All books

হাদিস সম্ভার (০ টি হাদীস)

পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

পরিচ্ছেদঃ

দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

৫০৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫০৭


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ - لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلاَةٍ متفقٌ عَلَيْهِ

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যদি আমি আমার উম্মতের উপর বা লোকেদের উপর কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রতিটি নামাযের সাথে দাঁতন করার আদেশ দিতাম।” (বুখারী ৮৮৭, মুসলিম ৬১২নং)

৫০৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫০৮


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِى لَفَرَضْتُ عَلَيْهِمُ السِّوَاكَ مَعَ الْوُضُوءِ وَلأَخَّرْتُ صَلاَةَ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর না জানলে (প্রত্যেক) ওযুর সাথে দাঁতন করা ফরয করতাম এবং এশার নামায অর্ধেক রাত পর্যন্ত দেরী করে পড়তাম।” (হকেম ৫১৬, বাইহাকী ১৪৬, সহীহুল জামে’ ৫৩১৯ নং)

৫০৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫০৯


وَعَن حُذَيْفَةَ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذَا قَامَ مِن النَّومِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ متفقٌ عَلَيْ

হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন তিনি দাঁতন দিয়ে দাঁত মেজে নিতেন। (বুখারী ২৪৫, ১১৩৬ মুসলিম ৬১৬-৬১৮নং)

৫১০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১০


وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَت : كُنَّا نُعِدُّ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم سِوَاكَهُ وَطَهُورَهُ فَيَبْعَثُهُ اللهُ مَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَيَتَسَوَّكُ وَيَتَوضَّأُ وَيُصَلِّي رواه مسلم

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য দাঁতন ও ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর আল্লাহর যখন রাতে তাকে জাগাবার ইচ্ছা হত, তখন তিনি জেগে উঠতেন। সুতরাং দাঁতন করতেন এবং ওযু ক’রে নামায পড়তেন।’ (মুসলিম ১৭৭৩নং)

৫১১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১১


وَعَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاكِ رواه البخاري

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদেরকে দাঁতন করার জন্য বেশি তাকীদ করেছি। (বুখারী৮৮৮নং)

৫১২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১২


وَعَن شُرَيحِ بنِ هَانِىءٍ قَالَ : قُلتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ ؟ قَالَتْ : بِالسِّوَاكِ رواه مسلم

শুরাইহ ইবনে হানি (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশা (রায়িয়াল্লাহু আনহা)কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ বাড়িতে প্রবেশ ক’রে সর্বপ্রথম কী কাজ করতেন?” তিনি বললেন, ‘দাঁতন করতেন।’ (মুসলিম ৬১৩নং)

৫১৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১৩


وَعَنْ أَبيْ مُوسَى الأَشعَرِي قَالَ : دَخَلتُ عَلَى النَّبيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَطَرَفُ السِّوَاكِ عَلَى لِسَانِهِ متفقٌ عَلَيْهِ وهذا لفظ مسلمٍ

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন দাঁতনের একটি দিক তাঁর জিভের উপর রাখা ছিল। (বুখারী ২৪৪, মুসলিম ৬১৫, এ শব্দগুলি মুসলিমের)

৫১৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১৪


وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ للرَّبِّ رواه النسائي وابنُ خُزَيْمَةَ في صحيحهِ بأسانيدَ صحيحةٍ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “দাঁতন মুখ পবিত্র রাখার ও প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপকরণ।” (আহমদ ২৪২০৩, নাগাঈ ৫, ইবনে খু্যাইমাহ ১৩, ইবনে হিব্বান ১০৬৭, দারেমী ৬৮৪, বুখারী বিনা সনদে, সহীহ তারগীব ২০২নং)

৫১৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১৫


عَن عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنهُ ُأَنَّهُ أَمَرَ بِالسِّوَاكِ وَقَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا تَسَوَّكَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي قَامَ الْمَلَكُ خَلْفَهُ فَتَسَمَّعَ لِقِرَاءَتِهِ فَيَدْنُو مِنْهُ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا حَتَّى يَضَعَ فَاهُ عَلَى فِيهِ فَمَا يَخْرُجُ مِنْ فِيهِ شَيْءٌ مِنَ الْقُرْآنِ إِلاَّ صَارَ فِي جَوْفِ الْمَلَكِ فَطَهِّرُوا أَفْوَاهَكُمْ لِلْقُرْآنِ

আলী (রাঃ) প্রমুখাৎ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি দাঁতন আনতে আদেশ দিয়ে বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “বান্দা যখন নামায পড়তে দণ্ডায়মান হয় তখন ফিরিশুা তার পিছনে দণ্ডায়মান হয়ে তার ক্বিরাআত শুনতে থাকেন। ফেরেশতা তার নিকটবর্তী হন; পরিশেষে তিনি নিজ মুখ তার (বান্দার) মুখে মিলিয়ে দেন। ফলে তার মুখ হতে কুরআনের যেটুকুই অংশ বের হয় সেটুকু অংশই ফেরেশতার পেটে প্রবেশ করে যায়। সুতরাং কুরআনের জন্য তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র কর।” (বাইহাকী ১৬১, বা্যযার ৬০৩, সহীহ তারগীব ২১৫নং)

৫১৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১৬


عَن سَمُرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم طَيِّبُوا أَفْوَاهَكُمْ بِالسِّوَاكِ فَإِنَّهَا طُرُقُ الْقُرْآنِ

সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “মিসওয়াক করে তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র কর। কারণ, মুখ হল কুরআনের পথ।” (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ২১১৯, সঃ জামে ৩৯৩৯নং)

৫১৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১৭


عَن أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمِرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ أَدْرَدَ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “জিবরীল (আঃ) আমাকে (এত বেশী) দাঁতন করতে আদেশ করেছেন যে, তাতে আমি আমার দাঁত ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।” (বায্‌যার ৬৯৫২, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৫৫৬ নং)

৫১৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১৮


عَن وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أُمِرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيَّْْْْ

ওয়াষেলাহ বিন আস্‌ক্বা’ থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমাকে দাঁতন করতে আদেশ করা হয়েছে, এতে আমার ভয় হয় যে, হয়তো দাঁতন করা আমার উপর ফরয করে দেওয়া হবে।” (আহমাদ ১৬০০৭, সহীহুল জামে’ ১৩৭৬ নং)

৫১৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫১৯


وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ الفِطْرَةُ خَمْسٌ أَوْ خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ : الخِتَانُ وَالاسْتِحْدَادُ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَنَتْفُ الإِبِطِ وَقَصُّ الشَّارِب متفقٌ عَلَيْهِ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “প্রকৃতিগত আচরণ (নবীগণের তরীকা) পাঁচটি অথবা পাঁচটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ, (১) খাত্‌না (লিঙ্গত্বক ছেদন) করা। (২) লজ্জাস্থানের লোম কেটে পরিস্কার করা। (৩) নখ কাটা। (৪) বগলের লোম ছিড়া। (৫) গোঁফ ছেটে ফেলা।” (বুখারী ৫৮৮৯, ৫৮৯১, ৬২৯৭, মুসলিম ৬২০-৬২১নং)

