All books

মিশকাতুল মাসাবিহ (০ টি হাদীস)

১০ পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ ২২৮৭-২৫০৪

পরিচ্ছদঃ

প্রথম অনুচ্ছেদ

২২৮৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৮৭


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ لِلّٰهِ تَعَالٰى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ». وَفِىْ رِوَايَةٍ: «وَهُوَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নিরানব্বই- এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বিজোড়, (তাই) বিজোড়কে ভালবাসেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৭৩৬, ৭৩৯২, মুসলিম ২৬৭৭, তিরমিযী ৩৫০৬, ইবনু মাজাহ ৩৮৬০, আহমাদ ৭৬২৩, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ২৯২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৮১৬, ইবনু হিববান ৮১৭, সহীহ আল জামি‘ ২১৬৬।

পরিচ্ছদঃ

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২২৮৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৮৮


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ لِلّٰهِ تَعَالٰى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيمُ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ الْغَفَّارُ الْقَهَّارُ الْوَهَّابُ الرَّزَّاقُ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الْخَافِضُ الرَّافِعُ الْمُعِزُّ الْمُذِلُّ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ الْحَكَمُ الْعَدْلُ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ الْحَلِيمُ الْعَظِيمُ الْغَفُورُ الشَّكورُ العَلِىُّ الكَبِيرُ الحَفِيظُ المُقِيتُ الْحَسِيبُ الْجَلِيلُ الْكَرِيمُ الرَّقِيبُ الْمُجِيبُ الْوَاسِعُ الْحَكِيمُ الْوَدُودُ الْمَجِيدُ الْبَاعِثُ الشَّهِيدُ الْحَقُّ الْوَكِيلُ الْقَوِىُّ الْمَتِينُ الْوَلِىُّ الْحَمِيدُ الْمُحْصِى الْمُبْدِئُ الْمُعِيدُ الْمُحْيِىُ المُمِيتُ الحَىُّ القَيُّومُ الوَاجِدُ المَاجِدُ الْوَاحِدُ الأحَدُ الصَّمَدُ الْقَادِرُ الْمُقْتَدِرُ الْمُقَدِّمُ الْمُؤَخِّرُ الْأَوَّلُ الْاٰخِرُ الظَّاهِرُ الْبَاطِنُ الْوَالِى الْمُتَعَالِى الْبَرُّ التَّوَّابُ الْمُنْتَقِمُ العَفُوُّ الرَّؤوْفُ مَالِكُ الْمُلْكِ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ الْمُقْسِطُ الْجَامِعُ الْغَنِىُّ الْمُغْنِى الْمَانِعُ الضَّارُّ النَّافِعُ النُّورُ الْهَادِى الْبَدِيعُ الْبَاقِى الْوَارِثُ الرَّشِيْدُ الصَّبُورُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ والبيهقىُّ فِى الدَّعْوَاتِ الْكَبِيْرِ. وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে নামগুলোর মধ্যে একটি নাম আল্ল-হ- যিনি ছাড়া আর কোন মা‘বূদ নেই। আর্ রহমান- দয়াময় বা মেহেরবান। যার দয়া বা মেহেরবানী সাড়া বিশ্বকে ছেয়ে আছে। আর্ রহীম- করুণা বা বিশেষ দয়ার অধিকারী, যে করুণা শুধু মু’মিনদের প্রতি করা হয়। আল মালিক- রাজাধিরাজ, বাদশাহ। আল কুদ্দূস- অতি পাক-পবিত্র, ধ্বংস বা কোন অপশক্তি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। আস্ সালা-ম- শান্তিময় ও নিরাপদ, কোনরূপ অশান্তি তাঁকে ছুঁতে পারে না। আল মু’মিন- নিরাপত্তাদাতা বা নিরাপদকারী। আল মুহায়মিনু- রক্ষণাবেক্ষণকারী। আল ‘আযীয- প্রভাবশালী, অন্যের ওপর বিজয়ী। আল জাব্বা-র- কঠিন-কঠোর, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংশোধনকারী। আল মুতাকাব্বিরু- অহংকারের অধিকারী, যাঁর জন্য অহংকার করাই শোভা পায়।

আল খ-লিক্ব- স্রষ্টা। আল বা-রী- ত্রুটিহীন সৃষ্টিকারী। আল মুসাব্বির- প্রকল্পক ও নকশা অংকনকারী, ডিজাইনার। আল গাফফা-র- বড় ক্ষমাশীল, যিনি অপরাধ ঢেকে রাখেন এবং অসংখ্য অপরাধ ক্ষমা করতে দ্বিধাবোধ করেন না। আল কহহা-র- সকল বস্ত্ত যাঁর ক্ষমতার অধীন, অর্থাৎ- ক্ষমতা প্রয়োগে যাঁর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। আল ওয়াহহা-ব- বড় দাতা, যাঁর দান অসীম। আর্ রাযযা-ক- রিযকদাতা। আল ফাত্‌তা-হ- যিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সৃষ্টির মীমাংসাকারী, বিপদমুক্তকারী। আল ‘আলীম- বড় জ্ঞাতা, যিনি পূর্বাপর সবকিছু জানেন। আল, ক্ব-বিয- রিযক ইত্যাদির সংকোচনকারী। আল বা-সিত্ব- রিযকসহ ইত্যাদির সম্প্রসারণকারী। আল খ-ফিয- যিনি নীচে নামান। আর্ র-ফি‘উ- যিনি উপরে উঠান। আল মু‘ইযযু- সম্মান ও পূর্ণতা দানকারী। আল মুযিল্লু- অপমান ও অপূর্ণতা দানকারী। আস্ সামী‘উ- সর্বশ্রোতা, উচ্চস্বর-নিম্বস্বর সকল স্বরের শ্রোতা। আল বাসীর- দর্শক, ছোট-বড় সকল বস্ত্তর।

আল হাকাম- নির্দেশ দানকারী, বিধানকর্তা। আল ‘আদলু- ন্যায়বিচারক, যিনি যা উচিত তা-ই করেন। আল লাত্বীফ- যিনি সৃষ্টির যখন যা আবশ্যক তা করে দেন; অনুগ্রহকারী, সূক্ষ্মদর্শী বা যিনি অতি সূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কেও অবগত। আল খবীর- যিনি গুপ্ত রহস্যাদি সম্পর্কে অবগত। আল হালীম- ধৈর্যশীল, যিনি অপরাধ জেনেও সহজে শাস্তি দেন না। আল ‘আযীম- বিরাট মহাসম্মানী। আল গাফূর- যিনি অপরাধ গোপন রাখেন এবং অতি জঘন্য অপরাধও ক্ষমা করেন। আশ্ শাকূর- কৃতজ্ঞ, যিনি অল্পে বেশী পুরস্কার দেন। আল ‘আলীয়্যু- সর্বোচ্চ সমাসীন; সর্বোপরি। আল কাবীর- বিরাট, মহান, ধারণার ঊর্ধে বড়। আল হাফীয- বড় রক্ষাকারী, যিনি বান্দাদের সব বিষয় লক্ষ্য রাখেন। আল মুক্বীতু- খাদ্যদাতা; দৈহিক ও আত্মিক শক্তিদাতা। আল হাসীবু- যিনি অন্যের জন্য যথেষ্ট হন; যিনি যার জন্য যা যথেষ্ট তা দান করেন।

আল জালীলু- গৌরবান্বিত, মহিমান্বিত; যাঁর মহিমা অতুলনীয়। আল কারীমু- বড় দাতা, আশার অধিক দাতা; যিনি বিনা চাওয়ায় দান করেন। আর্ রক্বীবু- যিনি সকলের সকল বিষয় লক্ষ্য রাখেন এবং সর্বদা নখদর্পণে থাকেন। আল মুজীবু- উত্তরদাতা, যিনি ডাকে সাড়া দেন। আল ওয়া-সি‘উ- সম্প্রসারণকারী; যাঁর দান, জ্ঞান, দয়া ও রাজ্য বিপুল ও সম্প্রসারিত। আল হাকীমু- প্রজ্ঞাবান তত্ত্বজ্ঞানী, যিনি প্রতিটি বিষয় উত্তমরূপে ও নিখুঁতভাবে সমাধা করেন। আল ওয়াদূদু- যিনি বান্দার কল্যাণকে পছন্দ করেন। আল মাজীদু- অসীম অনুগ্রহকারী। আল বা-‘ইসু- প্রেরক, রসূল প্রেরণকারী, রিযক প্রেরণকারী, কবর থেকে হাশরে প্রেরণকারী। আশ্ শাহীদু- বান্দার প্রতিটি কাজের সাক্ষী, যিনি প্রকাশ্য বিষয় অবগত, আল হাক্কু- সত্য ও সত্য প্রকাশকারী, যিনি প্রজ্ঞা অনুসারে কাজ করেন। আল ওয়াকীলু- কার্যকারক, যিনি বান্দাদের কাজের যোগানদাতা। আল কবিয়্যু- শক্তিবান, শক্তির অধিকারী। আল মাতীনু- বড় ক্ষমতাবান, যার ওপর কারো কোন প্রকার ক্ষমতা নেই। আল ওয়ালিয়্যু- যিনি মু’মিনদের অভিভাবক, ভালবাসেন ও সাহায্য করেন।

আল হামীদু- প্রশংসিত, একমাত্র প্রশংসার যোগ্য। আল মুহসী- হিসাবরক্ষক, বান্দারা যা করে তিনি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখেন। আল মুব্‌দিউ- বিনা নমুনায় স্রষ্টা, যিনি মডেল না দেখে সৃষ্টি করেন। আল মু‘ঈদু- মৃত্যুর পর পুনঃসৃষ্টিকারী। যার পুনঃ সৃষ্টি, যিনি বিনা মডেলে সৃষ্টি করেন। আল মুহীউ- পুনরায় জীবিতকারী, আল মুমীতু- পুনরায় মৃত্যু দানকারী, যার পুনরায় সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে। আল হাইয়্যু- চিরঞ্জীব, আল কইয়্যূমু- স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত, চিরস্থায়ী। আল ওয়া-জিদু- যিনি যাই চান তাই পান। আল মা-জীদু- বড় দাতা। আল ওয়া-হিদুল আহাদু- একক ও অদ্বিতীয়, যাঁর কোন শারীক নেই। আস্ সামাদু- প্রধান, প্রভু; যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন কিন্তু সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। আল ক-দিরু- ক্ষমতাবান, যিনি ক্ষমতা প্রয়োগে কারো মুখাপেক্ষী নন। আল মুকতাদিরু- সকলের ওপর যাঁর ক্ষমতা রয়েছে, সার্বভৌম, যাঁর বিধান চরম। আল মুকদ্দিমু- যিনি যাকে চান নিকটে করেন এবং আগে বাড়ান। আল মুআখখিরু- যিনি যাকে চান দূরে রাখেন বা পিছনে করেন। আল আও্ওয়ালু- প্রথম, অনাদি। আল আ-খিরু- সর্বশেষ, অনন্ত। আয্ যা-হিরু- যিনি ব্যক্ত, প্রকট গুণে ও নিদর্শনে। আল বা-ত্বিনু- যিনি গুপ্ত সত্তাতে। আল ওয়া-লিয়্যু- অভিভাবক, মুরুব্বী।

আল মুতা‘আ-লিয়্যু- সর্বোপরি। আল বাররু- মুহসিন, অনুগ্রহকারী। আত্ তাও্ওয়া-বু- তাওবাহ্ কবূলকারী, যিনি অপরাধে অনুশোচনাকারীর প্রতি পুনঃঅনুগ্রহ করেন। আল মুনতাকিমু- প্রতিশোধ গ্রহণকারী। আল আফুব্বু- বড়ই ক্ষমাশীল। আর্ রঊফু- বড়ই দয়ালু। মালিকুল মুল্‌ক- রাজাধিরাজ, যাঁর রাজ্যে তিনি যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। যুল্ জালা-লি ওয়াল ইকর-ম- মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। আল মুকসিত্বু- অত্যাচার দমনকারী, উৎপীড়ক থেকে উৎপীড়িতের প্রতিশোধ গ্রহণকারী। আল জা-মি‘উ- কিয়ামাতে বান্দাদের একত্রকারী অথবা সর্বগুণের অধিকারী।

আল গনিয়্যু- বেনিয়াজ, যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। আল মুগনিয়্যু- যিনি কাউকেও কারো মুখাপেক্ষী হতে বাঁচিয়ে রাখেন। আল মা-নি‘উ- বিপদে বাধাদানকারী। আয্ যাররু- যিনি ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেন। আন্ না-ফি‘উ- উপকারী, যিনি উপকারের ক্ষমতা রাখেন। আন্ নূরু- আলোকোজ্জ্বল, প্রভা, প্রভাকর। আল হা-দিয়ু- পথপ্রদর্শক (যারা তাঁর অনুসরণ করে তাদের)। আল বাদী‘উ- অদ্বিতীয়, অনুপম অথবা যিনি বিনা আদর্শে গড়েন। আল বা-ক্বী- যিনি সর্বদা আছেন, সৃষ্টি ধ্বংসের পরেও যিনি থাকবেন। আল ওয়া-রিসু- উত্তরাধিকারী, সকল শেষ হবে আর তিনি সকলের উত্তরাধিকারী হবেন। আর্ রশীদু- কারো পরামর্শ বা জিজ্ঞাসু ছাড়া যাঁর কাজ উত্তম ও ভাল হয়। আস্ সাবূরু- বড়ই ধৈর্যশীল। (তিরমিযী, বায়হাক্বী-দা‘ওয়াতুল কাবীর; তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩৫০৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৪১, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ২৯৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৮১৭, শু‘আবূল ঈমান ১০১, সহীহ ইবনু হিববান ৮০৮, য‘ঈফাহ্ ২৫২৩, য‘ঈফ আল জামি‘ ১৯৪৫। কারণ এর সানাদে আল ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম একজন মুদাল্লিস রাবী।

