All books

সুনানে ইবনে মাজাহ (০ টি হাদীস)

জানাযাহ ১৪৩৩ - ১৬৩৭

৬/১. অধ্যায়ঃ

রোগীকে দেখতে যাওয়া

১৪৩৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৩৩


حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتَّةٌ بِالْمَعْرُوفِ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَتْبَعُ جِنَازَتَهُ إِذَا مَاتَ وَيُحِبُّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ছয়টি ‘হক’ রয়েছেঃ সে তার সাথে সাক্ষাতকালে তাকে সালাম দিবে, সে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত কবুল করবে, সে হাঁচি দিলে তার জবাব দিবে, সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাবে, সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশগ্রহন করবে এবং সে নিজের জন্য যা পছন্দ করবে, তার জন্যও তা পছন্দ করবে। [১৪৩৩]

তাহকীক আলবানীঃ (আরবি) কথাটি অতিরিক্ত হওয়ায় দঈফ, তবে উক্ত বাক্যগুলো অন্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

[১৪৩৩] وَيُحِبُّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ কথাটি অতিরিক্ত হওয়ায় যইফ, তবে উক্ত বাক্যগুলো অন্য হাদিস দ্বারা প্রমানিত। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস (বিন আবদুল্লাহ) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আহমাদ বিন সালিহ আল মিসরী বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস থেকে দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়।

১৪৩৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৩৪


حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَكِيمِ بْنِ أَفْلَحَ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ أَرْبَعُ خِلَالٍ يُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيَشْهَدُهُ إِذَا مَاتَ وَيَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ

আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের চারটি অধিকার আছেঃ সে হাঁচি দিলে তার জবাব দিবে, সে তাকে দাওয়াত দিলে তা কবুল করবে, সে মারা গেলে তার জানাযায় উপস্থিত হবে এবং সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে। [১৪৩৪]

[১৪৩৪] আহমাদ ২১৮৩৭ সহীহাহ ২১৫৪, ১৮৩২ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৩৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৩৫


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم خَمْسٌ مِنْ حَقِّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ رَدُّ التَّحِيَّةِ وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ وَشُهُودُ الْجِنَازَةِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ إِذَا حَمِدَ اللهَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের পাঁচটি অধিকার আছেঃ সালামের জবাব দেয়া, দাওয়াত কবুল করা, জানাযায় উপস্থিত হওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া এবং হাঁচিদাতা আলহামদু লিল্লাহ বললে তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। [১৪৩৫]

[১৪৩৫] সহীহুল বুখারী ১২৪০, মুসলিম ২১৬২, নাসায়ী ৫০৩০ আহমাদ ২৭৫১১ সহীহাহ ১৮৩২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৩৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৩৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الصَّنْعَانِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُنْكَدِرِ يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ عَادَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَاشِيًا وَأَبُو بَكْرٍ وَأَنَا فِي بَنِي سَلَمَةَ

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ) পদব্রজে আমাকে দেখতে আসেন। তখন আমি বনু সালিমায় অবস্থান করছিলাম। [১৪৩৬]

[১৪৩৬] সহীহুল বুখারী ১৯৪, ৪৫৭৭, ৫৬৫১, ৫৬৬৪, ৫৬৭৬ ৬৭২৩, ৬৭৫৩, ৭৩০৯, মুসলিম ১৬১৬, তিরমিযী ২০৯৬, ২০৯৭, ৩০১৫, আবূ দাউদ ২৮৮৬, ২৮৮৭, ৩০৯৬, দারেমী ৭৩৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৩৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৩৭


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَعُودُ مَرِيضًا إِلَّا بَعْدَ ثَلَاثٍ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন দিন পর রোগীকে দেখতে যেতেন। [১৪৩৭]

তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট।

[১৪৩৭]যঈফাহ ১৪৫, মিশকাত ১৫৮৭। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী মাসলসামাহ বিন আলী সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ নন আবার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্তও নন।

১৪৩৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৩৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ السَّكُونِيُّ عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلْتُمْ عَلَى الْمَرِيضِ فَنَفِّسُوا لَهُ فِي الْأَجَلِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَرُدُّ شَيْئًا وَهُوَ يَطِيبُ بِنَفْسِ الْمَرِيضِ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বলেছেনঃ তোমরা রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তার দীর্ঘায়ু কামনা করবে। যদিও তা কিছুই প্রতিরোধ করতে পারে না, তবুও তা রোগীর অন্তরে আনন্দের উদ্রেক করে। [১৪৩৮]

[১৪৩৮] তিরমিযী ২০৮৭ মাজাহ ১৪৩৭ মিশকাত ১৫৭২, যঈফাহ ১৮২। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আত-তায়মীকে আহমাদ বিন হাম্বল দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেছেন, তার হাদিস মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে মুনকারুল হাদিস বলেছেন।

১৪৩৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৩৯


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلَّالُ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ هُبَيْرَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مَكِينٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَادَ رَجُلًا فَقَالَ مَا تَشْتَهِي قَالَ أَشْتَهِي خُبْزَ بُرٍّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَانَ عِنْدَهُ خُبْزُ بُرٍّ فَلْيَبْعَثْ إِلَى أَخِيهِ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا اشْتَهَى مَرِيضُ أَحَدِكُمْ شَيْئًا فَلْيُطْعِمْهُ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে বলেন, তুমি কী চাও? সে বললো, আমি গমের রুটি খেতে চাই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কারো কাছে গমের রুটি থাকলে সে যেন তা তার ভাইয়ের জন্য পাঠায়। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের কারো রোগী কিছু খেতে আকাঙক্ষা করবে সে তাকে যেন তা খাওয়ায়। [১৪৩৯]

[১৪৩৯] এ হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ১৫৭২। যইফাহ ১৮২। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। সফওয়ান বিন হুবায়রাহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি একজন শায়খ। ইবনু হিব্বান তাকে শক্তিশালী বলেছেন।

১৪৪০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪০


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَرِيضٍ يَعُودُهُ فَقَالَ أَتَشْتَهِي شَيْئًا أَتَشْتَهِي كَعْكًا قَالَ نَعَمْ فَطَلَبُوا لَهُ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে তার নিকট উপস্থিত হন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কি কিছু খেতে আগ্রহী? তুমি কি কা‘কা (পারস্য দেশীয় রুটি) খেতে আগ্রহী? সে বললো, হ্যাঁ। অতএব তারা তার জন্য খুঁজে আনে। দঈফ। [১৪৪০]

[১৪৪০] এ হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ১৫৯২ তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী সুফইয়ান বিন ওয়াকী সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে অনেক সমালোচনা রয়েছে। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইয়াযীদ (বিন আবান) আর-রিকশী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনার চেয়ে রাস্তা কেটে বসে যাওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই।

১৪৪১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪১


حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلْتَ عَلَى مَرِيضٍ فَمُرْهُ أَنْ يَدْعُوَ لَكَ فَإِنَّ دُعَاءَهُ كَدُعَاءِ الْمَلَائِكَةِ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি কোন রোগীকে দেখতে গেলে তাকে তোমার জন্য দুআ করতে বলো। কেননা তার দুআ ফেরেশতাদের দুআর মত। [১৪৪১]

[১৪৪১] এ হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ১৪৮৮, যঈফাহ ১০০৩। তাহকীক আলবানীঃ নিতান্ত যঈফ।

৬/২. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি রোগীকে দেখতে যায় তার সওয়াব।

১৪৪২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪২


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَلِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ أَتَى أَخَاهُ الْمُسْلِمَ عَائِدًا مَشَى فِي خَرَافَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَجْلِسَ فَإِذَا جَلَسَ غَمَرَتْهُ الرَّحْمَةُ فَإِنْ كَانَ غُدْوَةً صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ كَانَ مَسَاءً صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُصْبِحَ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তি তার রুগ্ন মুসলমান ভাইকে দেখতে গেলে সে না বসা পর্যন্ত জান্নাতের খেজুর আহরণ করতে থাকে। অতঃপর সে বসলে রহমত তাকে ঢেকে ফেলে। সে ভোরবেলা তাকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দুআ করতে থাকে। সে সন্ধ্যাবেলা তাকে দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দুআ করতে থাকে। [১৪৪২]

[১৪৪২] আবূ দাউদ ৩০৯৮, আহমাদ ৭৫৬, সহীহ, সহীহাহ ১৩৬৭। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী হাকামকে ইবনু হিব্বান তার সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে তিই বলেন যে, হাকাম তাদলীস করতেন।

১৪৪৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ حَدَّثَنَا أَبُو سِنَانٍ الْقَسْمَلِيُّ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ عَادَ مَرِيضًا نَادَى مُنَادٍ مِنْ السَّمَاءِ طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وَتَبَوَّأْتَ مِنْ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি রোগীকে দেখতে গেলে আকাশ থেকে একজন আহবানকারী তাকে ডেকে বলেন, তুমি উত্তম কাজ করেছো, তোমার পথ চলা কল্যাণময় হোক এবং তুমি জান্নাতে একটি বাসস্থান নির্ধারণ করে নিলে। [১৪৪৩]

[১৪৪৩] তিরমিযী ২০০৮ মিশকাত দ্বিতীয় তাহকীক, ১৫৭৫, ৫-১৫। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আবু সিনান আল কাসমালী সম্পর্কে ইবনু খাররাশ বলেন, সে সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে শক্তিশালী বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দইফুল হাদিস বলে মন্তব্য করেছেন।

৬/৩. অধ্যায়ঃ

মুমূর্ষু ব্যক্তিকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর তালকীন দেয়া।

১৪৪৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মুমূর্ষ ব্যক্তিদের “লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ”-এর তালকীন দাও। [১৪৪৪]

[১৪৪৪] মুসলিম ৯১৭ ইরওয়াহ ৩/১৪৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৪৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মুমূর্ষ ব্যক্তিদের “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু”-এর তালকীন দাও। [১৪৪৫]

[১৪৪৫]মুসলিম ৯১৬, তিরমিযী ৯৭৬ নাসায়ী ১৮২৬, আবূ দাউদ ৩১১৭, আহমাদ ১০৬১০, ইরওয়াহ ৬৮৬, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৪৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ لِلْأَحْيَاءِ قَالَ أَجْوَدُ وَأَجْوَدُ

আবদুল্লাহ বিন জা‘ফার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মুমূর্ষ ব্যক্তিদের “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালীমুল কারীম, সুবহানাল্লাহি রব্বিল আরশিল আযীম, আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন”-এর তালকীন দাও। তারা বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! জীবিত (সুস্থ) ব্যক্তিদের বেলায় এ দুআ কেমন হবে? তিনি বললেনঃ অধিক উত্তম, অধিক উত্তম। [১৪৪৬]

[১৪৪৬] মিশকাত ১৬২৬, যঈফাহ ৪৩১৭, কিন্তু মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু তালকীন দাও এ বাক্য সহীহ। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক বিন আবদুল্লাহ বিন জা'ফার সম্পর্কে মুহাদ্দিসগন বলেন, তিনি অপরিচিত।

৬/৪. অধ্যায়ঃ

রোগীর নিকট উপস্থিত হয়ে যে দুআ পড়তে হয়।

১৪৪৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪৭


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا حَضَرْتُمْ الْمَرِيضَ أَوْ الْمَيِّتَ فَقُولُوا خَيْرًا فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَبَا سَلَمَةَ قَدْ مَاتَ قَالَ قُولِي اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلَهُ وَأَعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبًى حَسَنَةً قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَأَعْقَبَنِي اللهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم.

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রোগী কিংবা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে (তার সম্পর্কে) ভালো কথা বলবে। কেননা তোমরা যা বলবে, ফেরেশতারা তার উপর আমীন’ বলবেন। আবূ সালামাহ (রাঃ) ইনতিকাল করলে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আবূ সালামাহ ইন্তিকাল করেছেন। তিনি বলেন, তুমি বলো, “হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ও তাকে ক্ষমা করো এবং আমাকে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দাও।” রাবী বলেন, আমি তাই করলাম। আল্লাহ্ আমাকে তার চাইতেও উত্তম বিনিময় মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দান করেছেন। [১৪৪৭]

[১৪৪৭] মুসলিম ৯১৮, ৯১৯, ৯২০, তিরমিযী ৯৭৭, নাসায়ী ১৮২৫, আবূ দাউদ ৩১১৯, ৩১১৫, আহমাদ ২৫৯৫৮, ২৬০৬৮, ২৬০৯৫, ২৬১২৯, ২৬১৫৭, মুয়াত্তা মালেক ৫৫৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৪৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ وَلَيْسَ بِالنَّهْدِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اقْرَءُوهَا عِنْدَ مَوْتَاكُمْ يَعْنِي يس

মা‘কিল বিন ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃতদের কাছে সূরা ইয়াসিন পড়ো। [১৪৪৮]

[১৪৪৮] আবূ দাউদ ৩১২১, আহমাদ ১৯৭৮৯, ১৯৮০৩, মিশকাত ১৬২২, হরওয়া ৬৮৮, যঈফাহ ৫৮৬১। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ

১৪৪৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৪৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ فُضَيْلٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ كَعْبًا الْوَفَاةُ أَتَتْهُ أُمُّ بِشْرٍ بِنْتُ الْبَرَاءِ بْنِ مَعْرُورٍ فَقَالَتْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنْ لَقِيتَ فُلَانًا فَاقْرَأْ عَلَيْهِ مِنِّي السَّلَامَ قَالَ غَفَرَ اللهُ لَكِ يَا أُمَّ بِشْرٍ نَحْنُ أَشْغَلُ مِنْ ذَلِكَ قَالَتْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَمَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فِي طَيْرٍ خُضْرٍ تَعْلُقُ بِشَجَرِ الْجَنَّةِ قَالَ بَلَى قَالَتْ فَهُوَ ذَاكَ

আবদুর রহমান থেকে বর্ণিতঃ

কা‘ব (রাঃ)-এর মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তার নিকট উম্মু বিশর বিনতুল বারা’ বিন মারূর (রাঃ) এসে বলেন, হে আবূ আবদুর রহমান! তুমি অমুকের সাক্ষাত পেলে আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম পৌঁছাবে। তিনি বলেন, হে উম্ম বিশর! আল্লাহ্ তোমাকে ক্ষমা করুন। আমি এখন তার চেয়ে জরুরী কাজে ব্যস্ত আছি। তিনি বলেন, হে আবূ আবদুর রহমান! তুমি কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনোনিঃ মু’মিন ব্যক্তির আত্মা সবুজ পাখির মতো অবস্থান করে জান্নাতের গাছের সাথে ঝুলে থাকে? তিনি বলেন, হাঁ। উম্ম বিশ (রাঃ) বলেন, প্রকৃত কথা এটাই। [১৪৪৯]

[১৪৪৯] তিরমিযী ১৬৪১, নাসায়ী ২০৭৩, আহমাদ ১৫৩৪৯, ১৫৩৬০, ১৫৩৬৫, ২৬৬২৫, মুয়াত্তা মালেক ৫৬৬, মিশকাত ১৬৩১। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ।

১৪৫০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫০


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْأَزْهَرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ الْمَاجِشُونِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ وَهُوَ يَمُوتُ فَقُلْتُ اقْرَأْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم السَّلَامَ

মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণিতঃ

আমি মুমূর্ষু জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আপনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম পৌঁছে দিবেন। [১৪৫০]

[১৪৫০] আহমাদ ১১২৬৩, ১৮৯৮৮, মিশকাত ১৬৩৩। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আহমাদ বিন আযহার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তার সিকাত গ্রন্থে বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।

৬/৫. অধ্যায়ঃ

মু’মিন ব্যক্তিকে মৃত্যুযন্ত্রনার কারণে প্রতিদান দেয়া হবে।

১৪৫১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫১


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا حَمِيمٌ لَهَا يَخْنُقُهُ الْمَوْتُ فَلَمَّا رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا بِهَا قَالَ لَهَا لَا تَبْتَئِسِي عَلَى حَمِيمِكِ فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ حَسَنَاتِهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট উপস্থিত হন। তখন তার নিকট তার এক প্রতিবেশী মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে চিন্তিত দেখে বলেন, তোমার প্রতিবেশির কারণে তুমি চিন্তিত হয়ো না। কেননা এটা সৎকর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত। [১৪৫১]

[১৪৫১] যঈফাহ ৪৭৭২। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। মুহাদ্দিসগন বলেন, উক্ত হাদিসের রারী ওয়ালীদ বিন মুসলিম সিকাহ তবে তিনি বেশী বেশী তাদলীস করেন।

১৪৫২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫২


حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ الْمُثَنَّى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُؤْمِنُ يَمُوتُ بِعَرَقِ الْجَبِينِ

বুরায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কপালের ঘামসহ মু’মিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। [১৪৫২]

[১৪৫২] তিরমিযী ৯৮২, নাসায়ী ১৮২৮, আহমাদ ২২৫১৩, মিশকাত ১৬১০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৫৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫৩


حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ كَرْدَمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَتَى تَنْقَطِعُ مَعْرِفَةُ الْعَبْدِ مِنْ النَّاسِ قَالَ إِذَا عَايَنَ

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, বান্দার পরিচয় মানুষ থেকে কখন ছিন্ন হয়ে যায়? তিনি বলেন, যখন সে (মৃত্যুর ফেরেশতা ও বারযাখ) দেখতে পায়। [১৪৫৩]

[১৪৫৩] তাহকীক আলবানীঃ নিতান্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন কারদাম সম্পর্কে ইমাম আযদী বলেন, লায়সা বি যাকা (সে কিছুই নয়) ইমাম যাহাবী বলেন, তাকে মাজহুল বা অপরিচিত বলা হয়েছে।

৬/৬. অধ্যায়ঃ

মৃত ব্যক্তির চোখ বন্ধ করে দেয়া।

১৪৫৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫৪


حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي سَلَمَةَ وَقَدْ شَقَّ بَصَرُهُ فَأَغْمَضَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আবূ সালামাহ (রাঃ)–এর নিকট উপস্থিত হন, তখন তার চোখ খোল ছিল। তিনি তার চোখ বন্ধ করে দেন, অতঃপর বলেন, যখন রূহ কবয করা হয়, তখন চোখ তার অনুসরণ করে। [১৪৫৪]

[১৪৫৪] মুসলিম ৯২০, আবূ দাউদ ৩১১৮, আহমাদ ২৬০০৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৫৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫৫


حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ تَوْبَةَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا قَزَعَةُ بْنُ سُوَيْدٍ عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا حَضَرْتُمْ مَوْتَاكُمْ فَأَغْمِضُوا الْبَصَرَ فَإِنَّ الْبَصَرَ يَتْبَعُ الرُّوحَ وَقُولُوا خَيْرًا فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تُؤَمِّنُ عَلَى مَا قَالَ أَهْلُ الْبَيْتِ

শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়ে তার চোখ দু’টি বন্ধ করে দিও। কেননা চোখ রূহের অনুসরণ করে এবং তোমরা তার সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করবে। কারণ গৃহবাসীরা যা বলেন ফেরেশতারা তাতে আমীন’ বলেন। [১৪৫৫]

তাহকীক আলবানীঃ মুসলিমে চোখ বন্ধ করে দেয়ার কথা ব্যতীত হাসান।

[১৪৫৫] আহমাদ ১৬৬৮৬, সহীহাহ ১০৯২ তাহকীক আলবানীঃ মুসলিমে চোখ বন্ধ করে দেয়ার কথা ব্যতীত হাসান, উক্ত হাদিসের রাবী কাযাআহ বিন সুওয়ায়দ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন একস্থানে সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন সে যইফ। ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী বলেন, সে তেমন শক্তিশালী নয়।

৬/৭. অধ্যায়ঃ

মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করা।

১৪৫৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَبَّلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيِّتٌ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى دُمُوعِهِ تَسِيلُ عَلَى خَدَّيْهِ

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উসমান বিন মাযঊন (রাঃ)-এর লাশ চুম্বন করেন। আমি যেন এখনো তাঁর দু’ গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখেছি। [১৪৫৬]

[১৪৫৬] তিরমিযী ৯৮৯, আবূ দাউদ ৩১৬৩,আহমাদ ২৩৬৪৫, ২৩৭৬৫, মিশকাত ১৬২৩, ইরওয়াহ ৬৯৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, মুহাদ্দিসগন তার হাদিস গ্রহন করা হতে বেঁচে থেকেছেন। ইবনু মাহদী বলেন, তার হাদিস নিতান্তই প্রত্যাখ্যাত। ইমাম বুখারী বলেন, সে মুনকারুল হাদিস। এ হাদিসের ৫৩ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে তিরমিযি ১ টি, আবু দাউদ ১ টি, আহমাদ ৩ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে।

১৪৫৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫৭


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ وَالْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ وَسَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَبَّلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مَيِّتٌ.

আবূ বাকর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লাশ চুম্বন করেন। [১৪৫৭]

[১৪৫৭] নাসায়ী ১৮৩৯, ১৮৪০, ১৮৪১, মিশকাত ১৬২৪, ইরওয়াহ ৬৯২, বুখারী। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/৮. অধ্যায়ঃ

মৃত ব্যাক্তিকে গোসল দেওয়া।

১৪৫৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نُغَسِّلُ ابْنَتَهُ أُمَّ كُلْثُومٍ فَقَالَ «اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ إِنْ رَأَيْتُنَّ ذَلِكَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَاجْعَلْنَ فِي الْآخِرَةِ كَافُورًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي فَلَمَّا فَرَغْنَا آذَنَّاهُ فَأَلْقَى إِلَيْنَا حَقْوَهُ وَقَالَ أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ».

উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা উম্মু কুলসুমের গোসল দেই। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা তাকে তিন বা পাঁচ অথবা ততোধিক বার কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও। শেষবারে কর্পূর বা কিছু কর্পূর লাগিয়ে দাও। তোমরা গোসল দেওয়া শেষ করে আমাকে ডাকবে। অতএব আমরা তার গোসল দেওয়া শেষ করে তাঁকে সংবাদ দিলাম। তিনি তাঁর জামা আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে বলেন, এটি দিয়ে ভাল করে আবৃত করো।

উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে এই সনদসূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাফসাহ (রাঃ) এর বর্ণনায় আছেঃ "তোমরা তাকে বেজোড় সংখ্যায় গোসল দাও।" তার বর্ণনায় আরো আছে, "তোমরা তাকে তিন বা পাঁচবার গোসল দাও।" তার বর্ণনায় আরো আছেঃ তোমরা তার ডান দিক থেকে তার উযূর অঙ্গগুলো থেকে গোসল শুরু করো।" এই বর্ণনায় আরো আছেঃ উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) আরো বলেন, "আমরা তার মাথার চুল তিন গোছায় বিভক্ত করে আঁচড়ে দিলাম।" [১৪৫৮]

[১৪৫৮] সহীহ, ইরওয়াহ ১২৯, বুখারী, মুসলিম। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৫৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৫৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ عَنْ أَيُّوبَ حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ بِمِثْلِ حَدِيثِ مُحَمَّدٍ وَكَانَ فِي حَدِيثِ حَفْصَةَ اغْسِلْنَهَا وِتْرًا وَكَانَ فِيهِ اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا وَكَانَ فِيهِ ابْدَءُوا بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ مِنْهَا وَكَانَ فِيهِ أَنَّ أُمَّ عَطِيَّةَ قَالَتْ وَمَشَطْنَاهَا ثَلَاثَةَ قُرُونٍ.

উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা উম্মু কুলসুমের গোসল দেই। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা তাকে তিন বা পাঁচ অথবা ততোধিক বার কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাও। শেষবারে কর্পূর বা কিছু কর্পূর লাগিয়ে দাও। তোমরা গোসল দেওয়া শেষ করে আমাকে ডাকবে। অতএব আমরা তার গোসল দেওয়া শেষ করে তাঁকে সংবাদ দিলাম। তিনি তাঁর জামা আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে বলেন, এটি দিয়ে ভাল করে আবৃত করো।

উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে এই সনদসূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাফসাহ (রাঃ) এর বর্ণনায় আছেঃ "তোমরা তাকে বেজোড় সংখ্যায় গোসল দাও।" তার বর্ণনায় আরো আছে, "তোমরা তাকে তিন বা পাঁচবার গোসল দাও।" তার বর্ণনায় আরো আছেঃ তোমরা তার ডান দিক থেকে তার উযূর অঙ্গগুলো থেকে গোসল শুরু করো।" এই বর্ণনায় আরো আছেঃ উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) আরো বলেন, "আমরা তার মাথার চুল তিন গোছায় বিভক্ত করে আঁচড়ে দিলাম।" [১৪৫৮]

[১৪৫৮] সহীহুল বুখারী ১৬৭, ১২৫৩, ১২৫৪, ১২৫৫, ১২৫৬, ১২৫৭, ১২৫৯, ১২৬০, ১২৬১, ১২৬২, ১২৬৩, মুসলিম ৯৩৯, তিরমিযী ৯৯০, নাসায়ী ১৮৮১, ১৮৮৩, ১৮৮৪, ১৮৮৫, ১৮৮৬, ১৮৮৭, ১৮৮৮, ১৮৮৯, ১৮৯০, ১৮৯৩, ১৮৯৪, আবূ দাউদ ৩১৪২, ৩১৪৫, ৩১৪৭, আহমাদ ২৬৭৫২, ২৬৭৫৭, মুয়াত্তা মালেক ৫১৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৬০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬০


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا تُبْرِزْ فَخِذَكَ وَلَا تَنْظُرْ إِلَى فَخِذِ حَيٍّ وَلَا مَيِّتٍ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি তোমার ঊরু খুলে রেখ না এবং জীবিত ও মৃত কারো ঊরুর প্রতি দৃষ্টিপাত করো না। [১৪৫৯]

[১৪৫৯] আবূ দাউদ ৩১৪০, ৪০১৫, আহমাদ ১২৫২, ইরওয়াহ ২৬৯। তাহকীক আলবানীঃ নিতান্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী বিশর বিন আদাম সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি শক্তিশালী। ইমাম যাহাবী বলেন, সে সত্যবাদী। ইমাম আবু হাতিম আর-রাযী ও দারাকুতনী বলেন, সে শক্তিশালী নয়।

১৪৬১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ مُبَشِّرِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِيُغَسِّلْ مَوْتَاكُمْ الْمَأْمُونُونَ

আবদুল্লাহ্‌ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃতদের আমানতের সাথে (গোপনীয় অঙ্গসমূহ যথাসম্ভব ঢেকে রেখে) গোসল দাও। [১৪৬০]

তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট।

[১৪৬০] যঈফাহ ৪৩৯৫। তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট। উক্ত হাদিসের রাবী মুবাশশির বিন উবায়দ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, সে কিছুই নয়, সে বানোয়াট হাদিস রচনা করত। ইমাম বুখারী বলেন, সে মুনকারুল হাদিস।

১৪৬২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ خَالِدٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ غَسَّلَ مَيِّتًا وَكَفَّنَهُ وَحَنَّطَهُ وَحَمَلَهُ وَصَلَّى عَلَيْهِ وَلَمْ يُفْشِ عَلَيْهِ مَا رَأَى خَرَجَ مِنْ خَطِيئَتِهِ مِثْلَ يَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মৃতকে গোসল দিল, কাফন পরালো, সুগন্ধি মাখলো, বহন করে নিয়ে গেল, তার জানাজার সলাত পড়লো এবং তার গোচরীভূত হওয়া তার গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করল না, তার থেকে গুনাহসমূহ তার জন্মদিনের মত বের হয়ে যায়। [১৪৬১]

[১৪৬১] তা’লীকুর রগীব ৪/১৭০। তাহকীক আলবানীঃ নিতান্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আব্বাদ বিন কাসীর সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করো না। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস লেখার যোগ্য নয়। আমর বিন খালিদ সম্পর্কে ওকী বিন জাররাহ বলেন, তার থেকে মিথ্যা বলা প্রকাশ পেয়েছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যাবাদী।

১৪৬৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ غَسَّلَ مَيِّتًا فَلْيَغْتَسِلْ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মৃতকে গোসল দিলো, সে যেন গোসল করে। [১৪৬২]

[১৪৬২] তিরমিযী ৯৯৩, আবূ দাউদ ৩১৬১,আহমাদ ৭৬৩২, মিশকাত ৫৪১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৯. অধ্যায়ঃ

স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে গোসল দেওয়া।

১৪৬৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الذَّهَبِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَوْ كُنْتُ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا غَسَّلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ نِسَائِهِ.

