All books

আদাবুল মুফরাদ (০ টি হাদীস)

বিবিধ বিষয় ৫৪০ - ৬০৭

২৪৭.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজ ঘরের কাজকর্ম করে।

৫৪০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪০


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: مَا كَانَ يَصْنَعُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَهْلِهِ؟ فَقَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ خَرَجَ

আসওয়াদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার পরিবারবর্গের সাথে অবস্থানকালে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, পরিবারের কাজকর্ম করতেন এবং নামাযের ওয়াক্ত হলে বের হয়ে যেতেন। (বুখারী, তিরমিযী)

৫৪১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪১


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: يَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَعْمَلُ مَا يَعْمَلُ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ

হিশাম ইবনে উরওয়া (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) তার ঘরে অবস্থানকালে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তিনি তার জুতা মেরামত করতেন এবং লোকজন নিজ ঘরে সাধারণত যা করে থাক, তিনিও তাই করতেন (আবু দাউদ)।

৫৪২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪২


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ: مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: مَا يَصْنَعُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ، يَخْصِفُ النَّعْلَ، وَيَرْقَعُ الثَّوْبَ، وَيَخِيطُ

হিশাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) তাঁর ঘরে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি নিজ ঘরে যা করে থাকে, তিনি জুতা মেরামত করতেন, কাপড়ে তালি দিতেন এবং সেলাই করতেন (আবু দাউদ)।

৫৪৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪৩


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، قِيلَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: مَاذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ، يَفْلِي ثَوْبَهُ، وَيَحْلِبُ شَاتَهُ

আমর (র) থেকে বর্ণিতঃ

আয়েশা (রাঃ)-কে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার ঘরে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তিনি তো লোকজনের মতো একজন মানুষই ছিলেন। তিনি তাঁর কাপড় পরিষ্কার করতেন এবং তাঁর বকরীর দুধ দোহন করতেন (শামাইলে তিরমিযী, বাযযার)।

২৪৮.

অনুচ্ছেদঃ কেউ তার কোন ভাইকে মহব্বত করলে তাকে যেন তা অবগত করে।

৫৪৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪৪


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ ثَوْرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ أَنَّهُ أَحَبَّهُ»

মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার অপর (মুসলমান) ভাইকে মহব্বত করলে সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে মহব্বত করে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)

৫৪৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪৫


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: لَقِيَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِي مِنْ وَرَائِي، قَالَ: أَمَا إِنِّي أُحِبُّكَ، قَالَ: أَحَبَّكَ الَّذِي أَحْبَبْتَنِي لَهُ، فَقَالَ: لَوْلَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فَلْيُخْبِرْهُ أَنَّهُ أَحَبَّهُ» مَا أَخْبَرْتُكَ، قَالَ: ثُمَّ أَخَذَ يَعْرِضُ عَلَيَّ الْخِطْبَةَ قَالَ: أَمَا إِنَّ عِنْدَنَا جَارِيَةً، أَمَا إِنَّهَا عَوْرَاءُ

মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ)-এর কোন এক সাহাবী আমার সাথে সাক্ষাত করলেন। তিনি আমার পেছন দিক থেকে আমার কাঁধ ধরে বলেন, শোন! আমি তোমাকে ভালোবাসি। রাবী বলেন, আমি বললাম, যে সত্তার (সন্তুষ্টির) জন্য আপনি আমাকে ভালোবাসেন, তিনি যেন আপনাকে ভালোবাসেন। সাহাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যদি একথা না বলতেনঃ “কেউ কাউকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে অবহিত করে যে, সে তাকে ভালোবাসে”, তবে আমি তোমাকে তা অবহিত করতাম না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, শোন! আমার কাছে একটি বালিকা আছে। তবে তার এক চোখ অন্ধ।

৫৪৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪৬


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا تَحَابَّا الرَّجُلَانِ إِلَّا كَانَ أَفْضَلُهُمَا أَشَدَّهُمَا حُبًّا لِصَاحِبِهِ»

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি পরস্পরকে মহব্বত করলে, তাদের মধ্যে যে অপরজনকে অধিক মহব্বত করে সে অধিক উত্তম। (হাকিম, ইবনে হিব্বান)

২৪৯.

অনুচ্ছেদঃ কেউ কাউকে মহব্বত করলে সে যেন তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয় এবং তার নিকট কিছু না চায়।

৫৪৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪৭


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، أَنَّ أَبَا الزَّاهِرِيَّةِ حَدَّثَهُ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّهُ قَالَ: إِذَا أَحْبَبْتَ أَخًا فَلَا تُمَارِهِ، وَلَا تُشَارِّهِ، وَلَا تَسْأَلْ عَنْهُ، فَعَسَى أَنْ تُوَافِيَ لَهُ عَدُوًّا فَيُخْبِرَكَ بِمَا لَيْسَ فِيهِ، فَيُفَرِّقَ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح الإسناد موقوفا وروي عنه مرفوعا

মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তুমি তোমার কোন (মুসলমান) ভাইকে মহব্বত করলে তার সাথে ঝগড়া করবে না, তার ক্ষতি সাধনের চিন্তাও করবে না এবং তার কাছে কিছু চাইবেও না। এমন যেন না হয় যে, তুমি শক্রর খপ্পরে পড়ে যাও এবং সে তোমাকে তার সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার মধ্যে নেই। এভাবে সে তোমার ও তার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে (জামে সগীর, হিলইয়া)।

৫৪৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪৮


حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ أَحَبَّ أَخًا لِلَّهِ، فِي اللَّهِ، قَالَ: إِنِّي أُحِبُّكَ لِلَّهِ، فَدَخَلَا جَمِيعًا الْجَنَّةَ، كَانَ الَّذِي أَحَبَّ فِي اللَّهِ أَرْفَعَ دَرَجَةً لِحُبِّهِ، عَلَى الَّذِي أَحَبَّهُ لَهُ "

আবদুল্লাহ ইবন আমর (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাঁর অপর ভাইকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে মহব্বত করে এবং বলে, আমি তোমাকে আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে মহব্বত করি, তারা উভয়ে জান্নাতে দাখিল হবে। যার মহব্বত অধিক প্রবল হবে সে তার ভাইকে মহব্বত করার কারণে অধিক মর্যাদাবান হবে।

২৫০.

অনুচ্ছেদঃ অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল।

৫৪৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৪৯


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَهُ بِصِفِّينَ يَقُولُ: إِنَّ الْعَقْلَ فِي الْقَلْبِ، وَالرَّحْمَةَ فِي الْكَبِدِ، وَالرَّأْفَةَ فِي الطِّحَالِ، وَالنَّفَسَ فِي الرِّئَةِ "

ইয়াদ ইবনে খলীফা (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাকে সিফফীন নামক স্থানে বলতে শুনেছেন, অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল, করুণার স্থান হৃদপিণ্ড, মায়া-মমতার স্থান যকৃত এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্থান ফুসফুস।

২৫১.

অনুচ্ছেদঃ অহংকার-অহমিকা।

৫৫০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫০


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ الصَّقْعَبِ بْنِ زُهَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ: لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ عَلَيْهِ جُبَّةُ سِيجَانٍ، حَتَّى قَامَ عَلَى رَأْسِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنَّ صَاحِبَكُمْ قَدْ وَضَعَ كُلَّ فَارِسٍ - أَوْ قَالَ: يُرِيدُ أَنْ يَضَعَ كُلَّ فَارِسٍ - وَيَرْفَعَ كُلَّ رَاعٍ، فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَجَامِعِ جُبَّتِهِ فَقَالَ: «أَلَا أَرَى عَلَيْكَ لِبَاسَ مَنْ لَا يَعْقِلُ» ، ثُمَّ قَالَ: " إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ نُوحًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ لِابْنِهِ: إِنِّي قَاصٌّ عَلَيْكَ الْوَصِيَّةَ، آمُرُكَ بِاثْنَتَيْنِ، وَأَنْهَاكَ عَنِ اثْنَتَيْنِ: آمُرُكَ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ، لَوْ وُضِعْنَ فِي كِفَّةٍ وَوُضِعَتْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ لَرَجَحَتْ بِهِنَّ، وَلَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ كُنَّ حَلْقَةً مُبْهَمَةً لَقَصَمَتْهُنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، فَإِنَّهَا صَلَاةُ كُلِّ شَيْءٍ، وَبِهَا يُرْزَقُ كُلُّ شَيْءٍ، وَأَنْهَاكَ عَنِ الشِّرْكِ وَالْكِبْرِ، فَقُلْتُ، أَوْ قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَذَا الشِّرْكُ قَدْ عَرَفْنَاهُ، فَمَا الْكِبْرُ؟ هُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا حُلَّةٌ يَلْبَسُهَا؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا نَعْلَانِ حَسَنَتَانِ، لَهُمَا شِرَاكَانِ حَسَنَانِ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا دَابَّةٌ يَرْكَبُهَا؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا أَصْحَابٌ يَجْلِسُونَ إِلَيْهِ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَا الْكِبْرُ؟ قَالَ: «سَفَهُ الْحَقِّ، وَغَمْصُ النَّاسِ» [ص: 193]

