All books

আদাবুল মুফরাদ (০ টি হাদীস)

১৫ পরস্পর সালাম বিনিময় ৯৮৭ - ১০৬০

৪৪৮.

অনুচ্ছেদঃ সালামের সূচনা।

৯৮৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৮৭


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى صُورَتِهِ، وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، ثُمَّ قَالَ: اذْهَبْ، فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ - نَفَرٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ جُلُوسٌ - فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ بِهِ فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا: السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَزَادُوهُ: وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَتِهِ، فَلَمْ يَزَلْ يَنْقُصُ الْخَلْقُ حَتَّى الْآنَ "

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আদম (আবু দাউদ)-কে সৃষ্টি করলেন। তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেন, যাও, উপবিষ্ট ঐ ফেরেশতার দলকে সালাম দাও এবং তারা তোমার সালামের কি জবাব দেয় তা মনোযোগ সহকারে শোনো। কেননা এটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের সালাম (সম্ভাষণ)। আদম (আঃ) গিয়ে বলেন, আসসালামু আলাইকুম (আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)। ফেরেশতাগণ জবাব দিলেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ (আপনার উপরও শান্তি ও আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক)। ফেরেশতাগণ “ওয়া রহমাতুল্লাহি” বাড়িয়ে বলেন। যে ব্যক্তি বেহেশতে যাবে সেই হবে আদম (আবু দাউদ)-এর আকৃতি বিশিষ্ট। তখন থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত মানুষের দেহাবয়ব (উচ্চতাবারানী) ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে আসছে। (বুখারী, মুসলিম)

৪৪৯.

অনুচ্ছেদঃ সালামের প্রসার।

৯৮৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৮৮


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ قِنَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّهْمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَفْشُوا السَّلَامَ تَسْلَمُوا»

বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা সালামের বহুল প্রসার করো, তাহলে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।

৯৮৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৮৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، وَالْقَعْنَبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا تَحَابُّونَ بِهِ؟» قَالُوا: بَلَى، يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। তোমরা পরস্পরকে মহব্বত না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন জিনিস জ্ঞাত করবো নাসাঈ, যাতে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে মহব্বত সৃষ্টি হয়? সাহাবাগণ বলেন, নিশ্চয় ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে সালামের বহুল প্রসার ঘটাও। (মুসলিম)

৯৯০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَأَفْشُوا السَّلَامَ، تَدْخُلُوا الْجِنَانَ»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা দয়াময় রহমানের ইবাদত করো, মানুষকে আহার করাও এবং সালামের বহুল প্রচলন করো, তাহলে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করতে পারবে। -(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

৪৫০.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আগে সালাম দেয়।

৯৯১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯১


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: مَا كَانَ أَحَدٌ يَبْدَأُ - أَوْ يَبْدُرُ - ابْنَ عُمَرَ بِالسَّلَامِ

বশীর ইবনে ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে উমার (রাঃ)-কে তার আগে কেউ সালাম দিতে পারতো না। -(আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

৯৯২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ: يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْمَاشِيَانِ أَيُّهُمَا يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ فَهُوَ أَفْضَلُ
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح الإسناد موقوفا وصح مرفوعا

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আরোহী ব্যক্তি পদব্রজে গমনকারীকে সালাম দিবে এবং পদব্রজে গমনকারী বসা ব্যক্তিকে সালাম দিবে। আর দুই পথচারীর মধ্যে যে প্রথম সালাম দিবে সে অধিক উত্তম।

৯৯৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯৩


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ الْأَغَرَّ - وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ مُزَيْنَةَ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كَانَتْ لَهُ أَوْسُقٌ مِنْ تَمْرٍ عَلَى رَجُلٍ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، اخْتَلَفَ إِلَيْهِ مِرَارًا، قَالَ: فَجِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَرْسَلَ مَعِي أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، قَالَ: فَكُلُّ مَنْ لَقِينَا سَلَّمُوا عَلَيْنَا، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَلَا تَرَى النَّاسَ يَبْدَأُونَكَ بِالسَّلَامِ فَيَكُونُ لَهُمُ الْأَجْرُ؟ ابْدَأْهُمْ بِالسَّلَامِ يَكُنْ لَكَ الْأَجْرُ يُحَدِّثُ هَذَا ابْنُ عُمَرَ عَنْ نَفْسِهِ

নাফে (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে উমার (র) তাকে অবহিত করেন যে, মুযায়না গোত্রের আল-আগারর (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর সাহাবী ছিলেন। আমর ইবনে আওফ গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট তার কয়েক ওয়াসাক খেজুর পাওনা ছিল। তিনি এজন্য বেশ কয়েক বার তাকে তাগাদাও দেন। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি আমার সাথে আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে পাঠান। তিনি বলেন, (পথিমধ্যে যার সাথেইবনে মাজাহ) আমাদের সাক্ষাত হয়েছে তারাই আগে আমাদের সালাম দিয়েছে। আবু বাকর (রাঃ) বলেন, তুমি কি লক্ষ্য করছে না যে, লোকজন তোমাকে আগে সালাম দিচ্ছে এবং তাদের সওয়াব হচ্ছে? তুমি আগে তাদেরকে সালাম দাও, তোমার সওয়াব হবে। ইবনে উমার (রাঃ) এটাকে নিজের ঘটনা বলেছেন। (তাবারানী)

৯৯৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯৪


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، وَالْقَعْنَبِيُّ، قَالَا: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ مُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَيَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ»

আবু আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ কোন মুসলমানের জন্য তার অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা হালাল নয়। অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, তাদের দু’জনের সাক্ষাত হলে একজন এদিকে এবং অপরজন ঐদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে আগে সালাম দেয়। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, তিরমিযী)

৪৫১.

অনুচ্ছেদঃ সালাম বিনিময়ের ফযীলাত।

৯৯৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯৫


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ زَيْدٍ التَّيْمِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا مَرَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي مَجْلِسٍ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَ: «عَشْرُ حَسَنَاتٍ» ، فَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَقَالَ: «عِشْرُونَ حَسَنَةً» ، فَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ: «ثَلَاثُونَ حَسَنَةً» ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمَجْلِسِ وَلَمْ يُسَلِّمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَوْشَكَ مَا نَسِيَ صَاحِبُكُمْ، إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْمَجْلِسَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ، وَإِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ، مَا الْأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الْآخِرَةِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন এক মজলিসে ছিলেন। সে বললো, আসসালামু আলাইকুম। নবী (সাঃ) বলেনঃ দশটি নেকী। অতঃপর অপর এক ব্যক্তি ঐ পথে যেতে বললো, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নবী (সাঃ) বলেনঃ বিশ নেকী। আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যেতে বললো, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ। নবী (সাঃ) বলেনঃ তিরিশ নেকী। অতঃপর এক ব্যক্তি মজলিস থেকে উঠে চলে গেলো, কিন্তু সালাম দিলো না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ হয়তো তোমাদের সাথী (সালামের মর্যাদা) বিস্তৃত হয়েছে। তোমাদের কেউ মজলিসে এসে পৌছলে যেন সালাম দেয়। তারপর মজলিসে বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে সে বসবে। আবার সে যখন চলে যাবে তখনও যেন সালাম দেয়। কেননা পরের সালাম পূর্বের সালামের চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ নয়। -(তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, আহমাদ, আবু দাউদ)

৯৯৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عُمَرَ قَالَ: كُنْتُ رَدِيفَ أَبِي بَكْرٍ، فَيَمُرُّ عَلَى الْقَوْمِ فَيَقُولُ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَيَقُولُونَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، وَيَقُولُ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَيَقُولُونَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَضَلَنَا النَّاسُ الْيَوْمَ بِزِيَادَةٍ كَثِيرَةٍ

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি বাহনের পেছন দিকে আবু বাকর (রাঃ)-এর সফরসংগী ছিলাম। তিনি যে কোন জনসমষ্টিকে অতিক্রম করেন তাদেরকে আসসালামু আলাইকুম বলেন। তারা বললো, ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আর তিনি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বললে তারা বলে, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আবু বাকর (রাঃ) বলেন, লোকজন আজ আমাদের চেয়ে অনেক বেশী সওয়াবের অধিকারী হলো।

৯৯৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯৭


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا حَسَدَكُمُ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ مَا حَسَدُوكُمْ عَلَى السَّلَامِ وَالتَّأْمِينِ»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ ইহুদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এতো
বেশী ঈর্ষান্বিত নয় যতোটা তারা তোমাদের সালাম ও আমীনের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত। (ইবনে মাজাহ হা/৮৫৬)

৪৫২.

