All books

সুনানে ইবনে মাজাহ (০ টি হাদীস)

ভূমিকা ১ - ২৬৬

৯. অধ্যায়ঃ

ঈমানের বিবরণ

৫৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫৭


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ أَوْ سَبْعُونَ بَابًا أَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ঈমানের ষাট বা সত্তরের অধিক স্তর আছে। তার সাধারন বা নিম্নতর স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। সর্বোচ্চ স্তর হলো কালিমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু (আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নাই) বলা এবং লজ্জাশীলতাও ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। [৫৭]

[৫৭] বুখারী ৯, মুসলিম ৩৫/১-২, তিরমিযী ২৬১৪, নাসায়ী ৫০০৪-৬, আবূ দাঊদ ৪৬৭৬, আহমাদ ৭০৯৭, ৯৪১৭। তাহক্বীক্ব আলবানীঃ সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১৭৬৯, ইবনু আবী শাইরাহ ২১/৬৭। উক্ত হাদিসের রাবী ১. সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন তার বর্ণিত হাদিস সহিহ নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন তার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি সিকাহ তবে অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।
২. আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দলীল যোগ্য নয়। আলী বিন মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতীম আর-রাযী তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন।

৫৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫৮


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلاً يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ الْحَيَاءَ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ‏"‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে লজ্জাশীলতা সম্পর্কে তার ভাইকে নাসীহাত (তিরস্কার) করতে শুনলেন। তখন তিনি বলেন, নিশ্চয় লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা। [৫৮]

[৫৮] বুখারী ২৪, ৬১১৮; মুসলিম ৩৬, তিরমিযী ২৬১৫, নাসায়ী ৫০৩৩, আবূ দাঊদ ৪৭৯৫, আহমাদ ৫১৬১, ৬৩০৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৭৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: রওযুন নাযীর ৫১৩, ৭৪৩।

৫৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫৯


حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ وَلاَ يَدْخُلُ النَّارَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ ‏"‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ (বিন মাসঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যার অন্তরে সরিষার দানা (সামান্যতম) পরিমানও অহংকার আছে, সে (প্রথম পর্যায়েই) জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং যার অন্তরে সরিষার দানা (সামান্যতম) পরিমাণ ঈমান আছে সে জাহান্নামে (স্থায়ীভাবে) প্রবেশ করবে না। [৫৯]

[৫৯] মুসলিম ৯১, তিরমিযী ১৯৯৮-৯৯, আবূ দাঊদ ৪০৯১, আহমাদ ৩৭৭৯, ৩৯০৩, ৩৯৩৭, ৪২৯৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইসলালুল মাসজিদ ১১৫। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন মাসলামাহ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, সিকাহ তবে তিনি অন্যত্র বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী বলেন মুনকারুল হাদিস ও তার হাদিসের ব্যাপারে দুর্বলতা রয়েছে। আবু হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী নন। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি যইফ বা দুর্বল। ইবনু আদী বলেন তাকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না আবার নির্ভর করাও যায় না। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ।

৬০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِذَا خَلَّصَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ مِنَ النَّارِ وَأَمِنُوا فَمَا مُجَادَلَةُ أَحَدِكُمْ لِصَاحِبِهِ فِي الْحَقِّ يَكُونُ لَهُ فِي الدُّنْيَا أَشَدَّ مُجَادَلَةً مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لِرَبِّهِمْ فِي إِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ أُدْخِلُوا النَّارَ ‏.‏ قَالَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِخْوَانُنَا كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَنَا وَيَصُومُونَ مَعَنَا وَيَحُجُّونَ مَعَنَا فَأَدْخَلْتَهُمُ النَّارَ ‏.‏ فَيَقُولُ اذْهَبُوا فَأَخْرِجُوا مَنْ عَرَفْتُمْ مِنْهُمْ فَيَأْتُونَهُمْ فَيَعْرِفُونَهُمْ بِصُوَرِهِمْ لاَ تَأْكُلُ النَّارُ صُوَرَهُمْ فَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ النَّارُ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ إِلَى كَعْبَيْهِ فَيُخْرِجُونَهُمْ فَيَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرَجْنَا مَنْ قَدْ أَمَرْتَنَا ‏.‏ ثُمَّ يَقُولُ أَخْرِجُوا مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ دِينَارٍ مِنَ الإِيمَانِ ثُمَّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ نِصْفِ دِينَارٍ ثُمَّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَمَنْ لَمْ يُصَدِّقْ هَذَا فَلْيَقْرَأْ {إِنَّ اللَّهَ لاَ يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا}‏ ‏.‏

