All books

সুনানে ইবনে মাজাহ (০ টি হাদীস)

ভূমিকা ১ - ২৬৬

৮. অধ্যায়ঃ

কিয়াস ও মনগড়া মতামত হতে বেঁচে থাকা।

৫২

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫২


حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، وَعَبْدَةُ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ ح وَحَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَحَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، وَشُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ فَإِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالاً فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا ‏"‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে ইল্‌মকে বিলুপ্ত করার মাধ্যমে তা কেড়ে নিবেন না, বরং তিনি আলিমদেরকে (দুনিয়া থেকে) তুলে নেয়ার মাধ্যমে ইল্‌মকেও তুলে নিবেন। অতএব যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন জনগণ অজ্ঞ ও মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে এবং তাদের কাছে (দ্বীনী বিষয়ে) জিজ্ঞেস করা হলে তারা (সেই বিষয়ে) কোন ইল্‌ম না থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং জনগণকেও পথভ্রষ্ট করবে। [৫২]

[৫২] বুখারী ১০০, ৭৩০৭; মুসলিম ২৬৭৩/১-২, তিরমিযী ২৬৫২, আহমাদ ৬৪৭৫, ৬৭৪৮; দারিমী ২৩৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: রওযুন নাযীর ৫৭৯।

৫৩

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫৩


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ، حُمَيْدُ بْنُ هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ أُفْتِيَ بِفُتْيَا غَيْرَ ثَبَتٍ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ ‏"‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, দলীল-প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ব্যতীত কাউকে সিদ্ধান্ত (ফাতাওয়া) দেয়া হলে তার পাপের বোঝা ফাতাওয়া প্রদানকারীর উপর বর্তাবে। [৫৩]

[৫৩] আবূ দাঊদ ৩৬৫৭, আহমাদ ৮০৬৭, ৮৫৫৮; দারিমী ১৫৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ২৪২। উক্ত হাদিসের রাবী আবু উসমান মুসলিম বিন ইয়াসার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান ও ইমাম যাহাবী সিকাহ বলেছেন।

৫৪

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنِي رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ أَنْعُمٍ، - هُوَ الإِفْرِيقِيُّ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْعِلْمُ ثَلاَثَةٌ فَمَا وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ فَضْلٌ آيَةٌ مُحْكَمَةٌ أَوْ سُنَّةٌ قَائِمَةٌ أَوْ فَرِيضَةٌ عَادِلَةٌ ‏"

আবদুল্লাহ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অত্যাবশ্যকীয় ইল্‌ম (জ্ঞান) তিন প্রকার, এ ছাড়া অবশিষ্টগুলো অতিরিক্তঃ আল কুরআনের বিধান সম্পর্কিত (মুহকাম) আয়াতসমূহ অথবা প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (হাদীস) অথবা ইনসাফভিত্তিক ফারায়েজের জ্ঞান (ওয়ারিসী স্বত্ব ন্যায়সঙ্গতভাবে বন্টনের জ্ঞান)। [৫৪]

[৫৪] আবূ দাঊদ ২৮৮৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ২৩৯।

উক্ত হাদিসের রাবীঃ
১. রিশদীন বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তার থেকে কোন হাদিস লিপিবদ্ধ করেন নি। আমর ইবনুল ফাল্লাস ও আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতীম আর-রাযী মুনকারুল হাদীস ও তার মাঝে অমনোযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন।

২. (আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ) ইবনু আনউম আল ইফরিকী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন বর্জনীয়। ইবনু মাহদী বলেন তার থেকে হাদিস গ্রহন করা উচিত নয়। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন আমি তার থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করি নি।

৩. আব্দুর রহমান বিন রাফি সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও আবু হাতিম আর রাযী এবং ইমাম যাহাবী বলেন, মুনকারুল হাদিস।আস-সাজী বলেন তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে।

৫৫

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫৫


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ، سَجَّادَةُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَمَوِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، قَالَ لَمَّا بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى الْيَمَنِ قَالَ ‏ "‏ لاَ تَقْضِيَنَّ وَلاَ تَفْصِلَنَّ إِلاَّ بِمَا تَعْلَمُ فَإِنْ أَشْكَلَ عَلَيْكَ أَمْرٌ فَقِفْ حَتَّى تُبَيِّنَهُ أَوْ تَكْتُبَ إِلَىَّ فِيهِ ‏"‏ ‏.‏

মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বলেন, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান আছে কেবল সেই বিষয়ে তুমি সিদ্ধান্ত বা রায় প্রদান করবে। কোন বিষয় তোমার জন্য কঠিন হলে (অজ্ঞাত থাকলে) তুমি অপেক্ষা করবে, যতক্ষণ না তোমার নিকট স্পষ্ট হয় (বা তোমাকে বলে দেয়া হয়) অথবা তুমি লিখিতভাবে সে সম্পর্কে আমাকে জানাবে। [৫৫]

[৫৫] নাই তাহক্বীক্ব আলবানী: মউযূ । তাখরীজ আলবানী: যঈফাহ ২/২৭৫-২৭৬।
উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বিন হাসসান সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস বানোয়াট। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন মুনকারুল হাদিস। আমর ইবনু ফাল্লাস বলেন, তিনি একাধিক হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইমাম নাসাঈ তাকে মিথ্যুক বলেছেন এবং তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনু নুমাইর বলেন তিনি বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন।

৫৬

সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায় : ভূমিকা

হাদীস নং : ৫৬


حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ لَمْ يَزَلْ أَمْرُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مُعْتَدِلاً حَتَّى نَشَأَ فِيهِمُ الْمُوَلَّدُونَ أَبْنَاءُ سَبَايَا الأُمَمِ فَقَالُوا بِالرَّأْىِ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا ‏"‏ ‏

আবদুল্লাহ্‌ বিন আম্‌র ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ বানী ইসরাঈলের যাবতীয় কাজকর্ম যথার্থভাবেই হচ্ছিল, যতক্ষণ তাদের মধ্যে যথার্থ সন্তান জন্মেছে। অতঃপর তাদের মধ্যে বিজাতীয় বা লুন্ঠনকৃত নারীর সন্তান যুক্ত হলে তারা নিজেদের মত অনুযায়ী রায় প্রদান করে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করে। [৫৬]

[৫৬] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৪৭৬০ যঈফ, যঈফা ৪৩৩৬ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী (আব্দুর রহমান) ইবনু আবূ রিজাল সম্পর্কে আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। দারাকুতনী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই।