি। কুরআন হল তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলীল । প্রত্যেক মানুষ ভোরে ঘুম হতে উঠে নিজের আত্মাকে তাদের কাজে ক্রয়-বিক্রয় করে– হয় তাকে সে আযাদ করে দেয় অথবা জীবনকে ধবংস করে দেয় । [১]
আর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু আল্ল-হু আকবার’ আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সব পরিপুর্ণ করে দেয়। [2] মিশকাতুল মাসাবীহ-এর সংকলক বলেছেন, আমি এ বর্ণনাটি বুখারী-মুসলিম কিংবা হুমায়দী বা জামিউল উসূলে কোথাও পাইনি। অবশ্য দারিমী এ বর্ণনাটিকে ‘সুবহানাল্ল-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি’ এর স্হলে বর্ণনা করেছেন।

[১] সহীহ : মুসলিম ২২৩, আহমাদ ৫/৩৪২-৪৩।

[2] দারিমী ৬৫৩।

২৮২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮২


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلى مَا يَمْحُو اللّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِه الدَّرَجَاتِ؟ قَالُوا بَلى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِه وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَذَلِكُمْ الرِّبَاطُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সহাবীগণের উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ আমি কি তোমাদের এমন একটি কথা বলব না আল্লাহ তা’আলা যা দিয়ে তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করে দিবেন এবং (জান্নাতেও) পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন? সহাবীগণ আবেদন করলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! আবশ্যই। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কষ্ট হলেও পরিপূর্ণভাবে উযূ কর, মাসজিদের দিকে অধিক পদক্ষেপ রাখা এবং এক ওয়াক্ত আদায়ের পর আর এক ওয়াক্তের সালাতের প্রতীক্ষায় থাকা। আর এটাই হল ‘রিবাত্ব’ (প্রস্তুতি গ্রহণ)। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫১।

২৮৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮৩


وَفِيْ حَدِِيْثِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ فَذَلِكُمْ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمْ الرِّبَاطُ رَدَّدَ مَرَّتَيْنِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيُّ ثَلَاثًا

মালিক ইবনু আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘এটাই রিবা-ত্ব, এটাই রিবা-ত্ব দু’বার বলা হয়েছে- (মুসলিম ২৫১) । আর তিরমিযীতে তা তিনবার উল্লিখিত হয়েছে । [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫১, তিরমিযী ৫১।

২৮৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮৪


وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِه حَتّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূ করে এবং উত্তমভাবে উযূ করে, তার শরীর হতে তার সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ হতেও তা বের হয়ে যায়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৪৫। মিশকাত গ্রন্থকার বলেন, আমি বুখারীতে এ হাদীসটি পাইনি।

২৮৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮৫


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوْ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَه خَرَجَ مِنْ وَجْهِه كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ اۤخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ اۤخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَّتْهَا رِجْلَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ اۤخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنْ الذُّنُوبِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম অথবা মু’মিন বান্দা উযূ করে এবং তার চেহারা ধুয়ে নেয়, তখন তার চেহারা হতে পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার চোখের দ্বারা কৃত সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে চোখ দিয়ে দেখেছে। যখন সে তার দুই হাত ধোয় তখন তার দুই হাত দিয়ে করা গুনাহ পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায় যা তার দু’হাত দিয়ে ধরার কারণে সংঘটিত হয়েছে। অনুরূপভাবে সে যখন তার দুই পা ধোয়, তার পা দ্বারা কৃত গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায় যে পাপের জন্য তার দু’ পা হাঁটছে। ফলে সে (উযূর জায়গা হতে উঠার সময়) সকল গুনাহ হতে পাক-পবিত্র হয়ে যায়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৪৪।

২৮৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮৬


وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُه صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوْءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا اِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذلِكَ الدَّهْرَ كُلَّه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মুসলিম ফার্‌য সলাতের সময় হলে উত্তমভাবে উযূ করে, বিনয় ও ভয় সহকারে রুকূ’ করে (সলাত আদায় করে তার এ সলাত), তা তার সলাতের পূর্বের গুনাহর কাফ্‌ফারাহ্‌ (প্রায়চিত্ত) হয়ে যায়, যতক্ষন না সে কাবীরাহ্‌ গুনাহ করে থাকে। আর এভাবে সর্বদাই চলতে থাকবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২২৮।

২৮৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮৭


وَعَنْهُ اَنَّهٗ تَوَضَّاَ فَأَفْرَغَ عَلى يَدَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهٗ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا ثُمًَّ مَسَحَ بِرَأْسِه ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنى ثَلَاثًا ثُمَّ الْيُسْرى ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ تَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هذَا ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هذَا ثُمَّ صَلّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيْهِمَا نَفْسَهٗ غَفَرَ اللّهُ لَهٗ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَلَفْظُهٗ لِلْبُخَارِيُّ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা তিনি এরূপে উযূ করলেন, তিনবার নিজের দু’ হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুলেন, তারপর তিনবার কুলি করলেন, নাকে পানি দিয়ে তা ঝেড়ে পরিষ্কার করলেন, তিনবার মুখমন্ডল ধুলেন, তারপর কনুই পর্যন্ত তিনবার ডান হাত ধুলেন, এভাবে বাম হাতও কনুই পর্যন্ত ধুলেন। এরপর মাথা মাসাহ করলেন, তারপর ডান পা তিনবার ও বাম পা তিনবার করে ধুলেন। এরপর তিনি [‘উসমান (রাঃ)] বললেন, যে ব্যক্তি আমার ন্যায় উযূ করবে ও মনোযোগ সহকারে দুই রাক্’আত (নাফ্‌ল) সলাত আদায় করবে তার পূর্বেকার সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। মুত্তাফাকুন ‘আলায়হি; এ বর্ণনার শব্দসমুহ ইমাম বুখারীর। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৯৩৪, মুসলিম ২২৬।

২৮৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮৮


وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلّـِي رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِه وَوَجْهِه اِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মুসলিম উযূ করে এবং উত্তমরূপে উযূ করে, অতঃপর দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে (অন্তর ও দেহ সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে রুজু করে) দু’রাক্’আত সলাত আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৩৪।

২৮৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৮৯


وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوَضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُولُه وَفِيْ رِوَايَةٍ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ اِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُولُه اِلَّا فُتِحَتْ لَه أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ هَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِيْى صَحِيْحِه وَالْحُمَيْدِى فِي أَفْرَادِ مُسْلِمٍ وَكَذَا ابْنُ الأَثِيْرِ فِي جَامِعِ الأُصُوْلِ وَذَكَرَ الشَّيْخُ مُحِيُ الدِّيْنِ النَّوَوِيُّ فِيْ اۤخِرِ حَدِيْثِ مُسْلِمٍ عَلى مَا رَوَيْنَاهُ وَزَادَ التِّرْمِذِيُّ اللّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ وَالْحَدِيْثُ الَّذِىْ رَوَاهُ مُحْيُ السُّنَّةِ فِي الصِّحَاحِ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوَضُوْءَ إِلى اۤخِرِه رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ فِيْ جَامِعِهِ بِعَيْنِه اِلَّا كَلِمَة أَشْهَدُ قَبْلَ أَنَّ مُحَمَّدًا

উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উযূ করবে এবং উত্তমভাবে অথবা পরিপূর্ণভাবে উযূ করবে এরপর বলবেঃ “আশ্‌হাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রসূলুহ”, অর্থাৎ- ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রসূল’। আর এক বর্ণনায় আছেঃ “আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রসূলুহ”- (অর্থাৎ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও একক। তাঁর কোন শারীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।) তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে। এসব দরজার যেটি দিয়ে খুশী সে সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আর হুমায়দী তাঁর আফরাদে মুসলিম গ্রন্থে, ইবনুল ‘আসীর জামিউল উসূল গ্রন্থে এরূপ ও শায়খ মুহীউদ্দীন নাবাবী হাদীসের শেষে আমি যেরূপ বর্ণনা করেছি এরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম তিরমিযী উপরউক্ত দু’আর পরে আরো বর্ণনা করেছেনঃ “আল্লা-হুম্মাজ ‘আলনী মিনাত্ তাওয়া-বীনা ওয়াজ ‘আলনী মিনাল মুতাত্বাহ্‌হিরীন”- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তাওবাহকারীদের মধ্যে শামিল কর এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের মধ্যে গণ্য কর”। [১]
মুহয়ুস্ সুন্নাহ তাঁর সিহাহ গ্রন্থে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, “যে উযূ করল ও উত্তমভাবে তা করল শেষ …. পর্যন্ত। তিরমিযী তার জামি কিতাবে হুবহু এটাই বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তিনি (আরবী) (আন্না মুহাম্মাদান) শব্দের পূর্বে (আরবী) (আশহাদু) শব্দটি বর্ণনা করেননি।

[১] সহীহ : মুসলিম ২৩৪, তিরমিযী ৫৫, সহীহুল জামি‘ ৬১৬৭।

২৯০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯০


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِيْنَ مِنْ اۤثَارِ الْوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতকে (জান্নাতে যাবার জন্য) এই অবস্থায় ডাকা হবে যখন তাদের চেহারা উযূর কারণে ঝকমক করতে থাকবে, সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চমকাতে থাকবে। “অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ উজ্জ্বলতাকে বাড়াতে সক্ষম সে যেন তাই করে”। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৬, মুসলিম ২৪৬।

২৯১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯১


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنْ الْمُؤْمِنِ حَيْثُ يَبْلُغُ الْوَضُوءُ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (জান্নাতে) মু’মিনের অলংকার অর্থাৎ উযূর চিহ্ন সে পর্যন্ত পৌঁছবে যে পর্যন্ত উযূর পানি পৌঁছবে (তাই উযূ সুন্দরভাবে করবে)। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫০।

পরিচ্ছদঃ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২৯২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯২


عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَلَا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ اِلَّا مُؤْمِنٌ. رَوَاهُ مَالِك وأَحْمَدُ وابْن مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (হে মু’মিনগণ!) তোমরা দ্বীনের উপর যথাযথভাবে অটল থাকবে। অবশ্য তোমরা সকল (কাজ) যথাযথভাবে করতে পারবে না, তবে মনে রাখবে তোমাদের সকল কাজের মধ্যে সলাতই হচ্ছে সর্বোত্তম। আর উযূর সব নিয়ম-কানুনের প্রতি মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউ লক্ষ্য রাখে না। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ২১৮৭৩, ইবনু মাজাহ্ ২৭৭, দারিমী ৬৫৫, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৬।

২৯৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯৩


وَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ تَوَضَّأَ عَلى طُهْرٍ كُتِبَ لَه بِه عَشْرَ حَسَنَاتٍ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূ থাকতে উযূ করে তার জন্য (অতিরিক্ত) দশটি নেকী রয়েছে। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৫৯, য‘ঈফুল জামি‘ ৫৫৩৬। কারণ এর সানাদে ‘আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ আফ্রিক্বী নামে একজন দুর্বল বারী রয়েছে। এছাড়াও আবূ গাত্ফি একজন মাজহূল বা অপরিচিত রাবী।

পরিচ্ছদঃ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৯৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯৪


عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلَاةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাতের চাবি হল সলাত। আর সলাতের চাবি হল ত্বহারাত (উযূ)। [১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ১৪২৫২, য‘ঈফুল জামি‘ ৫২৬৫। কারণ এর সানাদে আবূ ইয়াহ্ইয়া আল ফাতাত থেকে সুলায়মান ইবনু কাওম রয়েছে যারা দু’জনই স্মৃতি বিভ্রাটজনিত কারণ দুর্বল রাবী। হাদীসের দ্বিতীয় অংশ তথা مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ -এর শাহিদ রিওয়ায়াত থাকায় তা সহীহ।

২৯৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯৫


وَعَنْ شَبِيبٍ بْنِ أَبِي رَوْحٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْل اللهِ ﷺ أَنَّ رَسُوْل اللهِ ﷺ صَلّى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَقَرَأَ الرُّوْمَ فَالْتَبَسَ عَلَيْهِ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يُصَلُّونَ مَعَنَا لَا يُحْسِنُونَ الطُّهُورَ وَإِنَّمَا يَلْبِسُ عَلَيْنَا الْقُرْآنَ أُولَئِكَ. رَوَاهُ النَّسَآئِىُّ

শাবীব ইবনু আবূ রাওহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন এক সহাবী হতে বর্ণনা করেন। একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্‌রের সলাত আদায় করলেন এবং (সলাতে) সূরাহ আর্ রূম তিলাওয়াত করলেন। সলাতের মধ্যে তাঁর তিলাওয়াতে গোলমাল বেঁধে গেল। সলাত শেষে তিনি বললেন, মানুষের কি হল! তারা আমার সাথে সলাত আদায় করছে অথচ উত্তমরূপে উযূ করছে না। এটাই সলাতে আমার কিরাআতে গোলযোগ সৃষ্টি করে। [১]

[১] য‘ঈফ : নাসায়ী ৯৪৮, য‘ঈফুল জামি‘ ৫০৩৪। কারণ এর সানাদে ‘আবদুল মালিক ইবনু ‘উমায়র রয়েছে যার মুখস্থশক্তিতে পরিবর্তন ঘটেছিল, এমনকি ইবনু মা‘ঈন তাকে مخلط (মুখলাত্ব) বলেছেন। আর ইবনু হাজার তার ব্যাপারে তাদলিসের অভিযোগ এনেছেন।

২৯৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯৬


وَعَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ قَالَ عَدَّهُنَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي يَدِي أَوْ فِي يَدِهِ التَّسْبِيحُ نِصْفُ الْمِيزَانِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ يَمْلَؤُه وَالتَّكْبِيرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالصَّوْمُ نِصْفُ الصَّبْرِ وَالطُّهُورُ نِصْفُ الْإِيمَانِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وقال هذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ

বানী সুলায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি (সাহাবী) থেকে বর্ণিতঃ

একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচটি কথা আমার হাতে অথবা তাঁর নিজের হাতে গুণে বললেনঃ ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ বলা হল দাঁড়ি পাল্লার অর্ধেক, আর ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ বলা হল দাঁড়ি পাল্লাকে পূর্ণ করা এবং ‘আল্ল-হু আকবার’ বলা হল আকাশমন্ডলী ও জমিনের মধ্যে যা আছে তা পূর্ণ করে দেয়া। সিয়াম ধৈর্যের অর্ধেক এবং পাক-পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩৫১৯, য‘ঈফুল তারগীব ৯৪৪। কারণ এর সানাদে ইবনু কুলায়ব হুবারী আল হিম্দী নামে একজন মাজহূল (অপরিচিত রাবী) রয়েছে। কারণ তার থেকে আবূ ইসহক আস্ সাবি‘ঈ ছাড়া আর কেউ হাদীস বর্ণনা করেননি।

২৯৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯৭


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ الصُّنَابِحِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَتَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ وَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنْفِه فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَه خَرَجْتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِه حَتّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِه خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِه حَتّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ ثُمَّ كَانَ مَشْيُه إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلَاتُهٗ نَافِلَةً لَهٗ. رَوَاهُ مَالِكٌ وَالنَّسَائِـيُِّ

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন মু’মিন বান্দা উযূ করে ও কুলি করে, তখন তার মুখ থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়। আর যখন সে নাক ঝাড়ে তখন তার নাক থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মুখমণ্ডল ধোয়, গুনাহ তার মুখ থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার চোখের পাতার নীচ হতেও গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর যখন নিজের দু’টি হাত ধোয়, তখন তার হাত হতে গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার হাতের নখের নীচ থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন মাথা মাসাহ করে, মাথা হতে গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি দুই কান থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। যখন নিজের পা দু’টো ধোয়, তার দুই পায়ের গুনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার পায়ের নখের নীচ হতেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। অতঃপর মাসজিদের দিকে গমন এবং তার সলাত হয় তার জন্য অতিরিক্ত। [১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : নাসায়ী ১০৩, সহীহুত্ তারগীব ১৮৫।

২৯৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯৮


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَتَى الْمَقْبُرَةَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا قَالُوا أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ فَقَالُوا كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا لَه خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَيْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَه؟ قَالُوا بَلى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ববরস্থানে (অর্থাৎ- মাদীনার বাকী’তে) উপস্থিত হলেন এবং সেখানে (মৃতদের উদ্দেশ্যে) বললেনঃ ‘‘আস্‌সালা-মু ‘আলায়কুম, (তোমাদের প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক) হে মু’মিন অধিবাসীগণ! আমরা ইনশা-আল্লাহ তোমাদের সাথে এসে মিলিত হচ্ছি। আমরা আশা করি, আমরা যেন আমাদের ভাইদের দেখতে পাই’’। সহাবীগণ আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই ? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা আমার বন্ধু। আমার ভাই তারা যারা এখনো দুনিয়ায় আসেনি (পরে আসবে)। সহাবীগণ আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উম্মাতদের যারা এখন আসেনি, তাদের আপনি ক্বিয়ামাতের দিন কিভাবে চিনবেন? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বল দেখি, যদি কোন ব্যক্তির একদল নিছক কালো রঙের ঘোড়ার মধ্যে ধবধবে সাদা কপাল ও সাদা হাত-পা সম্পন্ন ঘোড়া থাকে, সে কি তার ঘোড়াগুলো চিনতে পারবে না? তারা বললেন, হাঁ, নিশ্চয়ই চিনতে পারবে হে আল্লাহর রসূল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বললেন, আমার উম্মাত উযূর কারণে (ক্বিয়ামাতের দিন) সাদা ধবধবে কপাল ও সাদা হাত-পা নিয়ে উপস্থিত হবে এবং আমি হাওযে কাওসারের নিকট তাদের অগ্রগামী হিসেবে উপস্থিত থাকব। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৪৯।