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যা আমি পরে অবগত হয়েছি, তা যদি পূর্বে অবহিত হতে পারতাম, তাহলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর স্ত্রীগণ ব্যতীত আর কেউ গোসল দিতে পারত না। [১৪৬৩]

[১৪৬৩] আবূ দাউদ ৩১৪১ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

১৪৬৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ رَجَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مِنْ الْبَقِيعِ فَوَجَدَنِي وَأَنَا أَجِدُ صُدَاعًا فِي رَأْسِي وَأَنَا أَقُولُ وَا رَأْسَاهُ فَقَالَ بَلْ أَنَا يَا عَائِشَةُ وَا رَأْسَاهُ ثُمَّ قَالَ مَا ضَرَّكِ لَوْ مِتِّ قَبْلِي فَقُمْتُ عَلَيْكِ فَغَسَّلْتُكِ وَكَفَّنْتُكِ وَصَلَّيْتُ عَلَيْكِ وَدَفَنْتُكِ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাকী থেকে ফিরে এসে আমাকে মাথা ব্যাথায় যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় পেলেন। তখন আমি বলছিলাম, হে আমার মাথা! তিনি বলেন, হে আয়িশাহ! আমিও মাথা ব্যাথায় ভুগছি। হে আমার মাথা! অতঃপর তিনি বলেন, তুমি যদি আমার পূর্বে মারা যেতে, তাহলে তোমার কোন ক্ষতি হতো না। কেননা আমি তোমাকে গোসল করাতাম, কাফন পরাতাম, তোমার জানাযার সলাত আদায় করতাম এবং তোমাকে দাফন করতাম। [১৪৬৪]

[১৪৬৪] ইরওয়াহ ৭০০। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

৬/১০. অধ্যায়ঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গোসল করানোর বিবরণ।

১৪৬৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬৬


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْأَزْهَرِ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا أَبُو بُرْدَةَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَمَّا أَخَذُوا فِي غُسْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَادَاهُمْ مُنَادٍ مِنْ الدَّاخِلِ لَا تَنْزِعُوا عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَمِيصَهُ

বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, গোসল দানকারীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গোসল দিতে শুরু করলে, তাদের মধ্যকার একজন ভিতর থেকে তাদেরকে জোর গলায় বলেন, তোমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরনের জামা খুলো না। [১৪৬৫]

[১৪৬৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ মুনকার, তা’লীক ইবনু মাজাহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু বুরদাহ (উমার বিন ইয়াযীদ) সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও, আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইবনু আদী বলেন, দুর্বলদের থেকে যারা হাদিস বর্ণনা করত তিনি তাদের মাঝে একজন। আল-উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না।

১৪৬৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬৭


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خِذَامٍ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ لَمَّا غَسَّلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ يَلْتَمِسُ مِنْهُ مَا يَلْتَمِسُ مِنْ الْمَيِّتِ فَلَمْ يَجِدْهُ فَقَالَ بِأَبِي الطَّيِّبُ طِبْتَ حَيًّا وَطِبْتَ مَيِّتًا

আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গোসল দানকালে মৃতের থেকে যা (নাপাকী) অন্বেষন করা হয়, গোসলদানকারী তা তার মধ্যে অন্বেষন করেন, কিন্তু কিছুই পাননি। আলী (রাঃ) বলেন, আমার পিতার শপথ! হে তায়্যিব! ধন্য আপনার জীবন, ধন্য আপনার মৃত্যু। [১৪৬৬]

[১৪৬৬] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

১৪৬৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬৮


حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ يَعْقُوبَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا أَنَا مُتُّ فَاغْسِلُونِي بِسَبْعِ قِرَبٍ مِنْ بِئْرِي بِئْرِ غَرْسٍ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে গারস কূপের সাত মশ্‌ক পানি দিয়ে গোসল দিবে। [১৪৬৭]

[১৪৬৭] যঈফাহ ১২৩৭। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হুসায়ন বিন যায়দ বিন আলী ইবনুল হুসায়ন বিন আলী সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইমাম দারাকুতনী তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনুল মাদিনী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে।

৬/১১. অধ্যায়ঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাফন।

১৪৬৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৬৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كُفِّنَ فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ بِيضٍ يَمَانِيَةٍ لَيْسَ فِيهَا قَمِيصٌ وَلَا عِمَامَةٌ فَقِيلَ لِعَائِشَةَ إِنَّهُمْ كَانُوا يَزْعُمُونَ أَنَّهُ قَدْ كَانَ كُفِّنَ فِي حِبَرَةٍ فَقَالَتْ عَائِشَةُ قَدْ جَاءُوا بِبُرْدِ حِبَرَةٍ فَلَمْ يُكَفِّنُوهُ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে তিনখানা সাদা ইয়ামানী কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়। এর মধ্যে কামিস ও পাগড়ি ছিলো না। আয়িশাহ্‌ (রাঃ)-কে বলা হল, তারা (লোকেরা) ধারনা করে যে, তাঁকে কারুকার্য খচিত চাদর (হিবারা) দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছে। আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেন, তারা কারুকার্য খচিত চাদর এনেছিল, কিন্তু তা দিয়ে তাঁকে কাফন দেয়নি। [১৪৬৮]

[১৪৬৮] সহীহুল বুখারী ১২৬৪, ১২৭১, ১২৭২, ১২৭৩, ১৩৮৭, মুসলিম ৯৪১, তিরমিযী ৯৯৬, নাসায়ী ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৮৯৯, আবূ দাউদ ৩১৫১, আহমাদ ২৩৬০২, ২৪১০৪, ২৪৩৪৮, ২৪৪৮৪, ২৪৭৯৫, ২৫৪১৮, মুয়াত্তা মালেক ৫২১, ৫২২, ইরওয়াহ ৭২২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৭০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْعَسْقَلَانِيُّ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ هَذَا مَا سَمِعْتُ مِنْ أَبِي مُعَيْدٍ حَفْصِ بْنِ غَيْلَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُفِّنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي ثَلَاثِ رِيَاطٍ بِيضٍ سُحُولِيَّةٍ

আবদুল্লাহ্‌ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (ইয়ামানের) সাহূল এলাকার তৈরী তিনখন্ড সাদা মসৃণ কাপড়ে কাফন দেয়া হয়। [১৪৬৯]

[১৪৬৯] তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আমর বিন আবু সালামাহ সম্পর্কে ওয়ালীদ বিন মুসলিম সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আল উকায়লী বলেন, তার হাদিসে সন্দেহ আছে।

১৪৭১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭১


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُفِّنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ قَمِيصُهُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ وَحُلَّةٌ نَجْرَانِيَّةٌ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তিনখানা কাপড়ে কাফন দেয়া হয়ঃ তার মধ্যে ছিল যে জামা পরিহিত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন এবং নাজারানে তৈরী একটি চাদর। [১৪৭০]

[১৪৭০] আবূ দাউদ ৩১৫৩, আহমাদ ২৮৫৮ তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াযিদ বিন আবু যিয়াদ সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ তাকে সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে কিন্তু দলীল হিসেবে গ্রহন করা গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, কোন সমস্যা নেই।

৬/১২. অধ্যায়ঃ

মুস্তাহাব কাফন প্রসঙ্গে।

১৪৭২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ الْمَكِّيُّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم خَيْرُ ثِيَابِكُمْ الْبَيَاضُ فَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَالْبَسُوهَا

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কাপড়সমূহের মধ্যে সাদা কাপড়ই অধিক উত্তম। অতএব তোমারা তোমাদের মৃতদের সাদা কাপড়ে কাফন দাও এবং তোমরাও সাদা কাপড় পরিধান করো। [১৪৭১]

[১৪৭১] তিরমিযী ৯৯৪, আবূ দাউদ ৪০৬১, আহমাদ ২২২০, ২৪৭৫, ৩০২৭, ৩৩৩২, ৩৪১৬ মিশকাত ১৬৩৮, মুখতাসার শামায়িল ৫৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৭৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭৩


حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ خَيْرُ الْكَفَنِ الْحُلَّةُ

উবাদাহ ইবনুস-সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, উত্তম কাফন হলো হুল্লাহ (চাদর)। [১৪৭২]

[১৪৭২] আবূ দাউদ ৬১৫৬ মিশকাত ১৬৪১। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। হিশাম বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ২. হাতিম বিন আবু নাদর সম্পর্কে ইবনুল কাত্তান বলেন, তিনি অপরিচিত। ৩. নুসায় সম্পর্কে ইমামগণ বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত।

১৪৭৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا وَلِيَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَهُ

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের ওলী নিযুক্ত হলে সে যেন তার উত্তম কাফনের ব্যবস্থা করে। [১৪৭৩]

[১৪৭৩] তিরমিযী ৯৯৫, মাজাহ ১৪৭৪ আহকাম ৫৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/১৩. অধ্যায়ঃ

কাফনে আবৃত করার সময় লাশ দর্শন।

১৪৭৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ حَدَّثَنَا أَبُو شَيْبَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا قُبِضَ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُمْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا تُدْرِجُوهُ فِي أَكْفَانِهِ حَتَّى أَنْظُرَ إِلَيْهِ فَأَتَاهُ فَانْكَبَّ عَلَيْهِ وَبَكَى

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-তনয় ইবরাহীম ইন্তিকাল করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকেদের বলেন, আমি না দেখা পর্যন্ত তোমরা তাকে কাফনে আবৃত করো না। অতঃপর তিনি এসে তার উপর ঝুঁকে পড়েন এবং কাঁদেন। [১৪৭৪]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ, তা'লাক ইবনু মাজাহ।

[১৪৭৪] তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, তা’লাক ইবনু মাজাহ্। উক্ত হাদিসের রাবী আবু শায়বাহ (ইউসুফ) সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তার নিকট আশ্চর্য হাদিস শুনা যায়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও মুনকার এবং তার নিকট আশ্চর্য হাদিস শুনা যায়। ইবনু হিব্বান বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা ঠিক নয়। আল উকায়লী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু আহমাদ আল হাকিম বলেন, তিনি হাদিস বিশারদদের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়।

৬/১৪. অধ্যায়ঃ

মৃতের জন্য বিলাপ করা নিষেধ।

১৪৭৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭৬


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ بِلَالِ بْنِ يَحْيَى قَالَ كَانَ حُذَيْفَةُ إِذَا مَاتَ لَهُ الْمَيِّتُ قَالَ لَا تُؤْذِنُوا بِهِ أَحَدًا إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَكُونَ نَعْيًا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِأُذُنَيَّ هَاتَيْنِ يَنْهَى عَنْ النَّعْيِ

হুযায়ফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হুযায়ফাহ (রাঃ) এর উপস্থিতিতে কেউ মারা গেলে তিনি বলতেন, তার (মৃত্যু) সম্পর্কে তোমরা কাউকে খবর দিওনা। কেননা আমি তার জন্য বিলাপের আশঙ্কা করছি। আমি আমার এই দু' কানে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিলাপ করতে নিষেধ করতে শুনেছি। [১৪৭৫]

[১৪৭৫] তিরমিযী ৯৮৬, আহমাদ ২২৯৪৫ আহকাম ৩১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

৬/১৫. অধ্যায়ঃ

জানাযায় অংশগ্রহণ করা।

১৪৭৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭৭


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ فَإِنْ تَكُنْ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُنْ غَيْرَ ذَلِكَ فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা দ্রুত জানাযার ব্যবস্থা করবে। কেননা সে সত্যকর্মপরায়ণ লোক হলে তো উত্তম, তোমরা তাকে সেদিকে পৌঁছে দিলে। সে এর অন্যথা হলে তো তা বড়ই মন্দ, তোমরা তা তোমাদের কাঁধ থেকে নামিয়ে রাখলে। [১৪৭৬]

[১৪৭৬] সহীহুল বুখারী ১৩১৫, মুসলিম ৯৪৪, তিরমিযী ১০১৫, নাসায়ী ১৯১০, ১৯১১, আবূ দাউদ ৩১৮১, আহমাদ ২৭৩০৪, মুয়াত্তা মালেক ৫৭৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৭৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭৮


حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ مَنْ اتَّبَعَ جِنَازَةً فَلْيَحْمِلْ بِجَوَانِبِ السَّرِيرِ كُلِّهَا فَإِنَّهُ مِنْ السُّنَّةِ ثُمَّ إِنْ شَاءَ فَلْيَتَطَوَّعْ وَإِنْ شَاءَ فَلْيَدَعْ

আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি লাশ বহন করে, সে যেন খাটের চারদিক ধারণ করে। কারণ এটা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর সে চাইলে আরো ধরতে পারে, আর চাইলে ত্যাগও করতে পারে। [১৪৭৭]

[১৪৭৭] তাহকীক আলবানীঃ যঈফ।

১৪৭৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৭৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ عَقِيلٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ لَيْثٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَأَى جِنَازَةً يُسْرِعُونَ بِهَا قَالَ لِتَكُنْ عَلَيْكُمْ السَّكِينَةُ».

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি লাশ তাড়াহুড়া করে নিয়ে যেতে দেখে বলেন, তোমরা যেন শান্তভাবে যাও। [১৪৭৮]

[১৪৭৮] আহমাদ ১৯১৯৬ তাহকীক আলবানীঃ মুনকার। উক্ত হাদিসের রাবী লায়স সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু হাতিম এবং আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন।

১৪৮০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮০


حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَأَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم نَاسًا رُكْبَانًا عَلَى دَوَابِّهِمْ فِي جِنَازَةٍ فَقَالَ أَلَا تَسْتَحْيُونَ أَنَّ مَلَائِكَةَ اللهِ يَمْشُونَ عَلَى أَقْدَامِهِمْ وَأَنْتُمْ رُكْبَانٌ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তদাস সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কতক লোককে জন্তুযামে আরোহিত অবস্থায় লাশের সাথে যেতে দেখে বলেন, তোমাদের কি লজ্জা হয় না যে, আল্লাহ্‌র ফেরেশতাগণ পদব্রজে যাচ্ছেন আর তোমরা বাহনে উপবিষ্ট হয়ে যাচ্ছো! [১৪৭৯]

[১৪৭৯] তিরমিযী ১০১২, আবু দাউদ ৩১৭৭। মিশকাত ১৬৭২। উক্ত হাদীসের রাবী ১. বাকিয়্যাহ সম্পর্কে আবূ যুরআহ আর-রাযী বলেন, যখন তিনি হাদ্দাসান বা আখবারানা শব্দদ্বয় দ্বারা হাদীস বর্ণনা করেন, তখন তিনি সিকাহ হিসেবে গণ্য হবেন। ২. আবূ বাকর বিন আবূ মারয়াম সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন,তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। আবূ হাতিম আর-রাযী বলেনে হাদীস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন ও দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় মুনকার ও দুর্বল। আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন।

১৪৮১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ حَيَّةَ حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ حَيَّةَ سَمِعَ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ الرَّاكِبُ خَلْفَ الْجِنَازَةِ وَالْمَاشِي مِنْهَا حَيْثُ شَاءَ

মুগীরাহ বিন শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, আরোহী ব্যক্তি লাশের পেছনে থাকবে এবং পদব্রজে গমনকারী যেমন ইচ্ছা চলতে পারে। [১৪৮০]

[১৪৮০] তিরমিযী ১০৩১, নাসায়ী ১৯৪২, ১৯৪৩, ১৯৪৮, আবূ দাউদ ৩১৮০, ১৭৬৯৭, ১৭৭০৯, ১৭৭১৬। ইরওয়াহ ৭১৬।তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/১৬. অধ্যায়ঃ

লাশের আগে আগে যাওয়া।

১৪৮২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ وَسَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجِنَازَةِ

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)-কে লাশের আগে আগে হেঁটে যেতে দেখেছি। [১৪৮১]

[১৪৮১] তিরমিযী ১০০৭, ১০০৮, ১০০৯, নাসায়ী ১৯৪৪, ১৯৪৫, আবূ দাউদ ৩১৭৯ মিশকাত ১৬৬৮, ইরওয়াহ ৭৩৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৮৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮৩


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَمَّالُ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ أَنْبَأَنَا يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ الْأَيْلِيُّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ يَمْشُونَ أَمَامَ الْجِنَازَةِ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাক্‌র, উমার ও উসমান (রাঃ) লাশের আগে আগে হেঁটে যেতেন। [১৪৮২]

[১৪৮২] তিরমিযী ১০১০ ইরওয়াহ ৩/১৯১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৮৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮৪


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللهِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي مَاجِدَةَ الْحَنَفِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الْجِنَازَةُ مَتْبُوعَةٌ وَلَيْسَتْ بِتَابِعَةٍ لَيْسَ مِنْهَا مَنْ تَقَدَّمَهَا

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ লাশের অনুসরণ করতে হবে (পিছনে পিছনে যেতে হবে), লাশ অনুসরণ করবে না (পেছনে থাকবে না)। যে ব্যক্তি লাশের আগে আগে যায়, সে জানাযার সাথে শরীক নয়। [১৪৮৩]

[১৪৮৩] তিরমিযী ১০১১, আবূ দাউদ ৩১৮৪ মিশকাত ১৬৬৯। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ আত-তায়মী সম্পর্কে ইব্বনু আদী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আল আজালী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ২. আবু মাজিদাহ আল হানাফী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম বুখারী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি অপরিচিত। আস-সাজী বলেন, তিনি অপরিচিত।

৬/১৭. অধ্যায়ঃ

উদলা শরীরে লাশের সাথে সাথে যাওয়া নিষেধ।

১৪৮৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮৫


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَزَوَّرِ عَنْ نُفَيْعٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ وَأَبِي بَرْزَةَ قَالَا خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةٍ فَرَأَى قَوْمًا قَدْ طَرَحُوا أَرْدِيَتَهُمْ يَمْشُونَ فِي قُمُصٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم «أَبِفِعْلِ الْجَاهِلِيَّةِ تَأْخُذُونَ أَوْ بِصُنْعِ الْجَاهِلِيَّةِ تَشَبَّهُونَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَدْعُوَ عَلَيْكُمْ دَعْوَةً تَرْجِعُونَ فِي غَيْرِ صُوَرِكُمْ قَالَ فَأَخَذُوا أَرْدِيَتَهُمْ وَلَمْ يَعُودُوا لِذَلِكَ».

ইমরান ইবনুল হুসায়ন ও আবূ বারযাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে একটি জানাযার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। তিনি একদল লোককে পরিধেয় বস্ত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কেবল জামা পরিহিত অবস্থায় হেঁটে যেতে দেখেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা জাহিলী যুগের রীতিনীতি অবলম্বন করছো অথবা জাহিলী যুগের কাজ করছো? আমরা ইচ্ছা হয় যে, আমি তোমাদের বদদোয়া করি এবং তোমরা চেহারায় বিকৃত আকৃতিতে পরিবর্তিত হয়ে যাও। রাবী বলেন, তারা তাদের কাপড় পরিধান করলো এবং আর কখনও অনুরূপ করেনি। [১৪৮৪]

তাহকীক আলবানীঃ বানোয়াট।

[১৪৮৪] মিশকাত ১৭৫০। উক্ত হাদীসের রাবী আমর ইবনুল নু’মান সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি দুর্বল রাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ২. আলী ইবনুল হাযাওওয়ার সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও আবূ হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ননায় মুনকার। ইয়াকূব বিন সুফইয়ান বলেন, তার থেকে হাদীস গ্রহণ করা যাবে না। ইমাম নাসায়ী বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখানযোগ্য। ৩. নুফায় সম্পর্কে কাতাদাহ বলেন, তিনি মিথ্যুক। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তিনি বলেছেন যে, তিনি আবাদালাহ থেকে শ্রবণ করেছেন অথচ তিনি তার থেকে শ্রবণ করেননি। ইয়াহগইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি বানিয়ে হাদীস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবূ হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় মুনকার ও দুর্বল। ইমাম নাসায়ী বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।

৬/১৮. অধ্যায়ঃ

জানাযাহ হাযির হলে বিলম্ব করবে না এবং আগুন নিয়ে লাশের অনুসরণ করবে না।

১৪৮৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮৬


حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْجُهَنِيُّ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ «لَا تُؤَخِّرُوا الْجِنَازَةَ إِذَا حَضَرَتْ».

আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জানাযাহ উপস্থিত হলে তোমরা (দাফনে) বিলম্ব করো না। [১৪৮৫]

[১৪৮৫] তিরমিযী ১৭১, আহমাদ ৮৩০ মিশকাত ৬০৫। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন আবদুল্লাহ আল জুহানী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি অপরিচিত।

১৪৮৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ أَنْبَأَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى الْفُضَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ أَبِي حَرِيزٍ أَنَّ أَبَا بُرْدَةَ حَدَّثَهُ قَالَ أَوْصَى أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ حِينَ حَضَرَهُ الْمَوْتُ فَقَالَ «لَا تُتْبِعُونِي بِمِجْمَرٍ قَالُوا لَهُ أَوَ سَمِعْتَ فِيهِ شَيْئًا قَالَ نَعَمْ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم

আবূ বুরদাহ থেকে বর্ণিতঃ

আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) এর মৃত্যু উপস্থিত হলে তিনি ওয়াসিয়াত করলেন, তোমরা আমার লাশের সাথে আগুন নিয়ে যেও না। তারা তাকে বলেন, আপনি কি এ ব্যাপারে কিছু শুনেছেন? তিনি বলেন, হাঁ, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। [১৪৮৬]

[১৪৮৬] তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

৬/১৯. অধ্যায়ঃ

একদল মুসলিম যার জানাযার সালাত পড়লো।

১৪৮৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ «مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ مِائَةٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ غُفِرَ لَهُ».

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এক শত মুসলমান কারো জানাযার সালাত পড়লে তাকে ক্ষমা করা হয়। [১৪৮৭]

[১৪৮৭] আহমাদ ৯৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৮৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৮৯


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سُلَيْمٍ حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ زِيَادٍ الْخَرَّاطُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ هَلَكَ ابْنٌ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ لِي يَا كُرَيْبُ قُمْ فَانْظُرْ هَلْ اجْتَمَعَ لِابْنِي أَحَدٌ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ وَيْحَكَ كَمْ تَرَاهُمْ أَرْبَعِينَ قُلْتُ لَا بَلْ هُمْ أَكْثَرُ قَالَ فَاخْرُجُوا بِابْنِي فَأَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «مَا مِنْ أَرْبَعِينَ مِنْ مُؤْمِنٍ يَشْفَعُونَ لِمُؤْمِنٍ إِلَّا شَفَّعَهُمْ اللهُ».

আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্তদাস কুরায়ব থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) এর এক ছেলে মারা গেলে তিনি আমাকে বলেন, হে কুরাইব! উঠে গিয়ে দেখো তো, আমার ছেলের জানাযায় কেউ এসেছে কিনা? আমি বললাম হাঁ। তিনি বলেন, তোমার অমঙ্গল হোক, তুমি তাদের কতজনকে দেখলে, চল্লিশজন? আমি বললাম, না, বরং তারা আরো অধিক। তিনি বলেন, তোমরা আমার ছেলের লাশ নিয়ে বের হও। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ অন্তত চল্লিশজন মু’মিন অপর মু’মিন ব্যক্তির সুপারিশ করলে, আল্লাহ্‌ তাদের সুপারিশ কবুল করেন। [১৪৮৮]

[১৪৮৮] মুসলিম ৯৪৮, আবূ দাউদ ৩১৭০, আহমাদ ২৫০৫ সহীহাহ ২২৬৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৯০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯০


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْيَزَنِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ هُبَيْرَةَ الشَّامِيِّ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ كَانَ إِذَا أُتِيَ بِجِنَازَةٍ فَتَقَالَّ مَنْ تَبِعَهَا جَزَّأَهُمْ ثَلَاثَةَ صُفُوفٍ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ «مَا صَفَّ صُفُوفٌ ثَلَاثَةٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ عَلَى مَيِّتٍ إِلَّا أَوْجَبَ».

মারসাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কোন জানাযাহ উপস্থিত হলে এবং লোকসংখ্যা কম হলে, তিনি তাদের তিন সারিতে কাতারবন্দী করে সালাত পড়তেন। তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মৃতের জানাযায় মুসলমানদের তিন সারি লোক হলেই তা (জান্নাত) অবধারিত করে। [১৪৮৯]

[১৪৮৯] তিরমিযী ১০২৮, আবূ দাউদ ৩১৬৬, আহমাদ ১৬২৮৩ তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সাকিহ।

৬/২০. অধ্যায়ঃ

মৃত ব্যক্তির প্রতি প্রশংসা করা

১৪৯১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯১


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ وَجَبَتْ ثُمَّ مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ وَجَبَتْ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتَ لِهَذِهِ وَجَبَتْ وَلِهَذِهِ وَجَبَتْ فَقَالَ «شَهَادَةُ الْقَوْمِ وَالْمُؤْمِنُونَ شُهُودُ اللهِ فِي الْأَرْضِ».

