All books

হাদিস সম্ভার (০ টি হাদীস)

আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

পরিচ্ছেদঃ

কান্না করার হাদিসমূহ


আল্লাহ তাআলা বলেন,
অর্থাৎ, তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে লুটিয়ে (সিজদা) দেয় এবং এ (কুরআন) তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে। (সূরা বনী-ইস্রাঈল ১০৯ আয়াত)

তিনি আরো বলেন,
অর্থাৎ, তোমরা কি এই কথায় বিস্ময়বোধ করছ? এবং হাসি-ঠাট্টা করছ! ক্ৰন্দন করছ না? (সূরা নাজম ৫৯-৬০ আয়াত)

৩৫৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৫৯


وَعَن ابنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : قَالَ لِي النَّبيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اِقْرَأْ عَليَّ القُرْآنَ قُلتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَقرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أسْمَعَهُ مِنْ غَيرِي فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُورَةَ النِّسَاءِ حَتَّى جِئْتُ إِلى هذِهِ الآيَةِ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هؤُلاءِ شَهيداً - قَالَ حَسْبُكَ الآنَ فَالَتَفَتُّ إِلَيْهِ فَإِذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ متفقٌ عَلَيْهِ

ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, “তুমি আমার সামনে কুরআন তিলাওয়াত কর।” উত্তরে আমি আরজ করলাম, ‘আমি আপনার সামনে তিলাওয়াত করব, অথচ তা আপনার উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে?’ তিনি বললেন, “আমি অন্যের কাছ থেকে তা শুনতে ভালবাসি।” অতএব আমি সূরা ‘নিসা’ তিলাওয়াত করলাম। পরিশেষে যখন আমি এ আয়াতে এসে পৌঁছলাম, যার অর্থ, “তখন তাদের কী অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী (নবী) উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?” তখন তিনি আমাকে বললেন, “যথেষ্ট, এবার থাম।” আমি তাকিয়ে দেখলাম, তাঁর চক্ষু দু’টি থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছে। (বুখারী ও মুসলিম)

৩৬০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬০


وَعَن أَنَسٍ قَالَ : خَطَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم خُطبَةً مَا سَمِعْتُ مِثلَهَا قَطُّ فَقَالَ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أعْلَمُ لَضحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيتُمْ كَثِيراً فَغَطَّى أصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَجُوهَهُمْ وَلَهُمْ خَنِينٌ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা এমন ভাষণ দিলেন যে, ওর মত (ভাষণ) কখনো শুনিনি। (তাতে) তিনি বললেন, “যা আমি জানি তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে তোমরা কম হাসতে এবং অধিক কাঁদতে।” (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাঁদের চেহারা ঢেকে নিলেন এবং তাদের বিলাপের রোল আসতে লাগল। (বুখারী ও মুসলিম)

৩৬১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬১


وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لاَ يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيَةِ اللهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ في الضَّرْعِ وَلاَ يَجْتَمِعُ غُبَارٌ في سَبِيلِ اللهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ رواه الترمذي وقال حديثٌ حَسنٌ صحيحٌ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “সে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্ৰন্দন করেছে, যতক্ষণ না (দোহনকৃত) দুধ বাঁটে ফিরে যাবে। (অর্থাৎ দু’টোই অসম্ভব)। আর আল্লাহর রাস্তার ধুলো ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না।” (তিরমিয়ী ১৬৩৩, ২৩১১নং)

৩৬২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬২


عَن ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: عَيْنَانِ لاَ تَمَسُّهُمَا النَّارُ عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِى سَبِيلِ اللَّه

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “দুটি চক্ষুকে দোযখের আগুন স্পর্শ করবে না; প্রথম হল সেই চক্ষু যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। আর দ্বিতীয় হল সেই চক্ষু যা আল্লাহর পথে (জিহাদে) পাহারায় রাত্রিযাপন করে।” (তিরমিয়ী ১৬৩৯, সহীহুল জামে’ ৪১১২ নং)

৩৬৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬৩


عَنْ أَبيْ ريحانة قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم حُرِّمَتْ النَّارُ عَلَى عَيْنٍ دَمَعَتْ أَوْ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ وَحُرِّمَتْ النَّارُ عَلَى عَيْنٍ سَهِرَتْ فِي سَبِيلِ اللَّه

আবু রাইহানা থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সেই চক্ষুর জন্য জাহান্নাম হারাম ক’রে দেওয়া হয়েছে, (এক) যে চক্ষু আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন করেছে এবং (দুই) যে চক্ষু আল্লাহর পথে (জিহাদে) পাহারা দিয়ে রাত্রি জাগরণ করেছে।” (আহমাদ ১৭২১৩, নাসাঈ, হকেম ২৪৩২নং)

৩৬৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬৪


عَن بهز بن حكيم عَنْ أَبيْ ه عَن جده قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ثَلاَثَةٌ لاَ تَرَى أَعيُنهُم النَّارُ عَينٌ حَرَسَت فِي سَبيلِ الله وَعَينٌ بَكَت مِن خَشيَة الله وَعَينٌ غَضَّت عَن مَحَارِمِ الله

