All books

আদাবুল মুফরাদ (০ টি হাদীস)

১৩ কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক ৮৬৪ - ৯২৬

৩৮১.

অনুচ্ছেদঃ কোন কোন কবিতায় প্রজ্ঞা নিহিত আছে।

৮৬৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৬৪


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ خَالِدٍ هُوَ ابْنُ كَيْسَانَ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ، فَوَقَفَ عَلَيْهِ إِيَاسُ بْنُ خَيْثَمَةَ قَالَ: أَلَا أُنْشِدُكَ مِنْ شِعْرِي يَا ابْنَ الْفَارُوقِ؟ قَالَ: بَلَى، وَلَكِنْ لَا تُنْشِدْنِي إِلَّا حَسَنًا. فَأَنْشَدَهُ حَتَّى إِذَا بَلَغَ شَيْئًا كَرِهَهُ ابْنُ عُمَرَ، قَالَ لَهُ: أَمْسِكْ

খালিদ ইবনে কায়সান (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইবনে উমার (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন ইয়াস ইবনে খায়ছামা (র) তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, হে ফারুক তনয়! আমার কিছু কবিতা কি আপনাকে আবৃত্তি করে শুনাবো? তিনি বলেন, হাঁ, তবে কেবল উত্তম কবিতাই শুনাবে। তিনি তাকে তা আবৃত্তি করে শুনাতে থাকেন। পরে কবিতায় ইবনে উমার (রাঃ)-এর অপছন্দনীয় কিছু এলে তিনি বলেন, এবার থামো।

৮৬৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৬৫


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعَ مُطَرِّفًا قَالَ: صَحِبْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ مِنَ الْكُوفَةِ إِلَى الْبَصْرَةِ، فَقَلَّ مَنْزِلٌ يَنْزِلُهُ إِلَّا وَهُوَ يُنْشِدُنِي شِعْرًا، وَقَالَ: إِنَّ فِي الْمَعَارِيضِ لَمَنْدُوحَةٌ عَنِ الْكَذِبِ

কাতাদা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি মুতাররিফ (র)-কে বলতে শুনেছি, আমি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ)-এর সাথে কূফা থেকে বসরা পর্যন্ত সফর করেছি। খুব কম মনযিলই এমন ছিল যেখানে তিনি যাত্রাবিরতি করেছেন, অথচ আমাকে কবিতা পড়ে শুনাননি। তিনি বলেন, পরোক্ষ বচন মিথ্যাকে এড়ানোর নিরাপদ উপায়।

৮৬৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৬৬


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً»

উবাই ইবনে কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ নিশ্চয় কোন কোন কবিতায় জ্ঞানের কথাও থাকে।

৮৬৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৬৭


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ مُحَمَّدُ بْنُ الزِّبْرِقَانِ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي مَدَحْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ بِمَحَامِدَ، قَالَ: «أَمَا إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْحَمْدَ» ، وَلَمْ يَزِدْهُ عَلَى ذَلِكَ

আল-আসওয়াদ ইবনে সারী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি (স্বরচিত কবিতায়) নানাভাবে মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করেছি। তিনি বলেনঃ শোনো! তোমার প্রভু তার প্রশংসা অত্যন্ত পছন্দ করেন। তিনি এর বেশী আর কিছু বলেননি।

৮৬৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৬৮


حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ رَجُلٍ قَيْحًا حَتَّى يَرِيَهُ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ নিজের পেট কবিতা দ্বারা ভর্তি করার তুলনায় পুঁজ দ্বারা ভর্তি করা যে কোন ব্যক্তির জন্য উত্তম। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

৮৬৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৬৯


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ قَالَ: كُنْتُ شَاعِرًا، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: أَلَا أُنْشِدُكَ مَحَامِدَ حَمِدْتُ بِهَا رَبِّي؟ قَالَ: «إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْمَحَامِدَ» ، وَلَمْ يَزِدْنِي عَلَيْهِ

আল-আসওয়াদ ইবনে সারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ছিলাম কবি। অতএব আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললাম, আমি যে কবিতার মাধ্যমে আমার প্রভুর প্রশংসা করেছি তা দ্বারা কি আপনার প্রশংসা করতে পারি না? তিনি বলেনঃ নিশ্চয় তোমার প্রভু প্রশংসা পছন্দ করেন। তিনি আমাকে এর অতিরিক্ত কিছু বলেননি।

৮৭০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭০


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ قَالَ: أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتِ: اسْتَأْذَنَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هِجَاءِ الْمُشْرِكِينَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَكَيْفَ بِنِسْبَتِي؟» فَقَالَ: لَأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعْرَةُ مِنَ الْعَجِينِ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হাসসান ইবনে ছাবিত (রাঃ) (কবিতার মাধ্যমে) মুশরিকদের নিন্দা প্রচার করার জন্য নবী (সাঃ)-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি বলেনঃ আমার বংশকে কি করবে? হাসসান (রাঃ) বলেন, আটার খামীর থেকে চুলকে যেভাবে টেনে বের করা হয় সেভাবে আমি আপনাকে তাদের থেকে আলাদা করে নিবো। (বুখারী, মুসলিম)

৮৭১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭১


وَعَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: ذَهَبْتُ أَسُبُّ حَسَّانَ عِنْدَ عَائِشَةَ، فَقَالَتْ: لَا تَسُبَّهُ، فَإِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

হিশাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আয়েশা (রাঃ)-এর সামনে হাসসান (রাঃ)-কে ভর্ৎসনা করতে উদ্যত হলাম। তিনি বলেন, তাকে ভর্ৎসনা করো না। কেননা সে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পক্ষ থেকে (কবিতার মাধ্যমে) দুশমনদেরকে প্রতিহত করেছে। (বুখারী, মুসলিম)

৩৮২.

অনুচ্ছেদঃ উত্তম কথার ন্যায় উত্তম কবিতাও আছে, নিকৃষ্ট কবিতাও আছে।

৮৭২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭২


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ زِيَادٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةٌ»

উবাই ইবনে কাব (রা) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ নিশ্চয় কোন কোন কবিতায় জ্ঞানের কথাও থাকে। (বুখারী,আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ)

৮৭৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭৩


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الشِّعْرُ بِمَنْزِلَةِ الْكَلَامِ، حَسَنُهُ كَحَسَنِ الْكَلَامِ، وَقَبِيحُهُ كَقَبِيحِ الْكَلَامِ»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ কবিতাও কথারই মত (কথার সমষ্টি)। রুচি সম্মত কবিতা উত্তম কথাতুল্য এবং কুরুচিপূর্ণ কবিতা কুরুচিপূর্ণ কথাতুল্য। (দার)

৮৭৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭৪


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ تَلِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَغَيْرُهُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ: الشِّعْرُ مِنْهُ حَسَنٌ وَمِنْهُ قَبِيحٌ، خُذْ بِالْحَسَنِ وَدَعِ الْقَبِيحَ، وَلَقَدْ رَوَيْتُ مِنْ شِعْرِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَشْعَارًا، مِنْهَا الْقَصِيدَةُ فِيهَا أَرْبَعُونَ بَيْتًا، وَدُونَ ذَلِكَ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলতেন, কবিতার মধ্যে কতক ভালো এবং কতক নিকৃষ্ট। তুমি তার ভালোটা গ্রহণ করে এবং নিকৃষ্টটা পরিহার করো। আমার কাছে কাব ইবনে মালেক (রাঃ)-এর এমন কবিতাও বর্ণনা করা হয়েছে, যার মধ্যকার একটি কাসীদায় চল্লিশ বা তার কিছু কম সংখ্যক চরণ ছিলো।