অনুচ্ছেদঃ সালাম হলো মহামহিম আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি নাম।

৯৯৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯৮


حَدَّثَنَا شِهَابٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ السَّلَامَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى، وَضَعَهُ اللَّهُ فِي الْأَرْضِ، فَأَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ»

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ সালাম হলো আল্লাহ তাআলার নামসমূহের একটি। তিনি দুনিয়াবাসীদের জন্য তা দান করেছেন। অতএব তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের বহুল প্রচলন করো। -(তাবারানী, বাযযার)

৯৯৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ৯৯৯


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحِلٌّ قَالَ: سَمِعْتُ شَقِيقَ بْنَ سَلَمَةَ أَبَا وَائِلٍ يَذْكُرُ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كَانُوا يُصَلُّونَ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْقَائِلُ: السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ، فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ قَالَ: " مَنِ الْقَائِلُ: السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ؟ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ، وَلَكِنْ قُولُوا: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " قَالَ: وَقَدْ كَانُوا يَتَعَلَّمُونَهَا كَمَا يَتَعَلَّمُ أَحَدُكُمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ

ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

লোকজন নবী (সাঃ)-এর পেছনে নামায পড়ছিলো। এক ব্যক্তি বললো, আসসালামু আলাল্লাহ (আল্লাহর প্রতি সালাম)। নবী (সাঃ) নামায শেষে জিজ্ঞেস করেনঃ আসসালামু আলাল্লাহ কে বলেছে? নিশ্চয় আল্লাহ হলেন সালাম (শান্তিদাতাবারানী)। বরং তোমরা বলো, ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি....... আবদুহু ওয়া রাসূলুল্লাহু’। “সমস্ত সম্মান, ইবাদত, উপাসনা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহর রহমাত এবং প্রাচুর্যও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তার বান্দাহ ও রাসূল”। রাবী বলেন, সাহাবীগণ তা এতো গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা করতেন, যেমন তোমাদের কেউ কুরআনের সূরা শিক্ষা করে। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

৪৫৩.

অনুচ্ছেদঃ দুই মুসলমানের সাক্ষাতকালে সালাম প্রদানকারী মুসলমানের অধিকার।

১০০০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০০


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ» ، قِيلَ: وَمَا هِيَ؟ قَالَ: «إِذَا لَقِيتُهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وَإِذَا مَاتَ فَاصْحَبْهُ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি কি? তিনি বলেনঃ (১) তুমি তার সাথে সাক্ষাত করলে তাকে সালাম দিবে। (২) সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তুমি তার দাওয়াত কবুল করবে। (৩) সে তোমার কাছে পরামর্শ বা উপদেশ চাইলে তুমি তাকে সৎ
পরামর্শ বা সদুপদেশ দিবে। (৪) সে হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বললে তুমি তার হাঁচির জবাব দিবে। (৫) সে মারা গেলে তুমি তার সংগী হবে (জানাযা পড়বে ও দাফন করবে)। -(বুখারী, মুসলিম)

৪৫৪.

অনুচ্ছেদঃ পথচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে।

১০০১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০১


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ سَلَّامٍ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي رَاشِدٍ الْحُبْرَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لِيُسَلِّمِ الرَّاكِبُ عَلَى الرَّاجِلِ، وَلْيُسَلِّمِ الرَّاجِلُ عَلَى الْقَاعِدِ، وَلْيُسَلِّمِ الْأَقَلُّ عَلَى الْأَكْثَرِ، فَمَنْ أَجَابَ السَّلَامَ فَهُوَ لَهُ، وَمَنْ لَمْ يُجِبْ فَلَا شَيْءَ لَهُ»

আবদুর রহমান ইবনে শিবল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আরোহী যেন পদচারীকে সালাম দেয়। পদচারী যেন উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দেয়, অল্প সংখ্যক যেন বেশি
সংখ্যককে সালাম দেয়। যে ব্যক্তি সালামের জবাব দিলো তার সওয়াব তাদের জন্য আর যে ব্যক্তি সালামের জবাব দিলো না তার জন্য কিছুই নাই। (আহমাদ)

১০০২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০২


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ ثَابِتًا أَخْبَرَهُ - وَهُوَ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ - يَرْوِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আরোহী পদচারীকে সালাম দিবে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (বুখারী, মুসলিম)

১০০৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০৩


قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: فَأَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ: الْمَاشِيَانِ إِذَا اجْتَمَعَا فَأَيُّهُمَا بَدَأَ بِالسَّلَامِ فَهُوَ أَفْضَلُ "

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

দুইজন পদচারী একত্র হলে তাদের মধ্যে যে আগে সালাম দেয় সে অধিক উত্তম ।

৪৫৫.

অনুচ্ছেদঃ আরোহী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে।

১০০৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০৪


حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আরোহী পদচারীকে সালাম দিবে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (বুখারী, মুসলিম)

১০০৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০৫


حَدَّثَنَا أَصْبَغُ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ هَانِئٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ فَضَالَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُسَلِّمُ الْفَارِسُ عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»

ফাদালা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ অশ্বারোহী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। -(তিরমিযী, নাসাঈ, দারিমী, ইবনে হিব্বান)

৪৫৬.

অনুচ্ছেদঃ পদচারী কি আরোহীকে সালাম দিবে?

১০০৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০৬


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّهُ لَقِيَ فَارِسًا فَبَدَأَهُ بِالسَّلَامِ، فَقُلْتُ: تَبْدَأُهُ بِالسَّلَامِ؟ قَالَ: رَأَيْتُ شُرَيْحًا مَاشِيًا يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ

হুসাইন (র) থেকে বর্ণিতঃ

এক অশ্বারোহীর সাথে শাবী (র)-এর সাক্ষাত হলে তিনি তাকে
প্রথমে সালাম দেন। আমি বললাম, আপনি তাকে প্রথমে সালাম দিলেন? তিনি বলেন, আমি শুরায়হ (রাঃ)-কে পদব্ৰজে যেতে প্রথমে সালাম দিতে দেখেছি।

৪৫৭.

অনুচ্ছেদঃ ক্ষুদ্র দল বড়ো দলকে সালাম দিবে।

১০০৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০৭


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ أَبُو هَانِئٍ، أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْجَنْبِيَّ حَدَّثَهُ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»

ফাদালা ইবনে উবায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ আরোহী পদচারীকে পদচারী উপবিষ্টকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। -(তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, দারিমী, ইবনে হিব্বান)

১০০৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০৮


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلَانِيُّ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْجَنْبِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُسَلِّمُ الْفَارِسُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَائِمِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»

ফাদালা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ অশ্বরোহী পদচারীকে, পদচারী দণ্ডায়মান ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (ইবনে হিব্বান)

৪৫৮.

অনুচ্ছেদঃ ছোটরা বড়োদের সালাম দিবে।

১০০৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০০৯


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَخْلَدٌ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّهُ سَمِعَ ثَابِتًا مَوْلَى ابْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ, আবু আওয়া নাসাঈ)

১০১০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১০


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُسَلِّمُ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ছোট বড়োকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে। (তিরমিযী)

৪৫৯.