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন বনভূমি থেকে সীজান (এক প্রকার মাছ) রং-এর জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি এসে নবী (সাঃ) -এর মাথার কাছে দাঁড়ালো এবং বললো, তোমাদের সাথী প্রত্যেক আরোহীকে অবদমিত করেছে বা আরোহীদেরকে অবদমিত করার সংকল্প করেছে এবং প্রত্যেক রাখালকে সমুন্নত করেছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার জুব্বার হাতা ধরে বলেনঃ আমি কি তোমাকে নির্বোধের পোশাক পরিহিত দেখছি না? অতঃপর তিনি বলেনঃ আল্লাহর নবী হযরত নূহ (আবু দাউদ)-এর ইন্তিকালের সময় উপস্থিত হলে তিনি তাঁর পুত্রকে বলেনঃ আমি তোমাকে একটি উপদেশ দিচ্ছি। আমি তোমাকে দুটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং দুটি বিষয় নিষেধ করছি। আমি তোমাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”-এর নির্দেশ দিচ্ছি। কেননাসাঈ, সাত আসমান ও সাত জমিনকে যদি এক পাল্লায় তোলা হয় এবং অপর পাল্লায় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” তোলা হয়, তবে সেই তাওহীদের পাল্লাই ভারী হবে। সাত আসমান ও সাত জমিন যদি একটি জটিল গ্রন্থির রূপ ধারণ করে, তবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” এবং “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” তা চুরমার করে দিবে। কেননা তা প্রত্যেক বস্তুর নামায এবং সকলেই এর বদৌলতে রিযিক লাভ করে থাকে। আর আমি তোমাকে বারণ করছি শিরক এবং অহংকারে লিপ্ত হতে। আমি বললাম অথবা বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শিরক তো আমরা বুঝলাম, তবে অহংকার কি? আমাদের মধ্যকার কারো যদি কারুকার্য খচিত চাদর থাকে, আর তা পরিধান করে? তিনি বলেনঃ না। সে আবার বললো, যদি আমাদের কারো সুন্দর ফিতাযুক্ত সুন্দর একজোড়া জুতা থাকে? তিনি বলেনঃ না। সে পুনরায় বললো, যদি আমাদের কারো আরোহণের একটি জন্তুযান থাকে? তিনি বলেনঃ না। সে বললো, যদি আমাদের কারো বন্ধু-বান্ধব থাকে এবং তারা তার সাথে ওঠা-বসাও করে (তবে তা কি অহংকার হবে)? তিনি বলেনঃ না। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে অহংকার কি? তিনি বলেনঃ সত্য থেকে বিমুখ থাকা এবং মানুষকে হেয় জ্ঞান করা। (আহমাদ, নাসাঈ, বাযযার, হাকিম, হিব্বান, তাহাবী)

৫৫১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫১


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ الْقَاسِمِ أَبُو عُمَرَ الْيَمَامِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ تَعَظَّمَ فِي نَفْسِهِ، أَوِ اخْتَالَ فِي مِشْيَتِهِ، لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ»

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজেকে বড়ো মনে করে অথবা তার চালচলনে অহংকার প্রকাশ করে, সে এমন অবস্থায় মহামহিম আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে যে, তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকবেন (আবু দাউদ, হাকিম)।

৫৫২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫২


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا اسْتَكْبَرَ مَنْ أَكَلَ مَعَهُ خَادِمُهُ، وَرَكِبَ الْحِمَارُ بِالْأَسْوَاقِ، وَاعْتَقَلَ الشَّاةَ فَحَلَبَهَا»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার খাদেমকে সাথে নিয়ে আহার করে, গাধায় চড়ে বাজারে যায়, ছাগল পোষে এবং তার দুধ দোহন করে, সে অহংকারী নয়।

৫৫৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫৩


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ بَحْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمِ بْنِ الْبَرِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحٌ بَيَّاعُ الْأَكْسِيَةِ، عَنْ جَدَّتِهِ قَالَتْ: رَأَيْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اشْتَرَى تَمْرًا بِدِرْهَمٍ، فَحَمَلَهُ فِي مِلْحَفَتِهِ، فَقُلْتُ لَهُ، أَوْ قَالَ لَهُ رَجُلٌ: أَحْمِلُ عَنْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: لَا، أَبُو الْعِيَالِ أَحَقُّ أَنْ يَحْمِلَ

কাপড় বিক্রেতা সালেহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে দেখলাম যে, তিনি এক দিরহামের খেজুর কিনে তা তার চাদরে করে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি তাকে বললাম অথবা এক ব্যক্তি তাকে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার বোঝাটি আমিই বহন করি। তিনি বলেন, নাসাঈ, পরিবারের পিতাই বোঝা বহনের অধিক উপযুক্ত (তারীখুল কামিল)।

৫৫৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫৪


حَدَّثَنَا عُمَرُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْأَغَرِّ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعِزُّ إِزَارِي، وَالْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، فَمَنْ نَازَعَنِي بِشَيْءٍ مِنْهُمَا عَذَّبْتُهُ»

আবু সাঈদ (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, ইজ্জত আমার পরিধেয় এবং কিবরিয়া (অহংকার) আমার চাদর। যে কেউ আমার সাথে এই দু’টি জিনিস নিয়ে বিবাদ করবে, আমি তাকে শাস্তি দিবো। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, হাকিম)

৫৫৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫৫


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو رَوَاحَةَ يَزِيدُ بْنُ أَيْهَمَ، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ مَالِكٍ الطَّائِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ، قَالَ: إِنَّ لِلشَّيْطَانِ مَصَالِيًا وَفُخُوخًا، وَإِنَّ مَصَالِيَ الشَّيْطَانِ وَفُخُوخَهُ: الْبَطَرُ بِأَنْعُمِ اللَّهِ، وَالْفَخْرُ بِعَطَاءِ اللَّهِ، وَالْكِبْرِيَاءُ عَلَى عِبَادِ اللَّهِ، وَاتِّبَاعُ الْهَوَى فِي غَيْرِ ذَاتِ اللَّهِ

হায়সাম ইবনে মালেক আত-তাই (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নোমান ইবনে বশীর (রাঃ)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, শয়তানের অনেক রকম জাল ও ফাঁদ আছে। শয়তানের জাল ও ফাঁদ হচ্ছে আল্লাহর নিয়ামত সম্পর্কে অহংকার করা, আল্লাহর দান সম্পর্কে গর্ব করা, আল্লাহর বান্দাগণের উপর অহংকার করা এবং আল্লাহর সত্তা ব্যতীত নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা (বায়হাকীর শুআবুল ঈমান, জামে সগীর, ইবনে আসাকির)।

৫৫৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫৬


حَدَّثَنَا عَلِيٌّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " احْتَجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ - وَقَالَ سُفْيَانُ أَيْضًا: اخْتَصَمَتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ - قَالَتِ النَّارُ: يَلِجُنِي الْجَبَّارُونَ، وَيَلِجُنِي الْمُتَكَبِّرُونَ، وَقَالَتِ الْجَنَّةُ: يَلِجُنِي الضُّعَفَاءُ، وَيَلِجُنِي الْفُقَرَاءُ. قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لِلْجَنَّةِ: أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ، ثُمَّ قَالَ لِلنَّارِ: أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا "

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ বেহেশত ও দোযখ পরস্পর বিতর্ক ও বাদানুবাদে লিপ্ত হলো। দোযখ বললো, পরাক্রমশালী, স্বৈরাচারী ও অহংকারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বেহেশত বললো, দুর্বল ও দরিদ্ররা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বরকতময় মহান আল্লাহ বেহেশতকে বলেন, তুমি হলে আমার রাহমাত, আমি যাকে ইচ্ছা তোমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করবো। অতঃপর তিনি দোযখকে বলেন, তুমি হলে আমার শাস্তি। আমি যাকে ইচ্ছা তোর মাধ্যমে শাস্তি দিবো। তোদের দু’জনকেই পূর্ণ করা হবে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান)

৫৫৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫৭


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ جَمِيعٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: لَمْ يَكُنْ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَحَزِّقِينَ، وَلَا مُتَمَاوِتِينَ، وَكَانُوا يَتَنَاشَدُونَ الشِّعْرَ فِي مَجَالِسِهِمْ، وَيَذْكُرُونَ أَمْرَ جَاهِلِيَّتِهِمْ، فَإِذَا أُرِيدَ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَلَى شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ، دَارَتْ حَمَالِيقُ عَيْنَيْهِ كَأَنَّهُ مَجْنُونٌ

আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর সাহাবীগণ অশিষ্ট বা মনমরা ছিলেন না। তারা তাদের মজলিসসমূহে উত্তম কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহিলী যুগের বিষয়াদি আলোচনা করতেন। কিন্তু তাদের কাউকে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করাবার প্রয়াস চালানো হলে তার দৃষ্টি বিস্ফোরিত হয়ে যেতো। যেন তিনি এক উন্মাদ। (ইবনে আবু শায় বাযযার)

৫৫৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ جَمِيلًا، فَقَالَ: حُبِّبَ إِلَيَّ الْجَمَالُ، وَأُعْطِيتُ مَا تَرَى، حَتَّى مَا أُحِبُّ أَنْ يَفُوقَنِي أَحَدٌ، إِمَّا قَالَ: بِشِرَاكِ نَعْلٍ، وَإِمَّا قَالَ: بِشِسْعٍ أَحْمَرَ، الْكِبْرُ ذَاكَ؟ قَالَ: «لَا، وَلَكِنَّ الْكِبْرَ مَنْ بَطَرَ الْحَقَّ، وَغَمَطَ النَّاسَ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক অতিশয় সুন্দর ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললো, সৌন্দর্য আমার অতি প্রিয়, আর আমাকে সৌন্দর্য দান করা হয়েছে যা আপনি দেখছেন। এমনকি আমি এতটুকুও পছন্দ করি না যে, জুতার ফিতা বা তার লাল অগ্রভাগের সৌন্দর্যের দিক দিয়েও কেউ আমাকে ডিংগিয়ে যাক। এটা কি অহংকার? তিনি বলেনঃ নাসাঈ, বরং অহংকার হলো সত্য থেকে বিমুখ হওয়া এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা। (দারিমী, তিরমিযী)