৮৭৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭৫


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَمَثَّلُ بِشَيْءٍ مِنَ الشِّعْرِ؟ فَقَالَتْ: كَانَ يَتَمَثَّلُ بِشَيْءٍ مِنْ شِعْرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ: «وَيَأْتِيكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوِّدِ»

মিকদাম ইবনে শুরায়হ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কি উপমা দেয়ার জন্য কবিতা পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার এ কবিতা আবৃত্তি করে উপমা দিতেনঃ “যাকে তুমি দাওনি তোশা, খবর আনবে সে নিশ্চয়”। -(তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, তাহাবী)

৮৭৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭৬


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، أَنَّ الْأَسْوَدَ بْنَ سَرِيعٍ حَدَّثَهُ قَالَ: كُنْتُ شَاعِرًا فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، امْتَدَحْتُ رَبِّي، فَقَالَ: «أَمَا إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْحَمْدَ» ، وَمَا اسْتَزَادَنِي عَلَى ذَلِكَ

আল-আসওয়াদ ইবনে সারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ছিলাম কবি। অতএব আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললাম, আমি যে কবিতার মাধ্যমে আমার প্রভুর প্রশংসা করেছি তা দ্বারা কি আপনার
প্রশংসা করতে পারি না? তিনি বলেনঃ “নিশ্চয় তোমার প্রভু প্রশংসা পছন্দ করেন”। তিনি আমাকে এর অধিক কিছু বলেননি। (তাহাবীর কিতাবুল কারাহিয়্যা)

৩৮৩.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কবিতা আবৃত্তির আবদার করে।

৮৭৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭৭


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْلَى قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الشَّرِيدِ، عَنِ الشَّرِيدِ قَالَ: اسْتَنْشَدَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِعْرَ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ، وَأَنْشَدْتُهُ، فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «هِيهِ، هِيهِ» حَتَّى أَنْشَدْتُهُ مِائَةَ قَافِيَةٍ، فَقَالَ: «إِنْ كَادَ لَيُسْلِمُ»

আশ-শারীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) আমাকে কবি উমাইয়্যা ইবনে আবুস সালতের কবিতা আবৃত্তি করে তাঁকে শুনাতে বলেন। আমি তাঁকে তা আবৃত্তি করে শুনলাম। নবী (সাঃ) বলতে থাকলেনঃ চালাতে থাকো, চালাতে থাকো। শেষ পর্যন্ত আমি তাঁকে এক শত চরণ আবৃত্তি করে শুনালাম। তিনি বলেনঃ সে তো প্রায় মুসলমান হয়েই গিয়েছিলো। -(মুসলিম, ইবনে মাজাহ, দারিমী, ইবনে খুজাইমাহ, আহমাদ, তাহাবী)

৩৮৪.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কবিতা নিয়ে ব্যস্ত থাকা নিন্দনীয় মনে করে।

৮৭৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭৮


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ: أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لِأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا»

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ নিজের পেট কবিতা দ্বারা ভর্তি করার তুলনায় পুঁজ দ্বারা ভর্তি করা যে কোন ব্যক্তির জন্য উত্তম। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

৩৮৫.

অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ “কবিগণ, কেবল পথভ্রষ্টরাই তাদের অনুগামী হয়” (২৬ : ২২৪)।

৮৭৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৭৯


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: {وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ} [الشعراء: 224] إِلَى قَوْلِهِ: {وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ} [الشعراء: 226] ، فَنَسَخَ مِنْ ذَلِكَ وَاسْتَثْنَى فَقَالَ: {إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا} [الشعراء: 227] إِلَى قَوْلِهِ: {يَنْقَلِبُونَ} [الشعراء: 227]

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

“বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে। তুমি কি দেখো না যে, তারা প্রতিটি ময়দানে উদভ্ৰান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং এমন কথা বলে যা তারা করে না” (সূরা শুআরাঃ ২২৪-২২৫)? উপরোক্ত অংশ (মহামহিম আল্লাহ) মানসূখ (রহিত) করেছেন এবং নিম্নোক্ত অংশ ব্যতিক্রম করেছেন, মহান আল্লাহ বলেনঃ “তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, আল্লাহকে পর্যাপ্ত স্মরণ করে এবং নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নির্যাতনকারী অচিরেই জানতে পারবে তাদের গন্তব্য কিরূপ” (সূরা শুআরাঃ ২২৭)। (আবু দাউদ)

৩৮৬.

অনুচ্ছেদঃ যে বলে, কথায়ও যাদুকরী প্রভাব থাকে।

৮৮০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮০


حَدَّثَنَا عَارِمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلًا - أَوْ أَعْرَابِيًّا - أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّمَ بِكَلَامٍ بَيِّنٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا، وَإِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً»

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বা এক বেদুইন নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় কথাবার্তা বললো। নবী (সাঃ) বলেনঃ কথায়ও যাদুকরী প্রভাব থাকে এবং কবিতাও প্রজ্ঞাপূর্ণ হতে পারে। (আবু দাউদ,তিরমিযী,ইবনে মাজাহ,আহমাদ, ইবনে হিব্বান,তহাকিম)

৮৮১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮১


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنِي مَعْنٌ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سَلَّامٍ، أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ دَفَعَ وَلَدَهُ إِلَى الشَّعْبِيِّ يُؤَدِّبُهُمْ، فَقَالَ: عَلِّمْهُمُ الشِّعْرَ يَمْجُدُوا وَيُنْجِدُوا، وَأَطْعِمْهُمُ اللَّحْمَ تَشْتَدُّ قُلُوبُهُمْ، وَجُزَّ شُعُورَهُمْ تَشْتَدُّ رِقَابُهُمْ، وَجَالِسْ بِهِمْ عِلْيَةَ الرِّجَالِ يُنَاقِضُوهُمُ الْكَلَامَ

উমার ইবনে সালাম (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান তার সন্তানদের আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়ার জন্য শাবী (র)-এর নিকট সোপর্দ করেন। তিনি বলেন, এদের কবিতা শিক্ষা দিন, তাতে তারা উচ্চাভিলাসী ও নির্ভীক হবে, এদের গোশত খাওয়ান, তাতে তাদের হৃদয়ের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এদের মস্তক মুণ্ডন করান, তাতে তাদের ঘাড় শক্ত হবে এবং এদের নিয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের সমাবেশে বসুন। তাতে তাদের সাথে বাক্য বিনিময়ে তারা কথা বলার কৌশল আয়ত্ত করতে পারবে। -(তারীখুল কাবীর, আবু হাতেম, ইবনে হিব্বান)

৩৮৭.

অনুচ্ছেদঃ নিন্দনীয় কবিতা।

৮৮২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮২


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ جُرْمًا إِنْسَانٌ شَاعِرٌ يَهْجُو الْقَبِيلَةَ مِنْ أَسْرِهَا، وَرَجُلٌ انْتَفَى مِنْ أَبِيهِ»

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ মানুষের মধ্যে মারাত্মক অপরাধী হলো সেই কবি যে সমগ্র গোত্রের নিন্দা করে এবং যে ব্যক্তি নিজ পিতাকে অস্বীকার করে। -(ইবনে মাজাহ হা/৩৭৬১)

৩৮৮.