২৯৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ২৯৯


وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ ﷺ أَنَا أَوَّلُ مَنْ يُؤْذَنُ لَه بِالسُّجُودِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يُؤْذَنُ لَه أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَه فَأَنْظُرَ إِلى مَا بَيْنِ يَدَيَّ فَأَعْرِفَ أُمَّتِي مِنْ بَيْنِ الْأُمَمِ وَمِنْ خَلْفِي مِثْلُ ذلِكَ وَعَنْ يَمِينِي مِثْلُ ذلِكَ وَعَنْ شِمَالِي مِثْلُ ذلِكَ فَقَالَ لَه رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ تَعْرِفُ أُمَّتَكَ؟ مِنْ بَيْنِ الْأُمَمِ فِيمَا بَيْنَ نُوحٍ إِلى أُمَّتِكَ قَالَ هُمْ غُرٌّ مُحَجَّلُونَ مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ لَيْسَ أَحَدٌ كَذلِكَ غَيْرَهُمْ وَأَعْرِفُهُمْ أَنَّهُمْ يُؤْتَوْنَ كُتُبَهُمْ بِأَيْمَانِهِمْ وَأَعْرِفُهُمْ تَسْعى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ ذُرِّيَّتُهُمْ. رَوَاهُ اَحْمَد

আবুদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমিই প্রথম ব্যক্তি, যাকে ক্বিয়ামাতের দিন (আল্লাহর দরবারে) সাজদাহ্ করার অনুমতি দেয়া হবে। আর এভাবে আমিই প্রথম ব্যক্তি যাকে সাজদাহ্ হতে মাথা উঠাবার অনুমতি দেয়া হবে। অতঃপর আমি আমার সামনে (উপস্থিত উম্মাতদের দিকে) দৃষ্টি নিক্ষেপ করব এবং সকল নাবী-রাসূলদের উম্মাতদের মধ্য হতে আমার উম্মাতকে চিনে নিব। এভাবে আমার পেছনে, ডান দিকে, বাম দিকেও তাকাব। আমার উম্মাতকে চিনে নিব। (এটা শুনে) এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কিভাবে আপনি নূহ (আঃ) থেকে আপনার উম্মাত পর্যন্ত এত লোকের মধ্যে আপনার উম্মাতকে চিনে নিবেন? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার উম্মাত উযূর কারণে ধবধবে সাদা কপাল ও ধবধবে হাত-পা সম্পন্ন হবে, অন্য কোন উম্মাতের মধ্যে এরূপ হবে না। তাছাড়া আমি তাদেরকে চিনতে পারব এসব কারণে যে, তাদের ডান হাতে ‘আমালনামা থাকবে এবং তাদেরকে আমি এ কারণেও চিনব যে, তাদের অপ্রাপ্ত বয়সের সন্তানরা তাদের সামনে দৌড়াদৌড়ি করবে। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ৩১২৩০, সহীহুত্ তারগীব ১৮০।

পরিচ্ছদঃ ১.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৩০০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০০


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تُقْبَلُ صَلَاةُ مَنْ أَحْدَثَ حَتّى يَتَوَضَّأَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যার উযূ ছুটে গেছে তার সলাত কবুল হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত সে উযূ না করে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩৫, মুসলিম ২২৫।

৩০১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০১


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُوْلٍٍ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাক-পবিত্রতা ছাড়া সলাত এবং হারাম ধন সম্পদের দান-খায়রাত কবূল হয় না। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২২৪।

৩০২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০২


وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً وَكُنْتُ أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَ النَّبِيَّ ﷺ لِمَكَانِ ابْنَتِه فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ فَسَأَلَه فَقَالَ يَغْسِلُ ذَكَرَه وَيَتَوَضَّأُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার অত্যধিক ‘মাযী’ বের হত। কিন্তু আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যার (ফাত্বিমার) স্বামী, তাই এ ব্যাপারে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কিছু জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। তাই আমি মাসআলাটি জানার জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করতে মিক্বদাদকে বললাম। সে (নাম প্রকাশ ব্যতীত) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ অবস্থায় সে প্রথমে পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে ও তারপর উযূ করে নিবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩২, ১৭৮, ১৬৯, মুসলিম ৩০৩; শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

৩০৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০৩


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُولُ تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْأَجَلُّ مُحْيِيُ السُّنَّةِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالى هذَا مَنْسُوْخٌ بِحَدِيْثِ ابْنِ عَبَّاسٍ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আগুন দিয়ে পাকানো কোন জিনিস খেলে তোমরা উযূ করে নেবে। [১]
ইমাম মুহ্‌য়িয়ুস্ সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের হুকুম ইবনু ‘আব্বাস-এর হাদীস দ্বারা মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে।

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৫২।

৩০৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০৪


قَالَ إنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صَلّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বকরীর রানের (পাকানো) গোশ্‌ত খেয়ে সলাত আদায় করলেন কিন্তু উযূ করেননি। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২০৭, মুসলিম ৩৫৪।

৩০৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০৫


وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ قَالَ إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأْ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَتَوَضَّأْ قَالَ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ قَالَ نَعَمْ فَتَوَضَّأْ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ قَالَ أُصَلِّيْ فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أُصَلِّيْ فِي مَبَارِكِ الْإِبِلِ قَالَ لَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল, আমরা কি বকরীর গোশ্‌ত খেলে উযূ করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি চাইলে করতে পার, না চাইলে না কর। সে আবার জিজ্ঞেস করল, উটের গোশ্‌ত খাবার পর কি উযূ করব? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ, উটের গোশ্‌ত খাবার পর উযূ কর। অতঃপর সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করল, বকরী থাকার স্থানে কি সলাত আদায় করতে পারি? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, পারো। তারপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, উটের বাথানে কি সলাত আদায় করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৬২।

৩০৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০৬


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِه شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أَمْ لَا فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنْ الْمَسْجِدِ حَتّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্য কিছু (বায়ু) শব্দ পায় এবং এরপর তার সন্দেহ হয় যে, তার পেট হতে কিছু (বায়ু) বের হয়েছে কিনা, তাহলে সে যেন (উযূ) নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে মাসজিদ হতে বের না হয়, যে পর্যন্ত সে (বায়ু বের হবার দরুন) কোন শব্দ না শুনে বা গন্ধ না পায়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৬২।

৩০৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০৭


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ إنَّ رَسُوْل اللهِ ﷺ شَرِبَ لَبَنًا فَمَضْمَضَ وَقَالَ إِنَّ لَه دَسَمًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করলেন । অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেন, দুধের মধ্যে চর্বি থাকে । [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২১১, মুসলিম ৩৫৮।

৩০৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০৮


وَعَنْ بُرَيْدَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ صَلَّى الصَّلَوَاتِ يَوْمَ الْفَتْحِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلى خُفَّيْهِ فَقَالَ لَه عُمَرُ لَقَدْ صَنَعْتَ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَصْنَعُه فَقَالَ عَمْدًا صَنَعْتُه يَا عُمَرُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন এক উযূতে কয়েক ওয়াক্তের সলাত আদায় করলেন এবং মোজার উপর মাসাহ করলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আজ আপনি এমন কিছু করলেন যা পূর্বে কখনো করেননি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে, ‘উমার! আমি ইচ্ছা করেই এরূপ করেছি। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৭।

৩০৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩০৯


وَعَنْ سُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ أَنَّه خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ عَامَ خَيْبَرَ حَتّى إِذَا كَانُوا بِالصَّهْبَاءِ وَهِيَ أَدْنى خَيْبَرَ فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَعَا بِالْأَزْوَادِ فَلَمْ يُؤْتَ اِلَّا بِالسَّوِيْقِ فَأَمَرَ بِه فَثُرِّيَ فَأَكَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَأَكَلْنَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الْمَغْرِبِ فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا ثُمَّ صَلّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

সুওয়াইদ ইবনু নু‘মান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খায়বার যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তাঁরা খায়বারের অতি নিকটে ‘সহ্‌বা’ নামক স্থানে যখন পৌঁছলেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আস্‌রের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর আহার পরিবেশন করতে বললেন, কিন্তু ছাতু ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেল না। তিনি নির্দেশ দিলেন। তাই পানি দিয়ে ছাতু নরম করা হল। এ ছাতু তিনি নিজেও খেলেন আমরাও খেলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সলাতের জন্য দাঁড়ালেন এবং শুধু কুলি করলেন। আর আমরাও কুলি করলাম। এ অবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করলেন, অথচ নতুনভাবে উযূ করলেন না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২০৯।

পরিচ্ছদঃ ১.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩১০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১০


عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا وُضُوْءَ اِلَّا مِنْ صَوْتٍ أَوْ رِيحٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (বায়ু নির্গত হবার) শব্দ কিংবা গন্ধ পেলেই কেবল উযূ করতে হবে। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ৯৭৪৩, তিরমিযী ৭৪, ইবনু মাজাহ্ ৫১৫, সহীহুল জামি‘ ৭৫৫২।

৩১১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১১


وَعَنْ عَلِيٍٍّ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَنِ الْمَذِيِّ فَقَالَ مِنَ الْمَذِيِّ الْوُضُوءُ وَمِنَ الْمَنِيِّ الْغُسْلُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘মাযী’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ‘মাযীর’ কারণে উযূ আর ‘মানীর’ কারণে গোসল করতে হবে। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১১৪।

৩১২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১২


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের চাবি হল ‘উযূ’, আর সলাতের ‘তাহরীম’ হল ‘তাকবীর’ (অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার বলা) এবং তার ‘তাহলীল’ হল (সলাতের শেষে) সালাম ফিরানো। [১]

[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ৬১৮, তিরমিযী ৩, আহমাদ ১/১২৯, দারিমী ৭১৪।

৩১৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১৩


ورَوَاهُ ابن مَاجَةَ عنه وَعَنْ وَأَبِي سَعِيدٍ

‘আলী ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসটিকে ‘আলী ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। [১]

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ ২৭৫, ২৭৬।

৩১৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১৪


وَعَنْ عَلِيٍّ بْنِ طَلْقٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فَلْيَتَوَضَّأْ وَلَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُوْ دَاوٗدَ

আলী ইবনু ত্বলক্ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারও যখন বায়ু বের হয়, তখন সে যেন আবার উযূ করে নেয়। আর তোমরা নারীদের গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করবে না। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১১৬৫, আবূ দাঊদ ২০৫। শব্দবিন্যাস আত্ তিরমিযীর اَلسَّهُ (আস্ সাহু) হলো নিতম্বের নাম। আর اَلْوِكَاءُ (আল বিকা-উ) হলো মশকের মুযবাধার রশি।

৩১৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১৫


وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ إِنَّمَا الْعَيْنَانِ وِكَاءُ السَّهِ فَإِذَا نَامَتْ الْعَيْنُ اسْتَطْلَقَ الْوِكَاءُ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

মু‘আবিয়াহ্ ইবনু আবী সুফ্ইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ চোখ দু’টো হল গুহ্যদ্বারের ফিতা-বন্ধন স্বরূপ। সুতরাং চোখ যখন ঘুমায় ফিতা (ঢাকনা) তখন খুলে যায়। [১]

[১] হাসান : আহমাদ ১৬৪৩৭, দারিমী ৭২২, সহীহুল জামি‘ ৪১৪৮। এর সানাদে আবূ বাকর ইবনু আবূ মারইয়াম (আঃ) নামক একজন দুর্বল রাবী থাকা সত্ত্বেও তার শাহিদ বর্ণনা থাকায় হাসানের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৩১৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১৬


وَعَنْ عَلِيٍّ رَّضِىَ الله عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وِِكَاءُ السَّهِِ الْعَيْنَانِِ فَمَنْ نَامَ فَلْيَتَوَضَّأْ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَقَالَ الشَّيْخُ الْإمَامُ مُحْيِيُ السُّنَّةِ رَحِمَهُ اللهُ هذَا فِيْ غَيْرِ الْقَاعِدِ لِمَا صَحَّ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গুহ্যদ্বারের ফিতা বা ঢাকনা হল চক্ষুদ্বয়। তাই যে ব্যক্তি ঘুমাবে সে যেন উযূ করে। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২০৩, সহীহুল জামি‘ ৭১১৭।

৩১৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১৭


عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ اَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِِ ﷺ يَنْتَظِرُوْنَ الْعِشَاءَ حَتّى تَخْفِقَ رَءُوْسُهُمْ ثُمَّ يَصَلُّوْنَ وَلَا يَتَوَضَّأُوْنَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ اِلَّا أَنَّهٗ ذَكَرَ فِيْهِ يَنَامُوْنَ بَدَلَ يَنْتَظِرُوْنَ الْعِشَاءَ حَتّى تَخْفِقَ رُؤُوْسُهُمْ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সহাবীগণ ‘ইশার সলাতের জন্যে বসে অপেক্ষা করতেন। এমনকি ঘুমের আমেজে তাদের মাথা নীচের দিকে ঝুঁকে পড়তো। এরপর তারা সলাত আদায় করতেন, অথচ নতুন উযূ করতেন না। [১] তবে ইমাম তিরমিযী ‘ইশার সলাতের অপেক্ষায় বসে থাকতেন”-এর জায়গায় “ঘুম যেতেন” শব্দ উল্লেখ করেছেন।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২০০, তিরমিযী ৭৮, মুসলিম ৩৭৬।

৩১৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১৮


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْوُضُوءَ لَا يَجِبُ اِلَّا عَلى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا فَإِنَّه إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْخَتْ مَفَاصِلُه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ أَبُوْ دَاوٗدَ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই উযূ সে ব্যক্তির জন্যে ওয়াজিব যে কাত হয়ে ঘুমায়। কারণ কাত হয়ে ঘুমালে শরীরের বন্ধনগুলো শিথিল হয়ে পড়ে। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ২০২, তিরমিযী ৭৭, য‘ঈফুল জামি‘ ১৮০৮। কারণ এর সানদে ইয়াযীদ ইবনু খালিদ আদ্ দালানী নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে এবং সে হাদীসের মাতানের ক্ষেত্রেও ভুল করে।

৩১৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩১৯


وَعَنْ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ بْنِ نَوْفِلٍ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا مَسَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَه فَلْيَتَوَضَّأْ. رَوَاهُ مَالِك وأَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ وَاِبْنُ مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ

বুসরাহ্ বিনতু সফ্ওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তাহলে তাকে উযূ করতে হবে । [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৮১, তিরমিযী ৮২, নাসায়ী ৪৪৭, মালিক ৯১, আহমাদ ২৬৭৫১, সহীহুল জামি‘ ৬৫৫৪, ইবনু মাজাহ ৪৭৯, দারিমী ৭৫১।

৩২০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২০


وَعَنْ طَلْقِ بْنِ عَلِىٍّ قَالَ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنْ مَسِّ الرَّجُلِ ذَكَرَه بَعْدَ مَا يَتَوَضَّاُ قَالَ وَهَلْ هُوَ اِلَّا مُضْغَةٌ مِنْهُ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ وَرَوَى اِبْنُ مَاجَةَ نَحْوَه وَقَالَ الشَّيْخُ اِلامَامُ مُحْيِي السُّنَّةُ هذَا مَّنْسُوْخٌ لاَنَّ اَبَا هُرَيْرَةَ اَسْلَمَ بَعْدَ قُدُوْمِ طَلْقٍ

ত্বলক্ব ইবনু ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল, উযূ করার পর কেউ যদি তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে তাহলে এর হুকুম কী? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সেটা তো মানুষের শরীরেরই একটা অংশবিশেষ। [১]
ইমাম মুহ্‌য়িয়ূস সুন্নাহ্ (রহঃ) বলেছেন, এ হাদীসটি মানসূখ (রহিত)। কেননা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ত্বল্‌ক্ব-এর মাদীনাহ্ আগমনের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৮২, তিরমিযী ৮৫, নাসায়ী ১৬৫। ইবনু মাজাহও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩২১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২১


وَّقَدْ رَوى أَبُوْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِِ اللهِِ ﷺ قَالَ إِذَا اَفْضى أَحَدُكُمْ بِيَدِه اِلى ذَكَرِه لَيْسَ بَيْنَه وَبَيْنَهَا شَىْءٌ فَلْيَتَوَضَّا. رَوَاهُ الشَّافِعِىُّ وَالدَّارَ قُطْنِيْ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “তোমাদের কারো হাত নিজের পুরুষাঙ্গের উপর লাগলে এবং হাত ও পুরুষাঙ্গের মধ্যে কোন আবরণ না থাকলে তাকে উযূ করতে হবে”। [১]

[১] সহীহ : মুসনাদে শাফি‘ঈ ১২ পৃঃ, দারাকুত্বনী ১/১৪৭, সহীহুল জামি‘ ৩৬২।

৩২২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২২


وَرَاهُ النَّسَائِـيُِّ عَنْ بُسْرَةَ اِلَّا اَنَّه لَمْ يَذْكُرْ لَيْسَ بَيْنَه وَبَيْنَهَا شَىْءٌ

বুসরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাসায়ী (রহঃ) বুসরাহ্ (রাঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি “হাত ও পুরুষাঙ্গের মধ্যে কোন আবরণ নেই”-এ শব্দগুলো বর্ণনা করেননি। [১]