৫৫৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৫৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِي صُورَةِ الرِّجَالِ، يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ، يُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ مِنْ جَهَنَّمَ يُسَمَّى: بُولَسَ، تَعْلُوهُمْ نَارُ الْأَنْيَارِ، وَيُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ، طِينَةَ الْخَبَالِ "

আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে বর্ণিতঃ

মহানবী (সাঃ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে পিপিলিকা সদৃশ (ক্ষুদ্রদেহ) মানুষরূপে হাশরের মাঠে সমবেত করা হবে। তারা সব দিক থেকে লাঞ্ছনা পরিবেষ্টিত থাকবে। তাদেরকে দোযখের বূলাস নামক কারাগারের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা দোযখের আগুনে জ্বলতে থাকবে এবং দোযখীদের (দেহ নিৰ্গত) ঘাম পান করবে। (তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ)

২৫২.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি যুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করে।

৫৬০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬০


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهَا: «دُونَكِ فَانْتَصِرِي» .

আয়েশা (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) তাকে বলেনঃ তুমি তোমার প্রতিশোধ নাও।

৫৬১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬১


حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَأْذَنَتْ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فِي مِرْطِهَا، فَأَذِنَ لَهَا فَدَخَلَتْ، فَقَالَتْ: إِنَّ أَزْوَاجَكَ أَرْسَلْنَنِي يَسْأَلْنَكَ الْعَدْلَ فِي بِنْتِ أَبِي قُحَافَةَ، قَالَ: «أَيْ بُنَيَّةُ، أَتُحِبِّينَ مَا أُحِبُّ؟» قَالَتْ: بَلَى، قَالَ: «فَأَحِبِّي هَذِهِ» ، فَقَامَتْ فَخَرَجَتْ فَحَدَّثَتْهُمْ، فَقُلْنَ: مَا أَغْنَيْتِ عَنَّا شَيْئًا فَارْجِعِي إِلَيْهِ، قَالَتْ: وَاللَّهِ لَا أُكَلِّمُهُ فِيهَا أَبَدًا. فَأَرْسَلْنَ زَيْنَبَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَأْذَنَتْ، فَأَذِنَ لَهَا، فَقَالَتْ لَهُ ذَلِكَ، وَوَقَعَتْ فِيَّ زَيْنَبُ تَسُبُّنِي، فَطَفِقْتُ أَنْظُرُ: هَلْ يَأْذَنُ لِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ أَزَلْ حَتَّى عَرَفْتُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَكْرَهُ أَنْ أَنْتَصِرَ، فَوَقَعْتُ بِزَيْنَبَ، فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ أَثْخَنْتُهَا غَلَبَةً، فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَا إِنَّهَا ابْنَةُ أَبِي بَكْرٍ»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ)-এর স্ত্রীগণ ফাতেমা (রাঃ)-কে নবী (সাঃ)-এর নিকট পাঠান। তিনি (গিয়ে) অনুমতি প্রার্থনা করেন। নবী (সাঃ) তখন আয়েশা (রাঃ)-এর বিছানায় ছিলেন। তিনি তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। তিনি প্রবেশ করে বলেন, আপনার স্ত্রীগণ আবু কুহাফার কন্যার ব্যাপারে তাদের প্রতি সুবিচার প্রার্থনা করার জন্য আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। তিনি বলেনঃ হে আমার কন্যা! আমি যা ভালোবাসি তুমি কি তা ভালোবাসবে? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বলেনঃ তবে তুমি তাকে (আয়েশা) ভালোবাসবে। অতঃপর ফাতেমা (রাঃ) উঠে চলে এলেন এবং বিষয়টি তাদের বললেন। তারা বলেন, তুমি আমাদের কোন উপকার করতে পারলে না। তুমি আবার তাঁর কাছে যাও। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এই প্রসঙ্গে আমি আর কখনো তাঁর সাথে কথা বলবো না। অতঃপর তারা নবী-পত্নী যয়নব (রাঃ)-কে পাঠান। তিনি গিয়ে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে অনুমতি দিলেন। তিনি তখন সেই কথা তাঁকে বলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, যয়নব আমাকে গালি দিয়ে কথা বলতে লাগলো। আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম যে, নবী (সাঃ) আমাকে (প্রতিউত্তরের) অনুমতি দেন কিনা। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, আমি প্রত্যুত্তর করলে তিনি অপছন্দ করবেন নাসাঈ, তখন আমিও যয়নবের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম এবং তাকে পরাস্ত করে ছাড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুচকি হাসলেন এবং বললেনঃ সাবধান! সে তো আবু বাকরের কন্যা। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

২৫৩.

অনুচ্ছেদঃ দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুৎপপাসার সময় সমবেদনা জ্ঞাপন।

৫৬২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ بَشِيرٍ الْجَهْضَمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَارَةُ الْمَعْوَلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ مَجَاعَةٌ، مَنْ أَدْرَكَتْهُ فَلَا يَعْدِلَنَّ بِالْأَكْبَادِ الْجَائِعَةِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

শেষ যমানায় দুর্ভিক্ষ হবে। যে ব্যক্তি সেই যুগ পাবে, সে যেন ক্ষুধার্ত প্রাণীদের প্রতি অবিচার না করে।

৫৬৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬৩


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ الْأَنْصَارَ قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اقْسِمْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا النَّخِيلَ، قَالَ: «لَا» ، فَقَالُوا: تَكْفُونَا الْمَؤُونَةَ، وَنُشْرِكُكُمْ فِي الثَّمَرَةِ؟ قَالُوا: سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আনসার সাহাবীগণ নবী (সাঃ)-কে বলেন, আমাদের এবং আমাদের (মুহাজির) ভাইদের মধ্যে খেজুর বাগান ভাগ করে দিন। তিনি বলেনঃ না। তারা বলেন, আপনারা আমাদের বাগানে মেহনত করুন, আপনাদের ভাগ দেবো। তারা (মুহাজিররা) বলেন, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)

৫৬৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬৪


حَدَّثَنَا أَصْبَغُ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَالِمًا أَخْبَرَهُ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَامَ الرَّمَادَةِ - وَكَانَتْ سَنَةً شَدِيدَةً مُلِمَّةً، بَعْدَمَا اجْتَهَدَ عُمَرُ فِي إِمْدَادِ الْأَعْرَابِ بِالْإِبِلِ وَالْقَمْحِ وَالزَّيْتِ مِنَ الْأَرْيَافِ كُلِّهَا، حَتَّى بَلَحَتِ الْأَرْيَافُ كُلُّهَا مِمَّا جَهَدَهَا ذَلِكَ - فَقَامَ عُمَرُ يَدْعُو فَقَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَهُمْ عَلَى رُءُوسِ الْجِبَالِ، فَاسْتَجَابَ اللَّهُ لَهُ وَلِلْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ حِينَ نَزَلَ بِهِ الْغَيْثُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَوَاللَّهِ لَوْ أَنَّ اللَّهَ لَمْ يُفْرِجْهَا مَا تَرَكْتُ بِأَهْلِ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ لَهُمْ سَعَةٌ إِلَّا أَدْخَلْتُ مَعَهُمْ أَعْدَادَهُمْ مِنَ الْفُقَرَاءِ، فَلَمْ يَكُنِ اثْنَانِ يَهْلِكَانِ مِنَ الطَّعَامِ عَلَى مَا يُقِيمُ وَاحِدًا

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) দুর্ভিক্ষের বছর বলেন, আর সেই বছরটি ছিল ভীষণ দুর্বিপাক ও কষ্টের। উমার (রাঃ) পল্লী অঞ্চলের বেদুইনদের উট, খাদ্যশস্য ও তৈল প্রভৃতি সাহায্য সামগ্ৰী পৌঁছাবার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি গ্রামাঞ্চলের এক খণ্ড জমিও অনাবাদী পড়ে থাকতে দেননি এবং তার চেষ্টা ফলপ্রসূ হলো। উমার (রাঃ) দোয়া করতে দাঁড়িয়ে বলেন, “হে আল্লাহ! আপনি তাদের রিযিক পর্বত চূড়ায় পৌছে দিন”। আল্লাহ তার এবং মুসলমানদের দোয়া কবুল করলেন। তখন বৃষ্টি বর্ষিত হলে তিনি বলেন, আলহামদু লিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। আল্লাহর শপথ! যদি আল্লাহ এই বিপর্যয় দূর না করতেন, তবে আমি কোন সচ্ছল মুসলমান পরিবারকেই তাদের সাথে সম-সংখ্যক অভাবী লোককে যোগ না করে ছাড়তাম না। যতটুকু খাদ্যে একজন জীবন ধারণ করতে পারে, তার সাহায্যে দু’জন লোক ধ্বংস থেকে রক্ষা পেতে পারে।

৫৬৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬৫


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ضَحَايَاكُمْ، لَا يُصْبِحُ أَحَدُكُمْ بَعْدَ ثَالِثَةٍ، وَفِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ» . فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا الْعَامَ الْمَاضِيَ؟ قَالَ: «كُلُوا وَادَّخِرُوا، فَإِنَّ ذَلِكَ الْعَامَ كَانُوا فِي جَهْدٍ فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا»

সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোরবানী করে, সে যেন তৃতীয় দিনের পর এমন অবস্থায় ভোরে উপনীত না হয় যে, তার ঘরে কোরবানীর গোশতের কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে। পরবর্তী বছর আসলে লোকেরা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা গত বছর যেরূপ করেছিলাম, এ বছরও কি তদ্রুপ করবো? তিনি বলেনঃ নিজেরা খাও, অন্যকে খেতে দাও এবং জমা রাখো। (যেহেতু) ঐ বছর মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম যে, এই অবস্থায় তোমরা তাদের সাহায্য করো। (বুখারী, মুসলিম)

২৫৪.