অনুচ্ছেদঃ বাচালতা।

৮৮৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮৩


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ: قَدِمَ رَجُلَانِ مِنَ الْمَشْرِقِ خَطِيبَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَا فَتَكَلَّمَا ثُمَّ قَعَدَا، وَقَامَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ، خَطِيبُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّمَ، فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِهِمَا، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، قُولُوا قَوْلَكُمْ، فَإِنَّمَا تَشْقِيقُ الْكَلَامِ مِنَ الشَّيْطَانِ» ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا»

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর যুগে প্রাচ্য থেকে দুই বাগ্মী পুরুষ (মদীনায়) আসে। তারা দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করলো, অতঃপর বসলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বক্তা সাবিত ইবনে কায়েস (রাঃ) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। কিন্তু লোকজন পূর্বের দুই বক্তার বক্তৃতায়ই অভিভূত হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বলেনঃ হে জনগণ! নিজেদের কথা বলো। কেননা মারপ্যাচের কথা বলা শয়তানের অভ্যাস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ কোন কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে। -(বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)

৮৮৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮৪


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا يَقُولُ: خَطَبَ رَجُلٌ عِنْدَ عُمَرَ فَأَكْثَرَ الْكَلَامَ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّ كَثْرَةَ الْكَلَامِ فِي الْخُطَبِ مِنْ شَقَاشِقِ الشَّيْطَانِ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি উমার (রাঃ)-র সামনে দীর্ঘ বক্তৃতা করলো। উমার (রাঃ)
বলেন, বক্তৃতায় লম্বা-চওড়া কথা বলা শয়তানের কাজ।

৮৮৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮৫


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي سُهَيْلُ بْنُ ذِرَاعٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا يَزِيدَ أَوْ مَعْنَ بْنَ يَزِيدَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اجْتَمِعُوا فِي مَسَاجِدِكُمْ، وَكُلَّمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فَلْيُؤْذِنُونِي» ، فَأَتَانَا أَوَّلَ مَنْ أَتَى، فَجَلَسَ، فَتَكَلَّمَ مُتَكَلِّمٌ مِنَّا، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ الَّذِي لَيْسَ لِلْحَمْدِ دُونَهُ مَقْصَدٌ، وَلَا وَرَاءَهُ مَنْفَذٌ. فَغَضِبَ فَقَامَ، فَتَلَاوَمْنَا بَيْنَنَا، فَقُلْنَا: أَتَانَا أَوَّلَ مَنْ أَتَى، فَذَهَبَ إِلَى مَسْجِدٍ آخَرَ فَجَلَسَ فِيهِ، فَأَتَيْنَاهُ فَكَلَّمْنَاهُ، فَجَاءَ مَعَنَا فَقَعَدَ فِي مَجْلِسِهِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ مَجْلِسِهِ، ثُمَّ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي مَا شَاءَ جَعَلَ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَمَا شَاءَ جَعَلَ خَلْفَهُ، وَإِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا» ، ثُمَّ أَمَرَنَا وَعَلَّمَنَا

আবু ইয়াযীদ অথবা মান ইবনে ইয়াযীদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলে পাঠানঃ তোমরা তোমাদের মসজিসমূহে একত্র হও। লোকজন একত্র হলে তারা যেন আমাকে খবর দেয়। অতঃপর আগমনকারী প্রথমে আমাদের মসজিদে আসেন এবং বসেন। তখন আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলেন। তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যাঁর প্রশংসা দ্বারা একমাত্র তাঁর সত্তা ছাড়া আর কিছুই কাম্য নয়। আর তিনি ছাড়া পালিয়ে যাবার অন্য কোন ঠাই নাই। এতে নবী (সাঃ) অসন্তুষ্ট হন এবং উঠে চলে যান। আমরা এজন্য পরস্পরকে দোষারোপ করে বললাম, আগন্তুক তো প্রথমেই আমাদের মসজিদে আসেন (আর আমরা তাঁকে অসন্তুষ্ট করলাম)। অতঃপর তিনি অন্য এক মসজিদে গিয়ে সেখানে বসেন। আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট (ক্ষমা চাইলাম)। অতএব তিনি আমাদের সাথে ফিরে এলেন এবং তাঁর আগের জায়গায় বা তার সন্নিকটে বসেন, অতঃপর বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি যা ইচ্ছা তাঁর সম্মুখে করেন এবং যা ইচ্ছা তাঁর পশ্চাতে করেন। আর কোন কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে। অতঃপর তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে ওয়াজ-নসীহত করেন এবং জ্ঞান দান করেন। (আহমাদ হা/১৫৯৫৫)

৩৮৯.

অনুচ্ছেদঃ আশা-আকাঙ্ক্ষা।

৮৮৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮৬


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ يَقُولُ: قَالَتْ عَائِشَةُ: أَرِقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَالَ: «لَيْتَ رَجُلًا صَالِحًا مِنْ أَصْحَابِي يَجِيئُنِي فَيَحْرُسَنِي اللَّيْلَةَ» ، إِذْ سَمِعْنَا صَوْتَ السِّلَاحِ، فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟» قَالَ: سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ، جِئْتُ أَحْرُسُكَ، فَنَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى سَمِعْنَا غَطِيطَهُ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক রাতে নবী (সাঃ)-এর ঘুম আসছিলো না। তিনি বলেন, আহা! আমার সাহাবীদের মধ্যকার কোন সৎকর্মশীল ব্যক্তি এসে এই রাতটুকু যদি আমাকে পাহারা দিতো। তৎক্ষণাৎ আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কে এই লোক? বলা হলো, সাদ। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি। অতঃপর নবী (সাঃ) ঘুমিয়ে গেলেন, এমনকি আমরা তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। -(বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, আবু দাউদ)

৩৯০.

অনুচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি, বস্তু বা ঘোড়াকে ‘সমুদ্র’ অভিহিত করা।

৮৮৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮৭


حَدَّثَنَا آدَمُ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: كَانَ فَزَعٌ بِالْمَدِينَةِ، فَاسْتَعَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا لِأَبِي طَلْحَةَ، يُقَالُ لَهُ: الْمَنْدُوبُ، فَرَكِبَهُ، فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ: «مَا رَأَيْنَا مِنْ شَيْءٍ، وَإِنْ وَجَدْنَاهُ لَبَحْرًا»

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা মদীনায় (বিকট শব্দ হলে) ভীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। নবী (সাঃ) আবু তালহা (রাঃ)-র মানদূৰ নামের ঘোড়াটি ধার নিয়ে তাতে চড়ে সেদিকে
গেলেন। অতঃপর ফিরে এসে বলেনঃ তেমন কিছু তো দেখলাম না। আর ঘোড়াটি তো দেখছি সমুদ্রবৎ (দ্রুতগামী)। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

৩৯১.