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন আল্লাহ্‌ তাআলা (কিয়ামাতের দিন) মু’মিনদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন এবং তারা নিরাপদ হয়ে যাবে, তখন ঈমানদারগণ তাদের জাহান্নামী ভাইদের ব্যাপারে তাদের প্রতিপালকের সাথে এত প্রচন্ড তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হবে যে, তারা দুনিয়াতে অবস্থানকালে তাদের কেউ তার বন্ধুর পক্ষে ততটা প্রচন্ড বিতর্কে লিপ্ত হয়নি। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ ভাইয়েরা তো আমাদের সাথে সলাত আদায় করতো, সওম রাখতো এবং হাজ্জ করতো। অথচ আপনি তাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করেছেন। তখন আল্লাহ্‌ তাআলা বলবেনঃ তোমরা যাও এবং তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা চিনতে পারো, তাদেরকে বের করে নিয়ে এসো। অতএব তারা তাদের কাছে যাবে এবং তাদের আকৃতি দেখে তাদের চিনতে পারবে। জাহান্নামের আগুন তাদের দৈহিক গঠনাকৃতি ভক্ষন (নষ্ট) করবে না। আগুন তাদের কারো পদদ্বয়ের জংঘার অর্ধাংশ পর্যন্ত এবং কারো পদদ্বয়ের গোছা পর্যন্ত স্পর্শ করবে। তারা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে এনে বলবে, হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদেরকে যাদের বের করে আনার নির্দেশ দিয়েছেন আমরা তাদের বের করে এনেছি। অতঃপর আল্লাহ্‌ বলবেনঃ যাদের অন্তরে এক দীনার পরিমাণ ঈমান আছে, অতঃপর যাদের অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান আছে, অতঃপর যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে, তোমরা তাদেরকেও বের করে নিয়ে এসো। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, যার এ কথা বিশ্বাস না হয় সে যেন তিলাওয়াত করে (অনুবাদ): “আল্লাহ্‌ অণু পরিমাণও যুল্‌ম করেন না। কোন উত্তম কাজ হলে আল্লাহ্‌ তা দ্বিগুন করেন এবং আল্লাহ্‌ তাঁর পক্ষ থেকে মহা পুরস্কার প্রদান করেন”- (সূরাহ নিসা’ ৪-৪০)। [৬০]

[৬০] বুখারী ২২, ৬৫৬০, ৭৪৪০; মুসলিম ১৮৩, ১৮৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৩০৫৪, যিললুল জান্নাহ ৭৫৭।

৬১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬১


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ نَجِيحٍ، - وَكَانَ ثِقَةً - عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَحْنُ فِتْيَانٌ حَزَاوِرَةٌ فَتَعَلَّمْنَا الإِيمَانَ قَبْلَ أَنْ نَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ ثُمَّ تَعَلَّمْنَا الْقُرْآنَ فَازْدَدْنَا بِهِ إِيمَانًا ‏"‏ ‏.‏

জুনদুব বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। আমরা ছিলাম শক্তিশালী এবং সক্ষম যুবক। আমরা কুরআন শেখার পূর্বে ঈমান শিখেছি, অতঃপর কুরআন শিখেছি এবং তার দ্বারা আমাদের ঈমান বেড়ে যায়। [৬১]

[৬১] সহীহ।
হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন

৬২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نِزَارٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ صِنْفَانِ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ لَيْسَ لَهُمَا فِي الإِسْلاَمِ نَصِيبٌ الْمُرْجِئَةُ وَالْقَدَرِيَّةُ ‏"‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এ উম্মাতের দু’টি শ্রেণীর জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই- মুরজিয়া ও কাদারিয়া সম্প্রদায়। [৬২]

