All books

আদাবুল মুফরাদ (০ টি হাদীস)

১৮ সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি ১১৪৬ - ১১৯৬

৫৩৪.

অনুচ্ছেদঃ প্রশস্ত স্থানে বৈঠক অনুষ্ঠান উত্তম।

১১৪৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৪৬


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِي قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: أُوذِنَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ بِجِنَازَةٍ، قَالَ: فَكَأَنَّهُ تَخَلَّفَ حَتَّى أَخَذَ الْقَوْمُ مَجَالِسَهُمْ، ثُمَّ جَاءَ مَعَهُ، فَلَمَّا رَآهُ الْقَوْمُ تَسَرَّعُوا عَنْهُ، وَقَامَ بَعْضُهُمْ عَنْهُ لِيَجْلِسَ فِي مَجْلِسِهِ، فَقَالَ: لَا، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «خَيْرُ الْمَجَالِسِ أَوْسَعُهَا» ، ثُمَّ تَنَحَّى فَجَلَسَ فِي مَجْلِسٍ وَاسِعٍ

আবদুর রহমান ইবনে আবু আমরা আল-আনসারী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-কে একটি জানাযার খবর দেয়া হলো। তিনি বিলম্ব করলেন। লোকজন এসে নিজ নিজ জায়গায় বসে গেলো। অতঃপর তিনি এলেন। তারা তাকে আসতে দেখেই তাড়াহুড়া করলো এবং কতক লোক দাঁড়িয়ে গেলো, যাতে তিনি তাদের স্থানে বসেন। তিনি বলেন, না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ প্রশস্ত স্থানের বৈঠক উত্তম। অতঃপর তিনি একটু অগ্রসর হয়ে এক প্রশস্ত স্থানে বসলেন। (দারিমী, তিরমিযী)

৫৩৫.

অনুচ্ছেদঃ কিবলামুখী হয়ে বসা।

১১৪৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৪৭


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ مُنْقِذٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ أَكْثَرُ جُلُوسِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَهُوَ مُسْتَقْبِلٌ الْقِبْلَةَ، فَقَرَأَ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ سَجْدَةً بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ فَسَجَدَ وَسَجَدُوا إِلَّا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، فَلَمَّا طَلَعَتِ الشَّمْسُ حَلَّ عَبْدُ اللَّهِ حَبْوَتَهُ ثُمَّ سَجَدَ وَقَالَ: أَلَمْ تَرَ سَجْدَةَ أَصْحَابِكَ؟ إِنَّهُمْ سَجَدُوا فِي غَيْرِ حِينِ صَلَاةٍ

সুফিয়ান ইবনে মুনকিয (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) প্রায়ই কিবলামুখী হয়ে বসতেন। সূর্যোদয়ের পর ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত (র) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) ব্যতীত তিনি এবং উপস্থিত সকলে সিজদা করলেন। তিনি বলেন, তুমি কি তোমার সংগীদের সিজদা লক্ষ্য করেনি? তারা নামায পড়া যায় না এমন সময় সিজদা করেছে।

৫৩৬.

অনুচ্ছেদঃ কেউ মজলিস থেকে উঠে গিয়ে পুনরায় ফিরে এলে।

১১৪৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৪৮


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ قَالَ: حَدَّثَنِي سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَجْلِسِهِ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهِ، فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমাদের কেউ মজলিস থেকে উঠে গিয়ে পুনরায় তথায় ফিরে এলে সে তার পূর্বোক্ত স্থানে বসার অধিক হকদার। (মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

৫৩৭.

অনুচ্ছেদঃ রাস্তায় বসা।

১১৪৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৪৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ صِبْيَانُ، فَسَلَّمَ عَلَيْنَا، وَأَرْسَلَنِي فِي حَاجَةٍ، وَجَلَسَ فِي الطَّرِيقِ يَنْتَظِرُنِي حَتَّى رَجَعْتُ إِلَيْهِ، قَالَ: فَأَبْطَأْتُ عَلَى أُمِّ سُلَيْمٍ، فَقَالَتْ: مَا حَبَسَكَ؟ فَقُلْتُ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَاجَةٍ، قَالَتْ: مَا هِيَ؟ قُلْتُ: إِنَّهَا سِرٌّ، قَالَتْ: فَاحْفَظْ سِرَّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের নিকট এলেন। আমরা ছিলাম একদল বালক। তিনি আমাদের সালাম দিলেন। তিনি আমাকে তাঁর এক প্রয়োজনে পাঠালেন এবং আমার ফিরে না আসা পর্যন্ত রাস্তায় বসে আমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন। এতে উম্মু সুলাইম (রাঃ)-র নিকট আমার (বাড়িতে) ফিরে আসতে বিলম্ব হলো। তিনি বিলম্বের কারণ জিজ্ঞেস করলে আমি বললাম, নবী (সাঃ) তার এক প্রয়োজনে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, সেটা গোপনীয় বিষয়। তিনি বলেন, তাহলে তুমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর গোপনীয় বিষয়ের হেফাজত করো। -(মুসলিম, বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, দারিমী, ইবনে খুজাইমাহ)

৫৩৮.

অনুচ্ছেদঃ সভা-সমিতিতে বসার জায়গা প্রশস্ত করা।

১১৫০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫০


حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُقِيمَنَّ أَحَدُكُمُ الرَّجُلَ مِنْ مَجْلِسِهِ، ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ، وَلَكِنْ تَفَسَّحُوا وَتَوَسَّعُوا»

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন অপর ব্যক্তিকে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে নিজে সেখানে না বসে। বরং তোমরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে জায়গা প্রশস্ত করে বসো। -(মুসলিম, বুখারী, দারিমী, আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

৫৩৯.

অনুচ্ছেদঃ পরে আসা ব্যক্তি মজলিসের শেষ প্রান্তে বসবে।

১১৫১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الطُّفَيْلِ قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ أَحَدُنَا حَيْثُ انْتَهَى

জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (সাঃ)-এর মজলিসে এসে যেখানে জায়গা (খালি) পাওয়া যেতো, আমাদের যে কেউ সেখানে বসে যেতো। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)

৫৪০.

অনুচ্ছেদঃ কেউ যেন দুইজনের মাঝখানে ফাক করে না বসে।

১১৫২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫২


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا الْفُرَاتُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَ اثْنَيْنِ، إِلَّا بِإِذْنِهِمَا»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য দুইজনের মাঝে তাদের অনুমতি ছাড়া ফাঁক করে বসা হালাল নয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)

৫৪১.

অনুচ্ছেদঃ মজলিসে লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে সভাপতির নিকট গমন।

১১৫৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫৩


حَدَّثَنَا بَيَانُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: حَدَّثَنَا النَّضْرُ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ الْمُزَنِيُّ هُوَ صَالِحُ بْنُ رُسْتُمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كُنْتُ فِيمَنْ حَمَلَهُ حَتَّى أَدْخَلْنَاهُ الدَّارَ، فَقَالَ لِي: يَا ابْنَ أَخِي، اذْهَبْ فَانْظُرْ مَنْ أَصَابَنِي، وَمَنْ أَصَابَ مَعِي، فَذَهَبْتُ فَجِئْتُ لِأُخْبِرُهُ، فَإِذَا الْبَيْتُ مَلْآنُ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَخَطَّى رِقَابَهُمْ، وَكُنْتُ حَدِيثَ السِّنِّ، فَجَلَسْتُ، وَكَانَ يَأْمُرُ إِذَا أَرْسَلَ أَحَدًا بِالْحَاجَةِ أَنْ يُخْبِرَهُ بِهَا، وَإِذَا هُوَ مُسَجًّى، وَجَاءَ كَعْبٌ فَقَالَ: وَاللَّهِ لَئِنْ دَعَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ لَيُبْقِيَنَّهُ اللَّهُ وَلَيَرْفَعَنَّهُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ حَتَّى يَفْعَلَ فِيهَا كَذَا وَكَذَا، حَتَّى ذَكَرَ الْمُنَافِقِينَ فَسَمَّى وَكَنَّى، قُلْتُ: أُبَلِّغُهُ مَا تَقُولُ؟ قَالَ: مَا قُلْتُ إِلَّا وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ تُبَلِّغَهُ، فَتَشَجَّعْتُ فَقُمْتُ، فَتَخَطَّيْتُ رِقَابَهُمْ حَتَّى جَلَسْتُ عِنْدَ رَأْسِهِ، قُلْتُ: إِنَّكَ أَرْسَلَتْنِي بِكَذَا، وَأَصَابَ مَعَكَ كَذَا - ثَلَاثَةَ عَشَرَ - وَأَصَابَ كُلَيْبًا الْجَزَّارَ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ عِنْدَ الْمِهْرَاسِ، وَإنّ َ كَعْبًا يَحْلِفُ بِاللَّهِ بِكَذَا، فَقَالَ: ادْعُوا كَعْبًا، فَدُعِيَ، فَقَالَ: مَا تَقُولُ؟ قَالَ: أَقُولُ كَذَا وَكَذَا، قَالَ: لَا وَاللَّهِ لَا أَدْعُو، وَلَكِنْ شَقِيٌّ عُمَرُ إِنْ لَمْ يَغْفِرِ اللَّهُ لَهُ
---
[قال الشيخ الألباني] :
ضعيف الإسناد موقوفا

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উমার (রাঃ) সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত হলে যারা তাকে ধরে তার ঘরে নিয়ে আসেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! বাইরে গিয়ে দেখো, কে আমাকে হামলা করেছে এবং আমার সাথে আর কে আহত হয়েছে? আমি বাইরে গিয়ে তাকে খবর দেয়ার জন্য ফিরে এলাম। দেখি যে, ঘর লোকে লোকারণ্য। তাই আমি তাদের ঘার ডিঙ্গিয়ে সামনে যেতে পছন্দ করলাম না। আমি ছিলাম উঠতি বয়সের যুবক। অতএব আমি বসে পড়লাম। আর তিনি কাউকে কোন কাজে পাঠালে নির্দেশ দিতেন, সে যেন ফিরে এসে তাকে তা অবহিত করে। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ইত্যবসরে কাব (রাঃ) এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমীরুল মুমিনীনের দোয়া করা উচিৎ যাতে আল্লাহ তাকে এই উম্মাতের জন্য জীবিত রাখেন। অন্যথায় তিনি তাকে তুলে নিলে এই এই (অনিষ্ট) ঘটতে পারে। এমনকি কাব (রাঃ) মোনাফিকদের নাম-উপনাম ও তাদের সংখ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করেন। আমি বললাম, আপনি যা বললেন তা আমি তার নিকট পৌছাবো। কাব (রাঃ) বলেন, তুমি তার কাছে পৌছাবে এই উদ্দেশেই তো আমি বলেছি। এবার আমি (ইবনে আব্বাস) সাহস সঞ্চার করে উঠে দাঁড়ালাম এবং লোকজনের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তার শিয়রে গিয়ে বসলাম। আমি বললাম, আপনি আমাকে এজন্য পাঠিয়েছিলেন। আপনার সাথে আরো তেরোজন আহত হয়েছেন। কুলাইব আল-জাযযারও আহত হয়েছেন, তখন তিনি উখলির (পানির চৌবাচ্চা) নিকট উযু করছিলেন। আর কাব (রাঃ) আল্লাহর শপথ করে এই এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাবকে ডাকো। তিনি কাব (রাঃ)-কে ডাকলেন। উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, আমি এই এই কথা বলেছি। উমার (রাঃ) বলেন, নাসাঈ, আল্লাহর শপথ আমি দোয়া করবো না। আল্লাহ যদি উমারকে ক্ষমা না করেন তবে সে তো হতভাগ্য।

১১৫৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، وَعِنْدَهُ الْقَوْمُ جُلُوسٌ، يَتَخَطَّى إِلَيْهِ، فَمَنَعُوهُ، فَقَالَ: اتْرُكُوا الرَّجُلَ، فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْمُسْلِمُ مِنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ»

শাবী (র) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)-র নিকট এলো। তার নিকট একদল লোক বসা ছিল। সে তাদের ডিঙ্গিয়ে তার নিকট যেতে থাকলে তারা তাকে বাধা দেয়। তিনি বলেন, তোমরা তাকে বাধা দিও না। সে এসে তার নিকট বসার পর বলে, আপনি আমাকে এমন কিছু অবহিত করুন যা আপনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট শুনেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ “যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে সে-ই হলো প্রকৃত মুসলমান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিহার করে সে-ই হলো প্রকৃত মুহাজির”। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, দারিমী, ইবনে হিব্বান, আহমাদ)

৫৪২.

অনুচ্ছেদঃ সহযোগী অধিক সম্মানের পাত্র।

১১৫৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫৫


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا السَّائِبُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: أَكْرَمُ النَّاسِ عَلَيَّ جَلِيسِي

মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ লোকজনের মধ্যে আমার সহযোগীরাই আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র। (নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

১১৫৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫৬


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُؤَمَّلٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَكْرَمُ النَّاسِ عَلَيَّ جَلِيسِي، أَنْ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ حَتَّى يَجْلِسَ إِلَيَّ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমার সঙ্গীরাই অন্যদের চেয়ে আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র, যদিও তারা লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে এসে আমার নিকট বসে। (পূর্বোক্ত বরাত)

৫৪৩.

অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি কি বৈঠকে উপস্থিত লোকদের দিকে তার পা ছড়িয়ে দিয়ে বসতে পারে?

১১৫৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ قَالَ: حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ مُرَّةَ قَالَ: دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَوَجَدْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيَّ جَالِسًا فِي حَلْقَةٍ مَادًّا رِجْلَيْهِ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَلَمَّا رَآنِي قَبَضَ رِجْلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ لِي: تَدْرِي لِأَيِّ شَيْءٍ مَدَدْتُ رِجْلَيَّ؟ لَيَجِيءَ رَجُلٌ صَالِحٌ فَيَجْلِسَ

কাছীর ইবনে মুররা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি জুমুআর দিন মসজিদে প্রবেশ করে আওফ ইবনে মালেক আল-আশজাঈ (রাঃ)-কে একটি সভায় জনগণের দিকে তার দুই পা প্রসারিত করে দিয়ে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি আমাকে দেখামাত্র তার পদদ্বয় গুটিয়ে নিয়ে আমাকে বলেন, তুমি কি জানো, কি কারণে আমি আমার পদদ্বয় প্রসারিত করে রেখেছিলাম? যাতে কোন সৎকর্মশীল লোক এসে (আমার নিকটে) বসতে পারে।

৫৪৪.

অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি জনসমাবেসের মধ্যে কিভাবে থুথু ফেলবে?