২২৮৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৮৯


وَعَن بُرَيْدَةَ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: اللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِىْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَه كُفُوًا أَحَدٌ فَقَالَ: «دَعَا اللّٰهَ بِاسْمِهِ الْأَعْظَمِ الَّذِىْ إِذَا سُئِلَ بِه أَعْطٰى وَإِذَا دُعِىَ بِه أَجَابَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারো থেকে জন্মও নন। যার কোন সমকক্ষ নেই।’ তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলাকে তার ইস্‌মে আ‘যম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামে ডাকল। এ নামে ডেকে তাঁর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং কেউ ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৯৩, তিরমিযী ৩৪৭৫, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৭, আহমাদ ২২৯১৫, ইবনু হিব্বান ৮৯১, শু‘আবূল ঈমান ২৩৬৬, সহীহ আত্ তারগীব ১৬৪০।

২২৯০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯০


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ النَّبِىِّ ﷺ فِى الْمَسْجِدِ وَرَجُلٌ يُصَلِّىْ فَقَالَ: اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ أَسْأَلُكَ فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ: «دَعَا اللّٰهَ بِاسْمِهِ الْأَعْظَمِ الَّذِىْ إِذَا دُعِىَ بِه أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِه أَعْطٰى». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মাসজিদে নাবাবীতে বসে ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি সলাত আদায় করছিল এবং সলাতের পর বলছিল, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। কারণ তোমারই জন্য সব প্রশংসা। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। তুমিই সবচেয়ে বড় দয়ালু, বড়দাতা। তুমিই আসমান জমিনের স্রষ্টা। হে মর্যাদা ও দান করার মালিক! হে চিরঞ্জীব, হে প্রতিষ্ঠাতা! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে আল্লাহকে ইস্মে আ‘যম-এর সাথে ডাকে তিনি তাতে সাড়া দেন এবং যখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তখন তিনি তা দান করেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৪৯৫, তিরমিযী ৩৪৭৫, নাসায়ী ১৩০০, আহমাদ ১২২০৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৩৬১, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৮, ইবনু হিববান ৮৯৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৬৪১।

২২৯১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯১


وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ: اسْمُ اللّٰهِ الْأَعْظَمُ فِىْ هَاتَيْنِ الْاٰيَتَيْنِ: ﴿وَإِلٰهُكُمْ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ﴾
وفاتحة ﴿اٰلِ عِمْرَانَ﴾ : ﴿الٓمْ اَللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ﴾ رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِىُّ

আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর ইস্‌মে আ‘যম এই দু’ আয়াতের মধ্যে রয়েছে, ওয়া ইলা-হুকুম ইলা-হূ ওয়া-হিদ, লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়ার রহমা-নুর রহীম।

এছাড়াও সূরা আ-লি ‘ইমরান-এর শুরুতে আলিফ লা-ম মী-ম আল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]

[১] হাসান লিগয়রিহী : আবূ দাঊদ ১৪৯৬, তিরমিযী ৩৪৭৮, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৩৬৩, দারিমী ৩৪৩২, মু‘জামুল কাবীর ৪৪০, সহীহ আত্ তারগীব ১৬৪২, সহীহ আল জামি‘ ৯৮০।

২২৯২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯২


وَعَنْ سَعْدَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: دَعْوَةُ ذِى النُّونِ إِذا دَعَا رَبَّه وَهُوَ فِىْ بَطْنِ الْحُوتِ ﴿لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ﴾
لَمْ يَدْعُ بِهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِىْ شَىْءٍ إلاَّ استجابَ لَه. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ

সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাছওয়ালা নাবী ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে গিয়ে যখন দু‘আ পড়েছিলেন তা হলো এই ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্তা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায্ যোয়া-লিমীন’’ অর্থাৎ- ‘‘তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই। তুমি পবিত্র, আমি হচ্ছি যালিম বা অত্যাচারী অপরাধী’’- (সূরা ইউনুস ১০ : ৮৭)।

যে কোন মুসলিমই যে কোন ব্যাপারে এ দু‘আ পাঠ করবে, তার দু‘আ নিশ্চয়ই গৃহীত হবে। (আহমদ, তিরমিযী)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ৩৫০৫, আহমাদ ১৪৬২, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮৬২, শু‘আবূল ঈমান ৬১১, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১২৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৬৪৪, সহীহ আল জামি‘ ৩৩৮৩।

পরিচ্ছদঃ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২২৯৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯৩


عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ الْمَسْجِدَ عِشَاءً فَإِذَا رَجُلٌ يَقْرَأُ وَيَرْفَعُ صَوْتَه فَقُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ أَتَقُولُ: هٰذَا مُرَاءٍ؟ قَالَ: «بَلْ مُؤْمِنٌ مُنِيبٌ» قَالَ: وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِىُّ يَقْرَأُ وَيَرْفَعُ صَوْتَه فَجَعَلَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يَتَسَمَّعُ لِقِرَاءَتِه ثُمَّ جَلَسَ أَبُو مُوسٰى يَدْعُو فَقَالَ: اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أُشْهِدُكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَحَدًا صَمَدًا لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّه كُفُوًا أَحَدٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَقَدْ سَأَلَ اللّٰهَ بِاسْمِهِ الَّذِىْ إِذَا سُئِلَ بِه أَعْطٰى وَإِذَا دُعِىَ بِه أَجَابَ» قُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ أُخْبِرُه بِمَا سَمِعْتُ مِنْكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» فَأَخْبَرْتُه بِقَوْلِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فَقَالَ لِىْ: أَنْتَ الْيَوْمَ لِىْ أَخٌ صَدِيقٌ حَدَّثْتَنِىْ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ. رَوَاهُ رَزِيْنٌ

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘ইশার সলাতের সময় মাসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন দেখি জনৈক ব্যক্তি (সলাতে) কুরআন পড়ছেন এবং তার নিজের গলার স্বর উচ্চ করছেন। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এভাবে (সলাতে) কুরআন পড়াকে কি আপনি রিয়া বা প্রদর্শনী বলবেন? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললন, না। বরং এ ব্যক্তি একজন বিনয়ী মু’মিন। বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেন, আবূ মূসা আল আশ্‘আরীই কুরআন পড়ছিলেন এবং তা উচ্চৈঃস্বরে পড়ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কিরাআত শুনছিলেন। তারপর আবূ মূসা বসে এ দু‘আ করতে লাগলেন, ‘‘হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তুমি এক ও তুমি সকলের নির্ভরস্থল, অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জন্মও দেননি, কারো থেকে জন্মও নন এবং যার কোন সমকক্ষও নেই।’’

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই সে আল্লাহর ঐ নামের সাথে তাঁর কাছে প্রার্থনা করল, যে নাম ধরে যখন যা প্রার্থনা করা হয়, তখন তিনি তা দান করেন এবং ঐ নামের সাথে যখন তাঁকে ডাকে, তখন তিনি সে ডাকে সাড়া দেন। বুরায়দাহ্ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে এটা বলব, যা আপনার কাছে শুনলাম? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ (বলো)। অতঃপর আমি তাঁকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা বলে শুনালাম। তখন আবূ মূসা (রাঃ) আমাকে বললেন, আজ থেকে আপনি আমার প্রিয় ভাই। কারণ আপনি আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সব কথা শুনালেন। (রযীন)[১]

[১] সহীহ : আহমাদ ২২৯৫২।

২২৯৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯৪


عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَفْضَلُ الْكَلَامِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ
وَفِىْ رِوَايَةٍ: أَحَبُّ الْكَلَامِ إِلَى اللّٰهِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম (মর্যাদাপূর্ণ) কালাম বা বাক্য হলো চারটি- (১) সুবহা-নাল্ল-হ [আল্লাহ পবিত্র], (২) ওয়াল হামদুলিল্লা-হ [আল্লাহর জন্য প্রশংসা], (৩) ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই], (৪) ওয়াল্ল-হু আকবার [আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান]।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় বাক্য চারটি- (১) সুবহা-নাল্ল-হ, (২) আল হামদুলিল্লা-হ, (৩) লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ও (৪) ওয়াল্ল-হু আকবার। এ চারটি কালিমার যে কোন একটি প্রথমে (আগ-পিছ করে) বললে তাতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২১৩৭, ইবনু মাজাহ ৩৮১১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৮৬৮, আবূ দাঊদ ৪৯৫৮, আহমাদ ২০১০৭, মু‘জামুল আওসাত ৭৭১৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩১০, শু‘আবূল ঈমান ৫৯৪, ইবনু হিববান ৮৩৬, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১০, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৪৬, সহীহ আল জামি‘ ৮৭৪।

পরিচ্ছদঃ ১.

প্রথম অনুচ্ছেদ

২২৯৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯৫


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَأَنْ أَقُولَ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুবহা-নাল্ল-হ [আল্লাহ পবিত্র], ওয়াল হাম্‌দুলিল্লা-হ [আল্লাহর জন্য প্রশংসা], ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই], ওয়াল্ল-হু আকবার [আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান] বলা, আমার কাছে সমগ্র বিশ্ব অপেক্ষাও বেশি প্রিয়। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৯৫, তিরমিযী ৩৫৯৭, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৪১২, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১৪২, শু‘আবূল ঈমান ৫৯২, ইবনু হিববান ৮৩৪, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ৯, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৪৫, সহীহ আল জামি‘ ৫০৩৭।

২২৯৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯৬


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه فِىْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

[আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দৈনিক একশ’বার পড়বে ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’ (অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে)- তার গুনাহসমূহ যদি সমুদ্রের ফেনার মতো বেশি হয় তবুও তা মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৪০৫, মুসলিম ২৬৯১, মুয়াত্ত্বা মালিক ৭১৩, ইবনু হিববান ৮২৯, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৩১, তিরমিযী ৩৪৬৬, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৪১৭, ইবনু মাজাহ ৩৮১২, আহমাদ ৮০০৯, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৯০।

২২৯৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯৭


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِىْ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه مِائَةَ مَرَّةٍ لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِه إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَيْهِ). (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একশ’বার পড়বে ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’ (অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে)- কিয়ামাতের দিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বাক্য নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না, সে ব্যক্তি ব্যতীত যে এর সমপরিমাণ বা এর চেয়ে বেশি পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৯২, তিরমিযী ৩৪৬৯, আহমাদ ৮৮৫৫, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৭, সহীহ আত্ তারগীব ৬৫৩, সহীহ আল জামি‘ ৬৪২৫।

২২৯৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯৮


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِى الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمٰنِ: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

[আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি খুব সংক্ষিপ্ত বাক্য যা বলতে সহজ অথচ (সাওয়াবের) পাল্লায় ভারী এবং আল্লাহর নিকট পছন্দনীয়, তা হলো ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, সুবহা-নাল্ল-হিল ‘আযীম’’। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৬৮২, মুসলিম ২৬৯৪, তিরমিযী ৩৪৬৭, ইবনু মাজাহ ৩৮০৬, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৪১৩, আহমাদ ৭১৬৭, শু‘আবূল ঈমান ৫৮৫, ইবনু হিববান ৮৪১, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ৮, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৩৭, সহীহ আল জামি‘ ৪৫৭২।

২২৯৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২২৯৯


وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِىْ وَقَّاصٍ: قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فَقَالَ: «أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ؟» فَسَأَلَه سَائِلٌ مِنْ جُلَسَائِه: كَيْفَ يَكْسِبُ أَحَدُنَا أَلْفَ حَسَنَةٍ؟ قَالَ: «يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَه أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنهُ أَلْفُ خَطِيْئَةٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِىْ كِتَابِه: فِىْ جَمِيعِ الرِّوَايَاتِ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِىِّ: «أَوْ يُحَطُّ» قَالَ أَبُوْ بَكْرِ الْبَرْقَانِىْ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقطَّان عَن مُوسٰى فَقَالُوْا: «وَيُحَطُّ» بِغَيْر أَلْفٍ هَكَذَا فِىْ كِتَابِ الْحُمَيْدِىْ

সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের কেউ কি একদিনে এক হাজার নেকী অর্জন করতে সক্ষম? তার সাথে বসা লোকদের কেউ বললেন, আমাদের কেউ কিভাবে একদিনে এক হাজার নেকী আদায় করতে সক্ষম হবেন? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেউ যদি একদিনে একশ’বার ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’ পড়ে তাহলে এতে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা তার এক হাজার গুনাহ মাফ করা হবে। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৯৮, তিরমিযী ৩৪৬৩, ইনু হিববান ৮২৫, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১৪৯, শু‘আবূল ঈমান ৫৯৩, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১১, সহীহাহ্ ৩৬০২, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৪৪, সহীহ আল জামি‘ ২৬৬৫।

২৩০০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০০


وَعَنْ أَبِىْ ذَرٍّ قَالَ: سُئِلَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ أَيُّ الْكَلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَا اصْطَفَى اللّٰهُ لِمَلَائِكَتِه: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ কালাম (বাক্য) সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে কালাম আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মালায়িকাহ’র (ফেরেশতাগণের) জন্য পছন্দ করেছেন তা হলো, ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৩১, তিরমিযী ৩৫৯৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৩৮।

২৩০১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০১


وَعَن جوَيْرِية أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِىَ فِىْ مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَنْ أَضْحٰى وَهِىَ جَالِسَةٌ قَالَ: «مَا زِلْتِ عَلَى الْحَالِ الَّتِىْ فَارَقْتُكِ عَلَيْهَا؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ النَّبِىُّ ﷺ: «لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه عَدَدَ خَلْقِه وَرِضَاءَ نَفْسِه وَزِنَةَ عَرْشِه وَمِدَادَ كَلِمَاتِه». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উম্মুল মু’মিনীন জুওয়াইরিয়্যাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সলাতের পর খুব ভোরে তাঁর নিকট হতে বের হলেন। তখন জুওয়াইরিয়্যাহ্ নিজ সলাতের জায়গায় বসা। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ফিরে আসলেন তখন সূর্য বেশ উপরে উঠে এসেছে। আর জুওয়াইরিয়্যাহ্ তখনো সলাতের জায়গায় বসে আছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে চলে যাওয়ার সময় যে অবস্থায় তুমি ছিলে, এখনো কি সে অবস্থায় আছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি মাত্র চারটি কালিমাহ্ তিনবার পড়েছি, যদি তুমি এ পর্যন্ত যা পড়েছ তার সাথে আমার পড়া কালাম ওযন দেয়া হয় তাহলে এর ওযনই বেশি হবে। (বাক্যগুলো হলো)

‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, ‘আদাদা খলকিহী, ওয়া রিযা- নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলার পূত-পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টি পরিমাণ, তার ‘আরশের ওযন পরিমাণ ও তাঁর বাক্যসমূহের সংখ্যা পরিমাণ।)। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭২৬, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১২৭, শু‘আবূল ঈমান ৫৯৬, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৫০৪/৬৪৭, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১২, সহীহাহ্ ২১৫৬, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৭৪, সহীহ আল জামি‘ ৫১৩৯, ইবনু খুযায়মাহ্ ৭৫৩।

২৩০২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০২


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ فِىْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَه عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَه مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَه حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَه ذٰلِكَ حَتّٰى يُمْسِىَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِه إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশ’বার পড়বে

‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি হচ্ছেন সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান)

তার দশটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সমপরিমাণ সাওয়াব হবে। তার জন্য একশ’ নেকী লেখা হবে, তার একশ’টি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, তার জন্য এ দু‘আ ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান হতে বেঁচে থাকার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং সে যে কাজ করেছে তার চেয়ে উত্তম কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না, কেবল ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এর চেয়ে বেশী পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩২৯৩, মুসলিম ২৬৯১, মুয়াত্ত্বা মালিক ৭১২, তিরমিযী ৩৪৬৮, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৮, আহমাদ ৮০০৮, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ৬, সহীহ আত্ তারগীব ৬৫৪, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৩৭।

২৩০৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০৩


وَعَنْ أَبِىْ مُوسَى الْأَشْعَرِىِّ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فِىْ سَفَرٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُونَ بِالتَّكْبِيرِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى انْفُسِكُمْ إِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا وَهُوَ مَعَكُمْ وَالَّذِىْ تَدْعُونَه أَقْرَبُ إِلٰى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِه» قَالَ أَبُو مُوسٰى: وَأَنَا خَلْفَه أَقُولُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ فِىْ نَفْسِىْ فَقَالَ: «يَا عَبْدَ اللّٰهِ بْنَ قَيْسٍ أَلَا أَدُلُّكَ عَلٰى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ؟» فَقُلْتُ: بَلٰى يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ قَالَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। লোকেরা তখন উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর বলছিল। (তাকবীর শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের নাফসের উপর রহম করো। কেননা তোমরা তাকবীরের মাধ্যমে কোন বধিরকে বা কোন অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না, তোমরা ডাকছ এমন সত্তাকে যিনি তোমাদের সব কথা শুনেন ও দেখেন। তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। তোমরা যাঁকে ডাকছ তিনি তোমাদের প্রত্যেকের বাহনের গর্দান থেকেও বেশি নিকটে। আবূ মূসা আল আশ্‘আরী বলেন, আমি তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে চুপে চুপে বলছিলাম ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমার কোন উপায় নেই)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! (আবূ মূসার ডাক নাম) আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারগুলোর একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব না? আমি বললাম, অবশ্যই দেবেন, হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেটা হলো ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪২০৫, মুসলিম ২৭০৪।

পরিচ্ছদঃ ১.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২৩০৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০৪


عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِه غُرِسَتْ لَه نَخْلَةٌ فِى الْجَنَّةِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘‘সুবহা-নাল্ল-হিল ‘আযীম ওয়া বিহামদিহী’’ (অর্থাৎ- মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে) পড়বে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হবে। (তিরমিযী)[১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : তিরমিযী ৩৪৬৪, মু‘জামুস সগীর লিত্ব ত্ববারানী ২৮৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮৪৭, সহীহাহ্ ৬৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৪০।

২৩০৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০৫


وَعَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا مِنْ صَبَاحٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلَّا مُنَادٍ يُنَادِىْ سَبِّحُوا الْمَلِكَ الْقُدُّوْسَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক প্রভাত যাতে আল্লাহর বান্দারা উঠেন, তাতে একজন মালাক (ফেরেশতা) এরূপ আহবান করেন যে, ‘‘পবিত্র বাদশাহকে পবিত্রতার সাথে স্মরণ করো’’। (তিরমিযী)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩৫৬৯, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫২২৫।

২৩০৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০৬


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَفْضَلُ الذِّكْرِ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ: الْحَمْدُ لِلّٰهِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম জিকির হলো, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ আর সর্বোত্তম দু‘আ হলো, ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ৩৩৮৩, ইবনু মাজাহ ৩৮০০, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮৩৪, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১৩৭, শু‘আবূল ঈমান ৪০৬১, ইবনু হিববান ৮৪৬, সহীহাহ্ ১৪৯৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৫২৬, সহীহ আল জামি‘ ১১০৫।

২৩০৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০৭


وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عُمَرٍو قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «الْحَمْدُ رَأْسُ الشُّكْرِ مَا شَكَرَ اللّٰهَ عَبْدٌ لَا يَحْمَدُه

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ বা প্রশংসা করা হলো সর্বোত্তম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করল না, সে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল না।[১]

[১] য‘ঈফ : শু‘আবূল ঈমান ৪০৮৫, য‘ঈফাহ্ ১৩৭২, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৭৯০। কারণ এ সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে কাতাদাহ্ ইবনু ‘আমর হতে শ্রবণ করেননি।

২৩০৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০৮


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَوَّلُ مَنْ يُدْعٰى إِلَى الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يَحْمَدُونَ اللّٰهَ فِى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ». رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন যাদেরকে প্রথমে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে, তারা হলেন ঐসব ব্যক্তি যারা সুখে-দুঃখে সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করেন। (এ হাদীস দু’টি বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমানে বর্ণনা করেছে)[১]

[১] য‘ঈফ : মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৩০৩৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮৫১, শু‘আবূল ঈমান ৪১৬৬, য‘ঈফাহ্ ৬০২। কারণ এর সানাদে ‘আসিম ইবনু ‘আলী এবং কায়স ইবনু রাফি‘ উভয়েই দুর্বল রাবী।

২৩০৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩০৯


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «قَالَ مُوسٰى ؑ: يَا رَبِّ عَلِّمْنِىْ شَيْئًا أَذْكُرُكَ بِه وَأَدْعُوكَ بِه فَقَالَ: يَا مُوسٰى قُلْ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ فَقَالَ: يَا رَبِّ كلُّ عِبَادِكَ يَقُوْلُ هٰذَا إِنَّما أُرِيْدُ شَيْئًا تَخُصُّنِىْ بِه قَالَ: يَا مُوسٰى لَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَعَامِرَهُنَّ غَيْرِىْ وَالْأَرَضِيْنَ السَّبْعَ وُضِعْنَ فِىْ كِفَّةٍ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ فِىْ كِفَّةٍ لَمَالَتْ بِهِنَّ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ». رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আমাকে এমন একটি কালাম বা বাক্য শিখিয়ে দাও, যা দিয়ে আমি তোমার জিকির করতে পারি। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমার কাছে দু‘আ করতে পারি। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ হে মূসা! তুমি বলো, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে রব! তোমার প্রত্যেক বান্দাই তো এটা (কালিমা) বলে থাকে। আমি তো তোমার কাছে আমার জন্য একটি বিশেষ ‘কালিমা’ চাচ্ছি। আল্লাহ তা‘আলা তখন বললেন, হে মূসা! সাত আকাশ ও আমি ছাড়া এর সকল অধিবাসী এবং সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ অন্য পাল্লায় রাখা হয়, তবে অবশ্যই ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’-এর পাল্লা ভারী হবে। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[১]

[১] য‘ঈফ : শারহুস্ সুন্নাহ ১২৭৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৯৩৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯২৩।

২৩১০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১০


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ وَأَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ صَدَّقَه رَبُّه قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا وَأَنَا أَكْبَرُ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه يَقُولُ اللّٰهُ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا وَحْدِىْ لَا شَرِيْكَ لِىْ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا لِىَ الْمُلْكُ وَلِيَ الْحَمْدُ وَإِذَا قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِىْ» وَكَانَ يَقُولُ: «مَنْ قَالَهَا فِىْ مَرَضِه ثُمَّ مَاتَ لَمْ تَطْعَمْهُ النَّارُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আল্লাহ সুমহান) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার কথা সমর্থন করে বলেন, হ্যাঁ, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা-, ওয়া আনা- আকবার’’ (অর্থাৎ- আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি অতি মহান)। আর যখন বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- ওয়াহদী, লা- শারীকা লী’’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি একক, আমার কোন শারীক নেই)। আর যখন কোন বান্দা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তাঁরই রাজ্য ও তাঁরই প্রশংসা)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লিয়াল মুলকু ওয়া লিয়াল হামদু’’ (অর্থাৎ- হ্যাঁ, আমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, আমারই রাজ্য এবং আমারই প্রশংসা)।

কোন বান্দা যখন বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা- লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বী’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই এবং আমার সাহায্য ছাড়া কারো কোন উপায় ও শক্তি নেই)। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলতেন, যে ব্যক্তি এসব কালিমাগুলো নিজের অসুস্থতার সময়ে পড়ে, তারপর মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা পাবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : তিরমিযী ৩৪৩০, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৮১।

২৩১১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১১


وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِىْ وَقَّاصٍ أَنَّه دَخَلَ مَعَ النَّبِىِّ ﷺ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِه فَقَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هٰذَا أَوْ أَفْضَلُ؟ سُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِى السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِى الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذٰلِكَ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذٰلِكَ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ مِثْلَ ذٰلِكَ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ مِثْلَ ذٰلِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ مِثْلَ ذٰلِكَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জনৈকা মহিলার কাছে গেলেন। তখন মহিলার সামনে কিছু খেজুরের বিচি; অথবা তিনি বলেছেন, কিছু কাঁকর ছিল, যা দিয়ে মহিলা গুণে গুণে তাসবীহ পড়ছিল। এটা দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, আমি কি এর চেয়ে তোমার পক্ষে সহজ তাসবীহ; অথবা বলেছেন, উত্তম তাসবীহ তোমাকে বলে দিব না? আর তা হচ্ছে,

‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- খলাকা ফিস্ সামা-য়ি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- খলাকা ফিল আরযি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা- বায়না যা-লিকা ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ‘আদাদা মা-হুওয়া খ-লিকুন ওয়াল্ল-হু আকবার মিসলা যা-লিকা ওয়াল হামদুলিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মিসলা যা-লিকা ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা’’

(অর্থাৎ- আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা, যে পরিমাণ তিনি আসমানে সৃষ্টিজগত করেছেন। আল্লাহর জন্য পাক-পবিত্রতা তাঁর ওই সৃষ্টিজগতের অনুরূপ যা আসমান ও জমিনের মধ্যে আছে। আর আল্লাহর জন্য সব পাক-পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। আর অনুরূপভাবে ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ ও ‘‘আলহামদুলিল্লা-হি’’ ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’’ এবং ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি’’ও পড়বে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ; তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন)[১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৫০০, তিরমিযী ৩৫৬৫, শারহুস্ সুন্নাহ ১২৭৯, ইবনু হিববান ৮৩৭, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৩, য‘ঈফ আল জামি‘ ২১৫৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০০৯, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৩২৩, শু‘আবূল ঈমান ৫৯৫, য‘ঈফাহ্ ৮৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৫৯। কারণ খুযায়মাহ্ একজন মাজহূল রাবী।

২৩১২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১২


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: مَنْ سَبَّحَ اللّٰهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِىِّ كَانَ كَمَنْ حَجَّ مِائَةَ حَجَّةٍ وَمَنْ حَمِدَ اللّٰهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِىِّ كَانَ كَمَنْ حَمَلَ عَلٰى مِائَةِ فَرَسٍ فِىْ سَبِيلِ اللّٰهِ وَمَنْ هَلَّلَ اللّٰهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِىِّ كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ مِائَةَ رَقَبَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَمَنْ كَبَّرَ اللّٰهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ وَمِائَةً بِالْعَشِىِّ لَمْ يَأْتِ فِىْ ذٰلِكَ الْيَوْمِ أَحَدٌ بِأَكْثَرَ مِمَّا أَتٰى بِه إِلَّا مَنْ قَالَ مِثْلَ ذٰلِكَ أَوْ زَادَ عَلٰى مَا قَالَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

আমর ইবনু শু‘আয়ব থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তাঁর দাদা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ পড়বে, সে তাঁর মতো হবে (সাওয়াবের দিক দিয়ে) যে একশ’বার হজ করবে। যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ পড়বে, সে আল্লাহর পথে একশ’ ঘোড়ায় একশ’ মুজাহিদ রওনা করে দেয়া ব্যক্তির মতো হবে। যে সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ পড়বে, সে নাবী ইসমা‘ঈল (আঃ)-এর বংশের একশ’ লোক মুক্ত করে দেয়া ব্যক্তির সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘আল্ল-হু আকবার’ পড়বে, সেদিন তার চেয়ে বেশি সাওয়াবের কাজ আর কেউ করতে পারবে না। অবশ্য যে ব্যক্তি ব্যতিক্রম, যে অনুরূপ ‘আমাল করেছে অথবা এর চেয়ে বেশি করেছে- (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩৪৭০, য‘ঈফাহ্ ১৩১৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৮৭, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৬১৯। কারণ যহ্হাক ইবনু হুমরাহ্ একজন দুর্বল রাবী।