অনুচ্ছেদঃ সালামের সমাপ্তি।

১০১১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَخْلَدٌ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ قَالَ: كَانَ خَارِجَةُ يَكْتُبُ عَلَى كِتَابِ زَيْدٍ إِذَا سَلَّمَ، قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ وَمَغْفِرَتُهُ، وَطَيِّبُ صَلَوَاتِهِ

আবু যিনাদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ)-এর পুত্র খারিজা (র) যায়েদ (রাঃ)-এর পত্রে সালাম লিখতেনঃ “আপনার প্রতি সালাম, হে আমীরুল মুমিনীন এবং আল্লাহর রহমাত, বরকত, তাঁর ক্ষমা ও সর্বোৎকৃষ্ট করুণারাশি বর্ষিত হোক”।

৪৬০.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ইশারায় সালাম দিলো।

১০১২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১২


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ قَالَ: حَدَّثَنَا هَيَّاجُ بْنُ بَسَّامٍ أَبُو قُرَّةَ الْخُرَاسَانِيُّ - رَأَيْتُهُ بِالْبَصْرَةِ - قَالَ: رَأَيْتُ أَنَسًا يَمُرُّ عَلَيْنَا فَيُومِئُ بِيَدِهِ إِلَيْنَا فَيُسَلِّمُ، وَكَانَ بِهِ وَضَحٌ
وَرَأَيْتُ الْحَسَنَ يَخْضُبُ بِالصُّفْرَةِ، وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ
وَقَالَتْ أَسْمَاءُ: أَلْوَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ إِلَى النِّسَاءِ بِالسَّلَامِ
---
[قال الشيخ الألباني] :
في الرواية الأولى: ضعيف الإسناد وقال في قول أسماء: صحيح وهو معلق

হাইয়্যায ইবনে বিসাম আবু কুররা আল-খুরাসানী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি দেখেছি যে, আনাস (রাঃ) আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তার হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে আমাদের সালাম দিতেন। তাতে শ্বেতরোগের দাগ ছিল। আমি হাসান (র)-কে দেখেছি যে, তিনি হলুদ রঙ্গের খেজাব ব্যবহার
করতেন এবং তার মাথায় থাকতো কালো পাগড়ী। আসমা (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) তার হাতের ইশারায় নারীদের সালাম দেন। -(দারিমী, আহমাদ, আবু আওয়া নাসাঈ)

১০১৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১৩


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ، أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَمَعَ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَتَّى إِذَا نَزَلَا سَرِفًا مَرَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ بِالسَّلَامِ، فَرَدَّا عَلَيْهِ
---
[قال الشيخ الألباني] :
ضعيف الإسناد موقوف

সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) ও কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (র)-এর সাথে সফরে রওয়ানা হন। তারা সারিফ নামক স্থানে উপনীত হলে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) সেই পথে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে ইঙ্গিতে সালাম দেন এবং তারা দু’জনে তার জবাবও দেন।

১০১৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১৪


حَدَّثَنَا خَلَّادٌ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ: كَانُوا يَكْرَهُونَ التَّسْلِيمَ بِالْيَدِ، أَوْ قَالَ: كَانَ يَكْرَهُ التَّسْلِيمَ بِالْيَدِ

আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

সাহাবীগণ হাতের ইশারায় সালামের আদান-প্রদান অপছন্দ করতেন।

৪৬১.

অনুচ্ছেদঃ প্রতিপক্ষকে শুনিয়ে সালাম দিবে।

১০১৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১৫


حَدَّثَنَا خَلَّادُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: أَتَيْتُ مَجْلِسًا فِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، فَقَالَ: إِذَا سَلَّمْتَ فَأَسْمِعْ، فَإِنَّهَا تَحِيَّةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيْبَةً

সাবিত ইবনে উবাইদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি এক মজলিসে আসলাম। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি বলেন, তুমি সালাম দিলে তা (প্রতিপক্ষের) কর্ণগোচর করো। কেননা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বরকতপূর্ণ ও পবিত্র বাক্য।

৪৬২.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সালাম আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে বের হয়।

১০১৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১৬


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ الطُّفَيْلَ بْنَ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ كَانَ يَأْتِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَيَغْدُو مَعَهُ إِلَى السُّوقِ، قَالَ: فَإِذَا غَدَوْنَا إِلَى السُّوقِ لَمْ يَمُرَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَلَى سَقَّاطٍ، وَلَا صَاحِبِ بَيْعَةٍ، وَلَا مِسْكِينٍ، وَلَا أَحَدٍ إِلَّا يُسَلِّمُ عَلَيْهِ. قَالَ الطُّفَيْلُ: فَجِئْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَوْمًا، فَاسْتَتْبَعَنِي إِلَى السُّوقِ، فَقُلْتُ: مَا تَصْنَعُ بِالسُّوقِ وَأَنْتَ لَا تَقِفُ عَلَى الْبَيْعِ، وَلَا تَسْأَلُ عَنِ السِّلَعِ، وَلَا تَسُومُ بِهَا، وَلَا تَجْلِسُ فِي مَجَالِسِ السُّوقِ؟ فَاجْلِسْ بِنَا هَاهُنَا نَتَحَدَّثُ، فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ: يَا أَبَا بَطْنٍ، وَكَانَ الطُّفَيْلُ ذَا بَطْنٍ، إِنَّمَا نَغْدُو مِنْ أَجْلِ السَّلَامِ، نُسَلِّمُ عَلَى مَنْ لَقِيَنَا

তুফাইল ইবনে উবাই ইবনে কাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট যাতায়াত করতেন এবং তার সাথে বাজারে যেতেন। রাবী বলেন, আমরা বাজারে যাওয়ার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-র সাথে সর্বসাধারণ, দোকানদার, ফকীর-মিসকীন বা অন্য যে কোন লোকের সাক্ষাত হতো তিনি তাকে সালাম দিতেন। তুফাইল (র) বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-র নিকট আসলাম। তিনি আমাকে নিয়ে বাজারে যেতে চাইলেন। আমি বললাম, আপনি বাজারে গিয়ে কি করবেন? না আপনি কেনাকাটা করেন, না কোন পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, না দরদাম করেন, আর না বাজারের কোন মজলিসে বসেন। বরং আমাদের নিয়ে এখানেই বসুন, কিছু আলাপ-আলোচনা করি। আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেন, হে ভুরিওয়ালা (তার পেট মোটা ছিল)। আমরা তো বাজারে যাই যাকে সামনে পাই তাকে সালাম দেয়ার জন্য। -(মুয়াত্তা মালিক, তাবাকাত ইবনে সাদ)

৪৬৩.

অনুচ্ছেদঃ মজলিসে পৌছে কারো সালাম দেয়া।

১০১৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১৭


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْمَجْلِسَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ رَجَعَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنَّ الْأُخْرَى لَيْسَتْ بِأَحَقَّ مِنَ الْأُولَى»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি মজলিসে গিয়ে পৌঁছলে সে যেন সালাম দেয়। সে ফিরে যেতেও সালাম দিবে। কেননাসাঈ, পরের সালাম আগের সালাম থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। -(তিরমিযী, নাসাঈ, তাবারানী, তাহাবী, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)

৪৬৪.

অনুচ্ছেদঃ মজলিস থেকে বিদায়কালে সালাম দেয়া।

১০১৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১৮


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا جَاءَ الرَّجُلُ الْمَجْلِسَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ جَلَسَ ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَقُومَ قَبْلَ أَنْ يَتَفَرَّقَ الْمَجْلِسُ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنَّ الْأُولَى لَيْسَتْ بِأَحَقَّ مِنَ الْأُخْرَى»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি মজলিসে এসে পৌছে যেন সালাম দেয়। সে মজলিসে বসার পর মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বে উঠে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করলে যেন পুনরায় সালাম দেয়। কেননা আগের সালাম কোন অংশেই শেষের সালামের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। -(আবু দাউদ, নাসাঈ, তাহাবী)

৪৬৫.

অনুচ্ছেদঃ মজলিস থেকে বিদায়কালে সালাম প্রদানকারীর অধিকার।

১০১৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০১৯


حَدَّثَنَا مَطَرُ بْنُ الْفَضْلِ قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا بِسْطَامٌ قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ قَالَ: قَالَ لِي أَبِي: يَا بُنَيَّ، إِنْ كُنْتَ فِي مَجْلِسٍ تَرْجُو خَيْرَهُ، فَعَجِلَتْ بِكَ حَاجَةٌ فَقُلْ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ، فَإِنَّكَ تَشْرَكُهُمْ فِيمَا أَصَابُوا فِي ذَلِكَ الْمَجْلِسِ، وَمَا مِنْ قَوْمٍ يَجْلِسُونَ مَجْلِسًا فَيَتَفَرَّقُونَ عَنْهُ لَمْ يُذْكَرِ اللَّهُ، إِلَّا كَأَنَّمَا تَفَرَّقُوا عَنْ جِيفَةِ حِمَارٍ

মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমার পিতা আমাকে বললেন, হে বৎস! তুমি যদি কোন মজলিসে তার কল্যাণ লাভের আশায় অংশগ্রহণ করো, অতঃপর কোন প্রয়োজনে তোমাকে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি উঠে যেতে হয় তবে তুমি বলবে, সালামুন আলাইকুম! তাহলে সেই মজলিসে অংশগ্রহণকারীগণ তাতে যে কল্যাণ লাভ করবে, তুমিও তাতে শরীক থাকবে। আর যারা কোন মজলিসে অংশগ্রহণের পর আল্লাহকে স্মরণ না করে মজলিস ভঙ্গ করে উঠে যায়, তারা যেন একটি মৃত গাধা (খেতে একত্র হওয়ার পর) উঠে গেলো। (তাবারানী)

