All books

সুনানে ইবনে মাজাহ (০ টি হাদীস)

সিয়াম বা রোজা ১৬৩৮ - ১৭৮২

৭/১. অধ্যায়ঃ

সিয়াম বা রোযার ফযিলত।

১৬৩৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৩৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وَوَكِيعٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ مَا شَاءَ اللهُ يَقُولُ اللهُ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র মর্জি হলে আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকাজের প্রতিদান দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। আল্লাহ্‌ বলেন, তবে সিয়াম ব্যতীত, তা আমার জন্যই (রাখা হয়) এবং আমিই তার প্রতিদান দিবো। সে তার প্রবৃত্তি ও পানাহার আমার জন্যই ত্যাগ করে। রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দঃ একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং আরেকটি আনন্দ রয়েছে তার প্রভু আল্লাহ্‌র সাথে তার সাক্ষাতের সময়। রোযাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়। [১৬৩৮]

[১৬৩৮] সহীহুল বুখারী ১৮৯৪, ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১, তিরমিযী ৭৬৪, নাসায়ী ২২১৪, ৬৬১৬, ২২১৭, ২২১৮, ২২১৯, ৭১৩৪, ৭১৫৪, ৭৫৫২, ৭৬৩৬, ৭৭৩০, ৮৮৬৮, ৮৮৯৩, ৯০২২, ৯০৬৭, ৯০৯৯, ৯৪২১, ২৭২৫৫, ২৭২৭১, ৯৮১৯, ৯৯১৮, ১০১২৭, ১০১৭৬, ১০৩১৩, মুয়াত্তা মালেক ৬৯০, দারেমী ১৭৬৯, ১৭৭০ সহীহ্ তারগীব, ৯৬৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৩৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৩৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ الْمِصْرِيُّ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ أَنَّ مُطَرِّفًا مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِي الْعَاصِ الثَّقَفِيَّ دَعَا لَهُ بِلَبَنٍ يَسْقِيهِ قَالَ مُطَرِّفٌ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «الصِّيَامُ جُنَّةٌ مِنْ النَّارِ كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنْ الْقِتَالِ».

উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যুদ্ধের মাঠে ঢাল যেমন তোমাদের রক্ষাকারী, সিয়ামও তদ্রূপ জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল। [১৬৩৯]

[১৬৩৯] নাসায়ী ২২৩০, ২২৩১, আহমাদ ১৫৮৩৯, ১৫৮৪৪, ১৭৪৪৫, সহীহ তারগীব ৯৭১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৬৪০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪০


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يُدْعَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَمَنْ كَانَ مِنْ الصَّائِمِينَ دَخَلَهُ وَمَنْ دَخَلَهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا».

সাহ্‌ল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জান্নাতের একটি দরজার নাম ‘রায়্যান’। কিয়ামাতের দিন সেখান থেকে আহ্বান করা হবেঃ রোযাদারগণ কোথায়? যে ব্যক্তি রোযাদার হবে, সে উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং যে উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে কখনও পিপাসার্ত হবে না। [১৬৪০]

[১৬৪০] সহীহুল বুখারী ১৮৯৬, ৩২৫৭, মুসলিম ১১৫২, তিরমিযী ৭৬৫, নাসায়ী ২২৩৬, ২২৩৭, আহমাদ ২২৩১১, ২২৩৩৫ সহীহ তারগীব ৯৬৯, বুখারী, মুসলিম পিপাসার কথা ব্যতীত। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হিশাম বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। তার শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ আছে। (তাহযীবুল কামাল রাবী নং ৬৫৭৭, ৩০/২০৪ নং পৃষ্ঠা)

৭/২. অধ্যায়ঃ

রমজান মাসের ফযিলত

১৬৪১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪১


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় রমজান মাসের সিয়াম রাখলো, তার পূর্বের গুণাহরাশি মাফ করা হলো। [১৬৪১]

[১৬৪১] ১৩২৬ এর অনুরূপ, সহীহ তারগীব ৯৮২, ইরওয়াহ ৯০৬, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ পৃষ্ঠা)

১৬৪২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪২


حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا كَانَتْ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ صُفِّدَتْ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَنَادَى مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلهِ عُتَقَاءُ مِنْ النَّارِ وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন রমজান মাসের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও অভিশপ্ত জিনদের শৃংখলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এর একটি দরজাও বন্ধ হয় না এবং একজন ঘোষক ডেকে বলেন, হে সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি! অগ্রসর হও, হে অসৎকর্মপরায়ণ! থেমে যাও। আল্লাহ্‌ (রমযানের) প্রতিটি রাতে অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন। [১৬৪২]

[১৬৪২] সহীহুল বুখারী ১৮৯৮, ১৮৯৯, ৩২৭৭, মুসলিম ১০৭৯, তিরমিযী ৬৮২, নাসায়ী ২০৯৭, ২০৯৮, ২০৯৯, ২১০০, ২১০১, ২১০২, ২১০৪, ২১০৫, ২১০৬, আহমাদ ৭১০৮, ৭৭২৩, ৭৮৫৭, ৮৪৬৯, ৮৬৯৭, ৮৭৬৫, ৮৯৫১, ৯২১৩, দারেমী ১৭৭৫ তা’লীকুর রগীব ২/৬৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৬৪৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪৩


حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِلهِ عِنْدَ كُلِّ فِطْرٍ عُتَقَاءَ وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তাআলা প্রতি ইফতারের অর্থাৎ প্রতি রাতে বেশ সংখ্যক লোককে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন। [১৬৪৩]

[১৬৪৩] তারগীব ৯৯১, ৯৯২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।

১৬৪৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ عَبَّادُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلَ رَمَضَانُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ هَذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرَ كُلَّهُ وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلَّا مَحْرُومٌ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রমজান মাস শুরু হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের নিকট এ মাস সমুপস্থিত। এতে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হলো সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরাই তা থেকে বঞ্চিত হয়। [১৬৪৪]

[১৬৪৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, সহীহ তারগীব ৯৮৯, ৯৯০। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন বিলাল সম্পর্কে আবু জা'ফার আল-উকায়লী বলেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, আমি তার ব্যাপারে ভাল ছাড়া খারাফ কিছু শুনিনি। ইমাম যাহাবী বলেন, মানুষ যেভাবে ভুল করে তিনিও সেরকম ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৯৯, ২৪/৫৪৫ নং পৃষ্ঠা)

৭/৩. অধ্যায়ঃ

সন্দেহের দিনের (ইয়াওমুশ-শাক্ক) রোযা।

১৬৪৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارٍ فِي الْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَأُتِيَ بِشَاةٍ فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ عَمَّارٌ مَنْ صَامَ هَذَا الْيَوْمَ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم

সিলাহ বিন যুফার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সন্দেহের দিনে আমরা আম্মার (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন একটি (ভুনা) বকরী পেশ করা হলো। কতক লোক পিছনে সরে গেলো। আম্মার (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আজ সিয়াম রাখলো সে তো অবশ্যই আবুল কাসিম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর অবাধ্যাচরণ করলো। [১৬৪৫]

[১৬৪৫]তিরমিযী ৬৮৬, নাসায়ী ২১৮৮, আবূ দাউদ ২৩৩৪, দারেমী ১৬৮২ তা‘লীক ইবনু খুযাইমাহ ১৯১৪, ইরওয়াহ ৯৬১, সহীহ আবী দাউদ ২০২২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী জুরজানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হুজ্জাহ নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি সত্যবাদী ও সিকাহ রাবীর সদৃস্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা)

১৬৪৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ جَدِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ تَعْجِيلِ صَوْمِ يَوْمٍ قَبْلَ الرُّؤْيَةِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

চাঁদ দেখার একদিন আগে থেকে সিয়াম রাখতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। [১৬৪৬]

[১৬৪৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহ আবী দাউদ ২০১৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, আমি তার মজলিসে বসে জানতে পেরেছি যে, তার মাঝে মিথ্যা রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনু মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী ও আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবু যুরআহ তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩০৫, ৩৫/৩১ নং পৃষ্ঠা)। উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু আবদুল্লাহ বিন সাঈদ এর কারণে দুর্বল। হাদিসটির ৭৫১ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩৭ টি অধিক দুর্বল। ১৯৫ টি দুর্বল, ১৯৩ টি হাসান, ৩২৬ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৯০০, ১৯০৬, ১৯০৭, ১৯০৯, মুসলিম ১০৮০, তিরমিযি ৬৮৪, ৬৮৫, ৬৮৮, আবু দাউদ ২৩২৬, ২৩২৭, ২৩৩৫, ২৩৪২, দারিমী ১৬৮৪, ১৬৮৫, ১৬৮৯, ১৬৯০, ১৬৯১ ইত্যাদি।

১৬৪৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪৭


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ قَبْلَ شَهْرِ رَمَضَانَ الصِّيَامُ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا وَنَحْنُ مُتَقَدِّمُونَ فَمَنْ شَاءَ فَلْيَتَقَدَّمْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَتَأَخَّرْ

কাসিম আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি মুআবিয়া বিন আবূ সুফ্‌‌ইয়ান (রাঃ) কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছেন, রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ সিয়াম অমুক অমুক দিন। আমরা আগেই সেই সিয়াম রাখবো। অতএব যার ইচ্ছা সে আগে সিয়াম রাখুক, আর যার ইচ্ছা পরে রাখুক। [১৬৪৭]

[১৬৪৭] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হায়সাম বিন হুমায়দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার ভাল ছাড়া খারাফ কিছু জানি না। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু মুসহির বলেন, তিনি দুর্বল ও কাদিরিয়া মতাবলম্বী ছিলেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬৪৩, ৩০/৩৭০ নং পৃষ্ঠা) ২. আলা ইবনুল হারিস সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ তবে কাদিরিয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৬০, ২২/৪৭৮ নং পৃষ্ঠা) ৩. কাসিম আবু আব্দুর রহমান সম্পর্কে আল আজালী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি সিকাহ নন। ইমাম তিরমিযি তাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অপরিচিত। মুফাদদাল বিন গাসসান বলেন, তিনি কুফুরী নয় এমন কওলী বা আমলীগত ফিসক এর সাথে জড়িত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৮০০, ২৩/৩৮৩ নং পৃষ্ঠা)

৭/৪. অধ্যায়ঃ

শা’বান মাসে সিয়াম রাখতে রাখতে রমজান মাসে পৌছা।

১৬৪৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শা‘বান মাসে সিয়াম রাখতে রাখতে রমাদানে পৌঁছতেন। [১৬৪৮]

[১৬৪৮] তিরমিযী ৭৩৬, নাসায়ী ২১৭৫, ২১৭৬, ২৩৫২, ২৩৫৩, আবূ দাউদ ২৩৩৬, আহমাদ ২৬০২২, ২৬১১৩, দারেমী ১৭৩৯ সহীহ আবী দাউদ ২০২৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী যায়দ ইবনুল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে সাওরীর হাদিস বর্ণনায় ভুল করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০৯৫, ১০/৪০ নং পৃষ্ঠা)

১৬৪৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৪৯


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْغَازِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ «كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ حَتَّحَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْغَازِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ حَتَّى يَصِلَهُ بِرَمَضَانَ».ى يَصِلَهُ بِرَمَضَانَ

রবীআহ ইবনুল গায (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায় গোটা শা‘বান মাস সিয়াম রাখতেন, এমনকি এভাবে রমজান মাসে উপনীত হতেন। [১৬৪৯]

[১৬৪৯] সহীহুল বুখারী ১৯৬৯, মুসলিম ৭৪৬, আবূ দাউদ ১৩৪২, ২৪৩৪, আহমাদ ২৪৭৮৯, ২৫৫২২, ২৫৭৭৮, মুয়াত্তা মালেক ৬৮৮, সহীহ আবী দাউদ ২১০১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।

৭/৫. অধ্যায়ঃ

রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের দিন সিয়াম রাখা নিষেধ, কিন্তু কারো নিয়মিত সিয়াম রাখতে রাখতে সেদিন পৌঁছলে তার জন্য নয়।

১৬৫০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫০


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبٍ وَالْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا تَقَدَّمُوا صِيَامَ رَمَضَانَ بِيَوْمٍ وَلَا بِيَوْمَيْنِ إِلَّا رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَيَصُومُهُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রমজান মাসের এক দিন বা দু’দিন আগে সিয়াম রাখা শুরু না করে। তবে যে ব্যক্তি অনবরত সিয়াম রাখতে অভ্যস্ত, সে ঐ দিন সিয়াম রাখতে পারে। [১৬৫০]

[১৬৫০] সহীহুল বুখারী ১৯১৪, মুসলিম ১০৮২, তিরমিযী ৬৮৪, ৬৮৫, নাসায়ী ২১৭২, ২১৭৩, আবূ দাউদ ২৩৩৫, আহমাদ ২৭২১১, ২৭৩১৭, দারেমী ১৬৮৯ সহীহাহ ২৩৯৮, সহীহ আবী দাউদ ২০২৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল হামিদ বিন হাবীব বিন আবুল ঈশরীন সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী ও আবু হাতিম আর-রাযী সিকাহ বললেও ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭১০, ১৬/৪২০ নং পৃষ্ঠা)

১৬৫১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫১


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ ح و حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ قَالَا حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ فَلَا صَوْمَ حَتَّى يَجِيءَ رَمَضَانُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শা‘বান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে রমজান মাস না আসা পর্যন্ত কোন সিয়াম নাই। [১৬৫১]

[১৬৫১] তিরমিযী ৭৩৮; আবূ দাউদ ২৩৩৭; আহমাদ ৯৪১৪; দারেমী ১৭৪০ মিশকাত ১৯৭৪, সহীহ আবী দাউদ ২০২৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা)

৭/৬. অধ্যায়ঃ

নতুন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান।

১৬৫২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫২


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَوْدِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبْصَرْتُ الْهِلَالَ اللَّيْلَةَ فَقَالَ أَتَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ قَالَ قُمْ يَا بِلَالُ فَأَذِّنْ فِي النَّاسِ أَنْ يَصُومُوا غَدًا قَالَ أَبُو عَلِيٍّ هَكَذَا رِوَايَةُ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ وَالْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ فَلَمْ يَذْكُرْ ابْنَ عَبَّاسٍ وَقَالَ فَنَادَى أَنْ يَقُومُوا وَأَنْ يَصُومُوا.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক বেদুইন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললো, আমি আজ রাতে (সন্ধ্যায়) নতুন চাঁদ দেখেছি। তিনি বলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, “আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রসূল”? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেন, হে বিলাল! ওঠো এবং লোকদের মধ্যে ঘোষণা দাও যে, তারা যেন আগামীকাল থেকে সিয়াম রাখে। [১৬৫২]

[১৬৫২] তিরমিযী ৬৯১; নাসায়ী ২১১২, ২১১৩; আবূ দাউদ ২৩৪০; দারেমী ১৬৯২ ইরওয়াহ, ৯০৭, যঈফ আবী দাউদ ৪০২-৪০৩। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী সিমাক বিন হারব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তার পূর্বে বর্ণিত হাদিস যারা শ্রবন করেছেন তা সহিহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৭৯, ১২/১১৫ নং পৃষ্ঠা)

১৬৫৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ حَدَّثَنِي عُمُومَتِي مِنْ الْأَنْصَارِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا أُغْمِيَ عَلَيْنَا هِلَالُ شَوَّالٍ فَأَصْبَحْنَا صِيَامًا فَجَاءَ رَكْبٌ مِنْ آخِرِ النَّهَارِ فَشَهِدُوا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ رَأَوْا الْهِلَالَ بِالْأَمْسِ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنْ يُفْطِرُوا وَأَنْ يَخْرُجُوا إِلَى عِيدِهِمْ مِنْ الْغَدِ

আবূ উয়ায়মির বিন আনাস বিন মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবী এবং আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত আমার এক চাচা (ইসমু মুবহাম বা নাম অজ্ঞাত) আমার নিকট বর্ণনা করেন, মেঘের কারণে আমরা শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখতে পাইনি। আমরা (পরের দিন) সিয়াম রাখলাম। দিনের শেষভাগে একটি কাফেলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে গতকাল চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকেদেরকে ইফতার (সিয়াম ভঙ্গ) করার এবং পরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দেন। [১৬৫৩]

[১৬৫৩] নাসায়ী ১৫৫৭, আবূ দাউদ ১১৫৭ ইরওয়াহ ৬৩৪, সহীহ আবী দাউদ ১০৫০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৭. অধ্যায়ঃ

চাঁদ দেখে সিয়াম রাখো এবং চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদ) করো।

১৬৫৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫৪


حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَيْتُمْ الْهِلَالَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَصُومُ قَبْلَ الْهِلَالِ بِيَوْمٍ.