[১] সহীহুল ইসনাদ : নাসায়ী ৪৪৫ (সহীহ সুনান আন্ নাসায়ী)।

৩২৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২৩


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيَّ ﷺ يُقَبِّلُ بَعْضَ أَزْوَاجِه ثُمَّ يُصَلِّىْ وَلَا يَتَوَضَّأُ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَاِبْنُ مَاجَةَ وَقَالَ النِّزْمِذِىْ لَا يَصِحَّ عِنْدَ أَصْحَابِنَا بِحَالٍ إِسْنَادُ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَأَيْضًا إِسْنَادُ إِبْرَاهِيْمَ التَّيْمِىِّ عَنْهَا
وَقَالَ أَبُوْ دَاوٗدَ هذَا مُرْسَلٌ وَّاِبْرَاهِيْمُ التَّيْمِىُّ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَائِشَةَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন স্ত্রীকে চুমু দিতেন, এরপর সলাত আদায় করতেন, অথচ উযূ করতেন না। [১]
ইমাম তিরমিযী বলেছেন, আমাদের হাদীসবেত্তাদের মতে কোন অবস্থাতেই ‘উরওয়ার সানাদ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে, এমনকি ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ)-এর সানাদও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে সহীহ হতে পারে না।
আবূ দাউদ বলেছেন, এ হাদীসটি মুরসাল। কারণ ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে শুনেননি।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৭৮, তিরমিযী ৮৬, নাসায়ী ১৭০, ইবনু মাজাহ্ ৫০২, সহীহুল জামি‘ ৪৯৯৭। শব্দবিন্যাস নাসায়ীর।

৩২৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২৪


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَكَلَ رَسُوْل اللهِ ﷺ كَتِفًا ثُمَّ مَسَحَ يَدَه بِمِسْحٍ كَانَ تَحْتَه ثُمَّ قَامَ فَصَلّى. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَاِبْنُ مَاجَةَ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভেড়ার বাজুর গোশ্‌ত খেলেন, তারপর আপন হাতকে আপন পায়ের তলায় ঘষে মুছে নিলেন, অতঃপর সলাত আদায় করতে দাঁড়িয়ে গেলেন, অথচ (নতুন করে) উযূ করলেন না। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৮৯, ইবনু মাজাহ্ ৪৮৮।

৩২৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২৫


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهَا قَالَتْ قَرَّبْتُ إِلَى النَّبِيَّ ﷺ جَنْبًا مَشْوِيًّا فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর নিকট পাঁজরের ভুনা গোশ্‌ত পেশ করলাম। তিনি তা থেকে কিছু খেলেন, তারপর সলাতে দাঁড়িয়ে গেলেন, নতুন করে উযূ করেননি। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১৮২৯, আহমাদ ২৬০৮২, ইবনু মাজাহ্ ৪৯১, নাসায়ী পবিত্রতা অধ্যায়।

পরিচ্ছদঃ ১.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩২৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২৬


عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ أَشْهَدُ لَقَدْ كُنْتُ أَشْوِي لِرَسُولِ اللهِ ﷺ بَطْنَ الشَّاةِ ثُمَّ صَلّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ রাফি‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বকরীর পেটের গোশ্‌ত (কলিজা প্রভৃতি) ভুনা করে দিতাম (তিনি তা খেতেন)। এরপর তিনি সলাত আদায় করতেন, কোন উযূ করতেন না। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৫৭।

৩২৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২৭


وَعَنْهُ قَالَ أُهْدِيَتْ لَه شَاةٌ فَجَعَلَهَا فِي الْقِدْرِ فَدَخَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ مَا هذَا يَا أَبَا رَافِعٍ فَقَالَ شَاةٌ أُهْدِيَتْ لَنَا يَا رَسُولَ اللهِ فَطَبَخْتُهَا فِي الْقِدْرِ قَالَ نَاوِلْنِي الذِّرَاعَ يَا أَبَا رَافِعٍ؟ فَنَاوَلْتُهُ الذِّرَاعَ ثُمَّ قَالَ نَاوِلْنِي الذِّرَاعَ الْاۤخَرَ فَنَاوَلْتُهُ الذِّرَاعَ الْاخَرَ ثُمَّ قَالَ نَاوِلْنِي الذِّرَاعَ الْاخَرَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّمَا لِلشَّاةِ ذِرَاعَانِ فَقَالَ لَه رَسُولُ اللهِ ﷺ أَمَا إِنَّكَ لَوْ سَكَتَّ لَنَاوَلْتَنِىْ ذِرَاعًا فَذِرَاعًا مَا سَكَتَّ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَتَمَضْمَضَ فَاهُ وَغَسَلَ أَطْرَافَ أَصَابِعِه ثُمَّ قَامَ فَصَلّى ثُمَّ عَادَ إِلَيْهِمْ فَوَجَدَ عِنْدَهُمْ لَحْمًا بَارِدًا فَأَكَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلّى وَلَمْ يَمُسَّ مَاءً. رَوَاهُ أَحْمَدُ

আবূ রাফি‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তাকে একটি বকরী হাদিয়্যাহ্ দেয়া হল এবং তিনি তা পাতিলে রান্না করলেন। এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-তার কাছে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, এটা কী, হে আবূ রাফি’? তিনি বললেন, আমাদেরকে একটি বকরী হাদিয়্যাহ্ হিসেবে দেয়া হয়েছে, হে আল্লাহর রসূল! পাতিলে তা পাক করেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আবূ রাফি’! আমাকে এর একটি বাজু দাও তো। আমি তাঁকে একটি বাজু দিলাম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকে আরো একটি বাজু দাও। অতঃপর আমি তাঁকে আরো একটি বাজু দিলাম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার বললেন, আমাকে আরো একটি বাজু দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ রসূল! একটি বকরীর তো দু’টি বাজু হয়। এটা শুনে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আহ! তুমি যদি চুপ থাকতে, তাহলে ‘বাজুর পর বাজু আমাকে দিতে পারতে, যে পর্যন্ত তুমি নিশ্চুপ থাকতে। এরপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানি চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুলি করলেন, নিজের আঙ্গুলের মাথা ধুয়ে নিলেন, অতঃপর সলাতে দাঁড়ালেন এবং সলাত আদায় করলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার তাদের কাছে ফিরে এলেন। এবার তাদের কাছে ঠান্ডা গোশ্‌ত দেখতে পেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা খেলেন, এরপর মাসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সলাত আদায় করলেন। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানি ব্যবহার করলেন না অর্থাৎ উযূ করলেন না। [১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২৬৬৫৪। কারণ এর সানাদে শুরাহবিল বিন সা‘দ নামে দুর্বল রাবী এবং আবূ জা‘ফার আর্ রাযী নামে মতবিরোধপূর্ণ রাবী রয়েছে। তবে ‘‘শামায়িল’’-এর তাহ্ক্বীক্বে ‘আল্লামা আলবানী (রহঃ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

৩২৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২৮


ورَوَاهُ الدَّارِمِيُّ عَنْ أَبِيْ عُبَيْدٍ اِلَّا أَنَّه لَمْ يَذْكُرْ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ إِلى اخِرِه

আবূ ‘উবায়দ থেকে বর্ণিতঃ

দারিমী আবূ ‘উবায়দ হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দারিমী ‘অতঃপর তিনি পানি চাইলেন হতে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেননি। [১]

[১] সহীহ : দারিমী ১/২২, আহমাদ ৩/৪৮৪-৮৫।

৩২৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩২৯


وَعَنْ أَنَس بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَنَا وَأُبَيُّ وَأَبُو طَلْحَةَ جُلُوسًا فَأَكَلْنَا لَحْمًا وَخُبْزًا ثُمَّ دَعَوْتُ بِوَضُوءٍ فَقَالَا لِمَ تَتَوَضَّأُ فَقُلْتُ لِهذَا الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْنَا فَقَالَا أَتَتَوَضَّأُ مِنْ الطَّيِّبَاتِ لَمْ يَتَوَضَّأْ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ. رَوَاهُ أحْمَد

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি, উবাই ইবনু কা’ব ও আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ)-এ তিনজন এক জায়গায় বসে গোশ্‌ত ও রুটি খেলাম। অতঃপর খাওয়া শেষে আমি উযূ করার জন্য পানি চাইলাম। এটা দেখে তাঁরা [উবাই ইবনু কা’ব ও আবূ ত্বালহাহ্‌ (রাঃ)] বললেন, তুমি উযূ কেন করবে? আমি বললাম, এ খাবারের কারণে? তাঁরা উভয়ে বললেন, এ পাক-পবিত্র খেয়েও কি তুমি উযূ করবে? অথচ তোমার চেয়ে অনেক বেশী উত্তম যিনি ছিলেন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর আহারের পর উযূ করেননি। [১]

[১] জায়য়িদুল ইসনাদ : আহমাদ ১৫৯৩০।

৩৩০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩০


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا كَانَ يَقُولُ قُبْلَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَه وَجَسُّهَا بِيَدِه مِنَ الْمُلَامَسَةِ فَمَنْ قَبَّلَ امْرَأَتَه أَوْ جَسَّهَا بِيَدِه فَعَلَيْهِ الْوُضُوءُ. رَوَاهُ مَالِكُ وَالشَّافِعِيُّ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলতেন, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে চুমু দেয়া অথবা তার স্বীয় হাত দিয়ে স্পর্শ করা ‘লামস্’-এর মধ্য গণ্য। সুতরাং যে লোক তার স্ত্রীকে চুমু দিবে কিংবা হাত দিয়ে স্পর্শ করবে তার জন্য উযূ করা ওয়াজিব। [১]

[১] সহীহ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৯৭, মুসনাদে শাফি‘ঈ ১১ নং পৃঃ।

৩৩১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩১


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ كَانَ يَقُولُ مِنْ قُبْلَةِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ الْوُضُوءُ. رَوَاهُ مَالِكٌ

ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে চুমু দিলে উযূ করা অত্যাবশ্যক। [১]

[১] সহীহ : মালিক ৯৬, বায়হাক্বী ১/১২৪।

৩৩২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩২


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ إِنَّ الْقُبْلَةَ مِنَ اللَّمَسِ فَتَوَضَّؤُوْا مِنْهَا

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘উমার (রাঃ) বলেছেন, চুমু দেয়া ‘লামস্’-এর অন্তর্ভূক্ত। (যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে)। সুতরাং চুমু দেয়ার পরে তোমরা উযূ করবে। [১]

[১] য‘ঈফ : দারাকুত্বনী ১/১৪৪। কারণ এর সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘উসমান যিনি স্মরণশক্তিগত ত্রুটির কারণে দুর্বল প্রমাণিত হয়েছেন।

৩৩৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩৩


وَعَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيْزِ عَنْ تَمِيْمٍ الدَّارِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اَلْوَضُوْء مِنْ كُلِّ دَمٍ سَائِلٍ. رَوَاهُمَا الدَّارَقُطْنِىْ وَقَالَ عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزُ لَمْ يَسْمَعْ مِن تَمِيْمِ الدَّارِىْ وَلَا رَاهُ وَيَزِيْدُ بْنِ خَالِدٍ وَيَزِيْدُ بْن مُحَمَّدٍ مَجْهُوْلَانِ

‘উমার (রাঃ) ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) তামীম আদ্ দারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রবাহমান রক্তের কারণেই উযূ করতে হবে। [১]
দারাকুত্বনী হাদীস দু’টো বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) এ হাদীসটি তামীম আদ্ দারী (রাঃ) হতে শুনেননি। তিনি তাঁকে দেখেনওনি। অপর রাবী ইয়াযীদ ইবনু খালিদ ও ইয়াযীদ ইবনু মুহাম্মাদ উভয়ই অজ্ঞাত ব্যক্তি। সুতরাং এ হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়।

[১] য‘ঈফ : দারাকুত্বনী ১/১৫৭। হাদীসে উল্লেখিত কারণ ছাড়াও এর দুর্বলতার তৃতীয় একটি কারণ হলো সানাদে বাক্বিয়্যাহ্ ইবনু ওয়ালীদ এর উপস্থিতি যিনি একজন মুদাল্লিস রাবী হিসেবে পরিচিত।

পরিচ্ছদঃ ২.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৩৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩৪


عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أَتَيْتُمْ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
قَالَ الشَّيْخُ الإمَامُ مُحْيِيُ السُّنَّةِ رَحِمَهُ الله هذَا الْحَدِيْثُ فِي الصَّحْرَاءِ وَأَمَّا فِيْ الْبُنْيَانِ فَلَا بَاْسَ لِمَا رُوِيَ

আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন পায়খানায় যাবে তখন ক্বিবলাকে সামনে বা পেছনে রেখে বসবে না, বরং পূর্বদিকে ফিরে বসবে অথবা পশ্চিম দিকে। [১]
শায়খ ইমাম মুহ্‌য়িয়ুস্ সুন্নাহ বলেছেন, এটা উন্মুক্ত প্রান্তরের হুকুম। দালান কোঠা বা ঘরের মধ্যকার পায়খানায় অথবা ঘরের মতো করে নির্মিত পায়খানায় এরূপ করা দোষের নয়।

[১] সহীহ : বুখারী ৩৯৪, মুসলিম ২৬৪।

৩৩৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩৫


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ اَرْتَقَيْتُ فَوْقَ بَيْتِ حَفْصَةَ لِبَعْضِ حَاجَتِىْ فَرَاَيْتُ رَسُوُلَ اللهِ ﷺ يَقْضِىْ حَاجَتَه مُسْتَدْبِرَ الْقِبْلَةِ مُسْتَقْبِلَ الشَّامِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার কোন কাজে (আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন) হাফসার ঘরের ছাদে উঠেছিলাম। তখন আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (নীচে এক ঘেরাও করা জায়গায়) ক্বিবলাহকে পেছনে রেখে (উত্তরে) সিরিয়ার দিকে মুখ ফিরিয়ে পায়খানা করছেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৪৮, মুসলিম ২৬৪।

৩৩৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩৬


وَعَنْ سَلْمَانَ قَالَ نَهَانَا يَعْنِىْ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ক্বিবলার দিকে মুখ করে প্রস্রাব-পায়খানা করতে, ডানহাতে ইস্তিঞ্জা করতে, তিনটির কম ঢিলা দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে এবং শুকনা গোবর ও হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬২।

৩৩৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩৭


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُوْل اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ يَقُوْلُ اللّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানায় গেলে বলতেনঃ “আল্ল- হুম্মা ইনী আ‘উযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবা-য়িস”- [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট নর ও নারী শায়ত্বনদের (ক্ষতি সাধন) থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।[১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৪২, মুসলিম ৩৭৫।

৩৩৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩৮


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنْ الْبَوْلِ وَفِيْ رَوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنْ الْبَوْلِ وَأَمَّا الْاخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً فَشَقَّهَا بِنِصْفَيْنِ ثُمَّ غَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ لِمَ صَنَعْتَ هذَا فَقَالَ لَعَلَّه أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি ক্ববরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এ দুই ক্ববরবাসীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে, কিন্তু কোন বিরাট গুনাহের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। এদের একজন প্রস্রাব করার সময় আড়াল করত না। সহীহ মুসলিমের আর এক বর্ণনায় আছে, প্রস্রাব করার পর উত্তমভাবে পাক-পবিত্রতা অর্জন করত না। আর অপরজন একজনের কথা অন্যজনের কানে লাগাত (চোগলখোরি করত)। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খেজুরের একটি তাজা ডাল ভেঙ্গে তা দুই ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক ক্ববরে তার একটি অংশ গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এরূপ করলেন কেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে পর্যন্ত ডাল দু’টি শুকিয়ে না যাবে, হয়তো তাদের শাস্তি হ্রাস করা হবে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২১৮, মুসলিম ২৯২।

৩৩৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৩৯


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اتَّقُوا اللَّاعِنَيْنِ قَالُوا وَمَا اللَّاعنَانِ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ الَّذِي يَتَخَلّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ فِي ظِلِّهِمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমরা দু’টি অভিসম্পাত থেকে বেঁচে থাকবে। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! সে দুটি অভিসম্পাত কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের কোন কিছুর ছায়ার স্থানে পায়খানা করে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৯।

৩৪০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪০


وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ وَإِذَا أَتَى الْخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَه بِيَمِينِه وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ পানি পান করার সময় যেন পানপাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলে, শৌচাগারে গেলে ডান হাতে নিজের পুরুষাঙ্গকে না ধরে এবং নিজের ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য না করে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৫৩, মুসলিম ২৬৭।

৩৪১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪১


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : কোন ব্যক্তি উযূ করার সময় যেন ভাল করে নাক ঝেড়ে নেয় এবং ইস্তিঞ্জা করার সময় বেজোড় সংখ্যায় ঢিলা (তিন, পাঁচ ও সাত) ব্যবহার করে। [৩৫৮]
(আরবী) (সে যেন প্রয়োজন পূরণের সময় ডান হাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে (আরবী) (অর্থাৎ যখন তোমাদের কেউ পেশাব করে সে যেন ডান হস্ত দ্বারা স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে)। আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে (আরবী) (অর্থাৎ তোমাদের কেউ যেন পেশাবরত অবস্থায় ডান হাত দ্বারা স্বীয় পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে) উপরোক্ত সবগুলো বর্ণনা প্রমাণ করে যে পুরুষাঙ্গ স্পর্শের নিষেধাজ্ঞাটা পেশাবরত অবস্থার সাথে শর্তযুক্ত। এছাড়া অন্য অবস্থায় তা বৈধ। সর্বাবস্থায় ডান হাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা নিষেধ সম্পর্কিত যে সকল বর্ণনা এসেছে এগুলোর উৎসস্থল একই।
আবার কেউ কেউ বলেন ; সর্বাবস্থায় এ বিষয়টি নিষিদ্ধ হওয়াটাই যথাযথ হওয়া সত্ত্বেও নিষেধ করেছেন। কেননা প্রস্রাবরত অবস্থায় তা স্পর্শ করা প্রয়োজন। আর ত্বল্ক্ব বিন ‘আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটিও ১ম উক্তিকে সমর্থন করে যেখানে “তিনি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে লজ্জাস্থান স্পর্শ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন যে তাতো তোমার শরীরের একটি অঙ্গ মাত্র।” ত্বল্‌ক্ব (রাঃ)-এর এ বর্ণনাটি সর্বাবস্থায় তা স্পর্শ করার বৈধতা প্রমাণ করে। তবে আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)-এর সহীহ হাদীসটির মাধ্যমে প্রস্রাবরত অবস্থাটি বৈধতা থেকে বের হয়ে গেল এবং অন্য অবস্থায় তা বৈধতার উপর অবশিষ্ট রইল। ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা নিষেধের কারণ ডান হাতের মর্যাদা রক্ষা। হাদীসটি উল্লিখিত তিনটি বিষয় যথা পানি পানের সময় পাত্রে শ্বাস ফেলা, প্রস্রাব করা কালে ডান হাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ এবং ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ। কেননা নাহীর মূল অর্থ হল হারাম করা যদি অন্য কোন অর্থে গ্রহণের কারণ না থাকে। এখানে সে ধরনের কোন কারণ নেই। তবে জমহুরের মতে এখানে নাহী দ্বারা উদ্দেশ্য নাহীয়ে তানযীহি।
[১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৬১, মুসলিম ২৩৭।