১০২০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২০


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنْ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: مَنْ لَقِيَ أَخَاهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ حَالَتْ بَيْنَهُمَا شَجَرَةٌ أَوْ حَائِطٌ، ثُمَّ لَقِيَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح موقوفا وصح مرفوعا

আবু মরিয়ম (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করলে সে যেন তাকে সালাম দেয়। যদি তাদের মধ্যে কোন গাছ বা প্রাচীর অন্তরায় হয়, অতঃপর পুনরায় তাদের সাক্ষাত হয়, তখনও যেন তাকে সালাম দেয়। (আবু দাউদ)

১০২১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২১


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ نِبْرَاسٍ أَبُو الْحَسَنِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا يَكُونُونَ مُجْتَمِعِينَ فَتَسْتَقْبِلُهُمُ الشَّجَرَةُ، فَتَنْطَلِقُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ عَنْ يَمِينِهَا وَطَائِفَةٌ عَنْ شِمَالِهَا، فَإِذَا الْتَقَوْا سَلَّمَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ)-এর সাহাবাগণ একত্র থাকা অবস্থায়
তাদের সামনে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হওয়ায় তাদের কতক তার ডান পাশ দিয়ে এবং কতক বাম পাশ দিয়ে যেতে তাদের পুনরায় সাক্ষাত হতেই পরস্পর সালাম করতেন। (তাবারানী)

৪৬৬.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মুসাফাহা করার উদ্দেশে হাতে তৈল মালিশ করে।

১০২২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২২


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ الْمِصْرِيُّ، عَنْ قُرَيْشٍ الْبَصْرِيِّ هُوَ ابْنُ حَيَّانَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، أَنَّ أَنَسًا كَانَ إِذَا أَصْبَحَ ادَّهَنَ يَدَهُ بِدُهْنٍ طَيِّبٍ لِمُصَافَحَةِ إِخْوَانِهِ

সাবিত আল-বুনানী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আনাস (রাঃ) সকালবেলা বন্ধু-বান্ধবের সাথে মোসাফাহা
(করমর্দন) করার জন্য তার হাতে সুগন্ধি তৈল মাখতেন।

৪৬৭.

অনুচ্ছেদঃ পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া।

১০২৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২৩


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتُقْرِئُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ইসলাম সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ তুমি আহার করাবে এবং সালাম দিবে পরিচিত-অপরিচিত সকলকে। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

৪৬৮.

অনুচ্ছেদঃ (রাস্তার অধিকার)।

১০২৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২৪


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْأَفْنِيَةِ وَالصُّعُدَاتِ أَنْ يُجْلَسَ فِيهَا، فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ: لَا نَسْتَطِيعُهُ، لَا نُطِيقُهُ، قَالَ: «أَمَّا لَا، فَأَعْطُوا حَقَّهَا» ، قَالُوا: وَمَا حَقُّهَا؟ قَالَ: «غَضُّ الْبَصَرِ، وَإِرْشَادُ ابْنِ السَّبِيلِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ إِذَا حَمِدَ اللَّهَ، وَرَدُّ التَّحِيَّةِ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাড়ির আঙ্গিনায় এবং উঁচু স্থানসমূহের ঢালে বসতে নিষেধ করলেন। মুসলমানগণ বলেন, তা তো আমাদের সাধ্যাতীত। তিনি বলেনঃ যদি তাই হয় তবে তোমরা তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেনঃ দৃষ্টিশক্তি সংযত রাখা, পথিককে পথ বলে দেয়া, হাঁচিদাতা আলহামদু লিল্লাহ বললে তার জবাব দেয়া এবং সালামের উত্তর দেয়া। (আবু দাউদ)

১০২৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২৫


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ قَالَ: حَدَّثَنَا كِنَانَةُ مَوْلَى صَفِيَّةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَبْخَلُ النَّاسِ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلَامِ، وَالْمَغْبُونُ مَنْ لَمْ يَرُدَّهُ، وَإِنْ حَالَتْ بَيْنَكَ وَبَيْنَ أَخِيكَ شَجَرَةٌ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَبْدَأَهُ بِالسَّلَامِ لَا يَبْدَأُكَ فَافْعَلْ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কৃপণ এবং যে ব্যক্তি সালামের উত্তর দেয় না সে প্রতারক। যদি তোমার ও তোমার অপর ভাইয়ের মাঝখানে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হয় তবে যথাসাধ্য তুমিই তাকে আগে সালাম দিতে তৎপর হবে। সে যেন তোমার আগে তোমাকে সালাম দিতে না পারে।

১০২৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২৬


حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ سَالِمٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: وَكَانَ ابْنُ عَمْرٍو إِذَا سُلِّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ زَادَ، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ جَالِسٌ فَقُلْتُ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ مَرَّةً أُخْرَى فَقُلْتُ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ مَرَّةً أُخْرَى فَقُلْتُ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، وَطَيِّبُ صَلَوَاتِهِ

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-র মুক্তদাস সালেম (র) থেকে বর্ণিতঃ

কেউ ইবনে উমার (রাঃ)-কে সালাম দিলে তিনি বর্ধিত শব্দযোগে তার উত্তর দিতেন। আমি তার নিকট আসলাম এবং তিনি তখন বসা ছিলেন। আমি বললাম, আসসালামু আলাইকুম। তিনি উত্তর দেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি উত্তর দেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি এবার জবাব দিলেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ওয়া তাইয়্যিবু সালাওয়াতিহি।

৪৬৯.

অনুচ্ছেদঃ পাপাচারীকে সালাম দিবে না।

১০২৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২৭


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زَحْرٍ، عَنْ حِبَّانَ بْنِ أَبِي جَبَلَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: لَا تُسَلِّمُوا عَلَى شُرَّابِ الْخَمْرِ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তোমরা মদ্যপায়ীকে সালাম দিও না। (বুখারী)

১০২৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، وَمُعَلَّى، وَعَارِمٌ، قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: لَيْسَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْفَاسِقِ حُرْمَةٌ

হাসান (র) থেকে বর্ণিতঃ

তোমার ও পাপাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে সম্মানের কোন সম্পর্ক থাকবে না।

১০২৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০২৯


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنِي مَعْنُ بْنُ عِيسَى قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو رُزَيْقٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَكْرَهُ الْأَسْبِرَنْجَ وَيَقُولُ: لَا تُسَلِّمُوا عَلَى مَنْ لَعِبَ بِهَا، وَهِيَ مِنَ الْمَيْسِرِ

আবু জুরাইক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আলী ইবনে আবদুল্লাহ (র) সম্পর্কে শুনেছেন যে, তিনি দাবা খেলা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, যারা এই খেলায় অভ্যস্ত তোমরা তাদেরকে সালাম দিও না। কেননা তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।

৪৭০.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি খালূক (যাফরান মিশ্রিত খোশবু) ব্যবহারকারী ও পাপাচারীকে সালাম দেয় না।

১০৩০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩০


حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ الْعُرَنِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَوْمٍ فِيهِمْ رَجُلٌ مُتَخَلِّقٌ بِخَلُوقٍ، فَنَظَرَ إِلَيْهِمْ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَأَعْرَضَ عَنِ الرَّجُلِ، فَقَالَ الرَّجُلُ: أَعْرَضْتَ عَنِّي؟ قَالَ: «بَيْنَ عَيْنَيْهِ جَمْرَةٌ»

আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) এক সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে খালূক প্রসাধনী মাখা এক ব্যক্তিও ছিল। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে তাদের সালাম দিলেন, কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে উপেক্ষা করলেন। সে বললো, আপনি যে আমাকে উপেক্ষা করলেন? তিনি বলেনঃ তার দুই চোখের মাঝখানে জ্বলন্ত কয়লা রয়েছে।