অনুচ্ছেদঃ অভিজ্ঞতা ও অনুশীলন।

৫৬৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬৬


حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ مُعَاوِيَةَ، فَحَدَّثَ نَفْسَهُ، ثُمَّ انْتَبَهَ فَقَالَ: لَا حِلْمَ إِلَّا تَجْرِبَةٌ "، يُعِيدُهَا ثَلَاثًا

হিশাম ইবনে উরওয়া (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তার মনে যেন কি চিন্তার উদ্রেক হলো। অতঃপর তিনি সচকিত হয়ে বলেন, অভিজ্ঞতা ও অনুশীলন দ্বারাই সহিষ্ণুতা অর্জিত হয়। কথাটি তিনি তিনবার বলেন। (ইবনে আবু শায়বাহ, ইবনে হিব্বান)

৫৬৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬৭


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ زَحْرٍ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: لَا حَلِيمَ إِلَّا ذُو عَثْرَةٍ، وَلَا حَكِيمَ إِلَّا ذُو تَجْرِبَةٍ

আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিই সহনশীল ও ধৈর্যশীল হয় এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাবান হওয়া যায়। না (বুখারী, তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

হাদীসটি এখানে আবু সাঈদ (রাঃ)-র বক্তব্য হিসাবে উদ্ধৃত হলেও তা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বাণী দেখুন তিরমিযী ২০৩৩ এবং মুসনাদে আহমাদ ১১০৭১ ও ১১৬৮৪ নং হাদীস (অনুবাদক)।

২৫৫.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে তার ভাইকে আহার করায়।

৫৬৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬৮


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ أَبُو الرَّبِيعِ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ نَشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: لِأَنْ أَجْمَعَ نَفَرًا مِنْ إِخْوَانِي عَلَى صَاعٍ أَوْ صَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَخْرُجَ إِلَى سُوقِكُمْ فَأُعْتِقَ رَقَبَةً

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমার কতক ভাইকে একত্র করে তাদেরকে আমার এক বা দুই সা পরিমাণ আহার করানো—তোমাদের বাজারে গিয়ে আমার একটি গোলাম (খরিদ করে তাবারানী) দাসত্বমুক্ত করার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়।

২৫৬.

অনুচ্ছেদঃ জাহিলী যুগের পারস্পরিক চুক্তি।

৫৬৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৬৯


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «شَهِدْتُ مَعَ عُمُومَتِي حِلْفَ الْمُطَيَّبِينَ، فَمَا أُحِبُّ أَنْ أَنْكُثَهُ، وَأَنَّ لِي حُمْرَ النَّعَمِ»

আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আমার চাচাদের সাথে মুতাইয়্যাবীনের চুক্তিতে (হিলফুল ফুযূল) শরীক ছিলাম। বহুমূল্য লাল উটের বিনিময়েও তা লংঘন করা আমার পছন্দনীয় নয় (আহমাদ হা/১৬৫৫ ও ১৬৭৬)।

২৫৭.

অনুচ্ছেদঃ ভ্ৰাতৃ সম্পর্ক স্থাপন।

৫৭০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭০


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: آخَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ ابْنِ مَسْعُودٍ وَالزُّبَيْرِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) ইবনে মাসউদ (রাঃ) ও যুবাইর (রাঃ)-র মধ্যে ভ্রাতৃ সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দেন (আহমাদ)।

২৫৮.

অনুচ্ছেদঃ ইসলামী যুগে সাবেক আমলের চুক্তি।

৫৭১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: حَالَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ قُرَيْشٍ وَالْأَنْصَارِ فِي دَارِي الَّتِي بِالْمَدِينَةِ

আনাস ইবনে মালেক (র) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার মদীনার বাড়িতে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে বন্ধুত্ব চুক্তি স্থাপন করেন (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)।

৫৭২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭২


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: جَلَسَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ عَلَى دَرَجِ الْكَعْبَةِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «مَنْ كَانَ لَهُ حِلْفٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، لَمْ يَزِدْهُ الْإِسْلَامُ إِلَّا شِدَّةً، وَلَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ»

আমর ইবনে শুয়াইব (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সাঃ) কাবা ঘরের সিঁড়িতে বসলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বলেনঃ জাহিলী যুগে যার চুক্তি ছিল, ইসলাম তা আরো মজবুত করেছে এবং মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নাই। (তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে খুজাইমাহ)

২৫৯.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি প্রথম বৃষ্টিতে ভিজলো।

৫৭৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭৩


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: أَصَابَنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَطَرٌ، فَحَسَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَوْبَهُ عَنْهُ حَتَّى أَصَابَهُ الْمَطَرُ، قُلْنَا: لِمَ فَعَلْتَ؟ قَالَ: «لِأَنَّهُ حَدِيثُ عَهْدٍ بِرَبِّهِ»

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সংগে থাকা অবস্থায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগলো। নবী (সাঃ) তাঁর দেহের উপরিভাগ থেকে কাপড় সরিয়ে দিলেন। ফলে তাঁর শরীর বৃষ্টিতে ভিজে গেলো। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বলেনঃ যেহেতু মহান প্রভুর কাছ থেকে সদ্য আগত (তাই আমি তা শরীরে লাগিয়ে নিলাম বরকতের জন্য)।

২৬০.

অনুচ্ছেদঃ ছাগল-ভেড়ার মধ্যে বরকত নিহিত।

৫৭৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭৪


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ مَالِكِ بْنِ خُثَيْمٍ أَنَّهُ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ بِأَرْضِهِ بِالْعَقِيقِ، فَأَتَاهُ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَلَى دَوَابَّ، فَنَزَلُوا، قَالَ حُمَيْدٌ: فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: اذْهَبْ إِلَى أُمِّي وَقُلْ لَهَا: إِنَّ ابْنَكِ يُقْرِئُكِ السَّلَامَ وَيَقُولُ: أَطْعِمِينَا شَيْئًا، قَالَ: فَوَضَعَتْ ثَلَاثَةَ أَقْرَاصٍ مِنْ شَعِيرٍ، وَشَيْئًا مِنْ زَيْتٍ وَمِلْحٍ فِي صَحْفَةٍ، فَوَضَعْتُهَا عَلَى رَأْسِي، فَحَمَلْتُهَا إِلَيْهِمْ، فَلَمَّا وَضَعْتُهُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ، كَبَّرَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَشْبَعَنَا مِنَ الْخُبْزِ بَعْدَ أَنْ لَمْ يَكُنْ طَعَامُنَا إِلَّا الْأَسْوَدَانِ: التَّمْرُ وَالْمَاءُ، فَلَمْ يُصِبِ الْقَوْمُ مِنَ الطَّعَامِ شَيْئًا، فَلَمَّا انْصَرَفُوا قَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، أَحْسِنْ إِلَى غَنَمِكَ، وَامْسَحْ الرُّغَامَ عَنْهَا، وَأَطِبْ مُرَاحَهَا، وَصَلِّ فِي نَاحِيَتِهَا، فَإِنَّهَا مِنْ دَوَابِّ الْجَنَّةِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ تَكُونُ الثُّلَّةُ مِنَ الْغَنَمِ أَحَبَّ إِلَى صَاحِبِهَا مِنْ دَارِ مَرْوَانَ
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح الإسناد وجملة الصلاة في مراح الغنم ومسح رغامها وأنها من دواب الجنة صحيح مرفوعا

হুমাইদ ইবনে মালেক ইবনে খায়ছাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সাথে তার আকীক নামক স্থানের ভূমিতে বসা ছিলাম। তখন জন্তুযানে আরোহী একদল মদীনাবাসী তার নিকট উপস্থিত হন। তারা অবতরণ করলেন। হুমাইদ (র) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বললেন, আমার মায়ের নিকট গিয়ে বলো, আপনার পুত্র আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং বলেছেন, আমাদের কিছু আহার করান। রাবী বলেন, তিনি তিনটি যবের পিঠা, কিছু যায়তুন তৈল ও কিছু লবণ একটি পেয়ালায় করে দিলেন। আমি তা আমার মাথায় তুলে নিয়ে তাদের নিকট ফিরে এলাম। আমি তা তাদের সামনে রেখে দিলে আবু হুরায়রা (রাঃ) “আল্লাহু আকবার” বলেন এবং আরো বলেন, সেই সত্তার প্রশংসা যিনি আমাদের রুটি খাওয়ালেন। নতুবা এমন একদিন ছিল যখন দু’টি কালো বস্তু অর্থাৎ খেজুর ও পানি ছাড়া আমাদের আর কিছু জুটতো না। এই খাদ্যে দলের লোকজনের কিছু হলো না। তারা চলে গেলে আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বলেন, হে ভাইপো! তোমার ছাগলগুলোর খুব যত্ন করো, এগুলোর গায়ের ধুলাবালি ঝেড়ে দাও, এগুলোর খোঁয়াড় পরিষ্কার রাখো এবং এর এক কোণে নামায পড়ো। কেননা এগুলো বেহেশতের জীবজন্তু। যাঁর হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার শপথ। অচিরেই লোকজনের উপর এমন এক সময় আসবে যখন এক পাল ছাগল তার মালিকের নিকট মারোয়ানের রাজপ্রাসাদের চেয়েও প্রিয়তর হবে।