অনুচ্ছেদঃ ভাষাগত ভুলের জন্য প্রহার করা।

৮৮৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮৮


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَضْرِبُ وَلَدَهُ عَلَى اللَّحْنِ

নাফে (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে উমার (রাঃ) তার ছেলেকে উচ্চারণের ভুলের জন্য প্রহার করতেন। (আবু দাউদ)

৮৮৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৮৯


حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ كَثِيرٍ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَجْلَانَ قَالَ: مَرَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِرَجُلَيْنِ يَرْمِيَانِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ: أسَبْتَ، فَقَالَ عُمَرُ: سُوءُ اللَّحْنِ أَشَدُّ مِنْ سُوءِ الرَّمْيِ

আবদুর রহমান ইবনে আজলান (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার (রাঃ) দুই ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখন তীর নিক্ষেপ করছিল। তাদের একজন অপরজনকে বললো, ......... (শুদ্ধ ..............) অর্থাৎ তুমি নির্ভুল তীর ছুঁড়েছো। উমার (রাঃ) বলেন, উচ্চারণের ভুল তীর নিক্ষেপে ভুল করার চেয়েও মারাত্মক। (ইবনে আদী)

৩৯২.

অনুচ্ছেদঃ কেউ বলে, এটা কিছুই না অর্থাৎ এটা সঠিক বা যথার্থ কিছু নয়।

৮৯০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯০


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ: قَالَتْ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَأَلَ نَاسٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْكُهَّانِ، فَقَالَ لَهُمْ: «لَيْسُوا بِشَيْءٍ» ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّهُمْ يُحَدِّثُونَ بِالشَّيْءِ يَكُونُ حَقًّا؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تِلْكَ الْكَلِمَةُ مِنَ الْحَقِّ يَخْطَفُهَا الشَّيْطَانُ، فَيُقَرْقِرُهُ بِأُذُنَيْ وَلِيِّهِ كَقَرْقَرَةِ الدَّجَاجَةِ، فَيَخْلِطُونَ فِيهَا بِأَكْثَرَ مِنْ مِائَةِ كِذْبَةٍ»

নবী (সাঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

লোকজন নবী (সাঃ)-এর নিকট গণকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তিনি তাদের বলেনঃ তারা কিছুই না। লোকজন আবার বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা এমন কিছুও বলে যা সঠিক হতে দেখা যায়। নবী (সাঃ) বলেনঃ সেটা শয়তানের লুফে নেয়া কথা (আসমানবাসী থেকে)। সে তার বন্ধুদের দুই কানে মুরগীর ডাকের মত তা পৌঁছে দেয়। অতঃপর সেই গণক তার সাথে শত মিথ্যা যোগ করে। (বুখারী, মুসলিম)

৩৯৩.

অনুচ্ছেদঃ বিপরীতাৰ্থক উপমা।

৮৯১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯১


حَدَّثَنَا آدَمُ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَسِيرٍ لَهُ، فَحَدَا الْحَادِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ارْفُقْ يَا أَنْجَشَةُ - وَيْحَكَ - بِالْقَوَارِيرِ»

আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর এক সফরে ছিলেন। চালক হুদী গান গেয়ে (জতুযান হাঁকিয়ে নিয়ে) যাচ্ছিল। নবী (সাঃ) বলেনঃ হে আনজাশা! তোমার জন্য আফসোস, সদয় হও কাঁচপাত্রগুলোর ব্যাপারে। (বুখারী, মুসলিম)

৮৯২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯২


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ أَبِي: حَدَّثَنَا ابْنُ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ - فِيمَا أَرَى شَكَّ أَبِي - أَنَّهُ قَالَ: حَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الْكَذِبِ أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ
قَالَ: وَفِيمَا أَرَى قَالَ: قَالَ عُمَرُ: أَمَا فِي الْمَعَارِيضِ مَا يَكْفِي الْمُسْلِمَ مِنَ الْكَذِبِ

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতোটুকু যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই নির্বিচারে বলে বেড়ায়। উমার (রাঃ) আরো বলেন, পরোক্ষ বচন মুসলমানের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (হাকিম)

৮৯৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯৩


حَدَّثَنَا آدَمُ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ قَالَ: صَحِبْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ إِلَى الْبَصْرَةِ، فَمَا أَتَى عَلَيْنَا يَوْمٌ إِلَّا أَنْشَدْنَا فِيهِ الشِّعْرَ، وَقَالَ: إِنَّ فِي مَعَارِيضِ الْكَلَامِ لَمَنْدُوحَةٌ عَنِ الْكَذِبِ

মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুস শিখখীর (র) থেকে বর্ণিতঃ

বসরা যেতে আমি ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ)-র সফরসংগী হলাম। সফরে প্রতি দিনই তিনি আমাদের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, পরোক্ষ বচন মিথ্যাকে এড়ানোর নিরাপদ উপায়।

৩৯৪.

অনুচ্ছেদঃ গোপনীয় বিষয় ফাঁস করে দেয়া।

৮৯৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯৪


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: عَجِبْتُ مِنَ الرَّجُلِ يَفِرُّ مِنَ الْقَدَرِ وَهُوَ مُوَاقِعُهُ، وَيَرَى الْقَذَاةَ فِي عَيْنِ أَخِيهِ وَيَدَعُ الْجِذْعَ فِي عَيْنِهِ، وَيُخْرِجُ الضَّغْنَ مِنْ نَفْسِ أَخِيهِ وَيَدَعُ الضَّغْنَ فِي نَفْسِهِ، وَمَا وَضَعْتُ سِرِّي عِنْدَ أَحَدٍ فَلُمْتُهُ عَلَى إِفْشَائِهِ، وَكَيْفَ أَلُومُهُ وَقَدْ ضِقْتُ بِهِ ذَرْعًا؟

আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি তাকদীর থেকে পলায়ন করে তার সম্পর্কে আমার অবাক লাগে। কারণ তাকদীরের সাথে তার সাক্ষাত ঘটবেই। সে তার (অপর মুসলিম) ভাইয়ের চোখে পতিত সামান্য ময়লাটুকুও দেখতে পায় কিন্তু নিজ চোখে পতিত গাছের গুঁড়িও দেখে না। সে তার ভাইয়ের অন্তর থেকে ঘৃণা-বিদ্বেষ বের করার প্রয়াস পায়, অথচ নিজের অন্তরের বিদ্বেষ ত্যাগ করে না। আমি কারো কাছে আমার গোপনীয় বিষয় বলবো, আর তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার জন্য তাকে তিরস্কার করবো, এটা হতে পারে না। যে গোপনীয়তা চেপে রাখতে আমি সমর্থ হয়নি, তার (ফাঁস হয়ে যাওয়ার) জন্য অপরকে কিভাবে তিরস্কার করতে পারি? (ইবনে হিব্বান)

৩৯৫.

অনুচ্ছেদঃ ঠাট্টা-বিদ্ধপ। মহামহিম আল্লাহর বাণীঃ “একদল অপর দলকে যেন ঠাট্টা-বিদ্রুপ না করে” (৪৯ : ১১)।

৮৯৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯৫


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَرَّ رَجُلٌ مُصَابٌ عَلَى نِسْوَةٍ، فَتَضَاحَكْنَ بِهِ يَسْخَرْنَ، فَأُصِيبَ بَعْضُهُنَّ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি কতক নারীকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল। তাকে দেখে তারা বিদ্রুপাত্মক হাসি হাসলো। ফলে তাদের কেউ কেউ বিপদগ্রস্ত হলো। (তাবারী, তাবারানী, ইবনে আদী, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান)

৩৯৬.

