All books

হাদিস সম্ভার (০ টি হাদীস)

১১ জানাযা অধ্যায়

পরিচ্ছেদঃ

দাফন-কার্য

১৩৩১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩১


عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لَمَّا تُوُفِّيَ آدَمُ غَسَّلَتْهُ المَلاَئِكَةُ بِالمَاءِ وِتْراً وَأَلْحَدُوا لَهُ وَقالُوا هذِهِ سُنّةُ آدَمَ فِي وَلَدِهِ

উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন আদম মৃত্যুবরণ করলেন, তখন ফেরেশতা বেজোড় সংখ্যায় পানি দ্বারা তাঁর গোসল দিলেন এবং তাঁকে বগলী কবরে দাফন করা হল। আর বলা হল, এ হল আদমের সুন্নাত তাঁর সন্তানদের মধ্যে।” (হাকেম ৪০০৪, সঃ জামে’ ৫২০৭)

১৩৩২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩২


عن عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِىَّ قال: ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّىَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ

উক্ববা বিন আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে তিন সময়ে নামায পড়তে এবং মুর্দা দাফন করতে নিষেধ করতেন; (১) ঠিক সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে একটু উঁচু না হওয়া পর্যন্ত, (২) সূর্য ঠিক মাথার উপর আসার পর থেকে একটু ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত এবং (৩) সূর্য ডোবার কাছাকাছি হওয়া থেকে ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম ১৯৬৬, আহমাদ ১৭৩৭৭, আবূ দাঊদ ৩১৯৪, তিরমিযী ১০৩০, নাসাঈ ৫৬০, ইবনে মাজাহ ১৫১৯, মিশকাত ১০৪০)

১৩৩৩

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩৩


وَعَنْ أَبي رَافِعٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ وَمَنْ حَفَرَ لَهُ فَأَجَنَّهُ أُجْرِىَ عَلَيْهِ كَأَجْرِ مَسْكَنٍ أَسْكَنَهُ إِيَّاهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

আবূ রাফে’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “--- আর যে ব্যক্তি (নেক নিয়্যাতে) মাইয়্যেতের জন্য কবর খুঁড়বে এবং তাকে তাতে দাফন করবে আল্লাহ তার জন্য সেই ঘর তৈরী করে দেওয়ার সওয়াব জারী করে দেবেন; যা কিয়ামত পর্যন্ত বাস করতে দেওয়ার জন্য করা হয়।” (হাকেম ১৩০৭, ১৩৪০, বাইহাক্বী ৬৯০০)

১৩৩৪

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩৪


وَعَن خَبَّابِ بنِ الأَرَتِّ قَالَ : هَاجَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم نَلْتَمِسُ وَجْهَ اللهِ تَعَالَى فَوَقَعَ أجْرُنَا عَلَى اللهِ فَمِنَّا مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَأكُل مِنْ أجْرِهِ شَيْئاً مِنْهُمْ : مُصْعَبُ بن عُمَيْرٍ قُتِلَ يَوْمَ أُحُد وَتَرَكَ نَمِرَةً فَكُنَّا إِذَا غَطَّيْنَا بِهَا رَأْسَهُ بَدَتْ رِجْلاَهُ وَإِذَا غَطَّيْنَا بِهَا رِجْلَيْهِ بَدَا رَأسُهُ فَأمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أنْ نُغَطِّي رَأسَهُ وَنَجْعَلُ عَلَى رِجْلَيْهِ شَيْئاً مِنَ الإذْخِرِ، وَمِنَّا مَنْ أيْنَعَتْ لَهُ ثَمَرَتُهُ فَهُوَ يَهْدِبُهَا متفقٌ عَلَيْهِ

খাব্বাব ইবনে আরাত্ত্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘আমরা আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে (মদীনা) হিজরত করলাম। যার সওয়াব আল্লাহর নিকট আমাদের প্রাপ্য। এরপর আমাদের কেউ এ সওয়াব দুনিয়াতে ভোগ করার পূর্বেই বিদায় নিলেন। এর মধ্যে মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ); তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হলেন এবং শুধুমাত্র একখানা পশমের রঙিন চাদর রেখে গেলেন। আমরা (কাফনের জন্য) তা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর পা বেরিয়ে গেল। আর পা ঢাকলে তাঁর মাথা বেরিয়ে গেল। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, “তা দিয়ে ওর মাথাটা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর ‘ইযখির’ ঘাস বিছিয়ে দাও।” আর আমাদের মধ্যে এমনও লোক রয়েছেন, যাঁদের ফল পেকে গেছে। আর তাঁরা তা সংগ্রহ করছেন।’ (বুখারী ১২৭৬, মুসলিম ২২২০)

১৩৩৫

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩৫


عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ كَسْرُ عَظْمِ الْمَيِّتِ كَكَسْرِهِ حَيًّا

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মৃত (মুসলিমের) হাড় ভাঙ্গা জীবিত (মুসলিমের) হাড় ভাঙ্গার সমান।” (অর্থাৎ উভয়ের পাপ সমান।) (আবূ দাউদ ৩২০৯, ইবনে মাজাহ ১৬১৬,, ইবনে হিব্বান, আহমাদ, সহীহুল জামে’ ৪৪৭৯)