বাহয বিন হাকীম তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর (বাহযের) দাদা থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তিন ব্যক্তির চক্ষু জাহান্নাম দর্শন করবে না। (এক) যে চক্ষু আল্লাহর পথে (জিহাদে) পাহারা দিয়ে রাত্রি যাপন করেছে, (দুই) যে চক্ষু আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে এবং (তিন) যে চক্ষু আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু দর্শন করা থেকে বিরত থেকেছে।” (ত্বাবারানীর কাবীর ১০০৩নং)

৩৬৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬৫


وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ في ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إلاَّ ظِلُّهُ : إمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌّ نَشَأ في عِبَادَةِ الله تَعَالَى وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالمَسَاجِدِ وَرَجُلاَنِ تَحَابّا في اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيهِ وتَفَرَّقَا عَلَيهِ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأةٌ ذَاتُ مَنصَبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ : إنِّي أخَافُ الله وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ الله خَالِياً فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তারা হল) ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে), সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়। সেই ব্যক্তি যাকে কোন কুলকামিনী সুন্দরী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহবান করে, কিন্তু সে বলে, “আমি আল্লাহকে ভয় করি।” সেই ব্যক্তি যে দান ক’রে গোপন করে; এমনকি তার ডান হাত যা প্রদান করে, তা তার বাম হাত পর্যন্তও জানতে পারে না। আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।” (বুখারী ৬৬৩নং, মুসলিম ১০৩১নং)

৩৬৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬৬


وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ قَالَ : أَتَيتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَهُوَ يُصَلِّي وَلِجَوْفِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ المِرْجَلِ مِنَ البُكَاءِ حديث صحيح رواه أَبو داود والترمذي في الشمائل بإسناد صحيح

আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

“আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি নামায পড়ছিলেন এবং তাঁর বুক থেকে উনানে স্থিত হাড়ির (ফুটন্ত পানির) মত কান্নার অস্ফুট রোল শোনা যাচ্ছিল। (আবু দাউদ বিশুদ্ধ সূত্রে, শাময়েলে তিরমিযী বিশুদ্ধ সূত্রে)

৩৬৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬৭


وَعَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لأُبَي بنِ كَعبٍ إنَّ الله - عَزَّ وَجَلَّ - أَمَرَنِي أَنْ أقْرَأَ عَلَيْكَ لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَروا - قَالَ : وَسَمَّانِي ؟ قَالَ نَعَمْ فَبَكَى أُبَيٌّ متفقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ : فَجَعَلَ أُبَيٌّ يَبْكِي

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উবাই ইবনে কা’ব -কে বললেন, “আল্লাহ আমাকে আদেশ করলেন যে, আমি তোমাকে ‘সূরা লাম য়্যাকুনিল্লাযীনা কাফারু’ পড়ে শুনাই।” কা’ব বললেন, ‘(আল্লাহ কি) আমার নাম নিয়েছেন?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” সুতরাং উবাই (খুশীতে) কেঁদে ফেললেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, উবাই কাঁদতে লাগলেন। (বুখারী ও মুসলিম)

৩৬৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬৮


وَعَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ أَبُو بَكرٍ لِعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم : انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أُمِّ أيْمَنَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا نَزُورُهَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَزُورُهَا فَلَمَّا انْتَهَيَا إِلَيْهَا بَكَتْ فَقَالاَ لَهَا : مَا يُبْكِيكِ ؟ أمَا تَعْلَمِينَ أنَّ مَا عَندَ اللهِ خَيْرٌ لرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَتْ : مَا أبْكِي أَنْ لاَ أَكُونَ أَعْلَمُ أنَّ مَا عَندَ الله تَعَالَى خَيْرٌ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَلَكِنْ أبكي أنَّ الوَحْيَ قدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّماءِ فَهَيَّجَتْهُمَا عَلَى البُكَاءِ فَجَعَلا يَبْكِيَانِ مَعَهَا رواه مسلم

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনাবসানের পর আবু বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) উমার (রাঃ)-কে বললেন, ‘চলুন, আমরা উন্মে আইমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই, যেমন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন। সুতরাং যখন তারা উম্মে আইমানের কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। অতঃপর তারা তাঁকে বললেন, ‘তুমি কাঁদছ কেন? তুমি কি জানো না যে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য (দুনিয়া থেকে) অধিক উত্তম?’ তিনি উত্তর দিলেন, “আমি এ জন্য কান্না করছি না যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা অধিকতর উত্তম, সে কথা আমি জানি না। কিন্তু আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আসমান হতে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল”। উন্মে আইমান (তাঁর এ দুঃখজনক কথা দ্বারা) ঐ দু’জনকে কাঁদতে বাধ্য করলেন। ফলে তারাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগলেন। (মুসলিম)

৩৬৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৬৯


وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : لَمَّا اشْتَدَّ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَجَعُهُ قِيلَ لَهُ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ فَقَالَت عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : إنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ رَقِيقٌ إِذَا قَرَأَ القُرْآنَ غَلَبَهُ البُكَاءُ فَقَالَ مُرُوهُ فَليُصَلِّ
وَفِي رِوَايَةٍ عَن عَائِشَةٍَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَت : قُلتُ : إنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ البُكَاءِ متفقٌ عَلَيْهِ

