All books

আল লু'লু ওয়াল মারজান (০ টি হাদীস)

১৫ হজ্জ ৭৩১-৮৮৩

১৫/১.

মুহরিম ব্যক্তির জন্য হাজ্জ অথবা উমরাহ্‌তে কী কী বৈধ আর কী কী অবৈধ এবং তার জন্য সুগন্ধি জাতীয় জিনিস ব্যবহার করা হারাম হওয়ার বর্ণনা।

৭৩১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩১


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَلْبَسُ الْقُمُصَ وَلاَ الْعَمَائِمَ وَلاَ السَّرَاوِيلاَتِ وَلاَ الْبَرَانِسَ وَلاَ الْخِفَافَ، إِلاَّ أَحَدٌ لاَ يَجِدُ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ، وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ، وَلاَ تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ أَوْ وَرْسٌ

‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! মুহরিম লোক কী কী পোশাক পরবে? আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা (ইহরাম অবস্থায়) জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যে ব্যক্তির জুতা নেই, সে কেবল মোজা পরতে পারবে, কিন্তু উভয় মোজা টাখনুর নীচ থেকে কেটে ফেলবে। আর যা‘ফরান ও ওয়ারস রং যাতে লেগেছে, এমন কাপড় পরবে না। (বুখারী পর্ব ২৫ : /২১ হাঃ ৫৮০৩, মুসলিম হাঃ)

৭৩২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩২


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ بِعَرَفَاتٍ مَنْ لَمْ يَجِدِ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسِ الْخُفَّيْنِ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ إِزَارًا فَلْيَلْبَسْ سَرَاوِيلَ لِلْمُحْرِمِ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মুহরিমদের উদ্দেশে ‘আরাফাতে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যার চপ্পল নেই সে মোজা পরিধান করবে আর যার লুঙ্গি নেই সে পায়জামা পরিধান করবে। (বুখারী পর্ব ২৮ : /১৫ হাঃ ১৮৪১, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৭৮)

৭৩৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩৩


حديث يَعْلَى قَالَ لِعُمَرَ رضي الله عنه: أَرِنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ يُوحَى إِلَيْهِ؛ قَالَ: فَبَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْجِعْرَانَةِ وَمَعَهُ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ [ص: 29] كَيْفَ تَرَى فِي رَجُلٍ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَهُوَ مُتَضَمِّخٌ بِطِيبٍ فَسَكَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاعَةً، فَجَاءَهُ الْوَحْيُ، فَأَشَارَ عُمَرُ رضي الله عنه إِلَى يَعْلَى، فَجَاءَ يَعْلَى، وَعَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَوْبٌ قَدْ أُظِلَّ بِهِ، فَأَدْخَلَ رَأْسَهُ، فَإِذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْمَرُّ الْوَجْهِ، وَهُوَ يَغِطُّ؛ ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ، فَقَالَ: أَيْنَ الَّذي سَأَلَ عَنِ الْعُمْرَةِ فَأُتِيَ بِرَجُلٍ، فَقَالَ: اغْسِلِ الطِّيبَ الَّذِي بِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، وَانْزِعْ عَنْكَ الجُبَّةَ، وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِي حَجَّتِكَ

সাফ্ওয়ান ইব্‌নু ই‘য়ালা (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

ই‘য়ালা (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর ওয়াহী অবতরণ মুহূর্তটি আমাকে দেখাবেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘জি’রানা’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তাঁর সঙ্গে কিছু সংখ্যক সহাবী ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত পোশাক পরে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলে তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। এরপর তাঁর নিকট ওহী আসল। ‘উমার (রাঃ) ই‘য়ালা (রাঃ)-কে ইঙ্গিত করায় তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। তখন একখণ্ড কাপড় দিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’র উপর ছায়া করা হয়েছিল, ই‘য়ালা (রাঃ) মাথা প্রবেশ করিয়ে দেখতে পেলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখমণ্ডল লাল বর্ণ, তিনি সজোরে শ্বাস গ্রহণ করছেন। এরপর সে অবস্থা দূর হলো। তিনি বললেনঃ ‘উমরাহ সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? প্রশ্নকারীকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেনঃ তোমার শরীরের সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল ও জুব্বাটি খুলে ফেল এবং হাজ্জে যা করে থাক ‘উমরাহতেও তাই কর। (বুখারী পর্ব ২৫ : /১৭ হাঃ ১৫৩৬, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৮০)

১৫/২.

হাজ্জ ও ‘উমরাহর মীকাতসমূহ

৭৩৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩৪


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: وَقَّتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ َلاهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ، وَلأهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ، وَلأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ الْمَنَازِلِ، وَلأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ، فَهُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرٍ أَهْلِهِنَّ لِمَنْ كَانَ يُريدُ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ، فَمَنْ كَانَ دُونَهُنَّ فَمُهَلُّهُ مِنْ أَهْلِهِ، وَكَذَاكَ، حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ يُهِلُّونَ مِنْهَا

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহ্রাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মাদীনাহবাসীদের জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নজদবাসীদের জন্য ক্বারনুল-মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। উল্লিখিত স্থানসমূহ হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য ইহরাম বাঁধার স্থান এবং মীকাতের ভিতরে স্থানের লোকেরা নিজ বাড়ি হতে ইহ্রাম বাঁধবে। এমনকি মাক্কাহবাসীগণ মাক্কাহ হতেই ইহ্রাম বাঁধবে। (বুখারী পর্ব ২৫ : /৯ হাঃ ১৫২৬, মুসলিম ১৫/২ হাঃ ১১৮১)

৭৩৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩৫


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُهِلُّ أَهْلُ الْمَدينَةِ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ، وَأَهْلُ الشَّامِ مِنَ الْجُحْفَةِ، وَأَهْلُ نَجْدٍ مِنْ قَرْنٍ قَالَ عَبْدُ اللهِ: وَبَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: وَيُهِلُّ أَهْلُ الْيَمَنِ مِنْ يَلَمْلَمَ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মাদীনাহবাসীগণ যুল-হুলাইফাহ হতে, সিরিয়াবাসীগণ জুহ্ফা হতে ও নজদবাসীগণ ক্বারণ হতে ইহরাম বাঁধবে। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি (অন্যের মাধ্যমে) অবগত হয়েছি, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালামলাম হতে ইহ্রাম বাঁধবে। (বুখারী পর্ব ২৫ : /৮ হাঃ ১৫২৫, মুসলিম ১৫/২, হাঃ ১১৮২)

১৫/৩.

তালবীয়াহ পাঠের গুণাগুণ এবং তার সময়।

৭৩৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩৬


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ تَلْبِيَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَبَّيْكَ اللهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তালবিয়া নিম্নরূপঃ (অর্থ) আমি হাযির হে আল্লাহ, আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোন অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও সকল নি‘আমত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোন অংশীদার নেই। (বুখারী পর্ব ২৫: /২৬ হাঃ ১৫৪৯, মুসলিম হাঃ)

১৫/৪.

মাদীনাহবাসীদের জন্য মাসজিদে যুল হুলাইফার নিকট থেকে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ।

৭৩৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩৭


حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: مَا أَهَلَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلاَّ مِنْ عِنْدِ الْمَسْجِدِ، يَعْنِي مَسْجِدَ ذِي الْحُلَيْفَةِ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুল-হুলাইফার মাসজিদের নিকট হতে ইহরাম বেঁধেছেন। (বুখারী পর্ব ২৫ : /২০ হাঃ ১৫৪১, মুসলিম ১৫/৪, হাঃ ১১৮৬)

১৫/৫.

পশুবাহন যাত্রার প্রস্তুতি নিলে তালবীয়াহ পাঠ।

৭৩৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩৮


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ أَرْبَعًا، لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ يَصْنَعُهَا قَالَ: وَمَا هِيَ يَا ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ: رَأَيْتُكَ لاَ تَمَسُّ مِنَ الأَرْكَانِ إِلاَّ الْيَمَانِيَيْنِ، وَرَأَيْتُكَ تَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ، وَرَأَيْتُكَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ، وَرَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الْهِلاَلَ، وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَة
قَالَ عَبْدُ اللهِ: أَمَّا الأَرْكَانُ، فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمَسُّ إِلاَّ الْيَمَانِيَيْنِ، [ص: 31] وَأَمَّا النِّعَالُ السِّبْتِيَّةُ، فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ النَّعْلَ الَّتي لَيْسَ فِيهَا شَعَرٌ، وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا، فَأَنا أُحِبُّ أَنْ أَلْبَسَهَا وَأَمَّا الصُّفْرَةُ، فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْبُغُ بِهَا، فَأَنَا أُحِبُّ أُنْ أَصْبُغَ بِهَا وَأَمَّا الإِهْلاَلُ، فَإِنِّي لَمْ أَرَ رسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ

‘উবায়দ ইব্‌নু জুরাইজ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, ‘হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখি, যা আপনার অন্য কোন সাথীকে দেখি না।’ তিনি বললেন, ‘ইব্‌নু জুরায়জ, সেগুলো কী?’ তিনি বললেন, আমি দেখি, (১) আপনি তাওয়াফ করার সময় দু’ রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত অন্য রুকন স্পর্শ করেন না। (২) আপনি ‘সিবতী’ (পশমবিহীন) জুতা পরিধান করেন; (৩) আপনি (কাপড়ে) হলুদ রং ব্যবহার করেন এবং (৪) আপনি যখন মাক্কায় থাকেন লোকে চাঁদ দেখে ইহরাম বাঁধে; কিন্তু আপনি তারবিয়াহর দিন (৮ই যিলহজ্জ) না এলে ইহরাম বাঁধেন না।
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেনঃ রুকনের কথা যা বলেছ, তা এজন্য করি যে আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইয়ামানী রুকনদ্বয় ব্যতীত আর কোনটি স্পর্শ করতে দেখিনি। আর ‘সিবতী’ জুতা, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সিবতী জুতা পরতে এবং তা পরিহিত অবস্থায় উযূ করতে দেখেছি, তাই আমি তা পরতে ভালবাসি। আর হলুদ রং, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা দিয়ে কাপড় রঙিন করতে দেখেছি, তাই আমিও তা দিয়ে রঙিন করতে ভালবাসি। আর ইহরাম,- আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে তাঁর সওয়ারী রওনা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে ইহরাম বাঁধতে দেখিনি। (বুখারী পর্ব ৪ : /৩০ হাঃ ১৬৬, মুসলিম ১৫/৫, হাঃ ১১৮৭)

১৫/৭.

ইহরাম বাঁধার সময় মুহরিম ব্যক্তির সুগন্ধি ব্যবহার।

৭৩৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৩৯


حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: كنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لإِحْرَامِهِ حِينَ يُحْرِمُ، وَلِحِلِّهِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ

নাবী সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধার সময়* আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গায়ে সুগন্ধি মেখে দিতাম এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে ইহরাম খুলে ফেলার সময়ও। (বুখারী পর্ব ২৫ : /১৮ হাঃ ১৫৩৯, মুসলিম ১৫/৭, হাঃ ১১৮৯)

৭৪০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪০


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ الطِّيبِ فِي مَفْرِقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি যেন এখনো দেখছি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইহরাম অবস্থায় তাঁর সিঁথিতে খুশবুর ঔজ্জ্বল্য রয়েছে। (বুখারী পর্ব ৫: /১৪ হাঃ ২৭১, মুসলিম ১৫/৭, হাঃ ১১৯০)

৭৪১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪১


حديث عَائِشَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَذَكَرْتُ لَهَا قَوْلَ ابْنِ عُمَرَ: مَا أُحِبُّ أَنْ أُصْبِحَ مُحْرِمًا أَنْضَخُ طِيبًا فَقَالَتْ عَائِشَةُ: أَنَا طَيَّبْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ طَافَ فِي نِسَائِهِ، ثُمَّ أَصْبَحَ مُحْرِمًا

মুহাম্মদ ইব্‌নু মুনতাশির (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)-এর উক্তি উল্লেখ করলাম,- “আমি এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধা পছন্দ করি না, যাতে সকালে আমার দেহ হতে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে।” ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সুগন্ধি লাগিয়েছি, তারপর তিনি পর্যায়ক্রমে তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন এবং তাঁর ইহরাম অবস্থায় সকাল হয়েছে। (বুখারী পর্ব ৫ : /১৪ হাঃ ২৭০, মুসলিম হাঃ)

১৫/৮.

মুহরিম ব্যক্তির জন্য শিকার করা হারাম।

৭৪২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪২


حديث الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ اللَّيْثِيِّ، أَنَّهُ أَهْدَى لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حِمَارًا وَحْشِيًّا، وَهُوَ بِالأَبْوَاءِ، أَوْ بِوَدَّانَ، فَرَدَّهُ عَلَيْهِ فَلَمَّا رَأَى مَا فِي وَجْهِهِ، قَالَ: إِنَّا لَمْ نَرُدَّهُ إِلاَّ أَنَّا حُرُمٌ

সা‘আব ইবনু জাস্সামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (সা‘আব ইবনু জাস্সামা) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য একটি বন্য গাধা হাদিয়া পাঠালেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন আবওয়া কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে ছিলেন। তিনি হাদিয়া ফেরত পাঠালেন। পরে তার বিষন্ন মুখ দেখে বললেন, শুন! আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফেরত দিতাম না। (বুখারী পর্ব ২৮ : /৬ হাঃ ২৫৭৩, মুসলিম হাঃ)

৭৪৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪৩


حديث أَبِي قَتَادَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْقَاحَةِ، وَمِنَّا الْمُحْرِمُ وَمِنَّا غَيْرُ الْمُحْرِمِ، فَرَأَيْتُ أَصْحَابِي يَتَرَاءَوْنَ شَيْئًا، فَنَظَرْتُ فَإِذَا حِمَارُ وَحْشٍ، يَعْنِي؛ فَوَقَعَ سَوْطُهُ، فَقَالُوا لاَ نُعِينُكَ عَلَيْهِ بِشَيْءٍ إِنَّا مُحْرِمُونَ، فَتَنَاوَلْتُهُ فَأَخَذْتُهُ، ثُمَّ أَتَيْتُ الْحِمَارَ مِنْ وَرَاءِ أَكَمَةٍ فَعَقَرْتُهُ، فَأَتَيْتُ بِهِ أَصْحَابِي، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: كُلُوا وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لاَ تَأْكُلُوا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ أَمَامَنَا فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: كُلُوهُ، حَلاَلٌ

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাদীনাহ হতে তিন মারহালা দূরে অবস্থিত কাহা নামক স্থানে আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আমাদের কেউ ইহরামধারী ছিলেন আর কেউ ছিলেন ইহরামবিহীন। এ সময় আমি আমার সাথী সাহাবীদেরকে দেখলাম তাঁরা একে অন্যকে কিছু দেখাচ্ছেন। আমি তাকাতেই একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। (রাবী বলেন) এ সময় তার চাবুকটি পড়ে গেল। (তিনি আনিয়ে দেয়ার কথা বললে) সকলেই বললেন, আমরা মুহরিম। তাই এ কাজে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে পারব না। অবশেষে আমি নিজেই তা উঠিয়ে নিলাম, এরপর টিলার পিছন দিক হতে গাধাটির কাছে এসে তা শিকার করে সাহাবীদের কাছে নিয়ে আসলাম। তাদের কেউ বললেন, খাও, আবার কেউ বললেন, খেয়ো না। সুতরাং গাধাটি আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি আমাদের সকলের আগে ছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ খাও, এতো হালাল। (বুখারী পর্ব ২৮ : /৪ হাঃ ১৮২৩, মুসলিম হাঃ)

৭৪৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪৪


حديث أَبِي قَتَادَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: انْطَلَقَ أَبِي، عَامَ الحُدَيْبِيَةِ، فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ وَلَمْ يُحْرِمْ وَحُدِّثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ عَدُوًّا يَغْزُوهُ، فَانْطَلَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ فَبَيْنَمَا أَنَا مَعَ أَصْحَابِهِ، تَضَحَّكَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا أَنَا بِحِمَارِ وَحْشٍ فَحَمَلْتُ عَلَيْهِ فَطَعَنْتُهُ فَأَثْبَتُّهُ، وَاسْتَعَنْتُ بِهِمْ، فَأَبَوْا أَنْ يُعِينُوني، فَأَكَلْنَا مِنْ لَحْمِهِ، وَخَشِينَا أَنْ نُقْتَطَعَ، فَطَلَبْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْفَعُ فَرَسِي شَأْوًا وَأَسِيرُ شَأْوًا، فَلَقِيت رَجُلاً مِنْ بَنِي غِفَارٍ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ؛ قُلْتُ: أَيْنَ تَرَكْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: تَرَكْتُهُ بِتَعْهنَ، وَهُوَ قَايِلٌ السُّقْيَا فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أَهْلَكَ يَقْرَءُونَ عَلَيْكَ السَّلاَمَ وَرَحْمَةَ اللهِ، إِنَّهُمْ قَدْ خَشُوا أَنْ يُقْتَطَعُوا دُونَكَ فَانْتَظِرْهُمْ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَصَبْتُ حِمَارَ وَحْشٍ وَعِنْدِي مِنْهُ فَاضِلَةٌ، فَقَالَ لِلْقَوْمِ: كُلُوا وَهُمْ مُحْرِمُونَ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা হুদাইবিয়ার বছর (শত্রুদের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য) বের হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন কিন্তু তিনি ইহরাম বাঁধলেন না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলা হল, একটি শত্রুদল তাঁর সাথে যুদ্ধ করতে চায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন। এ সময় আমি তাঁর সহাবীদের সাথে ছিলাম। হঠাৎ দেখি যে, তারা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে। আমি তাকাতেই একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। অমনিই আমি বর্শা দিয়ে আক্রমণ করে তাকে ধরাশায়ী করে ফেলি। সঙ্গীদের নিকট সহযোগিতা কামনা করলে সকলে আমাকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করল। এরপর আমরা সকলেই ঐ বন্য গাধার গোশত খেলাম। এতে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার আশঙ্কা করলাম। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সন্ধানে আমার ঘোড়াটিকে কখনো দ্রুত কখনো আস্তে চালাচ্ছিলাম। মাঝ রাতের দিকে গিফার গোত্রের এক লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কোথায় রেখে এসেছ? সে বললো, তা‘হিন নামক স্থানে আমি তাঁকে রেখে এসেছি। এখন তিনি সুকয়া নামক স্থানে কায়লূলায় (দুপুরের বিশ্রামে) আছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সহাবীগণ আপনার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন। তাঁরা আপনার হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই আপনি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করুন। অতঃপর আমি পুনরায় বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি একটি বন্য গাধা শিকার করেছি। এখনো তার বাকী অংশটুকু আমার নিকট রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাওমের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা খাও। অথচ তাঁরা সকলেই তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৮ : /২ হাঃ ১৮২১, মুসলিম ১৫/৮, হাঃ ১১৯৬)

৭৪৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪৫


حديث أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ حَاجًّا، فَخَرَجُوا مَعَهُ، فَصَرَفَ طَائِفَةً مِنْهُمْ، فِيهِمْ أَبُو قَتَادَةَ؛ فَقَالَ: خُذُوا سَاحِلَ الْبَحْرِ حَتَّى نَلْتَقِيَ فَأَخَذُوا سَاحِلَ الْبَحْرِ، فَلَمَّا انْصَرَفُوا أَحْرَمُوا كُلُّهُمْ، إِلاَّ أَبُو قَتَادَةَ لَمْ يُحْرِمْ؛ فَبَيْنَمَا هُمْ يَسِيرُونَ إِذْ رَأَوْا حُمُرَ وَحْشٍ، فَحَمَلَ أَبُو قَتَادَةَ عَلَى الْحُمُرِ فَعَقَرَ مِنْهَا أَتَانًا، فَنَزَلُوا [ص: 34] فأَكَلُوا مِنْ لَحْمِهَا، وَقَالُوا: أَنَأْكُلُ لَحْمَ صَيْدٍ وَنَحْنُ مُحْرِمُونَ فَحَمَلْنَا مَا بَقِيَ مِنْ لَحْمِ الأَتَانِ، فَلَمَّا أَتَوْا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا كُنَّا أَحْرَمْنَا، وَقَدْ كَانَ أبُو قَتَادَةَ لَمْ يُحْرِمْ، فَرَأَيْنَا حُمُرَ وَحْشٍ، فَحَمَلَ عَلَيْهَا أَبُو قَتَادَةَ، فَعَقَرَ مِنْهَا أَتَانًا، فَنَزَلْنَا فَأَكَلْنَا مِنْ لَحْمِهَا، ثُمَّ قُلْنَا: أَنَأْكُلُ لَحْمَ صَيْدٍ وَنَحْنُ مُحْرِمُونَ فَحَمَلْنَا مَا بَقي مِنْ لَحْمِهَا، قَالَ: مِنْكُمْ أَحَدٌ أَمَرَهُ أَنْ يَحْمِلَ عَلَيْهَا أَوْ أَشَارَ إِلَيْهَا قَالُوا: لاَ قَالَ: فَكُلُوا مَا بَقِيَ مِنْ لَحْمِهَا

আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জে যাত্রা করলে তাঁরাও সকলে যাত্রা করলেন। তাঁদের হতে একটি দলকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্য পথে পাঠিয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ)-ও ছিলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা সমুদ্র তীরের রাস্তা ধরে অগ্রসর হবে আমাদের পরস্পর সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত। তাই তাঁরা সকলেই সমুদ্র তীরের পথ ধরে চলতে থাকেন। ফিরার পথে তাঁরা সবাই ইহরাম বাঁধলেন কিন্তু আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) ইহরাম বাঁধলেন না। পথ চলতে চলতে হঠাৎ তাঁরা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন। আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) গাধাগুলোর উপর হামলা করে একটি মাদী গাধাকে হত্যা করে ফেললেন। এরপর এক স্থানে অবতরণ করে তাঁরা সকলেই এর গোশত খেলেন। অতঃপর বললেন, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকার্য জন্তুর গোশত খেতে পারি? তাই আমরা গাধাটির অবশিষ্ট গোশত উঠিয়ে নিলাম। তাঁরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ইহরাম বেঁধেছিলাম কিন্তু আবূ কাতাদাহ (রাঃ) ইহরাম বাঁধেননি। এ সময় আমরা কতকগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) এগুলোর উপর আক্রমণ করে একটি মাদী গাধা হত্যা করে ফেললেন। এক স্থানে অবতরণ করে আমরা সকলেই এর গোশত খেয়ে নিই। এরপর বললাম, আমরা তো মুহরিম, এ অবস্থায় আমরা কি শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত খেতে পারি? এখন আমরা এর অবশিষ্ট গোশত নিয়ে এসেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের কেউ কি এর উপর আক্রমণ করতে তাকে আদেশ বা ইঙ্গিত করেছ? তাঁরা বললেন, না, আমরা তা করিনি। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে বাকী গোশত তোমরা খেয়ে নাও। (বুখারী পর্ব ২৮ : /৫ হাঃ ১৮২৪, মুসলিম হাঃ)

১৫/৯.