৩৪২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪২


وَعَنْ أَنَسٍ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَدْخُلُ الْخَلَاءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً يَسْتَنْجِىْ بِالْمَاءِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানায় যেতেন। আমি এবং অন্য এক বালক পানির পাত্র ও বর্শাধারী একটি লাঠি নিয়ে যেতাম। সে পানি দিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৌচ কার্য সমাধা করতেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৫২, মুসলিম ২৭১।

পরিচ্ছদঃ ২.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪৩


عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ نَزَعَ خَاتِمَه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ غَرِيبٌ وَقَالَ أَبُوْ دَاوٗدَ هذَا حَدِيْثٌ مُنْكَرٌ وَفِىْ رِوَايَتِه وَضَعَ بَدَلَ نَزَعَ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানায় প্রবেশকালে নিজের হাতের আংটি খুলে রাখতেন। [১] ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, হাদীসটি ‘মুনকার’। অধিকন্তু তিনি ‘খুলে রাখতেন’ এর পরিবর্তে ‘রেখে দিতেন’ বলেছেন।

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৯, নাসায়ী ৫২১৩, তিরমিযী ১৭৪৬।

৩৪৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪৪


وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَرَادَ الْبَرَازَ انْطَلَقَ حَتّى لَا يَرَاهُ أَحَد. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পায়খানায় যেতে ইচ্ছা করতেন, তখন এত দূরে চলে যেতেন যাতে কেউ তাঁকে দেখতে না পায়। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২।

৩৪৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪৫


وَ عَنْ أَبِي مُوسى قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيَّ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَرَادَ أَنْ يَبُولَ فَأَتى دَمِثًا فِي أَصْلِ جِدَارٍ فَبَالَ ثُمَّ قَالَ إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَبُولَ فَلْيَرْتَدْ لِبَوْلِه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদিন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। তিনি প্রস্রাব করার ইচ্ছা করলে একটি দেয়ালের কাছে গিয়ে নরম জায়গায় প্রস্রাব করলেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের কেউ প্রস্রাব করতে ইচ্ছা করলে এরূপ নরম স্থান খোঁজ করবে (যাতে শরীরে প্রস্রাবের ছিটা না আসে)। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ২৩২০। এর সানাদে একজন অপরিচিত রাবী রয়েছে।

৩৪৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪৬


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَه حَتّى يَدْنُوَ مِنَ الْاَرْضِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالدَّارِمِيُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রস্রাব-পায়খানার সময় নির্দিষ্ট স্থানের কাছাকাছি যাওয়ার পরই কাপড় উঠাতেন (অর্থাৎ বসার সময়ে উঠাতেন, তার পূর্বে নয়)। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১৪, আবূ দাঊদ ১৪, সহীহুল জামি‘ ৪৬৫২। যদিও আবূ দাঊদ সানাদে একজন অপরিচিত রাবী থাকায় হাদীসটি দুর্বল বলেছেন, কিন্তু বায়হাক্বী সে রাবীর নাম ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ বলেছেন। আর তিনি একজন বিশ্বস্ত রাবী। অতএব হাদীসটি সহীহ।

৩৪৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪৭


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ لِوَلَدِه أُعَلِّمُكُمْ إِذَا أَتَيْتُمْ الْغَائِطَ فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا وَأَمَرَ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ وَنَهى عَنِ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ وَنَهى أَنْ يَسْتَطِيبَ الرَّجُلُ بِيَمِينِه. رَوَاهُ ابن مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : (তা‘লীম ও নাসীহাতের ব্যাপারে) আমি তোমাদের জন্য পিতা-পুত্রের ন্যায়। আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকি (তোমাদের দীন, এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার শিষ্টাচারও)। যখন তোমরা পায়খানায় যাবে ক্বিবলার দিকে মুখ করে বসবে না, পিঠ দিয়েও বসবে না। পায়খানা করার পর তিনটি ঢিলা দিয়ে তিনি পাক-পবিত্র হবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং শুকনা গোবর ও হাড় দিয়ে (পাক-পবিত্র হতে) নিষেধ করেছেন। তিনি ডান হাতে শৌচ করতেও নিষেধ করেছেন। [১]
আল্লামা ‘আযীযী বলেন : রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জমিনের নিকটবর্তী না হয়ে পরিপূর্ণ কাপড় উত্তোলন করতেন না বা করেননি। অতএব, কাপড় অপবিত্র হওয়ার আশংকা থাকলে সতর সংরক্ষন করে তা উত্তোলন করা বৈধ অন্যথায় প্রয়োজনানুপাতে উঠাবে।

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৩১৩, আবূ দাঊদ ৮।

৩৪৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪৮


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ ﷺ الْيُمْنى لِطُهُورِه وَطَعَامِه وَكَانَ يَدُهُ الْيُسْرى لِخَلَائِه وَمَا كَانَ مِنْ أَذًى. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ডান হাত ছিল তাঁর পবিত্রতা অর্জন ও খাবারের জন্য। আর বাম হাত ছিল প্রস্রাব-পায়খানা ও অপর অপছন্দনীয় কাজের জন্য। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৩।

৩৪৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৪৯


وَعَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ يَسْتَطِيبُ بِهِنَّ فَإِنَّهَا تُجْزِئُ عَنْهُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ وَالدَّارِمِيُّ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যায়, সে যেন তিনটি ঢিলা সাথে করে নিয়ে যায়। এ ঢিলাগুলো দিয়ে সে পাক-পবিত্রতা অর্জন করবে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। [১]

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৪০, আহমাদ ২৪৪৯১, নাসায়ী ৪৪, দারিমী ৬৯৭।

৩৫০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫০


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلَا بِالْعِظَامِ فَإِنَّه زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنْ الْجِنِّ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ اِلَّا أَنَّه لَمْ يَذْكُرْ زَادَ إِخْوَانِكُمْ مِنْ الْجِنِّ

‘আবদুল্লাহ) ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমরা শুকনা গোবর ও হাড় দিয়ে শৌচকর্ম করো না। কেননা এসব তোমাদের ভাই জিনদের খোরাক। [১] তবে ইমাম নাসায়ী ‘জিন্দের খোরাক’ বাক্যটি উল্লেখ করেননি।

[১] সহীহ : সহীহুল জামি‘ ৭৩২৫, তিরমিযী ১৮। যদিও ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে মুরসাল বলেছেন কিন্তু দু’জন বিশ্বস্ত রাবী হাদীস মাওসুল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৩৫১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫১


وَعَنْ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا رُوَيْفِعُ لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِىْ فَأَخْبِرِ النَّاسَ أَنَّ مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَه أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا أَوِ اسْتَنْجى بِرَجِيعِ دَابَّةٍ أَوْ عَظْمٍ فَإِنَّ مُحَمَّدًا مِنْهُ بَرِيءٌ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

ওয়াইফি‘ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : হে রুওয়াইফি'! হয়তো তুমি আমার পরে দীর্ঘ জীবন লাভ করবে, তুমি তখন মানুষকে এ সংবাদ দিবে যে, যে ব্যক্তি নিজের দাড়ি জট পাকাবে অথবা ধনুকের রশি গলায় কবচ হিসেবে বাঁধবে অথবা পশুর গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকর্ম করবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাথে কোন সম্পর্ক রাখেন না। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৬, সহীহুল জামি‘ ৭৩১০।

৩৫২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫২


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنِ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقْدَ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ وَمَنْ أَكَلَ فَمَا تَخَلَّلَ فَلْيَلْفِظْ وَمَا لَاكَ بِلِسَانِه فَلْيَبْتَلِعْ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ وَمَنْ أَتَى الْغَائِطَ فَلْيَسْتَتِرْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ اِلَّا أَنْ يَجْمَعَ كَثِيبًا مِنْ رَمْلٍ فَلْيَسْتَدْبِرْهُ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَلْعَبُ بِمَقَاعِدِ بَنِي ادَمَ مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি সুরমা লাগায়, সে যেন বেজোড় সংখ্যায় লাগায়। যে এভাবে করল সে ভাল করল, আর যে এভাবে করল না সে গর্হিত কাজ করল না। আর যে ব্যক্তি (প্রস্রাব-পায়খানা করার পর) ঢিলা ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় ঢিলা ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি এভাবে করল সে ভাল করল, আর যে ব্যক্তি করল না সে গর্হিত কাজ করল না। যে ব্যক্তি খাবার খেলো এবং (খাবারের পর) খিলাল দ্বারা দাঁত হতে কিছু বের করল, সে যেন তা মুখ থেকে ফেলে দেয়। আর যা জিহ্বা দিয়ে বের করে নেয় তা যেন গিলে ফেলে। যে এভাবে করল সে উত্তম কাজ করল, আর যে এরূপ করল না সে গর্হিত কাজ করল না। যে লোক পায়খানায় যায় সে যেন পর্দা করে। পর্দা করার জন্য যদি সে বালুর স্তুপ ছাড়া কিছু না পায় তাহলে স্তুপের দিকে যেন পিঠ দিয়ে বসে (কাপড় দিয়ে সামনের দিক ঢেকে রাখে)। কারণ শয়তান মানুষের বসার স্থান নিয়ে খেলা করে। যে এরূপ করল ভাল করল, আর না করলে মন্দ কিছু করল না। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৫, ইবনু মাজাহ্ ৩৩৭, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ১০২৮, দারিমী ৬৮৯। কারণ এর সানাদে দু’জন অপরিচিত রাবী রয়েছে।

৩৫৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫৩


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي مُسْتَحَمِّه ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ أَوْ يَتَوَضَّأُ فِيهِ فَإِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ اِلَّا اَنَّهُمَا لَمْ يَذْكُرَا ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيْهِ اَوْ يَتَوَضَّأُ فِيْهِ

আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ যেন গোসলখানায় প্রস্রাব না করে, এরপর আবার সেখানে গোসল করে অথবা উযূ করে। কারণ মানুষের অধিকাংশ ওয়াস্ওয়াসা এসব থেকেই উৎপন্ন হয়। [১] কিন্তু শেষের দু'জন (তিরমিযী ও নাসায়ী), "এরপর সেখানে গোসল করে ও উযূ করে" উল্লেখ করেননি।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৭, তিরমিযী ২১, নাসায়ী ৩৬, সহীহুস জামি‘ ৭৫৯৭।

৩৫৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫৪


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَرْجِسَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي جُحْرٍ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَاۤئِىُّ

আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন গর্তে প্রস্রাব না করে।[১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ২৯, নাসায়ী ৩৪। এর রাবীগণ বিশ্বস্ত হলেও এর মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু ত্রুটি রয়েছে।

৩৫৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫৫


وَعَنْ مُعَاذٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اتَّقُوا الْمَلَاعِنَ الثَّلَاثَةَ الْبَرَازَ فِي الْمَوَارِدِ وَقَارِعَةِ الطَّرِيْقِ وَالظِّلِّ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وابْنُ مَاجَةَ

মু‘আয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তিনটি অভিশপ্ত হওয়ার যোগ্য কাজ- (১) পানির ঘাটে, (২) চলাচলের পথে ও (৩) কোন কিছুর ছায়ায় পায়খানা করা এমন করা হতে বেঁচে থাকবে। [১]

[১] হাসান লিগয়রিহী : আবূ দাঊদ ২৬, ইবনু মাজাহ ৩২৮, সহীহ তারগীব ১৪৬। যদিও বিচ্ছিন্নতা ও অপরিচিত রাবী থাকায় এর সানাদটি ত্রুটিযুক্ত, তারপরও এর শাহিদ বর্ণনা থাকায় এটি হাসান-এর স্তরে পৌঁছেছে।

৩৫৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫৬


وَعَنْ أَبِيْ سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يَخْرُجْ الرَّجُلَانِ يَضْرِبَانِ الْغَائِطَ كَاشِفَانِ عَوْرَتَهُمَا يَتَحَدَّثَانِ فَإِنَّ اللهَ يَمْقُتُ عَلى ذلِكَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : দুই ব্যক্তি এক সঙ্গে যেন পায়খানায় এমনভাবে না বসে যে, দু'জনেই দু'জনার লজ্জাস্থান দেখতে পায় এবং পরস্পরের সাথে কথা বলে। কেননা মহান আল্লাহ এ ধরনের কাজে খুবই রাগান্বিত হন। [১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : আবূ দাঊদ ১৫, সহীহুত্ তারগীব ১৫৫।

৩৫৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫৭


وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ هذِهِ الْحُشُوْشَ مُحْتَضَرَةٌ فَإِذَا أَتى أَحَدُكُمُ الْخَلَاءَ فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَاِبْنُ مَاجَةَ

যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : এসব পায়খানার স্থান হচ্ছে (জ্বিন ও শাইত্বনের) উপস্থিতির স্থান। সুতরাং তোমাদের যারা পায়খানায় যাবে তারা যেন এ দু'আ পড়ে : “আ'উযু বিল্লা-হি মিনাল খুবুসি ওয়াল খবা-য়িস”- (অর্থাৎ- আমি নাপাক নর-নারী শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই)। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৬, ইবনু মাজাহ্ ২৯৬, সহীহুল জামি‘ ২২৬৩।

৩৫৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫৮


وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سَتْرُ مَا بَيْنَ أَعْيُنِ الْجِنِّ وَعَوْرَاتِ بَنِي ادَمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُهُمْ الْخَلَاءَ أَنْ يَقُولَ بِسْمِ اللهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَإِسْنَادُه لَيْسَ بِقَوِيٍّ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন তোমাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশ করবে তখন জিন শাইত্বনের চোখ ও বানী আদামের লজ্জাস্থানের মধ্যে পর্দা হল “বিসমিল্লা-হ” বলা। [১] এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব, এর সানাদ দুর্বল।

[১] সহীহ : তিরমিযী ৬০৬, সহীহুল জামি‘ ৩৫১১।

৩৫৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৫৯


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ غُفْرَانَكَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وابْنُ مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পায়খানা হতে বের হতেন তখন বলতেন : “গুফরা-নাকা” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার ক্ষমা প্রার্থনা করছি)। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩০, তিরমিযী ৭, ইবনু মাজাহ্ ৩০০, সহীহুল জামি‘ ৪৭০৭, দারিমী ৭০৭।

৩৬০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬০


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيّ ﷺ إِذَا أَتَى الْخَلَاءَ أَتَيْتُه بِمَاءٍ فِي تَوْرٍ أَوْ رَكْوَةٍ فَاسْتَنْجى ثُمَّ مَسَحَ يَدَه عَلَى الْأَرْضِ ثُمَّ أَتَيْتُه بِإِنَاءٍ اۤخَرَ فَتَوَضَّأَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَرَوَى الدَّارِمِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ مَعْنَاهُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানায় গেলে আমি তাঁর পেছনে পেছনে কখনও ‘তাওর’-এ করে আবার কখনও ‘রাক্ওয়াহ্’-এ করে পানি নিয়ে যেতাম। এ পানি দ্বারা তিনি শৌচকর্ম সম্পাদন করতেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটিতে স্বীয় হাত ঘষতেন। অতঃপর আমি আর এক পাত্রে পানি আনতাম। এ পানি দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করতেন। [১]

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৪৫।

৩৬১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬১


وَعَنِ الْحَكَمِ بْنِ سُفْيَانَ قَالَ كَانَ النَّبِيّ ﷺ إِِذََا بَالَ تَوَضَّأَ وَنَضَحَ فَرْجَه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ

হাকাম ইবনু সুফ্ইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রস্রাব করার পর উযূ করতেন এবং নিজের লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দিতেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৬৮, নাসায়ী ১৩৫, দারিমী ৭৩৮। হাদীসটির সানাদে অনেক বিশৃঙ্খলা থাকলেও এর অনেক শাহিদ বর্ণনা থাকায় তা সহীহ-এর স্তরে পৌঁছেছে।

৩৬২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬২


وَعَنْ أُمَيْمَةَ بِنْتِ رُقَيْقَةَ قَالَتْ كَانَ لِلنَّبِىّ ﷺ قَدَحٌ مِنْ عِيدَانٍ تَحْتَ سَرِيرِه يَبُولُ فِيهِ بِاللَّيْلِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَائِـيُِّ

উমায়মাহ্ বিনতু রুক্বায়ক্বাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাটের নিচে একটি কাঠের গামলা ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে এতে প্রস্রাব করতেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৪, নাসায়ী ৩২, সহীহুল জামি‘ ৪৮৩২।

৩৬৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬৩


وَعَنْ عُمَرَ قَالَ رَاۤنِي النَّبِيُّ ﷺ وَأَنَا أَبُولُ قَائِمًا فَقَالَ يَا عُمَرُ لَا تَبُلْ قَائِمًا فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَةَ قَالَ الشَّيْخُ الاِمَامُ مُحْىُ السُّنَّةِ رَحِمَهُ اللهُ قَدْ صَحَّ