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যখন (মরণ রোগে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কষ্ট বেড়ে গেল, তখন তাকে (জামাআত সহকারে) নামায পড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, “তোমরা আবু বাক্রকে নামায পড়াতে বল।” আয়েশা (রাঃ) বললেন, ‘আবু বাক্র নরম মনের মানুষ, কুরআন পড়লেই তিনি কান্না সামলাতে পারেন না।’ কিন্তু পুনরায় তিনি বললেন, “তাকে নামায পড়াতে বল।”
আয়েশা (রাঃ) থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘আবু বাক্র যখন আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন, তখন তিনি কান্নার কারণে লোকেদেরকে (কুরআন) শুনতে পারবেন না।’ (বুখারী ও মুসলিম)

৩৭০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭০


وَعَن إِبرَاهِيمَ بنِ عَبدِ الرَّحمَانِ بنِ عَوفٍ : أَنَّ عَبدَ الرَّحمَانِ بنَ عَوفٍ أُتِيَ بِطَعَامٍ وَكَانَ صَائِماً فَقَالَ : قُتِلَ مُصْعَبُ بنُ عُمَيْرٍ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مَا يُكَفَّنُ فِيهِ إِلاَّ بُرْدَةٌ إِنْ غُطِّيَ بِهَا رَأسُهُ بَدَتْ رِجْلاهُ وَإنْ غُطِّيَ بِهَا رِجْلاَهُ بَدَا رَأسُهُ ثُمَّ بُسِطَ لَنَا مِنَ الدُّنْيَا مَا بُسِطَ - أَو قَالَ : أُعْطِينَا مِنَ الدُّنْيَا مَا أُعْطِينَا – قَدْ خَشِينا أنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجِّلَتْ لَنَا ثُمَّ جَعَلَ يَبكِي حَتَّى تَرَكَ الطَّعَامَ رواه البخاري

ইব্রাহীম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদিন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ)-এর কাছে খাবার আনা হল, তখন তাঁর রোযা ছিল। তিনি বললেন, ‘মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন। আর তিনি ছিলেন আমার চেয়ে ভাল লোক। (অথচ) তাঁকে কাফন দেওয়ার মত এমন একটি চাদর ভিন্ন অন্য কিছু পাওয়া গেল না, যা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা দুটি বের হয়ে যাচ্ছিল এবং পা দুটি ঢাকলে মাথা বের হয়ে যাচ্ছিল তারপর আমাদের জন্য পৃথিবীর যে প্রাচুর্য দেওয়া হল, তা হল।’ অথবা তিনি বললেন, “আমাদেরকে পার্থিব সম্পদ যা দেওয়া হল, তা হল। আমাদের আশংকা হয় যে, আমাদের সৎকর্মের (বিনিময়) আমাদের জন্য ত্বরান্বিত করা হয়েছে। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাবারও পরিহার করলেন”। (বুখারী)

৩৭১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭১


وَعَنْ أَبيْ أُمَامَة صُدَيِّ بنِ عَجلاَنَ البَاهِلِي عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ لَيْسَ شَيْءٌ أحَبَّ إِلَى اللهِ تَعَالَى مِنْ قَطْرَتَيْنِ وَأثَرَيْنِ : قَطَرَةُ دُمُوعٍ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ وَقَطَرَةُ دَمٍ تُهَرَاقُ في سَبيلِ اللهِ وَأَمَّا الأَثَرَانِ : فَأَثَرٌ فِي سَبيلِ اللهِ تَعَالَى وَأَثَرٌ فِي فَرِيضَةٍ مِنْ فَرَائِضِ الله تَعَالَى رواه الترمذي وقال حديثٌ حسنٌ

আবু উমামাহ সুদাই ইবনে আজলান বাহেলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর নিকট দু’টি বিন্দু এবং দু’টি চিহ্ন অপেক্ষা কোন বস্তু প্রিয় নয়। (এক) ঐ অশ্রুবিন্দু, যা আল্লাহর ভয়ে বের হয়। আর (দুই) ঐ রক্তবিন্দু, যা আল্লাহর পথে বহিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দু’টি চিহ্ন হলঃ (এক) ঐ চিহ্ন যা আল্লাহর পথে (জিহাদ করে) হয়। আর (দুই) আল্লাহর কোন ফরয কাজ আদায় করে যে চিহ্ন (দাগ) পড়ে।” (তিরমিযী, হাসান)
এ বিষয়ে আরো হাদীস রয়েছে। তার মধ্যে একটি ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)-এর হাদীস, ‘একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে এমন মর্মস্পশী বক্তৃতা শুনলেন যে, তাতে অন্তর ভীত হল এবং চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে গেল।’

৩৭২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭২


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم ( لاَ تُكثِرُوا الضَّحِكَ فَإنَّ كَثرَة الضَّحِكَ تُمِيتُ القَلب)

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) প্রমুখাৎ থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমরা বেশী বেশী হেসো না। কারণ, বেশী হাসার ফলে হৃদয় মরে যায়।” (ইবনে মাজাহ ৪১৯৩, সহীহুল জামে’ ’ ৭৪৩৫নং)