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম রাখা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার (রোযার সমাপ্তি) করবে। তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে। ইবনু উমার (রাঃ) নতুন চাঁদ দেখার একদিন আগেও সিয়াম রাখতেন। [১৬৫৪]

[১৬৫৪] সহীহুল বুখারী ১৯০০, ১৯০৬, ১৯০৭, মুসলিম ১০৮০, নাসায়ী ২১২০, ২১২১, ২১২২, আবূ দাউদ ২৩২০, আহমাদ ৪৪৭৪, ৪৫৯৭, ৫২৭২, ৬২৮৭, মুয়াত্তা মালেক ৬৩৩, ৬৩৪, দারেমী ১৬৮৪ ইরওয়াহ ৪/১০০, সহীহ আবী দাউদ ২০০৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ বিন উসমান আল উসমানী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বুখারী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৫৪, ২৬/৮১ নং পৃষ্ঠা)

১৬৫৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫৫


حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَيْتُمْ الْهِلَالَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلَاثِينَ يَوْمًا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা নতুন চাঁদ দেখে সিয়াম রাখা শুরু করবে এবং (শাওয়ালের) নতুন চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদ) করবে। তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তোমরা ৩০ দিন সিয়াম রাখবে। [১৬৫৫]

[১৬৫৫] সহীহুল বুখারী ১৯০৯, মুসলিম ১০৮১, তিরমিযী ৬৮৪, নাসায়ী ২১১৭, ২১১৮, ২১১৯, ২১২৩, আহমাদ ৭৪৬৪, ৭৫২৭, ৭৭২১, ৭৮০৪, ৯১১২, ৯২৭১, ২৭২১১, ২১৩১৭, দারেমী ১৬৮৫ ইরওয়াহ ৯০২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ বিন উসমান আল উসমানী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বুখারী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৫৪, ২৬/৮১ নং পৃষ্ঠা)

৭/৮. অধ্যায়ঃ

ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়।

১৬৫৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَمْ مَضَى مِنْ الشَّهْرِ قَالَ قُلْنَا اثْنَانِ وَعِشْرُونَ وَبَقِيَتْ ثَمَانٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الشَّهْرُ هَكَذَا وَالشَّهْرُ هَكَذَا وَالشَّهْرُ هَكَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَأَمْسَكَ وَاحِدَةً

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করেনঃ মাসের কত দিন গত হয়েছে? রাবী বলেন, আমরা বললাম, বাইশ দিন এবং আট দিন বাকী আছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনে হয় এবং মাস এত দিনেও হয়। তৃতীয়বার তিনি এক আঙ্গুল বন্ধ রাখেন। [১৬৫৬]

[১৬৫৬] আহমাদ ৭৩৭৫ সহীহ আবী দাউদ ২০০৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৫৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا وَعَقَدَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ فِي الثَّالِثَةِ

সা‘দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনেও হয় এবং তৃতীয়বারে তিনি একটি আঙ্গুল বন্ধ করে রাখেন। [১৬৫৭]

[১৬৫৭] মুসলিম ১০৮৬, নাসায়ী ২১৩৫, ২১৩৬ আহমাদ ১৫৯৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৫৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫৮


حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ الْمُزَنِيُّ حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا صُمْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تِسْعًا وَعِشْرِينَ أَكْثَرُ مِمَّا صُمْنَا ثَلَاثِينَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে ঊনত্রিশ দিনের চেয়ে বেশির ভাগ ত্রিশ দিনই (রমাদানের রোযা) রেখেছি। [১৬৫৮]

[১৬৫৮] সহীহ আবী দাউদ ২০১১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।

৭/৯. অধ্যায়ঃ

ঈদের দু’ মাস

১৬৫৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৫৯


حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ شَهْرَا عِيدٍ لَا يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ

আবূ বাক্রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঈদের দু’মাস রমজান এবং যুল-হিজ্জা (সাধারণত) একই বছরে কম (ঊনত্রিশ দিনে) হয় না। [১৬৫৯]

[১৬৫৯] সহীহুল বুখারী ১৯১২, মুসলিম ১০৮৯, তিরমিযী ৬৯২, আবূ দাউদ ২৩২৩, আহমাদ ১৯৮৮৬, সহীহ আবী দাউদ ২০১২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৬০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي عُمَرَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالْأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে দিন তোমরা ইফতার (সিয়াম শেষ) করো সেদিন ঈদুল ফিতর এবং যেদিন তোমরা কুরবানী করো সেদিন ঈদুল আদহা। [১৬৬০]

[১৬৬০] তিরমিযী ৬৯৭, আবূ দাউদ ২৩২৪, ইরওয়াহ ৯০৫, সহীহাহ ২২৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন উমার বিন আবু উমার আল-মুকরী সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞাত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৯৮, ২৬/১৭৬ নং পৃষ্ঠা)। উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু মুহাম্মাদ বিন উমার বিন আবু উমার আল-মুকরী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৬২ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ১৬ টি দুর্বল, ২৬ টি হাসান, ২০ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিযি ৬৯৭, ৮০২, সুনান আদ দারাকুতনী ২১৬০, ২১৬১, ২৪২৪, শারহুস সুন্নাহ ১৭২৫, ১৭২৬, মু'জামুল আওসাত ৩৩১৫ ইত্যাদি।

৭/১০. অধ্যায়ঃ

সফররত অবস্থায় সিয়াম রাখা।

১৬৬১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬১


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ وَأَفْطَرَ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো সফররত অবস্থায় সিয়াম রাখতেন এবং কখনো রাখতেন না। [১৬৬১]

[১৬৬১] সহীহুল বুখারী ১৯৪৪, ১৯৪৮, ২৯৫৪, ৪২৭৫, ৪২৭৬, ৪২৭৮, ৪২৭৯, মুসলিম ১১১৩, নাসায়ী ২২৮৬, ২২৮৮, ২২৮৯, ২২৯০, ২২৯১, ২৩১৩, ২৩১৪, আবূ দাউদ ২৪০৪, আহমাদ ১৮৯৫, ২১৮৬, ২৩৫৯, ২৩৮৮, ৩০৭৯, ৩১৯৯, ২৩৪৮, ৩২৬৯, ২৪৫০, মুয়াত্তা মালেক ৬৫৩, দারেমী ১৭০৮ সহীহ আবী দাউদ ২০৮০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৬২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬২


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلَ حَمْزَةُ الْأَسْلَمِيُّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হামযাহ আল-আসলামী (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করে বলেন, আমি সিয়াম রাখি। আমি কি সফররত অবস্থায়ও সিয়াম রাখবো? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি চাইলে সিয়াম রাখো, আর যদি চাও না রাখো। [১৬৬২]

[১৬৬২] সহীহুল বুখারী ১৯৪২, ১৯৪৩, মুসলিম ১১২১, তিরমিযী ৭১১, নাসায়ী ২৩০৫, ২৩০৭, ২৩০৬, ২৩০৮, ২৩৮৪, আবূ দাউদ ২৪০২, আহমাদ ২৩৬৭৬, ২৫০৭৯, ২৫১৩৭, ২৫২০২, ১৭০৭ রওয়াহ ৯২৭, সহীহাহ ১৯৪, সহীহ আবী দাউদ ২০৭৯। ইরওয়াহ ৯২৭, সহীহাহ ১৯৪, সহীহ আবী দাউদ ২০৭৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৬৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ ح و حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَمَّالُ قَالَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَيَّانَ الدِّمَشْقِيِّ حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فِي الْيَوْمِ الْحَارِّ الشَّدِيدِ الْحَرِّ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا فِي الْقَوْمِ أَحَدٌ صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ

আবূ দারদা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে প্রচণ্ড খরতাপের শিকার হলাম। গরমের তীব্রতার কারণে লোকেরা তাদের হাত মাথার উপর রাখছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ (রাঃ) ব্যতীত দলের মধ্যে আর কেউ রোযাদার ছিলো না। [১৬৬৩]

[১৬৬৩] সহীহুল বুখারী ১৯৪৫, মুসলিম ১১২২, আবূ দাউদ ২৪০৯, আহমাদ ২১১৮৯ সহীহাহ ১৯১, সহীহ আবী দাউদ ২০৮৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হিশাম বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। তার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৭৭, ৩০/২০৪ নং পৃষ্ঠা) ২. উসমান বিন হায়্যান আদ-দিমাশকী সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি আল-ওয়ালীদ বিন আবদুল মালিক এর কর্মচারী। ইবনু হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮০৬, ১৯/৩৬০ নং পৃষ্ঠা)

৭/১১. অধ্যায়ঃ

সফররত অবস্থায় সিয়াম না রাখা।

১৬৬৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ

কা’ব বিন আসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সফরে সিয়াম রাখা সাওয়াবের কাজ নয়। [১৬৬৪]

[১৬৬৪] নাসায়ী ২২৫৫, আহমাদ ২৩১৬৭, ২৩১৬৮, ২৩১৬৯, দারেমী ১৭১০, ১৭১১, ইরওয়া ৪/৫৮, ৯২৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৬৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সফরে সিয়াম রাখা সাওয়াবের কাজ নয়। [১৬৬৫]

[১৬৬৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ৪/৫৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা)

১৬৬৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬৬


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى التَّيْمِيُّ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صَائِمُ رَمَضَانَ فِي السَّفَرِ كَالْمُفْطِرِ فِي الْحَضَرِ

আবদুর রহমান বিন আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফরে সিয়াম রাখে সে আবাসে উপস্থিত সিয়াম ভঙ্গকারী ব্যক্তির অনুরূপ। আবূ ইসহাক (রহঃ) বলেন, হাদীসটি নির্ভরযোগ্য নয়। [১৬৬৬]

[১৬৬৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যঈফাহ ৪৯৮, তা’লীকুর রগীব ২/৯১। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন মুসা আত-তায়মী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৯৭, ১৬/১৮৪ নং পৃষ্ঠা) ২. উসামাহ বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ উল্লেখ করে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল-আজলী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীল হিসেবে নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৭, ২/৩৪৭ নং পৃষ্ঠা)

৭/১২. অধ্যায়ঃ

গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়ের সিয়াম না রাখার সুযোগ।

১৬৬৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬৭


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِي هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَوَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبٍ قَالَ أَغَارَتْ عَلَيْنَا خَيْلُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ ادْنُ فَكُلْ قُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ اجْلِسْ أُحَدِّثْكَ عَنْ الصَّوْمِ أَوْ الصِّيَامِ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ عَنْ الْمُسَافِرِ شَطْرَ الصَّلَاةِ وَعَنْ الْمُسَافِرِ وَالْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوْ الصِّيَامَ وَاللهِ لَقَدْ قَالَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كِلْتَاهُمَا أَوْ إِحْدَاهُمَا فَيَا لَهْفَ نَفْسِي فَهَلَّا كُنْتُ طَعِمْتُ مِنْ طَعَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল আশহাল গোত্রের এবং আলী বিন মুহাম্মাদের মতে আবদুল্লাহ বিন কা’ব গোত্রের এক ব্যক্তি বললেন, রসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অশ্বারোহী বাহিনী আমাদের উপর হামলা করলো। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলাম যে, তিনি সকালের নাস্তা করছেন। তিনি বলেন, কাছে এসো এবং আহার করো। আমি বললাম, আমি রোযাদার। তিনি বলেন, বসো, আমি তোমার সাথে সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা করবো। মহান আল্লাহ্ মুসাফির থেকে অর্ধেক সলাত হ্রাস করেছেন এবং মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারিণীকে সিয়াম রাখার ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন। আল্লাহ্‌র শপথ! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দু’টি অথবা একটির কথা বলেছেন। আমার নিজের জন্য দুঃখ হয়, আমি কেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে আহার করলাম না! [১৬৬৭]

[১৬৬৭] তিরমিযী ৭১৫, নাসায়ী ২২৭৪, ২২৭৬, ২৩১৫, আবূ দাউদ ২৪০৮, আহমাদ ১৮৫৬৮, ১৯৮১৪, মিশকাত ২০২৫, সহীহ আবী দাউদ ২০৮৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু হিলাল সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। বাযযার বলেন, তিনি গায়র হাফিয। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৫৬, ২৫/২৯২ নং পৃষ্ঠা)

১৬৬৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬৮


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِلْحُبْلَى الَّتِي تَخَافُ عَلَى نَفْسِهَا أَنْ تُفْطِرَ وَلِلْمُرْضِعِ الَّتِي تَخَافُ عَلَى وَلَدِهَا

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে গর্ভবতী নারী নিজ জীবনের ক্ষতির আশঙ্কা করে এবং যে স্তন্যদায়িনী মা তার সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে সিয়াম না রাখার অনুমতি দিয়েছেন। [১৬৬৮]

[১৬৬৮] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। রওযুন নাদীর ৭৪। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী রাবী' বিন বাদর সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৮৫৪, ৯/৬৩ নং পৃষ্ঠা)

৭/১৩. অধ্যায়ঃ

রমাদানের সিয়াম কাদা’ করা।

১৬৬৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৬৯


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ إِنْ كَانَ لَيَكُونُ عَلَيَّ الصِّيَامُ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَمَا أَقْضِيهِ حَتَّى يَجِيءَ شَعْبَانُ.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার উপর রমজান মাসের রোযার কাদা’ থাকলে আমি শা’বান মাস না আসা পর্যন্ত তা রাখতাম না। [১৬৬৯]

[১৬৬৯] সহীহুল বুখারী ১৯৫০, মুসলিম ১১৪৬, তিরমিযী ৭৮৩, নাসায়ী ২১৭৮, ২৩১৯, আবূ দাউদ ২৩৯৯, আহমাদ ২৪৪০৭, ২৪৯৩৪, মুয়াত্তা মালেক ৬৮৬ ইরওয়াহ ৯৪৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আলী ইবনুল মুনযীর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী ও সিকাহ। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৪০, ২১/১৪৫ নং পৃষ্ঠা)

১৬৭০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭০


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عُبَيْدَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنَّا نَحِيضُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّوْمِ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় আমরা ঋতুবতী হতাম। তিনি আমাদের (ছুটে যাওয়া) রোযার কাদা’ করার নির্দেশ দিতেন। [১৬৭০]

[১৬৭০] মুসলিম ৩৩৫, নাসায়ী ২৩১৯, সহীহ আবী দাউদ ২৫৫, ইরওয়াহ ২০০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী উবায়দ সম্পর্কে আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল ও তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মানুষ তাকে বর্জন করেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৬০, ১৯/২৭৩ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু উবায়দাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৬ টি শাহিদ হাদিস রিয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৩২১, মুসলিম ৩৩৬, ৩৩৭, তিরমিযি ৭৮৭, আবু দাউদ ২৬২, দারিমী ৯৮৬, ৯৮৮, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১২৭৭, শারহুস সুন্নাহ ৩২৩ ইত্যাদি।

৭/১৪. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি রমাদানের একটি রোযাও ভঙ্গ করে তার কাফফারা।

১৬৭১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭১


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ هَلَكْتُ قَالَ وَمَا أَهْلَكَكَ قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَعْتِقْ رَقَبَةً قَالَ لَا أَجِدُ قَالَ صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لَا أُطِيقُ قَالَ أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لَا أَجِدُ قَالَ اجْلِسْ فَجَلَسَ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أُتِيَ بِمِكْتَلٍ يُدْعَى الْعَرَقَ فَقَالَ اذْهَبْ فَتَصَدَّقْ بِهِ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا بَيْنَ لَابَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَحْوَجُ إِلَيْهِ مِنَّا قَالَ فَانْطَلِقْ فَأَطْعِمْهُ عِيَالَكَ

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فَقَالَ وَصُمْ يَوْمًا مَكَانَهُ.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললো, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বলেন, কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো। সে বললো, আমি রমযানের রোযারত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি একটি গোলাম আযাদ করো। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্য নেই। তিনি বলেন, তাহলে একাধারে দু’মাস সিয়াম রাখো। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্যও নেই। তিনি বলেন, তাহলে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্যও নেই। তিনি বলেন, তুমি বসো। অতএব সে বসে থাকলো। ইতোমধ্যে এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তিনি বলেন, যাও এটা দান করে দাও। সে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! মদীনার দু’ কংকরময় প্রান্তরের মাঝে আমাদের চেয়ে অধিক অভাবগ্রস্ত আর কেউ নেই। তিনি বললেন, যাও, এগুলো তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও। [১৬৭১]

[উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের একটি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ]

১/১৬৭১(১). আবূ হুরায়রা (রাঃ), রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তার পরিবর্তে একদিন সিয়াম রাখো। [১৬৭১]

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

[১৬৭১] সহীহুল বুখারী ১৯৩৬, ১৯৩৭, ২৬০০, ৫৩৬৮, ৬০৮৭, ৬১৬৪, ৬৭০৯, ৬৭১০, ৬৭১১, ৬৮২২, মুসলিম ১১১১, তিরমিযী ৭২৪, আবূ দাউদ ২৩৯০, ২৩৯২, আহমাদ ৬৯০৫, ৭২৪৮, ৭৭২৭, ১০৩০৯, মুয়াত্তা মালেক ৬৬০, দারেমী ১৭১৬, ইরওয়াহ ৯৩৯, সহীহ আবী দাউদ ২০৬৮-২০৭৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল জাব্বার বিন উমার সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি একাধিক মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-যাহলী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও মুনকার। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৯৫, ১৬/৩৮৮ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুল জাব্বার বিন উমার এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫১৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ৬৬ টি অধিক দুর্বল, ১৫৪, টি দুর্বল, ১৪১ টি হাসান, ১৫৩ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৯৩৫, ১৯৩৬, ১৯৩৭, ২৬০০, ৫৩৬৮, ৬০৮৭, ৬১৬৪, ৬৭০৯, ৬৭১০, ৬৭১১, ৬৮২২, মুসলিম ১১১২, ১১১৩, তিরমিযি ১১৯৮, ১১৯৯, ৩২৯৯, সুনান আবু দাউদ ২২১৩, ২২১৪, ২২১৭, ২২১৮, ২২২১, ২২২২, ২৩৯০, ২৩৯৪, দারিমী ১৭১৬, ১৭১৮, ২২৭৩ ইত্যাদি।

১৬৭২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭২


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ ابْنِ الْمُطَوِّسِ عَنْ أَبِيهِ الْمُطَوِّسِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ لَمْ يُجْزِهِ صِيَامُ الدَّهْرِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিনা ওজরে রমজান মাসের একদিন সিয়াম ভাঙ্গে সে সারা জীবন সিয়াম রাখলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না। [১৬৭২]

[১৬৭২] তিরমিযী ৭২৩, আবূ দাউদ ২৩৯৬, আহমাদ ৮৭৮৭, ৯৪১৩, ৯৫৯৩, ৯৭৩০, দারেমী ১৭১৪, তা’লীকুর রগীব ২/৭৪, যঈফ আবী দাউদ ৪১৩, মিশকাত ২০১৩। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী (ইয়াযীদ) ইবনুল মুতাব্বিস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তাকে চিনি না। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি তার পিতা থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা তার হাদিসের অনুসরণ করা যায় না। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৬৩৪, ৩৪/২৯৯ নং পৃষ্ঠা) ২. মুতাব্বিস সম্পর্কে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬০১০, ২৮/৮৯ নং পৃষ্ঠা)

৭/১৫. অধ্যায়ঃ

কোন ব্যক্তি ভুলবশত সিয়াম ভঙ্গ করলে।

১৬৭৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَوْفٍ عَنْ خِلَاسٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ أَكَلَ نَاسِيًا وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন রোযাদার ভুলক্রমে আহার করলে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ্‌ তাকে পানাহার করিয়েছেন। [১৬৭৩]

[১৬৭৩] সহীহুল বুখারী ১৯৩৩, ৬৬৬৯, মুসলিম ১১৫৫, তিরমিযী ৭২১, আবূ দাউদ ২৩৯৮, ৮৮৯১, ৯২০৫, ৯৯৭৫, ৯৯৯৬, ১০০২০, ১০২৮৭, দারেমী ১৭২৬, ১৭২৭, ইরওয়াহ ৯৩৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৭৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ أَفْطَرْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمِ غَيْمٍ ثُمَّ طَلَعَتْ الشَّمْسُ قُلْتُ لِهِشَامٍ أُمِرُوا بِالْقَضَاءِ قَالَ فَلَا بُدَّ مِنْ ذَلِكَ

আসমা’ বিনত আবূ বাক্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় মেঘাচ্ছন্ন দিনে ইফতার করলাম, তারপর সূর্য প্রকাশ পেলো। অধঃস্তন রাবী বলেন, আমি হিশাম (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাদেরকে কাযা’ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল কি? তিনি বলেন, অবশ্যই। [১৬৭৪]

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ, বুখারী তাতে অতিরিক্ত মুয়াল্লাক রূপে আছে বিধায় হিশাম বলেছেনঃ আমি জানিনা তারা কি কাযা করেছেন না করেন নি?