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখে বললেন, ‘উমার! (আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের ন্যায়) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করো না। অতঃপর আমি আর কক্ষনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ৩০৮, য‘ঈফাহ্ ৯৩৪, তিরমিযী ১২। কারণ এর সানাদে ‘আবদুল কারীম ইবনু আবুল মাখরিক্ব নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে।

৩৬৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬৪


عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ اَتَى النَّبِيُّ ﷺ سُبَاطَةَ قَوْمٍٍ فَبَالَ قَائِمًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ - قِيْلَ كَانَ ذلِكَ لِعُذْرٍ

হুযায়ফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক গোত্রের আবর্জনার স্থানে গেলেন এবং (সেখানে) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। [১] বলা হয়ে থাকে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ওযরের কারণে এরূপ করেছেন।

[১] সহীহ : বুখারী ২২৪, মুসলিম ২৭৩।

পরিচ্ছদঃ ২.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৬৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬৫


عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلَا تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُولُ اِلَّا قَاعِدًا. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বলে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন, তোমরা তাঁর কথা বিশ্বাস করো না। তিনি সবসময়ই বসে প্রস্রাব করতেন। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১২, নাসায়ী ২৯, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২০১।

৩৬৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬৬


وَعَنْ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّ جِبْرِيلَ أَتَاهُ فِي أَوَّلِ مَا أُوحِيَ إِلَيْهِ فَعَلَّمَهُ الْوُضُوْءَ وَالصَّلَاةَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الْوُضُوءِ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ المَاءٍ فَنَضَحَ بِهَا فَرْجَه. رَوَاهُ أَحْمَدُ والدَّارَقُطْنِى

যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে জিবরীল আমিনের মাধ্যমে যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওয়াহী নাযিল করা হচ্ছিল, তখনই তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে উযূ করা ও সলাত আদায়ের শিক্ষা দিলেন। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন উযূ করা শেষ করে এককোষ পানি (হাতে উঠিয়ে) নিলেন এবং তখন নিজের পুরুষাঙ্গের উপর ছিটিয়ে দিলেন। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ১৭৪৮০, দারাকুত্বনী ৩৯০, সহীহাহ্ ৭৪১।

৩৬৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬৭


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَانْتَضِحْ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هذَا حَدِيثٌ غَرِيْبٌ قَالَ و سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَعْنِىْ يَقُولُ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍٍّ الْهَاشِمِيُّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! যখন আপনি উযূ করবেন, তখন পানি (সন্দেহ দূর করার জন্য আপনার গুপ্তাঙ্গে) ছিটিয়ে দিবেন। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৫০, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ১৩১২।

৩৬৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬৮


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ بَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَامَ عُمَرُ خَلْفَه بِكُوزٍ مِنْ مَاءٍ فَقَالَ مَا هذَا يَا عُمَرُ قَالَ مَاءٌ تَتَوَضَّأُ بِه قَالَ مَا أُمِرْتُ كُلَّمَا بُلْتُ أَنْ أَتَوَضَّأَ وَلَوْ فَعَلْتُ لَكَانَتْ سُنَّةً. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রস্রাব করলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁর পেছনে পানির পাত্র নিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘উমার! এটা কী? ‘উমার (রাঃ) বললেন, পানি। আপনার উযূ করার করার জন্য। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি এজন্য আদিষ্ট হইনি যে, যখনই প্রস্রাব করব তখনই উযূ করব। যদি আমি সর্বদা এমন করি তাহলে এটা ‘সুন্নাত’ হয়ে যাবে। [১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪২, ইবনু মাজাহ্ ৩২৭, সহীহুল জামি‘ ৫৫৫১। কারণ এর সানাদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াহ্ইয়া আত্ তাওয়াম নামক একজন রাবী রয়েছে যাকে হাফিয ইবনু হাজার দুর্বল বলেছেন। তবে مَا أُمِرْتُ এর পরের অংশটুকুকে শায়খ আলবানী ‘‘সহীহুল জামি’’-তে সহীহ বলেছেন।

৩৬৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৬৯


وَعَنْ أَبِيْ أَيُّوبَ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ أَنَّ هذِهِ الْايَةَ لَمَّا نَزَلَتْ ﴿فِيهِ رِجَالٌ يُّحِبُّونَ أَنْ يَّتَطَهَّرُوا وَاللهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِيْنَ﴾ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ إِنَّ اللهَ قَدْ أَثْنى عَلَيْكُمْ فِي الطُّهُورِ فَمَا طُهُورُكُمْ قَالُوا نَتَوَضَّأُ لِلصَّلاةِ وَنَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ وَنَسْتَنْجِىْ بِالْمَاءِ قَالَ فَهُوَ ذَاكَ فَعَلَيْكُمُوهُ. رَوَاهُ ابْن مَاجَةَ

আবূ আইয়ূব, জাবির ও আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

“সেখানে (মাসজিদে কু’বায়) এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন”- (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯:১০৮) এ আয়াত যখন নাযিল হয় তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আনসারগণ! এ আয়াতে আল্লাহ পবিত্রতার ব্যাপারে তোমাদের প্রশংসা করেছেন। তোমাদের পবিত্রতা কী? তাঁরা বললেন, আমরা সলাতের জন্য উযূ করি, নাপাকী হতে পবিত্র হবার জন্য গোসল করি, পানি দিয়ে পবিত্রতা লাভ করে থাকি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটাই (পবিত্রতা), যার জন্য আল্লাহ তোমাদের প্রশংসা করেছেন। সুতরাং তোমরা সবসময় এটা করতে থাকবে। [১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : ইবনু মাজাহ্ ৩৫৫, সহীহ আবূ দাঊদ ৩৫। যদিও এর সানাদে দুর্বলতা রয়েছে কিন্তু এর শাহিদ রিওয়ায়াত থাকায় তা সহীহ স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৩৭০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭০


وَعَنْ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ بَعْضُ الْمُشْرِكِينَ وَهُمْ يَسْتَهْزِئُِ إِنِّي لَأَرى صَاحِبَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ حَتَّى الْخِرَاءَةِ قُلْتُ أَجَلْ أَمَرَنَا أَنْ لَا نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ وَلَا نَسْتَنْجِيَ بِأَيْمَانِنَا وَلَا نَكْتَفِيَ بِدُونِ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ لَيْسَ فِيهَا رَجِيعٌ وَلَا عَظْمٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ وأَحْمَدُ وَاللَّفْظُ لَه

সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুশরিকদের কেউ ঠাট্টা করে আমাকে বলল, তোমাদের বন্ধু (অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) তো দেখছি তোমাদেরকে পায়খানা-প্রস্রাবের নিয়ম-কানুনও শিখিয়ে দিচ্ছেন। আমি বললাম, হাঁ (এটা তো তাঁর অনুগ্রহ, দোষের তো কিছু নেই)। তিনি আমাদেরকে বলে দিয়েছেন, আমরা যেন পায়খানার সময় ক্বিবলার দিকে মুখ করে না বসি, ডান হাতে শৌচকর্ম না করি এবং পায়খানার পর তিনটি ঢিলার কম ব্যবহার না করি। আর এতে (ঢিলা) যেন গোবর ও হাড় না থাকে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬২, আহমাদ ২৩১৯১।

৩৭১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭১


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ ابْنِ حَسَنَةَ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ وَفِي يَدِهِ الدَّرَقَةُ فَوَضَعَهَا ثُمَّ جَلَسَ خَلْفَهَا فَبَالَ إِلَيْهَا فَقَالَ بَعْضُهم انْظُرُوا إِلَيْهِ يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ فَسَمِعَهُ النَّبِيّ ﷺ فَقَالَ وَيْحَكَ أََمَا عَلِمْتَ مَا أَصَابَ صَاحِبُ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا أَصَابَهُمْ الْبَوْلُ قَرَضُوهُ بِالْمَقَارِيضِ فَنَهَاهُمْ فَعُذِّبَ فِي قَبْرِه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ

আবদুর রহমান ইবনু হাসানাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ঘর থেকে বের হয়ে) আমাদের কাছে এলেন, আর তাঁর হাতে ছিল একটি চামড়ার ঢাল (বর্ম)। তিনি ঢালটি (পর্দাস্বরূপ স্থাপন করে) তার দিকে ফিরে মাটিতে বসে প্রস্রাব করলেন। তখন (মুশরিকদের) কয়েকজন বলে উঠল, দেখ, মেয়েদের মতো (পর্দা করে) প্রস্রাব করছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটা শুনলেন এবং বললেন, তোমার জন্য আফসোস হয়, তুমি কি জানো না যে, বানী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কি ঘটেছিল? অর্থাৎ তাদের শরীরে (বা কাপড়ে) যখন প্রস্রাব লাগতো, তখন তারা কাঁচি দিয়ে তা কেটে ফেলতো। তাই সে (বানী ইসরাঈল-এর এক ব্যক্তি) তা হতে মানুষকে নিষেধ করল। ফলে (মৃত্যুর পর) তাকে ক্ববরের ‘আযাব দেয়া হল। [১]

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৩৪৬, আবূ দাঊদ, সহীহুত্ তারগীব ১৬২।

৩৭২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭২


وَرَوَاهُ النِّسَاۤئِـيُّ عَنْهُ وَعَنْ اَبِيْ مُوْسى

ইমাম নাসায়ী থেকে বর্ণিতঃ

ইমাম নাসায়ী এ হাদীসটি ‘আবদুর রহমান (রাঃ) ও আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। [১]

[১] য‘ঈফ : নাসায়ী ৩০, ইবনু মাজাহ্, য‘ঈফ সুনানে ইবনু মাজাহ্ ।

৩৭৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭৩


وَعَنْ مَرْوَانَ الْاَصْفَرِ قَالَ رَاَيْتُ ابْنَ عُمَرَ اَنَاخَ رَاحِلَتَه مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ ثُمَّ جَلَسَ يَبُوْلُ اِلَيْهَا فَقُلْتُ يَا اَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ اَلَيْسَ قَدْ نُهِىَ عَنْ هذَا؟ قَالَ بَلْ اِنَّمَا نُهِىَ عَنْ ذلِكَ فِي الْفَضَاءِ فَاِذَا كَانَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ شَىْءٌ يَّسْتُرُكَ فَلَا بَاْسَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

মারওয়ান আল আসফার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে দেখলাম, তিনি ক্বিবলার দিকে তার উটকে বসালেন। তারপর উটের দিকে বসে প্রস্রাব করতে লাগলেন। আমি বললাম, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! এটা হতে কি নিষেধ করা হয়নি। তিনি বললেন, না, বরং উন্মুক্ত জায়গায় এরূপ করা নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যখন তোমার আর ক্বিবলার মধ্যে এমন কোন জিনিস আড়াল হয়, তখন এরূপ করাতে কোন দোষ নেই। [১]

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ১১, ইরওয়া ৬১।

৩৭৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭৪


وَعَنْ أَنَسِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّىْ الْأَذى وَعَافَانِىْ. رَوَاهُ ابن مَاجَةَ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পায়খানা হতে বের হতেন, এ দু‘আ পড়তেন : “আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আয্হাবা ‘আন্নিল আযা-ওয়া‘আ-ফানী”- [অর্থাৎ- সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করেছেন ও আমাকে নিরাপদ করেছেন]। [১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ৩০১, ইরওয়া ৫৩।

৩৭৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭৫


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ لَمَّا قَدِمَ وَفْدُ الْجِنِّ عَلَى النَّبِيّ ﷺ قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ انْهَ أُمَّتَكَ أَنْ يَسْتَنْجُوا بِعَظْمٍ أَوْ رَوْثَةٍ أَوْ حُمَمَةٍ فَإِنَّ اللهَ جَعَلَ لَنَا فِيهَا رِزْقًا قَالَ فَنَهى رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ ذلِكَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জিনের প্রতিনিধি দল যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলেন, তখন তাঁর নিকট বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উম্মাতকে গোবর, হাড় ও কয়লা দিয়ে ঢিলা ব্যবহার করতে নিষেধ করে দিন। আল্লাহ তা‘আলা এগুলোকে আমাদের রিয্ক্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অতএব রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলো দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করে দেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৯।

পরিচ্ছদঃ ৩.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৭৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭৬


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلى أُمَّتِيْ لَامَرْتُهُمْ بِتَأْخِيرِ الْعِشَاءِ وَبِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমি আমার উম্মাতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে ‘ইশার সলাত দেরীতে আদায় করতে ও প্রত্যেক সলাতের সময় মিসওয়াক করার আদেশ করতাম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৮৮৭, মুসলিম ২৫২, আবূ দাঊদ ৪৬।

৩৭৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭৭


وَعَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِىْءٍ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ بَيْتَه قَالَتْ بِالسِّوَاك. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

তাবি'ঈ শুরায়হ ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করলাম, বলুন তো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে কোন্ কাজটি করতেন? তিনি বললেন, মিসওয়াক। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫৩।

৩৭৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭৮


وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا قَامَ لِلتَّهَجُّدِ مِنَ اللَّيْلِ يَشُوْصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

হুযায়ফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাহাজ্জুদের সলাত আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠেই মিসওয়াক দ্বারা ঘষে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৪৬, মুসলিম ২৫৫।

৩৭৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৭৯


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ قَصُّ الشَّارِبِ وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَالسِّوَاكُ وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ وَقَصُّ الْأَظْفَارِ وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ وَنَتْفُ الْإِبْطِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ يَعْنِى الاِسْتِنْجَاءَ قَالَ الرَّاوِىُّ وَنَسِيْتُ الْعَاشِرَةَ اِلَّا اَنْ تَكُوْنَ الْمَضْمَضَةَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
وَفِىْ رِوَايَةٍ الْخِتَانُ بَدَلَ اِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ لَمْ اَجِدْ هذِهِ الرِّوَايَةَ فِي الصَّحِيْحَيْنِ وَلَا فِىْ كِتَابِ الْحُمَيْدِىِّ وَلكِنْ ذَكَرَهَا صَاحِبُ الْجَامِعِ وَكَذَا الْخَطَّابِىُّ فِىْ مَعَالِمِ السُّنَنِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : দশটি বিষয় ফিত্বরাহ্ অর্থাৎ প্রকৃতিগত স্বভাবের অন্তর্গত। (১) গোঁফ খাটো করা, (২) দাড়ি লম্বা করা, (৩) মিসওয়াক করা, (৪) পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, (৫) নখ কাটা,(৬) আঙ্গুলের গিরাগুলো ধোয়া, (৭) বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা, (৮) গুপ্তাঙ্গের লোম কাটা, (৯) শৌচকাজ করা (পবিত্র থাকা) এবং রাবী বলেন, দশমটা আমি ভুলে গেছি, সম্ভবত তা ‘কুলি করা’। [১]
অপর এক বর্ণনায় (দ্বিতীয় জিনিসটি) দাড়ি বাড়াবার স্থলে খতনা করার কথা এসেছে। মিশকাতের সংকলক বলেন, এ বর্ণনাটি বুখারী-মুসলিমে আমি পাইনি, আর হুমায়দীতেও নেই (যা সহীহায়নের জামি’)। অবশ্য এ রিওয়ায়াতকে জামিউস সগীরে উল্লেখ করেছেন। এভাবে খাত্ত্বাবী (রহঃ) মা’আলিমুস সুনানে বর্ণনা করেছেন।

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬১।

৩৮০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮০


عَنْ اَبِي دَاؤُدَ بِرِوَايَةِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ

‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হাদীসটি আবূ দাঊদ-এ ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৫৪।

পরিচ্ছদঃ ৩.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৮১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮১


عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ النَّبِيِّ ﷺ السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ. رَوَاهُ الشَّافِعِىُّ وأَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ وَرَوَى الْبُخَارِيُّ فِيْ صَحِيْحَه بِلَا اِسْنَادٍ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মিসওয়াক হল মুখগহবর পরিষ্কারকারী এবং আল্লাহর সন্তোষ লাভের মাধ্যম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২/৬৮২ (তা‘লীক সূত্রে), নাসায়ী ৫, সহীহুত্ তারগীব ২০৯, আহমাদ ২৪২০৩, দারিমী ৭১১।

৩৮২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮২


وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَرْبَعٌ مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ الْحَيَاءُ وَيُرْوَى الخِتَانُ وَالتَّعَطُّرُ وَالسِّوَاكُ وَالنِّكَاحُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

আবূ আইয়ূব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : চারটি বিষয় নাবী রসূলদের সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত- (১) লজ্জাশীলতা, আর এক বর্ণনায় এর স্থলে খতনার কথা বলা হয়েছে; (২) সুগন্ধি ব্যবহার করা; (৩) মিসওয়াক করা এবং (৪) বিয়ে করা। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১০৮০, ইরওয়া ৩৩, সিলসিলা য‘ঈফাহ্ ৪৫২৩। কারণ এর সানাদে ‘‘আবুশ শিমাল’’ নামক একজন অপরিচিত রাবী রয়েছে।

৩৮৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮৩


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يَرْقُدُ مِنْ لَيْلٍ وَلَا نَهَارٍ فَيَسْتَيْقِظُ اِلَّا اسْتَاكَ قَبْلَ أَنْ تَتَوَضَّأَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিনে বা রাতে যখনই ঘুম হতে উঠতেন, উযূ করার পূর্বে মিসওয়াক করতেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫৭, আহমাদ। তবে وَلَا نَهَارٍ অংশটুকু দুর্বল।

৩৮৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮৪


وَعَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَبِيُّ ﷺ يَسْتَاكُ فَيُعْطِينِي السِّوَاكَ لِأَغْسِلَه فَأَبْدَأُ بِه فَأَسْتَاكُ ثُمَّ أَغْسِلُه وَأَدْفَعُه إِلَيْهِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক করতেন। অতঃপর ধুয়ে রাখার জন্য তা আমাকে দিতেন। আমি (ধোয়ার আগে) ঐ মিসওয়াক দিয়ে নিজে মিসওয়াক করতাম। তারপর তা ধুয়ে তাঁকে ((সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) দিতাম। [১]