৩৭৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭৩


عَن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذْ بَصُرَ بِجَمَاعَةٍ فَقَالَ عَلَامَ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ هَؤُلَاءِ قِيلَ عَلَى قَبْرٍ يَحْفِرُونَهُ قَالَ فَفَزِعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَبَدَرَ بَيْنَ يَدَيْ أَصْحَابِهِ مُسْرِعًا حَتَّى انْتَهَى إِلَى الْقَبْرِ فَجَثَا عَلَيْهِ قَالَ فَاسْتَقْبَلْتُهُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ لِأَنْظُرَ مَا يَصْنَعُ فَبَكَى حَتَّى بَلَّ الثَّرَى مِنْ دُمُوعِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا قَالَ أَيْ إِخْوَانِي لِمِثْلِ الْيَوْمِ فَأَعِدُّوا

বারা’ বিন আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ তিনি একদল লোক দেখতে পেয়ে বললেন, “কী ব্যাপারে ওরা জমায়েত হয়েছে?” কেউ বলল, ‘একজনের কবর খোড়ার জন্য জমায়েত হয়েছে।’ একথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘাবড়ে উঠলেন। তিনি তড়িঘড়ি সঙ্গীদের ত্যাগ করে কবরের নিকট পৌঁছে হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন। তিনি কি করছেন তা দেখার জন্য আমি তাঁর সামনে খাড়া হলাম। দেখলাম, তিনি কাঁদছেন। পরিশেষে তিনি এত কাঁদলেন যে, তার চোখের পানিতে মাটি পর্যন্ত ভিজে গেল। অতঃপর তিনি আমাদের দিকে মুখ তুলে বললেন, “হে আমার ভাই সকল! এমন দিনের জন্য তোমরা প্রস্তুতি নাও।” (বুখারী তারীখ, ইবনে মাজাহ ৪১৯৫, আহমাদ ১৮৬০১, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৭৫১ নং)]

৩৭৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭৪


عَن هَانِىءٍ مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ : كَانَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِذَا وَفَفَ عَلَى قَبْرٍ يَبْكِي حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ : تَذْكُرُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَلاَ تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا ؟ قَالَ : إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنَازِلِ الآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ منْهُ قَالَ : وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلاَّ وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ

উসমান (রাঃ)-এর স্বাধীনকৃত দাস হানি থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান (রাঃ) যখন কোন কবরের পাশে দাড়াতেন, তখন এত কাঁদা কাদতেন যে, চোখের পানিতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। কেউ তাঁকে বলল, ‘জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনাকালে আপনি তো কাঁদেন না, আর এই কবর দেখে এত কাঁদছেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, যেহেতু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “পরকালের (পথের) মঞ্জিলসমূহের প্রথম মঞ্জিল হল কবর। সুতরাং যে ব্যক্তি এ মঞ্জিলে নিরাপত্তা লাভ করে তার জন্য পরবতী মঞ্জিলসমূহ অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে যায়। আর যদি সে এখানে নিরাপত্তা লাভ না করতে পারে তবে তার পরবর্তী মঞ্জিলগুলো আরো কঠিনতর হয়।”
আর তিনি একথাও বলেছেন যে, “আমি যত দৃশ্যই দেখেছি, সে সবের চেয়ে অধিক বিভীষিকাময় হল কবর!” (সহীহ তিরমিযী ২৩০৮, ইবনে মাজাহ ৪২৬৭ নং)

৩৭৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭৫


عَن أَبِى سَعِيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ عَبْدٌ خَيَّرَهُ اللهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ زَهْرَةَ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عَندَهُ فَاخْتَارَ مَا عَندَهُ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ وَبَكَى فَقَالَ فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الْمُخَيَّرُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ أَعْلَمَنَا بِهِ

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে বসে (তাঁর ভাষণে) বললেন, “আল্লাহ এক বান্দাকে দুনিয়া ও তাঁর কাছে যা আছে তার মাঝে এখতিয়ার দিয়েছেন। বান্দা তাঁর কাছে যা আছে, তা এখতিয়ার ক’রে নিয়েছে।” এ কথা শুনে আবু বাক্র (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে বললাম, এ বৃদ্ধ কাঁদছেন কেন? আল্লাহ তো এক বান্দাকে দুনিয়া ও তাঁর কাছে যা আছে তার মাঝে এখতিয়ার দিয়েছেন। আর বান্দা তার কাছে যা আছে, তা এখতিয়ার ক’রে নিয়েছে। (তাতে কাঁদার কী আছে?) কিন্তু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সেই বান্দা। আর আবু বাক্র (রাঃ) ছিলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী। (আহমদ ১১১৫৩, বুখারী ৩৯০৪, মুসলিম ৬২৪৫নং)