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হলো এবং উচ্ছসিত প্রশংসা করা হলো। তিনি বলেন, অবধারিত হয়ে গেলো। তারপর আরেকটি লাশ তাঁর নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো এবং কুৎসা বর্ণনা করা হলো। তিনি বলেন অবধারিত হয়ে গেলো। বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি এই লাশের জন্যে অবধারিত হয়ে গেলো এবং ঐ লাশের জন্যও অবধারিত হয়ে গেলো বললেন। তিনি বলেন, দলের সাক্ষ্য অনুপাতে। মু’মিনরা পৃথিবীর বুকে আল্লাহ্‌র সাক্ষীস্বরুপ। [১৪৯০]

[১৪৯০] সহীহুল বুখারী ১৩৬৭, ২৬৪২, মুসলিম ৯৪৯, তিরমিযী ১০৫৮, নাসায়ী ১৯৩২, আহমাদ ১২৪২৬, ১২৫২৬, ১২৬২৭, ১২৭৯১, ১৩১৬০, ১৩৫৮৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৯২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯২


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا فِي مَنَاقِبِ الْخَيْرِ فَقَالَ وَجَبَتْ ثُمَّ مَرُّوا عَلَيْهِ بِأُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا فِي مَنَاقِبِ الشَّرِّ فَقَالَ وَجَبَتْ إِنَّكُمْ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الْأَرْضِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট দিয়ে একটি লাশ বয়ে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তাঁর নানারূপ ভূয়সী প্রশংসা করা হলো। তিনি বলেনঃ অবধারিত হয়ে গেলো। অতঃপর তাঁর নিকট দিয়ে লোকেরা আরেকটি লাশ বয়ে নিয়ে গেলো এবং তাঁর বিভিন্নুপ কুৎসা বর্ণনা করা হলো, তিনি বলেনঃ অবধারিত হয়ে গেলো। কেননা তোমরা পৃথিবীর বুকে আল্লাহ্‌র সাক্ষীস্বরূপ। [১৪৯১]

[১৪৯১] নাসায়ী ১৯৩৩, আবূ দাউদ ৩২৩৩, আহমাদ ৭৪৯৯, ৯৬৮৪, ৯৭২৬, ১০০৯৩, ১০৪৫৫ সহীহাহ ২৬০০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/২১. অধ্যায়ঃ

জানাযার সলাতে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান।

১৪৯৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯৩


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ الْحُسَيْنُ بْنُ ذَكْوَانَ أَخْبَرَنِي عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ الْفَزَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى امْرَأَةٍ مَاتَتْ فِي نِفَاسِهَا فَقَامَ وَسَطَهَا

আল-ফাযারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিফাসগ্রস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এক মহিলার জানাযার সলাত পড়েন এবং তিনি তাঁর মাঝ বরাবর দাঁড়ান। [১৪৯২]

[১৪৯২] সহীহুল বুখারী ৩৩২, ১৩৩১, ১৩৩২, মুসলিম ৯৬৪, ১৪৮২, তিরমিযী ১০৩৫, নাসায়ী ৩৯৩, ১৯৭৬, ১৯৭৯, আবূ দাউদ ৩১৯৫ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৪৯৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯৪


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِي غَالِبٍ قَالَ رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ «صَلَّى عَلَى جِنَازَةِ رَجُلٍ فَقَامَ حِيَالَ رَأْسِهِ فَجِيءَ بِجِنَازَةٍ أُخْرَى بِامْرَأَةٍ فَقَالُوا يَا أَبَا حَمْزَةَ صَلِّ عَلَيْهَا فَقَامَ حِيَالَ وَسَطِ السَّرِيرِ فَقَالَ الْعَلَاءُ بْنُ زِيَادٍ يَا أَبَا حَمْزَةَ هَكَذَا رَأَيْتَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَامَ مِنْ الْجِنَازَةِ مُقَامَكَ مِنْ الرَّجُلِ وَقَامَ مِنْ الْمَرْأَةِ مُقَامَكَ مِنْ الْمَرْأَةِ قَالَ نَعَمْ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ احْفَظُوا».

আবু গালিব (হাযুর) (তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আনাস বিন মালিক (রাঃ) কে এক ব্যক্তির জানাযার সলাত পড়তে দেখলাম। তিনি তাঁর মাথা বরাবর দাঁড়ান। আরেকটি মহিলার লাশ উপস্থিত করা হলে লোকেরা বললো, হে আবূ হামযাহ! তাঁর জানাযার সলাত পড়ুন। তিনি খাটের মাঝ বরাবর দাঁড়ান। আলা’ বিন যিয়াদ (রহঃ) তাকে বলেন, হে আবূ হামযা! আপনি পুরুষের জানাযায় যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, মহিলার জানাযায় যেভাবে দাঁড়িয়েছেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কেও সেভাবে দাঁড়াতে দেখেছেন কি? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি আমাদের দিকে ফিরে বলেন, তোমরা স্মরণ রেখো। [১৪৯৩]

[১৪৯৩] তিরমিযী ১০৩৪, আবূ দাউদ ৩১৯৪ মিশকাত ১৬৭৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/২২. অধ্যায়ঃ

জানাযার সলাতে কিরাআত পড়া।

১৪৯৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯৫


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «قَرَأَ عَلَى الْجِنَازَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ».

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার সলাতে সূরা ফাতিহা পড়েন। [১৪৯৪]

[১৪৯৪] তিরমিযী ১০২৬ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. যায়দ ইবনুল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বলেছেন। ২. ইবরাহীম বিন উসমান সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সিকাহ নন। ইমাম বুখারী তার ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম তিরমিযি তাকে মুনকার বলেছেন। এ হাদিসের ৭২ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে তিরমিযি ২ টি, সুনানুল কুবরা ৬ টি, মুসনাদ শাফিঈ ৫ টি, ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে।

১৪৯৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯৬


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي عَاصِمٍ النَّبِيلُ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُسْتَمِرِّ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ جَعْفَرٍ الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنِي شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ حَدَّثَتْنِي أُمُّ شَرِيكٍ الْأَنْصَارِيَّةُ قَالَتْ «أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنْ نَقْرَأَ عَلَى الْجِنَازَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ».

উম্মু শারীক আল-আনসারিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে জানাযার সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। [১৪৯৫]

[১৪৯৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হাম্মাদ বিন জা'ফার আল আবদী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও আল-আযদী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু আদী তাকে মুনকার বলেছেন। ২. শাহর বিন হাওসাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল আজলী বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তাকে বর্জন করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই।

৬/২৩. অধ্যায়ঃ

জানাযার সলাতে দু’আ করা।

১৪৯৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯৭


حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ مَيْمُونٍ الْمَدِينِيِّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার সলাত পড়াকালে তার জন্য একনিষ্ঠভাবে দুআ করো। [১৪৯৬]

[১৪৯৭] আবূ দাউদ ৩১৯৯ মিশকাত ১৬৭৪, ইরওয়াহ ৭৩২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু উবায়দ মুহাম্মাদ বিন উবায়দ বিন মায়মুন আল মাদীনী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও তিনি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ২. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ।

১৪৯৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯৮


حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ يَقُولُ «اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا اللّٰهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ اللّٰهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার সালাতে বলতেনঃ “ হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত, অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখ তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখো এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করো, তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যুদান করো। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্ছিত করো না এবং এর পরে আমাদের পথভ্রষ্ট করো না”। [১৪৯৭]

[১৪৯৮] মিশকাত ১৬৭৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৪৯৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৪৯৯


دَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ جَنَاحٍ حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَى رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فَأَسْمَعُهُ يَقُولُ اللّٰهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলমানদের এক ব্যাক্তির জানাযার সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! অমুকের পুত্র অমুক তোমার যিম্মায় এবং তোমার নিরাপত্তার বন্ধনে। তুমি তাকে কবরের বিপর্যয় ও দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা করো এবং তাকে দয়া করো। কেননা তুমিই কেবল ক্ষমাকারী পরম দয়ালু”। [১৪৯৮]

[১৪৯৯] আবূ দাউদ ৩২০২, আহমাদ ১৫৫৮৮ মিশকাত ১৬৭৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫০০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০০


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا فَرَجُ بْنُ الْفَضَالَةِ حَدَّثَنِي عِصْمَةُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى رَجُلٍ مِنْ الْأَنْصَارِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ وَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَاغْسِلْهُ بِمَاءٍ وَثَلْجٍ وَبَرَدٍ وَنَقِّهِ مِنْ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ بِدَارِهِ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ قَالَ عَوْفٌ فَلَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي مُقَامِي ذَلِكَ أَتَمَنَّى أَنْ أَكُونَ مَكَانَ الرَّجُلِ.

আওফ বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক আনসারির জানাযার সলাতে শরীক ছিলাম। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! তুমি তাকে দয়া করো, তাকে ক্ষমা করো এবং তার উপর করুণা বর্ষণ করো, তাকে ক্ষমা করো, তার পাপরাশি দূর করে দাও। তাকে ঠান্ডা পানি ও বরফ দ্বারা ধৌত করো এবং সাদা কাপড় থেকে যেভাবে ময়লা পরিষ্কার করা হয়, তদ্রূপ তাকে গুনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন করো। তার ঘরের পরিবর্তে তাকে উত্তম আবাস দান করো, তার পরিবার থেকেও উত্তম পরিবার তাকে দান করো এবং তাকে কবরের বিপর্যয় ও দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা করো”। আওফ (রাঃ) বলেন, তখন আমার আকাংক্ষা হলো যে, আমি যদি ঐ ব্যক্তির স্থানে হতাম। [১৪৯৯]

[১৪৯৯] মুসলিম ৯৬৩, তিরমিযী ১০২৫, নাসায়ী ১৯৮৩, ১৯৮৪, আহমাদ ২৩৪৫৫, ২৩৪৮০ ইরওয়াহ ১/৪২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ফারাজ ইবনুল ফাদালাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী, তার হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীলযোগ্য নয়। ২. ইসমাহ বিন রাশীদ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় অজ্ঞাত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

১৫০১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০১


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ مَا أَبَاحَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَلَا أَبُو بَكْرٍ وَلَا عُمَرُ فِي شَيْءٍ مَا أَبَاحُوا فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْمَيِّتِ يَعْنِي لَمْ يُوَقِّتْ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বাক্‌র ও উমার (রাঃ) আমাদের জন্য জানাযার সলাতে যে (কোন সময় পড়ার) অবকাশ রেখেছেন, তা অন্য কোন সলাতের বেলায় রাখেননি অর্থাৎ ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করেননি। [১৫০০]

[১৫০০] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হাজ্জাজ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু নির্ভরযোগ্য নয়। তিনি আমর থেকে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় দুর্বলদের থেকে তাদলীস করেন।

৬/২৪. অধ্যায়ঃ

জানাযার সলাতে চার তাকবীর বলা।

১৫০২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০২


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْإِيَاسِ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «صَلَّى عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ وَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعًا».

উসমান বিন আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উসমান বিন মাযঊন (রাঃ)-এর জানাযার সলাত চার তাকবীর পড়েন। [১৫০১]

[১৫০২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী খালীদ ইবনুল ইয়াস সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন বরং দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার ও দুর্বল। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ২. উসমান বিন আবদুল্লাহ ইবনুল হাকাম ইবনুল হারিস সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, তিনি অপরিচিত।

১৫০৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০৩


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ حَدَّثَنَا الْهَجَرِيُّ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى الْأَسْلَمِيِّ صَاحِبِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جِنَازَةِ ابْنَةٍ لَهُ فَكَبَّرَ عَلَيْهَا أَرْبَعًا فَمَكَثَ بَعْدَ الرَّابِعَةِ شَيْئًا قَالَ فَسَمِعْتُ الْقَوْمَ يُسَبِّحُونَ بِهِ مِنْ نَوَاحِي الصُّفُوفِ فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ أَكُنْتُمْ تَرَوْنَ أَنِّي مُكَبِّرٌ خَمْسًا قَالُوا تَخَوَّفْنَا ذَلِكَ قَالَ لَمْ أَكُنْ لِأَفْعَلَ وَلَكِنْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا ثُمَّ يَمْكُثُ سَاعَةً فَيَقُولُ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ يُسَلِّمُ

আল-হাজারী (ইবরাহীম বিন মুসলিম) ([আরবী] হাদিস বর্ণনায় দুর্বল) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা আল-আসলামী (রাঃ) এর সাথে তার এক কন্যার জানাযার সলাত আদায় করলাম। তিনি তাতে চার তাকবীর বলেন। চতুর্থ তাকবীরের পর তিনি ক্ষণিক নীরব থাকেন। রাবী বলেন, আমি কাতারবদ্ধ লোকদের সুবহানাল্লাহ বলতে শুনেছি। তিনি সালাম ফিরানোর পর বললেন, তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি পঞ্চম তাকবীর বলবো? তারা বললো, আমরা তাই অনুমান করেছিলাম। তিনি বলেন, আমি কখনো তা করতাম না। তবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার তাকবীর বলতেন, তারপর ক্ষণিক চুপচাপ থাকতেন, তারপর আল্লাহ্‌র মর্জি কিছু পড়তেন, তারপর সালাম ফিরাতেন। [১৫০২]

[১৫০৩] আহমাদ ১৮৬৫৯, ১৮৯২৫ আহকাম ১২৬, রওয ৩৬৯। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আল হাজরী (ইবরাহীম বিন মুসলিম) সম্পর্কে আল আযদী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী তাকে মুনকার বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন।

১৫০৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০৪


- حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ عَنْ الْمِنْهَالِ بْنِ خَلِيفَةَ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَبَّرَ أَرْبَعًا

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার তাকবীর বলেন। [১৫০৩]

[১৫০৪] আহকাম ১১১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু হিশাম আর রাফাঈ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আমি তার মাঝে কোন সমস্যা দেখি না। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার দুর্বলতার ব্যাপারে সকল হাদিস বিশারদগণকে একমত দেখেছি। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ২. মিনহাল বিন খালিফাহ সম্পর্কে বাযযার সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

৬/২৫. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি জানাযার সলাতে পাঁচ তাকবীর বলে।

১৫০৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০৫


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ح و حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ وَأَبُو دَاوُدَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ كَانَ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ يُكَبِّرُ عَلَى جَنَائِزِنَا أَرْبَعًا وَأَنَّهُ كَبَّرَ عَلَى جِنَازَةٍ خَمْسًا فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُهَا

আবদুর রহমান বিন আবু লায়লা থেকে বর্ণিতঃ

যায়দ বিন আরকাম (রাঃ) আমাদের জানাযার সলাতে চার তাকবীর বলতেন। তিনি এক জানাযার সলাতে পাঁচ তাকবীর বলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ তাকবীরও বলেছেন। [১৫০৪]

[১৫০৪] মুসলিম ৯৫৭, তিরমিযী ১০২৩, নাসায়ী ১৯৮২, আবূ দাউদ ৩১৯৭, আহমাদ ১৮৭৮৬, ১৮৮১৩, ১৮৮২৫, ১৮৮৩৩ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫০৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০৬


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الرَّافِعِيُّ عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَبَّرَ خَمْسًا

আমর বিন আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নিশ্চই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ তাকবীর বলেছেন। [১৫০৫]

[১৫০৬] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবী ইবরাহীম বিন আলী আর-রাফিঈ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আস-সাজী তাকে তাকে মুনকার বলেছেন। ইবনু হিব্বান তাকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ২. কাসীর বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন অথবা তিনি মিথ্যার একটি রুকন। আহমাদ বিন হাম্বল তাকে মুনকার বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

৬/২৬. অধ্যায়ঃ

শিশুর জানাযার সলাত।

১৫০৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ حَيَّةَ حَدَّثَنِي عَمِّي زِيَادُ بْنُ جُبَيْرٍ حَدَّثَنِي أَبِي جُبَيْرُ بْنُ حَيَّةَ أَنَّهُ سَمِعَ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «الطِّفْلُ يُصَلَّى عَلَيْهِ».

মুগীরাহ বিন শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ শিশুর জানাযাহ পড়তে হবে। [১৫০৬]

[১৫০৭] তিরমিযী ১০৩১ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫০৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০৮


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَهَلَّ الصَّبِيُّ صُلِّيَ عَلَيْهِ وَوُرِثَ

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শিশু (ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর) চিৎকার করলে (অতঃপর মারা গেলে) তার জানাযাহ পড়তে হবে এবং তার উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। [১৫০৭]

[১৫০৮] তিরমিযী ১০৩২, দারেমী ৩১২৫ সহীহাহ ১৫৩, ইরওয়াহ ১৭০৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী বিন বাদর সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

১৫০৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫০৯


- حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا الْبَخْتَرِيُّ بْنُ عُبَيْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلُّوا عَلَى أَطْفَالِكُمْ فَإِنَّهُمْ مِنْ أَفْرَاطِكُمْ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের শিশুদের জানাযার সালাত পড়ো। কারণ তারা তোমাদের অগ্রগামী সঞ্চয়। [১৫০৮]

[১৫০৮] তাহকীক আলবানীঃ নিতান্ত যঈফ, ইরওয়াহ ৭২৫। উক্ত হাদিসের রাবী বিন বাদর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াকুব বিন শসায়বাহ বলেন, তিনি অপরিচিত। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। ২. উবায়দ বিন সুলায়ম সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন তিনি অপরিচিত।

৬/২৭. অধ্যায়ঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছেলের জানাযাহ এবং তার ইনতিকালের বিবরণ।

১৫১০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَأَيْتَ إِبْرَاهِيمَ ابْنَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَاتَ وَهُوَ صَغِيرٌ وَلَوْ قُضِيَ أَنْ يَكُونَ بَعْدَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيٌّ لَعَاشَ ابْنُهُ وَلَكِنْ لَا نَبِيَّ بَعْدَهُ.

ইসমাঈল বিন আবু খালিদ থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ বিন আওফা (রাঃ) কে বললাম, আপনি কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পুত্র ইবরাহীম কে দেখেছেন? তিনি বলেন, সে শিশুকালেই মারা যায়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পর যদি কারো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হওয়ার (আল্লাহ্‌র) সিদ্ধান্ত থাকতো তাহলে তাঁর পুত্র জীবিত থাকতো। কিন্তু তাঁর পরে কোন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাই। [১৫০৯]

[১৫০৯] সহীহুল বুখারী ৬১৯৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫১১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১১


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا مَاتَ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَقَالَ إِنَّ لَهُ مُرْضِعًا فِي الْجَنَّةِ وَلَوْ عَاشَ لَكَانَ صِدِّيقًا نَبِيًّا وَلَوْ عَاشَ لَعَتَقَتْ أَخْوَالُهُ الْقِبْطُ وَمَا اسْتُرِقَّ قِبْطِيٌّ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পুত্র ইবরাহীম মৃত্যুবরণ করলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সালাত পড়েন এবং বলেন, তার জন্য জান্নাতে একজন ধাত্রী নিযুক্ত করা হয়েছে। সে জীবিত থাকলে অবশ্যি সত্যবাদী ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতো। সে জীবিত থাকলে তাঁর মাতৃকুল স্বাধীন হয়ে যেত এবং কিবতী থাকতো না। [১৫১০]

তাহকীক আলবানীঃ স্বাধীন হওয়া বাক্য ব্যতীত সহীহ।

[১৫১০] যঈফাহ ২২০৩, ৩২০২। তাহকীক আলবানীঃ স্বাধীন হওয়া বাক্য ব্যতীত সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবরাহীম বিন উসমান সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সিকাহ নন। ইমাম বুখারী তার ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম তিরমিযি তাকে মুনকার বলেছেন।

১৫১২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১২


- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عِمْرَانَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ عَنْ أُمِّهِ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهَا الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ الْقَاسِمُ ابْنُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَدِيجَةُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَرَّتْ لُبَيْنَةُ الْقَاسِمِ فَلَوْ كَانَ اللهُ أَبْقَاهُ حَتَّى يَسْتَكْمِلَ رِضَاعَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم «إِنَّ إِتْمَامَ رَضَاعِهِ فِي الْجَنَّةِ قَالَتْ لَوْ أَعْلَمُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَهَوَّنَ عَلَيَّ أَمْرَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللهَ تَعَالَى فَأَسْمَعَكِ صَوْتَهُ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَلْ أُصَدِّقُ اللهَ وَرَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم».

হুসায়ন বিন আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পুত্র কাসিম ইনতিকাল করলে খাদীজা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কাসিমের জন্য পর্যাপ্ত দুধ রয়েছে, আল্লাহ যদি তাকে দুধ পানের মেয়াদ পর্যন্ত জীবিত রাখতেন! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তার দুধ পানের মেয়াদ জান্নাতে পূর্ণ করা হবে। তিনি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি তা জানাতে পারলে তার ব্যাপারে সান্ত্বনা লাভ করতাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি চাইলে আমি আল্লাহ্‌র নিকট দুআ করি, তিনি তোমাকে তার শব্দ শুনাবেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! বরং আমি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলকে বিশ্বাস করি। [১৫১১]

তাহকীক আলবানীঃ নিতান্ত দঈফ, তা’লীক ইবনু মাজাহ।

[১৫১১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ নিতান্ত যঈফ, তা’লীক ইবনু মাজাহ।

৬/২৮. অধ্যায়ঃ

শহীদগণের জানাযার সালাত এবং তাদের দাফন-কাফন।

১৫১৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أُتِيَ بِهِمْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ فَجَعَلَ يُصَلِّي عَلَى عَشَرَةٍ عَشَرَةٍ وَحَمْزَةُ هُوَ كَمَا هُوَ يُرْفَعُونَ وَهُوَ كَمَا هُوَ مَوْضُوعٌ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে শহীদদের লাশ উপস্থিত করা হলো। তিনি একসঙ্গে দশ দশজনের জানাযার সালাত আদায় করলেন। আর হামযা (রাঃ)-এর লাশ যেভাবে ছিল সেভাবেই রেখে দেয়া হলো। অন্যদের লাশ তুলে নেয়া হল এবং তাঁর লাশ স্বস্থানে পড়ে থাকলো। [১৫১২]

[১৫১২] আহকাম ৮২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যাবে তবে দলীলযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইবনু আদী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে তবে তিনি দুর্বল। এ হাদিসের ৭৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে সহিহ বুখারীতে ১ টি, সহিহ মুসলিম ১ টি, আবু দাউদ ১ টি, আহমাদ ১ টি, সহিহ ইবনু হিব্বান ৩ টি, দারাকুতনী ২ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে।

১৫১৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ وَالثَّلَاثَةِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ يَقُولُ أَيُّهُمْ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمْ قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ وَقَالَ أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلَاءِ وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ فِي دِمَائِهِمْ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِمْ وَلَمْ يُغَسَّلُوا

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদ যুদ্ধের শহীদের দু’ বা তিনজনকে এক কাপড়ে একত্র করে জড়িয়ে জিজ্ঞেস করতেনঃ তাদের মধ্যে কে কুরআনের অধিক জ্ঞানী? তাদের কারো প্রতি ইশারা করে তাঁকে জানানো হলে তিনি তাকে আগে কবরে রাখতেন এবং বলতেনঃ আমি তাদের সকলের পক্ষে সাক্ষী। তিনি তাদেরকে তাদের রক্তমাখা অবস্থায় দাফন করার নির্দেশ দেন এবং তাদের জানাযার সালাত ও পড়া হয়নি, গোসল ও দেয়া হয়নি। [১৫১৩]

[১৫১৩] আবূ দাউদ ৩১৩৮, আহমাদ ১৩৭৭৭ ইরওয়াহ ৭০৭, বুখারী, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫১৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১৫


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِقَتْلَى أُحُدٍ أَنْ يُنْزَعَ عَنْهُمْ الْحَدِيدُ وَالْجُلُودُ وَأَنْ يُدْفَنُوا فِي ثِيَابِهِمْ بِدِمَائِهِمْ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের শহীদদের দেহ থেকে লৌহবর্ম, অস্ত্র ও চামড়ার জুতা খুলে নেয়ার এবং তাদেরকে তাদের রক্ত মাখা কাপড়ে দাফন করার নির্দেশ দেন। [১৫১৪]

[১৫১৪] আবূ দাউদ ৩১৩৪, আহমাদ ২২১৮ মিশকাত ১৬৪৩, ইরওয়াহ ৭০৯। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু মিনদাহ বলেন, তিনি দুর্বল। ২. আতা ইবনুস সায়িব সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন।

১৫১৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১৬


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ وَسَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ سَمِعَ نُبَيْحًا الْعَنْزِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِقَتْلَى أُحُدٍ أَنْ يُرَدُّوا إِلَى مَصَارِعِهِمْ وَكَانُوا نُقِلُوا إِلَى الْمَدِينَةِ

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের শহীদগণকে তাদের শাহাদাত লাভের স্থানে ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। তাদেরকে মদিনায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। [১৫১৫]

[১৫১৫] তিরমিযী ১৭১৭, আবূ দাউদ ৩১৬৫, আহমাদ ১৩৭৫৫, দারেমী ৪৫ তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী নুবায়াহ আল আনাবী সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ তবে আসওয়াদ ছাড়া তার থেকে কেউ হাদিস বর্ণনা করেনি।

৬/২৯. অধ্যায়ঃ

মসজিদে জানাযার সালাত পড়া।

১৫১৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১৭


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ صَالِحٍ مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَلَيْسَ لَهُ شَيْءٌ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মসজিদে জানাযার সালাত পড়লো, তাতে তার কোন সওয়াব হলো না। [১৫১৬]

[১৫১৬] আবূ দাউদ ৩১৯১, আহমাদ ৯৪৩৭, ৯৫৫৫, ১০১৮৩ সহীহা ২৩৫২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

১৫১৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ صَالِحِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ وَاللهِ مَا صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَى سُهَيْلِ ابْنِ بَيْضَاءَ إِلَّا فِي الْمَسْجِدِ
قَالَ ابْن مَاجَةَ حَدِيثُ عَائِشَةَ أَقْوَى.

