All books

আদাবুল মুফরাদ (০ টি হাদীস)

রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ৪৯৩ - ৫৩৯

২২৬.

অনুচ্ছেদঃ রুগ্নের রোগযাতনা (তার গুনাহর) কাফফারাস্বরূপ।

৪৯৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৪৯৩


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ الزُّبَيْدِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَامِرٍ، أَنَّ غُطَيْفَ بْنَ الْحَارِثِ أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ، وَهُوَ وَجِعٌ، فَقَالَ: كَيْفَ أَمْسَى أَجْرُ الْأَمِيرِ؟ فَقَالَ: هَلْ تَدْرُونَ فِيمَا تُؤْجَرُونَ بِهِ؟ فَقَالَ: بِمَا يُصِيبُنَا فِيمَا نَكْرَهُ، فَقَالَ: إِنَّمَا تُؤْجَرُونَ بِمَا أَنْفَقْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَاسْتُنْفِقَ لَكُمْ، ثُمَّ عَدَّ أَدَاةَ الرَّحْلِ كُلَّهَا حَتَّى بَلَغَ عِذَارَ الْبِرْذَوْنِ، وَلَكِنَّ هَذَا الْوَصَبَ الَّذِي يُصِيبُكُمْ فِي أَجْسَادِكُمْ يُكَفِّرُ اللَّهُ بِهِ مِنْ خَطَايَاكُمْ

গুদাইফ ইবনুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তার নিকট আসলো। সে বললো, আপনি কেমন আছেন? আমীর পুরস্কৃত হোন! তিনি বলেন, তোমরা কি জানো, কিসের বিনিময়ে তোমরা পুরস্কার লাভ করো? সে বললো, আমাদের উপর অবাঞ্ছিত কিছু আপতিত হলে তার বিমিনয়ে। তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় যা ব্যয় করো এবং তোমাদের জন্য যা ব্যয় করা হয় তোমরা তার বিনিময় পাবে। অতঃপর তিনি হাওদা থেকে শুরু করে ঘোড়ার লাগাম পর্যন্ত অনেক কিছুর উল্লেখ করলেন। অতঃপর বলেন, কিন্তু তোমাদের দেহে যেসব অসুখ-বিসুখ হয় তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করেন -(আহমাদ, তাবারানী)।

৪৯৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৪৯৪


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ، وَلَا وَصَبٍ، وَلَّاهَمٍّ، وَلَا حَزَنٍ، وَلَا أَذًى، وَلَا غَمٍّ، حَتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُهَا، إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ»

আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ মুসলিম বান্দার
উপর রোগ-শোক, দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভাবনা যাই আসুক, এমনকি যে কাঁটা তার গায়ে বিধে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)।

৪৯৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৪৯৫


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنْتُ مَعَ سَلْمَانَ، وَعَادَ مَرِيضًا فِي كِنْدَةَ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ: أَبْشِرْ، فَإِنَّ مَرَضَ الْمُؤْمِنِ يَجْعَلُهُ اللَّهُ لَهُ كَفَّارَةً وَمُسْتَعْتَبًا، وَإِنَّ مَرَضَ الْفَاجِرِ كَالْبَعِيرِ عَقَلَهُ أَهْلُهُ ثُمَّ أَرْسَلُوهُ، فَلَا يَدْرِي لِمَ عُقِلَ وَلِمَ أُرْسِلَ "

আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সালমান (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি কিন্দায় এক রোগীকে দেখতে গেলেন। তিনি তার নিকট প্রবেশ করে বলেন, তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহ মুমিন বান্দার রোগকে তার গুনাহসমূহের কাফফারা ও অনুশোচনাস্বরূপ গ্রহণ করেন। আর পাপাচারীর রোগ হলো এমন উটতুল্য যাকে তার মালিক বেঁধে রাখলো, অতঃপর ছেড়ে দিলো। অথচ সে জানে না যে, তারা কেন তাকে বাঁধলো এবং কেনই বা তাকে ছেড়ে দিলো।

৪৯৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৪৯৬


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَدِيُّ بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنَةِ، فِي جَسَدِهِ وَأَهْلِهِ وَمَالِهِ، حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ ঈমানদার পুরুষ ও নারীর জান-মাল ও পরিবার-পরিজনের উপর বালা-মুসীবত লেগেই থাকে। অতঃপর সে মহামহিম আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করে যে, তার কোন গুনাহই অবশিষ্ট থাকে না (তিরমিযী, আহমাদ)।

৪৯৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৪৯৭


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ أَخَذَتْكَ أُمُّ مِلْدَمٍ؟» قَالَ: وَمَا أُمُّ مِلْدَمٍ؟ قَالَ: «حَرٌّ بَيْنَ الْجِلْدِ وَاللَّحْمِ» ، قَالَ: لَا، قَالَ: «فَهَلْ صُدِعْتَ؟» قَالَ: وَمَا الصُّدَاعُ؟ قَالَ: «رِيحٌ تَعْتَرِضُ فِي الرَّأْسِ، تَضْرِبُ الْعُرُوقَ» ، قَالَ: لَا، قَالَ: فَلَمَّا قَامَ قَالَ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ» أَيْ: فَلْيَنْظُرْهُ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক বেদুইন নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে বলেনঃ তোমাকে কি উম্মু মিলদাম স্পর্শ করেছে? সে বললো, উম্মু মিলদাম কি? তিনি বলেনঃ দেহের চামড়া ও গোশতের মধ্যবর্তী স্থানের উত্তাপ (জ্বর)। সে বললো, না। তিনি পুনরায় বলেনঃ তুমি কি সুদা আক্রান্ত হয়েছো? সে বললো, সুদা কি? তিনি বলেনঃ একটি বায়ু যা মাথায় অনুভূত হয় এবং তা শিরাসমূহে আঘাত করে। সে বললো, না। অতঃপর সে ব্যক্তি উঠে চলে গেলে তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন দোযখীকে দেখতে আগ্রহী সে যেন এই ব্যক্তিকে দেখে নেয় (হাকিম, ইবনে হিব্বান)।

২২৭.

অনুচ্ছেদঃ গভীর রাতে রোগীকে দেখতে যাওয়া।

৪৯৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৪৯৮


حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الرَّبِيعِ قَالَ: لَمَّا ثَقُلَ حُذَيْفَةُ سَمِعَ بِذَلِكَ رَهْطُهُ وَالْأَنْصَارُ، فَأَتَوْهُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ أَوْ عِنْدَ الصُّبْحِ، قَالَ: أَيُّ سَاعَةٍ هَذِهِ؟ قُلْنَا: جَوْفُ اللَّيْلِ أَوْ عِنْدَ الصُّبْحِ، قَالَ: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ صَبَاحِ النَّارِ، قَالَ: جِئْتُمْ بِمَا أُكَفَّنُ بِهِ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: لَا تُغَالُوا بِالْأَكْفَانِ، فَإِنَّهُ إِنْ يَكُنْ لِي عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ بُدِّلْتُ بِهِ خَيْرًا مِنْهُ، وَإِنْ كَانَتِ الْأُخْرَى سُلِبْتُ سَلْبًا سَرِيعًا " قَالَ ابْنُ إِدْرِيسَ: أَتَيْنَاهُ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ

খালিদ ইবনুর রবী (র) থেকে বর্ণিতঃ

হুযায়ফা (রাঃ) মুমূর্ষ অবস্থায় উপনীত হলে তা তার পরিবারের লোকজন ও আনসারগণ শুনতে পেলেন। তারা গভীর রাতে বা ভোর রাতের দিকে তার নিকট আসলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, এটা কোন সময়? আমরা বললাম, মধ্যরাত বা ভোরের কাছাকাছি সময়। তিনি বলেন, আমি জাহান্নামের প্রভাত হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। তিনি বলেন, তোমরা কি আমার কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছো? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, তোমরা কাফনের ব্যাপারে বেশি খরচ করো না। কেননা আল্লাহর কাছে যদি আমার জন্য কল্যাণ থেকে থাকে, তবে তার পরিবর্তে আমি এর চেয়ে উত্তম বস্ত্রই লাভ করবো। আর যদি তা না হয় তবে এই কাফনও অচিরেই ছিনিয়ে নেয়া হবে (হাকেম, সিফাতুস সাফওয়া)।

৪৯৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৪৯৯


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا اشْتَكَى الْمُؤْمِنُ أَخْلَصَهُ اللَّهُ كَمَا يُخَلِّصُ الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে আল্লাহ তাকে
(গুনাহ থেকে) এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করেন, যেমন হাপড় লোহাকে পরিচ্ছন্ন করে।

৫০০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০০


حَدَّثَنَا بِشْرٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَابُ بِمُصِيبَةٍ - وَجَعٍ أَوْ مَرَضٍ - إِلَّا كَانَ كَفَّارَةَ ذُنُوبِهِ، حَتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُهَا، أَوِ النَّكْبَةُ»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন মুসলমান ব্যথা-বেদনা বা রোগ-ব্যাধির দ্বারা বিপদগ্রস্ত হলে তা তার গুনাহর কাফফারা হয়, এমনকি তার দেহে কাঁটা বিধলে বা লাগলে বা সে হোঁচট খেলে তাও। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)

৫০১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০১


حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْجُعَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَاهَا قَالَ: اشْتَكَيْتُ بِمَكَّةَ شَكْوَى شَدِيدَةً، فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَتْرُكُ مَالًا، وَإِنِّي لَمْ أَتْرُكْ إِلَّا ابْنَةً وَاحِدَةً، أَفَأُوصِي بِثُلُثَيْ مَالِي، وَأَتْرُكُ الثُّلُثَ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: أُوصِي النِّصْفَ، وَأَتْرُكُ لَهَا النِّصْفَ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَأَوْصِي بِالثُّلُثِ، وَأَتْرُكُ لَهَا الثُّلُثَيْنِ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ» ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِي، ثُمَّ مَسَحَ وَجْهِي وَبَطْنِي، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا، وَأَتِمَّ لَهُ هِجْرَتَهُ» ، فَمَا زِلْتُ أَجِدُ بَرْدَ يَدِهِ عَلَى كَبِدِي فِيمَا يَخَالُ إِلَيَّ حَتَّى السَّاعَةِ

সাদ (রাঃ)-এর কন্যা আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তার পিতা বলেছেন, আমি মক্কায় রোগগ্ৰস্ত হলাম। নবী (সাঃ) আমাকে দেখতে এলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অনেক সম্পত্তি এবং একটি মাত্র কন্যা সন্তান রেখে যাচ্ছি। আমি কি আমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যেতে পারি? তিনি বলেনঃ না। তিনি (পিতাবারানী) বলেন, তাহলে আমি কি অর্ধেক সম্পত্তি ওসিয়াত করে বাকী অর্ধেক তার জন্য রেখে যেতে পারি? তিনি বলেনঃ না। আমি বললাম, তবে কি আমি এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করে দুই-তৃতীয়াংশ তার জন্য রেখে যেতে পারি? তিনি বলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ। তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। অতঃপর তিনি তাঁর হাত আমার কপালে রাখলেন, অতঃপর আমার মুখমণ্ডলে ও পেটে হাত বুলালেন। অতঃপর বলেনঃ “হে আল্লাহ! সাদকে রোগমুক্ত করো এবং তার হিজরতকে পূর্ণ করো”। সাদ (রাঃ) বলেন, তিনি আমার এখান থেকে বিদায়ের পর হতে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি তাঁর হাতের শীতলতা আমার হৃদপিণ্ডে অনুভব করছি (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।

২২৮.

অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় যেসব নেক আমল করতো, তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়।

৫০২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০২


حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يَمْرَضُ، إِلَّا كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে সেই অবস্থায় সে তার সুস্থাবস্থায় যেরূপ আমল করতো সেরূপ সওয়াব তার জন্য লেখা হয়। (আহমাদ, বাযযার, হাকিম)

৫০৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০৩


حَدَّثَنَا عَارِمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سِنَانٌ أَبُو رَبِيعَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَا مِنْ مُسْلِمٍ ابْتَلَاهُ اللَّهُ فِي جَسَدِهِ إِلَّا كُتِبَ لَهُ مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحَّتِهِ، مَا كَانَ مَرِيضًا، فَإِنْ عَافَاهُ - أُرَاهُ قَالَ: عَسَلَهُ -، وَإِنْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ "

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ যে কোন মুসলমানকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলেন, তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ আমল করতো ঠিক তদ্রুপ সওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হতে থাকে, যতক্ষণ সে রোগাক্রান্ত থাকে। অতঃপর যদি তিনি তাকে
রোগমুক্ত করেন তবে তাকে (গুনাহ থেকে) ধৌত করে দেন, আর যদি তাকে মৃত্যু দান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন (আহমাদ, মুশকিলুল আছার)।

৫০৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০৪


حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ حَبِيبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِيَاسُ بْنُ أَبِي تَمِيمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَتِ الْحُمَّى إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتِ: ابْعَثْنِي إِلَى آثَرِ أَهْلِكَ عِنْدَكَ، فَبَعَثَهَا إِلَى الْأَنْصَارِ، فَبَقِيَتْ عَلَيْهِمْ سِتَّةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ، فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ، فَأَتَاهُمْ فِي دِيَارِهِمْ، فَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَيْهِ، فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ دَارًا دَارًا، وَبَيْتًا بَيْتًا، يَدْعُو لَهُمْ بِالْعَافِيَةِ، فَلَمَّا رَجَعَ تَبِعَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْهُمْ فَقَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لِمَنَ الْأَنْصَارِ، وَإِنَّ أَبِي لِمَنَ الْأَنْصَارِ، فَادْعُ اللَّهَ لِي كَمَا دَعَوْتَ لِلْأَنْصَارِ، قَالَ: «مَا شِئْتِ، إِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ، وَإِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ» ، قَالَتْ: بَلْ أَصْبِرُ، وَلَا أَجْعَلُ الْجَنَّةَ خَطَرًا