[১৬৭৪] সহীহুল বুখারী ১৯৫৯, আবূ দাউদ ২৩৫৯, আবী দাউদ ২০৪২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। বুখারী, তাতে অতিরিক্ত মুয়াল্লাক রূপে আছে হিশাম বলেছেনঃ আমি জানিনা তারা কি কাযা করেছেন না করেন নি?

৭/১৬. অধ্যায়ঃ

রোযাদার বমি করলে

১৬৭৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭৫


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَعْلَى وَمُحَمَّدُ ابْنَا عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيِّ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ قَالَ سَمِعْتُ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ يُحَدِّثُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْهِمْ فِي يَوْمٍ كَانَ يَصُومُهُ فَدَعَا بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ هَذَا يَوْمٌ كُنْتَ تَصُومُهُ قَالَ أَجَلْ وَلَكِنِّي قِئْتُ

ফাদালাহ বিন উবায়দ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন রোযারত অবস্থায় তাদের নিকট বেরিয়ে আসেন। তিনি পানির পাত্র চেয়ে নিয়ে পানি পান করেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো এই দিন (নফল) সিয়াম রেখেছিলেন। তিনি বলেন, হাঁ, তবে আমি বমি করেছি। [১৬৭৫]

[১৬৭৫] তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)

১৬৭৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭৬


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ ح و حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ أَبُو الشَعْثَاءِ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ جَمِيعًا عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ ذَرَعَهُ الْقَيْءُ فَلَا قَضَاءَ عَلَيْهِ وَمَنْ اسْتَقَاءَ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যার মুখ ভরে বমি হয় তাকে সিয়াম কাদা’ করতে হবে না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে তাকে রোযার কাদা’ করতে হবে। [১৬৭৬]

[১৬৭৬] তিরমিযী ৭২০, আবূ দাউদ ২৩৮০, আহমাদ ১০০৮৫, দারেমী ১৭২৯, ইরওয়াহ ৯২৩, তা’লীক ইবনু খুযাইমাহ ১৯৬০, ১৯৬১, সহীহ আবী দাউদ ২০৫৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/১৭. অধ্যায়ঃ

রোযাদারের মিসওয়াক করা ও সুরমা লাগানো।

১৬৭৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭৭


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَعِيلَ الْمُؤَدِّبُ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْرِ خِصَالِ الصَّائِمِ السِّوَاكُ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোযাদারের উত্তম গুণাবলির একটি হলো দাঁতন করা। [১৬৭৭]

[১৬৭৭] যঈফাহ ৩৫৭৪। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু ইসমাইল আল-মুআদ্দিব সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন সালিহ আল জায়লী তাকে সিকাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৮, ২/৯৯ নং পৃষ্ঠা) ২. মুজালীদ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৮০, ২৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা)

১৬৭৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭৮


حَدَّثَنَا أَبُو التَّقِيِّ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اكْتَحَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় সুরমা লাগিয়েছেন। [১৬৭৮]

[১৬৭৮] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। রওদুন নাদীর ৭৫৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবুত তাকী হিশাম বিন আবদুল মালিক আল হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিসের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য। আবু হাতিম বিন হিব্বান তার সিকাহ গ্রন্থে তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৫৮৩, ৩০/২২৩ নং পৃষ্ঠা)

৭/১৮. অধ্যায়ঃ

রোযাদারের রক্তমোক্ষণ করানো

১৬৭৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৭৯


حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ وَدَاوُدُ بْنُ رَشِيدٍ قَالَا حَدَّثَنَا مُعَمَّرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بِشْرٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়, তারা উভয়ে সিয়াম ভঙ্গ করেছে। [১৬৭৯]

[১৬৭৯] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ৪/৬৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন বিশর সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী আল-জুরজানী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিসের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবূরী বলেন, তিনি আ'মাশ থেকে একাধিক হাদিস মুনকার সুত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু হাজার আল আসকালানী বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই কিন্তু ইবনু মাঈন ও ইবনু হিব্বান তার বিরোধিতা করেছেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি হাফিয নয়। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি যুহরীর হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৮২, ১৪/৩৩৬ নং পৃষ্ঠা)

১৬৮০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮০


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي أَبُو قِلَابَةَ أَنَّ أَبَا أَسْمَاءَ حَدَّثَهُ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ».

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়েছে তারা উভয়ে সিয়াম ভঙ্গ করেছে। [১৬৮০]

[১৬৮০] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ৯৩১, সহীহ আবী দাউদ ২০৪৯, ২০৫২-২০৫৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৮১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮১


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي قِلَابَةَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ شَدَّادَ بْنَ أَوْسٍ بَيْنَمَا هُوَ يَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَقِيعِ فَمَرَّ عَلَى رَجُلٍ يَحْتَجِمُ بَعْدَ مَا مَضَى مِنْ الشَّهْرِ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ لَيْلَةً فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ

শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(আবূ কিলাবাহ) অবহিত করেন যে, একদা শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বাকী‘ নামক স্থানে হাঁটছিলেন। তিনি এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গমন করেন, যে রক্তমোক্ষণ করছিল, তখন রমজান মাসের আঠার দিন গত হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, রক্তমোক্ষক ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়েছে তারা উভয়ে সিয়াম ভঙ্গ করেছে। [১৬৮১]

[১৬৮১] আবূ দাউদ ২৩৬৭, ২৩৬৯,আহমাদ ১৬৬৬৩, ১৬৬৬৮, ১৬৬৭৫, ১৬৬৮৮, দারেমী ১৭৩০, ইরওয়াহ ৪/৬৮-৭০, সহীহ আবী, দাউদ ২০৫০, ২০৫১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৮২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ مُحْرِمٌ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিয়াম ও ইহরামরত অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। সহীহ, এ শব্দে তিনি মুহরিম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। [১৬৮২]

তাহকীক আলবানীঃ (“আরবী’) শব্দ দ্বারা সহীহ।

[১৬৮২] সহীহুল বুখারী ১৮৩৫, ১৯৩৮, ১৯৩৯, ২১০৩, ২২৭৮, ২২৭৯, ৫৬৯১, ৫৬৯৪, ৫৬৯৫, ৫৬৯৯,৫৭০১, মুসলিম ১২০২, তিরমিযী ৭৭৫, ৭৭৬, ৭৭৭, ৮৩৯, নাসায়ী ২৮৪৫, ২৮৪৬, ২৮৪৭, আবূ দাউদ ১৮৩৫, ১৮৩৬, ২৩৭২, ২৩৭৩, আহমাদ ১৮৫২, ১৯২২, ১৯৪৪, ২১০৯, ২১৮৭, ২২২৯, ২২৪৩, ২২৪৯,২৩৩৩, ২৩৫১, ২৫৩২, ২৫৮৪, ২৬৫৪, ২৭১১, ২৭৮৫৩, ২৮৮৩, ৩০৬৫, ৩০৬৮, ৩২০১, ৩২২৩, ৩২৭২, ৩৫১৩,৩৫৩৭ দারেমী ১৮১৯, ১৮২১ ইরওয়াহ ৯৩২, সহীহ আবী দাউদ ২০৫৪। তাহকীক আলবানীঃ তিনি মুহরিম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন, এ শব্দে সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা) ২. ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ তাকে সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে কিন্তু দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৯১, ৩২/১৩৫ নং পৃষ্ঠা)

৭/১৯. অধ্যায়ঃ

রোযাদারের চুমু দেয়া সম্পর্কে

১৬৮৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ الْجَرَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ فِي شَهْرِ الصَّوْمِ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসে চুমা দিতেন। [১৬৮৩]

[১৬৮৩] সহীহ, ইরওয়াহ ৪/৮২, সহীহ আবী দাউদ ২০৬২, সহীহাহ ২১৯-২২১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহ সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিসের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৯৯, ১৪/৩৬১ নং পৃষ্ঠা)

১৬৮৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ وَأَيُّكُمْ يَمْلِكُ إِرْبَهُ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَمْلِكُ إِرْبَهُ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় চুমা দিতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন, তোমাদের মধ্যে কে নিজের উপর তদ্রূপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রাখে! [১৬৮৪]

[১৬৮৪] সহীহাহ ২২০, সহীহ আবী দাউদ ২০৬১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৮৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮৫


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ عَنْ حَفْصَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ

হাফসাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় চুমা দিতেন। [১৬৮৫]

[১৬৮৫] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৮৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮৬


. حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ زَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي يَزِيدَ الضِّنِّيِّ عَنْ مَيْمُونَةَ مَوْلَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَجُلٍ قَبَّلَ امْرَأَتَهُ وَهُمَا صَائِمَانِ قَالَ قَدْ أَفْطَرَا

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্ত দাসী মায়মূনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রোযাদার দম্পতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, স্বামী তাকে চুমা দিয়েছে। তিনি বলেন, তারা সিয়াম ভঙ্গ করেছে। [১৬৮৬]

তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত দঈফ, তা’লীক ইবনু মাজাহ।

[১৬৮৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৪/২১৮। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ, তা’লীক ইবনু মাজাহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু ইয়াযীদ আদ-দিন্নী সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি পরিচিত নন। ইবনু মাকুলা বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি একজন অপরিচিত ব্যাক্তি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৭০৫, ৩৪/৪০৮ নং পৃষ্ঠা)

৭/২০. অধ্যায়ঃ

সিয়াম অবস্থায় স্ত্রীর দেহ স্পর্শ করা।

১৬৮৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮৭


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ دَخَلَ الْأَسْوَدُ وَمَسْرُوقٌ عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَا أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ قَالَتْ كَانَ يَفْعَلُ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لِإِرْبِهِ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(ইবরাহীম) বলেন, আসওয়াদ ও মাসরূক আয়িশা (রাঃ)–এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় কি স্ত্রীর দেহের সাথে নিজ দেহ মিলাতেন? তিনি বলেন, তিনি তা করতেন। আর তিনি ছিলেন তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সংযমী। [১৬৮৭]

[১৬৮৭] ইরওয়াহ ৪/৮১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৮৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رُخِّصَ لِلْكَبِيرِ الصَّائِمِ فِي الْمُبَاشَرَةِ وَكُرِهَ لِلشَّابِّ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বৃদ্ধ রোযাদারকে স্ত্রীর দেহ স্পর্শ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং যুবকদের জন্য তা অপছন্দ করা হয়েছে। [১৬৮৮]

[১৬৮৮] সহীহ আবী দাউদ ২০৬৫, বায়হাকী ৪/২৩৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও তিনি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি জঘন্য মিথ্যুক। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আল খাল্লাল তাকে খুবই দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫১৭৮, ২৫/১৩৯ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু মুহাম্মাদ বিন খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ১৮ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৪ টি অধিক দুর্বল, ৯ টি দুর্বল, ১ টি হাসান, ৪ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, আবু দাউদ ২৩৮৭, মু'জামুল আওসাত ৮৪২১, আহমাদ ৬৭০০, ৭০১৪।

৭/২১. অধ্যায়ঃ

রোযাদার ব্যক্তির গীবত ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া ।

১৬৮৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৮৯


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যাচার, মূর্খতা ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করলো না, তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহ্‌র কোন প্রয়োজন নেই। [১৬৮৯]

[১৬৮৯] সহীহ আবী দাউদ, ২০৪৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৯০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯০


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কত রোযাদার আছে যাদের রোযার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত সলাত আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না। [১৬৯০]

[১৬৯০] আহমাদ ৮৬৩৯, ৯৩৯২, দারেমী ২৭২০, বায়হাকী ৪/২৭০, মিশসাত ২০১৪। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী উসামাহ বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ উল্লেখ করে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল আজলী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীল হিসেবে নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৭, ২/৩৪৭ নং পৃষ্ঠা)

১৬৯১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯১


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ وَإِنْ جَهِلَ عَلَيْهِ أَحَدٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সিয়াম অবস্থায় অশ্লীল ও মূর্খতাসুলভ আচরণ না করে। কেউ তার সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ করলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার। [১৬৯১]

[১৬৯১] সহীহুল বুখারী ১৮৯৪, ১৯০৪,মুসলিম ১১৫১,তিরমিযী ৭৬৪, নাসায়ী ২২১৬, ২২১৭, আহমাদ ৭৬৩৬, ৯৬৭৩, বায়হাকী ৪/২৭৫, সহীহ আবী দাউদ ২০৪৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/২২. অধ্যায়ঃ

সাহরী খাওয়া

১৬৯২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯২


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাবে। কেননা সাহরীতে বরকত আছে। [১৬৯২]

[১৬৯২] সহীহুল বুখারী ১৯২৩, মুসলিম ১০৯৫, তিরমিযী ৭০৮, নাসায়ী ২১৪৬, আহমাদ ১১৫৩৯, ১২৮৩৩, ১২৯৭৭, ১৩১৩৯, ১৩২৯৩, ১৩৫৮১, দারেমী ১৬৯৬, বায়হাকী ৩/৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৯৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ سَلَمَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اسْتَعِينُوا بِطَعَامِ السَّحَرِ عَلَى صِيَامِ النَّهَارِ وَبِالْقَيْلُولَةِ عَلَى قِيَامِ اللَّيْلِ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা সাহরী খাওয়ার মাধ্যমে দিনে সিয়াম রাখার জন্য এবং দিনে বিশ্রামের মাধ্যমে রাতে নামায পড়ার জন্য সাহায্য গ্রহণ করো। [১৬৯৩]

[১৬৯৩] তা’লীকুর রগীব ২/৯৩, যঈফাহ ২৭৫৮। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী যামআহ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সহিহ হাদিসের বিপরীত বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০০৩, ৯/৩৮৬ নং পৃষ্ঠা)

৭/২৩. অধ্যায়ঃ

বিলম্বে সাহরী খাওয়া

১৬৯৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯৪


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلَاةِ قُلْتُ كَمْ بَيْنَهُمَا قَالَ قَدْرُ قِرَاءَةِ خَمْسِينَ آيَةً

যায়িদ বিন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাহরী খেলাম, এরপর সালাতে দাঁড়ালাম। রাবী কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, সাহরী ও সলাতের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বলেন, পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করার পরিমাণ সময়। [১৬৯৪]

[১৬৯৪] সহীহুল বুখারী ৫৭৫, ১৯২১, মুসলিম ১০৯৭, তিরমিযী ৭০৩, নাসায়ী ২১৫৫, ২১৫৬, আহমাদ ২১০৮৫, দারেমী ১৬৯৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৯৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯৫


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ تَسَحَّرْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ النَّهَارُ إِلَّا أَنَّ الشَّمْسَ لَمْ تَطْلُعْ

হুযায়ফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বলতে গেলে দিনেই সাহরী খেয়েছি, পার্থক্য এতটুকু যে, তখনও সূর্য উদিত হয়নি। [১৬৯৫]

[১৬৯৫] নাসায়ী ২১৫২, তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন বাহদালাহ সম্পর্কে আবু বকর আল বাযযার বলেন, তিনি হাফিয ছিলেন না, তার হাদিস কেউ বর্জন করেছেন এমন কাউকে পাওয়া যায় না। আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল ছাড়া তার মাঝে অন্য কোন দোষ পায়নি। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। ইসমাইল বিন উলায়্যাহ বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০০২, ১৩/৪৭৩ নং পৃষ্ঠা)

১৬৯৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯৬


- حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ أَذَانُ بِلَالٍ مِنْ سُحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ لِيَنْتَبِهَ نَائِمُكُمْ وَلِيَرْجِعَ قَائِمُكُمْ وَلَيْسَ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَلَكِنْ هَكَذَا يَعْتَرِضُ فِي أُفُقِ السَّمَاءِ

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে তার সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা সে তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাবার বা সতর্ক করার জন্য এবং তোমাদের সলাতীকে সলাতে রত বা অবসর হওয়ার জন্য আযান দিয়ে থাকে। আর এ সময়কে ফজর বলা হয় না, বরং উর্ধাকাশে আড়াআড়িভাবে সাদা আভা প্রকাশ পাওয়াই ফজর। [১৬৯৬]

[১৬৯৬] সহীহুল বুখারী ৬২১, ৫২৯৯, ৭২৪৭, মুসলিম ১০৯৩, নাসায়ী ৬৪১, ২১৭০,আবূ দাউদ ২৩৪৭ আহমাদ ৩৬৪৬, ৩৭০৯, ৪১৩৬, সহীহ আবী দাউদ ২০৩২, ইরওয়াহ ৪/৩১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/২৪. অধ্যায়ঃ