৩৭৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭৬


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ :كُنْتُ أَدْعُو أُمِّى إِلَى الإِسْلاَمِ وَهِىَ مُشْرِكَةٌ فَدَعَوْتُهَا يَوْمًا فَأَسْمَعَتْنِى فِى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَكْرَهُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِى قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّى كُنْتُ أَدْعُو أُمِّى إِلَى الإِسْلاَمِ فَتَأْبَى عَلَىَّ فَدَعَوْتُهَا الْيَوْمَ فَأَسْمَعَتْنِى فِيكَ مَا أَكْرَهُ فَادْعُ اللهَ أَنْ يَهْدِىَ أُمَّ أَبِى هُرَيْرَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَللّٰهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِى هُرَيْرَةَ فَخَرَجْتُ مُسْتَبْشِرًا بِدَعْوَةِ نَبِىِّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا جِئْتُ فَصِرْتُ إِلَى الْبَابِ فَإِذَا هُوَ مُجَافٌ فَسَمِعَتْ أُمِّى خَشْفَ قَدَمَىَّ فَقَالَتْ مَكَانَكَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ وَسَمِعْتُ خَضْخَضَةَ الْمَاءِ قَالَ - فَاغْتَسَلَتْ وَلَبِسَتْ دِرْعَهَا وَعَجِلَتْ عَن خِمَارِهَا فَفَتَحَتِ الْبَابَ ثُمَّ قَالَتْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ قَالَ - فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَيْتُهُ وَأَنَا أَبْكِى مِنَ الْفَرَحِ قَالَ - قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَبْشِرْ قَدِ اسْتَجَابَ اللهُ دَعْوَتَكَ وَهَدَى أُمَّ أَبِى هُرَيْرَةَ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ خَيْرًا

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আম্মাকে ইসলামের দাওয়াত দিতাম, যখন তিনি মুশরিকা ছিলেন। একদিন দাওয়াত দিলে আম্মা রেগে উঠে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্বন্ধে অপ্রিয় কথা শুনালেন। আমি কেঁদে মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার আম্মাকে ইসলামের দাওয়াত দিতাম, তিনি আমার দাওয়াত অগ্রাহ্য করতেন। আজ আমি তাকে দাওয়াত দিলে তিনি আমাকে আপনার ব্যাপারে অপ্রিয় কথা শুনিয়ে দিলেন। সুতরাং আপনি তার জন্য দুআ করুন, যাতে আল্লাহ আবু হুরাইরাহর আম্মাকে হিদায়াত করেন।’ অতএব আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুআ করে বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি আবু হুরাইরাহর আন্মাকে হিদায়াত কর।”
অতঃপর আমি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুআর মাঝে সুসংবাদ নিয়ে বাসায় ফিরে গিয়ে দেখলাম, দরজা বন্ধ আছে। আম্মা আমার পায়ের শব্দ শুনতে পেয়ে বললেন, ‘আবু হুরাইরাহ থামো!’ আমি শুনতে পেলাম, পানি পড়ার শব্দ হচ্ছে। সুতরাং তিনি গোসল ক’রে জামা পরে মাথায় ওড়না না নিয়েই দরজা খুললেন। অতঃপর বললেন, ‘আবু হুরাইরাহ! আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ।’ সুতরাং আমি কাল বিলম্ব না ক’রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফিরে গিয়ে খুশীতে কাঁদতে কাঁদতে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সুসংবাদ নিন, আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন এবং আবু হুরাইরাহর আম্মাকে হিদায়াত করেছেন!’ এ খবর শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং উত্তম কথা বললেন। (আহমাদ ৮২৫৯, মুসলিম ৮২৪২নং)

৩৭৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭৭


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ فَإِذَا امْرَأَةٌ تَوَضَّأُ إِلَى جَنْبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ قَالُوْا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذَكَرْتُ غَيْرَتَكَ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا فَبَكَى عُمَرُ حِينَ سَمِعَ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَعَلَيْكَ بِأَبِي أَنْتَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللهِ؟

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘দেখলাম, আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি। মহলের এক পাশে একটি মহিলা ওযু করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, মহলটি কার? বলল, এটি উমার বিন খাত্তাবের। সুতরাং আমি তার ঈর্ষার কথা স্মরণ ক’রে পিছু ফিরে প্রস্থান করলাম। এ কথা শুনে উমার কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, ‘আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনার প্রতিও কি ঈর্ষা করব? হে আল্লাহর রসূল!’ (আহমাদ ৮৪৭০, বুখারী ৩২৪২, মুসলিম ৬৩৫৩নং)

৩৭৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭৮


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا نَفَعَنى مَالٌ قَطُّ مَا نَفَعَنى مَالُ أَبِى بَكْرٍ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ: وَهَلْ أَنَا وَمَالِى إِلاَّ لَكَ يَا رَسُولَ اللهِ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “আবু বাক্‌রের ধন-সম্পদ যেভাবে আমাকে উপকৃত করেছে, অন্য কোন ধন-সম্পদ তা করেনি।” এ কথা শুনে আবু বাক্‌র (রাঃ), কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, ‘আমি ও আমার ধন-সম্পদ তো আপনার জন্যই হে আল্লাহর রসূল!’ (আহমাদ ৭৪৪৬, ইবনে মাজাহ ৯৪নং)
এ কথা শুনে উমার (রাঃ) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “আমার আব্বা তোমার জন্য কুরবান হোক হে আবু বাক্‌র! যে কোন কল্যাণে আমি তোমার সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছি, তাতেই তুমি প্রথম স্থান দখল ক’রে নিয়েছ!” (উসুদুল গাবাহ প্রমুখ)