হারাম শরীফের আওতার ভিতর এবং আওতার বাইরে মুহরিম এবং অন্যান্যদের জন্য যে সমস্ত প্রাণী হত্যা করার অনুমতি আছে।

৭৪৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪৬


حديث عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ، كُلُّهُنَّ فَاسِقٌ، يُقْتَلْنَ فِي الْحَرَمِ: الْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী এত ক্ষতিকর যে, এগুলোকে হারামের মধ্যেও হত্যা করা যেতে পারে। (যেমন) কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর। (বুখারী পর্ব ২৮ : /৭ হাঃ ১৮২৯, মুসলিম ১৫/৯, হাঃ ১১৯৮)

৭৪৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪৭


حديث حَفْصَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ لاَ حَرَجَ عَلَى مَنْ قَتَلَهُنَّ: الْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْفَأْرَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হাফসাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী যে হত্যা করবে তার কোন দোষ নেই। (যেমন) কাক, চিল, ইঁদুর, বিচ্ছু ও হিংস্র কুকুর। (বুখারী পর্ব ২৮ : /৭ হাঃ ১৮২৮, মুসলিম ১৫/৯, হাঃ ১১৯৯, ১২০০)

৭৪৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪৮


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ لَيْسَ عَلَى الْمُحْرِمِ فِي قَتْلِهِنَّ جُنَاحٌ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করা মুহরিমের জন্য দূষণীয় নয়। (বুখারী পর্ব ২৮ : /৭ হাঃ ১৮২৬, মুসলিম হাঃ)

১৫/১০.

মুহরিম ব্যক্তির মাথা মুণ্ডন করা বৈধ। এর (চুলের) মাধ্যমে যদি কষ্ট পায় এবং তার মাথা মুণ্ডনের কারণে ফিদ্য়াহ দেয়া অপরিহার্য এবং ফিদ্য়াহ আদায়ের পরিমাণের বর্ণনা।

৭৪৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৪৯


حديث كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَعَلَّكَ آذاكَ هَوَامُّكَ قَالَ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: احْلِقْ رَأْسَكَ، وَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ، أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ، أَوِ انْسُكْ بِشَاةٍ

কা‘ব ইব্‌নু ‘উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বোধ হয় তোমার এই পোকাগুলো (উকুন) তোমাকে খুব তাকলীফ দিচ্ছে? তিনি বললেন, হাঁ, ইয়া আল্লাহর রসূল! এরপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি মাথা মুণ্ডন করে ফেল এবং তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাও কিংবা একটা বকরী কুরবানী কর। (বুখারী পর্ব ২৭ : /৫ হাঃ ১৮১৪, মুসলিম ১৫/১০, হাঃ ১২০১)

৭৫০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫০


حديث كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَعْقِلٍ، قَالَ: قَعَدْتُ إِلَى كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ فِي هذَا الْمَسْجِدِ، يَعْنِي مَسْجِدَ الْكُوفَةِ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ (فِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ) فَقَالَ: حُمِلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالْقَمْلُ يَتَنَاثَرُ عَلَى وَجْهِي، فَقَالَ: مَا كُنْتُ أُرَى أَنَّ الْجَهْدَ قَدْ بَلَغَ بِكَ هذَا، أَمَا تَجِدُ شَاةً قُلْتُ: لاَ، قَالَ: صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ، أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ، لِكُلِّ مِسْكِينٍ نِصْفُ صَاعٍ مِنْ طَعَامٍ، وَاحْلِقْ رَأْسَكَ فَنَزَلَتْ فِيَّ خَاصَّةً، وَهِيَ لَكُمْ عَامَّةً

‘আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ-এর নিকট এই কূফার মাসজিদে বসে থাকাকালে সওমের ফিদ্য়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমার চেহারায় উকুন ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আনা হয়। তিনি তখন বললেন, আমি মনে করি যে, এতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বাক্রী সংগ্রহ করতে পার? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য দান কর। প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা‘ খাদ্য দান করতে হবে এবং তোমার মাথার চুল কামিয়ে ফেল। তখন আমার ব্যাপারে বিশেষভাবে আয়াত অবতীর্ণ হয়। তবে তোমাদের সকলের জন্য এই হুকুম। (বুখারী পর্ব ৬৫ : /৩২ হাঃ ৪৫১৭, মুসলিম হাঃ)

১৫/১১.

মুহরিম ব্যক্তির শিঙ্গা লাগানো বৈধ।

৭৫১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫১


حديث ابْنِ بُحَيْنَةَ رضي الله عنه، قَالَ: احْتَجَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ مُحْرِمٌ، بِلَحْيِ جَمَلٍ، فِي وَسَطِ رَأْسِهِ

ইব্‌নু বুহাইনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম অবস্থায় ‘লাহইয়ে জামাল’ নামক স্থানে তাঁর মাথার মধ্যখানে সিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৮/১১ হাঃ ১৮৩৬, মুসলিম পর্ব ১৫/১১, হাঃ ১২০৩)

১৫/১৩.

মুহরিম ব্যক্তির মাথা এবং শরীর ধৌত করা বৈধ।

৭৫২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫২


حديث أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ حُنَيْنٍ، قَالَ: إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ الْعَبَّاسِ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ اخْتَلَفَا بِالأَبْوَاءِ؛ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ: يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ؛ وَقَالَ الْمِسْوَرُ: لاَ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ؛ فَأَرْسَلَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ الْعَبَّاسِ إِلَى أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ بَيْنَ الْقَرْنَيْنِ، وَهُوَ يُسْتَرُ بِثَوْبٍ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: مَنْ هذَا فَقُلْتُ: أَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ حُنَيْنٍ، أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْعَبَّاسِ أَسْأَلُكَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَوَضَعَ أَبُو أَيُّوبَ يَدَهُ عَلَى الثَّوْبِ، فَطَأْطَأَهُ حَتَّى بَدَا لِي رَأْسُهُ، ثُمَّ قَالَ لإِنْسَانٍ يَصُبُّ عَلَيْهِ: اصْبُبْ؛ فَصَبَّ عَلَى رَأْسِهِ، ثُمَّ حَرَّكَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ؛ وَقَالَ: هكَذَا رَأَيْتُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ

আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু হুনায়ন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্ওয়া নামক জায়গায় ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) এবং মিসওয়ার ইব্‌নু মাখরামাহ (রাঃ)-এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল। ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, মুহরিম ব্যক্তি তার মাথা ধুতে পারবে আর মিসওয়ার (রাঃ) বললেন, মুহরিম তার মাথা ধুতে পারবে না। এরপর ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে আবু আইয়ূব আনসারী (রাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। আমি তাঁকে কুয়া হতে পানি উঠানো চরকার দু’ খুঁটির মধ্যে কাপড় ঘেরা অবস্থায় গোসল করতে দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, কে? বললাম, আমি ‘আবদুল্লাহ ইব্ন হুনায়ন। মুহরিম অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে তাঁর মাথা ধুতেন, এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য আমাকে ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন। এ কথা শুনে আবূ আইয়ুব (রাঃ) তাঁর হাতটি কাপড়ের উপর রাখলেন এবং সরিয়ে দিলেন। ফলে তাঁর মাথাটি আমি সুস্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে, যে তার মাথায় পানি ঢালছিল, বললেন, পানি ঢাল। সে তাঁর মাথায় পানি ঢালতে থাকল। অতঃপর তিনি দু’ হাত দিয়ে মাথা নাড়া দিয়ে হাত দু’খানা একবার সামনে আনলেন আবার পেছনের দিকে টেনে নিলেন। এরপর বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরকম করতে দেখেছি। (বুখারী পর্ব ২৮/১৪ হাঃ ১৮৪০, মুসলিম পর্ব ১৫/১৩, হাঃ ১২০৫)

১৫/১৪.

মুহরিম ব্যক্তি মারা গেলে কী করা হবে।

৭৫৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫৩


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ، إِذْ وَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَوَقَصَتْهُ، أَوْ قَالَ، فَأَوْقَصَتْهُ؛ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ وَلاَ تُحَنِّطُوهُ، وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ، فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا

‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে ওয়াকূফ অবস্থায় অকস্মাৎ তার উটনী হতে পড়ে যায়। এতে তাঁর ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেছেন, তাঁর ঘাড় মটকে দিল। (যাতে সে মারা গেল)। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও। তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তাঁর মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, কিয়ামাতের দিবসে সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত হবে। (বুখারী পর্ব ২৩/২০ হাঃ ১২৬৫, মুসলিম পর্ব ১৫/১৪, হাঃ ১২০৬)

১৫/১৫.

অসুখ বা অন্য কোন কারণে মুহরিম ব্যক্তির ইহরাম খুলে ফেলার শর্ত করা বৈধ।

৭৫৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫৪


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَلَى ضُبَاعَةَ بِنْتِ الزُّبَيْرِ، فَقَالَ لَهَا: لَعَلَّكِ أَرَدْتِ الْحَجَّ قَالَتْ: وَاللهِ لاَ أَجِدُنِي إِلاَّ وَجِعَةً فَقَالَ لَهَا: حُجِّى وَاشْتَرِطِي، قُولِي: اللهُمَّ مَحِلِّى حَيْثُ حَبَسْتَنِي وَكَانَتْ تَحْتَ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবা‘আহ বিনতে যুবায়র-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন- তোমার হাজ্জে যাওয়ার ইচ্ছে আছে কি? সে উত্তর দিল, আল্লাহ্‌র কসম! আমি খুবই অসুস্থ বোধ করছি (তবে হাজ্জে যাবার ইচ্ছে আছে) তার উত্তরে বললেন, তুমি হাজ্জের নিয়্যতে বেরিয়ে যাও এবং আল্লাহ্‌র কাছে এই শর্তারোপ করে বল, হে আল্লাহ্! যেখানেই আমি বাধাগ্রস্ত হব, সেখানেই আমি আমার ইহ্‌রাম শেষ করে হালাল হয়ে যাব। সে ছিল মিকদাদ ইব্‌নু আসওয়াদের স্ত্রী। (বুখারী পর্ব ৬৭/১৫ হাঃ ৫০৮৯, মুসলিম পর্ব ১৫ হাঃ ১২০৭)

১৫/১৭.

ইহরামের প্রকারভেদ, আর তা হাজ্জে ইফরাদ এবং তামাত্তু এবং ক্বিরান এবং হাজ্জ ও ‘উমরাহ্‌কে যুক্ত করা বৈধ এবং হাজ্জ ক্বারেন আদায়কারী কখন তার ইহরাম থেকে হালাল হবে।

৭৫৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫৫


حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص: 38] فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهِلَّ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ، ثُمَّ لاَ يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَميعًا فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ، وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَشَكَوْتُ ذلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: انْقُضِى رَأْسَكِ، وَامْتَشِطِى وَأَهِلِّى بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ، فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ: هذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ قَالَتْ: فَطَافَ الَّذِينَ كَانُوا أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالمَرْوَةِ، ثُمَّ حَلُّوا، ثُمَّ طَافُوا طَوافًا وَاحِدًا بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى وَأَمَّا الَّذيِنَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوافًا وَاحِدًا

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হয়ে ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধি। নাবী বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জের ইহ্‌রামও বেঁধে নেয়। অতঃপর সে ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না। [‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন] এরপর আমি মাক্কায় ঋতুবতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আঁচড়িয়ে নাও এবং হাজ্জের ইহ্‌রাম বহাল রাখ এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হাজ্জ সম্পন্ন করার পর আমাকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বাক্‌র (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈম-এ প্রেরণ করেন।* সেখান হতে আমি ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যাঁরা ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যাঁরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৩১ হাঃ ১৫৫৬, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭ হাঃ ১২১১)

৭৫৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫৬


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ، وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ، فَقَدِمْنَا مَكَّةَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَلَمْ يُهْدِ فَلْيُحْلِلْ، وَمَنْ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَأَهْدَى فَلاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ بِنَحْرِ هَدْيِهِ، وَمَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ فَلْيُتِمَّ حَجَّهُ قالَتْ: فَحِضْتُ فَلَمْ أَزَلْ حَائِضًا حَتَّى كَانَ يَوْمُ عَرَفَةَ [ص: 39] وَلَمْ أُهْلِلْ إِلاَّ بِعُمْرَةٍ، فَأَمَرَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَنْقُضَ رَأْسِي وَأَمْتَشِطَ وَأُهِلَّ بِحَجٍّ، وَأَتْرُكَ الْعُمْرَةَ، فَفَعَلْتُ ذلِكَ حَتَّى قَضَيْتُ حَجِّى؛ فَبَعَثَ مَعِي عَبْدَ الرَّحْمنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ، وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَمِرَ، مَكَانَ عُمْرَتِي، مِنَ التَّنْعِيمِ

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের সময় বের হয়েছিলাম। আমাদের কেউ ইহরাম বেঁধেছিল উমরার আর কেউ বেঁধেছিল হজ্জের। আমরা মাক্কায় এসে পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে ও কুরবানীর পশু সাথে এনেছে, তারা যেন কুরবানী করা পর্যন্ত ইহরাম না খোলে। আর যারা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে তারা যেন হাজ্জ পূর্ণ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর আমার হায়য শুরু হয় এবং আরাফার দিনেও তা বহাল থাকে। আমি শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মাথার বেণী খোলার, চুল আঁচড়িয়ে নেয়ার এবং ‘উমরাহর ইহরাম ছেড়ে হজ্জের ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম। পরে হাজ্জ সমাধান করলাম। অতঃপর ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বাক্‌র (রাঃ)-কে আমার সাথে পাঠালেন। তিনি আমাকে তান‘ঈম হতে আমার পূর্বের পরিত্যক্ত ‘উমরার পরিবর্তে ‘উমরাহ পালনের অদেশ করলেন। (বুখারী পর্ব ৬/১৮ হাঃ ৩১৯, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭ হাঃ ১২১১)

৭৫৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫৭


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا لاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ، فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ، فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي، قَالَ: مَا لَكِ، أَنُفِسْتِ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: إِنَّ هذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاقْضِى مَا يَقْضِى الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ قَالَتْ: وَضَحَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা হাজ্জের উদ্দেশেই (মদীনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়য আসলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ কী হলো তোমার? তোমার হায়য এসেছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ এ তো আল্লাহ্ তা‘আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বায়তুল্লাহ্‌র তাওয়াফ ছাড়া হাজ্জের বাকী সব কাজ করে যাও। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন। (বুখারী পর্ব ৬/১ হাঃ ২৯৪, মুসলিম ১৫/১৭ হাঃ ১২১১)

৭৫৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫৮


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ وَحُرُمِ الْحَجِّ، فَنَزَلْنَا سَرِفَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ َلاصْحَابِهِ: مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَجْعَلَهَا عُمْرَةً فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلاَ وَكَانَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجَالٍ مِنْ أَصْحَابِهِ ذَوِي قُوَّةٍ الْهَدْىُ، فَلَمْ تَكُنْ لَهُمْ عُمْرَةً، فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي، فَقَالَ: مَا يُبْكِيكِ قُلْتُ: سَمِعْتُكَ تَقُولُ َلأصْحَابِكَ مَا قُلْتَ فَمُنِعْتُ الْعُمْرَةَ، قَالَ: وَمَا شَأْنُكِ قُلْتُ: لاَ أُصَلِّي قَالَ: فَلاَ يَضُرَّكِ، أَنْتِ مِنْ بَنَاتِ آدَمَ، كُتِبَ عَلَيْكِ مَا كُتِبَ عَلَيْهِنَّ، فَكُونِي فِي حَجَّتِكِ، عَسى اللهُ أَنْ يَرْزُقَكِهَا
قَالَتْ: فَكُنْتُ، حَتَّى نَفَرْنَا مِنْ مِنًى، فَنَزَلْنَا الْمُحَصَّبَ، فَدَعَا عَبْدَ الرَّحْمنِ، فَقَالَ: [ص: 40] اخْرُجْ بِأخْتِكَ الْحَرَمَ، فَلْتَهِلَّ بِعُمْرَةٍ، ثُمَّ افْرُغَا مِنْ طَوَافِكمَا أَنْتَظِرْكُمَا ههُنَا فَأَتَيْنَا فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، فَقَالَ: فَرَغْتُمَا قُلْتُ: نَعَمْ فَنَادَى بِالرَّحِيلِ فِي أَصْحَابِهِ، فَارْتَحَلَ النَّاسُ وَمَنْ طَافَ بِاللَّيْلِ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ، ثُمَّ خَرَجَ مُوَجِّهًا إِلَى الْمَدِينَةِ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হাজ্জের ইহরাম বেঁধে বের হলাম, হাজ্জের মাসে এবং হাজ্জের কার্যাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণকে বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই এবং সে এই ইহরামকে ‘উমরাহ্‌য় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ ‘উমরাহ করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না। (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল, তাঁদের হাজ্জ ‘উমরাহ্‌য় পরিণত হল না। [‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন] আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো ‘উমরাহ হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না (ঋতুবতী অবস্থায়)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো আদম কন্যাদেরই একজন। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হাজ্জ আদায় কর। সম্ভবতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে ‘উমরাহও দান করবেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুহাস্‌সাবে অবতরণ করলাম। অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান [‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর সহোদর ভাই] (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান হতে যেন সে ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধে। অতঃপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাতে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যাঁরা ফাজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাহ অভিমুখে রওয়ানা হলেন। (বুখারী পর্ব ২৬/৯ হাঃ ১৭৮৮, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭, হাঃ ১২১১)

৭৫৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৫৯


حديث عَائِشَةَ، خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلاَ نُرَى إِلاَّ أَنَّهُ الْحَجُّ، فَلَمَّا قَدِمْنَا تَطَوَّفْنَا بِالْبَيْتِ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْىَ أَنْ يَحِلَّ، فَحَلَّ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْىَ وَنِسَاؤُهُ لَمْ يَسُقْنَ فَأَحْلَلْنَ قَالَتْ عَائِشَةُ، فَحِضْتُ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ، فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ يَرْجِعُ النَّاسُ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ وَأَرْجِعُ أَنَا بِحَجَّةٍ قَالَ: وَمَا طُفْتِ لَيَالِيَ قَدِمْنَا مَكَّةَ قُلْتُ: لاَ قَالَ: فَاذْهَبِى مَعَ أَخِيكِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهِلِّى بِعُمْرَةٍ، ثُمَّ مَوْعِدُكِ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ صَفِيَّةُ: مَا أُرَانِي إِلاَّ حَابِسَتَهُمْ قَالَ: عَقْرَى حَلْقَى أَوَ مَا طُفْتِ يَوْمَ النَّحْرِ [ص: 41] قَالَتْ، قُلْتُ: بَلَى قَالَ: لاَ بَأْسَ، انْفِرِى قَالَتْ عَائِشَةُ: فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُصْعِدٌ مِنْ مَكَّةَ وَأَنَا مُنْهَبِطَةٌ عَلَيْهَا، أَوْ أَنَا مُصْعِدَةٌ وَهُوَ مُنْهَبِطٌ مِنْهَا

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম এবং একে হাজ্জের সফর বলেই আমরা জানতাম। আমরা যখন (মাক্কায়) পৌঁছে বাইতুল্লাহ-এর তাওয়াফ করলাম তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেনঃ যারা কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়ে আসেনি তারা যেন ইহরাম ছেড়ে দেয়। তাই যিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে আনেননি তিনি ইহরাম ছেড়ে দেন। আর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীগণ ইহরাম ছেড়ে দিলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি ঋতুবতী হয়েছিলাম বিধায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারিনি। (ফিরতি পথে) মুহাসসাব নামক স্থানে রাত যাপনকালে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই ‘উমরাহ ও হাজ্জ উভয়টি সমাধা করে ফিরছে আর আমি কেবল হাজ্জ করে ফিরছি। তিনি বললেনঃ আমরা মাক্কাহ পৌঁছলে তুমি কি সে দিনগুলোতে তওয়াফ করনি? আমি বললাম, জী-না। তিনি বললেন, তোমার ভাই-এর সাথে তান্‘ঈম চলে যাও, সেখান হতে ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধবে। অতঃপর অমুক স্থানে তোমার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কী বললে! তুমি কি কুরবানীর দিনগুলোতে তাওয়াফ করনি! আমি বললাম, হাঁ করেছি। তিনি বললেনঃ তবে কোন অসুবিধা নেই, তুমি চল। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এমতাবস্থায় আমার সাক্ষাৎ হলো যখন তিনি মাক্কাহ ছেড়ে উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি মাক্কাহ্‌র দিকে অবতরণ করছি। অথবা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি উঠছি ও তিনি অবতরণ করছেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৩৪ হাঃ ১৫৬১, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭, হাঃ ১২১১)

৭৬০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬০


حديث عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَنْ يُرْدِفَ عَائِشَةَ وَيُعْمِرَهَا مِنَ التَّنْعِيمِ

‘আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বাক্র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর সওয়ারীর পিঠে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বসিয়ে তান‘ঈম হতে ‘উমরাহ করানোর নির্দেশ দেন। (বুখারী পর্ব ২৬/৬ হাঃ ১৭৮৪, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭, হাঃ ১২১২)

৭৬১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬১


حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَطَاءٍ؛ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ، فِي أُنَاسٍ مَعَهُ، قَالَ: أَهْلَلْنَا، أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَجِّ خَالِصًا لَيْسَ مَعَهُ عُمْرَةٌ قَالَ عَطَاءٌ، قَالَ جَابِرٌ: فَقَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُبْحَ رَابِعَةٍ مَضَتْ مِنْ ذِي الْحَجَّةِ، فَلَمَّا قَدِمْنَا أَمَرَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَحِلَّ، وَقَالَ: أَحِلُّوا وَأَصِيبُوا مِنَ النِّسَاءَ قَالَ عَطَاءٌ، قَالَ جَابِرٌ وَلَمْ يَعْزِمْ عَلَيْهِمْ، وَلكِنْ أَحَلَّهُنَّ لَهُمْ؛ فَبَلَغَهُ أَنَّا نَقُولُ: لَمَّا لَمْ يَكُنْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلاَّ خَمْسٌ أَمَرَنَا أَنْ نَحِلَّ إِلَى نِسَائِنَا، فَنَأْتِي عَرَفَةَ تَقْطُر مَذَاكِيرُنَا الْمَذْيَ قَالَ، وَيَقُولَ جَابِرٌ، بِيَدِهِ هكَذَا، وَحَرَّكَهَا؛ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: قَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي أَتْقَاكُمْ للهِ وَأَصْدَقُكُمْ وَأَبَرُّكُمْ، وَلَوْلاَ هَدْيِي لَحَلَلْتُ كَمَا تَحِلُّونَ، فَحِلُّوا فَلَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِى مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ فَحَلَلْنَا وَسَمِعْنَا وَأَطَعْنَا