যথাসময়ে ইফতার করা

১৬৯৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯৭


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْإِفْطَارَ

সাহল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মানুষ কল্যাণের সাথে থাকবে, যাবত তারা জলদি (যথাসময়ে) ইফতার করতে থাকবে। [১৬৯৭]

[১৬৯৭] সহীহুল বুখারী ১৯৫৭, মুসলিম ১০৯৮ তিরমিযী ৬৯৯, আহমাদ ২২২৯৮, ২২৩২১, ২২৩৩৯, ২২৩৫২, ২২৩৬৩, মুয়াত্তা মালেক ৬৩৮, দারেমী ১৬৯৯, ইরওয়াহ ৯১৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৯৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ عَجِّلُوا الْفِطْرَ فَإِنَّ الْيَهُودَ يُؤَخِّرُونَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাবত লোকেরা যথাসময়ে ইফতার করবে তাবত তারা কল্যাণের সাথে থাকবে। তাই তোমরা যথাসময়ে ইফতার করো। কারণ ইহুদীরা বিলম্বে ইফতার করে। [১৬৯৮]

[১৬৯৮] আবূ দাউদ ২৩৫৩, আহমাদ ২৭২১৮, মিশকাত ১৯৯৫, সহীহ আবী দাউদ ২০৩৮। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু আমর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হুরায়স সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে ইমাম যাহাবী বলেন তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা)

৭/২৫. অধ্যায়ঃ

যা দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব

১৬৯৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৬৯৯


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ ح و حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ الرَّبَابِ أُمِّ الرَّائِحِ بِنْتِ صُلَيْعٍ عَنْ عَمِّهَا سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى الْمَاءِ فَإِنَّهُ طَهُورٌ

সালমান বিন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ইফতার করলে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। সে খেজুর না পেলে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ তা পবিত্র। [১৬৯৯]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ, আর সহীহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কর্ম ছিলো।

[১৬৯৯] তিরমিযী ৬৫৮, ৬৯৫, আবূ দাউদ ২৩৫৫ আহমাদ ১৫৭৯২ , ১৫৭৯৮, ১৭৪১৪, ১৭৪১৭, ১৭৪৩০, দারেমী ১৭০১, ইরওয়াহ ৯২২, যঈফ আবী দাউদ ৪০৫, তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, আর সহীহ হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কার্য ছিল। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা) ২. রাবাব উম্মু রায়িহ সুলায় সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অজ্ঞাত ব্যাক্তি। তার থেকে হাফসাহ ব্যাতিত কেউ হাদিস বর্ণনা করেনি। আল্লামা আলবানী সানাদের বর্ণনা কারী রাবাব সম্পর্কে আপত্তি তুলেছেন এবং যারা হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, রাবাব থাকার কারণে তিনি তা সমালোচনা করেছেন। ইমাম যাহাবী বলেন, হাফসাহ থেকে বর্ণিত রেওয়াতটি ছাড়া তাকে চিনা যায় না। ইবনু হাজার আল-আসকালানী তাকে মাকবুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৮৩৬, ৩৫/১৭১ নং পৃষ্ঠা)

৭/২৬. অধ্যায়ঃ

রাত থাকতে ফরদ রোযার নিয়াত করা এবং নফল রোযার নিয়াতে বিলম্ব করা যায়।

১৭০০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০০


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْقَطَوَانِيُّ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ حَازِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يَفْرِضْهُ مِنْ اللَّيْلِ

হাফসাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত থাকতে ফরদ রোযার নিয়াত করলো না তার সিয়াম হয়নি। [১৭০০]

[১৭০০] তিরমিযী ৭৩০,নাসায়ী ২৩৩১, ২৩৩২, ২৩৩৩, ২৩৩৪, ২৩৩৫, ২৩৩৬, ২৩৩৭, ২৩৩৮, ২৩৩৯, ২৩৪০, ২৩৪১, আবূ দাউদ ২৪৫৪,মাজাহ ১৭০০, আহমাদ ২৫৯১৮, মুয়াত্তা মালেক ৬৩৭, দারেমী ১৬৯৮, ইরওয়াহ ৭১৪, সহীহ, আবী দাউদ ২১১৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. খালিদ বিন মাখলাদ আল-কাতওয়ানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী আল জুরজানী বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ আমার আমার নিকট তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইমাম যাহাবী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৬৫২, ৮/১৬৩ নং পৃষ্ঠা) ২. ইসহাক বিন হাযিম সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল আযদী বলেন, তিনি কাদিরিয়া মতাবলম্বী। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কাদারিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ আছে। ইমাম যাহাবী ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৮, ২/৪১৭ নং পৃষ্ঠা)

১৭০১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০১


حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ فَنَقُولُ لَا فَيَقُولُ إِنِّي صَائِمٌ فَيُقِيمُ عَلَى صَوْمِهِ ثُمَّ يُهْدَى لَنَا شَيْءٌ فَيُفْطِرُ قَالَتْ وَرُبَّمَا صَامَ وَأَفْطَرَ قُلْتُ كَيْفَ ذَا قَالَتْ إِنَّمَا مَثَلُ هَذَا مَثَلُ الَّذِي يَخْرُجُ بِصَدَقَةٍ فَيُعْطِي بَعْضًا وَيُمْسِكُ بَعْضًا.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বলেন, তোমাদের কাছে (আহার করার মত) কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বলেন, তাহলে আমি সিয়াম রাখলাম। অতঃপর তিনি সিয়াম অবস্থায় থাকেন। আমাদের নিকট কিছু হাদিয়া এলে তিনি সিয়াম ভঙ্গ করেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি কখনো সিয়াম রাখতেন আবার কখনো সিয়াম রাখতেন না। রাবী মুজাহিদ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তা কিভাবে? আয়িশা (রাঃ) বলেন, তার দৃষ্টান্ত এরূপ যে, কোন ব্যক্তি সদকার মাল নিয়ে দান করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে এর কিছু অংশ দান করে, আর কিছু অংশ রেখে দেয়। [১৭০১]

[১৭০১] মুসলিম ১১৫৪, আবূ দাউদ ২৪৫৫, ইরওয়াহ ৪/১৩৫, ১৩৬। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু শিয়া মতাবলম্বী। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন ও তার রাফিদি মতাবলম্বী। হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯১, ৩/২১০ নং পৃষ্ঠা) ২. তালহাহ বিন ইয়াহইয়া বিন তালহাহ বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৮৪, ১৩/৪৪১ নং পৃষ্ঠা)

৭/২৭. অধ্যায়ঃ

সিয়াম রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তির অপবিত্র অবস্থায় ভোর হলে।

১৭০২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০২


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو الْقَارِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ لَا وَرَبِّ الْكَعْبَةِ مَا أَنَا قُلْتُ مَنْ أَصْبَحَ وَهُوَ جُنُبٌ فَلْيُفْطِرْ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم قَالَهُ

আবদুল্লাহ বিন আম্‌র আল-কারী (মাকবূল) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, না, কা‘বার প্রভুর শপথ! এ কথা আমি বলছি নাঃ “যে ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো সে সিয়াম ভঙ্গ করুক”। বরং মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলেছেন। [১৭০২]

[১৭০২] সহীহুল বুখারী ১৯২৫, মুসলিম ১১০৯, মুয়াত্তা মালেক ৬৪৩, সহীহাহ ৩/১১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭০৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০৩


دَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم «يَبِيتُ جُنُبًا فَيَأْتِيهِ بِلَالٌ فَيُؤْذِنُهُ بِالصَّلَاةِ فَيَقُومُ فَيَغْتَسِلُ فَأَنْظُرُ إِلَى تَحَدُّرِ الْمَاءِ مِنْ رَأْسِهِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَأَسْمَعُ صَوْتَهُ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ».
قَالَ مُطَرِّفٌ فَقُلْتُ لِعَامِرٍ أَفِي رَمَضَانَ قَالَ رَمَضَانُ وَغَيْرُهُ سَوَاءٌ.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাপাক অবস্থায় রাতে ঘুমাতেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) তাঁর নিকট এসে তাঁকে সলাতের জন্য ডাকতেন। তখন তিনি উঠে গোসল করতেন। আমি তাঁর মাথা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়তে দেখেছি। তারপর তিনি বের হয়ে যেতেন এবং ফজরের সলাতে আমি তাঁর কন্ঠস্বর শুনতে পেতাম। মুতাররিফ (রাঃ) বলেন, আমি আমির (রাঃ)-কে বললাম, তা কি রমাদানে? তিনি বলেন, রমজান ও অন্য মাস একই সমান। [১৭০৩]

[১৭০৩] সহীহুল বুখারী ১৯২৬, ১৯৩০, ১৯৩২,মুসলিম ১১০৯, ১১১০, তিরমিযী ৭৭৯, আবূ দাউদ ২৩৮৮, ২৩৮৯, আহমাদ ২৩৫৪২, ২৩৫৫৪, ২৩৫৮৪, ২৩৮৬৪, ২৩৯০৮, ২৪১৬০, ২৪১৮৪, ২৪২৯৫, ২৪৭০০, ২৪৯৬৬, ২৪৯৮১, ২৫১৪৫, ২৫২৭৩, ২৫৩২৫, ২৫৩৯১, ২৫৫৫১, ২৫৬৬০, ২৫৭৬৬, ২৫৮৪০, ২৫৮৫৯, ২৫৯৪২, ২৬০৮৪, ২৬১২১, ২৬১২৪, মুয়াত্তা মালেক ৬৪১, ৬৪২, ৬৪৩,৬৪৪ দারেমী ১৭২৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা)

১৭০৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০৪


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ قَالَ سَأَلْتُ أُمَّ سَلَمَةَ عَنْ الرَّجُلِ يُصْبِحُ وَهُوَ جُنُبٌ يُرِيدُ الصَّوْمَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ الْوِقَاعِ لَا مِنْ احْتِلَامٍ ثُمَّ يَغْتَسِلُ وَيُتِمُّ صَوْمَهُ

নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ) এর নিকট জানতে চাইলাম যে, এক ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো, সে সিয়াম রাখতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বপ্নদোষজনিত নয়, বরং সহবাসজনিত নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন, অতঃপর গোসল করতেন এবং তাঁর সিয়াম পূর্ণ করতেন। [১৭০৪]

[১৭০৪] সহীহুল বুখারী ১৯২৬, ১৯৩২, মুসলিম ১১০৯, তি৭৭৯ আবূ দাউদ ২৩৮৮, আহমাদ ২৩৫৪২, ২৩৫৫৪, ২৪৯৮১, ২৫১৪৫, ২৫৫৫১, ২৫৯৪২, ২৬০৫৪, ২৬০৬৯, ২৬০৮৪, ২৬১০৮, ২৬১২১, ২৬১২৪, ২৬২০৫, ৬৪২, ৬৪৩, ৬৪৪, দারেমী ১৭২৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

৭/২৮. অধ্যায়ঃ

সারা বছর সিয়াম রাখা।

১৭০৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০৫


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَأَبُو دَاوُدَ قَالُوا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ الْأَبَدَ فَلَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ

আবদুল্লাহ্‌ ইবনুশ শিখখীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সর্বদা সিয়াম রাখে সে রোযাও রাখেনি, আবার সিয়াম ভঙ্গও করেনি। [১৭০৫]

[১৭০৫] নাসাঈ ২৩৮০, ২৩৮১, আহমাদ ১৫৮৬৯, ১৫৮৭৩, ১৫৮৮৮, দারিমী ১৭৪৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭০৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০৬


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مِسْعَرٍ وَسُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ الْمَكِّيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا صَامَ مَنْ صَامَ الْأَبَدَ

আবদুল্লাহ্‌ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সর্বদা সিয়াম রাখে, সে রোযাই রাখেনি। [১৭০৬]

[১৭০৬] মুসলিম ১১৫৯, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/২৯. অধ্যায়ঃ

প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখা

১৭০৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০৭


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الْمِنْهَالِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِصِيَامِ الْبِيضِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ وَيَقُولُ هُوَ كَصَوْمِ الدَّهْرِ أَوْ كَهَيْئَةِ صَوْمِ الدَّهْرِ

حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَنْبَأَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ قَتَادَةَ بْنِ مَلْحَانَ الْقَيْسِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ قَالَ ابْن مَاجَةَ أَخْطَأَ شُعْبَةُ وَأَصَابَ هَمَّامٌ.

মিনহাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমুল বীদ অর্থাৎ প্রতি মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে সিয়াম রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন, তা সারা বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য। [১৭০৭]

[উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলো:]

১/১৭০৭(১). কাতাদাহ বিন মালহান আল-কায়সী হতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। ইবনু মাজাহ বলেন, এক্ষেত্রে শু’বাহ ভুল করেছেন এবং হাম্মাম ঠিক করেছেন। [১৭০৭]

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ লিগাইরিহি।

[১৭০৭] নাসায়ী ২৪৩০, ২৪৩১, ২৪৩২, ৫৭৫৮, বায়হাকী ৪/২৯৬, সহীহ, আবী দাউদ ২১১৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ, লিগাইরিহি।

১৭০৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০৮


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ فَذَلِكَ صَوْمُ الدَّهْرِ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَ ذَلِكَ فِي كِتَابِهِ {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا} فَالْيَوْمُ بِعَشْرَةِ أَيَّامٍ

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখলো, সে যেন সারা বছর সিয়াম রাখলো। আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর কিতাবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ): “কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ গুণ পাবে” (সূরা আনআমঃ ১৬০)। অর্থাৎ প্রতিটি দিন দশ দিনের সমান। [১৭০৮]

[১৭০৮] নাসায়ী ২৪১০, ইরওয়াহ ৪/১০২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭০৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭০৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ مِنْ أَيِّهِ قَالَتْ لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ كَانَ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখতেন, রাবী বলেন, আমি বললাম, মাসের কোন্‌ কোন্‌ দিন? তিনি বলেন, তিনি যে কোন দিন সিয়াম রাখতে ইতস্তত করতেন না। [১৭০৯]

[১৭০৯] মুসলিম ১১৬০, তিরমিযী ৭৬৩, আবূ দাউদ ২৪৫৩, সহীহ আবী দাউদ ২১১৭, মুখতাসার শামাইল ২৬০, মুসলিম। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৩০. অধ্যায়ঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর রোযা।

১৭১০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১০


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ وَلَمْ أَرَهُ صَامَ مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلَّا قَلِيلًا

আবূ সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তিনি একাধারে সিয়াম রেখেই যেতেন। এমনকি আমরা বলতাম, তিনি সিয়াম রেখেই যাবেন। আবার তিনি একাধারে রোযাহীন অবস্থায় কাটাতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি রোযাহীন অবস্থায়ই থাকবেন। শা‘বান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে আমি তাঁকে এত অধিক সিয়াম রাখতে দেখিনি। তিনি প্রায় পুরা শা‘বান মাসই সিয়াম রাখতেন। তিনি শা‘বানের অল্প কিছুদিন বাদ দিয়ে পুরা মাসই সিয়াম রাখতেন। [১৭১০]

[১৭১০] সহীহুল বুখারী ১৯৬৯, মুসলিম ৭৪৬, আবূ দাউদ ১৩৪২, ২৪৩৪, আহমাদ ২৪৭৮৯, ২৫৫২২, ২৫৭৭৮, মুয়াত্তা মালেক ৬৮৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭১১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ وَمَا صَامَ شَهْرًا مُتَتَابِعًا إِلَّا رَمَضَانَ مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধারে সিয়াম রেখে যেতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার কখনো তিনি একাধারে রোযাহীন থাকতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি আর সিয়াম রাখবেন না। মাদীনায় আসার পর থেকে তিনি রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে সম্পূর্ণ মাস সিয়াম রাখেননি। [১৭১১]

[১৭১১] সহীহুল বুখারী ১৯৭১, মুসলিম ১১৫৭, নাসায়ী ২৩৪৬, আবূ দাউদ ২৪৩০, আহমাদ ১৯৯৯, ২০৪৭, ২১৫২, ২৯৪১, ৩০০২, দারেমী ১৭৪৩, সহীহ আবী দাউদ ২১০০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৩১. অধ্যায়ঃ

দাঊদ (আ.) এর রোযা

১৭১২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১২


- حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الشَّافِعِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَأَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ صَلَاةُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيُصَلِّي ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ

আবদুল্লাহ্‌ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোযাসমূহের মধ্যে দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সিয়াম আল্লহ্‌র নিকট অধিক প্রিয়। তিনি এক দিন সিয়াম রাখতেন এবং পরবর্তী দিন সিয়াম রাখতেন না। আল্লাহ্‌র নিকট দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সলাত অধিক প্রিয়। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন, এক-তৃতীয়াংশ সলাতে কাটাতেন এবং আবার এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। [১৭১২]

[১৭১২] ইরওয়াহ ৪৫১, ৯৪৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭১৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১৩


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ وَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ ذَلِكَ صَوْمُ دَاوُدَ قَالَ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হে আল্লাহ্‌র রসূল! যে ব্যক্তি দু’ দিন সিয়াম রাখে এবং এক দিন রাখে না, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বলেন, কেউ কি তার সামর্থ্য রাখে? উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! যে ব্যক্তি এক দিন সিয়াম রাখে এবং এক দিন রাখে না? তিনি বলেন, সেটা হলো দাঊদ (আলাইহিস সালাম) -এর রোযা। উমার (রাঃ) বললেন, যে ব্যক্তি একদিন সিয়াম রাখে এবং দু’ দিন রাখে না? তিনি বলেন, আমি পছন্দ করি যে, আমাকে এ ধরনের সিয়াম রাখার সামর্থ্য দান করা হোক। [১৭১৩]

[১৭১৩] মুসলিম ১১৬২, আবূ দাউদ ২৪২৫, আহমাদ ২২০২৪, ২২১৪৪, সহীহ আবী দাউদ ২০৯৬, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।।