২৩১৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১৩


وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «التَّسْبِيحُ نِصْفُ الْمِيزَانِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ يَمْلَؤُه وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ لَيْسَ لَهَا حِجَابٌ دُونَ اللّٰهِ حَتّٰى تَخْلُصَ إِلَيْهِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُه بِالْقَوِىِّ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ হলো পাল্লার অর্ধেক, ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ একে পূর্ণ করে, আর ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’-এর সামনে কোন পর্দা নেই, যে পর্যন্ত না তা আল্লাহর কাছে গিয়ে না পৌঁছে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব, এর সানাদ সবল নয়)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩৫১৮, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৩০, য‘ঈফ আল জামি‘ ২৫১০।

২৩১৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১৪


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا قَالَ عَبْدٌ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ مُخْلِصًا قَطُّ إِلَّا فُتِحَتْ لَه أَبْوَابُ السَّمَاءِ حَتّٰى يُفْضِىَ إِلَى الْعَرْشِ مَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন বান্দা খালেস মনে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলবে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হবে, যতক্ষণ না তা আল্লাহর ‘আরশে না পৌঁছে, তবে যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহ হতে বিরত থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ৩৫৯০, সহীহ আস সগীর ৫৬৪৮, সহীহ আত্ তারগীব ১৫২৪।

২৩১৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১৫


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَقِيتُ إِبْرَاهِيمَ لَيْلَةَ أُسَرِىَ بِىْ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَقْرِئْ أُمَّتَكَ مِنِّى السَّلَامَ وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ الْجَنَّةَ طَيِّبَةُ التُّرْبَةِ عَذْبَةُ الْمَاءِ وَأَنَّهَا قِيعَانٌ وَأَنَّ غِرَاسَهَا سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا

আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মি‘রাজের রাতে ইব্রাহীম (আঃ)-এর সাথে আমার দেখা হলে তিনি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার উম্মাতকে আমার সালাম বলবেন এবং খবর দিবেন যে, জান্নাত হলো সুগন্ধ মাটি ও সুপেয় পানিবিশিষ্ট। কিন্তু এতে কোন গাছপালা নেই (অর্থাৎ- জান্নাত হলো সমতল ভূমি)। এর গাছপালা হলো ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি, ওয়ালহামদুলিল্লা-হি, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’। (তিরমিযী; তিনি বলেন, সানাদগত দিক থেকে হাদীসটি হাসান গরীব)[১]

[১] হাসান লিগয়রিহী : তিরমিযী ৩৪৬২, মু‘জামুস্ সগীর ৫৩৯, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৫, সহীহাহ্ ১০৫, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৫০, সহীহ আল জামি‘ ৫১৫২।

২৩১৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১৬


وَعَنْ يُسَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ قَالَتْ: قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «عَلَيْكُنَّ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّقْدِيسِ وَاعْقِدَنَّ بِالْأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْؤُوْلَاتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ وَلَا تَغْفُلْنَ فَتَنْسَيْنَ الرَّحْمَةَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ

ইউসায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি মুহাজির রমণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ), তাকদীস (সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস) নিজের আঙ্গুলে গুণে গুণে পড়বে। কারণ আঙ্গুলকে কথা বলার শক্তি দিয়ে কিয়ামাতের দিন জিজ্ঞেস করা হবে এবং আল্লাহর জিকির করা হতে গাফিল হয়ো না, যাতে তোমরা আল্লাহর রহমাতকে ভুলে না যাও। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ৩৫৮৩, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৭৬৫৬, মু‘জামুল কাবীর ১৮০, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০০৭, ইবনু হিব্বান ৮৪২, আবূ দাঊদ ১৩৪৫, সহীহ আল জামি‘ ৪০৮৭।

পরিচ্ছদঃ ১.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৩১৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১৭


عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِىْ وَقَّاصٍ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِىٌّ إِلٰى رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فَقَالَ: عَلِّمْنِىْ كَلَامًا أَقُولُه قَالَ: «قُلْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَهُ اللّٰهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ». فَقَالَ فَهَؤُلَاءِ لِرَبِّىْ فَمَا لِىْ؟ فَقَالَ: «قُلِ اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَارْحَمْنِىْ وَاهْدِنِىْ وَارْزُقْنِىْ وَعَافِنِىْ». شَكَّ الرَّاوِىْ فِىْ «عَافِنِىْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন কিছু দু‘আ-কালাম শিখিয়ে দিন যা আমি পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে ‘

‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ, আল্ল-হু আকবার কাবীরা- ওয়াল হামদুলিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি রব্বিল ‘আ-লামীন, লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল ‘আযীযিল হাকীম’’

(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান)।

(রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেখানো দু‘আ শুনে) সে বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো আমার রবের জন্য (তাঁর প্রশংসা), আমার জন্য কী? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে

‘‘আল্ল-হুম্মাগফিরলী, ওয়ার হামনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া ‘আ-ফিনী’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ কর, দয়া কর, হিদায়াত দান কর, আমাকে রিযক দাও ও আমাকে সুখে-শান্তিতে রাখ)।

শেষ শব্দ عَافِنِىْ (‘আ-ফিনী) [অর্থাৎ- আমাকে সুখে-শান্তিতে রাখ] সম্বন্ধে বর্ণনাকারী সন্দেহ রয়েছে যে, এ শব্দটি রসূলের কথার মধ্যে আছে কিনা? (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৯৬, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ২৩৯, ইবনু হিববান ৯৪৬, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৬২।

২৩১৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১৮


وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ مَرَّ عَلٰى شَجَرَةٍ يَابِسَةِ الْوَرَقِ فَضَرَبَهَا بِعَصَاهُ فَتَنَاثَرَ الْوَرَقُ فَقَالَ: «إِنَّ الْحَمْدُ لِلّٰهِ وَسُبْحَانَ اللّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ تُسَاقِطُ ذُنُوْبَ العَبدِ كَمَا يَتَسَاقَطُ وَرَقُ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيْبٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শুকনা পাতাবিশিষ্ট গাছের কাছে গেলেন এবং নিজের হাতের লাঠি দিয়ে এতে আঘাত করলেন। এতে গাছের পাতা ঝরতে লাগল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হ, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’-এ বাক্যগুলো বান্দার গুনাহ এভাবে ঝরিয়ে দেয় যে, যেভাবে ঐ গাছের পাতা ঝরছে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ৩৫৩৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৭০।

২৩১৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩১৯


وَعَن مَكْحُوْلِ عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَكْثِرْ مِنْ قَوْلِ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ فَإِنَّهَا مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ». قَالَ مَكْحُولٌ: فَمَنْ قَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ وَلَا مَنْجَأَ مِنَ اللّٰهِ إِلَّا إِلَيْهِ كَشَفَ اللّٰهُ عَنْهُ سَبْعِينَ بَابًا مِنَ الضُّرِّ أَدْنَاهَا الْفَقْرُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُه بِمُتَّصِلٍ وَمَكْحُولٌ لَمْ يَسْمَعْ عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ

মাকহূল (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ বেশি বেশি করে পড়তে। কেননা এ বাক্যটি জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের বিশেষ বাক্য।

মাকহূল (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি পড়বে ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি ওয়ালা- মানজাআ মিনাল্ল-হি ইল্লা- ইলায়হি’’- আল্লাহ তার সত্তরটি কষ্ট দূর করে দিবেন, যার সর্বনিমণ হলো দারিদ্র্যতা। (তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসের সানাদ মুত্তাসিল নয়। মাকহূল (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে হাদীসটি শুনেননি।)[১]

[১] সহীহ : তবে মাকহূলের উক্তিটি দুর্বল, কারণ তা মাকতু‘। তিরমিযী ৩৬০১, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৮০।

২৩২০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২০


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ دَوَاءٌ مِنْ تِسْعَةٍ وَتِسْعِينَ دَاءً أَيْسَرُهَا الْهُمُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘লা- হাওলা ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ হলো নিরানব্বইটি রোগের ঔষধ, তন্মধ্যে সহজটা হলো চিন্তা।[১]

[১] য‘ঈফ : মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৫০২৮, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৯৯০, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১৯১, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৭০, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬২৮৬। কারণ এর সানাদে বিশর ইবনু রাফি‘ একজন দুর্বল রাবী।

২৩২১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২১


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَلَا أَدُلُّكَ عَلٰى كَلِمَةٍ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ يَقُولُ اللّٰهُ تَعَالٰى: أَسلَمَ عَبْدِىْ وَاسْتَسْلَمَ». رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِىُّ فِى الدَّعْوَاتِ الْكَبِيْرِ

[আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ আমি কী তোমাকে ‘আরশের নীচের ও জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি ‘কালিমাহ্ বলে দেবো না? (সেটি হলো) ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’। (যখন এ কালিমাটি কেউ পড়ে) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা সর্বাত্মকভাবে আমার কাছে আত্মসমর্পণ করল। (উক্ত হাদীস দু’টি বায়হাক্বী দা‘ওয়াতুল কাবীর-এ বর্ণনা করেছেন)।[১]

[১] য‘ঈফ : আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১৫৫, বায়হাক্বী : শু‘আবূল ঈমান ১৯০, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৯৫৪।

২৩২২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২২


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّه قَالَ: سُبْحَانَ اللّٰهِ هِىَ صَلَاةُ الْخَلَائِقِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ كَلِمَةُ الشُّكْرِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ قَالَ اللّٰهُ تَعَالٰى: أَسْلَمَ وَاسْتَسْلَمَ. رَوَاهُ رَزِيْنٌ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘‘সুবহা-নাল্ল-হ’’ হলো আল্লাহর সৃষ্টিজগতের সলাত। ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ হলো কালিমাতুশ্ শুক্‌র, অর্থাৎ- কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বাক্য। ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’’ হলো তাওহীদের কালিমাহ্, আর ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ আকাশ ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে তাকে পূর্ণ করে দেয়। যখন বান্দা বলে, ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এ বান্দা সম্পূর্ণরূপে আমার কাছে আত্মসমর্পণ করল। (রযীন)

পরিচ্ছদঃ ২.

প্রথম অনুচ্ছেদ

২৩২৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২৩


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «وَاللّٰهِ إِنِّىْ لِأَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِى الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً». رَوَاهُ البُخَارِىُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবাহ্ করি। (বুখারী)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৩০৭, তিরমিযী ৩২৫৯, মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৮৭৭০, শু‘আবূল ঈমান ৬৩০, ইবনু হিব্বান ৯২৫, সহীহ আল জামি‘ ৭০৯১।

২৩২৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২৪


وَعَنِ الْأَغَرِّ الْمُزَنِىِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّه لَيُغَانُ عَلٰى قَلْبِىْ وَإِنِّىْ لَأَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ فِى الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আগার আল মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার অন্তরে মরিচা পড়ে, আর (ওই মরিচা পরিষ্কার করার জন্য) আমি দিনে একশ’বার করে ইস্তিগফার করি। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭০২, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৮৮৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮৮১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৩৩৪১, শু‘আবূল ঈমান ৬৩১, সহীহ আল জামি‘ ২৪১৫।

২৩২৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২৫


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللّٰهِ فَإِنِّىْ أَتُوبُ إِلَيْهِ فِى الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

[আগার আল মুযানী (রাঃ)] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মানবমন্ডলী! আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করো। আর আমিও প্রতিদিন একশ’বার করে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করি। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭০২, সহীহাহ্ ১৪৫২।

২৩২৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২৬


وَعَنْ أَبِىْ ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ فِيمَا يَرْوِىْ عَنِ اللّٰهِ تَبَارَكَ وَتَعَالٰى أَنَّه قَالَ: «يَا عِبَادِىْ إِنِّىْ حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلٰى نَفْسِىْ وَجَعَلْتُه بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَمُوا يَا عِبَادِىْ كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُه فَاسْتَهْدُونِىْ أَهْدِكُمْ يَا عِبَادِىْ كُلُّكُمْ جَائِعٌ إِلَّا مَنْ أَطْعَمْتُه فَاسْتَطْعِمُونِىْ أُطْعِمْكُمْ يَا عِبَادِىْ كُلُّكُمْ عَارٍ إِلَّا مَنْ كَسَوْتُه فَاسْتَكْسُونِىْ أَكْسُكُمْ يَا عِبَادِىْ إِنَّكُمْ تُخْطِئُونَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَأَنَا أَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا فَاسْتَغْفِرُونِىْ أَغْفِرْ لَكُمْ يَا عِبَادِىْ إِنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغُوا ضَرِّىْ فَتَضُرُّونِىْ وَلَنْ تَبْلُغُوْا نَفْعِىْ فَتَنْفَعُونِىْ يَا عِبَادِىْ لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَاٰخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوْا أَتْقٰى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا زَادَ ذٰلِكَ فِىْ مُلْكِىْ شَيْئًا يَا عِبَادِىْ لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَاٰخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ كَانُوْا عَلٰى اَفْجَرِ قَلْبِ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا نَقَصَ مِنْ مُلْكِىْ شَيْئًا يَا عِبَادِىْ لَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَاٰخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجِنَّكُمْ قَامُوا فِىْ صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَأَلُونِىْ فَأَعْطَيْتُ كُلَّ إِنْسَانٍ مَسْأَلَتَه مَا نَقَصَ ذٰلِكَ مِمَّا عِنْدِىْ إِلَّا كَمَا يَنْقُصُ الْمِخْيَطُ إِذَا أُدْخِلَ الْبَحْرَ يَا عِبَادِىْ إِنَّمَا هِىَ أَعْمَالُكُمْ أُحْصِهَا عَلَيْكُمْ ثُمَّ أُوَفِّيكُمْ إِيَّاهَا فَمَنْ وَجَدَ خَيْرًا فَلْيَحْمَدِ اللّٰهَ وَمِنْ وَجَدَ غَيْرَ ذٰلِكَ فَلَا يَلُوْمَنَّ إِلَّا نَفْسَه». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার নাম করে যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন তার একটি হলো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, আল্লাহ তাবারক ওয়াতা‘আলা বলেনঃ হে আমার বান্দাগণ! আমি আমার ওপর যুলম করাকে হারাম করে দিয়েছি। (যুলম করা আমার জন্য যা, তোমাদের জন্যও তা) তাই আমি তোমাদের জন্যও যুলম করা হারাম করে দিয়েছি। অতঃপর (পরস্পরের প্রতি) যুলম করো না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট। কিন্তু আমি যাকে পথ দেখাই (সে-ই পথের সন্ধান পায়)। সুতরাং তোমরা আমার নিকট পথের সন্ধান কামনা কর, তাহলে আমি তোমাদেরকে পথের সন্ধান দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত। কিন্তু আমি যাকে খাবার দেই (সে খাবার পায়)। তাই তোমরা আমার কাছে খাবার চাও। আমি তোমাদেরকে খাবার দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই উলঙ্গ। কিন্তু আমি যাকে পোশাক পরাই (সে পোশাক পরে)। তাই তোমরা আমার নিকট পোশাক চাও। আমি তোমাদেরকে (পোশাক) পরাব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাতদিন গুনাহ (অপরাধ) করে থাকো। আর আমি তোমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দেই। সুতরাং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।