‘আত্বা (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তাঁর সঙ্গে তখন আরো কিছু লোক ছিল। আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ শুধু হাজ্জের নিয়তে ইহ্‌রাম বেঁধেছিলাম। এর সঙ্গে ‘উমরাহ্র নিয়ত ছিল না। বর্ণনাকারী ‘আত্বা (রহ.) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহাজ্জ মাসের চার তারিখ সকাল বেলায় (মাক্কাহয়) আগমন করলেন। এরপর আমরাও যখন আগমন করলাম, তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইহ্‌রাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা ইহ্‌রাম খুলে ফেল এবং স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হও। (রাবী) ‘আত্বা (রহ.) বর্ণনা করেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, (স্ত্রীদের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করা) তিনি তাদের উপর বাধ্যতামূলক করেননি বরং মুবাহ্ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি অবগত হন যে, আমরা বলাবলি করছি: আমাদের ও আরাফার দিনের মাঝখানে মাত্র পাঁচদিন বাকি, তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা ইহ্‌রাম খুলে স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হই। তখন তো আমরা পৌঁছব আরাফায় আর আমাদের পুরুষাঙ্গ থেকে মযী ঝরতে থাকবে। ‘আত্বা বলেন, জাবির (রাঃ) এ কথা বোঝানোর জন্য হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেছিলেন কিংবা হাত নেড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে বললেনঃ তোমরা জান, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্‌কে অধিক ভয় করি, তোমাদের তুলনায় আমি অধিক সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান। আমার সঙ্গে যদি কুরবানীর পশু না থাকত, আমিও তোমাদের মত ইহরাম খুলে ফেলতাম। সুতরাং তোমরা ইহ্‌রাম খুলে ফেল। আমি যদি আমার কাজের পরিণাম আগে জানতাম যা পরে অবগত হয়েছি তবে আমি কুরবাণীর পশু সঙ্গে আনতাম না। অতএব আমরা ইহ্‌রাম খুলে ফেললাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ শুনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম। (বুখারী পর্ব ৯৬/১৭ হাঃ ৭৩৬৭, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭, হাঃ ১২৪০)

৭৬২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬২


حديث جَابِرٍ، قَالَ: أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيًّا أَنْ يُقِيمَ عَلَى إِحْرَامِهِ قَالَ جَابِرٌ: فَقَدِمَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه بِسِعَايَتِهِ، قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بِمَ أَهْلَلْتَ يَا عَلِيُّ قَالَ: بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَأَهْدِ وَامْكُثْ حَرَامًا كَمَا أَنْتَ قَالَ، وَأَهْدَى لَهُ عَلِيٌّ هَدْيًا

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আলী (রাঃ)-কে তাঁর কৃত ইহরামের উপর স্থির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাক্র ইবনু জুরাইজ-‘আত্বা (রহ.)-জাবির (রাঃ) সূত্রে আরও বর্ণনা করেন যে, জাবির (রাঃ) বলেছেনঃ ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব তাঁর আদায়কৃত কর খুমুস নিয়ে (মাক্কায়) আসলেন। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, হে ‘আলী! তুমি কিসের ইহ্‌রাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেটির ইহ্‌রাম বেঁধেছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তা হলে তুমি কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দাও এবং ইহ্‌রাম বাঁধা এ অবস্থায় অবস্থান করতে থাক। বর্ণনাকারী [জাবির (রাঃ)] বলেন, সে সময় ‘আলী (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য কুরবানীর পশু পাঠিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ৬৪/৬১ হাঃ ৪৩৫২, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬)

৭৬৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬৩


حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهَلَّ وَأَصْحَابَهُ بِالْحَجِّ، وَلَيْسَ مَعَ أَحَدٍ مِنْهُمْ هَدْىٌ، غَيْرَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَطَلْحَةَ وَكَانَ عَلِيٌّ قَدِمَ مِنَ الْيَمَنِ وَمَعَهُ الْهَدْيُ، فَقَالَ: أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ وَأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذِنَ لأَصْحَابِهِ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً، يَطُوفُوا بِالْبَيْتِ، ثُمَّ يُقَصِّرُوا وَيَحِلُّوا، إِلاَّ مَنْ مَعَهُ الْهَدْيُ، فَقَالُوا نَنْطَلِقُ إِلَى مِنًى وَذَكَرُ أَحَدِنَا يَقْطُرُ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِى مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ، وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهَدْيَ لأَحْلَلْتُ وَأَنَّ عَائِشَةَ حَاضَتْ، فَنَسَكَتِ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا، غَيْرَ أَنَّهَا لَمْ تَطُفْ بِالْبَيْتِ؛ قَالَ: فَلَمَّا طَهُرَتْ وَطَافَتْ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنْطَلِقُونَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ وَأَنْطَلِقُ بِالْحَجِّ فَأَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ أَنْ يَخْرُجَ مَعَهَا إِلَى التَّنْعِيمِ، فَاعْتَمَرَتْ بَعْدَ الْحَجِّ فِي ذِي الْحَجَّة
وَأَنَّ سُرَاقَةَ بْنَ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ لَقِيَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْعَقَبَةِ وَهُوَ يَرْمِيهَا، فَقَالَ: أَلَكُمْ هذِهِ خَاصَّةً يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: لاَ، بَلْ لِلأَبَدِ

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিল না। আর ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বিষয়ে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহ্‌রাম বাঁধলাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ইহ্‌রামকে ‘উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার রয়েছে (তারা হালাল হবে না)। তাঁরা বললেন, আমরা মিনার দিকে রওয়ানা হবো এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমি এ ব্যাপারে পূর্বে জানতাম, যা পরে জানতে পারলাম, তাহলে কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে আনতাম না। আর যদি কুরবানীর পশু আমার সাথে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম। আর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন। রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনারা তো হাজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টি পালন করে ফিরছেন, আমি কি শুধু হাজ্জ করেই ফিরব? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বাক্র (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তান‘ঈমে যেতে। অতঃপর যুলহাজ্জ মাসেই হাজ্জ আদায়ের পর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ‘উমরাহ আদায় করলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর মারছিলেন তখন সুরাকা ইব্‌নু মালিক ইব্‌নু জু‘শুম (রাঃ)-এর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হাজ্জের মাসে ‘উমরাহ আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, এতো চিরদিনের (সকলের) জন্য। (বুখারী পর্ব ২৬/৬ হাঃ ১৭৮৫, মুসলিম পর্ব ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬)

১৫/২১.

আরাফাহ্‌তে অবস্থান করা এবং আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ “তখন ঐ স্থান থেকে যাত্রা কর লোকেরা যেখান থেকে যাত্রা করে।” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১১৯)

৭৬৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬৪


حديث عَائِشَةَ قَالَ عُرْوَةُ: كَانَ النَّاسُ يَطُوفُونَ فِي الْجَاهِلَيَّةِ عُرَاةً إِلاَّ الْحُمْسَ، وَالْحُمْسُ قُرَيْشٌ وَمَا وَلَدَتْ، وَكَانَتِ الْحُمْسُ يَحْتَسِبُونَ عَلَى النَّاسِ: يُعْطِي الرَّجُلُ الرَّجُلَ الثِّيَابَ يَطُوفُ فِيهَا، وَتُعْطِي الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ الثِّيَابَ تَطُوفُ فِيهَا، فَمَنْ لَمْ يُعْطِهِ الْحُمْسُ طَافَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانًا؛ وَكَانَ يُفِيضُ جَمَاعَةُ النَّاسِ مِنْ عَرَفَاتٍ، وَيُفِيضُ الْحُمْسُ مِنْ جَمْعٍ، وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ هذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي الْحُمْسِ (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ) قَالَ: كَانُوا يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ فَدُفِعُوا إِلَى عَرَفَاتٍ

‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বাইতুল্লাহর) তাওয়াফ করত। আর হুমস্ হলো কুরায়শ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকেদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা হতে। রাবী হিশাম (রহ.) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, এ আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ (আরবীঃ এরপর যেখান হতে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করবে) রাবী বলেন, তারা মুযদালিফাহ হতে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের ‘আরাফাহ পর্যন্ত যাবার নির্দেশ দেয়া হল। (বুখারী পর্ব ২৫/৯১ হাঃ ১৬৬৫, মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২১৯)

৭৬৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬৫


حديث جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ: أَضْلَلْتُ بَعِيرًا لِي، فَذَهَبْتُ أَطْلُبُهُ يَوْمَ عَرَفَةَ، فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاقِفًا بِعَرَفَةَ، فَقُلْتُ: هذَا وَاللهِ مِنَ الْحُمْسِ، فَمَا شَأْنُهُ ههُنَا

জুবাইর ইব্‌নু মুত‘য়িম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে ‘আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘আরাফাহ্‌তে উকূফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! তিনি তো কুরায়শ বংশীয়। এখানে তিনি কী করছেন? (বুখারী পর্ব ২৫/৯১ হাঃ ১৬৬৪, মুসলিম পর্ব ১৫/২১, হাঃ ১২২০)

১৫/২২.

ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাওয়ার বিধান রহিত এবং তা পরিপূর্ণ করার নির্দেশ।

৭৬৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬৬


حديث أَبِي مُوسى رضي الله عنه، قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْبَطْحَاءِ؛ فَقَالَ: أَحَجَجْتَ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: بِمَا أَهْلَلْتَ قُلْتُ: لَبَّيْكَ، بِإِهْلاَلٍ [ص: 44] كَإِهْلاَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَحْسَنْتَ، انْطَلِقْ فَطفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ بَنِي قَيْسٍ فَفَلَتْ رَأْسِي، ثُمَّ أَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ؛ فَكُنْتُ أُفْتِي بِهِ النَّاسَ حَتَّى خِلاَفَةِ عُمَرَ رضي الله عنه، فَذَكَرْتُهُ لَهُ، فَقَالَ: إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللهِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُنَا بِالتَّمَامِ، وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى بَلَغَ الْهَدْىُ مَحِلَّهُ

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ হাজ্জ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ কিসের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলে? আমি বললাম, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মত ইহরাম বেঁধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী কর। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন। অতঃপর আমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। (তখন হতে) ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকাল পর্যন্ত এ ভাবেই আমি লোকদের (হাজ্জ এবং ‘উমরাহ সম্পর্কে) ফাতাওয়া দিতাম। অতঃপর তাঁর সঙ্গে আমি এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি তাহলে তা আমাদের পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে), আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর জানোয়ার যথাস্থানে পৌঁছার আগে হালাল হননি। (বুখারী পর্ব ২৫/১২৫ হাঃ ১৭২৪, মুসলিম পর্ব ১৫/২২, হাঃ ১২২১)

১৫/২৩.

হাজ্জে তামাত্তু করা বৈধ।

৭৬৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬৭


حديث عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: أُنْزِلَتْ آيَةُ الْمُتْعَةِ فِي كِتَابِ اللهِ، فَفَعَلْنَاهَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يُنْزَلْ قُرْآنٌ يُحَرِّمُهُ، وَلَمْ يَنْهَ عَنْهَا حَتَّى مَاتَ قَالَ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তামাত্তু’ এর আয়াত আল্লাহ্‌র কিতাবে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তা করছি এবং এর নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াত অবতীর্ণ হয়নি এবং নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তিকাল পর্যন্ত তা থেকে নিষেধও করেননি। এ ব্যাপারে এক ব্যক্তি নিজের ইচ্ছেনুযায়ী মতামত ব্যক্ত করেছেন। (বুখারী পর্ব ৬৫/৩৩ হাঃ ৪৫১৮, মুসলিম ১৫/২৩, হাঃ ১২২৬)

১৫/২৪.

হাজ্জ তামাত্তুকারীর উপর কুরবানী করা অপরিহার্য এবং এটা না করতে পারলে হাজ্জ পালন করা অবস্থায় তিন দিন এবং বাড়ীতে ফিরার পর সাতদিন সওম পালন করতে হবে।

৭৬৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬৮


حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: تَمَتَّعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ [ص: 45] بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ وَأَهْدَى، فَسَاقَ مَعَهُ الْهَدْيَ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ، وَبَدَأَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ، ثُمَّ بِالْحَجِّ فَتَمَتَّعَ النَّاس مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ، فَكَانَ مِنَ النَّاسِ مَنْ أَهْدَى، فَسَاقَ الْهَدْيَ، وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يُهْدِ، فَلَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ قَالَ لِلنَّاسِ: مَنْ كَانَ مِنْكُمْ أَهْدَى فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لِشَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَهْدَى فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، وَلْيُقَصِّرْ وَلْيَحْلِلْ ثُمَّ لْيُهِلَّ بِالْحَجِّ، فَمَنْ لَمْ يَجِدْ هَدْيًا فَلْيَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةً إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ
فَطَافَ، حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ، وَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ أَوَّلَ شَيْءٍ، ثُمَّ خَبَّ ثَلاَثَة أَطْوَافٍ وَمَشَى أَرْبَعًا، فَرَكَعَ حِينَ قَضى طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عِنْدَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ سَلَّمَ، فَانْصَرَفَ فَأَتَى الصَّفَا، فَطَافَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعَةَ أَطْوَافٍ، ثُمَّ لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى قَضى حَجَّهُ وَنَحَرَ هَدْيَهُ يَوْمَ النَّحْرِ وَأَفَاضَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَلَّ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ وَفَعَلَ، مِثْلَ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْيَ مِنَ النَّاسِ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে পালন করেছেন। তিনি হাদী পাঠান অর্থাৎ যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধেন, এরপর হাজ্জের ইহ্‌রাম বাঁধেন। সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ’র ও হাজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু‘ করলেন। সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ পৌঁছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হাজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হাজ্জের ইহ্‌রাম বাঁধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হাজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। হাজ্জ সমাধা করা পর্যন্ত যা কিছু হারাম ছিল তা হালাল হয়নি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৫/১০৪ হাঃ ১৬৯১, মুসলিম পর্ব ১৫/২৪ হাঃ ১২২৭)

৭৬৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৬৯


حديث عَائِشَةَ عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي تَمَتُّعِهِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ، فَتَمَتَّعَ النَّاسُ مَعَهُ، بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ السَّابِقِ (رقم 768)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জের সাথে ‘উমরাহ পালন করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও তামাত্তু’ করেন, যেমনি ইব্‌ন ‘উমার (রাঃ) সূত্রে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে (হাদীসঃ ৭৬৮)। (বুখারী পর্ব ২৫/১০৪ হাঃ ১৬৯২, মুসলিম পর্ব ১৫/২৪, হাঃ ১২২৭, ১২২৮)

১৫/২৫.

ইফরাদ হাজ্জকারী যে সময়ে হালাল হয় তার পূর্বে হাজ্জে কিরানকারী হালাল হতে পারবে না।

৭৭০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭০


حديث حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا بِعُمْرَةٍ وَلَمْ تَحْلِلْ أَنْتَ مِنْ عُمْرَتِكَ قَالَ: إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ

নাবী সহধর্মিণী হাফসাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেনঃ আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না। (বুখারী পর্ব ২৫/৩৪ হাঃ ১৫৬৬, মুসলিম ১৫/২৫, হাঃ ১২২৯)

১৫/২৬.

বাধা প্রাপ্ত ব্যক্তি ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে এবং হাজ্জে কিরানের বৈধতা।

৭৭১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭১


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ؛ قَالَ: حِينَ خَرَجَ إِلَى مَكةَ مُعْتَمِرًا فِي الْفِتْنَةِ: إِنْ صُدِدْتُ عَنِ الْبَيْتِ صَنَعْنَا كَمَا صَنَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَهَلَّ بِعُمْرَةٍ مِنْ أَجْلِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ ثُمَّ إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ نَظَرَ فِي أَمْرِهِ فَقَالَ: مَا أَمْرُهُمَا إِلاَّ وَاحِدٌ فَالْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَقَالَ: مَا أَمْرُهُمَا إِلاَّ وَاحِدٌ، أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ الْحَجَّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ طَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا، وَرَأَى أَنَّ ذلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ وَأَهْدَى

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(মাক্কাহ মুকার্‌রামায়) গোলযোগ চলাকালে ‘উমরাহ্’র নিয়ত করে তিনি যখন মাক্কাহর দিকে রওয়ানা হলেন, তখন বললেন, বাইতুল্লাহ হতে যদি আমি বাধাপ্রাপ্ত হই তাহলে তাই করব যা করেছিলাম আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে। তাই তিনি ‘উমরাহ্’র ইহরাম বাঁধলেন। কারণ, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও হুদাইবিয়ার বছর ‘উমরাহ্’র ইহরাম বেঁধেছিলেন। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) নিজের ব্যাপারে ভেবে চিন্তে বললেন, উভয়টিই (হাজ্জ ও ‘উমরাহ) এক রকম। এরপর তিনি তাঁর সাথীদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, উভয়টি তো একই রকম। আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর ‘উমরাহ্’র সাথে হাজ্জকে ওয়াজিব করে নিলাম। তিনি উভয়টির জন্য একই তাওয়াফ করলেন এবং এটাই তাঁর পক্ষ হতে যথেষ্ট মনে করেন, আর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৭/৪ হাঃ ১৮১৩, মুসলিম পর্ব ১৫/২৬ হাঃ ১২৩০)

৭৭২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭২


حديث ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ أَرَادَ الْحَجَّ عَامَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ بِابْنِ الزُّبَيْرِ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّ النَّاسَ كَائِنٌ بَيْنَهُمْ قِتَالٌ وَإِنَّا نَخَافُ أَنْ يَصُدُّوكَ، فَقَالَ: (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) إِذًا أَصْنَعُ كَمَا صَنَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِنِّي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِظَاهِرِ الْبَيْدَاءِ، قَالَ: مَا شَأْنُ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ إِلاَّ وَاحِدٌ، أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجًّا مَعَ عُمْرَتِي وَأَهْدَى هَدْيًا اشْتَرَاهُ بِقُدَيْدٍ، وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ذلِكِ، فَلَمْ يَنْحَرْ وَلَمْ يَحِلَّ مِنْ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ، وَلَمْ يَحْلِقْ وَلَمْ يُقَصِّرْ حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ فَنَحَرَ وَحَلَقَ، وَرَأَى أَنْ قَدْ قَضى طَوافَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ بِطَوَافِهِ الأَوَّلِ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: كَذلِكَ فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে বছর হাজ্জাজ ইব্‌নু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মাক্কায় আসেন, ঐ বছর ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জের এরাদা করেন। তখন তাঁকে বলা হলো, (বিবাদমান দু’ দল) মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাধা দিবে। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে”- (আহযাব ২১)। কাজেই এমন কিছু হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্কল্প করলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উঁচু অঞ্চলে পৌঁছার পর তিনি বললেন, হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র বিধান একই, আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্গে হাজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ হতে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। এরপর তিনি কুরবানী করেননি এবং ইহরামও ত্যাগ করেন নি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন, মাথা মুণ্ডালেন। তাঁর অভিমত হলো, প্রথম তাওয়াফ-এর মাধ্যমেই তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনই করেছেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৭৭ হাঃ ১৬৪০, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০)

১৫/২৭.

হাজ্জ ও ‘উমরাহ্তে কিরান ও ইফরাদ।

৭৭৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭৩


حديث ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ عَنْ بَكْرٍ، أَنَّهُ ذَكَرَ لابْنِ عُمَرَ أَنَّ أَنَسًا حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ، فَقَالَ (ابْنُ عُمَرَ) : أَهَلَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَجِّ وَأَهْلَلْنَا بِهِ مَعَهُ، فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ، قَالَ: مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيَجْعَلَهَا عُمْرَةً وَكَانَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَدْيٌ، فَقَدِمَ عَلَيْنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ مِنَ الْيَمَنِ حَاجًّا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بِمَ أَهْلَلْتَ فَإِنَّ مَعَنَا أَهْلَكَ قَالَ: أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَأَمْسِكْ فَإِنَّ مَعَنَا هَدْيًا

বাক্‌র (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, ‘আনাস (রাঃ) লোকদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জ ও ‘উমরার জন্য ইহ্‌রাম বেঁধেছিলেন। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জের জন্য ইহ্‌রাম বেঁধেছেন, তাঁর সাথে আমরাও হাজ্জের জন্য ইহ্‌রাম বাঁধি। যখন আমরা মাক্কায় পৌঁছলাম তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হাজ্জের ইহ্‌রাম ‘উমরার ইহ্‌রামে পরিণত করে। অবশ্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। অতঃপর ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) হাজ্জের উদ্দেশে ইয়ামান থেকে আসলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তাঁকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহ্‌রাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সাথে তোমার স্ত্রী পরিবার আছে। তিনি উত্তর দিলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেটির ইহ্‌রাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহ্‌রাম বেঁধেছি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাহলে (এ অবস্থায়ই) থাক, কেননা আমাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে। (বুখারী পর্ব ৬৪/৬১ হাঃ ৪৩৫৩-৪৩৫৪, মুসলিম পর্ব ১৫/২৭, হাঃ ১২৩১, ১২৩২)

১৫/২৮.

যে ব্যক্তি হাজ্জের ইহরাম বাঁধল তার জন্য কী কী করা অপরিহার্য, অতঃপর তাওয়াফ ও সা‘য়ীর জন্য মাক্কায় আসল।

৭৭৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭৪


حديث ابْنِ عُمَرَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: سَأَلْنَا ابْنَ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ طَافَ بِالْبَيْتِ الْعُمْرَةَ، وَلَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، أَيَأْتِي امْرَأَتَهُ فَقَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا، وَصَلَّى خَلْفَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ، وَطَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ (وَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ)

‘আমর ইব্‌নু দীনার (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম- যে ব্যক্তি ‘উমরাহ’র ন্যায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছে কিন্তু সাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করে নি, সে কি তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতে পারবে? তিনি জবাব দিলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন, মাকামে ইবরাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন আর সাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করেছেন। তোমাদের জন্যে আল্লাহ্‌র রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (বুখারী পর্ব ৮/৩০ হাঃ ৩৯৫, মুসলিম পর্ব ১৫/২৮, হাঃ ১২৩৪)

১৫/২৯.