৭/৩২. অধ্যায়ঃ

নূহ আলাইহিস সালামের রোযা।

১৭১৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১৪


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ أَبِي فِرَاسٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ صَامَ نُوحٌ الدَّهْرَ إِلَّا يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الْأَضْحَى

আবদুল্লাহ্‌ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ নূহ (আলাইহিস সালাম) ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আযহার দিন ব্যতীত সারা বছর সিয়াম রাখতেন। [১৭১৪]

[১৭১৪] যঈফাহ ৪৫৯। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন, কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবুল কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)

৭/৩৩. অধ্যায়ঃ

শাওয়াল মাসের ছয় দিনের রোযা।

১৭১৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১৫


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ الذَّمَارِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أَسْمَاءَ الرَّحَبِيَّ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ مَنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ كَانَ تَمَامَ السَّنَةِ {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا}

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুক্ত দাস সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন সিয়াম রাখলো, তা পূর্ণ বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য। “কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ গুণ পাবে” (সূরা আনআমঃ ১৬০)। [১৭১৫]

[১৭১৫] আহমাদ ২১৯০৬, দারেমী ১৭৫৫, ইরওয়াহ ৪/১০৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭১৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১৬


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ بِسِتٍّ مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصَوْمِ الدَّهْرِ

আবূ আয়্যূব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমজান মাসের সিয়াম রাখার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি সিয়াম রাখবে, তা যেন সারা বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য। [১৭১৬]

[১৭১৬] মুসলিম ১১৬৪, তিরমিযী ৭৫৯, আবূ দাউদ ২৪৩৩, আহমাদ ২৩০২২, ২৩০, ইরওয়াহ ৯৫০, দারেমী ১৭৫৪, বায়হাকী ৪/৩০২, সহীহ আবী দাউদ ২১০২, তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সা'দ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি বলেন, তার হিফযের পূর্বে হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২২০৮, ১০/১৬২ নং পৃষ্ঠা)

৭/৩৪. অধ্যায়ঃ

আল্লাহ্‌র রাস্তায় এক দিন সিয়াম রাখার ফযিলত ।

১৭১৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ الْهَادِ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ بَاعَدَ اللهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ النَّارَ مِنْ وَجْهِهِ سَبْعِينَ خَرِيفًا

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রাস্তায় একদিন সিয়াম রাখে, আল্লাহ্‌ ঐ দিনের বিনিময়ে জাহান্নামকে তার মুখমন্ডল থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন। [১৭১৭]

[১৭১৭] সহীহুল বুখারী ২৮৪০, মুসলিম ১১৫৩, তিরমিযী ১৬২৩, নাসায়ী ২২৪৫, ২২৪৭, ২২৪৮, ২২৩৯, ২২৫০, ২২৫১, ২২৫২, ২২৫৩,আহমাদ ১০৮২৬, ১১০১৪, ১১১৬৬, ১১৩৮১, দারেমী ২৩৯৯, বায়হাকী ৪/২৮৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা)

১৭১৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১৮


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ اللَّيْثِيُّ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ زَحْزَحَ اللهُ وَجْهَهُ عَنْ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রাস্তায় একদিন সিয়াম রাখে, আল্লাহ্‌ তার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে তার মুখমন্ডলকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখেন। [১৭১৮]

[১৭১৮] নাসায়ী ২২৪৪, আহমাদ ৭৯৩০, ৮৪৭৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন আবদুল আযীয আল-লায়সী সম্পর্কে ইমাম বুখারী তাকে মুনকার বলেছেন। জাওযুজানী বলেন, তিনি যুহরী থেকে মুনকার ভাবে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আহমদ বিন শু'আয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল ও শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৯৫, ১৫/২৩৮ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু আবদুল্লাহ বিন আবদুল আযীয আল-লায়সী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৩৭ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ২৫ টি অধিক দুর্বল, ৭১ টি দুর্বল, ৫৩ টি হাসান, ৮৮ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ বুখারী ২৮৪০, মুসলিম, ১১৫৪, ১১৫৫, তিরমিযি ১৬২২, ১৬২৩, ১৬২৪, দারিমী ২৩৯৯, আহমাদ ৭৯৩০, ৮৪৭৫, ১০৪২৭, ১০৮২৬, ১১০১৪, ১১১৬৬, ১১৩৮১, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৯৬৮৩, ৯৬৮৪, ৯৬৮৫, মু'জামুল আওসাত ১৬০, ২১৭৩, ৩১১৮, ৩২৪৩, ৩২৪৯, ৩৫৭৪, ৪৬৬০ ইত্যাদি।

৭/৩৫. অধ্যায়ঃ

আইয়্যামে তাশরীকে সিয়াম রাখা নিষেধ

১৭১৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭১৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيَّامُ مِنًى أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মিনার দিনসমূহ হলো পানাহারের দিন। [১৭১৯]

[১৭১৯] ইরওয়াহ ৪/১২৯, সহীহাহ ১২৮২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু আমর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হুরায়স সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা)

১৭২০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২০


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ بِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ فَقَالَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَإِنَّ هَذِهِ الْأَيَّامَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ

বিশ্‌র বিন সুহায়ম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আইয়্যামে তাশরীকে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, মুসলিম ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং এই দিনসমূহ হচ্ছে পানাহারের দিন। [১৭২০]

[১৭২০] নাসায়ী ৪৯৯৪, আহমাদ ১৫০০২, ১৮৪৭৬, দারেমী ১৭৬৬, ইরওয়াহ ৪/১২৮, ১২৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৩৬. অধ্যায়ঃ

ঈদুল ফিতর ও ইদুল আযহার দিন সিয়াম রাখা নিষেধ ।

১৭২১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২১


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى التَّيْمِيُّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ قَزَعَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতর ও ইদুল আযহার দিন সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন। [১৭২১]

[১৭২১] সহীহুল বুখারী ১১৯৭, ১৮৬৪, ১৯৯৬, মুসলিম ৮২৭, তিরমিযী ৭৭২, আবূ দাউদ ২৪১৭, আহমাদ ২৭৯২০, ২৭৯২৪, ১০৯৫৫, ২৭৬৩৬, ১১১১৩, ১১২৩৭, ১১২৪৩, ১১৩২৫, ১১৩৯৫, ১১৫০০, দারেমী ১৭৫৩, ইরওয়াহ ৯৬২, ইরওয়া ৯৬২, সহীহ আবী দাউদ ২০৮৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭২২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২২


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى أَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَيَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ وَيَوْمُ الْأَضْحَى تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ لَحْمِ نُسُكِكُمْ

আবূ উবায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে ঈদের দিন উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবাহ্‌র আগে সলাত পড়েন, অতঃপর বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এ দু’ দিন সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন। কেননা ঈদুল ফিতরের দিন হচ্ছে তোমাদের সিয়াম ভঙ্গের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন তোমরা তোমাদের কুরবানির গোশত খাবে। [১৭২২]

[১৭২২] সহীহুল বুখারী ১৯৯০, ৫৫৭৩, মুসলিম ১১৩৭, তিরমিযী ৭৭১, আবূ দাউদ ২৪১৬, আহমাদ ২৮৪, মুয়াত্তা মালেক ৪৩১, বায়হাকী ৫/১১৭, ইরওয়াহ ৩/১২৭-১২৮, সহীহ আবী দাউদ ২০৮৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৩৭. অধ্যায়ঃ

জুমুআর দিন সিয়াম রাখা।

১৭২৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وَحَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ إِلَّا بِيَوْمٍ قَبْلَهُ أَوْ يَوْمٍ بَعْدَهُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআর আগের দিন বা পরের দিনসহ সিয়াম রাখা ব্যতীত, কেবলমাত্র জুমুআর দিন সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন। [১৭২৩]

[১৭২৩] সহীহুল বুখারী ১৯৮৫, মুসলিম ১১৪৪, তিরমিযী ৭৪৩, আবূ দাউদ ২৪২০, আহমাদ ১৭২৪৯০৩১, ৯১৮১, ৯৫৮৭, ১০০৫২, ১০৪২১৭২৫৫, ১০৫০৯, ইরওয়াহ ৯৫৯, ৯৮১, সহীহাহ ০৮১, ১০২২, সহীহ আবী দাউদ ২০৯১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭২৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২৪


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ وَأَنَا أَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَنَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَالَ نَعَمْ وَرَبِّ هَذَا الْبَيْتِ

মুহাম্মাদ বিন আব্বাদ বিন জা’ফর (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আল্লাহ্‌র ঘর তাওয়াফকালে জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি জুমুআর দিন সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেন, হাঁ, এই ঘরের প্রভুর শপথ! [১৭২৪]

[১৭২৪] সহীহুল বুখারী ১৭২৬, ১৯৮৪, মুসলিম ১১৪৩, আহমাদ ১৩৭৪০, ১৩৯৪৩, দারেমী ১৭৪৮, সহীহাহ ৩/১১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭২৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২৫


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَنْبَأَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَلَّمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জুমুআর দিন খুব কমই রোযাহীন দেখেছি। [১৭২৫]

[১৭২৫] তিরমিযী ৭৪২, সহীহ আবী দাউদ ৩১১৬, তা’লীক ইবনু খুযাইমাহ ২১২৯। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন বাহদালাহ সম্পর্কে আবু বকর আল-বাযযার বলেন, তিনি হাফিয ছিলেন না। তার হাদিস কেউ বর্জন করেছেন এমন কাউকে পায়নি। আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল ছাড়া তার মাঝে অন্য কোন দোষ পাইনি। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০০২, ১৩/৪৭৩ নং পৃষ্ঠা)

৭/৩৮. অধ্যায়ঃ

শনিবারের রোযা

১৭২৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلَّا فِيمَا افْتُرِضَ عَلَيْكُمْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَّا عُودَ عِنَبٍ أَوْ لِحَاءَ شَجَرَةٍ فَلْيَمُصَّهُ

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ عَنْ أُخْتِهِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ.

আবদুল্লাহ্‌ বিন বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের উপর যে সিয়াম ফরয করা হয়েছে সেই সিয়াম ব্যতীত তোমরা শনিবার সিয়াম রাখবে না। তোমাদের কেউ আঙ্গুরের ডাল বা গাছের ছাল ব্যতীত কিছু না পেলে সে যেন তা চুষে (শনিবারের) সিয়াম ভঙ্গ করে।

১/১৭২৬(১). আস-সমা’ বিনতু বুসর (রাঃ), রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- বলে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। [১৭২৬]

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

[১৭২৬] তিরমিযী ৭৪৪, আবূ দাউদ ২৪২১, আহমাদ ২৬৫৩৪, দারেমী ১৭৪৯, ইরওয়াহ ৯৬০, তা’লীক ইবনু খুযাইমাহ ৩১৬৪, সহীহ আবী দাউদ ২০৮২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৩৯. অধ্যায়ঃ

দশ দিনের রোযা।

১৭২৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২৭


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي الْعَشْرَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট (যুলহিজ্জার) দশ দিনের সৎকাজের চাইতে অধিক পছন্দনীয় সৎকাজ আর নেই। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয় কি? তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি তার জান-মালসহ আল্লাহ্‌র পথে বের হয়ে তার কোন কিছু নিয়ে আর ফিরে আসে না (তার মর্যাদা অনেক)। [১৭২৭]

[১৭২৭] সহীহুল বুখারী ৯৬৯, তিরমিযী ৭৫৭, আবূ দাউদ ২৪৩৮, আহমাদ ১৯৬৯, ৩১২৯, দারেমী ১৭৭৩, ইরওয়াহ ৯৫৩, সহীহ আবী দাউদ ২১০৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭২৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২৮


حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ بْنِ عَبِيدَةَ حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ وَاصِلٍ عَنْ النَّهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَيَّامٌ أَحَبُّ إِلَى اللهِ سُبْحَانَهُ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ أَيَّامِ الْعَشْرِ وَإِنَّ صِيَامَ يَوْمٍ فِيهَا لَيَعْدِلُ صِيَامَ سَنَةٍ وَلَيْلَةٍ فِيهَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (যুলহিজ্জার) দশ দিনের ইবাদাতের চেয়ে দুনিয়ার অন্য কোন দিনের ইবাদাত মহান আল্লাহ্‌র নিকট অধিক প্রিয় নয়। এই ক’দিনের মধ্যকার এক এক দিনের সিয়াম এক বছর সিয়াম রাখার সমান এবং তার এক একটি রাত কদরের রাতের সমান। [১৭২৮]

[১৭২৮] তিরমিযী ৭৫৮, মিশকাত ১৪৭১, যঈফাহ ৫১৪২। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মাসউদ বিন ওয়াসীল সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি যাচাই বাছাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ইমাম দারাকুতনী, সুলায়মান বিন দাউদ আত-তায়লাসী ও তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক তারা সকলে বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯১৪, ২৪/৪৮১ নং পৃষ্ঠা) ২. নাহহাস বিন কাহম সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান তার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, তিনি সিকাহ রাবী থেকে এককভাবে বর্ণনা করলে তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৪৮২, ৩০/২৮ নং পৃষ্ঠা)

১৭২৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭২৯


حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَامَ الْعَشْرَ قَطُّ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (যুলহিজ্জার) দশ দিন কখনো সিয়াম রাখতে দেখিনি। [১৭২৯]

[১৭২৯] মুসলিম ১১৭৬, তিরমিযী ৭৫৬, আবূ দাউদ ২৪৩৯, সহীহ আবী দাউদ ২১০৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৪০. অধ্যায়ঃ

আরাফাত দিবসের রোযা।

১৭৩০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩০


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالَّتِي بَعْدَهُ

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি আল্লাহ্‌র নিকট আরাফাত দিবসের রোযার এই সওয়াব আশা করি যে, তিনি তার বিনিময়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। [১৭৩০]

[১৭৩০] তিরমিযী ৭৪৯, আহমাদ ২২০২৪, ইরওয়াহ ৯৫২, আবী দাউদ ২০৯৬।

১৭৩১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩১


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ غُفِرَ لَهُ سَنَةٌ أَمَامَهُ وَسَنَةٌ بَعْدَهُ

কাতাদাহ্‌ বিন নু’মান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আরাফাত দিবসে সিয়াম রাখলো, তার আগের বছরের ও পরের বছরের গুনাহ মাফ করা হলো। [১৭৩১]

[১৭৩১] ইরওয়াহ ৪/১০৯, ১১০, যঈফাহ ৫/২২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী আল-জুরজানী বলেন, তার সানাদ বা মাতান কোনটিরই কেউ অনুসরণ করেনি। আবু বকর আল বুরকানী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাতরুক বা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু বকর আল বাযযার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু ইয়ালা আল খালীলী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৭, ২/৪৪৬ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইসহাক বিন আবদুল্লাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৪০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ১ টি জাল, ৩১ টি অধিক দুর্বল, ৮২ টি দুর্বল, ৬৫ টি হাসান, ৬১ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিযি ৭৪৯, ৭৫২, আহমাদ ২২০১০, ২২০২৩, ২২০৮, ২২০১৯, ২২১১৩, ২৪৪৪৮, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৭৮১৬, ৭৮২৭, ৭৮৩১, ৭৮৩২, মু'জামুল আওসাত ২০৬৫, ৪৮৭৫, ৫৬৪৬ ইত্যাদি।

১৭৩২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩২


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنِي حَوْشَبُ بْنُ عَقِيلٍ حَدَّثَنِي مَهْدِيٌّ الْعَبْدِيُّ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فِي بَيْتِهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَاتٍ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَاتٍ

ইকরিমাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর বাড়িতে গিয়ে তাকে আরাফাতের ময়দানে আরাফাত দিবসে সিয়াম রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাতের ময়দানে আরাফাত দিবসে সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন। [১৭৩২]

[১৭৩২] আবূ দাউদ ২৪৪০, তা’লীকুর রগীব ২/৭৭ যঈফ আবী দাউদ ৪২১। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. হাওশাব বিন আকীল সম্পর্কে হাকিম একে বুখারীর শর্তে সহিহ বলেছেন, যাহাবী তাতে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু এটা তাদের অশোভনীয় ধারানা মাত্র। কেননা সানাদে হাওশাব ইবনু আকীল এবং তার শায়খ মাহদী আল-আবাদী হতে ইমাম বুখারী বর্ণনা করেননি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৫৭১, ৭/৪৬১ নং পৃষ্ঠা) ২. মাহদী আল-আবদী সম্পর্কে ইবনু হাযম তার মুহাল্লা গ্রন্থে বলেন, তিনি অজ্ঞাত। ইমাম যাহাবী আল-মীযান গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন। আবু হাতিম ও ইবনু মাঈনও তাই বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬২২০, ২৮/৫৮৬ নং পৃষ্ঠা)

৭/৪১. অধ্যায়ঃ

আশূরার দিনের রোযা

১৭৩৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ عَاشُورَاءَ وَيَأْمُرُ بِصِيَامِهِ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশূরার দিন সিয়াম রাখতেন এবং এ দিন সিয়াম রাখতে নির্দেশ দিতেন। [১৭৩৩]

[১৭৩৩] সহীহুল বুখারী ১৫৯২, ১৮৯৩, ২০০১, ২০০২, ৩৮৩১, ৪৫০২,৪৫০৪ মুসলিম ১১২৫, তিরমিযী ৭৫৩, আবূ দাউদ ২৪৪২, আহমাদ ২৩৪৯১, ২৩৭১০, ২৪৭৬৬, ২৫৫৩৭, ২৫৫৭৬, মুয়াত্তা মালেক ৬৬৫, দারেমী ১৭২০, ১৭৬৩, সহীহ আবী দাউদ ২১১০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৩৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩৪


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنِ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صُيَّامًا فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ أَنْجَى اللهُ فِيهِ مُوسَى وَأَغْرَقَ فِيهِ فِرْعَوْنَ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَحْنُ أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالَ يَعْنِي أَهْلَ الْعَرُوضِ حَوْلَ الْمَدِينَةِ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (হিজরত করে) মদিনায় পৌঁছে ইহূদীদের সিয়াম অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ এটা কী? তারা বললো, এ দিনে আল্লাহ্‌ মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে মুক্তি দেন এবং ফিরাউনকে ডুবিয়ে মারেন। তাই মূসা (আলাইহিস সালাম) এ দিন শোকরানা সিয়াম রাখেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমরা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর (অনুসরণের) ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। তারপর তিনি এদিনে সিয়াম রাখেন এবং অন্যদেরও সিয়াম রাখার নির্দেশ দেন। [১৭৩৪]

[১৭৩৪] সহীহুল বুখারী ২০০৪, ৩৩৯৭, ৩৯৪৩, ৪৬৮০, ৪৭৩৭, মুসলিম ১১৩০, ১১৩৪, আবূ দাউদ ২৪৪৪, ২৪৪৫, আহমাদ ২৬৩৯, ২৮২৭, ৩১০২,৩১৫৪, ৫১৫৪, দারেমী ১৭৫৯, সহীহ আবী দাউদ ২১২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৩৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩৫


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ مِنْكُمْ أَحَدٌ طَعِمَ الْيَوْمَ قُلْنَا مِنَّا طَعِمَ وَمِنَّا مَنْ لَمْ يَطْعَمْ قَالَ فَأَتِمُّوا بَقِيَّةَ يَوْمِكُمْ مَنْ كَانَ طَعِمَ وَمَنْ لَمْ يَطْعَمْ فَأَرْسِلُوا إِلَى أَهْلِ الْعَرُوضِ فَلْيُتِمُّوا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمْ قَالَ يَعْنِيْ أَهْلَ الْعَرُوْضِ حَوْلَ الْمَدِيْنَةِ.