হে আমার বান্দাগণ! তোমরা ক্ষতিসাধন করার সাধ্য রাখো না যে, আমার ক্ষতি করবে। এভাবে তোমরা আমার কোন উপকার করারও শক্তি রাখো না যে, আমার কোন উপকার করবে। তাই হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে হতে সর্বাপেক্ষা পরহেযগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়ে পরহেযগার হয়ে যায়। তাও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র বৃদ্ধি করতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অত্যাচারী-অনাচারী ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর নিয়েও অত্যাচার-অনাচার করে তাদের এ কাজও আমার সাম্রাজ্যের কিছুমাত্র ক্ষতি বৃদ্ধি করতে পারবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন্ একই মাঠে দাঁড়িয়ে একসাথে আমার কাছে প্রার্থনা করে। আর আমি তোমাদের প্রত্যেককে তাদের চাওয়া জিনিস দান করি তাহলে আমার কাছে যা আছে, তার কিছুই কমাতে পারবে না। শুধু এতখানি ছাড়া যতটি একটি সূঁই যখন সমুদ্রে ডুবিয়ে আবার উঠিয়ে নেয়া হলে যতটুকু সমুদ্রের পানি কমায়। হে আমার বান্দাগণ! এখন বাকী রইল তোমাদের (কৃতকর্মের) ‘আমাল, যা আমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করব। অতঃপর এর প্রতিদান আমি পরিপূর্ণভাবে দেবো। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন ভাল (ফল) লাভ করে, সে যেন আল্লাহর শুকর আদায় করে। আর যে মন্দ (ফল) লাভ করে, সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্যকে দোষারোপ না করে (কেননা তা তারই কৃতকর্মের ফল)। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৫৭৭, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৫৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৬২৫, সহীহ আল জামি‘ ৪৩৪৫।

২৩২৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২৭


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «كَانَ فِىْ بَنِىْ إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ فَأَتٰى رَاهِبًا فَسَأَلَه فَقَالَ: أَلَهَ تَوْبَةٌ قَالَ: لَا فَقَتَلَه وَجَعَلَ يَسْأَلُ فَقَالَ لَه رَجُلٌ ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ فَنَاءَ بِصَدْرِه نَحْوَهَا فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ فَأَوْحَى اللّٰهُ إِلٰى هٰذِه أَنْ تَقَرَّبِىْ وَإِلٰى هٰذِه أَنْ تَبَاعَدِىْ فَقَالَ قِيْسُوْا مَا بَيْنَهُمَا فَوُجِدَ إِلٰى هٰذِه أَقْرَبَ بِشِبْرٍ فَغُفِرَ لَه». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই জন মানুষ হত্যা করেছিল। তারপর সে শার‘ঈ বিধান জানার জন্য একজন আল্লাহভীরুর কাছে জিজ্ঞেস করল, এ ধরনের মানুষের জন্য তাওবার কোন অবকাশ আছে কিনা? তিনি বললেন, নেই। তারপর সে তাকেও (‘আলিমকেও) হত্যা করল। এভাবে সে লোকদেরকে অনবরত জিজ্ঞেস করতে থাকল। এক ব্যক্তি শুনে বলল, অমুক গ্রামে গিয়ে অমুককে জিজ্ঞেস করো। এমন সময়েই সে মৃত্যুমুখে পতিত হলো এবং মৃত্যুর সময় সে ওই গ্রামের দিকে নিজের সিনাকে বাড়িয়ে দিলো। তারপর রহমাতের মালাক (ফেরেশতা) ও ‘আযাবের মালাক পরস্পর ঝগড়া করতে লাগল, কারা তার রূহ নিয়ে যাবে। এমন সময় আল্লাহ তা‘আলা ওই গ্রামকে বললেন, তুমি মৃত ব্যক্তির কাছে আসো। আর নিজ গ্রামকে বললেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর আল্লাহ মালায়িকাহকে (ফেরেশতাদের) বললেন, তোমরা উভয় দিকের পথের দূরত্ব পরিমাপ করে দেখো। মাপের পর মৃতকে এ গ্রামের দিকে এক বিঘত নিকটে পাওয়া গেল। সুতরাং তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৪৭০, মুসলিম ২৭৬৬, ইবনু মাজাহ ২৬২২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৮৩৬, শু‘আবূল ঈমান ৬৬৬৩, ইবনু হিববান ৬১৫, সহীহাহ্ ২৬৪০, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৫১, সহীহ আল জামি‘ ২০৭৬।

২৩২৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২৮


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «وَالَّذِىْ نَفْسِىْ بِيَدِه لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللّٰهُ بِكُمْ وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللّٰهَ فَيَغْفِرُ لَهُمْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে সরিয়ে এমন জাতিকে সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করত ও আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা চাইত। আর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৪৯, শু‘আবূল ঈমান ৬৭০০, সহীহাহ্ ১৯৫০, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪৯।

২৩২৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩২৯


وَعَنْ أَبِىْ مُوسٰى قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ يَبْسُطُ يَدَه بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِىْءُ النَّهَارِ وَيَبْسُطُ يَدَه بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِىْءُ اللَّيْلِ حَتّٰى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা রাতে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে দিনের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করতে পারেন। আবার দিনের বেলায় তিনি তার হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে রাতের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করতে পারেন। এভাবে তিনি হাত প্রসারিত করতে থাকবেন যতদিন না সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হবে। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৫৯, সহীহাহ্ ৩৫১৩, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৩৫, সহীহ আল জামি‘ ১৮৭১।

২৩৩০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩০


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ الْعَبَدَ إِذَا اعْتَرَفَ ثُمَّ تَابَ تَابَ الله عَلَيْهِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন গুনাহ করার পর তা স্বীকার করে (অনুতপ্ত হয়) আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ২৬৬১, মুসলিম ২৭৭০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৯৭৪৮, ইবনু হিববান ৪২১২, শু‘আবূল ঈমান ৬৬২৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৫৫৭, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৪৪।

২৩৩১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩১


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ الله عَلَيْهِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদয়ের (কিয়ামাতের) আগে তাওবাহ্ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার তাওবাহ্ কবূল করবেন। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭০৩, ইবনু হিববান ৬২৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৩৬, সহীহ আল জামি‘ ৬১৩৩।

২৩৩২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩২


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَلّٰهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِه حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كانَ رَاحِلَتُه بِأَرْضٍ فَلَاةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُه وَشَرَابُه فَأَيِسَ مِنْهَا فَأَتٰى شَجَرَةً فَاضْطَجَعَ فِىْ ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَاحِلَتِه فَبَيْنَمَا هُوَ كَذٰلِكََ إِذ هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَه فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ: اَللّٰهُمَّ أَنْتَ عَبْدِىْ وَأَنَا رَبُّكَ أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার তাওবাহ্ করায় অত্যন্ত আনন্দিত হন যখন সে তাঁর কাছে তাওবাহ্ করে। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তির খুশীর চেয়ে অধিক খুশী হন, যে ব্যক্তির আরোহণের বাহন মরুভূমিতে তার কাছ থেকে ছুটে পালায়, আর এ বাহনের উপর আছে তার খাবার ও পানীয়। এ কারণে সে হতাশ-নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আরোহণের বাহন সম্পর্কে একেবারেই নিরাশ হয়ে একটি গাছের কাছে এসে সে এর ছায়ায় শুয়ে পড়ে। এমন সময় সে হঠাৎ দেখে, বাহন তার কাছে এসে দাঁড়ানো। সে বাহনের লাগাম ধরে আর আনন্দে আবেগআপ্লুত হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু। সে আনন্দের আতিশয্যে এ ভুল করে। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৪৭, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪৩, সহীহ আল জামি‘ ৫০৩০।

২৩৩৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩৩


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ عَبْدًا أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ فَاغْفِرْهُ فَقَالَ رَبُّه أَعَلِمَ عَبْدِىْ أَنَّ لَه رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِه؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِىْ ثُمَّ مَكَثَ مَا شَآءَ اللّٰهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا فَاغْفِرْهُ فَقَالَ رَبُّه: أَعَلِمَ عَبْدِىْ أَنَّ لَه رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِه؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِىْ ثُمَّ مَكَثَ مَا شَآءَ اللّٰهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنبا قالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا اٰخَرَ فَاغْفِرْ لِىْ فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِىْ أَنَّ لَه رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِه؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِىْ فَلْيَفْعَلْ مَا شَآءَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা গুনাহ করে বলে, ‘হে আমার রব! আমি গুনাহ করে ফেলেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করে দাও।’ তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (হে আমার মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)!) আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ‘রব’ আছেন? যে ‘রব’ গুনাহ মাফ করেন অথবা (এর জন্য) তাকে শাস্তি দেন? (তোমরা সাক্ষী থেক) আমি তাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর যতদিন আল্লাহ চাইলেন, সে গুনাহ না করে থাকল। তারপর আবার সে গুনাহ করল ও বলল, ‘হে রব’! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমার এ গুনাহ মাফ করো। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ‘রব’ আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা এর জন্য শাস্তি দেন। আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, সে কোন গুনাহ না করে থাকল। তারপর সে আবারও গুনাহ করল এবং বলল, হে রব! আমি আবার গুনাহ করেছি। তুমি আমার এ গুনাহ ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে, তার একজন ‘রব’ আছেন, যে রব গুনাহ মাফ করেন অথবা অপরাধের জন্য শাস্তি দেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করলাম। সে যা চায় করুক। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৭৫০৭, মুসলিম ২৭৫৮, আহমাদ ৭৯৪৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৬৪, শু‘আবূল ঈমান ৬৬৮৫, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪০, ইবনু হিববান ৬২২।

২৩৩৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩৪


وَعَنْ جُنْدُبٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ حَدَّثَ: «أَنَّ رَجُلًا قَالَ: وَاللّٰهِ لَا يَغْفِرُ اللّٰهُ لِفُلَانٍ وَأَنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِىْ يَتَأَلّٰى عَلَىَّ أَنِّىْ لَا أَغْفِرُ لِفُلَانٍ فَإِنِّىْ قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ». أَوْ كَمَا قَالَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, এমন কে আছে যে আমাকে কসম দিতে পারে যে, (আমার নামে শপথ করতে পারে) আমি অমুককে ক্ষমা করব না। যাও, আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার ‘আমাল নষ্ট করে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এ বাক্য অথবা অনুরূপ বাক্য বলেছেন। (মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৬২১, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৬৭৯, শু‘আবূল ঈমান ৬২৬১, ইবনু হিববান ৫৭১১, সহীহাহ্ ২০১৪, সহীহ আত্ তারগীব ২৯৬১, সহীহ আল জামি‘ ২০৭৫।

২৩৩৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩৫


وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعَتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْ لِىْ فَإِنَّه لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ». قَالَ: «وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِه قَبْلَ أَنْ يُمْسِىَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ». رَوَاهُ البُخَارِىُّ

শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাইয়্যিদুল ইসতিগফার এভাবে পড়বে,

‘‘আল্ল-হুম্মা আনতা রব্বী, লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা খলাকতানী, ওয়া আনা- ‘আবদুকা, ওয়া আনা- ‘আলা- ‘আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্‌তাত্ব‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্‌রি মা- সনা‘তু, আবূউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্‌বী ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আনতা’’

(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই; তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা, আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার চুক্তি ও অঙ্গীকারের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি আমার কৃতকর্মের মন্দ পরিণাম হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি স্বীকার করি, আমার প্রতি তোমার দানকে এবং স্বীকার করি আমার গুনাহকে। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।)।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি এ সাইয়্যিদুল ইসতিগফারের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে দিনে পড়বে আর সন্ধ্যার আগে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে এ দু‘আ রাতে পড়বে আর সকাল হবার আগে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (বুখারী)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৩০৬, ৬৩২৩, তিরমিযী ৩৩৯৩, নাসায়ী ৫৫২২, আহমাদ ১৭১১১, মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ১০১৪, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭১৭২, শু‘আবূল ঈমান ৬৫৮, ইবনু হিব্বান ৯৩৩, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৬২০/৪৮৪, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ২১, সহীহ আত্ তারগীব ৬৫০, সহীহ আল জামি‘ ৩৬৭৪।

পরিচ্ছদঃ ২.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২৩৩৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩৬


عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «قَالَ اللّٰهُ تَعَالٰى: يَا ابْنَ اٰدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِىْ وَرَجَوْتَنِىْ غَفَرْتُ لَكَ عَلٰى مَا كَانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِىْ يَا ابْنَ اٰدَمَ إِنَّكَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِىْ غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِىْ يَا ابْنَ اٰدَمَ إِنَّكَ لَوْ لَقِيتَنِىْ بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِىْ لَا تُشْرِكُ بِىْ شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট ক্ষমার আশা পোষণ করবে, তোমার অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আমি কারো পরোয়া করি না, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব, আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবীসম গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এবং আমার সাথে কাউকে শারীক না করে সাক্ষাৎ করো, আমি পৃথিবীসম ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব। (তিরমিযী)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ৩৫৪০, সহীহাহ্ ১২৭, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৮২, সহীহ আল জামি‘ ৪৩৩৮।

