All books

সুনানে ইবনে মাজাহ (০ টি হাদীস)

ভূমিকা ১ - ২৬৬

১৩. অধ্যায়ঃ

উসমান (রাঃ)-এর সম্মান

১০৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ১০৯


‏حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي عُثْمَانُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لِكُلِّ نَبِيٍّ رَفِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَرَفِيقِي فِيهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ ‏"‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জান্নাতে প্রত্যেক নবীর একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে। সেখানে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হবে উসমান বিন আফফান। [১০৭]

[১০৭] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর যঈফ, যঈফা ২২৯২ যঈফ, যিলালিল জান্নাহ ১২৮৯। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু উসমান বিন খালিদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলে তিনি দুর্বল। তার অনেক মুনকার হাদিস রয়েছে। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আস সাজী বলেন, তার নিকট তার বর্ণিত একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনু আদী বলেন তার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আল উকাইলী বলেন, হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। হাকীম আবু আব্দুল্লাহ ও আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি মালিক ও অন্যদের সুত্রে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। ইবনু হিব্বান বলেন তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। হাফিয বলেন সে হাদিস বর্ণনায় মাতরুক। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু যিনাদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আল আজালী বলেন তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদীস।

১১০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ১১০


حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي عُثْمَانُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَقِيَ عُثْمَانَ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ ‏ "‏ يَا عُثْمَانُ هَذَا جِبْرِيلُ أَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ قَدْ زَوَّجَكَ أُمَّ كُلْثُومٍ بِمِثْلِ صَدَاقِ رُقَيَّةَ عَلَى مِثْلِ صُحْبَتِهَا ‏"‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদের দরজায় উসমান (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ পেয়ে বলেন, হে উসমান! এই যে, জিবরীল (আঃ)। তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তোমার সাথে উম্মু কুলসুমের বিবাহ দিয়েছেন এবং তার মোহরও রুকাইয়ার মোহরের সমান। [১০৮]

[১০৮] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: তিরমিযী ৩৩৭৯ সহীহ, যঈফাহ ৪৮২৪। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু উসমান বিন খালীদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি দুর্বল, তার অনেক মুনকার হাদিস বর্ণনা আছে। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন মুনকারুল হাদীস। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আস-সাজী বলেন, তার নিকট তার বর্ণিত একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনু আদী বলেন, তার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আল-উকায়লী বলেন, হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। হাকীম আবু আব্দুল্লাহ ও আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি মালিক ও অন্যদের সুত্রে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। ইবনু হিব্বান বলেন তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। হাফিয বলেন সে হাদিস বর্ণনায় মাতরুক। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু যিনাদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আল আজালী বলেন তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদীস।

১১১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ১১১


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِتْنَةً فَقَرَّبَهَا فَمَرَّ رَجُلٌ مُقَنَّعٌ رَأْسُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ هَذَا يَوْمَئِذٍ عَلَى الْهُدَى ‏"‏ ‏.‏ فَوَثَبْتُ فَأَخَذْتُ بِضَبْعَىْ عُثْمَانَ ثُمَّ اسْتَقْبَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقُلْتُ هَذَا قَالَ ‏"‏ هَذَا ‏"‏ ‏.‏

কা’ব বিন উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অচিরেই সংঘটিতব্য একটি বিপর্যয়ের উল্লেখ করেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি মাথা নিচু করে চলে গেল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তখন এ ব্যক্তি সৎপথে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আমি দ্রুত হেঁটে গিয়ে তার দু কাঁধে হাত রাখতেই দেখলাম যে, তিনি উসমান (রাঃ)। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে বললাম, ইনি কি সেই ব্যক্তি? তিনি বলেন, ইনিই সেই ব্যক্তি। [১০৯]