১১৫৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫৮


حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ: حَدَّثَنِي زُرَارَةُ بْنُ كَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو السَّهْمِيُّ، أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ عَمْرٍو السَّهْمِيَّ حَدَّثَهُ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِمِنًى - أَوْ بِعَرَفَاتٍ - وَقَدْ أَطَافَ بِهِ النَّاسُ، وَيَجِيءُ الْأَعْرَابُ، فَإِذَا رَأَوْا وَجْهَهُ قَالُوا: هَذَا وَجْهٌ مُبَارَكٌ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اسْتَغْفِرْ لِي، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا» ، فَدُرْتُ فَقُلْتُ: اسْتَغْفِرْ لِي، قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا» ، فَدُرْتُ فَقُلْتُ: اسْتَغْفِرْ لِي، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا» ، فَذَهَبَ يَبْزُقُ، فَقَالَ بِيَدِهِ فَأَخَذَ بِهَا بُزَاقَهُ، وَمَسَحَ بِهِ نَعْلَهُ، كَرِهَ أَنْ يُصِيبَ أَحَدًا مِنْ حَوْلِهِ

হারিস ইবনে আমর আস-সাহ্মী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি মিনা অথবা আরাফাতে ছিলেন। লোকজন তার চারপাশে ঘোরাফেরা করছিল। বেদুইনরা এসে যখন তাঁর চেহারা দেখতো তখন বলতো, এতো বরকতময় চেহারা। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আমি পুনরায় ঘুরে এসে বললাম, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তার মুখে থুথু এলে তিনি তা নিজ হাতে নিয়ে তার জুতায় মুছে ফেলেন এই আশংকায় যে, তা লোকজনের গায়ে না পড়ে। -(আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকিম)

৫৪৫.

অনুচ্ছেদঃ বহিরাঙ্গিনার বৈঠক।

১১৫৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৫৯


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْمَجَالِسِ بِالصُّعُدَاتِ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَيَشُقُّ عَلَيْنَا الْجُلُوسُ فِي بُيُوتِنَا؟ قَالَ: «فَإِنْ جَلَسْتُمْ فَأَعْطُوا الْمَجَالِسَ حَقَّهَا» ، قَالُوا: وَمَا حَقُّهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِدْلَالُ السَّائِلِ، وَرَدُّ السَّلَامِ، وَغَضُّ الْأَبْصَارِ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বহিরাঙ্গিনায় (বা রাস্তায়) সভা অনুষ্ঠান বা বৈঠকাদি করতে নিষেধ করেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরে বসে থাকা তো আমাদের জন্য কষ্টকর। তিনি বলেনঃ যদি তোমরা বহিরাঙ্গনে (বা রাস্তায়) বসো তবে বৈঠকের দাবি পূরণ করো (বা কর্তব্য পালন করো)। তারা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! বৈঠকের দাবি কি? তিনি বলেনঃ পথভোলা লোককে তার গন্তব্য পথ বলে দেয়া, (পথচারীদের) সালামের জবাব দেয়া, চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়া। (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)

১১৬০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا لَنَا بُدٌّ مِنْ مَجَالِسِنَا نَتَحَدَّثُ فِيهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَّا إِذْ أَبَيْتُمْ، فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ» ، قَالُوا: وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «غَضُّ الْبَصَرِ، وَكَفُّ الْأَذَى، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ»

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ রাস্তায় বসার ব্যাপারে তোমরা সাবধান হও। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তায় না বসে তো আমাদের উপায় নাইবনে মাজাহ, তথায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমরা যখন অসম্মত হচ্ছে, তাহলে রাস্তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেনঃ চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)

৫৪৬.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নিজের পায়ের নলা উদলা করে কূপের পাশে বসে পদদ্বয় কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দেয়।

১১৬১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬১


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا إِلَى حَائِطٍ مِنْ حَوَائِطِ الْمَدِينَةِ لِحَاجَتِهِ، وَخَرَجْتُ فِي أَثَرِهِ، فَلَمَّا دَخَلَ الْحَائِطَ جَلَسْتُ عَلَى بَابِهِ، وَقُلْتُ: لَأَكُونَنَّ الْيَوْمَ بَوَّابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يَأْمُرْنِي، فَذَهَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَضَى حَاجَتَهُ وَجَلَسَ عَلَى قُفِّ الْبِئْرِ، وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ، وَدَلَّاهُمَا فِي الْبِئْرِ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِيَسْتَأْذِنَ عَلَيْهِ لِيَدْخُلَ، فَقُلْتُ: كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ لَكَ، فَوَقَفَ، وَجِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَيْكَ؟ فَقَالَ: «ائْذَنْ لَهُ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» ، فَدَخَلَ فَجَاءَ عَنْ يَمِينِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلَّاهُمَا فِي الْبِئْرِ. فَجَاءَ عُمَرُ، فَقُلْتُ: كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ لَكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ائْذَنْ لَهُ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» ، فَجَاءَ عُمَرُ عَنْ يَسَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلَّاهُمَا فِي الْبِئْرِ فَامْتَلَأَ الْقُفُّ، فَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مَجْلِسٌ. ثُمَّ جَاءَ عُثْمَانُ، فَقُلْتُ: كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ لَكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ائْذَنْ لَهُ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ مَعَهَا بَلَاءٌ يُصِيبُهُ» ، فَدَخَلَ فَلَمْ يَجِدْ مَعَهُمْ مَجْلِسًا، فَتَحَوَّلَ حَتَّى جَاءَ مُقَابِلَهُمْ عَلَى شَفَةِ الْبِئْرِ، فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ثُمَّ دَلَّاهُمَا فِي الْبِئْرِ، فَجَعَلْتُ أَتَمَنَّى أَنْ يَأْتِيَ أَخٌ لِي، وَأَدْعُو اللَّهَ أَنْ يَأْتِيَ بِهِ، فَلَمْ يَأْتِ حَتَّى قَامُوا. قَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ: فَأَوَّلْتُ ذَلِكَ قُبُورَهُمْ، اجْتَمَعَتْ هَا هُنَا، وَانْفَرَدَ عُثْمَانُ

আবু মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদিন নবী (সাঃ) তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার জন্য মদীনার এক বাগানে প্রবেশ করেন। আমিও তার পিছে পিছে গেলাম। তিনি বাগানের ভেতর প্রবেশ করলে আমি এর ফটকে বসে থাকলাম এবং মনে মনে বললাম, আমি আজ অবশ্যই নবী (সাঃ)-এর দ্বাররক্ষী হবো, যদিও তিনি আমাকে আদেশ করেননি। নবী (সাঃ) গিয়ে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার পর একটি কূপের কিনারায় বসেন এবং তার পায়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আবু বাকর (রাঃ) এসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করেন। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনার জন্য অনুমতি চাই। তিনি অপেক্ষা করলেন। আমি গিয়ে নবী (সাঃ)-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু বকর (রাঃ) আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী। তিনি বলেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দাও। তিনি প্রবেশ করে নবী (সাঃ)-এর ডান দিক দিয়ে এসে নিজ পায়ের নলা উদলা করে কূপের মধ্যে তা ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। অতঃপর উমার (রাঃ) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমার (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর বাম পাশ দিয়ে এসে নিজ পদদ্বয়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। ফলে কূপের বেষ্টনী দেয়াল ভরে গেলো এবং তাতে আর বসার জায়গা থাকলো না। অতঃপর উসমান (রাঃ) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ তাকেও আসার অনুমতি দাও এবং তার উপর বিপদ আপতিত হওয়াসহ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করে তথায় তাদের সাথে বসার খালি জায়গা পেলেন না। তাই তিনি ঘুরে গিয়ে তাদের সম্মুখভাগে কূপের কিনারে এলেন। তিনিও নিজ পদদ্বয়ের নলা উন্মুক্ত করে দিয়ে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আকাঙ্ক্ষা করতে থাকলাম, আমার ভাইটি যদি এসে পৌছতো এবং আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকলাম যে, তিনি যেন তাকে নিয়ে আসেন। তাঁরা উঠে যাওয়া পর্যন্ত সে এসে পৌঁছেনি। ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) বলেন, আমি উক্ত হাদীসের এই ব্যাখ্যা করেছি যে, সেটা তাদের তিনজনের কবর যা এখানে এক স্থানে অবস্থিত, আর উসমান (রাঃ)-র কবর পৃথক স্থানে অবস্থিত। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)