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র শপথ! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুহায়ল বিন বাইদার জানাযার সালাত মসজিদেই পড়েছেন। ইবনু মাজাহ (রহঃ) বলেন, আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি সনদের দিক থেকে অধিকতর শক্তিশালী। [১৫১৭]

[১৫১৭] মুসলিম ৯৭৩, তিরমিযী ১০৩৩, নাসায়ী ১৯৬৭, ১৯৬৮, আবূ দাউদ ৩১৮৯, ৩১৯০, আহমাদ ২৩৯৭৭, ২৪৪৯৩, ২৪৮২৯. ২৫৭১৩, মুয়াত্তা মালেক ৫৩৮ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৩০. অধ্যায়ঃ

যেসব ওয়াক্তে মৃতের জানাযাহ পড়বে না এবং দাফন করবে না।

১৫১৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫১৯


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ح و حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ جَمِيعًا عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ يَقُولُ ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ نَقْبِرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ

উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে তিন সময়ে আমাদের মৃতদের জানাযাহ পড়তে এবং তাদেরকে কবরস্থ করতে নিষেধ করেছেনঃ সূর্য সুস্পষ্টভাবে উদয়কালে, সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দুপুরের সময় এবং সূর্যাস্তের সময়, যতক্ষণ না তা অস্তমিত হয়। [১৫১৮]

[১৫১৮] মুসলিম ৮৩১, তিরমিযী ১০৩০, নাসায়ী ৫৬০, ৫৬৫, ২০১৩, আবূ দাউদ ৩১৯২, আহমাদ ১৬৯২৬, দারেমী ১৪৩২ ইরওয়াহ ৪৮০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫২০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ عَنْ مِنْهَالِ بْنِ خَلِيفَةَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَدْخَلَ رَجُلًا قَبْرَهُ لَيْلًا وَأَسْرَجَ فِي قَبْرِهِ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে রাতের বেলা কবরে রাখেন এবং (লাশ ঠিকমতো রাখার সুবিধার্থে) কবরে আলোর ব্যবস্থা করেন। [১৫১৯]

[১৫১৯] তিরমিজি ১০৫৭ আহকাম ১৪১। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াহইয়া ইবনুল ইয়ামান সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সাওরীর হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেছেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ২. মিনহাল বিন খালিফাহ সম্পর্কে বাযযার সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন।

১৫২১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২১


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَوْدِيُّ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ الْمَكِّيِّ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا تَدْفِنُوا مَوْتَاكُمْ بِاللَّيْلِ إِلَّا أَنْ تُضْطَرُّوا

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা অনন্যোপায় না হলে তোমাদের মৃতদের রাতের বেলা দাফন করো না। [১৫২০]

[১৫২০] মুসলিম ৯৪৩, নাসায়ী ১৮৯৫, ২০১৪, আবূ দাউদ ৩১৪৮, আহমাদ ১৩৭৩২ তাহকীক আলবানীঃ সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবরাহীম বিন ইয়াযীদ আল মাক্কী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী তার ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার ও দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি দুর্বল। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

১৫২২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২২


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ صَلُّوا عَلَى مَوْتَاكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, রাতের বেলা এবং দিনের বেলা তোমরা তোমাদের মৃতদের জানাযার সালাত পড়তে পারো। [১৫২১]

[১৫২১] যঈফাহ ৩৯৭৪। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আব্বাস বিন উসমান দিমাশকী সম্পর্কে ইমাম যাহাবী সিকাহ বললেও ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সিকাহ রাবীর বিপরীত বর্ণনা করেন। ২. ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল।

৬/৩১. অধ্যায়ঃ

আহলে কিবলার জানাযার সালাত পড়া।

১৫২৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২৩


- حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ جَاءَ ابْنُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطِنِي قَمِيصَكَ أُكَفِّنْهُ فِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم آذِنُونِي بِهِ فَلَمَّا أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ قَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَا ذَاكَ لَكَ فَصَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَا بَيْنَ خِيَرَتَيْنِ {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ} فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ}

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(মুনাফিকদের দলপতি) আবদুল্লাহ বিন উবাই মারা গেলে তার পুত্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনার জামাটি আমাকে দান করুন, আমি তার দ্বারা তাকে দাফন পরাবো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমাকে তার দাফনের সময় খবর দিও। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সালাত পড়ার ইচ্ছে করলে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে বলেন, তার ব্যাপারে আপনার কি হলো! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সালাত পড়েন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেনঃ আমাকে দু’টি বিষয়ের মধ্যে এখতিয়ার দেয়া হয়েছেঃ “আপনি তখন মহান আল্লাহ নাযিল করেন, “তাদের কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবেন না” (সূরা তওবাঃ ৮৪)। [১৫২২]

[১৫২২] সহীহুল বুখারী ১২৬৯, ৪৬৭০, ৪৬৭২, ৫৭৯৬, মুসলিম ২৪০০, ২৭৭৪, তিরমিযী ৩০৯৮, নাসায়ী ১৯০০, আহমাদ ৪৬৬৬ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫২৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২৪


حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ خَالِدٍ الْوَاسِطِيُّ وَسَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ قَالَا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ مَاتَ رَأْسُ الْمُنَافِقِينَ بِالْمَدِينَةِ وَأَوْصَى أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنْ يُكَفِّنَهُ فِي قَمِيصِهِ فَصَلَّى عَلَيْهِ وَكَفَّنَهُ فِي قَمِيصِهِ وَقَامَ عَلَى قَبْرِهِ فَأَنْزَلَ اللهُ {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ}

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মুনাফিক নেতা (উবাই) মদিনায় মারা গেলো। সে ওসিয়াত করলো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেন তার জানাযার সালাত আদায় করেন এবং তাঁর জামা দিয়ে যেন তাকে কাফন দেয়া হয়। তিনি তার জানাযার সালাত পড়েন, তাঁর জামা দিয়ে তাকে কাফন দেন এবং তার কবরের পাশে (দুআ করতে) দাঁড়ান। তখন আল্লাহ্‌ তাআলা নাযিল করেন, অনুবাদঃ “তাদের কারো মৃত্যু হলে কখনো তার জন্য জানাযার সালাত পড়বে না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবে না” (সূরা তওবাঃ ৮৪) [১৫২৩]

[১৫২৩] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ মুনকার। উক্ত হাদিসে মুজালীদ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি যইফ বা দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না।

১৫২৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২৫


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ حَدَّثَنَا عُتْبَةُ بْنُ يَقْظَانَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صَلُّوا عَلَى كُلِّ مَيِّتٍ وَجَاهِدُوا مَعَ كُلِّ أَمِيرٍ

ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা প্রত্যেক মৃতের জন্য জানাযার সালাত আদায় করো এবং প্রত্যেক আমীরের নেতৃত্বে জিহাদ করো। [১৫২৪]

[১৫২৪] ইরওয়াহহ/৩০৯। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস বিন নাবহান সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার থেকে হাদিস লিখা হয় না। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইমাম বুখারী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। উতবাহ বিন ইয়াকযান সম্পর্কে ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন। আবু সাঈদ সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, তিনি অপরিচিত।

১৫২৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২৬


- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ حَدَّثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جُرِحَ فَآذَتْهُ الْجِرَاحَةُ فَدَبَّ إِلَى مَشَاقِصَ فَذَبَحَ بِهَا نَفْسَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَكَانَ ذَلِكَ مِنْهُ أَدَبًا.

জাবির বিন সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক সাহাবী আহত হন। এর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি তার তীরের ফলা দ্বারা আত্মহত্যা করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সলাত পড়েননি। রাবী বলেন, তা ছিল তাঁর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় (শাস্তিস্বরূপ)। [১৫২৫]

[১৫২৫] মুসলিম ৯৭৮, তিরমিযী ১০৬৮, নাসায়ী ১৯৬৪, আহমাদ ২০২৯২, ২০৩৩৭, ২০৩৭০, ২০৩৯৮, ২০৪০৪, ২০৪৭০, ২০৫২৫ ইরওয়াহ ৩/১৮৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৩২. অধ্যায়ঃ

দাফনের পর জানাযার সলাত পড়া।

১৫২৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২৭


- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عَنْهَا بَعْدَ أَيَّامٍ فَقِيلَ لَهُ إِنَّهَا مَاتَتْ قَالَ فَهَلَّا آذَنْتُمُونِي فَأَتَى قَبْرَهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক কৃষ্ণকায় নারী মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখতে না পেয়ে কয়েকদিন পর তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তাঁকে জানানো হল যে, সে মারা গেছে। তিনি বললেন, তোমরা কেন আমাকে অবহিত করোনি? অতঃপর তিনি তার কবরের পাশে আসেন এবং তার জানাযার সলাত আদায় করেন। [১৫২৬]

[১৫২৬] সহীহুল বুখারী ৪৫৮, ৪৬০, ১৩৩৭, মুসলিম ৯৫৬, আবূ দাউদ ৩২০৩, আহমাদ ৮৪২০ ইরওয়াহ ৩/১৮৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ.

১৫২৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنَا خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ ثَابِتٍ وَكَانَ أَكْبَرَ مِنْ زَيْدٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا وَرَدَ الْبَقِيعَ فَإِذَا هُوَ بِقَبْرٍ جَدِيدٍ فَسَأَلَ عَنْهُ قَالُوا فُلَانَةُ قَالَ فَعَرَفَهَا وَقَالَ أَلَا آذَنْتُمُونِي بِهَا قَالُوا كُنْتَ قَائِلًا صَائِمًا فَكَرِهْنَا أَنْ نُؤْذِيَكَ قَالَ فَلَا تَفْعَلُوا لَا أَعْرِفَنَّ مَا مَاتَ مِنْكُمْ مَيِّتٌ مَا كُنْتُ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ إِلَّا آذَنْتُمُونِي بِهِ فَإِنَّ صَلَاتِي عَلَيْهِ لَهُ رَحْمَةٌ ثُمَّ أَتَى الْقَبْرَ فَصَفَفْنَا خَلْفَهُ فَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعًا

ইয়াযীদ বিন সাবিত (রাঃ) (তিনি যায়দ (রাঃ) এর বড় ভাই) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে বের হলাম। তিনি বাকী গোরস্থানে পৌঁছে একটি নতুন কবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তারা বলে, অমুক মহিলার কবর। রাবী বলে, তিনি তাঁকে চিনতে পেরে বলেন, তোমরা কেন আমাকে তার সম্পর্কে জানালে না? তারা বললেন, আপনি রোযা অবস্থায় দুপুরের বিশ্রাম করছিলেন। তাই আমরা আপনাকে কষ্ট দেয়া পছন্দ করিনি। তিনি বলেন, তোমরা এরূপ করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে এবং আমি তোমাদের মাঝে উপস্থিত থাকলে তোমরা অবশ্যই আমাকে তার সম্পর্কে জানাবে। কেননা তার জন্য আমার সলাত তার রহমত লাভের উপায় হবে। অতঃপর তিনি কবরের নিকট আসলেন, এবং আমরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি চার তাকবীরে তাঁর জানাযার সলাত পড়েন। [১৫২৭]

[১৫২৭] নাসাঈ ২০২২ ইরওয়াহ ৩/১৮৪-১৮৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫২৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫২৯


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ امْرَأَةً سَوْدَاءَ مَاتَتْ وَلَمْ يُؤْذَنْ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ فَقَالَ هَلَّا آذَنْتُمُونِي بِهَا ثُمَّ قَالَ لِأَصْحَابِهِ صُفُّوا عَلَيْهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا

আমির বিন রাবী’আহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক কৃষ্ণকায় মহিলা মারা গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবহিত করা হয়নি। পরে তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, তোমরা কেন আমাকে তাঁর সম্পর্কে অবহিত করলে না? অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীগণকে বলেন, তোমরা তার (সলাতের জন্য) কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়াও। তারপর তিনি তার জানাযার সলাত পড়েন। [১৫২৮]

[১৫২৮] ইরওয়াহ ৩/১৮৫। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।

১৫৩০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩০


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَاتَ رَجُلٌ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ فَدَفَنُوهُ بِاللَّيْلِ فَلَمَّا أَصْبَحَ أَعْلَمُوهُ فَقَالَ مَا مَنَعَكُمْ أَنْ تُعْلِمُونِي قَالُوا كَانَ اللَّيْلُ وَكَانَتْ الظُّلْمَةُ فَكَرِهْنَا أَنْ نَشُقَّ عَلَيْكَ فَأَتَى قَبْرَهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন। সে মারা গেলে লোকেরা তাকে রাতে দাফন করে। সকাল বেলা তারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ আমাকে তা জানাতে কিসে তোমাদের বাধা দিল? তারা বলল, গভীর অন্ধকার রাত ছিল বিধায় আমরা আপনাকে কষ্ট দেয়া সমীচীন মনে করিনি। তিনি তার কবরের নিকট এসে জানাযার সলাত পড়েন। [১৫২৯]

[১৫২৯] সহীহুল বুখারী ৮৫৭, ১২৪৭, ১৩১৯, ১৩২১, ১৩২২, ১৩২৬, ১৩৩৬, ১৩৪০, মুসলিম ৯৫৪ তিরমিযী ১০৩৭, নাসায়ী ২০২৩, ২০২৪, আবূ দাউদ ৩১৯৬, আহমাদ ৩১২৪ ইরওয়াহ ২/৭৩৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৩১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩১


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى قَبْرٍ بَعْدَ مَا قُبِرَ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তিকে দাফন করার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সলাত পড়েন। [১৫৩০]

[১৫৩০] মুসলিম ৯৫৫, আহমাদ ১১৯০৯, ১২১০৮ ইরওয়াহ ৩/১৮৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৩২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا مِهْرَانُ بْنُ أَبِي عُمَرَ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى مَيِّتٍ بَعْدَ مَا دُفِنَ

বুরায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার জানাযার সলাত পড়েন। [১৫৩১]

[১৫৩১] ইরওয়াহ ৩/১৮৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন হুমায়দ সম্পর্কে সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন সিকাহ বললেও ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তার হাদিসে অধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ইবনু খিরাশ তাকে মিথ্যুক বলেছে। ২. মিহরান বিন আবু উমার সম্পর্কে ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সুফইয়ানের হাদিস অধিক ভুল করেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ

১৫৩৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩৩


حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ شُرَحْبِيلَ عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ كَانَتْ سَوْدَاءُ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ فَتُوُفِّيَتْ لَيْلًا فَلَمَّا أَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أُخْبِرَ بِمَوْتِهَا فَقَالَ أَلَا آذَنْتُمُونِي بِهَا فَخَرَجَ بِأَصْحَابِهِ فَوَقَفَ عَلَى قَبْرِهَا فَكَبَّرَ عَلَيْهَا وَالنَّاسُ خَلْفَهُ وَدَعَا لَهَا ثُمَّ انْصَرَفَ

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক কৃষ্ণকায় মহিলা মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিত। সে রাতের বেলা মারা গেল (এবং রাতেই দাফন করা হল) এবং ভোরবেলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হল। তিনি বলেন, তোমরা কেন আমাকে তার সম্পর্কে জানাওনি? অতঃপর তিনি তার সাহাবীগণকে নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাকবীর দিয়ে সলাত পড়েন এবং তার জন্য দু’আ করেন। লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে (সলাতে অংশগ্রহণ করেন)। অতঃপর তিনি ফিরে আসেন। [১৫৩২]

[১৫৩২] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৩৩. অধ্যায়ঃ

নাজ্জাশীর জানাযার সলাত সম্পর্কে।

১৫৩৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ النَّجَاشِيَّ قَدْ مَاتَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ إِلَى الْبَقِيعِ فَصَفَّنَا خَلْفَهُ وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাজ্জাশী ইন্তিকাল করেছেন। অতএব রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে জান্নাতুল বাকীর উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। আমরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হয়ে চার তাকবীরের সাথে জানাযার সলাত পড়েন। [১৫৩৩]

[১৫৩৩] সহীহুল বুখারী ১২৪৫, ১৩১৮, ১৩২৮, ১৩৩৩, ৩৮৮০, ৩৮৮১, মুসলিম ৯৫১, তিরমিযী ১০২২, নাসায়ী ১৮৭৯, ১৯৭১, ১৯৭২, ১৯৮০, ২০৪১, ২০৪২, আবূ দাউদ ৩২০৪, আহমাদ ৭৭১৯, ৯৩৬৩, ৯৩৭১, ১০৪৭১, মুয়াত্তা মালেক ৫৩০, ইরওয়াহ ৭২৯, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৩৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩৫


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ قَالَا حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ ح و حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ جَمِيعًا عَنْ يُونُسَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَخَاكُمْ النَّجَاشِيَّ قَدْ مَاتَ فَصَلُّوا عَلَيْهِ قَالَ فَقَامَ فَصَلَّيْنَا خَلْفَهُ وَإِنِّي لَفِي الصَّفِّ الثَّانِي فَصَلَّى عَلَيْهِ صَفَّيْنِ

ইমরান ইবনুল হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের ভাই নাজ্জাশী ইনতিকাল করেছেন। অতএব, তোমরা তার জানাযার সালাত পড়ো। রা’বী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে জানাযার নামাজ পড়লাম। অবশ্য আমি ছিলাম দ্বিতীয় কাতারে। তিনি (মোক্তাদীদের) দু’ কাতারে সারিবদ্ধ করে তার জানাযার সলাত পড়েন। [১৫৩৪]

[১৫৩৪] মুসলিম ৯৫৩, তিরমিযী ১০৩৯, আহমাদ ১৯৩৮৯, ১৯৪৩৯, ১৯৪৬১, ১৯৫০৩ ইরওয়াহ ৩/১৭৬, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৩৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَعْيَنَ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ أَخَاكُمْ النَّجَاشِيَّ قَدْ مَاتَ فَقُومُوا فَصَلُّوا عَلَيْهِ فَصَفَّنَا خَلْفَهُ صَفَّيْنِ

মুজাম্মি’ বিন জারিয়াহ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের ভাই নাজ্জাশী ইনতিকাল করেছেন। তোমরা দাঁড়িয়ে তার জানাযার সালাত পড়ো। অতএব, আমরা তাঁর পিছনে দু’ কাতারে সারিবদ্ধ হলাম। [১৫৩৫]

[১৫৩৫] ইরওয়াহ ২/১৭৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হুমরান বিন আ'ইয়ান সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি রাফিজী মতাবলম্বী। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

১৫৩৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩৭


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ الْمُثَنَّى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ بِهِمْ فَقَالَ صَلُّوا عَلَى أَخٍ لَكُمْ مَاتَ بِغَيْرِ أَرْضِكُمْ قَالُوا مَنْ هُوَ قَالَ النَّجَاشِيُّ

হুযাইফাহ বিন উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে সাথে নিয়ে বের হয়ে বলেন, অন্য দেশে মৃত্যুবরণকারী তোমাদের এক ভাইয়ের জানাযার সলাত পড়ো। তারা বলে, তিনি কে? তিনি বলেন, নাজ্জাশী। [১৫৩৬]

[১৫৩৬] আহমাদ ১৫৭১২ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

১৫৩৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩৮


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو السَّكَنِ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى النَّجَاشِيِّ فَكَبَّرَ أَرْبَعًا

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার তাকবীরে নাজ্জাশীর জানাযার সলাত পড়েন। [১৫৩৭]

[১৫৩৭] ইরওয়াহ ৩/১৭৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৩৪. অধ্যায়ঃ

জানাযায় অংশগ্রহণকারীর এবং তার দাফনের জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তির সওয়াব।

১৫৩৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৩৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ «مَنْ صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ فَلَهُ قِيرَاطٌ وَمَنْ انْتَظَرَ حَتَّى يُفْرَغَ مِنْهَا فَلَهُ قِيرَاطَانِ قَالُوا وَمَا الْقِيرَاطَانِ قَالَ مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি জানাযার সলাত পড়ল, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি দাফনকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। লোকেরা বলল, দু’ কীরাত? তিনি বলেন, দুটি পাহাড়ের সমান। [১৫৩৮]

[১৫৩৮] সহীহুল বুখারী ৪৭ মুসলিম ৯৪৫, তিরমিযী ১০৪০, আবূ দাউদ ৩১৬৮, আহমাদ ৮০৬৬, ৯২৬৬, ৯৭২৯, ১০০১৮, ১০০৯০, ১০৪৯৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৪০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪০


حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ فَلَهُ قِيرَاطٌ وَمَنْ شَهِدَ دَفْنَهَا فَلَهُ قِيرَاطَانِ قَالَ فَسُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ الْقِيرَاطِ فَقَالَ مِثْلُ أُحُدٍ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি জানাযার সলাত পড়ল, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি দাফনেও অংশগ্রহন করল, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। রা’বী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এর কীরাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তা উহুদ পাহাড় সমতুল্য। [১৫৩৯]

[১৫৩৯] মুসলিম ৯৪৬, আহমাদ ২১৮৭১, ২১৮৭৯, ২১৯২৯, ২১৯৩৫, ২১৯৪৮ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৪১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪১


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ فَلَهُ قِيرَاطٌ وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ الْقِيرَاطُ أَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ هَذَا

উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাযার সলাত পড়ল, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব এবং সে যে ব্যক্তি দাফনের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকল, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! একটি কীরাত এই উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বিশাল। [১৫৪০]

[১৫৪০] আহমাদ ২০৬৯৬, তা’লীকুর রগীব ৪/১৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হাজ্জাজ বিন আরতাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন, তিনি আমর থেকে হাদিস তাদলীস করেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় দুর্বলদের থেকে তাদলীস করেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, আমি তাকে ইচ্ছা করেই বর্জন করেছি। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

৬/৩৫. অধ্যায়ঃ

লাশ বয়ে নিয়ে যেতে দেখে দাঁড়ানো।

১৫৪২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح و حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا رَأَيْتُمْ الْجِنَازَةَ فَقُومُوا لَهَا حَتَّى تُخَلِّفَكُمْ أَوْ تُوضَعَ

আমির বিন রবী’আহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা যখন লাশ বয়ে নিয়ে যেতে দেখো, তখন তার জন্য দাঁড়াও, যাবত না তা তোমাদেরকে পেছনে ফেলে যায় অথবা লাশ নামিয়ে রাখা হয়। [১৫৪১]

[১৫৪১] সহীহুল বুখারী ১৩০৭, ১৩০৮, মুসলিম ৯৫৮, তিরমিযী ১০৪২, নাসায়ী ১৯১৫, ১৯১৬, আবূ দাউদ ৩১৭২, আহমাদ ১৫২৬০, ১৫২৭২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৪৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِجِنَازَةٍ فَقَامَ وَقَالَ قُومُوا فَإِنَّ لِلْمَوْتِ فَزَعًا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হলে তিনি দাঁড়ান এবং বলেন, তোমরা দাঁড়িয়ে যাও। কেননা মৃত্যুর কারণে ভীত হওয়া উচিৎ। [১৫৪২]

[১৫৪২] আহমাদ ৭৮০০ সহীহাহ ২০১৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৪৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪৪


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ مَسْعُودِ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ قَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِجِنَازَةٍ فَقُمْنَا حَتَّى جَلَسَ فَجَلَسْنَا

আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি লাশ বয়ে নিয়ে যেতে দেখে দাঁড়ালে আমরাও দাঁড়ালাম। অতঃপর তিনি বসলে আমরাও বসে পড়ি। [১৫৪৩]

[১৫৪৩] মুসলিম ৯৬২, তিরমিযী ১০৪৪, নাসায়ী ১৯২৩, ১৯৯৯, ২০০০, আবূ দাউদ ৩১৭৫, আহমাদ ৬২৪, ১০৯৭, ১১৭১, মুয়াত্তা মালেক ৫৪৯ ইরওয়াহ ৭৪১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৪৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَعُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ قَالَا حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا اتَّبَعَ جِنَازَةً لَمْ يَقْعُدْ حَتَّى تُوضَعَ فِي اللَّحْدِ فَعَرَضَ لَهُ حَبْرٌ فَقَالَ هَكَذَا نَصْنَعُ يَا مُحَمَّدُ فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَقَالَ خَالِفُوهُمْ

উবাদা ইবনুস-সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লাশের সাথে গেলে লাশ কবরে না রাখা পর্যন্ত বসতেন না। জনৈক ইহুদী পন্ডিত তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরাও তাই করি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৎক্ষণাৎ বসে পড়েন, এবং বলেন, তোমরা তাদের বিপরীত করো। [১৫৪৪]

[১৫৪৪] তিরমিযী ১০২০, আবূ দাউদ ৩১৭৬ মিশকাত ১৬৮১, ইরওয়াহ ৩/১৯৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. বিশর বিন রাফি' সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি মুনকার ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। ২. আবদুল্লাহ বিন সুলায়মান বিন জুনাদাহ বিন আবু উমায়্যাহ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে সুতরাং তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আল উকায়লী তাকে তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি কে? তা অজ্ঞাত। ৩. সুলামায়মান বিন জুনাদাহ বিন আবু উমায়্যাহ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুনকার তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার।

৬/৩৬. অধ্যায়ঃ

কবরস্থানে গেলে যা বলতে হয়।

১৫৪৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪৬


- حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فَقَدْتُهُ تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ أَنْتُمْ لَنَا فَرَطٌ وَإِنَّا بِكُمْ لَاحِقُونَ اللّٰهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُمْ وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُمْ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হারিয়ে ফেললাম (বিছানায় পেলাম না)। তিনি জান্নাতুল বাকীতে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে বলেন, “হে কবরবাসী মু’মিনগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা আমাদের জন্য অগ্রগামী এবং নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হব। হে আল্লাহ! তাদের পুরস্কার থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না, এবং তাদের পরে আমাদের বিপদে ফেলো না।” [১৫৪৫]

তাহকীক আলবানীঃ এ বাক্যে দ’ঈফ, ইরওয়াহ ৩/২৩৭, রাকা প্রথম অংশ সহীহ।

[১৫৪৫] মুসলিম ৯৭৪, নাসায়ী ২০৩৭, ২০৩৯, আহমাদ ২৩৯০৪, ২৩৯৫৪, ২৪২৮০, ২৪৯৪৩, ২৫৩২৭ তাহকীক আলবানীঃ এ বাক্যে যঈফ, ইরওয়াহ ৩/২৩৭, রাকা প্রথম অংশ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু শিয়া মতাবলম্বী। আবু হাতীম ও মুতায়্যান তাকে সত্যবাদী বলেছেন। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ২. আসিম বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয় এবং তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করা যাবে না।