৩৭৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৭৯


أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى سَعْدٍ يَعُودُهُ بِمَكَّةَ فَبَكَى قَالَ : مَا يُبْكِيكَ ؟ فَقَالَ : قَدْ خَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ بِالأَرْضِ الَّتِى هَاجَرْتُ مِنْهَا

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

মক্কায় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থ সা’দ বিন আবী অক্কাসের সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি কাঁদতে লাগলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তুমি কাঁদছ কী কারণে?” তিনি বললেন, ‘আমার আশঙ্কা হয় যে, সেই মাটিতে আমার মরণ হবে, যে মাটি থেকে আমি হিজরত ক’রে গেছি।” (আহমাদ ১৪৪০, বুখারী, আদাব ৫২০নং)

৩৮০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮০


বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী (রাঃ)-কে মদীনায় নায়েব বানিয়ে তবুক যুদ্ধে বের হয়ে যাচ্ছেন। আলী (রাঃ) বলছেন, ‘আমি আপনার সাথে যুদ্ধে যেতে চাই।’ আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন, “না।” তিনি কাঁদছেন। মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সান্তনা দিয়ে বলছেন, “তুমি কি চাও না যে, হারুন যেমন মূসার নায়েব হয়েছিলেন, তুমি তেমনি আমার নায়েব হবে? তবে আমার পরে কোন নবী নেই।” (আহমদ ১৪৬৩, মুসলিম)

৩৮১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮১


عَن عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ السَّكُونِيِّ أَنَّ مُعَاذًا لَمَّا بَعَثَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم خَرَجَ إِلَى الْيَمَنِ مَعَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُوصِيهِ وَمُعَاذٌ رَاكِبٌ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَمْشِي تَحْتَ رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ يَا مُعَاذُ إِنَّكَ عَسَى أَنْ لَا تَلْقَانِي بَعْدَ عَامِي هَذَا وَلَعَلَّكَ أَنْ تَمُرَّ بِمَسْجِدِي وَقَبْرِي فَبَكَى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ جَشَعًا لِفِرَاقِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لا تَبْكِ يَا مُعَاذُ لَلْبُكَاءُ أَوْ إِنَّ الْبُكَاءَ مِنْ الشَّيْطَانِ

আসেম বিন হুমাইদ সাকুনী থেকে বর্ণিতঃ

মুআয বিন জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামান প্রেরণ করার সময় মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু পথ এগিয়ে দিতে এবং অসিয়ত করতে তাঁর সাথে বের হলেন। মুআয ছিলেন সওয়ারীতে, আর তিনি পায়ে হেঁটে পথ চলছিলেন। অসিয়ত ক’রে অবশেষে তিনি তাঁকে বললেন, “হে মুআয! তুমি হয়তো আগামী বছর আমার দেখা পাবে না। সম্ভবতঃ তুমি আমার মসজিদ ও কবরের পাশ দিয়ে পার হবে!” এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গহারা হতে হবে জেনে উদ্বিগ্ন হয়ে মুআয কাঁদতে লাগলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, “কেঁদো না মুআয! কারণ কান্না হল শয়তানের তরফ থেকে।” (আহমাদ ২২০৫৪, ত্বাবারানী, সিঃ সহীহাহ ২৪৯৭নং)

৩৮২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮২


عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لاَ يَلِجُ النَّارَ أَحَدٌ بَكَى مِنْ خَشْيَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِى الضَّرْعِ وَلاَ يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِى سَبِيلِ اللهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্ৰন্দন করল, যতক্ষণ না (দোহনকৃত) দুধ বাঁটে ফিরে যাবে। (অর্থাৎ দু’টোই অসম্ভব)। আর আল্লাহর রাস্তার ধুলো ও জাহান্নামের ধোঁয়া একত্রিত হবে না।” (তিরমিয়ী ১৬৩৩, ইবনে মাজাহ ২৭৭৪নং)

৩৮৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮৩


قال عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍلِعَائِشَة : : أَخْبِرِينَا بِأَعْجَبِ شَيْءٍ رَأَيْتِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَسَكَتَتْ ثُمَّ قَالَتْ: لَمَّا كَانَ لَيْلَةٌ مِنَ اللَّيَالِي، قَالَ: ্রيَا عَائِشَةُ ذَرِينِي أَتَعَبَّدُ اللَّيْلَةَ لِرَبِّيগ্ধ قُلْتُ: وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّ قُرْبَكَ، وَأُحِبُّ مَا يُسِرُّكَ قَالَتْ : فَقَامَ فَتَطَهَّرَ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، قَالَتْ: فَلَمْ يَزَلْ يَبْكِي حَتَّى بَلَّ حِجْرَهُ، قَالَتْ وَكَانَ جَالِساً فَلَمْ يَزَلْ يَبْكِي حَتَّى بَلَّ لِحْيَتَهُ، قَالَتْ: ثُمَّ بَكَى حَتَّى بَلَّ الْأَرْضَ فَجَاءَ بِلَالٌ يُؤْذِنُهُ بِالصَّلَاةِ فَلَمَّا رَآهُ يَبْكَي قَالَ : يَا رَسُوْلَ الله تَبْكَي وَقَدْ غَفَرَ اللهَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ؟ قَالَ أَفَلَا أَكُوْنَ عَبْداً شَكُوْراً ؟ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عليَّ اللَيْلَةَ آيةٌ ( آيات) ويلٌ لِمَنْ قَرَأَهَا وَلَمْ يَتَفَكَّرَ فِيْهَا إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ الآيَة كُلَّهَا