১০৩১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩১


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ السَّهْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي يَدِهِ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ، فَأَعْرَضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ، فَلَمَّا رَأَى الرَّجُلُ كَرَاهِيَتَهُ ذَهَبَ فَأَلْقَى الْخَاتَمَ، وَأَخَذَ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ فَلَبِسَهُ، وَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «هَذَا شَرٌّ، هَذَا حِلْيَةُ أَهْلِ النَّارِ» ، فَرَجَعَ فَطَرَحَهُ، وَلَبِسَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ، فَسَكَتَ عَنْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি সোনার আংটি পরে নবী (সাঃ)-এর নিকট আসলো। নবী (সাঃ) তাকে অবজ্ঞা করলেন। সে তাঁর অবজ্ঞা অনুভব করতে পেরে চলে গিয়ে ঐ আংটি ফেলে দিলো এবং একটি লোহার আংটি পরিধান করলো, অতঃপর নবী (সাঃ)-এর নিকট এলো। তিনি বলেনঃ এটা মন্দ, এটা দোযখবাসীদের অলংকার। সে ফিরে গেলো এবং তাও ফেলে দিয়ে একটি রূপার আংটি পরিধান করলো। নবী (সাঃ) এবার তার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি। -(তাহাবী)

১০৩২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩২


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَمْرٍو هُوَ ابْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ أَبِي النَّجِيبِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: أَقْبَلَ رَجُلٌ مِنَ الْبَحْرَيْنِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ - وَفِي يَدِهِ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ، وَعَلَيْهِ جُبَّةُ حَرِيرٍ - فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ مَحْزُونًا، فَشَكَا إِلَى امْرَأَتِهِ، فَقَالَتْ: لَعَلَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجِبَّتَكَ وَخَاتَمَكَ، فَأَلْقِهِمَا ثُمَّ عُدْ، فَفَعَلَ، فَرَدَّ السَّلَامَ، فَقَالَ: جِئْتُكَ آنِفًا فَأَعْرَضْتَ عَنِّي؟ قَالَ: «كَانَ فِي يَدِكَ جَمْرٌ مِنْ نَارٍ» ، فَقَالَ: لَقَدْ جِئْتُ إِذًا بِجَمْرٍ كَثِيرٍ، قَالَ: «إِنَّ مَا جِئْتَ بِهِ لَيْسَ بِأَجْزَأَ عَنَّا مِنْ حِجَارَةِ الْحَرَّةِ، وَلَكِنَّهُ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا» ، قَالَ: فَبِمَاذَا أَتَخَتَّمُ بِهِ؟ قَالَ: «بِحَلْقَةٍ مِنْ وَرِقٍ، أَوْ صُفْرٍ، أَوْ حَدِيدٍ»

আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বাহরাইন থেকে এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর নিকট এলো। সে তাকে সালাম দিলো কিন্তু জবাব তিনি দেননি। তার হাতে ছিল সোনার আংটি এবং তার পরনে ছিল একটি রেশমী জুব্বা। লোকটি বিষন্ন মনে ফিরে গিয়ে ঘটনাটি তার স্ত্রীকে জানালো। তার স্ত্রী বললো, হয়তো তোমার এই জুব্বা ও সোনার আংটির কারণে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরূপ করে থাকবেন। সে এই দু’টি ফেলে দিয়ে পুনরায় ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিলো। তিনি তার সালামের জবাব দিলেন। সে বললো, কিছুক্ষণ আগে আমি আপনার নিকট এসেছিলাম। তখন আপনি আমাকে উপেক্ষা করেছেন। তিনি বললেঃ তখন তোমার হাতে দোযখের জ্বলন্ত অঙ্গার ছিল। সে বললো, তাহলে তো আমি অনেক অঙ্গারই সঞ্চয় করেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তো তাই নিয়ে এসেছিলে। কারো কাছে হাররা প্রান্তরের পাথরের চেয়ে অধিক পরিমাণ সম্পদ থাকলেও তা তো পার্থিব জীবনের সম্পদই। সে বললো, তাহলে আমি কিসের আংটি বানাবো? তিনি বলেনঃ রূপা, পিতল বা লোহা দ্বারা। (নাসাঈ, আহমাদ)

৪৭১.

অনুচ্ছেদঃ আমীরকে সালাম দেয়া।

১০৩৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩৩


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ سَأَلَ أَبَا بَكْرِ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ: لِمَ كَانَ أَبُو بَكْرٍ يَكْتُبُ: مِنْ أَبِي بَكْرٍ خَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ، ثُمَّ كَانَ عُمَرُ يَكْتُبُ بَعْدَهُ: مِنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ خَلِيفَةِ أَبِي بَكْرٍ، مَنْ أَوَّلُ مَنْ كَتَبَ: أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ فَقَالَ: حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي الشِّفَاءُ - وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الْأُوَلِ، وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا هُوَ دَخَلَ السُّوقَ دَخَلَ عَلَيْهَا - قَالَتْ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى عَامِلِ الْعِرَاقَيْنِ: أَنِ ابْعَثْ إِلَيَّ بِرَجُلَيْنِ جَلْدَيْنِ نَبِيلَيْنِ، أَسْأَلُهُمَا عَنِ الْعِرَاقِ وَأَهْلِهِ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ صَاحِبُ الْعِرَاقَيْنِ بِلَبِيدِ بْنِ رَبِيعَةَ، وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، فَقَدِمَا الْمَدِينَةَ فَأَنَاخَا رَاحِلَتَيْهِمَا بِفِنَاءِ الْمَسْجِدِ، ثُمَّ دَخَلَا الْمَسْجِدَ فَوَجَدَا عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، فَقَالَا لَهُ: يَا عَمْرُو، اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ، فَوَثَبَ عَمْرٌو فَدَخَلَ عَلَى عُمَرَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: مَا بَدَا لَكَ فِي هَذَا الِاسْمِ يَا ابْنَ الْعَاصِ؟ لَتَخْرُجَنَّ مِمَّا قُلْتَ، قَالَ: نَعَمْ، قَدِمَ لَبِيدُ بْنُ رَبِيعَةَ، وَعَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ، فَقَالَا لِي: اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، فَقُلْتُ: أَنْتُمَا وَاللَّهِ أَصَبْتُمَا اسْمَهُ، وَإِنَّهُ الْأَمِيرُ، وَنَحْنُ الْمُؤْمِنُونَ. فَجَرَى الْكِتَابُ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ

ইবনে শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনে আবদুল আযীয (র) আবু বাকর ইবনে সুলায়মান ইবনে আবু হাসমাকে জিজ্ঞেস করেন, কেনো আবু বাকর (রাঃ) পত্রের শিরোনামে লিখতেনঃ আবু বাকর, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খলীফার পক্ষ থেকে। অতঃপর উমার (রাঃ) লিখতেন, উমার ইবনুল খাত্তাব, আবু বাকরের খলীফার (প্রতিনিধির) পক্ষ থেকে। সর্বপ্রথম কে “আমীরুল মুমিনীন” শব্দটি লেখার প্রচলন করেন? তিনি বলেন, আমার পিতামহী শিফা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি প্রথম যুগের মুহাজির মহিলাদের একজন এবং উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বাজারে গেলে তার সাথে অবশ্যই সাক্ষাত করতেন। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ইরাকের শাসনকর্তাকে লিখে পাঠান, আমার নিকট দুইজন বিজ্ঞ ও সম্ভ্রান্ত লোক পাঠাও যাদেরকে আমি ইরাক ও তার অধিবাসীদের সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করবো। ইরাকের শাসনকর্তা লবীদ ইবনে রবীয়া এবং আদী ইবনে হাতেম (রাঃ)-কে তার নিকট পাঠান। তারা মদীনায় পৌছে তাদের বাহনদ্বয় মসজিদের চত্বরে বাঁধেন। অতঃপর তারা মসজিদে প্রবেশ করে আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর সাক্ষাত পান। তারা তাকে বলেন, হে আমর! “আমীরুল মুমিনীন” উমার (রাঃ)-এর সাথে আমাদের সাক্ষাতের অনুমতি নিয়ে দিন। আমর (রাঃ) উমার (রাঃ)-এর কাছে দ্রুত ছুটে গেলেন এবং বলেন, আসসালামু আলাইকুম ইয়া আমীরুল মুমিনীন। উমার (রাঃ) তাকে বলেন, হে আসের পুত্র! এই পদবী তুমি কোথায় পেলে? তুমি যা বলেছে তা প্রত্যাহার করো। তিনি বলেন, হাঁ, লবীদ ইবনে রবীয়া এবং আদী ইবনে হাতেম (রাঃ) এসেছেন। তারা আমাকে বলেছেন, আমীরুল মুমিনীনের নিকট থেকে আমাদের জন্য সাক্ষাতের অনুমতি এনে দিন। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! তোমরা দু’জনে তার যথার্থ নামকরণ করেছো। নিশ্চয় তিনি আমীর এবং আমরা মুমিন। সেদিন থেকে তা লেখার প্রচলন হয়। (ইসতীআব)