যে ব্যক্তি হাজ্জের ইহরাম বেঁধে মাক্কায় আসল তার জন্য ত্বওয়াফ ও সা‘য়ীতে কী করা অপরিহার্য।

৭৭৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭৫


حديث عَائِشَةَ وَأَسْمَاءَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ نَوْفَلٍ الْقُرَشِيِّ، أَنَّهُ سَأَلَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، فَقَالَ: قَدْ حَجَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّهُ أَوَّلُ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ حِينَ قَدِمَ أَنَّهُ تَوَضَّأَ، ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ، ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةً ثُمَّ حَجَّ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةٌ ثُمَّ عُمَرُ رضي الله عنه، مِثْلُ ذلِكَ ثُمَّ حَجَّ عُثْمَانُ رضي الله عنه، فَرَأَيْتُهُ أَوَّلُ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ، ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةٌ ثُمَّ مُعَاوِيَةُ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ ثُمَّ حَجَجْتُ مَعَ أَبِي، الزبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ، فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةٌ ثُمَّ رَأَيْتُ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارَ يَفْعَلُونَ ذلِكَ، ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةٌ ثُمَّ آخِرُ مَنْ رَأَيْتُ فَعَلَ ذلِكَ ابْنُ عُمَرَ، ثُمَّ لَمْ يَنْقُضْهَا عُمْرَةً وَهذَا ابْنُ عُمَرَ عِنْدَهُمْ فَلاَ يَسْأَلُونَهُ وَلاَ أَحَدٌ مِمَّنْ مَضى مَا كَانُوا [ص: 49] يَبْدَءُونَ بِشَيْءٍ حَتَّى يَضَعُوا أَقْدَامَهُمْ مِنَ الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّونَ وَقَدْ رَأَيْتُ أُمِّي وَخَالَتِي حِينَ تَقْدَمَانِ لاَ تَبْتَدِئَانِ بِشَيْءٍ أَوَّلَ مِنَ الْبَيْتِ تَطُوفَانِ بِهِ ثُمَّ لاَ تَحِلاَّنِ وَقَدْ أَخْبَرَتْنِي أُمِّي أَنَّهَا أَهَلَّتْ هِيَ وَأُخْتُهَا وَالزُّبَيْرُ وَفُلاَنٌ وَفُلاَنٌ بِعُمْرَةٍ فَلَمَّا مَسَحُوا الرُّكْنَ حَلُّوا

মুহাম্মদ ইব্‌নু ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু নাওফাল কুরাশী (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ‘উরওয়া ইব্‌নু যুবাইর (রহ.)-কে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাজ্জ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাজ্জ-এর বিষয়টি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বাকার (রাঃ) হাজ্জ করেছেন, তিনিও হাজ্জের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। তাঁরপর ‘উমার (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন। এরপর ‘উসমান (রাঃ) হাজ্জ করেন। আমি তাঁকেও (হাজ্জের কাজ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মু‘আবিয়া এবং ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইব্‌নু ‘আওয়াম (রাঃ)-এর সঙ্গে হাজ্জ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাঃ)-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) তো তাঁদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা অতীত হয়ে গেছেন তাঁদের কেউই মাসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহ্‌রাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (‘আয়িশাহ) (রাঃ)-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহ্‌রাম ভঙ্গ করেননি। (বুখারী পর্ব ২৫/৭৮ হাঃ ১৬৪১, মুসলিম পর্ব ১৫/২৯ হাঃ ১২৩৫)

৭৭৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭৬


حديث أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ مَوْلَى أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ كَانَ يَسْمَعُ أَسْمَاءَ تَقُولُ، كُلَّمَا مَرَّتْ بِالْحَجُونِ: صَلَّى الله عَلَى مُحَمَّدٍ، لَقَدْ نَزَلْنَا مَعَهُ ههُنَا وَنَحْنُ يَوْمَئِذٍ خِفَافٌ، قَلِيلٌ ظَهْرُنَا، قَلِيلَةٌ أَزْوَادُنَا، فَاعْتَمَرْتُ أَنَا وَأُخْتِي عَائِشَةُ وَالزُّبَيْرُ وَفَلاَنٌ وَفُلاَنٌ، فَلَمَّا مَسَسْنَا الْبَيْتَ أَحْلَلْنَا ثُمَّ أَهْلَلْنَا مِنَ الْعَشِيِّ بِالْحَجِّ

আবূ বাক্‌র (রাঃ)-এর কন্যা আসমা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যখনই আসমা (রাঃ) হাজ্জূন এলাকা দিয়ে গমন করতেন তখনই তাঁকে বলতে শুনেছেন (আরবী) ‘আল্লাহ তাঁর রসূলের প্রতি রহমত নাযিল করুন’, এ স্থানে আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে অবতরণ করেছিলাম। তখন আমাদের বোঝা ছিল খুব অল্প, যানবাহন ছিল একেবারে নগণ্য এবং সম্বল ছিল খুবই কম। আমি, আমার বোন ‘আয়িশাহ (রাঃ), যুবাইর (রাঃ) এবং অমুক অমুক ‘উমরাহ আদায় করলাম। তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে আমরা সকলেই হালাল হয়ে গেলাম এবং সন্ধ্যাকালে হাজ্জের ইহ্‌রাম বাঁধলাম। (বুখারী পর্ব ২৬/১১ হাঃ ১৭৯৬, মুসলিম পর্ব ১৫/২৯, হাঃ ১২৩৭)

১৫/৩১.

হাজ্জের মাসগুলোতে ‘উমরাহ করা।

৭৭৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭৭


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَصْحَابُهُ لِصُبْحِ رَابِعَةٍ يُلَبُّونَ بِالْحَجِّ، فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً، إِلاَّ مَنْ مَعَهُ الْهَدْيُ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ (যুল হিজ্জার) ৪র্থ তারিখ সকালে (মাক্কায়) আগমন করেন এবং তাঁরা হাজ্জের জন্য তালবীয়া পাঠ করতে থাকেন। অতঃপর তিনি তাঁদের হাজ্জকে ‘উমরাহ্য় রূপান্তরিত করার নির্দেশ দিলেন। তবে যাঁদের সঙ্গে হাদী(হাজীদের যবহের জন্যে জানোয়ার) ছিল তাঁরা এ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নন। (বুখারী পর্ব ১৮/৩ হাঃ ১০৮৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৩১, হাঃ ১২৪০)

৭৭৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭৮


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ نَصْرِ بْنِ عِمْرَانَ الضُّبَعِيِّ، قَالَ: تَمَتَّعْتُ فَنَهَانِي نَاسٌ، فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَأَمَرَنِي، فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ رَجُلاً يَقُولُ لِي: حَجٌّ مَبْرُورٌ، وَعُمْرَةٌ مُتَقَبَّلَةٌ، فَأَخْبَرْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: سُنَّةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لِي: أَقِمْ عِنْدِي فَأَجْعَلَ لَكَ سَهْمًا مِنْ مَالِي
قَالَ شُعْبَةُ (الرَّاوِي عَنْهُ) ، فَقُلْتُ: لِمَ فَقَالَ: لِلرُّؤْيَا الَّتِي رَأَيْتُ

আবূ জামরাহ নাসর ইব্‌নু ‘ইমরান যুবা‘য়ী (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি তামাত্তু‘ হাজ্জ করতে ইচ্ছে করলে কিছু লোক আমাকে নিষেধ করল। আমি তখন ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি তা করতে আমাকে নির্দেশ দেন। এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন এক ব্যক্তি আমাকে বলছে, উত্তম হাজ্জ ও মাকবূল ‘উমরাহ। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট স্বপ্নটি বললাম। তিনি বললেন, তা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত। এরপর আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে থাক, তোমাকে আমার মালের কিছু অংশ দিব।
রাবী শু‘বাহ্ (রহ.) বলেন, আমি (আবূ জামরাহকে) বললাম, তা কেন? তিনি বললেন, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি সে জন্য। (বুখারী পর্ব ২৫/৩৪ হাঃ ১৫৬৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৩১ হাঃ ১২৪২)

১৫/৩২.

ইহরামের সময় কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা ঝুলানো এবং কোন চিহ্ন দিয়ে দেয়া।

৭৭৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৭৯


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ فَقَدْ حَلَّ، فَقُلْتُ: مِنْ أَيْنَ قَالَ هذَا ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ: مِنْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى (ثُمَّ مَحِلُّهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ) ، وَمِنْ أَمْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصْحَابَهُ أَنْ يَحِلُّوا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ قُلْتُ: إِنَّمَا كَانَ ذلِكَ بَعْدَ الْمُعَرَّفِ قَالَ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَرَاهُ قَبْلُ وَبَعْدُ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মুহরিম ব্যক্তি যখন বাইতুল্লাহ তওয়াফ করল তখন সে তাঁর ইহ্‌রাম থেকে হালাল হয়ে গেল। আমি (ইবনু জুরাইজ) জিজ্ঞেস করলাম যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এ কথা কী করে বলতে পারেন? রাবী ‘আত্বা (রহ.) উত্তরে বলেন, আল্লাহ তা‘আলার এ কালামের দলীল থেকে যে, এরপর তার হালাল হওয়ার স্থল হচ্ছে বাইতুল্লাহ এবং নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের হুজ্জাতুল বিদায় (এ কাজের পরে) হালাল হয়ে যাওয়ার হুকুম দেয়ার ঘটনা থেকে। আমি বললামঃ এ হুকুম তো ‘আরাফাহ-এ উকূফ করার পর প্রযোজ্য। তখন ‘আত্বা (রহ.) বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মতে উকূফে ‘আরাফাহ্‌র পূর্বাপর উভয় অবস্থার জন্য এ হুকুম। (বুখারী পর্ব ৬৪/৭৭ হাঃ ৪৩৯৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৩২, হাঃ ১২৪৫)

১৫/৩৩.

‘উমরাহ্তে চুল ছাঁটা।

৭৮০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮০


حديث مُعَاوِيَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَصَّرْتُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِشْقَصٍ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) ও মু‘আবিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একটি কাঁচি দিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল ছোট ছোট করে দিয়েছিলাম। (বুখারী পর্ব ২৫/১২৭ হাঃ ১৭৩০, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৩, হাঃ ১২৪৬)

১৫/৩৪.

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইহরাম বাঁধা এবং তাঁর কুরবানী।

৭৮১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮১


حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَدِمَ عَلِيٌّ رضي الله عنه، عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِنَ الْيَمَنِ، فَقَالَ: بِمَا أَهْلَلْتَ قَالَ: بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: لَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهدْيَ لأَحْلَلْتُ

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এসে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কী প্রকার ইহ্‌রাম বেঁধেছ? ‘আলী (রাঃ) বললেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুরূপ। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার সঙ্গে কুরবানীর পশু না থাকলে আমি হালাল হয়ে যেতাম। (বুখারী পর্ব ২৫/৩২ হাঃ ১৫৫৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৪ হাঃ ১৩৩২)

১৫/৩৫.

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘উমরাহ আদায়ের সংখ্যা এবং তা আদায় করার সময়ের বর্ণনা।

৭৮২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮২


حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: اعْتَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَ عُمَرٍ فِي ذِي الْقَعْدَةِ، إِلاَّ الَّتِي اعْتَمَرَ مَعَ حَجَّتِهِ: عُمْرَتَهُ مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ، وَمِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ، وَمِنَ الْجِعْرَانَةِ حَيْثُ قَسَمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ، وَعُمْرَةً مَعَ حَجَّتِهِ

হাম্মাম (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চারটি ‘উমরাহ করেছেন। তন্মধ্যে হাজ্জের মাসে যে ‘উমরাহ করেছেন তা ছাড়া বাকী সব ‘উমরাহই যুল-কা‘দা মাসে করেছেন। অর্থাৎ হুদাইবিয়াহ্‌র ‘উমরাহ, পরবর্তী বছরের ‘উমরাহ, জি‘রানার ‘উমরাহ, যেখানে তিনি হুনাইনের মালে গনীমত বণ্টন করেছিলেন এবং হাজ্জের মাসে আদায়কৃত ‘উমরাহ। (বুখারী পর্ব ২৬/৩ হাঃ ১৭৮০, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৫ হাঃ ১২৫৩)

৭৮৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮৩


حديث زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قِيلَ لَهُ: كَمْ غَزَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ غَزْوَةٍ قَالَ: تِسْعَ عَشَرَةَ قِيلَ: كَمْ غَزَوْتَ أَنْتَ مَعَهُ قَالَ: سَبْعَ عَشَرَة قِيلَ: فَأَيُّهُمْ كَانَتْ أَوَّلَ قَالَ: الْعُسَيْرَةُ أَوِ الْعُشَيْرُ

আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি যায়দ ইব্‌নু আরকামের পাশে ছিলাম। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়টি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, ঊনিশটি। আবার জিজ্ঞেস করা হল কয়টি যুদ্ধে তাঁর সঙ্গে ছিলেন? তিনি বললেন, সতেরটিতে। বললাম, এসব যুদ্ধের কোন্টি সর্বপ্রথম সংঘটিত হয়েছিল? তিনি বললেন, ‘উশায়রাহ বা ‘উশাইর। (বুখারী পর্ব ৬৪/১ হাঃ ৩৯৪৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৫, হাঃ ১২৫৪)

৭৮৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮৪


حديث زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، غَزَا تِسْعَ عَشْرَةَ غَزْوَةً، وَأَنَّهُ حَجَّ بَعْدَمَا هَاجَرَ حَجَّةً وَاحِدَةً، لَمْ يَحُجَّ بَعْدَهَا، حَجَّةَ الْوَدَاعِ

যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঊনিশটি যুদ্ধে স্বয়ং অংশগ্রহণ করেন। আর হিজরাতের পর তিনি হাজ্জ আদায় করেন মাত্র একটি হাজ্জে। এরপর তিনি আর কোন হাজ্জ আদায় করেননি এবং তা হল বিদায় হাজ্জ। (বুখারী পর্ব ৬৪/৭৭ হাঃ ৪৪০৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৫ হাঃ ১২৫৪)

৭৮৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮৫


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ الْمَسْجِدَ، فَإِذَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، جَالِسٌ إِلَى حُجْرَةِ عَائِشَةَ، وَإِذَا نَاسٌ يُصَلُّونَ فِي الْمَسْجِدِ صَلاَةَ الضُّحى قَالَ: فَسَأَلْنَاهُ عَنْ صَلاَتِهِمْ؛ فَقَالَ: بِدْعَةٌ ثُمَّ قَالَ لَهُ: كَمِ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَرْبَعَ إِحْدَاهُنَّ فِي رَجَبٍ فَكَرِهْنَا أَنْ نَرُدَّ عَلَيْهِ قَالَ: وَسَمِعْنَا اسْتِنَانَ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْحُجْرَةِ، فَقَالَ عُرْوَةُ: يَا أُمَّاهْ، يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَلاَ تَسْمَعِينَ مَا يَقُولُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمنِ قَالَتْ: مَا يَقُولُ قَالَ: يَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، اعْتَمَرَ أَرْبَعَ عُمُرَاتٍ إِحْدَاهُنَّ فِي رَجَبٍ، قَالَتْ: يَرْحَمُ اللهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ، مَا اعْتَمَرَ عُمْرَةً إِلاَّ وَهُوَ شَاهِدُهُ، وَمَا اعْتَمَرَ فِي رَجَبٍ قَطُّ

মুজাহিদ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ও উরওয়াহ বিন যুবাইর উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হুজরার ভিতর হতে তাঁর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হে আম্মাজান, হে উম্মুল মুমিনীন! আবূ ‘আবদুর রহমান কী বলছেন, আপনি কি শুনেননি? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি কী বলছেন? ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, তিনি বলছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চারবার ‘উমরাহ আদায় করেছেন। এর মধ্যে একটি রজব মাসে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আবূ ‘আবদুর রহমানের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন কোন ‘উমরাহ আদায় করেননি যে, তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রজব মাসে কখনো ‘উমরাহ আদায় করেননি। (বুখারী পর্ব ২৬/৩ হাঃ ১৭৭৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৫, হাঃ ১২৫৫)

১৫/৩৬.

রমাযান মাসে ‘উমরাহ পালনের ফাযীলাত।

৭৮৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮৬


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ: مَا مَنَعَكِ أَنْ تَحُجِّينَ مَعَنَا قَالَتْ: كَانَ لَنَا نَاضِحٌ فَرَكِبَهُ أَبُو فُلاَنٍ وَابْنُهُ (لِزَوْجِهَا وَابْنِهَا) وَتَرَكَ نَاضِحًا نَنْضَحُ عَلَيْهِ، قَالَ: فَإِذَا كَانَ رَمَضَانُ اعْتَمِرِي فِيهِ، فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ حَجَّةٌ أَوْ نَحْوًا مِمَّا قَالَ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক আনসারী মহিলাকে বললেনঃ আমাদের সঙ্গে হাজ্জ করতে তোমার বাধা কিসের? ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) মহিলার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি ভুলে গেছি। মহিলা বলল, আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল। কিন্তু তাতে অমুকের পিতা ও তার পুত্র (অর্থাৎ মহিলার স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন। আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট যার দ্বারা আমরা পানি বহন করে থাকি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আচ্ছা, রমাযান এলে তখন ‘উমরাহ করে নিও। কেননা, রমযানের একটি ‘উমরাহ একটি হাজ্জের সমতুল্য। অথবা এরূপ কোন কথা তিনি বলেছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৬/৪ হাঃ ১৭৮২, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৬, হাঃ ১২৫৬)

১৫/৩৭.

মাক্কাহ্‌তে সানীয়াহ উলিয়াহ দিয়ে প্রবেশ করা এবং এটা (মাক্কাহ) থেকে সানীয়াহ সুফলা দিয়ে বের হওয়া এবং দেশে বিপরীত রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব।

৭৮৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮৭


حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَخْرُجُ مِنْ طَرِيقِ الشَّجَرَةِ وَيَدْخُلُ مِنْ طَرِيقِ الْمُعَرَّسِ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (হাজ্জের সফরে) শাজারা নামক পথ দিয়ে গমন করতেন এবং মু‘আররাস নামক পথ দিয়ে (মাদীনায়) প্রবেশ করতেন। (বুখারী পর্ব ২৫/১৫ হাঃ ১৫৩৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৭ হাঃ ১২৫৭)

৭৮৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮৮


حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَدْخُلُ مِنَ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا وَيَخْرُجُ مِنَ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সানিয়্যাতুল ‘উলয়া (হারামের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান দিয়ে) মাক্কায় প্রবেশ করতেন এবং সানিয়্যাহ সুফলা (হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৪০ হাঃ ১৫৭৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৭ হাঃ ১২৫৭)

৭৮৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৮৯


حديث عَائَشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَمَّا جَاءَ مَكَّةَ دَخَلَ مِنْ أَعْلاَهَا وَخَرَجَ مِنْ أَسْفَلِهَا

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মাক্কায় আসেন তখন এর উচ্চ স্থান দিয়ে প্রবেশ করেন এবং নীচু স্থান দিয়ে ফিরার পথে বের হন। (বুখারী পর্ব ২৫/৪১ হাঃ ১৫৭৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৭ হাঃ ১২৫৮)

৭৯০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯০


حديث عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، دَخَلَ عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ وَخَرَجَ مِنْ كُدًا مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ বিজয়ের বছর কাদা-র পথে (মাক্কায়) প্রবেশ করেন এবং বের হন কুদা-র পথে যা মাক্কাহ্‌র উঁচু স্থানে অবস্থিত। (বুখারী পর্ব ২৫/৪১ হাঃ ১৫৭৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৭ হাঃ ১২৫৮)

১৫/৩৮.

মাক্কাহ্‌তে প্রবেশের ইচ্ছে করলে যী-তুয়া উপত্যকায় রাত্রি যাপন করা এবং গোসল করে প্রবেশ করা এবং দিনের বেলায় প্রবেশ করা মুস্তাহাব।

৭৯১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯১


حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: بَاتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِذِي طُوًى حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ دَخَلَ مَكَّةَ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، يَفْعَلُهُ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভোর পর্যন্ত যী-তুয়ায় রাত যাপন করেন, অতঃপর মাক্কাহয় প্রবেশ করেন। (রাবী নাফি‘ বলেন) ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)-ও এরূপ করতেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৩৯ হাঃ ১৫৭৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৮ হাঃ ১২৫৯)

৭৯২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯২


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَنْزِلِ بِذِي طُوًى، وَيَبِيتُ حَتَّى يُصْبِحَ، يُصَلِّي الصُّبْحَ حِينَ يَقْدَمُ مَكَّةَ، وَمُصلَّى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذلِكَ عَلَى أَكَمَةٍ غَلِيظَةٍ لَيْسَ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي بُنِيَ ثَمَّ، وَلكِنْ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ عَلَى أَكَمَةٍ غَلِيظَةٍ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘যূ-তুওয়া’য় অবতরণ করতেন এবং এখানেই রাত যাপন করতেন আর মাক্কায় আসার পথে এখানেই ফাজরের সালাত আদায় করতেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত আদায়ের সেই স্থানটা ছিল একটা বড় টিলার উপরে। যেখানে মাসজিদ নির্মিত হয়েছে, সেখানে নয় বরং তার নীচে একটা বড় টিলার উপর। (বুখারী পর্ব ৮/৮৯ হাঃ ৪৯১, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৮ হাঃ ১২৫৯)

৭৯৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯৩


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَقْبَلَ فُرْضَتَي الْجَبَلِ الَّذِي بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجَبَلِ الطَّوِيلِ نَحْوَ الْكَعْبَةِ فَجَعَلَ الْمَسْجِدَ، الَّذِي بُنِيَ ثَمَّ يَسَارَ الْمَسْجِدِ بِطَرَفِ الأكَمَةِ، وَمُصلَّى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْفَلَ مِنْهُ عَلَى الأَكَمَةِ السَّوْدَاءِ، تَدَعُ مِنَ الأَكَمَةِ عَشَرَةَ أَذْرُعٍ أَوْ نَحْوَهَا، ثُمَّ تُصَلِّي مُسْتَقْبِلَ الْفُرْضَتَيْنِ مِنَ الْجَبَلِ الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْكَعْبَةِ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাহাড়ের দু’টো প্রবেশপথ সামনে রাখতেন যা তার ও দীর্ঘ পাহাড়ের মাঝখানে কা‘বার দিকে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে যে মাসজিদ নির্মিত হয়েছে, সেটিকে তিনি [ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)] টিলার প্রান্তের মাসজিদটির বাম পাশে রাখতেন। কিন্তু নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাতের জায়গা ছিল এর নীচের কাল টিলার উপরে। এটি প্রথম টিলা হতে প্রায় দশ হাত দূরে। অতঃপর যে পাহাড়টি তোমার ও কা‘বার মাঝখানে পড়বে তার দু’প্রবেশ দ্বারের দিকে মুখ করে তুমি সালাত আদায় করবে। (বুখারী পর্ব ৮/৮৯ হাঃ ৪৯২, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৮, হাঃ ১২৫৯, ১২৬০)

১৫/৩৯.

‘উমরার ও ত্বওয়াফে এবং হাজ্জের প্রথম ত্বওয়াফে রমল করা মুস্তাহাব।

৭৯৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯৪


حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ الطَّوَافَ الأَوَّلَ يَخُبُّ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ، وَيَمْشِي أَرْبَعَةً، وَأَنَّهُ كَانَ يَسْعَى بَطْنَ الْمَسِيلِ إِذَا طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল্লাহ পৌঁছে প্রথম তাওয়াফ করার সময় প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন এবং পরবর্তী চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে চলতেন। সাফা ও মারওয়ায় সা‘ঈ করার সময় উভয় টিলার মধ্যবর্তী নিচু স্থানটুকু দ্রুতগতিতে চলতেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৬৩ হাঃ ১৬১৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৯ হাঃ ১২৬১)

৭৯৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯৫


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ، فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ إِنَّهُ يَقْدَمُ عَلَيْكُمْ وَقَدْ وَهَنَهُمْ حُمَّى يَثْرِبَ، فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنْ يَرْمُلُوا الأَشْوَاطَ الثَّلاَثَةَ، وَأَنْ يَمْشُوا مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ، وَلَمْ يَمْنَعْهُ أَنْ يَأْمُرَهُمْ أَنْ يَرْمُلُوا الأَشْوَاطَ كُلَّهَا إِلاَّ الإِبْقَاءُ عَلَيْهِمْ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবাগণকে নিয়ে মাক্কাহ্ আগমন করলে মুশরিকরা মন্তব্য করল, এমন একদল লোক আসছে যাদেরকে ইয়াস্‌রিব (মাদীনাহ্)’র জ্বর দুর্বল করে দিয়েছে (এ কথা শুনে) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবাগণকে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে ‘রামল’ করতে (উভয় কাঁধ হেলে দুলে জোর কদমে চলতে) এবং উভয় রুকনের মধ্যবর্তী স্থানটুকু স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দিলেন, সাহাবীদের প্রতি দয়াবশত সব ক’টি চক্করে রামল করতে আদেশ করেননি। (বুখারী পর্ব ২৫/৫৫ হাঃ ১৬০২, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৯, হাঃ ১২৬৬)

৭৯৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯৬


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: إِنَّمَا سَعَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ لِيُرِيَ الْمُشْرِكِينَ قُوَّتَهُ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদেরকে নিজ শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশে বাইতুল্লাহর তাওয়াফে ও সাফা ও মারওয়ার মধ্যেকার সা‘ঈতে দ্রুত চলেছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৮০ হাঃ ১৬৪৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৯, হাঃ ১২৬৬)

১৫/৪০.

