All books

সহিহ বুখারী (৭২৭৫ টি হাদীস)

৯২ ফিত্‌না ৭০৪৮ - ৭১৩৬

৯২/১৬. অধ্যায়ঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী ফিতনা পূর্ব দিক থেকে শুরু হবে ।

৭০৯২

সহিহ বুখারী

অধ্যায় : ফিত্‌না

হাদীস নং : ৭০৯২


عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَامَ إِلَى جَنْبِ الْمِنْبَرِ فَقَالَ الْفِتْنَةُ هَا هُنَا الْفِتْنَةُ هَا هُنَا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ أَوْ قَالَ قَرْنُ الشَّمْسِ.

সালিমের পিতা ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু্ ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সালিমের পিতা ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু্ ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একবার তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেনঃ ফিত্‌না এ দিকে, ফিত্‌না সে দিকে যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। কিংবা বলেছিলেনঃ সূর্যের মাথা উদিত হয়। [৩১০৪; মুসলিম ৫২/১৬, হাঃ ২৯০৫, আহমাদ ৪৯৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১১)

৭০৯৩

সহিহ বুখারী

অধ্যায় : ফিত্‌না

হাদীস নং : ৭০৯৩


قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُسْتَقْبِلٌ الْمَشْرِقَ يَقُولُ أَلاَ إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ.

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে পূর্ব দিকে মুখ করে বলতে শুনেছেন, সাবধান! ফিত্‌না সে দিকে যে দিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়। [৩১০৪; মুসলিম ৫২/১৬, হাঃ ২৯০৫, আহমাদ ৫৪১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১২)

৭০৯৪

সহিহ বুখারী

অধ্যায় : ফিত্‌না

হাদীস নং : ৭০৯৪


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ ذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَأْمِنَا اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَفِي نَجْدِنَا قَالَ اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَأْمِنَا اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَفِي نَجْدِنَا فَأَظُنُّهُ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ هُنَاكَ الزَّلاَزِلُ وَالْفِتَنُ وَبِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ.

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলোচনা করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের সিরিয়ায় বারকাত দাও। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের ইয়ামানে বারকাত দাও। লোকেরা বলল আমাদের নজদেও। তিনি বললেন হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের সিরিয়ায় বরকত দাও। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য বরকত দাও আমাদের ইয়ামানে। লোকেরা বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের নজদেও। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তৃতীয়বারে তিনি বললেনঃ সেখানে তো কেবল ভূমিকম্প আর ফিত্‌না। আর তথা হতে শয়তানের শিং উদিত হবে। [১৫৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৩)

[১৫৮] "পূর্ব প্রান্ত হতে ফিতনা প্রকাশ পাবে" রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই কথা বলার কারণ ছিল সেই সময় মাদীনার পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীরা ছিল কাফির গোষ্ঠী। রসূল (সাঃ)-এর এই কথা হুবহু বাস্তবায়িত হয়েছিল। কারণ প্রথম ফিতনা আরম্ভ হয়েছিল পূর্ব প্রান্ত হতেই। আর ঐ ফিতনাই মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ ছিল। তেমনি ভাবে ঐ প্রান্ত হতেই বিদ’আত উৎপন্ন হয়ছিল। ইমাম খাওাবী বলেনঃ নাজ্‌দ হচ্ছে পূর্ব দিকে। মদীনাহয় অবস্থানকারী ব্যক্তির নিকট নাজদের অবস্থান হচ্ছে ইরাক ও তার আশপাশের মরু অঞ্চল। আর তা মদীনাবাসীর পূর্ব প্রান্ত। নাজদের মূল সংজ্ঞা হল, যমীন থেকে প্রত্যেক উঁচু জায়গাকে নাজ্‌দ বলে। অর্থাৎ উচ্চভূমি যা নিম্নভূমির বিপরীত। সম্পূর্ণ তিহামা অঞ্চল নিম্নভূমির অর্ন্তগত। আর মক্কা এই তিহামা অঞ্চলেই অবস্থিত। সুতরাং যারা বলে নাজদ ইরাকের দিকে তারা “নাজদ” নামক নিদ্দিষ্ট জায়গা ধারণা করেছেন। যেমন, দাউদী। কিন্তু তা আদৌ ঠিক নয়। বরং আরবী ভাষায় প্রত্যেক উচ্চভূমি যা নিম্নভূমির বিপরীত তাকেই নাজদ নামে অভিহিত করা হয়। আর নিম্নভূমিকে গাওর নামে অভিহিত করা হয়। (ফাতহুল বারী)

৭০৯৫

সহিহ বুখারী

অধ্যায় : ফিত্‌না

হাদীস নং : ৭০৯৫


إِسْحَاقُ بْنُ شَاهِينَ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ بَيَانٍ عَنْ وَبَرَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ فَرَجَوْنَا أَنْ يُحَدِّثَنَا حَدِيثًا حَسَنًا قَالَ فَبَادَرَنَا إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدِّثْنَا عَنْ الْقِتَالِ فِي الْفِتْنَةِ وَاللهُ يَقُولُ وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ فَقَالَ هَلْ تَدْرِي مَا الْفِتْنَةُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ إِنَّمَا كَانَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم يُقَاتِلُ الْمُشْرِكِينَ وَكَانَ الدُّخُولُ فِي دِينِهِمْ فِتْنَةً وَلَيْسَ كَقِتَالِكُمْ عَلَى الْمُلْكِ.

সা’ঈদ ইব্‌নু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন একবার ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) আমাদের নিকট আসলেন। আমরা আশা করেছিলাম যে, তিনি আমাদের একটি উওম হাদীস বর্ণনা করবেন। এক ব্যক্তি তাঁর দিকে আমাদের চেয়ে এগিয়ে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! ফিত্‌নার সময় যুদ্ধ করা সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন। কেননা, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ "তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না ফিত্‌নার অবসান ঘটে" - (সূরাহ আল-বাক্কারাহ ২/১৯৩)। তখন তিনি বললেন, তোমার মা তোমার জন্য বিলাপ করুক। ফিত্‌না কাকে বলে জান কি? মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো যুদ্ধ করতেন মুশরিকদের বিরুদ্ধে। কেননা, তাদের শিরকের মধ্যে থাকাটাই আসলে ফিত্‌না। কিন্তু তা তোমাদের রাজ্য নিয়ে লড়াইয়ের মত ছিল না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৪)