[৬২] তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফ মিশকাত ১০৫, যিললুল জান্নাহ ৩২৪/৩২৫। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাহ ইবনু ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন ও আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু যুর'আহ বলেন তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান তার সিকাহ হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। ২. আলী বিন নিযার সম্পর্কে ইয়াকুব বিন সুফিইয়ান তাকে দুর্বল বলেছেন। আল আযদী তাকে খুবই দুর্বল বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাকে দইফ বা দুর্বল বলেছেন।

৬৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬৩


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَجَاءَ رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ شَعَرِ الرَّأْسِ لاَ يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلاَ يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ ‏.‏ قَالَ فَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَسْنَدَ رُكْبَتَهُ إِلَى رُكْبَتِهِ وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ ‏"‏ شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ صَدَقْتَ ‏.‏ فَعَجِبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِيمَانُ قَالَ ‏"‏ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَكُتُبِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ صَدَقْتَ ‏.‏ فَعَجِبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِحْسَانُ قَالَ ‏"‏ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لاَ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَمَتَى السَّاعَةُ قَالَ ‏"‏ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَمَا أَمَارَتُهَا قَالَ ‏"‏ أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي تَلِدُ الْعَجَمُ الْعَرَبَ ‏"‏ وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ قَالَ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَعْدَ ثَلاَثٍ فَقَالَ ‏"‏ أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ مَعَالِمَ دِينِكُمْ ‏"‏ ‏

উমার (ইবনুল খাত্তাব) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় ধবধবে সাদা পোশাক পরিহিত ও মাথায় গাঢ় কালো চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে হাজির হন। তার চেহারায় সফরের কোন ছাপ দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউই তাকে চিনে না। রাবী বলেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে বসলেন, তার হাঁটুদ্বয় মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাঁটুদ্বয়ের সাথে সাথে লাগিয়ে এবং তার দু’হাত তাঁর দু’ উরুর উপর রেখে, তারপর জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ইসলাম কী? তিনি বলেন, এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি আল্লাহ্‌র রসূল, সলাত আদায় করা, যাকাত দেয়া, রমাযানের সওম পালন করা এবং আল্লাহ্‌র ঘরের হাজ্জ করা। তিনি (আগন্তুক) বলেন, আপনি সত্য কথা বলেছেন। আমরা তার এ কথায় অবাক হলাম যে, তিনিই জিজ্ঞেস করলেন এবং তিনিই তা সত্যায়ন করলেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ঈমান কী? তিনি বলেন, তুমি ঈমান আনবে আল্লাহ্‌র উপর, তাঁর মালায়িকার, তাঁর রসূলগণের, তাঁর কিতাবসমূহে, আখিরাতের দিনে এবং তাকদীরে ও তার ভালো-মন্দে। আগন্তুক বলেন, আপনি সত্য কথা বলেছেন। আমরা এবারও তার কথায় অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন এবং তিনিই তা সত্যায়ন করছেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, হে মুহাম্মাদ! ইহসান কী? তিনি বলেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাত করো যেন তুমি তাঁকে দেখছো, যদি তুমি তাঁকে না দেখো নিশ্চয় তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বলেন, মুহূর্তটি (কিয়ামাত) কখন আসবে? তিনি বলেন, এ সম্পর্কে উত্তরদাতা প্রশ্নকর্তার চেয়ে অধিক কিছু জানে না। তিনি বলেন, তাহলে এর আলামত কী? তিনি বলেন, ক্রীতদাসী তার মনিবকে প্রসব করবে। ওয়াকী‘ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ অনারবদের ঔরসে আরবরা জন্মগ্রহণ করবে। তুমি দেখতে পাবে নগ্নদেহ, নগ্নপদ ও অভাবগ্রস্থ মেষ চারকরা সুউচ্চ ইমারতের মালিক হয়ে অহংকারে ফেটে পড়বে। উমার (রাঃ) বলেন, এ ঘটনার তিন দিন পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, লোকটি কে, তুমি কি তা জানো? আমি বললাম, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেন, ইনি হলেন জিবরীল (আঃ), দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দেয়ার জন্য তোমাদের নিকট এসেছেন। [৬৩]