১৫৪৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ آدَمَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ كَانَ قَائِلُهُمْ يَقُولُ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمْ الْعَافِيَةَ

বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে তারা যখন কবরস্থানে যেতেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের শিক্ষা দিতেনঃ “হে কবরবাসী, মু’মিন ও মুসলিমগণ! তোমাদেরকে সালাম। আমরাও ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের ও তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি”। [১৫৪৬]

[১৫৪৬] মুসলিম ৯৭৫, নাসায়ী ২০৪০, আহমাদ ২২৪৭৬, ২২৫৩০ ইরওয়াহ ৩/২৩৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৩৭. অধ্যায়ঃ

কবরস্থানে বসা

১৫৪৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ عَنْ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَاذَانَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةٍ فَقَعَدَ حِيَالَ الْقِبْلَةِ

বারা’ বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে একটি জানাজায় বের হলাম। তিনি কেবলামুখী হয়ে বসে পড়েন। [১৫৪৭]

[১৫৪৭] নাসায়ী ২০০১, আবূ দাউদ ৩২১২, ৪৭৫৩, আহমাদ ১৮০৬৩, ১৮১৫১ আহকাম ১৫৬-১৫৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৪৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৪৯


حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَاذَانَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي جِنَازَةٍ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ فَجَلَسَ وَجَلَسْنَا كَأَنَّ عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرَ

বারা’ বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে একটি জানাজায় বের হলাম। আমরা কবরস্থানে পৌঁছলে তিনি বসে পড়েন (এবং আমরাও নীরবে অনড় হয়ে বসে পড়লাম), যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। [১৫৪৮]

[১৫৪৮] নাসায়ী ২০০১, আবূ দাউদ ৩২১২, ৪৭৫৩, আহমাদ ১৮০৬৩, ১৮১৫১ মিশকাত ১৭১৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/৩৮ অধ্যায়ঃ

লাশ কবরে রাখা।

১৫৫০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫০


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح و حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أُدْخِلَ الْمَيِّتُ الْقَبْرَ قَالَ بِسْمِ اللهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ وَقَالَ أَبُو خَالِدٍ مَرَّةً إِذَا وُضِعَ الْمَيِّتُ فِي لَحْدِهِ قَالَ بِسْمِ اللهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ وَقَالَ هِشَامٌ فِي حَدِيثِهِ بِسْمِ اللهِ وَفِي سَبِيلِ اللهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

লাশ কবরে রাখার সময় নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ “বিস্‌মিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ”। আবু খালিদ (রহঃ) বলেন, লাশকে তার কবরে রাখার সময় তিনি বলতেনঃ “বিস্‌মিল্লাহি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসূলিল্লাহ”। হিশাম (রহঃ) তার হাদীসে বলেন, “বিস্‌মিল্লাহি ওয়া ফী সাবীলিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ”। [১৫৪৯]

[১৫৪৯] তিরমিযী ১০৪৬, আবূ দাউদ ৩২১৩, আহমাদ ৪৭৯৭, ৪৯৭০, ৫২১১, ৫৩৪৭, ৬০৭৬ মিশকাত ১৭০৭, ইরওয়াহ ৭৪৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৫১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫১


- حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْخَطَّابِ حَدَّثَنَا مَنْدَلُ بْنُ عَلِيٍّ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ سَلَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم سَعْدًا وَرَشَّ عَلَى قَبْرِهِ مَاءً

আবূ রাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (খাটিয়া থেকে) সা’দ (রাঃ) এর লাশ পায়ের দিক থেকে কবরে নামান এবং তার কবরে পানি ছিটিয়ে দেন। [১৫৫০]

[১৫৫০] মিশকাত ১৭১৯। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবদুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আর রকশী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু সানাদে অধিক ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ২. মিনদাল বিন আলী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই, তবে অন্যত্রে বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু নুমায়র বলেন, তিনি কিছু হাদিসের মাঝে সংমিশ্রণ করেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ৩. মুহাম্মাদ বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও তার মাঝে একাধিক মুনকার হাদিস পাওয়া যায়। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য।

১৫৫২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫২


حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أُخِذَ مِنْ قِبَلِ الْقِبْلَةِ وَاسْتُقْبِلَ اسْتِقْبَالًا

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর লাশ কিবলার দিক থেকে কবরে রাখার জন্য গ্রহণ করা হয়, তাঁর মুখমণ্ডল কিবলামুখী রাখা হয় এবং তাঁর পায়ের দিক থেকে রওযা মুবারকে নামানো হয়। [১৫৫১]

[১৫৫১] তাহকীক আলবানীঃ মুনকার। উক্ত হাদিসের রাবী আতিয়্যাহ বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ বলেন, তিনি লায়্যিন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার উপর নির্ভর করা যায় না।

১৫৫৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫৩


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكَلْبِيُّ حَدَّثَنَا إِدْرِيسُ الْأَوْدِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ حَضَرْتُ ابْنَ عُمَرَ فِي جِنَازَةٍ فَلَمَّا وَضَعَهَا فِي اللَّحْدِ قَالَ بِسْمِ اللهِ وَفِي سَبِيلِ اللهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ فَلَمَّا أُخِذَ فِي تَسْوِيَةِ اللَّبِنِ عَلَى اللَّحْدِ قَالَ اللّٰهُمَّ أَجِرْهَا مِنْ الشَّيْطَانِ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ اللهُمَّ جَافِ الْأَرْضَ عَنْ جَنْبَيْهَا وَصَعِّدْ رُوحَهَا وَلَقِّهَا مِنْكَ رِضْوَانًا قُلْتُ يَا ابْنَ عُمَرَ أَشَيْءٌ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ أَمْ قُلْتَهُ بِرَأْيِكَ قَالَ إِنِّي إِذًا لَقَادِرٌ عَلَى الْقَوْلِ بَلْ شَيْءٌ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব থেকে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-এর সাথে এক জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি কবরে লাশ রাখার সময় বলেন, “বিসমিল্লাহি ওয়া ফী সাবীলিল্লাহা আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ”। কবরের উপর মাটি সমান করে দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! তাকে শয়তান ও কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! তার পার্শ্বদেশ থেকে মাটি সরিয়ে দিন এবং তার রূহ উঠিয়ে নিন এবং সন্তুষ্টির সাথে তাকে সাক্ষাত দান করুন”। আমি বললাম, হে ইবনু উমার! আপনি কি এ কথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন, না আপনার নিজের থেকে বলছেন? তিনি বলেন, আমি সামর্থ্য রাখি, তবে আমি একথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। [১৫৫২]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ, প্রথম দিকের কিছু অংশ সহীহ।

[১৫৫২] তিরমিযী ১০৪৬, আবূ দাউদ ৩২১৩, আহমাদ ৪৭৯৭, ৪৯৭০, ৫২১১, ৫৩৪৭, ৬০৭৬ তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। প্রথম দিকের কিছু অংশ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. হাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, দুর্বল। ২. ইদরীস আল-আওদী সম্পর্কে ইমাম যাহাবী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত।

৬/৩৯. অধ্যায়ঃ

লাহ্‌দ কবর উত্তম ।

১৫৫৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا حَكَّامُ بْنُ سَلْمٍ الرَّازِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ الْأَعْلَى يَذْكُرُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اللَّحْدُ لَنَا وَالشَّقُّ لِغَيْرِنَا

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের জন্য লাহ্‌দ এবং অন্যদের জন্য শ্বাক কবর। [১৫৫৩]

[১৫৫৩] তিরমিযী ১০৪৫ ;নাসায়ী ২০০৯; আবূ দাউদ ৩২০৮ মিশকাত ১৭০১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৫৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫৫


حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مُوسَى السُّدِّيُّ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ عَنْ زَاذَانَ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اللَّحْدُ لَنَا وَالشَّقُّ لِغَيْرِنَا

জারীর বিন আবদুল্লাহ্‌ আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের জন্য লাহ্‌দ অন্যদের জন্য শ্বাক কবর।[১৫৫৪]

[১৫৫৪] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৫৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫৬


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ الزُّهْرِيُّ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ أَنَّهُ قَالَ أَلْحِدُوا لِي لَحْدًا وَانْصِبُوا عَلَى اللَّبِنِ نُصْبًا كَمَا فُعِلَ بِرَسُولِ اللهِ

সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমার জন্য তোমরা লাহ্‌দ কবর তৈরি করো এবং নিদর্শনস্বরূপ সেখানে ইট পুঁতে দিও, যেমন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বেলায় করা হয়েছিল।[১৫৫৫]

[১৫৫৫] মুসলিম ৯৬৬; নাসায়ী ২০০৭, ২০০৮; আহমাদ ১৪৯২, ১৬০৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৪০. অধ্যায়ঃ

শাক্ক কবর ।

১৫৫৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫৭


حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَانَ بِالْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَلْحَدُ وَآخَرُ يَضْرَحُ فَقَالُوا نَسْتَخِيرُ رَبَّنَا وَنَبْعَثُ إِلَيْهِمَا فَأَيُّهُمَا سُبِقَ تَرَكْنَاهُ فَأُرْسِلَ إِلَيْهِمَا فَسَبَقَ صَاحِبُ اللَّحْدِ «فَلَحَدُوا لِلنَّبِيِّ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তিকাল করেন তখন মদিনায় এক ব্যক্তি লাহ্‌দ কবর খনন করতো এবং অপর ব্যক্তি শাক্ক কবর খনন করতো। সাহাবীগণ বলেন, আমরা আমাদের প্রভুর দরবারে ইস্তিখারা করবো এবং তাদের উভয়ের কাছেই সংবাদ পাঠাবো। তাদের মধ্যে যে আগে আসবে (তাকে রাখবো) এবং অন্যজনকে বাদ দিবো। অতএব তাদের দু’জনকেই ডেকে পাঠানো হল এবং লাহ্‌দ কবর খননকারী আগে পৌঁছে গেলো। অতএব সাহাবীগণ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য লাহ্‌দ কবর খনন করেন। [১৫৫৬]

[১৫৫৬] আহমাদ ১২০০৭ তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।

১৫৫৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫৮


حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ بْنِ عُبَيْدَةَ بْنِ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ طُفَيْلٍ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ الْقُرَشِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اخْتَلَفُوا فِي اللَّحْدِ وَالشَّقِّ حَتَّى تَكَلَّمُوا فِي ذَلِكَ وَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمْ فَقَالَ عُمَرُ لَا تَصْخَبُوا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَيًّا وَلَا مَيِّتًا أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا فَأَرْسَلُوا إِلَى الشَّقَّاقِ وَاللَّاحِدِ جَمِيعًا فَجَاءَ اللَّاحِدُ فَلَحَدَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ دُفِنَ صلى الله عليه وسلم

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তিকাল করেন, তখন সাহাবীগণ তাঁকে লাহ্‌দ অথবা শাক্ক কবরে দাফন করার ব্যাপারে মতভেদ করেন, এমনকি তারা এ নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হন এবং তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যায়। উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা জীবিত ও মৃত কোন অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উচ্চ কণ্ঠে বিতণ্ডা করো না অথবা অনুরূপ কিছু বলেছেন। তোমরা শাক্ক ও লাহ্‌দ খননকারী সকলের নিকট খবর পাঠাও। অতএব লাহ্‌দ কবর খননকারী (আগে) আসলো এবং সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য লাহ্‌দ কবর খনন করলো, অতঃপর তাঁকে দাফন করা হলো। [১৫৫৭]

[১৫৫৭] মিশকাত দ্বিতীয় তাহকীক ১৭০০। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী উবায়দ বিন তুফায়ল আল-মুকরী সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, তিনি অপরিচিত। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু মুলায়কাহ আল কুরাশী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল ও ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইবনু খিরাশ তাকে দুর্বল বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার একাধিক দুর্বল হাদিস রয়েছে।

৬/৪১ অধ্যায়ঃ

কবর খনন করা ।

১৫৫৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৫৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ الْأَدْرَعِ السُّلَمِيِّ قَالَ جِئْتُ لَيْلَةً أَحْرُسُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا رَجُلٌ قِرَاءَتُهُ عَالِيَةٌ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا مُرَاءٍ قَالَ فَمَاتَ بِالْمَدِينَةِ فَفَرَغُوا مِنْ جِهَازِهِ فَحَمَلُوا نَعْشَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ارْفُقُوا بِهِ رَفَقَ اللهُ بِهِ إِنَّهُ كَانَ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ قَالَ وَحَفَرَ حُفْرَتَهُ فَقَالَ أَوْسِعُوا لَهُ أَوْسَعَ اللهُ عَلَيْهِ فَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَقَدْ حَزِنْتَ عَلَيْهِ فَقَالَ أَجَلْ إِنَّهُ كَانَ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ

আল-আদরা’ আস-সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি এক রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে পাহারা দিতে আসলাম। এক ব্যক্তি উচ্চকণ্ঠে কুরআন পড়ছিলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে এলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ঐ ব্যক্তি তো একজন রিয়াকার। রাবী বলেন, লোকটি মদিনায় মারা গেলে লোকজন তার দাফন-কাফনে শংকাগ্রস্ত হয়ে পড়লো। তারা তার লাশ বহন করে নিয়ে গেলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তার প্রতি সদয় হও, আল্লাহ তার প্রতি সদয় হয়েছেন। কারণ সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালোবাসতো। রাবী বলেন, তার কবর খনন করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তার কবর আরো প্রশস্ত করো। আল্লাহ তার প্রতি সদয় হয়েছেন। তাঁর কোন সাহাবী বলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! আপনি নিশ্চয় তাঁর ব্যাপারে চিন্তান্বিত। তিনি বলেন, হাঁ, নিশ্চয় সে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলকে ভালোবাসতো। [১৫৫৮]

[১৫৫৮] তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. যায়দ ইবনুল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বলেছেন। ২. মুসা বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হুজ্জাহ নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ৩. সাঈদ বিন আবু সাঈদ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অপরিচিত।

১৫৬০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬০


حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أَبِي الدَّهْمَاءِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم احْفِرُوا وَأَوْسِعُوا وَأَحْسِنُوا

হিশাম বিন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা প্রশস্ত করে কবর খনন করো এবং সদয় হও। [১৫৫৯]

[১৫৫৯] তিরমিযী ১৭১৩; নাসায়ী ২০১১; আবূ দাউদ ৩২১৫ মিশকাত ১৭০৩। ইরওয়াহ ৭৪৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/৪২ অধ্যায়ঃ

কবরে নিদর্শন স্থাপন করা ।

১৫৬১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬১


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ أَبُو هُرَيْرَةَ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ نُبَيْطٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَعْلَمَ قَبْرَ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ بِصَخْرَةٍ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উসমান বিন মাযঊন (রাঃ) এর কবর একটি পাথর দিয়ে চিহ্নিত করে রাখেন। [১৫৬০]

[১৫৬০] উক্ত হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাকে সিকাহ বলেছেন। ২. কাসীর বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনু আম্মার সিকাহ বললেও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার মাঝে দুর্বলতা আছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার মাঝে খারাফ কিছু দেখিনি। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে খারাফ কিছু নেই।

৬/৪৩. অধ্যায়ঃ

কবরের উপর কিছু নির্মাণ করা, তা পাকা করা এবং তাতে কিছু লিপিবদ্ধ করা নিষেধ ।

১৫৬২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬২


- حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ تَجْصِيصِ الْقُبُورِ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর পাকা করতে নিষেধ করেছেন। [১৫৬১]

[১৫৬১] মুসলিম ৯৭০; তিরমিযী ১০৫২, নাসায়ী ২০২৭, ২০২৮, ২০২৯; আবূ দাউদ ৩২২৫, আহমাদ ১৩৭৩৫, ১৪১৫৫, ১৪২৩৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৬৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬৩


- حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ تَجْصِيصِ الْقُبُورِ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের উপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন। [১৫৬২]

[১৫৬২] তিরমিযী ১০৫২; নাসায়ী ২০২৭; আবূ দাউদ ৩২২৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৬৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُبْنَى عَلَى الْقَبْرِ

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের উপর কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন। [১৫৬৩]

[১৫৬৩] মুসলিম। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৪৪ অধ্যায়ঃ

কবরে মাটি বিছিয়ে দেয়া

১৫৬৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬৫


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ كُلْثُومٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ ثُمَّ أَتَى قَبْرَ الْمَيِّتِ فَحَثَى عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ ثَلَاثًا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তির জানাযার সালাত পড়লেন, অতঃপর মৃতের কবরের নিকট এসে তার মাথার দিকে তিনবার মাটি ছড়িয়ে দিলেন। [১৫৬৪]

[১৫৬৪] ইরওয়াহ ৭৫১, মিশকাত ১৭২০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৪৫ অধ্যায়ঃ

কবর মাড়ানো এবং তাঁর উপর বসা নিষেধ ।

১৫৬৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬৬


حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ تُحْرِقُهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কবরের উপর তোমাদের কারো বসার চাইতে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসা তার জন্য উত্তম। [১৫৬৫]

[১৫৬৫] মুসলিম ৯৭১; না২০৪৪; আবূ দাউদ ৩২২৮,আহমাদ ৮০৪৬, ৮৮১১, ৯৪৩৯ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৬৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْيَزَنِيِّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَأَنْ أَمْشِيَ عَلَى جَمْرَةٍ أَوْ سَيْفٍ أَوْ أَخْصِفَ نَعْلِي بِرِجْلِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَمْشِيَ عَلَى قَبْرِ مُسْلِمٍ وَمَا أُبَالِي أَوَسْطَ الْقُبُورِ قَضَيْتُ حَاجَتِي أَوْ وَسْطَ السُّوقِ

উকবা বিন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন মুসলমানের কবরের উপর দিয়ে আমার হেঁটে যাওয়া অপেক্ষা জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর দিয়ে অথবা তরবারির উপর দিয়ে আমার হেঁটে যাওয়া অথবা আমার জুতাজোড়া আমার পায়ের সাথে সেলাই করা আমার নিকট অধিক প্রিয়। কবরস্থানে পায়খানা করা এবং বাজারের মাঝে পায়খানা করার মাঝে আমি কোন পার্থক্য দেখি না। [১৫৬৬]

[১৫৬৬] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ, ইরওয়াহ ৬৩।

৬/৪৬. অধ্যায়ঃ

জুতা খুলে কবরস্থান অতিক্রম করা

১৫৬৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬৮


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ عَنْ خَالِدِ بْنِ سُمَيْرٍ عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ عَنْ بَشِيرِ ابْنِ الْخَصَاصِيَةِ قَالَ بَيْنَمَا أَنَا أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا ابْنَ الْخَصَاصِيَةِ مَا تَنْقِمُ عَلَى اللهِ أَصْبَحْتَ تُمَاشِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَنْقِمُ عَلَى اللهِ شَيْئًا كُلُّ خَيْرٍ قَدْ آتَانِيهِ اللهُ فَمَرَّ عَلَى مَقَابِرِ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ أَدْرَكَ هَؤُلَاءِ خَيْرٌ كَثِيرٌ ثُمَّ مَرَّ عَلَى مَقَابِرِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ سَبَقَ هَؤُلَاءِ خَيْرًا كَثِيرًا قَالَ فَالْتَفَتَ فَرَأَى رَجُلًا يَمْشِي بَيْنَ الْمَقَابِرِ فِي نَعْلَيْهِ فَقَالَ يَا صَاحِبَ السِّبْتِيَّتَيْنِ أَلْقِهِمَا

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ يَقُولُ حَدِيثٌ جَيِّدٌ وَرَجُلٌ ثِقَةٌ.

বাশীর ইবনুল খাসাসিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে পায়চারি করছিলাম। তিনি বলেন, হে ইবনুল খাসাসিয়া! তুমি আল্লাহর নিকট এর চাইতে বড় নিয়ামত কি আশা করো যে, তুমি তার রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সকালবেলা পায়চারি করছো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আল্লাহ্‌র নিকট এর চেয়ে বেশী কিছু আশা করি না। কেননা আল্লাহ্‌ আমাকে সব ধরনের কল্যাণ দান করেছেন। অতঃপর তিনি মুসলমানদের কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, এসব লোক বিপুল কল্যাণ লাভ করেছে। অতঃপর তিনি মুশরিকদের কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, এসব লোক ইতোপূর্বে প্রচুর কল্যাণ লাভ করেছে। রাবী বলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে জুতা পরিহিত অবস্থায় কবরস্থান অতিক্রম করতে দেখে বলেন, হে জুতা পরিধানকারী! তোমার জুতা জোড়া খুলে ফেলো।

১/১৫৬৮ (১). আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেন, আবদুল্লাহ বিন উসমান এমন বলতেন। হাদীসটি যাইয়েদ, এর রাবী সমূহ মজবুত। [১৫৬৭]

তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

[১৫৬৭] নাসায়ী ২০৪৮; আবূ দাউদ ৩২৩০; আহমাদ ২০২৬০ আহকাম ১৩৬-১৩৭। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

৬/৪৭. অধ্যায়ঃ

কবর যিয়ারত করা।

১৫৬৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৬৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم زُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُكُمْ الْآخِرَةَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা, তা তোমাদেরকে আখেরাত স্মরণ করিয়ে দেয়। [১৫৬৮]

[১৫৬৮] মুসলিম ৯৭৬ ;নাসায়ী ২০৩৪; আবূ দাউদ ৩২৩৪; আহমাদ ৯৩৯৫ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৭০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭০


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا بِسْطَامُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا التَّيَّاحِ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ فِي زِيَارَةِ الْقُبُورِ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। [১৫৬৯]

[১৫৬৯] আহকাম ১৮১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৭১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭১


حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ هَانِئٍ عَنْ مَسْرُوقِ بْنِ الْأَجْدَعِ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّهَا تُزَهِّدُ فِي الدُّنْيَا وَتُذَكِّرُ الْآخِرَةَ

ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা দুনিয়া বিমুখ বানায় এবং আখেরাত স্মরণ করিয়ে দেয়। [১৫৭০]

[১৫৭০] আহমাদ ৪৩০৭ মিশকাত ১৭৬৯, আহকামুল জানায়ীয। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আয়্যুব বিন হানী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, আমি তাকে চিনি না।

৬/৪৮. অধ্যায়ঃ

মুশরিকদের কবর যিয়ারত।

১৫৭২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭২


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ زَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَبْرَ أُمِّهِ فَبَكَى وَأَبْكَى مَنْ حَوْلَهُ فَقَالَ اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يَأْذَنْ لِي وَاسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِي فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُكُمْ الْمَوْتَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মায়ের কবর যিয়ারত করেন। তিনি কান্নাকাটি করেন এবং তার সাথের লোকদেরও কাঁদান। অতঃপর তিনি বলেন, আমি আমার রবের নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। আমি আমার রবের নিকট তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দেন। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদের মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দেয়। [১৫৭১]

[১৫৭১] মুসলিম ৯৭৬ ;নাসায়ী ২০৩৪; আবূ দাউদ ৩২৩৪; আহমাদ ৯৩৯৫ ইরওয়াহ ৭৭২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৭৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَبِي كَانَ يَصِلُ الرَّحِمَ وَكَانَ وَكَانَ فَأَيْنَ هُوَ قَالَ فِي النَّارِ قَالَ فَكَأَنَّهُ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَيْنَ أَبُوكَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم حَيْثُمَا مَرَرْتَ بِقَبْرِ مُشْرِكٍ فَبَشِّرْهُ بِالنَّارِ قَالَ فَأَسْلَمَ الْأَعْرَابِيُّ بَعْدُ وَقَالَ لَقَدْ كَلَّفَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم تَعَبًا مَا مَرَرْتُ بِقَبْرِ كَافِرٍ إِلَّا بَشَّرْتُهُ بِالنَّارِ.