অনুচ্ছেদঃ কাজকর্মে ধীরস্থিরতা।

৮৯৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯৬


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَلِيٍّ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ أَبِي، فَنَاجَى أَبِي دُونِي، قَالَ: فَقُلْتُ لِأَبِي: مَا قَالَ لَكَ؟ قَالَ: «إِذَا أَرَدْتَ أَمْرًا فَعَلَيْكَ بِالتُّؤَدَةِ حَتَّى يُرِيَكَ اللَّهُ مِنْهُ الْمَخْرَجَ، أَوْ حَتَّى يَجْعَلَ اللَّهُ لَكَ مَخْرَجًا»

যুহরী (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এলাম। আমার পিতা আমাকে বাদ দিয়ে (মহানবীর সাথে) একান্তে আলাপ করলেন। রাবী বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, তিনি আপনাকে কি বলেছেন? তিনি বলেছেনঃ “তুমি কোন কাজ করার মনস্থ করলে ধীরস্থিরভাবে অগ্রসর হবে, যাবত না আল্লাহ তোমাকে তা থেকে নির্গমনের পথ দেখান অথবা আল্লাহ তোমার জন্য নির্গমনের ব্যবস্থা করেন।

৮৯৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯৭


وَعَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيِّ، عَنْ مُنْذِرٍ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ قَالَ: لَيْسَ بِحَكِيمٍ مَنْ لَا يُعَاشِرُ بِالْمَعْرُوفِ مَنْ لَا يَجِدُ مِنْ مُعَاشَرَتِهِ بُدًّا، حَتَّى يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُ فَرَجًا أَوْ مَخْرَجًا

মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা (র) থেকে বর্ণিতঃ

সেই ব্যক্তি প্রজ্ঞাবান নয় যে সদ্ভাবে বসবাস করতে পারে নাসাঈ, যে তার সমাজের কাছে পরিত্রাণের পথ পায় নাসাঈ, যাবত না আল্লাহ তার জন্য মুক্তির উপায় বা পথ করে দেন।

৩৯৭.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি পথভোলা লোককে রাস্তা বলে দেয়।

৮৯৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯৮


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا قِنَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ مَنَحَ مَنِيحَةً أَوْ هَدَّى زُقَاقًا - أَوْ قَالَ: طَرِيقًا - كَانَ لَهُ عَدْلُ عِتَاقِ نَسَمَةٍ "

বারাআ ইবনে আযেব (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেন যে ব্যক্তি দুধ পান করার জন্য
পশু ধার (মনীহাকিম) দেয় অথবা পথহারা ব্যক্তিকে পথ বলে দেয়, তার জন্য একটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব রয়েছে। (আহমাদ হা/১৮৭০৯, তিরমিযী হা/১৯০৭)।

৮৯৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৮৯৯


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، يَرْفَعْهُ - قَالَ: ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا رَفَعَهُ - قَالَ: إِفْرَاغُكَ مِنْ دَلْوِكَ فِي دَلْوِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ، وَأَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيُكَ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَتَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ، وَإِمَاطَتُكَ الْحَجَرَ وَالشَّوْكَ وَالْعَظْمَ عَنْ طَرِيقِ النَّاسِ لَكَ صَدَقَةٌ، وَهِدَايَتُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّالَّةِ صَدَقَةٌ

আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতিতে পানি ভর্তি করে দেয়া একটি সদাকা (দান)। সৎকাজের জন্য তোমার আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তোমার নির্দেশ একটি সদাকা (দান)। তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাত করা একটি সদাকা। জনপথ থেকে তোমার পাথর, কাঁটা ও হাড় অপসারণ করা তোমার পক্ষ থেকে একটি সদাকা। পথহারা পথিককে তোমার রাস্তা বাতলে দেয়াও একটি সদাকা। -(তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)

৩৯৮.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি অন্ধকে পথহারা করে।

৯০০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০০


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمَّهَ أَعْمَى عَنِ السَّبِيلِ»

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি অন্ধকে পথহারা করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন। -(হাকিম, ইবনে হিব্বান)

৩৯৯.

অনুচ্ছেদঃ বিদ্রোহ।

৯০১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০১


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ قَالَ: حَدَّثَنَا شَهْرٌ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ: بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِفِنَاءِ بَيْتِهِ بِمَكَّةَ جَالِسٌ، إِذْ مَرَّ بِهِ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، فَكَشَرَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا تَجْلِسُ؟» قَالَ: بَلَى، فَجَلَسَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَقْبِلَهُ، فَبَيْنَمَا هُوَ يُحَدِّثُهُ إِذْ شَخَصَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ: «أَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آنِفًا، وَأَنْتَ جَالِسٌ» ، قَالَ: فَمَا قَالَ لَكَ؟ قَالَ: " {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [النحل: 90] قَالَ عُثْمَانُ: وَذَلِكَ حِينَ اسْتَقَرَّ الْإِيمَانُ فِي قَلْبِي وَأَحْبَبْتُ مُحَمَّدًا

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা নবী (সাঃ) তাঁর মক্কার বাড়ির আঙ্গিনায় বসা ছিলেন। তখন উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নবী (সাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন। নবী (সাঃ) তাকে বলেনঃ তুমি কি বসবে না? তিনি বলেন, হাঁ। নবী (সাঃ) তার দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় নবী (সাঃ) আসমানের দিকে তাকিয়ে বলেনঃ এইমাত্র আল্লাহর দূত আমার নিকট আসেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তিনি আপনাকে কি বলেছেন? তিনি বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেন ন্যায়পরায়ণ তাবারানী, সদাচার ও নিকট আত্মীয়-স্বজনকে দান-খয়রাত করার এবং বারণ করেন অশ্লীল তাবারানী, গৰ্হিত কর্ম ও বিদ্রোহ। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে” (সূরা নাহল : ৯০)। উসমান (রাঃ) বলেন, এটা তখনকার কথা যখন ঈমান আমার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে এবং মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে আমি ভালোবাসতে শুরু করেছি। (আবু দাউদ)

৪০০.

অনুচ্ছেদঃ বিদ্রোহের শাস্তি।

৯০২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০২


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تُدْرِكَا، دَخَلْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ» ، وَأَشَارَ مُحَمَّدٌ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى

আবু বাকর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আনাস (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দুইটি কন্যা সন্তানকে বালেগ হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করে, আমি এবং সে এই দুটির মতো পাশাপাশি জান্নাতে প্রবেশ করবো। হাদীস বর্ণনাকালে রাবী মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আযীয (র) তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের প্রতি ইঙ্গিত করেন।

৯০৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০৩


وَبَابَانِ يُعَجَّلَانِ فِي الدُّنْيَا: الْبَغْيُ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ "

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ দু’টি অপরাধের শাস্তি সত্বর দুনিয়াতেই দেয়া হয় (১) বিদ্রোহ এবং (২) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।

৪০১.