[৬৩] মুসলিম ৮, তিরমিযী ২৬১০, নাসায়ী ৪৯৯০, ৪৬৯৫; আহমাদ ১৮৫, ৩৬৯, ৩৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ফিলাল ১২০-১২৭ ইরওয়াহ ৩৩-৩৪।

৬৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬৪


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ ‏.‏ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِيمَانُ قَالَ ‏"‏ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَلِقَائِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الآخِرِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ ‏"‏ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الإِحْسَانُ قَالَ ‏"‏ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لاَ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ ‏"‏ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّتَهَا فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْغَنَمِ فِي الْبُنْيَانِ فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ فَتَلاَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَىِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ‏}‏ ‏.

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকবেষ্টিত থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! ঈমান কী? তিনি বলেন, তুমি ঈমান আনবে আল্লাহ্‌র উপর, তাঁর মালায়িকাহ, তাঁর কিতাবসমূহে, তাঁর রসূলগণের, তাঁর সাথে সাক্ষাতে এবং তুমি আরো ঈমান আনবে পুনরুত্থান দিবসে। সে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! ইসলাম কী? তিনি বলেন, তুমি আল্লাহ্‌র ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শারীক করবে না, ফার্‌দ সলাত আদায় করবে, ফার্‌দ যাকাত প্রদান করবে এবং রমাদানের সওম পালন করবে। সে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! ইহসান কী? তিনি বলেন, তুমি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাত করো যেন তুমি তাঁকে দেখছো। যদি তুমি তাঁকে দেখতে সক্ষম না হও, তবে তিনি নিশ্চয় তোমাকে দেখছেন। সে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বলেন, মুহূর্তটি (কিয়ামাত) কখন আসবে? তিনি বলেন, এ বিষয়ে উত্তরদাতা প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক কিছু জানে না। তবে আমি তোমাকে তার কতিপয় শর্ত (আলামত) সম্পর্কে বলছি। ক্রীতদাসী যখন তার মনিবকে প্রসব করবে। সেটা কিয়ামাতের শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত। যখন মেষ চারকরা সুউচ্চ দালান-কোঠার (মালিক হয়ে) অহংকারে ফেটে পড়বে এটাও তার শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত। পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ্‌ ব্যতীত কেউ জানে না। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): “কিয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্‌র নিকট রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। কেউ জানে না আগামীকাল (বা ভবিষ্যতে) সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মরবে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত”-(সূরাহ লোকমানঃ ৩৪)। [৬৪]

[৬৪] বুখারী ৫০, ৪৭৭৭; মুসলিম ৯-১০, নাসায়ী ৪৯৯১, আহমাদ ৯২১৭।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

৬৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬৫


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ صَالِحٍ أَبُو الصَّلْتِ الْهَرَوِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُوسَى الرِّضَا، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الإِيمَانُ مَعْرِفَةٌ بِالْقَلْبِ وَقَوْلٌ بِاللِّسَانِ وَعَمَلٌ بِالأَرْكَانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو الصَّلْتِ لَوْ قُرِئَ هَذَا الإِسْنَادُ عَلَى مَجْنُونٍ لَبَرَأَ ‏.‏

আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকারোক্তি এবং দ্বীনের রোকনসমূহের (অপরিহার্য বিধানসমূহ) বাস্তবায়ন। আবুস-সালত (রহঃ) বলেন, এ সানাদ কোন পাগলের নিকট পাঠ করা হলে সেও নিরাময় লাভ করবে। [৬৫]

[৬৫] মউযূ। তাখরীজ আলবানী: যঈফাহ ২২৭০। উক্ত হাদিসের রাবী আবুস সালাম বিন সালিহ আবুস সালত আল হারাবী সম্পর্কে আবু হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যার'আহ আর রাযী বলেন, আমি তার থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করিনি। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দাবিত। ইবনু মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ ও সত্যবাদী।