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক বেদুইন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখতেন এবং তিনি এই এই কাজ করতেন। তিনি কোথায় আছেন? তিনি বলেন, জাহান্নামে। রাবী বলেন, এতে সে ব্যথিত হলো। সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনার পিতা কোথায় আছে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি যখন কোন মুশরিকের কবর অতিক্রম করো, তখন তাঁকে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দিও। রাবী বলেন, সেই বেদুইন পরে ইসলাম গ্রহন করে এবং বলে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চয়ই আমাকে একটি কাজের দায়িত্ব দিয়েছেনঃ আমি কোন কাফেরের কবর অতিক্রম করলেই তাঁকে দোযখের দুঃসংবাদ দিয়েছি। [১৫৭২]

[১৫৭২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ১৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/৪৯. অধ্যায়ঃ

মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারতের ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে।

১৫৭৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو بِشْرٍ قَالَا حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ ح و حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْعَسْقَلَانِيُّ حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ وَقَبِيصَةُ كُلُّهُمْ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بَهْمَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم زُوَّارَاتِ الْقُبُورِ

হাস্‌সান বিন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘন ঘন কবর যিয়ারতকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন। [১৫৭৩]

[১৫৭৩] আহমাদ ১৫২৩০ মিশকাত ১৭৮৭০, ইরওয়াহ ৩/২৩৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

১৫৭৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭৫


- حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زُوَّارَاتِ الْقُبُورِ

ইবনূ আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘন ঘন কবর যিয়ারতকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন। [১৫৭৪]

[১৫৭৪] তিরমিযী ৩২০;নাসায়ী ২০৪৩;আবূ দাউদ ৩২৩৬;আহমাদ ২০৩১,২৫৯৮,২৯৭৭, ৩১০৮ ইরওয়াহ ৭৬২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

১৫৭৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْعَسْقَلَانِيُّ أَبُو نَصْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَالِبٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم زُوَّارَاتِ الْقُبُورِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘন ঘন কবর যিয়ারতকারিণীদের বদদোয়া করেছেন। [১৫৭৫]

[১৫৭৫] তিরমিযী ১০৫৬;আহমাদ ৮৪৫৬ ইরওয়াহ ৭৬২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন তালিব সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় অজ্ঞাত।

৬/৫০. অধ্যায়ঃ

জানাযায় মহিলাদের অংশগ্রহন।

১৫৭৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭৭


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ نُهِينَا عَنْ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا

উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে জানাযায় অংশগ্রহন করতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়নি। [১৫৭৬]

[১৫৭৬] সহীহুল বুখারী ৩১৩,১২৭৮,৫৩৪১; মুসলিম ৯৩৮; আবূ দাউদ ৩১৬৭; আহমাদ ২৬৭৫৮ আহকাম ৬৯-৭০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৭৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ سَلْمَانَ عَنْ دِينَارٍ أَبِي عُمَرَ عَنْ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَإِذَا نِسْوَةٌ جُلُوسٌ قَالَ مَا يُجْلِسُكُنَّ قُلْنَ نَنْتَظِرُ الْجِنَازَةَ قَالَ هَلْ تَغْسِلْنَ قُلْنَ لَا قَالَ هَلْ تَحْمِلْنَ قُلْنَ لَا قَالَ هَلْ تُدْلِينَ فِيمَنْ يُدْلِي قُلْنَ لَا قَالَ فَارْجِعْنَ مَأْزُورَاتٍ غَيْرَ مَأْجُورَاتٍ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে এসে মহিলাদের বসা দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমরা কেন বসে আছ? তারা বললেন, আমরা লাশের অপেক্ষা করছি। তিনি বললেন, তোমরা কি লাশের গোসল করাবে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তোমরা কি লাশ বহন করবে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, যারা লাশ কবরে রাখবে তাদের সাথে তোমরাও কি লাশ কবরে রাখবে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের জন্য গুনাহ ব্যতীত কোন সওয়াব নাই।

তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, যঈফাহ ২৭৪২।

৬/৫১. অধ্যায়ঃ

বিলাপ করে কান্নাকাটি করা নিষেধ

১৫৭৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৭৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ مَوْلَى الصَّهْبَاءِ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم {وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ} قَالَ النَّوْحُ

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বরাতে বলেন, “তারা উত্তম কাজে তোমাদের অমান্য করবে না।”(সূরা মুমতাহিনাঃ ১২) এর অর্থ ‘বিলাপ করবে না।’ [১৫৭৭]

তাহকীক আলবানীঃ হাসান, তা’লীক ইবনু মাজাহ।

[১৫৭৭] তিরমিযী ৩৩০৭ তাহকীক আলবানীঃ হাসান, তা’লীক ইবনু মাজাহ। উক্ত হাদিসের রাবী শাহর বিন হাওসাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তাকে বর্জন করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই।

১৫৮০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮০


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ حَدَّثَنَا أَبُو حَرِيزٍ مَوْلَى مُعَاوِيَةَ قَالَ خَطَبَ مُعَاوِيَةُ بِحِمْصَ فَذَكَرَ فِي خُطْبَتِهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ النَّوْحِ

মু’আবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হিমস নামক স্থানে ভাষণ দানকালে তার ভাষণে উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাপ করতে নিষেধ করেছেন। [১৫৭৮]

[১৫৭৮] বুখারী উম্মে আতিয়্যাহ হতে। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ২. আবদুল্লাহ বিন দিনার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন। ৩. আবু হারীয সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অপরিচিত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

১৫৮১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮১


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ ابْنِ مُعَانِقٍ أَوْ أَبِي مُعَانِقٍ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم النِّيَاحَةُ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَإِنَّ النَّائِحَةَ إِذَا مَاتَتْ وَلَمْ تَتُبْ قَطَعَ اللهُ لَهَا ثِيَابًا مِنْ قَطِرَانٍ وَدِرْعًا مِنْ لَهَبِ النَّارِ

আবূ মালিক আল-আশ’আরী থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিলাপকারিণী তওবা না করে মারা গেলে আল্লাহ তা’আলা তাকে আলকাতরাযুক্ত কাপড় এবং লেলিহান শিখার বর্ম পরাবেন। [১৫৭৯]

[১৫৭৯] মুসলিম ৯৩৪; আহমাদ ২২৩৯৬, ২২৩৯৭, ২২৪০৫ তা’লীকুর রগীব ৪/১৭৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৮২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮২


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ رَاشِدٍ الْيَمَامِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم النِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّ النَّائِحَةَ إِنْ لَمْ تَتُبْ قَبْلَ أَنْ تَمُوتَ فَإِنَّهَا تُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهَا سَرَابِيلُ مِنْ قَطِرَانٍ ثُمَّ يُعْلَى عَلَيْهَا بِدِرْعٍ مِنْ لَهَبِ النَّارِ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা জাহিলী প্রথা। অতএব যে বিলাপকারিণী মৃত্যুর পূর্বে তওবা করেনি, কিয়ামাতের দিন তাকে আলকাতরাযুক্ত জামা পরিয়ে উঠানো হবে, অতঃপর তাকে লেলিহান বর্ম পরানো হবে। [১৫৮০]

[১৫৮০] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবী উমার বিন রাশীদ আল-ইয়ামামী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আল আজালী বলেন, কোন সমস্যা নেই। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

১৫৮৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮৩


- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنْ تُتْبَعَ جِنَازَةٌ مَعَهَا رَانَّةٌ

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন লাশের সাথে বিলাপকারিণী থাকলে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। [১৫৮১]

[১৫৮১] আহমাদ ৫৬৩৫, তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আবু ইয়াহইয়া সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। বাযযার বলেন, আমি তার দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অজ্ঞাত।

৬/৫২. অধ্যায়ঃ

শোকে মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করা এবং জামা ছেঁড়া নিষেধ

১৫৮৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮৪


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مَسْرُوقٍ ح و حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنَّا مَنْ شَقَّ الْجُيُوبَ وَضَرَبَ الْخُدُودَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (মৃত্যু শোকে) বুকের কাপড় ছিঁড়ে, মুখমন্ডলে আঘাত করে এবং জাহিলী যুগের ন্যায় চিৎকার করে কান্নাকাটি করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। [১৫৮২]

[১৫৮২] সহীহুল বুখারী ১২৯৪; মুসলিম ১০৩;তিরমিযী ৯৯৯; নাসায়ী ১৮৬০,১৮৬২,১৮৬৪; আহমাদ ৩৬৫০, ৪১০০, ৪২০৩, ৪৩৪৮, ৪৪১৬ ইরওয়াহ ৭৭০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৮৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ الْمُحَارِبِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ كَرَامَةَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ مَكْحُولٍ وَالْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَعَنَ الْخَامِشَةَ وَجْهَهَا وَالشَّاقَّةَ جَيْبَهَا وَالدَّاعِيَةَ بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ

আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চেহারা ক্ষতবিক্ষতকারিণী, বক্ষদেশের জামা ছিন্নকারিণী, ধবংস ও মৃত্যু কামনাকারিণী ও শোকগাথার আয়োজনকারিণীকে অভিসম্পাত করেছেন। [১৫৮৩]

[১৫৮৩] সহীহাহ ২১৪৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৮৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮৬


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ الْأَوْدِيُّ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ أَبِي الْعُمَيْسِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَخْرَةَ يَذْكُرُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ وَأَبِي بُرْدَةَ قَالَا لَمَّا ثَقُلَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلَتْ امْرَأَتُهُ أُمُّ عَبْدِ اللهِ تَصِيحُ بِرَنَّةٍ فَأَفَاقَ فَقَالَ لَهَا أَوَ مَا عَلِمْتِ أَنِّي بَرِيءٌ مِمَّنْ بَرِئَ مِنْهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يُحَدِّثُهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ أَنَا بَرِيءٌ مِمَّنْ حَلَقَ وَسَلَقَ وَخَرَقَ

আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ ও আবূ বুরদা থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, আবূ মূসা (আশ’আরী) (রাঃ), যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর, তখন তার স্ত্রী উম্মু আবদুল্লাহ গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে করতে আসে। তিনি চেতনা ফিরে পেয়ে তাকে বললেন, তুমি কি জানো না, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যার প্রতি অসন্তুষ্ট, আমিও তার প্রতি অসন্তুষ্ট। তিনি তার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (মৃত্যুশোকে মাথা মুন্ডন করে, চিৎকার করে কান্নাকাটি করে এবং জামা ছিঁড়ে, আমি তার থেকে দায়মুক্ত। [১৫৮৪]

[১৫৮৪] মুসলিম ১০৪; নাসায়ী ১৮৬১, ১৮৬৩, ১৮৬৫, ১৮৬৬, ১৮৬৭;আবূ দাউদ ৩১৩০;আহমাদ ১৯০৪১, ১৯০৫৩, ১৯১১৯, ১৯১২৯, ১৯১৯১, ইরওয়াহ ৭৭১, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

৬/৫৩. অধ্যায়ঃ

মৃতের জন্য কান্নাকাটি করা

১৫৮৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮৭


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي جِنَازَةٍ فَرَأَى عُمَرُ امْرَأَةً فَصَاحَ بِهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَعْهَا يَا عُمَرُ فَإِنَّ الْعَيْنَ دَامِعَةٌ وَالنَّفْسَ مُصَابَةٌ وَالْعَهْدَ قَرِيبٌ


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَزْرَقِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ.

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। উমার (রাঃ) এক মহিলাকে কাঁদতে দেখে ধমকালেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ হে উমার! তাকে ছেড়ে দাও। কেননা অশ্রুবর্ষণকারী, দেহ-মন বেদনাক্লিষ্ট এবং প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী। [১৫৮৫]

১/১৫৮৭(১). <আবূ বকর বিন আবূ শায়বাহ><আফফান><হাম্মাদ বিন সালামাহ><হিশাম বিন ‘উরওয়াহ><ওয়াহাব বিন কায়সান><মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা><সালামাহ বিন আযরাক (মাকবূল)> <আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)>

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ।

[১৫৮৫] যঈফাহ ৩৬০৩। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী সালামাহ বিন আযরাক সম্পর্কে ইবনুল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত।

১৫৮৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ كَانَ ابْنٌ لِبَعْضِ بَنَاتِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْضِي فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ أَنْ يَأْتِيَهَا فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا أَنَّ لِلهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ فَأَقْسَمَتْ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَقُمْتُ مَعَهُ وَمَعَهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ فَلَمَّا دَخَلْنَا نَاوَلُوا الصَّبِيَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَرُوحُهُ تَقَلْقَلُ فِي صَدْرِهِ قَالَ حَسِبْتُهُ قَالَ كَأَنَّهَا شَنَّةٌ قَالَ فَبَكَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ مَا هَذَا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الرَّحْمَةُ الَّتِي جَعَلَهَا اللهُ فِي بَنِي آدَمَ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ.

উসামাহ বিন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর এক কন্যার শিশু পুত্রের মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ তার নিকট আসার জন্য লোক মারফত বলে পাঠান। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কন্যাকে বলে পাঠান যে, সবই আল্লাহর যা তিনি নেন তাও তাঁর এবং যা তিনি দান করেন তাও তাঁর। প্রতিটি বস্তুর জন্য তাঁর নিকট একটি নির্ধারিত কাল রয়েছে। অতএব তোমার ধৈর্যধারণ ও সওয়াবের আশা করা উচিত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কন্যা কসম খেয়ে পুনরায় তাঁর কাছে লোক পাঠান। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে রওয়ানা হন এবং আমিও তাঁর সাথে উঠে রওয়ানা হই। তাঁর সাথে আরো ছিলেন মু’আয বিন জাবাল, উবাদা বিন সামিত ও উবাই বিন কা’ব (রাঃ)। আমরা গিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলে শিশুটিকে যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে দিল, তখন তার রূহ তার বুকের মাঝে ধড়ফড় করছিল। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেন, এ যেন পুরাতন মশক। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। উবাদা বিনস সামিত (রাঃ) তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! একী? তিনি বলেনঃ মায়া-মমতা, যা আল্লাহ আদম-সন্তানদের মধ্যে রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর দয়ালু বান্দাদের অবশ্য দয়া করেন। [১৫৮৬]

[১৫৮৬] সহীহুল বুখারী ১২৮৪, ৫৬৫৫, ৬৬০২, ৭৩৭৭, ৭৪৪৮; মুসলিম ৯২৩; নাসায়ী ১৮৬৮, আবূ দাউদ ৩১২৫; আহমাদ ২১২৬৯, ২১২৮২, ২১২৯২ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৫৮৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৮৯


حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ ابْنِ خُثَيْمٍ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ لَمَّا تُوُفِّيَ ابْنُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِبْرَاهِيمُ بَكَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ الْمُعَزِّي إِمَّا أَبُو بَكْرٍ وَإِمَّا عُمَرُ أَنْتَ أَحَقُّ مَنْ عَظَّمَ اللهُ حَقَّهُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم تَدْمَعُ الْعَيْنُ وَيَحْزَنُ الْقَلْبُ وَلَا نَقُولُ مَا يُسْخِطُ الرَّبَّ لَوْلَا أَنَّهُ وَعْدٌ صَادِقٌ وَمَوْعُودٌ جَامِعٌ وَأَنَّ الْآخِرَ تَابِعٌ لِلْأَوَّلِ لَوَجَدْنَا عَلَيْكَ يَا إِبْرَاهِيمُ أَفْضَلَ مِمَّا وَجَدْنَا وَإِنَّا بِكَ لَمَحْزُونُونَ

আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শিশু পুত্র ইবরাহীম ইন্তিকাল করলে তিনি নীরবে কাঁদেন। তাঁকে সান্ত্বনা দানকারী আবূ বাকর অথবা উমার (রাঃ) বলেন, আপনি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব রক্ষার ব্যপারে অধিক যোগ্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ চোখ অশ্রু বর্ষণ করছে, হৃদয় ব্যথিত হচ্ছে এবং আমরা এমন কিছু বলছিনা, যা আমাদের প্রভুকে অসন্তুষ্ট করে। যদি তা (মৃত্যু) অবধারিত না হতো, কিয়ামাতের দিন একত্র হওয়ার ওয়াদা না থাকত এবং পরবর্তীদের জন্য পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত না থাকতো, তাহলে হে ইবরাহীম! আমরা তোমার ব্যাপারে যে কষ্ট পেয়েছি, তার চেয়ে অধিক কষ্ট পেতাম। আমরা তোমার জন্য অবশ্যই দুঃখিত। [১৫৮৭]

[১৫৮৭] সহীহাহ ১৭৩২, তাহকীক আলবানীঃ হাসান

১৫৯০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَحْشٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ أَنَّهُ قِيلَ لَهَا قُتِلَ أَخُوكِ فَقَالَتْ رَحِمَهُ اللهُ وَإِنَّا لِلهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ قَالُوا قُتِلَ زَوْجُكِ قَالَتْ وَا حُزْنَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِلزَّوْجِ مِنْ الْمَرْأَةِ لَشُعْبَةً مَا هِيَ لِشَيْءٍ

হামনাহ বিনতে জাহশ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাকে বলা হলো যে, তার ভাইকে শহীদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ তার প্রতি দয়াপরবশ হোন। “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন” (আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চিত তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী)। তারা বললো, আপনার স্বামীকে শহীদ করা হয়েছে। তিনি বলেনঃ আফসোস! আমরা তার জন্য চিন্তিত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ নিশ্চয় স্বামীর সাথে মহিলাদের এমন ভালবাসার সম্পর্ক রয়েছে যা অন্য কিছুতে নেই। [১৫৮৮]

[১৫৮৮] যঈফাহ ৩২৩৩। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক বিন মুহাম্মাদ আল ফারাবী সম্পর্কে আস-সাজী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন। ২. আবদুল্লাহ বিন উমার সম্পর্কে ইয়া'কুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি দুর্বল।

১৫৯১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯১


حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الْمِصْرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ أَنْبَأَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِنِسَاءِ عَبْدِ الْأَشْهَلِ يَبْكِينَ هَلَكَاهُنَّ يَوْمَ أُحُدٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَكِنَّ حَمْزَةَ لَا بَوَاكِيَ لَهُ فَجَاءَ نِسَاءُ الْأَنْصَارِ يَبْكِينَ حَمْزَةَ فَاسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَ وَيْحَهُنَّ مَا انْقَلَبْنَ بَعْدُ مُرُوهُنَّ فَلْيَنْقَلِبْنَ وَلَا يَبْكِينَ عَلَى هَالِكٍ بَعْدَ الْيَوْمِ

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার আবদুল আশহাল গোত্রের মহিলাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তারা উহুদ যুদ্ধে শহীদ তাদের আত্মীয়দের জন্য কান্নারত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কিন্তু হামযা! তার জন্য কান্নাকাটি করার কেউ নেই। ইতোমধ্যে কয়েকজন আনসার মহিলা এসে হামযা (রাঃ) এর জন্য কান্নাকাটি করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে জেগে উঠে বললেন, তাদের জন্য আফসোস! এতদিন পর কিসে তাদের কান্নার প্রেরণা যোগাল? তাদের নিকট গিয়ে বলো, তারা যেন ফিরে যায়। আজকের দিনের পর থেকে তারা যেন কোন শহীদের জন্য কান্নাকাটি না করে। [১৫৮৯]

তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ, তা’লীক ইবনু মাজাহ।

[১৫৮৯] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। তা’লীক ইবনু মাজাহ।

১৫৯২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯২


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ عَنْ ابْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ الْمَرَاثِي

ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মৃতের জন্য) বিলাপ করতে বা শোকগাঁথা গাইতে নিষেধ করেছেন। [১৫৯০]

[১৫৯০] যঈফাহ ৪৭২৪। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবরাহীম আল হাজারী সম্পর্কে আল আযদী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু যুরআহ আর-রাযী ও মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার।

৬/৫৪. অধ্যায়ঃ

মৃতের জন্য বিলাপ করলে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়

১৫৯৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا شَاذَانُ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ح و حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। [১৫৯১]

[১৫৯১] সহীহুল বুখারী ১২৮৮, ১২৯০, ১২৯২, মুসলিম ৯২৭, তিরমিযী ১০০২,নাসায়ী ১৮৫৩, ১৮৫৮,আহমাদ ১৮১, ২৪৯, ২৬৬, ২৯০, ৩১৭, ৩৩৬, ৩৫৬, ৩৬৮, ৩৮৮ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৯৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯৪


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ حَدَّثَنَا أَسِيدُ بْنُ أَبِي أَسِيدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ إِذَا قَالُوا وَا عَضُدَاهُ وَا كَاسِيَاهُ وَا نَاصِرَاهُ وَا جَبَلَاهُ وَنَحْوَ هَذَا يُتَعْتَعُ وَيُقَالُ أَنْتَ كَذَلِكَ أَنْتَ كَذَلِكَ» قَالَ أَسِيدٌ فَقُلْتُ سُبْحَانَ اللهِ إِنَّ اللهَ يَقُولُ {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} قَالَ وَيْحَكَ أُحَدِّثُكَ أَنَّ أَبَا مُوسَى حَدَّثَنِي عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَرَى أَنَّ أَبَا مُوسَى كَذَبَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ تَرَى أَنِّي كَذَبْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى.

আবূ মূসা আল-আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জীবিতদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যখন তারা বলেঃ হে আমাদের বাহুদয়, হে আমাদের ভরণপোষণের সংস্থানকারী, হে আমাদের সাহায্যকারী, হে আমাদের পাহাড়সম পরমাত্মীয় ইত্যাদি। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি কি এরূপ ছিলে? তুমি কি এরূপ ছিলে? আসীদ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ মহাপবিত্র। নিশ্চয় আল্লাহ বলেছেনঃ ”কোন বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না”(সূরা ফাতিরঃ ১৮)। রাবী বলেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়। আমি তোমার নিকট আবূ মূসা (রাঃ) এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করছি এবং তিনি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর থেকে বর্ণনা করেছেন। তুমি কি মনে করো, আবূ মূসা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর মিথ্যা আরোপ করছেন অথবা তুমি কি মনে করো, আমি আবূ মূসা (রাঃ) এর উপর মিথ্যারোপ করছি? [১৫৯২]

[১৫৯২] তিরমিযী ১০০৩ মিশকাত ১৭৪৬। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

১৫৯৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯৫


- حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّمَا كَانَتْ يَهُودِيَّةٌ مَاتَتْ فَسَمِعَهُمْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَبْكُونَ عَلَيْهَا قَالَ إِنَّ أَهْلَهَا يَبْكُونَ عَلَيْهَا وَإِنَّهَا تُعَذَّبُ فِي قَبْرِهَا

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ইয়াহূদী নারী মারা গেল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জন্য তাদের কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে বলেন, তার পরিবার-পরিজন তার জন্য ক্রন্দন করছে, অথচ তাকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। [১৫৯৩]

[১৫৯৩] সহীহুল বুখারী ১২৮৮, ১২৮৯, ৩৯৭৯; মুসলিম ৯২৮, ৯৩২, তিরমিযী ১০০৪, ১০০৬; নাসায়ী ১৮৫৫, ১৮৫৬, ১৮৫৭, ১৮৫৮; আহমাদ ২৩৫৯৫, ২৩৭৮১, ২৪২৩৭, ২৪৫৫৬, ২৫৬৪৮, ২৭৬৬৩; মুয়াত্তা মালেক ৫৫৩ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৫৫. অধ্যায়ঃ

বিপদে ধৈর্য ধারণ করা

১৫৯৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯৬


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى

আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিপদের প্রথম আঘাতে ধৈর্য ধারণই হচ্ছে প্রকৃত ধৈর্য। [১৫৯৪]

[১৫৯৪] সহীহুল বুখারী ১২৮৩, ১৩০২, ৭১৫৪, মুসলিম ৯২৬,তিরমিযী ৯৮৭, ৯৮৮, নাসায়ী ১৮৬৯, আবূ দাউদ ৩১২৪, আহমাদ ১২০৪৯ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৫৯৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯৭


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ عَجْلَانَ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَقُولُ اللهُ سُبْحَانَهُ ابْنَ آدَمَ إِنْ صَبَرْتَ وَاحْتَسَبْتَ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى لَمْ أَرْضَ لَكَ ثَوَابًا دُونَ الْجَنَّةِ.

আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মহান আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ হে বনী আদম! যদি তুমি সওয়াবের আশায় প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধারণ করো তাহলে আমি তোমাকে সওয়াবের বিনিময় হিসাবে জান্নাত দান না করে সন্তুষ্ট হবো না। [১৫৯৫]

[১৫৯৫] মিশকাত ১৭৫৮। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ২. কাসিম সম্পর্কে আল আজালী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু তিনি সিকাহ নন।

১৫৯৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ قُدَامَةَ الْجُمَحِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ حَدَّثَهَا أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَابُ بِمُصِيبَةٍ فَيَفْزَعُ إِلَى مَا أَمَرَ اللهُ بِهِ مِنْ قَوْلِهِ إِنَّا لِلهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللّٰهُمَّ عِنْدَكَ احْتَسَبْتُ مُصِيبَتِي فَأْجُرْنِي فِيهَا وَعَوِّضْنِي مِنْهَا إِلَّا آجَرَهُ اللهُ عَلَيْهَا وَعَاضَهُ خَيْرًا مِنْهَا قَالَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ ذَكَرْتُ الَّذِي حَدَّثَنِي عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنَّا لِلهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللّٰهُمَّ عِنْدَكَ احْتَسَبْتُ مُصِيبَتِي هَذِهِ فَأْجُرْنِي عَلَيْهَا فَإِذَا أَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ وَعِضْنِي خَيْرًا مِنْهَا قُلْتُ فِي نَفْسِي أُعَاضُ خَيْرًا مِنْ أَبِي سَلَمَةَ ثُمَّ قُلْتُهَا فَعَاضَنِي اللهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَآجَرَنِي فِي مُصِيبَتِي.