৫২০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২০


وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَشْرٌ مِنَ الفِطْرَةِ : قَصُّ الشَّارِبِ وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَالسِّوَاكُ وَاسْتِنْشَاقُ المَاءِ وَقَصُّ الأَظْفَارِ وَغَسْلُ البَرَاجِمِ وَنَتفُ الإِبْطِ وَحَلْقُ العَانَةِ وَانْتِقَاصُ المَاءِ قَالَ الرَّاوِي : وَنَسِيْتُ العَاشِرَةَ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ المَضمَضَةُ قَالَ وَكِيعٌ - وَهُوَ أحَدُ رُواتِهِ - انْتِقَاصُ المَاءِ : يَعَني الاسْتِنْجَاءِ رواه مسلم

আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “দশটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ (১) গোঁফ ছেটে ফেলা। (২) দাড়ি বাড়ানো। (৩) দাঁতন করা। (৪) নাকে পানি দিয়ে নাক পরিস্কার করা। (৫) নখ কাটা। (৬) আঙ্গুলের জোড়সমূহ ধোয়া। (৭) বগলের লোম তুলে ফেলা। (৮) গুপ্তাঙ্গের লোম পরিস্কার করা। (৯) পানি দ্বারা ইস্তেঞ্জ (শৌচকর্ম) করা।” বর্ণনাকারী বলেন, ১০নং আচরণটি ভুলে গেছি, তবে মনে হয়, তা কুল্লি করা হবে। বর্ণনাকারী অকী’ বলেন, ‘ইন্তিকাসুল মা’ মনে পানি দিয়ে ইস্তেঞ্জা করা। (মুসলিম ৬২৭নং)
দাড়ি বাড়নো মনেঃ তার কিছুই না কাটা। আঙ্গুলের জোড় মানেঃ আঙ্গুলের গাট।

৫২১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২১


وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى متفقٌ عَلَيْهِ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা গোঁফ কেটে ফেল এবং দাড়ি লম্বা কর।” (বুখারী ৫৮৯৩, মুসলিম ৬২৩)

৫২২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২২


عَن زَيْدِ بن أَرْقَمَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ فَلَيْسَ مِنَّا

যায়দ বিন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি তার মোছ ছাঁটে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (আহমাদ ১৯২৬৩, তিরমিযী ২৭৬১, নাসাঈর কুবরা ১৪, তাবরানী ৪৮৯৩-৪৮৯৬, সহীহুল জামে’ ৬৫৩৩নং)

৫২৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২৩


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَعْفُوا اللِّحَى وَخُذُوا الشَّوَارِبَ وَغَيِّرُوا شَيْبَكُمْ وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা দাড়ি বাড়াও, মোছ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য) খেযাব লগাও এবং ইয়াহুদ ও নাসারার সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।” (আহমাদ ৮৬৭২, সহীহুল জামে’ ১০৬৭নং)

৫২৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২৪


عَنْ اِبْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا اللِّحَى

আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা মুশরিকদের অন্যথাচরণ কর। তোমরা মোছ ছেঁটে ফেল এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।” (বুখারী ৫৮৯২-৫৮৯৩, মুসলিম ৬২৫নং)

৫২৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২৫


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم جُزُّوا الشَّوَارِبَ وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “মোছ ছেঁটে ও দাড়ি রেখে অগ্নিপূজকদের বৈপরীত্য কর।” (মুসলিম ৬২৬নং)

৫২৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২৬


عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ أَنَسٌ وُقِّتَ لَنَا فِى قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً

আনাস থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘মোছ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভির নিচের লোম চাঁছা এবং বেগলের লোম তুলে ফেলার ব্যাপারে আমাদেরকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে যাতে আমরা সে সব চল্লিশ দিনের বেশী ছেড়ে না রাখি।’ (মুসলিম ৬২২নং)

পরিচ্ছেদঃ

চুল পাকার মাহাত্ম্য

৫২৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২৭


عَن كعب بن مرة قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الإِسْلاَمِ فِي سَبِيلِ اللهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ

কা’ব বিন মুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তির ইসলামে (জিহাদ, আল্লাহর ভয় প্রভৃতির কারণে) একটি চুল পাকে, সেই ব্যক্তির জন্য ঐ সাদা চুলটি কিয়ামতের দিন জ্যোতি হবে।” (আহমদ ১৮২৩২, তিরমিযী ১৬৩৪, নাসাঈ ৩১৪৪, সিলসিলাহ সহীহাহ ১২৪৪ নং)

৫২৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২৮


عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عمرو قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الشَّيْبُ نُورُ المُؤْمِنِ لاَيَشِيبُ رَجُلٌ شَيْبَةً فِي الإسْلاَمِ إلاَّ كانَتْ لَهُ بِكُلِّ شَيْبَةٍ حَسَنَةٌ وَرُفعَ بِهَا دَرَجَةً

আব্দুল্লাহ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “শুভ্ৰ কেশ মুমিনের নুর (জ্যোতি)। ইসলামে যে ব্যক্তিরই একটি কেশ শুভ্র হবে, সেই ব্যক্তির প্রত্যেক শুভ্ৰ কেশের পরিবর্তে একটি করে নেকী লাভ হবে এবং একটি করে মর্যাদায় সে উন্নীত হবে।” (বাইহাকীর শুআবুল ঈমান ৬৩৮৭, সলসিলাহ সহীহাহ ১২৪৩ নং)

৫২৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫২৯


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا تَنْتِفُوا الشَّيْبَ فَإِنَّهُ نُورٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الْإِسْلَامِ كُتِبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةٌ وَحُطَّ عَنهُ بِهَا خَطِيئَةٌ وَرُفِعَ له بها درجة"

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমরা শুভ্ৰ কেশ তুলে ফেলো না। কেননা তা কিয়ামতের দিনে নূর (জ্যোতি) হবে। ইসলামে যে ব্যক্তির একটি কেশ শুভ্র হবে, সেই ব্যক্তির প্রত্যেক শুভ্ৰ কেশের পরিবর্তে আল্লাহ তার জন্য একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করবেন, একটি করে গোনাহ ঝরিয়ে দেবেন এবং একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।” (ইবনে হিব্বান ২৯৮৫, সহীহ তারগীব ২০৯৬নং)

পরিচ্ছেদঃ

পবিত্র থাকার নির্দেশ

৫৩০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩০


عَن عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ ثَلاَثَةٌ لاَ تَقْرَبُهُمُ الْمَلاَئِكَةُ جِيفَةُ الْكَافِرِ وَالْمُتَضَمِّخُ بِالْخَلُوقِ وَالْجُنُبُ إِلاَّ أَنْ يَتَوَضَّأَ