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৫২।

পরিচ্ছদঃ ৩.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৮৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮৫


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ أَرَانِي فِى الْمَنَامِ أَتَسَوَّكُ بِسِوَاكٍ فَجَاءَنِي رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الْاۤخَرِ فَنَاوَلْتُ السِّوَاكَ الْأَصْغَرَ مِنْهُمَا فَقِيلَ لِي كَبِّرْ فَدَفَعْتُه إِلَى الْأَكْبَرِ مِنْهُمَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একখন্ড মিসওয়াক দিয়ে মিসওয়াক করছি। এমন সময় দু’জন লোক আমার কাছে এলো, যাদের মধ্যে একজন অপরজন হতে (বয়সে) বড়। আমি আমার মিসওয়াকটি ছোটজনকে দিতে উদ্যত হলে আমাকে বলা হল, বড়জনকেই দিন। অতঃপর আমি তা বড়জনকেই দিলাম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩০০৩, মুসলিম ২২৭১।

৩৮৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮৬


وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَا جَاءَنِي جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَام قَطُّ اِلَّا أَمَرَنِي بِالسِّوَاكِ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ أُحْفِيَ مُقَدَّمَ فِيَّ. رَوَاهُ اَحْمَد

আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখনই জিবরীল (আঃ) আমার কাছে আসতেন আমাকে মিসওয়াক করার তাগিদ দিতেন; এমনকি আমার ভয় হল যে, (মিসওয়াক করার দরুন) আমার মুখের সম্মুখভাগ যেন আবার ক্ষত-বিক্ষত না করে ফেলি। [১]

[১] খুবই দুর্বল : আহমাদ ২১৭৬৬, য‘ঈফুল জামি‘ ৫০৫০।

৩৮৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮৭


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَقَدْ أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاكِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমি তোমাদেরকে মিসওয়াকের (গুরুত্ব ও ফাযীলাতের) ব্যাপারে অনেক বেশি বললাম। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৮৮৮।

৩৮৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮৮


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَسْتَنُّ وَعِنْدَه رَجُلَانِ اَحَدُهُمَا اَكْبَرُ مِنَ الْاَخَرِ فَاُوْحِىَ إِلَيْهِ فِيْ فَضْلِ السِّوَاكَ اَنْ كَبِّرْ اَعْطِ السِّوَاكَ اَكْبَرَهُمَا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক করছিলেন। তখন তাঁর কাছে দু’জন লোক উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে একজন অপরজন হতে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। তখন মিসওয়াকের ফাযীলাত সম্পর্কে ওয়াহী নাযিল হল- তাদের মধ্যে বড়জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে মিসওয়াকটি দিন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৫০।

৩৮৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৮৯


وَعَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَفْضُلُ الصَّلَاةُ الَّتِىْ يُسْتَاكُ لَهَا عَلَى الصَّلَاةِ الَّتِىْ لَا يُسْتَاكُ لَهَا سَبْعِيْنَ ضِعْفًا. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِي شُعَبُ الإِيْمَان

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে সলাতের জন্য (উযূ করার সময়) মিসওয়াক করা হয় তার ফাযীলাত সত্তর গুন বেশি সে সলাতের চেয়ে যে সলাতে মিসওয়াক করা হয়নি। [১]

[১] য‘ঈফ : বায়হাক্বী ২৭৭৪, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ১৫০৩, আহমাদ ৩/২৭২, হাকিম ১/১৪৬। কারণ এর সানাদে মু‘আবিয়াহ্ ইবনু ইয়াহ্ইয়া আস্ সদাকী নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। এছাড়াও এর অন্য একটি সানাদে ওয়াক্বিদী নামে একজন মিথ্যুক রাবী রয়েছে।

৩৯০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯০


وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلى أُمَّتِي لَامَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَلَاخَّرْتُ صَلَاةَ الْعِشَاءِ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ قَالَ فَكَانَ زَيْدُ بْنُ خَالِدٍ يَشْهَدُ الصَّلَوَاتِ فِي الْمَسْجِدِ وَسِوَاكُه عَلى أُذُنِه مَوْضِعَ الْقَلَمِ مِنْ أُذُنِ الْكَاتِبِ لَا يَقُومُ إِلَى الصَّلَاةِ اِلَّا أُسْتَنَّ ثُمَّ رَدَّه إِلى مَوْضِعِه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ اِلَّا اَنَّه لَمْ يَذْكُرْ «وَلَاخَرَّتُ صَلَاةَ الْعِشَاءِ اِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ» وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ

যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি : আমি যদি উম্মাতকে কষ্টে ফেলার আশংকা না করতাম তাহলে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সলাতের সময় মিসওয়াক করতে হুকুম (ফার্য) করতাম এবং 'ইশার সলাত রাতের এক-তৃতীয়াংশে পিছিয়ে দিতাম। তিনি [আবূ সালামাহ্‌ (রাঃ)] বলেন, (আমি দেখেছি) যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) সলাতে উপস্থিত হতেন। তার মিসওয়াক স্বীয় কানে আটকানো থাকত, যেখানে লেখকের কলম থাকে ঠিক তদ্রূপ। যখনই তিনি সলাতের জন্য দাঁড়াতেন তখনই মিসওয়াক করতেন। তারপর তা আবার সেখানে (কানে) রেখে দিতেন।

আবূ দাঊদ ‘ইশার সলাত পিছিয়ে দিতাম’ বাক্য ছাড়া বাকীটুকু বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী এ হাদিসকে হাসান সহীহ বলেছেন। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ২৩, আবূ দাঊদ ৪৭।

পরিচ্ছদঃ ৪.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৯১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯১


عن أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِه فَلَا يَغْمِسْ يَدَه فِي الْإِنَاءِ حَتّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا فَإِنَّه لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠে তখন সে যেন স্বীয় হাত (পানির) পাত্রে না ডুবায়, যে পর্যন্ত তা তিনবার ধুয়ে না নেয়। কারণ সে জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৬২, মুসলিম ২৭৮।

৩৯২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯২


وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِه فَتَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ ثَلَاثًا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلى خَيْشُومِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠবে ও উযূ করবে, সে যেন তিনবার নাকে পানি দিয়ে (নাক) ঝেড়ে ফেলে। কেননা শয়তান তার নাকের বাঁশিতে রাত যাপন করে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩২৯৫, মুসলিম ২৩৮; শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।

৩৯৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯৩


وَقِيْلَ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّأُ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلى يَدَيْهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَه ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَه بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِه ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ. رَوَاهُ مَالِكُ وَالنَّسَائِـيُِّ وَلَابِىْ دَاوٗدَ نَحْوَه ذَكَرَه صَاحِبُ الْجَامِعِ

আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

'আবদুলাহ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিম (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে উযূ করতেন? (এ কথা শুনে) তিনি উযূর জন্য পানি আনালেন, তারপর দুই হাতের উপর তা ঢাললেন এবং দুই হাত (কব্জি পর্যন্ত) দু’বার ধুয়ে নিলেন। এরপর তিনবার করে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরপর তিনবার মুখ ধুলেন। তারপর হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। এরপর দুই হাত দিয়ে ‘মাথা মাসাহ’ করলেন। (মাসাহ এভাবে করলেন) দুই হাতকে মাথার সম্মুখভাগ হতে পেছনের দিকে নিয়ে আবার পেছন হতে সম্মুখভাগে নিয়ে এলেন। তারপর আবার উল্টো দিকে যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানে দুই হাত নিয়ে এলেন। অতঃপর দুই পা ধুলেন। [১] মালিক ও নাসায়ী; আবূ দাঊদেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। জামিউই উসূল-এর গ্রন্থকার এ কথা বলেছেন।

[১] সহীহ : নাসায়ী ৯৭।

৩৯৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯৪


وَفِى المُتَّفَقِ عَلَيْهِ قِيْلَ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ تَوَضَّأْ لَنَا وُضُوءَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَدَعَا بِإِنَاءٍ فَأَكْفَأَ مِنْهَا عَلى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَاسْتَخْرَجَهَا فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدَةٍ فَفَعَلَ ذلِكَ ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَه فَاسْتَخْرَجَهَا فَغَسَلَ وَجْهَه ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَه فَاسْتَخْرَجَهَا بِرَأْسِه فَأَقْبَلَ بِيَدَيْهِ وَأَدْبَرَ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا كَانَ وُضُوءُ رَسُولِ اللهِ ﷺ.
وَفِيْ رِوَايَةٍ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمٍ رَأْسِه ثُمَّ ذَهَبَ بِهَمَا إِلى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتّى رَجَعَ إِلى الْمَكَانِ الَّذِىْ بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ .
وَفٍيْ رِوَايَةٍ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا بِثَلَاثِ غَرَفَاتٍ مِّنْ مَّاءٍ.
وَفِيْ رِوَايَةٍ أخرى فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفَّةٍ وَاحِدَةٍ فَفَعَلَ ذلِكَ ثَلَاثًا.
وَفِيْ رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ فَمَسَحَ رَأْسَه فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَّاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
وَفِيْ أُخْرى لَه فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِّنْ غَرْفَةٍ وَّاحِدَةٍ

আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এ হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে এভাবে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আসিমকে বলা হল, যেভাবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করতেন ঠিক সেভাবে আপনি আমাদের সামনে উযূ করুন। তাই তিনি [‘আবদুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাঃ)] পানি আনলেন। পাত্র কাত করে পানি নিয়ে দুই হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার হাত ধুয়ে নিলেন। এরপর পাত্রের ভিতর হাত ঢুকিয়ে পানি এনে এক কোষ পানি দিয়ে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এভাবে তিনি তিনবার করলেন। তারপর আবার নিজের হাত পাত্রে ঢুকিয়ে পানি এনে তিনবার তার মুখমণ্ডল ধুইলেন। আবার পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি এনে নিজের মাথা মাসাহ এভাবে করলেন, প্রথমে নিজ হাত দু’টি সামনে থেকে পেছনের দিকে নিয়ে গেলেন। আবার পেছন থেকে সামনের দিকে নিয়ে এলেন, তারপর নিজের দুই পা গিরা পর্যন্ত ধুইলেন। অতঃপর বললেন, এরূপই ছিল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওযূ। [১]
সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, (মাসাহ করার জন্য) নিজের দুই হাতকে সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে নিয়ে গেলেন। আবার পিছনের দিক থেকে সামনের দিকে নিয়ে এলেন। অর্থাৎ মাথার সামনের অংশ হতে ‘মাসাহ’ শুরু করে দুই হাত পিছন পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। তারপর আবার পিছন থেকে শুরু করে হাত সেখানে নিয়ে এলেন যেখান থেকে শুরু করেছিলেন। অতঃপর দুই পা ধুইলেন। [2]
সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় এভাবে বলা হয়েছে, তিনি এক কোষ পানি দিয়ে কুলি করলেন, আর নাকে পানি দিলেন। এভাবে তিনবার করলেন। [3]
বুখারী বর্ণনার শব্দ হল, তারপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। নিজের দুই হাতকে সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে নিয়ে গেলেন। আবার পেছন থেকে সামনের দিকে নিয়ে এলেন। আর এটা তিনি একবার করেছেন। অতঃপর টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধুইলেন। [4]
বুখারীরই এক বর্ণনায় শব্দ হল, অতঃপর তিনি কুলি করলেন ও নাক ঝারলেন তিনবার এক কোষ পানি দিয়ে। [5]

[১] সহীহ : বুখারী ১৯২, মুসলিম ২৩৫; শব্দ বিন্যাস মুসলিমের

[2] সহীহ : বুখারী ১৮৫।

[3] সহীহ : মুসলিম ২৩৫।

[4] সহীহ : বুখারী ১৮৬।

[5] সহীহ : বুখারী ১৯৯।

৩৯৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯৫


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ تَوَضَّأَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَرَّةً مَرَّةً لَمْ يَزِدْ عَلى هذَا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (উযূর স্থানসমুহ) একবার করে উযূ করলেন। একবারের অধিক ধুলেন না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৫৭। তবে لَمْ يَزِدْ عَلى هذ অংশটুকু ব্যতীত।

৩৯৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯৬


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূর অঙ্গগুলোকে দু’বার করে ধুইলেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৫৮।

৩৯৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯৭


وَ عَنْ عُثْمَانَ اَنَّه تَوَضَّأَ بِالْمَقَاعِدِ فَقَالَ أَلَا أُرِيكُمْ وُضُوءَ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثُمَّ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তিনি মাক্বা‘ইদ নামক স্থানে উযূ করতে বসলেন এবং বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উযূ করে দেখাব না? অতঃপর তিনি তিন তিনবার করে ধুয়ে উযূ করলেন। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৩০।

৩৯৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯৮


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَجَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ حَتّى إِذَا كُنَّا بِمَاءٍ بِالطَّرِيقِ تَعَجَّلَ قَوْمٌ عِنْدَ الْعَصْرِ فَتَوَضَّئُوا وَهُمْ عِجَالٌ فَانْتَهَيْنَا إِلَيْهِمْ وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوْحُ لَمْ يَمَسَّهَا الْمَاءُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাক্কাহ্ হতে মাদীনায় ফিরে যাবার পথে একটি পানির কূপের কাছে পৌঁছলাম। আমাদের কেউ কেউ ‘আসরের সলাতের সময় তাড়াতাড়ি উযূ করতে গেলেন এবং তাড়াহুড়া করে উযূ করলেন। অতঃপর আমরা তাদের কাছে পৌঁছলাম, দেখি তাদের পায়ের গোড়ালি শুকনা, চকচক করছে। সেখানে পানি পৌঁছেনি। এটা দেখে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সর্বনাশ! (শুকনা) গোড়ালির লোকেরা জাহান্নামে যাবে, তোমরা পূর্ণরূপে উযূ কর। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৪১, বুখারী ৯৬।

৩৯৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৩৯৯


وَعَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ تَوَضَّاَ فَمَسَحَ بِنَاصِيَتِه وَعَلَى الْعَمَامَةِ وَعَلَى الْخُفَّيْنِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

মুগীরাহ্ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করলেন। তিনি কপালের চুলের উপর, পাগড়ীর উপর এবং মোজার উপর মাসাহ করলেন। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৪।

৪০০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০০


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي شَأْنِه كُلِّه فِي طُهُورِه وَتَرَجُّلِه وَتَنَعُّلِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সব কাজই যথাসম্ভব ডান দিক হতে শুরু করতে পছন্দ করতেন- পাক-পবিত্রতা অর্জনে, মাথা আঁচড়ানোয় ও জুতা পরনে। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪২৬, মুসলিম ২৬৮।

পরিচ্ছদঃ ৪.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪০১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০১


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا لَبِسْتُمْ وَإِذَا تَوَضَّأْتُمْ فَابْدَءُوا بِأَيَامِنِكُمْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন তোমরা কিছু পরিধান করবে এবং উযূ করবে, তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে। [১] (আহমাদ, আবূ দাঊদ)

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪১৪১, সহীহুল জামি‘ ৭৮৭, আহমাদ ৮৬৫২।

৪০২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০২


وَعَنْ سَعِيْدِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللهِ عَلَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وابن مَاجَةَ

সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি উযূর শুরুতে ‘বিসমিল্লা-হ’ (আল্লাহ তা‘আলার নাম) পড়েনি তার ওযু হয়নি। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ২৫, ইবনু মাজাহ্ ৩৯৮, সহীহুল জামি‘ ৭৫১৪।

৪০৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০৩


وَرَوَاهُ أَحْمَدُ وأَبُوْ دَاوٗدَ عن أَبِيْ هُرَيْرَةَ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আহমাদ ও আবূ দাঊদে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে হাদীসটি বর্ণিত। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০১।

৪০৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০৪


وَالدَّارِمِيُّ عن أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىٍِّ عَنْ أَبِيْهِ وَزَادُوْا فِيْ أَوَّلِه لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا وَضُوْءَ لَه

দারিমী আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

দারিমী আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে ও তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ প্রমুখ তাদের বর্ণনায় তার প্রথমে এ কথা বৃদ্ধি করেছেন যার উযূ নেই তার সলাতও নেই, অর্থাৎ- উযূ ব্যতীত সলাত হয় না। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০১। হাদীসের এ সানাদটি দুর্বল হলেও এর শাহিদমূলক বর্ণনা থাকায় তা সহীহ স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৪০৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০৫


وَعَنْ لَقِيطِ بْنِ صَبُرَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ قَالَ أَسْبِغْ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ اِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ اِلى قَوْلِه بَيْنَ الْاَصَابِعِ

লাক্বীত্ব ইবনু সবুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে উযূ সম্পর্কে বলুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, উযূর অঙ্গগুলো পরিপূর্ণভাবে ধুবে। আঙ্গুলগুলোর মধ্যে (আঙ্গুল ঢুকিয়ে) খিলাল করবে এবং উত্তমরূপে নাকে পানি পৌঁছাবে, যদি সিয়াম পালনকারী (রোযাদার) না হও। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪২, তিরমিযী ৭৮৮, নাসায়ী ১১৪, ইবনু মাজাহ্ ৪৪৮। তবে নাসায়ী ইবনু মাজাতে শেষের অংশটুকু নেই।

৪০৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০৬


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَخَلِّلْ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدَيْكَ وَرِجْلَيْكَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَرَوى ابْنُ مَاجَةَ نَحْوهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তুমি যখন উযূ করবে, হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে (আঙ্গুল ঢুকিয়ে) খিলাল করবে। তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ। ইবনু মাজাহও একইরূপ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, এ হাদিসটি গরীব। [১]

৪০৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০৭


وَعَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ إِذَا تَوَضَّأَ يَدْلُكُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ بِخِنْصَرِه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَابْنُ مَاجَةَ