৫৭৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ الْأَزْرَقُ، عَنْ أَبِي عُمَرَ، عَنِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الشَّاةُ فِي الْبَيْتِ بَرَكَةٌ، وَالشَّاتَانِ بَرَكَتَانِ، وَالثَّلَاثُ بَرَكَاتٌ»
---
[قال الشيخ الألباني] :
ضعيف جدا

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ ঘরে একটি বকরী একটি বরকতস্বরূপ, দুইটি বকরী দুইটি বরকতস্বরূপ এবং তিনটি বকরী অনেক বরকত।

২৬১.

অনুচ্ছেদঃ উট তার মালিকের জন্য মর্যাদার উৎস।

৫৭৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭৬


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «رَأْسُ الْكُفْرِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ، وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي أَهْلِ الْخَيْلِ وَالْإِبِلِ، الْفَدَّادِينَ أَهْلِ الْوَبَرِ، وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ কুফরীর মূল পূর্ব দিকে (প্রাচ্যে), দম্ভ ও অহংকার উট ও ঘোড়ার পালের মালিকদের মধ্যে এবং বেদুইনদের মধ্যে যারা তাদের উটের পাল নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং দ্বীনের প্রতি মনোযোগী হয় না। আর প্রশান্তি ছাগলের মালিকের মধ্যে। (বুখারী, মুসলিম)

৫৭৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭৭


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: عَجِبْتُ لِلْكِلَابِ وَالشَّاءِ، إِنَّ الشَّاءَ يُذْبَحُ مِنْهَا فِي السَّنَةِ كَذَا وَكَذَا، وَيُهْدَى كَذَا وَكَذَا، وَالشَّاءُ أَكْثَرُ مِنْهَا، وَالْكَلْبُ تَضَعُ الْكَلْبَةُ الْوَاحِدَةُ كَذَا وَكَذَا

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কুকুর ও ছাগলের ব্যাপারে আমি বিক্ষিত হই। ছাগল বছরে এতো এতো সংখ্যক যবেহ করা হয়, এতো এতো সংখ্যক কোরবানী করা হয়। আর কুকুর, এক একটি মাদী কুকুর এতো এতো সংখ্যক শাবক প্রসব করে। অথচ ছাগলের সংখ্যা কুকুরের চেয়ে অধিক।

৫৭৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭৮


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي هِنْدَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: يَا أَبَا ظَبْيَانَ، كَمْ عَطَاؤُكَ؟ قُلْتُ: أَلْفَانِ وَخَمْسُمِائَةٍ، قَالَ لَهُ: يَا أَبَا ظَبْيَانَ، اتَّخِذْ مِنَ الْحَرْثِ وَالسَّابْيَاءِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَلِيَكُمْ غِلْمَةُ قُرَيْشٍ، لَا يُعَدُّ الْعَطَاءُ مَعَهُمْ مَالًا

আবু যাবয়ান (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আমাকে বলেন, হে আবু যাবয়ান। তোমার রাষ্ট্ৰীয় ভাতার পরিমাণ কতো? আমি বললাম, আড়াই হাজার। তিনি তাকে বলেন, হে আবু যাবয়ান! কুরাইশ বংশের গোলামেরা তোমাদের শাসক হওয়ার পূর্বেই তুমি চাষাবাদ ও পশুপালনে মনোযোগী হও। তাদের সামনে ভাতা কোন উল্লেখযোগ্য সম্পদ নয়।

৫৭৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৭৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، سَمِعْتُ عَبْدَةَ بْنَ حَزْنٍ يَقُولُ: تَفَاخَرَ أَهْلُ الْإِبِلِ وَأَصْحَابُ الشَّاءِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُعِثَ مُوسَى وَهُوَ رَاعِي غَنَمٍ، وَبُعِثَ دَاوُدُ وَهُوَ رَاعٍ، وَبُعِثْتُ أَنَا وَأَنَا أَرْعَى غَنَمًا لِأَهْلِي بِالْأَجْيَادِ»

আবদা ইবনে হুযন (র) থেকে বর্ণিতঃ

উট পালের মালিক ও বকরীর পালের মালিকগণ পরস্পর গর্ব প্রকাশ করছিল। নবী (সাঃ) বলেনঃ মূসা (আবু দাউদ) মেষপাল চরানো অবস্থায় নবুয়াত লাভ করেন। দাউদ (আবু দাউদ) মেষপাল চরানো অবস্থায় নবুয়াত লাভ করেন। আমিও আজয়াদ নামক স্থানে আমার পরিবারের মেষপাল চরানো অবস্থায় নবুয়াত লাভ করি। (নাসাঈ)

২৬২.

অনুচ্ছেদঃ যাযাবর জীবন।

৫৮০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮০


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: الْكَبَائِرُ سَبْعٌ، أَوَّلُهُنَّ: الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَرَمْيُ الْمُحْصَنَاتِ، وَالْأَعْرَابِيَّةُ بَعْدَ الْهِجْرَةِ
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح موقوفا وهو في حكم المرفوع وقد روي مرفوعا نحوه

আবু হুরায়রা (র) থেকে বর্ণিতঃ

কবীর গুনাহ সাতটি। তার প্রথমটি আল্লাহর সাথে শরীক করা (২) নরহত্যা, (৩) সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি যেনার মিথ্যা অপবাদ রটানো এবং (৪) হিজরতের পর পুনরায় যাযাবর জীবন বরণ করা।

২৬৩.

অনুচ্ছেদঃ বিরান জনপদে বসবাসকারী।

৫৮১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮১


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَاصِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ قَالَ: حَدَّثَنِي صَفْوَانُ قَالَ: سَمِعْتُ رَاشِدَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ ثَوْبَانَ يَقُولُ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسْكُنِ الْكُفُورَ، فَإِنَّ سَاكِنَ الْكُفُورِ كَسَاكِنِ الْقُبُورِ» قَالَ أَحْمَدُ: الْكُفُورُ: الْقُرَى

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বলেনঃ তুমি বিরানভূমিতে বসতি স্থাপন করো না। কেননা বিরানভূমির অধিবাসী যেন কবরের অধিবাসী। আহমাদ (র) বলেন, কাফুর শব্দের অর্থ গ্রামাঞ্চল।

৫৮২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮২


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا بَقِيَّةُ قَالَ: حَدَّثَنِي صَفْوَانُ قَالَ: سَمِعْتُ رَاشِدَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا ثَوْبَانُ، لَا تَسْكُنِ الْكُفُورَ، فَإِنَّ سَاكِنَ الْكُفُورِ كَسَاكِنِ الْقُبُورِ»

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) আমাকে বলেছেনঃ হে সাওবান! বিরানভূমিতে বসবাস করো না। কেননা বিরানভূমির বাসিন্দা কবরের বাসিন্দা তুল্য।

২৬৪.

অনুচ্ছেদঃ মরুময় ভূমিতে বা পানির উৎসে বসবাস।

৫৮৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْبَدْوِ قُلْتُ: وَهَلْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْدُو؟ فَقَالَتْ: نَعَمْ، كَانَ يَبْدُو إِلَى هَؤُلَاءِ التِّلَاعِ

মিকদাম ইবনে শুরায়হ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে মরু এলাকায় বসবাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি বললাম, নবী (সাঃ) কি মরুময় এলাকায় যেতেন! তিনি বলেনঃ তিনি (পাহাড়ের উপর থেকে নিচে প্রবাহিত) ঐসব পানির উৎসে যেতেন (আবু দাউদ, মুসলিম, আহমাদ)।

৫৮৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮৪


حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصِ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ وَهْبٍ قَالَ: رَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُسَيْدٍ إِذَا رَكِبَ، وَهُوَ مُحْرِمٌ، وَضَعَ ثَوْبَهُ عَنْ مَنْكِبَيْهِ، وَوَضَعَهُ عَلَى فَخِذَيْهِ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ يَفْعَلُ مِثْلَ هَذَا

আমর ইবনে ওয়াহব (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উসাইদ (র)-কে দেখেছি যে, তিনি ইহরাম অবস্থায় জন্তুযানে আরোহণ করলে, তার দুই কাঁধের উপর থেকে কাপড় তার দুই উরুর উপর রাখতেন। আমি বললাম, এটা কি? তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি।

২৬৫.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি গোপনীয়তা রক্ষা পছন্দ করে এবং যে কোন লোকের সাথে তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী অবহিত হওয়ার জন্য মেলামেশা করে।