আম্মার বিন য়্যাসির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “(রহমতের) ফিরিশুাবর্গ তিন ব্যক্তির নিকটবর্তী হন না; কাফেরের দেহ, খালুক মাখা ব্যক্তি এবং নাপাক ব্যক্তি; যদি উযু না করে।” (আবু দাউদ ৪১৮২নং)

৫৩১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩১


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْهُمَا قَالَ: ্রثَلَاثَةٌ لَا تَقْرَبُهُمُ الْمَلَائِكَةُ: الْجُنُبُ وَالسُّكْرَانِ وَالْمُتَضَمِّخُ بِالْخَلُوقِ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

“(রহমতের) ফিরিশুাবর্গ তিন ব্যক্তির নিকটবর্তী হন না; নাপাক ব্যক্তি, নেশাগ্রস্ত (মাতাল) ব্যক্তি এবং খালুক মাখা ব্যক্তি।” (বাযযার, সহীহ তারগীব ১৭৪, ২৩৭৪নং)

* খালুক হল, জাফরান প্রভৃতি থেকে প্রস্তুত মহিলাদের ব্যবহার্য একপ্রকার সুগন্ধিদ্রব্য বিশেষ। এটি ব্যবহার করলে দেহে বা পোশাকে লালচে হলুদ রং প্রকাশ পায়। তাই তা পুরুষদের জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ।

পরিচ্ছেদঃ

অপবিত্র দেহ অস্পৃশ্য নয়

৫৩২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩২


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّهُ لَقِيَهُ النَّبِىُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فِى طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ جُنُبٌ فَانْسَلَّ فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ فَتَفَقَّدَهُ النَّبِىُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ لَقِيتَنِى وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم سُبْحَانَ اللهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لاَ يَنْجُسُ

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

একদা আবু হুরাইরাহ (রাঃ) -এর সাথে মহানবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মদীনার এক পথে দেখা হল। সে সময় আবু হুরাইরাহ (রাঃ) অপবিত্রাবস্থায় ছিলেন। তিনি সরে গিয়ে গোসল ক’রে এলেন। নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথায় গিয়েছিলে আবু হুরাইরাহ!” তিনি বললেন, ‘আমি অপবিত্র ছিলাম। তাই সেই অবস্থায় আপনার সাথে বসাটাকে অপছন্দ করলাম।’ নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “সুবহানাল্লাহ! মু’মিন অপবিত্র হয় না।” (বুখারী ২৮৩, মুসলিম ৮৫০নং)

পরিচ্ছেদঃ

মহিলাদের মাসিকে নামায মাফ, রোযা মাফ নয়

৫৩৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩৩


عَن مُعَاذَةَ قَالَتْ سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَقُلْتُ مَا بَالُ الْحَائِضِ تَقْضِى الصَّوْمَ وَلاَ تَقْضِى الصَّلاَةَ فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ قُلْتُ لَسْتُ بِحَرُورِيَّةٍ وَلَكِنِّى أَسْأَلُ قَالَتْ كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلاَ نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

মুআযাহ নামক এক মহিলা আয়েশা (রাঃ)কে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী ব্যাপার যে, ঋতুমতী মহিলা রোযা কাযা করবে অথচ নামায কাযা করবে না?’ মা আয়েশা (রাঃ) প্রত্যুত্তরে বললেন, ‘তুমি কি (ইরাকের) হারুরার (খাওয়ারেজপন্থী) মহিলা?’ মহিলাটি বলল, ‘না, আমি তা নই। আমি জিজ্ঞাসা করে (কারণ) জানতে চাই।’ মা আয়েশা (রাঃ) বললেন, "আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে থেকে আমাদের মাসিক হত। আমরা (তার তরফ থেকে) রোযা কাযা করতে আদিষ্ট হতাম এবং নামায কাযা করতে আদিষ্ট হতাম না।’ (বুখারী ৩২১, মুসলিম ৭৮৭-৭৮৯নং প্রমুখ)

পরিচ্ছেদঃ

প্ৰসাব-পায়খানার আদব সংক্রাত্ত

৫৩৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩৪


وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ اِتَّقُوا اللاَّعَنيْنِ قَالُوْا : وَمَا اللاَّعَنانِ ؟ قَالَ الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ فِي ظِلِّهِمْ رواه مسلم

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “দু’টি অভিসম্পাত আনয়নকারী কর্ম থেকে দূরে থাক।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “দুটি অভিসম্পাত আনয়নকারী কর্ম কী কী?” তিনি (উত্তরে) বললেন, “যে ব্যক্তি মানুষের রাস্তায় এবং তাদের ছায়ার স্থলে পায়খানা করে (তার এ দুটি কাজ অভিসম্পাতের কারণ)।” (মুসলিম ৬৪১নং, আবু দাউদ ২৫নং প্রমুখ)

* (প্রকাশ থাকে যে আম বাথরুমে পেশাক-পায়খানা করার পর পানি ঢেলে পরিস্কার না করে দিলে ঐ অভিসম্পাত আসতে পারে)

৫৩৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩৫


عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اتَّقُوا الْمَلاَعَن الثَّلاَثَ الْبَرَازَ فِى الْمَوَارِدِ وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ وَالظِّلِّ

মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা তিনটি অভিশাপ আনয়নকারী কর্ম থেকে বাঁচ; আর তা হল, ঘাটে, মাঝ-রাস্তায় এবং ছায়ায় পায়খানা করা।” (আবু দাউদ ২৬, ইবনে মজাহ ৩২৮, সহীহ তারগীব ১৪১নং)

৫৩৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩৬


عَن حُذَيْفَةَ بن أُسَيْدٍ أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَنْ آذَى الْمُسْلِمِينَ فِي طُرُقِهِمْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ لَعَنتُهُمْ

হুযইফা বিন উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাস্তার ব্যাপারে মুসলিমদেরকে কষ্ট দেয়, সে ব্যক্তির উপরে তাদের অভিশাপ অনিবার্য হয়ে যায়।” (ত্বাবারানী কাবীর ২৯৭৮, সহীহ তারগীব ১৪৩নং)

৫৩৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩৭


عَن مَكْحُول رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ ُ نهى: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبَالَ بِأَبْوَابِ الْمَسَاجِدِগ্ধ

মাকহূল থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের দরজায় পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। (মুরসাল হাদীস, সিঃ সহীহাহ ২৭২৩নং)

৫৩৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩৮


عَن أَبِى أَيُّوبَ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا بِبَوْلٍ وَلاَ غَائِطٍ وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا

আবূ আইয়ুব আনসার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “পায়খানা করার সময়ে তোমরা কিবলাকে সন্মুখ অথবা পশ্চাৎ করে বসো না। বরং পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ অথবা পিঠ করে বসে৷” (বুখারী ১৪৪, ৩৯৪, মুসলিম ৬৩২নং)

* এ নির্দেশ তাদের জন্য যাদের কিবলা উত্তর বা দক্ষিণ দিকে।

৫৩৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৩৯


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ لَمْ يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلَمْ يَسْتَدْبِرْهَا فِي الْغَائِطِ كُتِبَ لَهُ حَسَنَةٌ وَمُحِيَ عَنهُ سَيِّئَةٌ

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মলত্যাগ করার সময় কেবলমুখে অথবা কেবলাকে পিছন করে না বসে, তার জন্য এর দরুন একটি নেকী লিপিবদ্ধ করা হয় এবং একটি গোনাহ মোচন করে দেওয়া হয়।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ১৩২১, কাবীর ৩৯০, সহীহ তারগীব ১৫১নং)

৫৪০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪০


وعَن ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مرَّ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبيرٍ بَلَى إِنَّهُ كَبِيرٌ : أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ وَأَمَّا الآخَرُ فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ متفق عَلَيْهِ وهذا لفظ إحدى روايات البخاري

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটো কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন, “ঐ দুই কবরবাসীর আযাব হচ্ছে। অবশ্য ওদেরকে কোন বড় ধরনের অপরাধ (বা কোন কঠিন কাজের) জন্য আযাব দেওয়া হচ্ছে না।” (তারপর বললেন,) “হ্যাঁ, অপরাধ তো বড়ই ছিল। ওদের একজন (লোকের) চুগলী ক’রে বেড়াত। আর অপরজন পেশাবের ছিটা থেকে বাঁচত না।” (বুখারী ২১৬, ২১৮ প্রভৃতি, মুসলিম ৭০৩নং প্রমুখ)

৫৪১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪১


عَن أَنَسٍ , قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রتَنَزَّهُوا مِنَ الْبَوْلِ فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنْهُগ্ধ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমরা প্রস্রাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন কর। কারণ, অধিকাংশ কবরের আযাব এই প্রস্রাব (থেকে সাবধান না হওয়ার) ফলেই হয়ে থাকে।” (দারাকুত্বনী ১/১২৭, সহীহ তারগীব ১৫১ নং)

৫৪২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪২


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَكْثَرُ عَذَابِ الْقَبْرِ فِي الْبَوْلِ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “অধিকাংশ কবরের আযাব প্রস্রাবের (ছিটা গায়ে লাগার) কারণে হবে।” (আহমদ ৮৩৩১, ইবনে মাজাহ ৩৪৮, হকেম ৬৫৩, সহীহ তারগীব ১৫৩ নং)

৫৪৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪৩


عَن جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم نَهَى أَنْ يُبَالَ فِي المَاءِ الرَّاكِدِ رواه مسلم

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম ৬৮১নং)

৫৪৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪৪


عَن زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ عَن رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْخَلاَءَ فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

যায়দ বিন আরকাম থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “এই প্ৰস্ৰাব-পায়খানার জায়গাসমূহে শয়তান জ্বিন উপস্থিত থাকে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সেখানে আসে, তখন সে যেন ‘আউযু বিল্লাহি মিনাল খবুষি অলখাবাইষ বলে।” (আবু দাঊদ ৬, ইবনে মাজাহ ২৯৬নং)

৫৪৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪৫


عَن عَائِشَةَ قَالَتْ: ্রمَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلَا تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًاগ্ধ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি তোমাদেরকে বলবে যে, নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন, তার কথা বিশ্বাস করে না। যেহেতু তিনি বসে বসেই পেশাব করতেন।” (তিরমিযী ১২, নাসাঈ ২৯, ইবনে মাজাহ ৩০৭নং)

৫৪৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪৬


عَنْ أَبيْ قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ وَإِذَا أَتَى الْخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করবে, তখন সে যেন নিজ লিঙ্গ ডান হাত দ্বারা না ধরে এবং ডান হাত দ্বারা ইস্তিনজা (প্ৰস্ৰাব-পায়খানা পরিস্কার) না করে ---৷” “প্রস্রাব করার সময় তোমাদের কেউ যেন নিজ লিঙ্গ ডান হাত দ্বারা অবশ্যই না ধরে এবং ডান হাত দ্বারা যেন পায়খানা পরিকার না করে-- ।” (বুখারী ১৫৩, মুসলিম ২৬৭, সুনান আরবাআহ প্রমুখ)

৫৪৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪৭


عَن عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الْيُمْنَى لِطُهُورِهِ وَطَعَامِهِ وَكَانَتْ يَدُهُ الْيُسْرَى لِخَلاَئِهِ وَمَا كَانَ مِنْ أَذًى

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ডান হাত তার পবিত্রতা ও খাবারের জন্য ছিল এবং তার বাম হাত ছিল প্ৰস্ৰাব-পায়খানা ও ঘৃণিত জিনিসের জন্য।” (আহমাদ ২৬২৮৩, আবূ দাঊদ ৩৩, বাইহাকী ৫৪৭নং)

৫৪৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪৮


عَن سَلْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لاَ يَسْتَنْجِى أَحَدُكُمْ بِدُونِ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ

সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন তিনটির কম ঢেলা দ্বারা প্ৰস্ৰাব-পায়খানা পরিকার না করে।” (আহমদ ২৩৭০৮, মুসলিম ৬৩০নং, সুননে আরবাআহ)

৫৪৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৪৯


عَن جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذَا اسْتَجْمَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُوتِرْ

জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন (প্ৰস্ৰাব-পায়খানার পর) ঢেলা ব্যবহার করে, তখন সে যেন বেজোড় ঢেলা ব্যবহার করে।” (মুসলিম ৫৮৮নং প্রমুখ)

৫৫০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫০


عَن عَبْدِ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لا تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلا بِالْعِظَامِ فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ

আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা গোবর বা হাড় দ্বারা প্ৰস্ৰাব-পায়খানা পরিস্কার করো না, কারণ তা তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য।” (তিরমিযী ১৮, নাসাঈর কুবরা ৩৯, ত্বাবারানী ৯৮৬৭নং)

পরিচ্ছেদঃ

আম গোসলখানা

৫৫১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫১


عَن عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنهُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَقْعُدَنَّ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا بِالْخَمْرِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَدْخُلْ الْحَمَّامَ إِلَّا بِإِزَارٍ وَمَنْ كَانَتْ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا تَدْخُلْ الْحَمَّامَ

উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হে লোক সকল! অবশ্যই আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন যে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন অবশ্যই এমন (ভোজনের) দস্তরখানে না বসে, যাতে মদ্য পরিবেশিত হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন সাধারণ গোসলখানায় বিবস্ত্র হয়ে প্রবেশ না করে। আর যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন সাধারণ গোসলখানায় প্রবেশ না করে।” (আহমাদ ১২৫, সহীহ তারগীব ১৬৭নং)

৫৫২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫২


عَن أُمَّ الدَّرْدَاءِ قالت: خَرَجْتُ مِنْ الْحَمَّامِ فَلَقِيَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ مِنْ أَيْنَ يَا أُمَّ الدَّرْدَاءِ قَالَتْ مِنْ الْحَمَّامِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ امْرَأَةٍ تَضَعُ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ أَحَدٍ مِنْ أُمَّهَاتِهَا إِلَّا وَهِيَ هَاتِكَةٌ كُلَّ سِتْرٍ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الرَّحْمَنِ

উম্মে দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি সাধারণ গোসলখানা হতে বের হলাম। ইত্যবসরে নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বললেন, “কোত্থেকে, হে উম্মে দারদা?!” আমি বললাম, গোসলখানা থেকে। তিনি বললেন, “সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যে কোনও মহিলা তার কোন মায়ের ঘর ছাড়া অন্য স্থানে নিজের কাপড় খোলে, সে তার ও দয়াময় (আল্লাহর) মাঝে প্রত্যেক পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।” (আহমাদ ২৭০৩৮, ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ১৬২নং)

পরিচ্ছেদঃ

ওযুর ফযীলত


মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ إِلَى قَوْله تَعَالَى: مَا يُريدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلكِنْ يُريدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর এবং তোমাদের মাথা মাসহ কর এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত কর। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তাহলে বিশেষভাবে (গোসল ক’রে) পবিত্র হও। যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা হতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রী-সহবাস কর এবং পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাসাহ কর। আল্লাহ তোমাদেরকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (সূরা ময়েদাহ ৬ আয়াত)

৫৫৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫৩


وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُوْلُ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرّاًً مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ متفقٌ عَلَيْهِ

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি যে, “নিশ্চয় আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় ডাকা হবে, যে সময় তাদের ওযুর অঙ্গগুলো চমকাতে থাকবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে তার চমক বাড়াতে চায়, সে যেন তা করে।” (অর্থাৎ সে যেন তার ওযুর সীমার অতিরিক্ত অংশও ধুয়ে ফেলে।) (বুখারী ১৩৬নং, মুসলিম ৬০৩নং)

৫৫৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫৪


عَن أَبِى حَازِمٍ قَالَ كُنْتُ خَلْفَ أَبِى هُرَيْرَةَ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ فَكَانَ يَمُدُّ يَدَهُ حَتَّى تَبْلُغَ إِبْطَهُ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا هَذَا الْوُضُوءُ فَقَالَ يَا بَنِى فَرُّوخَ أَنْتُمْ هَا هُنَا لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكُمْ هَا هُنَا مَا تَوَضَّأْتُ هَذَا الْوُضُوءَ سَمِعْتُ خَلِيلِى صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنَ الْمُؤْمِنِ حَيْثُ يَبْلُغُ الْوَضُوءُ

আবু হাযেম থেকে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাঃ) যখন নামাযের জন্য ওযু করছিলেন, তখন আমি তাঁর পশ্চাতে ছিলাম। দেখলাম, হাতকে লম্বা করে ধুচ্ছিলেন, এমন কি বগল পর্যন্ত হাত ফিরাচ্ছিলেন। আমি তাকে বললাম, ‘হে আবু হুরাইরাহ! এ আবার কোন ওযু?’ তিনি বললেন, “হে ফর্রুখের বংশধর! তোমরা এখানে রয়েছ? যদি আমি জানতাম যে, তোমরা এখানে রয়েছ তাহলে এ ওযু করতাম না। আমি আমার বন্ধু নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, “ওযুর পানি যদ্দূর পৌঁছবে তদ্দুর মুমিনের অঙ্গে অলংকার (জ্যোতি) শোভমান হবে।” (মুসলিম ৬০৯নং)

৫৫৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫৫


وَعَن عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَن تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُج مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ رواه مسلم

উষমান ইবনে আফ্‌ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করবে, তার পাপসমূহ তার দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে। এমনকি তার নখগুলোর নিচে থেকেও (পাপ) বেরিয়ে যাবে।” (মুসলিম ৬০১নং)

৫৫৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫৬


وَعَنْهُ قَالَ : رَأيتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأ هكَذَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَكَانَتْ صَلاَتُهُ وَمَشْيُهُ إِلَى المَسْجدِ نَافِلَةً رواه مسلم

উক্ত রাবী থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আমার এই ওযুর মত ওযূ করতে দেখলাম। অতঃপর তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি এরূপ ওযূ করবে, তার পূর্বকৃত পাপরাশি মাফ করা হবে এবং তার নামায ও মসজিদের দিকে চলার সওয়াব অতিরিক্ত হবে।” (মুসলিম ৫৬৬নং)

নাসাঈ হাদীসটিকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর শব্দগুলি নিম্নরূপঃ-

৫৫৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫৭


عثمان رضي الله عَنه قَالَ سمعت رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يقول مَا مِنِ امْرِىءٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلاَةَ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا

উষমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যে কোন ব্যক্তি যখনই সুন্দরভাবে ওযু করে নামায পড়ে, তখনই তার ঐ ওযুর সময় থেকে দ্বিতীয় নামায পড়া পর্যন্ত মধ্যবর্তীকালীন সময়ের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (নাসাঈ ১৪৬, ১৭৪, সহীহ তারগীব ১৮২নং)

৫৫৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫৮


وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ إِذَا تَوَضَّأ العَبْدُ المُسْلِمُ أَو المُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ المَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ المَاءِ فَإذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ المَاءِ أَو مَعَ آخِرِ قَطْرِ المَاءِ فَإذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ المَاءِ أَو مَعَ آخِرِ قَطْرِ المَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيَّاً مِنَ الذُّنُوبِ رواه مسلم

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “মুসলিম কিংবা মু’মিন বান্দাহ যখন ওযূ করবে এবং যখন সে নিজ মুখমন্ডল ধৌত করবে, তখন তার মুখমন্ডল হতে সেই গোনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যাবে, যে সব গোনাহ তার দুটি চোখ দিয়ে দেখার ফলে সংঘটিত হয়েছিল। (অনুরূপভাবে) যখন সে নিজ হাত দুটি ধেবে, তখন তা হতে সে সব পাপ পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে নির্গত হয়ে যাবে, যে সব পাপ তার দুই হাত দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। এবং যখন সে নিজ পা দুটি ধৌত করবে, তখন তার পা দুটি হতে সে সমস্ত পাপরাশ পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে বের হয়ে যাবে, যেগুলি তার দুটি পয়ে চলার ফলে সংঘটিত হয়েছিল। শেষ অবধি সে (ক্ষুদ্র) পাপরাশি হতে পাক-পবিত্র হয়ে বেরিয়ে আসবে।” (মালেক ৬১, মুসলিম ৬০০, তিরমিযী ২নং)