১১৬২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَائِفَةِ النَّهَارِ لَا يُكَلِّمُنِي وَلَا أُكَلِّمُهُ، حَتَّى أَتَى سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعٍ، فَجَلَسَ بِفِنَاءِ بَيْتِ فَاطِمَةَ، فَقَالَ: «أَثَمَّ لُكَعٌ؟ أَثَمَّ لُكَعٌ؟» فَحَبَستْهُ شَيْئًا، فَظَنَنْتُ أَنَّهَا تُلْبِسُهُ سِخَابًا أَوْ تُغَسِّلُهُ، فَجَاءَ يَشْتَدُّ حَتَّى عَانَقَهُ وَقَبَّلَهُ، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ أَحْبِبْهُ، وَأَحْبِبْ مَنْ يُحِبُّهُ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) দিনের কোন এক অংশে বের হলেন। (পথিমধ্যে) তিনিও আমার সাথে কোন কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সাথে কোন কথা বলিনি। এমতাবস্থায় তিনি কায়নুকা গোত্রের বাজারে এলেন। (ফেরার পথে) তিনি ফাতেমা (রাঃ)-র বাড়ির আঙ্গিনায় বসে ডেকে বলেনঃ খোকা (হাসান) কি এখানে আছে, খোকা কি এখানে আছে? ফাতেমা (রাঃ) শিশুকে আসতে দিতে খানিক বিলম্ব করলেন। আমি ভাবলাম, হয়তো তিনি তাকে পোশাক পরাচ্ছেন অথবা গোসল করাচ্ছেন। সে দ্রুতবেগে বের হয়ে আসলে নবী (সাঃ) তাকে বুকে চেপে ধরে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তাকে মহব্বত করো এবং যারা তাকে ভালোবাসে তাদেরকেও মহব্বত করো”। -(বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

৫৪৭.

অনুচ্ছেদঃ কেউ কারো সম্মানে স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ালে সে যেন সেখানে না বসে।

১১৬৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬৩


حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلَ مِنَ الْمَجْلِسِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কোন ব্যক্তিকে স্বস্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে অপর ব্যক্তিকে সেখানে বসতে নবী (সাঃ) নিষেধ করেছেন। (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,তিরমিযী,আহমাদ) ইবনে উমার (রাঃ)-র সম্মানে কেউ স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ালে তিনি তার সেই জায়গায় বসতেন না। (মুসলিম)

৫৪৮.

অনুচ্ছেদঃ আমানত (বিশ্বস্ততাবারানী)।

১১৬৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬৪


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ: خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، حَتَّى إِذَا رَأَيْتُ أَنِّي قَدْ فَرَغْتُ مِنْ خِدْمَتِهِ قُلْتُ: يَقِيلُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهِ، فَإِذَا غِلْمَةٌ يَلْعَبُونَ، فَقُمْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ إِلَى لَعِبِهِمْ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَانْتَهَى إِلَيْهِمْ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، ثُمَّ دَعَانِي فَبَعَثَنِي إِلَى حَاجَةٍ، فَكَانَ فِي فَيْءٍ حَتَّى أَتَيْتُهُ. وَأَبْطَأْتُ عَلَى أُمِّي، فَقَالَتْ: مَا حَبَسَكَ؟ قُلْتُ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى حَاجَةٍ، قَالَتْ: مَا هِيَ؟ قُلْتُ: إِنَّهُ سِرٌّ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتِ: احْفَظْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِرَّهُ، فَمَا حَدَّثْتُ بِتِلْكَ الْحَاجَةِ أَحَدًا مِنَ الْخَلْقِ، فَلَوْ كُنْتُ مُحَدِّثًا حَدَّثْتُكَ بِهَا

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক দিন আমি নবী (সাঃ)-এর খেদমত করলাম। শেষে আমি যখন দেখলাম যে, আমি তাঁর খেদমত থেকে অবসর হয়েছি, আমি ভাবলাম, নবী (সাঃ) হয়তো দুপুরের বিশ্রাম নিবেন। তাই আমি তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে চলে গেলাম। পথিমধ্যে শিশুরা খেলছিল। আমি তাদের খেলা দেখার জন্য দাড়িয়ে গেলাম। নবী (সাঃ) এসে তাদের নিকট পৌঁছে তাদের সালাম দিলেন। অতঃপর আমাকে ডেকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন। আমি তার প্রয়োজন সেড়ে তার নিকট ফিরে এলাম এবং মায়ের নিকট ফিরে যেতে আমার বিলম্ব হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বিলম্বের কারণ কি? আমি বললাম, নবী (সাঃ) একটি প্রয়োজনে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, তা নবী (সাঃ)-এর গোপনীয় বিষয়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর গোপনীয় বিষয়ের হেফাজত করো। সৃষ্টিকুলের কারো সাথে আমি সে বিষয়ে আলোচনা করিনি। আমি যদি তা কারো কাছে বলতাম, তবে তা আপনার কাছে বলতাম। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, মুসনাদ আবু আওয়ানা, নাসাঈ)

৫৪৯.

অনুচ্ছেদঃ নবী (সাঃ) কারো দিকে ফিরলে পূর্ণদেহে ফিরতেন।

১১৬৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬৫


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَصِفُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ رَبْعَةً، وَهُوَ إِلَى الطُّوَلِ أَقْرَبُ، شَدِيدُ الْبَيَاضِ، أَسْوَدُ شَعْرِ اللِّحْيَةِ، حَسَنُ الثَّغْرِ، أَهْدَبُ أَشْفَارِ الْعَيْنَيْنِ، بَعِيدُ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ، مُفَاضُ الْجَبِينِ، يَطَأُ بِقَدَمِهِ جَمِيعًا، لَيْسَ لَهَا أَخْمُصُ، يُقْبِلُ جَمِيعًا، وَيُدْبِرُ جَمِيعًا، لَمْ أَرَ مِثْلَهُ قَبْلُ وَلَا بَعْدُ

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দৈহিক গঠন বর্ণনা করতে শুনেছেন। তাঁর দেহের গড়ন ছিল মধ্যম আকৃতির, প্রায় দীর্ঘকায়, অত্যন্ত গৌরবর্ণের, দাড়ির চুল কালো, সুন্দর মুখাবয়ব, লম্বা ভ্রুযুগল, বাহুদ্বয় চওড়া, প্রশস্ত গণ্ডদেশ, পদদ্বয় সম্পূর্ণ সমতল, তার তালুতে গর্ত ছিলো না। কারো প্রতি তাকালে সমস্ত শরীর ঘুরিয়ে তাকাতেন এবং সমস্ত শরীরে পশ্চাদমুখী হতেন। আমি তাঁর আগে কিংবা পরে আর কাউকে তার অনুরূপ দেখিনি।

৫৫০.

অনুচ্ছেদঃ কেউ কোন প্রয়োজনে একজনকে অপরজনের নিকট পাঠালে সে যেন (কাউকে) তা অবহিত না করে।

১১৬৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬৬


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ: إِذَا أَرْسَلْتُكَ إِلَى رَجُلٍ، فَلَا تُخْبِرْهُ بِمَا أَرْسَلْتُكَ إِلَيْهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يُعِدُّ لَهُ كِذْبَةً عِنْدَ ذَلِكَ

আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে কারো নিকট পাঠালে তুমি (অপরকে) অবহিত করো না যে, কেন আমি তোমাকে তার নিকট পাঠিয়েছি। অন্যথায় শয়তান ঐ সময় তার জন্য মিথ্যা রচনা করবে।

৫৫১.

অনুচ্ছেদঃ কেউ কি জিজ্ঞেস করতে পারে, তুমি কোথা থেকে এসেছো?