১৩৩৬

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩৬


عَنْ عَلِيٍّ قَالَ : كُنَّا فِي جَنَازَةٍ في بَقِيعِ الغَرْقَدِ فَأَتَانَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَعَدَ وَقَعَدْنَا حَوْلَهُ وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ فَنَكَّسَ وَجَعَلَ يَنْكُتُ بِمِخْصَرَتِهِ ثُمَّ قَالَمَا مِنْكُمْ مِنْ أحَدٍ إِلاَّ وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ الجَنَّةِ فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ أفَلا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابنَا ؟ فَقَالَ اِعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُوذكَر تَمَامَ الحديث متفقٌ عَلَيْهِ

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা এক জানাযার সাথে বাক্বীউল গারক্বাদ (কবর স্থানে) ছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বসলেন এবং আমরাও তাঁর আশপাশে বসে গেলাম। তাঁর সাথে একটি ছড়ি ছিল, তিনি মাথা নীচু করে তা দিয়ে (চিন্তাগ্রস্তের মত) মাটিতে আঁক কাটতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের প্রত্যেকের জাহান্নামে ও জান্নাতে ঠিকানা লিখে দেওয়া হয়েছে।” সাহাবীরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আমরা কি আমাদের (ভাগ্য) লিপির উপর ভরসা করব না?’ তিনি বললেন, “(না, বরং) তোমরা কর্ম করতে থাক। কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে কাজ সহজ হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” (বুখারী ১৩৬২, ৪৯৪৮, মুসলিম ৬৯০১-৬৯০৩)

১৩৩৭

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩৭


عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

“আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর চুনকাম করা, তার উপর বসা এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করা হতে নিষেধ করেছেন।” (মুসলিম ২২৮৯)

১৩৩৮

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩৮


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ لَعَنَ اللهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ ইয়াহুদ ও খ্রিস্টানকে অভিসম্পাত করুন (অথবা করেছেন), তারা তাদের পয়গম্বরদের সমাধিসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে।” (বুখারী ১৩৩০, ১৩৯০, মুসলিম ১২১২)

১৩৩৯

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৩৯


عَنْ جُنْدُبٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قال أَلاَ فَلاَ تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ إِنِّى أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ

জুন্দুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ১২১৬)

১৩৪০

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৪০


عَنْ أَبِى الْهَيَّاجِ الأَسَدِىِّ قَالَ قَالَ لِى عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ

আবুল হাইয়াজ আসাদী (রঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘একদা আলী বিন আবী তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই নির্দেশ দিয়ে পাঠাব না, যে নির্দেশ দিয়ে আমাকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠিয়েছিলেন? (তিনি বলেছিলেন,) “কোন মূর্তি (বা ছবি) দেখলেই তা নষ্ট করে ফেলো এবং কোন উঁচু কবর দেখলেই তা মাটি বরাবর করে দিয়ো।” (মুসলিম ২২৮৭, আবূ দাঊদ ৩২২০)

১৩৪১

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৪১


وَعَنْ أَبي عَمرٍو وَقِيلَ : أَبُو عَبدِ اللهِ وَقِيلَ : أَبُو لَيلَى عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذَا فُرِغَ مِن دَفْنِ المَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ وَقَالَ اِسْتَغْفِرُوا ِلأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الآنَ يُسألُ رواه أَبُو داود

আবূ আম্‌র মতান্তরে আবূ আব্দুল্লাহ বা আবূ লাইলা উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃতকে সমাধিস্থ করার পর তার নিকট দাঁড়িয়ে বলতেন, “তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য স্থিরতার দু‘আ কর। কেননা, এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।” (আবূ দাঊদ ৩২২৩)

১৩৪২

হাদিস সম্ভার

অধ্যায় : জানাযা অধ্যায়

হাদীস নং : ১৩৪২


وَعَنْ عَمرِو بنِ العَاصِ قَالَ : إِذَا دَفَنْتُمُونِي فَأَقِيمُوا حَوْلَ قَبْرِي قَدْرَ مَا تُنْحَرُ جَزُورٌ وَيُقَسَّمُ لَحمُهَا حَتَّى أَسْتَأنِسَ بِكُمْ، وَأعْلَمَ مَاذَا أُرَاجِعُ بِهِ رُسُلَ رَبِّي رواه مسلم وَقَدْ سبق بطوله
قَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ : وَيُسْتَحَبُّ أنْ يُقْرَأ عِنْدَهُ شَيْءٌ مِنَ القُرآنِ وَإنْ خَتَمُوا القُرآنَ عِنْدَهُ كَانَ حَسَنَاً

আম্‌র ইবনে আ’স (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘তোমরা যখন আমাকে সমাধিস্থ করবে, তখন আমার কবরের আশ-পাশে তোমরা ততক্ষণ অবস্থান করবে, যতক্ষণ একটা উট যবেহ ক’রে তার মাংস বন্টন করতে লাগে। যেন আমি তোমাদের পেয়ে নিঃসঙ্গতা বোধ না করি এবং জেনে নিই যে, আমি আমার প্রভুর দূতগণকে কী জবাব দিচ্ছি।’ (মুসলিম ৩৩৬)