৫৫৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৫৯


وَعَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَتَى المَقبَرَةَ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَومٍ مُؤْمِنِينَ وَإنَّا إنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوانَنَا قَالُوْا : أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ أنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأتُوا بَعْدُ قَالُوْا : كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ فَقَالَ أَرَأيْتَ لَوْ أنَّ رَجُلاً لَهُ خَيلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَيْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ ؟ قَالُوْا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ فإِنَّهُمْ يَأتُونَ غُرّاً مُحَجَّلينَ مِنَ الوُضُوءِ وَأنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الحَوْضِ رواه مسلم

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একবার) কবরস্থানে এসে (কবরবাসীদের সম্বোধন করে) বললেন, “হে (পরকালের) ঘরবাসী মু’মিনগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষণ হোক। যদি আল্লাহ চান তো আমরাও তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। আমার বাসনা যে, যদি আমরা আমাদের ভাইদেরকে দেখতে পেতাম।” সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই?’ তিনি বললেন, “তোমরা তো আমার সহচরবৃন্দ। আমার ভাই তারা, যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি।” সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি, তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনতে পারবেন?’ তিনি বললেন, “আচ্ছা বল, যদি খাটি কাল রঙের ঘোড়ার দলে, কোন লোকের কপাল ও পা সাদা দাগবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তাহলে সে তার ঘোড়া চিনতে পারবে না কি?” তাঁরা বললেন, ‘অবশ্যই পারবে হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “তারা এই অবস্থায় (হাশরের মাঠে) আগমন করবে যে, ওযু করার দরুন তাদের হাত-পা চমকাতে থাকবে। আর আমি হাওযে কাউসার’-এ তাদের অগ্রগামী ব্যবস্থাপক হব।” (অর্থাৎ, তাদের আগেই আমি সেখানে পৌঁছে যাব।) (মুসলিম ৬০৭নং)

৫৬০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬০


وَعَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَلاَ أَدُّلُكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ ؟ قَالُوْا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِسْبَاغُ الوُضُوءِ عَلَى المَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الخُطَا إِلَى المَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ رواه مسلم

উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একদা সমবেত সহচরদের উদ্দেশ্যে) বললেন, “তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলব না কি, যার দ্বারা আল্লাহ গোনাহসমূহকে মোচন করে দেবেন এবং (জান্নাতে) তার দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন?” তারা বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) কষ্টকর অবস্থায় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, অধিক মাত্রায় মসজিদে গমন করা এবং এক অক্তের নামায আদায় ক’রে পরবর্তী অক্তের নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। আর এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ। এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ।” (মালেক ৩৮৪, মুসলিম ৬১০নং, তিরমিযী ৫১-৫২, নাসাঈ ১৪৩, ইবনে মাজাহ ৪২৮নং অনুরূপ অর্থে)

৫৬১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬১


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যার ওযূ নষ্ট হয়ে গেছে, তার পুনরায় ওযূ না করা পর্যন্ত নামায কবুল হবে না।” (বুখারী ১৩৫, ৬৯৫৪, মুসলিম ৫৫৯নং)

৫৬২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬২


عَن ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيرَ أَعْمَالِكُمُ الصَّلاةُ وَلا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلا مُؤْمِنٌ

ষাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা (প্রত্যেক বিষয়ে) কর্তব্যনিষ্ঠ রহ; আর তাতে কখনই সক্ষম হবে না। জেনে রেখো, তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল নামায। আর মুমিন ব্যতীত কেউই ওযুর হিফাযত করবে না।” (ইবনে মাজাহ ২৭৭, হাকেম ৪৪৮, ত্বাবারানী ১৪৪৪, বাইহাকী ৩৮৯, দারেমী ৬৫৬, সহীহ তারগীব ১৯০নং)

৫৬৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬৩


وَعَنْ أَبيْ مالك الأشعري  قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الطُّهُورُ شَطْرُ الإيمَانِ رواه مسلم

আবূ মালেক আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “(বাহ্যিক) পবিত্রতা অর্জন করা হল অর্ধেক ঈমান।” (মুসলিম ৫৫৬নং)

৫৬৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬৪


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم رَأَى رَجُلاً لَمْ يَغْسِلْ عَقِبَيْهِ فَقَالَ وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে তার উভয় পায়ের গোড়ালী (ভালোরূপে) ধৌত করেনি। এর ফলে তিনি বললেন, “(ঐ) গোড়ালীগুলির জন্য জাহান্নামের দুর্ভোগ” (বুখারী ১৬৫, মুসলিম ৫৯৬নং)

৫৬৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬৫


وَعَن عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ – أَوْ فَيُسْبِغُ – الوُضُوءَ ثُمَّ يَقُوْلُ : أَشهَدُ أَنْ لاَ إلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ رواه مسلم وزاد الترمذي اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ المُتَطَهِّرِينَ

উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “পরিপূর্ণরূপে ওযূ ক’রে যে ব্যক্তি এই দুআ বলবে, ‘আশহাদু আল লাইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকালাহ, অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ।’ অর্থাৎ, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তার কোন অংশী নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার দাস ও প্রেরিত দূত (রসূল)। তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম ৫৭৬, আবু দাউদ ১৬৯, ইবনে মাজাহ ৪৭০নং)
ইমাম তিরমিযী (উক্ত দুআর শেষে) এ শব্দগুলি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, "আল্লা-হুম্মাজ্‌আলনী মিনাত্‌তাওয়া-বীনা অজ্‌আলনী মিনাল মুতাত্বাহহিরীন।
অর্থাৎ, হে আল্লাহ আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর। (তিরমিযী ৫৫নং, সহীহ তামামুল মিন্নাহ দ্রঃ)

৫৬৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬৬


عَنْ أَبيْ سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَقَالَ : سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ كُتِبَ فِي رَقٍّ ثَُم طُبِعَ بِطَابَعٍ فَلَمْ يُكْسَرْ إِلَى يَوْمِ ألْقِيَامَةِ

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “---আর যে ব্যক্তি ওযুর পর (নিম্নের যিক্‌র) বলে, তার জন্য তা এক শুভ্ৰ পত্রে লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর তা সীল করে দেওয়া হয়, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নষ্ট করা হয় না।
سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
“ সুবহানাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত, আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইক।” অর্থাৎ তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই একমাত্র সত্য উপাস্য। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন
(তওবা) করছি । (নাসাঈর কুবরা ৯৯০৯, হাকেম ২০৭২, ত্বাবারনীর আওসাত্ব ১৪৫৫, সহীহ তারগীব ২২৫নং )