৫৮৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮৫


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَرَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ كَانَا جَالِسَيْنِ، فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْقَارِيِّ فَجَلَسَ إِلَيْهِمَا، فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّا لَا نُحِبُّ مَنْ يَرْفَعُ حَدِيثَنَا، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: لَسْتُ أُجَالِسُ أُولَئِكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ عُمَرُ: بَلَى، فَجَالِسْ هَذَا وَهَذَا، وَلَا تَرْفَعْ حَدِيثَنَا، ثُمَّ قَالَ لِلْأَنْصَارِيِّ: مَنْ تَرَى النَّاسَ يَقُولُونَ يَكُونُ الْخَلِيفَةَ بَعْدِي؟ فَعَدَّدَ الْأَنْصَارِيُّ رِجَالًا مِنَ الْمُهَاجِرِينَ، لَمْ يُسَمِّ عَلِيًّا، فَقَالَ عُمَرُ: فَمَا لَهُمْ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ؟ فَوَاللَّهِ إِنَّهُ لَأَحْرَاهُمْ - إِنْ كَانَ عَلَيْهِمْ - أَنْ يُقِيمَهُمْ عَلَى طَرِيقَةٍ مِنَ الْحَقِّ

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ও এক আনসার ব্যক্তি একত্রে বসা ছিলেন। আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী (র) এসে তাদের নিকট বসলেন। উমার (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের কথা অন্যদের কাছে পৌছায় আমরা তাকে পছন্দ করি না। আবদুর রহমান (র) তাকে বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন। আমি তাদের সাথে ওঠাবসা করি না। উমার (রাঃ) বলেন, হাঁ, তুমি এর সাথে ওর সাথে ওঠাবসা করো, কিন্তু আমাদের (গোপন) কথা কোথাও ফাঁস করো না। অতঃপর তিনি আনসারীকে বলেন, আচ্ছা! আমার পরে কে খলীফা হবে বলে লোকজন আলোচনা করে? আনসারী মুহাজিরদের বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন, কিন্তু তাতে আলী (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি? উমার (রাঃ) বলেন, তারা হাসানের পিতার (আলীর) কথা বলে না কেন?
আল্লাহর শপথ তিনি তাদের শাসনভার প্রাপ্ত হলে তিনিই তাদের সত্য পথে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখার ব্যাপারে সর্বাধিক যোগ্য।

২৬৬.

অনুচ্ছেদঃ কাজেকর্মে তাড়াহুড়া বৰ্জনীয়।

৫৮৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮৬


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، أَنَّ رَجُلًا تُوُفِّيَ وَتَرَكَ ابْنًا لَهُ وَمَوْلًى لَهُ، فَأَوْصَى مَوْلَاهُ بِابْنِهِ، فَلَمْ يَأْلُوهُ حَتَّى أَدْرَكَ وَزَوَّجَهُ، فَقَالَ لَهُ: جَهَّزْنِي أَطْلُبِ الْعِلْمَ، فَجَهَّزَهُ، فَأَتَى عَالِمًا فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَنْطَلِقَ فَقُلْ لِي أُعَلِّمْكَ، فَقَالَ: حَضَرَ مِنِّي الْخُرُوجُ فَعَلِّمْنِي، فَقَالَ: اتَّقِ اللَّهَ وَاصْبِرْ، وَلَا تَسْتَعْجِلْ. قَالَ الْحَسَنُ: فِي هَذَا الْخَيْرُ كُلُّهُ - فَجَاءَ وَلَا يَكَادُ يَنْسَاهُنَّ، إِنَّمَا هُنَّ ثَلَاثٌ - فَلَمَّا جَاءَ أَهْلَهُ نَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ، فَلَمَّا نَزَلَ الدَّارَ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ نَائِمٍ مُتَرَاخٍ عَنِ الْمَرْأَةِ، وَإِذَا امْرَأَتُهُ نَائِمَةٌ، قَالَ: وَاللَّهِ مَا أُرِيدُ مَا أَنْتَظِرُ بِهَذَا؟ فَرَجَعَ إِلَى رَاحِلَتِهِ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ السَّيْفَ قَالَ: اتَّقِ اللَّهَ وَاصْبِرْ، وَلَا تَسْتَعْجِلْ. فَرَجَعَ، فَلَمَّا قَامَ عَلَى رَأْسِهِ قَالَ: مَا أَنْتَظِرُ بِهَذَا شَيْئًا، فَرَجَعَ إِلَى رَاحِلَتِهِ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ سَيْفَهُ ذَكَرَهُ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ، فَلَمَّا قَامَ عَلَى رَأْسِهِ اسْتَيْقَظَ الرَّجُلُ، فَلَمَّا رَآهُ وَثَبَ إِلَيْهِ فَعَانَقَهُ وَقَبَّلَهُ، وَسَاءَلَهُ قَالَ: مَا أَصَبْتَ بَعْدِي؟ قَالَ: أَصَبْتُ وَاللَّهِ بَعْدَكَ خَيْرًا كَثِيرًا، أَصَبْتُ وَاللَّهِ بَعْدَكَ: أَنِّي مَشَيْتُ اللَّيْلَةَ بَيْنَ السَّيْفِ وَبَيْنَ رَأْسِكَ ثَلَاثَ مِرَارٍ، فَحَجَزَنِي مَا أَصَبْتُ مِنَ الْعِلْمِ عَنْ قَتْلِكَ

হাসান বসরী (র) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি মৃত্যুকালে একটি পুত্র সস্তান ও একটি মুক্তদাস রেখে যায়। সে তার পুত্রের বিষয়ে তার মুক্তদাসকে ওসিয়াত করে যায়। সে তার ব্যাপারে কোন অবহেলা করেনি। ছেলেটি বালেগ হলে সে তাকে বিবাহও করায়। সে মুক্তদাসকে বললো, আমার সফরের আয়োজন করে দাও। আমি জ্ঞান অন্বেষণ করবো। সে তার সফরের আয়োজন করে দিলো। অতএব সে একজন আলেমের নিকট এসে তার কাছে জ্ঞানদানের আবেদন করলো। আলেম ব্যক্তি তাকে বলেন, তোমার ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তখন আমাকে বলবে, আমি তোমাকে জ্ঞানের কথা শিখাবো। সে আলেমকে বললো, আমার প্রত্যাবর্তনের সময় হয়েছে। আপনি আমাকে জ্ঞানের কথা শিখিয়ে দিন। আলেম বলেন, “তুমি আল্লাহকে ভয় করো, ধৈর্য ধরো এবং (কোন ব্যাপারে) তাড়াহুড়া করো না”। হাসান (র) বলেন, এতে সার্বিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। সে যখন ফিরে এলো তখন তা তার স্মরণে ছিল। কেননা কথা ছিল মাত্র তিনটি। সে তার পরিবারে পৌছে সওয়ারী থেকে অবতরণ করলো। সে ঘরে ঢুকে দেখলো যে, একটি পুরুষলোক শিথিল অবস্থায় একটি নারীর অদূরে ঘুমিয়ে আছে। আর সেই নারী হচ্ছে তারই স্ত্রী। সে মনে মনে বললো, আল্লাহর শপথ! এই দৃশ্য দেখার পর আর কিসের অপেক্ষা করবো। সে তার সওয়ারীর কাছে ফিরে এলো। তরবারি নিতে গিয়ে তার স্মরণ হলো, “আল্লাহকে ভয় করো, ধৈর্য ধরে এবং তাড়াহুড়া করো না”। সে আবার ফিরে গিয়ে তার শিয়রের নিকট দাঁড়িয়ে বললো, এমন দৃশ্য দেখার পর আর মোটেও অপেক্ষা করবো না। সে তার সওয়ারীর নিকট ফিরে এলো এবং তরবারি তুলতে যেতেই উপদেশের কথা স্মরণ হলো। পুনরায় সে তার নিকট ফিরে গেলো। সে তার শিয়রের নিকট দাড়াতেই নিদ্রিত ব্যক্তি জেগে উঠলো এবং তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলো, তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করলো। সে বললো, আমার নিকট থেকে যাওয়ার পর আপনি কেমন ছিলেন? সে বললো, আল্লাহর শপথ! তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর আমি পর্যাপ্ত কল্যাণ লাভ করেছি, আল্লাহর শপথ। ভালোই। আজ রাতে আমি মোট তিনবার তরবারি ও তোমার মাথার মাঝে যাতায়াত করেছি এবং যে জ্ঞান আমি অর্জন করেছি, তোমাকে হত্যা করার ব্যাপারে তা আমার প্রতিবন্ধক হয়েছে।

২৬৭.