উবাইদ বিন উমাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বললাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যময় ঘটনা কী দেখেছেন, তা আমাদেরকে বলুন। তিনি ক্ষণকাল নীরব থেকে বললেন, ‘এক রাত্রে (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) আমাকে বললেন, “আয়েশা! আজ রাতে আমাকে আমার প্রতিপালকের ইবাদতের জন্য ছেড়ে দাও।” আমি বললাম, ‘আল্লাহর কসম! আমি আপনার নৈকট্য চাই এবং তাই চাই, যা আপনাকে আনন্দ দান করে।’ সুতরাং তিনি উঠে ওযু করলেন এবং নামায পড়তে শুরু করলেন। নামাযে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তিনি বসে ছিলেন, (চোখের পানিতে) তার কোল ভিজে গেল। তারপরও কাঁদতে লাগলেন। (সিজদায় গেলে অশ্রুতে) মাটি ভিজে গেল! (ফজরের আগে) বিলাল নামাযের খবর দিতে এলেন। তিনি যখন তাকে কাঁদতে দেখলেন, তখন বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি কাঁদছেন? অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সমস্ত গোনাহ মাফ ক’রে দিয়েছেন!" তিনি বললেন, “আমি কি (আল্লাহর) শুক্রগুযার বান্দা হব না? আজ রাত্রে আমার উপর কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। ধংস তার জন্য, যে তা পড়েছে, অথচ তা নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা ক’রে দেখেনি।
(আরবি)
অর্থাৎ, নিশ্চয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানী লোকেদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। (আলে ইমরানঃ ১৯০ এর পরবর্তী সকল আয়াত, ইবনে হিব্বান ৬২০, সহীহ তারগীব ১৪৬৮নং)

৩৮৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮৪


دَخَلَ سَعْدُ عَلَى سَلْمَانَ يَعُودُهُ قال فَبَكَى فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ: مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ؟ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ وَتَرِدُ عَلَيْهِ الْحَوْضَ وَتَلْقَى أَصْحَابَكَ قَالَ فَقَالَ سَلْمَانَ أَمَا إِنِّي لَا أَبْكِي جَزَعًا مِنَ الْمَوْتِ وَلَا حِرْصًا عَلَى الدُّنْيَا وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهِدَ إِلَيْنَا عَهْدًا حَيَّا وَ مَيِّتًا قَالَ: ্রلِتَكُنْ بِلُغَةُ أَحَدِكُمْ مِنَ الدُّنْيَا مِثْلَ زَادِ الرَّاكِبِ وَحَوْلِي هَذِهِ الْأَسَاوِدُ قَالَ: وَإِنَّمَا حَوْلَهُ إجانة وَجَفْنَةٌ وَمَطْهَرَةٌ

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

সা’দ (রাঃ) সালমান (রাঃ)-কে দেখা করতে এলেন। সালমান (রাঃ) কাদতে লাগলেন। সা’দ (রাঃ) বললেন, ‘আপনি কাঁদছেন কীসের জন্য হে আবু আব্দুল্লাহ! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তিকাল ক’রে গেছেন, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। আপনি হাওযে-কওসরের কাছে তাঁর সঙ্গী হবেন। আপনার সাথীবর্গের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।’ সালমান (রাঃ) বললেন, ‘আমি মৃত্যুভয়ে কাদছি না, দুনিয়ার (জীবনের) লোভেও না। কিন্তু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন যে, “তোমাদের জন্য যেন একজন সওয়ার (মুসফিরের) সম্বল পরিমাণ দুনিয়ার (সম্পদ) যথেষ্ট হয়।” আর আজ আমার চারপাশে এত সম্পদ!’ এ কথা শুনে সা’দ (রাঃ)-ও কাঁদতে লাগলেন। অথচ তার পাশে ছিল একটি ঠেস দেওয়ার বালিশ, একটি ভোজনপত্র, একটি কাপড় ধোওয়ার পাত্র ও একটি ওযুর পাত্র! (যার মূল্য ৪০ দিরহাম মাত্র)। (হাকেম ৭৮৯১, বাইহাকীর শুআবুল ঈমান ১০৩৯৫, ইবনে আবী শাইবা ৩৪৩১২, সঃ তারগীব ৩২২৪নং)

৩৮৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮৫


أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ بَكَى فِي مَرَضِهِ، فَقِيلَ لَهُ: مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ: ্রأَمَا إِنِّي لَا أَبْكِي عَلَى دُنْيَاكُمْ هَذِهِ، وَلَكِنِّي أَبْكِي عَلَى بُعْدِ سَفَرِي وَقِلَّةِ زَادِي وَإِنِّي أَمْسَيْتُ فِي صَعُودِ مَهْبَطَةٍ عَلَى جَنَّةٍ وَنَارٍ لَا أَدْرِي إِلَى أَيَّتِهِمَا يُؤْخَذُ بِي