৫৬৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬৭


عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبيْ هِ قَالَ: أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَدَعَا بِلَالًافَقَالَ: ্রيَا بِلَالُ بِمَ سَبَقْتَنِي إِلَى الْجَنَّةِ ؟ إِنِّي دَخَلْتُ الْبَارِحَةَ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ خَشْخَشَتَكَ أَمَامِيগ্ধ فَقَالَ بِلَالٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَذْنَبْتُ قَطُّ إِلَّا صَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَمَا أَصَابَنِي حَدَثٌ قَطُّ إِلَّا تَوَضَّأْتُ عَندَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রبِهَذَاগ্ধ

আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ নিজ পিতার নিকট থেকে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ নিজ পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একদা প্রভাতকালে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে ডেকে বললেন, “হে বিলাল! কী এমন কাজ করে তুমি জান্নাতে আমার আগে চলে গেলে? আমি গত রাত্রে (স্বপ্নে) জান্নাতে প্রবেশ করলে তোমার (জুতার) শব্দ আমার সামনে থেকে শুনতে পেলাম!” বিলাল (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমি যখনই আযান দিয়েছি, তখনই দুই রাকআত নামায পড়েছি। আর যখনই আমি অপবিত্র হয়েছি, তখনই আমি সাথে সাথে ওযু করে নিয়েছি। এ শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “এই কাজের জন্যই। (জান্নাতে আমার আগে আগে তোমার শব্দ শুনলাম।)” (ইবনে খুযাইমাহ ১২০৯, সহীহ তারগীব ২০১নং)

৫৬৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬৮


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لِبِلاَلٍ عَندَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِى بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عَندَكَ فِى الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّى سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِى الْجَنَّةِ قَالَ بِلاَلٌ: مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِى الإِسْلاَمِ أَرْجَى عَندِى مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّى لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِى سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللهُ لِى أَنْ أُصَلِّىَ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা ফজরের নামাযের সময় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে বললেন, “হে বিলাল! তুমি ইসলামে তোমার নিকট সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক উপকারী যে কাজ করেছ, তা আমাকে বল। কারণ আমি জান্নাতে আমার আগে আগে তোমার (জুতার) শব্দ শুনতে পেলাম!” বিলাল বললেন, আমি ইসলামে আমার নিকট সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক উপকারী এ ছাড়া অন্য কাজ করিনি যে, আমি দিবারাত্রে যখনই পরিপূর্ণ পবিত্র হয়েছি, তখনই সেই পবিত্রতা দ্বারা আল্লাহর লিখিত তকদীর অনুযায়ী নামায পড়েছি।’ (বুখারী ১১৪৯ মুসলিম ৬৪৭৮নং)

৫৬৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৬৯


عَن عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّى رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ

উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে কোন ব্যক্তি যখনই সুন্দরভাবে ওযু করে সবিনয়ে একাগ্রতার সাথে (কায়মনোবাক্যে) দুই রাকআত নামায পড়ে তখনই তার জন্য জান্নাত অবধার্য হয়ে যায়।” (মুসলিম ৫৭৬, আবু দাউদ ১৬৯নং)

৫৭০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭০


عَن زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِىِّ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يَسْهُو فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যায়দ বিন খালেদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে, কোন ভুল না করে (একাগ্রচিত্তে) দুই রাকাআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির পূর্বেকার সমূদয় গোনাহ মাফ হয়ে যায়।” (আবু দাঊদ ৯০৫, সহীহ তারগীব ২২১নং)

পরিচ্ছেদঃ

তায়াম্মুম

৫৭১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭১


جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أُصِبْ الْمَاءَ فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَفَرٍ أَنَا وَأَنْتَ فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ فَذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا) فَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بِكَفَّيْهِ الْأَرْضَ وَنَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) ও আম্মার বিন ইয়াসের (রাঃ) -এর কাহিনী। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন প্রয়োজনে উভয়কে কোথাও পাঠিয়েছিলেন। সফরে উমার ও আম্মার উভয়েই (স্বপ্লদোষ হওয়ার ফলে) অপবিত্র হয়ে যান। (পানি ছিল না কাছে।) আম্মার (রাঃ) নিজ ইজতিহাদে স্থির করলেন যে, পানি যেমন দেহকে পবিত্র করে, তেমনি মাটিও করবে। ফলে তিনি পশুর মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়ার মত গড়াগড়ি দিলেন। কারণ, তিনি সর্ব শরীরে মাটি লাগানো জরুরী মনে করলেন, যেমন সারা শরীরকে পানি দিয়ে ধোয়া ওয়াজেব। সুতরাং তিনি ঐভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নামায আদায় করলেন। পক্ষান্তরে উমার (রাঃ) নামাযই পড়লেন না। অতঃপর যখন তারা রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন, তখন (ঘটনা জেনে) তিনি তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। আম্মার (রাঃ)-কে বললেন, “তুমি তোমার হাত দ্বারা এইরূপ করলেই যথেষ্ট হত।” ---এই বলে তিনি নিজের উভয় হাতকে মাটিতে একবার মারলেন। অতঃপর (তাতে ফুঁক দিয়ে) উভয় হাত দ্বারা চেহারা মাসাহ করলেন। তারপর বাম হাতের চেটো দ্বারা ডান হাতের এবং ডান হাতের চেটো দ্বারা বাম হাতের চেটো মাসাহ করলেন। (বুখারী ৩৩৮, ৩৪,৭ মুসলিম ৮৪৪, মিশকাত ৫২৮ নং)

৫৭২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭২


عَن حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فُضِّلْنَا عَلَى النَّاسِ بِثَلاَثٍ جُعِلَتْ صُفُوفُنَا كَصُفُوفِ الْمَلاَئِكَةِ وَجُعِلَتْ لَنَا الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدًا وَجُعِلَتْ تُرْبَتُهَا لَنَا طَهُورًا إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ

হুযইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সকল মানুষ (উম্মতের) উপর আমাদেরকে ৩টি বিষয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে; আমাদের কাতারকে করা হয়েছে ফেরেশতাবর্গের কাতারের মত, সারা পৃথিবীকে আমাদের জন্য মসজিদ করে দেওয়া হয়েছে এবং পানি না পাওয়া গেলে মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করা হয়েছে।” (মুসলিম ১১৯৩, মিশকাত ৫২৬নং)

৫৭৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭৩


عَن عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ الْخُزَاعِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم رَأَى رَجُلًا مُعْتَزِلًا لَمْ يُصَلِّ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ يَا فُلَانُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلَا مَاءَ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ

ইমরান বিন হুস্বাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এক সময় তিনি লোকেদের নিয়ে নামায পড়লেন। যখন তিনি নামায শেষ করলেন, তখন দেখলেন একটি লোক একটু সরে পৃথক দাঁড়িয়ে আছে। সে জামাআতে নামাযও পড়েনি। তিনি তাকে বললেন, “কি কারণে তুমি জামাআতে নামায পড়লে না?” লোকটি বলল, ‘আমি নাপাকে আছি, আর পানিও নেই।’ তিনি বললেন, “পাক মাটি ব্যবহার কর। তোমার জন্য তাই যথেষ্ট।” (বুখারী ৩৪৮, মুসলিম ১৫৯৫, মিশকাত ৫২৭নং)

৫৭৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭৪


عَنْ أَبيْ ذر قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ وَإِنْ لَمْ يَجِدْ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ وَإِذَا وَجَدَ الْمَاءَ فَلْيُمِسَّهُ بَشَرَتَهُ فَإِنَّ ذَلِكَ هُوَ خَيْرٌ

আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “দশ বছর যাবৎ পানি না পাওয়া গেলে মুসলিমের ওযুর উপকরণ হল পাক মাটি। পানি পাওয়া গেলে গোসল করে নেওয়া উচিত। আর এটা অবশ্যই উত্তম।” (আহমদ ২১৩৭১, আবূ দাউদ ৩৩২, তিরমিযী ১২৪, মিশকাত ৫৩০নং)

৫৭৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭৫


عَن جَابِرٍ قَالَ خَرَجْنَا فِى سَفَرٍ فَأَصَابَ رَجُلاً مِنَّا حَجَرٌ فَشَجَّهُ فِى رَأْسِهِ ثُمَّ احْتَلَمَ فَسَأَلَ أَصْحَابَهُ فَقَالَ هَلْ تَجِدُونَ لِى رُخْصَةً فِى التَّيَمُّمِ فَقَالُوْا مَا نَجِدُ لَكَ رُخْصَةً وَأَنْتَ تَقْدِرُ عَلَى الْمَاءِ فَاغْتَسَلَ فَمَاتَ فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أُخْبِرَ بِذَلِكَ فَقَالَ قَتَلُوهُ قَتَلَهُمُ اللهُ أَلاَّ سَأَلُوا إِذْ لَمْ يَعْلَمُوا فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِىِّ السُّؤَالُ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيهِ أَنْ يَتَيَمَّمَ وَيَعْصِرَ

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমরা কোন সফরে বের হলাম। আমাদের মধ্যে এক ব্যক্তির মাথায় পাথরের আঘাত লেগে ক্ষত হয়েছিল। এরপর তার স্বপ্নদোষও হল। সে সঙ্গীদেরকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আমার জন্য কি তায়াম্মুম বৈধ মনে কর?’ সকলে বলল, “তুমি পানি ব্যবহার করতে অক্ষম নও। অতএব তোমার জন্য আমরা তায়াম্মুম বৈধ মনে করি না।’ তা শুনে লোকটি গোসল করল এবং এর প্রতিক্রিয়ায় সে মারা গেল। অতঃপর আমরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট ফিরে এলাম তখন তাকে সেই লোকটার ঘটনা খুলে বললাম। তা শুনে তিনি বললেন, “ওরা ওকে মেরে ফেলল, আল্লাহ ওদেরকে ধ্বংস করুক। যদি ওরা জানত না, তবে জেনে কেন নেয়নি? অজ্ঞতার ওষুধ তো প্রশ্নই। তার জন্য তায়াম্মুম ও (পটি বেঁধে) মাসহ যথেষ্ট ছিল।” (আবু দাঊদ ৩৩৬, বাইহাকী ১০১৬, দারাকুতনী ১/১৮৯)

৫৭৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭৬


عَن عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ احْتَلَمْتُ فِى لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ فِى غَزْوَةِ ذَاتِ السَّلاَسِلِ فَأَشْفَقْتُ إِنِ اغْتَسَلْتُ أَنْ أَهْلِكَ فَتَيَمَّمْتُ ثُمَّ صَلَّيْتُ بِأَصْحَابِى الصُّبْحَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِىِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ يَا عَمْرُو صَلَّيْتَ بِأَصْحَابِكَ وَأَنْتَ جُنُبٌ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِى مَنَعَنى مِنَ الاِغْتِسَالِ وَقُلْتُ إِنِّى سَمِعْتُ اللهَ يَقُولُ (وَلاَ تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا) فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا

আম্‌র বিন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যাতুস সালাসিল যুদ্ধ-সফরে এক শীতের রাতে আমার স্বপ্লদোষ হল। আমার ভয় হল যে, যদি গোসল করি তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। তাই আমি তায়ান্মুম করে সঙ্গীদেরকে নিয়ে (ইমাম হয়ে) ফজরের নামায পড়লাম। আমার সঙ্গীরা একথা নবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকটে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “হে আমর! তুমি নাপাক অবস্থায় তোমার সঙ্গীদের ইমামতি করেছ?” আমি গোসল না করার কারণ তাকে বললাম। আরো বললাম যে, ‘আল্লাহ তাআলার এ বাণীও আমি শুনেছি, তিনি বলেন, “তোমরা আত্মহত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড় দয়াশীল।” (নিসাঃ ২৯) এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন এবং কিছুই বললেন না। (আহমদ ১৭৮১২, আবূ দাঊদ ৩৩৪, হাকেম ৬২৯নং)

৫৭৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অধ্যায়

হাদীস নং : ৫৭৭


عَن أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ خَرَجَ رَجُلاَنِ فِى سَفَرٍ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ فِى الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلاَةَ وَالْوُضُوءَ وَلَمْ يُعِدِ الآخَرُ ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَذَكَرَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لِلَّذِى لَمْ يُعِدْ أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَأَتْكَ صَلاَتُكَ وَقَالَ لِلَّذِى تَوَضَّأَ وَأَعَادَ لَكَ الأَجْرُ مَرَّتَيْنِ

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

দুই ব্যক্তি সফরে বের হল। নামাযের সময় হলে তাদের নিকট পানি না থাকার কারণে তায়াম্মুম করে উভয়েই নামায পড়ে নিল। অতঃপর ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বেই তারা পানি পেয়ে গেল। ওদের মধ্যে একজন পানি দ্বারা ওযু করে পুনরায় ঐ নামায ফিরিয়ে পড়ল। কিন্তু অপর জন পড়ল না। তারপর তারা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এলে ঘটনা খুলে বলল। তিনি যে নামায ফিরিয়ে পড়েনি তার উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমার আমল সুন্নাহর অনুসারী হয়েছে এবং তোমার নামাযও যথেষ্ট (শুদ্ধ) হয়ে গেছে।” আর যে ওযু করে নামায ফিরিয়ে পড়েছিল, তার উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, “তোমার জন্য ডবল সওয়াব।” (আবু দাঊদ ৩৩৮, নাসাঈ ৪৩৩, দারেমী ৭৪৪, মিশকাত ৫৩৩নং)