ত্বওয়াফ করার সময় রুকনে ইয়ামানীদ্বয়কে স্পর্র্শ করা এবং অপর দু’টি রুকন স্পর্শ না করা মুস্তাহাব।

৭৯৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯৭


حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: مَا تَرَكْتُ اسْتِلاَمَ هذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ فِي شِدَّةٍ وَلاَ رَخَاءٍ مُنْذ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَلِمُهُمَا

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন হতে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (তাওয়াফ করার সময়) এ দু’টি রুকন ইসতিলাম (চুমু) করতে দেখেছি, তখন হতে ভীড় থাকুক বা নাই থাকুক কোন অবস্থাতেই এ দু’-এর ইসতিলাম (চুমু) করা বাদ দেইনি। (বুখারী পর্ব ২৫/৫৭ হাঃ ১৬০৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৪০, হাঃ ১২৬৮, আহমাদ ৪৮৮৭)

৭৯৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯৮


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، أَنَّهُ قَالَ: وَمَنْ يَتَّقِي شَيْئًا مِنَ الْبَيْتِ وَكَانَ مُعَاوِيَةُ يَسْتَلِمُ الأرْكَانَ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، إِنَّهُ لاَ يُسْتَلَمُ هذَانِ الرُّكْنَانِ

আবুশ-শা‘সা (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কে আছে বায়তুল্লাহর কোন অংশ (কোন রুকনের ইস্‌তিলাম) ছেড়ে দেয়; মু‘আবিয়াহ (রাঃ) (চার) রুকনের ইস্‌তিলাম করতেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমরা এ দু’রুকন-এর চুম্বন করি না। (বুখারী পর্ব ২৫/৫৯ হাঃ ১৬০৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৪০ হাঃ ১২৭২)

১৫/৪১.

ত্বওয়াফকালে কালো পাথরে চুম্বন দেয়া মুস্তাহাব।

৭৯৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৭৯৯


حديث عُمَرَ رضي الله عنه، أَنَّهُ جَاءَ إِلَى الْحَجَرِ الأَسْوَدِ فَقَبَّلَهُ، فَقَالَ: إِنِّي أَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لاَ تَضُرُّ وَلاَ تَنْفَعُ، وَلَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُقَبِّلَكَ مَا قَبَّلْتكَ

‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি হাজ্‌রে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। (বুখারী পর্ব ২৫/৫০ হাঃ ১৫৯৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৪১, হাঃ ১২৭০)

১৫/৪২.

উট বা অন্যান্য যানবাহনে আরোহণ করে তাওয়াফ করা এবং আরোহণকারীর জন্য লাঠি বা অন্য কিছুর মাধ্যমে কালো পাথর স্পর্শ করা বৈধ।

৮০০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০০


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: طَافَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ عَلَى بَعِيرٍ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উটের পিঠে আরোহণ করে তাওয়াফ করার সময় ছড়ির মাধ্যমে হাজ্‌রে আসওয়াদ চুম্বন করেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৫৮ হাঃ ১৬০৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৪২, হাঃ ১২৭২)

৮০১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০১


حديث أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنِّي أَشْتَكِي؛ قَالَ: طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ فَطُفْتُ، وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُصَلِّي إِلَى جَنْبِ الْبَيْتِ، يَقْرَأُ بِالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট (বিদায় হজ্জে) আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ সওয়ার হয়ে লোকদের হতে দূরে থেকে তওয়াফ কর। আমি তওয়াফ করলাম। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইতুল্লাহর পাশে (আরবী) তিলাওয়াত করে সালাত আদায় করছিলেন। (বুখারী পর্ব ৮/৭৮ হাঃ ৪৬৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৪২, হাঃ ১২৭৬)

১৫/৪৩.

সাফা এবং মারওয়ায় সাঈ (দৌড়াদৌড়ি) করা হাজ্জের রুকন্- এটা পালন না করলে হাজ্জ বিশুদ্ধ না হওয়ার বর্ণনা।

৮০২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০২


حديث عَائِشَةَ عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّهُ قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ: أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ [ص: 58] فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا) فَلاَ أُرَى عَلَى أَحَدٍ شَيْئًا أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ: كَلاَّ، لَوْ كَانَتْ كَمَا تَقُولُ كَانَتْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هذِهِ الآيَة فِي الأَنْصَارِ كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ، وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ، وَكَانُوا يَتَحَرَّجُونَ أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ سَأَلُوا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذلِكَ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا)

‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আল্লাহর বাণীঃ “সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করতে চায়, তার কোন গুনাহ্ নেই”- (আল-বাকারাহঃ ১৫৮)। তাই সাফা-মারওয়াহ্‌র সা‘য়ী না করা আমি কারো পক্ষে অপরাধ মনে করি না। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, তুমি যেমন বলছ, ব্যাপারটি তেমন হলে আয়াতটি অবশ্যই এমন হতঃ “সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করে, তার কোন পাপ নেই”- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। অর্থাৎ এ দু’টির মাঝে তাওয়াফ করলে কোন পাপ নেই। এ আয়াত তো আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কেননা তারা মানাতের জন্য ইহ্‌রাম বাঁধত। আর মানাত কুদায়দের সামনে ছিল। তাই আনসাররা সাফা-মারওয়া তাওয়াফ করতে দ্বিধাবোধ করত। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেনঃ ‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কা‘বা গৃহের হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ করতে চায় তার জন্য এ দু’টির মধ্যে সা‘য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই।’ (বুখারী পর্ব ২৬/১০ হাঃ ১৭৯০, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৩ হাঃ ১২৭৭)

৮০৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০৩


حديث عَائِشَةَ عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ، فَقُلْتُ لَهَا: أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللهِ تَعَالَى (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا) فَوَاللهِ مَا عَلَى أَحَدٍ جُنَاحٌ أَنْ لاَ يَطُوفَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ قَالَتْ: بِئْسَ مَا قُلْتَ يَا ابْنَ أُخْتِى، إِنَّ هذِهِ الآيَةَ لَوْ كَانَتْ كَمَا أَوَّلْتَهَا عَلَيْهِ كَانَتْ لاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَتَطَوَّفَ بِهِمَا وَلكِنَّهَا أُنْزِلَتْ فِي الأَنْصَارِ؛ كَانُوا قَبْلَ أَنْ يُسْلِمُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ الطَّاغِيَةِ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَهَا عِنْدَ الْمُشَلَّلِ، فَكَانَ مَنْ أَهَلَّ يَتَحَرَّجُ أَنْ يَطَّوَّفَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَلَمَّا أَسْلَمُوا سَأَلُوا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنْ ذلِكَ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا كُنَّا نَتَحَرَّجُ أَنْ نَطُوفَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ) الآيَةَ
[ص: 59] قَالَتْ عَائِشَةُ، وَقَدْ سَنَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الطَّوَافَ بَيْنَهُمَا، فَلَيْسَ َلأحَدٍ أَنْ يَتْرُكَ الطَّوَافَ بَيْنَهُمَا

(قَالَ الزُّهْرِيُّ، رَاوِي الْحَدِيثِ) ثُمَّ أَخْبَرْتُ أَبَا بَكْرِ ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمنِ، فَقَالَ: إِنَّ هذَا لَعِلْمٌ مَا كُنْتُ سَمِعْتُهُ، وَلَقَدْ سَمِعْتُ رِجَالاً مَنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَذْكُرُونَ أَنَّ النَّاسَ، إِلاَّ مَنْ ذَكَرَتْ عَائِشَةُ، مَمَّنْ كَانَ يُهِلُّ بِمَنَاةَ، كَانُوا يَطُوفُونَ كُلُّهُمْ، بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَلَمَّا ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ، وَلَمْ يَذْكُر الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ فِي الْقُرْآنِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ كُنَّا نَطُوفُ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، وَإِنَّ اللهَ أَنْزَلَ الطَّوَافَ بِالْبَيتِ فَلَمْ يَذْكُرِ الصَّفَا، فَهَلْ عَلَيْنَا مِنْ حَرَجٍ أَنْ نَطَّوَّفَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ) الآيَةَ
قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَأَسْمَعُ هذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي الْفَرِيقَيْنِ كِلَيْهِمَا: فِي الَّذِينَ كَانُوا يَتَحَرَّجُونَ أَنْ يَطُوفُوا بِالْجَاهِلَيَّةِ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، وَالَّذِينَ يَطُوفُونَ ثُمَّ تَحَرَّجُوا أَنْ يَطُوفُوا بِهِمَا فِي الإِسْلاَمِ، مِنْ أَجْلِ أَنَّ اللهَ تَعَالَى أَمَرَ بِالطَّوَافِ بِالْبَيْتِ، وَلَمْ يَذْكُرِ الصَّفَا حَتَّى ذَكَرَ ذلِكَ بَعْدَمَا ذَكَرَ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ

‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? “সাফা ও মারওয়াহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কাজেই যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে, এ দু’টির মাঝে যাতায়াত করলে তার কোন দোষ নেই”- (আল-বাকারাহঃ ১৫৮)। (আমার ধারণা যে) সাফা-মারওয়াহর মাঝে কেউ সা‘ঈ না করলে তার কোন দোষ নেই। তখন তিনি [‘আয়িশাহ (রাঃ)] বললেন, ওহে বোনপো! তুমি যা বললে, তা ঠিক নয়। কেননা, যা তুমি তাফসীর করলে, যদি আয়াতের মর্ম তা-ই হতো, তাহলে আয়াতের শব্দ বিন্যাস এভাবে হতো (আরবী)- “দু’টোর মাঝে সা‘ঈ না করায় কোন দোষ নেই।” কিন্তু আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুশাল্লাল নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামের মূর্তির পূজা করত, তার নামেই তারা ইহরাম বাঁধত। সে মূর্তির নামে যারা ইহরাম বাঁধত তারা সাফা-মারওয়াহ সা‘ঈ করাকে দোষাবহ মনে করত। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পূর্বে আমরা সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করাকে দোষাবহ মনে করতাম (এখন কী করবো?) এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা‘আলা (আরবী) অবতীর্ণ করেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, (সাফা ও মারওয়ার মাঝে) উভয় পাহাড়ের মাঝে সা‘ঈ করা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’র বিধান দিয়েছেন। কাজেই কারো পক্ষে এ দু’য়ের সা‘ঈ পরিত্যাগ করা ঠিক নয়। (রাবী বলেন) এ বছর আবূ বাকার ইব্‌নু ‘আবদুর রহমান (রাঃ)-কে ঘটনাটি জানালাম। তখন তিনি বললেন, আমি তো এ কথা শুনিনি, তবে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ব্যতীত বহু ‘আলিমকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, মানাতের নামে যারা ইহরাম বাঁধত তারা সকলেই সাফা ও মারওয়া সা‘য়ী করত, যখন আল্লাহ কুরআনে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার আলোচনা তাতে হলো না, তখন সাহাবাগণ বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতাম, এখন দেখি আল্লাহ কেবল বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা অবতীর্ণ করেছেন, সাফার উল্লেখ করেননি। কাজেই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘য়ী করলে আমাদের দোষ হবে কি? এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন¬ (আরবী) আবূ বাক্‌র (রাঃ) আরো বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, আয়াতটি দু’ প্রকার লোকদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ যারা জাহিলী যুগে সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করা হতে বিরত থাকতেন, আর যারা তৎকালে সা‘য়ী করত বটে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সা‘য়ী করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্বিধার কারণ ছিল আল্লাহ বাইতুল্লাহ তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি? অবশেষে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করার কথা উল্লেখ করেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৭৯ হাঃ ১৬৪৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৩, হাঃ ১২৭৭)

৮০৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০৪


حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ: قُلْتُ َلانَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَكُنْتُمْ تَكْرَهُونَ السَّعْيَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ قَالَ: نَعَمْ َلأَنَّهَا كَانَتْ مِنْ شَعَائِرِ الْجَاهِلَيَّةِ، حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا)

‘আসিম (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)-কে বললাম, আপনারা কি সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতে অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, হাঁ। কেননা তা ছিল জাহিলী যুগের নিদর্শন। অবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। কাজেই হাজ্জ বা ‘উমরাহকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সা‘ঈ করায় কোন দোষ নেই”-(আল-বাকারাঃ ১৫৮)। (বুখারী পর্ব ২৫/৮০ হাঃ ১৬৪৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৩, হাঃ ১২৭৮)

১৫/৪৫.

হাজীদের জন্য তালবিয়া পাঠ জারী রাখা মুস্তাহাব এবং কুরবানীর দিন জামরায়ে ‘আকাবায় পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত।

৮০৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০৫


حديث أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَالْفَضْلُ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ قَالَ: رَدِفْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عَرَفَاتٍ، فَلَمَّا بَلَغَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشِّعْبَ الأَيْسَرَ الَّذِي دُونَ الْمُزْدَلِفَةِ أَنَاخَ، فَبَالَ، ثُمَّ جَاءَ فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ الْوَضُوءَ، فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا خَفِيفًا فَقُلْتُ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: الصَّلاَةُ أَمَامَكَ فَرَكِبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ، فَصَلَّى، ثُمَّ رَدِفَ الْفَضْلُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةَ جَمْعٍ [ص: 60] قَالَ كُرَيْبٌ: فَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَزَلْ يُلَبِّي حَتَّى بَلَغَ الْجَمْرَةَ

উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আরাফাহ হতে সওয়ারীতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুযদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাঁকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হালকাভাবে উযূ করে নিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে। এ কথা বলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফাহ আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল [ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)] আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে আরোহণ করলেন। কুরাইব (রহ.) বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) ফযল (রাঃ) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামরায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকতেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৯৩ হাঃ ১৬৬৯, মুসলিম কিতাবুল হাজ্জ ১৫/৪৫, হাঃ ১২৮০)

১৫/৪৬.

আরাফাহ্র দিন মীনা থেকে আরাফাহ্র ময়দানে যাওয়ার সময় তালবীয়াহ ও তাকবীর পাঠ।

৮০৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০৬


حديث أَنَسٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الثَّقَفِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسًا، وَنَحْنُ غَادِيَانِ مِنْ مِنًى إِلَى عرَفَاتٍ، عَنِ التَّلْبِيَةِ، كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ يُلَبِّى الْمُلَبِّى، لاَ يُنْكَرُ عَلَيْهِ؛ وَيُكَبِّرُ الْمُكَبِّرُ، فَلاَ يُنْكَرُ عَلَيْهِ

মুহাম্মদ ইব্‌নু আবূ বাক্‌র সাকাফী (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা সকাল বেলা মিনা হতে যখন আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)-এর নিকট তালবিয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, তাল্বিয়াহ পাঠকারী তালবিয়াহ পড়ত, তাকে নিষেধ করা হতো না। তাক্বীর পাঠকারী তাক্বীর পাঠ করত, তাকেও নিষেধ করা হতো না। (বুখারী পর্ব ১৩/১২ হাঃ ৯৭০, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৬, হাঃ ১২৮৫)

১৫/৪৭.

আরাফাহ্ থেকে মুজদালিফা গমন এবং সেই রাত্রিতে মুজদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে পড়া মুস্তাহাব।

৮০৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০৭


حديث أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: دَفَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عَرَفَةَ، حَتَّى إِذَا كَانَ بِالشِّعْبِ نَزَلَ فَبَالَ، ثُمَّ تَوَضَّأَ وَلَمْ يُسْبِغِ الْوُضُوءَ، فَقُلْتُ الصَّلاَةَ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ: الصَّلاَةُ أَمَامَكَ فَرَكِبَ، فَلَمَّا جَاءَ الْمُزْدَلِفَةَ، نَزَلَ فَتَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضوءَ، ثُمَّ أُقِيمَتِ الصَّلاَة، فَصَلَّى الْمَغْرِبَ، ثُمَّ أَنَاخَ كُلُّ إِنْسَانٍ بَعِيرَهُ فِي مَنْزِلِهِ، ثُمَّ أُقِيمَتِ الْعِشَاءُ فَصَلَّى وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا

উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আরাফাহর ময়দান হতে রওনা হলেন এবং উপত্যকায় পৌঁছে নেমে তিনি পেশাব করলেন। অতঃপর উযূ করলেন কিন্তু উত্তমরূপে উযূ করলেন না। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সালাত আদায় করবেন কি?’ তিনি বললেনঃ ‘সালাতের স্থান তোমার সামনে।’ অতঃপর তিনি আবার সওয়ার হলেন। অতঃপর মুযদালিফায় এসে সওয়ারী থেকে নেমে উযূ করলেন। এবার পূর্ণরূপে উযূ করলেন। তখন সালাতের জন্য ইক্বামাত দেয়া হল। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সকলে তাদের অবতরণস্থলে নিজ নিজ উট বসিয়ে দিল। পুনরায় ‘ইশার ইকামাত দেয়া হল। অতঃপর তিনি ঈশার সালাত আদায় করলেন এবং উভয় সালাতের মধ্যে অন্য কোন সালাত আদায় করলেন না। (বুখারী পর্ব ৪/৬ হাঃ ১৩৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৫, হাঃ ১২৮০)

৮০৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০৮


حديث أُسَامَةَ عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: سُئِلَ أُسَامَةُ وَأَنَا جَالِسٌ، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسِيرُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ حِينَ دَفَعَ قَالَ: كَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ، فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَةً نَصَّ

‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উসামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন আমি সেখানে উপবিষ্ট ছিলাম, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ‘আরাফাহ হতে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চেয়েও দ্রুতগতিতে চলতেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৯২ হাঃ ১৬৬৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৬)

৮০৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮০৯


حديث أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ

আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হাজ্জের সময় মুযদালিফাহ্‌য় মাগরিব এবং ‘ইশা একত্রে আদায় করেছেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৯৬ হাঃ ১৬৭৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৭)

৮১০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১০


حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْمَعُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ

সালিম বিন ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দ্রুত সফর করতেন তখন মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করতেন। (বুখারী পর্ব ১৮/১৩ হাঃ ১১০৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৭ হাঃ ৭০৩)

১৫/৪৮.

কুরবানীর দিন মুজদালিফায় ফাজ্‌রের সালাত বেশী অন্ধকারে পড়া মুস্তাহাব। ফাজ্‌র উদিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করাটাও মুস্তাহাব।

৮১১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১১


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَلَّى صَلاَةً بِغِيْرِ مِيقَاتِهَا، إِلاَّ صَلاَتَيْنِ: جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ، وَصَلَّى الْفَجْرَ قَبْلَ مِيقَاتِهَا

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দু’টি সালাত ব্যতীত আর কোন সালাত তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফাজরের সালাত তার ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৯৯ হাঃ ১৬৮২, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৮, হাঃ ১২৮৯)

১৫/৪৯.

রাত্রির শেষভাগে লোকেদের ভিড়ের পূর্বে দুর্বল এবং বয়স্ক মহিলা ও অন্যদের মুজদালিফা থেকে মিনায় পাঠিয়ে দেয়া মুস্তাহাব এবং অন্যান্যদের ফাজ্‌রের সালাত আদায় পর্যন্ত মুজদালিফায় অবস্থান করা মুস্তাহাব।

৮১২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১২


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: نَزَلْنَا الْمُزْدَلِفَةَ، فَاسْتَأْذَنَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوْدَةُ أَنْ تَدْفَعَ قَبْلَ حَطْمَةِ النَّاسِ، وَكَانَتْ امْرَأَةً بَطِيئَةً، فَأَذِنَ لَهَا؛ فَدَفَعَتْ قَبْلَ حَطْمَةِ النَّاسِ، وَأَقَمْنَا حَتَّى أَصْبَحْنَا نَحْنُ، ثُمَّ دَفَعْنَا بِدَفْعِهِ؛ فَلأَنْ أَكُونَ اسْتَأْذَنْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا اسْتَأْذَنَتْ سَوْدَةُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مَفْرُوحٍ بِهِ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা মুযদালিফায় অবতরণ করলাম। মানুষের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হওয়ার জন্য সওদা (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর তিনি ছিলেন ধীরগতি মহিলা। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অনুমতি দিলেন। তাই তিনি লোকের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই রয়ে গেলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রওয়ানা হলেন, আমরা তাঁর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। সওদার মত আমিও যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিতাম তাহলে তা আমার জন্য হতে অধিক সন্তুষ্টির ব্যাপার হতো। (বুখারী পর্ব ২৫/৯৮ হাঃ ১৬৮১, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৯ হাঃ ১২৯০)

৮১৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১৩


حديث أَسْمَاءَ عَنْ عَبْدِ اللهِ مَوْلَى أَسْمَاءَ، عَنْ أَسْمَاءَ، أَنَّهَا نَزَلَتْ لَيْلَةَ جَمَعٍ عِنْدَ الْمُزْدَلِفَةِ، فَقَامَتْ تُصَلِّي، فَصَلَّتْ سَاعَةً ثُمَّ قَالَتْ: يَا بُنَيَّ هَلْ غَابَ الْقَمَرُ قُلْتُ: لاَ؛ فَصَلَّتْ سَاعَةً ثُمَّ قَالَتْ: هَلْ غَابَ الْقَمَرُ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَتْ: فَارْتَحِلُوا؛ فَارْتَحَلْنَا، وَمَضَيْنَا حَتَّى رَمَتِ الْجَمْرَةَ، ثُمَّ رَجَعَتْ فَصَلَّتِ الصُّبْحَ فِي مَنْزِلِهَا فَقُلْتُ لَهَا يَا هَنْتَاهْ مَا أُرَانَا إِلاَّ قَدْ غَلَّسْنَا قَالَتْ: يَا بُنَيَّ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذِنَ لِلظُّعُنِ

আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি মুযদালিফার রাতে মুযদালিফার কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি অস্তমিত হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি আরো কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি ডুবেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, চল। আমরা রওয়ানা হলাম এবং চললাম। পরিশেষে তিনি জামরায় কঙ্কর মারলেন এবং ফিরে এসে নিজের অবস্থানের জায়গায় ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, হে মহিলা! আমার মনে হয়, আমরা বেশি অন্ধকার থাকতেই আদায় করে ফেলেছি। তিনি বললেন, বৎস! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদের জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৯৮ হাঃ ১৬৭৯, মুসলিম ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯১)

৮১৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১৪


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَنَا مِمَّنْ قَدَّمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ الْمُزْدَلِفَةِ فِي ضَعَفَةِ أَهْلِهِ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুযদালিফার রাতে তাঁর পরিবারের যে সব লোককে এখানে পাঠিয়েছিলেন, আমি তাঁদের একজন। (বুখারী পর্ব ২৫/৯৮ হাঃ ১৬৭৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৯ হাঃ ১২৯৩)

৮১৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১৫


حديث ابْنِ عُمَرَ، كَانَ يُقَدِّمُ ضَعَفَةَ أَهْلِهِ، فَيَقِفُونَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ بِالْمُزْدَلِفَةِ بِلَيْلٍ، فَيَذْكُرُونَ اللهَ مَا بَدَا لَهُمْ، ثُمَّ يَرْجِعُونَ قَبْلَ أَنْ يَقِفَ الإِمَامُ وَقَبْلَ أَنْ يَدْفَعَ، فَمِنْهُمْ مَنْ يَقْدَمُ مِنًى لِصَلاَةِ الْفَجْرِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقْدَمُ بَعْدَ ذلِكَ، فَإِذَا قَدِمُوا رَمَوُا الْجَمْرَةَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، يَقُولُ: أَرْخَصَ فِي أُولئِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) তাঁর পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশ‘আরে হারামের নিকট উকূফ করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকর করতেন। অতঃপর ইমাম (মুযদালিফায়) উকূফ করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তাঁরা (মিনায়) ফিরে যেতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তাঁরা কঙ্কর মারতেন। ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) বলতেন, তাদের জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৯৮ হাঃ ১৬৭৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯৫)

১৫/৫০.