২৩৩৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩৭


وَرَوَاهُ أَحْمَدُ وَالدَّارِمِىُّ عَنْ أَبِىْ ذَرٍّ، وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ غَرِيْبٌ

আহমাদ ও দারিমী আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[১]

[১] হাসান : আহমাদ ২১৪৭২, দারিমী ২৮৩০, শারহুস্ সুন্নাহ ১২৯২। তবে আহমাদণ্ডএর সানাদটি দুর্বল। কারণ এর সানাদে শাহর ইবনু হাওসাব একজন দুর্বল।

২৩৩৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩৮


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا عَنِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: «قَالَ اللّٰهُ تَعَالٰى: مَنْ عَلِمَ أَنِّىْ ذُو قُدْرَةٍ عَلٰى مَغْفِرَةِ الذُّنُوبِ غَفَرْتُ لَه وَلَا أُبَالِىْ مَا لَمْ يُشْرِكْ بِىْ شَيْئًا». رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যে জানে আমি গুনাহ মাফ করে দেয়ার মালিক। আমি তাকে মাফ করে দেবো এবং আমি কারো পরোয়া করি না যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমার সাথে কাউকে শারীক না করবে। (শারহুস্ সুন্নাহ)[১]

[১] হাসান : মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১৬১৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৭৬, শারহুস্ সুন্নাহ ৪১৯১, সহীহ আল জামি‘ ৪৩৩০। তবে হাকিম-এর সানাদটি দুর্বল যেমনটি ইমাম যাহাবী (রহ্ঃ) বলেছেন।

২৩৩৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৩৯


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللّٰهُ لَه مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَه مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ». رَوَاهُ أحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

[‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন এবং প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করেন। আর তাকে এমন রিযক দান করেন, যা সে কক্ষনো ভাবতেও পারেনি। (আহমদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৫১৮, ইবনু মাজাহ ৩৮১৯, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৮৮২, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১১৪৫, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৮২৯, আহমাদ ২২৩৪, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৬৬৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৭৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪২১, য‘ঈফাহ্ ৭০৫। কারণ এর সানাদে হাকাম একজন মাজহূল রাবী।

২৩৪০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪০


وَعَنْ أَبِىْ بَكْرٍ الصِّدِّيقِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ وَإِنْ عَادَ فِى الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ

আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে সত্তরবার করে একই গুনাহ করার পরও আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবে, (ক্ষমা চাওয়ার কারণে) সে যেন প্রকৃতপক্ষে গুনাহ বার বার করেনি। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৫১৪, তিরমিযী ৩৫৫৯, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১৬৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৬৫, য‘ঈফাহ্ ৪৪৭৪, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫০০৪। কারণ এর সানাদে মাওলা একজন অপরিচিত রাবী।

২৩৪১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪১


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «كُلُّ بَنِىْ اٰدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدَّارِمِىُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর উত্তম পাপী হলো সে ব্যক্তি যে (গুনাহ করে) তাওবাহ্ করে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ২৪৯৯, ইবনু মাজাহ ৪২৫১, দারিমী ২৭৬৯, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬১৭, সহীহ আল জামি‘ ৪৫১৫, শু‘আবূল ঈমান ৬৭২৫। তবে হাকিম এবং শু‘আবূল ঈমান-এর সানাদটি দুর্বল।

২৩৪২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪২


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنِ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِىْ قَلْبِه فَإِنْ تَابَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُه وَإِنْ زَادَ زَادَتْ حَتّٰى تَعْلُوَ قَلْبَه فَذَلِكُمُ الرَّانُ الَّذِىْ ذَكَرَ اللّٰهُ تَعَالٰى ﴿كَلَّا بَلْ رَانَ عَلٰى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُوْنَ﴾
رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন বান্দা যখন গুনাহ করে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে ব্যক্তি তাওবাহ্ করল ও ক্ষমা চাইল, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে গেল (কালিমুক্ত হলো), আর যদি গুনাহ বেশি হয় তাহলে কালো দাগও বেশি হয়। অবশেষে তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এটা সেই মরিচা যার ব্যাপারে কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘এটা কক্ষনো নয়, বরং তাদের অন্তরের উপর (গুনাহের) মরিচা লেগে গেছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন করেছে’’- (সূরা আল মুতাফফিফীন ৮৩ : ১৪)। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ৩৩৩৪, ইবনু মাজাহ ৪২৪৪, আহমাদ ৭৯৫২, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৩৯০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৬৩, শু‘আবূল ঈমান ৬৮০৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪১।

২৩৪৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪৩


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার প্রাণ (রূহ) ওষ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবূল করেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ৩৫৩৭, ইবনু মাজাহ ৪২৫৩, আহমাদ ৬১৬০, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৫৯, শু‘আবূল ঈমান ৬৬৬১, ইবনু হিববান ৬২৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪৩, সহীহ আল জামি‘ ১৯০৩।

২৩৪৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪৪


وَعَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ قَالَ: وَعِزَّتِكَ يَا رَبِّ لَا أَبْرَحُ أُغْوِىْ عِبَادَكَ مَا دَامَتْ أَرْوَاحُهُمْ فِى اجْسَادِهِمْ فَقَالَ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِىْ وَجَلَالِىْ وَارْتِفَاعِ مَكَانِىْ لَا أَزَالُ أَغْفِرُ لَهُمْ مَا اسْتَغْفَرُونِىْ». رَوَاهُ أَحْمَدُ

আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান (আল্লাহ তা‘আলার কাছে) বলল, হে মহান প্রতিপালক, তোমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমার বান্দাদেরকে প্রতিনিয়ত গুমরাহ করতে থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে রূহ থাকবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আমার ইজ্জত, আমার মর্যাদা ও আমার সুউচ্চ অবস্থানের কসম! আমার বান্দা আমার কাছে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি সর্বদা তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব। (আহমদ)[১]

[১] হাসান লিগয়রিহী : আহমাদ ১১২৩৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৭২, সহীহাহ্ ১০৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৬১৭, সহীহ আল জামি‘ ১৬৫০।

২৩৪৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪৫


وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى جَعَلَ بِالْمَغْرِبِ بَابًا عَرْضُه مَسِيرَةُ سَبْعِينَ عَامًا لِلتَّوْبَةِ لَا يُغْلَقُ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ مِنْ قِبَلِه وَذٰلِكَ قَوْلُ اللّٰهِ عَزَّ وَجَلَّ: ﴿يَوْمَ يَأْتِىْ بَعْضُ اٰيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ اٰمَنَتْ مِنْ قَبْلُ﴾. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْن مَاجَهْ

সফ্ওয়ান ইবনু ‘আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাওবাহ্ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না। আর এটাই হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ ‘‘যেদিন (কিয়ামাতের পূর্বে) তোমার ‘রবের’ কোন বিশেষ নিদর্শন এসে পৌঁছবে, সেদিন এ ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। কেননা এ নিদর্শন আসার আগে ঈমান আনেনি’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৫৮)। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]

[১] হাসান : তিরমিযী ৩৫৩৬, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৩৭, সহীহ আল জামি‘ ৪১৯১, আহমাদ ১৮১০০, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭৩৮৩।

২৩৪৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪৬


وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتّٰى يَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتّٰى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِىُّ

মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিজরতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে না ততকক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তাওবার দরজা বন্ধ না হয়। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না, সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (আহমদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৪৭৯, আহমাদ ১৬৯০৬, দারিমী ২৫৫৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭৭৭৮, ইরওয়া ১২০৮, সহীহ আল জামি‘ ৭৪৬৯। তবে আহমাদণ্ডএর সানাদটি দুর্বল।

২৩৪৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪৭


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ رَجُلَيْنِ كَانَا فِىْ بَنِىْ إِسْرَائِيلَ مُتَحَابَّيْنِ أَحَدُهُمَا مُجْتَهِدٌ لِلْعِبَادَةِ وَالْاٰخَرُ يَقُولُ: مُذْنِبٌ فَجَعَلَ يَقُولُ: أَقْصِرْ عَمَّا أَنْتَ فِيهِ فَيَقُولُ خَلِّنِىْ وَرَبِّىْ حَتّٰى وَجَدَه يَوْمًا عَلٰى ذَنْبٍ اسْتَعْظَمَه فَقَالَ: أَقْصِرْ فَقَالَ: خَلِّنِىْ وَرَبِّىَ أَبُعِثْتَ عَلَىَّ رَقِيبًا؟ فَقَالَ: وَاللّٰهِ لَا يَغْفِرُ اللّٰهُ لَكَ أَبَدًا وَلَا يُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ فَبَعَثَ اللّٰهُ إِلَيْهِمَا مَلَكًا فَقَبَضَ أَرْوَاحَهُمَا فَاجْتَمَعَا عِنْدَه فَقَالَ لِلْمُذْنِبِ: اُدْخُلِ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِىْ وَقَالَ لِلْاٰخَرِ: أَتَسْتَطِيعُ أَنْ تَحْظِرَ عَلٰى عَبْدِىْ رَحْمَتِىْ؟ فَقَالَ: لَا يَا رَبِّ قَالَ: اذْهَبُوْا بِه إِلَى النَّارِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে দু’ ব্যক্তি পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের একজন ছিল বড় ‘আবিদ আর অন্যজন ছিল গুনাহগার। ‘আবিদ তাকে বলত, তুমি যেসব (গুনাহের) কাজে লিপ্ত আছো তা হতে বিরত থাক। গুনাহগার বলত, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। পরিশেষে একদিন ‘আবিদ গুনাহগার ব্যক্তিকে এমন একটি বড় গুনাহের কাজে লিপ্ত পেলো, যা তার কাছে খুবই গুরুতর বলে মনে হল এবং বলল, বিরত থাকো। সে বলল, আমাকে আমার ‘রবের’ কাছে ছেড়ে দাও। তোমাকে কী আমার জন্য পাহারাদার করে পাঠানো হয়েছে? ‘আবিদ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! তোমাকে কক্ষনো আল্লাহ ক্ষমা করবেন না এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) পাঠালেন। সে তাদের উভয়ের রূহ কবয করল। তারা উভয়েই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলো। তখন গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহ বললেন, আমার রহমাতের মাধ্যমে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। আর ‘আবিদ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি আমাকে আমার বান্দার প্রতি রহম করতে বাধা দিতে পারো? সে বলল, ‘না, হে রব’। তখন আল্লাহ বললেন, একে জাহান্নামে প্রবেশ করাও। (আহমাদ)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৯০১, আহমাদ ৮২৯২, শু‘আবূল ঈমান ৬২৬২, ইবনু হিববান ৫৭১২, সহীহ আল জামি‘ ৪৪৫৫।

২৩৪৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪৮


وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يقْرَأ: ﴿يَاعِبَادِىَ الَّذِىْ أَسْرَفُوْا عَلَى انْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللّٰهِ إِنَّ اللّٰهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا﴾. وَلَا يُبَالِىْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَقَالَ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَفِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ يَقُولُ: بَدَلَ: يَقْرَأ

আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন মাজীদের এ আয়াত পড়তে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযী আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম লা- তাকনাত্বূ মির্ রহমাতিল্লা-হি, ইন্নাল্ল-হা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা জামী‘আ-’’ (অর্থাৎ- ‘‘হে বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন’’- সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩।)

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আর এ ব্যাপারে আল্লাহ কারো পরোয়া করেন না। (আহমদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব; আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় রয়েছে يَقْرَأ (পড়েছেন) এর পরিবর্তে يَقُولُ (বলেছেন)। [১]

[১] সানাদ দুর্বল : তিরমিযী ৩২৩৭, আহমাদ ২৭৫৬৯, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৪১১, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২৯৮২, শারহুস্ সুন্নাহ ৪১৮৭। কারণ এর সানাদে শাহর ইবনু হাওসাব দুর্বল রাবী।

২৩৪৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৪৯


وَعَن ابْن عَبَّاس: فِىْ قَوْلِه تَعَالٰى: (إِلَّا اللَّمَمَ) قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنْ تَغْفِرْ اَللّٰهُمَّ تَغْفِرْ جَمَّا وَأَىُّ عَبْدٍ لَكَ لَا أَلَمَّا. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর কালামের এ বাণী, ‘‘ইল্লাল্লামামা’’ অর্থাৎ- ‘‘সগীরাহ্ গুনাহ ছাড়া’’। এক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি তুমি ক্ষমা করো, ক্ষমা করো বড় গুনাহ। কেননা এমন কোন বান্দা আছে কি, যে সগীরাহ্ গুনাহ করেনি। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব)[১]

[১] সহীহ : তিরমিযী ৩২৮৪, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৮০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭৪৬, সহীহ আল জামি‘ ১৭১৭।