অনুচ্ছেদঃ বংশমর্যাদা।

৯০৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০৪


حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ مَعْمَرٍ الْعَوْقِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْكَرِيمَ ابْنَ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ নিশ্চয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র অর্থাৎ ইউসুফ (আঃ) হলেন ইয়াকুব (আঃ)-এর পুত্র, তিনি ইসহাক (আঃ)-এর পুত্র এবং তিনি ইবরাহীম (আঃ)-এর পুত্র। (বুখারী, মুসলিম)।

৯০৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০৫


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ أَوْلِيَائِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُتَّقُونَ، وَإِنْ كَانَ نَسَبٌ أَقْرَبَ مِنْ نَسَبٍ، فَلَا يَأْتِينِي النَّاسُ بِالْأَعْمَالِ وَتَأْتُونَ بِالدُّنْيَا تَحْمِلُونَهَا عَلَى رِقَابِكُمْ، فَتَقُولُونَ: يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ هَكَذَا وَهَكَذَا: لَا "، وَأَعْرَضَ فِي كِلَا عِطْفَيْهِ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমার বন্ধু হবে মোত্তাকী পরহেজগারগণ। বংশগত সম্পর্ক অপরের তুলনায় অধিক নিকটতর হলেও তা উপকারে আসবে না। লোকজন আমার নিকট আসবে তাদের আমল নিয়ে, আর তোমরা আসবে দুনিয়াকে তোমাদের কাঁধে তুলে নিয়ে। তোমরা ডেকে বলবে, হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ! আর আমি এরূপ এরূপ বলবোঃ আমি কোন কাজে আসবো না। আমি সব দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো।

৯০৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০৬


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَا أَرَى أَحَدًا يَعْمَلُ بِهَذِهِ الْآيَةِ: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى} [الحجرات: 13] حَتَّى بَلَغَ: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] ، فَيَقُولُ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ: أَنَا أَكْرَمُ مِنْكَ، فَلَيْسَ أَحَدٌ أَكْرَمَ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِتَقْوَى اللَّهِ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমার মতে কোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত আয়াত অনুযায়ী আচরণ
করে না (অনুবাদ) : “হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারীর সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছি..... নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট সবচাইতে সম্ভ্রান্ত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের
মধ্যে সবচাইতে বেশী আল্লাহভীরু” (সূরা হুজুরাত : ১৩)। আল্লাহর এই বাণী বিদ্যমান থাকা সত্বেও এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলবে, আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্ভ্রান্ত। অথচ তাকওয়া ব্যতীত কেউ কারো চেয়ে অধিক সম্ভ্রান্ত হতে পারে না।

৯০৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০৭


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ قَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: مَا تَعُدُّونَ الْكَرَمَ؟ وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ الْكَرَمَ، فَأَكْرَمُكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ، مَا تَعُدُّونَ الْحَسَبَ؟ أَفْضَلُكُمْ حَسَبًا أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا

ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্ম (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমরা কাদের সম্ভ্রান্ত গণ্য করো? আল্লাহ অবশ্যই সম্ভ্রান্ত কে তা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সবচাইতে সম্ভ্রান্ত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশী আল্লাহভীরু”।
(৪৯ : ১৩) তোমরা কাকে মর্যাদাবান গণ্য করো? যার স্বভাব-চরিত্র সর্বোত্তম সে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান।

৪০২.

অনুচ্ছেদঃ মানবাত্মাসমূহ সমবেত সৈন্যদল।

৯০৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০৮


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْأَرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ، فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ، وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ» .
[ص: 310]

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ মানবাত্মাসমূহ যেন সমবেত সৈন্যদল ! (সৃষ্টির সেই আদিতে) যারা পরস্পর পরিচিত হয়েছে, এখানেও তারা পরস্পর পরিচিত হবে। আর সেখানে যারা পরস্পর অপরিচিত ছিল, এখানে তাদের মধ্যে অনৈক্য থাকবে। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু ইয়ালা)

৯০৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯০৯


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْأَرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ، فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ، وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ মানবাত্মাসমূহ যেন সমবেত সৈন্যদল। (আদিতে) যারা পরস্পর পরিচিত হয়েছে, এখানেও (দুনিয়ায়) তারা পরস্পর পরিচিত হবে। আর সেখানে যারা পরস্পর অপরিচিত ছিল, এখানে তাদের মধ্যে অনৈক্য হবে। (মুসলিম, আবু দাউদ)

৪০৩.

অনুচ্ছেদঃ বিস্মিত হয়ে কারো ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা।

৯১০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১০


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ الْمِصْرِيُّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَحْيَى الْكَلْبِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " بَيْنَمَا رَاعٍ فِي غَنَمِهِ، عَدَا عَلَيْهِ الذِّئْبُ فَأَخَذَ مِنْهُ شَاةً، فَطَلَبَهُ الرَّاعِي، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ الذِّئْبُ فَقَالَ: مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ؟ لَيْسَ لَهَا رَاعٍ غَيْرِي "، فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَإِنِّي أُؤْمِنُ بِذَلِكَ، أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ একদা এক রাখাল ছাগল চরাচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ ছাগলের পালের উপর ঝাপিয়ে পড়লো এবং একটি ছাগী ধরে নিয়ে গেলো। তখন রাখাল তার পিছু ধাওয়া করলো। নেকড়েটি তাকে লক্ষ্য করে বললো, যেদিন হিংস্র শ্বাপদের রাজত্ব হবে সেদিন আমি ছাড়া আর কে তার রক্ষক হবে? উপস্থিত লোকজন বললো, সুবহানাল্লাহ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আমি, আবু বাকর ও উমার তা বিশ্বাস করি। (বুখারী, মুসলিম)

৯১১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১১


حَدَّثَنَا آدَمُ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ، فَأَخَذَ شَيْئًا فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِهِ فِي الْأَرْضِ، فَقَالَ: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا قَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ، وَمَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلَا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا، وَنَدَعُ الْعَمَلَ؟ قَالَ: «اعْمَلُوا، فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ» ، قَالَ: «أَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَسَيُيَسَّرُ لِعَمَلِ السَّعَادَةِ، وَأَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ فَسَيُيَسَّرُ لِعَمَلِ الشَّقَاوَةِ» ، ثُمَّ قَرَأَ: {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى} [الليل: 6]

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) এক জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি একটি জিনিস হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটিতে রেখা টানতে লাগলেন। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা দোযখ অথবা বেহেশত লিপিবদ্ধ করা হয়নি। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আমাদের ভাগ্যলিপির উপর নির্ভর করে কাজকর্ম ত্যাগ করবো না? তিনি বলেনঃ তোমরা কাজকর্ম করতে থাকো। কেননা যাকে যেজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেটি সহজসাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে তার জন্য সৌভাগ্যজনক কাজ সহজসাধ্য করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি হতভাগ্য হবে তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক কাজ সহজসাধ্য করা হয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ “অনন্তর যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বাণীর সত্যতা ঘোষণা করে ...” (সূরা লাইল : ৫-৭)।

৪০৪.

অনুচ্ছেদঃ হাতে মাটি স্পর্শ করা।

৯১২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১২


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُسَيْدِ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ، عَنْ أُمِّهِ قَالَتْ: قُلْتُ لِأَبِي قَتَادَةَ: مَا لَكَ لَا تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا يُحَدِّثُ عَنْهُ النَّاسُ؟ فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيُسَهِّلْ لِجَنْبِهِ مَضْجَعًا مِنَ النَّارِ» ، وَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ذَلِكَ وَيَمْسَحُ الْأَرْضَ بِيَدِهِ

উসাইদ ইবনে আবু উসাইদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু কাতাদা (রাঃ)-কে বললাম, আপনার কি হলো যে, লোকে যেরূপ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করেন, আপনি তেমনটি করেন না? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন তার পার্শ্বদেশকে জাহান্নামের বিছানার জন্য সমতল করে নেয়। (একথা বলে) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর হাত দ্বারা মাটি স্পর্শ করেন। (শাফিঈ)

৪০৫.