৬৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ - أَوْ قَالَ لِجَارِهِ - مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ ‏"‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ (পূর্ণ) মু’মিন হবে না, যাবত না সে তার ভাইয়ের জন্য (বা তার প্রতিবেশির জন্য) তাই পছন্দ করবে, যা সে তার নিজের জন্য পছন্দ করে। [৬৬]

[৬৬] বুখারী ১৩, মুসলিম ৪৫, তিরমিযী ২৫১৫, নাসায়ী ৫০১৬, ৫০১৭, ৫০৩৯; আহমাদ ১২৩৯০, ১২৭৩৪, ১৩২১৭, ১৩৪৬২, ১৩৫৪৭, ১৩৬৬৮; দারিমী ২৭৪০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৭৩, রওযুন নাযীর ১২৯।

৬৭

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَلَدِهِ وَوَالِدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ‏"‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি তোমাদের কারো কাছে তার সন্তান-সন্ততি, তার পিতা-মাতা ও সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হওয়া পর্যন্ত সে (পূর্ণ) মু’মিন হতে পারবে না। [৬৭]

[৬৭] বুখারী ১৫, মুসলিম ৪৪/১-২, নাসায়ী ৫০১৩-১৪, আহমাদ ১২৭৩৯, ১৩৪৯৯, ১৩৫৪৭; দারিমী ২৭৪১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী:

৬৮

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬৮


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شَىْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ ‏"‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সেই সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং তোমরা পরস্পরকে মহব্বত না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় নির্দেশ করবো না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে মহব্বত করবে? তোমাদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও। [৬৮]

[৬৮] মুসলিম ৫৪, তিরমিযী ২৬৮৮, আহমাদ ৮৮৪১, ৯৪১৬, ২৭৩১৪, ১০২৭২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৭৭৭।

৬৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৬৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ ‏"‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ (বিন মাসঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুসলিমকে গালি দেয়া গর্হিত কাজ এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কুফরী। [৬৯]

[৬৯] বুখারী ৪৮, মুসলিম ৬৪, তিরমিযী ১৯৮৩, ২৬৩৪-৩৫; নাসায়ী ৪১০৫-১৩, আহমাদ ৩৬৩৯, ৩৮৯৩, ৩৯৪৭, ৪১১৫, ৪১৬৭, ৪২৫০, ৪৩৩২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ জামি ৩৫৯৫।

৭০

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৭০


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَنْ فَارَقَ الدُّنْيَا عَلَى الإِخْلاَصِ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَعِبَادَتِهِ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ مَاتَ وَاللَّهُ عَنْهُ رَاضٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَنَسٌ وَهُوَ دِينُ اللَّهِ الَّذِي جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ وَبَلَّغُوهُ عَنْ رَبِّهِمْ قَبْلَ هَرْجِ الأَحَادِيثِ وَاخْتِلاَفِ الأَهْوَاءِ وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فِي آخِرِ مَا نَزَلَ يَقُولُ اللَّهُ {فَإِنْ تَابُوا}‏ قَالَ خَلَعُوا الأَوْثَانَ وَعِبَادَتَهَا {وَأَقَامُوا الصَّلاَةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ}‏ وَقَالَ فِي آيَةٍ أُخْرَى ‏{فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاَةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ}‏

حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى الْعَبْسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، مِثْلَهُ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যাক্তি এক আল্লাহ্‌র প্রতি নিষ্ঠাবান অবস্থায়, তাঁর ইবাদাতরত অবস্থায় যাঁর কোন শারীক নাই, সলাত আদায় করে এবং যাকাত প্রদান করে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে এমন অবস্থায় মারা গেল যে, আল্লাহ্‌ তার প্রতি সন্তুষ্ট।