মুস্‌তাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উযূ করার সময় দেখেছি যে, তিনি বাম হাতের ছোট আঙ্গুল দিয়ে দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করতেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৪৭, তিরমিযী ৪০, ইবনু মাজাহ্ ৪৪৬, সহীহুল জামি‘ ৪৭০০।

৪০৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০৮


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا تَوَضَّأَ أَخَذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَأَدْخَلَه تَحْتَ حَنَكِه فَخَلَّلَ بِه لِحْيَتَه وَقَالَ هَكَذَا أَمَرَنِىْ رَبِّىْ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করার সময় এক কোষ পানি নিয়ে চিবুকের নিচ দিয়ে দাড়িতে প্রবেশ করিয়ে তা খিলাল করে নিতেন এবং বলতেন : আমার রব আমাকে এরূপ করতে নির্দেশ করেছেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৫, সহীহুল জামি‘ ৪৬৯৬।

৪০৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪০৯


وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (উযূ করার সময়) নিজের দাড়ি খিলাল করতেন। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ৩১, দারিমী ৭০৪।

৪১০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১০


وَعَنْ أَبِي حَيَّةَ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ حَتّى أَنْقَاهُمَا ثُمَّ مَضْمَضَ ثَلَاثًا وَاسْتَنْشَقَ ثَلَاثًا وَغَسَلَ وَجْهَه ثَلَاثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِه مَرَّةً ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَخَذَ فَضْلَ طَهُورِه فَشَرِبَه وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ أَحْبَبْتُ أَنْ أُرِيَكُمْ كَيْفَ كَانَ طُهُورُ رَسُولِ اللهِ ﷺ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ

তাবি’ঈ আবু হাইয়্যাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে উযূ করতে দেখেছি। তিনি প্রথমে নিজের হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনবার কুলি করলেন ও তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনবার করে মুখমণ্ডল ও দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নিলেন। এরপর একবার মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর দুই পা গিরা পর্যন্ত ধুলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং উযূর বাকী পানিটুকু নিয়ে তা দাঁড়ানো অবস্থায় পান করলেন। অতঃপর বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে উযূ করেছেন তা আমি তোমাদেরকে দেখাতে চাইলাম। [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ৪৮, নাসায়ী ৯৬।

৪১১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১১


وَعَنْ عَبْدِ خَيْرٍ قَالَ نَحْنُ جُلُوسٌ فَنَنْظُرُ إِلى عَلِيٍّ حِيْنَ تَوَضَّأَ فَأَدْخَلَ يَدَهُ الْيُمْنى فَمَلَا فَمَه فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَنَثَرَ بِيَدِهِ الْيُسْرى فَعَلَ هذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّه أَنْ يَنْظُرَ إِلى طُهُورِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَهَذَا طُهُورُه. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

তাবি‘ঈ ‘আবদ খায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বসে বসে ‘আলী (রাঃ)-এর উযূ করা দেখছিলাম। তিনি ডান হাত পানির মধ্যে ডুবিয়ে পানি উঠিয়ে মুখ ভরে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তারপর বাম হাত দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তিনি এরূপ তিনবার করলেন, অতঃপর বললেন, কেউ যদি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উযূ (করার পদ্ধতি) দেখে আনন্দ লাভ করতে চায়, তবে দেখুক, এরূপই ছিল তাঁর ওযূ। [১]

[১] সহীহ : দারিমী ৭০১।

৪১২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১২


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْل اللهِ ﷺ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ فَعَلَ ذلِكَ ثَلَاثًا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ

আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক কোষ পানি দিয়ে কুলি করেছেন ও নাকে দিয়েছেন। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনবার করেছেন। [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১১৯, তিরমিযী ২৮, (সহীহ সুনান আবী দাঊদ)।

৪১৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১৩


وَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أنَّ النَّبِيَّ ﷺ مَسَحَ بِرَأْسِه وَأُذُنَيْهِ بَاطِنِهُمَا بِالسَّبَّابَتَيْنِ وَظَاهِرَهِمَا بِإِبْهَامَيْهِ. رَوَاهُ النِّسَآئِىُّ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের মাথা ও দুই কান মাসাহ করেছেন। কানের ভিতরাংশ নিজের দুই শাহাদাত আঙ্গুল ও উপরিভাগ বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মাসাহ করেছেন। [১]

[১] সহীহ : নাসায়ী ১০২।

৪১৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১৪


وَعَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ ﷺ يَتَوَضَّأُ قَالَتْ مَسَحَ رَأْسَه مَا أَقْبَلَ مِنْهُ وَمَا أَدْبَرَ وَصُدْغَيْهِ وَأُذُنَيْهِ مَرَّةً وَاحِدَةً
وَفِيْ رِوَايَةٍ أَنَّه تَوَضَّأَ فَأَدْخَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي حُجْرى أُذُنَيْهِ
رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ الرِّوَايَةَ الْأّوْلى وَأَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَةَ الثَّانِيَةَ

রুবায়্যিই‘ বিনতু মু‘আব্বিয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উযূ করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা মাসাহ করলেন সামনের দিক ও পেছনের দিক (অর্থাৎ গোটা মাথা), দুই কানের পার্শ্ব ও দুই কান একবার করে।
অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করলেন এবং দুই আঙ্গুল দুই কানের ছিদ্রে ঢুকালেন। [১]
তিরমিযী প্রথম রিওয়ায়াতটি এবং আহমাদ ও ইবনু মাজাহ দ্বিতীয় রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করেছেন।

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ১২৯, ১৩১।

৪১৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১৫


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّه رَأَى النَّبِيَّ ﷺ تَوَضَّأَ وَأَنَّه مَسَحَ رَأْسَه بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ ورَوَاهُ مُسْلِمٌ مَعَ زَوَائِدَ

আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উযূ করতে দেখেছেন। আর এটাও দেখেছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা মাসাহ করলেন এমন পানি দিয়ে, যা তাঁর দুই হাতের পানির অবশিষ্টাংশ নয় (অর্থাৎ নতুন পানি দিয়ে মাসাহ করলেন)। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৩৬, তিরমিযী ৩৫।

৪১৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১৬


وَعَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ ذَكَرَ وُضُوْءَ رَسُوْل اللهِ ﷺ قَالَ وكَانَ يَمْسَحُ الْمَأْقَيْنِ وَقَالَ الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَةَ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَذَكَرَا قَالَ حَمَّاد لَّا أَدْرِىْ الْأُذُنَانِ مِنَ الرَّأْسِ مِنْ قَوْلِ أَبِيْ أُمَامَةَ أَمْ مِنْ قَوْلِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ

আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উযূর কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন, উযূর সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখের দুই কোণ মললেন এবং বললেন, কান দু’টি মাথারই অংশ। (ইবনু মাজাহ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী)
আবূ দাঊদ ও তিরমিযী [১] এ কথাও বর্ণনা করেছেন যে, এ হাদীসের অপর রাবী হাম্মাদ বলেছেন, আমি জানি না “কান দু’টি মাথারই অংশ” এ কথাটা কার, আবূ উমামার না রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর?

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৩৪, তিরমিযী ৩৭, ইবনু মাজাহ্ ৪৪৩, (য‘ঈফ সুনান আবী দাঊদ) ও সহীহুল জামি‘ ২৭৬৫। কারণ এর সানাদে সিনান ও শাহ্র নামক দু’জন দুর্বল রাবী রয়েছে।

৪১৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১৭


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّه قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ يَسْأَلُه عَنْ الْوُضُوءِ فَأَرَاهُ الْوُضُوءَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ هَكَذَا الْوُضُوْءُ فَمَنْ زَادَ عَلى هذَا فَقَدْ أَسَاءَ وَتَعَدّى وَظَلَمَ. رَوَاهُ النِّسَائِـيُّ وابن مَاجَةَ وَرَوَى أَبُوْ دَاوٗدَ مَعْنَاهُ

আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (দাদা) বলেন যে, এক বেদুঈন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁকে উযূ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায়, তিনি তাকে তিন তিনবার করে (উযূর প্রতিটি অঙ্গ ধুয়ে) দেখালেন। অতঃপর বললেন, এই হল ওযূ। যে ব্যক্তি এর চেয়ে বাড়িয়ে করল সে মন্দ করল, সীমালঙ্গল করল ও যুল্ম করল। [১]

[১] সহীহ : নাসায়ী ১৪০, ইবনু মাজাহ্ ৪২২, সহীহাহ্ ২৯৭০। তবে আবূ দাঊদ أَوْ نَقَصَ শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন যা মুনকার বা শায।

৪১৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১৮


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ أَنَّه سَمِعَ ابْنَهٗ يَقُولُ اللّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْقَصْرَ الْأَبْيَضَ عَنْ يَمِيْنِ الْجَنَّةِ قَالَ أَيْ بُنَيَّ سَلِ اللهَ الْجَنَّةَ وَتَعَوَّذْ بِه مِنَ النَّارِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ إِنَّه سَيَكُونُ فِي هذِهِ الْأُمَّةِ قَوْمٌ يَعْتَدُونَ فِي الطَّهُوْرِ وَالدُّعَاءِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ أَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ

আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তার ছেলেকে এ দু‘আ করতে শুনলেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাতের ডান দিকে সাদা বালাখানাটি চাই। এ কথা শুনে তিনি বললেন, হে আমার ছেলে! তুমি আল্লাহর কাছে শুধু জান্নাত চাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাও। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, শীঘ্রই এ উম্মাতের মধ্যে এমন লোকের উদ্ভব হবে যারা পবিত্রতা অর্জনে ও দু‘আর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করবে। [১]

[১] সহীহ : আহমাদ ১৬৩৫৪, আবূ দাঊদ ৯৬, ইবনু মাজাহ্ ৩৮৬৪, সহীহুল জামি‘ ২৩৯৬। তবে ইবনু মাজাহ্তে فِي الطَّهُوْرِ অংশটুকু নেই।

৪১৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪১৯


وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ لِلْوُضُوءِ شَيْطَانًا يُقَالُ لَهُ الْوَلَهَانُ فَاتَّقُوا وَسْوَاسَ الْمَاءِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَةَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُه بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ لِأَنَّا لَا نَعْلَمُ أَحَدًا أَسْنَدَه غَيْرَ خَارِجَةَ وَهُوَ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَصْحَابِنَا

উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন : (ওয়াস্ওয়াসা দেবার) জন্য উযূর ক্ষেত্রে একটি শয়তান রয়েছে। এ শয়তান হল ‘ওয়ালাহান’। তাই (উযূ করার সময়) পানির ওয়াস্ওয়াসা হতে সতর্ক থাকবে। [৪৪০]
ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব, সানাদ দুর্বল। রাবী খারিজাহ্ ইবনু মুসহাব মুহাদ্দিসগণের মতে সবল নয়। অথচ তিনি ছাড়া অপর কেউ এ হাদীসকে মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা করেননি।
[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৫৭, ইবনু মাজাহ্ ৪২১, য‘ঈফুল জামি‘ ১৯৭০। কারণ এর সানাদে খারিজাহ্ রয়েছে যাকে হাফিয ইবনু হাজার মাতরুক বলেছেন। আর ইবনু মা‘ঈন মিথ্যুক বলেছেন।

৪২০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২০


وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ إِذَا تَوَضَّأَ مَسَحَ وَجْهَه بِطَرَفِ ثَوْبِه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি উযূ করার পর নিজের কাপড়ের কিনারা দিয়ে নিজের মুখমন্ডল মুছে ফেলতেন। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৫৪, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৪১৭০। কারণ এর সানাদে রিশদীন ইবনু সা‘দ ও ‘আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনু আন্‘আম রয়েছে যারা হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।

৪২১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২১


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ خِرْقَةٌ يُنَشِّفُ بِهَا بَعْدَ الْوُضُوءِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هذَا حَدِيْثٌ لَيْسَ بِالْقَائِمِ وَأَبُوْ مَعَاذ الرَّاوِي ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৃথক একখন্ড কাপড় ছিল। এ কাপড় দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উযূ করার পর তাঁর উযূর অঙ্গগুলো মুছে নিতেন। [১]
ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি তেমন সবল নয়। এর একজন বর্ণনাকারী আবূ ম‘আয মুহাদ্দিসীনের কাছে দুর্বল।

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৫৩। কারণ এর সানাদে সাবিত ইবনু আবূ সফিয়্যাহ্ রয়েছে যে দুর্বল।

পরিচ্ছদঃ ৪.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৪২২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২২


وَعَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي جَعْفَرٍ هُوَ مُحَمَّدُ الْبَاقِرُ حَدَّثَكَ جَابِرٌ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَثَلَاثًا ثَلَاثًا قَالَ نَعَمْ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وابن مَاجَةَ

তাবি‘ঈ সাবিত ইবনু আবূ সফিয়্যাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি জা‘ফার-এর পিতা মুহাম্মাদ বাক্বির (ইবনু যায়নুল আবিদীন)-কে বললাম, আপনার কাছে কি জাবির (রাঃ) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো একবার, কখনো দুই দুইবার, আবার কখনো তিনবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধৌত করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। [১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৪৫, ইবনু মাজাহ ৪১০। কারণ এর সানাদে আবূ মু‘আয (রাঃ)নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে।

৪২৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২৩


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَقَالَ هُوَ نُوْرٌ عَلى نُوْرٍ

‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই দুইবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধুলেন। অতঃপর বললেন, এটা হল আলোর উপর আলো। [১]

[১] ভিত্তিহীন : তারগীব ১/৯৯। মুনযিরী তারগীবে বলেছেন, হয়তো এটি কোন সালাফের উক্তি হবে।

৪২৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২৪


وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ هذَا وُضُوْئِيْ وَوُضُوْءِ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِيْ وَوُضُوْءِ إبْرَاهِيْمَ. رَوَاهُمَا رَزِيْن وَّالنَّوَوِىُّ ضَعَّفَ الثَّانِيْ فِىْ شَرحِ مُسْلِمٍ

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন তিনবার করে উযূর অঙ্গগুলো ধুয়েছেন। এরপর তিনি বলেছেন, এটা হল আমার ও আমার আগের নাবীগণের উযূ এবং ইবরাহীম (আঃ) এর ওযূ। [১]
এ হাদীস দু’টি ইমাম রযীন বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাবাবী শারহে মুসলিমে দ্বিতীয় হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।

[১] ইবনু হিব্বান হাদীসটি ‘‘আল মাজরূহীন’’-এর ২/১৬১-৬২-তে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন আর وَوُضُوْءِ إبْرَاهِيْمَ অংশটুকু ব্যতীত বাকী হাদীস আলবানী (রহঃ) সহীহ বলেছেন, (সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২৬১)।

৪২৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২৫


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَكَانَ أَحَدُنَا يَكْفِيهِ الْوُضُوءُ مَا لَمْ يُحْدِثْ. رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক ফারয সলাতের জন্য উযূ করতেন। আর আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির জন্য যে পর্যন্ত উযূ নষ্ট বা ভঙ্গ না হয় সে পর্যন্ত এক ওযূই যথেষ্ট ছিল। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৪১, দারিমী ৭২০, সহীহ সুনানে আবী দাঊদ ১৬৩।

৪২৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২৬


وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ قَالَ قُلْتُ لِعُبِيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الله بْنِ عُمَرَ أَرَأَيْتَ وُضُوءَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ لِكُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا كَانَ أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ عَمَّن اَخَذَه قَالَ حَدَّثَتْهُ أَسْمَاءُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي عَامِرِ ابْنِ الْغَّسِيلِ حَدَّثَهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ أُمِرَ بِالْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلَاةٍ طَاهِرًا كَانَ أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ فَلَمَّا شَقَّ ذلِكَ عَلى رَسُولِ اللهِ ﷺ أُمِرَ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَوُضِعَ عَنْهُ الْوُضُوءُ اِلَّا مِنْ حَدَثٍ قَالَ فَكَانَ عَبْدُ اللهِ يَرى أَنَّ بِه قُوَّةً عَلى ذلِكَ كَانَ فَفَعَلُه حَتّى مَاتَ. رَوَاهُ أحْمَد

মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু হিব্বান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার-এর ছেলে ‘উবায়দুল্লাহকে বললাম, আমাকে বলুন তো, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি প্রত্যেক সলাতের জন্য উযূ করতেন, চাই উযূ থাকুক কি না থাকুক, আর তিনি কার থেকে এ ‘আমাল অর্জন করেছেন? ‘উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট আসমা বিনতু যায়দ ইবনুল খাত্ত্বাব এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানযালাহ্ আবূ ‘আমির ইবনুল গসীল (রাঃ) এ হাদীস তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রত্যেক সলাতে উযূ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, চাই তাঁর উযূ থাকুক কি না থাকুক। এ কাজ তাঁর উপর কঠিন হয়ে পড়লে প্রত্যেক সলাতে মিসওয়াক করতে নির্দেশ দেয়া হল, উযূ মাওকূফ করা হল, যতক্ষণ পর্যন্ত না উযূ ভঙ্গ হয়। ‘উবায়দুল্লাহ বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার মনে করতেন যে, তার মধ্যে প্রত্যেক সলাতে উযূ করার শক্তি রয়েছে। তাই তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এ ‘আমাল করেছেন। [১]

[১] হাসান : আহমাদ ২১৪৫৩, আবূ দাঊদ ৪৮।

৪২৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২৭


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ مَرَّ بِسَعْدٍ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَقَالَ مَا هذَا السَّرَفُ يَا سَعْدُ قَالَ أَفِي الْوُضُوءِ سَرَفٌ؟ قَالَ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلى نَهْرٍ جَارٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وابن مَاجَةَ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস-এর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় সা’দ (রাঃ) উযূ করছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে সা’দ! এত অপচয় কেন? সা’দ আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! উযূর মধ্যেও কি অপচয় আছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ আছে। যদিও তুমি প্রবহমান নদীর কিনারায় থাক। [১]