বাতনে ওয়াদী থেকে জামরাতুল আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ কালে মাক্কাহ্‌কে বাম দিকে রাখা এবং প্রত্যেকবার কঙ্কর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলা।

৮১৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১৬


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: رَمَى عَبْدُ اللهِ مِنْ بَطْنِ الْوَادِي، فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ إِنَّ نَاسًا يَرْمُونَهَا مِنْ فَوْقِهَا فَقَالَ: وَالَّذِي لاَ إِلهَ غَيْرُهُ، هذَا مَقَامُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

‘আবদুর রহমান ইব্‌নু ইয়াযীদ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বাতন ওয়াদী হতে কঙ্কর মারেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! লোকেরা তো এর উচ্চস্থান হতে কঙ্কর মারে। তিনি বললেন, সে সত্তার কসম! যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এটা সে স্থান, যেখানে সূরা আল-বাকারাহ নাযিল হয়েছে। (বুখারী পর্ব ২৫/১৩৫ হাঃ ১৭৪৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৫০, হাঃ ১২৯৬)

৮১৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১৭


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ: السُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا الْبَقَرَةُ، وَالسُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا آلُ عِمْرَانَ، وَالسُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا النِّسَاءُ، قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لإِبْرَاهِيمَ، فَقَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمنِ ابْنُ يَزِيدَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، حِينَ رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ، فَاسْتَبْطَنَ الْوَادِيَ، حَتَّى حَاذَى بِالشَّجَرَةِ اعْتَرَضَهَا، فَرَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ، يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ قَالَ: مِنْ ههُنَا، وَالَّذِي لاَ إِلهَ غَيْرُهُ، قَامَ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আ‘মাশ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর এরূপ বলতে শুনেছি, যে সূরার মধ্যে বাকারাহ’র উল্লেখ রয়েছে, সে সূরার মধ্যে আলু ‘ইমরানের উল্লেখ রয়েছে এবং যে সূরার মধ্যে নিসা-এর উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সে সূরা আল-বাকারাহ, সূরা আলু ‘ইমরান ও সূরা আন-নিসা বলা পছন্দ করতো না। বর্ণনাকারী আ‘মাশ (রহ.) বলেন, এ ব্যাপারটি আমি ইবরাহীম (রহ.)-কে বললাম। তিনি বললেন, আমার কাছে ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু ইয়াযীদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জামরায়ে ‘আকাবাতে কংকর মারার সময় তিনি ইব্‌নু মাস্‘ঊদ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। ইব্‌নু মাস‘ঊদ (রাঃ) বাতনে ওয়াদীতে গাছটির বরাবর এসে জামরাকে সামনে রেখে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর সহকারে কঙ্কর মারলেন। এরপর বললেন, সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, যাঁর উপর নাযিল হয়েছে সুরা বাকারাহ (অর্থাৎ সূরা বাকারাহ বলা বৈধ)। (বুখারী পর্ব ২৫/১৩৮ হাঃ ১৭৫০, মুসলিম পর্ব ১৫/৫০ হাঃ ১২৯৬)

১৫/৫৫.

চুল ছাঁটার উপর মাথা মুণ্ডন করাকে প্রাধান্য দেয়া এবং চুল ছাঁটার বৈধতা প্রসঙ্গে।

৮১৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১৮


حديث ابْنِ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ: حَلَقَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّتِهِ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজ্জের সময় তাঁর মাথা কামিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৫/১২৭ হাঃ ১৭২৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৫, হাঃ ১৩০৪)

৮১৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮১৯


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ اللهُمَّ ارْحَمِ الْمُحَلِّقينَ قَالُوا: وَالْمُقَصِّرِينَ، يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: اللهُمَّ ارْحَمِ الْمُحَلِّقِينَ قَالُوا: وَالْمُقَصِّرِينَ، يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: وَالْمُقَصِّرِينَ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা মাথার চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। এবার আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। (বুখারী পর্ব ২৫/১২৭ হাঃ ১৭২৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৫, হাঃ ১৩০২)

৮২০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২০


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اللهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ قَالُوا: وَلِلْمُقَصِّرِينَ قَالَ: اللهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ قَالُوا: وَلِلْمُقَصِّرِينَ قَالَهَا ثَلاَثًا قَالَ: وَلِلْمُقَصِّرِينَ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা মাথার চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করুন। সাহাবীগণ বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথাটি তিনবার বললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও। (বুখারী পর্ব ২৫/১২৭ হাঃ ১৭২৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৫, হাঃ ১৩০২)

১৫/৫৬.

কুরবানীর দিন সুন্নাত কাজ হল সর্বপ্রথম কঙ্কর নিক্ষেপ করা, অতঃপর কুরবানী করা, অতঃপর মাথা মুণ্ডন করা এবং মাথার চুল মুণ্ডন করার ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা।

৮২১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২১


حديث أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَمَّا حَلَقَ رَأْسَهُ، كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَوَّلَ مَنْ أَخَذَ مِنْ شَعَرِهِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাথা মুণ্ডন করলে আবূ তলহা (রাঃ)-ই প্রথমে তাঁর চুল সংগ্রহ করেন। (বুখারী পর্ব ৪/৩৩ হাঃ ১৭১, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৬, হাঃ ১৩০৫)

১৫/৫৭.

যে ব্যক্তি কুরবানী করার পূর্বেই মাথা মুণ্ডন করল অথবা কঙ্কর নিক্ষেপ করার পূর্বেই।

৮২২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২২


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بِمِنًى لِلنَّاسِ يَسْأَلُونَهُ، فَجَاءَهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: لَمْ أَشْعُرْ فَحَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ، فَقَالَ: اذْبَحْ وَلاَ حَرَجَ فَجَاءَ آخَرُ، فَقَالَ: لَمْ أَشْعُرْ فَنَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ: ارْمِ وَلاَ حَرَجَ فَمَا سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ قُدِّمَ وَلاَ أُخِّرَ إِلاَّ قَالَ: افْعَلْ وَلاَ حَرَجَ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আমর বিন ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সাওয়ারীতে) অবস্থান করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেনঃ একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমি জানতাম না, তাই কুরবানী করার আগেই (মাথা) কামিয়ে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি কুরবানী করে নাও, কোন দোষ নেই। অতঃপর অপর একজন এসে বললেন, আমি না জেনে কঙ্কর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ কঙ্কর মেরে নাও, কোন দোষ নেই। সেদিন যে কোন কাজ আগে পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ করে নাও, কোন দোষ নেই। (বুখারী পর্ব ৩/২৩ হাঃ ১৭৩৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৭ হাঃ ১৩০৬)

৮২৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২৩


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيلَ لَهُ فِي الذَّبْحِ وَالْحَلْقِ وَالرَّمْيِ وَالتَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ، فَقَالَ: لاَ حَرَجَ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যবহ করা, মাথা কামান ও কঙ্কর মারা এবং (এ কাজগুলো) আগে-পিছে করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। (বুখারী পর্ব ২৫/১৩০ হাঃ ১৭৩৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৭ হাঃ ১৩০৭)

১৫/৫৮.

কুরবানীর দিন ত্বওয়াফে ইফাযাহ করা মুস্তাহাব হওয়ার বর্ণনা।

৮২৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২৪


حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه، قُلْتُ: أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ عَقَلْتَهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَيْنَ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ قَالَ: بِمِنًى قُلْتُ: فَأَيْنَ صَلَّى الْعَصْرَ يَوْمَ النَّفْرِ قَالَ: بِالأَبْطَحِ ثُمَّ قَالَ: افْعَلْ كَمَا يَفْعَلُ أُمَرَاؤُكَ

‘আবদুল ‘আযীয ইব্‌নু রুফাই‘ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখে যুহর ও ‘আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা হতে ফিরার দিন ‘আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাস্‌সাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর। (বুখারী পর্ব ২৫/৮৩ হাঃ ১৬৫৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৯)

১৫/৫৯.

প্রস্থান করার দিন মুহাস্‌সাবে অবতরণ করা এবং সালাত আদায় করা মুস্তাহাব।

৮২৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২৫


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: إِنَّمَا كَانَ مَنْزِلٌ يَنْزِلُهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَكُونَ أَسْمَحَ لِخُرُوجِهِ، تَعْنِي بِالأَبْطَحِ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তা হল একটি মানযিল মাত্র, যেখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবতরণ করতেন, যাতে বেরিয়ে যাওয়া সহজতর হয় অর্থাৎ এর দ্বারা আবতাহ বুঝানো হয়েছে। (বুখারী পর্ব ৩৫/১৪৭ হাঃ ১৭৬৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৯, হাঃ ১৩১১)

৮২৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২৬


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَيْسَ التَّحْصِيبُ بِشَيْءٍ، إِنَّمَا هُوَ مَنْزِلٌ نَزَلَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুহাস্‌সাবে অবতরণ করা (হজ্জের) কিছুই নয়। এ তো শুধু একটি মানযিল, যেখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবতরণ করেছিলেন। (বুখারী পর্ব ২৫/১৪৭ হাঃ ১৭৬৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৯, হাঃ ১৩১২)

৮২৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২৭


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْغَدِ يَوْمَ النَّحْرِ وَهُوَ بِمِنًى: نَحْنُ نَازِلُونَ غَدًا بِخَيْفِ بَنِى كِنَانَةَ حَيْثُ تَقَاسَمُوا عَلَى الْكُفْرِ يَعْنِى ذلِكَ الْمُحَصَّبَ وَذلِكَ أَنَّ قُرَيْشًا وَكِنَانَةَ تَحَالَفَتْ عَلَى بَنِى هَاشِمٍ وَبَنِى عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَوْ بَنِى الْمُطَّلِبِ، أَنْ لاَ يُنَاكِحُوهُمْ وَلاَ يُبَايِعُوهُمْ حَتَّى يُسْلِمُوا إِلَيْهِمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কুরবানীর দিনে মিনায় অবস্থানকালে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমরা আগামীকাল (ইনশাআল্লাহ) খায়ফে বনী কিনানায় অবতরণ করব, যেখানে তারা কুফরীর উপরে শপথ নিয়েছিল। (রাবী বলেন) খায়ফ বনী কিনানাই হলো মুহাস্‌সাব। কুরায়শ ও কিনানা গোত্র বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিব-এর বিরুদ্ধে এ বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, যে পর্যন্ত নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাদের হাতে সমর্পণ না করবে সে পর্যন্ত তাদের সাথে বিয়ে-শাদী ও বেচা-কেনা বন্ধ থাকবে। (বুখারী পর্ব ২৫/৪৫ হাঃ ১৫৯০, মুসলিম পর্ব ১৫/৫৯, হাঃ ১৩১৪)

১৫/৬০.

আইয়ামে তাশরীকের রাত্রিগুলো মীনায় অতিবাহিত করা ওয়াজিব তবে যারা (হাজীদের) পানি পান করায় তাদের জন্য এ ব্যাপারে শিথিলতা আছে।

৮২৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২৮


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: اسْتَأْذَنَ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رضي الله عنه رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَبِيتَ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ أَجْلِ سِقَايَتِهِ، فَأَذِنَ لَهُ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আব্বাস ইব্‌নু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাজীদের পানি পান করানোর উদ্দেশে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মাক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দেন। (বুখারী পর্ব ২৫/৭৫ হাঃ ১৬৩৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৬০, হাঃ ১৩১৫)

১৫/৬১.

কুরবানীর প্রাণীর গোশ্‌ত, চামড়া ও তার শীতাবরণ সদাকাহ করা।

৮২৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮২৯


حديث عَلِيٍّ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَنْ يَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ، وَأَنْ يَقْسِمَ بُدْنَهُ كُلَّهَا لُحُومَهَا وَجُلُودَهَا وَجِلاَلَهَا وَلاَ يُعْطِيَ فِي جِزَارَتِهَا شَيْئًا

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর সমুদয় গোশ্‌ত, চামড়া এবং পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং তা হতে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই না দেয়া হয়। (বুখারী পর্ব ২৫/১২১ হাঃ ১৭১৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৬১ হাঃ ১৩১৭)

১৫/৬৩.

বুদনা (উট) বেঁধে দাঁড়ান অবস্থায় নাহার করা।

৮৩০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩০


حديث ابْنِ عُمَرَ (أَنَّهُ) أَتَى عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَنَاخَ بَدَنَتَهُ يَنْحَرُهَا، قَالَ: ابْعَثْهَا قِيَامًا مُقَيَّدَةً سُنَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

যিয়াদ ইব্‌নু জুবাইর (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)-কে দেখেছি যে, তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার নিজের উটটিকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) বললেন, সেটি উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বেঁধে নাও। (এটা) মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত। (বুখারী পর্ব ২৫/১১৮ হাঃ ১৭১৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৩ হাঃ ১৩২০)

১৫/৬৪.

যে ব্যক্তি নিজে যাবে না তার কুরবানী হারাম শরীফে পাঠিয়ে দেয়া মুস্তাহাব এবং এতে মুস্তাহাব হল (কুরবানীর প্রাণীর গলায়) রশি পাকিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া এবং এতে প্রেরণকারী মুহরিম হবে না ও তার উপর কোন কিছু নিষিদ্ধও হবে না।

৮৩১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩১


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: فَتَلْتُ قَلاَئِدَ بُدْنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِيَدَيَّ، ثُمَّ قَلَّدَهَا وَأَشْعَرَهَا وَأَهْدَاهَا؛ فَمَا حَرُمَ عَلَيْهِ شَيْءٌ كَانَ أُحِلَّ لَهُ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাকে কিলাদা পরিয়ে ইশ‘আর করার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল এতে তা হারাম হয়নি। (বুখারী পর্ব ২৫/১০৬ হাঃ ১৬৯৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৪, হাঃ ১৩২১)

৮৩২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩২


حديث عَائِشَةَ أَنَّ زِيَادَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَى عَائِشَةَ، إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَنْ أَهْدَى هَدْيًا حَرُمَ عَلَيْهِ مَا يَحْرُمُ عَلَى الْحَاجِّ حَتَّى يُنْحَرَ هَدْيُهُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ: لَيْسَ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ؛ أَنَا فَتَلْتُ قَلاَئِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيَّ ثُمَّ قَلَّدَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِيَدَيْهِ، ثُمَّ بَعَثَ بِهَا مَعَ أَبِي، فَلَمْ يَحْرُمْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، شَيْءٌ أَحَلَّهُ اللهُ حَتَّى نُحِرَ الْهَدْيُ

যিয়াদ ইব্‌নু আবূ সুফ্ইয়ান (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (মাক্কাহ্) পাঠায় তা যবহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী) আমরাহ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) যেমন বলেছেন, ব্যাপার তেমন নয়। আমি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদাহ পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান। সে জানোয়ার যবহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তুই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি হারাম হয়নি। (বুখারী পর্ব ২৫/১০৯ হাঃ ১৭০০, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৪ হাঃ ১৩২১)

১৫/৬৫.

হাজ্জে গমনকারীর জন্য কুরবানীর উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া বুদনার উপর প্রয়োজনে আরোহণ করা জায়িয।

৮৩৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩৩


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً، فَقَالَ: ارْكَبْهَا فَقَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ فَقَالَ: ارْكَبْهَا قَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ: ارْكَبْهَا وَيْلَكَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الثَّانِيَةِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। এবারও লোকটি বলল, এ-তো কুরবানীর উট। এরপরও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ! এ কথাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছেন। (বুখারী পর্ব ২৫/১০৩ হাঃ ১৬৮৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৫, হাঃ ১৩২২)

৮৩৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩৪


حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً، فَقَالَ: ارْكَبْهَا قَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ، قَالَ: ارْكَبْهَا، قَالَ: إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ: ارْكَبْهَا ثَلاَثًا

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (বুখারী পর্ব ২৫/১০৩ হাঃ ১৬৯০, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৫, হাঃ ১২২৩)

১৫/৬৭.

তাওয়াফে বিদা (শেষ তাওয়াফ) ওয়াজিব ও ঋতুবতী মহিলার জন্য এ হুকুম বিলুপ্ত।

৮৩৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩৫


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أُمِرَ النَّاسُ أَنْ يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِمْ بِالْبَيْتِ، إِلاَّ أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الْحَائِضِ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকেদের আদেশ দেয়া হয় যে, তাদের শেষ কাজ যেন হয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ। তবে এ হুকুম ঋতুবতী মহিলাদের জন্য শিথিল করা হয়েছে। (বুখারী পর্ব ২৫/১৪৪ হাঃ ১৭৫৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৭, হাঃ ১৩২৮)

৮৩৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩৬


حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ قَدْ حَاضَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَعَلَّهَا تَحْبِسُنَا، [ص: 70] أَلَمْ تَكُنْ طَافَتْ مَعَكُنَّ فَقَالُوا: بَلَى؛ قَالَ: فَاخْرُجِي

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াইয়ের হায়য শুরু হয়েছে। তিনি বললেনঃ সে তো আমাদেরকে আটকে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে তাওয়াফে-যিয়ারত করেনি? তাঁরা জবাব দিলেন, হাঁ করেছেন। তিনি বললেনঃ তা হলে বের হও। (বুখারী পর্ব ৬/২৭ হাঃ ৩২৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৭ হাঃ ১২১১)

৮৩৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩৭


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: حَاضَتْ صَفِيَّةُ لَيْلَةَ النَّفْرِ، فَقَالَتْ: مَا أُرَانِي إِلاَّ حَابِسَتَكُمْ؛ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَقْرَى حَلْقَى أَطَافَتْ يَوْمَ النَّحْرِ قِيلَ: نَعَمْ قَالَ: فَانْفِرِى

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যাহ বিন্‌তু হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতু আরম্ভ হলে তিনি বললেন, আমার ধারণা, আমি তোমাদের আটকে ফেললাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনে ‘আকরা’ ‘হালকা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যাহ (রাঃ) বললেন, হাঁ। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তবে চল। (বুখারী পর্ব ২৫/১৫১ হাঃ ১৭৭১, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৭ হাঃ ১২১১)

১৫/৬৮.

হাজী ও অন্যদের কা’বায় প্রবেশ করা, সেখানে সালাত আদায় ও তার প্রত্যেক প্রান্তে দু‘আ করা মুস্তাহাব।

৮৩৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩৮


حديث بِلاَلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْكَعْبَةَ، وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَبِلاَلٌ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ، فَأَغْلَقَهَا عَلَيْهِ، وَمَكُثَ فِيهَا [ص: 71] فَسَأَلْتُ بِلاَلاً حِينَ خَرَجَ: مَا صَنَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: جَعَلَ عَمُودًا عَنْ يَسَارِهِ وَعَمُودًا عَنْ يَمِينِهِ، وَثَلاَثَةَ أَعْمِدَةٍ وَرَاءَهُ، وَكَانَ الْبَيْتُ يَوْمَئِذٍ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ، ثُمَّ صَلَّى

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর উসামা ইব্‌নু যায়দ, বিলাল এবং ‘উসমান ইব্‌নু তালহা হাজাবী (রাঃ) কা‘বায় প্রবেশ করলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রবেশের সাথে সাথে ‘উসমান (রাঃ) কা‘বার দরজা বন্ধ করে দিলেন। তাঁরা কিছুক্ষণ ভিতরে ছিলেন। বিলাল (রাঃ) বের হলে আমি তাঁকে বললামঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী করলেন? তিনি বললেনঃ একটা খুঁটি বাম দিকে, একটা খুঁটি ডান দিকে আর তিনটা খুঁটি পেছনে রাখলেন। আর তখন বায়তুল্লাহ ছিল ছয়টি খুঁটিবিশিষ্ট। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। (বুখারী পর্ব ৮/৯৬ হাঃ ৫০৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৮ হাঃ ১৩২৯)

৮৩৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৩৯


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيْتَ دَعَا فِي نَوَاحِيهِ كُلِّهَا وَلَمْ يُصَلِّ حَتَّى خَرَجَ مِنْهُ؛ فَلَمَّا خَرَجَ رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ فِي قِبَلِ الْكَعْبَةِ، وَقَالَ: هذِهِ الْقِبْلَةُ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা‘বায় প্রবেশ করেন, তখন তার সকল দিকে দু‘আ করেছেন, সালাত আদায় না করেই বেরিয়ে এসেছেন এবং বের হবার পর কা‘বার সামনে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন, এবং বলেছেন, এটাই কিবলাহ। (বুখারী পর্ব ৮/৩০ হাঃ ৩৯৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৮ হাঃ ১৩৩০)

৮৪০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪০


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ: اعْتَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى خَلْفَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَهُ مَنْ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: أَدَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَعْبَةَ قَالَ: لاَ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমরাহ করতে গিয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন ও মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর সাথে এ সকল সাহাবী ছিলেন যারা তাঁকে লোকদের হতে আড়াল করে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা‘বার ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন কি-না- এক ব্যক্তি আবূ আওফা (রাঃ)-এর নিকট তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, না। (বুখারী পর্ব ২৫/৫৩ হাঃ ১৬০০, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৮ হাঃ ১৩৩২)

১৫/৬৯.