আবু হুরায়রা (র) থেকে বর্ণিতঃ

একদা জ্বর নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আপনি আমাকে আপনার একান্ত প্রিয়জনদের কাছে প্রেরণ করুন। তিনি তাকে আনসারদের বসতিতে পাঠান। তা তাদেরকে ছয় দিন ছয় রাত আক্রান্ত রাখে এবং মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে। নবী (সাঃ) তাদের বসতিতে এলে তারা তাঁর নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তাই নবী (সাঃ) তাদের বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করলেন। তিনি ফিরে এলে এক আনসার মহিলা তার অনুসরণ করেন এবং বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! অবশ্যই আমি একজন আনসার মহিলা এবং আমার পিতাও একজন আনসার। অতএব আপনি আনসারদের জন্য যেরূপ দোয়া করে এসেছেন, আমার জন্যও অনুরূপ দোয়া করুন। তিনি বলেনঃ তুমি কি চাও? তুমি চাইলে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে পারি। আর যদি তুমি চাও তবে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, তোমার জন্য হবে জান্নাত। সে বললো, বরং আমি ধৈর্য ধারণ করবো, তবুও জান্নাত প্রাপ্তিকে বিঘ্নিত করবো না।

৫০৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০৫


وَعَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: مَا مِنْ مَرَضٍ يُصِيبُنِي أَحَبَّ إِلَيَّ مِنَ الْحُمَّى، لِأَنَّهَا تَدْخُلُ فِي كُلِّ عُضْوٍ مِنِّي، وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُعْطِي كُلَّ عُضْوٍ قِسْطَهُ مِنَ الْأَجْرِ "

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমার কাছে জ্বরের চেয়ে প্রিয়তর কোন রোগ নাই। তা আমার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবেশ করে এবং আল্লাহ এর বিনিময়ে প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গকে তার প্রাপ্য সওয়াব দান করন (ইবনে আবু শায় বাযযার)।

৫০৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي نُحَيْلَةَ، قِيلَ لَهُ: ادْعُ اللَّهَ، قَالَ: اللَّهُمَّ انْقُصْ مِنَ الْمَرَضِ، وَلَا تَنْقُصْ مِنَ الْأَجْرِ، فَقِيلَ لَهُ: ادْعُ، ادْعُ. فَقَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الْمُقَرَّبِينَ، وَاجْعَلْ أُمِّي مِنَ الْحُورِ الْعِينِ

আবু নুহায়লা (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাকে বলা হলো, আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! রোগ কমিয়ে দিন, কিন্তু সওয়াব কমাবেন না। তাকে বলা হলো, আরো দোয়া
করুন, আরো দোয়া করুন। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাকে আপনার নৈকট্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমার মাকে আয়তলোচনা হূরদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

৫০৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০৭


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ أَبِي بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ: قَالَ لِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ: أَلَا أُرِيكَ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: هَذِهِ الْمَرْأَةُ السَّوْدَاءُ أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: إِنِّي أُصْرَعُ، وَإِنِّي أَتَكَشَّفُ، فَادْعُ اللَّهَ لِي، قَالَ: «إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ، وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكَ» ، فَقَالَتْ: أَصْبِرُ، فَقَالَتْ: إِنِّي أَتَكَشَّفُ، فَادْعُ اللَّهَ لِي أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ، فَدَعَا لَهَا

আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে একজন বেহেশতী নারী দেখাবো না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, ঐ কৃষ্ণকায় মহিলা। সে নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললো, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত এবং (অচৈতন্য অবস্থায়) আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি বলেনঃ তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং তোমার জন্য হবে জান্নাত। আর যদি চাও তবে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি। সে বললো, আমি ধৈর্য ধারণ করবো। সে পুনরায় বললো, আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, যেন আমি বিবস্ত্র না হই। তিনি তার জন্য দোয়া করলেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)

৫০৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّهُ رَأَى أُمَّ زُفَرَ، تِلْكَ الْمَرْأَةُ، طَوِيلَةً سَوْدَاءَ عَلَى سُلَّمِ الْكَعْبَةِ، قَالَ: وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ الْقَاسِمَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «مَا أَصَابَ الْمُؤْمِنَ مِنْ شَوْكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا، فَهُوَ كَفَّارَةٌ»

আতা (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি সেই কৃষ্ণকায় দীর্ঘদেহী উম্মু যুফারকে কাবা ঘরের সিঁড়ির উপর দেখেছেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা আমাকে অবহিত করেছেন যে, কাসেম (র) তাকে অবহিত করেছেন। আয়েশা (রাঃ) তাকে অবহিত করেন যে, নবী (সাঃ) বলতেনঃ মুমিন ব্যক্তির দেহে কাঁটা বিদ্ধ হলে বা ততোধিক বিপদ এলে তাতে তার গুনাহর কাফফারা হয়ে যায় (বুখারী, মুসলিম, মুশকিলুল আছার)।

৫০৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫০৯


حَدَّثَنَا بِشْرٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَمِّي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُشَاكُ شَوْكَةً فِي الدُّنْيَا يَحْتَسِبُهَا، إِلَّا قُصَّ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলমানের গায়ে এই দুনিয়ায় কাঁটা বিদ্ধ হয় এবং সে তাতে সওয়াবের আশা রাখে, তার বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তার গুনাহসমূহ মাফ করা হবে (আহমাদ, মুশকিলুল আছার)।

৫১০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১০


حَدَّثَنَا عُمَرُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ مُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ، وَلَا مُسْلِمٍ وَلَا مَسْلَمَةٍ، يَمْرَضُ مَرَضًا إِلَّا قَصَّ اللَّهُ بِهِ عَنْهُ مِنْ خَطَايَاهُ»

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন মুমিন পুরুষ বা নারী এবং কোন মুসলিম পুরুষ বা নারী রোগগ্রস্ত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন (আহমাদ, মুশকিলুল আছার)।

২২৯.

অনুচ্ছেদঃ রোগীর ‘আমি অসুস্থ’ বলা কি অভিযোগ?

৫১১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১১


حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ عَلَى أَسْمَاءَ، قَبْلَ قَتْلِ عَبْدِ اللَّهِ بِعَشْرِ لَيَالٍ، وَأَسْمَاءُ وَجِعَةٌ، فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ: كَيْفَ تَجِدِينَكِ؟ قَالَتْ: وَجِعَةٌ، قَالَ: إِنِّي فِي الْمَوْتِ، فَقَالَتْ: لَعَلَّكَ تَشْتَهِي مَوْتِي، فَلِذَلِكَ تَتَمَنَّاهُ؟ فَلَا تَفْعَلْ، فَوَاللَّهِ مَا أَشْتَهِي أَنْ أَمُوتَ حَتَّى يَأْتِيَ عَلَيَّ أَحَدُ طَرَفَيْكَ، أَوْ تُقْتَلَ فَأَحْتَسِبَكَ، وَإِمَّا أَنْ تَظْفُرَ فَتَقَرَّ عَيْنِي، فَإِيَّاكَ أَنْ تُعْرَضَ عَلَيْكَ خُطَّةٌ، فَلَا تُوَافِقُكَ، فَتَقْبَلُهَا كَرَاهِيَةَ الْمَوْتِ. وَإِنَّمَا عَنَى ابْنُ الزُّبَيْرِ لِيُقْتَلَ فَيُحْزِنُهَا ذَلِكَ

হিশাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) তার শাহাদাতের দশ দিন পূর্বে (তার মা) আসমা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আসমা (রাঃ) তখন রোগাক্রান্ত। আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে বলেন, আপনি কেমন বোধ করছেন? তিনি বলেন, অসুস্থ বোধ করছি। তিনি বলেন, আমি তো মৃত্যুর মুখে আছি। আসমা (রাঃ) বলেন, হয়তো তুমি আমার মৃত্যু আশা করছে। তাই তুমি তোমার মৃত্যু কামনা করছো। তুমি তা করো না। আল্লাহর শপথ! তোমার একটা কুল-কিনারা না হওয়া পর্যন্ত আমি মরতে চাই না। হয় তুমি শহীদ হবে এবং আমি তোমার জন্য সওয়াবের আশা করবো অথবা তুমি বিজয়ী হবে এবং তাতে আমার চোখ জুড়াবে। খবরদার মৃত্যুভয়ে তুমি কোন অবাঞ্ছিত প্রস্তাবে সম্মত হয়ো না। ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-র আশংকা ছিল, তিনি শহীদ হলে তাতে তার মা শোকাকুল হয়ে পড়বেন।

৫১২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১২


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَوْعُوكٌ، عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ، فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ، فَوَجَدَ حَرَارَتَهَا فَوْقَ الْقَطِيفَةِ، فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ: مَا أَشَدَّ حُمَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّا كَذَلِكَ، يَشْتَدُّ عَلَيْنَا الْبَلَاءُ، وَيُضَاعَفُ لَنَا الْأَجْرُ» ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً؟ قَالَ: «الْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الصَّالِحُونَ، وَقَدْ كَانَ أَحَدُهُمْ يُبْتَلَى بِالْفَقْرِ حَتَّى مَا يَجِدُ إِلَّا الْعَبَاءَةَ يَجُوبُهَا فَيَلْبَسُهَا، وَيُبْتَلَى بِالْقُمَّلِ حَتَّى يَقْتُلَهُ، وَلَأَحَدُهُمْ كَانَ أَشَدَّ فَرَحًا بِالْبَلَاءِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِالْعَطَاءِ»

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর শরীরে একটি চাদর জড়ানো ছিল। আবু সাঈদ (রাঃ) তার দেহে হাত রাখলেন এবং চাদরের উপড় দিয়েই উত্তাপ অনুভব করলেন। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার শরীরে কি ভীষণ জ্বর। তিনি বলেনঃ আমাদের এরূপ হয়ে থাকে। আমাদের উপর কঠিন বিপদ আসে এবং আমাদের দ্বিগুণ সওয়াব দেয়া হয়। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন মানুষের উপর অধিক কঠিন বিপদ আসে? তিনি বলেনঃ নবী-রাসূলগণের উপর, অতঃপর সৎকর্মশীলদের উপর। তাদের কেউ দারিদ্র্যের পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, এমনকি একটি জুব্বা ছাড়া পরার মত কিছুই তাঁর ছিলো না। কেউ উকুনের বিপদে পতিত হয়েছেন। শেষে তা তাঁকে হত্যা করে। নিঃসন্দেহে তোমাদের মধ্যকার কেউ পুরস্কার লাভে যতো খুশি হয়, তাদের কেউ বিপদে পতিত হলে ততোধিক খুশি হতেন (ইবনে মাজাহ, মুশকিলুল আছার)।

২৩০.

অনুচ্ছেদঃ সংজ্ঞাহীন রোগীকে দেখতে যাওয়া।

৫১৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১৩


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: مَرِضْتُ مَرَضًا، فَأَتَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي وَأَبُو بَكْرٍ وَهُمَا مَاشِيَانِ، فَوَجَدَانِي أُغْمِيَ عَلَيَّ، فَتَوَضَّأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَبَّ وَضُوءَهُ عَلَيَّ، فَأَفَقْتُ فَإِذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ أَصْنَعُ فِي مَالِي؟ كَيْفَ أَقْضِي فِي مَالِي؟ فَلَمْ يُجِبْنِي بِشَيْءٍ حَتَّى نَزَلَتْ آيَةُ الْمِيرَاثِ

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রোগাক্রান্ত হলে নবী (সাঃ) আবু বাকর (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে পদব্রজে আমাকে দেখতে এলেন। তারা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। নবী (সাঃ) উযু করলেন এবং তার উযুর অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি হুঁশ ফিরে পেলাম। দেখি নবী (সাঃ) উপস্থিত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমার সম্পত্তির কি করবো, আমার মাল সম্পর্কে কিরূপ সিদ্ধান্ত নিবো? ওয়ারিসী স্বত্ব সংক্রান্ত আয়াত নাযিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমার কথার কোন জবাব দেননি (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।

২৩১.

অনুচ্ছেদঃ রুগ্ন শিশুদের দেখতে যাওয়া।

৫১৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১৪


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ صَبِيًّا لَابْنَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَقُلَ، فَبَعَثَتْ أُمُّهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ وَلَدِي فِي الْمَوْتِ، فَقَالَ لِلرَّسُولِ: " اذْهَبْ فَقُلْ لَهَا: إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ إِلَى أَجْلٍ مُسَمًّى، فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ "، فَرَجَعَ الرَّسُولُ فَأَخْبَرَهَا، فَبَعَثَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَمَا جَاءَ، فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، مِنْهُمْ: سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ، فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّبِيَّ فَوَضَعَهُ بَيْنَ ثَنْدُوَتَيْهِ، وَلِصَدْرِهِ قَعْقَعَةٌ كَقَعْقَعَةِ الشَّنَّةِ، فَدَمَعَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ سَعْدٌ: أَتَبْكِي وَأَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «إِنَّمَا أَبْكِي رَحْمَةً لَهَا، إِنَّ اللَّهَ لَا يَرْحَمُ مِنْ عِبَادِهِ إِلَّا الرُّحَمَاءَ»

উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এক মেয়ের শিশু পুত্র মুমূর্ষ অবস্থায় উপনীত হলো। তার মা নবী (সাঃ)-কে বলে পাঠান, আমার সন্তান মুমূর্ষ অবস্থায় আছে। তিনি বার্তাবাহককে বলেনঃ “তাকে গিয়ে বলো, যা আল্লাহ নিয়ে যান এবং যা তিনি দান করেন সবই তার এবং প্রত্যেক বস্তুর জন্যই তার নিকট মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে”। সুতরাং সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং তার জন্য সওয়াবের আশা করে। বার্তাবাহক ফিরে গিয়ে তাকে তা জানালে তিনি পুনরায় তাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে আসার জন্য বলে পাঠান। নবী (সাঃ) কয়েকজন সঙ্গীসহ রওনা হলেন। সাদ ইবনে উবাদা (রাঃ)-ও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নবী (সাঃ) মুমূর্ষ শিশুকে তার দুই বাহুর উপর রাখলেন। ছেলেটির বুকে পুরান কলসীর অনুরূপ শব্দ হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুপূর্ণ হলো। সাদ (রাঃ) বলেন, আপনিও কাঁদছেন, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ আমি তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কাঁদছি। আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ার্দ্র হৃদয় বান্দার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।

২৩২.