১১৬৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬৭


حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يُحِدَّ الرَّجُلُ النَّظَرَ إِلَى أَخِيهِ، أَوْ يُتْبِعَهُ بَصَرَهُ إِذَا قَامَ مِنْ عِنْدِهِ، أَوْ يَسْأَلَهُ: مِنْ أَيْنَ جِئْتَ، وَأَيْنَ تَذْهَبُ؟

মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

কোন ব্যক্তির দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকানো অথবা সে উঠে চলে গেলে তার দিকে নজরদারি করা অথবা তাকে জিজ্ঞেস করা, তুমি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে ইত্যাকার আচরণ দূষণীয়।

১১৬৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬৮


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ زُبَيْدٍ قَالَ: مَرَرْنَا عَلَى أَبِي ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ أَقْبَلْتُمْ؟ قُلْنَا: مِنْ مَكَّةَ، أَوْ مِنَ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ، قَالَ: هَذَا عَمَلُكُمْ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: أَمَا مَعَهُ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: اسْتَأْنِفُوا الْعَمَلَ

মালেক ইবনে যুবাইদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রাবাযা নামক স্থানে আবু যার (রাঃ)-র নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোথা থেকে আগমন করেছো? আমরা বললাম, মক্কা থেকে অথবা বাইতুল আতীক (কা বাযযার) থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এটাই কি তোমাদের কাজ ছিল? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, এর সাথে কি ব্যবসা-বাণিজ্য ছিলো না? আমরা বললাম, না। তিনি বলেন, তোমাদের কাজ অব্যাহত রাখো।

৫৫২.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে।

১১৬৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৬৯


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ صَوَّرَ صُورَةً كُلِّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهِ وَعُذِّبَ، وَلَنْ يَنْفُخَ فِيهِ. وَمَنْ تَحَلَّمَ كُلِّفَ أَنْ يَعْقِدَ بَيْنَ شَعِيرَتَيْنِ وَعُذِّبَ، وَلَنْ يَعْقِدَ بَيْنَهُمَا، وَمَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ يَفِرُّونَ مِنْهُ، صُبَّ فِي أُذُنَيْهِ الْآنُكُ»

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (বিচরণশীল প্রাণীর) প্রতিকৃতি নির্মাণ করে তাকে তাতে প্রাণ সঞ্চার করার জন্য বাধ্য করা হবে এবং শাস্তি দেয়া হবে, যদিও সে কখনো তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না। যে ব্যক্তি মনগড়া স্বপ্ন বলবে তাকে দুটি গমের দানার মধ্যে গিঠ দিতে বাধ্য করা হবে এবং শাস্তি দেয়া হবে, যদিও সে কখনো তাতে গিঠ দিতে পারবে না। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা তার শ্রবণ অপছন্দ করে, তার দুই কানের মধ্যে উত্তপ্ত তরল সীসা ঢেলে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

৫৫৩.

অনুচ্ছেদঃ সোফা জাতীয় গদিতে বসা।

১১৭০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭০


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُضَارِبٍ، عَنِ الْعُرْيَانِ بْنِ الْهَيْثَمِ قَالَ: وَفَدَ أَبِي إِلَى مُعَاوِيَةَ، وَأَنَا غُلَامٌ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ: مَرْحَبًا مَرْحَبًا، وَرَجُلٌ قَاعِدٌ مَعَهُ عَلَى السَّرِيرِ، قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَنْ هَذَا الَّذِي تُرَحِّبُ بِهِ؟ قَالَ: هَذَا سَيِّدُ أَهْلِ الْمَشْرِقِ، وَهَذَا الْهَيْثَمُ بْنُ الْأَسْوَدِ، قُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: هَذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قُلْتُ لَهُ: يَا أَبَا فُلَانٍ، مِنْ أَيْنَ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ؟ قَالَ: مَا رَأَيْتُ أَهْلَ بَلَدٍ أَسْأَلَ عَنْ بَعِيدٍ، وَلَا أَتْرَكَ لِلْقَرِيبِ مِنْ أَهْلِ بَلَدٍ أَنْتَ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: يَخْرُجُ مِنْ أَرْضِ الْعِرَاقِ، ذَاتِ شَجَرٍ وَنَخْلٍ
---
[قال الشيخ الألباني] :
ضعيف الإسناد موقوفا

উরয়ান ইবনুল হায়ছাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমার পিতা প্রতিনিধি হিসাবে মুআবিয়া (রাঃ)-র নিকট গেলেন। আমি তখন তরুণ। তিনি তার নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, মারহাবা মারহাবা। তার নিকটেই এক ব্যক্তি সোফায় বসা ছিল। তিনি বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এই ব্যক্তি কে যাকে আপনি মারহাবা বলে স্বাগত জানালেন? তিনি বলেন, ইনি প্রাচ্যবাসীর নেতা। ইনি হায়ছাম ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ)। আমি বললাম, ইনি কে? লোকজন বললো, ইনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ)। আমি তাকে বললাম, হে অমুকের পিতা! দাজ্জাল কোথা থেকে আত্মপ্রকাশ করবে? তিনি বলেন, তুমি যে এলাকার বাসিন্দা সেই এলাকার লোকদের চেয়ে দূরবর্তী বিষয় সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞাসাকারী এবং নিকটবর্তী বিষয় অধিক ত্যাগকারী আমি আর কোন এলাকার লোককে পাইনি। অতঃপর তিনি বলেন, গাছপালা ও খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ ইরাক থেকে সে আত্মপ্রকাশ করবে। (তাবারানী)

১১৭১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭১


حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ: جَلَسْتُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى سَرِيرٍ

আবুল আলিয়া (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-র সাথে গদিতে বসেছি।

১১৭২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭২


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ: كُنْتُ أَقْعُدُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَكَانَ يُقْعِدُنِي عَلَى سَرِيرِهِ، فَقَالَ لِي: أَقِمْ عِنْدِي حَتَّى أَجْعَلَ لَكَ سَهْمًا مِنْ مَالِي، فَأَقَمْتُ عِنْدَهُ شَهْرَيْنِ

আবু জামরা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-র সাথে উঠা-বসা করতাম। তিনি আমাকে তার গদিতে বসাতেন। তিনি আমাকে বলেন, তুমি আমার নিকট অবস্থান করে যাবত না আমি তোমাকে আমার মালের একটি অংশ দান করি। অতএব আমি তার নিকট দুই মাস অবস্থান করলাম। (বুখারী, মুসলিম)

১১৭৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭৩


حَدَّثَنَا عُبَيْدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو خَلْدَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، وَهُوَ مَعَ الْحَكَمِ أَمِيرٌ بِالْبَصْرَةِ عَلَى السَّرِيرِ، يَقُولُ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ، وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ بَكَّرَ بِالصَّلَاةِ
---
[قال الشيخ الألباني] :
حسن الإسناد والمرفوع منه صحيح

খালিদ ইবনে দীনার আবু খালদা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-কে বসরার শাসক আল-হাকামের সাথে গদিতে বসা অবস্থায় বলতে শুনেছি, নবী (সাঃ) গরমের মৌসুমে বিলম্বে এবং শীতের মৌসুমে ত্বরায় (ওয়াক্তের প্রারম্ভে) নামায পড়তেন। (বুখারী, নাসাঈ)

১১৭৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭৪


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى سَرِيرٍ مَرْمُولٍ بِشَرِيطٍ، تَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، مَا بَيْنَ جِلْدِهِ وَبَيْنَ السَّرِيرِ ثَوْبٌ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُمَرُ فَبَكَى، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يُبْكِيكَ يَا عُمَرُ؟» قَالَ: أَمَا وَاللَّهِ مَا أَبْكِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَّا أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّكَ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْ كِسْرَى وَقَيْصَرَ، فَهُمَا يَعِيثَانِ فِيمَا يَعِيثَانِ فِيهِ مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِالْمَكَانِ الَّذِي أَرَى، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا تَرْضَى يَا عُمَرُ أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الْآخِرَةُ؟» قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَإِنَّهُ كَذَلِكَ»

