All books

সহিহ বুখারী (৭২৭৫ টি হাদীস)

ওজু ১৩৫ - ২৪৭

৪/৩৪. অধ্যায়ঃ

সামনের এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ব্যতীত অন্য কারণে যিনি উযূর প্রয়োজন মনে করেন না।


আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর কারণেঃ أَو جاَ ءَ أَحَدٌ مِنكُم مِنَ الغاَئِطِ “অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার হতে আসে।” (সূরা আন-নিসা ৪/৪৩)
‘আত্বা (রহঃ) বলেন, যার পেছনের রাস্তা দিয়ে পোকা বের হয় অথবা যার পুরুষাঙ্গ দিয়ে উকুনের ন্যায় কিছু বের হয়, তার পুনরায় উযূ করতে হবে।

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কেউ সালাত অবস্থায় হেসে ফেললে পুনরায় শুধুমাত্র সালাতই আদায় করবে, পুনঃ উযু করবে না। হাসান (রাঃ) বলেন, কেউ যদি চুল অথবা নখ কাটে অথবা তার মোজা খুলে ফেলে তবে তার পুনরায় উযূ করতে হবে না। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘হাদাস’ ব্যতীত অন্য কিছুতে উযূর প্রয়োজন নেই। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত । নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘যাতুর রিকা’-এর যুদ্ধে ছিলেন। সেখানে জনৈক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হলেন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল,কিন্তু তিনি (সে অবস্থায়ই) রুকূ করলেন, সাজদা করলেন এবং সালাত আদায় করতে লাগলেন। হাসান (রহঃ) বলেন, মুসলিমগণ সব সময়ই তাদের যখম অবস্থায় সালাত আদায় করতেন এবং তাঊস (রহঃ), মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী (রহঃ), আত্বা (রহঃ) ও হিজাযবাসীগণ বলেন, রক্তক্ষরণে উযূ করতে হয় না। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) একদা একটি ছোট ফোড়াঁ টিপ দিলেন, তা থেকে রক্ত বের হল, কিন্তু তিনি উযূ করলেন না । ইব্‌নু আবূ আওফা (রাঃ) রক্ত মিশ্রিত থুতু ফেললেন কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে থাকলেন। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) ও হাসান (রহঃ) বলেন, কেউ শিঙ্গা লাগালে কেবল তার শিঙ্গা লাগানো স্থানই ধুয়ে ফেলা দরকার।

১৭৯

সহিহ বুখারী

অধ্যায় : ওজু

হাদীস নং : ১৭৯


حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنْ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ ـ رضى الله عنه ـ قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِذَا جَامَعَ فَلَمْ يُمْنِ قَالَ عُثْمَانُ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ، وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ‏.‏ قَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ عَلِيًّا، وَالزُّبَيْرَ، وَطَلْحَةَ، وَأُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ ـ رضى الله عنهم ـ فَأَمَرُوهُ بِذَلِكَ‏.‏

যায়দ ইব্‌নু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ‘উসমান ইব্‌নু আফফান (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ কেউ যদি স্ত্রী সহবাস করে, কিন্তু মনী (বীর্য) বের না হয় (তবে তার হুকুম কী)? ‘উসমান (রাঃ) বললেনঃ ‘সে সালাতের ন্যায় উযূ করে নেবে এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান (রাঃ) বলেন, আমি এ কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। (যায়দ বলেন) তারপর আমি এ সম্পর্কে আলী (রাঃ), যুবায়র (রাঃ), তালহা (রাঃ) ও উবাই ইব্‌নু কা’ব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে এ নির্দেশেই দিয়েছেন। [১]

(২৯২; মুসলিম ৩/২১, হাঃ ৩৪৭, আহমাদ ৪৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৯)

[১] হাদীসগুলোর হুকুম মানসুখ হয়ে গেছে। ইসলামিক প্রাথমিক যুগে তা বৈধ ছিল। পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ সামান্যও যদি স্ত্রীর যোনীতে প্রবেশ করে তাহলে বীর্যপাত হোক না হোক গোসল ফরয হয়ে যায়।