মুহাম্মাদ বিন সায়ফী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশূরার দিন আমাদের জিজ্ঞেস করেনঃ তোমাদের কেউ আজ আহার করেছ কি? আমরা বললাম, আমাদের কতক আহার করেছে এবং কতক আহার করেনি। তিনি বলেন, তোমরা যারা আহার করেছো এবং যারা আহার করোনি, তোমাদের অবশিষ্ট দিনটি সিয়াম রাখো। আর তোমরা মাদীনাহ্‌র পার্শ্ববর্তীদের নিকট লোক পাঠিয়ে দাও, তারাও যেন দিনটির অবশিষ্টাংশ সিয়াম রাখে। [১৭৩৫]

[১৭৩৫] আহমাদ ১৮৯৫৭, সহীহাহ ২৬২৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা)

১৭৩৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩৬


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَيْرٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ الْيَوْمَ التَّاسِعَ
قَالَ أَبُو عَلِيٍّ رَوَاهُ أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ زَادَ فِيهِ مَخَافَةَ أَنْ يَفُوتَهُ عَاشُورَاءُ.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি আগামী বছর বেঁচে থাকলে অবশ্যই (মুহাররমের) নবম তারিখে সিয়াম রাখবো। ইবনু আবূ যি’ব-এর বর্ণনায় আরো আছেঃ তাঁর থেকে আশূরার সিয়াম চলে যাওয়ার আশঙ্কায় (তিনি এ কথা বলেন)। [১৭৩৬]

[১৭৩৬] মুসলিম ১১৩৪, আবূ দাউদ ২৪৪৫, আহমাদ ২১০৭, হীহ আবী দাউদ ২১১৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৩৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَوْمًا يَصُومُهُ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَهُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَرِهَهُ فَلْيَدَعْهُ

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আশূরার দিন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জাহিলী যুগে লোকেরা এ দিন সিয়াম রাখতো। অতএব তোমাদের কেউ এ দিন সিয়াম রাখতে আগ্রহী হলে রাখতে পারে এবং কেউ অনাগ্রহী হলে নাও রাখতে পারে। [১৭৩৭]

[১৭৩৭] সহীহুল বুখারী ২০০০, ৪৫০১, মুসলিম ১১২৬, আবূ দাউদ ২৪৪৩, আহমাদ ৫১৮১, ৬২৫৬, দারেমী ১৭৬২, বায়হাকী ৪/১৩৯, সহীহ আবী দাউদ ২১১১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৩৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩৮


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আশূরার দিনের রোযার দ্বারা আমি আল্লাহ্‌র নিকট বিগত বছরের গুনাহ মাফের আশা রাখি। [১৭৩৮]

[১৭৩৮] তিরমিযী ৭৫২, আবূ দাউদ ২৪২৫, আহমাদ ২২০৮২, ইরওয়াহ ৪/১০৯, সহীহ আবী দাউদ ২০৯৬, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৪২. অধ্যায়ঃ

সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখা।

১৭৩৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৩৯


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ الْغَازِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَتَحَرَّى صِيَامَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ

রবীআহ ইবনুল গায (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি খুবই খেয়াল রাখতেন। [১৭৩৯]

[১৭৩৯] তিরমিযী ৭৪৫, নাসায়ী ২১৮৬, ২৩৬০, ২৩৬১, ২৩৬২, ২৩৬৩, ২৩৬৪, ইরওয়াহ ৪/১০৫-১০৬, তা’লাক ইবনু খুযাইমাহ ২১৭, মুখতাসার, শামায়িল ২৫৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৪০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪০


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّكَ تَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فَقَالَ إِنَّ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ يَغْفِرُ اللهُ فِيهِمَا لِكُلِّ مُسْلِمٍ إِلَّا مُهْتَجِرَيْنِ يَقُولُ دَعْهُمَا حَتَّى يَصْطَلِحَا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম রেখে থাকেন। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ তাআলা সোমবার ও বৃহস্পতিবার এ দু' দিন পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী দু' ব্যক্তি ব্যতীত প্রত্যেক মুসলমানকে ক্ষমা করেন। তিনি (ফেরেশতাদের) বলেন, তারা সন্ধিতে আবদ্ধ হওয়া অবধি তাদের ত্যাগ করো। [১৭৪০]

[১৭৪০] তিরমিযী ৭৪৭, তা’লীকুর রগীব ৩২/৮০-৮৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা)

৭/৪৩. অধ্যায়ঃ

হারাম মাসসমূহের রোযা

১৭৪১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪১


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ عَنْ أَبِي مُجِيبَةَ الْبَاهِلِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَوْ عَنْ عَمِّهِ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ أَنَا الرَّجُلُ الَّذِي أَتَيْتُكَ عَامَ الْأَوَّلِ قَالَ فَمَا لِي أَرَى جِسْمَكَ نَاحِلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا أَكَلْتُ طَعَامًا بِالنَّهَارِ مَا أَكَلْتُهُ إِلَّا بِاللَّيْلِ قَالَ مَنْ أَمَرَكَ أَنْ تُعَذِّبَ نَفْسَكَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا بَعْدَهُ قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمَيْنِ بَعْدَهُ قُلْتُ إِنِّي أَقْوَى قَالَ صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ بَعْدَهُ وَصُمْ أَشْهُرَ الْحُرُمِ

ইসমু মুবহাম (বা নাম অপরিচিত) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্‌র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি সেই ব্যক্তি, গত বছরও আপনার নিকট এসেছিলাম। তিনি [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বলেন, কী ব্যাপার, আমি তোমার শরীর দুর্বল দেখছি কেন? তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি দিনে আহার করি না, রাতেই আহার করি। তিনি বলেন, নিজের দেহকে শাস্তি দিতে কে তোমাকে নির্দেশ দিয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি অধিক শক্তিশালী। তিনি বলেন, তুমি ধৈর্যের মাসের সিয়াম রাখো এবং এরপর (প্রতি মাসে) এক দিন সিয়াম রাখো। আমি বললাম, আমি তো অধিক শক্তিশালী। তিনি বলেন, তুমি ধৈর্যের মাসের সিয়াম রাখো এবং প্রতি মাসে দু' দিন সিয়াম রাখো। আমি বললাম, আমি এর অধিক শক্তি রাখি। তিনি বলেন, তুমি ধৈর্যের মাসের সিয়াম রাখো, অতঃপর প্রতিমাসে তিন দিন এবং হারাম মাসসমূহে সিয়াম রাখো। [১৭৪১]

[১৭৪১] আবূ দাউদ ২৪২৮, যঈফ আবী দাউদ ৪১৯। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। এর সানাদ ভাল নয়। কেননা এর সানাদে ইদতিরাব হয়েছে। যা হাফিয ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থে এবং তার পূর্বে মানযিরী ‘মুখতাসার সুন্সান’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, এর সানাদে এরূপ মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করলেন। আর এ জন্যই আমাদের কতিপয় শায়খ এটি দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এতে আরেকটি দোষ আছে তা হল জাহালাত।

১৭৪২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪২


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَيُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ شَهْرُ اللهِ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُحَرَّمَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, রমজান মাসের পর কোন্‌ সিয়াম উত্তম? তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র সেই মাস যাকে তোমরা মুহাররম বলে থাকো। [১৭৪২]

[১৭৪২] মুসলিম ১১৬৩, তিরমিযী ৪৩৮, ৭৪০, আবূ দাউদ ২৪২৯, আহমাদ ৮৩০২, ৮৩২৯, ১০৫৩২, দারেমী ১৭৫৭, ইরওওয়া ৯৫১, সহীহ আরবী দাউদ ২০৯৯, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৪৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪৩


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَطَاءٍ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ رَجَبٍ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রজব মাসে সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন। [১৭৪৩]

[১৭৪৩] যঈফাহ ৪০৪। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী দাউদ বিন আতা সম্পর্কে ইমাম বুখারী মুনকার বলেছেন। আবু হাতিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। আবু বাকর আল-বায়হাকী ও ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৭৫, ৮/৪১৯ নং পৃষ্ঠা)

১৭৪৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ كَانَ يَصُومُ أَشْهُرَ الْحُرُمِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صُمْ شَوَّالًا فَتَرَكَ أَشْهُرَ الْحُرُمِ ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يَصُومُ شَوَّالًا حَتَّى مَاتَ

উসামাহ বিন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উসামাহ বিন যায়দ (রাঃ) হারাম মাসসমূহে সিয়াম রাখতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেন, তুমি শাওয়াল মাসে সিয়াম পালন করো। অতঃপর তিনি হারাম মাসসমূহের সিয়াম পালন করা ছেড়ে দেন এবং আমরণ শাওয়াল মাসে সিয়াম পালন করেন। [১৭৪৪]

[১৭৪৪] তা’লীকুর রগীব ২/৮১। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল আযীয আদ-দারওয়ারদী সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল-আজালী তাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি যখন তার কিতাব থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা সহিহ কিন্তু যখন মানুষের কিতাব থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন তিনি সন্দেহ করতেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা)

৭/৪৪. অধ্যায়ঃ

সিয়াম হলো দেহের যাকাত ।

১৭৪৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪৫


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ ح و حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ الْعَدَنِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ جَمِيعًا عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ جُمْهَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِكُلِّ شَيْءٍ زَكَاةٌ وَزَكَاةُ الْجَسَدِ الصَّوْمُ زَادَ مُحْرِزٌ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصِّيَامُ نِصْفُ الصَّبْرِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিটি জিনিসের যাকাত আছে। সিয়াম হলো শরীরের যাকাত। মুহরিযের হাদীসে আরো আছে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সিয়াম হলো ধৈর্যের অর্ধাংশ। [১৭৪৫]

[১৭৪৫] মিশকাত ২০৭২, যঈফাহ ১৩২৯, ৩৮১১। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন উবায়দাহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হুজ্জাহ নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬২৮০, ২৯/১০৪ নং পৃষ্ঠা)

৭/৪৫. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করালো তার সওয়াব ।

১৭৪৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪৬


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى وَخَالِي يَعْلَى عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ حَجَّاجٍ كُلُّهُمْ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا

যায়দ বিন খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযাদারকে ইফতার করায়, তার জন্য রয়েছে ইফতারকারীদের সমান সওয়াব এবং এজন্য তাদের সওয়াব থেকে কিছুই হ্রাসপ্রাপ্ত হবে না। [১৭৪৬]

[১৭৪৬] তিরমিযী ৮০৭, আহমাদ ১৬৫৮২, ২১১৬৮, দারেমী ১৭০২, রওয ৩২২, তা’লীকুর রগীব ২/৯৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু লায়লা সম্পর্কে ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, আমি তার চেয়ে দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ব্যাক্তি আর কাউকে দেখিনি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪০৬, ২৫/৬২২ নং পৃষ্ঠা) ২. হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়, অন্যত্রে তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ তবে ইবনু আবু লায়লা ও হাজ্জাজ এর রেওয়য়াতে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ১৮৩ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ৮ টি অধিক দুর্বল, ২৭ টি দুর্বল, ৪৭ টি হাসান, ১০১ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বুখারী ৪৮৪৩, মুসলিম ১৮৯৬, ১৮৯৭, তিরমিযি ৮০৭, ১৬২৮, ১৬২৯, ১৬৩১, আবু দাউদ ২৫০৯, দারিমী ১৭০২, ২৪১৯, আহমাদ ১৬৫৯১, ১৬৫৯৬, ১৬৫৯৭, ১৬৬০৮, ২১১৬৭, ২১১৭২, ২১৫৩২, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৭৯০৫, মু'জামুল আওসাত ৫৩২, ১০৪৮, ৭১৩৬, ৭৭০০, ৭৮৮৩, ৮০৩৮, ৮৪৩৮ ইত্যাদি।

১৭৪৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪৭


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى اللَّخْمِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ أَفْطَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَقَالَ أَفْطَرَ عِنْدَكُمْ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمْ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمْ الْمَلَائِكَةُ

আবদুল্লাহ্‌ ইবনুয-যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা’দ বিন মুআয (রাঃ)-এর এখানে ইফতার করেন, অতঃপর বলেন, তোমাদের এখানে রোযাদারগণ ইফতার করেছেন, নেককারগণ তোমাদের খাদ্যদ্রব্য আহার করেছেন এবং ফেরেশতাগণ তোমাদের জন্য রহমাত কামনা করেছেন। [১৭৪৭]

তাহকীক আলবানীঃ ইফতার করার কথা ব্যতীত সহীহ।

[১৭৪৭] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আদাবুয যিফাক ৮৫৮৬। উক্ত হাদীসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন আমর সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি কখনো হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু আদী বলেন, তার হাদীস বর্ণনায় সমস্যা নেই। ইমাম নাসায়ী তাঁকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২৬২ নং পৃষ্ঠা) ২. মুসআব বিন সাবিত সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তাকে আমি দুর্বল হিসেবেই জানি। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আবূ হাতিম আর-রাবী বলেন, তিনি সিকাহ নন তবে সত্যবাদী কিন্তু হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম নাসায়ী বলেন, তিনি গায়ির সিকাহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯৮০, ২৮/১৮ নং পৃষ্ঠা)।

৭/৪৬. অধ্যায়ঃ

রোযাদারের সামনে কেউ পানাহার করলে।

১৭৪৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ وَسَهْلٌ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا لَيْلَى عَنْ أُمِّ عُمَارَةَ قَالَتْ أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَّبْنَا إِلَيْهِ طَعَامًا فَكَانَ بَعْضُ مَنْ عِنْدَهُ صَائِمًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّائِمُ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ الطَّعَامُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ

উম্মু উমারাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এখানে আসলে আমরা তাঁর সামনে খাদ্যসামগ্রী পরিবেশন করলাম। তাঁর সাথের কতক লোক ছিল রোযাদার। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ রোযাদারের সামনে আহার করা হলে ফেরেশতাগণ তার জন্য (আল্লাহ্‌র) অনুগ্রহ কামনা করেন। [১৭৪৮]

[১৭৪৮] তিরমিযী ৭৮৪, ৭৮৫, আহমাদ ২৬৫১৯, ২৬৯২৬, দারেমী ১৭৩৮, তা’লীকুর রগীব ২/৭৬, যঈফ ১৩৩২। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী লায়লা সম্পর্কে ইমাম যাহাবী অজ্ঞাত নারীর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তার সুত্রে হাবিব ইবনু যায়দ একক হয়ে গেছেন। হাফিয তার সম্পর্কে মুতাবআতের ক্ষেত্রে মাকবুল বলেছেন। অন্যথায় তিনি হাদিস গ্রহনে শিথিল। কিন্তু তার মুতাবিআত জানা যায়নি। বরং একথা বলা সম্ভব যে, তিনি বিপরীত করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৯২৭, ৩৫/৩০১ নং পৃষ্ঠা)

১৭৪৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৪৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِبِلَالٍ الْغَدَاءُ يَا بِلَالُ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَأْكُلُ أَرْزَاقَنَا وَفَضْلُ رِزْقِ بِلَالٍ فِي الْجَنَّةِ أَشَعَرْتَ يَا بِلَالُ أَنَّ الصَّائِمَ تُسَبِّحُ عِظَامُهُ وَتَسْتَغْفِرُ لَهُ الْمَلَائِكَةُ مَا أُكِلَ عِنْدَهُ

বুরায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ হে বিলাল! সকালের খাবার। বিলাল (রাঃ) বলেন, আমি রোযাদার। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমরা আমাদের রিযিক আহার করবো, আর বিলালের অংশ রয়েছে জান্নাতে। হে বিলাল! তুমি কি জানো যে, রোযাদারের সামনে খাওয়া-দাওয়া করা হলে, তার হাড়সমূহ আল্লাহ্‌র গুণগান করে এবং ফেরেশতাগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে! [১৭৪৯]

তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট।

[১৭৪৯] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৪/৬২। যঈফাহ ১৩৩২। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. বাকিইয়্যাহ সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, যখন তিনি সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তখন তাকে সিকাহ হিসেবে গন্য করা হবে। ইমাম নাসাঈ বলেন, যখন তিনি হাদ্দাসানা বা আখবারনা শব্দদয় দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেন তখন তিনি সিকাহ হিসেবে গন্য হবেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩৮, ৪/১৯২ নং পৃষ্ঠা) ৩. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আল-উকায়লী বলেন, তিনি অপরিচিত, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আল-আযদী তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম যাহাবী তাকে উল্লেখ করে বলেন, তার মাঝে জাহালাত রয়েছে। তিনি সন্দেহভাজন নির্ভরযোগ্য নয়। তার সম্পর্কে আবুল ফাত্তাহ আদ্দী বলেন, তিনি মিথ্যুক তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪১৬, ২৫/৬৫৭ নং পৃষ্ঠা)