আবূ সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে বলতে শুনেছেনঃ কোন মুসলমান যখন বিপদে পড়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহ্‌র নির্দেশিত “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” (আমরা আল্লাহ্‌র জন্য এবং নিশ্চিত আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী) পাঠ করে এবং বলে, হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার নিকট বিপদে সওয়াবের প্রত্যাশা করি, তুমি আমাকে এর পুরস্কার দান করো এবং আমাকে এর বিনিময় দান করো, তখন আল্লাহ্‌ তাকে পুরস্কৃত করেন এবং এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করেন। রাবী (উম্মু সালামাহ) বলেন, আবূ সালামাহ (রাঃ) ইনতিকাল করলে তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করেছিলেন তা স্মরণ করলাম। আমি বললাম “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”। হে আল্লাহ্‌! আমার বিপদের পুরস্কার আপনার কাছেই আশা করি। অতএব আমাকে তার বিনিময়ে পুরস্কৃত করুন। অতঃপর আমি যখন বলতে চাইলাম, আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন, তখন আমি মনে মনে বললাম, আবূ সালামহ (রাঃ) অপেক্ষা আমাকে উত্তম কিছু দান করুন। তারপর আমি তা বললাম”। অতএব আল্লাহ আমাকে বিনিময়স্বরূপ মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দান করেন এবং আমার বিপদে তিনি আমাকে পুরস্কৃত করেন। [১৫৯৬]

১৫৯৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৫৯৯


حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السُّكَيْنِ حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فَتَحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بَابًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ أَوْ كَشَفَ سِتْرًا فَإِذَا النَّاسُ يُصَلُّونَ وَرَاءَ أَبِي بَكْرٍ فَحَمِدَ اللهَ عَلَى مَا رَأَى مِنْ حُسْنِ حَالِهِمْ رَجَاءَ أَنْ يَخْلُفَهُ اللهُ فِيهِمْ بِالَّذِي رَآهُمْ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَيُّمَا أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ أَوْ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ أُصِيبَ بِمُصِيبَةٍ فَلْيَتَعَزَّ بِمُصِيبَتِهِ بِي عَنْ الْمُصِيبَةِ الَّتِي تُصِيبُهُ بِغَيْرِي فَإِنَّ أَحَدًا مِنْ أُمَّتِي لَنْ يُصَابَ بِمُصِيبَةٍ بَعْدِي أَشَدَّ عَلَيْهِ مِنْ مُصِيبَتِي

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ও লোকেদের মাঝখানের দরজা খুলে অথবা পর্দা তুলে দেখেন যে, লোকজন আবূ বকর (রাঃ) – এর পিছনে সলাত পড়ছে। তিনি তাদেরকে উক্ত অবস্থায় দেখে আল্লাহ্‌র প্রশংসা করেন এবং আশা করেন যে, আল্লাহ্‌ যেন আবূ বাক্‌রকে তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করেন, যেভাবে তিনি তাদেরকে দেখতে পেয়েছেন। এরপর তিনি বলেনঃ হে লোকসকল! কোন লোকের উপর অথবা কোন মু’মিন ব্যক্তির উপর কোন বিপদ আসলে সে যেন অপরের উপর আপতিত বিপদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে, বরং আমার উপর আপতিত বিপদের কোন কথা স্মরণ করে প্রশান্তি লাভ করে। কেননা আমার পরে আমার কোন উম্মাতের উপর, আমার বিপদের তুলনায় কঠিন বিপদ আপতিত হবে না। [১৫৯৭]

[১৫৯৭] সহীহাহ ১১০৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন উবায়দাহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে হুজ্জাহ নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয়। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

১৬০০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০০


- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ عَنْ هِشَامِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ أُمِّهِ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهَا قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ أُصِيبَ بِمُصِيبَةٍ فَذَكَرَ مُصِيبَتَهُ فَأَحْدَثَ اسْتِرْجَاعًا وَإِنْ تَقَادَمَ عَهْدُهَا كَتَبَ اللهُ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلَهُ يَوْمَ أُصِيبَ

ফাতিমাহ বিনতুল হুসায়ন থেকে বর্ণিতঃ

তার পিতা (হুসায়ন বিন আলী (রাঃ), বলেন, নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কারো উপর বিপদ আসার পর তা স্মরণ করে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পাঠ করলে, আল্লাহ তার বিপদের দিন থেকে শুরু করে বিপদমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে সওয়াব দান করতে থাকেন। [১৫৯৮]

তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত দঈফ।

[১৫৯৮] আহমাদ ১৭৩৬ যঈফাহ ৪৫৫১। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হিশাম বিন যিয়াদ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু যুরআহ ও আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি গায়ির সিকাহ।

৬/৫৬. অধ্যায়ঃ

বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেয়ার সওয়াব।

১৬০১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০১


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنِي قَيْسٌ أَبُو عُمَارَةَ مَوْلَى الْأَنْصَارِ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُعَزِّي أَخَاهُ بِمُصِيبَةٍ إِلَّا كَسَاهُ اللهُ سُبْحَانَهُ مِنْ حُلَلِ الْكَرَامَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

আমর বিন হাযম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি তার মু’মিন ভাইকে তার বিপদে সান্ত্বনা দিবে, আল্লাহ্‌ তা’য়ালা কিয়ামাতের দিন তাকে সম্মানের পোশাক পরাবেন। [১৫৯৯]

[১৫৯৯] ইরওয়াহ ৭৬৪, সহীহায় নতুন ছাপা ১৯৫। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী খালিদ বিন মাখলাদ সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু আদী বলেন, তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। ২. কায়স আবু উমারাহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আল উকায়লী তাকে দুর্বল বলেছেন।

১৬০২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০২


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ عَزَّى مُصَابًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত লোককে সান্ত্বনা দেয় তার জন্য রয়েছে অনুরূপ সওয়াব। [১৬০০]

[১৬০০] তিরমিযী ১০৭৩ ইরওয়াহ ৭৬৫, মিশকাত ১৭৩৭। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন আসিম সম্পর্কে ইয়াযীদ বিন হারুন বলেন, আমরা তাকে সর্বদা মিথ্যুক হিসেবে জানি। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল ও সংমিশ্রণ করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বিশারদগনের নিকট নির্ভরযোগ্য নন।

৬/৫৭. অধ্যায়ঃ

সন্তানের মৃত্যুতে পিতা-মাতার সওয়াব।

১৬০৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০৩


- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يَمُوتُ لِرَجُلٍ ثَلَاثَةٌ مِنْ الْوَلَدِ فَيَلِجَ النَّارَ إِلَّا تَحِلَّةَ الْقَسَمِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন ব্যক্তির তিনটি সন্তান মারা গেলে সে জাহান্নাম পার হয়ে যাবে, তবে শপথ পূর্ণ না করার জন্য (শাস্তি পাবে)। [১৬০১]

[১৬০১] সহীহুল বুখারী ১০২, মুসলিম ২৬৩২, ২৬৩৪, তিরমিযী ১০৬০ নাসায়ী ১৮৭৫, ১৮৭৬, আহমাদ ৭২২৪, ৭৬৬৪, ৯৭৭০, ৯৮৫৩, ১০৫৪০, মুয়াত্তা মালেক ৫৫৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৬০৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ شُفْعَةَ قَالَ لَقِيَنِي عُتْبَةُ بْنُ عَبْدٍ السُّلَمِيُّ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ لَهُ ثَلَاثَةٌ مِنْ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ إِلَّا تَلَقَّوْهُ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ دَخَلَ

উতবাহ বিন আবদ আস-সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির তিনটি নাবালেগ সন্তান মারা গেলে, সে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করতে পারবে। [১৬০২]

[১৬০২] তা’লীকুর রগীব ৩/৮৯। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

১৬০৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০৫


حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْمَعْنِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يُتَوَفَّى لَهُمَا ثَلَاثَةٌ مِنْ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ إِلَّا أَدْخَلَهُمْ اللهُ الْجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَةِ اللهِ إِيَّاهُمْ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন মুসলিম পিতা-মাতার তিনটি নাবালেগ সন্তান মারা গেলে, আল্লাহ্‌ তার বিশেষ অনুগ্রহে তাদরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। [১৬০৩]

[১৬০৩] সহীহুল বুখারী ১২৪৮, ১৩৮১; তিরমিযী ১০০৩; নাসায়ী ১৮৭২; ১৮৭৩; আহমাদ ১২১২৬ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৬০৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০৬


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ قَدَّمَ ثَلَاثَةً مِنْ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ كَانُوا لَهُ حِصْنًا حَصِينًا مِنْ النَّارِ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ قَدَّمْتُ اثْنَيْنِ قَالَ وَاثْنَيْنِ فَقَالَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ سَيِّدُ الْقُرَّاءِ قَدَّمْتُ وَاحِدًا قَالَ وَوَاحِدًا

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনটি নাবালেগ সন্তান আগাম পাঠায় (মারা যায়), তার জন্য তারা হবে জাহান্নামের মজবুত ঢালস্বরূপ। তখন আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি দু’টি সন্তান আগাম পাঠিয়েছি। নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ দু’টি হলেও। সায়্যিদুল কুররা উবাই কা’ব (রাঃ) বলেন, আমি একটি সন্তান আগাম পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, একটি হলেও। [১৬০৪]

[১৬০৪] তিরমিযী ১০৬১; আহমাদ ৪০৬৬ মিশকাত ১৭৫৫, তা’লীকুর রগীব ৩/৬৩। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মুহাম্মাদ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি আওওয়াম বিন হাওশাব থেকে এককভাবে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

৬/৫৮. অধ্যায়ঃ

কোন মহিলার গর্ভপাত হলে।

১৬০৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০৭


- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ النَّوْفَلِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَسِقْطٌ أُقَدِّمُهُ بَيْنَ يَدَيَّ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ فَارِسٍ أُخَلِّفُهُ خَلْفِي

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার নিকট গর্ভপাতজনিত সন্তান, যা আগে পাঠানো হয়, দুনিয়ায় রেখে যাওয়া অশ্বারোহী সন্তান অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয়। [১৬০৫]

[১৬০৫] যঈফাহ ৪৩০৭। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী খালিদ বিন মাখলাদ সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু আদী বলেন, তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। ২. ইয়াযীদ বিন আবদুল মালিক আন-নাওফালী সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী তাকে খুবই দুর্বল বলেছেন।

১৬০৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০৮


- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ أَبُو بَكْرٍ الْبَكَّائِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ قَالَ حَدَّثَنَا مَنْدَلٌ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ الْحَكَمِ النَّخَعِيِّ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ أَبِيهَا عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ السِّقْطَ لَيُرَاغِمُ رَبَّهُ إِذَا أَدْخَلَ أَبَوَيْهِ النَّارَ فَيُقَالُ أَيُّهَا السِّقْطُ الْمُرَاغِمُ رَبَّهُ أَدْخِلْ أَبَوَيْكَ الْجَنَّةَ فَيَجُرُّهُمَا بِسَرَرِهِ حَتَّى يُدْخِلَهُمَا الْجَنَّةَ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গর্ভপাত হওয়া সন্তানের রব তার পিতা-মাতাকে যখন জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন তখন সে তার প্রভুর সাথে বিতর্ক করবে। তাকে বলা হবে, ওহে প্রভুর সাথে বিতর্ককারী গর্ভপাত হওয়া সন্তান! তোমার পিতা-মাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। অতএব সে তাদেরকে নিজের নাভিরজ্জু দ্বারা টানতে টানতে শেষে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। [১৬০৬]

[১৬০৬] তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী, মানদাল সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ২. হাসান ইবনুল হাকাম আন-নাখঈ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় প্রচুর ভুল ও সন্দেহ করেন। ৩. আসমা বিনতু আবিস বিন রাবীআহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞাত।

১৬০৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬০৯


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمِ بْنِ مَرْزُوقٍ حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ السِّقْطَ لَيَجُرُّ أُمَّهُ بِسَرَرِهِ إِلَى الْجَنَّةِ إِذَا احْتَسَبَتْهُ

মুযান বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! গর্ভপাত হওয়া সন্তানের মাতা তাতে সওয়াব আশা করলে ঐ সন্তান তার নাভিরজ্জু দ্বারা তাকে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে। [১৬০৭]

[১৬০৭] আহমাদ ২১৫৮৫ মিশকাত ১৭৫৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইয়াহইয়া বিন উবায়দুল্লাহ বিন মুসলিম আল হাদরামী সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন,তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ নন তবে তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। এ হাদিসের ৯৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে আবু দাউদে ১ টি, ইবনু মাজাহ ৪ টি, আহমাদ ২ টি, সহীহ ইবনু হিব্বান ২ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে।

৬/৫৯. অধ্যায়ঃ

মৃতের বাড়িতে খাদ্য পাঠানো।

১৬১০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১০


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ لَمَّا جَاءَ نَعْيُ جَعْفَرٍ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اصْنَعُوا لِآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا فَقَدْ أَتَاهُمْ مَا يَشْغَلُهُمْ أَوْ أَمْرٌ يَشْغَلُهُمْ

আবদুল্লাহ্‌ বিন জা'ফার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জা'ফর (রাঃ) এর শহীদ হওয়ার সংবাদ এসে পৌছলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা জা'ফরের পরিবারের জন্য খাদ্য তৈরি করো। কেননা তাদের উপর এমন বিপদ অথবা বিষয় এসেছে যা তাদের ব্যস্ত রেখেছে। [১৬০৮]

[১৬০৮] তিরমিযী ৯৯৮; আহমাদ ৩১৩২ মিশকাত ১৭৩৯। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

১৬১১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১১


- حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ أَبُو سَلَمَةَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أُمِّ عِيسَى الْجَزَّارِ قَالَتْ حَدَّثَتْنِي أُمُّ عَوْنٍ ابْنَةُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ جَدَّتِهَا أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ لَمَّا أُصِيبَ جَعْفَرٌ رَجَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ إِنَّ آلَ جَعْفَرٍ قَدْ شُغِلُوا بِشَأْنِ مَيِّتِهِمْ فَاصْنَعُوا لَهُمْ طَعَامًا قَالَ عَبْدُ اللهِ فَمَا زَالَتْ سُنَّةً حَتَّى كَانَ حَدِيثًا فَتُرِكَ

আসমা বিনত উমাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জা’ফর (রাঃ) শহীদ হওয়ার সংবাদ পৌঁছার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পরিবারের নিকট এসে বলেন, জা’ফরের পরিবার তাদের মৃতের কারণে ব্যস্ত রয়েছে। অতএব তোমরা তাদের জন্য খাদ্য তৈরী করো। আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) বলেন, এটা সুন্নাত হিসেবে পরিগণিত হয়। তবে তা আলোচনার বিষয়ে পরিণত হলে বর্জন করা হয়। [১৬০৯]

[১৬০৯] আহমাদ ২৬৫৪৬ তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইবনু মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। ২. উম্মু ঈসা আল জাযযার সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত।

৬/৬০. অধ্যায়ঃ

মৃতের বাড়িতে ভীড় জমানো নিষেধ এবং খাদ্য তৈরি করাও নিষেধ।

১৬১২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ ح و حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ أَبُو الْفَضْلِ قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ قَالَ كُنَّا نَرَى الِاجْتِمَاعَ إِلَى أَهْلِ الْمَيِّتِ وَصَنْعَةَ الطَّعَامِ مِنْ النِّيَاحَةِ.

জারীর বিন আবদুল্লাহ্ আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মৃতের বাড়িতে ভীড় জমানো ও খাদ্য প্রস্তুত করে পাঠানোকে আমরা বিলাপের অন্তর্ভূক্ত মনে করতাম। [১৬১০]

[১৬১০] তাখরীজুল ঈমান ৯৫/১০৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৬১. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি সফররত অবস্থায় মারা গেলো ।

১৬১৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১৩


- حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُنْذِرِ الْهُذَيْلُ بْنُ الْحَكَمِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَوْتُ غُرْبَةٍ شَهَادَةٌ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সফররত অবস্থায় মৃত্যু হলো শহীদী মৃত্যু। [১৬১১]

[১৬১১] মিশকাত ১৫৯৪, যহীফাহ ৪২৫। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী জামীল ইবনুল হাসান সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি অপরিচিত। ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ২. আবুল মুনযীর হুযায়ল ইবনুল হাকাম সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক মুনকার করেন।

১৬১৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১৪


حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنِي حُيَيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْمَعَافِرِيُّ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ تُوُفِّيَ رَجُلٌ بِالْمَدِينَةِ مِمَّنْ وُلِدَ بِالْمَدِينَةِ فَصَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا لَيْتَهُ مَاتَ فِي غَيْرِ مَوْلِدِهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ النَّاسِ وَلِمَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَاتَ فِي غَيْرِ مَوْلِدِهِ قِيسَ لَهُ مِنْ مَوْلِدِهِ إِلَى مُنْقَطَعِ أَثَرِهِ فِي الْجَنَّةِ

আবদুল্লাহ্ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মদিনায় জন্মগ্রহণকারী এক ব্যাক্তি মদিনায় মারা যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযার সলাত পড়েন, অতঃপর বলেন, আহ্! এ ব্যাক্তি যদি অন্যত্র মারা যেতো! উপস্থিত লোকেদের একজন বললো, হে আল্লাহর রসূল! তা কেন? তিনি বলেনঃ কোন ব্যাক্তি তার জন্মভূমি ব্যতীত অন্যত্র মারা গেলে তার মৃত্যুর স্থান থেকে জন্মস্থান পর্যন্ত দূরত্বের পরিমাপ করে তার ততখানি স্থান তার জন্য জান্নাতে নির্ধারিত করা হয়। [১৬১২]

[১৬১২] নাসায়ী ১৮৩২ মিশকাত ১৫৯৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

৬/৬২. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত অবস্থায় মারা গেলো ।

১৬১৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১৫


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ ح و حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَطَاءٍ عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَنْ مَاتَ مَرِيضًا مَاتَ شَهِيدًا وَوُقِيَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَغُدِيَ وَرِيحَ عَلَيْهِ بِرِزْقِهِ مِنْ الْجَنَّةِ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত অবস্থায় মারা যায়, সে শাহাদাত মৃত্যু লাভ করে। কবরের বিপর্যয় হতে তাকে রক্ষা করা হয় এবং সকাল-সন্ধ্যা তার জন্য জান্নাত থেকে রিযিক সরবরাহ করা হয়। [১৬১৩]

[১৬১৩] মিশকাত ১৫৯৫, যঈফাহ ৪৬৬১। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আবু আতা সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ বলেন, তিনি সিকাহ। মালিক বিন আনাস বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি মিথ্যুক। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন বরং তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার সবগুলোতেই মিথ্যা ঢুকিয়েছেন।

৬/৬৩. অধ্যায়ঃ

মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা নিষেধ।

১৬১৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১৬


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত ব্যাক্তির হাড় ভাঙ্গা, তা তার জীবিত অবস্থায় ভাঙ্গার সমতুল্য। [১৬১৪]

[১৬১৪] আবূ দাউদ ৩২০৭, ২৩৭৮৭, ২৪১৬৫, ২৪২১৮, ২৪৮২৮, ২৫১১৭, ২৫৭৪৩ ইরওয়াহ ৭৬৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬১৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ زِيَادٍ أَخْبَرَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَمْعَةَ عَنْ أُمِّهِ عَنْ أَمِّ سَلَمَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِ عَظْمِ الْحَيِّ فِي الْإِثْمِ

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মৃত ব্যাক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিত ব্যাক্তির হাড় ভাঙ্গার মতই মারাত্মক গুনাহের কাজ। [১৬১৫]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ। গুনাহের কথা ব্যতীত সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে।

[১৬১৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ৩/২১৫। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, গুনাহের কথা ব্যতীত সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি কে? তা অজ্ঞাত।

৬/৬৪. অধ্যায়ঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (অন্তিম) রোগ।

১৬১৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১৮


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَيْ أُمَّهْ أَخْبِرِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ اشْتَكَى فَعَلَقَ يَنْفُثُ فَجَعَلْنَا نُشَبِّهُ نَفْثَهُ بِنَفْثَةِ آكِلِ الزَّبِيبِ وَكَانَ يَدُورُ عَلَى نِسَائِهِ فَلَمَّا ثَقُلَ اسْتَأْذَنَهُنَّ أَنْ يَكُونَ فِي بَيْتِ عَائِشَةَ وَأَنْ يَدُرْنَ عَلَيْهِ قَالَتْ فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ وَرِجْلَاهُ تَخُطَّانِ بِالْأَرْضِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ فَحَدَّثْتُ بِهِ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ أَتَدْرِي مَنْ الرَّجُلُ الَّذِي لَمْ تُسَمِّهِ عَائِشَةُ هُوَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ.

উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ

আমি আয়িশাহ্‌ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আম্মা! আমকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর (অন্তিম) রোগ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তিনি রোগাক্রান্ত হলে আমরা অনুভব করলাম যে, তিনি কিশমিশ ভক্ষণকারীর ন্যায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। তখনও তিনি তার স্ত্রীদের কাছে পালাক্রমে যাতায়াত করেতেন। তার রোগ বেড়ে গেলে তিনি তাদের নিকট আয়িশাহর ঘরে অবস্থান করার অনুমিত চাইলেন এবং তারা যেন পালাক্রমে তার নিকট আসেন। আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'ব্যাক্তির উপর ভর করে তার পদদয় হেচড়াতে হেচড়াতে আমার ঘরে আসেন। তাদের দু'জনের একজন ছিলেন আব্বাস (রাঃ)। আমি (উবাইদুল্লাহ) এ হাদীস ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তুমি কি জানো অপর ব্যাক্তি কে, যার নাম আয়িশাহ্‌ (রাঃ) উল্লেখ করেননি? তিনি হলেন আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ)। [১৬১৬]

[১৬১৬] সহীহুল বুখারী ১৯৮, ৬৬৪, ৬৬৫, ৬৭৯, ৬৮২, ৬৮৩, ৬৮৭, ৭১২, ৭১৩, ৭১৬, ২৫৮৮, ৩০৯৯, ৩৩৮৪, ৪৪৪২, ৫৭১৪, ৭৩০৩; মুসলিম ৪১৮;তিরমিযী ৩৬৭২;নাসায়ী ৮৩৩, ৮৩৪; আবূ দাউদ ২১৩৭; আহমাদ ২৩৫৪১, ২৫৩৪১, ২৫৩৮৬, ২৫৬০৬, মুয়াত্তা মালেক ৪১৪, দারেমী ৮২, ১৪৫৭ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৬১৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬১৯


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَعَوَّذُ بِهَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ أَذْهِبْ الْبَاسْ رَبَّ النَّاسْ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا فَلَمَّا ثَقُلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ أَخَذْتُ بِيَدِهِ فَجَعَلْتُ أَمْسَحُهُ وَأَقُولُهَا فَنَزَعَ يَدَهُ مِنْ يَدِي ثُمَّ قَالَ اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى قَالَتْ فَكَانَ هَذَا آخِرَ مَا سَمِعْتُ مِنْ كَلَامِهِ صلى الله عليه وسلم

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিন্মোক্ত বাক্যে আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ হে মানুষের প্রভু! আপনি বিপদ দূর করুন এবং রোগমুক্তি দান করুন। আপনি ব্যতীত অপর কারো রোগ মুক্তি দানের ক্ষমতা নেই। আপনি এমন নিরাময় দান করুন যার পর আর কোন রোগ থাকবে না।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অন্তিম রোগ আরো বেড়ে গেলে আমি উক্ত দুআ পড়ে তারঁ হাত ধরে তার শরীরে মলে দিতাম। তিনি তাঁর হাত আমার হাত থেকে মুক্ত করে নিলেন এবং বললেনঃ "হে আল্লাহ্‌! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে আমার পরম বন্ধুর সাথে মিলিত করুন।" আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শেষ কথা যা শুনেছি তা এই। [১৬১৭]

[১৬১৭] সহীহুল বুখারী ৪৪৩৬, ৫৬৭৪, ৫৬৭৫, মুসলিম ২১৯১, ২৪৪৪, তিরমিযী ৩৪৯৬ আহমাদ ২৩৬৫৫, ২৩৬৬২, ২৩৭১৪, ২৪২৫৩, ২৪৩১৭, ২৪৩৭০, ২৪৪১৪, ২৪৪২৫, ২৪৪৩৮, ২৪৪৭৪, ২৫২১২, ২৫৭১১, ২৫৮৩৭, ২৫৮৬৮, মুয়াত্তা মালেক ৫৬২ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬২০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২০


حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ نَبِيٍّ يَمْرَضُ إِلَّا خُيِّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ مَرَضُهُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ أَخَذَتْهُ بُحَّةٌ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنْ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ فَعَلِمْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি: যখন কোন নবী রোগাক্রান্ত হন, তখন তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্য থেকে যে কোনটি গ্রহন করার এখতিয়ার দেয়া হয়। আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেন, তিনি যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হন তখন তার থেকে উচ্চ শব্দ বের হতো। আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ "নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)গণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মপরায়ণ, যাদের প্রতি আল্লাহ্‌ অনুগ্রহ করেছেন তাদের সঙ্গে "(সূরা নিসা : ৬৯)। তখন আমি বুঝতে পারলাম, তাকেও এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। [১৬১৮]

[১৬১৮] সহীহুল বুখারী ৪৪৩৬, ৫৬৭৪, ৫৬৭৫, মুসলিম ২১৯১, ২৪৪৪, তিরমিযী ৩৪৯৬ আহমাদ ২৩৬৫৬, ২৩৬৬২, ২৩৭১৪, ২৪২৫৩, ২৪৩১৭, ২৪৩৭০, ২৪৪১৪, ২৪৪২৫, ২৪৪৩৮, ২৪৪৭৪, ২৫২১২, ২৫৭১১, ২৫৮৩৭, ২৫৮৬৮, মুয়াত্তা মালেক ৫৬২ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৬২১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২১


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ زَكَرِيَّا عَنْ فِرَاسٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اجْتَمَعْنَ نِسَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ تُغَادِرْ مِنْهُنَّ امْرَأَةٌ فَجَاءَتْ فَاطِمَةُ كَأَنَّ مِشْيَتَهَا مِشْيَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَرْحَبًا بِابْنَتِي ثُمَّ أَجْلَسَهَا عَنْ شِمَالِهِ ثُمَّ إِنَّهُ أَسَرَّ إِلَيْهَا حَدِيثًا فَبَكَتْ فَاطِمَةُ ثُمَّ إِنَّهُ سَارَّهَا فَضَحِكَتْ أَيْضًا فَقُلْتُ لَهَا مَا يُبْكِيكِ قَالَتْ مَا كُنْتُ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ فَرَحًا أَقْرَبَ مِنْ حُزْنٍ فَقُلْتُ لَهَا حِينَ بَكَتْ أَخَصَّكِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِحَدِيثٍ دُونَنَا ثُمَّ تَبْكِينَ وَسَأَلْتُهَا عَمَّا قَالَ فَقَالَتْ مَا كُنْتُ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا قُبِضَ سَأَلْتُهَا عَمَّا قَالَ فَقَالَتْ إِنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُنِي أَنَّ جِبْرَائِيلَ كَانَ يُعَارِضُهُ بِالْقُرْآنِ فِي كُلِّ عَامٍ مَرَّةً وَأَنَّهُ عَارَضَهُ بِهِ الْعَامَ مَرَّتَيْنِ وَلَا أُرَانِي إِلَّا قَدْ حَضَرَ أَجَلِي وَأَنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِي لُحُوقًا بِي وَنِعْمَ السَّلَفُ أَنَا لَكِ فَبَكَيْتُ ثُمَّ إِنَّهُ سَارَّنِي فَقَالَ أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ نِسَاءِ هَذِهِ الْأُمَّةِ فَضَحِكْتُ لِذَلِكَ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রীগণ সকলে একত্র হলেন, তাদের একজন ও বাদ ছিলেন না। এরপর ফাতিমাহ (রাঃ) আসলেন। আর তার হাঁটাচলার ধরন ছিল যেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুরূপ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ খোশ আমদেদ হে আমার প্রিয় কন্যা। তিনি তাকে নিজের বাম পাশে বসান, অতঃপর তার সাথে চুপেচুপে কিছু কথা বলেন। এতে ফাতিমাহ (রাঃ) কাঁদেন। তিনি পুনরায় তার সাথে গোপনে কিছু কথা বলেন। এতে তিনি হাসেন। পরে আমি ফাতিমাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কেন কাঁদলে? তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গোপন তথ্য প্রকাশ করবো না। আমি বললাম, দুশ্চিন্তার পরে আজকের মত খুশি আমি আর কখনো দেখিনি। তার কাঁদার সময় আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আমাদের বাদ দিয়ে তোমার সঙ্গে বিশেষ কোন আলাপ করেছেন, তারপর তুমি কাঁদলে? আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সঙ্গে যে বিষয়ে আলাপ করেছিলেন, আমি পুনরায় তা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর গোপন তথ্য ফাস করবো নাহ। তিনি [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] ইনতিকাল করার পর আমি ফাতিমাহ (রাঃ)-কে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন, জিবরাঈল (আঃ) প্রতি বছর আমাকে একবার কুরআন পড়ে শুনাতেন। এ বছর তিনি আমাকে দু'বার পড়ে শুনিয়েছেন। মনে হয় আমার মৃত্যু নিকটবর্তী হয়েছে। তুমিই আমার পরিবারের মধ্যে সবার আগে আমার সঙ্গে মিলিত হবে। আমি তোমার জন্য কত উত্তম পূর্বসূরি। এ কথায় আমি কাঁদলাম। এরপর তিনি আমাকে গোপনে বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি মু'মিন নারীদের বা এ উম্মাতের নেত্রী হবে? এতে আমি হেসেছি। [১৬১৯]