২৩৫০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫০


وَعَنْ أَبِىْ ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: يَقُولُ اللّٰهُ تَعَالٰى يَا عِبَادِىْ كُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُ فَاسْأَلُونِى الْهُدٰى أَهْدِكُمْ وَكُلُّكُمْ فُقَرَاءُ إِلَّا مَنْ أَغْنَيْتُ فَاسْأَلُونِىْ أُرْزَقْكُمْ وَكُلُّكُمْ مُذْنِبٌ إِلَّا مَنْ عَافَيْتُ فَمَنْ عَلِمَ مِنْكُمْ أَنِّىْ ذُو قُدْرَةٍ عَلَى الْمَغْفِرَةِ فَاسْتَغْفَرَنِىْ غَفَرْتُ لَه وَلَا أُبَالِىْ وَلَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَاٰخِرَكُمْ وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوْا عَلٰى اَتْقٰى قَلْبِ عَبْدٍ مِنْ عِبَادِىْ مَا زَادَ فِىْ مُلْكِىْ جَنَاحَ بَعُوْضَةِوَلَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَاٰخِرَكُمْ وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوْا عَلَى اشْقٰى قَلْبِ عَبْدٍ مِنْ عِبَادِىْ مَا نَقَصَ ذٰلِكَ مِنْ مُلْكِىْ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ. وَلَوْ أَنَّ أَوَّلَكُمْ وَاٰخِرَكُمْ وَحَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوْا فِىْ صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَأَلَ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْكُمْ مَا بَلَغَتْ أُمْنِيَّتُه فَأَعْطَيْتُ كُلَّ سَائِلٍ مِنْكُمْ مَا نَقَصَ ذٰلِكَ مِنْ مُلْكِىْ إِلَّا كَمَا لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ مَرَّ بِالْبَحْرِ فَغَمَسَ فِيهِ إِبْرَةً ثُمَّ رَفَعَهَا ذٰلِكَ بِأَنِّىْ جَوَادٌ مَاجِدٌ أَفْعَلُ مَا أُرِيدُ عَطَائِىْ كَلَامٌ وَعَذَابِىْ كَلَامٌ إِنَّمَا أَمْرِىْ لِشَىْءٍ إِذَا أَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ لَه (كُنْ فَيَكُونُ). رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের সকলেই পথহারা, কিন্তু তারা ছাড়া যাদেরকে আমি পথ দেখিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে পথের সন্ধান চাও, আমি তোমাদেরকে পথ দেখাব। তোমাদের সকলেই অভাবগ্রস্ত, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি অভাবমুক্ত করেছি। অতএব তোমরা আমার কাছে চাও আমি তোমাদেরকে রিযক দান করব। তোমাদের সকলেই পাপী, তারা ছাড়া যাদেরকে আমি নিরাপদে রেখেছি। অতঃপর তোমাদের যে বিশ্বাস স্থাপন করে, আমি ক্ষমা করে দেয়ার শক্তি রাখি, সে যেন আমার কাছে ক্ষমা চায় আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো, আর (এ ব্যাপারে) আমি কারো পরোয়া করি না। যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ পর্যন্ত, তোমাদের জীবিত ও মৃত তোমাদের কাঁচা ও শুকনো (শিশু ও বৃদ্ধ) সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার ব্যক্তির অন্তরের মতো অন্তর হয়ে যায়, তথাপিও তা আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও বাড়াতে পারবে না।

আর যদি তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই আমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতভাগ্য ব্যক্তির অন্তরের মতো এক অন্তর হয়ে যায়, তাও আমার সাম্রাজ্যের একটি মাছির পালক পরিমাণও কমাতে পারবে না। তোমাদের প্রথম ও শেষ, জীবিত ও মৃত, কাঁচা ও শুকনো সকলেই যদি এক প্রান্তসীমায় জমা হয়, এরপর তোমাদের প্রত্যেকে তার ইচ্ছানুযায়ী আমার কাছে চায় (প্রার্থনা করে)। আর আমি তোমাদের প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে (প্রত্যাশা অনুযায়ী) দান করি, তা আমার সাম্রাজ্যে কিছুমাত্র কমাতে পারবে না। যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের কাছে গিয়ে যদি ওতে একটি সুঁই ডুবিয়ে ওঠায়। এটা এ কারণে যে, আমি বড় দাতা, প্রশস্ত দাতা; আমি যা ইচ্ছা তাই করি। আমার দান হলো, আমার কালাম মাত্র। আমার শাস্তি হলো, আমার হুকুম মাত্র। আর আমি কোন কিছু করতে চাইলে শুধু বলি, ‘হয়ে যাও’, তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। (আহমদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[১]

[১] সানাদ দুর্বল : তিরমিযী ২৪৯৫, ইবনু মাজাহ ৪২৫৭, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬৪৩৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১০০০।

২৩৫১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫১


وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ أَنَّه قَرَأَ ﴿هُوَ أَهْلُ التَّقْوٰى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ﴾ قَالَ: قَالَ رَبُّكُمْ أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقٰى فَمَنِ اتَّقَانِىْ فَأَنَا أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَه. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدَّارِمِىُّ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি (আল্লাহ তা‘আলার) এ আয়াত পড়লেন, ‘‘হুওয়া আহলুত্ তাকওয়া- ওয়া আহলুল মাগফিরহ্’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ হলেন ভয়ের অধিকারী ও মাগফিরাত করার মালিক)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের রব বলেন, আমি লোকের ভয় করার অধিকারী। তাই যে আমাকে ভয় করল, আমি তাকে মাফ করারও অধিকারী। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]

[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ৩২২৮, ইবনু মাজাহ ৪২৯৯, আহমাদ ১২৪৪২, দারিমী ২৭৬৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ৪০৬১। কারণ এর সানাদে সুহায়ল ইবনু আবী হাযম একজন দুর্বল রাবী।

২৩৫২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫২


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فِى الْمَجْلِسِ يَقُولُ: «رَبِّ اغْفِرْ لِىْ وَتُبْ عَلَىَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ» مِائَةَ مَرَّةٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা একই মাজলিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসতিগফার একশ’বার গণনা করতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, ‘‘রব্বিগফিরলী ওয়াতুব্ ‘আলাইয়্যা ইন্‌নাকা আন্‌তাত্ তাও্ওয়া-বুল গফূর’’ (অর্থাৎ- হে রব! তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমার তাওবাহ্ কবূল করো। কেননা তুমি তাওবাহ্ কবূলকারী ও ক্ষমাকারী।)। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৫১৬, তিরমিযী ৩৪৩৪, ইবনু মাজাহ ৩৮১৪, আহমাদ ৪৭২৬, ইবনু হিববান ৯২৭, সহীহাহ্ ৫৫৬, সহীহ আল জামি‘ ৩৪৮৬।

২৩৫৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫৩


وَعَن بِلَال بْنِ يَسَارِ بْنِ زَيْدٍ مَوْلَى النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: حَدَّثَنِىْ أَبِىْ عَنْ جَدِّىْ أَنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: «مَنْ قَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَه وَإِنْ كَانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ لَكِنَّه عِنْدَ أَبِىْ دَاوُدَ هِلَالُ بْنُ يَسَارٍ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

বিলাল ইবনু ইয়াসার ইবনু যায়দ থেকে বর্ণিতঃ

বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন, আমার দাদা যায়দ বলেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। যে ব্যক্তি বলল, ‘

‘আস্‌তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’

(অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।)।

আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে যেয়ে থাকে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। তবে আবূ দাঊদ বলেন, বর্ণনাকারীর নাম হলো হিলাল ইবনু ইয়াসার। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]

[১] সহীহ লিগয়রিহী : আবূ দাঊদ ১৫১৭, তিরমিযী ৩৫৭৭, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৮৮৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৬২২।

পরিচ্ছদঃ ২.

তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৩৫৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫৪


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةَ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِى الْجَنَّةِ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَنّٰى لِىْ هٰذِه؟ فَيَقُولُ: بِاِسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হলো? তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে। (আহমাদ)[১]

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ ৩৬৬০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৭৪০, আহমাদ ১০৬১০, সহীহাহ্ ১৫৯৮, সহীহ আল জামি‘ ১৬১৭।

২৩৫৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫৫


وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا الْمَيِّتُ فِى الْقَبْرِ إِلَّا كَالْغَرِيقِ الْمُتَغَوِّثِ يَنْتَظِرُ دَعْوَةً تَلْحَقُه مِنْ أَبٍ أَوْ أُمٍّ أَوْ أَخٍ أَوْ صَدِيقٍ فَإِذَا لَحِقَتْهُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَإِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى لَيُدْخِلُ عَلٰى اَهْلِ الْقُبُورِ مِنْ دُعَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ أَمْثَالَ الْجِبَالِ وَإِنَّ هَدِيَّةَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ الْاِسْتِغْفَارُ لَهُمْ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী। সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধুর দু‘আ পৌঁছার প্রতীক্ষায় থাকে। তার কাছে যখন দু‘আ পৌঁছে, তখন তার কাছে সারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে এ দু‘আ বেশি প্রিয় হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াবাসীদের দু‘আয় কবরবাসীদেরকে পাহাড় পরিমাণ রহমত পৌঁছান এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের পক্ষ থেকে হাদিয়্যাহ্ (উপহার) হলো তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়া। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]

[১] মুনকার : শু‘আবূল ঈমান ৭৫২৭, য‘ঈফাহ্ ৭৯৯। কারণ এর সানাদে ইবনু আবী ‘আইয়্যাশ একজন মাজহূল রাবী।

২৩৫৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫৬


وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «طُوبٰى لِمَنْ وَجَدَ فِىْ صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَرَوَى النَّسَائِىُّ فِىْ «عَمَلُ اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ

আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৌভাগ্যবান হবে সে, যার ‘আমালনামায় ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়া বেশি পাওয়া যাবে। (ইবনু মাজাহ। আর ইমাম নাসায়ী তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ্ ‘‘একদিন ও একরাতের ‘আমাল [কাজ]’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন।)[১]

[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ ৩৮১৮, শু‘আবূল ঈমান ৬৩৮, সহীহ আত্ তারগীব ১৬১৮, সহীহ আল জামি‘ ৩৯৩০।

২৩৫৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫৭


وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ: «اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِىْ مِنَ الَّذِينَ إِذا أحْسَنُوْا اِسْتَبْشَرُوْا وَإِذَا أَسَاؤُوْا اِسْتَغْفَرُوْا». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِىُّ فِى الدَّعَوَاتِ الْكَبِيْرِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো যারা ভাল কাজ করে খুশী হয় ও মন্দ কাজ করে ক্ষমা চায়। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]

[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ ৩৮২০, আহমাদ ২৪৯৮০, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ২১১, শু‘আবূল ঈমান ৬৫৯৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ১১৬৮। কারণ এর সানাদে ‘আলী ইবনু যায়দ একজন দুর্বল রাবী।

২৩৫৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫৮


وَعَنِ الْحَارِثِ بْنُ سُوَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللّٰهِ بْنُ مَسْعُودٍ حَدِيْثَيْنِ: أَحَدُهُما عَنْ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ وَالْاٰخِرُ عَنْ نَفْسِه قَالَ: إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرٰى ذُنُوبَه كَأَنَّه قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرٰى ذُنُوبَه كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى انْفِه فَقَالَ بِه هَكَذَا أَىْ بِيَدِه فَذَبَّه عَنْهُ ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُوْلُ: «اَللهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ نَزَلَ فِى ارْضٍ دَوِيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَه رَاحِلَتُه عَلَيْهَا طَعَامُه وَشَرَابُه فَوَضَعَ رَأْسَه فَنَامَ نَوْمَةً فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ رَاحِلَتُه فَطَلَبَهَا حَتَّى اِذَا اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْحَرُّ وَالْعَطَشُ أَوْ مَا شَآءَ اللّٰهُ قَالَ: أَرْجِعُ إِلٰى مَكَانِى الَّذِىْ كُنْتُ فِيهِ فَأَنَامُ حَتّٰى اَمُوْتَ فَوَضَعَ رَأْسَه عَلٰى سَاعِدِه لِيَمُوتَ فَاسْتَيْقَظَ فَإِذَا رَاحِلَتُه عِنْدَه عَلَيْهَا زَادُه وَشَرَابُه فَاللّٰهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هٰذَا بِرَاحِلَتِه وَزَادِه». رَوٰى مُسْلِمٌ الْمَرْفُوْعَ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ مِنْهُ فَحَسْبُ وَرَوَى البُخَارِىُّ الْمَوْقُوْفَ عَلَى ابْنِ مَسْعُوْدٍ أَيْضًا

হারিস ইবনু সুওয়াইদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) আমাকে দু’টো কথা বলেছেন- একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে, আর অপরটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, মু’মিন নিজের গুনাহকে মনে করে সে যেন কোন পাহাড়ের নীচে বসে আছে, যা তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করে। অপরদিকে গুনাহগার ব্যক্তি নিজের গুনাহকে দেখে একটি মাছির মতো, যা তার নাকের উপর বসল, আর তা সে হাত দিয়ে নাড়িয়ে তাড়িয়ে দিলো।

এরপর তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় সে লোকের চেয়ে বেশি আনন্দিত হন, যে লোক কোন ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছেছে, আর তার সাথে তার বাহন রয়েছে, যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় রয়েছে। সেখানে সে জমিনে মাথা রাখল ও কিছুক্ষণ ঘুমাল। অতঃপর জেগে দেখল তার বাহন পালিয়ে গেছে। সে তা খুঁজতে শুরু করল। অবশেষে গরম ও তৃষ্ণা এবং অপরাপর দুঃখ-বেদনা যা আল্লাহর মর্জি তাকে দুর্বল করে ফেলল। তখন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, আমি যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়ে (আমৃত্যু) শুয়ে থাকব। সুতরাং সে সেখানে গিয়ে নিজের বাহুর উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল, যাতে সে মৃত্যুবরণ করে।

হঠাৎ এক সময় জেগে দেখে তার বাহন তার কাছে, বাহনের উপর তার খাদ্য-সামগ্রীও আছে। তখন সে তার বাহন ও খাদ্য-সামগ্রী ফেরত পাওয়ার আকস্মিকতায় যেরূপ খুশী হয়, আল্লাহ তাঁর মু’মিন বান্দার তাওবায় এর চেয়েও বেশি খুশী হয়। (ইমাম মুসলিম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে শুধু মারফূ‘ অংশ এবং ইমাম বুখারী ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে মাওকূফ ও মারফূ‘ উভয় অংশ বর্ণনা করেছেন)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৩০৮, মুসলিম ২৭৪৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৫৫।

২৩৫৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৫৯


وَعَنْ عَلِىِِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ الْمُفْتَّنَ التَّوَّابَ

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ওই মু’মিন বান্দাকে ভালবাসেন, যে গুনাহ করে তাওবাহ্ করে।[১]