অনুচ্ছেদঃ কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা।

৫৮৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮৭


حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ: قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ فِيكَ لَخُلُقَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ» ، قُلْتُ: وَمَا هُمَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْحِلْمُ وَالْحَيَاءُ» ، قُلْتُ: قَدِيمًا كَانَ أَوْ حَدِيثًا؟ قَالَ: «قَدِيمًا» ، قُلْتُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَبَلَنِي عَلَى خُلُقَيْنِ أَحَبَّهُمَا اللَّهُ

আবদুল কায়েস গোত্রের আশাজ্জ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বললেনঃ তোমার মধ্যে এমন দুইটি অভ্যাস আছে যা আল্লাহর পছন্দনীয়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি কি? তিনি বলেনঃ সহিষ্ণুতা ও লজ্জাশীলতা। আমি বললাম, এই দুইটি অভ্যাস পূর্ব থেকে আমার মধ্যে ছিল না নতুনভাবে দেখছেন? তিনি বলেনঃ পূর্ব থেকে। আমি বললাম, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার মধ্যে জন্মগতভাবে এমন দু’টি অভ্যাস সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহ পছন্দ করেন। (নাসাঈ, আবু ইয়ালা)

৫৮৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮৮


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي هَاشِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْ لَقِيَ الْوَفْدَ الَّذِينَ قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ - وَذَكَرَ قَتَادَةُ أَبَا نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ: " إِنَّ فِيكَ لَخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ: الْحِلْمُ وَالْأَنَاةُ "

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) আবদুল কায়েস গোত্রের (প্রতিনিধি দলের নেতাবারানী) আশাজ (রাঃ)-কে বলেনঃ তোমার মধ্যে এমন দুইটি অভ্যাস আছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন। তা হলো সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা। (মুসলিম)

৫৮৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৮৯


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ: حَدَّثَنَا قُرَّةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْأَشَجِّ أَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ: " إِنَّ فِيكَ لَخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ: الْحِلْمُ وَالْأَنَاةُ "

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) আবদুল কায়েস গোত্রের (প্রতিনিধি দলের নেতাবারানী)
আশাজ্জ (রাঃ)-কে বললেনঃ তোমার মধ্যে এমন দুটি বৈশিষ্ট্য আছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন, সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়া নাসাঈ)

৫৯০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯০


حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنَا طَالِبُ بْنُ حُجَيْرٍ الْعَبْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي هُودُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، سَمِعَ جَدَّهُ مَزِيدَةَ الْعَبْدِيَّ قَالَ: جَاءَ الْأَشَجُّ يَمْشِي حَتَّى أَخَذَ بِيَدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَبَّلَهَا، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا إِنَّ فِيكَ لَخُلُقَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ» ، قَالَ: جَبْلًا جُبِلْتُ عَلَيْهِ، أَوْ خُلِقَا مَعِي؟ قَالَ: «لَا، بَلْ جَبْلًا جُبِلْتَ عَلَيْهِ» ، قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَبَلَنِي عَلَى مَا يُحِبُّ اللَّهُ وَرَسُولُهُ

মায়ীদা আল-আবদী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আশাজ্জ (রাঃ) পদব্রজে এসে নবী (সাঃ)-এর হাত ধরে তাতে চুমা দিলেন। নবী (সাঃ) তাকে বলেনঃ জেনে রাখো, তোমার মধ্যে এমন দু’টি স্বভাব রয়েছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের খুবই মনঃপুত। আশাজ্জ (রাঃ) বলেন, ঐগুলি কি আমার প্রকৃতিগত না আমার চরিত্রগত? তিনি বলেনঃ নাসাঈ, ঐগুলি তোমাকে প্রকৃতিগতভাবেই দান করা হয়েছে। আশাজ্জ
(রাঃ) বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে প্রকৃতিগতভাবেই এমন স্বভাব দান করেছেন, যা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের মনঃপুত। (বুখারীর তারীখুল কাবীর)

২৬৮.

অনুচ্ছেদঃ বিদ্রোহ।

৫৯১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯১


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنْ أَبِي يَحْيَى قَالَ: سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَوْ أَنَّ جَبَلًا بَغَى عَلَى جَبَلٍ لَدُكَّ الْبَاغِي

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যদি এক পাহাড় অন্য পাহাড়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতো, তবে বিদ্রোহী পাহাড় একাকার হয়ে যেতো (তাফসীরে রূহুল মাআনী, সূরা ইউনুস, জামে সগীর, শুয়াবুল ঈমান)।

৫৯২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " احْتَجَّتِ النَّارُ وَالْجَنَّةُ، فَقَالَتِ النَّارُ: يَدْخُلُنِي الْمُتَكَبِّرُونَ وَالْمُتَجَبِّرُونَ. وَقَالَتِ الْجَنَّةُ: لَا يَدْخُلُنِي إِلَّا الضُّعَفَاءُ الْمَسَاكِينُ. فَقَالَ لِلنَّارِ: أَنْتِ عَذَابِي، أَنْتَقِمُ بِكِ مِمَّنْ شِئْتُ، وَقَالَ لِلْجَنَّةِ: أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ شِئْتُ "

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ দোযখ ও বেহেশত বিতর্কে লিপ্ত হলো। দোযখ বললো, অহংকারী ও পরাক্রমশালী স্বৈরাচারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বেহেশত বললো, দুর্বল ও নিঃস্বরাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তায়ালা দোযখকে বলেন, তুই হলি আমার আযাব। যার থেকে ইচ্ছা আমি তোর মাধ্যমে প্রতিশোধ নিবো। তিনি বেহেশতকে বলেন, তুমি আমার রহমাত, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করবো।

৫৯৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯৩


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلَانِيُّ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْجَنْبِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ: رَجُلٌ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَعَصَى إِمَامَهُ فَمَاتَ عَاصِيًا، فَلَا تَسْأَلْ عَنْهُ، وَأَمَةٌ أَوْ عَبْدٌ أَبِقَ مِنْ سَيِّدِهِ، وَامْرَأَةٌ غَابَ زَوْجُهَا، وَكَفَاهَا مَؤُونَةَ الدُّنْيَا فَتَبَرَّجَتْ وَتَمَرَّجَتْ بَعْدَهُ. وَثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ: رَجُلٌ نَازَعَ اللَّهَ رِدَاءَهُ، فَإِنَّ رِدَاءَهُ الْكِبْرِيَاءُ، وَإِزَارَهُ عِزَّهُ، وَرَجُلٌ شَكَّ فِي أَمْرِ اللَّهِ، وَالْقُنُوطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ "

ফাদালা ইবনে উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না (সরাসরি দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে)। (১) যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো এবং তার ইমামের (নেতার) অবাধ্য হলো এবং অবাধ্য অবস্থায় মারা গেলো। তাকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (২) যে ক্রীতদাসী বা ক্রীতদাস তার মনিবের নিকট থেকে পালিয়ে গেলো। (৩) যে নারীর স্বামী বহির্দেশে গিয়েছে, সে যদি তার অনুপস্থিতিতে তার রূপ-যৌবনের পসরা করে বেড়ায় এবং ভ্রষ্টা হয়। আরো তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহর চাদর নিয়ে টানাহেঁচড়া করে। আর তাঁর চাদর হচ্ছে অহংকার এবং তাঁর পরিধেয় হচ্ছে তাঁর ইজ্জত। (২) যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমের মধ্যে সন্দেহ পোষণ করে। (৩) যে ব্যক্তি আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হয়। (আবু দাউদ)

৫৯৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯৪


حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ ذُنُوبٍ يُؤَخِّرُ اللَّهُ مِنْهَا مَا شَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، إِلَّا الْبَغْيَ، وَعُقُوقَ الْوَالِدَيْنِ، أَوْ قَطِيعَةَ الرَّحِمِ، يُعَجِّلُ لِصَاحِبِهَا فِي الدُّنْيَا قَبْلَ الْمَوْتِ»

বাক্কার ইবনে আবদুল আযীয (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহ তার মর্যিমাফিক গুনাহসমূহের মধ্যে যে কোন গুনাহের শাস্তি প্রদান কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি বিদ্রোহ, পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার গুনাহর শাস্তি অপরাধীর মৃত্যুর পূর্বেই এই দুনিয়াতে দিয়ে থাকেন (দারিমী, তিরমিযী)।

৫৯৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ مَيْمُونٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ الْحَذَّاءُ الْحَرَّانِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: يُبْصِرُ أَحَدُكُمُ الْقَذَاةَ فِي عَيْنِ أَخِيهِ، وَيَنْسَى الْجِذْلَ، أَوِ الْجِذْعَ، فِي عَيْنِ نَفْسِهِ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: الْجِذْلُ: الْخَشَبَةُ الْعَالِيَةُ الْكَبِيرَةُ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তোমাদের কেউ তো তার ভাইয়ের চোখের মধ্যকার সামান্য ধুলিকণাও দেখতে পায়, কিন্তু তার নিজের চোখে আস্ত একটা কড়িকাঠ বা গুড়ি পড়ে থাকলেও তা দেখতে পায় না।

৫৯৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯৬


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْخَلِيلُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُسْتَنِيرُ بْنُ أَخْضَرَ قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ قَالَ: كُنْتُ مَعَ مَعْقِلٍ الْمُزَنِيِّ، فَأَمَاطَ أَذًى عَنِ الطَّرِيقِ، فَرَأَيْتُ شَيْئًا فَبَادَرْتُهُ، فَقَالَ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ يَا ابْنَ أَخِي؟ قَالَ: رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ شَيْئًا فَصَنَعْتُهُ، قَالَ: أَحْسَنْتَ يَا ابْنَ أَخِي، سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ أَمَاطَ أَذًى عَنْ طَرِيقِ الْمُسْلِمِينَ كُتِبَ لَهُ حَسَنَةٌ، وَمَنْ تُقُبِّلَتْ لَهُ حَسَنَةٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ»

মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি মাকিল আল-মুযানী (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করলেন। অতঃপর আমিও রাস্তায় কিছু একটা দেখে তা সরালাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে কিসে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে? আমি বললাম, আপনাকে এরূপ করতে দেখে আমিও তাই করলাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি খুব উত্তম কাজ করেছো। আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলমানদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করে, তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়। আর যার একটি সওয়াবের কাজ কবুল হয়, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।

২৬৯.