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি খেজুর পাতার দড়ির তৈরী একটি চারপায়ার উপর শায়িত ছিলেন। তার মাথার নিচে ছিল খেজুর গাছের বাকল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ। চারপায়া ও তার দেহের মাঝখানে কোন কাপড় বিছানো ছিলো না। উমার (রাঃ) তার নিকট প্রবেশ করে কেঁদে দিলেন। নবী (সাঃ) তাকে বলেনঃ হে উমার! তোমাকে কিসে কাঁদালো? তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এজন্যই কাদছি যে, আমি জানি আল্লাহর কাছে আপনার মর্যাদা (পারস্য রাজ) কিসরা ও (রোমসম্রাট) কাইজারের চেয়ে অনেক উর্দ্ধে। তারা এই পার্থিব জগতের কতো অফুরন্ত ভোগবিলাসের মধ্যে ডুবে আছে। আর হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অবস্থা তো আমি স্বচক্ষে দেখছি! নবী (সাঃ) বলেনঃ হে উমার! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে না যে, তাদের জন্য দুনিয়ার ভোগসামগ্ৰী আর আমাদের জন্য আখেরাতের ভোগসামগ্ৰী? আমি বললাম, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ বিষয়টি এরূপই। (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

১১৭৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭৫


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ أَبِي رِفَاعَةَ الْعَدَوِيِّ قَالَ: انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَخْطُبُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَجُلٌ غَرِيبٌ جَاءَ يَسْأَلُ عَنْ دِينِهِ، لَا يَدْرِي مَا دِينُهُ، فَأَقْبَلَ إِلَيَّ وَتَرَكَ خُطْبَتَهُ، فَأَتَى بِكُرْسِيٍّ خِلْتُ قَوَائِمَهُ حَدِيدًا - قَالَ حُمَيْدٌ: أُرَاهُ خَشَبًا أَسْوَدَ حَسَبُهُ حَدِيدًا - فَقَعَدَ عَلَيْهِ، فَجَعَلَ يُعَلِّمُنِي مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ، ثُمَّ أَتَمَّ خُطْبَتَهُ، آخِرَهَا

আবু রিফাআ আল-আদাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট গিয়ে পৌঁছলাম। তিনি তখন ভাষণ দিচ্ছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন মুসাফির এসেছে, সে তার দ্বীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চায়। সে জানে না তার দ্বীন কি? তিনি তৎক্ষণাৎ তার ভাষণ স্থগিত রেখে আমার সামনে এলেন। একটি কুরছি (চেয়ার) আনা হলো, আমার ধারণামতে এর পায়াগুলো ছিল লোহার। অধস্তন রাবী হুমাইদ (র) বলেন, মনে হয় পায়াগুলো ছিল কালো কাঠের এবং তিনি তাকে লোহা ধারণা করেছেন। নবী (সাঃ) তাতে বসলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যা শিখিয়েছেন তা তাকে শিখালেন। অতঃপর তিনি তার অসমাপ্ত ভাষণ সমাপ্ত করলেন। (মুসলিম, নাসাঈ, দূলাবী)

১১৭৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭৬


حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ دِهْقَانَ قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ جَالِسًا عَلَى سَرِيرِ عَرُوسٍ، عَلَيْهِ ثِيَابٌ حُمْرُ
---
[قال الشيخ الألباني] :
ضعيف الإسناد موقوفا

মূসা ইবনে দিহকান (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনে উমার (রাঃ)-কে লাল রং-এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় বাসর রাতের খাটের উপর বসা দেখেছি। -(তাহাবী)

১১৭৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭৭


وَعَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَنَسًا جَالِسًا عَلَى سَرِيرٍ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى

ইমরান ইবনে মুসলিম (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আনাস (রাঃ)-কে তার এক পা অপর পায়ের উপর রেখে গদিতে বসা অবস্থায় দেখেছি। -(তাহাবী)

৫৫৪.

অনুচ্ছেদঃ কতক লোককে গোপনে আলাপরত দেখলে সেখানে তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করবে না।

১১৭৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭৮


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدًا الْمَقْبُرِيَّ يَقُولُ: مَرَرْتُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ، وَمَعَهُ رَجُلٌ يَتَحَدَّثُ، فَقُمْتُ إِلَيْهِمَا، فَلَطَمَ فِي صَدْرِي فَقَالَ: إِذَا وَجَدْتَ اثْنَيْنِ يَتَحَدَّثَانِ فَلَا تَقُمُّ مَعَهُمَا، وَلَا تَجْلِسْ مَعَهُمَا، حَتَّى تَسْتَأْذِنَهُمَا، فَقُلْتُ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّمَا رَجَوْتُ أَنْ أَسْمَعَ مِنْكُمَا خَيْرًا

সাঈদ আল-মাকবুরী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনে উমার (রাঃ)-র নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তার সাথে এক ব্যক্তি কথা বলছিল। আমি তাদের পাশে দাড়ালে ইবনে উমার (রাঃ) আমার বুকে চপেটাঘাত করে বলেন, তুমি দুই ব্যক্তিকে একত্রে কথাবার্তা বলতে দেখলে তাদের অনুমতি না নিয়ে তাদের সাথে দাঁড়াবেও না এবং বসবেও না। আমি বললাম, হে আবদুর রহমানের পিতা আল্লাহ আপনার সংশোধন করুন, আমি আপনাদের দুইজনের নিকট কল্যাণকর কিছু শোনার আশাই করেছিলাম। (আবু দাউদ)

১১৭৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৭৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَنْ تَسَمَّعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ. وَمَنْ تَحَلَّمَ بِحُلْمٍ كُلِّفَ أَنْ يَعْقِدَ شَعِيرَةً
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح الإسناد موقوفا وقد صح مرفوعا

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা এটা পছন্দ করে নাসাঈ, তার কানের মধ্যে গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি মনগড়া স্বপ্ন বলবে তাকে গমের দানায় গিঠ দিতে বাধ্য করা হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

৫৫৫.

অনুচ্ছেদঃ তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে দুইজনে যেন গোপন পরামর্শ না করে।

১১৮০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮০


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانُوا ثَلَاثَةً، فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ»

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু (সাঃ) বলেনঃ তিনজন একসাথে থাকলে তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে দুইজনে যেন গোপন পরামর্শ না করে। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আবু আওয়া নাসাঈ)

৫৫৬.

অনুচ্ছেদঃ চারজন একত্র হলে।

১১৮১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮১


حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ: حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ، فَإِنَّهُ يُحْزِنُهُ ذَلِكَ» .

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে আলাদা হয়ে গোপন আলাপ করো না। কারণ তা তাকে মনক্ষুণ্ন করবে। (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ)

১১৮২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮২


وَحَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ، قُلْنَا: فَإِنْ كَانُوا أَرْبَعَةً؟ قَالَ: «لَا يَضُرُّهُ»

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা বললাম, যদি তাদের সংখ্যা চার হয়। তিনি বলেনঃ তাহলে কোন ক্ষতি নাই। (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)

১১৮৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮৩


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الْآخَرِ حَتَّى يَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ، مِنْ أَجْلِ أَنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ» .
[ص: 401]

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ রেখে দু’জনে আলাদা হয়ে গোপন আলাপ করবে নাসাঈ, যাবত না তারা লোকদের সাথে মিলিত হয়। কারণ তা তাকে মনোক্ষুণ্ন করবে। (বুখারী, মুসলিম)

১১৮৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮৪


حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: إِذَا كَانُوا أَرْبَعَةً فَلَا بَأْسَ

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা চারজন একত্র হলে (দু’জনের স্বতন্ত্র গোপন আলাপে) কোন ক্ষতি নাই।

৫৫৭.