১০৩৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩৪


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَدِمَ مُعَاوِيَةُ حَاجًّا حَجَّتَهُ الْأُولَى وَهُوَ خَلِيفَةٌ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُثْمَانُ بْنُ حُنَيْفٍ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَأَنْكَرَهَا أَهْلُ الشَّامِ وَقَالُوا: مَنْ هَذَا الْمُنَافِقُ الَّذِي يُقَصِّرُ بِتَحِيَّةِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ؟ فَبَرَكَ عُثْمَانُ عَلَى رُكْبَتِهِ ثُمَّ قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ هَؤُلَاءِ أَنْكَرُوا عَلَيَّ أَمْرًا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْهُمْ، فَوَاللَّهِ لَقَدْ حَيَّيْتُ بِهَا أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ، فَمَا أَنْكَرَهُ مِنْهُمْ أَحَدٌ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لِمَنْ تَكَلَّمَ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ: عَلَى رِسْلِكُمْ، فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ بَعْضُ مَا يَقُولُ، وَلَكِنَّ أَهْلَ الشَّامِ قَدْ حَدَثَتْ هَذِهِ الْفِتَنُ، قَالُوا: لَا تُقَصَّرُ عِنْدَنَا تَحِيَّةُ خَلِيفَتِنَا، فَإِنِّي إِخَالُكُمْ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ تَقُولُونَ لِعَامِلِ الصَّدَقَةِ: أَيُّهَا الْأَمِيرُ

উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

মুআবিয়া (রাঃ) যখন খলীফারূপে প্রথমবার হজ্জ করতে আসেন তখন উসমান ইবনে হুনাইফ আনসারী (রাঃ) তার নিকট আসেন এবং বলেন, আসসালামুআলাইকুম আয়্যুহাল আমীর ওয়া রহমাতুল্লাহ (হে আমীর! আপনাকে সালাম ও আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক)। সিরিয়াবাসীদের তা অপছন্দ হলো। তারা বললো, কে এই মোনাফিক যে আমীরুল মুমিনীনের প্রতি অভিবাদনটাকে খাটো করেছে? তখন উসমান (রাঃ) তার হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন। এরা এমন একটি ব্যাপারকে অপছন্দ করছে যা তাদের চাইতে আপনি অধিক জ্ঞাত। আল্লাহর শপথ! আমি আবু বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ)-কে এভাবে অভিবাদন করেছি। তাদের কেউই তা অপছন্দ করেননি। মুআবিয়া (রাঃ) সিরিয়াবাসীদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ কথা বলেছে তাকে বলেন, ওহে! চুপ করো। তিনি যা বলেছেন ব্যাপার অনেকটা তাই। কিন্তু সিরিয়াবাসীরা গোলযোগ ঘটে যাবার পর বলে, আমাদের খলীফার প্রতি অভিবাদনকে সংক্ষিপ্ত করবো না। হে মদীনাবাসীগণ! আমি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, তোমরা যাকাত আদায়কারীদেরকেও “আমীর” বলে সম্বোধন করে থাকো। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক)

১০৩৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩৫


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى الْحَجَّاجِ فَمَا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি হাজ্জাজের নিকট গিয়েছি কিন্তু তাকে সালাম দেইনি। (হাকিম)

১০৩৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩৬


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ سَلَمَةَ الضَّبِّيِّ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ حَذْلَمٍ قَالَ: إِنِّي لَأَذْكُرُ أَوَّلَ مَنْ سَلَّمَ عَلَيْهِ بِالْإِمْرَةِ بِالْكُوفَةِ، خَرَجَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ مِنْ بَابِ الرَّحَبَةِ، فَفَجَأَهُ رَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ - زَعَمُوا أَنَّهُ: أَبُو قُرَّةَ الْكِنْدِيُّ - فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَكَرِهَهُ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَيُّهَا الْأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، هَلْ أَنَا إِلَّا مِنْهُمْ، أَمْ لَا؟ قَالَ سِمَاكٌ: ثُمَّ أَقَرَّ بِهَا بَعْدُ

তামীম ইবনে হাযলাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

কুফাতে সর্বপ্রথম কাকে আমীর সম্বোধন করে সালাম দেয়া হয়েছিল তা আমার অবশ্যই স্মরণ আছে। মুগীরা ইবনে শোবা (রাঃ) কুফার রাহবা ফটক দিয়ে বের হলে কিনদার এক ব্যক্তি তার নিকট আসেন। লোকের ধারণা যে, তিনি ছিলেন আবু কুররা আল-কিন্দী। তিনি তাকে সালাম দিয়ে বলেন, আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাল আমীর ওয়া
রহমাতুল্লাহ আসসালামু আলাইকুম। মুগীরা (রাঃ) তা অপছন্দ করেন এবং বলেন, আসসালামু আলাইকুম আয়্যুহাল আমীরু ওয়া রহমাতুল্লাহ আসসালামু আলাইকুম, এটা কি? আমি তাদেরই একজন কিনা? সিমাক (র) বলেন, অতঃপর মুগীরা (রাঃ) এই আমীর উপাধি গ্রহণ করেন।

১০৩৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩৭


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ عُبَيْدٍ - بَطْنٌ مِنْ حِمْيَرٍ - قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى رُوَيْفِعٍ، وَكَانَ أَمِيرًا عَلَى أَنْطَابُلُسَ، فَجَاءَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، وَنَحْنُ عِنْدَهُ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْأَمِيرُ، فَقَالَ لَهُ رُوَيْفِعٌ: لَوْ سَلَّمْتَ عَلَيْنَا لَرَدَدْنَا عَلَيْكَ السَّلَامَ، وَلَكِنْ إِنَّمَا سَلَّمْتَ عَلَى مَسْلَمَةَ بْنِ مَخْلَدٍ - وَكَانَ مَسْلَمَةُ عَلَى مِصْرَ - اذْهَبْ إِلَيْهِ فَلْيَرُدَّ عَلَيْكَ السَّلَامَ، قَالَ زِيَادٌ: وَكُنَّا إِذَا جِئْنَا فَسَلَّمْنَا وَهُوَ فِي الْمَجْلِسِ قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

হিময়ারের এক শাখার সদস্য যিয়াদ ইবনে উবায়েদ আর-রুয়াইনী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রুয়াইফে (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন আনতাবুলসের আমীর (শাসক)। এক ব্যক্তি এসে তাকে সালাম দিয়ে বললো, আসসালামু আলাল আমীর। আবদা (র)-এর বর্ণনায় আছে, সে বললো, আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাল আমীর। রুয়াইফে (রাঃ) তাকে বলেন, তুমি যদি আমাকেই সালাম দিতে তবে অবশ্যই আমি তোমার সালামের জবাব দিতাম। তুমি তো মিসরের শাসক মাসলামা ইবনে মুখাল্লিদকে সালাম দিয়েছো। তুমি তার নিকট যাও, তিনিই তোমার সালামের জবাব দিবেন। রাবী যিয়াদ (র) বলেন, আমরা তার ওখানে গেলে এবং তিনি মজলিসে উপস্থিত থাকলে আসসালামুআলাইকুম বলতাম।

৪৭২.

অনুচ্ছেদঃ নিদ্রিত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া।

১০৩৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩৮


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجِيءُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيُسَلِّمُ تَسْلِيمًا لَا يُوقِظُ نَائِمًا، وَيُسْمِعُ الْيَقْظَانَ

মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) রাতের বেলা এসে এমনভাবে সালাম দিতেন যে, ঘুমন্ত লোক জাগ্রত হতো নাসাঈ, অথচ জাগ্রত লোক তা শুনতে পেতো। (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)

৪৭৩.

অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তোমায় দীর্ঘজীবি করুন।

১০৩৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৩৯


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ عُمَرَ قَالَ لِعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ: حَيَّاكَ اللَّهُ مِنْ مَعْرِفَةٍ

শাবী (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার (রাঃ) আদী ইবনে হাতেম তাঈ (রাঃ)-কে বলেন, সুনাম সহকারে আল্লাহ তোমায় দীর্ঘজীবি করুন।

৪৭৪.