অনুচ্ছেদঃ (উম্মু দারদা (রাঃ) রুগ্নার স্বামীকে আহার করাতেন)।

৫১৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১৫


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ وَاقِعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ قَالَ: مَرِضَتِ امْرَأَتِي، فَكُنْتُ أَجِيءُ إِلَى أُمِّ الدَّرْدَاءِ فَتَقُولُ لِي: كَيْفَ أَهْلُكَ؟ فَأَقُولُ لَهَا: مَرْضَى، فَتَدْعُو لِي بِطَعَامٍ، فَآكُلُ، ثُمَّ عُدْتُ فَفَعَلَتْ ذَلِكَ، فَجِئْتُهَا مَرَّةً فَقَالَتْ: كَيْفَ؟ قُلْتُ: قَدْ تَمَاثَلُوا، فَقَالَتْ: إِنَّمَا كُنْتُ أَدْعُو لَكَ بِطَعَامٍ أَنْ كُنْتَ تُخْبِرُنَا عَنْ أَهْلِكَ أَنَّهُمْ مَرْضَى، فَأَمَّا أَنْ تَمَاثَلُوا فَلَا نَدْعُو لَكَ بِشَيْءٍ

ইবরাহীম ইবনে আবু ইবলা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমার স্ত্রী রোগাক্রান্ত হলে আমি উম্মু দারদা (রাঃ)-এর নিকট যাতায়াত করতাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, তোমার স্ত্রী কেমন আছে? আমি তাকে বলতাম, অসুস্থ। তিনি আমার জন্য খাবার নিয়ে ডাকতেন। আমি আহার করে ফিরে আসতাম। একবার আমি তার বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, (রুগ্নার) অবস্থা কি? আমি বললাম, অনেকটা সুস্থ। তিনি বলেন, তুমি যদি বলতে তোমার স্ত্রী অসুস্থ, তাহলে আমি তোমার জন্য খাবার আনাতাম। এখন যেহেতু সে সুস্থ, তাই তোমার জন্য আর কিছু আনাচ্ছি না।

২৩৩.

অনুচ্ছেদঃ রুগ্ন বেদুইনকে দেখতে যাওয়া।

৫১৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى أَعْرَابِيٍّ يَعُودُهُ، فَقَالَ: «لَا بَأْسَ عَلَيْكَ، طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» ، قَالَ: قَالَ الْأَعْرَابِيُّ: بَلْ هِيَ حُمَّى تَفُورُ، عَلَى شَيْخٍ كَبِيرٍ، كَيْمَا تُزِيرُهُ الْقُبُورَ، قَالَ: «فَنَعَمْ إِذًا»

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক রুগ্ন বেদুইনকে দেখতে গেলেন। তিনি বলেনঃ কিছু হবে না। আল্লাহর মর্জি সেরে যাবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, বেদুইন বললো, তা তো টগবগে জ্বর। তা এই থুড়থুড়ে বুড়োকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। তিনি বলেনঃ তা তো আরো উত্তম (বুখারী)।

২৩৪.

অনুচ্ছেদঃ রুগ্নদের দেখতে যাওয়া।

৫১৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَصْبَحَ الْيَوْمَ مِنْكُمْ صَائِمًا؟» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا، قَالَ: «مَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا؟» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا، قَالَ: «مَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً؟» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا، قَالَ: «مَنْ أَطْعَمَ الْيَوْمَ مِسْكِينًا؟» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا. قَالَ مَرْوَانُ: بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا اجْتَمَعَ هَذِهِ الْخِصَالُ فِي رَجُلٍ فِي يَوْمٍ، إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ রোযা রেখেছে? আবু বাকর (রাঃ) বলেন, আমি। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ রোগী দেখতে গেছে? আবু বাকর (রাঃ) বলেন, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ জানাযায় অংশগ্রহণ করেছে? আবু বাকর (রাঃ) বলেন, আমি । তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ দরিদ্রকে আহার করিয়েছে? আবু বাকর (রাঃ) বলেন, আমি। মারওয়ান বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, নবী (সাঃ) বলেনঃ এক দিনে যার মধ্যে এতগুলো সৎ কাজের সমাবেশ ঘটে, তাকে আল্লাহ অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (মুসলিম, নাসাঈ)

৫১৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১৮


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَيُّوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ قَالَ: حَدَّثَنِي الْمُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ، وَهِيَ تُزَفْزِفُ، فَقَالَ: «مَا لَكِ؟» قَالَتِ: الْحُمَّى أَخْزَاهَا اللَّهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَهْ، لَا تَسُبِّيهَا، فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا الْمُؤْمِنِ، كَمَا يُذْهِبُ الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ»

জাবের (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) উম্মু সাইবের বাড়িতে গেলেন। তিনি জ্বরের প্রকোপে কাঁপছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার কি হয়েছে? তিনি বলেন, জ্বর। আল্লাহ জ্বরের সর্বনাশ
করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ থামো, জ্বরকে গালি দিও না। কেননা তা মুমিন বান্দার গুনাহসমূহ দূরীভূত করে, যেমন হাঁপড় লোহার মরিচ দূর করে (মুসলিম, ইবনে হিব্বান, মুসনাদ আবু আওয়া নাসাঈ)।

৫১৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫১৯


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يَقُولُ اللَّهُ: اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمَنِي، قَالَ: فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، وَكَيْفَ اسْتَطْعَمْتَنِي وَلَمْ أُطْعِمْكَ، وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا اسْتَطْعَمَكَ فَلَمْ تُطْعِمْهُ؟ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ كُنْتَ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي؟ ابْنَ آدَمَ، اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِي، فَقَالَ: يَا رَبِّ، وَكَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ فَيَقُولُ: إِنَّ عَبْدِي فُلَانًا اسْتَسْقَاكَ فَلَمْ تَسْقِهِ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ كُنْتَ سَقَيْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي؟ يَا ابْنَ آدَمَ، مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي، قَالَ: يَا رَبِّ، كَيْفَ أَعُودُكَ، وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ، فَلَوْ كُنْتَ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي؟ أَوْ وَجَدْتَنِي عِنْدَهُ؟ "

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহ (হাশরের মাঠে) বলবেন, আমি তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি। বান্দা বলবে, হে প্রভু! তুমি কিভাবে আমার নিকট খাদ্য চেয়েছিলে, আর আমি তোমাকে আহার করাইনি! অথচ তুমিই তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার নিকট খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে আহার করাওনি। তুমি কি জানতে নাসাঈ, যদি তুমি তাকে আহার করাতে তবে তা আমার নিকট পেতে? আদম সন্তান! আমি তোমার নিকট পিপাসার্ত হয়ে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে প্ৰভু! কেমন করে আমি তোমাকে পানি পান করাতাম, অথচ তুমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে, তবে তা আমার নিকট পেতে? আদম সন্তান! আমি রোগাক্রান্ত হয়েছিলাম, তুমি আমার সেবা করোনি। বান্দা বলবে, হে প্ৰভু! আমি কিভাবে তোমার সেবা করতে পারি, তুমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তিনি বলবেন, তুমি কি জানতে নাসাঈ, আমার অমুক বান্দা রোগাক্রান্ত হয়েছিল? তুমি যদি তার সেবা করতে, তবে তা আমার নিকট পেতে অথবা তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে। (মুসলিম, মুসনাদ আবু আওয়া নাসাঈ)