[১৬১৯] সহীহুল বুখারী ৩৬২৪, মুসলিম ২৪৫০, তিরমিযী ৩৮৭২, আহমাদ ২৩৯৬২, ২৫৫০১, ২৫৮৭৪ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬২২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشَدَّ عَلَيْهِ الْوَجَعُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم

মাসরূক থেকে বর্ণিতঃ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চাইতে আর কারো অত কঠিন মৃত্যুযন্ত্রণা দেখিনি। [১৬২০]

[১৬২০] সহীহুল বুখারী ৫৬৪৬, মুসলিম ২৫৭০, তিরমিযী ২৩৯৭ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

১৬২৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مُوسَى بْنِ سَرْجِسَ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَمُوتُ وَعِنْدَهُ قَدَحٌ فِيهِ مَاءٌ فَيُدْخِلُ يَدَهُ فِي الْقَدَحِ ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ يَقُولُ اللّٰهُمَّ أَعِنِّي عَلَى سَكَرَاتِ الْمَوْتِ

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুমূর্ষু অবস্থায় দেখলাম যে, তিনি তার নিকটস্থ পানির পাত্রে তার হাত ডুবিয়ে পানি নিয়ে তা তার মুখমণ্ডলে মলছেন, অতঃপর বলেন, "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মৃত্যুযন্ত্রণায় সাহায্য করুন। [১৬২১]

[১৬২১] তিরমিযী ৯৭৮, আহমাদ ২৩৮৩৫, ২৩৮৯৫, ২৩৯৬০, ২৪৬৫০ মিশকাত ১৫৬৪। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন সারজিন সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, তিনি অপরিচিত।

১৬২৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২৪


حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ آخِرُ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَشْفُ السِّتَارَةِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ فَنَظَرْتُ إِلَى وَجْهِهِ كَأَنَّهُ وَرَقَةُ مُصْحَفٍ وَالنَّاسُ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ فِي الصَّلَاةِ فَأَرَادَ أَنْ يَتَحَرَّكَ فَأَشَارَ إِلَيْهِ أَنْ اثْبُتْ وَأَلْقَى السِّجْفَ وَمَاتَ مِنْ آخِرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি সোমবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শেষবারের মত দেখেছি, যখন তিনি (জানালার) পর্দা সরালেন। আমি তার মুখমণ্ডলের দিকে তাকালাম, যেন কুর'আনের একটি পৃষ্ঠা। তখন লোকজন আবূ বকর (রাঃ) এর পিছনে সালারত ছিল। আবূ বকর (রাঃ) তার স্থান ত্যাগ করতে চাইলে, তিনি তাকে ইশারায় স্বস্থানে স্থির থাকতে বলেন এবং পর্দা নামিয়ে দেন। এ দিনের শেষ ভাগে তিনি ইন্তেকাল করেন। [১৬২২]

[১৬২২] মুসলিম ৪১৯, নাসায়ী ১৮৩১ খতাসার শামায়িল ৩২২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬২৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২৫


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ عَنْ سَفِينَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ الصَّلَاةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَمَا زَالَ يَقُولُهَا حَتَّى مَا يَفِيضُ بِهَا لِسَانُهُ

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যু ব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায় বলেছিলেনঃ "সলাত এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসী"। বারবার একথা বলতে বলতে শেষে তার জবান মুবারক জড়িয়ে যায়। [১৬২৩]

[১৬২৩] ইরওয়াহ ৭/২৩৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬২৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ قَالَ ذَكَرُوا عِنْدَ عَائِشَةَ أَنَّ عَلِيًّا كَانَ وَصِيًّا فَقَالَتْ مَتَى أَوْصَى إِلَيْهِ فَلَقَدْ كُنْتُ مُسْنِدَتَهُ إِلَى صَدْرِي أَوْ إِلَى حَجْرِي فَدَعَا بِطَسْتٍ فَلَقَدْ انْخَنَثَ فِي حِجْرِي فَمَاتَ وَمَا شَعَرْتُ بِهِ فَمَتَى أَوْصَى صلى الله عليه وسلم

আসওয়াদ থেকে বর্ণিতঃ

লোকেরা আয়িশাহ্‌ (রাঃ) এর নিকট উল্লেখ করে যে, আলী (রাঃ) ছিলেন (মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর) ওসী (প্রতিদিন)। আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেন, মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখন তাকে ওসী নিয়োগ করলেন? অবশ্যই আমি তাকে আমার বুকের সাথে বা কোলে হেলান দিয়ে রেখেছিলাম। তিনি একটি পাত্র চাইলেন। তিনি আমার কোলেই ঢলে পড়ে ইন্তেকাল করলেন। আমি তা বুঝতেই পারলাম না। তবে তিনি আবার কখন ওসিয়াত করলেন। [১৬২৪]

[১৬২৪] সহীহুল বুখারী ২৭৪১, ৪৪৫৯, মুসলিম ১৬৩৬, নাসায়ী ৩৩, ১৮৩০, ৩৬২৪, আহমাদ ২৩৫১৯ মুখতাসার শামায়িল ৩২৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

৬/৬৫. অধ্যায়ঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইনতিকাল ও তার কাফন-দাফন।

১৬২৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২৭


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ عِنْدَ امْرَأَتِهِ ابْنَةِ خَارِجَةَ بِالْعَوَالِي فَجَعَلُوا يَقُولُونَ لَمْ يَمُتْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا هُوَ بَعْضُ مَا كَانَ يَأْخُذُهُ عِنْدَ الْوَحْيِ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ وَقَبَّلَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَقَالَ «أَنْتَ أَكْرَمُ عَلَى اللهِ مِنْ أَنْ يُمِيتَكَ مَرَّتَيْنِ قَدْ وَاللهِ مَاتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَعُمَرُ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ يَقُولُ وَاللهِ مَا مَاتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَلَا يَمُوتُ حَتَّى يَقْطَعَ أَيْدِيَ أُنَاسٍ مِنْ الْمُنَافِقِينَ كَثِيرٍ وَأَرْجُلَهُمْ فَقَامَ أَبُو بَكْرٍ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللهَ فَإِنَّ اللهَ حَيٌّ لَمْ يَمُتْ وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِينَ}» قَالَ عُمَرُ فَلَكَأَنِّي لَمْ أَقْرَأْهَا إِلَّا يَوْمَئِذٍ.

আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইনতিকাল করেন তখন আবূ বকর (রাঃ) আওয়ালী নামক স্থানে তার স্ত্রী বিনতে খারিজার ঘরে ছিলেন। লোকজন বলতে লাগলো, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইনতিকাল করেননি, বরং ওহী নাযিলের সময় তার যে অবস্থা হতো, এটা তাই। ইতোমধ্যে আবূ বকর (রাঃ) এসে তার মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে তার দু'চোখের মাঝখানে চুমু দিয়ে বলেন, আপনি দ্বিতীয়বার মারা যাবেন না। আপনি আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। আল্লাহ্‌র শপথ! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই ইনতিকাল করেছেন। উমার (রাঃ) তখন মসজিদের এক কোণ থেকে বলছিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইনতিকাল করেন নি। আর তিনি ব্যাপক ভাবে মুনাফিকদের শক্তি খর্ব না করা পর্যন্ত ইনতিকাল করবেন না। তখন আবূ বকর (রাঃ) মিম্বারে উঠে দাড়িয়ে বলেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহ ইবাদাত করতো সে যেন মনে রাখে, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখন মরবেন না। আর যে ব্যাক্তি মুহাম্মাদের ইবাদাত করতো সে জেনে রাখুক, মুহাম্মাদ তো ইনতিকাল করেছেন। "মুহাম্মাদ একজন রসূল মাত্র, তার পূর্বে অনেক রসূল গত হয়েছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে শহীদ হয়, তবে কি তোমরা পৃষ্ঠা প্রদর্শন করবে? কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহ্‌র ক্ষতি করতে পারবে না, বরং আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের পুরষ্কৃত করবেন" (সূরা আল ইমরান:১৪৪)। উমার (রাঃ) বলেন, আমার মনে হলো, আমি যেন এ আয়াত আজই পড়ছি। [১৬২৫]

[১৬২৫] সহীহুল বুখারী ১২৪২, ৩৬৭০, ৪৪৫৪, ৪৪৫৭, ৫৭১২, নাসায়ী ১৮৩৯, ১৮৪০, ১৮৪১, আহমাদ ২৪৩৪২, ২৭৮০৭ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুর রহমান বিন আবু বকর সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল ও ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইবনু খিরাশ তাকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার থেকে বর্ণিত একাধিক দুর্বল হাদিস রয়েছে।

১৬২৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২৮


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ أَنْبَأَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي حُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا أَرَادُوا أَنْ يَحْفِرُوا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثُوا إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ وَكَانَ يَضْرَحُ كَضَرِيحِ أَهْلِ مَكَّةَ وَبَعَثُوا إِلَى أَبِي طَلْحَةَ وَكَانَ هُوَ الَّذِي يَحْفِرُ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَكَانَ يَلْحَدُ فَبَعَثُوا إِلَيْهِمَا رَسُولَيْنِ وَقَالُوا اللّٰهُمَّ خِرْ لِرَسُولِكَ فَوَجَدُوا أَبَا طَلْحَةَ فَجِيءَ بِهِ وَلَمْ يُوجَدْ أَبُو عُبَيْدَةَ فَلَحَدَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَلَمَّا فَرَغُوا مِنْ جِهَازِهِ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ وُضِعَ عَلَى سَرِيرِهِ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ دَخَلَ النَّاسُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَالًا يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى إِذَا فَرَغُوا أَدْخَلُوا النِّسَاءَ حَتَّى إِذَا فَرَغُوا أَدْخَلُوا الصِّبْيَانَ وَلَمْ يَؤُمَّ النَّاسَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحَدٌ لَقَدْ اخْتَلَفَ الْمُسْلِمُونَ فِي الْمَكَانِ الَّذِي يُحْفَرُ لَهُ فَقَالَ قَائِلُونَ يُدْفَنُ فِي مَسْجِدِهِ وَقَالَ قَائِلُونَ يُدْفَنُ مَعَ أَصْحَابِهِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «مَا قُبِضَ نَبِيٌّ إِلَّا دُفِنَ حَيْثُ يُقْبَضُ قَالَ فَرَفَعُوا فِرَاشَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي تُوُفِّيَ عَلَيْهِ فَحَفَرُوا لَهُ ثُمَّ دُفِنَ صلى الله عليه وسلم وَسَطَ اللَّيْلِ مِنْ لَيْلَةِ الْأَرْبِعَاءِ وَنَزَلَ فِي حُفْرَتِهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَالْفَضْلُ بْنُ الْعَبَّاسِ وَقُثَمُ أَخُوهُ وَشُقْرَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَوْسُ بْنُ خَوْلِيٍّ وَهُوَ أَبُو لَيْلَى لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنْشُدُكَ اللهَ وَحَظَّنَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ عَلِيٌّ انْزِلْ وَكَانَ شُقْرَانُ مَوْلَاهُ أَخَذَ قَطِيفَةً كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُهَا فَدَفَنَهَا فِي الْقَبْرِ وَقَالَ وَاللهِ لَا يَلْبَسُهَا أَحَدٌ بَعْدَكَ أَبَدًا فَدُفِنَتْ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم».

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সাহাবায়ে কিরাম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কবর খননে সিদ্ধান্ত নিলে, তারা আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাঃ) এর নিকট খবর পাঠান। তিনি মাক্কাহবাসীদের কবর খননের ন্যায় কবর খনন করতেন। তারা আবূ তালহা (রাঃ) এর নিকট ও খবর পাঠান। তিনি মদীনাবাসীদের জন্যে লাহাদ আকৃতির কবর খনন করতেন। তারা তাদের উভয়ের নিকট দু'জন লোক পাঠান। তারা বলেন, হে আল্লাহ! আপনার রসূলের জন্যে আপনি পছন্দ করুন। তারা আবু তালহা (রাঃ) কে পেয়ে গেলেন এবং তাকে নিয়ে আসা হলো, কিন্তু আবু উবাইদাহ (রাঃ) কে পাওয়া গেলো না। অতএব আবূ তালহা (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্যে লাহদ কবর খনন করেন। রাবী বলেন, মঙ্গলবার তারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাফনের কাজ সম্পন্ন করলে তাকে তার ঘরে খাটের উপর রাখা হয়। এরপর লোকজন দলে দলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট প্রবেশ করেন এবং তার জন্য দুআ করেন। পুরুষদের পালা শেষ হলে মহিলারা প্রবেশ করেন। তাদের পালা শেষ হলে বালকরা প্রবেশ করে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জানাযায় কেউ ইমামতি করেননি। তাঁর করব কোথায় খনন করা হবে, এ নিয়ে একদল বলেন, তাকে তার মসজিদে দাফন করা হবে। অপরদল বলেন, তাকে তার সহাবীদের সাথে (একই গোরস্থানে) দাফন করা হবে। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যে স্থানে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইনতিকাল করেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। রাবী বলেন, যে বিছানায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইনতিকাল করেন, তারা তা সরিয়ে নেন এবং তাঁর জন্য সেখানে কবর খনন করেন। অতঃপর তাকে বুধবার মধ্য রাতে দাফন করা হয়। আলী বিন আবূ তালিব, ফাদল বিন আব্বাস, তার ভাই কুসাম এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তাদাস শুক্‌রান (রাঃ) তাঁর কবরে নামেন। আবূ লায়লা আওস বিন খাওলী (রাঃ) আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) কে বলেন, আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপারে আমাদেরও অংশ রয়েছে। আলী (রাঃ) তাকে বলেন তুমি ও নামো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তদাস শুক্‌রান রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিহিত চাঁদরটি সাথে নিয়েছিলেন। তিনি তাও কবরে দাফন করেন এবং বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আপনার পরে তা আর কেউ কখনো পরবে না। অতএব তা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে দাফন করা হয়। [১৬২৬]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ, কিন্তু শাক্ক ও লাহাদ কবরের ঘটনা প্রমাণিত; এমনিভাবে যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-গণ ইনতিকাল করেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয় এটা প্রমাণিত।

[১৬২৬] আহমাদ ৪০ তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, কিন্তু শাক্ক ও লাহাদ কবরের ঘটনা প্রমাণিত; এমনিভাবে যেখানে নাবী (আঃ)--গণ ইনতিকাল করেন সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয় এটা প্রমাণিত। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। ২. হুসায়ন বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাকে মুনকার বলেছেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, আমি তার হাদিস বর্জন করেছে। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল তার থেকে হাদিস গ্রহন করলেও তা দলীলযোগ্য নায়।

১৬২৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬২৯


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ أَبُو الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا وَجَدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مِنْ كَرْبِ الْمَوْتِ مَا وَجَدَ قَالَتْ فَاطِمَةُ وَا كَرْبَ أَبَتَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَا كَرْبَ عَلَى أَبِيكِ بَعْدَ الْيَوْمِ إِنَّهُ قَدْ حَضَرَ مِنْ أَبِيكِ مَا لَيْسَ بِتَارِكٍ مِنْهُ أَحَدًا الْمُوَافَاةُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মৃত্যু যন্ত্রণা তীব্রভাবে অনুভব করেন, তখন ফাতিমাহ (রাঃ) বলেন, হায় আমার আব্বার কত কষ্ট। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আজকের দিনের পরে তোমার আব্বার আর কোন কষ্ট থাকবে নাহ। তোমার আব্বার নিকট এমন জিনিস উপস্থিত হয়েছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত কাউকে ছাড়বে না। [১৬২৭]

[১৬২৭] সহীহুল বুখারী ৪৪৬২, আহমাদ ১৬০২৬, সহীহাহ ১৬৩৮, মুখতাসার শামাযিল ৩৩৪, বুখারী শেষ বাক্য বাদ দিয়ে। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।

১৬৩০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩০


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنِي حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنِي ثَابِتٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَتْ لِي فَاطِمَةُ يَا أَنَسُ كَيْفَ سَخَتْ أَنْفُسُكُمْ أَنْ تَحْثُوا التُّرَابَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم

و حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ فَاطِمَةَ قَالَتْ حِينَ قُبِضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَا أَبَتَاهُ إِلَى جِبْرَائِيلَ أَنْعَاهُ وَا أَبَتَاهُ مِنْ رَبِّهِ مَا أَدْنَاهُ وَا أَبَتَاهُ جَنَّةُ الْفِرْدَوْسِ مَأْوَاهُ وَا أَبَتَاهُ أَجَابَ رَبًّا دَعَاهُ.
قَالَ حَمَّادٌ فَرَأَيْتُ ثَابِتًا حِينَ حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ بَكَى حَتَّى رَأَيْتُ أَضْلَاعَهُ تَخْتَلِفُ.

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ফাতিমাহ (রাঃ) আমাকে বললেন, হে আনাস! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর মাটি ঢেলে দিতে তোমাদের অন্তরাত্মা কিভাবে সায় দিতে পারলো।

৪/১৬৩০(১). আনাস (রাঃ), রসূলুল্লাহ (রাঃ) ইনতিকাল করলে ফাতিমাহ (রাঃ) বলেন, হায় আমার আব্বা! জিবরাঈল (আঃ) তার থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। হায় আমার আব্বা! তিনি তার রবের নিকটবর্তী হলেন। হায় আব্বা! জান্নাতুল ফিরদাওস তাঁর ঠিকানা। হায় আব্বা! তিনি তার রবের ডাকে সাড়া দিলেন। হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমি সাবিত (রহঃ) কে এ হাদীস বর্ণনা কালে দেখলাম যে, তিনি কাঁদছেন, এমনকি তার হাড়ের জোড়াগুলোও কাঁপছে। [১৬২৮]

[১৬২৮] সহীহুল বুখারী ৪৪৬২, নাসায়ী ১৮৪৪, আহমাদ ১২০২৬, ১২৬১৯, দারেমী ৮৭

১৬৩১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩১


- حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلَالٍ الصَّوَّافُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي دَخَلَ فِيهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ أَضَاءَ مِنْهَا كُلُّ شَيْءٍ فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ أَظْلَمَ مِنْهَا كُلُّ شَيْءٍ وَمَا نَفَضْنَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْأَيْدِيَ حَتَّى أَنْكَرْنَا قُلُوبَنَا

সাবিত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেদিন মদিনায় উপনীত হন, তখন মাদীনাহ্‌র প্রতিটি বস্তু জ্যোতির্ময় হয়ে উঠে। আর যেদিইন তিনি ইন্তেকাল করেন, সেদিন মাদীনাহ্‌র প্রতিটি বস্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। [১৬২৯ ]

[১৬২৯] তিরমিযী ৩৬১৮, আহমাদ ১২৮৯৯, দারেমী ৮৮ তাহকীক আলবানীঃ মিশকাত ৫৯৬২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৩২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا نَتَّقِي الْكَلَامَ وَالِانْبِسَاطَ إِلَى نِسَائِنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَخَافَةَ أَنْ يُنْزَلَ فِينَا الْقُرْآنُ فَلَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم تَكَلَّمْنَا

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যমানায় আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে খোশালাপ করতে এবং মেলামেশা করতে এজন্য ভয় পেতাম যে, না জানি আমাদের সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকালের পর থেকে আমরা তাদের সাথে খোলামেলাভাবে কথাবার্তা বলতে শুরু করি [ ১৬৩০]

[১৬৩০] সহীহুল বুখারী ৫১৮৭, আহমাদ ৫২৬২ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

১৬৩৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩৩


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْعِجْلِيُّ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا وَجْهُنَا وَاحِدٌ فَلَمَّا قُبِضَ نَظَرْنَا هَكَذَا وَهَكَذَا

উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে থাকা আবস্থায় আমাদের দৃষ্টি ছিলো একই দিকে (তার দিকে)। তাঁর ইন্তিকালের পর আমরা (আস্থির হয়ে) এদিক সেদিক দৃষ্টি দিতে লাগলাম (এখন কী করবো) [১৬৩১]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ, হাসান বাসরীর আনআনাহ বর্ণনা করার কারণে।

[১৬৩১] তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, হাসান বাসরীর আনআনাহ বর্ণনা করার কারণে। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল ওয়াহহাব বিন আতা আল-ইজলী সম্পর্কে সালিহ জাযারাহ তাকে সিকাহ বললেও ইমাম বুখারী বলেন, হাদিস বিশারদগণ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি গায়র সিকাহ।

১৬৩৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩৪


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا خَالِي مُحَمَّدُ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيُّ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيُّ حَدَّثَنِي مُصْعَبُ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ بِنْتِ أَبِي أُمَيَّةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ النَّاسُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ الْمُصَلِّي يُصَلِّي لَمْ يَعْدُ بَصَرُ أَحَدِهِمْ مَوْضِعَ قَدَمَيْهِ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَكَانَ النَّاسُ إِذَا قَامَ أَحَدُهُمْ يُصَلِّي لَمْ يَعْدُ بَصَرُ أَحَدِهِمْ مَوْضِعَ جَبِينِهِ فَتُوُفِّيَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ عُمَرُ فَكَانَ النَّاسُ إِذَا قَامَ أَحَدُهُمْ يُصَلِّي لَمْ يَعْدُ بَصَرُ أَحَدِهِمْ مَوْضِعَ الْقِبْلَةِ وَكَانَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَكَانَتْ الْفِتْنَةُ فَتَلَفَّتَ النَّاسُ يَمِينًا وَشِمَالًا

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ বিন আবূ উমাইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যমানায় লোকেদের অবস্থা এরূ ছিলো যে, সলাতী যখন সলাতে দাঁড়াতেন, তখন তাদের কারো দৃষ্টি তার পদদয়ের স্থান অতিক্রম করতো না। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইনতিকাল করার পর মানুষের অবস্থা এরূপ হয় যে, যখন তাদের কেউ সলাতে দাঁড়াতেন তখন তার দৃষ্টি সাজদাহর স্থান অতিক্রম করতো না। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) ইনতিকাল করেন এবং উমার (রাঃ) খলীফা হন। তখন লোকেদের অবস্থা এরূপ হলো যে, তাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াতেন তখন তার দৃষ্টি কিবলার দিক অতিক্রম করতো না। উসমান বিন আফফান (রাঃ) খলীফা হওয়ার পর থেকে বিশৃংখলার সূত্রপাত হয়। অতএব লোকজন (সলাতরত অবস্থায়) ডানে-বামে তাকাতে থাকে। [১৬৩২]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ। উক্ত হাদীসের রাবী মূসা বিন আবদুল্লাহ বিন আবূ উমায়্যাহ আল-মাখযূমী সম্পর্কে হাদীস বিশারদগণ বলেন, তিনি অপরিচিত।

[১৬৩২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তা’লীকুর রগীব ১/১৯২। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন আবদুল্লাহ বিন আবু উমায়্যাহ আল-মাখযুমী সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেন, তিনি অপরিচিত।

১৬৩৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩৫


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلَّالُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِعُمَرَ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أُمِّ أَيْمَنَ نَزُورُهَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَزُورُهَا قَالَ فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهَا بَكَتْ فَقَالَا لَهَا مَا يُبْكِيكِ فَمَا عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ قَالَتْ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّ مَا عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ وَلَكِنْ أَبْكِي أَنَّ الْوَحْيَ قَدْ انْقَطَعَ مِنْ السَّمَاءِ قَالَ فَهَيَّجَتْهُمَا عَلَى الْبُكَاءِ فَجَعَلَا يَبْكِيَانِ مَعَهَا

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ইনতিকালের পর আবূ বকর (রাঃ) উমার (রাঃ)-কে বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন উম্মু আয়মানের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যেতেন, চলুন আমরাও তেমন তার সাথে দেখা করতে যাই। তিনি বলেন, আমরা তার নিকট গিয়ে উপস্থিত হলে তিনি কাঁদতে থাকেন। তারা দু’জন তাকে বলেন, আপনি কাঁদছেন কেন! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন আল্লাহর নিকট যা আছে তা তাঁর জন্য কল্যাণকর। কিন্তু আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান থেকে ওহী নাযিল হওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। রাবী বলেন, তার এ কথা তাদেরকে উভয়কে কাঁদতে উদ্বুদ্ধ করলো এবং তারাও তার সাখে কাঁদতে লাগলেন। [১৬৩৩]

[১৬৩৩] মুসলিম ২৪৫৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ

১৬৩৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩৬


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ يَعْنِي بَلِيتَ قَالَ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ

আওস বিন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এদিনই শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এদিনই কিয়ামাত সংঘটিত হবে। অতএব তোমরা এদিন আমার প্রতি অধিক সংখ্যায় দুরূদ ও সালাম পেশ করো। কেননা তোমাদের দুরূদ আমার সামনে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের দুরূদ আপনার নিকট কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো মাটির সাথে মিশে যাবেন? তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)গণের দেহ ভক্ষণ যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। [১৬৩৪]

[১৬৩৪] নাসায়ী ১৩৭৪, আবূ দাউদ ১০৪৭, ১৫৩১, আহমাদ ১৫৭২৯, দারেমী ১৫৭২ তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্।

১৬৩৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : জানাযাহ

হাদীস নং : ১৬৩৭


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْمِصْرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَيْمَنَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَكْثِرُوا الصَّلَاةَ عَلَيَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَإِنَّهُ مَشْهُودٌ تَشْهَدُهُ الْمَلَائِكَةُ وَإِنَّ أَحَدًا لَنْ يُصَلِّيَ عَلَيَّ إِلَّا عُرِضَتْ عَلَيَّ صَلَاتُهُ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْهَا قَالَ قُلْتُ وَبَعْدَ الْمَوْتِ قَالَ وَبَعْدَ الْمَوْتِ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ فَنَبِيُّ اللهِ حَيٌّ يُرْزَقُ

আবূ-দারদা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা জুমুআহ্‌র দিন আমার উপর অধিক দুরূদ পাঠ করবে। কেননা তা আমার নিকট পৌঁছানো হয়, ফেরেশতাগন তা পৌঁছে দেন। যে ব্যক্তিই আমার উপর দুরূদ পাঠ করে তা থেকে সে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তা আমার নিকট পৌঁছতে থাকে। রাবী বলেন, আমি বললাম, (আপনার) ইনতিকালের পরেও? তিনি বলেন, হাঁ, ইনতিকালের পরেও। আল্লাহ তা’আলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)গণের দেহ ভক্ষণ যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবিত এবং তাঁকে রিযিক দেয়া হয়। [১৬৩৫]

[১৬৩৫] মিশকাত ১৩৬৬, ইরওয়াহ ১/৩৫। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ, কিন্তু সহীহের প্রভাবিত।