৭/৪৭. অধ্যায়ঃ

রোযাদারকে আহার গ্রহণের জন্য আহ্বান করা হলে।

১৭৫০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫০


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন তোমাদের কাউকে আহার করার জন্য ডাকা হয়, অথচ সে রোযাদার, তখন সে যেন বলে, আমি রোযাদার। [১৭৫০]

[১৭৫০] মুসলিম ১১৫০, তিরমিযী ৭৮১, আবূ দাউদ ২৪৬১,আহমাদ ৭২৬২, দারেমী ১৭৩৭, সহীহাহ ১৩৪, ইরওয়াহ ১৯৫৩, সহীহ আবী দাউদ ২১২৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৫১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫১


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ دُعِيَ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيُجِبْ فَإِنْ شَاءَ طَعِمَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, রোযাদার ব্যক্তিকে আহার গ্রহণের আহবান জানানো হলে সে যেন তাতে সাড়া দেয়। অতঃপর তার ইচ্ছা হলে খাবে অথবা খাবে না। [১৭৫১]

[১৭৫১] মুসলিম ১৪৩০, আবূ দাউদ ৩৭৪০, আহমাদ ১৪৭৯৭, সহীহাহ ৩৪৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৪৮. অধ্যায়ঃ

রোযাদারের দুআ প্রত্যাখ্যাত হয় না (কবুল হয়)।

১৭৫২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سَعْدَانَ الْجُهَنِيِّ عَنْ سَعْدٍ أَبِي مُجَاهِدٍ الطَّائِيِّ وَكَانَ ثِقَةً عَنْ أَبِي مُدِلَّةَ وَكَانَ ثِقَةً عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ الْإِمَامُ الْعَادِلُ وَالصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ يَرْفَعُهَا اللهُ دُونَ الْغَمَامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَتُفْتَحُ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَيَقُولُ بِعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দুআ রদ হয় নাঃ ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোযাদার যতক্ষণ না ইফতার করে এবং মজলুমের দুআ। কিয়ামাতের দিন আল্লাহ্‌ তার দুআ মেঘমালার উপরে তুলে নিবেন এবং তার জন্য আসমানের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং আল্লাহ্‌ বলবেনঃ আমার মর্যাদার শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো, একটু বিলম্বেই হোক না কেন। [১৭৫২]

[১৭৫২] তিরমিযী ৩৫৯৮, যঈফাহ ১৪৫৮, রোযাদার ও মাযলুমের দুয়ার কথা সহীহ এবং ন্যায়পরায়ণ ইমাম এর স্থলে মুসাফিরের কথা সহীহ। সহীহাহ ৫৯৬, ১৭৯৭। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মুদিল্লাহ হল আইশাহ (রাঃ) এর আযাদকৃত দাস এবং আমরা তাকে এই হাদিস দ্বারা চিনতে পেরেছি। বিষয়টি যদি তাই হয় তবে উসুলী কায়িদাহ অনুযায়ী সে একজন অজ্ঞাত ব্যাক্তি। ইমাম মাদানী বলেছেন, তার নাম জানা যায়নি। সে অজ্ঞাত এবং আবু মুজাহিদ ব্যাতিত কেউ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেনি। মুলতঃ তার সম্পর্কে এরূপ বক্তব্য তার হাদিসকে হাসান করেন না, বিশেষ করে হাদিসটি আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত ভিন্ন একটি হাদিসের বিপরীত। সেই হাদিসটি রয়েছে সহীহাহ ২য় খণ্ড ৭ম অধ্যায়ে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৬১১, ৩৪/২৬৯ নং পৃষ্ঠা)

১৭৫৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫৩


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ الْمَدَنِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ
قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ إِذَا أَفْطَرَ اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي.

আবদুল্লাহ বিন আম্‌র ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইফতারের সময় রোযাদারের অবশ্যই একটি দুআ আছে, যা রদ হয় না (কবুল হয়)। বিন আবূ মুলাইকা (রাঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)-কে ইফতারের সময় বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত, যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন”। [১৭৫৩]

[১৭৫৩] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এহকভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ৯২১। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক বিন উবায়দুল্লাহ আল-মাদানীর কারণে হাদিসটি দুর্বল হয়েছে। তার সম্পর্কে শায়খ আলবানী ইরওয়া'উল গালীল এর মধ্যে প্রায় ৫ পৃষ্ঠা আলোচনা করেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন ইরওয়া'উল গালীল।

৭/৪৯. অধ্যায়ঃ

ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে আহার করা।

১৭৫৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫৪


حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ تَمَرَاتٍ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর না খেয়ে (ঈদের মাঠে) রওয়ানা হতেন না। [১৭৫৪]

[১৭৫৪] সহীহুল বুখারী ৯৫৩, তিরমিযী ৫৪৩, আহমাদ ১১৮৫৯, ১৩০১৪, মিশকাত ১৪৪০, যঈফাহ ৪২৪৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ (আল্লাহ্‌ চায়তো) তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৯২ টি শাহিদ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৯৫৩, তিরমিযি ৫৪২, ৫৪৩, দারিমী ১৬০০, আহমাদ ১০৮৪২, ১০৯৬২, ১১৮৫৯, ১৩০১৪, ২২৪৭৩, ২২৪৭৪, ২২৫৩২, দারাকুতনী ১৬৯৯, ১৭০১, ১৭০২, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৫৭৩৪, মু'জামুল আওসাত ৪৫১, ২৮৬৭, ৩০৬৫, ৪৫০২, ৫০১৪, ৫৮৩৬, শারহুস সুন্নাহ ১১০৪, ১১০৫, ইত্যাদি।

১৭৫৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫৫


حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ حَدَّثَنَا مَنْدَلُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ صَهْبَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يُغَذِّيَ أَصْحَابَهُ مِنْ صَدَقَةِ الْفِطْرِ

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে তাঁর সহাবীদের ফিতরা পরিশোধের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত (ঈদগাহে) রওয়ানা হতেন না। [১৭৫৫]

[১৭৫৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যঈফাহ ৪২৪৮। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ (আল্লাহ্‌ চায়তো) তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৮৯১, ৪/৪৮৯ নং পৃষ্ঠা) ২. মানদাল বিন আলী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াকুব বিন শসায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৭৬, ২৮/৪৯৩ নং পৃষ্ঠা) ৩. উমার বিন সহবান সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ বলেন, তার ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণ এতো কথা বলেছেন, যে তা অন্য কারো ব্যাপারে আমি আর দেখিনি। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪২৬০, ২১/৩৯৮ নং পৃষ্ঠা)

১৭৫৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا ثَوَابُ بْنُ عُتْبَةَ الْمَهْرِيُّ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ وَكَانَ لَا يَأْكُلُ يَوْمَ النَّحْرِ حَتَّى يَرْجِعَ

বুরায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন আহার না করে (ঈদের মাঠে) রওয়ানা হতেন না এবং কুরবানীর দিন ঈদগাহ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত আহার করতেন না। [১৭৫৬]

[১৭৫৬] তিরমিযী ৫৪২, আহমাদ ২২৪৭৪, ২২৫৩৩, দারেমী ১৬০০, মিশকাত ১৪৪০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৫০. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি অবহেলা করে রমাযানের সিয়াম অনাদায় রেখে মারা গেলো।

১৭৫৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْثَرُ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ شَهْرٍ فَلْيُطْعَمْ عَنْهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينٌ

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার যিম্মায় রমজান মাসের সিয়াম বাকি রেখে মারা গেলো, তার পক্ষ থেকে প্রতি দিনের রোযার জন্য যেন একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে আহার করানো হয়। [১৭৫৭]

[১৭৫৭] তিরমিযী ৭১৮, মিশকাত ২০৩৪। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আশআস (বিন সাওয়ার) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন সিকাহ বললেও অন্যত্রে তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন। উসমান বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৪, ৩/২৬৪ নং পৃষ্ঠা)

৭/৫১. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি মানতের সিয়াম যিম্মায় রেখে মারা গেলো।

১৭৫৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫৮


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ وَالْحَكَمِ وَسَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَعَطَاءٍ وَمُجاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُخْتِي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُخْتِكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ تَقْضِينَهُ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَحَقُّ اللهِ أَحَقُّ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার বোন তার যিম্মায় রমাদানের পর পর দু’ মাসের সিয়াম রেখে মারা গেছে। তিনি বলেন, তুমি কি মনে করো, তোমার বোন ঋণগ্রস্ত থাকলে তুমি তা পরিশোধ করতে? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র প্রাপ্য তো অধিক পরিশোধযোগ্য। [১৭৫৮]

[১৭৫৮] সহীহুল বুখারী ১৯৫৩, মুসলিম ১১৪৮, তিরমিযী ৭১৬, নাসায়ী ৩৮১৬ আবূ দাউদ ৩৩১০, আহমাদ ২০০৬, দারেমী ১৭৬৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু খালিদ আল-আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালিহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা)

১৭৫৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৫৯


حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمٌ أَفَأَصُومُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ

বুরায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার মা তার যিম্মায় সিয়াম রেখে মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে সিয়াম রাখবো? তিনি বলেন, হাঁ। [১৭৫৯]

[১৭৫৯] মুসলিম ১১৪৯, তিরমিযী ৬৬৭, ৯২৯, আবূ দাউদ ১৬৫৬, ২৮৭৭, ৩৩০৮, আহমাদ ২২৪৪৭, ২২৪৬২, ২২৫২৩, ২২৫৪৫, সহীহ আবী দাউদ ২৫৬১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন আতা সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি মিথ্যা বলার অভিযগে অভিযুক্ত। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি আহলে ইমমের নিকট নির্ভরযোগ্য। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল ও তাদলীস করেন। ইমাম যাহাবী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪২৯, ১৫/৩১১ নং পৃষ্ঠা)

৭/৫২. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইসলাম গ্রহণ করলো।

১৭৬০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ حَدَّثَنَا وَفْدُنَا الَّذِينَ قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِإِسْلَامِ ثَقِيفٍ قَالَ وَقَدِمُوا عَلَيْهِ فِي رَمَضَانَ فَضَرَبَ عَلَيْهِمْ قُبَّةً فِي الْمَسْجِدِ فَلَمَّا أَسْلَمُوا صَامُوا مَا بَقِيَ عَلَيْهِمْ مِنْ الشَّهْرِ

ইসমু মুবহাম বা নাম অপরিচিত থেকে বর্ণিতঃ

আমাদের যে প্রতিনিধি দলটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গিয়েছিল, তারা সাকীফ গোত্রের ইসলাম গ্রহণের বর্ণনা দেয়। রাবী বলেন, তারা তাঁর দরবারে রমজান মাসে উপস্থিত হয়। তিনি মাসজিদে তাদের জন্য একটি তাঁবু খাঁটিয়ে দিয়েছিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করার পর রমজান মাসের অবশিষ্ট রোযাগুলো রেখেছিল। [১৭৬০]

[১৭৬০] তা’লীক ইবনু মাজাহ। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)

৭/৫৩. অধ্যায়ঃ

যে মহিলা তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত (নফল) সিয়াম রাখে।

১৭৬১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬১


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَان بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ يَوْمًا مِنْ غَيْرِ شَهْرِ رَمَضَانَ إِلَّا بِإِذْنِهِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

স্বামীর উপস্থিতিতে তার সম্মতি ব্যতীত স্ত্রী রমজান মাসের সিয়াম ছাড়া এক দিনও সিয়াম রাখবে না। [১৭৬১]

[১৭৬১] সহীহুল বুখারী ৫১৯২, ৫১৯৫, মুসলিম ১০২৬, তিরমিযী ৭৮২, আবূ দাউদ ২৪৫৮, আহমাদ ৭২৯৪, ২৭৪০৫, ৯৪৪১, ৯৬৬২, ৯৮১২, ১০১১৭, দারেমী ১৭২০, ইরওয়াহ ২০০৪, সহীহ আবী দাউদ ২১২১, বুখারী, মুসলিমে রামাযানের উল্লেখ ব্যতীত। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৬২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم النِّسَاءَ أَنْ يَصُمْنَ إِلَّا بِإِذْنِ أَزْوَاجِهِنَّ

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদেরকে তাদের স্বামীদের সম্মতি ব্যতীত সিয়াম রাখতে নিষেধ করেছেন। [১৭৬২]

[১৭৬২] আবূ দাউদ ২৪৫৯, আহমাদ ১১৩৫০, ১১৩৯২, দারেমী ১৭১৯, ইরওয়াহ ৭.৬৪-৬৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৫৪. অধ্যায়ঃ

কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের মেহমান হলে সে তাদের সম্মতি ব্যতীত (নফল) সিয়াম রাখবে না।

১৭৬৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬৩


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ وَخَالِدُ بْنُ أَبِي يَزِيدَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَدَنِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا نَزَلَ الرَّجُلُ بِقَوْمٍ فَلَا يَصُومُ إِلَّا بِإِذْنِهِمْ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের মেহমান হলে সে যেন তাদের সম্মতি ব্যতীত (নফল) সিয়াম না রাখে। [১৭৬৩]

[১৭৬৩] তিরমিযী ৭৮৯, যঈফাহ ২৭১৪। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী আবু বকর আল-মাদানী সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি ও ইমাম যাহাবী দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল।

৭/৫৫. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি বলে, কৃতজ্ঞ আহারকারী ধৈর্যশীল রোযাদারের সমতুল্য।

১৭৬৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬৪


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأُمَوِيِّ عَنْ مَعْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيٍّ الْأَسْلَمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ بِمَنْزِلَةِ الصَّائِمِ الصَّابِرِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কৃতজ্ঞ আহারকারী ধৈর্যশীল রোযাদারের সমতুল্য। [১৭৬৪]

[১৭৬৪] তিরমিযী ২৪৮৬, সহীহাহ ৬৫৫, তালীক ইবনু খুযাইয়াহ ১৮৯৮, ১৮৯৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জা'ফার আল উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা) ২. আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল উমাবী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অপরিচিত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। আবু আহমাদ বিন আলী আল-জুরজানী ও তাহরিরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে আমার জানা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৬৮, ১৫/১৮৫ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইয়াকুব বিন হুমায়দ ও আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল উমাবী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩ টি জাল, ৯ টি অধিক দুর্বল, ২০ টি দুর্বল, ১৩ টি হাসান, ৯ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিযি ২৪৮৬, দারিমী ২০২৪, আহমাদ ৭৭৪৭, ৭৮২৯, ১৮৫৩৪, মু'জামুল আওসাত ৭৩৮১, শারহুস সুন্নাহ ২৮৩২ ইত্যাদি।

১৭৬৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬৫


حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي حُرَّةَ عَنْ عَمِّهِ حَكِيمِ بْنِ أَبِي حُرَّةَ عَنْ سِنَانِ بْنِ سَنَّةَ الْأَسْلَمِيِّ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الصَّائِمِ الصَّابِرِ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী সিনান বিন সান্নাহ আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কৃতজ্ঞ আহারকারীর জন্য রয়েছে ধৈর্যশীল রোযাদারের অনুরূপ প্রতিদান। [১৭৬৫]

[১৭৬৫] দারেমী ২০২৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল আযিয আদ-দারাওয়ারদী সম্পর্কে মুহাম্মাদ বোন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল আজালী তাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি যখন তার কিতাব হতে কোন হাদিস বর্ণনা করেন তখন তা সহীহ কিন্তু যখন মানুষের কিতাব থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন তিনি সন্দেহ করতেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা)

৭/৫৬. অধ্যায়ঃ

লায়লাতুল কদর (কদরের রাত) সম্পর্কে

১৭৬৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ اعْتَكَفْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ مِنْ رَمَضَانَ فَقَالَ إِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَأُنْسِيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي الْوَتْرِ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রমজান মাসের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করেছিলাম। তিনি বলেন, আমাকে লায়লাতুল কদর দেখানো হয়েছিল; পরে তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে তা অনুসন্ধান করো। [১৭৬৬]

[১৭৬৬] সহীহুল বুখারী ২০১৮, মুসলিম ১১৬৭, নাসায়ী ১৩৫৬, আবূ দাউদ ১৩৮২, আহমাদ ১০৬৫০, ১০৮০২, ১১১৮৬, ১১৩০৭, মুয়াত্তা মালেক ৭০১, সহীহ আবী দাউদ ১২২১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৫৭. অধ্যায়ঃ

রমজান মাসের শেষ দশকের ফযিলত।

১৭৬৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ وَأَبُو إِسْحَقَ الْهَرَوِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَاتِمٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসের শেষ দশকে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ইবাদাতে অধিক মশগুল থাকতেন। [১৭৬৭]

[১৭৬৭] সহীহুল বুখারী ২০২৪,মুসলিম ১১৭৪, ১১৭৫, তিরমিযী ৭৯৬, নাসায়ী ১৬৩৯, আবূ দাউদ ১৩৭৬, আহমাদ ২৩৬১১, ২৩৮৫৬,২৩৮৬৯, ২৪০০৭, ২৪৩৯২, ২৫৬৫৬, সহীহাহ ২১২৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৬৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬৮


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَتْ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসের শেষ দশকে রাত জাগতেন, তহবন্দ শক্ত করে বেঁধে নিতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে (ইবাদাতে মশগুল হওয়ার জন্য) জাগিয়ে দিতেন। [১৭৬৮]