[১] মাওযূ‘ (জাল) : আহমাদ ৬০৫, শু‘আবূল ঈমান ৬৭২০, য‘ঈফাহ্ ৯৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ১৭০৫। কারণ এর সানাদে আবূ ‘আবদুল্লাহ মাসলামাহ্ আর রাযী এর সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না।

২৩৬০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬০


وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: «مَا أُحِبُّ أَنَّ لِى الدُّنْيَا بِهٰذِهِ الْاٰيَةِ ﴿يَا عِبَادِىَ الَّذِينَ أَسْرَفُوْا عَلٰى أنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا﴾ الْاٰيَةَ» فَقَالَ رَجُلٌ: فَمَنْ أَشْرَكَ؟ فَسَكَتَ النَّبِىِّ ﷺ ثُمَّ قَالَ: «أَلَا وَمَنْ أَشْرَكَ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম, লা- তাকনাত্বূ ......’’ (অর্থাৎ- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমাত হতে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)। এ আয়াতের পরিবর্তে সারা দুনিয়া হাসিল হওয়াকেও আমি পছন্দ করি না। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও।[১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২২৩৬২, য‘ঈফাহ্ ৪৪০৯, য‘ঈফ আল জামি‘ ৪৯৮০, শু‘আবূল ঈমান ৬৭৩৫, মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ১৮৯০। কারণ এর সানাদে আবূ ‘আবদুর রহমান আল জাবালানী একজন মাজহূলুল হাল রাবী এবং ইবনু লাহ্ই‘আহ্ একজন দুর্বল রাবী।

২৩৬১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬১


وَعَنْ أَبِىْ ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى لَيَغْفِرُ لِعَبْدِه مَا لَمْ يَقَعِ الْحِجَابُ. قَالُوا: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَمَا الْحِجَابُ؟ قَالَ: أَنْ تَمُوتَ النَّفْسُ وَهِىَ مُشْرِكَةٌ
رَوَى الْأَحَادِيْثَ الثَّلَاثَةَ أَحْمَدُ وَرَوَى الْبَيْهَقِىُّ الْأَخِيرَ فِىْ كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত (আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যে) পর্দা না পড়ে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পর্দা কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা।

উপরোক্ত তিনটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, আর শেষ হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ।[১]

[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২১৫২২, ইবনু হিববান ৬২৭, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৭৬৬০। কারণ এর সানাদে ‘উমার ইবনু নু‘আয়ম এবং তার উস্তায উমামাহ্ ইবনু সালমান উভয়েই মাজহূল রাবী।

২৩৬২

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬২


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ لَقِىَ اللّٰهَ لَا يَعْدِلُ بِه شَيْئًا فِى الدُّنْيَا ثُمَّ كَانَ عَلَيْهِ مِثْلَ جِبَالٍ ذُنُوبٌ غَفَرَ اللّٰهُ لَه». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কাউকেও আল্লাহর সমতুল্য মনে না করে মৃত্যুবরণ করবে, তার পাহাড় পরিমাণ গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। (বায়হাক্বী ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)[১]

[১] বায়হাক্বী : আল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর ৩১।

২৩৬৩

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬৩


وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: اَلتَّائِبَ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيمَانِ وَقَالَ تَفَرَّدَ بِهِ النَّهْرَانَىُّ وَهُوَ مَجْهُولٌ. وَفِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ رَوٰى عَنْهُ مَوْقُوفًا قَالَ: النَّدَمُ تَوْبَةٌ والتَّائبُ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَه

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহ হতে তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই। (ইবনু মাজাহ।)

আর বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বলেন, নাহরানী এটা একাই বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি মাজহূল ব্যক্তি। আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় ইমাম বাগাবী এটাকে মাওকূফ [‘আবদুল্লাহ-এর কথা] হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি [‘আবদুল্লাহ] বলেছেন, ‘‘অনুশোচনাই হলো তাওবাহ্, আর তাওবাহকারী হলো ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই’’।)[১]

[১] হাসান লিগয়রিহী : ইবনু মাজাহ ৪২৫০, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০২৮১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৫৬১, সহীহ আত্ তারগীব ৩১৪৫, সহীহ আল জামি‘ ৩০০৮, শারহুস্ সুন্নাহ ১৩০৭।

২৩৬৪

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬৪


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: لَمَّا قَضَى اللّٰهُ الْخَلْقَ كَتَبَ كِتَابًا فَهُوَ عِنْدَه فَوْقَ عَرْشِه: إِنَّ رَحْمَتِىْ سَبَقَتْ غَضَبِىْ «وَفِىْ رِوَايَةٍ» غَلَبَتْ غَضَبِىْ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা মাখলূকাত (সৃষ্টিজগত) সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলে একটি কিতাব লিখলেন, যা ‘আরশের উপর সংরক্ষিত আছে। এতে আছে, আমার রহমত আমার রাগকে প্রশমিত করেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমার রাগের উপর (রহমত) জয়ী হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৭৪২২, মুসলিম ২৭৫১, আহমাদ ৭৫০০, শারহুস্ সুন্নাহ ৪১৭৮।

পরিচ্ছদঃ ৩.

প্রথম অনুচ্ছেদ

২৩৬৫

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬৫


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ لِلّٰهِ مِائَةَ رَحْمَةٍ أَنْزَلَ مِنْهَا رَحْمَةً وَاحِدَةً بَيْنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ وَالْبَهَائِمِ وَالْهَوَامِّ فَبِهَا يَتَعَاطَفُوْنَ وَبِهَا يَتَرَاحَمُوْنَ وَبِهَا تَعْطُفُ الْوَحْشُ عَلٰى وَلَدِهَا وَأَخَّرَ اللّٰهُ تِسْعًا وَتِسْعِينَ رَحْمَةً يَرْحَمُ بِهَا عِبَادَه يَوْمَ الْقِيَامَةِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

[আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার একশটি রহমত রয়েছে, তন্মধ্যে মাত্র একটি রহমত তিনি (দুনিয়ার) জিন্, মানুষ, পশু ও কীট-পতঙ্গের জন্যে অবতীর্ণ করেছেন। এই একটি রহমত দিয়ে তারা পরস্পরকে স্নেহ-মমতা করে, এ রহমাত দিয়ে তারা পরস্পরকে দয়া করে। এর দ্বারাই বন্য প্রাণীরা এদের সন্তান-সন্ততিকে ভালবাসে। আর অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমাত আল্লাহ তা‘আলা পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দিয়েছেন। যা দিয়ে তিনি কিয়ামাতের দিন তাঁর বান্দাদেরকে রহম করবেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৫২, ইবনু মাজাহ ৪২৯৩, ইবনু হিববান ৬১৪৭, সহীহাহ্ ১৬৩৪, সহীহ আল জামি‘ ২১৭২।

২৩৬৬

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬৬


وَفِىْ رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ عَنْ سَلْمَانَ نَحْوُه وَفِى اٰخِرِه قَالَ: «فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَكْمَلَهَا بِهٰذِهِ الرَّحْمَةِ

য় সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল রহমত দিয়ে তাকে পূর্ণতা দান করবেন।[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৫৩, ইবনু হিববান ৬১৪৬, সহীহাহ্ ১৬৩৪, সহীহ আল জামি‘ ১৭৬৭।

২৩৬৭

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬৭


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللّٰهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ مَا طَمِعَ بِجَنَّتِه أَحَدٌ وَلَوْ يَعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللّٰهِ مِنَ الرَّحْمَةِ مَا قَنَطَ مِنَ جَنَّتِه أَحَدٌ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে কি শাস্তি রয়েছে মু’মিন বান্দা যদি তা জানত, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর কাফির যদি জানত আল্লাহর কাছে কি দয়া রয়েছে, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাত হতে নিরাশ হত না। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৫৫, শু‘আবূল ঈমান ৯৬৯, ইবনু হিববান ৬৫৬, সহীহ ৩৩৭৯, তিরমিযী ৩৫৪২।

২৩৬৮

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬৮


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: الْجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلٰى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِه وَالنَّارُ مِثْلُ ذٰلِكَ. رَوَاهُ البُخَارِىُّ

আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত তোমাদের কারো জন্য জুতার ফিতা হতেও বেশি কাছে, আর জাহান্নামও ঠিক অনুরূপ। (বুখারী)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৪৮৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫০৪, শু‘আবূল ঈমান ৯৭৬২, ইবনু হিববান ৬৬১, সহীহাহ্ ৩৬২৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩৩৪৯, সহীহ আল জামি‘ ৩১১৫।

২৩৬৯

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৬৯


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «قَالَ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ لِأَهْلِه وَفِىْ رِوَايَةٍ أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلٰى نَفْسِه فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ أَوْصٰى بَنِيهِ إِذَا مَاتَ فَحَرِّقُوهُ ثُمَّ اذْرُوا نِصْفَه فِى الْبَرِّ وَنِصْفَه فِى الْبَحْرِ فَوَ اللهِ لَئِنْ قَدَرَ اللّٰهُ عَلَيْهِ لَيُعَذِّبَنَّه عَذَابًا لَا يُعَذِّبُه أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ فَلَمَّا مَاتَ فَعَلُوْا مَا أَمَرَهُمْ فَأَمَرَ اللّٰهُ الْبَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ وَأَمَرَ الْبَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ ثُمَّ قَالَ لَه: لِمَ فَعَلْتَ هٰذَا؟ قَالَ: مِنْ خَشْيَتِكَ يَا رَبِّ وَأَنْتَ أَعْلَمُ فَغَفَرَ لَه». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন এক ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনকে বলল, কোন সময় সে কোন ভাল কাজ করেনি। আর এক বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি নিজের ওপর অবিচার করেছে। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে নিজের সন্তান-সন্ততিকে ওয়াসিয়্যাত করল, যখন সে মারা যাবে তাকে যেন পুড়ে ফেলা হয়। অতঃপর মৃতদেহের ছাইভস্মের অর্ধেক স্থলভাগে, আর অর্ধেক সমুদ্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহর কসম! যদি তিনি (আল্লাহ) তাকে ধরতে পারেন তাহলে এমন শাস্তি দিবেন, যা দুনিয়ার কাউকেও কক্ষনো দেননি। সে মারা গেলে তার সন্তানেরা তার নির্দেশ মতই কাজ করল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সমুদ্রকে হুকুম করলেন, সমুদ্র তার মধ্যে যা ছাইভস্ম পড়েছিল সব একত্র করে দিলো। ঠিক এভাবে স্থলভাগকে নির্দেশ করলেন, স্থলভাগ তার মধ্যে যা ছাইভস্ম ছিল সব একত্র করে দিলো। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এরূপ কাজ করলে? (উত্তরে বললো) তোমার ভয়ে ‘হে রব!’ তুমি তো তা জানো। তার এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৭৫০৬, মুসলিম ২৭৫৬, মুয়াত্ত্বা মালিক ৮২২, সহীহাহ্ ৩০৪৮।

২৩৭০

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৭০


وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَدِمَ عَلَى النَّبِىِّ ﷺ سَبِىٌّ فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ السَّبِىِّ قَدْ تَحَلَّبَ ثَدْيُهَا تسْعٰى إِذا وَجَدَتْ صَبِيًّا فِى السَّبِىِّ أَخَذَتْهُ فَأَلْصَقَتْهُ بِبَطْنِهَا وَأَرْضَعَتْهُ فَقَالَ لَنَا النَّبِىُّ ﷺ: أَتُرَوْنَ هٰذِه طَارِحَةً وَلَدَهَا فِى النَّارِ؟ فَقُلْنَا: لَا وَهِىَ تَقْدِرُ عَلٰى اَنْ لَا تَطْرَحَه فَقَالَ: «اَللّٰهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِه مِنْ هٰذِه بِوَلَدِهَا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী এলো। তখন দেখা গেল, একটি মহিলার বুকের দুধ ঝরে পড়ছে, আর সে শিশু সন্তানের সন্ধানে দৌড়াদৌড়ি করছে। হঠাৎ বন্দীদের মধ্যে একটি শিশু দেখতে পেল। তাকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে সে দুধ পান করাল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমাদের কি মনে হয় এ মহিলাটি স্বীয় সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে? উত্তরে আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রসূল! কক্ষনো না। যদি সে নিক্ষেপ না করার সামর্থ্য রাখে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্যই এ মহিলার সন্তানের প্রতি মায়া-মমতার চেয়ে বান্দার ওপর আল্লাহ তা‘আলার মায়া-মমতা অনেক বেশি। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৯৯৯, মুসলিম ২৭৫৪, মু‘জামুল আওসাত ৩০১১, শু‘আবূল ঈমান ৬৭২৯।

২৩৭১

মিশকাতুল মাসাবিহ

অধ্যায় : পর্ব-১০. আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ

হাদীস নং : ২৩৭১


وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَنْ يُنْجِىَ أَحَدًا مِنْكُمْ عَمَلُه» قَالُوا: وَلَا أَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ؟ قَالَ: «وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِى اللّٰهُ مِنْهُ بِرَحْمَتِه فَسَدِّدُوْا وَقَارِبُوْا وَاغْدُوْا وَرُوْحُوْا وَشَىْءٌ مِنَ الدُّلْجَةِ والقَصْدَ الْقَصْدَ تَبْلُغُوْا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই তার ‘আমাল (‘ইবাদাত-বন্দেগী) মুক্তি দিতে পারবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেও না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকেও নয়। অবশ্য যদি আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত দিয়ে আমাকে ঢেকে নেন। তবুও তোমরা সঠিকভাবে ‘আমাল করতে থাকবে ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতে কিছু ‘আমাল করবে। সাবধান! তোমরা (‘ইবাদাতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। তাতে তোমরা তোমাদের মঞ্জীলে মাকসূদে পৌঁছে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৬৪৬৩, মুসলিম ২৮১৬, আহমাদ ১০২৫৬, সহীহ আল জামি‘ ৫২২৯, ইবনু মাজাহ ৪২০১, মু‘জামুল আওসাত ৪২৭২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬৩, শু‘আবূল ঈমান ৯৬৭৪, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫৯৮।