কা‘বা গৃহ ভেঙ্গে ফেলা ও তার পুনর্নির্মাণ করা।

৮৪১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪১


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْلاَ حَدَاثَةُ قَوْمِكِ بِالْكُفْرِ لَنَقَضْتُ الْبَيْتَ ثُمَّ لَبَنَيْتُهُ عَلَى أَسَاسِ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، فَإِنَّ قُرَيْشًا اسْتَقْصَرَتْ بِنَاءَهُ وَجَعَلَتْ لَهُ خَلْفًا

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ যদি তোমার গোত্রের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্যই কা‘বা ঘর ভেঙ্গে ইব্রাহীম (‘আ)-এর ভিত্তির উপর তা পুনর্নির্মাণ করতাম। কেননা কুরায়শগণ এর ভিত্তি সঙ্কুচিত করে দিয়েছে। আর আমি আরো একটি দরজা করে দিতাম। (বুখারী পর্ব ২৫/৪২ হাঃ ১৫৮৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৯ হাঃ ১৩৩৩)

৮৪২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪২


حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهَا: أَلَمْ تَرَىْ أَنَّ قَوْمَكِ لَمَّا بَنَوُا الْكَعْبَةَ اقْتَصَرُوا عَنْ قَوَاعِدِ إِبْرَاهيمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَلاَ تَرُدُّهَا عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: لَوْلاَ حِدْثَانُ قَوْمِكِ بِالْكفْرِ لَفَعَلْتُ
فَقَالَ عَبْدُ اللهِ رضي الله عنه (هُوَ ابْنُ عُمَرَ) : لَئِنْ كَانَتْ عَائِشَةُ سَمِعَتْ هذَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أُرَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَرَكَ اسْتِلاَمَ الرُّكْنَيْنِ اللَّذَيْنِ يَلِيَانِ الْحِجْرَ إِلاَّ أَنَّ الْبَيْتَ لَمْ يُتَمَّمْ عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ তুমি কি জান না! তোমার কওম যখন কা‘বা ঘরের পুনর্নির্মাণ করেছিল তখন ইব্রাহীম (‘আ.) কর্তৃক কা‘বা ঘরের মূল ভিত্তি হতে তা সঙ্কুচিত করেছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে ইবরাহীমী ভিত্তির উপর পুনঃস্থাপন করবেন না? তিনি বললেনঃ যদি তোমার সম্প্রদায়ের যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হত তা হলে অবশ্য আমি তা করতাম। ‘আবদুল্লাহ (ইব্‌নু ‘উমর) (রাঃ) বলেন, যদি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নিশ্চিতরূপে তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয় যে, বায়তুল্লাহ হাতীমের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ইবরাহিমী ভিত্তির উপর নির্মিত না হবার কারণেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তওয়াফের সময়) হাতীম সংলগ্ন দু’টি কোণ স্পর্শ করতেন না। (বুখারী পর্ব ২৫/৪২ হাঃ ১৫৮৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৬৯, হাঃ ১৩৩৩)

১৫/৭০.

কা’বা ঘরের দেয়াল ও তার দরজা।

৮৪৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪৩


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْجَدْرِ أَمِنَ الْبَيْتِ هُوَ قَالَ: نَعَمْ قُلْتُ: فَمَا لَهُمْ لَمْ يُدْخِلُوهُ فِي الْبَيْتِ قَالَ: إِنَّ قَوْمَكِ قَصَّرَتْ بِهِمِ النَّفَقَةُ قُلْتُ: فَمَا شَأْنُ بَابِهِ مُرْتَفِعًا قَالَ: فَعَلَ ذلِكَ قَوْمُكِ لِيُدْخِلُوا مِنْ شَاءُوا وَيَمْنَعُوا مَنْ شَاءُوا، وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِالْجَاهِلَيَّةِ، فَأَخَافُ أَنْ تَنْكِرَ قُلُوبُهُمْ أَنْ أُدْخِلَ الْجَدْرِ فِي الْبَيْتِ، وَأَنْ أُلْصِقَ بَابَهُ بِالأَرْضِ

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেনঃ হাঁ। আমি বললাম, তাহলে তারা বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করল না কেন? তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের (অর্থাৎ কুরাইশের কা‘বা নির্মাণের) সময় অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়। আমি বললাম, কা‘বার দরজা এত উঁচু হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেনঃ তোমার কওমতো এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছে তাকে ঢুকতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছে নিষেধ করবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়াতের নিকটবর্তী না হত এবং আশঙ্কা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তাহলে আমি দেয়ালকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম। (বুখারী পর্ব ৩০/৪২ হাঃ ১৫৮৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৭০, হাঃ ১৩৩৩)

১৫/৭১.

অক্ষম, বৃদ্ধ ও মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাজ্জ।

৮৪৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪৪


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ الْفَضْلُ رَدِيفَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَتِ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ، فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص: 73] يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ؛ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا، لاَ يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ، أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ: نَعَمْ وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ফযল ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) একই বাহনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে আরোহণ করেছিলেন। এরপর খাশ‘আম গোত্রের এক মহিলা উপস্থিত হল। তখন ফযল (রাঃ) সেই মহিলার দিকে তাকাতে থাকে এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাতে থাকে। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকেন। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর বান্দার উপর ফার্‌যকৃত হাজ্জ আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফার্‌য হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হাঁ (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হাজ্জের সময়ের। (বুখারী পর্ব ২৫/১ হাঃ ১৫১৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৭১, হাঃ ১৩৩৪)

৮৪৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪৫


حديث الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَم عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ، فَهَلْ يَقْضِي عَنْهُ أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ قَالَ: نَعَمْ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের বছর খাস‘আম গোত্রের একজন মহিলা এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর তরফ হতে বান্দার উপর যে হাজ্জ ফার্‌য হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমন সময় ফার্‌য হয়েছে যখন তিনি সওয়ারীর উপর ঠিকভাবে বসে থাকতে সক্ষম নন। আমি তার পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করলে তার হাজ্জ আদায় হবে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ (নিশ্চয়ই আদায় হবে)। (বুখারী পর্ব ২৮/২৩ হাঃ ১৮৫৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৭১, হাঃ ১৩৩৫)

১৫/৭৩.

জীবনে হাজ্জ একবার ফার্‌য।

৮৪৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪৬


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: دَعُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ তোমরা আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাক, যতক্ষণ না আমি তোমাদের কিছু বলি। কেননা, তোমাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা তাদের নাবীদের অধিক প্রশ্ন করা ও নাবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদের কোন বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বেঁচে থাক। আর যদি কোন বিষয়ে আদেশ করি তাহলে সাধ্যমত পালন কর। (বুখারী পর্ব ৯৬/২ হাঃ ৭২৮৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৩ হাঃ ১৩৩৭)

১৫/৭৪.

মুহরিম (যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ) ব্যক্তির সাথে মহিলাদের হাজ্জের জন্য বা অন্য কারণে সফর করা।

৮৪৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪৭


حديث ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ ثَلاَثًا إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মহিলাই যেন মাহরাম পুরুষকে সঙ্গে না নিয়ে তিন দিনের সফর না করে। (বুখারী পর্ব ১৮/৪ হাঃ ১০৮৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৪ হাঃ ১৩৩৮)

৮৪৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪৮


حديث أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: أَرْبَعٌ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَعْجَبْنَنِي وَآنَقْنَنِي: أَنْ لاَ تُسَافِرَ امْرَأَةٌ مَسِيرَةَ يَوْمَيْنِ لَيْسَ مَعَهَا زَوْجُهَا أَوْ ذُو مَحْرَمٍ وَلاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ: مَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَمَسْجِدِي، وَمَسْجِدِ الأَقْصى

আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, চারটি বিষয় যা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনেছি যা আমাকে আশ্চর্যান্বিত করে দিয়েছে এবং চমৎকৃত করে ফেলেছে। (তা হল এই), স্বামী কিংবা মাহরাম ব্যতীত কোন মহিলা দু’দিনের পথ সফর করবে না। ‘ঈদুল ফিত্‌র এবং ‘ঈদুল আযহা- এ দু দিন কেউ সওম পালন করবে না। ‘আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্য উদয় পর্যন্ত কেউ কোন সালাত আদায় করবে না। আর মাসজিদে হারম (কা‘বা), আমার মাসজিদ (মাসজিদে নাববী) এবং মাসজিদে আকসা (বাইতুল মাকদিস)- এ তিন মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মাসজিদের জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না। (বুখারী পর্ব ২৮/২৬ হাঃ ১৮৬৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৪, হাঃ ১৩৪০)

৮৪৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৪৯


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ لَيْسَ مَعَهَا حُرْمَةٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ্ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মাহ্‌রাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে একদিন ও এক রাত্রির পথ সফর করা জায়িয নয়। (বুখারী পর্ব ১৮/৪ হাঃ ১০৮৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৪, হাঃ ১৩৩৯)

৮৫০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫০


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ، وَلاَ تُسَافِرَنَّ امْرَأَةٌ إِلاَّ وَمَعَهَا مَحْرَمٌ فَقَامَ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا، وَخَرَجَتِ امْرَأَتِي حَاجَّةً قَالَ: اذْهَبْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন পুরুষ যেন অপর মহিলার সঙ্গে নিভৃতে অবস্থান না করে, কোন স্ত্রীলোক যেন কোন মাহরাম সঙ্গী ছাড়া সফর না করে। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক যুদ্ধের জন্য আমার নাম লেখা হয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী হাজ্জযাত্রী। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তবে যাও, তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হাজ্জ কর।’(বুখারী পর্ব ৫৬/১৪ হাঃ ৩০০৬, মুসলিম কিতাবুল হাজ্জ হাঃ ১৩৪১)

১৫/৭৬.

হাজ্জ বা অন্য সফর থেকে ফেরার পথে কী বলবে?

৮৫১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫১


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا قَفَلَ مِنْ غَزْوٍ أَوْ حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ مِنَ الأَرْضِ ثَلاَثَ تَكْبِيرَاتٍ، ثُمَّ يَقُولُ: لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، [ص: 75] آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ، صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন যুদ্ধ, হাজ্জ কিংবা ‘উমরাহ থেকে ফিরতেন, তখন প্রতিটি উঁচু জায়গার উপর তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। অতঃপর বলতেনঃ “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব, হাম্‌দও তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাহ্‌কারী, ইবাদাতকারী, আপন প্রতিপালকের প্রশংসাকারী, আল্লাহ তা‘আলা নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, আর দুশমনের দলকে তিনি একাই প্রতিহত করেছেন।” (বুখারী পর্ব ৮০/৫২ হাঃ ৬৩৮৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৬ হাঃ ১৩৪৪)

১৫/৭৭.

হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ থেকে ফেরার পথে জুল হুলাইফায় অবস্থান করা এবং সেখানে সালাত আদায়।

৮৫২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫২


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَاخَ بِالْبَطْحَاءِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَصَلَّى بِهَا وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، يَفْعَلُ ذلِكَ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুল-হুলাইফার বাত্হা নামক উপত্যকায় উট বসিয়ে সালাত আদায় করেন। (রাবী নাফি‘ বলেন) ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)-ও তাই করতেন। (বুখারী পর্ব ২৫/১৪ হাঃ ১৫৩২, মুসলিম পর্ব ১৫/৩৭, হাঃ ১২৫৭)

৮৫৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫৩


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ رُئِيَ وَهُوَ فِي مُعَرَّسٍ بِذِي الْحُلَيْفَةِ بِبَطْنِ الْوَادِي، قِيلَ لَهُ إِنَّكَ بِبَطْحَاءَ مُبَارَكَة
(قَالَ مُوسى بْنُ عُقْبَةَ، أَحَدُ رِجَالِ السَّنَدِ) : وَقَدْ أَنَاخَ بِنَا سَالِمٌ يَتَوَخَّى بِالْمُنَاخِ الَّذِي كَانَ عَبْدُ اللهِ يُنِيخُ، يَتَحَرَّى مُعَرَّسَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ أَسْفَلُ مِنَ الْمَسْجِدِ الَّذِي بِبَطْنِ الْوَادِي، بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الطَّرِيقِ وَسَطٌ مِنْ ذلِكَ

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যুল-হুলাইফাহ (‘আকীক) উপত্যকায় রাত যাপনকালে তাঁকে স্বপ্নযোগে বলা হয়, আপনি বরকতময় উপত্যকায় অবস্থান করছেন। [রাবী মূসা ইব্‌নু ‘উকবাহ (রহ.) বলেন] সালিম (রহ.) আমাদেরকে সাথে নিয়ে উট বসিয়ে ঐ উট বসাবার স্থানটির খোঁজ করেন, যেখানে ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) উট বসিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাত যাপনের স্থানটি খোঁজ করতেন। সে স্থানটি উপত্যকায় মাসজিদের নীচু জায়গায় অবতরণকারীদের ও রাস্তার একেবারে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। (বুখারী পর্ব ২৫/১৬ হাঃ ১৫৩৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৭, হাঃ ১৩৪৬)

১৫/৭৮.

কোন মুশরিক হাজ্জ করবে না ও উলঙ্গ অবস্থায় কেউ বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে না এবং হাজ্জে আকবার দিনের বর্ণনা।

৮৫৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫৪


حديث أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَن أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه، بَعَثَهُ فِي الْحَجَّةِ الَّتِي أَمَّرَهُ عَلَيْهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَبْلَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ يَوْمَ النَّحْرِ، فِي رَهْطٍ، يُؤَذِّنُ فِي النَّاسِ: أَلاَ لاَ يَحُجُّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ، وَلاَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের পূর্বে যে হাজ্জে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর (রাঃ)-কে আমীর নিযুক্ত করেন, সে হাজ্জে কুরবানীর দিন [আবূ বকর (রাঃ)] আমাকে একদল লোকের সঙ্গে পাঠালেন, যারা লোকদের কাছে ঘোষণা করবে যে, এ বছরের পর হতে কোন মুশরিক হাজ্জ করবে না এবং উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। (বুখারী পর্ব ২৫/৬৭ হাঃ ১৬২২, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৭, হাঃ ১৩৪৭)

১৫/৭৯.

হাজ্জ, ‘উমরাহ ও আরাফাহ্‌র দিনের ফাযীলাত।

৮৫৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫৫


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক ‘উমরাহ’র পর আর এক ‘উমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর জান্নাতই হলো হাজ্জে মাবরূরের প্রতিদান। (বুখারী পর্ব ২৬/১ হাঃ ১৭৭৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৯, হাঃ ১৩৪৯)

৮৫৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫৬


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ حَجَّ هذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ঘরের হাজ্জ আদায় করল এবং স্ত্রী সহবাস করল না এবং অন্যায় আচরণ করল না, সে প্রত্যাবর্তন করবে মাতৃগর্ভ হতে সদ্য প্রসূত শিশুর মত হয়ে। (বুখারী পর্ব ২৭/৯ হাঃ ১৮১৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৭৯, হাঃ ১৩৫০)

১৫/৮০.

হাজ্জকারীর মাক্কায় অবস্থান ও তার গৃহের উত্তরাধিকার হওয়া।

৮৫৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫৭


حديث أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيْنَ تَنْزِلُ فِي دَارِكَ بِمَكَّةَ فَقَالَ: وَهَلْ تَرَكَ عَقِيلٌ مِنْ رِبَاعٍ أَوْ دُورٍ وَكَانَ عَقِيلٌ وَرِثَ أَبَا طَالِبٍ هُوَ وَطَالِبٌ، وَلَمْ يَرِثْهُ جَعْفَرٌ وَلاَ عَلِيٌّ شَيْئًا َلانَّهُمَا كَانَا مُسْلِمَيْنِ، وَكَانَ عَقِيلٌ وَطَالِبٌ كَافِرَيْنِ

উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মাক্কায় অবস্থিত আপনার বাড়ির কোন্ স্থানে অবস্থান করবেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘আকীল কি কোন সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? ‘আকীল এবং তালিব আবূ তালিবের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন, জা‘ফর ও ‘আলী (রাঃ) হননি। কেননা তাঁরা দু’জন ছিলেন মুসলমান। ‘আকীল ও তালিব ছিল কাফির। (বুখারী পর্ব ২৫/৪৪ হাঃ ১৫৮৮, মুসলিম পর্ব ১৫/৮০ হাঃ ১৩৫১)

১৫/৮১.

মাক্কাহ্ থেকে হিজরাতকারী ব্যক্তির হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সম্পন্ন করার পর প্রবাসী ব্যক্তির জন্য অনুর্ধ তিনদিন মাক্কায় অবস্থান করা বৈধ।

৮৫৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫৮


حديث العَلاَءِ بْنِ الْحَضْرَمِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثَلاَثٌ لِلْمُهَاجِرِ بَعْدَ الصَّدَرِ

‘আলা ইবনুল হাযরামী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুহাজিরদের জন্য তাওয়াফে সদর* আদায় করার পর তিন দিন মাক্কায় থাকার অনুমতি আছে।* (বুখারী পর্ব ৬৩/৪৭ হাঃ ৩৯৩৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৮১, হাঃ নং ১৩৫২)

১৫/৮২.

মাক্কাহ্ হারাম হওয়া, সেখানে শিকার করা, সেখানকার লতা ও বৃক্ষ কাটা নিষিদ্ধ এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া ছাড়া সেখানকার পড়ে থাকা জিনিস উঠানো নিষিদ্ধ।

৮৫৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৫৯


حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَوْمَ افْتَتَحَ مَكَّةَ: لاَ هِجْرَةَ [ص: 78] وَلكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ، وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا، فَإِنَّ هذَا بَلَدٌ حَرَّمَ اللهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّموَاتِ وَالأَرْضَ، وَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَإِنَّهُ لَمْ يَحِلَّ الْقِتَالُ فِيهِ َلأحَدٍ قَبْلِى، وَلَمْ يَحِلَّ لِي إِلاَّ سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، لاَ يُعْضَدُ شَوْكُهُ، وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهُ، وَلاَ يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهُ إِلاَّ مَنْ عَرَّفَهَا، وَلاَ يُخْتَلَى خَلاَهَا
قَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِلاَّ الإِذْخِرَ فَإِنَّهُ لِقَيْنِهِمْ وَلِبُيُوتِهِمْ قَالَ: قَالَ: إِلاَّ الإِذْخِرَ

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ এখন হতে আর হিজরত নেই, রয়েছে কেবল জিহাদ এবং নিয়ত। সুতরাং যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাকা হবে, এ ডাকে তোমরা সাড়া দিবে। আসমান-যমীন সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহ তা‘আলা এ শহরকে হারম (মহাসম্মানিত) করে দিয়েছেন। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণেই কিয়ামাত পর্যন্ত এ শহর থাকবে মহাসম্মানিত হিসেবে। এ শহরে লড়াই করা আমার পূর্বেও কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমার জন্যও দিনের কিছু অংশ ব্যতীত বৈধ হয়নি। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত করার কারণে তা থাকবে কিয়ামাত পর্যন্ত মহাসম্মানিত হিসেবে। এর কাঁটা উপড়ে ফেলা যাবে না, তাড়ানো যাবে না এর শিকার্য জানোয়ারকে, ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না এবং কর্তন করা যাবে না এখানকার কাঁচা ঘাস ও তরুলতাগুলোকে। ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির বাদ দিয়ে। কেননা এ তো তাদের কর্মকারদের জন্য এবং তাদের ঘরে ব্যবহারের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাঁ, ইযখির বাদ দিয়ে। (বুখারী পর্ব ২৮/১০ হাঃ ১৮৩৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৮১, হাঃ ১৩৫৩)

৮৬০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬০


حديث أَبِي شُرَيْحٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، وَهُوَ يَبْعَثُ الْبُعُوثَ إِلى مَكَّةَ: ائْذَنْ لِي أَيُّهَا الأَمِيرُ أُحَدِّثْكَ قَوْلاً قَامَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، الْغَدَ مِنْ يَوْمِ الْفَتْحِ، سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ، وَوَعَاهُ قَلْبِي، وَأَبْصَرَتْهُ عَيْنَايَ حِينَ تَكَلَّمَ بِهِ؛ حَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ مَكَّةَ حَرَّمَهَا اللهُ وَلَمْ يُحَرِّمْهَا النَّاسُ، فَلاَ يَحِلُّ لاِمْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ بِهَا دَمًا، وَلاَ يَعْضِدَ بِهَا شَجَرَةً، فَإِنْ أَحَدٌ تَرَخَّصَ لِقِتَالِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا، فَقُولُوا إِنَّ اللهَ قَدْ أَذِنَ لِرَسُولِهِ وَلَمْ يَأْذَنْ لَكُمْ، وَإِنَّمَا أَذِنَ لِي فِيهَا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، ثُمَّ عَادَتْ حُرْمَتُهَا الْيَوْمَ كَحُرْمَتِهَا بِالأَمْسِ، وَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَقِيلَ لأبِي شُرَيْحٍ: مَا قَالَ عَمْرٌو قَالَ: أَنَا أَعْلَمُ مِنْكَ يَا شُرَيْحٍ لاَ يُعِيذُ عَاصِيًا وَلاَ فَارًّا بِدَمٍ وَلاَ فَارًّا بِخَرْبَةٍ

আবূ শুরায়হ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ‘আমর ইব্‌নু সা‘ঈদ (মদীনার গভর্নর)-কে বললেন, যখন তিনি মাক্কায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন- ‘হে আমাদের নেতা আমাকে অনুমতি দিলে আপনাকে এমন একটি হাদীস শুনাতে পারি যেটা মাক্কাহ বিজয়ের পরের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন। আমার দুই কান তা শ্রবণ করেছে, আমার হৃদয় তা আয়ত্ত রেখেছে, আর আমার চোখদুটো তা দেখেছে। তিনি আল্লাহ্‌র হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেনঃ মাক্কাকে আল্লাহ্ হারাম করেছেন, কোন মানুষ তাকে হারাম করেনি। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌তে ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে তার জন্য সেখানে রক্তপাত করা, সেখানকার গাছ কাটা বৈধ নয়। কেউ যদি আল্লাহর রাসূলের (সেখানকার) লড়াইকে দলীল হিসেবে পেশ করে তবে তোমরা বলে দাও, আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন ; কিন্তু তোমাদেরকে তা দেন নি। আমাকেও সে দিনের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর পূর্বের মতই আজ আবার একে তার নিষিদ্ধ হবার মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। উপস্থিতগণ যেন অনুপস্থিতদের নিকট (এ বাণী) পৌঁছে দেয়।’ অতঃপর আবূ শুরায়হ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, ‘আপনার এ হাদীস শুনে ‘আমর কি বললেন?’ (আবূ শুরায়হ্ (রাঃ) উত্তর দিলেন) তিনি বললেনঃ ‘হে আবূ শুরায়হ্! (এ বিষয়ে) আমি তোমার চেয়ে অধিক জানি। মাক্কাহ্ কোন বিদ্রোহীকে, কোন খুনের পলাতক আসামীকে এবং কোন চোরকে আশ্রয় দেয় না।’ (বুখারী পর্ব ৩/৩৭ হাঃ ১০৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৮২, হাঃ ১৩৫৪)

৮৬১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬১


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ، قَامَ فِي النَّاسِ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ اللهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ، وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ فَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ َلأحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَإِنَّهَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، [ص: 80] وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ َلأحَدٍ بَعْدِي، فَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا، وَلاَ يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلاَ تَحِلُّ سَاقِطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ، وَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ: إِمَّا أَنْ يُفْدَى وَإِمَّا أَنْ يُقِيدَ فَقَالَ الْعَبَّاسُ: إِلاَّ الإِذْخِرَ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ لِقُبُورِنَا وَبُيُوتِنَا؛ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِلاَّ الإِذْخِرَ فَقَامَ أَبُو شَاهٍ، رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ؛ فَقَالَ: اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اكْتُبُوا َلأبِي شَاهٍ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাক্কাহ বিজয় দান করলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হাম্‌দ ও সানা (প্রশংসা) বর্ণনা করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহ তা‘আলা মাক্কায় (আবরাহার) হস্তি বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেননি এবং তিনি তাঁর রাসূল ও মু’মিন বান্দাদেরকে মাক্কাহ্‌র উপর আধিপত্য দান করেছেন। আমার আগে অন্য কারোর জন্য মাক্কায় যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না, তবে আমার পক্ষে দিনের সামান্য সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল, আর তা আমার পরেও কারোর জন্য বৈধ হবে না। কাজেই এখানকার শিকার তাড়ানো যাবে না, এখানকার গাছ কাটা ও উপড়ানো যাবে না, ঘোষণাকারী ব্যক্তি ব্যতীত এখানকার পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেয়া যাবে না। যার কোন লোক এখানে নিহত হয় তবে দু’টির মধ্যে তার কাছে যা ভাল বলে বিবেচিত হয়, তা গ্রহণ করবে। ফিদ্ইয়া গ্রহণ অথবা কিসাস। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইযখিরের অনুমতি দিন। কেননা, আমরা এগুলো আমাদের কবরের উপর এবং ঘরের কাজে ব্যবহার করে থাকি। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইযখির ব্যতীত (অর্থাৎ তা কাটা ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হল)। তখন ইয়ামানবাসী আবূ শাহ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও। (ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম বলেন) আমি আওযায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন তাঁর এ উক্তির অর্থ কী? তিনি বলেন, এ ভাষণ যা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ হতে তিনি শুনেছেন, তা লিখে দিন। (বুখারী পর্ব ৪৫/৭ হাঃ ২৪৩৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৮২, হাঃ ১৩৫৫)

১৫/৮৪.