অনুচ্ছেদঃ উপহারাদি গ্রহণ।

৫৯৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯৭


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ضِمَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ وَرْدَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «تَهَادُوا تَحَابُّوا»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা পরস্পর উপহারাদি বিনিময় করো, তোমাদের পারস্পরিক মহব্বত সৃষ্টি হবে (যায়লাঈ ও সুয়ুতীর মতে আবু ইয়ালা, নাসাঈর কিতাবুল কুনাসাঈ, শুআবুল ঈমান, ইবনে আদীর কামিল)।

৫৯৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯৮


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ قَالَ: كَانَ أَنَسٌ يَقُولُ: يَا بَنِيَّ، تَبَاذَلُوا بَيْنَكُمْ، فَإِنَّهُ أَوَدُّ لِمَا بَيْنَكُمْ

সাবিত (র) থেকে বর্ণিতঃ

আনাস (রাঃ) বলতেন, হে বৎসগণ! তোমরা পরস্পরের জন্য অর্থ-সম্পদ ব্যয় করো, তা তোমাদের মধ্যে সদ্ভাব সৃষ্টির উপায় হবে।

২৭০.

অনুচ্ছেদঃ মানুষের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে ব্যক্তি উপহারাদি বর্জন করে।

৫৯৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৫৯৯


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَهْدَى رَجُلٌ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاقَةً، فَعَوَّضَهُ، فَتَسَخَّطَهُ، فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: «يَهْدِي أَحَدُهُمْ فَأُعَوِّضُهُ بِقَدْرِ مَا عِنْدِي، ثُمَّ يَسْخَطُهُ وَايْمُ اللَّهِ، لَا أَقْبَلُ بَعْدَ عَامِي هَذَا مِنَ الْعَرَبِ هَدِيَّةً إِلَّا مِنْ قُرَشِيٍّ، أَوْ أَنْصَارِيٍّ، أَوْ ثَقَفِيٍّ، أَوْ دَوْسِيٍّ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ফাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-কে একটি উস্ত্রী উপহার দিলো। তিনিও তাকে প্রতিদান দিলেন। তাতে সে অসন্তুষ্ট হলো। আমি নবী (সাঃ)-কে মিম্বারে দাড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমাকে তোমাদের কেউ হাদিয়া দিলে আমিও আমার সামর্থ্য অনুসারে তাকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। তাতে সে অসন্তুষ্ট হয়। আল্লাহর শপথ! এই বছরের পর আমি কুরাশী, আনসারী, সাকাকী ও দাওসী গোত্র ছাড়া কোন বেদুইনের হাদিয়া গ্রহণ করবো না। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ, বাযযার, ইবনে হ্বিবান)

২৭১.

অনুচ্ছেদঃ লজ্জাশীলতা।

৬০০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০০


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ عُقْبَةُ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسَ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ: إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ "

আবু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ নবুয়াতী কথার মধ্যে মানুষ যা পেয়েছে তাতে এও আছে, “তুমি নির্লজ্জ হতে পারলে যাচ্ছে তাই করতে পারো”। (বুখারী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, তাবারানী)

৬০১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ، أَوْ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ، شُعْبَةً، أَفْضَلُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ ঈমানের ষাট বা সত্তরের অধিক শাখা আছে। তার মধ্যে সবোৎকৃষ্ট শাখা হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেইবনে মাজাহ) এবং তার সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। লজ্জাশীলতাও ঈমানের একটি বিশেষ শাখা -(বুখারী, মুসলিম)।

৬০২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ مَوْلَى أَنَسٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَدَّ حَيَاءً مِنَ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا، وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) অন্দর মহলের পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোন কিছু অপছন্দ করলে তাঁর চেহারা দর্শনেই আমরা তা বুঝতে পারতাম -(বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)।

৬০৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০৩


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ، حَدَّثَاهُ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِ عَائِشَةَ لَابِسًا مِرْطَ عَائِشَةَ، فَأَذِنَ لِأَبِي بَكْرٍ وَهُوَ كَذَلِكَ، فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ. ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذَلِكَ، فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ. قَالَ عُثْمَانُ: ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ، فَجَلَسَ وَقَالَ لِعَائِشَةَ: «اجْمَعِي إِلَيْكِ ثِيَابَكِ» ، قَالَ: فَقَضَيْتُ إِلَيْهِ حَاجَتِي، ثُمَّ انْصَرَفْتُ، قَالَ: فَقَالَتْ عَائِشَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ، وَإِنِّي خَشِيتُ إِنْ أَذِنْتُ لَهُ، وَأَنَا عَلَى تِلْكَ الْحَالِ، أَنْ لَا يَبْلُغَ إِلَيَّ فِي حَاجَتِهِ»

উসমান (রাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবু বাকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। তিনি তখন আয়েশা (রাঃ)-এর একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় তার বিছানায় শায়িত ছিলেন। তিনি এই অবস্থায় থাকতেই আবু বাকর (রাঃ)-কে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেন। আবু বাকর (রাঃ) তার সাথে নিজ প্রয়োজন সেড়ে চলে গেলেন। অতঃপর উমার (রাঃ) এসে তার সাথে সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। তিনি শায়িত অবস্থায় তাকেও অনুমতি দিলেন। তিনিও তার সাথে প্রয়োজন সেড়ে চলে গেলেন। উসমান (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তার সাথে সাক্ষাত প্রার্থনা করলাম। তিনি উঠে বসে আয়েশা (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি তোমার কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নাও। উসমান (রাঃ) বলেন, আমিও তার সাথে নিজ প্রয়োজন সেড়ে বিদায় নিলাম। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি দেখলাম, আপনি আবু বাকর ও উমার (রাঃ)-র আগমনে শংকিত বা সতর্ক হননি, যতটা হয়েছেন উসমান (রাঃ)-এর আগমনে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ উসমান অতিশয় লজ্জাশীল প্রকৃতির লোক। আমি আশংকা করলাম, যদি আমি তাকে এই অবস্থায় ঘরে ঢোকার অনুমতি দেই তবে সে তার প্রয়োজন নিয়ে আমার নিকট পৌঁছতো না। (মুসলিম, মুশকিলুল আসার)

৬০৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০৪


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا كَانَ الْحَيَاءُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ، وَلَا كَانَ الْفُحْشُ فِي شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ»

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা কোন বস্তুর কেবল কদৰ্যতাই বৃদ্ধি করে। আর লজ্জা কোন জিনিসের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে। (আহমাদ, ইবনে মাজাহ)

৬০৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০৫


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِرَجُلٍ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ، فَقَالَ: «دَعْهُ، فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيمَانِ»

সালেম (র) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার ভাইকে লজ্জাশীলতার বিরুদ্ধে নসীহত করছিল। নবী (সাঃ) বলেনঃ তাকে ছাড়ো। কেননা লজ্জাশীলতা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। (মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)

৬০৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০৬


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَجُلٍ يُعَاتِبُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ، كَأَنَّهُ يَقُولُ: أَضَرَّ بِكَ، فَقَالَ: «دَعْهُ، فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيمَانِ»

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) এক লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি লজ্জা সম্পর্কে তার ভাইকে তিরস্কার করে বলছিলঃ তুমি খুবই লাজুক, এতে তোমার দারুণ ক্ষতি হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। কেননা লজ্জা ঈমানের অংশ।

৬০৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : বিবিধ বিষয়

হাদীস নং : ৬০৭


حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، عَنْ عَطَاءٍ وَسُلَيْمَانَ ابْنَيْ يَسَارٍ، وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُضْطَجِعًا فِي بَيْتِي، كَاشِفًا عَنْ فَخِذِهِ أَوْ سَاقَيْهِ، فَاسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَأَذِنَ لَهُ كَذَلِكَ، فَتَحَدَّثَ. ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَأَذِنَ لَهُ كَذَلِكَ، ثُمَّ تَحَدَّثَ. ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَجَلَسَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَوَّى ثِيَابَهُ - قَالَ مُحَمَّدٌ: وَلَا أَقُولُ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ - فَدَخَلَ فَتَحَدَّثَ، فَلَمَّا خَرَجَ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تَهَشَّ وَلَمْ تُبَالِهِ، ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَلَمْ تَهَشَّ وَلَمْ تُبَالِهِ، ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ فَجَلَسْتَ وَسَوَّيْتَ ثِيَابَكَ؟ قَالَ: «أَلَا أَسْتَحِي مِنْ رَجُلٍ تَسْتَحِي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ؟»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার ঘরে শোয়া ছিলেন। তার উরু অথবা পা খোলা ছিলো। আবু বাকর (রাঃ) এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতেই কথাবার্তা বলেন। এরপর উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলে তিনি তাকেও অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায় কথাবার্তা বলেন। অতঃপর উসমান (রাঃ) অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করলেন। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, এ ব্যাপারটি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি বলতে পারি না। এরপর উসমান (রাঃ) এসে কথাবার্তা বলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবু বকর (রাঃ) এলেন, আপনি কোন খেয়াল করলেন না। উমার (রাঃ) এলেন, আপনি কোন খেয়াল করলেন না। উসমান (রাঃ) আসতেই আপনি উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আমি কি সে ব্যক্তিকে লজ্জা করবো না ফেরেশতারা যাকে লজ্জা করে থাকেন। (মুসলিম, মুশকিলুল আসার)