অনুচ্ছেদঃ কেউ কারো পাশে বসলে সে উঠে যেতে তার অনুমতি চাইবে।

১১৮৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮৫


حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى قَالَ: جَلَسْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَّامٍ، فَقَالَ: إِنَّكَ جَلَسْتَ إِلَيْنَا، وَقَدْ حَانَ مِنَّا قِيَامٌ، فَقُلْتُ: فَإِذَا شِئْتَ، فَقَامَ، فَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى بَلَغَ الْبَابَ

আবু বুরদা ইবনে আবু মূসা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)-র নিকট বসলাম। তিনি বলেন, তুমি আমার পাশে এসে বসেছে অথচ আমার উঠে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি বললাম, তা আপনার ইচ্ছা। অতএব তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তিনি দরজায় পৌছা পর্যন্ত তার সাথে সাথে গেলাম।

৫৫৮.

অনুচ্ছেদঃ রোদের দিকে মুখ করে বসবে না।

১১৮৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮৬


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي قَيْسٌ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ جَاءَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ، فَقَامَ فِي الشَّمْسِ، فَأَمَرَهُ فَتَحَوَّلَ إِلَى الظِّلِّ

কায়েস (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি যখন এসে উপস্থিত হন তখন রসূলুল্লাহ (সাঃ) ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেলেন। নবী (সাঃ) তাকে নির্দেশ দিলে তিনি ছায়ায় চলে আসেন। (আহমাদ, হাকিম, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান,তায়ালিসী)

৫৫৯.

অনুচ্ছেদঃ পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ নিয়ম (ইহতিবা)।

১১৮৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮৭


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لِبْسَتَيْنِ وَبَيْعَتَيْنِ: نَهَى عَنِ الْمُلَامَسَةِ، وَالْمُنَابَذَةِ فِي الْبَيْعِ - الْمُلَامَسَةُ: أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ ثَوْبَهُ، وَالْمُنَابَذَةُ: يَنْبُذُ الْآخَرُ إِلَيْهِ ثَوْبَهُ - وَيَكُونُ ذَلِكَ بَيْعَهُمْ عَنْ غَيْرِ نَظَرٍ. وَاللِّبْسَتَيْنِ اشْتِمَالُ الصَّمَّاءِ - وَالصَّمَّاءُ: أَنْ يَجْعَلَ طَرَفَ ثَوْبِهِ عَلَى إِحْدَى عَاتِقَيْهِ، فَيَبْدُو أَحَدُ شِقَّيْهِ لَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ - وَاللِّبْسَةُ الْأُخْرَى احْتِبَاؤُهُ بِثَوْبِهِ وَهُوَ جَالِسٌ، لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দুই ধরনের পোশাক পরিধানের নিয়ম এবং দুই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রয়-বিক্রয়ে মুলামাসা ও মুনাবাযা নিষিদ্ধ করেছেন। মুলামাসা হলো, কোন ব্যক্তির অপর ব্যক্তির কাপড় স্পর্শ করা। আর মুনাবাযা হলো, কোন ব্যক্তির কাপড় অপর ব্যক্তির দিকে ছুঁড়ে মারা। (পণ্য নিরীক্ষণ করে না দেখলেও) এতে উভয়ের জন্য ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যেতো। আর দুই ধরনের পোশাক পরার নিয়মের ক্ষেত্রে তিনি ইশতিমালুস সাম্মা নিষিদ্ধ করেছেন। সাম্মা এই যে, নিজের পরিধেয় বস্ত্র নিজের এক কাঁধে এমনভাবে তুলে দেয়া, যাতে অন্য কাঁধ অনাবৃত থেকে যায়। পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ অপর নিয়ম এই যে, এক পরত কাপড় নিজের গোটা দেহে পেঁচিয়ে কারো এমনভাবে বসা, যাতে তার লজ্জাস্থানে কোন কাপড়ই থাকে না। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)

৫৬০.

অনুচ্ছেদঃ কাউকে হেলান দেয়ার বালিশ পেশ করা।

১১৮৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮৮


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْفٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الْمَلِيحِ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ أَبِيكَ زَيْدٍ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، فَحَدَّثَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذُكِرَ لَهُ صَوْمِي، فَدَخَلَ عَلَيَّ، فَأَلْقَيْتُ لَهُ وِسَادَةً مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، فَجَلَسَ عَلَى الْأَرْضِ، وَصَارَتِ الْوِسَادَةُ بَيْنِي وَبَيْنَهُ، فَقَالَ لِي: «أَمَا يَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ؟» قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «خَمْسًا» ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «سَبْعًا» ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «تِسْعًا» ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِحْدَى عَشْرَةَ» ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «لَا صَوْمَ فَوْقَ صَوْمِ دَاوُدَ شَطْرَ الدَّهْرِ، صِيَامُ يَوْمٍ وَإِفْطَارُ يَوْمٍ»

আবু কিলাবা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবুল মালীহ (র) আমাকে অবহিত করে বলেন, আমি তোমার পিতা যায়েদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)-র নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ)-এর নিকট আমার রোযা সম্পর্কে আলোচনা হলো। তিনি আমার নিকট এলেন। আমি তাঁর জন্য খেজুর গাছের ছাল ভর্তি চামড়ার একটি বালিশ পেশ করলাম। কিন্তু তিনি মাটিতে বসে গেলেন এবং বালিশটি আমার ও তার মাঝখানে পড়ে থাকলো। তিনি আমাকে বলেনঃ প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখলে কি তোমার জন্য যথেষ্ট হয় না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো অধিক)। তিনি বলেনঃ পাঁচ দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আরো অধিক)। তিনি বলেনঃ সাত দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ নয় দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ এগারো দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ দাউদ (আবু দাউদ)-এর রোযার চেয়ে উত্তম রোযা হয় নাসাঈ, অর্ধবছর। একদিন রোযা এবং এক দিন বিরতি। -(বুখারী, মুসলিম)

১১৮৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৮৯


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى أَبِيهِ، فَأَلْقَى لَهُ قَطِيفَةً فَجَلَسَ عَلَيْهَا

আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) তার পিতার নিকট এলে তিনি তার জন্য নরম গদি পেতে দেন। তিনি তার উপর বসেন।

৫৬১.

অনুচ্ছেদঃ দুই হাঁটু খাড়া করে তা দুই হাতে বেড় দিয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসা।

১১৯০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৯০


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ: حَدَّثَتْنِي جَدَّتَايَ صَفِيَّةُ بِنْتُ عُلَيْبَةَ، وَدُحَيْبَةُ بِنْتُ عُلَيْبَةَ - وَكَانَتَا رَبِيبَتَيْ قَيْلَةَ - أَنَّهُمَا أَخْبَرَتْهُمَا قَيْلَةُ قَالَتْ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا الْقُرْفُصَاءَ، فَلَمَّا رَأَيْتُ النَّبِيَّ الْمُتَخَشِّعَ فِي الْجِلْسَةِ أُرْعِدْتُ مِنَ الْفَرَقِ

কাইলা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-কে তাঁর দুই হাঁটু খাড়া করে তা দুই হাতে বেড় দিয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসা অবস্থায় দেখেছি। নবী (সাঃ)-কে এরূপ বিনীতভাবে বসা অবস্থায় দেখে আমি ভীত-কম্পিত হলাম। (আবু দাউদ হা/৪৮৪৭)

৫৬২.

অনুচ্ছেদঃ চার জানু হয়ে বসা।

১১৯১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৯১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا ذَيَّالُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حَنْظَلَةَ، حَدَّثَنِي جَدِّي حَنْظَلَةُ بْنُ حِذْيَمٍ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَيْتُهُ جَالِسًا مُتَرَبِّعًا

হানযালা ইবনে হিযয়াম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে তাকে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখলাম। (তাহযীবুল কামাল, ইসতীআব)

১১৯২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৯২


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنِي مَعْنٌ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو رُزَيْقٍ، أَنَّهُ رَأَى عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، جَالِسًا مُتَرَبِّعًا، وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى، الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى
---
[قال الشيخ الألباني] :
ضعيف الإسناد مقطوع

আবু যুরাইক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-র পুত্র আলীকে তার এক পা অপর পায়ের উপর অর্থাৎ ডান পা বাম পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখেছেন।

১১৯৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৯৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَجْلِسُ هَكَذَا مُتَرَبِّعًا، وَيَضَعُ إِحْدَى قَدَمَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى

ইমরান ইবনে মুসলিম (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-কে তার এক পা
অপর পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসে থাকতে দেখেছি। (তাহাবী)

৫৬৩.