অনুচ্ছেদঃ মারহাবা (স্বাগতম)।

১০৪০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪০


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أَقْبَلَتْ فَاطِمَةُ تَمْشِي كَأَنَّ مِشْيَتَهَا مَشْيُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «مَرْحَبًا بِابْنَتِي» ، ثُمَّ أَجْلَسَهَا عَنْ يَمِينِهِ، أَوْ عَنْ شِمَالِهِ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ফাতেমা (রাঃ) পদব্রজে আসলেন। আর তার হাঁটার ভংগি ছিল নবী (সাঃ)-এর হাঁটার অনুরূপ। নবী (সাঃ) বলেনঃ মারহাবা (স্বাগতম), কন্যা আমার, অতঃপর তাকে নিজের ডান অথবা বামপাশে বসান। (বুখারী, মুসলিম)

১০৪১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪১


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: اسْتَأْذَنَ عَمَّارٌ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَرَفَ صَوْتَهُ، فَقَالَ: «مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ»

আলী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আম্মার (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি তার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে বলেনঃ এই পাক-পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বুখারীর তারীখ)

৪৭৫.

অনুচ্ছেদঃ কিভাবে সালামের উত্তর দিবে?

১০৪২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪২


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ظِلِّ شَجَرَةٍ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ مِنَ أَجْلَفِ النَّاسِ وَأَشَدِّهِمْ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا: وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমরা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী এক স্থানে একটি গাছের ছায়ায় নবী (সাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন এক কর্কশ ও কঠোর প্রকৃতির বেদুইন এসে বললো, আসসালামু আলাইকুম। লোকজন বললো, ওয়া আলাইকুম।

১০৪৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪৩


حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ إِذَا سُلِّمَ عَلَيْهِ يَقُولُ: وَعَلَيْكَ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আবু হামযা (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে সালাম দেয়া হলে তার জবাবে আমি তাকে “ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলতে শুনেছি।

১০৪৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪৪


قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَتْ قَيْلَةُ: قَالَ رَجُلٌ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ»

কাইলা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বললো, আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ ওয়া আলাইকাস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহ। (ইবনে মানদা

১০৪৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪৫


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ، فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ حَيَّاهُ بِتَحِيَّةِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ: «وَعَلَيْكَ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ، مِمَّنْ أَنْتَ؟» قُلْتُ: مِنْ غِفَارٍ

আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি সবেমাত্র নামায পড়ে অবসর হয়েছেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তাকে ইসলামী রীতিতে সালাম দিয়েছে। তিনি বলেনঃ ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ। তুমি কোন গোত্রের লোক? আমি বললাম, গিফার গোত্রের। (মুসলিম)

১০৪৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪৬


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: قَالَ أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَائِشُ، هَذَا جِبْرِيلُ، وَهُوَ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلَامَ» ، قَالَتْ: فَقُلْتُ: وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، تَرَى مَا لَا أَرَى. تُرِيدُ بِذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ হে আয়েশা! ইনি জিবরাঈল (আঃ) তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি যা দেখতে পাই না আপনি তা দেখতে পান। আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে একথা বলেন। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

১০৪৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪৭


حَدَّثَنَا مَطَرٌ قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا بِسْطَامٌ قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ قَالَ: قَالَ لِي أَبِي: يَا بُنَيَّ، إِذَا مَرَّ بِكَ الرَّجُلُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَلَا تَقُلْ: وَعَلَيْكَ، كَأَنَّكَ تَخُصُّهُ بِذَلِكَ وَحْدَهُ، فَإِنَّهُ لَيْسَ وَحْدَهُ، وَلَكِنْ قُلِ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমার পিতা আমাকে বললেন, হে বৎস! কোন ব্যক্তি তোমাকে অতিক্রমকালে তোমাকে আসসালামু আলাইকুম বললে তুমি শুধু ‘ওয়া আলাইকা' (এবং তোমার উপরও) বলো না। কেননা তাতে কেবল তাকেই সালাম দিচ্ছে, অথচ সে একা নয়। বরং
তুমি বলবে, আসসালামু আলাইকুম।

৪৭৬.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সালামের জবাব দেয়নি।

১০৪৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪৮


حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي ذَرٍّ: مَرَرْتُ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أُمِّ الْحَكَمِ فَسَلَّمْتُ، فَمَا رَدَّ عَلَيَّ شَيْئًا؟ فَقَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، مَا يَكُونُ عَلَيْكَ مِنْ ذَلِكَ؟ رَدَّ عَلَيْكَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ، مَلَكٌ عَنْ يَمِينِهِ
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح الإسناد موقوفا على أبي ذر

আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবু যার (রাঃ)-কে বললাম, আমি উম্মুল হাকামের পুত্র আবদুর রহমানের নিকট দিয়ে যেতে তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে কোন উত্তরই দেননি। তিনি বলেন, হে ভাইপো! তাতে তোমার কিছু যায় আসে না। তার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি অর্থাৎ ডান পাশের ফেরেশতা তোমার সালামের উত্তর দিয়েছেন।

১০৪৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৪৯


حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: إِنَّ السَّلَامَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ، وَضَعَهُ اللَّهُ فِي الْأَرْضِ، فَأَفْشُوهُ بَيْنَكُمْ، إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا سَلَّمَ عَلَى الْقَوْمِ فَرَدُّوا عَلَيْهِ كَانَتْ لَهُ عَلَيْهِمْ فَضْلُ دَرَجَةٍ، لِأَنَّهُ ذَكَّرَهُمُ السَّلَامَ، وَإِنْ لَمْ يُرَدَّ عَلَيْهِ رَدَّ عَلَيْهِ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ وَأَطْيَبُ
---
[قال الشيخ الألباني] :
صحيح الإسناد موقوفا وصح مرفوعا

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সালাম হলো আল্লাহর নামসমূহের মধ্যকার একটি নাম। তিনি তা পৃথিবীতে রেখেছেন। অতএব তোমরা পরস্পরের মধ্যে তার ব্যাপক প্রসার করো। কোন ব্যক্তি কোন লোকসমষ্টিকে সালাম দিলে এবং তারা তার জবাব দিলে তাদের চেয়ে তার একটি মর্যাদা বেশী হয়। কেননা সে তাদের আস-সালামকে (শান্তিদাতাকে) স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যদি তারা তার সালামের উত্তর নাও দেয় তবে এমন একজন তার উত্তর দেন যিনি তার বা তাদের চেয়ে অধিক উত্তম ও পবিত্র। -(বাযযার, তাবারানী, ইবনে আবু শায়বাহ)

১০৫০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: التَّسْلِيمُ تَطَوَّعٌ، وَالرَّدُّ فَرِيضَةٌ

হাসান (র) থেকে বর্ণিতঃ

সালাম দেয়া হলো নফল (ঐচ্ছিক)। কিন্তু তার উত্তর দেয়া ফরয (বাধ্যতামূলক)।

৪৭৭.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে।

১০৫১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫১


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَلْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: الْكَذُوبُ مَنْ كَذَبَ عَلَى يَمِينِهِ، وَالْبَخِيلُ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلَامِ، وَالسَّرُوقُ مَنْ سَرَقَ الصَّلَاةَ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি শপথ করে মিথ্যা বলে সে সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী। যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে মারাত্মক কৃপণ। যে ব্যক্তি নামায চুরি করে সে বড়ো চোর।

১০৫২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫২


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَبْخَلُ النَّاسِ الَّذِي يَبْخَلُ بِالسَّلَامِ، وَإِنَّ أَعْجَزَ النَّاسِ مَنْ عَجَزَ بِالدُّعَاءِ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে, সে সবচাইতে বড়ো কৃপণ। যে ব্যক্তি দোয়া করার ব্যাপারে অক্ষম, সে সবচেয়ে বড়ো অক্ষম।

৪৭৮.

অনুচ্ছেদঃ শিশুদের সালাম দেয়া।

১০৫৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫৩


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُهُ بِهِمْ

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বালকদের নিকট দিয়ে যেতে তাদেরকে সালাম দেন এবং বলেন, নবী (সাঃ) তাদের সাথে তাই করতেন। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)

১০৫৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫৪


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عَنْبَسَةَ قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يُسَلِّمُ عَلَى الصِّبْيَانِ فِي الْكُتَّابِ

আনবাসা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনে উমার (রাঃ)-কে মক্তবের বালকদের সালাম দিতে দেখেছি।

৪৭৯.