আনাস (রাঃ) বলেন, এটা হলো আল্লাহ্‌র সেই দ্বীন, যা নিয়ে রসূলগণ এসেছেন এবং তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তা মানুষের নিকট পৌঁছিয়েছেন ফিতনা-ফাসাদ এবং মনগড়া মতবিরোধ সৃষ্টির পূর্বেই। এর সমর্থন রয়েছে কুরআনের শেষের দিকে অবতীর্ণ আয়াতে, মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, "যদি তারা তাওবাহ করে, সলাত আদায় করে এবং যাকাত দেয়"- (সূরাহ তাওবাহ ৯:৫)। আনাস (রাঃ) বলেন, তারা তাওবা করার পর মূর্তিগুলো ও সেগুলোর পূজা ত্যাগ করে। অন্য আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন, "যদি তারা তাওবাহ করে, সলাত আদায় করে এবং যাকাত দেয় তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই"- (সূরাহ তওবা ৯:১১)। [৭০]

[৭০] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: তালীকুরগীব ১/২৩। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু জা'ফার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আলী বিন মাদীনী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম তাকে সত্যবাদী বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, মুগীরাহ কতৃক হাদিস সংমিশ্রণ করেছেন। ২. রাবী বিন আনাস সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও আজালী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমাস্যা নেই। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার হাদীস বর্ণনায় বাড়াবাড়ি করেছেন।

৭১

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৭১


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلاَةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ‏"‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নাই, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ্‌র রসূল এবং তারা সলাত আদায় করে এবং যাকাত দেয়। [৭১]

[৭১] বুখারী ১৪০০, ২৯৪৬, ৬৯২৪, ৭২৮৫; মুসলিম ২০, ২১/১-৩; তিরমিযী ২৬০৬-৭, নাসায়ী ২৪৪৩, ৩০৯০-৯৩, ৩০৯৫, ৩৯৭০-৭৮; আবূ দাঊদ ২৬৪০, আহমাদ ৬৮, ১১৮, ৩৩৭, ২৭৩৮০, ৮৩৩৯, ৮৬৮৭, ৯১৯০, ২৭২১৪, ৯৮০২, ২৭২৮৪, ১০১৪০, ১০৪৪১, ১০৪৫৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ মুতাওয়াত্বির। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৪০৭। উক্ত হাদিসের রাবী আবু জা'ফার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, মুগীরাহ থেকে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন। বু হাতিম আর-রাযী ও আলী ইবনুল মাদীনী এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ।

৭২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৭২


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلاَةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ‏"‏ ‏.‏

মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয় আমি আল্লাহ্‌র রসূল এবং তারা সলাত আদায় করে ও যাকাত দেয়। [৭২]

[৭২] আহমাদ ২১৬১৭ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ মুতাওয়াত্বির। উক্ত হাদিসের রাবী শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তাকে বর্জন করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর রাযী বলেন কোন সমস্যা নেই।

৭৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৭৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الرَّازِيُّ، أَنْبَأَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ اللَّيْثِيُّ، حَدَّثَنَا نِزَارُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ صِنْفَانِ مِنْ أُمَّتِي لَيْسَ لَهُمَا فِي الإِسْلاَمِ نَصِيبٌ أَهْلُ الإِرْجَاءِ وَأَهْلُ الْقَدَرِ ‏"‏ ‏.

ইবনু আব্বাস ও জাবির বিন আহদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার উম্মাতের দু’ শ্রেণীর লোকের ইসলামে কোন অংশ নেই- মুরজিয়া ও কাদারিয়া সম্প্রদায়।

যঈফ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১০৫, যিললুল জান্নাহ ৩৩৪, ৩৩৫, ৯৪৮।

৭৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৭৪


حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ الْبُخَارِيُّ، سَعِيدُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ - عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ مُجَاهِدٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ قَالاَ الإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ

আবু হুরায়রা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, ঈমান বাড়ে ও কমে।

খুবই দুর্বল। তাখরীজ আলবানী: যঈফাহ ১১২৩।

৭৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৭৫


حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنِ الْحَارِثِ، - أَظُنُّهُ - عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ الإِيمَانُ يَزْدَادُ وَيَنْقُصُ ‏.‏

আবুদ-দারদা' (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ঈমান বাড়ে ও কমে। [৭৩]

[৭৩] দুর্বল।