অনুচ্ছেদঃ পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ নিয়ম (ইহুতি বাযযার)।

১১৯৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৯৪


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي قُرَّةُ بْنُ مُوسَى الْهُجَيْمِيُّ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ جَابِرٍ الْهُجَيْمِيِّ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْتَبٍ فِي بُرْدَةٍ، وَإِنَّ هُدَّابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوْصِنِي، قَالَ: «عَلَيْكَ بِاتِّقَاءِ اللَّهِ، وَلَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا، وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ لِلْمُسْتَسْقِي مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَائِهِ، أَوْ تُكَلِّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ مُنْبَسِطٌ، وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الْإِزَارِ، فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ، وَلَا يُحِبُّهَا اللَّهُ، وَإِنِ امْرُؤٌ عَيَّرَكَ بِشَيْءٍ يَعْلَمُهُ مِنْكَ فَلَا تُعَيِّرْهُ بِشَيْءٍ تَعْلَمُهُ مِنْهُ، دَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ، وَأَجْرُهُ لَكَ، وَلَا تَسُبَّنَّ شَيْئًا» ، قَالَ: فَمَا سَبَبْتُ بَعْدُ دَابَّةً وَلَا إِنْسَانًا

সুলাইম ইবনে জাবের আল-হুজায়মী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি একটি চাদর মুড়ি দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। চাদরের ঝালর তাঁর পায়ের পাতার উপর ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ “তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৎকাজকেও তুচ্ছজান করো নাসাঈ, তা যদি তোমার বালতি থেকে পানি প্রার্থীর পাত্রে পানি ঢেলে দেয়ার মত নগণ্য কাজও হয় অথবা হাস্যোজ্জ্বল মুখে তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার আলাপ-আলোচনাও হয়। পায়ের গোছার নিচে পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে দেয়া থেকে সাবধান হও। কারণ তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। কোন ব্যক্তি যদি তার জ্ঞাত তোমার কোন ত্রুটির কারণে তোমাকে গালি দেয়, তবে তুমি তোমার জ্ঞাত তার কোন ত্রুটির কারণে তাকে গালি দিও না। তার কর্মের পরিণতি ভোগের জন্য তাকে ছেড়ে দাও এবং তার সওয়াব পাবে তুমি । তুমি কোন কিছুকে গালি দিও না”। রাবী বলেন, পরে আমি কখনো পশু বা মানুষ কাউকে গালি দেইনি। -(আবু দাউদ, আহমাদ, হাকিম)

১১৯৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৯৫


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: مَا رَأَيْتُ حَسَنًا قَطُّ إِلَّا فَاضَتْ عَيْنَايَ دُمُوعًا، وَذَلِكَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَوْمًا، فَوَجَدَنِي فِي الْمَسْجِدِ، فَأَخَذَ بِيَدِي، فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ، فَمَا كَلَّمَنِي حَتَّى جِئْنَا سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعٍ، فَطَافَ فِيهِ وَنَظَرَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَأَنَا مَعَهُ، حَتَّى جِئْنَا الْمَسْجِدَ، فَجَلَسَ فَاحْتَبَى ثُمَّ قَالَ: «أَيْنَ لَكَاعٌ؟ ادْعُ لِي لَكَاعًا» ، فَجَاءَ حَسَنٌ يَشْتَدُّ فَوَقَعَ فِي حِجْرِهِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي لِحْيَتِهِ، ثُمَّ جَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْتَحُ فَاهُ فَيُدْخِلُ فَاهُ فِي فِيهِ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ، فَأَحْبِبْهُ، وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি যখনই হাসানকে দেখেছি আমার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে গেছে। তা এজন্য যে, একদিন নবী (সাঃ) বের হয়ে এসে আমাকে মসজিদে পেলেন। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমি তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা কায়নুকা গোত্রের বাজারে না পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আমার সাথে কোন কথা বলেননি। তিনি বাজারে ঘুরলেন এবং দেখলেন, অতঃপর আমাকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। শেষে আমরা মসজিদে এসে পৌছলাম। তিনি চার জানু হয়ে বসলেন, অতঃপর বলেনঃ খোকা কোথায়? খোকাকে আমার নিকট ডেকে আনো। হাসান দ্রুতবেগে বের হয়ে এসে তার কোলে ঝাপিয়ে পড়লো, অতঃপর তার হাত তাঁর দাড়ির ভেতর ঢুকালো। অতঃপর নবী (সাঃ) নিজের মুখ ফাঁক করে তার মুখ নিজের মুখে প্রবেশ করান (মুখে চুমা দেন)। তারপর বলেনঃ “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তাকে ভালোবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসো এবং যারা তাকে মহব্বত করে, তুমি তাদেরকেও মহব্বত করো”। (বুখারী, মুসলিম, হাকিম)

৫৬৪.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি হাঁটু গেড়ে বসে।

১১৯৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : সভা-সমাবেশ ও তার রীতিনীতি

হাদীস নং : ১১৯৬


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى الْكَلْبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِهِمُ الظُّهْرَ، فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ السَّاعَةَ، وَذَكَرَ أَنَّ فِيهَا أُمُورًا عِظَامًا، ثُمَّ قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْأَلَ عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلْ عَنْهُ، فَوَاللَّهِ لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَخْبَرْتُكُمْ مَا دُمْتُ فِي مَقَامِي هَذَا» ، قَالَ أَنَسٌ: فَأَكْثَرَ النَّاسُ الْبُكَاءَ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَكْثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقُولَ: «سَلُوا» ، فَبَرَكَ عُمَرُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَقَالَ: رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَالَ ذَلِكَ عُمَرُ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوْلَى، أَمَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فِي عُرْضِ هَذَا الْحَائِطِ، وَأَنَا أُصَلِّي، فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ»

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) তাদের সাথে নিয়ে যুহরের নামায পড়লেন। তিনি সালাম ফিরানোর পর মিম্বারে উঠে দাঁড়ালেন, কিয়ামতের উল্লেখ করলেন এবং আরো উল্লেখ করেন যে, এর সাথে রয়েছে অনেক সাংঘাতিক বিষয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ কেউ আমার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে সে তা জিজ্ঞেস করুক। আল্লাহর শপথ! আমি আমার এই জায়গায় থাকা পর্যন্ত তোমরা আমার নিকট যা-ই জিজ্ঞেস করবে, আমি তোমাদের তা অবহিত করবো। আনাস (রাঃ) বলেন, লোকজন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুখে এটা শোনার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-ও বারবার বলতে থাকেন ? তোমরা জিজ্ঞেস করো। উমার (রাঃ) হাঁটু গেড়ে বসে বলেন, আমরা আল্লাহকে প্রভুরূপে, ইসলামকে দীনরুপে এবং মুহাম্মাদকে রাসূলরুপে পেয়ে সন্তুষ্ট। উমার (রাঃ) একথা বলাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিশ্চুপ হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ বিপদ সন্নিকটে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এইমাত্র এই দেয়ালের পাশে আমার নামাযরত অবস্থায় আমার সামনে বেহেশত ও দোযখ উপস্থিত করা হয়েছে। অতএব আজকের মত কল্যাণ ও অনিষ্টকে (একত্রে) আর দেখিনি। -(বুখারী, মুসলিম)