ইহরাম অবস্থায় ছাড়া মাক্কায় প্রবেশ বৈধ।

৮৬২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬২


حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ الْمِغْفَرُ، فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَ رَجُلٌ، فَقَالَ: إِنَّ ابْنَ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ، فَقَالَ: اقْتُلُوهُ

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মাক্কাহ্ বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মাক্কাহ) প্রবেশ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিরস্ত্রাণটি মাথা হতে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইব্‌নু খাতাল কা‘বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাকে তোমরা হত্যা কর। (বুখারী পর্ব ২৮/১৮ হাঃ ১৮৪৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৪, হাঃ ১৩৫৭)

১৫/৮৫.

মাদীনাহ্‌র মর্যাদা, সেখানকার মাল সম্পদে বারাকাতের জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু‘আ, সে স্থান হারাম হওয়া, সেখানে শিকার করা, বৃক্ষ কর্তন করা নিষিদ্ধ এবং এর হারামের সীমারেখা।

৮৬৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬৩


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَدَعَا لَهَا وَحَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ كَمَا حَرَّمَ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ وَدَعَوْتُ لَهَا، فِي مُدِّهَا وَصَاعِهَا، مِثْلَ مَا دَعَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ لِمَكَّةَ

‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইবরাহীম (আ.) মাক্কাহ্‌কে হারাম ঘোষণা করেছেন ও তার জন্য দু‘আ করেছেন। আমি মাদীনাহ্‌কে হারাম ঘোষণা করেছি, যেমন ইবরাহীম (আ.) মাক্কাহ্‌কে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং আমি মাদীনাহ্‌র মুদ ও সা‘আ এর জন্য দু‘আ করেছি। যেমন ইবরাহীম (আ.) মাক্কাহ্‌র জন্য দু‘আ করেছিলেন। (বুখারী পর্ব ৩৪/৫৩ হাঃ ২১২৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬০)

৮৬৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬৪


حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأبِي طَلْحَةَ الْتَمِسْ غُلاَمًا مِنْ غِلْمَانِكُمْ يَخْدُمُنِي فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ يُرْدِفنِي وَرَاءَهُ، فَكُنْتُ أَخْدُمُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلَّمَا نَزَلَ، فَكُنْتُ أَسْمَعُهُ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ: اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ فَلَمْ أَزَلْ أَخْدُمُهُ حَتَّى أَقْبَلْنَا مِنْ خَيْبَرَ، وَأَقْبَلَ بِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ، قَدْ حَازَهَا، فَكُنْتُ أَرَاهُ يُحَوِّى وَرَاءَهُ بِعَبَاءَةٍ أَوْ بِكِسَاءٍ، ثُمَّ يُرْدِفُهَا وَرَاءَهُ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالصَّهْبَاءِ صَنَعَ حَيْسًا فِي نِطَعٍ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَدَعَوْتُ رِجَالاً فَأَكَلُوا، وَكَانَ ذَلِكَ بِنَاءَهُ بِهَا ثُمَّ أَقْبَلَ [ص: 82] حَتَّى إِذَا بَدَا لَهُ أُحُدٌ؛ قَالَ: هذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ فَلَمَّا أَشْرَفَ عَلَى الْمَدِينَةِ، قَالَ: اللهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ جَبَلَيْهَا مِثْلَ مَا حَرَّمَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ، اللهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مُدِّهِمْ وَصَاعِهِمْ

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ ত্বলহাকে বলেন, তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খেদমত করতে পারে। এমনকি তাকে আমি খায়বারেও নিয়ে যেতে পারি। অতঃপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) আমাকে তার সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে চললেন। আমি তখন প্রায় সাবালক। আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খেদমত করতে লাগলাম। তিনি যখন অবতরণ করতেন, তখন প্রায়ই তাকে এই দু‘আ পড়তে শুনতামঃ ‘হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি।’ পরে আমরা খায়বারে গিয়ে হাজির হলাম। অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে দুর্গের উপর বিজয়ী করলেন, তখন তাঁর নিকট সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই ইব্‌নু আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হলো, তিনি ছিলেন সদ্য বিবাহিতা; তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে রওয়ানা দিলেন। আমরা যখন সাদ্দুস্ সাহ্বা নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন সাফিয়্যাহ (রাঃ) হায়েয থেকে পবিত্র হন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে তাঁর সঙ্গে বাসর যাপন করেন। অতঃপর তিনি চামড়ার ছোট দস্তরখানে ‘হায়সা’ প্রস্তুত করে আমাকে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার নির্দেশ দিলেন। এই ছিল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাফিয়্যার বিয়ের ওয়ালিমাহ। অতঃপর আমরা মাদীনাহ্‌র দিকে রওয়ানা দিলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দেখতে পেলাম যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পেছনে চাদর দিয়ে সাফিয়্যাহ্‌কে পর্দা করছেন। উঠানামার প্রয়োজন হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উটের কাছে হাঁটু বাড়িয়ে বসতেন, আর সাফিয়্যাহ (রাঃ) তাঁর উপর পা রেখে উটে আরোহণ করতেন। এভাবে আমরা মাদীনাহ্‌র নিকটবর্তী হলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের দিকে তাকিয়ে বললেন, এটি এমন এক পর্বত যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। অতঃপর মাদীনাহ্‌র দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ, এই কঙ্করময় দু’টি ময়দানের মধ্যবর্তী স্থানকে আমি ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করছি, যেমন ইব্রাহীম (‘আ.) মাক্কাহকে ‘হারাম’ ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ্! আপনি তাদের মুদ এবং সা‘তে বরকত দান করুন।’ (বুখারী পর্ব ৭০/২৮ হাঃ ২৮৯৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৫ হাঃ ১৩৬৫)

৮৬৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬৫


حديث أَنَسٍ عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ: قُلْتُ َلأنَسٍ أَحَرَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ قَالَ: نَعَمْ مَا بَيْنَ كَذَا إِلَى كَذَا، لاَ يُقْطَعُ شَجَرُهَا، مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِين
قَالَ عَاصِمٌ: فَأَخْبَرَنِي مُوسى بْنُ أَنَسٍ أَنَّهُ قَالَ، أَوْ آوَى مُحْدِثًا

‘আসিম (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি মাদীনাহ্‌কে হারাম (সংরক্ষিত এলাকা) হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, অমুক স্থান থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত। এ এলাকার কোন গাছ কাটা যাবে না, আর যে ব্যক্তি এখানে বিদ্আত সৃষ্টি করবে তার উপর আল্লাহ্ তা‘আলা, ফেরেশ্‌তা ও সকল মানব সম্প্রদায়ের লা‘নাত। আসিম বলেন, আমাকে মূসা ইব্‌নু আনাস বলেছেন, বর্ণনাকারী (আরবী) কিংবা বিদ্আত সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দেয় বলেছেন। (বুখারী পর্ব ৯৬/৬ হাঃ ৭৩০৬, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৫ হাঃ ১৩৬৬)

৮৬৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬৬


حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: اللهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مِكْيَالِهِمْ، وَبَارِكْ لَهُمْ فِي صَاعِهِمْ وَمُدِّهِمْ يَعْنِي أَهْلَ الْمَدِينَةِ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের মাপের পাত্রে বরকত দিন এবং তাদের সা‘আ ও মুদ-এ বরকত দিন অর্থাৎ মাদীনাহ্‌বাসীদের। (বুখারী পর্ব ৩৪/৫৩ হাঃ ২১৩০, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৫ হাঃ ১৩৬৭)

৮৬৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬৭


حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: اللهُمَّ اجْعَلْ بِالْمَدِينَةِ ضِعْفَيْ مَا جَعَلْتَ بِمَكَّةَ مِنَ الْبَرَكَةِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! মাক্কাহতে তুমি যে বরকত দান করেছ, মাদীনাহ্‌তে এর দ্বিগুণ বরকত দাও। ‘উসমান বিন ‘উমার উক্ত হাদীস ইউনুস থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে জারীরের অনুসরণ করেছেন। (বুখারী পর্ব ২৯/১০ হাঃ ১৮৮৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৬৯)

৮৬৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬৮


حديث عَلِيٍّ رضي الله عنه خَطَبَ عَلَى مِنْبَرٍ مِنْ آجُرٍّ وَعَلَيْهِ سَيْفٌ فِيهِ صَحِيفَةٌ مُعَلَّقَةٌ، فَقَالَ: وَاللهِ مَا عِنْدَنَا مِنْ كِتَابٍ يُقْرَأُ إِلاَّ كِتَابُ اللهِ، وَمَا فِي هذِهِ الصَّحِيفَةِ فَنَشَرَهَا فَإِذَا فِيهَا: أَسْنَانُ الإِبِلِ؛ وَإِذَا فِيهَا: الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مِنْ عَيْرٍ إِلَى كَذَا، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً؛ وَإِذَا فِيهِ: ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ، فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً؛ وَإِذَا فِيهَا: مَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

একবার ‘আলী (রাঃ) পাকা ইটে নির্মিত একটি মিম্বরে আরোহণ করে আমাদের উদ্দেশে খুত্‌বা পাঠ করলেন। তাঁর সঙ্গে একটি তরবারী ছিল, যার মাঝে একটি সহীফা ঝুলন্ত ছিল। তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আমাদের নিকট আল্লাহ্‌র কিতাব এবং যা এই সহীফাতে লিপিবদ্ধ আছে এ ব্যতীত অন্য এমন কোন কিতাব নেই যা পাঠ করা যেতে পারে। অতঃপর তিনি তা খুললেন। তাতে উটের বয়স সম্পর্কে লেখা ছিল এবং লেখা ছিল যে, ‘আয়র’ (পর্বত) থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত মাদীনাহ হারাম (পবিত্র এলাকা) বলে বিবেচিত হবে। যে কেউ এখানে কোন অন্যায় করবে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশ্‌তাকুল ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফার্‌য ও নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না এবং তাতে আরও ছিল যে, এখানকার সকল মুসলিমের নিরাপত্তা একই পর্যায়ের। একজন নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিও (অন্য কাউকে) নিরাপত্তা প্রদান করতে পারবে। যদি কোন ব্যক্তি অপর একজন মুসলিমের প্রদত্ত নিরাপত্তাকে লংঘন করে, তাহলে তার উপর আল্লাহ্‌র, ফেরেশ্‌তাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের লা‘নাত (অভিসম্পাত)। আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফার্‌য ও নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না। তাতে আরও ছিল, যদি কোন ব্যক্তি তার (আযাদকারী) মনিবের অনুমতি ব্যতীত অন্য কাউকে নিজের (গোলাম থাকাকালীন সময়ের) মনিব বলে উল্লেখ করে, তাহলে তার উপর আল্লাহ্‌র, ফেরেশ্‌তাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফার্‌য, নফল কোন ‘ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না। (বুখারী পর্ব ৯২/৫ হাঃ ৭৩০০, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৫ হাঃ ১৩৭০)

৮৬৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৬৯


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: لَوْ رَأَيْتُ الظِّبَاءَ بِالْمَدِينَةِ تَرْتَعُ مَا ذَعَرْتُهَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا بَيْنَ لابَتَيْهَا حَرَامٌ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলতেন, আমি যদি মাদীনাতে কোন হরিণকে বেড়াতে দেখি তাহলে তাকে আমি তাড়াব না। (কেননা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাদীনার প্রস্তরময় পাহাড়ের দু’ এলাকার মধ্যবর্তী এলাকা হল হারম বা সম্মানিত স্থান। (বুখারী পর্ব ২৯/৪ হাঃ ১৮৭৩, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৫, হাঃ ১৩৭২)

১৫/৮৬.

মাদীনায় অবস্থানের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং সেখানে বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ।

৮৭০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭০


حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اللهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَمَا حَبَّبْتَ إِلَيْنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ، وَانْقُلْ حُمَّاهَا إِلَى الْجُحْفَةِ، اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا وَصَاعِنَا

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘আ করতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে মাক্কাহ্‌কে আমাদের জন্য প্রিয় করে দিয়েছেন, মাদীনাহ্‌কেও সেভাবে অথবা এর চেয়ে অধিক আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন। আর মাদীনাহ্‌র জ্বর ‘জুহফা’ নামক স্থানের দিকে সরিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাপের ও ওযনের পাত্রে বারকাত দিন। (বুখারী পর্ব ৮০/৪৩ হাঃ ৬৩৭২, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৬ হাঃ ১৩৭৬)

১৫/৮৭.

মহামারী ও দাজ্জালের প্রবেশ থেকে মাদীনাহ সংরক্ষিত হওয়া।

৮৭১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭১


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাদীনাহ্‌র প্রবেশ পথসমূহে ফেরেশতা পাহারায় নিয়োজিত আছে। তাই প্লেগ রোগ এবং দাজ্জাল মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী পর্ব ২৯/৯ হাঃ ১৮৮০, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৭, হাঃ ১৩৭৯)

১৫/৮৮.

মাদীনাহ তার ক্ষতিকর ও যাবতীয় মন্দকে পরিষ্কার করে।

৮৭২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭২


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمِرْتُ بِقَرْيَةٍ تَأْكُلُ الْقُرَى، يَقُولُونَ يَثْرِبُ، وَهِيَ الْمَدِينَةُ تَنْفِي النَّاسَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি এমন এক জনপদে হিজরাত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যে জনপদ অন্য সকল জনপদের উপর জয়ী হবে। লোকেরা তাকে ইয়াসরিব বলে থাকে। এ হল মাদীনাহ। তা অবাঞ্ছিত লোকদেরকে এমনভাবে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে কামারের অগ্নিচুলা লোহার মরিচা দূর করে দেয়। (বুখারী পর্ব ২৯/২ হাঃ ১৮৭১, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮২)

৮৭৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭৩


حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَايَعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الإِسْلاَمِ، فَأَصَابَ الأَعْرَابِيَّ وَعْكٌ بِالْمَدِينَةِ، فَأَتَى الأَعْرَابِيُّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: [ص: 85] يَا رَسُولَ اللهِ أَقِلْنِي بَيْعَتِي، فَأَبى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ ثُمَّ جَاءَهُ، فَقَالَ: أَقِلْنِي بَيْعَتِي، فَأَبى؛ ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ: أَقِلْنِي بَيْعَتِي، فَأَبى؛ فَخَرَجَ الأَعْرَابِيُّ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّمَا الْمَدِينَةُ كَالْكِيرِ تَنْفِي خَبَثَهَا وَيَنْصَعُ طِيبُهَا

জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক বেদুঈন এসে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ইসলামের বায়‘আত গ্রহণ করল। মাদীনায় সে জ্বরে আক্রান্ত হল। তখন সেই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অস্বীকৃতি জানালেন। সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকৃতি জানালেন। সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। তখন বেদুঈন বেরিয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনাহ হল কামারের হাপরের ন্যায়, যে তার মধ্যকার আবর্জনাকে বিদূরিত করে এবং খাঁটিটুকু ধরে রাখে। (বুখারী পর্ব ৯৩/৪৭ হাঃ ৭২১১, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৮ হাঃ ১৩৮৩)

৮৭৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭৪


حديث زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّهَا طَيْبَةُ تَنْفِي الْخَبَثَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْفِضَّةِ

যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এই মাদীনাহ হচ্ছে পবিত্র স্থান, আগুন যেভাবে রৌপ্যের কালিমা বিদূরিত করে এটাও খবীস ও অসৎদেরকে বিদূরিত করে। (বুখারী পর্ব ৬৫/১৫ হাঃ ৪৫৮৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮৪)

১৫/৮৯.

যে ব্যক্তি মাদীনাহ্‌বাসীর অনিষ্ট কামনা করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে কষ্ট দিবেন।

৮৭৫

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭৫


حديث سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لاَ يَكِيدُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَحَدٌ إِلاَّ انْمَاعَ كَمَا يَنْمَاعُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ

সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যে কেউ মাদীনাবাসীর সাথে ষড়যন্ত্র বা প্রতারণা করবে, সে লবণ যেভাবে পানিতে গলে যায়, সেভাবে গলে যাবে। (বুখারী পর্ব ২৯/৭ হাঃ ১৮৭৭, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৯, হাঃ ১৩৮৭)

১৫/৯০.

বিভিন্ন শহর বিজিত হলেও মাদীনায় থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান।

৮৭৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭৬


حديث سُفْيَانَ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ رضي الله عنه، أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: تُفْتَحُ الْيَمَنُ فَيَأْتِي قَوْمٌ يُبِسُّونَ فَيَتَحَمَّلُونَ بِأَهْلِهِمْ وَمَنْ أَطَاعَهُمْ، وَالْمَدِينَةُ [ص: 86] خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ، وَتَفْتَحُ الشَّامُ فَيَأْتِي قَوْمٌ يُبِسُّونَ فَيَتَحَمَّلُونَ بِأَهْلِيهِمْ وَمَنْ أَطَاعَهُمْ، وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ؛ وَتُفْتَحُ الْعِرَاقُ فَيَأْتِي قَوْمٌ يُبِسُّونَ فَيَتَحَمَّلُونَ بِأَهْلِيهِمْ وَمَنْ أَطَاعَهُمْ، وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ

সুফইয়ান ইব্‌নু আবূ যুহায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ ইয়ামান বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ মাদীনাহ তাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তারা বুঝত। সিরিয়া বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মাদীনাই ছিল তাদের জন্য মঙ্গলজনক, যদি তারা জানত। এরপর ইরাক বিজিত হবে তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী তাড়িয়ে এসে স্বজন এবং অনুগতদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মাদীনাই তাদের জন্য ছিল মঙ্গলজনক, যদি তারা জানত। (বুখারী পর্ব ২৯/৫ হাঃ ১৮৭৫, মুসলিম পর্ব ১৫/৯০, হাঃ ১৩৮৮)

১৫/৯১.

মাদীনাহ্’র অধিবাসীরা যখন মাদীনাহ্‌কে পরিত্যাগ করবে।

৮৭৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭৭


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: يَتْرُكُونَ الْمَدِينَةَ عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ لاَ يَغْشَاهَا إِلاَّ الْعَوَافِ يُرِيدُ عَوَافِيَ السِّبَاعِ وَالطَّيْرِ وَآخِر مَنْ يَحْشَرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ يُرِيدَانِ الْمَدِينَةَ، يَنْعَقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وَحْشًا، حَتَّى إِذَا بَلَغَ ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ خَرَّا عَلَى وُجُوهِهِمَا

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তম অবস্থায় মাদীনাহকে রেখে যাবে। আর জীবিকা অন্বেষণে বিচরণকারী অর্থাৎ পশু-পাখি ছাড়া আর কেউ একে আচ্ছন্ন করে নিতে পারবে না। সবশেষে যাদের মাদীনাহ্‌তে একত্রিত করা হবে তারা হল মুযায়না গোত্রের দু’জন রাখাল। তারা তাদের বকরীগুলোকে হাঁক-ডাক দিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশেই মাদীনাহতে আসবে। এসে দেখবে মাদীনাহ বন্য পশুতে ছেয়ে আছে। এরপর তারা সানিয়্যাতুল-বিদা নামক স্থানে পৌঁছতেই মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে। (বুখারী পর্ব ২৯/৫ হাঃ ১৮৭৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৯১, হাঃ ১৩৮৯

১৫/৯২.

কবর ও মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান হচ্ছে জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা।

৮৭৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭৮


حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ الْمَازِنِيِّ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِى رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ

‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু যায়দ-মাযিনী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার ঘর ও মিম্বর-এর মধ্যবর্তী স্থানটুকু জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান। (বুখারী পর্ব ২০/৫ হাঃ ১১৯৫, মুসলিম ১৫/৯২, হাঃ ১৩৯০)

৮৭৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৭৯


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান আর আমার মিম্বর অবস্থিত (রয়েছে) আমার হাউয (কাউসার)-এর উপরে। (বুখারী পর্ব ২০/৫ হাঃ ১১৯৬, মুসলিম ১৫/৯২, হাঃ ১৩৯১)

১৫/৯৩.

উহূদ পাহাড় আমাদেরকে ভালভাসে এবং আমরা তাকে ভালবাসি।

৮৮০

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৮০


حديث أَبِي حُمَيْدٍ، قَالَ: أَقْبَلْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ، حَتَّى إِذَا أَشْرَفْنَا عَلَى الْمَدِينَةِ، قَالَ: هذِهِ طَابَةُ وَهذَا أُحُدٌ، جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ

আবূ হুমাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে তাবূক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মাদীনাহ্‌র নিকটবর্তী হলে তিনি বললেন, এই মাদীনাহ্‌র অপর নাম ত্বাবা (পবিত্র) এবং এই উহূদ পাহাড় আমাদের ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি। (বুখারী পর্ব ৬৪/৮১ হাঃ ৪৪২২, মুসলিম পর্ব ১৫/৯৩ হাঃ ১৩৯২)

১৫/৯৪.

মাক্কাহ ও মাদীনাহ্‌র দু’ মাসজিদে সালাতের ফাযীলাত।

৮৮১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৮১


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাসজিদুল হারাম ব্যতীত আমার এ মাসজিদে সালাত আদায় করা অপরাপর মাসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম। (বুখারী পর্ব ২০/১ হাঃ ১১৯০, মুসলিম পর্ব ১৫/৯৩, হাঃ ১৩৯৪)

১৫/৯৫.

তিন মাসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফরের প্রস্তুতি নেবে না।

৮৮২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৮২


حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ: الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَسْجِدِ الأَقْصى

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রাসূল এবং মাসজিদুল আক্‌সা (বায়তুল মাক্‌দিস) তিনটি মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মাসজিদে (যিয়ারতের) উদ্দেশে হাওদা বাঁধা যাবে না। (বুখারী পর্ব ২০/১ হাঃ ১১৮৯, মুসলিম পর্ব ১৫/৯৫ হাঃ ১৩৯৭)

১৫/৯৬.

কুবা মাসজিদ ও সেখানে সালাত আদায়ের ফাযীলাত এবং তা যিয়ারাত করা।

৮৮৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

অধ্যায় : হজ্জ

হাদীস নং : ৮৮৩


حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِي قُبَاءً رَاكِبًا وَمَاشِيًا

ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরোহণ করে কিংবা পায়ে হেঁটে কুবা মাসজিদে আসতেন। (বুখারী পর্ব ২০/৪ হাঃ ১১৯৪, মুসলিম পর্ব ১৫/৯৭ হাঃ ১৩৯৯)