৫২০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২০


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عِيسَى الْأُسْوَارِيُّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عُودُوا الْمَرِيضَ، وَاتَّبَعُوا الْجَنَائِزَ، تُذَكِّرُكُمُ الْآخِرَةَ»

আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা রুগ্নকে দেখতে যাও এবং জানাযার অনুসরণ করো। তা তোমাদেরকে আখেরাত স্মরণ করিয়ে দিবে (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।

৫২১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২১


حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثٌ كُلُّهُنَّ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ: عِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَشُهُودُ الْجَنَازَةِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ إِذَا حَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ "

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তিনটি বিষয়, তার প্রতিটিই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য করণীয়। রুগ্নকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা এবং যে ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে তার জবাব দেয়া (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা) (ইবনে হিব্বান)।

২৩৫.

অনুচ্ছেদঃ রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে তার রোগমুক্তির জন্য দেয়া করবে।

৫২২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَنِي ثَلَاثَةٌ مِنْ بَنِي سَعْدٍ كُلُّهُمْ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى سَعْدٍ يَعُودُهُ بِمَكَّةَ، فَبَكَى، فَقَالَ: «مَا يُبْكِيكَ؟» ، قَالَ: خَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ بِالْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرْتُ مِنْهَا كَمَا مَاتَ سَعْدٌ، قَالَ: «اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا» ثَلَاثًا، فَقَالَ: لِي مَالٌ كَثِيرٌ، يَرِثُنِي ابْنَتَيْ، أَفَأُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَبِالثُّلُثَيْنِ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَالنِّصْفُ؟ قَالَ: «لَا» ، قَالَ: فَالثُّلُثُ؟ قَالَ: " الثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّ صَدَقَتَكَ مِنْ مَالِكَ صَدَقَةٌ، وَنَفَقَتَكَ عَلَى عِيَالِكَ صَدَقَةٌ، وَمَا تَأْكُلُ امْرَأَتُكَ مِنْ طَعَامِكَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَإِنَّكَ أَنْ تَدَعَ أَهْلَكَ بِخَيْرٍ - أَوْ قَالَ: بِعَيْشٍ - خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ "، وَقَالَ بِيَدِهِ

হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিতঃ

সাদ (রাঃ)-এর গোত্রের তিনজন নিজ নিজ পিতার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কায় রোগাক্রান্ত সাদ (রাঃ)-কে দেখতে গেলেন। সাদ (রাঃ) কেঁদে দিলেন। তিনি বলেন, তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বলেন, আমার আশংকা যে, আমি যে স্থান থেকে হিজরত করেছি, সাদ ইবনে খাওলার মত সেই স্থানেই বুঝি মারা যাবো। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ হে আল্লাহ! সাদকে আরোগ্য দান করুন। তিনি তিনবার দোয়া করলেন। সাদ (রাঃ) বলেন, আমার প্রচুর সম্পদ আছে এবং আমার একমাত্র কন্যা আমার ওয়ারিস। আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ ওসিয়াত করতে পারি? তিনি বলেনঃ না। সাদ (রাঃ) বলেন, তবে দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ না। সাদ (রাঃ) বলেন, তবে অর্ধেক? তিনি বলেনঃ না। সাদ (রাঃ) বলেন, তবে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয় তোমার মালের যাকাতও দানরূপে গণ্য। তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য তুমি যা খরচ করো তাও দানরূপে গণ্য। তোমার স্ত্রী তোমার খাদ্য থেকে যা আহার করে তাও তোমার জন্য দানরূপে গণ্য। তোমার পরিবার-পরিজনকে তোমার সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া, তাদেরকে দ্বারে দ্বারে হাত পেতে বেড়ানোর মত অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম, (একথা বলে) তিনি হাত দ্বারা ইঙ্গিত করেন (মুসলিম)।

২৩৬.

অনুচ্ছেদঃ রোগীকে দেখতে যাওয়ার ফযীলাত।

৫২৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২৩


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ قَالَ: «مَنْ عَادَ أَخَاهُ كَانَ فِي خُرْفَةِ الْجَنَّةِ» ، قُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ: مَا خُرْفَةُ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: جَنَاهَا، قُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ: عَنْ مَنْ حَدَّثَهُ أَبُو أَسْمَاءَ؟ قَالَ: عَنْ ثَوْبَانَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আবু আসমা (র) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি তার রুগ্ন ভাইকে দেখতে যায়, সে বেহেশতের খুরফার মধ্যে থাকে। আমি আবু কিলাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বেহেশতের খুরফা কি? তিনি বলেন, বেহেশতের কুড়ানো ফল। আমি আবু কিলাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু আসমা এই হাদীস কার সূত্রে বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন, সাওবান (রাঃ)-রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সূত্রে। (মুসলিম, তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

২৩৭.

অনুচ্ছেদঃ রোগীর সাথে সাক্ষাতকারীর কথাবার্তা।

৫২৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২৪


حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ حَزْمٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، فِي نَاسٍ مِنْ أَهْلِ الْمَسْجِدِ، عَادُوا عُمَرَ بْنَ الْحَكَمِ بْنِ رَافِعٍ الْأَنْصَارِيَّ، قَالُوا: يَا أَبَا حَفْصٍ، حَدِّثْنَا، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ عَادَ مَرِيضًا خَاضَ فِي الرَّحْمَةِ، حَتَّى إِذَا قَعَدَ اسْتَقَرَّ فِيهَا»

আবদুল হামীদ ইবনে জাফর (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমার পিতা আমাকে অবহিত করেন যে, আবু বাকর ইবনে হাযম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (র) মসজিদের কতক লোকসহ অসুস্থ উমার ইবনে হাকাম ইবনে রাফে আনসারীকে দেখতে গেলেন। তারা বলেন, হে আবু হাফস! আমাদেরকে হাদীস শুনান। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যায়, সে রহমাতের মধ্যে ডুব দেয়, এমনকি সে যখন সেখানে বসে পড়ে, তখন তো রহমাতের মধ্যেই অবস্থান করে। (মুয়াত্তা মালিক, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, বাযযার)

২৩৮.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি রোগীর কাছে নামায পড়ে।

৫২৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২৫


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: عَادَ ابْنُ عُمَرَ ابْنَ صَفْوَانَ، فَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَصَلَّى بِهِمُ ابْنُ عُمَرَ رَكْعَتَيْنِ، وَقَالَ: إِنَّا سَفْرٌ

আতা (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনে সাফওয়ান (র) আমার রুগ্ন অবস্থায় আমাকে দেখতে এলেন। নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেলে ইবনে উমার (রাঃ) তাদেরকে নিয়ে দুই রাকাআত নামায পড়েন এবং বলেন, আমরা সফরে আছি।

২৩৯.