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) তাঁর (শেষ) রোগে কাঁদতে লাগলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কীসের জন্য কাঁদছেন আপনি?’ তিনি বললেন, ‘শোনো! আমি তোমাদের এই দুনিয়ার জন্য কাঁদিনি। আমি কাঁদছি আমার সফরের দূরত্ব ও সম্বলের স্বল্পতার জন্য! আমি এখন জান্নাত অথবা জাহান্নামের দিকে চড়তে লেগেছি। আর জানি না যে, দুটির মধ্যে কোনটির দিকে আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে!’ (হিল্‌য়াতুল আওলিয়া ১/৩৮৩)

৩৮৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮৬


عَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عَنهما قَالَ: ্রابْكُوا فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا بُكَاءً فَتَبَاكَوْا لَوْ تَعْلَمُونَ الْعِلْمَ لَصَلَّى أَحَدُكُمْ حَتَّى يَنْكَسِرَ ظَهْرُهُ وَلَبَكَى حَتَّى يَنْقَطِعَ صَوْتُهُ

আব্দুল্লাহ বিন আম্র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘তোমরা কাঁদো। কাঁদতে না পারলে কাঁদার ভান কর। তোমরা যদি সঠিক খবর জানতে, তাহলে তোমাদের প্রত্যেকে ততক্ষণ নামায পড়তে, যতক্ষণ পিঠ ভেঙ্গে না গেছে এবং ততক্ষণ কাঁদতে, যতক্ষণ স্বর ভেঙ্গে না গেছে!’ (হাকেম ৮৭২৩, সহীহ তারগীব ৩৩২৮নং)

৩৮৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮৭


عَن عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنهُ قَالَ مَا كَانَ فِينَا فَارِسٌ يَوْمَ بَدْرٍ غَيْرُ الْمِقْدَادِ وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا فِينَا إِلَّا نَائِمٌ إِلَّا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم تَحْتَ شَجَرَةٍ يُصَلِّي وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বদর যুদ্ধের দিন মিক্বদাদ ছাড়া অন্য কেউ অশ্বারোহী ছিল না। রাত্রে আমাদের সকলেই ঘুমিয়ে ছিল। কেবল আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজর পর্যন্ত গাছের নিচে নামায পড়ে কাঁদছিলেন (আহমদ ১০২৩, ইবনে হিব্বান ২২৫৭, ইবনে খুযাইমা ৮৯৯, সহীহ তারগীব ৫৪৫নং)

৩৮৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়

হাদীস নং : ৩৮৮


عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَهُوَ عَلَى سَرِيرٍ مُضْطَجِعٌ مُرْمَلٌ بِشَرِيطٍ وَتَحْتَ رَأْسِهِ وَسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ فَدَخَلَ عَلَيْهِ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ وَدَخَلَ عُمَرُ فَانْحَرَفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم انْحِرَافَةً فَلَمْ يَرَ عُمَرُ بَيْنَ جَنْبِهِ وَبَيْنَ الشَّرِيطِ ثَوْبًا وَقَدْ أَثَّرَ الشَّرِيطُ بِجَنْبِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَبَكَى عُمَرُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَا يُبْكِيكَ يَا عُمَرُ قَالَ وَاللهِ إِلَّا أَنْ أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّكَ أَكْرَمُ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ كِسْرَى وَقَيْصَرَ وَهُمَا يَعْبَثَانِ فِي الدُّنْيَا فِيمَا يَعْبَثَانِ فِيهِ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بِالْمَكَانِ الَّذِي أَرَى فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَهُمْ الدُّنْيَا وَلَنَا الْآخِرَةُ قَالَ عُمَرُ بَلَى قَالَ فَإِنَّهُ كَذَاكَ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক সময় আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম। তখন তিনি ছোবড়ার দড়ি দিয়ে বোনা খাটের ওপর শুয়েছিলেন। তার মাথার নিচে খেজুর ছোবড়ার তৈরি একটি বালিশ ছিল। তাঁর দেহ ও খাটের মাঝে একটি মাত্র কাপড় ছিল। (তাতে তাঁর দেহে দাগ পড়ে গিয়েছিল।) ইতিমধ্যে উমার (রাঃ) তাঁর কাছে এলেন। তাঁর এই অবস্থা দেখে তিনি কেঁদে ফেললেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, “কীসের জন্য কাঁদছ উমার?” উমার (রাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আমি জানি আপনি আল্লাহর নিকট কিসরা ও কায়সার অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান। কিন্তু তারা দুনিয়ায় কত সুন্দর জীবন-যাপন করছে। আর আপনি আল্লাহর রসূল হওয়া সত্ত্বেও এই অবস্থায় জীবন-যাপন করছেন!’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, “উমার! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তাদের জন্য দুনিয়া হোক, আর আমাদের জন্য আখেরাত?” উমার (রাঃ) বললেন, “অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “তাহলে তেমনটাই হবে।” (আহমদ ১২৪১৭, বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ ১১৬৩নং)