[১০৯] তিরমিযী ৩৭০৪ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৬৭।

১১২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ১১২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَا عُثْمَانُ إِنْ وَلاَّكَ اللَّهُ هَذَا الأَمْرَ يَوْمًا فَأَرَادَكَ الْمُنَافِقُونَ أَنْ تَخْلَعَ قَمِيصَكَ الَّذِي قَمَّصَكَ اللَّهُ فَلاَ تَخْلَعْهُ ‏"‏ ‏.‏ يَقُولُ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.‏ قَالَ النُّعْمَانُ فَقُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا مَنَعَكِ أَنْ تُعْلِمِي النَّاسَ بِهَذَا قَالَتْ أُنْسِيتُهُ وَاللَّهِ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে উসমান! তোমাকে আল্লাহ্‌ তা’আলা একদিন এক কাজের (খিলাফতের) দায়িত্বশীল করবেন। মুনাফিকরা ষড়যন্ত্র করে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত তোমার এই জামা (খিলাফতের দায়িত্ব) তোমার থেকে খুলে ফেলতে চাইবে। তুমি কখনও তা খুলবে না। তিনি এ কথা তিনবার বলেন। নুমান (রহঃ) বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাস করলাম, (বিদ্রোহ চলাকালে) জনসম্মুখে এ হাদীস বর্ণনা করতে আপনাকে কিসে বিরত রেখেছে? তিনি বলেন, আমি ভুলে গিয়েছিলাম। [১১০]

[১১০] তিরমিযী ৩৭০৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৬৮। উক্ত হাদিসের রাবী ফারাজ বিন ফাদালাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল। আলী ইবনুল মাদিনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বলেন, মুনকারুল হাদীস। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ।

১১৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ১১৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي مَرَضِهِ ‏"‏ وَدِدْتُ أَنَّ عِنْدِي بَعْضَ أَصْحَابِي ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَدْعُو لَكَ أَبَا بَكْرٍ فَسَكَتَ قُلْنَا أَلاَ نَدْعُو لَكَ عُمَرَ فَسَكَتَ قُلْنَا أَلاَ نَدْعُو لَكَ عُثْمَانَ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏ فَجَاءَ عُثْمَانُ فَخَلاَ بِهِ فَجَعَلَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُكَلِّمُهُ وَوَجْهُ عُثْمَانَ يَتَغَيَّرُ ‏.‏ قَالَ قَيْسٌ فَحَدَّثَنِي أَبُو سَهْلَةَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَالَ يَوْمَ الدَّارِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَهِدَ إِلَىَّ عَهْدًا وَأَنَا صَائِرٌ إِلَيْهِ ‏.‏ وَقَالَ عَلِيٌّ فِي حَدِيثِهِ وَأَنَا صَابِرٌ عَلَيْهِ ‏.‏ قَالَ قَيْسٌ فَكَانُوا يُرَوْنَهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রোগশয্যায় বললেনঃ আমি আশা করি যে, এ সময় আমার কোন সহাবী আমার নিকট উপস্থিত থাকুক। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা কি আপনার কাছে আবু বাক্‌রকে ডেকে আনবো? তিনি নীরব থাকলেন। আমরা বললাম, আমরা কি আপনার কাছে উমারকে ডেকে আনবো? তিনি এবারও নীরব থাকলেন। আমরা বললাম, আমরা কি আপনার নিকট উসমানকে ডেকে আনবো? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর উসমান (রাঃ) এলেন। তিনি তার সাথে একান্তে আলাপ-আলোচনা করেন। উসমান (রাঃ)-এর চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। কায়স (রহঃ) বলেন, আমার নিকট উসমানের মুক্ত দাস আবু সাহলাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, উসমান বিন আফফান (রাঃ) নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকাকালে বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার থেকে একটি অঙ্গীকার নিয়েছেন, আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করবো। আলী বিন মুহাম্মাদ (রহঃ) তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, উসমান (রাঃ) বলেছেন, আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করবো। কায়স (রহঃ) বলেন, সহাবীদের মতে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে এটাই ছিল তাঁর একান্ত আলাপ। [১১১]

[১১১] আহমাদ ২৫২৬৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৭০।