[১] হাসান : আহমাদ ২/২২১, ইবনু মাজাহ্ ৪২৫, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৩২৯৩।

৪২৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২৮


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ وَّابْنِ مَسْعُوْدٍ وَّابْنِ عُمَرَ عَنِِ النَّبِيّ ﷺ مَنْ تَوَضَّاَ وَذَكَرَ اسْمَ اللهِ فَاِنَّه يُطَهِّرُ جَسَدَه كُلَّه وَمَنْ تَوَضَّاَ وَلَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللهِ لَمْ يُطَهِّرْ اِلَّامَوْضِعَ الْوُضُوْءِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ), ইবনু মাস্‘ঊদ ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি উযূ করল এবং ‘বিস্‌মিল্লা-হ’ (আল্লাহর নাম নিয়ে) পড়ে উযূ করল, সে তাঁর গোটা শরীরকে (গুনাহ হতে) পবিত্র করল। আর যে ব্যক্তি উযূ করল অথচ ‘বিস্‌মিল্লা-হ’ বলল না, সে শুধু উযূর অঙ্গগুলোকে পবিত্র (পরিষ্কার) করল। [১]

[১] য‘ঈফ : দারাকুত্বনী ১/৭৩-৭৪। আলবানী (রহঃ) বলেন, এটি মূলত তিনটি হাদীসের সমষ্টি ১ম টি উল্লেখিত শব্দে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে যার সানাদে মিরদাস ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বুরদাহ্ রয়েছে ইমাম যাহাবী যাকে অপরিচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর উযূতে ‘‘বিস্‌মিল্লা-হ’’ বলার ব্যাপারে তার হাদীস মুনকার।

২য়টি- ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) হতে إِذَا تَطَهَّرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَزْكُرِ السْمَ اللهِ শব্দে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত, যার সানাদে ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাশিম নামে একজন মিথ্যুক বারী রয়েছে।

৩য়টি- ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে مَنْ تَوَضَّأَ فَزَكَرَ السْمَ اللهِ عَلى وُضُوْئِه... শব্দে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত, যার সানাদে আবূ বাকর ‘আবদুল্লাহ ইবনু হাকীম আদ্ দাহিরী নামে একজন মিথ্যুক রাবী রয়েছে।

৪২৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪২৯


وَعَنْ أَبِيْ رَافِعٍ قَالَ كَانَ رَسُوْل اللهِ ﷺ إِذَا تَوَضَّأَ وُضُوْءَ الصَلَاةِ حَرَّكَ خَاتَمَه فِيْ إِصْبَعِه. رَوَاهُمَا الدَّارَقُطْنِيْ وَرَوَى ابْنُ مَاجَةَ الأَخِيْرَةَ

আবূ রাফি‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের উযূ করার সময় নিজের আঙ্গুলে পরা আংটি নেড়ে-চেড়ে নিতেন। [১]
দারাকুত্বনী উপরের দু’টি হাদীসই বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু মাজাহ শুধু দ্বিতীয় হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ৪৪৯, য‘ঈফুল জামি‘ ৪৩৬১। কারণ এর সানাদের রাবী মা‘মার এবং তার পিতা উভয়ই দুর্বল।

পরিচ্ছদঃ ৫.

প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৩০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩০


عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যখন তোমাদের কেউ স্ত্রীলোকের চার শাখার (দুই হাত দুই পা) মাঝখানে বসে সঙ্গমে রত হয় তখন তার উপর গোসল করা ফার্‌য হয়ে যায়, যদিও বীর্যপাত না হয়। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৪৮, বুখারী ৩৪৮।

৪৩১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩১


وَعَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ- قَالَ الشَّيْخُ الإِمَامُ مُحْيِيُ السُّنَّةِ رَحِمَهُ اللهُ هذَا مَنْسُوْخٌ

আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : পানিতেই পানির প্রয়োজন, অর্থাৎ বীর্যপাত ছাড়া গোসল ফার্‌য নয়। [১]
ইমাম মুহ্‌য়িয়ুস্‌ সুন্নাহ্‌ বলেন, এ হুকুম রহিত হয়ে গেছে।

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৪৩।

৪৩২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩২


وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ فِى الْإِحْتِلَامِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَلَمْ أَجِدْهُ فِي الصَّحِيْحَيْنِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

“পানি পানি হতে” এ হুকুম হল স্বপ্নদোষের জন্য। [১] আমি এ হাদীস বুখারী ও মুসলিমে পাইনি।

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১১২। তবে ِفى الْإِحْتِلَامِ অংশটুকু ব্যতীত বাকীটুকু সহীহ সূত্রে প্রমাণিত।

৪৩৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩৩


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ اللهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا احْتَلَمَتْ قَالَ نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ فَغَطَّتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَجْهَهَا وَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ أَوَتَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ؟ قَالَ نَعَمْ تَرِبَتْ يَمِينُكِ فَبِمَا يُشْبِهُهَا وَلَدُهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন (আনাস-এর মা) উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা‘আলা হাক্ব কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। স্ত্রীলোকের স্বপ্নপদোষের কারণে তার উপর কি গোসল ফার্‌য হয়? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন : হাঁ, যদি (ঘুম থেকে জেগে উঠে) বীর্য দেখে। এ উত্তর শুনে উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ) (লজ্জায়) স্বীয় মুখ ঢেকে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! স্ত্রীলোকেরও আবার স্বপ্নদোষ হয় (পুরুষের ন্যায় বীর্যপাত হয়)। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ। কি আশ্চর্য! (তা না হলে) তার সন্তান তার সদৃশ হয় কিভাবে? [১]

[১] সহীহ : বুখারী ১৩০, মুসলিম ৩১৩।

৪৩৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩৪


وَزَادَ مُسْلِمٌ بِرِوَايَةِ أُمُّ سُلَيْمٍ إِنَّ مَاءَ الرَّجُلِ غَلِيظٌ أَبْيَضُ وَمَاءَ الْمَرْأَةِ رَقِيقٌ أَصْفَرُ فَمِنْ أَيِّهِمَا عَلَا أَوْ سَبَقَ يَكُونُ مِنْهُ الشَّبَه

ইমাম মুসলিম (রহঃ) উম্মু সুলায়ম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কিন্তু ইমাম মুসলিম উম্মু সুলায়ম-এর বর্ণনায় এ কথাগুলো বেশী বলেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথাও বলেছেন যে, সাধারণত পুরুষের বীর্য গাঢ় ও সাদা। স্ত্রীলোকের বীর্য পাতলা ও হলদে। উভয়ের বীর্যের মধ্যে যেটিই জয়ী হয়, অর্থাৎ- যে বীর্য আগে গর্ভাশয়ে প্রবেশ করে সন্তান তার সাদৃশ্য হয়।।[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩১১।

৪৩৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩৫


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْل اللهِ ﷺ إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُدْخِلُ أَصَابِعَه فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِهَا أُصُولَ شَعَرِه ثُمَّ يَصُبُّ عَلى رَأْسِه ثَلَاثَ غَرَفاتٍ بِيَدَيْهِ ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلى جِلْدِه كُلِّه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ - وَفِيْ رَوَايَةٍ لَمُسْلَمٍِ يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَّدْخُلَهُمَا الْإِنَاءَ ثُمَّ يُفْرِغُ بِيَمِينِه عَلى شِمَالِه فَيَغْسِلُ فَرْجَه ثُمَّ يَتَوَضَّأُ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্রতার জন্য ফার্‌য গোসল করার সময় প্রথমে (কব্জি পর্যন্ত) দুই হাত ধুতেন। এরপর সলাতের উযূর মত উযূ করতেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো পানিতে ডুবিয়ে তা দিয়ে মাথার চুলের গোড়া খিলাল করতেন। অতঃপর মাথার উপর তিন অঞ্জলি পানি ঢালতেন, তারপর শরীরের সর্বাঙ্গ পানি দিয়ে ভিজাতেন। [১]
কিন্তু ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাত্রে হাত ডুবিয়ে দেয়ার আগে কব্জি পর্যন্ত হাত ধুতেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের তালুতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধুতেন, অতঃপর উযূ করতেন।

[১] সহীহ : বুখারী ২৪৮, মুসলিম ৩১৬।

৪৩৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩৬


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ ﷺ غُسْلًا فَسَتَرْتُه بِثَوْبٍ وَصَبَّ عَلى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ صَبَّ بِيَمِينِه عَلى شِمَالِه فَغَسَلَ فَرْجَه فَضَرَبَ بِيَدِهِ الْأَرْضَ فَمَسَحَ ثُمَّ غَسَلَهَا فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَه وَذِرَاعَيْهِ ثُمَّ صَبَّ عَلى رَأْسِه وَأَفَاضَ عَلى جَسَدِه ثُمَّ تَنَحّى فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ فَنَاوَلْتُه ثَوْبًا فَلَمْ يَأْخُذْهُ فَانْطَلَقَ وَهُوَ يَنْفُضُ يَدَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَلَفْظُهُ لِلْبُخَارِىِّ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (আমার খালা উম্মুল মু’মিনীন) মায়মূনাহ্‌ (রাঃ) বলেছেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গোসলের জন্য পানি রাখলাম এবং কাপড় দিয়ে পর্দা করে দিলাম। প্রথমে তিনি দুই হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং কব্জি পর্যন্ত হাত ধুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে কিছু পানি নিয়ে তা দিয়ে লজ্জাস্থান ধুলেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষে তা মুছে নিলেন। তারপর নিয়ম মত হাত ধুলেন। এরপর মাথার উপর পানি ঢাললেন। সমস্ত শরীর পানি দিয়ে ভিজালেন। তারপর নিজ স্থান হতে একটু সরে গিয়ে পা ধুলেন। আমি (শরীরের পানি মুছে ফেলার জন্য) তাঁকে কাপড় দিলাম। কিন্তু তিনি তা নিলেন না, দুই হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৭৬, মুসলিম ৩১৭; শব্দবিন্যাস বুখারীর।

৪৩৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩৭


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَنَّ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِِ سَأَلَتِ النَّبِيَّ ﷺ عَنْ غُسْلِهَا مِنْ الْمَحِيضِ فَأَمَرَهَا كَيْفَ تَغْتَسِلُ قَالَ خُذِي فِرْصَةً مِنْ مِسْكٍ فَتَطَهَّرِي بِهَا قَالَتْ كَيْفَ أَتَطَهَّرُ؟ فَقَالَ تَطَهَّرِي بِهَا قَالَتْ كَيْفَ اَتَطَهَّرُ بِهَا؟ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ تَطَهَّرِي بِهَا فَاجْتَذَبْتُهَا إِلَيَّ فَقُلْتُ لَهَاتَتَبَّعِي بِهَا أَثَرَ الدَّمِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক আনসার মহিলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট এসে হায়যের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। কীভাবে গোসল করতে হবে তিনি তাকে সে ব্যাপারে জানিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, মিস্কের সুগন্ধিযুক্ত একখন্ড কাপড় নিয়ে তা দিয়ে ভালভাবে পাক-পবিত্রতা অর্জন করবে। মহিলাটি বলল, আমি কীভাবে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে আবার বলল, আমি তা দ্বারা কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সুব্হানাল্লাহ (এটাও বুঝলে না)! তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করবে।‘আয়িশাহ্ (রা:) বললেন, তখন আমি তাকে আমার দিকে টেনে আনলাম এবং (চুপিসারে) বললাম, রক্তক্ষরণের পর তা দ্বারা (গুপ্তাঙ্গের ভিতরের অংশ) মুছে নিবে (এতে দুর্গন্ধ দূর হবে)। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩১৪, মুসলিম ৩৩২।

৪৩৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩৮


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ إِنِّي امْرَأَةٌ أَشُدُّ ضَفْرَ رَأْسِي افَأَنْقُضُه لِغُسْلِ الْجَنَابَةِ؟ فَقَالَ لَا إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْثِيَ عَلى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ ثُمَّ تُفِيْضِيْنَ عَلَيْكِ الْمَاءَ فَتَطْهُرِينَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল!, আমি এমন এক মহিলা যে, আমার মাথার চুলের বেণী বেশ শক্ত করে বাঁধি। পবিত্রতা অর্জনের জন্য ফারয্ গোসলের সময় আমি কি তা খুলে ফেলব? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না খুলবে না। তুমি তোমার মাথার উপর তিন অঞ্জলি পানি ঢেলে দিবে। এটাই তোমার জন্য যথেষ্টঃ তারপর তুমি তোমার সর্বাঙ্গে পানি ঢেলে নিবে ও পবিত্রতা অর্জন করবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৩৩০।

৪৩৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৩৯


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ إِلى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মুদ্দ পানি নিয়ে উযু করতেন এবং এক সা’ থেকে পাঁচ মুদ্দ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২০১, মুসলিম ৩২৫।

৪৪০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৪০


وَعَنْ مُعَاذَةَ قَالَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ بَيْنِي وَبَيْنَه فَيُبَادِرُنِي حَتّى أَقُولَ دَعْ لِي دَعْ لِي قَالَتْ وَهُمَا جُنُبَانِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

মহিলা তাবি’ঈ মু’আযাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রা:) বলেছেন, আমি ও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ও তাঁর মাঝখানে রাখা একটি পাত্র হতে পানি নিয়ে একসাথে (পবিত্রতার) গোসল করতাম। তিনি খুব তারাতারি করে আমার আগে পানি উঠিয়ে নিতেন। আর আমি তখন বলতে থাকতাম, আমার জন্য কিছু রাখুন, আমার জন্য কিছু রাখুন। মু’আযাহ্ (রহঃ) বলেন, তখন তারা উভয়ে নাপাক অবস্থায় থাকতেন। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৬১, মুসলিম ৩২১; শব্দবিন্যাস মুসলিমের।

পরিচ্ছদঃ ৫.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৪৪১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৪১


عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنِ الرَّجُلِ يَجِدُ الْبَلَلَ وَلَا يَذْكُرُ احْتِلَامًا قَالَ يَغْتَسِلُ وَعَنِ الرَّجُلِ الَّذِىْ يَرى أَنَّه قَدِ احْتَلَمَ وَلَا يَجِدُ بَلَلًا قَالَ لَا غُسْلَ عَلَيْهِ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ تَرى ذلِكَ غُسْلٌ؟ قَالَ نَعَمْ إِنَّ النِّسَاءَ شَقَائِقُ الرِّجَالِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ وَرَوَى الدَّارِمِيُّ وَابْنُ مَاجَةَ اِلى قَوْلِه لَا غُسْلَ عَلَيْهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন পুরুষ লোক (ঘুম থেকে জেগে শুক্রের) আদ্রতা পেল, অথচ স্বপ্নদোষের কথা তার মনে পড়ছে না। তখন সে কী করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে (ফারয) গোসল করবে। অপরদিকে কোন পুরুষের স্মরণ আছে তার স্বপ্নদোষ হয়েছে অথচ (কাপড়ে শুক্রের) কোন আদ্রতা সে খুঁজে পাচ্ছে না, (তখন সে কী করবে?) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবাবে বললেন, তাকে (ফারয) গোসল করতে হবে না। উম্মু সুলায়ম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, কোন স্ত্রীলোক যদি এরূপ দেখে তার উপরও কি গোসল ফারয হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, স্ত্রীলোকরাও পুরুষের মতো। [১]
দারিমী ও ইবনু মাজাহ “তাকে গোসল করতে হবে না” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৩৬, তিরমিযী ১১৩, দারিমী ৭৬৫, ইবনু মাজাহ ৬১২। তবে ইবনু মাজাহর لَا غُسْلَ عَلَيْهِ অতিরিক্ত অংশটুকু দুর্বল। কারণ এ অংশটুকুর রাবী ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আল ‘উমরী আল মুক্কাব্বার সৃষ্টিশক্তিজনিত কারণে দুর্বল।

৪৪২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৪২


وَعَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْل اللهِ ﷺ إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ فَعَلْتُه أَنَا وَرَسُولُ اللهِ ﷺ فَاغْتَسَلْنَا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وابن مَاجَةَ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুরুষের খাতনার জায়গা মহিলার খাতনার জায়গা অতিক্রম করলেই গোসল করা ফারয হয়ে যাবে। তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বলেন, আমি ও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করেছি, তারপর দু’জনেই গোসল করেছি। [৪৬৩] [১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ১০৮, ইবনু মাজাহ্ ৬০৮।

৪৪৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-৩ঃ পাক-পবিত্রতা

হাদীস নং : ৪৪৩


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ تَحْتَ كُلِّ شَعَرَةٍ جَنَابَةٌ فَاغْسِلُوا الشَّعَرَ وَأَنْقُوا الْبَشَرَةَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَةَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَالْحَارِثُ بْنُ وَجِيهٍ الرَّاوِي وَهُوَ شَيْخٌ لَيْسَ بِذَاكَ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শরীরের প্রত্যেক পশমীর গোড়ায় নাপাকী থাকে। সুতরাং শরীরের পশমগুলোকে ভালভাবে ধুবে এবং চামড়াকে উত্তমভাবে পরিষ্কার করবে। [৪৬৪]
ইমাম তিরমিযী বলেছেন এ হাদীসটি গরীব। এর রাবী হারিস ইবনু ওয়াজীহ তেমন গ্রহনযোগ্য নন।
[১]

[১] য‘ঈফ: আবূ দাঊদ ২৪৮, তিরমিযী ১০৬, ইবনু মাজাহ্ ৫৯৭, য‘ঈফুল জামি‘ ১৮৪৭। কারণ এর সানাদে হারিস ইবনু ওয়াজীহ নামে একজন দুর্বল রাবী রয়েছে।