অনুচ্ছেদঃ স্ত্রীলোকদের পুরুষ লোককে সালাম দেয়া।

১০৫৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫৫


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى أُمِّ هَانِئِ ابْنَةِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ تَقُولُ: ذَهَبْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَغْتَسِلُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: «مَنْ هَذِهِ؟» فَقُلْتُ: أُمُّ هَانِئٍ، قَالَ: «مَرْحَبًا بِأُمِّ هَانِئٍ»

উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি তখন গোসল করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কে এই মহিলা ? আমি বললাম, উম্মু হানী। তিনি বলেনঃ মারহাবা-স্বাগতম। (বুখারী, মুসলিম)

১০৫৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫৬


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ: كُنَّ النِّسَاءُ يُسَلِّمْنَ عَلَى الرِّجَالِ

মুবারক (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি হাসান বসরী (র)-কে বলতে শুনেছিঃ নারীরা পুরুষদেরকে সালাম দিতেন ।

৪৮০.

অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের সালাম দেয়া।

১০৫৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫৭


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَسْمَاءَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ فِي الْمَسْجِدِ، وَعُصْبَةٌ مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ، قَالَ بِيَدِهِ إِلَيْهِنَّ بِالسَّلَامِ، فَقَالَ: «إِيَّاكُنَّ وَكُفْرَانَ الْمُنْعِمِينَ، إِيَّاكُنَّ وَكُفْرَانَ الْمُنْعِمِينَ» ، قَالَتْ إِحْدَاهُنَّ: نَعُوذُ بِاللَّهِ، يَا نَبِيَّ اللَّهِ، مِنْ كُفْرَانِ نِعَمِ اللَّهِ، قَالَ: " بَلَى إِنَّ إِحْدَاكُنَّ تَطُولُ أَيْمَتُهَا، ثُمَّ تَغْضَبُ الْغَضْبَةَ فَتَقُولُ: وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مِنْهُ سَاعَةً خَيْرًا قَطُّ، فَذَلِكَ كُفْرَانُ نِعَمِ اللَّهِ، وَذَلِكَ كُفْرَانُ نِعَمِ الْمُنْعِمِينَ "

আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) মসজিদের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন একদল মহিলা তথায় বসা ছিলেন। তিনি হাতের ইশারায় তাদেরকে সালাম দেয়ার পর বলেনঃ তোমরা নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও, তোমরা নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহর নবী। আমরা আল্লাহর কাছে তার দেয়া নিয়ামতরাজির প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। তিনি বলেনঃ হাঁ, তোমাদের কোন নারীর স্বামীর বিরহ-যন্ত্রনা দীর্ঘায়িত হলে সে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে বলে, আল্লাহর শপথ! আমি কখনো সামান্য সময়ের জন্যও তার থেকে কোন ভালো ব্যবহার পাইনি। এটাই হলো আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং এটাই হলো নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ হা/২৮১৪১)

১০৫৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫৮


حَدَّثَنَا مَخْلَدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَشِّرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ ابْنِ أَبِي غَنِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ ابْنَةِ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيَّةِ، مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا فِي جِوَارِ أَتْرَابٍ لِي، فَسَلَّمَ عَلَيْنَا وَقَالَ: «إِيَّاكُنَّ وَكُفْرَ الْمُنْعِمِينَ» ، وَكُنْتُ مِنْ أَجْرَئِهِنَّ عَلَى مَسْأَلَتِهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا كُفْرُ الْمُنْعِمِينَ؟ قَالَ: " لَعَلَّ إِحْدَاكُنَّ تَطُولُ أَيْمَتُهَا مِنْ أَبَوَيْهَا، ثُمَّ يَرْزُقُهَا اللَّهُ زَوْجًا، وَيَرْزُقُهَا مِنْهُ وَلَدًا، فَتَغْضَبُ الْغَضْبَةَ فَتَكْفُرُ فَتَقُولُ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ "

আসমা বিনতে ইয়াযীদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) আমাকে অতিক্রম করলেন। আমি তখন আমাদের মহিলাদের সাথে বসা ছিলাম। তিনি আমাদেরকে সালাম দেয়ার পর বলেনঃ নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও। নারীদের মধ্যে আমি তার নিকট প্রশ্ন করতে খুবই নির্ভীক ছিলাম। অতএব আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিআমতপ্রাপ্তদের অকৃজ্ঞতা কি? তিনি বলেনঃ হয়তো তোমাদের কারো পিতা-মাতার ঘরে অবিবাহিত অবস্থায় দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়। অতঃপর আল্লাহ তাকে স্বামী দান করেন এবং তার ঔরসে তাকে সন্তানাদি দান করেন। তারপরও সে খুব অসন্তুষ্ট হয়ে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং বলে, আমি তোমার নিকট কখনো ভালো ব্যবহার পেলাম না (আহমাদ হা/২৮১১৩) ।

৪৮১.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি (অনেকের মধ্যে) কাউকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেয়া অপছন্দ করে।

১০৫৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৫৯


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ، عَنْ طَارِقٍ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ جُلُوسًا، فَجَاءَ آذِنُهُ فَقَالَ: قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ، فَقَامَ وَقُمْنَا مَعَهُ، فَدَخَلْنَا الْمَسْجِدَ، فَرَأَى النَّاسَ رُكُوعًا فِي مُقَدَّمِ الْمَسْجِدِ، فَكَبَّرَ وَرَكَعَ، وَمَشَيْنَا وَفَعَلْنَا مِثْلَ مَا فَعَلَ، فَمَرَّ رَجُلٌ مُسْرِعٌ فَقَالَ: عَلَيْكُمُ السَّلَامُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ: صَدَقَ اللَّهُ، وَبَلَّغَ رَسُولُهُ، فَلَمَّا صَلَّيْنَا رَجَعَ، فَوَلَجَ عَلَى أَهْلِهِ، وَجَلَسْنَا فِي مَكَانِنَا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى يَخْرُجَ، فَقَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ: أَيُّكُمْ يَسْأَلُهُ؟ قَالَ طَارِقٌ: أَنَا أَسْأَلُهُ، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ: تَسْلِيمُ الْخَاصَّةِ، وَفُشُوُّ التِّجَارَةِ حَتَّى تُعِينَ الْمَرْأَةُ زَوْجَهَا عَلَى التِّجَارَةِ، وَقَطْعُ الْأَرْحَامِ، وَفُشُوُّ الْقَلَمِ، وَظُهُورُ الشَّهَادَةِ بِالزُّورِ، وَكِتْمَانُ شَهَادَةِ الْحَقِّ "

তারিক ইবনে শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা আবদুল্লাহ (রাঃ)-র নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় তার সংবাদ বাহক এসে বললো যে, নামাযের জামাআত শুরু হয়ে গেছে। অতএব তিনিও উঠলেন এবং আমরাও তার সাথে উঠে মসজিদে প্রবেশ করলাম। তিনি লোকদেরকে মসজিদে সম্মুখভাগে রুকু অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বলে রুকূ করলেন। আমরাও সামনে অগ্রসর হয়ে তার অনুরূপ করলাম। এক ব্যক্তি দ্রুতবেগে যেতে যেতে বললো, হে আবদুর রহমানের পিতা! আসসালামু আলাইকুম। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন এবং তার রাসূল (সাঃ) পূর্ণরূপে পৌছে দিয়েছেন। আমরা নামায শেষ করলে তিনি ফিরে গিয়ে তার অন্দরমহলে চলে গেলেন এবং আমরা তার (ফিরে আসার) অপেক্ষায় স্বস্থানে বসে থাকলাম। শেষে তিনি বের হয়ে এলেন। আমাদের কতক কতককে বললো, তোমাদের কে তাঁকে জিজ্ঞেস করবে? তারিক (র) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করবো। অতএব তিনি জিজ্ঞেস করলে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামতের নিকটবর্তী কালে লোক বিশেষকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেয়ার প্রচলন হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, ফলে স্বামীর ব্যবসায়ে স্ত্রীও সহযোগিতা করবে। রক্ত সম্পৰ্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটবে, মিথ্যা সাক্ষ্যদানের প্রচলন হবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হবে। (আহমদ ৩৮৭০)

১০৬০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : পরস্পর সালাম বিনিময়

হাদীস নং : ১০৬০


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, কোন ইসলাম উত্তম? তিনি বলেনঃ তোমার পরিচিত ও অপরিচিতজনকে তোমার আহার করানো এবং সালাম দেয়া। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)