অনুচ্ছেদঃ নুড়ি পাথর।

৯১৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১৩


حَدَّثَنَا آدَمُ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ صُهْبَانَ الْأَزْدِيَّ يُحَدِّثُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيِّ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْخَذْفِ، وَقَالَ: «إِنَّهُ لَا يَقْتُلُ الصَّيْدَ، وَلَا يُنْكِي الْعَدُوَّ، وَإِنَّهُ يَفْقَأُ الْعَيْنَ، وَيَكْسِرُ السِّنَّ»

আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নুড়িপাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ তা না পারে শিকার হত্যা করতে, আর না পারে শত্রুকে কাবু করতে। বরং তা চক্ষু নষ্ট করে অথবা দাঁত ভেঙ্গে দেয়। (বুখারী,মুসলিম, নাসাঈ)

৪০৬.

অনুচ্ছেদঃ তোমরা বায়ুকে গালি দিও না।

৯১৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১৪


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: أَخَذَتِ النَّاسَ الرِّيحُ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ - وَعُمَرُ حَاجٌّ - فَاشْتَدَّتْ، فَقَالَ عُمَرُ لِمَنْ حَوْلَهُ: «مَا الرِّيحُ؟» فَلَمْ يَرْجِعُوا بِشَيْءٍ، فَاسْتَحْثَثْتُ رَاحِلَتِي فَأَدْرَكْتُهُ، فَقُلْتُ: بَلَغَنِي أَنَّكَ سَأَلْتَ عَنِ الرِّيحِ، وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الرِّيحُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ، تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ، وَتَأْتِي بِالْعَذَابِ، فَلَا تَسُبُّوهَا، وَسَلُوا اللَّهَ خَيْرَهَا، وَعُوذُوا مِنْ شَرِّهَا»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মক্কায় যাবার পথে লোকজন প্রবল বায়ু তাড়িত হলো। উমার (রাঃ)-ও (তাদের সাথে) হজ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। উমার (রাঃ) তার চারপাশের লোকদের বলেন, এই বায়ু কী? তারা কিছুই উত্তর দিলো না। তখন আমি আমার বাহনটিকে তার দিকে ধাবিত করে তার নিকটে গিয়ে বললাম, আমি জানতে পারলাম যে, আপনি বায়ু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ “বাতাস হলো আল্লাহর রহমাতের অন্তর্ভুক্ত। তা রহমাতও বয়ে আনে, আবার আযাবও বয়ে আনে। অতএব তোমরা তাকে গালি দিও নাসাঈ, বরং তোমরা আল্লাহর কাছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো”। -(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)

৪০৭.

অনুচ্ছেদঃ কারো বক্তব্য, অমুক অমুক গ্রহের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে।

৯১৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১৫


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى أَثَرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: " أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي، مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ "

যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হুদায়বিয়াতে আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়লেন। ঐ রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। নামাযান্তে নবী (সাঃ) লোকদের দিকে ফিরে বলেনঃ তোমরা কি জানো, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তারা বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সমধিক জ্ঞাত। আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দারা আমার প্রতি মুমিন ও কাফেররূপে প্রভাতে উপনীত হয়। যে বলে, আল্লাহর করুণা ও দয়ায় বৃষ্টি হয়েছে সে আমার প্রতি মুমিন এবং নক্ষত্রসমূহের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী”। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)

৪০৮.

অনুচ্ছেদঃ লোকজন মেঘ দেখলে যা বলবে।

৯১৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১৬


حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَى مَخِيلَةً دَخَلَ وَخَرَجَ، وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ، وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ، فَإِذَا مَطَرَتِ السَّمَاءُ سُرِّيَ، فَعَرَّفَتْهُ عَائِشَةُ ذَلِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " وَمَا أَدْرِي لَعَلَّهُ كَمَا قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ} [الأحقاف: 24] "

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখলে (চিন্তিত হয়ে) ঘরে ঢোকতেন, আবার বের হতেন, সামনে যেতেন আবার পেছনে ফিরে আসতেন এবং তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেতো। বৃষ্টি হলে পর তাঁর মুখে হাসি ফোটতো। আয়েশা (রাঃ) তার এরূপ অবস্থা সম্পর্কে তার সাথে আলাপ করলে তিনি বলেনঃ কি জানি এমনও তো হতে পারে যেরূপ আল্লাহ বলেছেন, “অতঃপর তারা যখন মেঘমালাকে তাদের উপত্যকা অভিমুখে অগ্রসর হতে দেখলো তখন বললো, এতো সেই মেঘমালা যা আমাদের বৃষ্টি দিবে.....”। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)

৯১৭

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১৭


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، وَمَا مِنَّا، وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ»

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘কুলক্ষণে’ বিশ্বাস শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মধ্যে অনুরূপ ধারণা আসে না। তবে আল্লাহর উপর ভরসা করার কারণে তিনি তা দূর করে দেন। -(তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

৪০৯.

অনুচ্ছেদঃ অশুভ লক্ষণ।

৯১৮

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১৮


حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، يَعْنِي: عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا طِيَرَةَ، وَخَيْرُهَا الْفَأْلُ» ، قَالُوا: وَمَا الْفَأْلُ؟ قَالَ: «كَلِمَةٌ صَالِحَةٌ يَسْمَعُهَا أَحَدُكُمْ»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ অশুভ লক্ষণ (বলতে কিছু নেইবনে মাজাহ)। তার মধ্যে ফালই উত্তম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ফাল কি? তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ (অদৃশ্য থেকে) যে উত্তম কথা শোনতে পায় তা। -(বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, তাহাবী)

৪১০.

অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি অশুভ লক্ষণ মানে না তার মর্যাদা।

৯১৯

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯১৯


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، وَآدَمُ، قَالَا: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ بِالْمَوْسِمِ أَيَّامَ الْحَجِّ، فَأَعْجَبَنِي كَثْرَةُ أُمَّتِي، قَدْ مَلَأُوا السَّهْلَ وَالْجَبَلَ، قَالُوا: يَا مُحَمَّدُ، أَرَضِيتَ؟ قَالَ: نَعَمْ، أَيْ رَبِّ، قَالَ: فَإِنَّ مَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعِينَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ، وَهُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَكْتَوُونَ، وَلَا يَتَطَيَّرُونَ، وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ "، قَالَ عُكَّاشَةُ: فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، قَالَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ» ، فَقَالَ رَجُلٌ آخَرُ: ادْعُ اللَّهَ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، قَالَ: «سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ»

حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، وَهَمَّامٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ একদা হজ্জের মৌসুমে আমার উম্মাতকে আমার সামনে পেশ করা হলো। আমার উম্মাতের সংখ্যাধিক্যে আমি অভিভূত হলাম। সমভূমি ও পাহাড়-পর্বত তাদের দ্বারা পরিপূর্ণ। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি সন্তুষ্ট? আমি বললামঃ হাঁ, হে প্রভু। তিনি বলেন, “উপরন্তু এদের সাথে রয়েছে আরো সত্তর হাজার যারা বিনা হিসাবে বেহেশতে প্রবেশ করবে। তারা হচ্ছে সেইসব লোক যারা ঝাঁড়ফুক করায় নাসাঈ, শরীরে দাগ দেয়ায় না এবং অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে না। তারা তাদের প্রভুর উপরই ভরসা করে”। তখন উকাশা (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আমাকে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দোয়া করলেনঃ “হে আল্লাহ! উকাশাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো”। অপর এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্যও দোয়া করুন, যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেনঃ এ ব্যাপারে উকাশা তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে। -(বুখারী, আহমাদ, মুসলিম)

৪১১.