অনুচ্ছেদঃ মুশরিক (পৌত্তলিক) রোগীকে দেখতে যাওয়া।

৫২৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২৬


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ غُلَامًا مِنَ الْيَهُودِ كَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرِضَ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ، فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ: «أَسْلِمْ» ، فَنَظَرَ إِلَى أَبِيهِ، وَهُوَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَقَالَ لَهُ: أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَسْلَمَ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ مِنَ النَّارِ»

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ইহুদী বালক নবী (সাঃ)-এর খেদমত করতো। সে অসুস্থ হলে নবী (সাঃ) তাকে দেখতে যান। তিনি তার শিয়রে বসে বলেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। সে তার শিয়রে বসা তার পিতার দিকে তাকালো। সে তাকে বললো, আবুল কাসিমের অনুসরণ করো। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করলো। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করেছেন”। (বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ)

২৪০.

অনুচ্ছেদঃ রোগীকে দেখতে গিয়ে কি বলবে?

৫২৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২৭


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وُعِكَ أَبُو بَكْرٍ وَبِلَالٌ، قَالَتْ: فَدَخَلْتُ عَلَيْهِمَا، قُلْتُ: يَا أَبَتَاهُ، كَيْفَ تَجِدُكَ؟ وَيَا بِلَالُ، كَيْفَ تَجِدُكَ؟ قَالَ: وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ إِذَا أَخَذَتْهُ الْحُمَّى يَقُولُ:
[البحر الرجز]
كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِ ... وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ
وَكَانَ بِلَالٌ إِذَا أُقْلِعَ عَنْهُ يَرْفَعُ عَقِيرَتَهُ فَيَقُولُ:
[البحر الطويل]
أَلَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً ... بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ
وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجَنَّةٍ ... وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ
قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ، وَصَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدِّهَا، وَانْقُلْ حُمَّاهَا فَاجْعَلْهَا بِالْجُحْفَةِ»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (হিজরত করে) মদীনায় আসলে আবু বাকর ও বিলাল (রাঃ) জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। আবু বাকর (রাঃ) যখনই জ্বরে আক্রান্ত হতেন তখনই একটি কবিতাংশ আবৃত্তি করে বলতেন, “প্রত্যেক ব্যক্তিই তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটবর্তী”। আর বিলালের যখন জ্বর ছেড়ে যেতো তখন উচ্চ স্বরে এ কবিতাংশ আবৃত্তি করতেন, “আহ! কতই না ভালো হতো যদি আমি কবিতা বলতে পারতাম। আহ! যদি আমি মক্কার প্রান্তরে একটি রাত কাটাতে পারতাম যেখানে আমার চারিদিকে ইযখির ও জালিল ঘাস থাকতো। আহ! একদিন যদি মুজেন্নার প্রান্তরে ঝর্ণার পানি পান করতে পারতাম এবং শামা ও তাফিল পাহাড়ের পাদদেশে যেতে পারতাম”। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এসে তাঁকে একথা জানালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়া করলেনঃ “হে আল্লাহ! মক্কার প্রতি আমাদের যেমন মহব্বত, মদীনার প্রতিও তেমন অথবা তার চাইতেও বেশী মহব্বত আমাদের মধ্যে সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ আমাদের সা’ ও মুদে বরকত দান করো”।

৫২৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২৮


حَدَّثَنَا مُعَلَّى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى أَعْرَابِيٍّ يَعُودُهُ، قَالَ: وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ عَلَى مَرِيضٍ يَعُودُهُ قَالَ: «لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» ، قَالَ: ذَاكَ طَهُورٌ، كَلَّا بَلْ هِيَ حُمَّى تَفُورُ - أَوْ تَثُورُ - عَلَى شَيْخٍ كَبِيرٍ، تُزِيرُهُ الْقُبُورَ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَنَعَمْ إِذًا»

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) এক রুগ্ন বেদুইনকে দেখতে গেলেন। রাবী বলেন, নবী (সাঃ) কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেলে বলতেনঃ ক্ষতি হবে নাসাঈ, ইনশাআল্লাহ পাক-পবিত্র হয়ে যাবে। সে বললো, তা কি পবিত্র? কখনো নয়, বরং তা তো এক প্রবীণ বৃদ্ধের উপর আপতিত টগবগে জ্বর। তা তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। নবী (সাঃ) বলেনঃ তা তো আরো উত্তম। (বুখারী)

৫২৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫২৯


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ حَرْمَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْقُرَشِيِّ، عَنْ نَافِعٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا دَخَلَ عَلَى مَرِيضٍ يَسْأَلُهُ: كَيْفَ هُوَ؟ فَإِذَا قَامَ مِنْ عِنْدِهِ قَالَ: خَارَ اللَّهُ لَكَ، وَلَمْ يَزِدْهُ عَلَيْهِ

নাফে (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে উমার (রাঃ) রুগ্ন ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করতেন যে, সে কেমন আছে? আর তিনি তার নিকট থেকে বিদায়কালে বলতেন, আল্লাহ তোমার কল্যাণ করুন। তিনি এর অধিক কিছু বলতেন না।

২৪১.

অনুচ্ছেদঃ রোগী কি উত্তর দিবে?

৫৩০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩০


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: دَخَلَ الْحَجَّاجُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ، وَأَنَا عِنْدَهُ، فَقَالَ: كَيْفَ هُوَ؟ قَالَ: صَالِحٌ، قَالَ: مَنْ أَصَابَكَ؟ قَالَ: أَصَابَنِي مَنْ أَمَرَ بِحَمْلِ السِّلَاحِ فِي يَوْمٍ لَا يَحِلُّ فِيهِ حَمْلُهُ، يَعْنِي: الْحَجَّاجَ

ইসহাক ইবনে সাঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হাজ্জাজ হযরত ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলো। আমি তখন তার নিকট উপস্থিত ছিলাম। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, তিনি কেমন আছেন? তিনি বলেন, ভালো। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, কে আপনাকে কষ্ট দিলো? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এমন দিনে অস্ত্ৰধারণ করতে আদেশ করেছিল, যেদিন অস্ত্ৰধারণ করা নিষিদ্ধ অর্থাৎ স্বয়ং হাজ্জাজ। (বুখারী)

২৪২.

অনুচ্ছেদঃ রুগ্ন পাপাচারীকে দেখতে যাওয়া।

৫৩১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩১


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زَحْرٍ، عَنْ حِبَّانَ بْنِ أَبِي جَبَلَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: لَا تَعُودُوا شُرَّابَ الْخَمْرِ إِذَا مَرِضُوا

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মদ্যপ রোগাক্রান্ত হলে তোমরা তাকে দেখতে যেও না (বুখারী)।

২৪৩.

অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের রুগ্ন পুরুষদের দেখতে যাওয়া।

৫৩২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩২


حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: أَخْبَرَنِي الْوَلِيدُ هُوَ ابْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: رَأَيْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ، عَلَى رِحَالِهَا أَعْوَادٌ لَيْسَ عَلَيْهَا غِشَاءٌ، عَائِدَةً لِرَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَسْجِدِ مِنَ الْأَنْصَارِ

হারিস ইবনে উবায়দুল্লাহ আনসারী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি উষ্ণু দারদা (রাঃ)-কে একটি অনাবৃত উটে চড়ে মসজিদবাসী এক অসুস্থ আনসারীকে দেখতে যেতে দেখেছি (বুখারীর তারীখ)।

২৪৪.