[১৭৬৮] সহীহুল বুখারী ২০২৪,মুসলিম ১১৭৪, ১১৭৫, তিরমিযী ৭৯৬, নাসায়ী ১৬৩৯, আবূ দাউদ ১৩৭৬, আহমাদ ২৩৬১১, ২৩৮৫৬,২৩৮৬৯, ২৪০০৭, ২৪৩৯২, ২৫৬৫৬, সহীহ আবী দাউদ ১২৪৬, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৫৮. অধ্যায়ঃ

ই‘তিকাফ সম্পর্কে।

১৭৬৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৬৯


حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ كُلَّ عَامٍ عَشْرَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا وَكَانَ يُعْرَضُ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ فِي كُلِّ عَامٍ مَرَّةً فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ عُرِضَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বছর দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন। তবে তিনি ইনতিকালের বছর বিশ দিন ই‘তিকাফ করেন। প্রতি বছর (রমজান মাসে) তাঁর কাছে একবার কুরআন পাশ করা হতো। তবে তাঁর ইনতিকালের বছর তাঁর কাছে তা দু’বার পেশ করা হয়। [১৭৬৯]

[১৭৬৯] সহীহুল বুখারী ২০৪৪, ৪৯৯৮, তিরমিযী ৭৯০, আবূ দাউদ ২৪৬৬, আহমাদ ৭৭২৬, ৮২৩০, ৮৪৪৮, ৮৯৫৯, ২৪৮৩০, দারেমী ১৭৭৯, সহীহ আবী দাউদ ২১২৬, ২১৩০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৭০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ فَسَافَرَ عَامًا فَلَمَّا كَانَ مِنْ الْعَامِ الْمُقْبِلِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا

উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাদানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন। তবে তিনি কোন এক বছর এ সময় সফরে অতিবাহিত করেন। এরপর পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ই‘তিকাফ করেন। [১৭৭০]

[১৭৭০] আবূ দাউদ ২৪৬৩, আহমাদ ২০৭৭০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

৭/৫৯. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি ই’তিকাফে বসলো এবং ই’তিকাফের কাযা সম্পর্কে।

১৭৭১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭১


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الصُّبْحَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَكَانَ الَّذِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهِ فَأَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ فَأَمَرَ فَضُرِبَ لَهُ خِبَاءٌ فَأَمَرَتْ عَائِشَةُ بِخِبَاءٍ فَضُرِبَ لَهَا وَأَمَرَتْ حَفْصَةُ بِخِبَاءٍ فَضُرِبَ لَهَا فَلَمَّا رَأَتْ زَيْنَبُ خِبَاءَهُمَا أَمَرَتْ بِخِبَاءٍ فَضُرِبَ لَهَا فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ آلْبِرَّ تُرِدْنَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ رَمَضَانَ وَاعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলে ফজরের সলাত পড়ার পর ই’তিকাফের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করতেন। তিনি রমাদানের শেষ দশদিন ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলেন এবং তাঁর জন্য একটি বেষ্টনী তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। আয়িশা (রাঃ)-ও তাঁর জন্য একটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন। অতএব তার জন্যও বেষ্টনী তৈরি করা হলো। হাফসা (রাঃ)-ও একটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিলে তাঁর জন্যও তা তৈরি করা হলো। যয়নাব (রাঃ) তাদের দু’জনের বেষ্টনী দেখে আরেকটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন এবং তাঁর জন্যও তা তৈরি করা হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে বলেন, তোমরা কি পুণ্য লাভের উদ্দেশ্যে এমনটি করছো! এরপর তিনি আর রমজান মাসে ই‘তিকাফ করলেন না, পরে শাওয়াল মাসের দশ দিন ই‘তিকাফ করেন। [১৭৭১]

[১৭৭১] সহীহুল বুখারী ২০৩৩, ২০৩৪, ২০৪১, ২০৪৫, মুসলিম ১১৭২, ১১৭৩, তিরমিযী ৭৯১, নাসায়ী ৭০৯, আবূ দাউদ ২৪৬৪, আহমাদ ২৪০২৩, ২৫৩৬৯, মুয়াত্তা মালেক ৬৯৯, তা’লীক ইবনু খুযাইমাহ ২২২৪, সহীহ আবী দাউদ ২১২৭, ২১২৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৬০. অধ্যায়ঃ

এক দিন অথবা এক রাত ই‘তিকাফ করা।

১৭৭২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭২


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مُوسَى الْخَطْمِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ عَلَيْهِ نَذْرُ لَيْلَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَكِفُهَا فَسَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يَعْتَكِفَ

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উমার (রাঃ), জাহিলী যুগে তার এক রাত ই‘তিকাফ করার মানত ছিল। তিনি এ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে ই‘তিকাফ করার নির্দেশ দেন। [১৭৭২]

[১৭৭২] সহীহুল বুখারী ২০৩২, ২০৪২, ২০৪৩, ৩১৪৪, ৪৩২০, ৬৬৯৭, মুসলিম ১৬৫৬, তিরমিযী ১৫৩৯, নাসায়ী ৩৮২০, ৩৮২১, ৩৮২২, আবূ দাউদ ৩৩২৫, আহমাদ ২৫৭, ৪৬৯১, ৫৫১৪, ৬৩৮২, দারেমী ২৩৩৩, তা’লীক ইবনু খুযাইমাহ ২২২৯, সহীহ আবী দাউদ ২১৩৬, ২১৩৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৬১. অধ্যায়ঃ

ই‘তিকাফকারী মাসজিদের একটি স্থান নির্ধারণ করে নিবে।

১৭৭৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭৩


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ أَنْبَأَنَا يُونُسُ أَنَّ نَافِعًا حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ
قَالَ نَافِعٌ وَقَدْ أَرَانِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ الْمَكَانَ الَّذِي كَانَ يَعْتَكِفُ فِيهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم

আবদুল্লাহ্‌ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। নাফি’ (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) আমাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ই’তিকাফের স্থানটি দেখিয়েছেন। [১৭৭৩]

[১৭৭৩] সহীহুল বুখারী ২০২৫, মুসলিম ১১৭১, আবূ দাউদ ২৪৬৫, আহমাদ ৬১৩৭, সহীহ আবী দাউদ ২১২০, বুখারীতে নাফি‘ বলেছেন এ কথা নেই। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৭৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ عِيسَى بْنِ عُمَرَ بْنِ مُوسَى عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا اعْتَكَفَ طُرِحَ لَهُ فِرَاشُهُ أَوْ يُوضَعُ لَهُ سَرِيرُهُ وَرَاءَ أُسْطُوَانَةِ التَّوْبَةِ

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু উমার (রাঃ) ই’তিকাফের ইচ্ছা করলে তার জন্য “উসতুওয়ানায়ে তাওবা”-এর পেছনে তাঁর বিছানা দেয়া হতো অথবা তাঁর খাট রাখা হতো। [১৭৭৪]

[১৭৭৪] তা’লীক সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ২২৩৬। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী নু'আয়ম বিন হাম্মাদ সম্পর্কে আল-আজলী সিকাহ বলেছেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ ও ভুল করেন। মুসলিম বিন কাসিম বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি কিছু হাদিসের ব্যাপারে বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু বিশর আদ দাওলানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস গ্রহনের ব্যাপারে শিথিল। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায়অধিক ভুল করেন।(তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৪৫১, ২৯/৪৬৬ নং পৃষ্ঠা)

৭/৬২. অধ্যায়ঃ

মাসজিদের অভ্যন্তরে তাঁবুতে ই‘তিকাফ করা।

১৭৭৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَكَفَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ عَلَى سُدَّتِهَا قِطْعَةُ حَصِيرٍ قَالَ فَأَخَذَ الْحَصِيرَ بِيَدِهِ فَنَحَّاهَا فِي نَاحِيَةِ الْقُبَّةِ ثُمَّ أَطْلَعَ رَأْسَهُ فَكَلَّمَ النَّاسَ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি তুর্কী তাঁবুর মধ্যে ই’তিকাফে বসেন, যার জানালায় টাঙ্গানো ছিলো চাটাইয়ের টুকরা। রাবী বলেন, তিনি তাঁর হাত দিয়ে চাটাইটি সরিয়ে বেষ্টনীর পাশে রাখেন, অতঃপর মাথা বের করে লোকদের সাথে কথা বলেন। [১৭৭৫]

[১৭৭৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৪/১৮২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৬৩. অধ্যায়ঃ

ই’তিকাফকারির রোগীকে দেখতে যাওয়া ও জানাযায় উপস্থিত হওয়া।

১৭৭৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنْ كُنْتُ لَأَدْخُلُ الْبَيْتَ لِلْحَاجَةِ وَالْمَرِيضُ فِيهِ فَمَا أَسْأَلُ عَنْهُ إِلَّا وَأَنَا مَارَّةٌ قَالَتْ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةٍ إِذَا كَانُوا مُعْتَكِفِينَ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ই’তিকাফরত অবস্থায় কেবলমাত্র প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরে যেতাম এবং ঘরে রোগী থাকলে হাঁটতে হাঁটতে তাকে দেখতে যেতাম। তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই’তিকাফকালে প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরে যেতেন না। [১৭৭৬]

[১৭৭৬] আহমাদ ২৪২১০, ২৪৯৫৬, ইরওয়াহ ৯৭৪, ৯৭৮, তা’লীক ইবনু খুযাইমাহ ২২৩০, সহীহ আবী দাউদ ২১৩১, বুখারিতে মারফু’ভাবে। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৭৭৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭৭


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْهَيَّاجُ الْخُرَاسَانِيُّ حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الْخَالِقِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُعْتَكِفُ يَتْبَعُ الْجِنَازَةَ وَيَعُودُ الْمَرِيضَ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ই‘তিকাফকারী জানাযায় শরীক হতে পারে এবং রোগীকেও দেখতে যেতে পারে। [১৭৭৭]

তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট।

[১৭৭৭] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যঈফাহ ৪৬৭৯। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী ১. হায়্যাজ (বিন বিসতাম) আল-খুরাসানী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, হাদিস বিশারদগণ তার হাদিস বর্জন করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৬৩৭, ৩০/৩৫৭ নং পৃষ্ঠা) ২. আম্বাসাহ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, হাদিস বিশারদগণ তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইমাম তিরমিযি ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৩৬, ২২/৪১৬ নং পৃষ্ঠা) ৩. আবদুল খালিক সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অত্যান্ত দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। এছাড়াও এ হাদিসটি সহীহ হাদিসের বিপরীত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৩২, ১৬/৪৬৬ নং পৃষ্ঠা)

৭/৬৪. অধ্যায়ঃ

যে ই‘তিকাফকারী তার মাথা ধোয় এবং চুল আঁচড়ায়।

১৭৭৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭৮


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم «يُدْنِي إِلَيَّ رَأْسَهُ وَهُوَ مُجَاوِرٌ فَأَغْسِلُهُ وَأُرَجِّلُهُ وَأَنَا فِي حُجْرَتِي وَأَنَا حَائِضٌ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ».

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফরত অবস্থায় তাঁর মাথা আমার দিকে এগিয়ে দিতেন। আমি তা ধৌত করে দিতাম এবং আঁচড়িয়ে দিতাম। তখন আমি হায়িয অবস্থায় আমার ঘরে থাকতাম এবং তিনি মাসজিদে থাকতেন। [১৭৭৮]

[১৭৭৮] সহীহুল বুখারী ২৯৫, ২৯৬, ৩০১, ২০২৮, ২০২৯, ২০৩১, ২০৪৬, ৫৯২৫, মুসলিম ২৯৭, তিরমিযী ৮০৪, নাসায়ী ২৭৫, ২৭৬, ২৭৭, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৮৮, ৩৮৯, আবূ দাউদ ২৪৬৭, ২৪৬৯, আহমাদ ২৩৭১৮, ২৩৭৫৯, ২৪০০০, ২৪১৬২, ২৪২১০, ২৪৮৪১, ২৪৯৫৬, ২৫০৩৫, ২৫১৫৪, ২৫৩৯৪, ২৫৪১০, ২৫৪৪২, ২৫৪৪৯, ২৫৫৭১, ২৫৭২৯, মুয়াত্তা মালেক ১৩৫, ৬৯৩, দারেমী ১০৫৮, ১০৫৯, ১০৬৬, ১০৬৮, ১০৬৯, বায়হাকী ৪/৮৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

৭/৬৫. অধ্যায়ঃ

ই‘তিকাফকারির সাথে তার পরিবার-পরিজনের সাক্ষাত করা।

১৭৭৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৭৯


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ بْنِ مُوسَى بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ مَعْمَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَزُورُهُ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فِي الْمَسْجِدِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَهُ سَاعَةً مِنْ الْعِشَاءِ ثُمَّ قَامَتْ تَنْقَلِبُ فَقَامَ مَعَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْلِبُهَا حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ بَابَ الْمَسْجِدِ الَّذِي كَانَ عِنْدَ مَسْكَنِ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ بِهِمَا رَجُلَانِ مِنْ الْأَنْصَارِ فَسَلَّمَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَفَذَا فَقَالَ لَهُمَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ قَالَا سُبْحَانَ اللهِ يَا رَسُولَ اللهِ وَكَبُرَ عَلَيْهِمَا ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَيْئًا

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী সাফিয়্যাহ বিনতু হুইয়ায় (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রমজান মাসের শেষ দশকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে ই‘তিকাফ করেছিলেন। তখন সাফিয়্যা (রাঃ) তাঁর সাথে দেখা করতে আসেন এবং রাতের কিছুক্ষণ তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন। অতঃপর তিনি চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তাকে বিদায় দেয়ার জন্য দাঁড়ান। সাফিয়্যা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর ঘরের নিকটবর্তী মাসজিদের দরজার কাছাকাছি পৌঁছলে দু‘জন আনসারী তাদেরকে অতিক্রম করে গেলেন এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যেতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে বলেন, থামো! এ হচ্ছে সাফিয়্যা বিনতু হুইয়ায়। তারা বলেন, সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহ্‌র রসূল! বিষয়টি তাদের জন্য কঠিন মনে হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, শয়তান আদম-সন্তানের শিরা-উপশিরায় রক্ত প্রবাহের মত ধাবিত হয়। আমি আশঙ্কা করছিলাম, শয়তান তোমাদের অন্তরে কোনরূপ কুধারণার সৃষ্টি করে কিনা? [১৭৭৯]

[১৭৭৯] সহীহুল বুখারী ২০৩৫, ২০৩৮, ২০৩৯, ৩১০১, ৩২৮১, ৬২১৯, ৭১৭১, মুসলিম ২১৭৫, আবূ দাউদ ২৪৭০, ৪৯৯৪, আহমাদ ২৬৩২২, দারেমী ১৭৮০, সহীহ আবী দাউদ ২১৩৩-২১৩৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৬৬. অধ্যায়ঃ

রক্তপ্রদর রোগিনীর ই'তিকাফ করা।

১৭৮০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৮০


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّبَّاحُ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ اعْتَكَفَتْ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةٌ مِنْ نِسَائِهِ فَكَانَتْ تَرَى الْحُمْرَةَ وَالصُّفْرَةَ فَرُبَّمَا وَضَعَتْ تَحْتَهَا الطَّسْتَ

ইকরামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক স্ত্রী তাঁর সাথে ই‘তিকাফ করেন। তিনি লাল ও হলদে বর্ণের রক্ত দেখতে পেতেন। তাই অধিকাংশ সময় তিনি তার নিচে একটি ছোট প্লেট পেতে রাখতেন। [১৭৮০]

[১৭৮০] সহীহুল বুখারী ৩০৯, ৩১০, ৩১১, আবূ দাউদ ২৪৭৬, আহমাদ ২৪৪৭৭, দারেমী ৮৭৭, সহীহ আবী দাউদ ২১৩৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৭/৬৭. অধ্যায়ঃ

ই‘তিকাফের সওয়াব।

১৭৮১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৮১


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أُمَيَّةَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُوسَى الْبُخَارِيُّ عَنْ عُبَيْدَةَ الْعَمِّيِّ عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْمُعْتَكِفِ هُوَ يَعْكِفُ الذُّنُوبَ وَيُجْرَى لَهُ مِنْ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَاتِ كُلِّهَا

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফকারী সম্পর্কে বলেন, সে নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং নেককারদের সকল নেকী তার জন্য লেখা হয়। [১৭৮১]

[১৭৮১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ২১০৮, দ্বিতীয় তাহকীক। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ঈসা বিন মুসা আল-বুখারী সম্পর্কে মুসলিম বিন কাসিম বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি কখনো কখনো হাদিস বর্ণনায় সিকাহ রাবীর বিপরীত বর্ণনা করেন। হাকিম বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিনতি ১০০ জন অপরিচিত ব্যাক্তির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ২. উবায়দাহ আল-আম্মী সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৭৫১, ১৯/২৫৬ নং পৃষ্ঠা) ৩. ফারকাদ আস-সাবাখী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আল-আজালী বলেন, কোন সমস্যা নেই। আবু আহমাদ আল-হাকিম, আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসাঈ ও আবু যুরআহ আর-রাযী তারা বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তিনি যাচাই বাছাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭১৫, ২৩/১৬৪ নং পৃষ্ঠা)

৭/৬৮. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি দু’ ঈদের রাতে ইবাদাত করে।

১৭৮২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : সিয়াম বা রোজা

হাদীস নং : ১৭৮২


حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْمَرَّارُ بْنُ حَمُّويَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ

আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি দু’ ঈদের রাতে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদাত করবে তার অন্তর ঐ দিন মরবে না, যে দিন অন্তরসমূহ মরে যাবে। [১৭৮২]

তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট।

[১৭৮২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৪/১০৩। যঈফাহ ৫২১, ৫১৩৬, তা’লীকুর রগীব ২/১০০। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. বাকিইয়্যাহ সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, যখন তিনি সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তখন তাকে সিকাহ হিসেবে গন্য করা হবে। ইমাম নাসাঈ বলেন, যখন তিনি হাদ্দাসানা বা আখবারনা শব্দদয় দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেন তখন তিনি সিকাহ হিসেবে গন্য হবেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩৮, ৪/১৯২ নং পৃষ্ঠা)