অনুচ্ছেদঃ জিনের আছর থেকে বাঁচার নিষ্ফল তদবীর।

৯২০

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯২০


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تُؤْتَى بِالصِّبْيَانِ إِذَا وُلِدُوا، فَتَدْعُو لَهُمْ بِالْبَرَكَةِ، فَأُتِيَتْ بِصَبِيٍّ، فَذَهَبَتْ تَضَعُ وِسَادَتَهُ، فَإِذَا تَحْتَ رَأْسِهِ مُوسَى، فَسَأَلَتْهُمْ عَنِ الْمُوسَى، فَقَالُوا: نَجْعَلُهَا مِنَ الْجِنِّ، فَأَخَذَتِ الْمُوسَى فَرَمَتْ بِهَا، وَنَهَتْهُمْ عَنْهَا وَقَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَكْرَهُ الطِّيَرَةَ وَيُبْغِضُهَا، وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَنْهَى عَنْهَا

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নবজাতকদের আয়েশা (রাঃ)-র নিকট আনা হতো। তিনি তাদের জন্য বরকতের দোয়া করতেন। আমি (আলকামার মা) একটি নবজাতককে নিয়ে আয়েশা (রাঃ)-র নিকট এলাম। তিনি নবজাতকের বালিশ সরাতেই দেখা গেলো, একটি ক্ষুর তার শিয়রের নিচে। তিনি ক্ষুর সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, আমরা জিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তা রেখেছি। তিনি ক্ষুরটি ধরে তা দূরে নিক্ষেপ করেন এবং তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেন। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অশুভ
লক্ষণে বিশ্বাস অপছন্দ করতেন এবং তাতে অসন্তুষ্ট হতেন। অতএব আয়েশা (রাঃ)-ও এরূপ করতে বারণ করেন।

৪১২.

অনুচ্ছেদঃ শুভ লক্ষণ।

৯২১

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯২১


حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ، وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ الصَّالِحُ، الْكَلِمَةُ الْحَسَنَةُ»

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ রোগ সংক্রমণ বলতে কিছু নেই বা অশুভ
লক্ষণেরও কোন বাস্তবতা নেই। আর শুভ ফাল অর্থাৎ (অদৃশ্য থেকে শ্রুত) উৎকৃষ্ট কথা আমার পছন্দনীয়। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)

৯২২

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯২২


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي حَيَّةُ التَّمِيمِيُّ، أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا شَيْءَ فِي الْهَامِّ، وَأَصْدَقُ الطِّيَرَةِ الْفَأْلُ، وَالْعَيْنُ حَقٌّ»

হাব্বা (তিরমিয়ীতে হায়্যা) ইবনে হাবিস আত-তামীমী (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ পেঁচার ডাকে অশুভ কিছু নেই। ফাল-ই হলো অধিক নির্ভরযোগ্য শুভ লক্ষণ এবং বদনজর সত্য বা বাস্তব। (তিরমিযী)

৪১৩.

অনুচ্ছেদঃ উত্তম নামকে বরকতময় মনে করা।

৯২৩

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯২৩


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، عَنْ مَعْنِ بْنِ عِيسَى قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُؤَمَّلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ، حِينَ ذَكَرَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ أَنَّ سُهَيْلًا قَدْ أَرْسَلَهُ إِلَيْهِ قَوْمُهُ، فَصَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَرْجِعَ عَنْهُمْ هَذَا الْعَامَ، وَيُخَلُّوهَا لَهُمْ قَابِلَ ثَلَاثَةٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَتَى فَقِيلَ: أَتَى سُهَيْلٌ: «سَهَّلَ اللَّهُ أَمْرَكُمْ» وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّائِبِ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

হুদায়বিয়ার সন্ধির বছর যখন উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) বললেন, সুহাইলকে তার সম্প্রদায় সন্ধির এই প্রস্তাবসহ পাঠিয়েছে যে, মুসলমানগণ এই বছর ফিরে যাবে এবং আগামী বছর কুরাইশগণ তিন দিনের জন্য (মক্কা নগরী মুসলমানদের জন্য) খালি করে দিবে। সুহাইল এসে পৌছলে নবী (সাঃ) বলেনঃ সুহাইল এসেছে। আল্লাহ তোমাদের বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেন।

৪১৪.

অনুচ্ছেদঃ ঘোড়ায় কুলক্ষণ।

৯২৪

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯২৪


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَمْزَةَ، وَسَالِمٍ ابْنَيْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الشُّؤْمُ فِي الدَّارِ، وَالْمَرْأَةِ، وَالْفَرَسِ»
---
[قال الشيخ الألباني] :
شاذ والمحفوظ عن ابن عمر وغيره (إن كان الشؤم في شيء ففي الدار)

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ কুলক্ষণ (বলতে কিছু থাকলে তাবারানী) ঘরবাড়ি, স্ত্রীলোক ও ঘোড়ায়। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তাহাবী)

৯২৫

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯২৫


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنْ كَانَ الشُّؤْمُ فِي شَيْءٍ، فَفِي الْمَرْأَةِ، وَالْفَرَسِ، وَالْمَسْكَنِ»

সাহল ইবনে সাদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যদি কিছুতে লক্ষণ থাকতো তবে তা স্ত্রীলোক, ঘোড়া ও বাসস্থানে থাকতো। -(বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, তাহাবী)

৯২৬

আদাবুল মুফরাদ

অধ্যায় : কবিতা চর্চা ও ব্যাঙ্গ-কৌতুক

হাদীস নং : ৯২৬


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ يَعْنِي أَبَا قُدَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا كُنَّا فِي دَارٍ كَثُرَ فِيهَا عَدَدُنَا، وَكَثُرَ فِيهَا أَمْوَالُنَا، فَتَحَوَّلْنَا إِلَى دَارٍ أُخْرَى، فَقَلَّ فِيهَا عَدَدُنَا، وَقَلَّتْ فِيهَا أَمْوَالُنَا؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رُدَّهَا، أَوْ دَعُوهَا، وَهِيَ ذَمِيمَةٌ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: فِي إِسْنَادِهِ نَظَرٌ

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এক বাড়িতে বসবাস করতাম। সেখানে আমাদের জনসংখ্যা ও ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অতঃপর আমরা অপর একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর সেখানে আমাদের জনসংখ্যা ও ধন-সম্পদ হ্রাস পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমরা আগের বাড়িতে ফিরে যাও অথবা তিনি বলেনঃ তোমরা এই বাড়ি ত্যাগ করো। কেননা এটি নিন্দনীয় বাড়ি। ইমাম বুখারী (র) বলেন, এ হাদীসের সনদে ত্রুটি আছে।