অনুচ্ছেদঃ রুগ্নকে দেখতে গিয়ে ঘরের অন্য কিছুর প্রতি তাকানো অবাঞ্ছনীয়।

৫৩৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩৩


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الْأَجْلَحِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْهُذَيْلِ قَالَ: دَخَلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ عَلَى مَرِيضٍ يَعُودُهُ، وَمَعَهُ قَوْمٌ، وَفِي الْبَيْتِ امْرَأَةٌ، فَجَعَلَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ يَنْظُرُ إِلَى الْمَرْأَةِ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ: لَوْ انْفَقَأَتْ عَيْنُكَ كَانَ خَيْرًا لَكَ

আবদুল্লাহ ইবনে আবুল হুযাইল (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) একদল লোকসহ এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। ঘরের মধ্যে ছিল এক মহিলা। দলের এক ব্যক্তি সেই নারীর দিকে তাকাতে থাকে। আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে বলেন, যদি তোমার চোখ ফুড়ে দেয়া হতো তবে তা তোমার জন্য উত্তম হতো।

২৪৫.

অনুচ্ছেদঃ চক্ষুরোগে আক্রান্তকে দেখতে যাওয়া।

৫৩৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩৪


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ يَقُولُ: رَمِدَتْ عَيْنِي، فَعَادَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: «يَا زَيْدُ، لَوْ أَنَّ عَيْنَكَ لَمَّا بِهَا كَيْفَ كُنْتَ تَصْنَعُ؟» قَالَ: كُنْتُ أَصْبِرُ وَأَحْتَسِبُ، قَالَ: «لَوْ أَنَّ عَيْنَكَ لَمَّا بِهَا، ثُمَّ صَبَرْتَ وَاحْتَسَبْتَ كَانَ ثَوَابُكَ الْجَنَّةَ»
---
[قال الشيخ الألباني] :
ضعيف بهذا التمام

আবু ইসহাক (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমার চক্ষুরোগ হলে নবী (সাঃ) আমাকে দেখতে এলেন, অতঃপর বলেনঃ হে যায়েদ! এভাবে তোমার চক্ষুরোগ অব্যাহত থাকলে তুমি কি করবে? তিনি বলেন, আমি সবর করবো এবং সওয়াবের আশা করবো। তিনি বলেনঃ তোমার চক্ষুরোগ অব্যাহত থাকলে এবং তুমি তাতে সবর করলে ও সওয়াবের আশা করলে তুমি তার বিনিময়ে জান্নাত লাভ করবে (আবু দাউদ, আহমাদ)।

৫৩৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩৫


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ذَهَبَ بَصَرُهُ، فَعَادُوهُ، فَقَالَ: كُنْتُ أُرِيدُهُمَا لَأَنْظُرَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَّا إِذْ قُبِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَاللَّهِ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَا بِهِمَا بِظَبْيٍ مِنْ ظِبَاءِ تَبَالَةَ

কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর এক সাহাবীর দৃষ্টিশক্তি লোপ পেলে একজন তাকে দেখতে গেলো। তিনি বলেন, আমি তো চেয়েছিলাম যে, এই দুই চোখ ভরে আমি নবী (সাঃ)-কে অবশ্যই দেখবো। এখন যেহেতু নবী (সাঃ)-কে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, আল্লাহর শপথ! হরিণসমূহের মধ্যকার সৌন্দর্যময় হরিণ দেখেও আমি আর আনন্দিত হবো না।

৫৩৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩৬


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، وَابْنُ يُوسُفَ، قَالَا: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ، عَنْ عَمْرٍو مَوْلَى الْمُطَّلِبِ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِذَا ابْتَلَيْتُهُ بِحَبِيبَتَيْهِ - يُرِيدُ عَيْنَيْهِ - ثُمَّ صَبَرَ عَوَّضْتُهُ الْجَنَّةَ "

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ মহামহিম আল্লাহ বলেছেন, যখন আমি আমার বান্দাকে তার প্রিয় বস্তু দুইটির পরীক্ষায় (চক্ষুদ্বয়ের জ্যোতিলোপ) ফেলেছি এবং সে ধৈর্য ধারণ করেছে, বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করলাম। (বুখারী, তিরমিযী, আহমাদ)

৫৩৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩৭


حَدَّثَنَا خَطَّابٌ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلَانَ، وَإِسْحَاقَ بْنِ يَزِيدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي ثَابِتٌ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَقُولُ اللَّهُ: يَا ابْنَ آدَمَ، إِذَا أَخَذْتُ كَرِيمَتَيْكَ، فَصَبَرْتَ عِنْدَ الصَّدْمَةِ وَاحْتَسَبْتَ، لَمْ أَرْضَ لَكَ ثَوَابًا دُونَ الْجَنَّةِ "

আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! আমি যখন তোমার প্রিয় জিনিস দু’টি নিয়ে নেই (চোখের জ্যোতি হরণ করি) এবং তুমি সে বিপদে ধৈর্য ধারণ করো ও সওয়াবের আশা করো, আমি তোমাকে সওয়াবের পরিবর্তে জান্নাত না দেয়া পর্যন্ত খুশি হই না। (বুখারী, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)

২৪৬.

অনুচ্ছেদঃ রোগীর সাথে সাক্ষাতকারী কোথায় বসবে?

৫৩৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩৮


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي الْمِنْهَالُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا عَادَ الْمَرِيضَ جَلَسَ عِنْدَ رَأْسِهِ، ثُمَّ قَالَ سَبْعَ مِرَارٍ: «أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ، رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، أَنْ يَشْفِيكَ» ، فَإِنْ كَانَ فِي أَجَلِهِ تَأْخِيرٌ عُوفِيَ مِنْ وَجَعِهِ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তার মাথার কাছে বসতেন এবং সাতবার বলতেনঃ “আমি মহান আল্লাহর নিকট মহান আরশের প্রভুর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তোমাকে রোগমুক্ত করেন”। তার মৃত্যু বিলম্বিত হলে সে রোগমুক্ত হয়ে যেতো। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)

৫৩৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ

হাদীস নং : ৫৩৯


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: ذَهَبْتُ مَعَ الْحَسَنِ إِلَى قَتَادَةَ نَعُودُهُ، فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَسَأَلَهُ ثُمَّ دَعَا لَهُ قَالَ: اللَّهُمَّ اشْفِ قَلْبَهُ، وَاشْفِ سَقَمَهُ

রাবী ইবনে আবদুল্লাহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি হাসান (রাঃ)-এর সাথে অসুস্থ কাতাদা (রাঃ)-কে দেখতে গেলাম। তিনি তার মাথার নিকট বসে তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন, অতঃপর তার জন্য দোয়া করেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তার অন্তরাত্মাকে আরোগ্য দান করো এবং তাকে রোগমুক্ত করো”।